Sonali Chakraborty Quotes
Sonali Chakraborty
by
Sonali Chakraborty2 ratings, 5.00 average rating, 0 reviews
Sonali Chakraborty Quotes
Showing 1-7 of 7
“ধারণা কোনও এক রৈখিক সত্য নয় এমনকি সত্যও কখনও একমাত্রিক নয়। সুতরাং পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদগুলিতে নারীদের সাহিত্যসৃষ্টির প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে যে চিত্র আলোচিত হল এবং প্রায় সিদ্ধান্তের মত করে একটা সূত্রে উপনীত হওয়া গেল, যে মনন ও যাপনগত আকাশ সাহিত্য নির্মাণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় দুটি শর্ত তার অনুপস্থিতিতে নারীরা তাদের মূল কাজের নির্মাণই করে উঠতে পারেননি, সেই অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র না সরে বাস্তবতায় যে পরিমাণ চর্চিত উপাদান উপস্থিত আছে তার নিরিখে বঞ্চনার ইতিবৃত্ত সন্ধানে এরপর এগোনো যেতেই পারে। একদম শিকড় স্তর থেকে শুরু করা যাক। বাঙালি মাত্রেই তার সাহিত্যচর্চা শুরু হয় কবিতা দিয়ে আর এটা প্রায় নব্বই শতাংশ ক্ষেত্রে অভ্রান্ত। পরবর্তীতে কর্পোরেট অফিসের ব্যস্ত অফিসার যার বাড়িতে একটিও ইন্টিরিয়রের প্রয়োজনে ব্যবহৃত ছাড়া বই নেই, তিনিও যে নবম-দশম শ্রেণিতে প্রথম কদমফুলকে বর্ষায় নিজের ভিতর ফুটতে দেখে দু-দশটা লাইন ছন্দ মিলিয়ে লিখে ফেলেননি একথা হলফ করে একেবারেই বলা যাবে না। অবশ্যই সেটি মোবাইল-ইন্টারনেট যুগের পূর্ববর্তী পৃথিবী ছিল। সামান্য অপ্রাসঙ্গিক হলেও একথা বলাই যায় সম্পূর্ণ পরিবর্তিত দুটি পর্যায়ের পৃথিবীকে এই জগৎ প্রত্যক্ষ করেছে অদ্যাবধি শেষ শতবর্ষে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী, অন্তর্জালের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আর এখনও পরবর্তী পর্যায়ে না পৌঁছানোয় যে অতিমারির অবতারণা করা গেল না, সেটি। এবার বলুন তো, একদম বিশুদ্ধ হিসাবশাস্ত্রের কচকচি দিয়ে, কৈশোর-যৌবন সন্ধির ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের আগের যুগে একমাত্র প্রকাশমাধ্যম স্কুল-ম্যাগাজিনগুলিতে কটি মেয়ের কবিতা ছাপা থাকত? এর মানে কি এই যে তাদের বর্ষা তাদের যমুনা তাদের কুঞ্জ তাদের প্রতীক্ষা জাতীয় অনুভূতিগুলোর অস্তিত্বই ছিল না? তা তো নয়। কিন্তু চশমা পরা মেয়ে মানেই রাগী অঙ্কের রসকষহীন দিদিমণি যেমন একটা মিথ তেমনই মেয়েমানুষ স্কুলে পড়তে গিয়ে কবিতা লিখছে একথা প্রকাশ্যে এলে যে বিদ্রূপের শিকার হতে হবে সেই আশঙ্কায় পঞ্চাশ শতাংশ আর প্রকাশ পরবর্তীতে একান্নবর্তী ব্যঙ্গের তাড়নায় বাকি পঁয়তাল্লিশের কাব্যসাধনার সেখানেই ইতি ঘটে যেত। অবশিষ্ট পাঁচ শতাংশের মধ্যে যে গুটিকতক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি অতিক্রান্তে অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতার পদক্ষেপ অথবা আপাতস্বাচ্ছন্দ্য সমঝোতার গার্হস্থ্যজাল পেরিয়ে অন্তঃসলিলা ফল্গুর মত সাহিত্যসাধনাকে বহমান রাখতে পারত তাদের দিকে এবার আলোচনা এগোক। জীবন নামের আঙ্গিক একটি মেয়ের কাছ থেকে যা যা প্রত্যাশা করে, সাহিত্যে তার বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম ঘটে না। মেয়েদের সাহিত্য হবে শান্ত শীতলপাটি, ভিজে লাল গামছাটির মত, এটাই প্রার্থিত। শুধুমাত্র পাঠক সমীপে নয়, সমসাময়িক সাহিত্যকর্মীদের মননেও, এ বড় বিস্ময়ের। মডেল স্টাডি করেই হোক, অথবা কল্পনাপ্রসূত, একজন পুরুষ শিল্পী ন্যুড অঙ্কনে বা ভাস্কর্য নির্মাণে যেভাবে প্রভূত সম্মানের অধিকারী হন, সম মানের স্বীকৃতি তো আরব্য রজনী, কুৎসার অধিক কিছু প্রাপ্তি ঘটে কি যদি শিল্পীর লিঙ্গটি ভিন্ন হয়? প্রকৃত কলম পাঠকের দাসত্বনির্ভর নয়, একথা যেমন সত্য ঠিক তেমনই কলমের কারণে সামাজিক যাপনকে প্রশ্নের মুখে না দাঁড়িয়ে পড়তে হয়, এমন অবচেতন ক্রিয়া পদবিন্যাসে প্রভাব ফেলে না একথাও অলীক বলেই বোধ হয় যদি স্রষ্টাটি নারী হন। উচ্চকিত স্বরে সমর্থন না করলেও এই প্রবন্ধটি যারা পড়ছেন তাদের নিঃশব্দে শ্বাস ফেলে স্বীকার করতেই হবে এমন সাহিত্যিক একজনও এমন নেই মেয়েদের মধ্যে যাকে জীবনের কোনও না কোনও পর্যায়ে তার প্রেমিক হোক বা স্বামী, পিতা হোক বা পরিবারের বয়জ্যেষ্ঠ কোনও সদস্য, সন্তানসন্ততির চোখে আর কিছু ক্ষেত্রে চোখ পেরিয়ে মৌখিক আক্রমণের অন্তত শিকার হতে হয়নি তার কোনও না কোনও সৃষ্টির পটভূমি, বিষয়, চরিত্র অথবা ভাষা নির্মাণের প্রকৌশলজনিত প্রসঙ্গে। কজন পুরুষকে আজ অব্দি তার সৃষ্টিরহস্যের পোস্টমর্টেম করতে হয়েছে বলবেন আমায়? তার উপর হয়তো সাংসারিক উদাসীনতার অভিযোগ আসতে পারে। তার স্রষ্টাসুলভ খেয়ালি পদচারণের আলোচনা চলতে পারে, এই অবধিই সীমা। কিন্তু একটা মেয়েকে করতে হয়।”
― Sonali Chakraborty
― Sonali Chakraborty
“দ্রৌপদী
শালী
খানকি
বেশ্যা
নাক কুঁচকে গেল প্রথমেই? চোখটা ব্যথা ব্যথা করে উঠল? একে তো মেয়ে (না না, মেয়েমানুষ বলবেন না, ভীষণ প্যারাডক্সিক্যাল), তায় লিখছে সাহিত্যে নারীর বঞ্চনার মত গুরুতর বিষয়ে প্রবন্ধ। তার শুরু কিনা…
তাহলে এবার যন্ত্রণাটা চোখ থেকে বুকে না নামলেও মাথায় উঠুক। আজ্ঞে ঠিক এটাই সাহিত্যে নারীর অবমাননাকর অবস্থান ও প্রায় ঠনঠনে প্রাপ্তির ভাঁড়ারের মূল চাবি। তাকে লড়তে হয় বেদান্তের ‘মায়া’ রূপী অস্তিত্বহীন সর্পটার মত ‘চরিত্র’ নামের এক আরোপিত ছায়া সৈনিকের সঙ্গে। চাইবাসা শক্তি চাটুজ্যে তৈরি করে না ঠিকই কিন্তু ওই বোহেমিয়ান শ্বাসের পরিসরটা না পেলে শক্তির কবিতাগুলোও আসে কি? এবার বলুন তো, কোনও কবি বা কথাসাহিত্যিক মেয়ে যদি ওই যাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে বা থাকে, আপনি, আপনার সমাজ ছেড়ে দিন, সাহিত্য মহলে তাকে কী কী নামে ডাকা হয়? প্রথম চারটেই না? চোখের ঈশারা করা হয় তো পড়তে গিয়ে একে অপরকে? না?”
― Sonali Chakraborty
শালী
খানকি
বেশ্যা
নাক কুঁচকে গেল প্রথমেই? চোখটা ব্যথা ব্যথা করে উঠল? একে তো মেয়ে (না না, মেয়েমানুষ বলবেন না, ভীষণ প্যারাডক্সিক্যাল), তায় লিখছে সাহিত্যে নারীর বঞ্চনার মত গুরুতর বিষয়ে প্রবন্ধ। তার শুরু কিনা…
তাহলে এবার যন্ত্রণাটা চোখ থেকে বুকে না নামলেও মাথায় উঠুক। আজ্ঞে ঠিক এটাই সাহিত্যে নারীর অবমাননাকর অবস্থান ও প্রায় ঠনঠনে প্রাপ্তির ভাঁড়ারের মূল চাবি। তাকে লড়তে হয় বেদান্তের ‘মায়া’ রূপী অস্তিত্বহীন সর্পটার মত ‘চরিত্র’ নামের এক আরোপিত ছায়া সৈনিকের সঙ্গে। চাইবাসা শক্তি চাটুজ্যে তৈরি করে না ঠিকই কিন্তু ওই বোহেমিয়ান শ্বাসের পরিসরটা না পেলে শক্তির কবিতাগুলোও আসে কি? এবার বলুন তো, কোনও কবি বা কথাসাহিত্যিক মেয়ে যদি ওই যাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে বা থাকে, আপনি, আপনার সমাজ ছেড়ে দিন, সাহিত্য মহলে তাকে কী কী নামে ডাকা হয়? প্রথম চারটেই না? চোখের ঈশারা করা হয় তো পড়তে গিয়ে একে অপরকে? না?”
― Sonali Chakraborty
“একলব্যকে নিয়ে দুনিয়া তোলপাড় হয়। কত নারী যে সাহিত্যিক হতে এসে সামান্য স্বাধীন শ্বাসটুকু না নিতে পেরে নীরবে পেন তুলে রাখে অথবা নীল লাল হাজার তিমির পেটে সেঁধিয়ে গিয়ে হারিয়ে ফেলে নামটুকুও, সার্ভে করলে ডকুমেন্টারি হতে পারে। কজন প্রতিষ্ঠিত পুরুষ বোয়াল অনুবাদ করিয়ে নিয়ে স্বীকৃতি দেয় নবাগত নারী অনুবাদককে? নামটুকু অবধি নিতে তাদের জিভ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে থাকে আমরণকালীন। কেউ হয়তো সম ওয়েভের সমান ক্ষেত্রের জীবনসঙ্গী নির্বাচন করেন জীবনকে সাহিত্যেরই এক পাতা ভেবে। তাদের পরিণতি আরও করুণ। প্রথম লিঙ্গের ভারি নামটির ছায়ায় অধিকতর যোগ্য হয়েও আজীবন যাত্রার কাটা সৈনিকের ভূমিকায় অভিনয় করে চলার থেকে বেশি সম্মান কোনও মঞ্চই তাদের দেয় না। নাম তুললে ব্যক্তি আক্রমণের দায়ে দুষ্ট হতে হয়, মানহানির মামলা রুজু হওয়াও বিচিত্র নয়, অতএব সে কথা থাক। কেউ তো আবার মরে গিয়ে সিংহদুয়ার খুলে দিয়ে যান তার পুরুষটির সাহিত্য সাম্রাজ্যে খোলা ষাঁড়ের চামড়ায় ঢুকে পড়ার আয়োজনের। বিচিত্র এই সাহিত্য ক্ষেত্র। এখানে নারী? আর তার বঞ্চনা? কষ্টিপাথর থেকে কৃষ্ণবর্ণকে আলাদা করার কোন প্রক্রিয়া যদি থাকত, এই অধমও নিশ্চয়ই চেষ্টা করত কতভাবে আর কী কী প্রকারে সাহিত্যে নারীকে বঞ্চিত ও প্রতারিত করে রাখার কারনামা জারি আছে আদি থেকে সম্প্রতি। বরং শিরোধার্য করি চারটি বিশেষণ। একজন নারী হিসাবে এই সাহিত্য জগতে আমার প্রাপ্তি এই অমূল্য অর্জন।”
― Sonali Chakraborty
― Sonali Chakraborty
“পুরুষতান্ত্রিক বাঙলা কবিতা বারবার প্রেমিকা কেমন এবং কী রকম হবে- তার একটা দীর্ঘ দেবীবন্দনার অশ্লীল তালিকা বারবারই তো আমাদের সম্মুখে স্তন-যোনি-নিতম্বের দাবিসহ ক্রমাগত পেশ করে গেছে; সেই পুরুষনির্মিত গণোরিয়ার দাবি এবং মধুকর ডিঙির সংখ্যা একইসঙ্গে শুনতে শুনতে এবং গুনতে গুনতে আমরাও যখন ক্রমশ ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত- ঠিক সেই রকম এক ক্লান্তি ও লাঞ্ছনার কালে "লবণপীড়িত মহুলমাস" অতিক্রম করতে করতে সোনালী আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালেন- অনেকটা যেন অলংকারবর্জিত আভরণবর্জিত এক রক্তিম ও শ্যামলীন যোগিনী- যিনি প্রথম স্পষ্ট করে বললেন- তাঁর চাই মৃত্তিকা ও নক্ষত্র দিয়ে গড়ে ওঠা এক প্রেমিক, যে প্রেমিক যে কোনো মুহূর্তে দাঁড় বেয়ে বর্ষা আনতে পারে- যে প্রেমিক যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ্যা পাথরে ঘা মেরে মেরে পদ্মফুল তুলে আনতে পারে- যে একইসঙ্গে খুনী শ্যাম এবং তরঙ্গবিক্ষুব্ধ অবধূতও বটে- সোনালী, সোনালী একমাত্র সেই বজ্রযোগীস্বরূপ প্রেমিকসত্ত্বার অপেক্ষায় পরকীয়ারত, স্পষ্ট ও প্রলয়তুচ্ছ”
― Sonali Chakraborty
― Sonali Chakraborty
“ভালোবাসায় 'প্রাক্তন' অর্থে কোনো শব্দের অস্তিত্ব নেই, প্রেমে হয়তো আছে। প্রথমটি বোধের এক স্তরে উত্তরণ, পরেরটি সম্পর্কের দস্তাবেজ।”
― Sonali Chakraborty
― Sonali Chakraborty
“ফ্যাট'কে অনুবাদ করলে যে 'স্নেহ' হয় সে উদাহরণে বাঙালীর শিরদাঁড়াই যথেষ্ট। এত কোমল... ঘটি বাটি ছাদ ভাষা মা বাপ, মায় ঐতিহ্য অস্তিত্ব বিশ্বাস কেড়ে কুড়ে নাকে বেধড়ক লাথি মারতে থাকলেও জিভ শুকতলা থেকে নড়ে না।”
― Sonali Chakraborty
― Sonali Chakraborty
“রাম দেখেছ রুদ্র চেনোনি
ছোটবেলায় সিক্রেট পুলিশের ক্রিয়াকলাপ পড়তাম। লক আপে কম্বলে জড়িয়ে রডের বাড়ি মেরে সব হাড় গুঁড়ো করে দেওয়া হতো কিন্তু শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকত না। পোশাকের উপর দিয়ে নির্যাতনে যৌন নিগ্রহ হয়নি তাই তো? কিন্তু এই রায়ে প্রতিটা মেয়ের দেহ, আত্মা, বোধ, সম্ভ্রম, আত্মবিশ্বাসকে যে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো সেই বিচারটা কোন আদালতে হবে? আজ প্রজাতন্ত্র তাই না? এই রাষ্ট্র? প্রার্থনা করি আজ ট্র্যাক্টর র্যালি সব কটা ক্ষমতার ইমারত ও সংবিধানের অচলায়তনকে জমি বিবেচনা করে ভারতবর্ষকে দেশের মাটি ফিরিয়ে দিক।
প্রলয় নামুক আকাশ ভেঙে...
জয় হিন্দ”
― Sonali Chakraborty
ছোটবেলায় সিক্রেট পুলিশের ক্রিয়াকলাপ পড়তাম। লক আপে কম্বলে জড়িয়ে রডের বাড়ি মেরে সব হাড় গুঁড়ো করে দেওয়া হতো কিন্তু শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকত না। পোশাকের উপর দিয়ে নির্যাতনে যৌন নিগ্রহ হয়নি তাই তো? কিন্তু এই রায়ে প্রতিটা মেয়ের দেহ, আত্মা, বোধ, সম্ভ্রম, আত্মবিশ্বাসকে যে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো সেই বিচারটা কোন আদালতে হবে? আজ প্রজাতন্ত্র তাই না? এই রাষ্ট্র? প্রার্থনা করি আজ ট্র্যাক্টর র্যালি সব কটা ক্ষমতার ইমারত ও সংবিধানের অচলায়তনকে জমি বিবেচনা করে ভারতবর্ষকে দেশের মাটি ফিরিয়ে দিক।
প্রলয় নামুক আকাশ ভেঙে...
জয় হিন্দ”
― Sonali Chakraborty
