চিত্রিত পদ্মে Quotes
চিত্রিত পদ্মে
by
অরুণ নাগ10 ratings, 4.50 average rating, 1 review
চিত্রিত পদ্মে Quotes
Showing 1-3 of 3
“কলকাতায় সবাক ছবির প্রথম যুগে সিনেমা স্টিল তুলতেন এক অবাঙালি ফটোগ্রাফার। যখন পরিচয় হয় তখন অকর্মণ্য বৃদ্ধ, পক্ষাঘাতে অচল বাঁদিক, চরম দারিদ্র্য। অনেক গল্প করতেন, কার্বন আর্কের আলাে আর গ্রীজ পেন্টের দুনিয়ার। ছােটো একটা দোকান ছিল, পারতেন না তবু খুলতেন রােজ, কদাচিৎ একটা পাসপাের্টের খদ্দের আসে। বর্ষাকাল, একদিন তাড়াতাড়ি ছুটি পেয়ে ফিরছি, কি মনে হতে দোকানে ঢুকলাম। বুড়াে কাউন্টারে নেই, তবে কি খদ্দের এল? ভিতরের দরজা খুলে উঁকি দিয়ে দেখি অন্ধকার ঘরে একটা ফ্লাড জ্বলছে, সেই আলােকিত বৃত্তের মাঝখানে বৃদ্ধ ধ্যানস্থ হয়ে বসে রয়েছেন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে।-- ও কি মশায়, সেলফ পােট্রেট তুলছেন না কি? অপ্রতিভ হেসে উঠে এলেন। দু'চার কথার পর ঝেঁপে বৃষ্টি, অনেকক্ষণ দুজনেই চুপ। উতল বরিষণের দিকে তাকিয়ে অসংলগ্নভাবে বললেন, জানাে, কখনাে কখনাে গিয়ে বসি ওখানে। মনে হয়, কে যেন আসে, ক্যামেরার মধ্যে দিয়ে আমাকে দেখে। ও কে? ঝােলানাে একমাত্র আলােটা সজল বাতাসে দোলে, শীর্ণ মুখে আলােছায়া বদলায়। অন্ধকারে ভালাে দেখতে পাই না, কিন্তু সত্যি আসে। ও কে, বাে কৌন? গলা জড়িয়ে যায় কান্নায়, অসাড় হাতটা থরথর করে কাঁপে।
বুড়াে মরেছে অনেকদিন, তার দোকানের জায়গায় এখন বিউটি সেলুন। কখনাে সখনো ও পথে গেলে বুড়াের কথা মনে পড়ে, সেই ক্ষণিকের অপ্রকৃতিস্থতা, সেই বর্ষণমুখর সন্ধ্যা। সেদিন পাগলের প্রলাপ ভেবে মনে মনে হেসেছিলাম, করুণাও ছিল খানিকটা। আজ এতদিন বাদে টের পাই বুড়াের সেই প্রশ্ন, সেই আর্তি কবে যেন আমারও জিজ্ঞাসা হয়ে গেছে। পরকলার ভিতর দিয়ে যে অলীক জগতকে দেখলাম এতদিন, তার আড়ালে কে? দেখা। পাবাে তার? চিত্রিত পদ্মেই কি ভ্রমর ভুলে থাকবে চিরকাল?”
― চিত্রিত পদ্মে
বুড়াে মরেছে অনেকদিন, তার দোকানের জায়গায় এখন বিউটি সেলুন। কখনাে সখনো ও পথে গেলে বুড়াের কথা মনে পড়ে, সেই ক্ষণিকের অপ্রকৃতিস্থতা, সেই বর্ষণমুখর সন্ধ্যা। সেদিন পাগলের প্রলাপ ভেবে মনে মনে হেসেছিলাম, করুণাও ছিল খানিকটা। আজ এতদিন বাদে টের পাই বুড়াের সেই প্রশ্ন, সেই আর্তি কবে যেন আমারও জিজ্ঞাসা হয়ে গেছে। পরকলার ভিতর দিয়ে যে অলীক জগতকে দেখলাম এতদিন, তার আড়ালে কে? দেখা। পাবাে তার? চিত্রিত পদ্মেই কি ভ্রমর ভুলে থাকবে চিরকাল?”
― চিত্রিত পদ্মে
“মানুষ বিশেষে গাঁজার নেশার প্রতিক্রিয়ার নাকি তিন রকম হয়, তােতা, প্যাঁচা আর কুম্ভকর্ণ। তােতা বা টিয়াপাখি অবতার খালি বকবক করে, গাঁজাখুরি গল্প। প্যাঁচা চোখ বুঁজে ঝিমােয়, কথা বলে না, আর কুম্ভকর্ণ টেনে ঘুম দেয়। বটতলার এক বইতে গাঁজাখােরের এই তিন রূপের বর্ণনা করা হয়েছে,
“এক গাঁজা তিন বর্ণ, তােতা পেঁচা কুম্ভকর্ণ,
একে একে করিব বর্ণন।
তােতা যিনি টেনে গাঁজা, ফকিরে করেন রাজা,
রাজারে পাঠান তিনি বন।
সে সকল কত কব, শুনিতে সে অসম্ভব,
পেঁচা যিনি গুণে ঘাড় গুঁজে।
তার মুখে নাহি কথা, নানা বােল বলে তােতা,
পেঁচা খালি থাকে চক্ষু বুঁজে।
যিনি হন কুম্ভকর্ণ, কথাতে না দেন কর্ণ,
আগা গােড়া মুড়ি দিয়া পড়ে।
দম্ দিয়া গঞ্জিকায়, শয্যেতে ঢালেন কায়,
সর্বনাশ হলে নাহি নড়ে।”
― চিত্রিত পদ্মে
“এক গাঁজা তিন বর্ণ, তােতা পেঁচা কুম্ভকর্ণ,
একে একে করিব বর্ণন।
তােতা যিনি টেনে গাঁজা, ফকিরে করেন রাজা,
রাজারে পাঠান তিনি বন।
সে সকল কত কব, শুনিতে সে অসম্ভব,
পেঁচা যিনি গুণে ঘাড় গুঁজে।
তার মুখে নাহি কথা, নানা বােল বলে তােতা,
পেঁচা খালি থাকে চক্ষু বুঁজে।
যিনি হন কুম্ভকর্ণ, কথাতে না দেন কর্ণ,
আগা গােড়া মুড়ি দিয়া পড়ে।
দম্ দিয়া গঞ্জিকায়, শয্যেতে ঢালেন কায়,
সর্বনাশ হলে নাহি নড়ে।”
― চিত্রিত পদ্মে
“চণ্ডু আর গুলি , আফিমের আর দুই রূপ। গুলি তৈরির জন্য প্রথমে পেয়ারা পাতা কুচি কুচি করে কেটে শুকনাে খােলায় ভেজে নেওয়া হয়। তারপর একটা চকচকে করে মাজা পিতলের সরায় ঢিমে আঁচে কাঁচা আফিং গলিয়ে নিয়ে তাকে আবার ন্যাকড়ায় ছেঁকে নেওয়া হয়। তারপর তাকে আঁচে চড়িয়ে পেয়ারা পাতা মিশিয়ে বেশ ঘন কাই মতাে হলে ছােটো ছােটো গুলি পাকানাে হয়। গুলিখোরদের ভাষায় একে বলা হতাে ‘ছিটে’, পেয়ারাপাতা মেশানাে আফিং 'জাসু’ আর জ্বাল দিয়ে পাকানাে আফিম ‘পাকা'।
গুলি খাওয়া হতাে হুঁকো কলকেয়, তবে হাতে ধরে নয়, ভাঙা কলসির কানার ওপর ডাবা হুঁকো বসানাে থাকতাে, তার নলচে অর্ধেক কাটা, তার ওপর কলকের শুধু বাঁটের বা নলের মতাে অংশটা। গুলিখোরদের ভাষায় হুঁকো নলচের নাম ‘তােড়জোড়' আর ভাঙা কলকে ‘মেরু'। হুঁকোতে এক/দেড় হাত নল লাগিয়ে টানা হতাে। গুলির দোকান ও খাওয়ার জায়গাকে বলা হতাে গুলির আড্ডা আর মালিককে আড্ডাধারী। গ্রামে ভাঙা খােড়াে চালের মাটির ঘর হলেও শহরের কেতাই আলাদা। সেখানে পাল-পার্বণে গুলির আড্ডা মিষ্টির দোকানের মতাে সাজানাে হতাে। “বড়দিনে একটা একটা গুলির আড্ডা যে সাজিয়েছে, তার আর কথাই নাই, গাদা গাদা গাঁদাফুল এনে আড্ডার চৌদিকে তেথাক চৌথাক ঝালর ঝুলিয়েচে ... ঝালরের মাঝে মাঝে এক একটা তোড় যোড় যেন রচনা টাংঙে দিয়েছে। কলকেতা শহর বড় মজার জায়গা ... গুলীর আড্ডার ডাবা হুঁকো টাঙ্গন দেখতেই যে কত লােক আসছে তার সংখ্যা নাই। আড্ডধারী যখন লাইশেন কোরে দোকান খুলে বােসেচে, তখন এ বিষয়ে তাহারও লজ্জা কিম্বা রাজ ভয় নাই; যতলােক এসে দেখচে তাতে তত তাহার আমােদ বাড়ছে।”
― চিত্রিত পদ্মে
গুলি খাওয়া হতাে হুঁকো কলকেয়, তবে হাতে ধরে নয়, ভাঙা কলসির কানার ওপর ডাবা হুঁকো বসানাে থাকতাে, তার নলচে অর্ধেক কাটা, তার ওপর কলকের শুধু বাঁটের বা নলের মতাে অংশটা। গুলিখোরদের ভাষায় হুঁকো নলচের নাম ‘তােড়জোড়' আর ভাঙা কলকে ‘মেরু'। হুঁকোতে এক/দেড় হাত নল লাগিয়ে টানা হতাে। গুলির দোকান ও খাওয়ার জায়গাকে বলা হতাে গুলির আড্ডা আর মালিককে আড্ডাধারী। গ্রামে ভাঙা খােড়াে চালের মাটির ঘর হলেও শহরের কেতাই আলাদা। সেখানে পাল-পার্বণে গুলির আড্ডা মিষ্টির দোকানের মতাে সাজানাে হতাে। “বড়দিনে একটা একটা গুলির আড্ডা যে সাজিয়েছে, তার আর কথাই নাই, গাদা গাদা গাঁদাফুল এনে আড্ডার চৌদিকে তেথাক চৌথাক ঝালর ঝুলিয়েচে ... ঝালরের মাঝে মাঝে এক একটা তোড় যোড় যেন রচনা টাংঙে দিয়েছে। কলকেতা শহর বড় মজার জায়গা ... গুলীর আড্ডার ডাবা হুঁকো টাঙ্গন দেখতেই যে কত লােক আসছে তার সংখ্যা নাই। আড্ডধারী যখন লাইশেন কোরে দোকান খুলে বােসেচে, তখন এ বিষয়ে তাহারও লজ্জা কিম্বা রাজ ভয় নাই; যতলােক এসে দেখচে তাতে তত তাহার আমােদ বাড়ছে।”
― চিত্রিত পদ্মে
