(?)
Quotes are added by the Goodreads community and are not verified by Goodreads. (Learn more)

“চণ্ডু আর গুলি , আফিমের আর দুই রূপ। গুলি তৈরির জন্য প্রথমে পেয়ারা পাতা কুচি কুচি করে কেটে শুকনাে খােলায় ভেজে নেওয়া হয়। তারপর একটা চকচকে করে মাজা পিতলের সরায় ঢিমে আঁচে কাঁচা আফিং গলিয়ে নিয়ে তাকে আবার ন্যাকড়ায় ছেঁকে নেওয়া হয়। তারপর তাকে আঁচে চড়িয়ে পেয়ারা পাতা মিশিয়ে বেশ ঘন কাই মতাে হলে ছােটো ছােটো গুলি পাকানাে হয়। গুলিখোরদের ভাষায় একে বলা হতাে ‘ছিটে’, পেয়ারাপাতা মেশানাে আফিং 'জাসু’ আর জ্বাল দিয়ে পাকানাে আফিম ‘পাকা'।

গুলি খাওয়া হতাে হুঁকো কলকেয়, তবে হাতে ধরে নয়, ভাঙা কলসির কানার ওপর ডাবা হুঁকো বসানাে থাকতাে, তার নলচে অর্ধেক কাটা, তার ওপর কলকের শুধু বাঁটের বা নলের মতাে অংশটা। গুলিখোরদের ভাষায় হুঁকো নলচের নাম ‘তােড়জোড়' আর ভাঙা কলকে ‘মেরু'। হুঁকোতে এক/দেড় হাত নল লাগিয়ে টানা হতাে। গুলির দোকান ও খাওয়ার জায়গাকে বলা হতাে গুলির আড্ডা আর মালিককে আড্ডাধারী। গ্রামে ভাঙা খােড়াে চালের মাটির ঘর হলেও শহরের কেতাই আলাদা। সেখানে পাল-পার্বণে গুলির আড্ডা মিষ্টির দোকানের মতাে সাজানাে হতাে। “বড়দিনে একটা একটা গুলির আড্ডা যে সাজিয়েছে, তার আর কথাই নাই, গাদা গাদা গাঁদাফুল এনে আড্ডার চৌদিকে তেথাক চৌথাক ঝালর ঝুলিয়েচে ... ঝালরের মাঝে মাঝে এক একটা তোড় যোড় যেন রচনা টাংঙে দিয়েছে। কলকেতা শহর বড় মজার জায়গা ... গুলীর আড্ডার ডাবা হুঁকো টাঙ্গন দেখতেই যে কত লােক আসছে তার সংখ্যা নাই। আড্ডধারী যখন লাইশেন কোরে দোকান খুলে বােসেচে, তখন এ বিষয়ে তাহারও লজ্জা কিম্বা রাজ ভয় নাই; যতলােক এসে দেখচে তাতে তত তাহার আমােদ বাড়ছে।”

অরুণ নাগ, চিত্রিত পদ্মে
Read more quotes from অরুণ নাগ


Share this quote:
Share on Twitter

Friends Who Liked This Quote

To see what your friends thought of this quote, please sign up!

0 likes
All Members Who Liked This Quote

None yet!


This Quote Is From

চিত্রিত পদ্মে চিত্রিত পদ্মে by অরুণ নাগ
10 ratings, average rating, 1 review

Browse By Tag