আমি মৃত আজিজুল ভাইয়ের মুখের দিকে চেয়ে থাকি। আজিজুল ভাই চোখদুটো খোলা। আকাশের দিকে অপলক চেয়ে রয়েছে। যেন দূরে আকাশের মেঘ ভেদ করে আরও গভীরে সেই মধ্যাকর্ষ পর্যন্ত চলে গিয়েছে তার দৃষ্টি। মাছি ভন ভন কছে তার খোলা মুখে। আমার মনে পরে গেলো আজিজুল ভাই আমাকে মাত্র কিছুদিন আগেই বলেছিল "বুঝলি, দেশ স্বাধীন হলে পাকিগুলারে কেমনে মারুম জানোস?ওগো পুটকির ভিত্তে বেয়নেট হান্দাইয়া দিমু। কেমুন হইবো কত তো। ভালো না।"
অথচ আজিজুল ভাই স্বাধীন দেশ দেখে যেত পারল না। আজিজুল ভাই সহ কত নাম্বার হল? এক, দুই, তিন...আমি ভুলে নাই সবার নাম। এই কয়দিনে এত এত লাশ দেখেছি যে হালকা পরিচিত সবার নামই এখন ভুলে গিয়েছে। অথচ কয়েকদিন আগেও ওদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছি।
সাদেক ভাই বলল, "মেশিনগ্যান পাইছোস?"
পাশ থেকে কে যেন না সূচক উত্তর দেয়। রাজাকাররা নিয়ে গিয়েছে। আশ্চর্য! মৃত্যুর পরে মানুষটা আর মুখ্য না একটা মেশিনগান মুখ্য।
হ্যাঁ আমাদের কাছে এখন একটা মেশিনগানই মুখ্য। আজিজুল ভাই আর ফিরে আসবে না, কিন্তু একটা মেশিনগান হাতে থাকলে আরেকজন আজিজুল হক তৈরি হবে। আরকটি পাকিস্তানি মারার মেশন তৈরি হবে। তাই আমাদের কাছে লাশ নয় বরং একটি মেশিনগান খুব গুরুত্বপূর্ণ।
#তারপর_একদিন_সব_গল্প_হয়ে_যায়
#নোভেলা_সামনে_আসবে
#রোম্যান্টিক_মুক্তিযুদ্ধ