আমাদের পাড়ার পাতি মাস্তান

আমাদের পাড়ার পাতি মাস্তান জাহেদ একদিন ধুপ করে মারা গেলো। জাহেদ মারা যাওয়াতে আমরা খুব বেশি অবাক হইনি। যেন জাহেদের মারা যাওয়াটাই ছিল নিয়তি। তবে জাহেদ মারা না গেলেও পারতো। আসলে জাহেদের মারা না গেলেও কোন ক্ষতি ছিল না। যে তো মাস্তানি ছেড়েই দিয়েছিলো।ওদের দলের প্রায় সবাই হয় অক্কা পেয়েছিলো না হয় জেলে পচে মরছে। যেও প্রায় পাঁচ- বছর আগের কথা। জাহেদ অনেক আগেই মাস্তানি ছেড়ে দিয়েছিলো।একা হয়ে যাওয়াতে বিপক্ষ দলের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে গিয়েছিলো এলাকা ছেড়ে। যদিও পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হওয়ার কিছুই ছিল না। বস্তুত পরিস্থিতি অনেক আগেই ঠাণ্ডা হয়ে ছিল। এমনিতে জাহেদ'দের গ্যাং ছিলো ছোট। তার উপর দলের প্রায় সবাই দৃশ্যপট থেকে সরে গিয়েছিলো। সেখানে জাহেদের মতো নিম্ন সারির চ্যালা চামুণ্ডা টাইপের মাস্তানের কোন মূল্যই নেই।তবুও সবাধানের মার নেই ভেবে সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলো। মাঝে মাঝে রাতের আঁধারে আসতো বৃদ্ধ বাবা মাকে দেখতে। আবার রাতের আঁধারেই চলে যেত। যদিও তার কোন দরকার ছিলো না। কারণ কেউ কোনদিন জাহেদের খোঁজে আসেনি। তাঁরা জাহেদকে গনাতেও ধরেনি। জাহেদ থাকল কি গেলো এনিয়ে তাঁদের কোন মাথা ব্যাথা ছিলো না।তবুও জাহেদ পালিয়ে পালিয়ে থাকতো। আর মনে মনে আশা করে একদিন সে বুক ফুলিয়ে বাসায় যাবে। সেই জাহেদ নতুন সন্তানের মুখ দেখতে চলে এসেছিলো বরাবরের মতোই রাতের।
জাহেদ এলাকায় না থাকলেও নিয়মিত যে বাসায় আসা যাওয়া করে চুপিচুপি সেটা এলাকার সবাই জানে। তাই যখন তার স্ত্রীর পেট ফুলে ঢোল হয়ে যায় কেউ কোন সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায় না। বরং তাঁদের দৃষ্টিতে মিশে থাকে সহমর্মিতা। যেই জাহেদ যখন নব জাতক'কে দেখে ফিরে যাচ্ছিল তার গোপন আশ্রয়ে তখন কেউ একজন তাকে ঠুকে দেয়।
ফজরের সময় লাইনের পানি আনতে কুলসুমের মা কল তলার দিকে যাওয়ার সময় রাস্তায় নিয়ন আলোতে এক পুকুর রক্তের মধ্যে কাউকে পড়ে থাকতে দেখে "আল্লাগো......" বলে গগন বিদারী চিৎকার দিয়ে মুর্ছা যায়।তার ডাক শুনে চোর ডাকাত পড়েছে ভেবে আশপাশের নামাজে যাওয়ারত মুসুল্লিরা এগিয়ে আসে।তবুও জাহেদের লাশ পরে থাকে। খুব সকাল বলে মাছিরা তখনও আলাপ পায়নি। সকাল বেলা সবাই আসে তামশা দেখতে। জাহেদের সদ্য প্রসূতি বউও আসে মরা স্বামীর লাশ দেখতে। কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না সে। শুধু নবজাতককে বুকে চেপে ধরে।
আসে যাদের জন্য এলাকা ছেড়েছিলো সেই গ্রুপ। সবাই তাঁদের সন্দেহ করে। কিন্তু তারাও আহা উঁহু করে চলে যায়। ওদের সাথে আবার পুলিশের ভালো সম্পর্ক। লাশ নিতে এসে পুলিশের দারোগা ওদের একজনকে চামে দিয়ে চিপায় নিয়ে জিজ্ঞেস করে খুনটা তারাই করেছে কিনা। কথাটা শুনে হো হো ক্ররে হাসে সে। বলে "ধুর স্যার,এই বালের লাইগা একটা গুলি খরচ করাডাই লস।আমরা মারলে ছুরি দিয়া মারতাম। গুল্লি করতাম না।মাছি মারতে কামান দাগা লাগে না।আর অয় থাকলেও ওরে আমরা মারতান না। হুদাই অয় অতদিন পালাইয়া আছিলো।"

অতপর আর কোন কথা হয় না। পুলিশ লাশ নিয়ে গেলে। শুধু পড়ে থাকে জমাট বাঁধা কিছু রক্ত। তাতে এসে পাড়ার নেড়ি কুকুর মুখ দেয়।
অথচ জাহেদের মরার কোন দরকার ছিলো না।
1 like ·   •  0 comments  •  flag
Share on Twitter
Published on March 07, 2019 12:16
No comments have been added yet.