আজব চিড়িয়াখানা( ফিলিপ জোসে ফারম্যার)
জীববিজ্ঞানী সম্মানিত অতিথিকে চিড়িয়াখানা এবং ল্যাবরেটরি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখাচ্ছিলেন ।
“আমাদের বাজেট এতই সীমিত যে , আমাদের জানা সমস্ত বিলুপ্ত প্রজাতিগুলোকে নতুন করে সৃষ্টি করা সম্ভব নয় ।” সে বলল হাঁটতে হাঁটতে । “তাই আমরা উঁচু স্তরের প্রজাতিগুলোর প্রাণ দেওয়ার চেষ্টা করছি । যে সব সুন্দর প্রাণীগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছিল পৃথিবী থেকে।আমাদের পাশবিকতা এবং নিষ্ঠুরতার ফলে যে বিরাট ক্ষতি হয়েছিল আমি সাধ্যমত চেষ্টা করছি তা পূরণ করার । নিশ্চিতভাবে বলে দেওয়া যায় বোকা মানুষ যখন প্রানীজগতের প্রজাতিগুলোকে একটা একটা করে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল তখনই তারা সৃষ্টিকর্তা মুখে চপেটাঘাত করেছে । ” এই কথা বলে সে থামল ।
তারপর তারা পরিখার ওপাশে চারণভূমির দিকে তাকাল। সেখানে একটি কোয়াগাকে (আফ্রিকান বন্য গাধা) চক্রকারে ঘুরে টগবগ করে দ্রুত অগ্রসর হতে দেখল । জন্তুটার চামড়া সূর্যের আলোয় চকচক করছে । একটা ভোঁদড় পানি থেকে ভুস করে উঠে তার গোঁফ দেখাতে লাগল । একটা গরিলা বাঁশঝাড়ের ভিতর থেকে উঁকি দিচ্ছে । কয়েকটি কবুতর হুস করে উড়ে গেল । একটা গণ্ডার দুলকি চালে হেঁটে যাচ্ছে । ঠিক যেন একটা যুদ্ধ জাহাজ । নরম দৃষ্টিতে একটি জিরাফ তাদের দিকে একবার তাকিয়ে পাতা খাওয়ায় মন দিল ।
“ওই যে ডোডো । প্রাণীটা দেখতে হয়তো সুন্দর নয় কিন্তু বেশ হাস্যকর এবং খুব অসহায় একটা প্রাণী । চলুন আমি আপনাকে কিভাবে আমরা প্রাণীদের তৈরি করি তা দেখিয়ে আনি ।” বলল জীববিজ্ঞানী ।
বিশাল গবেষণা কেন্দ্রটির হল ঘরের পাশ দিয়ে সারি সারি চৌবাচ্চা রাখা । চৌবাচ্চারা সারির মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় এর ভিতরের থকথকে জেলী দেখা যাচ্ছে ।
একটা চৌবাচ্চার কাছে গিয়ে বিজ্ঞানী বলল “এ হচ্ছে আফ্রিকান হাতির ভ্রূণ । আমরা হাতির বিশাল একটা দল তৈরি করে নতুন সরকারের তৈরি রিজার্ভ ফরেস্টে ছাড়ার পরিকল্পনা করছি ।”
“আপনি সত্যিই জীবজন্তু খুব ভালোবাসের , তাই না ? ” বলল অতিথি ।
“আমি সকল প্রাণীই ভালোবাসি ।”
“আমাকে বলুন তো আপনি এই সকল প্রাণীদের তৈরি করার ফর্মুলা কোথায় পেলেন ? ”
“বেশিরভাগই পুরাতন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত হাড়গোড় আর চমড়া থেকে পাওয়া । আর খনন করে যে সমস্ত বইপত্র এবং ফিল্ম পাওয়া গিয়েছে তার প্রায় সবগুলোই আমরা পুনরুদ্ধার করে অনুবাদ করতে পেরেছি । সেটাও সাহায্য করেছে এই গবেষণায় । ওই যে বিশাল ডিমগুলো দেখছেন ? ওগুলোর ভিতরে মোয়া পাখির বাচ্চারা বড় হচ্ছে । আর ওই যে চৌবাচ্চাটা দেখছেন ওতে আছে বাঘের বাচ্চা । তারা যখন বড় হবে তখন ভয়ঙ্কর বিপদজনক হয়ে উঠবে কিন্ত চিন্তার কোন কারণ নেই । ওদের সংরক্ষিত এলাকায় আটকে রাখা হবে ।”
অতিথি শেষ চৌবাচ্চার সামনে এসে থামলেন । সেখানে একটি প্রাণীর ভ্রূণ দেখতে পেলেন ।
“শুধু একটা ? কি এটা ?” অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি ।
“বেচারা !” বিষণ্ণ গলায় বললেন বিজ্ঞানী । “ও একেবারে একা হয়ে পড়বে । কিন্তু আমি আমার সবটুকু ভালোবাসা উজার করে দিব ওকে ।”
“প্রাণীটা কি খুব বেশি বিপদজনক ?” অতিথি জিজ্ঞেস করলেন । “হাতি, বাঘ কিংবা ভালুক থেকেও বেশি বিপদজনক ?”
“ওকে সৃষ্টি করার জন্য আমাকে বিশেষভাবে অনুমতি নিতে হয়েছে ।” কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললেন জীববিজ্ঞানী ।
অতিথি ছিটকে চৌবাচ্চা থেকে দূরে সরে গেলেন । তারপর বললেন “তাহলে এটা নিশ্চয়............... ? কিন্তু আপনি নিশ্চিয় এই প্রজাতি সৃষ্টি করার দুঃসাহস দেখাবেন না !”
বিজ্ঞানী নীরবে মাথা নাড়লেন । “আপনি ঠিকই ধরেছেন । এটি একটি মানুষ ।”
আজব চিড়িয়াখানা
মূল – ফিলিপ জোসে ফারম্যার
অনুবাদ – নজরুল ইসলাম
“আমাদের বাজেট এতই সীমিত যে , আমাদের জানা সমস্ত বিলুপ্ত প্রজাতিগুলোকে নতুন করে সৃষ্টি করা সম্ভব নয় ।” সে বলল হাঁটতে হাঁটতে । “তাই আমরা উঁচু স্তরের প্রজাতিগুলোর প্রাণ দেওয়ার চেষ্টা করছি । যে সব সুন্দর প্রাণীগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছিল পৃথিবী থেকে।আমাদের পাশবিকতা এবং নিষ্ঠুরতার ফলে যে বিরাট ক্ষতি হয়েছিল আমি সাধ্যমত চেষ্টা করছি তা পূরণ করার । নিশ্চিতভাবে বলে দেওয়া যায় বোকা মানুষ যখন প্রানীজগতের প্রজাতিগুলোকে একটা একটা করে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল তখনই তারা সৃষ্টিকর্তা মুখে চপেটাঘাত করেছে । ” এই কথা বলে সে থামল ।
তারপর তারা পরিখার ওপাশে চারণভূমির দিকে তাকাল। সেখানে একটি কোয়াগাকে (আফ্রিকান বন্য গাধা) চক্রকারে ঘুরে টগবগ করে দ্রুত অগ্রসর হতে দেখল । জন্তুটার চামড়া সূর্যের আলোয় চকচক করছে । একটা ভোঁদড় পানি থেকে ভুস করে উঠে তার গোঁফ দেখাতে লাগল । একটা গরিলা বাঁশঝাড়ের ভিতর থেকে উঁকি দিচ্ছে । কয়েকটি কবুতর হুস করে উড়ে গেল । একটা গণ্ডার দুলকি চালে হেঁটে যাচ্ছে । ঠিক যেন একটা যুদ্ধ জাহাজ । নরম দৃষ্টিতে একটি জিরাফ তাদের দিকে একবার তাকিয়ে পাতা খাওয়ায় মন দিল ।
“ওই যে ডোডো । প্রাণীটা দেখতে হয়তো সুন্দর নয় কিন্তু বেশ হাস্যকর এবং খুব অসহায় একটা প্রাণী । চলুন আমি আপনাকে কিভাবে আমরা প্রাণীদের তৈরি করি তা দেখিয়ে আনি ।” বলল জীববিজ্ঞানী ।
বিশাল গবেষণা কেন্দ্রটির হল ঘরের পাশ দিয়ে সারি সারি চৌবাচ্চা রাখা । চৌবাচ্চারা সারির মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় এর ভিতরের থকথকে জেলী দেখা যাচ্ছে ।
একটা চৌবাচ্চার কাছে গিয়ে বিজ্ঞানী বলল “এ হচ্ছে আফ্রিকান হাতির ভ্রূণ । আমরা হাতির বিশাল একটা দল তৈরি করে নতুন সরকারের তৈরি রিজার্ভ ফরেস্টে ছাড়ার পরিকল্পনা করছি ।”
“আপনি সত্যিই জীবজন্তু খুব ভালোবাসের , তাই না ? ” বলল অতিথি ।
“আমি সকল প্রাণীই ভালোবাসি ।”
“আমাকে বলুন তো আপনি এই সকল প্রাণীদের তৈরি করার ফর্মুলা কোথায় পেলেন ? ”
“বেশিরভাগই পুরাতন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত হাড়গোড় আর চমড়া থেকে পাওয়া । আর খনন করে যে সমস্ত বইপত্র এবং ফিল্ম পাওয়া গিয়েছে তার প্রায় সবগুলোই আমরা পুনরুদ্ধার করে অনুবাদ করতে পেরেছি । সেটাও সাহায্য করেছে এই গবেষণায় । ওই যে বিশাল ডিমগুলো দেখছেন ? ওগুলোর ভিতরে মোয়া পাখির বাচ্চারা বড় হচ্ছে । আর ওই যে চৌবাচ্চাটা দেখছেন ওতে আছে বাঘের বাচ্চা । তারা যখন বড় হবে তখন ভয়ঙ্কর বিপদজনক হয়ে উঠবে কিন্ত চিন্তার কোন কারণ নেই । ওদের সংরক্ষিত এলাকায় আটকে রাখা হবে ।”
অতিথি শেষ চৌবাচ্চার সামনে এসে থামলেন । সেখানে একটি প্রাণীর ভ্রূণ দেখতে পেলেন ।
“শুধু একটা ? কি এটা ?” অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি ।
“বেচারা !” বিষণ্ণ গলায় বললেন বিজ্ঞানী । “ও একেবারে একা হয়ে পড়বে । কিন্তু আমি আমার সবটুকু ভালোবাসা উজার করে দিব ওকে ।”
“প্রাণীটা কি খুব বেশি বিপদজনক ?” অতিথি জিজ্ঞেস করলেন । “হাতি, বাঘ কিংবা ভালুক থেকেও বেশি বিপদজনক ?”
“ওকে সৃষ্টি করার জন্য আমাকে বিশেষভাবে অনুমতি নিতে হয়েছে ।” কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললেন জীববিজ্ঞানী ।
অতিথি ছিটকে চৌবাচ্চা থেকে দূরে সরে গেলেন । তারপর বললেন “তাহলে এটা নিশ্চয়............... ? কিন্তু আপনি নিশ্চিয় এই প্রজাতি সৃষ্টি করার দুঃসাহস দেখাবেন না !”
বিজ্ঞানী নীরবে মাথা নাড়লেন । “আপনি ঠিকই ধরেছেন । এটি একটি মানুষ ।”
আজব চিড়িয়াখানা
মূল – ফিলিপ জোসে ফারম্যার
অনুবাদ – নজরুল ইসলাম
Published on December 22, 2018 10:20
No comments have been added yet.

