আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি Quotes
আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি
by
Abul Hashim10 ratings, 4.30 average rating, 3 reviews
আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি Quotes
Showing 1-5 of 5
“মিস্টার চুন্দ্রীগড়ের সভাপতিত্বে ৫ই আগস্ট দুটি সভা অনুষ্ঠিত হলো। পূর্ব পাকিস্তানের বিধানসভার সদস্যদের সভায় পূর্ব পাকিস্তান পার্লামেন্টারী পার্টির নেতৃত্বের জন্য সুহরাওয়ার্দী খাজা নাজিমুদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন এবং পরাজিত হলেন। খাজা নাজিমুদ্দীন পঁচাত্তরটি ভোট পান এবং সুহরাওয়ার্দী পান মাত্র ঊনচল্লিশটি। সুহরাওয়ার্দী পরাজিত হওয়ার পরমুহূর্তে বসিরহাটের আবদুর রহমানকে সঙ্গে করে পার্শ্ববর্তী কক্ষে যেখানে পশ্চিমবঙ্গ মুসলিম লীগের পার্লামেন্টারী পার্টির সদস্যরা তাঁদের নেতা নির্বাচিত করার জন্য বসে ছিলেন সেখানে ছুটে গেলেন। আবদুর রহমান সুহরাওয়ার্দীর নাম প্রস্তাব করলেন এবং সুহরাওয়ার্দী পশ্চিমবঙ্গ মুসলিম লীগের পার্লামেন্টারী পার্টির নেতা নির্বাচিত হলেন। এটা ছিলো দেবতাদের উপভোগ করার মতো এক দৃশ্য। যে ব্যক্তি একমুহূর্ত আগেও পাকিস্তানে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্খা পোষণ করেছিলেন তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম লীগের পার্লামেন্টারী পার্টির নেতা হিসেবে নিজের নাম প্রস্তাব করলেন।”
― আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি
― আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি
“সংসদ কক্ষে ২৯শে জুন বঙ্গীয় বিধানসভার সদস্যদের এক যুগ্ম সভা অনুষ্ঠিত হলো। যুগ্ম সভা পাকিস্তানে যোগদানের পক্ষে ভোটদান করল। এর পনেরো মিনিট পর দুটি সভা অনুষ্ঠিত হলো। একটি বাংলার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্যটি বাংলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের অঞ্চলের। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের সদস্যরা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের সদস্যরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ভোট প্রদান করলেন। বাংলা দুই ভাগে বিভক্ত হলো। কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্যরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ভোট প্রদান করেন।
কম্যুনিস্ট পার্টি বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ভোট প্রদান করেছিলেন কিন্তু সিলেটের গণভোটে তাঁরা আসাম থেকে সিলেটকে বিচ্ছিন্ন করার বিপক্ষে ভোট দেন। যখন গণভোট আসাম থেকে সিলেটকে বিচ্ছিন্ন করার পক্ষে রায় প্রদান করল তখন কমিউনিস্ট পার্টি দাবী জানালেন যে, সিলেটের হিন্দু অধ্যুষিত থানাগুলিকে সিলেট থেকে যেন আলাদা করে আসামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।”
― আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি
কম্যুনিস্ট পার্টি বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ভোট প্রদান করেছিলেন কিন্তু সিলেটের গণভোটে তাঁরা আসাম থেকে সিলেটকে বিচ্ছিন্ন করার বিপক্ষে ভোট দেন। যখন গণভোট আসাম থেকে সিলেটকে বিচ্ছিন্ন করার পক্ষে রায় প্রদান করল তখন কমিউনিস্ট পার্টি দাবী জানালেন যে, সিলেটের হিন্দু অধ্যুষিত থানাগুলিকে সিলেট থেকে যেন আলাদা করে আসামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।”
― আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি
“বিহারের দাঙ্গায় বিহার কংগ্রেস কমিটির সভাপতি প্রফেসর আবদুল বারি ও একজন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা নিহত হন। জিন্নাহও কলকাতা এবং পাটনা সফর করেননি। দাঙ্গা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে 'স্থির মস্তিষ্কে' জিন্নাহ বলেছিলেন যে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তাঁর দ্বিজাতিতত্ত্ব প্রমাণ করেছে।”
― আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি
― আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি
“গান্ধী ও তাঁর সঙ্গীরা বঙ্গীয় সরকারের অতিথি হিসাবে নোয়াখালী যান এবং সেখানে অবস্থান করেন। গান্ধীর নোয়াখালী সফর নোয়াখালী ও কুমিল্লা এই দুই জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর মুসলমানদের নিষ্ঠুর আচরণের ব্যাপারে পৃথিবীর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলো। কলকাতা এবং বিহারে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই ছিলো মুসলমান। গান্ধী কলকাতা বা পাটনা কোথাও সফর করেননি।”
― আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি
― আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি
“এই বাদানুবাদ ছাড়াও চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরীর এক অপ্রীতিকর কার্যকলাপ আমাকে অস্থির করে রেখেছিলো। এ ভদ্রলোক সারারাত আমাদের ও নাজিমুদ্দীনের শিবিরে ঘোরাফেরা করেন ও এবং ভয় প্রদর্শন করে বলেন যে চট্টগ্রামের পঁচিশজন কাউন্সিল সদস্য আমাদের ভোট দেবেন না যদি আমরা তাঁকে পাঁচজন পার্লামেন্টারী বোর্ডের অন্যতম সদস্য হিসাবে গ্রহণ না করি। তিনি আমাদের বোঝাতে চেষ্টা করলেন যে, চট্টগ্রাম জেলা যদি আমাদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে তাহলে প্রতিযোগিতায় আমরা পরাজিত হব। ফজলুল কাদের চৌধুরীর খুবই দুর্ভাগ্য যে, খাজা নাজিমুদ্দীন এবং আমরা কেউই তাকে গ্রহণ করতে পারলাম না।”
― আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি
― আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি
