একদিনের ঘটনা আমার মনে আছে। এবার একটা গল্প ফাঁদিয়াছিলাম। সমালোচনাপ্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ বলিলেন, গল্পটা এমনভাবে আরম্ভ হইয়াছে, যেন অনেক আড়ম্বর করিয়া রেলে চড়িয়া বোম্বাই যাত্রার মতো; কিন্তু অকালে অকস্মাৎ শ্রীরামপুরে আসিয়া রেল-কলিশন ঘটিয়া সব শেষ হইয়া গেল। মনে ভাবিলাম, কিছুই তাঁহার ভাল লাগিবে না। সেদিনের পুডিং ও আনারসের কথা মনে পড়িয়া যাইত। সেদিন তবু সান্ত্বনার জন্য বাস্তব রস ছিল, আর আজ ছোটোবড়ো সকলের সম্মুখে এমন মার! এখন বুঝিতেছি, এই-সব নিদারুণ আঘাতে আমাদের সাহিত্যিক রুচি তৈরি হইয়া গিয়াছিল। প্রথম রচনা লিখিয়াই ‘বাহবা, বেশ হইয়াছে’ শুনিবার দুর্ভাগ্য যাহাদের হয় তাহারা বড়োলোকের আদুরে দুলালের মতো, প্রথম যথার্থ আঘাতেই একান্ত অসহায় অনুভব করে। এখন যখন পাঠকেরা আমার লেখা সম্বন্ধে প্রতিকূল মত প্রকাশ করে তাহারা হয়তো ভাবে, লোকটা এইবার লেখা ছাড়িয়া দিলে বাঁধা যায়। কিন্তু, আমি মনে মনে হাসিয়া ভাবি, ‘তোমাদের সমালোচনা তো শিখণ্ডীর বাণ, আমি স্বয়ং গাণ্ডীবীর বাণ সহ্য করিয়াছি এমন শক্ত আমার প্রাণ।