(?)
Quotes are added by the Goodreads community and are not verified by Goodreads. (Learn more)

“মুর্শিদাবাদের নবাবরা পুরাতন বছরের মুদ্রায় খাজনা নিতেন না। সরকারি তোষাখানায় বর্তমান বছরের নতুন সিক্‌কা টাকা ছাড়া খাজনা নেওয়ার নিয়ম ছিল না। অর্থাৎ গত বছরে ছাপা রূপাইয়া বা মাদ্রাজ টাঁকশাল থেকে আনানো ইংরাজদের আর্কট রূপাইয়া আসলে আর টাকা ছিল না। অন্যান্য বাজারের পণ্যের মতো বা রূপার পাতের মতো ঐ মুদ্রাগুলিও পণ্যদ্রব্য হয়ে দাঁড়াত — টাকার বদলে (অর্থাৎ সিক্কা টাকার বদলে) যা বিক্রী করতে হয়। বাজারের অন্যান্য পণ্যের মতোই এই সনওয়ত (ভূতপূর্ব সিক্‌কা) ও আর্কট রূপাইয়া এমন এক ধরনের ‘ডিসকাউন্টে বেচা-কেনা হত যার নাম 'বাটা' এবং যা অন্যান্য পণ্যের দামের মতোই চড়ায় মন্দায় উঠত নামত। সিকার তুলনায় সনওয়ত ও আর্কটের বাটা ছিল প্রকারান্তরে জনতার উপর এবং বাণিজ্যের উপর একরকমের অদৃশ্য কর বা ইন্ডিরেক্ট ট্যাক্স। এইভাবে সওয়াত ও আর্কটের দাম সিক্কার তুলনায় কমিয়ে দিয়ে এবং পরস্পরের এক্সচেঞ্জ বা বিনিময় হার নিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে নবাব সরকার সিক্কা রূপাইয়া তৈরির একচেটিয়া সরকারি দোকানটাকে (অর্থাৎ টাঁকশাল) ইজারা দিতেন। জগৎশেঠের লোক টাঁকশাল ইজারা নিয়ে সরকারকে বছর বছর থোক টাকা দিত যা আসলে জনতার কাছ থেকে আদায় করা এক প্রকার ট্যাক্স। টাঁকশাল হাতে পেয়ে জগৎশেঠ ফতেহচন্দ সমস্ত পুরাতন বা বিদেশী মুদ্রা কিনে নিয়ে প্রায় নিখরচায় সেগুলিতে ছাপ মেরে নতুন সিক্‌কা টাকায় পরিণত করতেন এবং পুরো দামে বাজারে ছাড়তেন। ইংরাজদেরও অন্যান্য সাধারণ লোকের মতো বাটা দিয়ে আর্কট ও সনওয়ত বিক্রী করে বাণিজ্যের জন্য সিক্‌কা টাকা সংগ্রহ করতে হত। বাটার মুনাফা যেত জগৎশেঠের কুঠিতে। মুদ্রা বিনিময়ের হার বা এক্সচেঞ্জ নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ জগৎশেঠের হাতে ছিল বলে ইংরাজরা বছর বছর অদৃশ্যভাবে জগৎশেঠকে খাজনা যুগিয়ে চলত।”

রজতকান্ত রায়, পলাশীর ষড়যন্ত্র ও সেকালের সমাজ
Read more quotes from রজতকান্ত রায়


Share this quote:
Share on Twitter

Friends Who Liked This Quote

To see what your friends thought of this quote, please sign up!

0 likes
All Members Who Liked This Quote

None yet!



Browse By Tag