শীতের ঝরা দিনগুলি
এই যে এই শীত বসন্ত মিশেলে সময়টা, ডে শিফটে স্কুল করতাম বলে নেভি ব্লু সোয়েটারটা পিঠে বাঁধা থাকতো বেশি। স্পোর্টস এর সময়, জীবনে প্রথম দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিলাম, চোখ বন্ধ করে এক দৌড়! চোখ খুলে আশেপাশে কাউকে না দেখে মনে হলো প্রথম হয়েছি বুঝি। ডানে তাকিয়ে দেখি ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড অলরেডি স্টেজে। পরে জানলাম আসলে হয়েছে গোল্লা। এমন বেইজ্জতি ঘটনার পর আর কোনদিন দৌড় প্রতিযোগিতায় নাম দিই নাই!
কিন্তু স্কুল শেষে দুই টাকার ঝালমুড়ি নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফেরার যে ব্যাপার ছিলো, সেটা যে খুব অসাধারণ এখন বুঝতে পারি। সূর্য পাটে নামতে নামতে কমলা লেবুর মত হয় দেখতে। তখন ও ওই জায়গায় এত গুলো বড় বিল্ডিং উঠেনি, তাই সবুজ চিরল পাতার ফাঁক দিয়ে মৃদু ওম মাখা সেই রোদ খুব আরাম দিতো।
নিজের থেকে দুই সাইজ বড় বিগ ড্রাম বাজাতে গিয়ে হাতের তালু ফেটে রক্ত বের হয়ে যেত। তবু দ্রিম দ্রিম আওয়াজ রক্তের মাঝে একটা টান, একটা নেশা। তখন মনে হতো আর্মি হবো। ড্রাম পিটাতে যেয়ে একদিন ফেটে গেলে ছোট স্যার বললেন এর বড় পাতিল কিনে দেবো তোমাদের। স্যারের রুম থেকে বের হয়ে তাই খিকখিক হাসি।
জানুয়ারী মাসে ক্লাসের থেকে মাঠে থাকা হতো বেশি। রোদে পুড়ে ছাই হয়ে তেতুল তলায় বসে চাটনির প্যাকেট নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে করতে আমরা দিনের মরণ দেখতাম। র্যাকেট আর ফেদারের এই পাশ ওই পাশ যাত্রার মাঝে দিয়ে আমাদের একদিন স্কুল ছাড়ার সময় হয়ে যায়।
প্রতিবার সবাইকে বিদায় দিয়ে অভ্যস্ত আমরা একদিন বুঝি আর অনেকদিন এই মাঠে ঘাস চিবুতে চিবুতে বসা হবেনা। প্রতিদিন দেখা মুখ গুলো দেখা হবেনা। আমাদের হঠাৎ বিষণ্ণ লাগে। তবু আমরা হাসি মুখে বিদায় বলি। চেনা মুখ গুলো অপরিচিত হয়ে যাবে এটা জীবনের অংশ, কেউ কখনোই চিরটা সময় থাকবেনা, এই বোধগুলো প্রতিদিন ঘটে, তবু আমরা একটা মরীচিকামতো জীবন নিয়ে কি অকারণ ব্যস্তই না থাকি।
- নূহা চৌধুরী
কিন্তু স্কুল শেষে দুই টাকার ঝালমুড়ি নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফেরার যে ব্যাপার ছিলো, সেটা যে খুব অসাধারণ এখন বুঝতে পারি। সূর্য পাটে নামতে নামতে কমলা লেবুর মত হয় দেখতে। তখন ও ওই জায়গায় এত গুলো বড় বিল্ডিং উঠেনি, তাই সবুজ চিরল পাতার ফাঁক দিয়ে মৃদু ওম মাখা সেই রোদ খুব আরাম দিতো।
নিজের থেকে দুই সাইজ বড় বিগ ড্রাম বাজাতে গিয়ে হাতের তালু ফেটে রক্ত বের হয়ে যেত। তবু দ্রিম দ্রিম আওয়াজ রক্তের মাঝে একটা টান, একটা নেশা। তখন মনে হতো আর্মি হবো। ড্রাম পিটাতে যেয়ে একদিন ফেটে গেলে ছোট স্যার বললেন এর বড় পাতিল কিনে দেবো তোমাদের। স্যারের রুম থেকে বের হয়ে তাই খিকখিক হাসি।
জানুয়ারী মাসে ক্লাসের থেকে মাঠে থাকা হতো বেশি। রোদে পুড়ে ছাই হয়ে তেতুল তলায় বসে চাটনির প্যাকেট নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে করতে আমরা দিনের মরণ দেখতাম। র্যাকেট আর ফেদারের এই পাশ ওই পাশ যাত্রার মাঝে দিয়ে আমাদের একদিন স্কুল ছাড়ার সময় হয়ে যায়।
প্রতিবার সবাইকে বিদায় দিয়ে অভ্যস্ত আমরা একদিন বুঝি আর অনেকদিন এই মাঠে ঘাস চিবুতে চিবুতে বসা হবেনা। প্রতিদিন দেখা মুখ গুলো দেখা হবেনা। আমাদের হঠাৎ বিষণ্ণ লাগে। তবু আমরা হাসি মুখে বিদায় বলি। চেনা মুখ গুলো অপরিচিত হয়ে যাবে এটা জীবনের অংশ, কেউ কখনোই চিরটা সময় থাকবেনা, এই বোধগুলো প্রতিদিন ঘটে, তবু আমরা একটা মরীচিকামতো জীবন নিয়ে কি অকারণ ব্যস্তই না থাকি।
- নূহা চৌধুরী
Published on February 06, 2023 20:16
•
Tags:
nuha-chowdhury
No comments have been added yet.


