[justify]
পাঠকের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে সময়ে সময়ে।
শরৎচন্দ্রের সাথে এগোতে গেলে হোঁচট খেতে হয় একটু পর পর। জনপ্রিয়তায় রবি কবিকে ছাড়িয়ে বাংলা উপন্যাসের প্রথম বেস্টসেলার লেখক তাকেই বলা যায় কি? হয়তো। তার সমাজ সংস্কারের প্রশ্ন জাগানো একের পর এক উপন্যাসে বাংলার উদীয়মান মধ্যবিত্ত শ্রেণি আপ্লুত হয়েছে সেকালে। রাজনীতি নিয়ে হোক বা ধর্মীয় বিধান নিয়ে, সামাজিক বিধি থেকে নারীর হৃদয়বৃত্তি – এসব আবেগী ইস্যুতে শরৎচন্দ্রের কলম টোকা দেয় চিরকালীন হু হু করে কাঁদতে প্রস্তুত বাঙালি হৃদয়ের শিরা উপশিরায়। এমন প্রভূত জনপ্রিয়তা পাওয়া শরতের উপন্যাস (উপন্যাস নিয়ে বলছি, ছোটোগল্প নয়) এই ক্লান্তিকর ঢাকায় আজ আশি বছর পরে এতো রিক্ত হয়ে ধরা দেয় কেনো? রোজ দুপুরে বাঙালি নারী শরৎচন্দ্র হাতে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়তো- হুমায়ূন আহমেদ এই ছবি এঁকেছেন তিরিশ বছরও তো পুরো হয়নি।
বহু আগে পড়া শ্রীকান্ত মনে নেই, ইদানিং পল্লীসমাজ বা আধেক পেরিয়ে আসা গৃহদাহ’তে টের পাই; এ যুগ সেই যুগ নয়। বাঙালি মধ্যবিত্তের জাগরণের সময়ে ব্যক্তির খোলস ছিলো পাতলা, সামষ্টিক রাজনৈতিক কিংবা সমাজ চেতনাই তখন চালিয়ে নিয়ে গেছে চারপাশকে, শরৎচন্দ্র তখন কলম নিয়েছিলেন হাতে। কিন্তু এখন কি সমাজের যুগ? এতো এতো গ্যাজেট বেষ্টিত হয়ে, সিসি টিভি আর ইনস্টাগ্রামের সদাসতর্ক তাকানো উপেক্ষা করে চলা যে মানুষ, আজকাল সে কি আর সমাজ গ্রাহ্য করে? চিবুকের কাছেও একা মানুষ এখন সমাজকে টুকরো টুকরো করে ব্যক্তি সর্বস্ব, দোসরহীন ভাবে সে সত্য। এই মানুষকে আঁকতে পেরেছেন কি শরৎচন্দ্র? শুধু গল্প, শুধু আবেগ দিয়ে যা আঁকা হয়- ঘোর কেটে গেলে তার সন্ধান বোধহয় থাকে না আর। অথবা থাকলেও নির্বোধ এ পাঠক সেটা খুঁজে পায় না।
এই টানাটানির প্রকোপে পড়ে লাভ হয় মুজতবা আলীর। ফলে ওদিকে দেশে-বিদেশে আর জলে ডাঙ্গায় রিভাইজ হয়ে যায় তো বটেই, নতুন করে আলীজাঁ পড়ার খায়েশ পর্যন্ত জাগে। কিন্তু বিরাট কোহলির ব্যাটের সামনে কচুকাটা হওয়া বোলারদের মতোই দগ্ধে জ্বালিয়ে রাখেন শরৎচন্দ্র। ক্যানেস্তারা পিটিয়ে যান, আমি আছি, আমি আছি আজো।
এই ডাকাডাকি আর কদিন চলবে?
[/justify]
Published on January 17, 2017 08:53