দেশ বিভাগ
discussion
1 view দেশবিভাগে দ্বিজাতিতত্বই মূল ভূমিকা পালন করে যা একমাত্র জিন্নার দল মুসলিম লীগই কেবল মেনে চলত - মতামত দিন ।
date
newest »
newest »
all discussions on this book
|
post a new topic

উত্তরঃ দেশবিভাগ, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক বিভেদ আর চিরস্থায়ী সাম্প্রদায়িকতা যা আজও ভারতবর্ষের প্রতিটি মানুষ হৃদয়ে ধারণ করেন। দু'শ বছরের বঞ্চনা, নিপীড়ন আর বিভেদের রাজনীতি খেলে গেল যারা, স্বাধীনতার পর তারা শত্রু না হয়ে ভারতীয়রা নিজেরাই নিজেদের প্রধান শত্রু হয়ে উঠল। হিন্দু বনাম মুসলমান । কি আশ্চর্য !
আসল গুটিবাজি করে সব কেঁড়ে নিয়ে বিভেদের গোল পাকিয়ে গেল চতুর ব্রিটিশরা । আর বোকা জিন্না কেবল ধর্মীয় গোঁড়ামি আর ক্ষমতার মসনদে বসার লোভে ব্রিটিশদের নতজানু হয়ে ভিক্ষুকের মত ভিক্ষা করে নিল পাকিস্তান, যা পৃথিবীর বুকে আজও এক ব্যর্থ রাষ্ট্র ।
মুসলিম লীগ কখনোই প্রত্যক্ষ স্বাধীনতা সংগ্রাম করেনি, বরং কংগ্রেসের সংগ্রামের ফল ঘরে তুলেছে কাপুরুষের মত । বইটিতে যুক্তিপূর্ণভাবে আলোচনায় এটাই প্রমাণিত হয় ।
দেশবিভাগের পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দুর্বল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভূমিকা নতুন করে নেয় তাদেরই পরম চিরমিত্র আমেরিকা, নব্য উপনিবেশবাদী, নব্য বেনিয়া সাম্রাজ্যবাদী শক্তি । আমেরিকার প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় পাকিস্তান মিলিটারি হয়ে ওঠে প্রচন্ড শক্তিশালী, যেন তাদের ঘাড়ে সওয়ার হল সেই ব্রিটিশদেরই ভুত । এই মিলিটারি দিয়ে আজও পশ্চিমা শক্তি পাকিস্তানকে দিয়ে ভারতবর্ষে তাদের প্রভাব বজায় রেখেছে ।চিরস্থায়ী দ্বন্দ্ব পাকিয়ে রেখেছে ।
অন্যদিকে ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর নতুন মেরুকরণ হওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে শুরু হল রাশিয়া তথা সোভিয়েত ও আমেরিকার মধ্যে কোল্ড ওয়ার। নতুন দেশ INDIA যোগ দেয় রুশ বলয়ে ।অর্থাৎ অ্যান্টি ব্রিটিশ-আমেরিকান বলয়ে, যাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জিত হয়ে নতুন ভারতের তাদের বিপক্ষ শিবিরে । ভারতের সামরিক শক্তি গড়ে উঠতে থাকে রাশিয়ান সহায়তায় । এই হল ভারত-রুশ ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তি ।
আর নিরুপায় গান্ধী অখন্ড ভারতের স্বপ্ন দেখতে দেখতেই চলে গেলেন, স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে আজও । কিন্তু তিনি হয়ে আছেন এক আদর্শের মহীরুহ । অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষক হয়ে ইতিহাসের পাতায় ।
যদিও এখনকার প্রেক্ষাপটে সবার মনে হতে পারে দেশ ভাগ হয়ে ভালই হয়েছে । রক্তবন্যা-হানাহানি-দাঙ্গা থেকে তো মুক্তি মিলেছে । যদিও ১৯৪৭ এ সমসাময়িক কিছু রায়ট হয় । তথাপি সর্বান্তে শান্তিই মিলেছে।
কিন্তু বারবার আমরা ভুলে যাই, এই বিভেদ, এই সাম্প্রদায়িকতা আমাদের কারোই সৃষ্টি নয় । ধর্মীয় বিভেদ আমাদের উপর চাপিয়ে গেছে, তৈরী করে গেছে এবং শুরু করে গেছে ঐ ব্রিটিশরাই যা আজও তাদের প্রতিভূরা বজায় রেখে শাসন-শোষণের ক্ষমতা ভোগ করছে ।
আর ঐ দ্বিজাতিতত্ব, ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র, দেশবিভাগ যে সম্পূর্ণ ভুল-ভ্রান্ত তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হয় পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন, সার্বভৌম, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ে ।