Preetam Chatterjee > Preetam's Quotes

Showing 1-30 of 62
« previous 1 3
sort by

  • #1
    “সবাই স্বপ্ন দেখে কি না জানি না, তবে অনেকে দেখে। আমিও দেখি। আমার ধারণা সবাই স্বপ্ন দেখতে শেখেনি।

    স্বপ্ন মানে–খুব যে একটা বিরাট কিছু তা নয়। অল্প একটু জমি, এই কাঠা দশেক হলেই চলে–তাতে একটি ছোট বাংলো প্যাটার্নের একতলা বাড়ি। ইটালিয়ান ধাঁচের পোর্টিকোওয়ালা। ঘর থাকবে মোটে তিনটি–চারপাশে কাঁচ থাকবে শুধু কাঁচ। প্রচুর জায়গা নিয়ে একটি স্টাডি। চতুর্দিকে বই। বই—বই–রাশীকৃত বই। এক কোনায় ছোট একটা কর্নার টেবল–তাতে একটি সাদা টেবল-ল্যাম্প থাকবে। সেখানে বসে আমি লিখব। ফার্নিচার বেশি থাকবে না। পাতলা একরঙা পার্শিয়ান কার্পেট থাকবে মেঝেতে। একেবারে সাদা ধবধবে টাইলের মেঝে হবে। প্রতি ঘরে ঘরে রোজ ফুল বদলানো হবে। চারিদিকে চওড়া ঘোরানো বারান্দা থাকবে। থোকা থোকা বুগেনভেলিয়া লতায় চারদিক ভরা থাকবে। গেটের দু’পাশে দুটি গাছ থাকবে–কৃষ্ণচূড়া নয়, রাধাচূড়া। কৃষ্ণচূড়া বিরাট বড়–ওই ছোট্ট বাড়িতে বিরাট কিছু মানাবে না। বারান্দায় রেলিং থাকবে। সাদা। রট আয়রনের। বাথরুমটা বেশ বড় হবে, যাতে নয়না গান গেয়ে গেয়ে ঘুরে ঘুরে শাওয়ারের নীচে চান করতে পারে।

    বসন্তকালে লনের চেরি গাছের নীচে বেতের চেয়ারে বসে চা খাব আমরা।আমি আর নয়না।”
    হলুদ বসন্ত / বুদ্ধদেব গুহ

  • #2
    “পুবে সবে আলো ফুটেছে। পূবের পাহাড়টার জন্যে আলো পৌঁছতে একটু দেরি হয় উপত্যকাতে। আলো এসে পৌঁছতেই ভোঁর ঘাসের মাঠের উপর রাতভর জমা শিশিরে লক্ষ লক্ষ হীরে ঝিকমিক করে। লাল সাদা ফুল এসেছে ঘাসগুলোতে। ঘাসের মাঠের আঁচল ঘিরে ধরা বা চোরকাঁটার বর্ডার। তারপরই গহীন জঙ্গল।

    চারদিকে সাজা, শাল, ধাওয়া, বহে, কাসসী কুহমী, বেল, চাঁর, জামুন, পলাশ ইত্যাদি নানা গাছগাছালি। শালই বেশি। সোজা, সবুজের পতাকার মতো উঠে গেছে নীল অকলঙ্ক আকাশে। সাজা গাছের আর এক নাম সাজ। গোঁদ-বায়গারা পুজো করে ওই গাছ। শালকে, যেমন করে ওঁরাও-সাঁওতালরা। ধাওয়া হচ্ছে গদ-এর গাছ। আঠা হয় এ গাছ থেকে। বহেড়া গাছগুলো বিরাট বিরাট। শখ করে খায় হরিণ ওদের ফল। কাসসী গাছের কদর গরুর গাড়ির চাকা বানাতে। বড় শক্ত কাঠ এ। কুহমি অনেকটা বেলের মতো। চাঁর গাছও মস্ত মস্ত হয়। চমৎকার ছায়া দেয় এ গাছ। চিরাঞ্জীদানাও বলে, অনেকে এর ফলকে। ফুল ফোটে সাদা সাদা মিষ্টি গন্ধর, ফাল্গুন চৈত্রে। চার-এর ফল ধরে বৈশাখের শেষে বা জ্যৈষ্ঠেতে। মিষ্টি ফল। জামুনও, বড় ও ছোট অনেক আছে হাটচান্দ্রার আশে পাশের জঙ্গলে। গরমের শেষে আষাঢ় শ্রাবণে পাকে। পলাশ। পলাশ গাছে গাছে গরমের শুরুতে ফুল যেমন লালে লাল করে দেয় দিগন্ত, তেমন সে গাছের গুটি পোকা থেকেই লাক্ষা সংগ্রহ করে আদিবাসী ছেলেমেয়েরা। কারখানায় নিয়ে যায়। মেটিরিয়াল ম্যানেজার শর্মা পা ছড়িয়ে বসে সওদা করতে করতে অনেক কিছু দেখে। কোকিলের মতো কালো ও মধুরকণ্ঠী মেয়েগুলো জানে যে, শমার চোখ দুটি অসভ্য। ওরা এও জানে যে, বেশির ভাগ পুরুষের চোখই অসভ্য।”
    মাধুকরী / বুদ্ধদেব গুহ

  • #3
    “Imperialism is the object-less disposition of a state to expansion by force without assigned limits... Modern Imperialism is one of the heirlooms of the absolute monarchical state. The "inner logic" of capitalism would have never evolved it. Its sources come from the policy of the princes and the customs of a pre-capitalist milieu. But even export monopoly is not imperialism and it would never have developed to imperialism in the hands of the pacific bourgeoisie. This happened only because the war machine, its social atmosphere, and the martial will were inherited and because a martially oriented class (i.e., the nobility) maintained itself in a ruling position with which of all the varied interests of the bourgeoisie the martial ones could ally themselves. This alliance keeps alive fighting instincts and ideas of domination. It led to social relations which perhaps ultimately are to be explained by relations of production but not by the productive relations of capitalism alone.”
     Joseph A. Schumpeter, The Sociology of Imperialism (1918)

  • #4
    “It was the best of times, it was the worst of times, it was the age of wisdom, it was the age of foolishness, it was the epoch of belief, it was the epoch of incredulity, it was the season of Light, it was the season of Darkness, it was the spring of hope, it was the winter of despair.”
    Charles Dickens, A Tale of Two Cities

  • #5
    “যা পেয়েছি প্রথম দিনে সেই যেন পাই শেষে,
    দু হাত দিয়ে বিশ্বেরে ছুঁই শিশুর মতো হেসে॥
    যাবার বেলা সহজেরে
    যাই যেন মোর প্রণাম সেরে,
    সকল পন্থা যেথায় মেলে সেথা দাঁড়াই এসে॥
    খুঁজতে যারে হয় না কোথাও চোখ যেন তায় দেখে,
    সদাই যে রয় কাছে তারি পরশ যেন ঠেকে।
    নিত্য যাহার থাকি কোলে
    তারেই যেন যাই গো ব’লে—
    এই জীবনে ধন্য হলেম তোমায় ভালোবেসে॥”
    পূজা / শেষ / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  • #6
    “দুঃখের নিশীথে তাহার প্রাণের আকাশে সত্যের যে নক্ষত্ররাজি উজ্জ্বল হইয়া ফুটিয়াছে- তা সে লিপিবদ্ধ করিয়া রাখিয়া যাইবে… আজিকার দিন হইতে অনেকদিন পরে—হয়ত শত শত বৎসর পরে তাহার নাম যখন এ-বছরে-ফোঁটা-শালফুলের মঞ্জরীর-মত-কোথায় মিলাইয়া যাইবে,… তখন তাহার কত অনাগত বংশধর কত সকলে, সন্ধ্যায়, মাঠে, গ্রাম্য নদীতীরে, দুঃখের দিনে, শীতের সন্ধ্যায় অথবা অন্ধকার গহন নিস্তব্ধ দুপুর-রাত্রে, শিশির-ভেজা ঘাসের উপর তারার আলোর নিচে শুইয়া শুইয়া তাহার বই পড়িবে— যে বিশ্বের সে একজন নাগরিক, তা ক্ষুদ্র, দীন বিশ্ব নয়-লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ যার গণনার মাপকাঠি, দিকে দিকে অন্ধকারে ডুবিয়া ডুবিয়া নক্ষত্রপুঞ্জ, নীহারিকদের দেশ, অদৃশ্য ঈথারের বিশ্ব যেখানে মানুষের চিন্তাতীত কল্পনাতীত দূরত্বের ক্রমবর্ধমান পরিধিপানে বিস্তৃত –সেই বিশ্বে সে জন্মিয়াছে… কত নিশ্চিন্দিপুর, কত অপর্ণ, কত দুর্গ দিদি-জীবনের ও জন্মমৃত্যুর বীথিপথ বাহিয়া ক্লান্ত ও আনন্দিত আত্মার সে কি অপরূপ অভিযান... শুধু আনন্দে, যৌবনে, জীবনে, পুণ্যে ও দুঃখে, শোকে ও শাস্তিতে। …এই সবটা লইয়া যে আসল বৃহত্তর জীবন–পৃথিবীর জীবনটুকু যার ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ মাত্র… সে জীবনের অধিকার হইতে কাহারও বঞ্চনা করিবার শক্তি নাই—তার মনে হইল সে দীন নয়, দুঃখী নয়, তুচ্ছ নয়—এটুকু শেষ নয়, এখানে আরম্ভও নয়। সে জন্ম-জন্মান্তরের পথিক-আত্মা, দূর হইতে কোন সুদূরের নিত্য নূতন পথহীন পথে তার গতি, এই বিপুল নীল আকাশ, অগণ্য জ্যোতিলোক, সপ্তর্ষিমণ্ডল, ছায়াপথ, বিশাল অ্যান্ড্রোমিডা নীহারিকার জগৎ বহির্ষদ পিতৃলোক—এই শত সহস্ৰ শতাব্দী তার পায়ে-চলার পথ—তাঁর ও সকলের মৃত্যু দ্বারা অস্পষ্ট সে বিরাট জীবনটা নিউটনের মহাসমুদ্রের মত সকলেরই পুরোভাগে অক্ষুন্নভাবে বর্তমান-নিঃসীম সময় বাহিয়া সে গতি সারা মানবের যুগে যুগে বাধাহীন হউক।…”
    অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

  • #7
    “From the very beginning—from the first moment, I may almost say—of my acquaintance with you, your manners, impressing me with the fullest belief of your arrogance, your conceit, and your selfish distain of the feelings of others, were such as to form the groundwork of the disapprobation on which succeeding events have built so immovable a dislike; and I had not known you a month before I felt that you were the last man in the world on whom I could ever be prevailed on to marry.”
    Pride and Prejudice - Jane Austen

  • #8
    Charles Dickens
    “We spent as much money as we could, and got as little for it as people made up their minds to give us. We were always more or less miserable…”
    Charles Dickens

  • #9
    “এই ঘুম চেয়েছিল বুঝি!
    রক্তফেনামাখা মুখে মড়কের ইঁদুরের মতো ঘাড় গুঁজি
    আঁধার ঘুঁজির বুকে ঘুমায় এবার
    কোনোদিন জাগিবে না আর।

    ‘কোনদিন জাগিবে না আর
    জানিবার গাঢ় বেদনার
    অবিরাম অবিরাম ভার
    সহিবে না আর-’
    এই কথা বলেছিল তারে
    চাঁদ ডুবে চলে গেলে অদ্ভুত আঁধারে
    যেন তার জানালার ধারে
    উটের গ্রীবার মতো কোনো এক নিত্বব্ধতা এসে।”
    আট বছর আগে একদিন / জীবনানন্দ দাশ / মহাপৃথিবী

  • #10
    “ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা,
    হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা
    তোমার আদেশে। যেন রসনায় মম
    সত্যবাক্য ঝলি উঠে খরখড়গসম
    তোমার ইঙ্গিতে। যেন রাখি তব মান
    তোমার বিচারাসনে লয়ে নিজস্থান।”
    নৈবেদ্য / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  • #11
    “ত্বং হি দুর্গা দশপ্রহরণধারিণী
    কমলা কমল-দলবিহারিণী
    বাণী বিদ্যাদায়িণী
    নমামি ত্বাং
    নমামি কমলাম্
    অমলাং অতুলাম্
    সুজলাং সুফলাং
    মাতরম্”
    আনন্দমঠ / বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

  • #12
    “যিনি সর্ব্বজ্ঞ ও সর্ব্ববিৎ, সর্ব্বজ্ঞতারূপ জ্ঞানই যাঁহার তপস্যা, সেই অক্ষর ব্রহ্ম হইতে পূর্ব্বোক্ত হিরণ্যগর্ভনামক ব্রহ্ম, নাম (সংজ্ঞা), শুক্লাদি রূপ ও ধান্যদি অন্ন সমুৎপন্ন হয়।।”
    মুণ্ডক উপনিষদ (মুণ্ডকোপনিষদ / মুণ্ডকোপনিষৎ / মুণ্ডকোপনিষত)

  • #13
    “গীত, বাদ্য, নৃত্য, আলেখ্য বিশেষকচ্ছেদ্য, তণ্ডুলকুসুমবলিবিকার, পুষ্পাস্তরণ, দশন, বসন ও অঙ্গরাগ, মণিভূমিকাকর্ম, শয়নবচন, উদকবাদ্য, উদকাঘাত, চিত্রযোগ, যোজন, ইন্দ্রজাল, কৌচুমারযোগ, হস্তলাঘব, বিচিত্রশাকযুভক্ষ্যবিকারক্রিয়া, পানকরস, রসাসবযোজন, সূচীবানকর্ম, সূত্রক্রীড়া, বীণাডমরুবাদ্য, প্রহেলিকা, প্রতিমালা, দুর্বাচকযোগ, পুস্তকবাচন, নাটকাখ্যায়িকাদর্শন, কাব্যসমস্যাপূরণ, পট্টিকাবেত্রবাণবিকল্প, তক্ষকর্ম (তর্কুকর্ম), তক্ষণ, বাস্তুবিদ্যা, রূপ্যরত্নপরীক্ষা, ধাতুবাদ, মণিরাগাকরজ্ঞান, বৃক্ষায়ুর্বেদযোগ, মেষকুক্কুট-লাবকযুদ্ধবিধি, শুকসারিকাপ্রলাপন, উৎসাদনে পুষ্পশকটিকা, নিমিত্তজ্ঞান, যন্ত্রমাতৃকা, ধারণমাতৃকা, সংপাঠ্য, মানসী, কাব্যক্রিয়া, অভিধানকোষ, ছন্দোজ্ঞান, ক্রিয়াকল্প, ছলিতকযোগ, বস্ত্রগোপন, দ্যুতিবিশেষ, আকর্ষক্রিয়া, বালক্রীড়নক, বৈনয়িকী, বৈজয়িকী ও বৈয়ামিকী বিদ্যাবিজ্ঞান, এই চতুঃষষ্টিপ্রকার অঙ্গবিদ্যা কামসূত্রের অবয়বী’।।”
    বিদ্যাসমৃদ্দেশঃ (জ্ঞান লাভ) / কামসূত্র

  • #14
    “আজ চকা-নিকোবর ভারি খুশি। সে রিদয়কে কুর্নিস করে বললে—“একবার নয়, বার-বার তিনবার তুমি দেখিয়েছ যে পশু-পাখিদের তুমি পরমবন্ধু! প্রথমে শেয়ালের মুখ থেকে বুনো হাঁস ‘লুসাইকে’ উদ্ধার, তার পরে কাঠবেরালির উপকার, সব-শেষে পোষা হাঁসকে বাঁচানো। তোমার ভালোবাসায় আমরা কেনা হয়ে রইলেম। আর তোমায় আমরা ফেরাতে চাইনে। তোমার যদি মানুষ হতে ইচ্ছে হয় তো বল আমি নিজে গণেশঠাকুরকে তোমার জন্যে ‘রেকমেণ্ডেসন’ পাঠিয়ে দিচ্ছি।”

    রিদয়ের আর মোটেই মানুষ হতে ইচ্ছে ছিল না। হাঁসেদের সঙ্গে দেশ-বিদেশ দেখতে-দেখতে বড় মজাতেই সে দিন কাটাচ্ছে, তবু মানুষ-হবার রেকমেণ্ডেসনখানা না নিলে চকা পাছে কিছু মনে করে, সেই ভয়ে বললে—“মানুষ হবার সময় হলে আমি তোমাকে জানাব। এখন কিছুদিন তোমাদের সঙ্গে থাকতে আমি ইচ্ছে করেছি।”
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বুড়ো আংলা

  • #15
    “তুমি এলে সূর্যোদয় হয়।
    পাখি জাগে সমুদ্রের ঘাটে
    গন্ধের বাসরঘর জেগে ওঠে উদাসীন ঘাসের প্রান্তরে
    হাড়ের শুষ্কতা, ভাঙা হাটে।

    তুমি এলে চাঁদ ওঠে চোখে
    সুস্বাদু ফলের মতো পেকে পরিপূর্ণ হয়
    ইচ্ছা, প্রলোভন,
    ঘরের দেয়াল ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে দুর
    ভ্রমনের বন।

    তুমি এলে মেঘ বৃষ্টি সবই মুল্যবান।
    আমাদের কাঠের চেয়ার
    যেদিকে শহর নেই, শ্রাবণের মেঘমল্লার
    মাতাল নৌকার মতো ভেসে যায় ভবিষ্যৎহীন।
    পৃথিবী পুরনো হয়
    পৃথিবীর ছাইগাদা, ছন্নছাড়া দৃশ্যের বিভুঁয়ে
    শতাব্দীর শোক-তাপ জ্বর-জালা ছুঁয়ে
    রয়ে যাই আমরা নবীন।”
    পূর্ণেন্দু পত্রী / তুমি এলে সূর্যোদয় হয়

  • #16
    “অবশেষে চৈত্র পূর্ণিমার দিন (রবিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ১৬৮০) সকালে তাঁহার জ্ঞান লোপ হইল, তিনি যেন ঘুমাইয়া পড়িলেন।

    দ্বিপ্রহরে তাহা অনন্ত নিদ্রায় পরিণত হইল। মারাঠা জাতির নবজীবন-দাতা কর্মক্ষেত্র শূন্য করিয়।

    বীরদের বঞ্চিত অমরধামে চলিয়া গেলেন। তখন তাহার বয়স ৫৩ বৎসরের ছয় দিন কম ছিল।

    সমস্ত দেশ স্তম্ভিত, বজ্রাহত হইল। হিন্দুর শেষ আশা ডুবিল।”
    যদুনাথ সরকার / শিবাজী

  • #17
    “দেখো যেন মিছা স্বপ্নে মা গো
    তোমার মু’খানি হতে
    আমারে আড়াল নাহি করে,
    খেলা মোর হল আজি শেষ,
    শৃঙ্খল ভাঙিয়া দাও,
    মুক্ত আজি কর মা আমারে।”
    স্বামী বিবেকানন্দ / খেলা মোর হল শেষ

  • #18
    “ঐ যে হিমালয় পাহাড় দেখছ, ওরই উত্তরে কৈলাস, সেথা বুড়ো শিবের প্রধান আড্ডা। ও কৈলাস দশমুণ্ড-কুড়িহাত রাবণ নাড়াতে পারেননি, ও কি এখন পাদ্রী-ফাদ্রীর কর্ম!! ঐ বুড়ো শিব ডমরু বাজাবেন, মা কালী পাঁঠা খাবেন, আর কৃষ্ণ বাঁশী বাজাবেন—এ দেশে চিরকাল। যদি না পছন্দ হয়, সরে পড় না কেন? তোমাদের দু-চারজনের জন্য দেশসুদ্ধ লোককে হাড়-জ্বালাতন হতে হবে বুঝি? চরে খাওগে না কেন? এত বড় দুনিয়াটা পড়ে তো রয়েছে।”
    স্বামী বিবেকানন্দ / প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য

  • #19
    “গোপন প্রাণে স্বপন দূত,
    মঞ্চে নাচেন পঞ্চ ভুত!
    হ্যাংলা হাতী চ্যাং দোলা,
    শূন্যে তাদের ঠ্যাং তোলা!
    মক্ষিরাণী পক্ষীরাজ-
    দস্যি ছেলে লক্ষ্মী আজ!
    আদিম কালের চাঁদিম হিম
    তোড়ায় বাঁধা ঘোড়ার ডিম।
    ঘনিয়ে এল ঘুমের ঘোর,
    গানের পালা সাঙ্গ মোর।”
    সুকুমার রায় / আবোল তাবোল

  • #20
    “দিল দরিয়ার মাঝে দেখলাম আজব কারখানা।।
    দেহের মাঝে বাড়ি আছে
    সেই বাড়ীতে চোর লেগেছে
    ছয় জনাতে সিঁদ কাটিছে,
    চুরি করে একজনা।।
    এই দেহের মাঝে নদী আছে
    সেই নদীতে নৌকা চলছে
    ছয় জনাতে গুণ টানিছে,
    হাল ধরেছে একজনা।।
    দেহের মধ্যে বাগান আছে
    নানা জাতির ফুল ফুটেছে
    ফুলের সৌরভে জগত্‌ মেতেছে
    কেবল লালনের প্রাণ মাতাল না।।”
    লালন শাহ

  • #21
    “চাঁদ যেন তরতর করে উঁচু পাহাড়টার মাথায় চড়তে যাচ্ছে। দুটি শৃঙ্গ, একটির নাম জয়, আর একটি বিজয়। চাঁদের অনেকটা কাছে আছি, তাই এত ভালো। গলা কাঁচের মতো চারপাশে থইথই করছে। জায়গাটা ক্রমশই নির্জন হয়ে আসছে। পাতার ফাঁকে ফাঁকে বাতাসের হুসহুস শব্দ। কোন তলানিতে পড়ে আছে উত্তর কলকাতার জীবন! অথর্ব জমিদার, পাগল, আধপাগল সব বংশধর। শ্যাওলা-ধরা বিভিন্ন বয়েসের মেয়েরা। চোখ দিয়ে শরীর লেহন। যৌন বিকৃতি। খালি হয়ে আসা সিন্দুক। যক্ষপুরীর গয়না। সব গঙ্গার গ্রাসে চলে যাক না।”
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় / গুহা

  • #22
    “জয়পতাকা তাক থেকে একখানা বই টেনে নিয়ে খুলে পড়তে লাগলেন। এবং পড়তে পড়তে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। এয়ারোডাইনামিক্সের ওপর যে এত সাঙ্ঘাতিক বই আছে তা তাঁর জানা ছিল না। কিন্তু দুটো পাতা ভাল করে পড়তে-না-পড়তেই কে যেন হাত থেকে বইখানা কেড়ে নিল। সেটা শূন্যে ভেসে ওপরের একটা তাকে গিয়ে সেঁধোল। জয়পতাকা আবার একখানা বই টেনে নিলেন। খুলে দেখলেন, সেটা মহাকাশতত্ত্বের ওপর অতি উন্নত গবেষণাধর্মী রচনা। কিন্তু এটাও দু-একপাতা পড়তে-না-পড়তেই বইটা তাঁর হস্তচ্যুত হল। কিন্তু যেটুকু পড়লেন তাতে তাঁর মাথা ঘুরে গেল। মহাকাশবিজ্ঞানের প্রায় অকল্পনীয় সব তত্ত্ব আর তথ্য রয়েছে বইটাতে। জয়পতাকা পাগলের মতো গিয়ে আর-একটা বই খুললেন। এটা শারীরবিদ্যার বই। কিন্তু যাদের শরীর নিয়ে লেখা তারা নিশ্চয়ই অতি মানুষ। বইটা হস্তচ্যুত হলে আর-একখানা বই খুলে জয়পতাকা দেখলেন, অঙ্কের বই। তবে সাধারণ অঙ্কের নয়, এই পৃথিবীর অঙ্কও নয়। এ একেবারে ধরাছোঁয়ার বাইরের সব অঙ্ক। যা দেখছেন জয়পতাকা তার কোনওটাই তাঁর বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। এই পৃথিবীতে বিজ্ঞান বা অঙ্ক এত উন্নতি করেনি আজও। তা হলে এই বইগুলো কে লিখল? কোথা থেকে জঙ্গলের মধ্যে এক ভুতুড়ে বাড়িতে এসে জুটল বইগুলো?

    ভাবতে ভাবতে মাথা গরম হয়ে গেল জয়পতাকার। হাত-পা থরথর করে কাঁপতে লাগল উত্তেজনায়। এতক্ষণ যা কিছু ঘটেছে তাতে ভয় বা উত্তেজনার কারণ ছিল বটে, কিন্তু জয়পতাকা তা গ্রাহ্য করেননি। কিন্তু এই লাইব্রেরিতে ঢুকে যা অভিজ্ঞতা হল, তাতে তাঁর আবার মাথা গুলিয়ে গেল। মাথা গুলিয়ে গেলেই তাঁর খিদে পায়। এবং খিদে পেলেই তিনি অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা শূন্য হয়ে পড়েন।

    তিনি বড় বড় চোখে চারদিকে চেয়ে অস্ফুট গলায় বললেন, “ভূত! ভূত! ভূত ছাড়া এসব আর কিছুই নয়। এসবই মায়া? চোখের ভুল! ভীমরতি? পাগলামি? চালাকি? ধোঁকাবাজি? জোচ্চুরি?”
    শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় / পটাশগড়ের জঙ্গলে

  • #23
    “একজন বন্ধু পাওয়ায় হরির বেশ ভালই লাগছিল। গোপালের কথা ভাবতে ভাবতেই সে দুখিরামবাবুর বাড়ির ফটকে এসে পৌঁছল। ফটকের দু’ধারে দুটো মস্ত থাম। দুটোর গায়েই লতা বেয়ে উঠে ঢেকে ফেলেছে প্রায়। বাঁ দিকের থামের গায়ে একটা শ্বেতপাথরের ফলক লতার আড়ালে ঢেকে গেছে। হরি লতাপাতা সরিয়ে বিবর্ণ ফলকটা লক্ষ করল। অক্ষরগুলো প্রায় মুছে গেছে, তবু পড়া যায়। হরি দেখে নিশ্চিন্ত হল যে, বাড়িটার নাম কুসুমকুঞ্জ নয়। এমনকী বাংলা নামই নয়। ইংরিজিতে লেখা ‘গ্রিন ভ্যালি।”
    শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় / পাগলা সাহেবের কবর

  • #24
    “সর্বনাশ! বলে কী! সেই জিতেন্দ্রিয় ব্রহ্মচারী যিনি

    দারাপুত্র পরিবার
    কে তোমার তুমি কার?

    কিংবা কা তব কান্তা কত্তে পুত্রঃ ধ্যানমন্ত্রস্বরূপ গ্রহণ করে সুদীর্ঘ পঞ্চবিংশ বৎসর জর্মনির জন্য বিদ্রি ত্রিযামা যামিনী যাপন করলেন তিনি কি না শেষ মুহূর্তে ক্ষুদ্র হৃদয়দৌর্বল্যবশত ধর্মচ্যুত হয়ে বিবাহ করলেন একটা রক্ষিতাকে! এ যে মস্তকে সর্পদংশন।

    আজ যদি শুনতে পাই (এবং এটা অসম্ভব তথা আমি মাপ চেয়ে নিয়ে বলছি) যে ডিউক অব উইনজার তার দয়িতার সঙ্গে পরিপূর্ণ মিলনার্থে অবহেলে ইংলন্ডের সিংহাসন ত্যাগ করেন, তিনি তার সেই বিবাহিতা পত্নীকে ত্যাগ করে প্যারিসের কোনও গণিকালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তবে কি সেটা পয়লা ধাক্কাতেই বিশ্বাস করব।

    জর্মনির জনসাধারণ প্রথমটা এ সংবাদ বিশ্বাস করতে চায়নি।”
    সৈয়দ মুজতবা আলী / হিটলারের শেষ প্রেম

  • #25
    “প্রায় লেখককেই নিজের কবর খুঁড়তে হয়–নিজের কলম দিয়ে। গায়কের মতন লেখকেরও ঠিক সময়ে থামতে জানা চাই। সমে এসে যথাসময়ে না থামলেই বিষম, সবটাই বিষময় হয়ে দাঁড়ায়। এমন কি কালজয়ী লেখকও যদি যথাকালে না থামেন তো জীবদ্দশাতেই জীবন্মৃতের অন্তর্দশা তাঁর বিধিলিপি।

    অবশ্য মহাকাল কারো কারো প্রতি একটু সদয়। সময় থাকতে থাকতেই তাঁদের নিরস্ত করেন, নিজের পুনরাবৃত্তির পথে আত্মহননের ভোগান্তি তাঁদের আর পোহাতে হয় না। যেমন, মানিক বন্দ্যো, বিভূতিভূষণ, শরৎচন্দ্র। বিস্ময় থাকতে থাকতেই, রাখতে রাখতেই তাঁরা অস্ত গেছেন।

    আর, উজ্জ্বল ব্যতিক্রম রবীন্দ্রনাথ।

    কালের স্থূল হস্তাবলেপ তাঁর গায়ে লাগেনি। প্রতিভার নবনবোম্মেষে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি প্রতিভাত, উদ্ভাসিত। নিত্য নব ভাষাভঙ্গি, নব নব ভাবের উদ্ভাবনায় বিভিন্ন শৈলীর শৈলশিখরে স্বচ্ছন্দ বিচরণে বাঁকে বাঁকে অবাক করা, নিতুই নব তিনি। হিমালয়ের মতই চিরন্তনরূপে সর্বকালীন বলে যেন মনে হয় তাঁকে। চিরদিনের অপরূপের।”
    ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা / শিবরাম চক্রবর্তী

  • #26
    “সর্বভুক পাঠক হাঁ করিয়া আছে, ওস্তাদ রসস্রষ্টা কাহাকেও বঞ্চিত করিতে, কিছুই বাদ দিতে পারেন না। তিনি শান্ত করুণ রসের স্রোত বহাইবেন, আবার ষড়রিপুর বিচিত্র খেলা দেখাইয়াও তাক্ লাগাইয়া দিবেন। কিন্তু নিন্দকের মুখ বন্ধ করিবেন কোন্ উপায়ে? পূর্বাচার্যগণ তাহা দেখাইয়া গেছেন। ভারতচন্দ্র পায়সান্ন পরিবেশনের সঙ্গে কালীনামের গরম মসলা দিয়া শুটকী মাছ চালাইয়াছিলেন। কিন্তু এ যুগে তাহা চলিবে না, কারণ উক্ত মাছের নূতনত্ব নাই, কালীনামেরও আর তেমন হজম করাইবার ক্ষমতা নাই।”
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম) / সাহিত্য-সংস্কার

  • #27
    “গণ্ডেরি। ডরেন কেনো? শেয়ার পিছ তো অভি দো টাকা দিতে হবে। ঢাই লাখ টাকার শেয়ারে সির্ফ পচাস হজার দেনা হোয়। প্রিমিয়াম মে সব বেচে দিক-সুবিস্তা হোয় তো আউর ভি শেয়ার ধরে রাখবো। বহুত মুনাফা মিলবে। চিম্‌ড়িমল ব্রোকারসে হামি বন্দোবস্ত কিয়েছি। দো চার দফে হম লোগ আপনা আপনি শেয়ার লেকে খেলবো, হাঁথ বদলাবে, দাম চড়বে, বাজার গরম হোবে। তখন সব কোই শেয়ার মাংবে, দাম কা বিচার করবে না। কবীরজী কি বচন শুনিয়ে–

    ঐসী গতি সন্‌সারমে যে গাড়ির কি ঠাট
    এক পড়া যব গাঢ়মে সবৈ যাত তেহি বাট।।”
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম) / শ্রীশ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড

  • #28
    “খ্যাতির মধ্যগগনেও আপনজনদের হাতে বিবেকানন্দ-নিগ্রহ শেষ হয়নি, হিসেব চাওয়া হয়েছে, ক’বার শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের নাম উচ্চারণ করেছ মার্কিন মুলুকে? প্রশ্ন করা হয়েছে, নিষিদ্ধ পানীয়, নিষিদ্ধ মাংস কি ভক্ষণ করেছ? বিস্মিত বিশ্ব সাষ্টাঙ্গে প্রণত হলেও, পেঁয়োযোগীর অগ্নিপরীক্ষা শেষ হতে চায় না। জন্মভূমি কলকাতায় যাঁরা বিবেকানন্দ অভিনন্দনসভার আয়োজন করেন তারাই লজ্জার মাথা খেয়ে খরচের বিলটা তুলে দিচ্ছেন বিশ্বজয়ীর হাতে। এই সেই দেশ, যেখানে তার মঠের বাড়ির ট্যাক্সো তিনগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মৃত্যুর পরেও পুরসভা গড়িমসি করে বেলুড় মঠের গঙ্গাতীরে দাহকার্য সম্পন্ন করার অনুমতি দিতে।

    মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকার জন্য যাদের জন্ম, তাদের সব যন্ত্রণা ও লাঞ্ছনা দেহাবসানের সঙ্গে-সঙ্গে শেষ হয়ে যায় না, তাই সন্ধ্যায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেও পরের দিন মহানগরীর সংবাদপত্রে স্বামী বিবেকানন্দের আকস্মিক অকালপ্রয়াণ সম্পর্কে কোনও খবর থাকে না, বিশ্ববিশ্রুত সন্তানের স্মরণসভার আয়োজন করতেও লম্বা সময় লেগে যায় এবং স্মৃতিসভায় প্রতিশ্রুতি-দেওয়া সামান্য আর্থিক দানের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত সংগৃহীত হয় না এবং আরও কত কী!

    তবু কী আশ্চর্য! নিবিড় ঘন অন্ধকারে আকাশের বিদ্যুৎ ঝলকের মতন মহামানব বিবেকানন্দের বাণী আজও পৌঁছে যায় হতোদম মানুষের হৃদয়ে।”
    শংকর / অবিশ্বাস্য বিবেকানন্দ

  • #29
    “গজার উপাখ্যান শুনতে শুনতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম টেরই পাই নি। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। রাতের অদ্ভুত চুপচাপের মধ্যে শুনতে পেলাম পাহাড়ে-পাশবালিশটার আড়ালে দিদিমা আস্তেআস্তে নাক ডাকাচ্ছেন। আর কোথাও কোনো আওয়াজ নেই। তার পর শুনলাম দূরে হুতুমপ্যাঁচা ডাকছে, আর মাথার উপর পুরনো কাঠের কড়িগুলো মটমই করে মোড়ামুড়ি দিচ্ছে। বুঝতে পারছিলাম এ-সবের জন্যে ঘুম ভেঙে যায় নি। যার জন্যে ঘুম ভেঙেছে সে নিশ্চয় আরো লোমহর্ষক। শুয়ে-শুয়ে যখন শুয়ে থাকা অসহ্য হল, পা সিরসির করতে লাগল, আর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল, জল না খেয়ে আর এক মিনিটও থাকা অসম্ভব হল, আস্তে-আস্তে খাট থেকে নামলাম। আস্তে-আস্তে দরজা খুলে বাইরে প্যাসেজে দাঁড়ালাম। ঐ একটু দূরে সারি সারি তিনটে কলসিভরা জল রয়েছে, কিন্তু মাঝখানের ঘুরঘুঁটে অন্ধকারটুকু পেরোতে ইচ্ছা করছে না। দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে ডান পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে বাঁ পায়ের গুলিটা চুলকোচ্ছি আর মন ঠিক করছি এমন সময় কার পায়ের শব্দ শুনতে পেলাম।”
    লীলা মজুমদার / পদিপিসীর বর্মিবাক্স

  • #30
    “কমলে কামিনী আমি হেরিনু স্বপনে
    কালিদহে। বসি বামা শতদল‐দলে
    (নিশীথে চন্দ্রিমা যথা সরসীর জলে
    মনোহরা।) বাম করে সাপটি হেলনে
    গজেশে, গ্রাসিছে তারে উগরি সঘনে
    গুঞ্জরিছে অলিপুঞ্জ অন্ধ পরিমলে,
    বহিছে দহের বারি মৃদু কলকলে!—
    কার না ভোলে রে মনঃ, এহেন ছলনে!
    কবিতা‐পঙ্কজ‐রবি, শ্রীকবিকঙ্কণ,
    ধন্য তুমি বঙ্গভূমে! যশঃ‐সুধাদানে
    অমর করিলা তোমা অমরকারিণী
    বাগ্‌‍দেবী! ভোগিলা দুখ জীবনে, ব্রাহ্মণ,
    এবে কে না পূজে তোমা, মজি তব গানে?—
    বঙ্গ‐হৃদ‐হ্রদে চণ্ডী কমলে কামিনী॥”
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত / কমলে কামিনী



Rss
« previous 1 3