বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রফেসর মনসুর সাহেব। শখের বশে বাড়ির নীচে ক্যাফে বুকওঅর্ম নামের একটা লাইব্রেরি চালান। সেই লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পায় আন্ডারগ্র্যাডে পড়ুয়া সৌধ নামের এক তরুণ। সেখানেই ঝড়বৃষ্টির মাঝে একরাতে ইমতিয়াজ সালেহীন নামের রহস্যময় একজন মানুষের সাথে পরিচয় হয় তার।
ভদ্রলোক একটু রহস্য করে কথা বলতে পছন্দ করেন। তার অন্যতম গুন হচ্ছে গল্প বলা। বিশেষ করে ভৌতিক কিছু বর্ণণা করার সময় কন্ঠ আর ভাষা দিয়ে এমন একটা আবহ তৈরি করেন যে ভয় না পেয়ে উপায় থাকেনা।
পরিচয়ের এক পর্যায়ে ভদ্রলোক তার বাড়ির গাছ-পালায় ঘেরা ছাদে সৌধকে তার জীবনের একটা ঘটনা বলেন।
সে রাতে তীব্র ভয় সৌধকে গ্রাস করে। সে পালিয়ে আসে সেই বাড়ি থেকে। এরপর থেকেই একটা দুঃস্বপ্ন ওকে স্বপ্নের মাঝে তাড়া করা শুরু করে।
নবাবদের আমলে আর্মেনীয়’রা যখন এদেশে এসে তাদের ব্যবসাপাতি ছড়ানো শুরু করে তখন তাদের মধ্যে ছোট একটা দল সাথে করে নিয়ে এসেছিলো ইতিহাস কাঁপানো, ভয়াবহ একটা কিছু। যেটাকে ইতিহাস থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য মধ্যযুগ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিলুপ্তপ্রায় কিছু ব্যাবিলনীয় ধর্মগ্রন্থে সেটাকে পৃথিবীর মাঝে নরকের আগুন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আর্মেনীয়দের চূড়ান্ত সফলতা, আর নবাবদের পতনের পেছনে অল্টারনেট হিস্ট্রিতে এই নিষিদ্ধ জিনিসটাকে দায়ি করা হয়েছে।
কিন্তু এর সাথে একজন সাধারণ লাইব্রেরিয়ানের কিসের সম্পর্ক? আর অদ্ভুত একটা ঘটনা শুনেই বা সে এতো ভয় পেলো কেন?
অসাধারণ একটা থ্রিলার।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোছানো, একটু পরপরই দুর্দান্ত সব মোচড়।খুবই পরিণত লেখা,লেখকের প্রথম বই বলে মনেই হয় না। উপন্যাসের প্লট সম্পর্কে কিছু না জেনে বইটা পড়া উত্তম,তাহলে অভাবনীয় মোচড়গুলো পাঠক বেশি উপভোগ করবে,যেমনটা আমি করেছি। (রাতুল আহমেদের পোস্ট দেখে বইটা কিনেছি।তাকে অজস্র ধন্যবাদ।লেখকের অন্য বইগুলোও পড়বো।)
গল্প বলার ধরণ এবং চরিত্রচিত্রণ বেশ ভালো। সুন্দর সাজানো গোছানো লেখা। এটাকে পারফেক্ট সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বলা যায়। বইয়ের চরিত্রগুলো গল্পটাকে বেশ এগিয়ে নিয়ে গেছে। আমি শুরুর দিকে সাসপেন্স প্রেডিক্ট করে পড়া শুরু করায় খানিকটা স্লো লেগেছিল। আরেকটু থ্রিলিং কিছুর অপেক্ষায় ছিলাম। পরে ব্যাপারটা ধরতে পারায় আর তেমন লাগেনি। ভালোই উপভোগ করা গেছে। প্লট হালকা ঢঙে বলা সুন্দর একটা গল্প।সাইকোলজিক্যাল থৃলার পাঠকদের আশাকরি ভালো লাগবে।
গল্প বলার ভঙ্গিটা ভাল - কিন্তু ভাষার ব্যবহারে কিছু স্ল্যাং ঢুকে গেছে। স্ল্যাং ব্যবহার করা যায় কিন্তু তাহলে পারিপার্শ্বিক ভাষাও মানানসই ভাবে পরিবর্তন করতে হয় সেটা অনুপস্থিত।
কাহিনীটা নাটকীয় ভাবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকলেও আদপে সাদামাটা। হাইপ বেশি তুলে তা আর ফুলফিল করা হয়নি। এছাড়া কিছু ছোটখাটো প্লট হোল আছে। আর সব থেকে বড় সমস্যাটা হচ্ছে গল্পে মেইন ডিভাইসটা যুতসই না, মোটিভের বেলায় বড় রকমের গড়মিল বিদ্যমান। ফাইনাল এক্সিকিউশনও তেমন জমেনি। আর দুই একটা বিষয় মোটেই গ্রহণযোগ্য না। তবে শুধু বর্ণনাভঙ্গি আর প্লট সাজানোর প্রচেষ্টার জন্যই পড়তে খারাপ লাগেনি।
ত্রুটিগুলি শুধরে নিলে লেখক ভবিষ্যতে আরও ভাল করতে পারবেন।
লেখকের গল্প বলার স্টাইল সত্যিই অসাধারণ।গল্পের প্লট যেমনই হোক,সুন্দরভাবে রিপ্রেজেন্ট করার কারণেই পড়তে একদমই খারাপ লাগেনি। বইটা পড়ার আগেই আমার বইটার নাম নিয়ে একটা ভালো না লাগা কাজ করসিল।আমার মনে হয়েছে যেন নামটাই অসম্পূর্ণ। হয়তো লেখক অন্য কোন নাম দিতে পারতো!
যাইহোক,বইয়ের নাম ভালো না লাগলেও বই ভালো লাগছে।আর আমি বই পড়ার সময় প্লটহোল খুঁজতে যাই না বা বলতে গেলে ওইটা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাইনা, কারণ তাহলে আমি বই পড়ে মজা পাইনা।হ্যাঁ! বইতে কয়েকটা বিষয় দৃষ্টিকটু মনে হলেও, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার সময় আমি একটুও বোর হয়নাই।
এটা লেখকের প্রথম বই।লেখকের বইলেখার প্রচেষ্টার জন্যই ১ স্টার বেশি দিলাম। আশাকরি, নেক্সট বই আরো ভালো হবে। :)
নামটা আকর্ষণ করেছে বড্ড। লেখনী টেনে ধরে রেখেছিল শুরু থেকেই। প্লটটাও দারুণ । আমি তো ভেবেছিলাম হরর, কিন্তু শেষ পর্যন্ত থ্রিলারেই রূপ নিলো। সবই ভালো ছিল, কেবল শেষটুকু একটু আন্ডারহোয়েল্মিং। কিঞ্চিৎ ফাইন-টিউনিং করে আগামী বই লেখলেই লেখক বাজিমাৎ করে দেবেন। সেই আশাতে থাকলাম। বই পড়ার ফাঁকেফাঁকে ভয় পেতে চাইলে মাঝরাতের গল্প শোনানোর গল্পটা শুনতে(পড়তে) পারেন। :)
গল্পটা মাঝরাতের কিন্তু আমি পড়লাম সকালে, ঘুম থেকে উঠেই একবসায় শেষ করেছি। কারো কারো স্টোরিটেলিং দেখলে মন চায় নক দিয়ে জিজ্ঞেস করি, *এইরকম গল্পবলা শুনে কয়জন পটছে ব্রাদার?* 😂😂😂
সৌধ বইপড়ুয়াদের সারাজীবনের স্বপ্নের মত একটা লাইব্রেরির দায়িত্ব পায়, সেইখান তার পরিচয় হয় ইমতিয়াজ সালেহীন নামে একব্যক্তির সাথে। ভদ্রলোক বেশ সৌখিন কিন্তু কিছুটা রহস্যময়ও। কৌতুহলবশে মিশতে মিশতেই সে এমন একটা ঘটনার সামনে আসে যা সে কখনোই ভুলতে পারে না।
বাংলায় সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের সংখ্যা ইদানীং কম, যাও আছে আমার মত সব আগে থেকে বুঝে ফেলা মানুষজনের জন্যে স্বাস্থ্যকর না😐
এইবইতে আমার বুঝে ফেলার সুযোগ খুব একটা পাইনি - গল্পের স্রোতেই তলিয়ে গিয়েছি। লেখক হিপ্নোটিজম, লিলিথ, সাইকোপ্যাথ সব জিনিসপত্র এনেছেন এবং জায়গামত ব্যবহারও করে ফেলেছেন। কোথাও কোথাও পুরোনোদিনের ভৌতিক সিনেমার মতো লাগে যেইটা খারাপ লাগে নাই।
এরপরেও কিছু কিছু জায়গায় সন্দেহ রয়েই যায় কারণ ভালো কাহিনী নিয়ে এগিয়ে শেষ কেমন তাড়াহুড়ো করা, অথবা ভালো লাগছিল দেখে শেষ হয়ে গেছে বিষয়টা নিতে পারি নাই।
তো, স্টোরিটেলিং নিয়ে যা বলছিলাম- মারাত্মক ভালো লেগেছে! গল্পে গল্পে ঘোরের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সবার থাকে না। মনে হচ্ছিল আমি সামনে বসে থেকে কারো বলা কথা শুনছি।
The first thing for which this book deserves a 5 star is its title. What a catchy title and cover! I am a fan of books with cool titles & covers and this book definitely has it all.
The story telling is interesting too- maintained in the method of story within a story technique- which a lot of writers adore. I also loved how the story paced. I don't usually read a lot of Bangla novels but this one was one of the best thrillers I have read this year. The way the writer has gradually unfolded the plot,was like watching a beautiful picture slowly coming to light. It's impressive to know that it's his first novel. The most interesting thing about the novella is that the title suggests a horror story but in fact it's a very well-written thriller. But I must admit that the book has many bone-chilling descriptions of supernatural experience. The whole plot is praiseworthy and the explanations are well-decorated.
বইটা রাত দেড়টায় শুরু করে একটানা পড়ে গেছি৷ লেখায় নিজস্ব একটা টোন আছে লেখকের৷ এটা নসীব পঞ্চম জেহাদীর প্রথম উপন্যাস হলেও সাবলীল ঢঙে লিখে গেছেন৷ বর্ন-স্টোরি টেলার হলে যা হয়৷
তবে মনে রাখা দরকার যে, এটা লেখকের প্রথম বই। আর প্রথম বইয়ে বাঙালি পাঠক সাত খুন মাফ করতেও অভ্যস্ত। সেখানে এ বইয়ের অত্যন্ত ছোটোখাটো ভুলগুলোকে চোখ বন্ধ করে পাশ মার্ক দিয়ে দেয়া যায়। নসিব পঞ্চম জিহাদীর গল্প বলার আলাদা একটা ক্ষমতা আছে। ওনার সাবলীল গদ্যও অনেক লেখকের কাছে ঈর্ষণীয় হওয়ার কথা। এতো সুন্দর করে গল্প বলা সহজ জিনিস না।
একটা খুব সুন্দর জিনিস হচ্ছে, গা ছমছম করার মতো দু' একটা লাইন এমনভাবে এসেছে যে শক খেয়ে গেছিলাম। লেখকের গদ্যে বেশ রম্য ভাব আছে, তাই হঠাৎ করেই যখন ভয়াল এলিমেন্ট দিয়েছেন তখন ভয় না পেলেও চমকে গেছি। এই সাডেন শিফটিং আমার জন্য নতুন একটা অভিজ্ঞতা ছিল। তবে তার গদ্যে একটা খারাপ দিক হচ্ছে, নন-হোমোজিনিয়াস অনেক জায়গায়। কথ্যভাষার এক দুটো শব্দ ব্যবহার করলেও ক্রিয়াপদ রেখেছেন প্রমিত। খুব কম জায়গায় এ ভুল হয়েছে অবশ্য। মাফ করা যায়। সমসাময়িক লেখকেরা এসব ভুল আরও অনেক বেশি করেন।
পড়ে আরাম পেলাম, লেখককে ভালো লাগলো এবং সিরিজের পরের বই নিয়ে আগ্রহী হলাম। আমার পয়সা এবং সময়, পুরোটাই উশুল।
এডি কি আছিল মাইরি!!! আমি পড়ার সময় বারবার 'থ' খাই যাচ্ছিলাম। তারপর শেষ করে হুইতা থাইকা কিছুক্ষণ ভাবছি লেখক কোথা থেকে কি প্যাঁচাইয়া নিয়ে গেছেন!! মাথা ভু-ভু করতেছি ভাই এডি শেষ করি
তবে দাদা, পরে আবার এমনো মনে হইলো যে উনি অনেক জিনিসপাতি আইনা এট্টু (বেশি না, এই এট্টু করি) mess-up বানায়া ফ্যালাছে।। (ম্যালা ইলিমেন্ট আইনা xপেরিমেন কল্লে যা মনে হয় আরকি) মাগার, মজা পালি পরে ভুলটুল আমি ক্ষ্যেমা করি দি(বই তো ফুড়ি মজার লাগি, নাকি!)। তো দাদা, সব কথার শ্যাষ কথা হইলো বিশাল মজা পাইছি পইড়া
দারুণ তো! যদিও প্রথমে ভেবেছিলাম আগাগোড়া হরর এলিমেন্টে ভরপুর একটা বই পড়তে যাচ্ছি, তবে শেষদিকে এসে থ্রিলারে মোড় নিয়েছে বইটি। সেই সাথে নসিব পঞ্চম জিহাদী'র চমৎকার বর্ণনাভঙ্গি আরো উপভোগ্য করে তুলেছে বইটিকে। কিছু কিছু অংশ এতটাই ছমছমে আবহ তৈরি করেছে যে ভয় পেতে বাধ্যই হয়েছি। তো, সবকিছু মিলিয়ে লেখক সাহেব একটা বড়সড় ধন্যবাদ পেতেই পারেন।
অভিনব প্লট আর অসাধারণ বর্ণনাকুশলতার দরুণ বইটি দারুণ উপভোগ্য। মুহুর্ত সৃষ্টির চমৎকার দক্ষতা নসিবের রয়েছে। গল্পের রহস্যময়তা পাঠককে টেনে রাখে, গল্প এগিছে দ্রুতগতিতে। যদিও শেষটা মনমতো হয়নি। একটা chase scene থাকলে ষোলকলা পূৃ্র্ণ হতো। তারপরও বেশ এনজয়েবল ছিলো। পরবর্তী বইটি আগ্রহ নিয়ে পড়বো।
বইটার প্রথম পজিটিভ দিক হলো লেখকের মাত্রাজ্ঞান, যেটা নতুন বেশির ভাগ লেখকের মাঝেই পাই না। অহেতুক অপ্রয়োজনীয় চরিত্র এবং পার্শ্বকাহিনী এনে মাঝপথ থেকে গুলিয়ে ফেলার যে ট্রেন্ড, সেটা থেকে সরে এসে মূল কাহিনী আর চরিত্রগুলোতেই থেকেছেন, এবং ইলাস্টিকের মত না টেনে সময়মত গল্পটা শেষ করেছেন। দ্বিতীয় পজিটিভ দিক, এটা প্রথমটার সাথে সম্পর্কিত, গোঁজামিল নেই, শেষে গিয়ে সবকিছুর ব্যাখ্যা সুন্দরভাবে মিলে গেছে। বানান বা শব্দার্থেরও ভুল নেই। তৃতীয় পজিটিভ দিক, কাহিনিটায় নতুনত্ব আছে। নেগেটিভ দিক হলো, বাক্যগঠনে আর শব্দচয়নে হুমায়ূন আহমেদের প্রভাব। হয়তো অবচেতনভাবেই হয়েছে, বইতে ২-৩ জায়গায় হিমু আর মিসির আলীর রেফারেন্স দেখে মনে হলো। আর চোখে যেটা লাগে, ভদ্রলোকের বিশেষণের ভাণ্ডারে মোটামুটি চারটি শব্দ আছে--অসম্ভব, মারাত্মক, ভয়াবহ, অনেক। ইংরেজি সাহিত্যের একজন ছাত্রের শব্দসম্ভার আরেকটু সমৃদ্ধ হবে বলেই আশা করেছিলাম। সব মিলিয়ে, রেটিং সাড়ে ৩।
কাহিনি সংক্ষেপঃ সৌধ নামের এক সাধারণ তরুণ ক্যাফে বুকওঅর্ম নামের একটা লাইব্রেরিতে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করে। লাইব্রেরির মালিক মনসুর সাহেব নানা কাজে বেশিরভাগ সময় বাইরে বাইরেই থাকেন। তাই বই বেচা-কেনা ও লাইব্রেরির আনুষঙ্গিক কাজগুলো সামলাতে হয় সৌধকেই।
এই ক্যাফে বুকওঅর্মেই এক ঝড়বৃষ্টির রাতে সৌধ'র সাথে পরিচয় হয় ইমতিয়াজ সালেহীনের। রহস্যময় স্বভাবের এই মানুষটা যেন নিজের চারপাশে একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে রেখেছেন। অন্তর্মুখী স্বভাবের ইমতিয়াজ সালেহীনের সাথে পরিচয়ে সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে লাইব্রেরিয়ান সৌধ'র। প্রিয় সালেহীন ভাইয়ের চারতলা বিশাল বাড়িতে যাওয়া আসা শুরু হয় তার। বাড়ির বিশাল ছাদটা বিচিত্র সব গাছগাছালি দিয়ে। আর সালেহীন সাহেবের বাড়ির ছাদের এই বাগান থেকেই সূচনা হয় ভয়াবহ এক অন্ধকার অধ্যায়ে।
আরেক ঝড়বৃষ্টির রাত। এই রাতটাই যেন সৌধ'র ভেতরের সবকিছু ওলটপালট করে দিলো। ইমতিয়াজ সালেহীন তাঁর বাড়ির ছাদের বাগানে বসে সৌধকে তাঁর জীবনের ভয়াবহ একটা অভিজ্ঞতার গল্প বললেন। ব্যাপারটা আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলো যখন সৌধ নিজেও রক্ত জল করা সেই আতঙ্কের মুখোমুখি হলো। সেই দুর্যোগের রাতে কোনমতে পালিয়ে বাঁচলো সে। কিন্তু বাঁচতে পারলোনা রাতবিরাতে দেখা ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন থেকে। ধীরে ধীরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে লাগলো ছেলেটা৷ রিয়েলিটি ও ইল্যুশন যেন এক সমান্তরালে এসে দাঁড়ালো তার জীবনে।
বহু বছর আগে সেই নবাবদের আমলে ঢাকার বুকে এসে বসবাস শুরু করেছিলো আর্মেনিয়ানরা। তারা সাথে করে নিয়ে এসেছিলো লিলিথ নামের এক অপদেবীকেও। এই আর্মেনিয়ানদের কারণেই একটা সময় ধীরে ধীরে তৎকালীন ঢাকা ও তার আশেপাশের এলাকায় শুরু হয়েছিলো লিলিথের উপাসনা। ভয়ঙ্কর এক অপদেবীর সাথে সাধারণ এক লাইব্রেরিয়ানের জীবনের ভয়ের ঘটনার সম্পর্ক কি? ঘনিষ্ঠ বন্ধু খসরু ও রাদিফকে নিয়ে সে কি পারবে দুর্বোধ্য কিছু পাজলের সমাধান করতে? নিঃসন্দেহে, এক ঝড়বৃষ্টির রাতে ইমতিয়াজ সালেহীনের শোনানো অন্ধকারের গল্পটার পেছনের গল্পটা আরো অন্ধকার এক জগতের দিকে ধাবিত করলো সবাইকেই।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ 'মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন' লেখক নসিব পঞ্চম জিহাদী'র প্রথম উপন্যাস। বইটা প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় হৃদি প্রকাশ থেকে। এরপর এর সেকেন্ড এডিশন আনে বুক স্ট্রিট। নসিব পঞ্চম জিহাদী তাঁর এই উপন্যাসে মানব মস্তিষ্কের এক ভয়াবহ অন্ধকার দিকের সাথে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। মানবমনে জেঁকে বসা ভয় ও তৎপরবর্তীকালে সেই ভয়ের প্রভাব সম্পর্কে বেশ গুছিয়ে তিনি একটা গল্প বলার চেষ্টা করেছেন। আর সেই চেষ্টায় তিনি আশাতীতরকম সফলও হয়েছেন আমার মতে।
ক্যাটাগরির দিক থেকে 'মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন'-কে আমি মনস্তাত্ত্বিক একটা ভৌতিক উপন্যাসই বলবো। একজন সাধারণ তরুণের কোন এক প্রবল ভয়ের মুখোমুখি হওয়া এবং সেই ভয়ের বলয় থেকে নানা সাইকোলজিক্যাল ব্যাখ্যার মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে চাওয়ার ব্যাপারটা নিয়েই বইটার পুরো কাহিনি। উপন্যাসটা পড়তে গিয়ে বিনোরাল বিট ও গার্সিয়ান হাইপোথিসিসের মতো চমকপ্রদ ব্যাপারগুলো সম্পর্কেও কিছুটা ধারণা লাভ করার সুযোগ হয়েছে। পাশাপাশি নসিব পঞ্চম জিহাদী তাঁর গল্পে দারুন এক ভৌতিক আবহ সৃষ্টি করতে পেরেছেন।
অনেক উপন্যাসের শেষটাই আমার মনোঃপুত হয়না। সেটা হওয়াও আসলে সবক্ষেত্রে সম্ভব না। তবে এই উপন্যাসের শেষটা আমাকে দারুনভাবে পরিতৃপ্ত করেছে। লেখকের বর্ণনাভঙ্গি দারুন সুখপাঠ্য ছিলো। এই কারণেই বইটার শুরু থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত পড়ে যেতে পেরেছি নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে। এক বসায় শেষ করে ফেলার মতোই একটা উপন্যাস 'মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন'। বুক স্ট্রিট থেকে এটার সাথে সাথে লেখকের আনকোরা নতুন আরেকটা উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে এই মেলায় - 'অরিত্রিকা, ওইখানে যেওনাকো তুমি'। ওটাও সংগ্রহে আছে। পড়ে ফেলবো এক সময���।
বইয়ে ভুলভ্রান্তি ছিলোনা বললেই চলে। 'মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন'-এর চমৎকার দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদটা করেছেন আবুল ফাতাহ। দিন দিন আমি এই মানুষটার করা প্রচ্ছদকর্মের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। উপরি হিসেবে বইটার সাথে পাওয়া বুকমার্কের জন্য বুক স্ট্রিটকে ধন্যবাদ।
আপনারা যারা অন্ধকারের গল্প পড়তে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি সাজেশন রইলো 'মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন' চেখে দেখার। পাঠ হোক আনন্দময়।
ইচ্ছা ছিল গতকাল রাতেই বইটা পড়ে শেষ করবো। একটার দিকে দেখলাম আরো কিছুটা চ্যাপ্টার বাকি। আর এদিকে আমার সিরিয়াস ভয় লাগছে। বিছানার উল্টাদিকে কালো ঐ জিনিসটা কী? কীরকম একটা কিঁচ কিঁচ শব্দ শোনা যাচ্ছে না? বাইরে কী কারো পায়ের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে? ফলাফলঃ বই বন্ধ রেখে ঘুমের চেষ্টা। কিন্তু ঘুম কী আর আসে? পঞ্চম নসিবকে ধন্যবাদ আমাকে ভয় পাইয়ে দেয়ার জন্য। যদিওবা শেষের দিকে বইটা পুরোদস্তুর থ্রিলারের দিকে মোড় নিয়েছে, তবে সেটাও উপভোগ্য ছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি চাচ্ছিলাম পুরোদস্তুর হররের দিকে লেখাটা মোড় নিক। থ্রিলারের যুক্তি, পাল্টাযুক্তি, যুক্তিখন্ডন-এগুলো কেন জানি দেখতে ইচ্ছা করছিল না। নসিব সাহেবের লেখা খুব সাবলীল, স্বচ্ছন্দ। বর্ণনা ভঙ্গি অসাধারণ। আশা করি ভবিষ্যতে লেখক এরকম আরেকটা বই লিখে আমাকে আবারো একটি নির্ঘুম রাত উপহার দেবেন।
❝ওকে ধরো, যেভাবে পারো ওকে ধরো। ওকে আমার লাগবেই! ওকে মেরে ফেলতে হবে। অল্পবয়েসী একটা ছেলেই আমার দরকার!❞
— এই দুটো লাইন আবার কোনোদিন শোনা লাগবে ভাবতেও পারেনি সৌধ। কিন্তু মনের কল্পপটে সেই রাতের বিভীষিকা আবারও ফুটে ওঠে! তার স্বাভাবিক জীবনে আবারও আগমন ঘটে কয়েকবছর আগে ঘটে যাওয়া সেই মাঝরাতে শোনা গল্পের "অভিশাপ"- এর...
এক সমুদ্র বইয়ের কারবার মনসুর ভাইয়ের। বইয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই পরিচয় হয় সৌধের সাথে। হয়ে ওঠে অতি-আপনজন। একবার কাজের খাতিরে দেশের বাইরে যাওয়ার কারণে সৌধের হাতে দিয়ে যান প্রিয় লাইব্রেরির দায়িত্ব। তুমুল বৃষ্টির রাতে মনসুর ভাইয়ের ছাত্র ইমতিয়াজ সালেহীনের সাথে পরিচয় হয়। অল্পসময়ের মধ্যেই খাতির হয়ে যায় দু'জনের। প্রায়ই আড্ডা দেওয়া শুরু হয়। ইমতিয়াজের এলাহি বড়োলোকি কাজকারবার, অদ্ভুত আচরণ, গল্প বলার জাদুকরী ক্ষমতা যেমন মুগ্ধ করে তেমনি ভয়ও ধরিয়ে দেয়! কেমন জানি অস্বস্তি হয়! ইমতিয়াজের অদ্ভুত সুন্দর বৈচিত্র্যে ভরপুর ছাদবাগানে মধ্যরাতে সৌধ যা দেখে... তার সমস্ত যৌক্তিক ভাবনা যেন ওলট-পালট হয়ে যায়! মৃত্যুর ওপার থেকে কেউ কি ফিরে আসতে পারে?
একটুখানি ব্রেক নেওয়ার জন্য ছোট্ট একটা বই পড়বো ভাবনা থেকেই বুকশেলফের সামনে ঘোরাঘুরি করতে করতে হাতে তুলে নিয়েছিলাম "মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন"। কিন্তু ছোট্ট বই হলে কি হবে প্লট, লেখনশৈলী, বর্ণনার কারণে কয়েকবসায় শেষ না করে ছাড়তে পারিনি। মৌলিক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হিসেবে নিঃসন্দেহে দারুণ একটা বই!
চারবছর পর দেশে ফিরে সৌধ বুঝতে পারে অতীত তার পিছু ছাড়েনি। যে ভয় থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তার মুখামুখি হবে, করবে রহস্যদ্ধার। পুরোনো দুই বন্ধু রাদিফ ও খসরুকে খুলে বলে কেন তার জীবন থেকে শান্তি উধাও হয়ে গেছে। ঝড়বৃষ্টির রাতে বারান্দায় বসে কাহিনী শুনার পর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে এর শেষ দেখে ছাড়বে তারা। বইয়ের শুরুটা এইভাবেই। সৌধ, ইমতিয়াজ বাই ব্রন স্টোরিটেলার কিনা জানি না কিন্তু যেভাবে ঘটনাগুলো বর্ণনা করা হয়েছে তন্ময় হয়ে পড়ে গেছি। বইয়ের সেরা অংশ আমার কাছে মাঝের অংশ যেখানে ৫জন মিলে নিজেদের প্রতিদিনকার বোরিং জীবন থেকে ব্রেক নিয়ে রহস্যের কিনারা করতে দলবেঁধে নেমে পড়ে। এই অংশে এতোই মগ্ন ছিলাম যে সময়ের হিসাব ছিল না। শেষ অংশে এসে যুক্তি দিয়ে খণ্ডে খণ্ডে ব্যাখ্যা করা ভালো লেগেছে। বইয়ে কয়েকবার ইমতিয়াজের বই লেখার কথা বলা হয়েছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমন কিছুই দেখা যায়নি। আশা করেছিলাম বই প্রকাশ হবে আর নতুন কোনো চমক আসবে। কিন্তু তা আর হলো না। তবে একটা খটকা আছে। যেখানে ওষুধ দিয়েই অজ্ঞান করা যায় সেখানে কেন ভয় দেখিয়ে অজ্ঞান করতে হবে?
বইয়ের গল্প বলা বা উল্লেখযোগ্য অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে ঝড়বৃষ্টির সময়ে। লেখকের সম্ভবত ঝড়বৃষ্টি বেশিই ভালো লাগে। প্রথমে হরর মনে হলেও ইউ-টার্ন নিয়ে যেভাবে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের রুপ নিলো... মারাত্মক! হিস্ট্রি, মিথ, হরর, সাইকোলজি, মিস্ট্রির মিশেলে দারুণ একটা বই। তবে একটা আফসোস আছে... মনসুর ভাইয়ের লাইব্রেরির মতো এতো বিশাল ব্যক্তিগত লাইব্রেরি দেখার সৌভাগ্য এখনও হয়নি। কোনোদিন হবে কি?
সৌধকে সালেহীন সাহেব এক রাত্রে একটা গল্প শুনিয়েছেন। গল্পটা তার মৃত স্ত্রীর। সমস্যা হচ্ছে গল্প শুনার একটু পরেই সৌধ তার মৃত স্ত্রীকে নিজের চোখের সামনে দেখতে পায়। আর তাকে জেঁকে ধরে তীব্র এক ভয়। এই ভয়কে একটা সময় জয় করলেও আবার একদিন ফিরে আসে এই আদিম অনূভুতি। এবার সৌধ ফিরে যায় তার ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধু রাদিফ আর খসরুর কাছে। কিন্তু অভিজ্ঞতার কথা শুনার পরে তারা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে এইটাই বিহিত করাই লাগবে। সে জন্য প্রথমেই ছুটে যায় মনসুর সাহেবের কাছে, যার লাইব্রেরিতে পার্টটাইম চাকরী করার সময় পরিচয় হয় সালেহীন সাহেবের সাথে। সেই সাথে জুটে যায় সালেহীনের বন্ধু সৈমোর। এবার ঘটনা পেয়াজের খোলসের মত ছুটতে শুরু করে।
বইটার গল্পটা খুব ভাল। কোন জায়গায়ই ছন্দপতন হয় নাই। শুরু করেই শেষ করে ফেললাম। বিভিন্ন ব্যাক্তির জবানীতে গল্পটা এগিয়েছে বলে ভালই লাগল। যদিও ব্যক্তি অনুযায়ী বর্ণনার ভংী আলাদা হইলে ভাল হইত। আরেকটা ব্যাপারের উন্নতি ঘটানো দরকার। সেটা হল পরিস্থিতির বর্ণনাকে আরো বাস্তবসম্মত করা লাগত। সবকিছু বর্ণনা থাকলেও কেন জানি চোখের সামনে আনতে পারছিলাম না। অবশ্য আমার নিজের ব্যর্থতাও থাকতে পারে। সবমিলিয়ে বেশ ভালই লাগল। তার উপর এইটা বলে লেখকের প্রথম বই। উনার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলে মনে হচ্ছে। উনার আগেও একটা লেখা পড়েছি, কিন্তু অত্যন্ত আশার কথা দুইটা সম্পূর্ণ ভিন্ন আংগিকে লেখা। এতে লেখকের সব্যসাচীতার প্রমাণও পাচ্ছি মনে হল।
খুব বেশি আশা নিয়ে শুরু করিনি। তবে শুরুর কয়েক পৃষ্টা পড়ে আটকে গেলাম। তারপর যা হয় আরকি..একবসায় না হলেও,কয়েকবসায় শেষ করে ফেললাম ‘মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন’। প্রথমেই লেখকের গদ্য নিয়ে বলা যাক - পঞ্চম নসিব এমন ভাবে লিখেছেন যে কোথাও একটুও আটকাতে হয়নি। সহজ ভাষা,ছোট ছোট বাক্য আরাম দিয়েছে।
সবচেয়ে মজা লেগেছে,গল্প বলার ঢংয়ে। লেখক মাত্রই তো গল্প বলেন। আলাদা গল্প,আলাদা সুরে। পঞ্চম নসিবের ও একটা আলাদা ধরন আছে গল্প বলার। সেটা খানিকটা বৈঠকী ধাঁচের। টের পাওয়ার আগেই আপনি সে গল্পে আটকে যাবেন। অন্ততপক্ষে আমি আটকেছি। দৃশ্যগুলো একের পর এক এমনভাবে আসবে যেন গ��্প নয়,পুরোটাই রুঢ় বাস্তব।
গল্প বলার এই ক্ষমতার জন্যেই কিনা কে জানে,পড়তে পড়তে কেমন এক ধরনের অস্বস্তি অনুভব করছিলাম। হরর বা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার আমাকে অস্বস্তি দিতে পারে সেটা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। লেখককে সেজন্য ধন্যবাদ জানানো যেতে পারে।
ওহ হ্যাঁ,গল্প.... গল্পটা ভয়ের,পাপের,প্রেমের,লোভের এবং অতি অবশ্যই গল্পটা অনেকটুকু ইতিহাসেরও। লেখকের পরের বই পড়ার জন্য অপেক্ষা করবো।
মেডিকেলীয় ভাষায় থার্ড ইয়ারকে বলা হয় হ্যানিমুন পিরিয়ড, এনাটমি বায়োকেমিস্ট্রি আর ফিজিওলজির কচকচানির কবল থেকে কাঁধে সদ্য কেনা স্টেথোস্কোপ আর নতুন নতুন ওয়ার্ডে এসে অসুখ বিসুখের রং বাহারী বিচিত্র দুনিয়ার সাথে পরিচিতির এক নব দিগন্তের নাম থার্ড ইয়ার।
নিজের স্বল্প জ্ঞানের পরিধিতে থার্ড ইয়ার অব্দি আমার দৌড় ছিল পালস দেখা আর বেসিক কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ।পাছে লোকে নিজের অল্প বিদ্যার ভয়ংকরী কোনো পরীক্ষা না নিয়ে ফেলে সেজন্য সদা সচেষ্ট সচেতন প্রয়াস ছিলো পলায়নের।
কিন্তু সালেহীন সাহেব এই তৃতীয় বর্ষ সর্বস্ব সম্বলকে পুঁজি করে লিলিথের যে লীলা খেলা নিয়ে ছেলেখেলা করলেন তাতে পরবর্তী তে দোকানে গেলে ফুল লাগলেও চাইতে পারবো না বেশকিছু দিন; তবে মাঝরাতে এরকম একখানা গল্প আবারো শোনার ইচ্ছে রইলো।
"যদি থাকে নসিবে, আপনা-আপনি আসিবে।" হঠাৎ করে নীলক্ষেতে নসিব পঞ্চম জিহাদী সাহেবের বইটা পেয়ে গেলাম। অটোগ্রাফসহ। যাকে অটোগ্রাফ দিয়েছিলেন তার হয়তো বইটা আর প্রয়োজন নাই। তিনি বেচে দিয়েছেন, আমার হাতে চলে এসেছে। দারুন একটা বই একটানা পড়ে শেষ করে ফেললাম। রিভিউ পড়ে অনেক আগে থেকেই বইটা পড়ার ইচ্ছা ছিল।
তিন বছর পর পুরনো একটা স্বপ্ন আবার দেখে ভয়ে আত্মা খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় সৌধের। তিন মাস পর তার দুই বন্ধু রাদিফ আর খসরুর শরনাপন্ন হলো সে। গল্প বলায় তুমুল পারদর্শী রহস্যময় ইমতিয়াজ সালেহীনের সাথে কীভাবে সৌধের পরিচয় আর তারই বাসার ছাদে সাক্ষী হওয়া অতিপ্রাকৃত ঘটনার পুরো বর্ণনা দিল। সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অতীতে বহুদিন তাড়া করেছে। তিন বছর পর যেন আবার তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। তিন বন্ধু মিলে রহস্যের জট খোলার প্রত্যয়ে সাহায্য নিতে হলো মনসুর সাহেব ও সালেহীনের এক সময়ের বন্ধু সৌমেরের। রহস্যের জট খুলতে গিয়ে যা জানতে পারলো তার সাথে জুড়ে বহু বছরের পুরনো এক মিথ। ইমতিয়াজ সালেহীনের বাড়ির সামনে লেখা 'ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন'। এরই বা মানে কী!!
ছোট পরিসরের একটা বইয়ে সাইকোলজি, অতিপ্রাকৃত আর মিথের ডোজ পরিমাণমতো দিয়ে দারুণ এক গল্প ফেঁদেছেন লেখক। পড়তে শুরু করলে শেষটা না জেনে বই রাখতে মন চাইবে না।
মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন একটা এপিক স্টোরি-টেল... সবকিছু একদম পারফেক্ট ছিলো। শুধু শেষমেশ এসে এক্সট্রা অর্ডিনারি প্লট টা হুট করে খাপছাড়া লাগলো। এন্ডিং ঠিক আছে, যে প্রসেসেরমধ্যে দিয়ে,গল্পের মধ্যে দিয়ে, এন্ডিং এর যে এক্সিকিউশান, সেটা গল্প-প্লট সবকিছুর তুলনায় সাদামাটা হয়েছে। লেখকের চিন্তাধারা, গল্পের উপস্থাপন, স্টোরিটেলিং, ডিটেইলিং খুব উপভোগ করেছি পুরো বইজুড়েই। কিছু লেখনশৈলী আছে যা লাইনের পর লাইন পেজ টার্নার ফিল ছাড়াই পড়ে যাওয়া যায় এবং পড়তে আরাম লাগে। লেখকের এই ক্ষমতাটা পেয়েছি। তার গল্প বলার,বর্ণনার ধরন মনে থাকবে অনেকদিন।
'সৌধ, খসরু, মনসুর ভাই, সালেহীন সাহেব, শিরিন, মাঝরাতের গল্প, আস্ক ফর ফ্লাওয়ার মন্দির বা ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন' একটা উপভোগ্য জার্নি ছিলো!
লেখকের গল্প বলার ধরণটা অসাধারণ, পড়তে আরাম লাগে। কোথাও অযাচিত বিবরণ দিয়ে গল্পটাকে টানার চেষ্টা করা হয় নি এবং খুবই গোছানোভাবে লেখা হয়েছে। আমার কাছে সবচেয়ে ভালো যেটা লেগেছে সেটা হল প্লটের ইউনিকনেস আর সাজানো হয়েছে চমৎকারভাবে। শেষের দিকে ট্যুইষ্টগুলো পড়ার গতি বাড়িয়ে দিতে বাধ্য। একটু ঠান্ডা ঠান্ডা রাতে এক বসায় শেষ করে দেয়ার জন্য পারফেক্ট বই। আর পড়ে বোঝার উপায় নেই এটা লেখকের প্রথম বই, খুবই পরিণত লেখা।
ছোটবেলায় যাদের লেখা পড়ে প্রথম মনে হয়েছিলো আমিও লেখক হতে চাই, পঞ্চম নসিব তাদের মধ্যে অন্যতম। এ বইটার মতো চমৎকার আইডিয়া আর চুম্বকের মতো আকর্ষণীয় লেখনীভঙ্গি আমি অন্য খুব কম বইয়েই দেখেছি। যখন ‘মাঝরাতে...’ প্রথম পড়েছি তখন যথেষ্ট গা ছমছম করেছিলো, এক পৃষ্ঠা শেষ করার আগেই অস্থির ছিলাম পরের পৃষ্ঠায় কী হবে তা জানার জন্য। সেটা স্কুলজীবনের কথা। তার পরের এতো বছরেও এমন অসাধারণ বই পড়েছি হাতে গোনা চার-পাঁচটা। লেখকের জন্য শুভকামনা রইলো। দুঃখের বিষয় তার দ্বিতীয় মৌলিক এখনো আসেনি। অপেক্ষায় আছি।
এইটা একটা সেরা থ্রিলার। বইটা কিনে পড়ে ফেলেন জাস্ট। আশ্চর্য হইছি শুনে যে, এইটা নাকি লেখকের প্রথম বই। অনেক ম্যাচিউর লেখা প্রথম বই হিসেবে। বাকিগুলো পড়ে ফেলবো। এক সুতোয় ইতিহাস, কাল্ট, সাইকোলজি বোনা, আবার কয়েকটা পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখানোর সফল চেষ্টা, উত্তেজনা ধরে রাখা, সময়মতো গ্রন্থিমোচন, সাসপেন্স এর অস্বাভাবিকতা পরিহার - একটা সুন্দর থ্রিলার হবার জন্যে এর বেশি কিছু লাগে না। কাহিনীর কথা লিখলাম না, কারণ হারুন ভাই বলেছেন, এইটা পড়বার সময় জানলেই ভালো হবে।
গল্প বলার ধরন ভালো । হরর জনরা থেকে যে ধুপ করে থ্রিলার জনরাতে রুপ নিবে একটুও বুঝতে পারিনি । প্রথম বই হিসেবে দারুণ লিখেছেন । গল্পটা বেশি ভালো লেগেছে গল্পের ভিতরে গল্প তাঁর ভিতরে গল্প তাঁর ভিতরে গল্প বলার ঢঙের জন্য । অনেকদিন পর একটা বই এক বসাতেই শেষ করলাম।
ভালোই ছিল, কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপার অতিরঞ্জিত আর একটা মেজর প্লট হোল (ঠিক প্লট হোল না, কেন কাজটা করার দরকার পড়ল তা বুঝতে পারিনি) বইটাকে ঠিক খুব ভালো লাগতে দিল না।
বই পড়তে ভালোবাসে সৌধ। সেই সুবাদেই একটি ভারি চমৎকার ব্যক্তিগত লাইব্রেরি তথা বুকশপের সাময়িক দায়িত্ব এসে পড়েছিল তার উপর। সেখানেই, এক বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় তার সঙ্গে আলাপ হল ইমতিয়াজ সালেহীনের। ইমতিয়াজের সঙ্গে এক অদ্ভুত, অসম বন্ধুত্ব হল সৌধের। কিন্তু তাঁর বাড়িতে এক অবিশ্বাস্য, অলৌকিক অভিজ্ঞতা হল তার। তার প্রভাবে তছনছ হয়ে যেতে লাগল তার দিনরাত্রি। কী হয়েছে সৌধের? ইমতিয়াজ তাকে যে গল্পটা শুনিয়েছে তা কি কোনো অসুস্থতার ফসল, নাকি কল্পনা? নাকি গভীরতর কোনো উদ্দেশ্য জড়িয়ে আছে সেই গল্প এবং সৌধের অভিজ্ঞতার সঙ্গে? এই অত্যুৎকৃষ্ট সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারটি পড়তে গিয়ে আরও একবার বুঝলাম, মানুষের মনের চেয়ে বেশি রহস্যময় কিছুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ভয় পাওয়া ও পাওয়ানোর ক্ষেত্রেও তার মস্তিষ্ক একেবারে অদ্বিতীয়। লেখার ভাষা কিছুটা আড়ষ্ট এবং অপ্রমিত— হয়তো এটি ঔপন্যাসিকের প্রথম রচনা বলেই। তারই পাশাপাশি এও দেখি যে প্রকৃতিগত দিক দিয়ে হূমায়ূন আহমেদের অনুসারী হলেও আলমগীর তৈমূরের প্রভাব এই লেখার উপর স্পষ্ট। কিন্তু গথিক, আতঙ্কজনক আবহ-নির্মাণে লেখকের দক্ষতাও প্রশ্নাতীত। আর হ্যাঁ, এমন স্বল্প পরিসরে মনের কোণে জমে থাকা অন্ধকারের উপর এমন আলোকপাতও অন্য স্তরের মুনশিয়ানা দাবি করে। ভালো লাগল বইটি। আগামী দিনে লেখকের আরও গল্প শোনার অপেক্ষায় রইলাম— সে মাঝরাতে হোক বা বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায়।