Jump to ratings and reviews
Rate this book

ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়

Rate this book

100 pages, Hardcover

First published July 1, 1963

9 people are currently reading
227 people want to read

About the author

Jasim Uddin

56 books86 followers
Jasimuddin (Bangla: জসীম উদদীন; full name: Jasimuddin Mollah) was a Bengali poet, songwriter, prose writer, folklore collector and radio personality. He is commonly known in Bangladesh as Polli Kobi (The Rural Poet), for his faithful rendition of Bengali folklore in his works.

He obtained his BA degree in Bengali from the University of Calcutta in 1929 and his MA in 1931. From 1931 to 1937, Jasimuddin worked with Dinesh Chandra Sen as a collector of folk literature. Jasimuddin is one of the compilers of Purbo-Bongo Gitika (Ballads of East Bengal). He collected more than 10,000 folk songs, some of which has been included in his song compilations Jari Gaan and Murshida Gaan. He also wrote voluminously on the interpretation and philosophy of Bengali folklore.

Jasimuddin started writing poems at an early age. As a college student, he wrote the celebrated poem Kabar (The Grave), a very simple tone to obtain family-religion and tragedy. The poem was placed in the entrance Bengali textbook while he was still a student of Calcutta University.

Jasimuddin is noted for his depiction of rural life and nature from the viewpoint of rural people. This had earned him fame as Polli Kobi (the rural poet). The structure and content of his poetry bears a strong flavor of Bengal folklore. His Nokshi Kanthar Maath (Field of the Embroidered Quilt) is considered a masterpiece and has been translated into many different languages.

Jasimuddin also composed numerous songs in the tradition of rural Bengal. His collaboration[4] with Abbas Uddin, the most popular folk singer of Bengal, produced some of the gems of Bengali folk music, especially of Bhatiali genre. Jasimuddin also wrote some modern songs for the radio. He was influenced by his neighbor, poet Golam Mostofa, to write Islamic songs too. Later, during the liberation war of Bangladesh, he wrote some patriotic songs.

Jasimuddin died on 13 March 1976 and was buried near his ancestral home at Gobindapur, Faridpur. A fortnightly festival known as Jasim Mela is observed at Gobindapur each year in January commemorating the birthday of Jasimuddin. A residential hall of the University of Dhaka bears his name.

He was honored with President's Award for Pride of Performance, Pakistan (1958), DLitt. by Rabindra Bharati University, India (1969) Ekushey Padak, Bangladesh (1976), Independence Day Award (1978).

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
37 (33%)
4 stars
49 (44%)
3 stars
18 (16%)
2 stars
5 (4%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 29 of 29 reviews
Profile Image for রিফাত সানজিদা.
174 reviews1,355 followers
November 5, 2016
মাঝের ক'মাস ফুল টাইম বেকার ছিলাম। অনুবাদ এবং কাউন্সেলিংজনিত কিছু স্বেচ্ছাশ্রম ছাড়া মূলত যেটা করেছি, সেটা হলো বই পড়া। ঠাকুরবাড়ি আমার আগ্রহের বিষয়, বিশেষত রবীন্দ্রনাথ এবং অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
টুকিটাকি সব মিলিয়ে এ সংক্রান্ত বই পড়া হয়েছে ভালোই।

বেকারত্ব ঘুচেছে, শহর বদলেছে, ফাটা কপাল কেটে পড়েছে স্টিচ। গত সন্ধ্যায় ডাগদর দেখিয়ে ফেরার পথে চট করে হাতে পেয়ে নিয়ে নিলাম এ বইটা, জসীম উদ্দিনের স্মৃতিচারণ, ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে।

মূলত পাওয়া যাবে পল্লীকবির লোকশিল্প প্রেম, দেশজ কারুকার্যময় শিল্পকলার সংরক্ষণ ও প্রচারের চেষ্টা, 'নকশী কাঁথার মাঠ' কিংবা 'হাসু' বা 'সোজন বাদিয়ার ঘাট লেখার পেছনের টুকরো গল্প।
আর সঙ্গে রাত্রিদিনের রবীন্দ্রনাথকে দেখা এবং নিখাদ মুগ্ধতার রেশচারণ।

এবং রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে যোগ্য উত্তরসুরী অবন ঠাকুরের গল্প। যিনি ছবি 'লিখতেন'।

অবনীন্দ্রনাথের পৌত্র মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে অমলিন সৌহাদ্য ছিল জসীম উদ্দিনের। সেই সুত্রে খোদ জোড়াসাঁকোতে তিনি বাসিন্দা হয়ে ছিলেন দীর্ঘদিন। ঠাকুরবাড়িতে সেই আতিথ্যগ্রহণকালীন সময়ে কাছ থেকে দেখা উজ্জল আলোকসভা, কলা, সংস্কৃতির লালন ও প্রসারণে গগন- সমর-অবন ঠাকুর এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ঐকান্তিক চেষ্টা ও অবদানের কথা।
একই সাথে এসেছে তৎকালীন উঁচুতলার সমাজের বিরাজমান সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পের বিবরণও।

এবং বার বার এসেছেন অবনীন্দ্রনাথ।
নোলক কিংবা ক্ষীরের পুতুলএর সেই ছবি 'লিখিয়ে' শেষ জীবনে কী তীব্র অসহায় দিন যাপন করে গেছেন, পড়তে পড়তে বড় মন খারাপ হয়।
Profile Image for Harun Ahmed.
1,664 reviews424 followers
March 29, 2024
বিষণ্ণ সুন্দর স্মৃতিকথা।মাত্র ১০০ পাতার ভেতর রবীন্দ্রনাথ ও অবনীন্দ্রনাথকে ঘিরে আবর্তিত হওয়া ঘটনাবলির মাধ্যমে পুরো একটা কালের উত্থান ও পতনের অনিবার্য গল্প লিখে রেখেছেন জসীম উদদীন।
Profile Image for Farzana Raisa.
533 reviews238 followers
November 2, 2021
খুব ভাল্লাগসে! কবির আত্মজীবনী 'জীবন কথা' পড়ে এমনই মুগ্ধ ছিলাম যে এটাও পড়ে ফেলেছি। কবি আর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের লোকজনদের নিয়ে লেখা। রবি ঠাকুরকে নিয়ে যতোটা স্মৃতিচারণ করেছেন তার চেয়ে বেশি পরিমাণে ছিল অবন ঠাকুরকে নিয়ে। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে অতো লেখা বা স্মৃতিচারণা জাতীয় তেমন চোখে পড়ে না। হয়তো পাশেই মহীরুহ রূপে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বলে তাই! খোদা যখন মানুষ সৃষ্টি করেন, তখন সবকিছুই মোটামুটি অল্প-স্বল্প করে দেন কিন্তু এই এক ঠাকুর পরিবারটিকে সৃষ্টি করার সময় মনে হয় খোদা প্রতিভার অংশটুকু দিতে যেয়ে একগাদা ঢেলে দিয়েছিলেন!

সে যা হোক... ঠাকুর বাড়ির লোকেরা ছাড়াও কবি জসীম উদদীনের আলোচনায় এসেছেন আরও অনেকে। নজরুলও এসেছেন, এসেছে কবি জসীম উদদীনের স্ট্রাগলিং সময়ের গল্পও। একটা ব্যাপার অনেক অনেক অনেক বেশি ভাল্লাগসে! এই ভদ্রলোক এতো সহজ সরল!! বালক কালে তার প্রতি করা সামান্যতম উপকার কিংবা দয়াটুকুও তিনি ভোলেননি! মনে রেখেছেন এবং পাঠককেও জানিয়েছেন! আজকালকার কয়টা মানুষ করে এমন? জীবন কথা বইটার মতো এই বইটাও কিঞ্চিৎ অগোছালো। কোন টাইম লাইন মেনে এগোয়নি। যখন যেই টপিক মনে পড়েছে, লিখে গেছেন মনের আনন্দে।
ভাল্লাগসে এই বইটাও! ^_^
Profile Image for Syeda Ahad.
Author 1 book131 followers
August 12, 2016
একেবারেই একটানা পড়ে শেষ করলাম বইটা। ছোটবেলা থেকেই কবি জসীমউদদীনের মুগ্ধ পাঠক ছিলাম, এখন তাঁর গদ্যরও ভক্ত হয়ে গেলাম। যদিও এটিকে গদ্য না বলে স্মৃতিকথা বলাই যুক্তিযুক্ত। কবিগুরু এবং ঠাকুরবাড়ির আরও বেশ কিছু মানুষ, বিশেষ করে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্যে আসা এবং তাঁদের সাথে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ নিয়েই লেখা বইটি।

বইটি পড়তে পড়তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন, কাজ, ও ব্যক্তিত্বকে এক নতুন আলোকে দেখতে পেলাম যেন; যেই কবি লেখা মনমতো হওয়ার আগে পর্যন্ত বারে বারে লেখার সংশোধন ও পরিবর্তন করেন, নাটক মঞ্চায়নের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সংলাপ আর কাহিনীতে পরিবর্তন করতে থাকেন সবচেয়ে ভালোভাবে কাজটি করার জন্য, ভোরে উঠে সারাদিন লেখায় মশগুল থাকেন, আবার তাঁর কাছে এসে কোনো দর্শনার্থী ফিরে গেলে মনঃক্ষুণ্ণ হন, সকলের সাথে দেখা এবং কথা বলেন, সাধ্যমত সকলের জন্য করেন, আবার কেউ উপকার পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে এলে অবাক হয়ে যান। সাহিত্যের এতো দিকে তাঁর বিস্তর পদচারনা, অথচ বিশ্বভারতী আর শান্তিনিকেতনের মত বড় দুটো প্রতিষ্ঠান চালিয়ে গিয়েছেন সফলভাবে। বই থেকে জানলাম এতোরকম কাজ করতে গিয়ে ঠাকুরবাড়ির বাকি সকলের এবং আরও কতজনের কতো নীরব ত্যাগ এবং অবদান ইন্ধন জুগিয়েছে। জানলাম অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এবং তাঁর আরও দুই ভাইয়ের সাধনার কথা; ছবি আঁকা নিয়ে তাঁদের দিন রাত পার করে দেয়ার গল্প।

পড়ার সময় গুণী মানুষজনের কথা, কাজ, এবং কাজের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়েছে, মানুষের সাথে মানুষের সৌহার্দ্য আর বাচ্চাদের মন জয়ের জন্য লেখকের চেষ্টার কথা শুনে অদ্ভুত প্রশান্তি হয়েছে, বন্ধুরা মিলে প্রতিবেশি একজনের সাথে প্র্যাক্টিক্যাল জোকের কাহিনী পড়তে গিয়ে নিজের অজান্তেই জোরে হেসে ফেলেছি, আবার জীবনের শেষ দিকে এসে এই বাড়ির মানুষজনের দুর্দশার কথা পড়তে গিয়ে চোখ ভিজে এসেছে।

পল্লীকবি জসীম উদদীনের লেখায় গ্রামবাংলার যে মায়াভরা রূপটা দেখতে পাই, তাঁর লেখায় যে মাটির গন্ধ পাই, সেইরকম মায়া এই বইটা জুড়েও ছিলো। একটা শহর আর শহুরে মানুষজন নিয়েও যে এমন কোমল মমতা নিয়ে লেখা যায়, এমনটা আগে দেখিনি। মিষ্টি সব উপমা, সহজ সরল মুগ্ধতার ভাষা, আর লেখাজুড়ে আপনজনকে নিয়ে লেখার মায়া যে মনের ভেতর থেকে আসা ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা মিলেই গড়ে উঠেছে - তাতে সন্দেহ হবার অবকাশ নেই। লেখকের এ ধরনের আরও যে কয়টি বই রয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব পড়ে ফেলার আশা রাখি :D
Profile Image for Avishek Bhattacharjee.
370 reviews80 followers
January 30, 2023
আমি আগেও দেখেছি কবিরা ভাল গদ্য লেখেন। এমনকি অনেক নামকরা গদ্যলেখকের চেয়ে ভাল লেখেন। সে হিসাব করলে পল্লীকবি নামে পরিচিত জসীমউদ্দিন তোহ একজন মাস্টার কবি। অন্তত আমি তাই মনে করি। উনার রচিত কবর কবিতার শেষ অংশটা পড়ে চোখের কোণে অশ্রু আসার পরে আমি বুঝতে পারি যে ঠিক কতটা আবেগের সঞ্চার হয়েছিল আমার। সেই জন্য যখন এই বইটার সন্ধান পাই তখন আমি খুব আগ্রহ সহকারেই পড়তে শুরু করেছিলাম। একে তো জসীমউদ্দিনের লেখা, তার উপরে বাংলার কিংবদন্তি ঠাকুরবাড়ি নিয়ে। পড়ে একটু হতাশ বলা যায় কারণ কবিগুরুকে নিয়ে স্পেশাল কিছু পেলাম নাহ। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে লেখাটা যথেষ্ট উত্তেজক। আরো কিছু ঠাকুরবাড়ির চরিত্র এলেও খুব একটা ডীপে যাননি। এদ্দুর বুঝতে পেরেছি যে এ পরিবার আপাদমস্তক শিল্পী। ঠাকুরবাড়ির ক্ষয়টাও জসিমউদদীন তুলে এনেছেন যা পড়লে খুব খারাপ লাগে। শেষে কবি নজরুলকে নিয়ে লেখাটা বেশ ভাল। আলাভোলা এ কবি নিজেকে নিয়ে ভাবেননি। দুঃখু মিয়া জীবনটা দুঃখেই কাটিয়েছেন। আর সাথে পরিবারও ভোগ করেছে কষ্ট।
পল্লীকবি অসাধারণ লেখেন। আবেগটাকে সুন্দর করে লেখায় রূপ দিতে পারেন। কিন্তু লেখাটা পড়ে আমার মনে হল উনি কোন পরিকল্পনা করে লেখেন নাই। খাতা কলম হাতে নিয়ে ঝর্নার পানির মত বুকের আবেগ বের করে এনেছেন। সে হিসেবে পল্লীকবিকে স্যালুট। ❤️
Profile Image for Samiha Kamal.
121 reviews116 followers
June 15, 2023
পল্লীকবি জসীম উদ্দীন এমন দরদ দিয়ে বইটা লিখেছেন যে পড়লে মনে হয় একটা অরিজিনাল কিছু পড়ছি। কবির লেখনীর জোরে চোখের সামনে ভেসে উঠে শান্তিনিকেতন, রবিঠাকুর আর অবনঠাকুরের বাসভবন, তাদের সৃষ্টিকর্ম। অবনীন্দ্রনাথের জীবনের শেষদিকে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির করুণ অবস্থাও কিছুটা উঠে এসেছে তাঁর লেখায়।
ঠাকুরবাড়ির পাশাপাশি শেষে এসে বিদ্রোহী কবি নজরুলের কথাও উঠে এসেছে। আমার যেই একটা তৃষ্ণা তৈরি হয়েছিলো জসীম উদ্দীনের সাথে নজরুলের সাক্ষাৎ নিয়ে জানার, তা পূরণ হয়েছে।

কি সেই সময় ছিলো যখন রবিঠাকুর আর নজরুল নিজেদের গান আর কবিতা নিজেরা শুনাতেন। কিংবা খোলা ময়দানে নজরুলের আগুন-ঝরা কথার ফোয়ারা। নাটক মঞ্চস্থ হতো, হুট করে কোনদিন হয়তো কালো চাদর জড়িয়ে শেষ সিনে রবীন্দ্রনাথের এন্ট্রি! অথবা প্রোটাগনিস্ট হিশেবে খোদ কবিগুরু! ভাবতেই কেমন থ্রিল লাগে। এখনের কনসার্ট আয়োজনের থেকে নিশ্চয়ই ক্রেজ কম থাকত না। তখন বেঁচে থাকার ব্যাপারটা একটু হলেও উপভোগ করেছি পল্লীকবির বদৌলতে।

জসীম উদ্দীনের ব্যক্তিজীবনের স্ট্রাগল, তার সুন্দর জীবনবোধের কিছুটাও স্বাভাবিকভাবে উঠে এসেছে। হাসু নামের একটা ছোট মেয়ের প্রতি তার যেই বাৎসল্য এটা প্রমাণ করে কবির মন কতটা সরল-সুন্দর ছিলো।
দুইটা ব্যাপার আমার ভালো লেগেছে। প্রথমত, কবির জীবনের দুঃখের সময়টায় যারা তাকে কিঞ্চিৎ সাহায্যও করেছেন তাদের কথা তিনি বারবার লিখেছেন। কিন্তু যারা তাকে সাহায্য করেন নাই তাদের নাম তিনি এড়িয়ে গেছেন। ইট মেড হিম ইনডিড দ্যা গ্রেটার পার্সন। দ্বিতীয়ত, কবি হৃদয় থেকে অনুভব করে লিখেছেন। যাদের কথা বলেছেন প্রত্যেককেই তিনি অপরিসীম শ্রদ্ধা করেছেন। নিজের লেখার প্রতি, নিজের গ্রামশিকড়ের প্রতি আত্নবিশ্বাস তার ছিলো, অহংকার না। বিনয় ছিলো, কাউকে ছোট করার প্রবণতা না।

বইটা আমার পছন্দ হয়েছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু আমার সবসময়ই স্মৃতিচারণামূলক বই পড়তে গেলে মনে হয় যে, যদি দিনলিপি আকারে পড়তে পারতাম। মানে বোঝাচ্ছি, কোনো ঘটনা যখন ঘটছে তখন লিপিবদ্ধ করলে লেখার ধরন আর বিষয়বস্তু বদলে যায়। পরে যেয়ে লিখতে নিলে স্বাভাবিকভাবেই অনেককিছুই লেখকের খেয়ালে থাকে না। আমার ছোট ছোট ডিটেলস পড়তে এত ভালো লাগে, ফ্রেশ মেমরি থেকে লেখা হলে এই ডিটেলসগুলি আরো সূক্ষ্মভাবে ধরা পড়ে।
যাই হোক, বইটা কি সুন্দর!
Profile Image for Shadin Pranto.
1,477 reviews560 followers
October 13, 2019
জসীম উদদীনের স্মৃতিকথা এটি যার মূল আকর্ষণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কাজী নজরুল ইসলাম।

কলিকাতায় পড়াশোনা করছিলেন জসীম উদদীন। এমনসময় তার সাথে পরিচয় হয় ঠাকুরবাড়ির অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৌহিত্র মোহনলালের সঙ্গে। এই পরমসুহৃদ মোহনলাল ই তাকে নিয়ে যান রবীন্দ্রনাথেরর কাছে,পরিচয় করিয়ে দেন তাকে।

যে কবির কবিতা, গল্প আর উপন্যাস এতকাল পড়ে এসেছেন এবার তারঁ সান্নিধ্য পাচ্ছেন তা তরুণ জসীম উদদীনকে আন্দোলিত করে,অনুপ্রাণিত করে সাহিত্য চর্চায়। রবিঠাকুরের শান্তিনিকেতন আর ঠাকুরবাড়িতে যাতায়াত যেন অনেকটা নিয়মিত হয়ে যায় তরুণ কবি জসীম উদদীনের জন্য।ঠাকুরবাড়িতে ঘরভাড়া নিয়ে দীর্ঘকাল কাটান তিনি।

রবীন্দ্রনাথ জসীম উদদীনকে কাব্য রচনায় কীভাবে প্রভাবিত করেছেন তার সহজ-সরল অথচ অতিমুগ্ধকর বর্ণনা রয়েছে এই বইতে।

ঠাকুরবাড়ির আরেক জিনিয়াস অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথেও জসীম উদদীনের বেশভালো সস্পর্ক গড়ে ওঠে। কবি তার সংগ্রহীত পল্লীগীতি, পালাগান প্রায়শই অবনীন্দ্রনাথ, সমরেন্দ্রনাথ আর গগনেন্দ্রনাথকে শোনাতেন। আর তাঁরাও এই তরুনটিকে স্নেহের চোখে দেখতেন।"নকশিকাঁথার মাঠ" রচনায় অবনীন্দ্রনাথের প্রভাব জসীম উদদীন অবলীলায় কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন।অবনী ঠাকুরের সাহচর্য জসীম উদদীনের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সুসমৃদ্ধ করেছে।

জসীম উদদীন রাতারাতি কবি হিসেবে খ্যাতি পাননি। তাকেও অনেক সংগ্রাম করে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়েছে। স্কুল ছাত্র থাকাকালে বাড়ি থেকে পালিয়ে কলিকাতায় চলে এলেন জসীম উদদীন।উদ্দেশ্য ছিল কবি হবেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে হলেন হকার। অচেনা, অজানা কলিকাতায় পত্রিকা ফেরি করে দিন কেটেছে কবির।সেই কাব্যচর্চা, গদ্যচর্চার সংগ্রামকে জসীম উদদীন কখনোই ভুলতে পারেননি -যার প্রমাণ সেইসব দিনগুলোর কথা অনেকবার তিনি লিখেছেন বইতে।

১৯৩১-১৯৩৭ সাল দীর্ঘ ৬ বছর। এই সময়ে পুরোটা বেকার ছিলেন জসীম উদদীন। দিনরাত এখানে সেখানে চাকরির আবেদন করে যাচ্ছেন অথচ কাজ হচ্ছে না। কলিকাতার রিপন কলেজ বর্তমানে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে বাংলার শিক্ষক পদে আবেদন করলেন। কিন্তু কাজ হলো না লবিং নাই। উপায়ন্তর না দেখে গেলেন রবীন্দ্রনাথের কাছে। রবিঠাকুর মৃদু সুপারিশনামা লিখে দিলেও কাজ হলো না কেননা যাকে জসীম উদদীনের বদলে নেয়া হলো তার পক্ষে আগেই কবিগুরু সুপারিশ করেছিলেন। যাইহোক, রবীন্দ্রনাথের সুপারিশেই তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-গবেষকের পদটা পেলেন বলা চলে।


আমরা জানি,জসীম উদদীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। কিন্তু কীভাবে পেলেন সেই চাকরি?
তখন ঢাবির ভিসি স্যার এফ রহমান। তার কাছে গেলে তিনি সরাসরি জসীম উদদীনকে বললেন, জসীম উদদীন যদি স্বনামধন্য সাহিত্যিক অধ্যাপক বা রবীন্দ্রনাথের সুপারিশ আনতে পারেন তবে কাজ হতে পারে।
প্রথমেই, খুশি মনে তিনি গেলেন তার নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় কলিকাতায়।যে দুই নামী অধ্যাপক তাকে পছন্দ করতেন তারা তার হয়ে সুপারিশ করতে রাজি হলেন না কারণ,তাতে হিন্দু চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষেপে যেতে পারে বলে তাদের বিশ্বাস! এবার তিনি গেলেন রবীন্দ্রনাথের কাছে। রবিঠাকুর সাথে সাথে সুপারিশনামা লিখে দিলেন আর তাতেই ঢাবিতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে পারলেন জসীম উদদীন-রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুরবাড়ি কেন্দ্রীক এমনই নানা ঘটনাকে উপজীব্য করে একেবারে সাদামাটা ভাষায় অথচ অতিসুখপাঠ্য করে জসীম উদদীন লিখেছেন "ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়"

এবার বলি বইতে নজরুলের প্রসঙ্গে,

জসীম উদদীন যখন কলিকাতায় পত্রিকা ফেরি করতেন, তখন তার সাথে পরিচয় হয় স্বভাবে চিরশিশু নজরুলের সাথে। তার "কবিভাই" নজরুলকে অনেক কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল জসীম উদদীনের। আমৃত্যু তিনি স্বভাবে চিরশিশু নজরুলের সাহচর্যে থাকার চেষ্টা করেছেন।

এবার আসি লেখনী প্রসঙ্গে,

জসীম উদদীনের কী গদ্য, কী পদ্য সবেতেই এক সহজিয়া মনোমুগ্ধকর ছন্দে লেখা আবর্তিত হয়-তার ব্যতিক্রম "ঠাকুরবাড়ির আঙিনা"তেও হয়নি। বেশ সুখপাঠ্য।
Profile Image for লোচন.
207 reviews56 followers
January 2, 2022
জসীম উদ্দিনের আপন চোখে তিন মহীরূহের কাহিনি— বটবৃক্ষ রবিঠাকুর, তুলিতাত্ত্বিক অবনীন্দ্���, আর লু হাওয়ার নজরুল।

রবিঠাকুরের কাহিনি তেমন টানে নি আমায়। নতুন করে তেমন কোনো দিক পাইনি, যেভাবে ভেবেছি তাকে, তিনি তেমনই। নবীন কবি জসীম তাকে পূজা করেছেন, তার ভুলক্রটি স্বীকারও করেছেন, এবং দিনশেষে এই সহজ সরল আলাপের জন্য রবিবাবু রয়ে গেছেন ধ্রুব। মাথার ভেতর তার আঁকছবি পালটায় নি একটুও।

বরঞ্চ ভালো লেগেছে অবন ঠাকুরের একাকীত্বের গল্প। ইনার সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না, বইয়ের সুবাদে চিনলাম, তার বিষাদে ডোবালাম বুড়ো আঙুল; একটু আগ্রহ তৈরি হলো। আরেকটু পরিষ্কার প্রেক্ষাপটের আশায় উইকিমিডিয়ায় গিয়ে তার শিল্পকর্মে চোখ বুলালাম। আনন্দময় ছিল শিল্পীকে আবিষ্কারের এই যাত্রা। আত্মজীবনী পেলে পড়ব, ঠিক করে রেখেছি।

শেষে এলেন 'হাবিলদার কবি' — নুরু — নজরুল। তার সম্পর্কে জসীম লিখেছেন পর্বতসম দীর্ঘশ্বাস বুকে চেপে রেখে, আক্ষেপ ঢেকে। বোঝা যায়। শুরুতে নজরুলের চাঞ্চল্যমাখা সব কাহিনীর সাথে বড্ড বেখাপ্পা লাগে তার জীবন্মৃত সমাপ্তি।

ধুমকেতুর মূল শরীর যদি হয় তিরিশ কিলো, তাহলে তার ল্যাজ নাকি বড়ো হয় সূর্যের ব্যাসের সমান। আমাদের বাংলা সাহিত্যের ধুমকেতু —নজরুলের ক্ষেত্রেও কথাটা খাটে বোধহয়। যা দিয়েছেন, তার তৃপ্তি অপেক্ষা; যা দিতে পারতেন, সেই সম্ভাবনার অকাল মৃত্যুর আপসোস-টা অনেক অনেক বেশি। গ্রিক ট্রাজেডির নায়ক।

বইটা শেষ করার পর, পিছু ফিরে তাকিয়ে বলা যায় — যে দ্যাখে, আর যাকে দ্যাখে - দর্শনবস্তু আর দর্শকের সমান্তরাল এই সম্পর্কের পাল্লায় পড়ে ব্যক্তি জসীমকেও অনেকটা চেনা হলো এই বই পড়ে।

সার্থক পাঠ।
Profile Image for Nu Jahat Jabin.
149 reviews241 followers
November 3, 2016
গুডরিডসের ইমেজ আপলোডের সিস্টেমটা আমার কাছে খুবই বদখত লাগছে এবং পুরো জিনিসটাই আমার মাথায় উপর দিয়ে চলে গেছে।

ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় -যে বইটা আমি পেয়েছি সেটার প্রচ্ছদ টা খুবই মনে ধরেছে কিন্তু আপলোড করতে গিয়ে মাথায় পুরাই গিট্টু।


আমি এতদিন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চিনতাম না। মানে এইটুকুই জানতাম যে উনি রবীন্দ্রনাথ এর কেউ হয়। কি হন, কি করেছেন এই সবের কিছুই জানা ছিল না। কিছুদিন আগে একটা বই পাই লীলা মজুমদারের অবনীন্দ্রনাথ।

এইবইটায় মূলত রবীন্দ্রনাথ এবং অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে স্মৃতি চারণ সাথে জসীমউদ্দিনের নিজের লেখার গুলার পিছনের কথা। গ্রাম বাংলা থেকে লোকগান সংগ্রহের কথা।

ওনার এই স্মৃতিচারণ থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের জমিদারীর শেষটা খুব একটা সুখের হয় নি।

এই এডিশনের বইটার শেষে নজরুলকে নিয়েও সামান্য স্মৃতিচারণ আছে। আছে তার শুরুর দিকের সংগ্রামের খানিকটা চিত্র ।
Profile Image for Md. Rahat Khan.
50 reviews5 followers
May 16, 2025
বইটিতে তিনটি অধ্যায়। রবীন্দ্র তীর্থে, অবন ঠাকুরের দরবারে ও নজরুল। রবীন্দ্র তীর্থে ও নজরুল পর্বের সাথে দারুনভাবে কানেক্ট হতে পেরেছি। বিশেষ করে নজরুল পর্বটি দারুন লেগেছে। কবিগুরু ও বিদ্রোহী কবির সাথে কাটানো অম্লান স্মৃতি তুলে ধরেছেন। অনেক অজানা বিষয় বলেছেন।। কলেজে চাকরির জন্য রবীন্দ্রনাথ তাকে সুপারিশপত্র দিয়েছিলেন।'পল্লী বধূ' নাটকের প্লট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে দিয়েছেন। কবি হিসেবে খ্যাতি পাবার লক্ষ্যে কলকাতায় গিয়ে যখন হিমশিম খেয়েছেন নজরুলকে পাশে পেয়েছেন কল্পনাতীতভাবে। কবির সাথে নিজ বাড়িতে কাটানো মুহূর্তগুলোও তুলে ধরেছেন। নজরুলকে তিনি বলেছেন বয়স্ক-শিশু। কেন বলেছেন তার কারনও তুলে ধরেছেন।
Profile Image for Saleha .
17 reviews1 follower
February 24, 2025
পল্লীকবি'র গদ্য এই প্রথম পড়লাম।চমৎকার ঝরঝরে লেখা।কত অবলীলায় কত কঠিন কথা লিখেছেন!বিশেষত কিশোরবেলায় কবির কলকাতায় টিকে থাকার সংগ্রাম,তার স্বপ্নের সাহিত্যিক চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কাছে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আসার ঘটনা। এছাড়াও জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির শেষদিকের করুন পরিণতি, অবন ঠাকুরের মৃত্যু,দেশভাগের পর ব্রতীন্দ্রনাথ ঠাকুর তথা কবির গবাদা'র ঢাকা ভ্রমণের ঘটনা।তবে,ঘেটুবাবুর মা-কালী দর্শনের ঘটনা কিংবা ফরিদপুরে কবির বাড়িতে কাজী নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন তরকারির মসলা দিয়ে বানানো চা খাওয়ানোর মতো দুই একটা হাস্যরসাত্মক ঘটনাও আছে।এই বইয়ের শেষভাগে কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ও স্মৃতিচারণ করেছেন কবি।আত্মভোলা কবিকে তিনি বেশ কয়েক জায়গায় 'বয়স্ক শিশু' বলে সম্বোধন করেছেন।অল্প কয়েক পাতায় নজরুলের মতো মহান কবির সাহিত্য,রাজনীতি, সংসার ও নানা সংকট,অসুস্থতা নিয়ে বেশ তথ্য দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ছোট্ট এই বইটা বেশ উপভোগ্য মনে হয়েছে।
Profile Image for Monowarul ইসলাম).
Author 32 books177 followers
December 31, 2021
ভয়াবহ রকমের সুন্দর একটি বই পড়া হলো। দারুণ গদ্যশৈলী।
Profile Image for Ahmed Aziz.
384 reviews69 followers
September 18, 2025
স্মৃতিকথা হিসেবে দুর্দান্ত। রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, গগেন্দ্রনাথ, নজরুল জীবনের অনেক ব্যক্তিগত স্মৃতি জসীমউদ্দিন আলোচনা করেছে। তবে নজরুলের লেখা অনেক মমহামূল্যবান কবিতা, গান, চিঠি যেরকম অবহেলার সাথে জসীমউদ্দিন হারিয়েছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। আর একটু পর পর জসীমউদ্দিনের দু:খ আর অর্থকষ্টে ভরা লিজেন্ডারি কাঙাল ফ্যান্টাসি বড়ই বিরক্তিকর।
Profile Image for Fateha Farzana.
21 reviews9 followers
February 26, 2018
কর্নিয়াল এব্রাশনের জন্য পুরা এক সপ্তাহ চোখ বন্ধ করে থাকতে হলো বলতে গেলে,তারপর থেকে এখনো ঝাপসা ভাব দূর হচ্ছে ধীরে,এসবের মধ্যেও এই বইটা পড়ার দুঃসাহস করলাম! আমার মত রবীন্দ্র প্রেমী যারা আছে তারা "ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়" ঘুরবে নাতো আর কই যাবে!ভালো লেগেছে "ঠাকুরবাড়িরর আঙিয়ায়"
Profile Image for Kamol Uddin.
51 reviews2 followers
November 13, 2023
পাঠ্যপুস্তকে ব্যতীত জসীমউদদীনের কোনো লেখা পড়িনি। তাছাড়া তাকে কেবল ‘কবি’ হিসেবেই জানি। সেক্ষেত্রে কোনো কাব্যগ্রন্থ পড়ার মধ্য দিয়ে তার লেখার সাথে পরিচয় ঘটবে বলে আশা করে ছিলাম। কিন্তু তার যে সাহিত্যকর্মের সাথে আমার পরিচয় ঘটল তাতে আমি খুবই অভিভূত।

‘ঠাকুর বাড়ির আঙিনা’য় পড়তে গিয়ে এতটা অভিভূত হয়েছি নিজেই অবাক হয়েছি। দিনের লিমিটেড সময় সাহিত্যের বই পড়ি। কিন্তু এই বইটা পড়া রেখে দিলে আবার কখন পড়তে বসতে পারব অপেক্ষা করেছি।

এই বই থেকে প্রথমত জসীমউদদীনের লিখনশৈলীর সাথে পরিচয় ঘটেছে, তার অন্য বই পড়ার অদম্য ইচ্ছা তৈরি করে দিয়েছে। যেহেতু এটা জীবনী বা স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ, সেহেতু লেখকের সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে। লেখালেখি নিয়ে তার প্যাশন অনুপ্রেরণামূলক। তাছাড়া মানুষ ও লেখক হিসেবে তিনি বড় বড় মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছেন। ভালোবাসা কুড়িয়েছেন।

ঠাকুর বাড়ির স্মৃতিচারণ হওয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনঠাকুর, মোহনলালসহ অনেকের সাথে লেখকের সম্পর্কসহ তাদের মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে। অবনঠাকুরের প্রতি নিজেও মুগ্ধ হয়েছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও জসীমউদদীনের লেখার প্রশংসা করেছেন।

এই বইয়ের আরেক চমক হলো, ঠাকুর বাড়ির স্মৃতিচারণ শেষে কাজী নজরুল ইসলামের সাথে লেখকের সম্পর���ক, আমাদের জাতীয় কবির অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বইয়ে তুলে ধরেছেন।
কাজী নজরুল ইসলামের কোনো পূর্ণাঙ্গ কাব্যগ্রন্থ আমি পড়িনি এখনো। কিন্তু তিনি উপন্যাসিক হিসেবে আমার অনেক পছন্দের। কুহেলিকা ও মৃত্যুক্ষুধা পড়ে শুধু এটাই মাথায় এসেছিল- তিনটা উপন্যাস খুব কম হয়ে গেছে। বেশ কিছু উপন্যাস থাকা দরকার ছিল। এদিকে এই বইটা পড়ে তার ব্যক্তিত্ব, জীবনযাপন সম্পর্কে জেনে শ্রদ্ধা আরো বেড়ে গেছে।

এখানে জসীমউদদীনের কবি জীবনের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে। যে ঘটনাগুলো তাকে কাজী নজরুল ইসলাম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে লেখকের প্রাথমিক ধারণা সন্দেহমূলক হলেও পরবতীর্তে তা পাল্টে গিয়ে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় পরিণত হয়েছেন। জাতীয় কবির অনুপ্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে মুগ্ধ হয়েছেন।

কাজী নজরুল ইসলাম জসীমউদদীনকে ‘শিশুকবি’ বলে সম্বোধন করেছেন। আর জসীমউদদীন কাজী নজরুল ইসলামকে ‘বয়স্ক শিশু’ বলে উল্লেখ করেছেন। যেটা কাজী নজরুল ইসলামের কথা ও কাজের মধ্যে ফুটে উঠেছে এবং সেই সাথে লেখকের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।

হিজিবিজি অনেক কিছু লিখে ফেললাম। এই পর্যন্তই থাকুক। জসীমউদদীনের অন্য বই পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেই এই লেখাটা শেষ করলাম।

কমল উদ্দিন
১৩ নভেম্বর, ২০২৩
Profile Image for Sharika.
358 reviews95 followers
January 31, 2023
জসীমউদ্দিন এর কবিতা যতোটা ভালো লাগে গদ্য তেমনটা লাগলো না। তার সমস্ত কবিতাই আমাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করে, ভেবেছিলাম গদ্যের বেলাতেও তাই হবে। কিন্তু তার কবিতার চেয়ে গদ্য লেখার ধরণটা অনেক আলাদা মনে হলো, পড়ে মুগ্ধ হতে পারি নি সেভাবে। প্রায় একটানা পড়ে উঠেছি, কিন্তু ভালো লাগে নি।
Profile Image for Zanika Mahmud.
185 reviews9 followers
February 7, 2021
এই আঙিনায় কবি নজরুলকে কেন আনা!

যাই হোক, চমৎকার সুখপাঠ্য, কোথাও হেসেছি, কোথাও কেঁদেছি।
Profile Image for Khalid Hasan Siam.
57 reviews19 followers
Read
May 1, 2022
"কবিদের দেখা যায়, সন্ধ্যা সকাল আকাশের দিকে বিভোর হইয়া চাহিয়া থাকিতে। রবীন্দ্রনাথ শেষরাত্রে উঠিয়া স্নান করিয়া অনেকগুলি সন্দেশ খাইয়া লিখিতে বসেন। সুতরাং তিনি যাহা লেখেন, তাহা সেই সন্দেশ খাওয়ার প্রভাব। সত্য সত্য তাঁহার ভিতরে কোন কাব্য নাই।"

এরকম আজগুবি কিছু পয়েন্টের উল্লেখ পাওয়া যায় "ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়" বইটিতে। এটি পল্লীকবি জসীমউদ্দিনের স্মৃতিকথামূলক বই। কলকাতায় পড়াশোনা করার সময় জসীমউদ্দিনের পরিচয় হয় মোহনলালের সঙ্গে। মোহনলাল হলেন অবন ঠাকুরের দৌহিত্র। সেই সুবাদে জসীমউদ্দিনের পরিচয় হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে। রবীন্দ্রনাথের সাথে জসীমউদ্দিনের একটা চমৎকার সম্পর্ক গড়ে উঠে। রবীন্দ্রনাথ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কথাও উঠে এসেছে এই বইতে। রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনা ও মনোভাবের অনেকদিকই এই বইতে প্রতিফলিত হয়েছে। রবি ঠাকুরের অসাম্প্রদায়িক মনোভাবও জসীমউদ্দিন ও রবীন্দ্রনাথের কথোপকথনের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। রবীন্দ্রনাথ জসীমউদ্দিনের কবিতায় মুগ্ধ হয়ে চেয়েছিলেন তাকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে যেতে কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠেনি।

তাছাড়াও পল্লীকবির সাথে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনেক স্মৃতিচারণও এই বইতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঠাকুরবাড়িতে লেখক দীর্ঘকাল ভাড়া থেকেছেন। তখন মোহনলালসহ আরও অনেকে মিলে যে কত মজার কান্ড করেছেন তার লিখে শেষ করা যাবে না। একবার একজনকে ভূতের ভয় দেখালেন, মাঝেমধ্যে উদ্ভটসব বিষয় নিয়ে গবেষণাও করতেন, যেমন- রবীন্দ্রনাথ আসলেই কবি কিনা! তখন ঠাট্টাচ্ছলে কত যে মজার মজার পয়েন্ট বের করেছেন তার ইয়ত্তা নেই! এরই একটি পয়েন্ট এই পোস্টের শুরুতেই উল্লেখ করেছি।

সব মিলিয়ে ঠাকুর বাড়ির সাথে যেন জসীমউদ্দিনের একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল যা অনেকাংশেই এই বইতে ফুটে উঠেছে।
বইটি পড়তে গিয়ে অনেক জায়গায় হেসে গড়াগড়ি খেয়েছি, কখনো আবার অনেক জায়গায় মনটা কষ্টে ভরে গিয়েছে। পল্লীকবি জসীমউদ্দিনের কবিতাগুলো অসাধারণ, কিন্তু তাঁর লেখনশৈলীও মনোমুগ্ধকর সেটা এই বইটি পড়ে বুঝতে পেরেছি।

রিভিউ: ১৩ নভেম্বর, ২০২০। ফেসবুক গ্রুপ।
43 reviews
January 11, 2022
সুনীলের 'সময়' ট্রিলজি পড়াতে ঠাকুর পরিবার নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ আগে থেকেই ছিল।
নন-ফিকশন পড়ার অভ্যেস না থাকায় সে আগ্রহ চাপা রয়ে গেছিল। গ্রুপের সবার সাথে মিলে অনেকদিন পর একটা নন-ফিকশন পড়ে ফেললাম অবশেষে।

নন-ফিকশন হলেও বইটি পড়তে কষ্ট হয়নি কোনো। ওই যে আগ্রহ ছিল, তাই হয়তো! এছাড়াও কবি জসীমউদদীন-এর কোনো লেখাও পড়া হয়নি আগে। পাঠ্যবইতে যা পড়েছি তা বাদে আর কী!

কি অদ্ভূত! একটা বই পড়েই কতগুলো মানুষ সম্পর্কে ধারণা পালটে গেল। পল্লীকবি বলতে চোখে যা ভাসার প্রয়োজন, তাই ভেসেছিল এতদিন জসীমউদ্দিন স্যারের নাম শুনলে।
এ বইয়ের মাধ্যমে ওনার সম্পর্কেও কিছুটা ধারণা পাওয়া গেল।
যেহেতু বইটি ঠাকুর বাড়িতে উনার সম্পর্ক নিয়েই লেখা!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়ে কিছু জানাশোনা যা ছিল, সবই ফিকশন এর মোড়কে মোড়ানো। এবার কিছু সলিড পেলাম। পাশাপাশি অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম শুনলেও আগে কখনো ওনার সম্পর্কে তেমন জানা হয়নি। এবার তাঁর ব্যক্তি সত্ত্বা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেল। পড়তে গিয়ে ওনার সম্পর্কে গুগল করেছিলাম। তাই জ্ঞানের ভান্ডার কিছুটা বাড়াতে পেরেছি বোধহয়।
ও হ্যাঁ, বইয়ের তিন ভাগের একভাগ কিন্তু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে নিয়ে লেখা। এ ব্যাপারটা অনেকটা টুইস্টের মতো কাজ করেছে। কারণ বইয়ের নাম দেখে আশা করিনি এক বইতেই বাঙালী-যে-দুজন-সাহিত্যিকের-নাম-ছোটবেলায়-সবচে-বেশি-শোনে তাদের সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাব।

পারসোনাল একটা ব্যাপার শেয়ার করি!
কাজী নজরুলের পার্টটা আসার আগ পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, কোনো কারণে হয়তো কবি জসীমউদ্দিন তার মনের মধ্যে একটা গিল্ট ফিল করতেন। জানিনা কেন মনে হলো এ ব্যাপারটা। এ বইটা লেখার পেছনে ওনার গিল্টের কোনো হাত আছে কিনা কে জানে!

শেষমেশ,
এনাদের সম্পর্কে আগ্রহ থাকলে বই অবশ্যই সুখপাঠ্য।

(রেটিং দেয়া থেকে আমি সবসময় দূরে থাকতাম, কারণ ব্যাপারটায় আমার খুব ভয় লাগে। গুডরিডস থেকে সবসময় দূরে থাকার এটাও একটা কারণ ছিল 😒 তাই ভেবে রেখেছি খুব বেশি খারাপ না লাগলে সব বইতেই রেটিং ফোর দিয়ে যাব। সো রেটিং এর দিকে তাকানো যাবেনা সেকেন্ডবার 🙄)
Profile Image for Israt Jahan.
9 reviews5 followers
August 14, 2021
এইভাবে সারাদিন এখানে ওখানে ঘুরিয়া শান্তি নিকেতনের ছেলেদের সঙ্গে হৈ-হুল্লোড় করিয়া সন্ধ্যার আগে প্রভাতদার বাসায় আসিলাম।বার তের বছরের ছোট একটি মেয়ে প্রভাতদার বাড়িতে আসিয়া আমার সঙ্গে দেখা করিল। তার কবিতার খাতাটি আমাকে দেখাইল।ছন্দের হাতটি তখনো পাকা হয় নাই। আমি তাহাকে খুব উৎসাহ দিলাম। সুধাদি বলিলেন, 'মেয়েটি ভাল গান করে, ওর গান শুনবে?'
মেয়েটি অনেক কষ্টে লজ্জা কাটাইয়া অতুলপ্রসাদের রচিত একটি গান গাহিল। ওগো, সাথী, মম সাথী, আমি সেই পথে যাব তব
সাথে।'
সে কি গান, না দূর-দূরান্তর হইতে ভাসিয়া-আসা কোন নাম-না-জানা পাখীর কণ্ঠস্বর! গান শেষ করিয়া মেয়েটি সুন্দর হাত দুইটি তুলিয়া আমাকে নমস্কার করিয়া চলিয়া গেল।
পাতলা একহারা চেহারা, গায়ের বর্ণ উজ্জ্বল শ্যাম। নতুন ধানের পাতার সমস্ত বর্ণঘুষমা কে যেন তাহার সমস্ত গায়ে মাধাইয়া দিয়াছে মনে হইল, এমন গান কোনদিন শুনি নাই এমন রূপও বুঝি আর
কোথাও দেখি নাই। আজও তার গানের রেশ আমার কানে লাগিয়া আছে। আমার 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' পুস্তকে নায়িকার রূপ বর্ণনা করিতে আমি এই মেয়েটিকে মনে মনে কল্পনা করিয়াছিলাম। পুস্তকের দুইটি অংশ প্রত্যেক অংশের আগে অতুলপ্রসাদের এই গানটি আমি উদ্ধৃত করিয়া দিয়াছিলাম। মেয়েটি আজ কোথায় আছে জানি না। হয়ত কো��� সুন্দর স্বামীর ঘরণী হইয়া ছেলেমেয়ে লইয়া সুখে আছে। সে কোনদিনই জানিতে পারিবে না যে তার সেই ক্ষণিকের দর্শন আর সুমধুর গান আমাকে সুদীর্ঘ সোজন বাদিয়ার ঘাটের’ কাহিনী লিখিতে সাহায্য করিয়াছিল। আমার এই পুস্তক সে হয়ত অপর দশজনের মতই বাজার হইতে কিনিয়া পড়িয়াছে, অথবা পড়ে নাই। নিজে তাহাকে এই বই উপহার দিয়া তাহার মতামত জানিবার সুযোগ কোনদিনই হইবে না। লেখক জীবনে এমনি বেদনার ঘটনা প্রায়ই ঘটিয়া থাকে।

~° ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়।

https://youtu.be/YmEF_6mu1Vs
গানের লিংক দিয়ে দিলাম।
Profile Image for Sadia Afrin.
3 reviews
May 11, 2020
ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়
- জসীম উদ্দীন
-
এই বইটির দুইভাগের প্রথামাংশ যেটার নামকরণ করা হয়েছে “রবীন্দ্র তীর্থে” নামে । সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে দেখা করা থেকে শুরু করে তার সংস্পর্শে থাকা এবং তাঁকে ঘিরে নানারকম স্মৃতিকথা আলোচনা করেছেন লেখক । রবিঠাকুর যখন লেখককে শান্তিনিকেতনে থাকার জন্য বলেছিলেন তখন রবিবাবুর অনেক বয়স এবং লেখক তখন স্নাতকাত্তর করছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে । বন্ধুবরের সাথে পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নিলেন যে কতদিনইবা রবিঠাকুরকে পাবেন । তাই তিনি শান্তিনিকেতন যান নাই । কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এরপরেও রবিবাবু ১২ বছর বেঁচে ছিলেন ।
এমন সব মজাদার স্মৃতি । রবিবাবুকে চাকুরির জন্য সুপারিশ লিখে দিতে বলা, কবিতা শোনানো ,ঠাকুরবাড়ী ঘুরে দেখা, হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক , এই সম্পর্ক নিয়ে রবিঠাকুরে ধারনা সর্বোপরি তৎকালীন অবস্থা বোঝা যাবে এই অংশে । কৌতুহলী করে তোলে পাঠক মনকে সারাটাক্ষণ ।
বইটির দ্বিতীয় অংশটি হলো অবনঠাকুরের দরবারে । অবনঠাকুরের কাছে যাওয়া থেকে শুরু করে ঠাকুরবাড়ির আরো অনেকের স্মৃতি জড়িয়ে আছে লেখকের এই লেখায় । ঠাকুরবাড়ির পূর্বপর অবস্থার বর্ননা, সেখানে থাকা নানানজন বন্ধুদের স্মৃতি তুলে ধরেছেন । বন্ধু মোহমলালের মাধ্যমে লেখক, কবি জসীম উদ্দীন ঠাকুর বাড়িতে প্রবেশ । বইটির পরতে পরতে লেখায় তাই মোহন লালের কথা বর্ননা করা হয়েছে ।

বইটির দুই অংশের শেষাংশেই আছে আফসোসের কথা । বলা হয়েছে -
“কবির মৃত্যু নাই - এই কথাও সত্য , কিন্তু কবির সংস্পর্শে আসার সুযোগ যাহাদের হইয়াছে, তাহাদের মনের শূন্যতা কেহ কোনদিন পূরণ করিতে পারিবে না ।”
অসাধারণ লেগেছে বইটি ।
Profile Image for Nasrin Shila.
266 reviews88 followers
Read
April 18, 2024
বইটার নাম জানতে পারি বিদ্রোহী - রণক্লান্ত বই থেকে। ভেবে পাচ্ছিলাম না যে, 'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়' নামক বইতে নজরুল ইসলাম সম্পর্কে এত কথা লেখা কেন। পড়েও বুঝলাম না যে, ঠাকুরবাড়ি সম্পর্কিত লেখা শেষ হওয়ার পর 'নজরুল' নামে একটি পৃথক অধ্যায় কেন সংযোজন করা হল। কবি জসীম উদদীন যে পরিমাণ সময় ব্যয় করেছিলেন কবি নজরুলের সাথে তা নিয়ে আরেকটি বই লেখা যেত।

কবি জসীম উদদীন যে ঠাকুর বাড়িতে এক বছর ছিলেন তাদের ঘরের মানুষের মত সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। তাঁকে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনেও যেতে বলেছিলেন, তিনি যান নি বলে আফসোস করেছেন পরে কিন্তু আমার মনে হয় না গিয়ে আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। সেখানে গেলে হয়ত তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ লেখা হত না।

ঠাকুরবাড়ির মূলত একজনের কথাই আমরা সবাই জানি। কিন্তু সে বাড়ির অন্যান্য প্রতিভাবানদের কথা, সেই সাথে জমিদারি হারিয়ে তাদের পরিণতির কথা সেভাবে শোনা যায় না।

কবি জসীম উদদীন এর নিজের জীবনও উত্থান - পতনে ভরা। স্কুল ছেড়ে কলকাতায় এসে পত্রিকা বিক্রি করেছেন আবার কিছুদিন পরে সে পত্রিকাতেই তার কবিতা ছাপা হয়েছে।

সে যুগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার জন্য সুপারিশ পত্রের প্রভাব জেনে অবাক হয়েছি! এখনকার নিয়োগের দোষ দিয়ে তবে লাভ কি?
Profile Image for FaRzana YeSmin.
7 reviews5 followers
December 28, 2022
বুকের মধ্যে একটা শূন্যতার সৃষ্টি করে দিয়ে জসীমউদ্দিন তার স্মৃতির খাতাটি সমাপ্ত করেছেন। পিডিএফ পড়লাম। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির শেষেই নজরুলের কথাও বইটিতে আছে।

বইটির নামকরণ এর চেয়ে বেশি যথার্থ হতে পারতোনা। আমি যেন এক ঘোরের মধ্যে আছি। জসীমউদ্দিনের বর্ণনায় হারিয়ে গিয়েছিলাম সাহিত্যপ্রেমীদের ভিড়ে। হাসি, কান্না, দুঃখ সবকিছুর চড়াই-উতরাই ছিলো এই বইটি।

অবনঠাকুর ও ঠাকুর পরিবারের করুন পরিণতি যেন এক চাপা আর্তনাদ তৈরি করেছে আমার মাঝে।

এটুকু সামলিয়ে উঠতে না উঠতেই নজরুলের অংশে এলাম৷লেখক তাকে চঞ্চল, বয়স্ক-শিশু নামে আখ্যায়িত করেছেন। আবার, মুসলমান সমাজে সাহিত্যচর্চার প্রতি বিমুখীভাব সেইসময়ের বাংলাদেশে নজরুল নানান অবহেলার শিকার হয়েছিলেন। নজরুলের দুঃখের সামান্য বর্ণনাই আমার মনে ক্ষত এঁকে গেছে৷ তাদের পরিণতিটা যদি আরেকটু সুখকর হতো!

জসীমউদ্দীনের কোন বই এই প্রথম পড়া হলো। আমি মুগ্ধ। আরো পড়বো ইনশাআল্লাহ। তার লেখা মায়া জড়ানো। কতটা কষ্ট তিনিও করেছেন! ভেবে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে।

ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়
জসীমউদ্দিন
Profile Image for Gain Manik.
346 reviews4 followers
March 23, 2025
কেউ যখন 'জীবনকথা' পড়ে তখন তার একটি ইচ্ছা জাগে যে এই লেখকের বাকি জীবনী পড়ে নেই। ওই হিসেবেই এই ব‌ইটির সান্নিধ্যে আসা। রবীন্দ্রনাথ এবং অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথাই এসেছে এবং এসেছে ঠাকুর পরিবারের আরো গুরুত্বপূর্ণ সব চরিত্র। (আমার প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী শান্তিদেব ঘোষের কথাও এসেছে -আমি ঘোষের সুরে প্রতিদিন 'নহ মাতা নহ কন্যা' গুনগুন করি)। দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা এসেছে, যার নিরলস পরিশ্রমেই রবি ঠাকুরের গানের এত প্রচার এবং সংরক্ষণ হয়েছে,গ্ৰন্থকার‌ই বলেছে গাছের শাখা প্রশাখা দেখা যায় কিন্তু মূল থাকে গভীরে, বাইরে থেকে বোঝা যায় না। রবি এবং অবন ঠাকুর ছিলেন ঠাকুর পরিবারের শ্রেষ্ঠ দুটি ফল; আর বাকি পুরো ঠাকুর পরিবারের ভূমিকা ভূগর্ভস্থ মূলের ন্যায় ছিল।
যাইহোক, এ গ্রন্থ পাঠের সুখস্মৃতি আমার স্মৃতিতে চির অমলিন হয়ে থাকবে।
তাছাড়া আমি যে ভার্সনটি পড়েছি সেখানে কবি নজরুলের সাথে গ্ৰন্থকারের স্মৃতিও উল্লেখযোগ্য। যদিও গ্ৰন্থের নামের সাথে এরূপ নজরুল বন্দনা কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক। তারপরও এই অংশটি আমার খুবই ভালো লেগেছে।
Profile Image for Sarina.
425 reviews121 followers
September 17, 2020
বইটা যতবার পড়বার জন্য খুলেছি, ততবার নিজেকে অন্য এক ভুবনে আবিষ্কার করেছি। জসীম উদদীনের লেখা, তার চিন্তাধারা, তার শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস, তার মানসপটে ঠাকুরবাড়ির সেই মানুষগুলোর এত মায়াবী রূপ - কবি জসীম উদদীন কে ঠিক চিনে উঠতে না পারলেও স্মৃতিকথা লেখক জসীম উদদীন-এ আমি বিমুগ্ধ। উনার 'যাঁদের দেখেছি'র পর এই বইটা পড়ে আরও কত প্রশ্ন, কত কৌতূহল, কত অব্যক্ত অনুভূতি-ই না এসে মনে ভিড় করেছে!

আর... সেই শিক্ষকের প্রতি আমার আজীবনের ঋণ থাকবে যার জসীম উদদীন-প্রীতি আমাকে জসীম উদদীন-এর লেখনীর প্রতি প্রথম আগ্রহ যুগিয়েছিল।
Profile Image for Lima.
51 reviews14 followers
September 19, 2023
কবি জসিমউদদীনের লেখা স্মৃতিকথা। ঠাকুর বাড়ির সাথে যোগাযোগ, তাদের প্রতিভা তাদের চালচলন।লিখেছেন রবী ঠাকুরের কথা,তার যোগ্য উত্তরসূরী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা। যিনি ছবি আঁকতেন।তাছাড়া ঠাকুর বাড়ির আরো যারা ছিলেন সেসময় তাদের আলোচনা করেছেন।লিখেছেন তার কিশোরবেলার কিছু কথা। কবি হওয়ার জন্য কী করেছেন,তখন কে তাকে সাহায্য সহোযোগিতা করেছিলো ,শেষে লিখেছেন কবি নজরুলের কথা।

খুব বেশি ভালো লাগলে সেই লেখা গুলো বেশ কিছুদিন জমিয়ে পড়তে ভালো লাগে, তেমনি একটি বই এটি।একটু একটু করে পড়েছি।
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books279 followers
January 8, 2022
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের স্মৃতিচারণামূলক মূলক বই 'ঠাকুরবাড়ির আঙ্গিনায়'। শুরুর দিকে খানিকটা স্লো লাগলেও আস্তে আস্তে কলকাতা শহরে জসীম উদ্দিনের টুকরো স্মৃতিগুলোতে গেঁথে গেছি আমি। বিশেষ করে নজরুল ইসলামের সাথে কবির স্মৃতিগুলো পড়তে বেশ ভালো লেগেছে, না জানা অনেক কিছু জানা হয়েছে।
Profile Image for Nusrut .
20 reviews
January 22, 2021
"প্রদীপ নিভিয়া গিয়াছে,মহানাটকের চরিত্রগুলি আজ একে একে বিদায় লইতেছেন।"

জসীম উদ্দীনের সাথে রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ,মোহনলাল,কার্তিকদা,নজরুলের সম্পর্ক এমনকি ঠাকুরবাড়িতে কাটানো বিভিন্ন সময়ের ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে বইটিতে বর্নিত হয়েছে তা যেকোনো পাঠককেই মুগ্ধ করবে।
Profile Image for Ahmed Atif Abrar.
720 reviews12 followers
March 15, 2019
জসীমউদদীনের ভাষাটা একটু অন্যরকম। তিনি কবি হিসেবে যতটা সার্থক ছিলেন, লেখক হিসেবে ততটা ছিলেন না বোধহয়।
যাই হোক, তিনি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও শরৎচন্দ্র সম্বন্ধে যে মূল্যবান তথ্যাদি পাঠকের কাছে উপস্থাপন করেছেন, সেজন্য তিনি ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।
হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ জসীমউদদীনের কলকাতায় অবস্থান। ঠাকুরবাড়ির ঋষিতুল্য শিল্পরসিকদের অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।
কষ্ট লেগেছে, একান্ত আপন অনুজপ্রতিম মেয়েশিশু বড় হয়ে বিয়ে করলে সে যুগের অবধারিত কানুনে কী করে জসীমউদদীনের থেকে দূরে চলে গেল।
নজরুলের খামখেয়ালিপনা বা মহানুভবতা উপভোগ করেছি। কী পরিমাণ খেয়ালিই না ছিলেন মানুষটা! এরই মধ্যে কত কী সৃজেছেন!
শরৎচন্দ্র পূর্ব বাংলা বা বাঙালি মুসলমান সম্পর্কে বেশ সচেতনভাবেই উদাসীন থেকে গেছেন বলে আমার ধারণা। জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে আশপাশের মানুষের জীবনকথা বলায় কতটা আগ্রহী ছিলেন তা নিয়ে আমার কৌতূহল আছে!
Displaying 1 - 29 of 29 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.