Jump to ratings and reviews
Rate this book

ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না

Rate this book
বাল্যকাল মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। প্রতিটি মানুষের জীবনেই তার হারিয়ে যাওয়া শৈশব-কৈশোর অমোঘ, অমোচনীয় পদচ্ছাপ ফেলে যায়, রেখে যায় একরাশ মধুর, স্মৃতিমেদুর অনুভুতি। ফুলের গন্ধে ঘুম আসে নায় হুমায়ুন আজাদ রোমন্থন করেছেন তাঁর ছেলেবেলা। অপূর্ব উপমাখচিত ও অভাবিত চিত্রকল্পশোভিত ভাষায় তিনি লিখে গেছেন তাঁর বাল্যকালের কথা। তাঁর গ্রাম রাড়িখালের বর্ণনা স্মৃতিকাতর করে একালের পাঠকেও। আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতি, গাছ, পাখি, ফুল, মাঠ, ধানখেত, ঘাস, লতাগুল্ম, পুকুর-বিল-নদী, মাছ, নৌকা, স্টিমার, শিশিরের শব্দ, খেজুর রস, জ্যোৎস্না, গ্রামীণ মেলা, যাত্রা, সার্কাস চিত্রকল্পের মতো হাজির হয় চোখের সামনে। ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না পড়ে পাঠক ফিরে যান নিজ নিজ রাড়িখালে। নিপুণ চিত্রকরের তুলিতে যেন আঁকা হয়েছে একেকটি অধ্যায়।

56 pages, Hardcover

First published November 1, 1985

19 people are currently reading
551 people want to read

About the author

Humayun Azad

85 books296 followers
Humayun Azad (Bangla: হুমায়ূন আজাদ) was a Bangladeshi author and scholar. He earned BA degree in Bengali language and literature from University of Dhaka. He obtained his PhD in linguistics from the University of Edinburgh in 1976. He later served as a faculty member of the department of Bengali language and literature at the University of Dhaka. His early career produced works on Bengali linguistics, notably syntax. He was regarded as a leading linguist of the Bangla language.

Towards the end of 1980s, he started to write newspaper column focusing on contemporary socio-political issues. Through his writings of 1990s, he established himself as a freethinker and appeared to be an agnostic. In his works, he openly criticized religious extremism, as well as Islam. In 1992 Professor Azad published the first comprehensive feminist book in Bangla titled Naari (Woman), largely akin to The Second Sex by Simone de Beauvoir in contents and ideas.

The literary career of Humayun Azad started with poetry. However, his poems did not show any notable poetic fervour. On the other hand his literary essays, particularly those based on original research, carried significant value.

He earned a formidable reputation as a newspaper columnist towards the end of 1980s. His articles were merciless attacks on social and political injustice, hypocrisy and corruption. He was uncowed in protesting military rule. He started to write novels in 1990s. His novel Chappanno Hazar Borgomile is a powerful novel written against military dictatorship. Azad's writings indicate his distaste for corrupt politicians, abusive military rulers and fundamentalist Islam. Nevertheless, his prose shows a well-knit and compact style of his own. His formation of a sentence, choice of words and syntax are very characteristic of him. Although he often fell victim to the temptation of using fiction as a vehicle of conspicuous political and philosophical message, he distinguished himself with his unique style and diction.

On August 11, 2004, Professor Azad was found dead in his apartment in Munich, Germany, where he had arrived a week earlier to conduct research on the nineteenth century German romantic poet Heinrich Heine. He was buried in Rarhikhal, his village home in Bangladesh.

In 2012, the Government of Bangladesh honored him with Ekushey Padak posthumously. Besides this, he was honored with Bangla Academy Award in 1986.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
276 (70%)
4 stars
82 (20%)
3 stars
20 (5%)
2 stars
6 (1%)
1 star
7 (1%)
Displaying 1 - 30 of 85 reviews
Profile Image for Rifat.
501 reviews327 followers
July 19, 2021
কী সুন্দর বই! কেমন নস্টালজিক করে দেয়। এই নিয়ে বোধহয় ৬ষ্ঠ বারের চেষ্টায় শেষ করলাম। প্রথম দুই পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়ে এর আগে পাঁচ বার রেখে দিয়েছি, খালি মনে হতো ফুরিয়ে যাবে।

বারবার ছোটবেলার কথা মনে পড়ছিল। বিশেষত এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ানো, মাছ ধরা! ছোটবেলায় পুকুরে নেমে ঘণ্টার পর ঘন্টা কত দাপাদাপি করেছি তার ইয়ত্তা নেই। একদিন হলো কি, প্রায় ঘণ্টা দুই হয়ে গেছে বিচ্ছু বাহিনী মিলে নেমেছি জল ঘোলা করতে; কে একজন এসে খবর দিল- ভাগো.... ছোট কাকা ইজ কামিং উইথ আ বিগ লাঠি! আমার কি বাপু; আমার নিজের কাকা; নিজেদের পুকুর; ভয় তোমাদের, তোমরা উঠো গে। হলো কি! আমার নিজের কাকা নিজের লাঠি দিয়ে নিজের ভাতিজিকেই দিলেন বাড়ি। তারপর কান্নাকাটি, মার খেয়ে ঘুষ পেলাম বাজারের এক পিস কেক। আর এখন সেই আমিই পুকুরে নামলে পায়ের সাথে মাছের দেখা হলেই সাপের ভয়ে আত্নারাম খাঁচা ছাড়ার জোগাড় হয়, তাই প্লাস্টিকের জুতো পড়ে পুকুরে নামতে গিয়ে সবার হাসির পাত্রী হয়ে যাই🐸

কী চমৎকার লেখা! এক নিমেষেই যেন গ্রামে চলে গেলাম। লাইনগুলো যেন টিনের চালের নিচে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে-বসে কান চেপে ধরে বৃষ্টির শব্দ শোনার মতো; অতিরিক্ত সুন্দর কোনো জিনিস দেখে আনন্দের সময়ে হুট করে আসা কান্নার মতো।
শেষটায় কেমন মন খারাপ করা হাহাকার!
"আমি খালি শপ্ন দেহি, খালি তোমারে দেহি রারিকাল।
বউন্নাফুলে শাদা অয় ফাগুন আর চৈত মাস? ইজলের রাঙ্গা ফুল ভাইসসা যায় ম্যাগের পানিতে? আমি কত ডাক পারি। তুমি ক্যান হুমইর দ্যাও না?"

নস্টালজিক হওয়ার মতো চমৎকার একটি নাম নিয়ে বইটা অনেকটা ভালবাসার মানুষের প্রস্থানে তার রেখে যাওয়া জামাকাপড় থেকে তুমি তুমি গন্ধ নেয়ার মতো, একান্তই নিজের!

এই বইয়ের নামটা স্পেশাল-ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না! আমাকে বারবার আমার ১ম হোস্টেল (মেস) জীবনের কথা মনে করিয়ে দেয় যেখানে সবকিছুর উর্ধ্বে গিয়ে আমি পেয়েছিলাম অপার মমতার সন্ধান। হোস্টেলের ভাঙাচোরা গেইটের পাশে একটা মানানসই অর্ধমৃত হাসনাহেনা গাছ প্রতি রাতেই তীব্র গন্ধ ছড়াতো। প্রায়ই মাথা ধরে যেত। জ্যোৎস্না রাতে কেমন অপার্থিব লাগতো; ফুলের গন্ধে আমার ঘুম আসতো না...

~১৭ জুলাই, ২০২১
Profile Image for Daina Chakma.
440 reviews773 followers
October 8, 2017
কখনও কখনও এমন হয়- শেষ করবার পরেও অনেকক্ষণ বইটা বুকের মধ্যে চেপে ধরে চুপচাপ বসে থাকতে ইচ্ছে করে। বুকভরে বইয়ের মিষ্টি ঘ্রাণে শ্বাস নিতে ইচ্ছে করে। এই মুহূর্তে আমার ঠিক এই ইচ্ছেটাই হচ্ছে!

আহা.. কি চমৎকার মায়া মাখানো একটা বই! পাতায় পাতায় ঠিক যেন আমারই ফেলে আসা শৈশবকাল! লেখকের রাড়িখাল গ্রামখানি আমার ছোটবেলার গাঁ বাদলছড়ির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ঝাড়বাতির মতো পুকুরজুড়ে ফুঁটে থাকা কচুরিপানা আমার গ্রামেও তো ছিল! ছিল শাপলা শালুক আর জোনাক জ্বলা সন্ধ্যে। আর টিনের চালে ঝুম বৃষ্টির মাতাল নৃত্য।

"তুমি জানো না, কোনোদিন জানবে না, কেমন লাগে একটি নড়োবড়ো বাঁশের পুলের ওপর দাঁড়িয়ে কালো জলের দিকে তাকিয়ে থাকতে। তুমি শিশির দেখো নি, কুয়াশা দেখো নি, কচুরি ফুল দেখো নি। তুমি ধানের শীষ দেখেছো টেলিভিশনে, চিল দেখেছো ছবির বইতে। নালি বেয়ে ফোঁটাফোঁটা খেজুরের রস ঝরতে দেখো নি, পুকুরে দেখো নি মাছের লাফের দৃশ্য। তুমি জানো না কেমন লাগে উথাল-পাতাল ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে, আর কেমন লাগে একটি পাখির পেছনে ছুটে ছুটে সকালকে দুপুরের দিকে গড়িয়ে দিতে। আমি জানি; - না আমি জানতাম।"

লেখক কি চমৎকার ভাষাশৈলীতে গাঁয়ের শৈশব এঁকেছেন! আর প্রতি পাতায় আঁকা মনছোঁয়া ইলাশট্রেশান! অথচ এই বই পড়েও শহুরে পরিবেশে বড় হওয়া মানুষগুলো কখনও পুরোপুরি অনুভব করতে পারবেনা গ্রাম্য শৈশব কতটা মায়াময়!

অনেকদিন পর আজ আমি বই পড়ে হুহু করে কেঁদেছি। আবুল কালাম আজাদের জন্য। ছোট পিঁড়িখানি আর কখনও পাতা হবেনা! ছোট থালায় আর ভাত বাড়া হবেনা। জল ভরা হবেনা ছোট্ট গেলাসেতে। আহা.. বুকের মধ্যে জমাট বাঁধা এতো বেদনা নিয়ে আমি কিভাবে ঘুমোব আজ??
Profile Image for Protyasha.
Author 1 book52 followers
April 20, 2019
বেলাভর নানান গবেষণা পত্র, প্রাকৃতিক সম্পদের তত্ত্ব-তালাশ পড়ে-করে মন অত্যন্ত ক্লান্ত হয়েছিল। মিষ্টি খাবারে যেমন আসক্তি থাকে, কফিতে যেমন আসক্তি থাকে, তেমন একটা আসক্তি বোধ করছিলাম হালকা কিছু একটা পড়ার জন্য। মাথা না, মন শীতল করার জন্য। এটা-সেটা নেড়ে শেষে মনে পড়ল 'ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না' বইটা অর্ধেক পড়ে রেখে দিয়েছিলাম। ছোট বেলায় যেমন ডিমের তরকারি খাওয়ার সময় কুসুম জিইয়ে রাখতাম ব্যাপারটা অনেকটা ওরকম ছিল। মনে পড়তেই কুসুমটা ফের হাতে নিলাম।

মনে হলো হৃৎপিণ্ডটা মাঝখান দিয়ে দুই টুকরা হয়ে গেলো। বইটার প্রথমার্ধ কী আরাম পড়তে। কী রঙিন সব শব্দ! কী সুন্দর সুর ভাবের! কী দারুণ গন্ধ কথার! কিন্তু শেষার্ধ কী করুণ। শৈশব স্মৃতি বিজড়িত মামার বাড়ির গ্রামটা তার করুণ পরিণতি নিয়ে হাজার তম বারের মতো পুরো চোখ-মন-মাথা সব অধিকার করে ফেললো। আজাদ শেষের দুই পাতা লিখেছেন তার রারিকালের আঞ্চলিক ভাষায়। হায়! হায়! হায়! আমার শৈশবের ভাষায় আমিও কত ব্যক্তিগত পাতা ভরাট করেছি! বুঝতে পারি কেন এই প্রবণতা তৈরি হয়। কোন ভাষায় হাহাকার ঠিক রূপ পায় বুঝতে পারি।

তরুণ রাতের হাসনাহেনার গন্ধ শুদ্ধ ভাষায় পাওয়া যেতেও পারে। নতুন ভোরের শিউলির রঙ প্রমিত বাংলায় দেখানো যেতেও পারে। কিন্তু শৈশবের নদী যখন রুগ্ন হয়ে, কেমিক্যাল-বর্জ্য ঠেসে মরতে বসে তখন ঠিক ভদ্রজনের ভাষায় কান্না করতে ইচ্ছা করে না।

"আমি আছিলাম পোনর বচ্ছর ছয় মাস তোমার ভিৎরে। থাকুম পোনর শ বচ্ছর। আমার যে মন পোড়ে। ... আমি খালি শপ্ন দেহি, খালি তোমারে দেহি রারিকাল।"
Profile Image for মাশুদুল Haque.
Author 19 books1,008 followers
March 15, 2016
ছেলেবেলার স্মৃতিকথা কত জনাই তো লিখেছে, কিন্তু এমন হৃদয়হরণ করতে পেরেছে কয়টা বই। হুমায়ুন আজাদ তার মেয়েকে পিতা হিসেবে শুনিয়েছে তার রাঢ়িখালের বেড়ে ওঠার গল্প, আজাদের ভাষায় ‌' শোনো মৌলি, তোমাকে বলি, তোমার মত আমিও ছিলাম ছোট, ছিলাম গ্রামে, গাঁয়ে, যেখানে মেঘ নামে সবুজ হয়ে নীল হয়ে...তুমি দেখোনি আকাশে কি করে মেঘ জমে, আহ্লাদে কতটা রঙিন হতে পারে ডালিম ফুল...তুমি জানো না, কোনোদিন জানবে না, কেমন লাগে একটি নড়োবড়ো বাঁশের পুলের ওপর দাঁড়িয়ে কালো জলের দিকে তাকিয়ে থাকতে।...'

আমার পড়া শ্রেষ্ঠ শৈশব স্মৃতিচারণ
Profile Image for Arupratan.
235 reviews385 followers
August 30, 2023
বাংলা গদ্যের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ উদাহরণগুলোর মধ্যে একটা।
এই বই বারবার পড়া যায়।
ফিরে ফিরে পড়া যায়।
অনেকবার পড়লেও এই গদ্যের অমোঘ মায়া অনুক্ষণ অনুসরণ করতে থাকে আমার কংক্রিটে ঢাকা পাঠকসত্তাকে।
দুর্দান্ত!!
Profile Image for Neela.
83 reviews59 followers
January 11, 2024
আমার মন খারাপ হলেই আমি দোর-জানালা বন্ধ করে মোবাইলে এই বইটির অডিওবুক ছেড়ে চুপচাপ বসে থাকি! এতদিন পর্যন্ত মণীন্দ্র গুপ্তের 'অক্ষয় মা��বেরী' ছিলো আমার মন খারাপের অবসান, এখন থেকে এই তালিকায় 'ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না'ও জায়গা করে নিলো। এত অসাধারণ, এত মায়া জড়ানো একটা বই!!
আমি খুব গর্ব বোধ করি, নব্বই এর দশকের মোটামুটি আধুনিক পৃথিবীতে জন্ম নিয়েও হুমায়ুন আজাদের মত এত দারুণ একটা শৈশব, কৈশোর আমি পেয়েছি। বইটি পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে যেন আমি আমার কৈশোরবেলাকেই চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। আমি খুব প্রাউড ফীল করি যে, মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও গ্রামীন স্টিরিওটাইপের বাইরে গিয়ে আমার পিতা মাতা আমাকে আমার কৈশোর পূর্ণ উপভোগ করার স্বাধীনতা দিয়েছে!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিল অঞ্চলে জন্ম বলে খালে বিলে ঘুরে মাছ ধরা, খেজুর গাছের নিচে দাঁড়িয়ে হা করে খেজুরের রস খাওয়া, নিজে নিজে নৌকা বেয়ে স্কুলে যাওয়া, দুয়াইর (আমাদের গ্রামে অবশ্য একে আন্তা বলে) পেতে ইচা মাছ ধরা, বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে কাজ করা লোকেদের সংগে মিলে ধানের চারা উঠানো, গরু দিয়ে ধান মাড়াই এই সব আমার করার ও দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে।

ঝাড়বাতির মত ফুটে থাকা কচুরিপানার ফুল দেখে, পানির উপর বিছিয়ে থাকা হিজল ফুলের আস্তর দেখে কিংবা তালপাতার ঠেলাগাড়িতে চড়ে কি যে আনন্দ পেয়েছি, এই বইটি পড়ে সেই পুরনো স্মৃতিগুলোয় আবারো ফিরে গেলাম।

এই বইটি আজীবন আমার অন্যতম প্রিয় বই হয়ে থাকবে! ধন্যবাদ হুমায়ুন আজাদকে স্মৃতির রোলার কোস্টারে আবারো ঘুরিয়ে আনার জন্য!
Profile Image for Zunaed.
54 reviews119 followers
September 6, 2016
কিছু কিছু বই মানুষকে নস্টালজিক করে দেয়। নিয়ে যায় হারানো অতীতে, মাঝে মাঝেই যে অতীত স্বপ্নে ধরা দেয় বর্তমান হয়ে। এমনই মন খারাপ আর নস্টালজিক করা বই এটা।

জীবন আর সময়ের দাবী মেটাতে গিয়ে আজ আমি ঢাকাবাসী। কিন্তু এই শহর নিয়ে আমার সুখ বা দুঃখের কোনো স্মৃতি নেই। আছে হারাবার অভিজ্ঞতা- আমার প্রিয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরকে ফেলে আসার অভিজ্ঞতা- যেখানে আমি কাটিয়েছি আমার পুরো স্কুলজীবন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর। আগে ছিল মহকুমা। এখনও ছোটো। এখনও সবুজ। এখনও মাঠ আর পুকুরে ভরা।

তখন আমি ক্লাস থ্রি কি ফোরে পড়ি। ঘুরতে ঘুরতে একবার পেরিয়ে গেলাম শহর। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কোনো এক জায়গায় মাটি ফেলে উঁচু করা হয়েছিল। ঠিক ছোটো টিলার মত। তাতে আবার ছোটো একটা ঝাড়েরও জন্ম হয়েছিল।

তখনও আমি পাহাড় দেখিনি। তাই সেটাই ছিল আমার পাহাড়। স্কুলে ম্যাপে দেখেছিলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া পেরিয়ে সিলেট যাওয়া যায়। এইতো এতটুকু দূরে- এক কি দুই ইঞ্চি! সেখানে অনেক অনেক পাহাড়। বড়, ছোটো। পাহাড়ে অনেক গাছ। তবে কী আমরা হাঁটতে হাঁটতে সিলেট চলে এসেছি!

সেদিনই দেখলাম তিতাস গ্যাসফিল্ডের শিখা। এগিয়ে যাচ্ছিলাম শিখার দিকে। যেতে যেতে আটকে গেলাম। সামনে পড়ল নদী। তিতাস নদী। শৈশবের নদী।

এই নদীর বুকে নৌকো চেপে গ্রামে গেছি। এই নদীতে উপর দিয়েই একদিন গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছিলাম। এই নদীতে বালুবোঝাই বড় নৌকা দেখে অবাক হই, মাঝে মাঝে পালতোলা নৌকা দেখে মুগ্ধ হই। ধীরে ধীরে ভালোবেসে ফেলি নদীকে। তাই বর্ষার জোয়ার যেমন আমার বুকে ডুবে যাওয়ার ভয় জাগায়, তেমনি চৈত্রের শুকনো নদী ভয় জাগায়, নদীটাই ডুবে যাবে না তো?

কালভৈরব নামে এক মন্দির আছে। তাতে আছে এক বিশাল দেবমূর্তি। শিশু আমি সেই মূর্তি দেখে খানিকক্ষণ শব্দহীন হয়ে ছিলাম। এত বড় মূর্তিও মানুষ বানাতে পারে!

বাড়ির বড় ছেলে আমি। তাই বয়সের অধিকারেছোটোদের চেয়ে বেশি জানতাম, সব ব্যাপারে জ্ঞান দিতাম ছোটোদের। তাদের সব প্রশ্নের উত্তর যে আমাকেই দিতে হবে, তাই সবসময় প্রস্তুত থাকো। জানলে জানাও, নইলে উত্তর বানাও। উত্তর বানাতে বানাতে নিজের ফ্যান্টাসির একটা জগৎই বানিয়ে ফেলেছিলাম।

প্রাইমারি স্কুলে থাকতে আব্বুর উপর রাগ হত। "বাসায় ডিশ লাইন আনে না কেন?" এখন মনে মনে আব্বুকে ধন্যবাদ দিই, স্যাটেলাইটের কাছে আমার শৈশবকে শেষ না করে দেয়ায়।

আজ আমি নেই প্রিয় শহরে। শহরটাও নেই আমার স্বপ্নের মত। নদীর পাড় ঘেষে হাঁটার পাকা রাস্তা হয়েছে, নদী আজ তাই নর্দমার মত হার মেনেছে। ঢেউ আর তার কূল ছাপিয়ে যায় না, শুকিয়েও সে ছোটো হয় না। সেই টিলাটা আজ আরো উঁচু হয়েছে। মাটি দিয়ে নয়, কংক্রিটে। এখন সেখানে সবুজ নেই, আছে রঙিন বহুতল ভবন। দিনে দিনে প্রিয় শহরও হচ্ছে অন্ধকার বস্তি।

বইটা পড়তে পড়তে নষ্টালজিক হয়েছি, মন খারাপ করেছি সেই সুদিনের স্মৃতির কথা ভেবে। আবার আশা দেখেছি। হুমায়ুন আজাদের সাথে সাথে নিজেও মনে মনে বলেছিঃ

বেশি আর দেরি হইব না। আমি বাইরতে আহুম। শুক্কুর নাইলে শনিবার আহুমই বাইরতে।

তোমার দুদমাকা ভাত ঢাইক্কা রাইক্ক। দেইক্ক কাউয়ায় জ্যান না খায়। দুদমাকা ভাত খাইতে আহুম। শবরি কলা দিয়া মাইক্ক, কতদিন আমি দুদমাকা ভাত খাই না।

রারিকাল। রারিকাল। আমি কত ডাক পারি। তুমি ক্যান হুমইর দ্যাও না?
Profile Image for Nabila Tabassum Chowdhury.
375 reviews275 followers
October 11, 2014
সবুজ - বর্ণিল - মায়াময় - পিছুটানে বাঁধা পড়া একটা বই। প্রস্তর জাতীয় মানুষ হওয়াতে বই পড়ে চোখ মুছে ফেলার সৌভাগ্য আমার খুব-খুব-খুব কম হয়। এই বইটা এমন সৌভাগ্য বয়ে আনা একটা বই ছিল।

জোনাকি পোকা আছে এমন গ্রাম দেখার ইচ্ছা আমাকে বেশ কিছুদিন ধরে শক্ত করে পেয়ে বসেছে। আর এই বইটা পড়ে তেষ্টায় আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে এখন। কিন্তু আমার যে সময়, সুযোগ কিছুই নেই। রাড়িখাল যেমন হুমানকে ডাকে, আমাকে কেউ ডাকে না, ডাকার কথা না! কিন্তু আমি কার ডাক শুনি...??
Profile Image for Rumana Nasrin.
159 reviews7 followers
April 16, 2019
"মনপুরা" সিনেমা দেখছি হলে বসে, আমার পাশে দুই শহুরে বন্ধু থেকে থেকে উচ্ছ্বসিত হয়ে যাচ্ছিলো। ওরা নির্বিকার আমাকে দেখে একবাক্যে বলে দিলো, তুই নিতান্তই আবেগহীন একটা মানুষ। আমি হেসেছিলাম বোকার মতো। পরে বললাম, আমি বাড়ির পিছনে পদ্মার পাড়ে দাঁড়ালে এর চেয়েও সুন্দর একটা চর দেখি, মনপুরার চর দেখে আবেগ আমার আসবে না। তখন অবিশ্বাসের দৃষ্টি দিলেও ওদের একজন সেই চর থেকে ঘুরে এসে আমার কথা মেনে নিয়েছে। আমার বাড়ির কথা, গ্রামের কথা, রাস্তার ধারের বুনো ফুলের কথা, বৃষ্টির জমে থাকা জলের কথা, পুকুরের মাছের কথা, আমার নিজের হাতে লাগানো ফুল গাছের কথা মনে করিয়ে দিলো আবার হুমায়ুন আজাদের স্মৃতিকথারা।

এই যন্ত্রের জঙ্গলে বাস আমার অনেক বছরের, কিন্তু জীবনের আঠারোটা শ্রেষ্ঠ বছর আমার কেটেছে পদ্মার পাড়ের এক প্রত্যন্ত গ্রামে যেখানে বিজলিবাতি এসেছে ২০০৬ সালে। আমার শিউলি ফুলের গাছ আর বেলীফুলের ঝাড় আমার পিতার বিল্ডিংয়ের নিচে চাপা পড়ে গেলেও এখনো তাদের সুবাস আমাকে তাড়া করে ফেরে। বাড়ি গেলে অন্ধকার রাতের আকাশে জ্বলতে থাকা কোটি তারারা আমাকে মনে করায় আমি নিজেকে আসলে ওখানেই রেখে আসি। অনেক কিছু মনে আসছে কিন্তু লিখতে ইচ্ছা করছে না।

রিডার্স ব্লক চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কাটাচ্ছি একটু একটু করে। প্রত্যাশা আর আমার পছন্দের বইয়ের ধরন অনেকটাই একরকম। ও জানে এই বই ভালো না লাগার কিছু নাই, সেজন্যই রেকমেন্ড করেছে। ওর জন্য ভালোবাসা।
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
363 reviews34 followers
January 28, 2023
এখনের মত যান্ত্রিক জীবন তখন ছিল না, ছিল না অতি আধুনিকতার ছোঁয়া সেই সব গ্রাম বাংলায়। জীবন ছিল সহজ সরল তবে বেঁচে থাকার লড়াই এর থেকে টিকে থাকার লড়াইটা ছিল বেশী। তবে শৈশব কৈশোর ছিলো অসম্ভব আনন্দে ভরপুর।
যেখানে গোলাপ ফুলের থেকে কচুরিপানার ফুল বেশী সুন্দর। স্মৃতিতে থাকা টিনের চালের শব্দ কাজ করে ঘুমের ঔষধ এর মত।

প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ এর " ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না" বইটা শৈশব এর স্মৃতি হাতড়ে ফেরা এক মধুর সময়কে মলাট বন্দী করে রাখা। যা এখনের ছেলে মেয়েরা শৈশবে এটা পায় না। তবে এই বইটাতে সেই সময়ের সাধারণ জীবন যাত্রা এক অমূল্য অনুভূতির ছোঁয়া দিয়ে চলেছে।
ছোট বই তবে এতে অতুলনীয় এক স্বাদের ছোঁয়া রয়েছে।
Profile Image for Titu Acharjee.
258 reviews33 followers
May 3, 2022
মাটির,ফুলের,হাওয়ার,মায়ের,গাঁয়ের এবং শৈশবের গন্ধমাখা অপার্থিব সুন্দর এক বই।
Profile Image for Naziur Rahman.
Author 1 book68 followers
October 5, 2014
আরেকটা কামড়ে ধরা বই পেলাম! শৈশব কামড়ে ধরা বই! আমার শৈশব আমার আজকের সময়ের প্রায় সকল বন্ধুদের শৈশবের তুলনায় বেশ খানিকটা সমৃদ্ধ। আমি না গ্রাম-না মফস্বল ধরনের একটা জায়গায় বড় হওয়া বাচ্চা... কাচাবাড়ি, পাকাবাড়ি, পুকুর,খেত-খামার, বড় ইসকুল,ইসকুল মাঠ,মাঠ জুড়ে দৌড়ে বেড়ানো, রাতের খোলামাঠে জোছনা, ডাংগুলি-মার্বেল-সাতচারা-কাবাডি, ছোট বড় টিলা, ভাড়ায় পাওয়া সাইকেল, সিগারেটের কাগজ কুড়ানো, ঈদে দোকানে অনেক অনেক খেলনা, দু টাকা চারটাকা সেলামির জন্য দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানো,বোশেখে ছোট খাট মেলা, ক্রিকেট-ফুটবল-গুলতি, বাশের কঞ্চি (কাইম) দিয়ে তলোয়ার বানিয়ে ঢোল কলমির জাত উদ্ধার... আরো আরো কত কি!!!
তবুও এই বই পড়ে হাহাকার ধরে যায়... নিজের শৈশবের প্রাপ্তিটুকুর হাহাকার, না পাওয়াটুকুর হাহাকার, দূরে অনেক দূরে পালিয়ে যাবার হাহাকার... কত শত হাহাকার!
অরণ্যকের মত এই আরেকটা বইয়ের প্রকৃতির বর্ননা যেন পেয়ে বসে একেবারে... মাছরাঙা চোখের সামনে ভেসে ওঠা, ফুলের গন্ধ পাওয়া, খেজুর রসের মৌ মৌ গন্ধ! আরো কত কি!! হাহ্‌......


শেষ অধ্যায়টা পাঠককে একেবারে খুন করে ফেলে...... লেখকও বোধয় বার বার ভিতরে দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছিলেন এ অধ্যায় লিখতে গিয়ে! এমন একটা বই... এমন একটা জীবন... এমন একটা স্মৃতি... কখনো শেষ হয়ে যাবে ব্যাপারটা মেনে নেয়া যায় না... কখনো না।
Profile Image for Ratika Khandoker.
303 reviews33 followers
August 4, 2024
বইখানা আসলে ৫ তারকা দিয়ে মূল্যায়ন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।এতদিন খুঁজেফিরে এমন কোনো যুতসই শব্দগুচ্ছ ও পেলাম না যে এই বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া জানাই।
কিভাবে অক্ষর দিয়ে শব্দ সাজিয়ে লিখি লেখকের গ্রাম রাড়িখাল কেমন করে আমার অন্তরে মিশে গেলো?
কেমন করে মেয়েকে লেখা লেখকের চিঠিগুলো পাখির ডানা হয়ে আমাকে উড়িয়ে নিয়ে ফেললো আড়িয়াল বিলের পাশে?
কেউ কি বিশ্বাস করবে,রাড়িখালের পৌষের কুয়াশায়,খেজুর রস গন্ধের বাতাসে বুকভরে শ্বাস নিতে যেয়ে বুকটা আমার হু হু করে উঠলো?কিভাবেই বা বুঝাই কি মোহনীয় স্মৃতিকাতরতায়,মমতা-বিষাদে,প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধে পূর্ণ ছোট্ট এই বই,কি বিশাল এক ঘূর্নিপাক তৈরি করে মনের মধ্যে,আর কিভাবে তা একসময় দু'চোখ বেয়ে কপোল ভিজায়?

শুধু এবছরের-ই নয়,এ জীবনের পড়া শ্রেষ্ঠ বইয়ের তালিকায় থাকবে বইটি।এ এক অন্য হুমায়ুন আজাদ,এঁকে আপনাদের জানতেই হবে।

বইখানা যখন শুরু করেছিলাম,তখন নিত্য সময় আকাশের বুকে হেলিকপ্টারের টহল,কান পাতলেই গোলাগুলি র আওয়াজ।ঠিক এমন একটা সময়ে,রাড়িখালের জল-হাওয়া যে ক্ষণিকের প্রশান্তি এনে দিলো,তা ভুলার নয়।

একদিন,কোনো একদিন,
আড়িয়াল বিলের ধারে অপেক্ষমান মাছরাংগার মতোই শান্ত-স্থির হবে দেশটা,তখন না হয় শান্ত মনে আরেকবার ঘুরে আসবো লেখকের ছেলেবেলা।
Profile Image for Akhi Asma.
232 reviews464 followers
February 17, 2017
বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই;
মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

"আমার প্রথম শোকের কবিতার নাম 'কাজলা-দিদি'।তখনও আমার শোকের অভিজ্ঞতা হয়নি। কিন্তু কবিতাটি পড়ার পরে শোকে ছেয়ে গেলো সবকিছু। এতো সুন্দর ছবি, আর তার ভেতরে এমন শোক আর কোথায় পাওয়া যাবে বাংলা ভাষায়?"

বাংলা ভাষায় এতো সুন্দর করে শৈশব স্মৃতিচারণ আমার মনে হয়না আর কেউ করেছে, যা পাঠককেই তার শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেয়!লেখকের মতো, আমিও ছোটবেলায় অনেক কবিতা-পাগল ছিলাম।'কাজলা-দিদি', ছিন্নমুকুল আমারও অনেক প্রিয় কবিতা।

কিন্তু শেষটা এমন হয় কেন!!! এতো সুন্দরের ভেতর এতো কান্না।

"আমি খালি শপ্ন দেহি, খালি তোমারে দেহি রারিকাল।
বইন্নাফুলে শাদা অয় ফাগুন আর চৈত মাস? ইজলের রাঙ্গা ফুল ভাইসসা যায় ম্যাগের পানিতে?
রারিকাল।আমি কত ডাক পারি। তুমি ক্যান হুমইর দ্যাও না?"

বইটা পড়ার সময় আমার অবস্থা - "আমি তখন ভিজে গেছি চোখের জলে। যে জলের দাগ এখনো লেগে আছে।"
Profile Image for Monisha Mohtarema.
86 reviews2 followers
May 23, 2024
'মৌলি, তোমাকে বলি, তোমার মতোই আমি এক সময় ছিলাম-ছোট, ছিলাম গাঁয়ে, যেখানে মেঘ নামে সবুজ হয়ে নীল হয়ে লম্বা হয়ে বাঁকা হয়ে শাপলা ফোটে; আর রাতে চাঁদ ওঠে শাদা বেলুনের মতো। ওড়ে খেজুর গাছের ডালের অনেক ওপরে। যেখানে এপাশে পুকুর ওপাশে ঘরবাড়ি। একটু দূরে মাঠে ধান সবুজ ঘাস কুমড়োর হলদে ফুল। একটা খাল পুকুর থেকে বের হয়ে পুঁটিমাছের লাফ আর খলশের ঝাঁক নিয়ে চলে গেছে বিলের দিকে। তার উপর একটি কাঠের সাঁকো। নিচে সাঁকোর টলোমলো ছায়া। তার নাম গ্রাম।'



'তুমি জানো না, কোনোদিন জানবে না,কেমন লাগে একটি নড়োবড়ো বাঁশের পুলের ওপর দাঁড়িয়ে কালো জলের দিকে তাকিয়ে থাকতে। তুমি শিশির দেখো নি, কুয়াশা দেখো নি, কচুরি ফুল দেখো নি। তুমি ধানের শীষ দেখেছো টেলিভিশনে, চিল দেখেছো ছবির বইতে। নালি বেয়ে ফোঁটাফোঁটা খেজুরের রস ঝরতে দেখো নি, পুকুরে দেখো নি মাছের লাফের দৃশ্য। তুমি জানো না কেমন লাগে উথাল-পাতাল ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে, আর কেমন লাগে একটি পাখির পেছনে ছুটে ছুটে সকালকে দুপুরের দিকে গড়িয়ে দিতে। আমি জানি; - না আমি জানতাম।

এখন তো আমি জড়িয়ে আছি শহরে; আমার পায়ের নিচে শক্ত কংক্রিট,চোখে নিঅন আলো, চারদিকে গোঁ গোঁ করা ট্রাকের উল্লাস। কতো দিন আমি, তোমার মতোই চাঁদ দেখিনি। শহরে কি চাঁদ ওঠে? কুয়াশা নামতে দেখি নি দুধের সরের মতো, পদ্মার পারে দেখি নি ধবধবে কাশফুলের সাদা মেঘ। কতো দিন দেখি নি ধানের গুচ্ছ, তারার গুচ্ছের মতো। কিন্তু যখন আমি হাঁটি, বিকেলে বেড়াই, বই পড়ি, ঘুমোতে যাই, গড়াই স্বপ্নের কথা ভেবে ভেবে, তখন আমি একটি ফুলের গন্ধ পাই। সে-ফুল আমার গ্রাম, সে-ফুল আমার গাঁ।আমার ছোটোবেলার গ্রাম। রাড়িখাল।'

কি অপূর্ব !ছবি মতো গ্রাম,সুখস্মৃতি আর মুগ্ধতা..
আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবতী মনে করি এই গ্রামের ছবি আমি দেখেছি।একটা সুন্দর গ্রামের কথা আসলে আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে আমার দাদুবাড়ির কথা!যে গ্র��ম আসলেই ছবির মতোই সুন্দর।কাঁকড়া নদী,নদীর পাড়ে বিশাল শিমুল গাছ,মনে হয় আকাশে লাল ফুলের সামিয়ানা আর নিচে তারই গালিচা,ধানক্ষেত,পুকুরপাড়,তেঁতুল গাছ,আকাঁবাঁকা পথ আরো কত কি!।ঠিক কোন উপমায় বর্ণনা করলে ঠিকঠাক সেই অপার্থিব সৌন্দর্য প্রকাশ পেত আমার জানা নেই।এই সুখস্মৃতি আজীবন লালন করে এসেছি,ভবিষ্যতেও করবো।❤️
7 reviews
April 27, 2023
বইটা শেষ করতে ইচ্ছা করতোনা, মনে হতো ইশ পড়ে ফেললেই তো শেষ হয়ে যাবে এত সুন্দর বইটি আর হারিয়ে যাবে চোখের সামনে গড়ে ওঠা আমার ছোটবেলার রূপকথার গ্রামীন রাজ্য । আজ পড়া শেষ হয়েই এলো ; আর মনটা হুহু করে উঠলো ছোটবেলার স্মৃতিবিজড়িত কলকাকলিতে মুখর আমার গ্রাম মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও এর জন্য। যেখানে আর কোনোদিন আমগাছের তলে নানাভাই এর পাতানো দোলনায় দুলবেনা আমাদের ভাই বোনের দেহ। ক্ষেতের আইল ধরে আর হাঁটা হবেনা সেই গ্রামে । এখন গ্রাম এ ক্ষেত নেই , নেই ছেলেবেলায় দেখা খাল বিল ; সব বালিতে ভরাট হয়ে গড়ে উঠেছে মানুষের বসতভিটা, দালানকোঠা। গ্রাম এখন মৃত , আর পুরনো মানুষেরাও । বইটা পড়ার সময় বারবার মনে হচ্ছিল ; বুড়ো সেতারার মা ফোকলা দাঁতে হেসে ছন মাথায় বাড়ি পার হওয়ার সময় আর কোনোদিন বলবেনা নানুর বাসায় যাইও আচার খাইতে দিবনে , নানাভাই এর বাল্য বন্ধু পচা নানা আর কোনোদিন তার মেছো ভুতের কাহিনী শোনাবে না, আমার নানাভাই আর কখনো বলবেনা চিত্তার দোকানের দই , রসমালাই আনছি তগোর লাইগা খাইয়া দেখ কি মিষ্টি ! ঢাকায় তো এমন মিষ্টি পাবিনা ,
আর কখনো নানুর হাত ধরে বৈশাখি মেলায় যাওয়া হবেনা , ধলেশ্বরীর জলে আর সাঁতার শিখতে নিয়ে যাবেনা আমার মরহুম নানাভাই।
তাই লেখকের মতো আমার ও বারবার মন কেঁদে উঠেছে ছোটবেলায় দেখা সেই গ্রামের জন্য । গ্রাম এর সকল মানুষ যারা আর কোনোদিন আমাদের মাঝে ফিরবেনা তাদের জন্য রইলো আমার অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

পরিশেষে বলতে চাই এত সাধারনের মাঝে অসাধারন একটা বই সবার জীবনে একবার হলেও পড়া উচিত বলে আমার মনে হয়েছে ।
Profile Image for Ummea Salma.
126 reviews122 followers
June 7, 2023
"তুমি জানো না, কোনদিন জানবে না, কেমন লাগে একটি নড়োবড়ো বাঁশের পুলের উপর দাঁড়িয়ে কালো জলের দিকে তাকিয়ে থাকতে। তুমি শিশির দেখো নি, কুয়াশা দেখো নি, কচুরি ফুল দেখো নি। তুমি ধানের শীষ দেখেছো টেলিভিশনে, চিল দেখেছো ছবির বইতে। নালি বেয়ে ফোঁটাফোঁটা খেজুরের রস ঝরতে দেখো নি, পুকুরে দেখো নি মাছের লাফের দৃশ্য। তুমি জানো না কেমন লাগে উথাল-পাতাল ঢেউ এর দিকে তাকিয়ে থাকতে, আর কেমন লাগে একটি পাখির পেছনে ছুটে ছুটে সকালকে দুপুরের দিকে গড়িয়ে দিতে। আমি জানি; - না আমি জানতাম"

এই বইটা একদম অক্ষয় মালবেরি আর আরণ্যক এর মত৷ ঠিক সে রকম বই যা শেষ করার পর ও মায়া মাখা একটা অনুভূতি আজীবন নিজের সাথে রয়ে যায়।
Profile Image for Md. Rahat  Khan.
96 reviews25 followers
February 17, 2021
এক চিত্রকরের রঙ ছলকে উপচে পড়া স্মৃতি,
কালো কালিতে আঁকা ঝরঝরে কান্না
রাড়িখাল, রাড়িখালের ছবি,
হুমায়ুন আজাদ, ধন্যবাদ!
চিত্রকর লেখক কিংবা কবি!
Profile Image for Adham Alif.
335 reviews81 followers
September 24, 2023
“আসলে আমি এই নাগরিক যন্ত্রজীবনের অর্থহীন প্রতিযোগিতা এবং অর্থহীন কোলাহলের কেউ নই; 
একদিন গ্রাম থেকে এই যক্ষপুরীর গহ্বরে এসে ঢুকে পড়েছিলাম। তারপর আর বেরোতেই পারলাম না। প্রতিমুহূর্তেই ভেতরে ভেতরে তাই চাপ চাপ একটা অন্ধকার যন্ত্রণা অনুভব করি। কোথায় গেলো আমার সেই ইছামতী নদী? বাদুড়িয়া শ্মশান কিংবা ভাঙা ভাঙা জীর্ণ ধ্বংসস্তূপ" 


হুমায়ূন আজাদের এই স্মৃতিচারণা পড়তে গিয়ে জহর সেনের এই রচনার কথা মনে পড়ে গেল। আমরা যারা গ্রামের অতীত নিয়ে শহুরে জীবন কাটাই তাদের সবাই বোধহয় এরকম স্মৃতিকাতরতায় ভুগি।
Profile Image for Akash.
446 reviews148 followers
November 30, 2022
স্মৃতিকাতরতা যে কত্ত বিশাল আনন্দ দিতে পারে তা এই বই না পড়লে জীবনেও উপলদ্ধি করতে পারতাম না। পড়া শুরু করছিলাম আনন্দাশ্রু দিয়ে কিন্তু শেষ করলাম বেদনাশ্রু দিয়ে। ভিতরের মন-প্রাণ, রক্ত, হাড়, কোষ একটু হাসে আর একটু কাঁদে।

পরিবার সমেত গ্রাম ছাড়ছিলাম ২০১৫ সালে; তখন কি গ্রাম ভাবছিল যে এই গ্রাম ত্যাগ করা পরিবার আর আসবে না তার কোলে; ভাবে নাই গ্রাম, কান্দে নাই গ্রাম, গ্রামের কাক-চিল-শকুন-চড়ুঁই, বড়ই-আম-নারকেল-সুপারি-তেতুল গাছ, জোনাক পোকা; আর আসা হবে না; শহরই হবে গ্রাম ছেড়ে আসা পরিবারটির চিরস্থায়ী বাসস্থান হবে। আর এহন গ্রাম কান্দে। আমরা আর কান্দি না। স্বার্থপর পরিবার, স্বার্থপর মানুষ।

টিনের চাল নেই বলে এখন আর ঘুম আসে না। ঘুমানোর জন্য আসছি গ্রাম; শুধু একটু বৃষ্টি দিও। পিছলা খেয়ে আবার পড়তে চাই উঠোনের কাঁদায়। আবার সন্ধায় জোনাকি পোকা ভরতে চাই বোতলে। আবার নদীতে কলাগাছের ভেলা দিয়ে চড়তে চাই। নদীতে কি পানি আছে??? নদী কি আছে???

Profile Image for Prithvi Shams.
111 reviews106 followers
April 17, 2014
হুমায়ুন আজাদের "ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না" - মাত্র ৫৬ পৃষ্ঠার বই, কিন্তু প্রতিদিন আমি ২ কি ৩ পাতা করে পড়ি; কারণ এর চেয়ে বেশি পড়লে বইটা শেষ হয়ে যাবে, আমি চাই না বইটা শেষ হোক। এরকম আকুল, মর্মভেদী স্মৃতিচারণ আর পড়িনি, বস্তুত, এটাই আমার পাঠ করা প্রথম স্মৃতিচারণ; কিন্তু আমি উপলদ্ধি করি যে এই রোমন্থন এতটাই ব্যক্তিগত, এতটাই আন্তরিক যে আর দশটা বইয়ের মত একে ভাল-খারাপ, ৫ তারা-১০তারা দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব না। প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য যেন হৃদয় নিঙড়ে নিষ্ক্রান্ত। পড়ার সময় মনের পর্দায় যাদুবাস্তবতার ছায়া উকিঝুঁকি দিচ্ছিল, তবে স্মৃতির বর্ণিল আয়নায় অতীতের যাদুময়তা আর বাস্তবতা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়; এখানে যাহা যাদু, তাহাই বাস্তব।

বইটা শিশুসাহিত্য হিসেবেই লেখা হয়েছিল, কিন্তু কোন একটা পর্যায়ে বইটা আর শিশুতোষ থাকেনি। অস্তিত্বের সন্তাপে সংবিগ্ন মানুষ যারা হারানো সময়ের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে চায়, লেখকের আনমনে বইটি তাদের প্রতিই উৎসৃষ্ট হয়েছে।
Profile Image for হাঁটুপানির জলদস্যু.
299 reviews228 followers
July 11, 2017
এই বইটি নিজের শৈশবের রাঢ়িখাল নিয়ে হুমায়ুন আজাদের স্মৃতিচারণ। বইটি শিশুপাঠ্য মনে করে লেখা হলেও এটি শিশুদের জন্যে সহজপাচ্য না-ও হতে পারে, একটি পর্যায়ে গিয়ে এটি হয়ে গেছে নিজের ভেতরে অশ্মীভূত শিশুকে উদ্দেশ করে লেখা মনোলোগ। তারপরও মনে করি এই চমৎকার বইটি পরিচিত সকল স্কুলপড়ুয়াকে পড়তে দেওয়া উচিত, সম্ভব হলে স্কুলে র‍্যাপিড রিডার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
Profile Image for মোহতাসিম সিফাত.
180 reviews50 followers
May 22, 2024
আদরমাখা বইটা উপহার দিয়েছিলেন নওশিন আপু। উনাকে লিখেছিলাম, যেদিন আমি ছুটি পাবো, বাড়িতে যাবো, কোনো কাজ থাকবে না, সেদিন বইটা পড়বো আমি। আজ ভোরে ঝুম বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো যখন, এটা খুলে পড়া শুরু করলাম।
এই বইটা হুমায়ূন আজাদ লিখেছিলেন তার মেয়েকে, ছোট্ট মানুষটিকে চেনাতে চেয়েছিলেন তাঁর শৈশবের গ্রামকে। গ্রামে বেড়ে ওঠা যে কারো মনের ভেতর খুব সুন্দর করে দাগ কেটে যাবে বইটা। এত্ত নিখুঁত বর্ণনা প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয়ের আমার ছোটবেলার গ্রামের সাথে অনেকটা মিল খুঁজে পেয়েছি। এই বইটা একটা স্মৃতির রোলার কোস্টার রাইডে নিয়ে যাচ্ছিল। হাসলাম, আনন্দ পেলাম, মন খারাপ হল। আমার অসম্ভব প্রিয় বইগুলোর একটি হয়ে গেল এই বইটা।

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই বইটা পড়ে কিছু মাথায় না ঢুকলে আপনে একটা ফার্মের ব্রয়লার মুরগি।
Profile Image for Masud Sojib.
35 reviews43 followers
February 7, 2015
স্মৃতির প্রতি আমার পক্ষপাতিত্ত্ব আছে, বেদনা আছে, বিষন্নতা আছে, আছে গোপন ভালোলাগা আর অকৃত্রিম ভালোবাসা। তাই বলে যাপিত জীবনের সঞ্চিত সকল স্মৃতি অম্লান থাকেনি মনের ঘরে, কত স্মৃতি ধূসর হয়ে হারিয়ে গেছে নাম না জানা কোন সে অদেখা অতলে। হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির মিছিলে যে স্মৃতি আজও এতটুকু অম্লান হয়নি, সেটি আজাদের ”ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না’ পাঠের স্মৃতি। যে বই আমার ছেলেবেলা কে বিষন্নতায় ডেকে দিয়েছিলো, অন্ধকারে ডুবিয়ে দিয়েছিলো প্রথম যৌবন। সেই বই আজ এই পড়ন্ত বেলাও আমাকে এখনো আগের মতো বিষন্ন করে, বুকের মধ্যে হাহাকারের কাল বোশেখী ঝড় তুলে, চোখে নোনা জল নিয়ে আসে...এখনো যতবার পড়ি ততবার স্তব্ধ হয়ে যাই, ডুবে যাই কোমল বিষন্নতায়...নাগরিক জীবনে যত জড়িয়েছি নিজেকে ততবেশি প্রিয় হয়ে উঠেছে বইটি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রকৃতি আর ছেলেবেলায় ফিরে যাওয়ার বাসনা তীব্র করেছে আজাদের ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না। প্রথম লেখাতেই কি অদ্ভুদ ভালোলাগার বিষন্নতা ছড়িয়ে দিয়েছেন আজাদ। যেখানে তিনি মেয়েকে বলছেন...

ফুলের গন্ধ

মৌলি, তেমাাকে বলি, তোমার মতোই আমি এক সময় ছিলাম-ছোটো। ছিলাম গ্রামে, গাঁয়ে, যেখানে মেঘ নামে সবুজ হয়ে নীল হয়ে লম্বা হয়ে বাঁকা হয়ে। শাপলা ফোটে; আর রাতে চাঁদ ওঠে শাদা বেলুনের মতো। ওঠে খেজুর ডালের অনেক ওপরে। যেখানে এপাশে পুকুর ওপাশে ঘরবাড়ি। একটু দূরে মাঠে ধান সবুজ ঘাস কুমড়োর হলদে ফুল। একটা খাল পুকুর থেকে বের হয়ে পুঁটিমাছের লাফ আর খলশের ঝাঁক দিয়ে চ’লে গেছে বিলের দিকে। তার ওপর একটা কাঠের সাঁকো-নড়োবড়ো। নিচে সাঁকোর টলোমলো ছায়া। তার নাম গ্রাম। ওই গ্রামে, আমি ছিলাম কুড়ি বছর আগে। ছিলাম বোশেখের রোদে, শাঙনের মেঘে। একদিন আমি কুমড়োর ফুল ভুলে লাউয়ের ডগার হাতছানি অবহেলা করে চাঁদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে চ’লে আসি শহরে-ঢাকায়-যেখানে তুমি আছো তোমার প্রথম চিৎকার থেকে। তুমি দেখোনি আকাশে কী করে মেঘ জমে, আহ্লাদে কতোটা রঙিন হতে পারে ডালিম ফুল। কেমনে পুকুরের আকাশে ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করে ঝাঁপিয়ে পড়ে মাছরাঙা।

তুমি জানো না, কোনদিন জানবে না, কেমন লাগে একটি নড়োবড়ো বাঁশের পুলের ওপর দাঁড়িয়ে কালো জলের দিকে তাকিয়ে থাকতে। তুমি শিশির দেখোনি, কুয়াশা দেখোনি, কচুরি ফুল দেখোনি। তুমি ধানের শিষ দেখেছো টেলিভিশনে, চিল দেখেছো ছবির বইতে। নালি বেয়ে ফোঁটাফোঁটা খেজুরের রস ঝরতে দেখোনি, পুকুরে দেখো নি মাছের লাফের দৃশ্য। তুমি জানো না কেমন লাগ উথালপাথাল ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে, আর কেমন লাগে একটি পাখির পেছনে ছুটে ছুটে সকালকে দুপুরের দিকে গড়িয়ে দিতে।আমি জানি;- না, আমি জানতাম। এখন তো আমি জড়িয়ে আছি শহরে, আমার পায়ের নিচে শক্ত কংক্রিট, চোখে নিঅন আলো, চারদিকে গোঁগোঁ করা ট্রাকের উল্লাস। কতো দিন আমি তোমার মতোই চাঁদ দেখেনি। শহরে কি চাঁদ ওঠে? কুয়াশা নামতে দেখেনি দুধের সরের মতো, পদ্মার পারে দেখি নি ধবধবে কাশফুলের মেঘ। কতো দিন দেখিনি ধানের গুচ্ছ, তারার গুচ্ছের মতো। কিন্তু যখন আমি হাঁটি, বিকেলে বেড়াই, বই পড়ি, ঘুমাতে যাই, পড়াই স্বপ্নের কথা ভেবে ভেবে, তখন আমি একটি ফুলের গন্ধ পাই। সে ফুল আমার গ্রাম, সে ফুল আমার গাঁ। আমার ছোটোবেলার গ্রাম। রাড়িখাল। তার গন্ধ ঢুকতে থাকে আমার রক্তে, আমার মাংসে, স্বপ্নে এবং সবকিছু এলোমেলো-আউলা-হয়ে যায়। তার গন্ধই আমার কাছে পৃথিবী।

এমন মোহনীয় লেখা কাকে নষ্টালজিক করবে না? কাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে না নিজের শৈশবে, নিজের গ্রামে আর ছড়িয়ে দিবে না বুকে নীরব একটা দীর্ঘশ্বাস? আমি তাই আজাদের ফুলের গন্ধের মাঝ দিয়ে নিজের গ্রামে ফিরে যাই, নিজের শিকড়ের কাছে ফিরে যাই। আমারো চোখে ভেসে উঠে নিজের ফেলে আসা শৈশবের কথা। রস চুরি করছি, ধান ক্ষেতে পানি সেঁচে মাছ ধরছি, শামুক খুঁজছি, সারাদিন পুকুরে ডুবে আছি, মাঘের শীতে খড়কুটো দিয়ে আগুন পোহাচ্ছি, রসের পায়েসে ভরে উঠছি, এইতো খালের পথ ধরে স্কুলে যাচ্ছি, হঠাৎ আমের গাছে নাম না জানি পাখির ডাকে থমকে দাঁড়িয়েছি। কোনদিন পাখির বাসা থেকে ছানা নামিয়ে আনছি, বাবার পকেট কেটে কিংবা চুরি করে ধান বিক্রি করে বাজারে দৌড় লাগাচ্ছি। সব স্মৃতি এসে জড়ো হয় মনের ক্যানভাসে, সবকিছুকে একাকার করে দেয় ফুলের গন্ধ। সেই ফুল আমার গ্রাম, সেই গন্ধ আমার শৈশব।

”সুখ ও শোকের কবিতা”

কবিতার সাথে বসবাস বোধহয় আমাদের প্রথম দিন থেকেই। ছোটবেলায় মায়ের কোলে শুনা নানান ছড়া আর কবিতায় রঙিন হয়ে থাকতো শৈশব। তারপর বিদ্যালয়ে গিয়েও কবিতায় ডুবে থাকতাম সারাবেলা। আমাদের ছোটনদী চলে বাঁকে বাঁকে, কাঠবিড়ালি, ওই দেখা যায় তালগাছ, ভোর হল দোর খুলোর মতো অসংখ্য কবিতা আমাদের প্রথম জীবনকে আলোকিত করেছিলো, নিয়ে গিয়েছিলো কত কল্পলোকে। কবিতা মানেই ছিলো অপার্থিব সুখ। কিন্তু কবিতার সুখের রেশ না কাটতেই কাটতেই আমাদের পরিচিত হতে হয় অচেনা-অজনা শোকের সাথে। সেই সুখ আর শোক নিয়ে হুমায়ুন আজাদ লিখেছেন সুখ ও শোকের কবিতা। তিনি বলছেন...

কবিতা কোথায় পাওয়া যায়? বাঙলা পাঠ্যবইয়ে। ওই পাঠ্যবই ছিলো আমার ছোটবেলার কবিতার বই। এতোকাল যতো কবিতা পড়েছি সবই সুখের কবিতা। পড়লে মন ঝলমল করে ওঠে। কিন্তু দুটো কবিতা বুকের ভেতর জাগিয়ে দেয় আর পুষে রাখে শোক। সারা পৃথিবী হয়ে ওঠে একফোঁটা চোখের জল। টলমল করতে থাকে। চোখের পাতা ভিজে ওঠে। ঠোঁট কাপতে থাকে। বই বন্ধ করে মুখ ঢেকে রাখি, যাতে কেউ দেখতে না পায়। আবার পড়ার সময় দেখি কবিতাটির পাতা ভিজে গেছে।

আমার প্রথম শোকের কবিতার নাম “কাজলা দিদি”। কবির নাম যতীন্দ্রমোহন বাগচী। তখনও আমার শোকের অভিজ্ঞতা হয়নি। কিন্তু কবিতাট পড়ার পর শোকে ছেয়ে গেলো সবকিছু। এতো সুন্দর ছবি, আর তার ভেতরে এমন শোক আর কোথায় পাওয়া যাবে বাঙলা ভাষায়?

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই, মাগো আমার শোলোকবলা কাজলা দিদি কই’?

--প্রশ্ন শুনে ধক করে ওঠে বুকটি। কোথায় সে, কোথায় সে? তারপরের ছবি অবিকল নানার বাড়ীর--

পুকুর ধারে নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে--ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই।

ভেসে আসে নানাবাড়ির গোরলেবুর ঝোপের ছবি, উড়ছে জোনাকি, জ্বলছে নিভছে, আসছে লেবুর ঘ্রান, ঘুম আসছে না।

সেদিন হতে দিদিরে আর কেনই বা না ডাকো, দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো ?

কেনো ডাকে না, কেনো ডাকে না? কেনো আঁচল দিয়ে ঢাকে মুখ? দিদি কি নেই? শোলোকবালা দিদি নেই? মরে গেছে? হ্যাঁ, বুঝতে পারি, মরে গেছে দিদি? তােই তো খাবার সময় ও আসেনা দিদি অনেক ডাকলেও আসেনা। আসবে না। আসবে না কোনদিন। এটা বোঝার পর কী করে চেপে রাখি চোখের জল? কী করে আর পড়ি পরের লাইনগুলো? ওই ছ���ট্ট মেয়েটি , যে প্রশ্ন করছে মাকে, সে কি বুঝতে পেরেছে যে দিদি নেই? কোনোদিন থাকবে না, কোনোদিন পাওয়া যাবে না তাকে বাঁশবাগানে, পুকুরধারে, নেবুর তলে! কোনোদিন দিদি আর বলবে না শোলোক?

দিদির মতন ফাঁকি দিয়ে আমিও যদি লুকোই গিয়ে

--আর পড়তে পারি না ওই কবিতা। চোখের পানিতে ভিজে যায় বইয়ের পাতা, বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ, জোনাকির পাখা। ভুইচাপা আর শিউলি গাছের তল ভিজে যায় চোখের জলে। বুলবুলিটার চোখ টলমল করে অশ্রুর মতো। ডুকরে ওঠে বুক। অনেক রাত জেগে থাকি শুধু দিদির মুখের রূপ দেখবো ভেবে।

দিদির কি সন্দুর নাম! কাজলা-দিদি! চোখ তার কালো কাজল। দেখতে পাই তাকে। গায়ের রঙ ও তার কাজলের মতো কোমল। দিদি! আমি তোমার শোলোক শুনবো। চিরকালের শোক হয়ে বুকের ভেতর ঢুকে গেলো কবিতাটি। কি সুন্দর কবিতাটির ছবিগুলো। এতো সুন্দরের ভেতর এতো কান্না!

এই প্রথম শোকের পরই পেলাম আমার দ্বিতীয় শোক। দ্বিতীয় দু:খ। ছোট বুকটি এবার দুমড়ে-মুচড়ে গেলো। কবিতার নাম ছিন্নমূল। কবির নাম সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত । পরে শুনেছিলাম তার উপাধি নাকি ছিলো ছন্দের যাদুকর। আমার কাছে হয়ে রইলেন দু:খের যাদুকর।

এ কবিতাটি কাজলা-দিদির মতো অতো সুন্দর সুন্দর ছবিভরা নয়। কাজলা-দিদিতে কথাগুলো বলেছিলো একটি ছোট্ট মেয়ে। এ-কবিতাটিতে কথা বলেছে বোধহয় বাবা। কথাগুলো কেমন ভাবে ভরা। রূপ হয়ে তা চোখেল সামনে ভাসে না, ভাব হয়ে বুকের ভেতর ঢোকে। যে হারিয়ে গেছে তার কথা সোজাসুজি বলছে না বাবা, বলছে একটু ঘুরিয়ে। তার কথা না বলে বলছে তার জিনিশপত্তেরের কথা।

সবচেয়ে যে ছোট্ট পীঁড়িখানি, সেইখানি আর কেউ রাখে না পেতে

--শুরুতেই ছলাৎ করে ওঠে বুক। কেনো আর কেউ পাতে না সবচেয়ে ছোটো পীঁড়িটি? ‘

ছোট থালায় হয় নাকো ভাত বাড়া

--বুক চিৎকার করে--কেনো? তাহলে কি সে নেই? যে ছিলো সবচেয়ে ছোট?

সবচেয়ে যে শেষে এসেছিলো তারি খাওয়া ঘুচেছে সব আগে

-- এবার আর বোকা মনের বুঝতে বাকি থাকে না যে মরে গেছে সেই ছোটমণি। ফুল ফোটার আগেই ছিঁড়ে নিয়ে গেছে কোমল মুকুল। বুক ভরে হু হু শব্দ শুনতে পাই, বান ডাকে নোনা জলের।

এ কবিতা দটি বুকের ভেতর চোখের জলের মতো এখনো টলমল করে। কলকল করে কান্না। আমার বুকের এককোণে শোক বসে আছে। ছোটবেলার এ কবিতা দুটেই দিয়েছিলো আমাকের শোকের প্রথম পাঠ। সে পড়া আজো ভুলিনি আমি।

ব্যাক্তিগত ভাবে আমার ছেলেবেলার সবচেয়ে শোকের কবিতা ”কাজলা দিদি আর জসিম উদ্দিনের ”কবর” কবিতাটি। বড় হয়ে আরো অসংখ্য শোকের কবিতা প্রিয় হয়ে ওঠেছে। সুনীলের “ কেউ কথা রাখেনি, আজাদের ”মা”, রুদ্র’র “বাতাসে লাশের গন্ধ” সহ আরো অসংখ্য কবিতা আছে তালিকায়। কিন্তু কবিতা নিয়ে কোন লেখা এর চেয়ে বেশি শোক আর কষ্ট দিতে পারেনি আমায়।

”সবচেয় ছোট যে পিঁড়িখানি”

এটি আসলে হুমায়ুন আজাদের আত্নজীবনী মূলক স্মৃতিচারন। হুমায়ুন আজাদের ছেলেবেলার সময়টাতে কলেরা ছিলো মহামারী। সময়টা যুদ্ধের বেশ আগে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সেবা তখনও বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে পৌছায় নি। তখন এক গ্রামে কলেরা হলে পুরো গ্রাম ফাঁকা হয়ে যেত, এবং সেটা গ্রাম থেকে গ্রামে বাতাসের মতো পৌছে যেত আর মৃত্যুর মিছিলে যোগ হতো অসংখ্য নাম। কান্না, শোকে চারিদিকে নিথর হয়ে যেত সব। তেমনি এক সময়ে যখন হুমায়ুন আজাদ ক্লাস এইটে তখন কলেরা দেখা দেয় তাদের গ্রামে, যেই গ্রামে এর আগে কোনদিন কলেরা হয়নি। সেই বয়সে মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখার শৈল্পিক ভয়ংকর বর্ণনা, কুসংস্কার আর অসহায়ত্বের বিয়োগ গাঁথা ফুটে তুলেছেন তিনি তাঁর মতো অসামান্য করে।

একদিন রাতে দেখা গেল তার ছোট ভাই কালামের বমি হয়ে গেল, সবকিছুকে স্তব্ধ করে দিয়ে তিন বছর বয়সী কালাম সকালেই মারা গেল..! সেই মৃত্যু কতটা গভীর ভাবে ছুঁয়ে গেছে তার সমস্ত সত্তাকে, কতটা ব্যাথিত করেছে তার মর্মস্পর্শী বর্ণনা লেখক দিয়েছেন। যা পাঠককে গভীর আবেগে ছুঁয়ে যাবে, চোখে হয়ত জল টলমল করবে। আমার যেমন করেছিলো..! তাই যার পড়েননি গল্পটি পড়ে নিতে পারেন, আশা করি ভালোলাগবে। গল্পের কিছু অংশ তুলে দিলাম।
.

উত্তর-পশ্চিম কোলায় খোঁড়া হল ছোট্ট কবর, একমুঠো কবর। নামিয়ে দেয়া হলো, মনে হলো ঝাপিয়ে পড়ি, ওর সাথে বাস করি ওই কবরে। ও যে বড় ভয় পাবে। এ কোলায় সন্ধ্যায় আসতে কারো সাহস হয় না। কালাম কি করে থাকবে এখানে? কিন্তু আস্তে আস্তে মাটি জমতে থাকলো কালামের লাশের উপর। কালাম কালাম কালাম... সব কিছু শূণ্য হয়ে গেল। চোখ ছাপিয়ে বেরোয় শিশুর মতো সরল জল, মনে মনে বলি কালাম কালাম। তুমি এত ভরে রেখেছিলে কেন সবকিছু? কেন সবকিছু শূণ্য করে দিলে?

যদি তুমি বেঁচে থাকতে তবে তোমার বয়স হতো এখন সাতাশ। তুমি নেই তাই তোমার বয়স এখনো তিন বছর দু-মাস। আমার চোখ অন্ধ আসছে চব্বিশ বছর আগের বোবা জলে। গলা ফুলে উঠছে ঠিক সে দিনের মতো, ৬ই আঘ্রানের মতো, যে-দিন তুমি চলে গেলে। তুমি আজো আছো, আমার চোখের তারায়, বুকের বাঁ-পাশে।

Profile Image for Gm Tanim.
15 reviews
July 13, 2013
হুমায়ুন আজাদের নিজের শৈশব নিয়ে লেখা এই বই, কিন্তু ঠিক শিশুদের জন্যে লেখা একে বলা যাবে না। শৈশবের নস্টালজিয়ায় থাকা প্রতিটি মানুষ এই বইটিতে খুঁজে পাবেন তাদের শৈশবের নানা উপকরণ। অসম্ভব মায়া জড়িয়ে লেখা এর প্রতিটি অধ্যায়। শৈশবের আনন্দ, বেদনা, দুঃখ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, আর পিছন ফিরে দেখা সে সব ঘটনা মনে যেসব অনুরণন তোলে, তার এক অনবদ্য সংকলন এই বই। অবশ্যপাঠ্য প্রতিটি বাঙালির।
Profile Image for তিথি.
29 reviews18 followers
March 3, 2024
লেখক বইটি তার মেয়েকে উৎসর্গ করেছেন, আর আমি তালে আছি আমার নাতি-নাতনিদের জোর করে হলেও এই বই পড়াবো।
এরকম একটা বই পড়া খুব জরুরি।
Profile Image for Shaid Zaman.
290 reviews47 followers
March 26, 2016
"তুমি জানো না, কোনোদিন জানবে না, কেমন লাগে একটি নড়োবড়ো বাঁশের পুলের ওপর দাঁড়িয়ে কালো জলের দিকে তাকিয়ে থাকতে। তুমি শিশির দেখো নি, কুয়াশা দেখো নি, কচুরি ফুল দেখো নি। তুমি ধানের শীষ দেখেছো টেলিভিশনে, চিল দেখেছো ছবির বইতে। নালি বেয়ে ফোঁটাফোঁটা খেজুরের রস ঝরতে দেখো নি, পুকুরে দেখো নি মাছের লাফের দৃশয। তুমি জানো না কেমন লাগে উথাল-পাতাল ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে, আর কেমন লাগে একটি পাখির পেছনে ছুটে ছুটে সকালকে দুপুরের দিকে গড়িয়ে দিতে। আমি জানি; - না আমি জানতাম"।
----------------------ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না - হুমায়ুন আজাদ।

আমি জানি স্যার কেমন লাগে একটি নড়োবড়ো বাঁশের পুলের ওপর দাঁড়িয়ে জলের দিকে তাকিয়ে থাকতে। আমি শিশির দেখেছি, কুয়াশা দেখেছি, কচুরি ফুল দেখেছি। ধানের সোনালি শীষ টেলিভিশনে না স্পর্শ করে দেখেছি, ঘ্রান নিয়ে দেখেছি। চিল দেখেছি উরন্ত আবার সাঁই করে নেমে এসে মুরগীর ছানা নিয়ে যেতেও দেখেছি। নালি বেয়ে ফোঁটাফোঁটা খেজুরের রস শুধু ঝরতে দেখে খ্যান্ত দেয়নি, মুখ পেতে খেয়েও দেখেছি। রাতের আধারে খেজুর রস চুরি করে পায়েস রেধে খাবার মজা আজকাল কজন জানে? আমি জানি স্যার। পুকুরে মাছের লাফের দৃশ্য দেখেছি অসংখ্যবার। আমি জানি কেমন লাগে উথাল-পাতাল ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে। পাখির পেছনে, প্রজাপতির পেছনে, ফড়িং ধরবো বলে ছুটেছি অনেক। হয়তো সকাল গরিয়ে দুপুর হয়নি, তবে ছুটেছি। এইতো সেদিন নদীর জলে গৃহত্যাগী জোছনা দেখিছি যেটাকে হয়তো জলজোছনা বলাই ঠিক হবে। খালি পায়ে সবুজ কচি ঘাসে হাটার স্বাদ যে অ্যামেরিকান বার্গারের চাইতে লক্ষ গুণ উপভোগ্য সেটা অনেকেই না মানতেই পারে, আমি মানি।

ছোটবেলা নিয়ে অনেকের লেখা পড়েছি। কিন্তু এমন কাব্যিক গদ্যধারা কখনো দেখিনি। অসাধারন একটা বই।
Profile Image for Muna.
35 reviews21 followers
September 27, 2015
“সবাই চ'লে গেছে, ঘোলা হয়ে আছে আমাদের পুবপুকুরের টলটলে জল। ভীষণ বিষণ্ন দেখায় পুকুরটিকে। ঘন ঘোলা পানি শব্দ করে না, কলকল করে না, নিথরভাবে প'ড়ে থাকে। তাতে ভাসতে থাকে ছিঁড়েফাড়া কচুরিপানা - এদিকে ভাসে ওদিকে ভাসে। মনে হয় কাঁদে। ঘোলা জলে কচুরিপানার ছবি গেঁথে আছে আমার চোখে। যখন আমি এ-শহরে, শহরকে আমার অনেক সময় ঘোলাজলের পুকুর ব'লেই মনে হয়, কাউকে ঘুরতে দেখি একা একা - বিষন্ন, মলিন উস্কোখুস্কো, তখনি মনে পড়ে মানুষ নামার পরে পুবপুকুরের ঘোলাজলে ভাসমান জীর্ণ কচুরিপানাগুলোকে। এমন কচুরিপানা-মানুষ দেখেছিলাম আমি একাত্তুরের সাতাশে মার্চে। পঁচিশে মার্চের আক্রমণ ও ছাব্বিশে মার্চের সান্ধ্য আইনের পরে সাতাশে মার্চে ঢাকা শহরের মানুষেরা বেরিয়ে পড়েছিলো রাস্তায় - হাঁটছিলো, ভয় পাচ্ছিলো, নিরুদ্দেশ পথ চলছিলো, ঠিক যেনো আমাদের পুকুরে মানুষ নামার পরে ঘোলা জলে এলোমেলো ভাসমান ছিন্নভিন্ন কচুরিপানার দল।”
Displaying 1 - 30 of 85 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.