হারানবাবুর প্রায়ই ঘড়ি হারিয়ে ফেলেন, আবার ঘড়ি ছাড়াও তাঁর ঠিক চলে না। তিনশো বাইশতম ঘড়িটা হারিয়ে ফেলার পর তিনি বেশ মনমরা হয়ে ছিলেন, তবে বড়ছেলে সত্যগুণ কলকাতা থেকে একটা নতুন ধরনের ঘড়ি এনে দেয়ার পর আবার চাঙ্গা হয়ে উঠলেন। কিন্তু ঘড়িটার মাঝে সম্ভবত ভূতুড়ে কোনো ব্যাপার আছে, কিন্তু ঠিক ধরতে পারা যাচ্ছে না। হারানবাবুর বাল্যবন্ধু জটাই তান্ত্রিকের অবশ্য দৃঢ় বিশ্বাস যে, ঘড়িটার সঙ্গে নির্ঘাত অলৌকিক কোনো যোগসূত্র আছে। কিন্তু হারানবাবু তো ঘোর নাস্তিক মানুষ, ভূতপ্রেতে বিশ্বাস করবার উপায় যে তাঁর নেই!
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
লাটুর দাদুর বড্ড ভুলো-মন।এই অব্দি তার ৩২২ টি ঘড়ি হয় হারিয়েছে,নয় চুরি হয়েছে।কিন্তু ঘড়ি তার পরা চাইই চাই!!! শেষে তার বড় ছেলে কলকাতা থেকে একখানা ঘড়ি কিনে আনলো।ঘড়িটাতে অনেকগুলো ঘর! দাদু খুশিই হয়েছিলেন।কিন্তু রাত্তিরে সেই খুশি মিলিয়ে গেলো। দেখা গেলো রাত্রে ঘড়ি থেকে ছেলে-মেয়ের কথার আওয়াজ, কাকের ডাক,বাজনার আওয়াজ সহ বিভিন্ন শব্দ হচ্ছে।এই শব্দগুলোও ভাড়ি অদ্ভুত।
হারানবাবু কখনো ভূত বিশ্বাস করে নি।সে বরাবরি নাস্তিক।কিন্তু এইবার কেনো যেনো তার মনে হলো এ ভূতের কান্ড ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি পরদিনই ছুটলেন তার বন্ধু জটাই তান্ত্রিকের কাছে।তাকে ভুতুড়ে ঘড়িটি দিয়ে আসলেন। এর কিছুকক্ষন পরই আশ্চর্য ঘটনা ঘটে।জটাইদাদুর মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটে।পরে তার থেকে বিজ্ঞানী গর্ডন সাহেব ঘড়িটা নিয়েছিল। তারও একই অবস্থা। লাটু ঘড়িটাকে চুপিচুপি তার ঘরে নিয়ে আসে।পরে অবাক কান্ড! ঘড়িটা লাটুর সাথে কথা বলে।
আসলে এটা কোনো ঘড়ি নয়। এটা এক অত্যাধুনিক যন্ত্র।এই শক্তিশালী যন্ত্র যার কাছে যাবে সে-ই মহাবিশ্বের মালিক হবে।তবে যারতার কাছে গেলে হবে না,উপযুক্ত লোক চাই!!! এই যন্ত্র নিতে আসছে অন্য গ্রহের লোকজন।তারও আগে আসছে রামরাহা!!! মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী, বুদ্ধিমান ও দ্রুতগতি সম্পন্ন পুরুষ রামরাহা।সে ঘড়ির জন্য পৃথিবীও ধ্বংস করতে পারে! লাটু এখন কি করবে?লাটু জানে না রামরাহা কেমন লোক।অন্য গ্রহের লোকটাই বা কেমন যাকে সে ঘড়িতে দেখেছে?পৃথিবী কি বাঁচবে?
ভিন্টেজ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। অদ্ভুতুড়ে অনাবিল আনন্দ। ভূত, প্রেত, চোর, তান্ত্রিক - সক্কলের নাম-গান-গন্ধে সিক্ত একখানা জব্বর সায়েন্স ফিকশন। হাসি মশকরার মাঝে আধুনিক ধাঁচের সুপারহিরো কনফ্লিক্ট। শেষে গিয়ে আবার নিদারুণ অ্যাকশন! অসাধারন না হলেও, এ জিনিস এক লহমায় মন ভালো করে দেয়।
ব্যক্তিগতভাবে আমি শীর্ষেন্দুর অদ্ভুতুড়ে সিরিজের অনেক বড় ফ্যান।প্রত্যেকটা বইয়েই তিনি যেভাবে সহজ ভাষায় মজার ছলে বিভিন্ন চরিত্রের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন তা অন্য কোথাও আমার চোখে পড়েনি।এই বইতেই ধরুন না - হারানচন্দ্র ঘোর নাস্তিক কিন্তু তার বাবা হরিভক্ত তার নামের মর্যাদা রেখেই হরিভক্ত।আছে হারানচন্দ্রের বন্ধু তান্ত্রিক জটাই,তার সাথে আছেন বৈষ্ণব নিত্যদাস।এই যে নানান মত পথের মিলন ঘটানো এটাই শীর্ষেন্দুর মুন্সিয়ানা।
যদিও এই বইটার নাম 'ভুতুড়ে ঘড়ি' কিন্তু বইটা মোটেও ভূতের নয়।এটা সায়েন্স ফিকশন।অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বইগুলোর কাহিনী কখনোই তেমন গভীর হয় না।কিন্তু লেখকের দুর্দান্ত লেখনীর কারণেই এক তারা বেশি প্রাপ্য।
পড়ার পুরোটা সময় ফিক ফিকিয়ে না হেসে পারবেন না, অন্তত আমি পারি নাই। শীর্ষেন্দু সাহেবের এই বইগুলো এমনই যে শিশু-কিশোর সব বয়সে পড়া যায়। বিশেষ করে রিডার্স ব্লক কাটানোর জন্য তো তুলনা মেলাই ভার।
ভিনগ্রহের মানুষ রামরাহাকে নিয়ে এটাই প্রথম গল্প। আগে পড়া ছিল না। রীতিমতো ভালো গল্প, টানটান ন্যারেটিভ, যদিও অন্য কয়েকটার মতন হাসির হুল্লোড় নয়। টপ-১০ অদ্ভুতুড়েতেও ঢুকে পড়তে পারে। পাঁচে পাঁচ।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের অন্যান্য বইগুলো পড়ে যতটা মজা পেয়েছি, এটা ঠিক তেমন না, তেমন হাসি পায়নি। এটা আসলে সাইন্স ফিকশন। ভূতুড়ে ঘড়ি নাম হলেও এখানে কিন্তু ভূতুড়ে কোনো ব্যাপার নাই, সেটা পড়লেই বুঝতে পারবেন। প্রত্যাশা অনুযায়ী আশ মিটলো না।
লাটু, কদম, ছানু এদের দাদু হারানচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। দাদুর ঘড়ির খুব শখ, কিন্তু বার বার হারিয়ে ফেলেন। শেষে তাঁর বড়ো ছেলে একটা নতুন ধরনের ঘড়ি এনে দিলেন।কিন্তু সেই ঘড়ি থেকে অদ্ভুত ভাবে ছেলে মেয়ের কথা শোনা যায়, গান বাজনা, কাকের ডাক এসব আওয়াজ আসে। এই অদ্ভুত ঘড়ি ঘিরেই গল্প।
সেই তিনশো তেইশ নাম্বার ঘড়িটা নিয়েই যত বিপত্তি। ঘড়ি হারানো হারাণচন্দ্রের কাছে মোটেও নতুন কোন ঘটনা নয়। তবে এবার নতুন যে ঘড়িটার আমদানি হলো সেটা কিন্তু ভারি অদ্ভুত। রাতের বেলা হঠাৎ ঘড়ি থেকে বিভিন্ন বিজাতিয় শব্দ শুনতে পেলেন হারাণ দাদু। নাস্তিক হারাণচন্দ্র শেষে ঘড়ি শোধন করতে দিলেন জটাই তান্ত্রিকের কাছে। শোধন হলো বটে, তবে ঘড়ি না, জটাই ত্রান্ত্রিক নিজে। রীতিমত পাগল সাব্যস্ত হলেন সবার কাছে। জটাই তান্ত্রিকের কাছ থেকে ঘড়ি গেল গর্ডন সাহেবের কাছে, তিনি ভারী রাশভারী মানুষ, শখের বিজ্ঞানী। কিন্তু তার দশাও জটাই তান্ত্রিকের মতোই হলো।ঘড়ি ফিরে এল হারান দাদুর কাছে। কিন্তু ঘড়ির রহস্যভেদ করতে আলমারি খুলে ঘড়ি নিয়ে নিল লাটু। তখনঈ ঘটল সেই আশ্চর্য ঘটনা, হঠাৎ ঘড়ি থেকে কিছু শব্দ শুনতে পেল লাটু, তবে তে মোটেই দুর্বোদ্ধ কোন শব্দ না, এক্কেবারে খাঁটি বাংলা। ভিনগ্রহী এক প্রাণী তাকে জানাল তাদের মধ্যের এক বিশ্বাসঘাতক ঘড়িটা নিয়ে পালিয়েছে। যেভাবেই হোক তার হাত থেকে ৭ দিনের জন্য ঘড়িটা বাঁচাতে হবে লাটুর। না হলে নিশ্চিহ্ন হতে পারে পৃথিবী।
পুরোদস্তুর সায়েন্স ফিকশন গল্প এটি। নাম ভূতুরে ঘড়ি হলেও ভূতের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। আর হারানদাদুর মধ্যে পাংচুয়ালিটির ছিটেফোটাও না থাকার পরও লেখক তাকে পাংচুয়াল বলেছেন কেন বলতে পারেন কেউ।
হারান বাবু কি করে পাঙ্কচুয়াল হলেন তার কোন হদিশ নেই। চুলে বিলি কাটলে, পায়ের পাতা টানলে শুয়ে পড়েন, বাজার থেকে ফিরতে বন্ধুর বাড়ি আড্ডা দিয়ে ফেরেন, গিন্নিকে ভয় পান, সর্বোপরি তিনশোরও বেশি ঘড়ি যে মানুষটা হারিয়েছে, তিনি "সময় ধরে চলেন", একথা আমি বিশ্বাস করি না। সময় ধরে চলা লোক রাতবিরেতে জেগে আঁতকে ওঠে ভোর হয়ে গেছে বলে! তিনিই কিন্তু গল্পের প্রথমার্ধের নায়ক। সেটাই মন্দ ছিলো না। কিন্তু তারপরেই অত্যন্ত আদিখ্যেতা দেখিয়ে কয়েকটি বাচ্চার উদয় হল। এরপর কাহিনীর কোন হাত পা নেই, গল্পের ভূতগুলির মতো গল্প নিজেই কিম্ভুত কিমাকার হয়ে উঠলো, যাকে বলে "গডড্যাম"। শেষে ওই ইউএফও, এলিয়েন, হাবিজাবি গালগল্প। "আমায় যখনই মনে করবে আমি এসে হাজির হব।" সায়েন্স ফিকশনের নামে রূপকথা। এই চাইতে ছোটবেলায় পড়া স্বপনকুমারের ব্যাঙ রাজকুমার তিনটে দুঃসাহসিক বুদ্ধিদীপ্ত কর্ম করেছিল, সে বেশ আগ্রহব্যঞ্জক ছিল। একেবারেই বাজে বই।।
আর পাঁচটা অদ্ভুতুড়ে সিরিজের গল্পের সঙ্গে এই কাহিনী মিলল না। ঠিক ভূত নয়, গল্পটা আসলে কল্পবিজ্ঞানের। জটাই সাধু, নিত্য বৈষ্ণব এদের এবং দাদুর চরিত্রগুলো খাপছাড়া ধরনের লাগল। সবচেয়ে অবাক লাগল একজায়গায়,যেখানে বলা হচ্ছে ঘড়ির দেড়শো গজের মধ্যে অন্য ঘড়ি সব উল্টো চলবে,সকালে যখন দেখা গেল রজোগুণ আর বহুগুণের ঘড়ি উল্টো চলছে তার আগেই হারাণবাবু তাঁর ঘড়ি দিয়ে এসেছেন জটাই তান্ত্রিককে। এটুকু বাদ দিলে বাকি মোটামুটি গল্পের কাঠামো ঠিকই আছে। তবে শিশু বা কিশোরদের জন্য লেখা পড়তে ভালবাসলে কেউ একদম নিরাশ হবেন না এটুকু বলাই যায়।
অনেককিছু বদলে গেছে, কিন্তু এই বইটা ঠিক সেরকমই আছে যেমন সেই ছোট্টবেলায় পড়েছিলাম। এরকম লাইনে লাইনে হাস্যরসের ছোঁয়া শীর্ষেন্দুর অদ্ভুতুড়ে সিরিজের অন্যান্য বইয়েও তেমন পাই নি। এই গল্পটা সময়কে ধরে রেখেছে।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের সবচেয়ে বিখ্যাত বুঝি প্রথম দু'টো বই - মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি আর গোসাঁইবাগানের ভুত। তবে আমার কাছে এই সিরিজের সেরা বই এটাই। পাঁচ তারা রেটিং-ও কম পরে যাচ্ছে। এই বইটাতেই প্রথম ম্যাটার আর অ্যান্টি-ম্যাটার সম্পর্কে জানতে পারি। আর্টিফিশিয়াল ইন্ট্যালিজেন্স নিয়ে প্রথম পড়ি। সেইসব স্মৃতিগুলো আমার মাথায় যেন একেবারে খোদাই হয়ে গেছে।
এটা মোটেই 'ভূতুড়ে ঘড়ি' নয়। ভূতুড়ে গল্পই নয় এটা। প্রচ্ছদটাও বড়ই সরল। কল্পবিজ্ঞান এটা, কল্পবিজ্ঞান। অর্থাৎ উপন্যাসের শিরোনামটা ঠিক হয় নি একেবারেই। শীর্ষেন্দু আধ্যাত্মিকতার ব্যাপারে মুনশিয়ানা যেমন দেখিয়েছেন, বিজ্ঞানের ব্যাপার সেটা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবুও তিনি বিজ্ঞানকে যে স্পর্শ করেছেন, এজন্যই ধন্যবাদ!
হারানবাবু নিয়মিত ঘড়ি হারান। এ নিয়ে তার ৩২২ টি ঘড়ি হারিয়েছে। এবার তার ছেলে তাকে কলকাতা থেকে একটি অদ্ভুত ঘড়ি এনে দেয় যার ঘর সংখ্যা ১২টির বদলে ২৪টি। ঘড়িটি তাঁদের বাড়িতে আসার পরেই শুনা যায় অদ্ভুত সব কথপোকথন। এর পরেই শুরু হয় নানা ভূতুড়েকান্ড। শীর্ষেন্দুর অদ্ভুতুড়ে সিরিজের অন্যসব গল্পের মত এ গল্পটিও বেশ মজার।
এ হলো গিয়ে ryadacally (নাম শুনে মনে হয় যেন 'রাধাকালী'-র অপভ্রংশ!) -র radically বদলে যাওয়ার কাহিনী। খোলসা করে আর কিছু বলবো না। অতি উৎকৃষ্ট গল্প, মন ভালো করে দেয়।
সুখপাঠ্য, সুন্দর মজার একটা পরিবারে গল্পটা গড়ে উঠেছে। কলকাতার ওই সময়ের লেখকদের সায়েন্স ফিকশনে সায়েন্স একটু কম সবসময়ে। সেটা বাদ দিলে, খুব সুন্দর একটা বই। ছোটরা পড়ে খুব পছন্দ করবে, বড়রা আরাম পাবে।
ভুতুড়ে ঘড়ি (ভূতুড়ে নয়) উপন্যাসটির নামে ভুতুড়ে থাকলেও সব কাণ্ড কিন্তু ভিনগ্রহীদের নিয়ে। ভূতেদের একটা ছোট্ট গেস্ট এপিয়ারেন্স আছে যদিও।
হারানচন্দ্রের ঘড়ি হারানোর বাতিক। একদিন তার ছেলে শহর থেকে এনে দেয় এক বিচিত্র ঘড়ি। তাতে সময় বোঝা যায় না বটে তবে নানারকম ভুতুড়ে ক্রিয়াকলাপ চলতে থাকে ঘড়িটির আগমনের পর থেকে। হারানের সাথে একে একে ভুতুড়ে উৎপাতের ভাগীদার হয় জটাই, গর্ডন সক্কলে। হারানের নাতি লাটু শেষে ঘড়ি রহস্য ভেদ করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ে ভিনগ্রহীদের কাণ্ডকারখানায়। সেই নিয়েই গল্প।
সায়েন্স ফিকশনের অনেক ব্যাপারস্যাপার রয়েছে কাহিনিতে। তবে ঘড়ির প্রভাবে আলোর প্রতিফলন বাধা পায় বলে ক্যামেরাতে ছবি ওঠে না এই কথাটা ঠিক মনে হল না। আলোর প্রতিফলনে সত্যিই বিঘ্ন ঘটলে সবাই যে অন্ধ হয় যেত। যাকগে এতটা কড়া বিশ্লেষ�� এইক্ষেত্রে বোধহয় ঠিক নয়।
গতিময় লেখনী। গোড়ার দিকে প্লটটা খুবই ইউনিক মনে হচ্ছিল, এই সিরিজের অন্য কাহিনির তুলনায়। তবে শেষে গিয়ে সেই দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনে শেষ না হয়ে একটু অন্যরকম হলে ভালো লাগতো। তবে যা আছে তা সুন্দর।
লাটুর দাদুর এই নিয়ে তিনশো বাইশতম ঘড়িটা হারিয়ে গেল। অদ্ভুত ভাবে হারিয়ে যায় ঘড়ি গুলো। লাল্টুর বাবা দাদুকে তিনশো তেইশতম ঘড়িটা এনে দেয়। ঘড়িটি বাড়ি আসার পর অদ্ভুতুড়ে সব কান্ড হতে থাকলো। ঘড়ির ভিতর থেকে নাম না জানা ভাষায় কথা বলে কেউ 'রামরাহা! খ্রাচ খ্রাচ!'। বাড়ির অন্য সব ঘড়ি উল্টো দিকে চলতে শুরু করলো। দাদুর ছবি তুলে দেখা গেল শুধু ঘড়িটা দেখা যাচ্ছে দাদু বেমালুম গায়েব হয়ে গেছে। আরে! হচ্ছে টা কী এসব?
জাফর ইকবালের ২-৩ টা সাইন্স ফিকশন ছাড়া আমি আর কোন সাইন্স ফিকশনের বই পড়িনি। এধরণের বই গুলো আমার তেমন ভালোও লাগে না। তবে মাঝে মাঝে ইচ্ছে করতো জাফর ইকবাল ছাড়া অন্য কারো লেখা পড়তে কিন্তু পড়া হয়নি। অবশেষে অদ্ভুতুড়ে একটা সাইন্স ফিকশন পড়ে ফেললাম। সত্যই শীর্ষেন্দুর অদ্ভুতুড়ে গল্প গুলো অসাধারণ। খুবই ভালো লেগেছে বইটি পড়ে। ৫/৫
ভালো লাগল। ঘড়ি নিয়ে হাসির ব্যাপার স্যাপার হাসালো। তাছাড়া ঘড়ি নিয়েই অদ্ভুতুড়ে কান্ড ঘটে গেল। বাহ্। শিশুকিশোররা ভালোই উপভোগ করবে। গিফট হিসেবে ভালো ঠেকবে। বড়দের অতি অদ্ভুতুড়ে বই পড়ার অভিজ্ঞতার দরুণ এই বই পানসে ঠেকবে। হ্যাপি রিডিং। :) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর বই এর মধ্যে এটি আমার পড়া প্রথম বই। প্রত্যাশা অনুযায়ী সময় ভালোই কেটেছে। :)
শীর্ষেন্দুর অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বইগুলো এমনি যে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলতে ইচ্ছা করে। আমরা ব্যস্ততার মাঝে কেবল সিরিয়াস ধরণের বইতে ডুবে যাই। কেননা, সরল আনন্দ উপভোগ করার অভ্যাসটা অনেক আগেই বাদ হয়ে গেছে। অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বইগুলো সেই সরল আনন্দের আধার। কিশোরদের জন্যে লিখা হলেও সবাই এর রস আস্বাদন করতে পারে। ধন্যবাদ শীর্ষেন্দু বাবুকে তাঁর লেখাগুলোর জন্যে।
Nice funny and Enjoyable story. Shirshendu Mukhopadhyay er odvuture series er ekti boi. 3* er karon, ei series er onno boi porechi, ja er theke onek bhalo legeche...