Jump to ratings and reviews
Rate this book

চন্দ্রহাস #2

চন্দ্রহাস ২ : মহাকাল

Rate this book
কাশী-বেনারস এবং উজ্জয়িনী, ভারতবর্ষের তীর্থক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এই দুই তীর্থ। দিনের চব্বিশ ঘণ্টা মহাদেবের পূজাপাঠ হয় এই দুই তীর্থে। এই দুই তীর্থে সন্ন্যাসী আগমন সর্বাধিক। প্রত্যেক সাধক শ্মশান থেকে রাজপথে, ঘাট থেকে মন্দিরে আপনমনে শুধু শিবের উপাসনা করে চলেছেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ মার্গে উচ্চকোটির সন্ন্যাসী।

কিন্তু কখনো কখনো এই উচ্চকোটির সাধকদের মাঝে কিছু শয়তানের আবির্ভাব হয়। সেই শয়তানের দল গুপ্তকুঠুরি প্রস্তুত করে সেখানে নানা বিরল পুজো এবং অসম্ভব সব বিদ্যাশিক্ষার ব্যবস্থা করে। নবীন সাধকেরা প্রকৃত সাধক এবং শয়তানের পার্থক্য ধরতে পারেন না। অনেকেই ধরা দেন শয়তানের জালে।

পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামে একদল উন্মাদ সন্ন্যাসীর আবির্ভাব হয়েছে। বিভিন্ন দেবী পুজোর দিন নিখোঁজ হয়ে চলেছে বহু মানুষ। প্রশাসন অবধি নড়েচড়ে বসেছে। এখান থেকেই কাহিনি এগোতে থাকে মহাকালের নিয়মে।

'চন্দ্রহাস'-এর প্রথম পর্ব যেখানে শেষ হয়েছিল সেখান থেকে রিশানের সন্ধান করতে গিয়ে রাঘব খোঁজ পেয়েছেন এরকম কিছু গুপ্তকুঠুরির। সেখানে বর্তমানে নরবলি এমনকি নারীবলির মতো ঘৃণ্য ক্রিয়া সাধিত হয়। বর্বরোচিত সেইসব ক্রিয়াদির কোনো খবর আমরা সাধারণ মানুষ জানি না। সেসব কাহিনি উন্মোচিত হবে এই উপন্যাসের মাধ্যমে। বেশ কিছু লুপ্তবিদ্যার সন্ধান দেবে এই গ্রন্থ।

শুধু ক্ষমতার লোভ কিংবা প্রতিশোধের নয়, চন্দ্রহাসের মহাকাল অধ্যায় বিবৃত করবে স্পর্ধার কাহিনি। এই স্পর্ধা মানসিক স্থিরতার, এই স্থিরতা অপূর্ণ ভালোবাসার। আর প্রতিশোধ? রাঘব এবং রিশানের।

সব মিলিয়ে সাধক ভৈরবের পুনরায় জাগ্রত হবার কাহিনি এই মহাকাল অধ্যায়।

220 pages, Hardcover

First published February 1, 2022

8 people are currently reading
120 people want to read

About the author

Sourav Chakraborty

19 books17 followers
সৌরভ চক্রবর্তীর জন্ম ত্রিপুরার আগরতলায়। শৈশব কেটেছে ত্রিপুরার রাজধানীতেই। পড়াশোনা রাজন্য ঐতিহ্যবাহী উমাকান্ত একাডেমি বিদ্যালয়ে। বিজ্ঞান বিভাগের কৃতী ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীকালে কারিগরি বিদ্যা নিয়ে স্নাতক। বিদ্যালয় জীবন থেকেই লেখার হাতেখড়ি। পরবর্তীকালে কলেজ জীবন থেকে ব্ল‍্যাকবোর্ড পত্রিকার মুখ্য সম্পাদক হিসেবে কাজ করা শুরু। একসময় চুটিয়ে করেছেন গ্রুপ থিয়েটার। বড়োদের জন্য গল্প লেখার শুরু তখন থেকেই। প্রথম প্রকাশিত গল্প 'ত্রিকালদর্শী' এবং প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'চতুর্থস্তন্ত' যথাক্রমে ২০০৭ এবং ২০১২ সালে। তখন থেকেই প্রেম-অপ্রেম, রহস্য-থ্রিলার, জীবনমুখী সমাজের সব লেখাতেই সমান স্বচ্ছন্দ। কিন্তু জঁর ফিকশন নিয়ে বাংলায় লিখে চলেছেন উল্লেখযোগ্য লেখা। ছোটোদের জন্যে লিখেছেন কিশোর-ভারতী, সন্দেশ-এর মতো ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাগুলোতে। ত্রিপুরার শিশুমহল-এর জন্য একবছর টানা লিখেছেন জনপ্রিয় কমিক্স কলাম সিরিজ। এ ছাড়াও বিভিন্ন সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে একাধিক জনপ্রিয় গল্প। 'শেষ গল্প'-র মতো অন্য ধারার গল্প লিখে বাংলা সাহিত্যের লেখক-পাঠক নির্বিশেষে পেয়েছেন অকুণ্ঠ ভালোবাসা। চন্দ্রহাস গ্রন্থের জন্য দেশ-বিদেশের পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছেন। কলকাতা কসাইখানা-র মতো সাহসী রাজনৈতিক উপন্যাস লিখে পাঠকের হৃদয়ে চিরকালের মতো স্থায়ী আসন পেয়েছেন। একাধিক অডিয়ো স্টোরিতে পাঠ হয়েছে তাঁর লেখা। লেখকের লেখা থেকে ভবিষ্যতে তৈরি হতে চলেছে চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজ। ত্রিপুরায় রোগীদের স্বল্প মূল্যে চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন 'দ্য মেডিট্রাস্ট হেলথকেয়ার'। বর্তমানে কলকাতা নিবাসী, সময় পেলেই বিভিন্ন পরিচিত পত্রিকা ও ওয়েবজিনের জন্য কলম তুলে নেওয়া নিয়মিত অভ্যেস। গল্পের খোঁজে দেশ চষে বেড়ানো সাম্প্রতিককালে নেশায় পরিণত হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ কলকাতা কসাইখানা, চন্দ্রহাস সিরিজ, মহাগুরু, উদ্ভব লিঙ্গ, মৃতকৈটভ সিরিজ, ব্রহ্মহত্যা, দেবী রাক্ষস ইত্যাদি।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
7 (8%)
4 stars
21 (26%)
3 stars
30 (37%)
2 stars
16 (20%)
1 star
5 (6%)
Displaying 1 - 21 of 21 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,118 reviews1,100 followers
July 2, 2022
***Spoiler Alert***
যখনই একটু বেশি আশা করি ফেলি তখনই লেখক মশাইরা হতাশ করে ফেলেন। পুরো গল্পের সারাংশ বলতে ভৈরব আবারো জাগ্রত হয়েছেন। এবং তেনার হাতে আছে চন্দ্রহাস। পরবর্তী খন্ডে চলবে শুধু ধুমধাড়াক্কা অ্যাকশন।

আর এ খন্ডে কি পেলেন? রিশান কতৃক ভৈরব ও চিতার হাঢ় চুরি। কাকতালীয় ভাবে অশ্বিনীর মতো ৯০ বছর দেহধারী গুরুর প্রধান দুই শিষ্যের একজন হওয়া। এবং পুনরায় কাকতালীয় ভাবে করালীর সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে গুরুকে হত্যা ও নিজে প্রধান হওয়া। তারপর একে একে চৌধুরী বংশের লোককে অপহরণ করে শেষতক বিভৎসরূপে বলি দেওয়া। এবং করালীর মৃত্যু, রিশানের মৃত্যু। তবে রিশান যেহেতু ভৈরবের পুনর্জন্মা তাই রিশানের মৃত্যুর পর ভৈরব আবার দেহধারন করে তান্ডব চালাবে।

আহামরি গল্পে কোন টুইস্ট ছিল না। গল্পে যখন একটু ক্লাইমেক্সে পৌঁছবে তখনই শুরু হবে অপ্রয়োজনীয় ইতিহাস কপচানো। হ্যাঁ এটা ঠিক, ইতিহাস জানতে ভালো লাগে। কিন্তু সেটার ও তো একটা সময় আছে। বৌ দুয়েক ঘন্টার মধ্যে বলি হচ্ছে আর তখন আপনি শুনছেন উজ্জয়নীর অপ্রয়োজনীয় ইতিহাস। করালীর মৃত্যু হুট করে হওয়ার কোন মানে ছিল না। যিনি এতো বড় বিদ্যার অধিকারী(নাগমোহিনী বিদ্যা সহ আরো অনেক) তাকে এভাবে হেলাফেলা করে মৃত্যু দেওয়াটা বড্ড অন্যায় বলেই মনে হয়ছে। তারপর ধরুন দুদে গোয়েন্দার কথা। অথচ তার কার্যকলাপ মোটেই গোয়েন্দাসুলভ ছিল না। এ গল্পে গোয়েন্দার প্রয়োজন না হলেও চলতো। প্লট হোল নিয়ে কিছু নাই বা বললাম।

সে যাইহোক, আমার মতো নাদান পাঠকের মন্তব্য ছুড়ে ফেলে দিন। আগের মতো বলব, রিভিউ রেটিংয়ের গ্যাড়াকলে না পড়ে বইটাই পড়ে দেখুন । আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন।
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books407 followers
April 25, 2022
প্লটটা আগেরবারের তুলনায় উন্নত। এবার নরবলির ইতিহাস, মিথলজির সাথে যুক্ত হয়েছে কাশী নগরীর অলিগলির বর্ণনা। আগের বইটা যেখানে শেষ হয়েছিল এই পর্বের শুরু সেখানেই। কাহিনী মোটামোটি, সমস্যাটা হল কাহিনী একটা গতিতে এগোনোর সময় বা সাসপেন্সের সময় চরিত্রগুলো ইতিহাস কপচানো শুরু করলে বিরক্তির উদ্রেক ঘটে, এখানে এটাই বেশ কয়েকবার ঘটেছে। এমনিতে ইতিহাস, হিন্দু মিথলজির বর্ণনাগুলো ভালো। দুয়েকটা অপ্রাসঙ্গিক আরকি। সবমিলিয়ে মোটামোটি একটা বই, একবার পড়ার মতন।
Profile Image for Shuk Pakhi.
518 reviews326 followers
April 15, 2022
পড়তে বেস লাগলো।
তবে পুরাণকাহিনী একটু বেশি হয়ে গেছে মনে হয়।

৩য় খন্ডের অপেক্ষায়....
Profile Image for Tiyasa Mukherjee.
1 review
April 13, 2022
চন্দ্রহাস কথা: ২০২০র বইমেলায় যে বই অচিরেই সবার নজর নিজের দিকে টেনে এনেছিল সে হল "চন্দ্রহাস"সৌরভ চক্রবর্তী র এই বই আমি বইমেলায় সংগ্রহ করিনি। আমি আগেও স্বীকার করেছি যে বই আমায় ভাবিয়ে তোলে অবাক করে এবং ভালো-র সীমানা অতিক্রম করে অসম্ভব ভয়ংকর সুন্দরে পৌঁছে যায়, সে বই আমার ঝুলিতে দেরিতেই আসে। হয়ত চিরকাল আমার স্মৃতিতে রয়ে যাবে বলে। আমায় বই সংগ্রহে অনার জন্য হাজারটা রিভিউ বা প্রচারের আগেও যেটা আকর্ষণ করে তাহ হল বইটার নিজস্ব বিষয়বস্তু, এ ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। বিধ্বংসী ঝড়, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মারণ ব্যাধির তাণ্ডবে যখন বিধ্বস্ত গোটা পৃথিবী সেই কঠিন মুহূর্তের এক তপ্ত দুপুরে আমি খোঁজ পেয়েছিলাম "চন্দ্রহাস"এর।
মাত্র দুটো লাইন " পরিবারিক নরবলির ঐতিহাসিক কাহিনী" " দুর্বল চিত্তের পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন" এই লাইন দুটো বোধয় আমার শিরায় উপশিরায় একটা গরম রক্তের স্রোত বইয়ে দিয়েছিল। বইটার ওই দুটো শব্দই এখনও আমায় অমোঘ আকর্ষণে জড়িয়ে রেখেছে তাহ বলাই বাহুল্য । ২০২০র বইমেলা থেকে সংগ্রহ না করার ফলে মাঝের সময়টায় আউট অফ স্টক আর আউট অফ প্রিন্ট এর চক্করে আমার ধৈর্য্যের পরীক্ষা চললো। অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে ৮ই নভেম্বর ২০২০ প্রথম হাতে পেয়েছিলাম "চন্দ্রহাস" আমি ইতিহাসের মানুষ পড়াশোনা গবেষণা সব বিষয়েই ইতিহাস। তাই স্বভাবতই সাল তারিখ এগুলো একটু নজরে রাখতেই হয়। এখানে আরেকটা কথা বিশেষ ভাবে বলা প্রয়োজন। তাহ হল বইয়ের প্রচ্ছদ যিনি এঁকেছেন তার হাতের শিল্পকর্ম। জাত শিল্পী না হলে বোধয় উচ্ছিষ্ট গণপতি র চোখে সেই ভয়ঙ্কর ক্রুরতা ফুটিয়ে তোলা অসাধ্য, আর সেই অসাধ্য সাধন সম্ভব করেছেন শিল্পী অনিকেত মিত্র তার প্রতিটা শিল্প কর্ম প্রশংসার দাবি রাখে। "চন্দ্রহাস" পড়ে কেমন লেগেছিল সে কথা আমি এক কথায় প্রকাশ করলে "ভয়ঙ্কর সুন্দর" নরবলি শুনলেই তো চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যাবার কথা। গল্পগাছা আর ইতিহাসের দৌলতে ওই যতটুকু জেনেছিলাম তাতে নরবলি নিয়ে একটা সাধারণ ধারণা জন্মেছিল, কিন্ত এই "চন্দ্রহাস" গ্রন্থে প্রফেসর রাঘব চক্রবর্তী যে অসাধারণত্ব নিয়ে নরবলির ইতিহাস পড়িয়েছেন তাহ দেখে আমি বিস্মিত হতবাক।
"যে এটাও সম্ভব" এখানেই লেখকের অমানুষিক পরিশ্রম আর অদম্য পড়াশোনার নজির পাওয়া যায়। এত তথ্য সমৃদ্ধ লেখা লিখতে যে স্পৃহা এবং সাহসের প্রয়জন তাহ সহজেই অনুমেয়। আমি বরাবরই কঠিন এবং সমালোচিত বিষয়বস্তু তে বেশি আগ্রহী। নরবলি নিঃসন্দেহে একটি বহুল চর্চিত বিষয় সেই বিষয়ের উপর যৎসামান্য
প্রমান্য গ্রন্থ বাদে এরকম একটা ফ্যান্টাসি কিংডম জাস্ট ভাবা যায় না। লেখার মধ্যে প্রাণের সঞ্চার ও লেখা কে জীবন্ত করে তোলার জন্য প্রয়োজন শব্দএর মেল বন্ধন ঘটানোর। পড়তে পড়তে মনে হয়েছিল চোখের সামনে ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠছে কখনও আপনি পৌঁছে যাবেন বস্তারের মা দন্তেস্বরির মন্দিরে অবার কখনো নরবলির ইতিহাসে সমৃদ্ধ হতে আপনাকে ছুটে যেতে হবে প্রোফেসর রাঘব চক্রবর্তী র পি এইচ ডি র ক্লাসে।
ভৈরব, চন্দ্রহাস, রাজা প্রতাপনারায়ণ সবাই একে একে নিজের রূপে ফিরে আসলো "চন্দ্রহাস" মুক্তি পেল রাজা প্রতাপ নারায়ণ নরবলির ধ্বংস খেলায় মেতে উঠলো।
তার পর?? তারপর যারা গল্পটা পড়েছে তাদের সকলেরই জানা যে শেষে কি হয়েছিল। এতো গেল "চন্দ্রহাস"এর কথা এবার বলি "চন্দ্রহাস"২ মহাকালের কথা। সৌভাগ্যবশত এই ২০২২এর বইমেলায় সংগ্রহ করলাম
"চন্দ্রহাস২ মহাকাল" রিক্স নিতে ভয় লাগে। কখন আউট অফ স্টক হয়ে যায়। একবার যে ভুল করেছি সেটা বারবার করলে বইটার প্রতি অবমাননা করা হতো।
যাইহোক সোমবার দুপুরে পড়া শুরু করলাম তিন দিন সময় লাগলো গতকাল রাত ১১টা ৫৩মিনিটে শেষ হল "চন্দ্রহাস২ মহাকাল" এর প্রচ্ছদ ও আলংকণ নিয়ে নতুন করে বলার সাধ্য আমার নেই বইয়ের প্রচ্ছদ ও ভিতরের 'আলংকরণ' কাহিনীর বর্ণনা দিয়ে দেয়। যথারীতি
"চন্দ্রহাস২ মহাকাল" শেষ করে বোতলের হাফ জল ঢক ঢক করে খেয়ে যখন একটু থিতু হচ্ছি তখন বুঝতে পারছি যে সত্যি এটা কী পড়লাম ?? "চন্দ্রহাস" আমায় অবাক করেছিল আর "মহাকাল" আমায় শুধু অবাক করেনি বরং সমৃদ্ধ ও করলো। কাহিনী নিজের ছন্দে গতিপথ পরিবর্তন করে কাশী, উজ্জয়িনী, আসাম ত্রিপুরা সহ স্থানে বিস্তার লাভ করে চলে। উল্লেখ পাওয়া যায় তন্ত্রের গোপন গুহ্য কর্মকাণ্ডের। ইতিহাস,পুরাণ,তন্ত্র এর ভয়াবহ মিশেল যেটা আপনার চিত্তে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে নির্দ্বিধায়। বইটা পড়ার সময় খাতা কলম নিয়ে বসা জরুরি কিছু লাইন এতই হৃদয়স্পর্শী যে নোট করা আবশ্যক বলে আমার মনে হয়েছিল, নিজেস্ব মতামত পড়তে গিয়ে আমি এরকম চার পাঁচটা সংলাপ সংযুক্ত লাইন এমন পেলাম যা নোট করা আবশ্যক বলে মনে হল। এছাড়াও তথ্যের ব্যাপকতায় পড়ার সুবিধার্থে কিছু জিনিস নোট করা আবশ্যক হয়েই যায়। আমি রিভিউ টিভিউ কিছু করতে পারিনা পড়ার জন্য পড়া নয় ভালোবেসে উন্মুখ হয়ে পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি ভালোবেসে বইপড়ি।
সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই লম্বা লেখাটা লিখলাম আশা করছি "চন্দ্রহাস" ঝড় অবার শুরু হবে।
ধন্যবাদান্তে: তিয়াসা মুখপাধ্যায়
2 reviews
April 10, 2022
"প্রদোষে চন্দ্র উদিতাং। ব্যোম ভোলে",না এখানে প্রদোষ চন্দ্র নয় এখানে চন্দ্রহাস রয়েছে আর প্রদোষচন্দ্রের ভূমিকায় অভিনীত সব্যসাচী চক্রবর্তী নয় ,এখানে গোয়েন্দা সব্যসাচী চক্রবর্তী এক ভিন্ন চরিত্রে নিজেই বিদ্যমান।গল্পের প্রেক্ষাপট কাশী, উজ্জয়িনী,ত্রিপুরা,বনারাস হলেও, এ গল্প এক অন্য কাশীর কথা বলে।নায়ক এখানে চন্দ্রহাস ১ এর প্রফেসর রাঘব চক্রবর্তী।এই বইয়ের ব্যাপারে গোড়াতে একটা কথা বলা জরুরী। একটা নয় আসলে দুটো।
প্রথম- চন্দ্রহাস২ পড়ার আগে চন্দ্রহাস১ পড়তেই হবে,না হলে চরিত্রদের যেমন গল্পের সাথে relate করতে অসুবিধা হবে,ঠিক তেমনি এই গল্পের পরোতে পরোতে জড়িয়ে আছে তার আগের গল্প। আগের গল্পের চরিত্রদের মধ্যে আদিত্য নারায়ণ, প্রফেসর রাঘব, রিশানের সাথে যোগ হয়েছে কিছু নতুন চরিত্র তার মধ্যে অন্যতম গোয়েন্দা সব্যসাচী চক্রবর্তী এবং খলনায়িকা করালী।
দ্বিতীয় কথা, এটা যদিও এখন বই আকারে প্রকাশিত, পাঠকের কল্পনাশক্তি যদি প্রবল হয় এবং পড়তে গিয়ে সাথে কল্পনা যোগ হয় তবে সাধু সাবধান, দুর্বল হৃদয়ের ব্যক্তি এই বই না পড়াই ভালো ।বইয়ের illustration থেকে একটি নমুনা আর অনবদ্য তার চিত্রায়ন থেকে যদি ধারণা অথবা কিঞ্চিৎ আন্দাজ পান তাহলে দূরে থাকুন। কারণ এটি এতোটুকু অত্যুক্তি আমি করছি না।এই প্রসঙ্গে আরো বলা উচিত শুধু লেখা নয় এই বইয়ের প্রচ্ছদের সাথে ভিতরের illustration অসাধারণ। অলংকারক অনিকেত মিত্রকে কুর্নিশ 🙏। তবে একটা অনুরোধ পরের গল্পে সব চরিত্রদের front face একটা করে ছবি থাকলে পাঠকের ধারণা করতে সুবিধা হয়, বিশেষ করে মূল চরিত্রদের।
এই গল্পের মূল বিষয় ভৈরবের জাগরণ। যারা প্রথম অংশ পড়েছেন তাদের কাছে ভৈরব আলাদা করে বলতে হয়না, নামই যথেষ্ট। আর যারা পড়েননি তাদের বলি মহিষাসুরকে দুর্গার পায়ের সামনে দেখেছেন, সামনে জীবিত অবস্হায় একবার ভেবে দেখুন,সাথে তার কালো সিংহ।না এই গল্পে তারা নেই, তাদের আগমন বার্তা রয়েছে। এই দুইয়ের দাপট প্রথম বইয়ে পাঠকদের কোন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল তা যারা পড়েছেন জানেন এবং সেই গল্পের শেষে তাদের অস্থি এবং ছাই নিরুদ্দেশের সাথে এই দ্বিতীয় গল্পের বীজ জন্মেছিল। সেই বীজ এই গল্পে এক পরিপূর্ন বৃক্ষে রূপ নিয়েছে ।খুব সার সংক্ষেপে বলতে গেলে ভৈরবের পুনর্জন্ম রিশান সেই অস্থি আর ভস্ম নিয়ে ভৈরবের জগরণের জন্যে কাশীতে আস্তানা গড়ে এবং সাথে যোগ দেয় এক যোগিনী কড়ালী। এদের দুজনের যৌথ উদ্যোগে চৌধুরী বংশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের আত্মীয় স্বজনরা অপহৃত হতে থাকে বলির উদ্দ্যেশে। কারণ ভৈরব কে জাগাতে ১৫০ নরনারীর বলি লাগবে যারা সবাই হতে হবে চৌধুরী দের bloodline।সরকারের টনক নড়তে গোয়েন্দা বিভাগ থেকে unofficially সব্যসাচী চক্রবর্তী নামের এক গোয়েন্দাকে নিয়োগ করা হয় রহস্যের সমাধানে। আর চন্দ্রহাস যারা পড়েছেন জানেন এই রহস্য সমাধানে প্রফেসর রাঘব ছাড়া গতি নেই , কারণ এই লড়াই পার্থিব শক্তির সাথে নয়।চন্দ্রহাস ১ এর সাথে ২ এর কী তফাৎ আর কোনটা ভালো সেই তুলনা করা উচিত নয় । কারণ লেখক যখন কিছু লেখেন তার পিছনের পরিশ্রম একজন পাঠকের বোঝা হয়তো সম্ভব নয়।একটা বইয়ের পিছনে কতো গুলো বইয়ের উপাদান লাগে আর সেগুলোকে পড়ে একটা বইয়ে তার সবটা গল্পের মতন পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া এক কষ্ট সাধ্য কাজ, সেটা একমাত্র লেখক বোঝেন। এক্ষেত্রে এই বইয়ে কাশী, বানারস, উজ্জয়িনী, ত্রিপুরার ইতিহাস। বিখ্যাত ঘাট গুলোর পৌরাণিক কাহিনী। অনেক তান্ত্রিক মতের বিবরণ সাথে সংস্কৃত শ্লোক এসব কিছু অতি নিপুণভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরতে সৌরভ দা চন্দ্রাহাস ১ থেকে ২ তে একটু বেশি সফল বলে আমার মনে হয়।গল্পের শুরুর দিকে সেই ভাবে গতি না নিলেও, যতো এগোতে থাকে গল্পের লেখনশৈলি , চরিত্রের প্রকাশ , লেখার মান ক্রুমশ গল্পের শেষ অবধি টেনে নিয়ে যেতে বাধ্য করবে। বাংলায় এই ধরনের থ্রিলার নেই আর হয়নি। আপনারা "অসুর" বলে একটি series দেখেছিলেন, তার বিষয়বস্তু আলাদা হলেও তাতে পৌরাণিক touch ছিল। এখানে একটা গোটা গল্প ,একটা থ্রিলার এই নরবলির ইতিহাস আর ভৈরব কে ঘিরে এক আলাদাই আবহ তৈরি করেছে।
আমার ব্যক্তিগত ভাবে এই বই আগেরটির চেয়ে আরো এক ধাপ এগিয়ে এবং নোটে গাছ এখনো মুরোয়নি বরং গাছ এবার ফল দিতে সবে শুরু করেছে। তাই আগামীর প্রলয় এর চেয়ে ভয়াবহ হতে চলেছে সেটা গল্পের শেষ পাতায় ভয়ংকর ইঙ্গিতের সাথে বিদ্যমান।
প্রকাশনা: The Cafe Table
মূল্য: ৪০০/- টাকা
Profile Image for Saayan Sarkar.
3 reviews2 followers
April 6, 2022
চন্দ্রহাস ২ : মহাকাল
সৌরভ চক্রবর্তী
প্রকাশক : ক্যাফে টেবিল
মুদ্রিত মূল্য ₹৪০০

চন্দ্রহাস মানে নৃশংস রক্তারক্তি ব্যাপার, চন্দ্রহাস মানে গা গুলিয়ে ওঠা বর্ণনা, চন্দ্রহাস মানে অতিপ্রাকৃতিক শিউরে ওঠা ব্যাপার স্যাপার। এগুলো সবাই জানে। আমি একটু অন্য দিক দিয়ে আলোচনা করতে চাই আগে। ছোটবেলায় পাণ্ডব গোয়েন্দা বইটা আমার ভীষন প্রিয় ছিল, তার অন্যতম কারণ প্রতিটি অ্যাডভেঞ্চর নতুন নতুন জায়গায়, কখনো রাজস্থান, কখনো মহারাষ্ট্র, কখনো আবার মধ্যপ্রদেশ নিয়ে ষষ্ঠীপদ বাবু দুর্দান্ত বর্ণনা দিতেন। পূজাবার্ষিকী তে সেই লেখা পড়লে মনে হতো নিজেই ঘুরতে চলে গেছি।
এই দুর্দান্ত বর্ণনা এবং অনেক নতুন তথ্য/ট্রিভিয়া পেয়েছি সৌরভের লেখাতেও।
চন্দ্রহাস প্রথম পর্বে আমরা পেয়েছিলাম নরবলির ইতিহাসের ওপর বিস্তারিত তথ্য। বিশ্ব তথা ভারতবর্ষে প্রাচীন কাল থেকে চলে আসা এই বীভৎস প্রথার বিস্তারিত ইতিহাস। জেনেছিলাম পারিবারিক নরবলি র মত প্রথা, জেনেছিলাম উচ্ছিষ্ট গণপতির সম্বন্ধে। এছাড়া জেনেছিলাম বস্তার জেলায় অবস্থিত দন্তেস্বরী মন্দির সম্পর্কে। দ্বিতীয় পর্বে এই পরিধি আরো বড়। কাশী, ত্রিপুরা, উজ্জয়নি এই তিন স্থানের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন লেখক। জানতে পারি অনেক অজানা তথ্য। কাশীর মনিকর্নীকা ঘাট থেকে উজ্জয়নির মহাকাল মন্দির, এই কাহিনীর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে ধর্ম, পুরাণ এবং ইতিহাস। জানা যায় ত্রিপুরার নরবলির বিস্তারিত ইতিহাস, আর হ্যাঁ, সৌরভের অন্যান্য বইয়ের মত এই বইয়ের ভূমিকাটা পড়তে ভুলবেন না, নাহলে কিন্তু গল্পপাঠ অসম্পূর্ণ থাকবে।
এবার আসা যাক গল্পের অন্য দিকে, যে দিকের ব্যাপারে পড়ার জন্যে পাঠক শেষ দুবছর এই বইয়ের জন্যে মুখিয়ে ছিল। যে বিভৎসতা আজ থেকে দু বছর আগে বাংলা ভাষার পাঠকদের নাড়িয়ে দিয়েছিল, যে অতিপ্রা��ৃতিক বর্ণনা ভয় দেখিয়েছিল সেই ভয় বা বীভৎসতার চরিত্র এই বইতে অনেকটাই অন্যরকম। লেখকের ভাষায় "তবে চন্দ্রহাসের প্রথম খণ্ডের মতাে এই খণ্ড ততটা দামাল নয়। বরং মানুষের জীবনের উথালপাথাল করা সময়ে চূড়ান্ত স্থির থাকার কাহিনি লিখেছি এবার। শুধুমাত্র রণং দেহী নয়, মাঝে মাঝে বৈরাগ্যের মধ্যেও যে জীবন খুঁজে নেয় তার স্থায়িত্ব, সেই কাহিনিই এই মহাকাল অধ্যায়।"
এত কিছু পড়ে ভাববেন না বইটা শুধু ইতিহাস এবং পুরাণের কচকচি। এই উপন্যাসে ভয় আছে, আছে নৃশংসতা। গল্পের শুরুতে কাশীর এক গুপ্ত কুঠুরিতে দেবী বগলামুখীর সামনে উলুকতন্ত্রের বর্ণনা পড়ে গা শিরশির করে উঠেছিল, আছে দেহধারিনী বিদ্যা বা সর্পমোহিনী বিদ্যার প্রয়োগের অদ্ভুত উপাখ্যান। আর আছে করালী। এই গল্প শুধু করালীর জন্যেই পড়া যায়। কেন?? সেটা বললে স্পয়লার হয়ে যাবে। আর হ্যাঁ, এই গল্পের ক্লাইম্যাক্স বা শেষ ১৫-২০ পাতা কিন্তু চন্দ্রহাস ১ কেও টপকে গেছে। ওই শেষের দিকটা কিন্তু খেতে খেতে বা রাতের দিকে পড়বেন না।
এবার আসি যে দিকগুলো ভালো হতে পারত। লেখক যে পরিশ্রমের পরিচয় বিভিন্ন জায়গার পৌরাণিক এবং ঐতিহাসিক বর্ণনা দিয়েছেন, যে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন ত্রিপুরার নরবলির ইতিহাসের বা বিভিন্ন তান্ত্রিক ক্রিয়ার, সেই বিস্তারিত বিবরণ যদি চরিত্রের ব্যাকস্টোরি তে পেতাম। রিশানের মধ্যে আমরা বিপুল চারিত্রিক পরিবর্তন দেখতে পাই, কিন্তু তার যথাযথ কারণ আমরা কোথাও পাইনা। সেরকম পাইনা করালী র কোনো ব্যাক স্টোরি। কে এই ভয়ঙ্কর সাধিকা?? কি তাঁর উদ্দেশ্য, এগুলো জানতে পারলে ভালো লাগতো।

ব্যাস ওইটুকুই খারাপ লাগা। মহাকাল কিন্তু তার আগের পূর্বসূরি গ্রন্থের থেকে অনেক বেশি পরিণত, অনেক ধীর স্থির, কিন্তু প্রয়োজন পরলে আরো বেশি হিংস্র। তাই বইটা পড়ুন।
Profile Image for Bappy Khan.
Author 25 books233 followers
April 5, 2022
প্রথম পর্বের চেয়ে বেশ গোছানো, আরও খানিকটা পরিণত। শুধু তন্ত্র-মন্ত্র বা অতীত ইতিহাস নয়, বরং বর্তমানের কাহিনিতেও কিছুটা জোর দিয়েছেন লেখক-এটা ভালো লেগেছে।
Profile Image for Boichitrya_boichitro.
32 reviews5 followers
February 26, 2025
চন্দ্রহাস কোথায় গেল আর কে বা নিয়ে গেল তাকে??? কোথায় গেল ভৌরব আর কালো সিংহের অস্থি ??? ভৌরব কি তাহলে এখনও বেঁচে আছে ?? রিশানও বা গেল কোথায় ??? এইরকম আরো হাজারো প্রশ্নের উত্তর জানতে চন্দ্রহাস ২ মহাকাল পর্বের সূচনা।
প্রথম পর্ব যেমন ছিল চন্দ্রহাসের অভিশাপ খন্ডনের চেষ্টা, তেমনি দ্বিতীয় পর্ব হলো ভৈরবের জাগরণের পর্ব। রিশান চন্দ্রহাস ও ভৈরবকে নিয়ে যে অসম ক্ষমতা ও ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে তার ইতি টানবেন এইবার রাঘব। কিন্তু তার বিনিময়ে যে জ্বলে উঠবে হাজারো চিতা, শিশু, নারী, পুরুষ, বয়স্ক কেউ যে সেই তালিকায় বাদ পড়বেন না তা কি জানতেন রাঘব!! এক অভিশাপ আর কত প্রজন্ম চলবে এবং আরো কত পরিবারকে নিঃস্ব ও নির্বংশ করবে!!!

তবুও কি এই অভিশাপ শেষ হয়েছে আদৌ??? রিশানের বলা শেষ কথা গুলোর অর্থ তাহলে কি?? ভৈরব কি এইবার সত্যি জেগে উঠলো?? এই অভিশাপের শেষ কোথায়??
Profile Image for Arpita Chowdhury.
22 reviews3 followers
March 31, 2025
#bookreview

বই: চন্দ্রহাস ২ - মহাকাল
লেখক: সৌরভ চক্রবর্তী
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ: অনিকেত মিত্র
ধরণ: মাইথোলজিক্যাল থ্রিলার/হরর
প্রথম প্রকাশ: মার্চ ২০২২
প্রকাশক: বাতিঘর প্রকাশনী (বাংলাদেশ সংস্করণ)
মুদ্রিত মূল্য: ৪৫০/-

⭐ ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.০/৫.০

জনপ্রিয় ভারতীয় লেখক সৌরভ চক্রবর্তীর অন্যতম সেরা থ্রিলার সিরিজ "চন্দ্রহাস" - এর দ্বিতীয় সিক্যুয়েল হলো "চন্দ্রহাস ২ - মহাকাল"। এই দ্বিতীয় বইটিতে এই সিরিজের প্রথম পর্ব "চন্দ্রহাস" এর তুলনায় ঐতিহাসিক 'চন্দ্রহাস' অস্ত্রকে ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য আরও গভীর হয় যেখানে চরিত্ররা আরও পরিণত এবং গল্পের উত্তেজনাও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিরিজের প্রথম বই "চন্দ্রহাস" যদি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও পরাক্রমশালী ভৈরবকে নিধনের কাহিনী হয়, তবে এই দ্বিতীয় বই "চন্দ্রহাস ২" হলো ভৈরবকে পুনর্জাগরণের কাহিনী। "চন্দ্রহাস"- এর গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয়েছে "চন্দ্রহাস ২"- এর গল্প। প্রথম পর্বের শেষে আমরা দেখতে পাই রিশান মৃত ভৈরব ও সেই কালো সিংহের দেহাবশেষ ও অস্থি নিয়ে পালিয়ে যায়। আর ঠিক এখান থেকেই শুরু হয় সিরিজের দ্বিতীয় পর্বের যাত্রা। এখানে প্রথম পর্বের মূল চরিত্র অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রাঘব চক্রবর্তী, মহারাজ প্রতাপ নারায়ণের বংশধর আদিত্য নারায়ণ চৌধুরী ও খলনায়ক রিশান ও অন্য কিছু চরিত্র ছাড়াও আরো বেশ কিছু নতুন নতুন চরিত্রের দেখা মেলে এই দ্বিতীয় পর্বে। এই পর্বে নরবলির পরিবর্তে নারীবলির অধিক্য দেখা যায়। এছাড়া পূর্ববর্তী পর্বের মতোই এই পর্বেও পাঠক নরবলি সম্পর্কে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য জানতে পারবেন।

"চন্দ্রহাস ২" বইটির অন্যতম আকর্ষণ হলো ভগবান মহাকালেশ্বর - এর নিবাস বেনারস, কাশীধাম ও উজ্জয়নীর ঐতিহাসিক এবং চমকপ্রদ বর্ণনা। স্বয়ং মহাকাল অদৃশ্যভাবে হলেও যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছেন এই বইটির কাহিনীর সাথে। শেষ পর্যন্ত কি রাঘব রিশানের ভৈরব পুনঃজাগরণের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে সক্ষম হবেন, নাকি রিশান সেই পরাক্রমশালী পৈশাচিক ভৈরবকে পুনঃজাগ্রত করার অভিপ্রায়ে সফল হয়ে যাবে? সেটি জানতে পড়ে ফেলুন "চন্দ্রহাস" সিরিজের সিক্যুয়েল "চন্দ্রহাস ২ - মহাকাল" বইটি।

ব্যক্তিগত অভিমত:
"চন্দ্রহাস" পড়ার পর থেকেই এর দ্বিতীয় সিক্যুয়েলটি তাড়াতাড়ি সংগ্রহ করে অধীর আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করি। লেখক এইবারেও সিরিজের প্রথম পর্বের মতোই দ্বিতীয় পর্বেও টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি করতে সফল হয়েছেন। "চন্দ্রহাস ২" বইটিতে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে ভগবান মহাকালেশ্বরের পবিত্র তীর্থস্থান বেনারস ও কাশীধামের অসাধারণ বর্ণনা। তবে এই দ্বিতীয় পর্বে লেখক বাস্তব ঘটনার তুলনায় অপ্রকৃত ঘটনাকে অতিমাত্রায় প্রাধান্য দিয়েছেন যেটি আমাকে নিরাশ করেছে। বইয়ের কিছু কিছু অধ্যায়ে যেখানে ঘটনার বিবরণ বাস্তবের সাথে কিছুটা হলেও সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারতো, সেখানে লেখক অত্যধিক পরিমাণে অপ্রাকৃত ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফেলেছেন, যেটি মূল কাহিনীটিকে অবাস্তব হিসেবে চিহিৃত করেছে। তবে লেখক প্রাচীন ও গুহ্য বেশ কিছু জটিল তন্ত্রবিদ্যার সহজ ও সাবলীল বর্ণনা দিয়েছেন, যেটি সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। সব মিলিয়ে লেখক ইতিহাস, অতিপ্রাকৃত শক্তি ও বিজ্ঞানের মিশেলে এক রোমাঞ্চকর জগৎ তৈরি করেছেন, যেখানে প্রতিটি অধ্যায়েই পাঠকের জন্যে নতুন চমক অপেক্ষা করছে।

যারা "চন্দ্রহাস" সিরিজের প্রথম বইটি পড়েছেন, তারা এটি না পড়লে অনেক কিছু মিস করবেন। আর যদি নতুন পাঠক হন, তাহলে প্রথম বইটি পড়ে, তারপর "চন্দ্রহাস ২" এর রোমাঞ্চকর অভিযানে নামবেন। এতে করে পড়ার মজা ও আগ্রহ দুটোই দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। যেসব পাঠকেরা অ্যাডভেঞ্চার, থ্রিলার, পৌরাণিক কাহিনি আর রহস্য পছন্দ করেন তাদের কাছে "চন্দ্রহাস ২ - মহাকাল" বইটি বেশ উপভোগ্য হবে আশা করি।
.
.
.
©️ অর্পিতা চৌধুরী
2 reviews2 followers
May 7, 2022
বইয়ের নাম: চন্দ্রহাস ২
লেখক: সৌরভ চক্রবর্তী
ধরন: ঐতিহাসিক থ্রিলার

ফ্ল্যাপঃ-
কাশীর মণিকর্ণিকা ঘাটের শ্মশানে এই কাহিনি শুরু, মণিকর্ণিকা ঘাটেই এই কাহিনি শেষ। নারীবলি, কাশী-বারাণসীর গুপ্ত কুঠুরিতে সাধনা, লুপ্ত তান্ত্রিক বিদ্যা, বৈরাগ্য, ঐতিহাসিক গুপ্তহত্যা এবং মহাকালেশ্বরে সাধকদের প্রশিক্ষণের বৃত্তান্ত রয়েছে এই গ্রন্থে।
দুর্বল চিত্তের পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

•ভারতবর্ষের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দুটি তীর্থ কাশি-বেনারস ও উজ্জয়ীনি। এই দুই তীর্থে সন্ন্যাসীদের আগমন সর্বাধিক। উচ্চকোটির কিছু সাধক নিজেদের গুপ্তকুঠুরি তৈরি করে সেখানে তাদের ইষ্টদেবীর সাধনা করেন। এক সময় এই উচ্চকোটির সাধকদের মধ্যে আবির্ভাব হয় কিছু শয়তানের। তাদের সাধনা ইষ্টদেবীকে সন্তুষ্ট করার জন্য না, কোনো এক অশুভ শক্তিকে জাগিয়ে তোলার জন্য।

কোন��� এক জঙ্গলের গুপ্ত গুহামুখে চলছে এক কঠিন সাধনা। কোনো এক অশুভ শক্তির নিত্য পুজা, অশুভ নাগমোহিনী বিদ্যা ও দেহধারিনী বিদ্যার প্রয়োগ হয় এখানে। তাদের উদ্দেশ্য ভয়ঙ্কর কিছু।

পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা সহ বিভিন্ন জায়গার পুজা মণ্ডপ থেকে হঠাৎ করে লোকজন উধাও হতে শুরু করে। পরক্ষণেই পুজার তেল-সিদুর এর পাত্রে সিদুর এর বদলে পাওয়া যায় কাচা রক্ত। এ বিষয়ে ইনভেস্টিগেশনের দায়ীত্ব নেন সরকারি গ���য়েন্দা সব্যসাচী চক্রবর্তী। রহস্যের জাল ভেদ করতে গিয়ে তিনি সন্ধান পান প্রফেসর রাঘবের।

প্রফেসর রাঘব বেশ বহুদিন ধরেই পড়ে আছেন কাশির মণিকর্ণিকা ঘাটে। কোনো এক অজানা কারণে তার মন বিচলিত হয়ে উঠছিল দিন দিন। কিন্ত তার কোনো সুরাগ তিমি পাচ্ছিলেন না। অবশেষে একদিন খবর এলো চন্দ্রহাস মহল থেকে। সেই থেকে এগোতে থাকে কাহিনী। চন্দ্রহাস আবার জাগ্রত হতে চলেছে...

•চন্দ্রহাস ১ যেখানে শেষ হয়েছিল সেখান থেকেই চন্দ্রহাস ২ এর শুরু। এবার নরবলির ইতিহাসের সাথে কাশি বারাণসি, মণিকর্ণিকা, আসাম, ত্রিপুরা, উজ্জয়িনীসহ আরও কিছু স্থানিক ইতিহাস যুক্ত হয়েছে। আগের চরিত্র দের সাথে যুক্ত হয়েছে কয়েকজন নতুন চরিত্র- সব্যসাচী, ডোমরাজ, কাল করালী, অচ্যুত। এবারের প্লট আগের তুলনায় ভালো।
কেবল চন্দ্রহাস মহলের সুরঙ্গের মধ্যেই কাহিনী শেষ হয়ে যায়নি, বিশাল বিস্তৃতি পেয়েছে। খলনায়িকা করালির চরিত্র বেশ আকর্ষনীয় লেগেছে। পুরো বইয়ের সমস্ত নৃশংসতার বর্ণনা লোমহর্ষক ছিলো বটে, দুঃখের বিষয় হলো একবার এর জন্যও গায়ে কাটা দিলোনা, হয়তো আমি দুর্বল চিত্যের মানুষ হলেই আমার জন্য বইটা বেশি উপভোগ্য হতো🙂। সব মিলিয়ে অসাধারণ ছিলো, চন্দ্রহাস ৩ এর অপেক্ষায় থাকলাম।
Profile Image for Farhan Nayem.
172 reviews2 followers
July 4, 2024
প্লটঃ ভৈরবের সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে রাঘব জয়লাভ করলেও ভৈরবের অস্থি নিয়ে পালিয়ে যায় রিশান। তারপরই সে তার চূড়ান্ত পরিকল্পনা শুরু করে এক উচ্চকোটির সাধ্বী কাল করালীর সাথে। পরিকল্পনামতো একের পর এক চৌধুরী বংশধরদের অপহরণ করতে শুরু করে ওরা। উদ্দেশ্য একটাই—চৌধুরীবাড়ির বংশধরদের ভৈরবের সামনে বলি দিয়ে তাকে জাগ্রত করা। কিন্তু ইতিহাসের প্রফেসর রাঘব কি তা হতে দিতে পারেন? ভৈরব জাগ্রত হলে যে অনর্থ ঘটে যাবে,রক্তের গঙ্গা বইতে থাকবে চারদিকে। এরূপ পরিস্থিতিতে রাঘব ও তার দল নেমে পড়েন রিশানের ভয়ংকর পরিকল্পনার হাত থেকে সবাইকে বাঁচাতে। রাঘব কি পারবেন রিশানকে আটকাতে? ভৈরব কি শেষ পর্যন্ত জাগ্রত হতে পারবে?


★রিভিউঃ সৌরভ চক্রবর্তীর লেখা "চন্দ্রহাস" বইটা পড়েছিলাম বেশ কয়েক বছর আগে। পারিবারিক নরবলির ইতিহাস ও তন্ত্রমন্ত্রের সংমিশ্রনে লেখক যে গল্প ফেঁদেছিলেন তা দারুন লেগেছিল আমার। চন্দ্রহাস বইয়ের শেষে একটা সিক্যুয়েলের ইঙ্গিত থাকায় অপেক্ষা করছিলাম পরবর্তী বইয়ের। অবশেষে দ্বিতীয় বইটাও পড়ে ফেললাম। সত্যি বলতে,প্রথম বইয়ের থেকে এই বইটা আমার বেশি ভালো লেগেছে। লেখকের গল্পের ফাকে ফাকে উঠে এসেছে ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্যের প্রাচীন নরবলির ইতিহাস। গতবারের মতো এবারেও বেশ ডিটেইলিংয়ের সাথে বিষয়গুলো বর্ননা করেছেন লেখক। তাছাড়া নাগমোহিনী ও দেহধারনের মতো তান্ত্রিকবিদ্যার ব্যাপারে এই বইয়ের মাধ্যমেই প্রথম জানতে পারলাম। প্রফেসর রাঘবের সাথে রিশানের দ্বৈরথ খুব উপভোগ করেছি। আগের বইয়ে যারা ছিলেন বন্ধুর মতো,এই বইয়ে তারাই অস্ত্রধারন করেছে একে অপরের বিপক্ষে। তবে গল্প এখানেই শেষ নয়,বইয়ের ক্লাইম্যাক্সে চন্দ্রহাসের তৃতীয় পর্বের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন লেখক। প্রাচীন নরবলির এই কাহিনী কোথায় গিয়ে শেষ হয় তা জানার জন্য আমি এক্সাইটেড। চন্দ্রহাসের তৃতীয় পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
1 review
April 7, 2022
উপন্যাস চন্দ্রহাস ২ :
মহাকাল...লেখককে অভিনন্দন!

প্রচ্ছদ: অনিকেত মিত্র,
পৃষ্ঠা: ২৮৮,
মূল্য: ৪০০৳
বলার মত কিছু খুজে পাচ্ছি না।বইয়ের পাতায় যে ঘটনা গুলো বর্ননা করা হয়েছে পড়ার সময় সেই ঘটনা গুলো যেন আমার নিজের চোখের সামনে ঘটেছে এমন একটা ঘোর লাগা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।এমন অনেক কিছু জানতে পেরেছি যা ধারনার ও বাইরে।লেখক সৌরভ চক্রবর্তী কে ধন্যবাদ এই ধরনের রোমাঞ্চকর বই উপহার দেয়ার জন্য। এক কথায় হারিয়ে গিয়ে ছিলাম সে রাজ্যে যেখানে মনে হয়েছে আমিই রিসান আবার আমিই রাঘব।আর করালি তো সাক্ষাৎ মাতংগিনি।কাশির ঘাট থেকে যে যাত্রা কাশির ঘাটেই এর চরম পরিনতি। অদ্ভুত এক রোমাঞ্চকর যাত্রা।
রেটিং ৮.৫/১০
Profile Image for Lutfun Naher.
34 reviews
December 1, 2025
ভালো ছিল, কিন্তু ঐতিহাসিক ইনফেরমেশন একটু বেশিই ছিলো। কথায় কথায় পুরাতন ইতিহাসের আলোচনা যা আমার এই বই পড়াটা এগিয়ে নিতে বোরিং লেগেছে। শেষে মন খারাপ লেগেছে এএএকটু খানি। তবে খারাপনা, ভালো লেগেছে শেষ পর্যন্ত কাহিনীটি। বংশগত কার্যকলাপের একটা প্রভাব যে পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে বা তাদের কর্মফল যে পরবর্তী উত্তরসূরীদের মধ্যেও বর্তায় তার পূর্ণরূপভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এই চন্দ্রহাস এর মাধ্যমে। তবে গল্প-উপন্যাস পড়তে গিয়ে এতো একাডেমিক পড়া লেখার মতো ইতিহাসা জানা ভালো লাগে না, তাই মাঝে মাঝে বিরক্ত লেগেছে। তবে হ্যা তৃতীয় পার্টের জন্য অবশ্যই অপেক্ষায় রইলাম।
3 reviews
April 7, 2022
ইদানিংকালে পড়া সর্বোৎকৃষ্ট আধুনিক থ্রিলার যাতে আধ্যাত্মিকতার মিশেল আছে। আধ্যাত্মিকতাকে এতো ভালোভাবে আর কোনো থ্রিলারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গতি যথাযথ, ভাষা সুন্দর, টানটান একটা উপন্যাস। চন্দ্রহাসের থেকেও অধিক ভালো লাগলো চন্দ্রহাস ২ মহাকাল। ওয়েব সিরিজ হওয়া উচিৎ। শিব নিয়ে যারা জানতে চান, কাশী বারাণসী আর উজ্জয়িনীর মতো সাধনক্ষেত্রের সম্পর্কে যারা আগ্রহী তাদের জন্যও অবশ্যপাঠ্য। ত্রিপুরার তথা উত্তর পূর্ব ভারতের নরবলির ইতিহাস জেনে সমৃদ্ধ হলাম।

হাইলি রেকমেন্ডেড।
৫/৫ রেটিং।
Profile Image for Elmul.
15 reviews
July 23, 2022
চন্দ্রহাস ১ সাথে তুলনা করলে মোটামুটি হতাশই করেছে দ্বিতীয় বইটি। কাহিনী প্রায় পুরোটাই অনুমেয়, টুইস্টের কোনো বালাই নেই, বইয়ের ৭৫% ই ইতিহাসের বর্ণনা। ইতিহাস বর্ণনাও এমন যেনো জোর করে গল্পের এখানে সেখানে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। আড়াই বছর অপেক্ষার পর এমন কিছু সত্যিই হতাশাজনক। তারপরও তৃতীয় বইয়ের অপেক্ষায় আছি, আশা করি পরের বইতে ভালো কিছু পাবো।

প্রকাশকের কাছে অনুরোধ পরবর্তী সংস্করণে প্রথম পৃষ্ঠাতেই বড় বড় করে ট্রিগার ওয়ার্নিং দিয়ে দিবেন প্লিজ। ক্লাইমেক্সের নারীবলির বর্ণনা খুবই বীভসৎ এবং ভয়াবহ।
Profile Image for Farhan.
734 reviews12 followers
February 17, 2024
শেষ করাই গেল না। বা বলা ভাল, তিন ভাগের এক ভাগ গিয়ে দম হারিয়ে ফেললাম। সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের লেখনী পড়তে আরাম; কাহিনী যা-ই হোক লেখার মাধুর্য্যের কারণেই পড়ে যাওয়া যায়। এই জিনিস ব্যতিক্রম। এলোমেলো বাক্য, কে কোথায় কখন যাচ্ছে কি করছে কিছুই বোঝার উপায় নেই। প্রথমটা তা-ও পড়ে শেষ করেছিলাম, এটা একদম রাবিশ। তোপসের ভাষায়, কোডোপাইরিন।
3 reviews
May 3, 2024
Expected a lot, but failed to deliver. Unnecessary and irrelevant history telling stretched the story without adding anything. I guess it was done to add pages, nothing else. There was no need to keep the ending open, the author wants to write another book, it is very evident. Not enough explanation for the ending frustrated me after finishing the book. Part 1 was far better.
Profile Image for Diptanu.
56 reviews7 followers
April 6, 2025
দ্বিতীয় খন্ড এবার অনেক mature। পুরাণ-নারীবলি-adventure-ভ্রমন ও সবশেষে ভৈরবের জাগরণ, এই নিয়েই কাহিনী।
সবচেয়ে ভাল লাগলো, ত্রিপুরার নরবলির ইতিহাস।ত্রিপুরা ও আগরতলা ঘোরার এতো detail বিবরণ আর বোধহয় কোনো উপন্যাসে পাইনি। লেখককে ধন্যবাদ এটার জন্য।
পরের খন্ডের জন্য মুখিয়ে রইলাম। রাঘব ও ভৈরবের দ্বৈরথ এবার জমবে।
5 reviews1 follower
April 5, 2022
Started with high expectations as the first one was exceptionally thrilling. But after finishing I was as much disappointed. Through the whole book I searched for that 'grip' of the story but couldn't find it & the 'climax' was very much predictable.
Profile Image for Suvradeep Mandal.
22 reviews3 followers
January 14, 2025
বই - চন্দ্রহাস ২
লেখক - সৌরভ চক্রবর্তী

চন্দ্রহাস জাগ্রত হচ্ছে.....
ত্রিশূল প্রস্তুত হচ্ছে চন্দ্রহাসের বিরুদ্ধে.....
ছাত্র ভুলপথে গেলে শিক্ষককে তো আসতেই হবে......

চন্দ্রহাসের ১ম পর্ব যেখানে শেষ হয়েছিল, ২ এর ঘটনাকাল তার কয়েক বছর পরের। চন্দ্রহাস মহলের মধ্যে গল্প শেষ হয়নি, বরং এবার গল্পের বিস্তৃতি দেশের নানা দর্শনীয় স্থান জুড়ে। চৌধুরী বংশ কি সত্যিই রক্ষা পেল ভৈরবের অভিশাপ থেকে নাকি তার কালো ছায়া আবার পড়বে চৌধুরী বংশের ওপর? রিশান কোথায় গেল সেই ঘটনার পর? পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার বিভিন্ন জায়গা থেকে হঠাৎ উধাও হতে শুরু করেছে লোকজন - এটা কি কোনো অশনি সঙ্কেত? চন্দ্রহাস কোথায় গেল তারপর?... জানতে গেলে পড়তে হবে এই উপন্যাস।

পারিবারিক নরবলির যে উপাখ্যান শুরু হয়েছিল আগের পর্বে, তার আরও স্পষ্ট ঘটনাক্রম এই পর্ব (নরবলির চেয়ে বলা ভালো নারিবলি)। প্লট আগের বারের তুলনায় উন্নত ও গোছানো। লেখক এই পর্বে বর্তমানের ঘটনার ওপর জোর দিয়েছেন বেশী, তবে তার সাথে অতীতের ইতিহাস, পুরাণ ও বলির ঘটনার যে মিশেল ঘটেছে তা এক কথায় অসাধারণ (বিশেষ করে বারাণসীর ও উজ্জয়িনীর বর্ণনা)। কিছু টুকরো ঘটনা দিয়ে গল্প শুরু হয়েছে যার সমন্ধে জানা যাবে গল্প এগোলে। কিছু নতুন চরিত্রের আগমন ঘটেছে এবার, তবে তারা কতটা সফল সেটা পাঠক বলবেন কারণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে চরিত্রগুলির ভূমিকা নিষ্প্রয়োজন বলে মনে হতে পারে। যারা ইতিহাস ভালোবাসেন তাদের অবশ্যপাঠ্য, তবে কিছু জায়গায় ইতিহাসের কথাগুলি অনাবশ্যক মনে হয়েছে। গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো না হলেও গল্প টানটান, আগের পর্বের তুলনায় কিছুটা যেন পিছিয়ে গেছে এবার, সেরকম কোনো টুইস্ট নেই গল্পে যা একটু হতাশাজনক। তবে ভয়ংকর কিছু বিদ্যা যেমন - নাগমোহিনী বিদ্যা, উল্লুকতন্ত্র ইত্যাদির স্পষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়। গল্পের ক্লাইম্যাক্স বেশ নৃশংস। গল্পের শেষ সেই অর্থে হ্যাপি এন্ডিং না।
গল্প এখানেই শেষ নয়, তৃতীয় পর্ব আসছে....

ব্যক্তিগত রেটিং - ৫ / ১০
Profile Image for Zanika Mahmud.
187 reviews9 followers
Read
June 13, 2025
এবার ইতিহাস ছিল সেইই। অবশ্য লেখক আগেই তা বলে নিয়েছেন। কাহিনির জন্যে এই ইতিহাস আবার দরকারও ছিল।
৩য় খন্ডের অপেক্ষায়।
Displaying 1 - 21 of 21 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.