সুন্দরবনের পাশেই ছোটখাট গ্রাম কেটেরহাটে থাকেন সদাশিববাবু। একসময়ে দুর্দান্ত স্পোর্টসম্যান আর শিকারী ছিলেন। বিশাল পুরোনো বাড়ি্টায় তিনি একাই থাকেন। একমাত্র ছেলে আর নাতিনাতনিরা থাকে কলকাতায়, তবে তারা প্রতি সপ্তায় শনি-রবিবার এসে দাদুর কাছে থেকে যায়। বড় ঝিলের ধারে সদাশিববাবুর একটা বাড়ি আছে, একেবারেই পুরোনো আর বসবাসের অনুপযুক্ত। বাড়ি আর ঝিলটাকে ঘিরে অনেক কিংবদন্তী চালু আছে, তবে সদাশিববাবু সেসবে বিশ্বাসী নন। শীতের এক সকালে তিনজন যুবক নিজেদের সায়েন্টিস্ট পরিচয় দিয়ে গবেষণার জন্য বাড়িটা ভাড়া নিতে চায়। বিভিন্ন কথাবার্তার পর সদাশিববাবু রাজি হন, কিন্তু তারা চলে গেলে তাঁর মনটা খচখচ করে ওঠে। কাজটা কি ঠিক হলো?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
একজন সার্থক কথাসাহিত্যিক যখন শিশুসাহিত্যের আঙিনায় নেমে চুটিয়ে ক্ষমতাপ্রদর্শন করেন, তখনই বুঝি এসব অপূর্ব উপন্যাসের জন্ম হয়। হোক না সে ফরমায়েশি, হোওয়াই ডু আই কেয়ার?
আমার কপাল। মাতৃদেবীর কল্যাণে বয়স থাকতেও অদ্ভুতুড়ে খুব কমই পড়া হয়েছে। নতুনগুলো যে পড়বো, তাও মুস্কিল। হালফিলের আনন্দমেলা ও দেশ জুড়ে যেসব লেখা বেরোয়, সেসবে ইমিটেশন থাকলেও ফ্ল্যাটারী সামান্য। শীর্ষেন্দু আছেন আবার শীর্ষেন্দু নেইও। ম্যাজিক খুঁজতে সেই আদ্যিকালের অদ্ভুতুড়েই ভরসা।
এই গল্পটি অবশ্য কিছুটা হলেও গ্রাউন্ডেড। গোয়েন্দা কাহিনীর আবেশে, অ্যাডভেঞ্চার ও গুপ্তধনের জম্পেশ সন্ধান। সেভাবে দেখলে, একগুচ্ছ অ্যানিমেটেড চরিত্র বা বিদঘুটে সব ভূতেরাও হাপিস। থাকবার মধ্যে, স্রেফ কজন সহানুভূতিশীল নায়ক-নায়িকা, একটা নিখাদ ভালো গপ্পো ও নিদারুণ ফিল-গুড পরিসমাপ্তি। এই তো অনেক। আক্ষেপ, স্রেফ, ওই তাড়াহুড়ো করে গুটিয়ে নেওয়া ক্লাইম্যাক্স। যা আনন্দমেলার শব্দ পরিধির হিটলার-মাফিক শাসনের চূড়ান্ত নিদর্শন।
সে যাই হোক। বাদ দিন। খুঁত খুঁজে লাভ নেই। এই কনকনে শীতের রাত্তিরে...নবীন, বিলু ও অনুদের সাথে অভিযানে না নেমে থাকলে, সত্ত্বর নামবার তাল করুন। নইলে হঠাৎ এক সন্ধ্যায়, কোন বিটকেল ভূতে চ্যাংদোলা করে পুকুরের জলে মারবে ছুড়ে...আটকায়, কার সাধ্যি?
কেটেরহাট। সুন্দরবনের পাশেই একটা ছোটখাট গ্রাম। সদাশীব বাবু বারান্দায় বসে রোজকার মত পত্রিকা পড়ছিলেন। এমন সময় তিনজন সুট পড়া লোক এসে হাজির। কলকাতা থেকে এসেছে। তাদের মধ্যে একজন অভিজিৎ আচার্য্য। বিজ্ঞানী। পোকামাকড় নিয়ে গবেষনা করবে। সদাশিব বাবুর ঝিলের ধারের বাড়িটা ভাড়া নিতে চাচ্ছে। সদাশিব বাবুর পূর্বপুরুষরা ছিলেন ডাকাত। ডাকাতি করে বিস্তর টাকা পয়সা জমিয়েছেন। উত্তরাধিকারসুত্রে সদাশিব বাবু সেগুলার মালিক এখন। বাড়ি ভাড়া দিয়ে তার দরকার নাই। কিন্তু ঝিলের ধারের ঐ বাড়িটা অনেক পুরনো, নড়বড়ে। যে কোনও সময় ভেঙ্গে পড়বে। সব শুনেও অভিজিৎ বাড়িটা ভাড়া নিতে চায়।
বিজ্ঞানের কাজ করবে বলে সদাশিব বাবু বাড়ি দিতে রাজি হলেন, তবে কোনও ভাড়া নেবেন না। কেয়ারটেকার সিদ্ধিনাথের বেতন দিলেই হবে। বাড়িটা ভাড়া নিয়েই অভিজিৎ সিদ্ধিনাথকে বলল দেশের বাড়ি ঘুরে আসতে, নয়তো তীর্থে যেতে। টাকা পয়সা ওরাই দিবে। সিদ্ধিনাথ যেতে রাজি হলেও মনে মনে সন্দেহ করতে থাকেন, তাকে সরাতে চাইছে না তো? এ বাড়ির পেছনদিকে ঘাট বাধানো আছে ঝিল পর্যন্ত। কথিত আছে এই ঘাটের সিঁড়ি শেষে একটা বড় মন্দির আছে। কিন্তু সিদ্ধিনাথ এই ৪০ বছরে সেটার হদিশ পায়নি। নবীনের পূর্বপুরুষও ডাকাত ছিলেন। বরং তাদের দাপট সদাশিব বাবুর পূর্বপুরুষের থেকে বেশিই ছিল। কিন্তু এখন নবীনের বাড়ির ভাঙ্গা হাল। তাও দেনার দায়ে বন্ধক আছে মহাজনের কাছে। তার বাড়ির পাতালঘরে নাকি গুপ্তধন লুকানো আছে। তার ঠাকুরদা খুব চেষ্টা করেও সেই পাতালঘরের দরজা খুলতে পারেনি।
নবীন নিজেও চেষ্টা করে দেখেছে। নিরেট লোহার দরজা। কোনও আঙটা বা চাবির ফুটোও নাই। সদাশিব বাবুর ছেলে কলকাতায় থাকেন। তার দুই ছেলেমেয়ে বিলু আর অনু প্রতিসপ্তায় দাদুবাড়ি বেড়াতে আসে। এবার বড়দিনের ছুটিতে তারা এক সপ্তাহ থাকবে। ড্রাইভার ভূজঙ্গ ওদের নিয়ে আসছিল। কিন্তু কেটেরহাট মাইল চারেক বাকি থাকতেই গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। গাড়ি তালা দিয়ে তারা হেটেই রওনা দেয়। কিন্তু কেটেরহাটের আগে চাঁপারবনে একটা কালীবাড়ির মন্দির আছে, সেখানে আলো দেখে তারা অবাক হয়। এই মন্দির অনেকদিন থেকেই ব্যবহার হয়না। তাছাড়া দিনের বেলাতেও এখানে কেউ আসেনা। এই রাত্র এখানে আলো কেন?
ঘটনা কি এগিয়ে দেখতে গিয়ে তারা দেখে ওখানে বুড়ো সিদ্ধিনাথ পড়ে আছে অচেতন হয়ে। তার মাথা ফেটে রক্ত বেরুচ্ছে। বিলু আর অনুকে গ্রামের পথে পাঠিয়ে দিয়ে ভূজঙ্গ ওখানেই পাহারায় থাকে। অনু আর বিলুর বাড়িতে ঢুকার আগে নবীনের সাথে দেখা হয়। নবীনকে তারা সব খুলে বলে। নবীন ওদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে লোকজন জড়ো করে রওনা দেয়। কিন্তু ওখানে গিয়ে সিদ্ধিনাথের অচেতন দেহ ছাড়া আর কিছু পায়না। ভূজঙ্গের টিকির দেখাও নাই। অন্ধকারে খুঁজতে বের হয় নবীন। হঠাৎ বাঘের ডাকে ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু ডাকটা কেমন জানি মেকি মনে হয়। পরে ঝোপের ভিতর ভূজঙ্গকে খুঁজে পায় নবীন। তারও মাথার পেছন থেকে রক্ত ঝরছে।
একই দিনে দুই দুইটা মানুষকে খুনের চেষ্টা? শান্ত কেটেরহাটে কিছু একটা পাকিয়ে উঠছে। এবং সেটা শুরু হয়েছে, ঝিলের ধারে সদাশিব বাবুর বাড়িটা ভাড়া হওয়ার পর থেকে। তবে কি সাধুবাবার কথাই ঠিক? কেটেরহাট আর চাঁপার বনের নিচে পুরোটাই সুড়ঙ্গ?
ক্রমানুযায়ী অদ্ভুতুড়ে সিরিজের ১১ নম্বর বই এটা। তবে খুব অনায়াসেই আমার পছন্দের তালিকার শীর্ষে(এই সিরিজের বইগুলোর মাঝে) জায়গা করে নিল। গতানুগতিক অন্যান্য অদ্ভুতুড়েগুলোর তুলনায় হাসির খোরাক একটু কম। তবে সেটা পুষে গিয়েছে রহস্য+অ্যাডভেঞ্চার+চরিত্রায়ন দিয়ে। নবীনের কাণ্ডকারখানা মনে থাকবে বেশ লম্বা একটা সময়।
রোমাঞ্চকর একটি বই, উপন্যাসের পরিবেশ এককথায় মারাত্মক । এক বসায় পুরাটা পড়ে ফেলার মতো ভালো। তবে শীর্ষেন্দুবাবু কাহিনীর যবনিকা পতন খুব তাড়াতাড়িই করে ফেল্লেন আমার কাছে লাগলো । আপনার যদি বারো থেকে ষোলো সতেরো বছরের ছোট ভাই -বোন থাকে তাদের গিফ্ট করতে পারেন।
বইটা পড়েছিলাম মাসখানেক আগে। আজ হঠাৎ টেবিলের উপর দেখে মনে পড়লো। বইটা পড়ার পর মনে হয়েছিলো, ইশ্ এমন বই আগে কেন পড়লাম না। অদ্ভুতুড়ে সিরিজের অনেক বই আগেই পড়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কারণে এটা বাকি ছিলো। পড়া শুরুতে মনে হচ্ছিলো, মুখে একটা রসগোল্লা পুড়ে দিয়েছি, আর নিমেষেই সেটা মিলিয়ে গেলো।
পিতার পৈতৃক বাড়িখানা ঝিলের ধারে না হলেও আশেপাশে বিস্তর খালবিলে ভরপুর বন জঙ্গলের দরুন শৈশব কেটেছে দস্যিপনার সবটুকু স্বাদ নিয়েই।
নিত্যনতুন অভিযানের অভিযাত্রী হয়ে সুপ্রভাতের যাত্রা দিনান্তে মাতৃদেবীর ঝাটাপেটার ঝড় ঝাপটা সামলেই শেষ হতো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই।চোরা কখনো যেমন ধম্মের কথা শোনেনি আমার মনটাও কোনো শাসনে মানেনি;ফলাফলে একগুচ্ছ সুবাদ (ইয়ে অপবাদের ঠিক সুন্দর বিপরীতার্থক শব্দ ঠিক পাইনি:-P) সর্বদাই সেঁটে ছিল নামের পাশেই।
শীর্ষেন্দু কে ভালোবাসার বেশ বড়সড় কারনের মধ্যে অন্যতম একটা হলো সহজ শব্দে সোনালী অতীতের আলোঝরা সব মন ভালো করা স্মৃতি বর্তমানের ব্যস্ত বিবৃতকর ভুবনে শান্তিস্বস্তির ঝরঝরে বৃষ্টি হয়েই নামে এইসব অদ্ভুতুড়ে গল্পগুলোর জন্যই।
হয়তো কোনো একদিন সদাশিব বাবুর বাড়ির মতো একখানি ঘর খুঁজে পেতে বেরিয়ে পড়বো।বাড়ির পাশে আরশিনগর না হলেও সুন্দরবন তো আছেই,পাইলে পেয়ে যেতেও পারি অমূল্য রতন।
এই গল্পটা কিন্তু গতানুগতিক অদ্ভুতুড়ে সিরিজের মতো না, অন্যরকম রহস্য + অ্যাডভেঞ্চারে মোড়া। হাসির খোরাক এতে নাই। যতটা আশা করেছিলাম, ততটা মন ভরলো না।
কাহিনী সংক্ষেপ : গ্রামের নাম কেটেরহাট। সদাশিববাবুর অর্থাবস্থা বেশ আছে। তার পূর্বপুরুষ ডাকাত ছিল। আর আছে নবীনবাবু, এককালে তার অর্থাবস্থাও বেশ ছিল তবে এখন সবই গেছে। নবীনবাবুর পূর্বপুরুষও ডাকাত। ঝিলের ধারে সদাশিববাবুর একখানা পরিত্যক্ত বাড়ি আছে।কথিত আছে, ঝিলের যে সিঁড়ি আছে, তার শেষে নাকি এক মন্দির আছে, যার হদিস এখনও কেউ পায়নি।অন্যদিকে নবীনবাবুর বাড়ির মধ্যে পাতালঘর আছে, যেখানে গুপ্তধন আছে, তবে সেই পাতালঘরের দরজা নবীনবাবু খুলতে পারেনি। গ্রামে প্রতিবছরই এক আঘোরীবাবা আসে, তিনি বলে গেছেন কেটেরহাট ও চাপাকুঞ্জ সবটাই ফাঁপা। সাধুবাবার কথাই কি তবে সত্যি ? কেউ কি পারবে চাপাকুঞ্জের ফাঁপা অভ্যন্তরের সন্ধান বার করতে ?
মন্দ নয়। আবার খুব যে ভাল বলব সে উপায়ও নেই। হয়তো বেশ কিছু অদ্ভুতুড়ে পড়ে ফেলেছি দেখেই এমন দশা! কারণ কিছু নিয়মিত উপাদান চোখে বেজেছে। এই যেমন ধরা যাক, বহিরাগতরা এসে একখানা ঘর ভাড়া নিতে চাইছে। আবার, পাতালঘর, সেখানে হয়তো কিছু আছে, সেসব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এক দফায়! বঞ্চিত দরিদ্র উত্তরপুরুষ। আবার, কিছু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে হুটহাট, ইত্যাদি। তাও হয়তো চার তারা দিয়েই দিতাম। কিন্তু বাঁধ সাধল ভূত বাবাজি। এ বইতে সে বড় একটা ভূমিকা রাখেনি, এবং খুব স্বল্পই আনাগোনা করেছে। চরিত্র হিসাবে অনু আর তার ভাইকে মোটেই পছন্দ হয়নি। নবীন একটু ঠিকঠাক, তবে যথেষ্ট নয়। অথচ, ভাল দুটো চরিত্র নিয়ে খুব বেশি খেলাধুলা করলেন না লেখক। একজনকে প্রথম অধ্যায়ের পর আর একটুখানি করে এনেছেন, আর আরেকজনকে প্রথমটায় কিছু জ্বালানি দিয়ে, তারপর ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করে রেখেছেন। সবার জ্ঞান ফিরল, কেবল তারটাই ফিরল না! আফসোস!
সুতরাং, তিনের বেশি তোলা গেল না রেটিং। তবে এসব ব্যাপার না, এই সিরিজ হৃদয়ের কাছাকাছি, রেটিং দিয়ে এর বিচার হবে না।
“ঝিলের ধারে বাড়ি” পড়েছিলাম ১৯৯৭ সালে। বোর্ড পরীক্ষার রেজাল্ট আসেনি তখনও। আমার মাথায় টেনশন আর হাতে এই বইটা! ওই সময় একটা গল্পে পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতা আজ আর হয় না। আর এই গল্পটা? পুরনো বাড়ি, ভূতের ছায়া, গুপ্তধনের আভাস, আর তার সঙ্গে গ্রামীণ বাংলার দারিদ্র্য, ইতিহাস, এবং ছলচাতুরির কাহিনি— এক অনন্য মিশ্রণ।
গল্পের শুরু খুব শান্ত—কেটেরহাট গ্রামের প্রান্তে ঝিলের ধারে এক পুরনো, জীর্ণ জমিদারবাড়ি, সদাশিব বাবুর নিস্পৃহ ভদ্রলোকি, আর হঠাৎ শহর থেকে আসা কিছু সুটপরা বিজ্ঞানী। কিন্তু ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে উত্তেজনা—পুরনো ইতিহাস, গুপ্তধনের গুজব, পিতৃপুরুষের ডাকাতি, আর একের পর এক রহস্যময় আক্রমণ। বুড়ো কেয়ারটেকার সিদ্ধিনাথ ও ড্রাইভার ভূজঙ্গকে এক রাতেই মাথা ফাটিয়ে অজ্ঞান করে দেওয়া হয়। কী চলছে কেটেরহাটে?
সবচেয়ে টানটান লাগে, যখন বোঝা যায়—পুরো গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে আছে এক পুরনো সুড়ঙ্গের ইঙ্গিত। মন্দির, ভূত, পাথরের দরজা, আর ইতিহাসের নিচে ঢাকা পড়ে থাকা গোপন অভিসন্ধি—এ যেন বাংলার নিজের Da Vinci Code।
শীর্ষেন্দুর লেখা সবসময়েই চরিত্রনির্ভর, আর এখানে নবীন, সিদ্ধিনাথ, সদাশিব এমনভাবে গেঁথে যান, যেন তারা গল্প নয়—আমাদের পাশের গ্রামেই থাকেন। গল্পে জাদুবাস্তবতা আছে, কিন্তু কল্পনা বলে আলাদা করে বোঝা যায় না—সব কিছুই বাস্তব মনে হয়। এই "ঝিলের ধারে বাড়ি" পড়ে মনে হয়, ভূতও আসলে ইতিহাসের একটা ভারী, অতল ছায়া—যা কিছুতেই হালকা হয় না।
এই গল্প একাধারে রহস্য, সামাজিক ইতিহাস, এবং মনস্তত্ত্বের বুনট। One Hundred Years of Solitude–এর মতো এখানেও অতিপ্রাকৃত বাস্তবতা কাহিনির ছায়া হয়ে থাকে। গল্পটা ছোট হলেও এর গভীরতা এতটাই বেশি যে তুমি বারবার ফিরে যেতে চাইবে।
এই বই কেবল একটি ছোটদের ভূতের গল্প নয়; এটি একটি যুগান্তরের গল্প—পুরনো বাড়ির মতোই, যার প্রতিটি ইটে লুকিয়ে আছে ইতিহাস, প্রতারণা, সাহস ও আত্মপরিচয়ের হিসেব। ১৯৯৭ সালে রেজাল্টের আগে পড়েছিলাম, রেজাল্টের দিনতা মোটামুটি ভুলেই গেছি—এই গল্পটা নয়।
সুন্দরবনের ধারে ছোট্ট একটা গ্রাম। ভারী নির্ঝঞ্ঝাট সেখানে মানুষের জীবন। তবে সবসময় পরিস্থিতি এরকম ছিল না। দুটো ডাকাত দলের প্রচন্ড প্রতাপ ছিল এইখানে। সদাশিববাবু এবং নবীন সেই ডাকাতদল দুটোর সর্দারদের উত্তরসূরি। তবে তারা ভীষণ নির্বিবাদী মানুষ। মানুষের উপকার বই অপকার করেন না।অতীত তাদের এক সুতোয় গাঁথলেও বর্তমান কিন্তু সেই কথা মানে না। সদাশিববাবু ধনে মানে বেশ উচু পর্যায়ের মানুষ হলেও নবীন হাভাতে। উড়নচণ্ডী স্ববাভের ক্রনে সব হারিয়েছে সে, এমনকি বাড়ি বন্দক রেখেও ধার নিয়েছে চড়া সুদে ঋণ। শোনা যায় একসময় এই দুই পরিবারের মধ্যে প্রচন্ড রেষারেষি ছিল। তবে কিনা লড়াই হয় সমানে সমানে, তাই অবস্থা পড়ে যাওয়ার পর সে শত্রুতাও আর টেকেনি। বরং তাদের মধ্যে মধ্যে বেশ স্বদ্ভাভ রয়েছে বলেই মনে হয়। তবে নবীনের বাড়িতে একটা পাতালঘর আছে। ধারনা করা হয় সেখানে ডাকাতদের গুপ্তধন আছে। কিন্তু তার দরজা নিরেট লোহার। অনেক চেষ্টা করেও সে বা তার কোন পূর্বপুরুষ সেই দরজা খুলতে পারে নি। এর ওপর আবার মহাজন এসে হুমকি দিয়ে গেছে সে যেন সেই দরজা খোলার কোন চেষ্টা না করে। কারন বাড়ি একরম তার, আর বাড়ির কোন ক্ষতি হলে সে কিছুতেই তা মেনে নেবে না। নবীন অবশ্য অনেক আগেই হাল ছেড়ে দিয়েছে। এরকম একটা শান্তশিষ্ট দিনে তিনজন শহুরে মানুষের আগমন ঘটল সদাশিব বাবুর বাড়িতে। তারা ঝিলের ধারের বাড়িটা ভাড়া নিতে চায়। সে তো বাড়ি নয়, একেবারে ভগ্নস্তূপ। কারোও স্বেচ্ছায় প্রাণোৎসর্গ করার ইচ্ছা না থাকলে সেই বাড়িতে স্বেচচ্ছায় ঢুকবে না। বাড়ি ভাড়া নিয়েই বাড়ির চাকরকে একরকম জোর করেই সরাতে চাইল তারা। এর কিছুদিন পর ভাঙ্গা কালী মদিরে আহত অবস্থায় পাওয়া গেল সেই চাকরকে।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বইগুলো একটার পর একটা চমকে দিচ্ছে আমাকে। একটা আরেকটার চেয়ে ভালো । হাস্যরস একটু ক থাকলেও রহস্য, এডভেঞ্চার পুষিয়ে দিয়েছে সেই অভাব।নবীন তো আছেই, বিলু এবং অনুকে বেশ ভালো লেগেছে। শীর্ষেন্দু প্রকৃতপক্ষেই অসাধারণ, অতুলনীয়।
একবার একটা সাক্ষাৎকারে শীর্ষেন্দু বাবু বলেছিলেন," তিনি নাকি বরাবর-ই ফরমায়েশি লেখা লিখে এসেছেন। স্ব প্রণোদিত হয়ে তিনি নাকি খুব কম লিখেছেন,বর্তমানে একদম ই লিখেন না। তিনি নাকি কোন লেখক স্বত্ত্বা নিয়ে জন্মাননি। " একটা মানুষের ফরমায়েশি লেখার যদি এত ধার হয়। গবেষণা লব্ধ কিছু কোন মাত্রায় গিয়ে দাঁড়াবে!
এই "অদ্ভুতুড়ে সিরিজ" পুরোটাই ফরমায়েশি লেখা,সেটা লেখক নিজে বলেছেন। অথচ বুঝবার কোন জো নেই,এত চমৎকার। অদ্ভুতুড়ে শেষ করলে সত্যিই অদ্ভুত একটা তৃপ্তি কাজ করে। অদ্ভুতুড়ে সিরিজে "ঝিলের ধারে বাড়ি " আমার দ্বিতীয় প্রিয় বই। অনু,বিলু আর নবীনের সাথে কি চমৎকার একটা এডভেঞ্চার হয়ে গেল।
“খলিফা প্রশ্ন করলেন লায়লাকে, তুমি কি সেই যার কারনে মজনু পাগল হয়ে ফেরে? অন্য সুন্দরীদের চেয়ে তুমি তো শ্রেষ্ঠ নও লায়লা বললেন, চুপ করো! তুমি তো মজনু নও তুমি যদি পেতে মজনুর চোখ দুই জগতের প্রতিষ্ঠা ছাড়তে অবহেলায়”
মাওলানা জালালুদ্দিন রুমির কবিতা এটি, কিন্তু কতো সত্য। প্রেম কখনো বাহ্যিক সুন্দর দেখে না। কোনো নিয়ম মানতে চায় না। যেমন মানেনি ‘আনারকলি আর সম্রাট জাহাঙ্গীর’ একজন নর্তকীর প্রেমে পড়েন সম্রাট জাহাঙ্গীর। অনেক প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে তাদের এই প্রেম। কিন্তু আজো যেনো শেষ হয়ে যায়নি সেই প্রেম কাহিনি। আনারকলিকে সমাধিস্থ করা হয় পাকিস্তানের লাহরে, সেই লাহরেই ভাগ্যের জন্যই, নাকি সেই অমর আনারকলির অদৃশ্য টানেই ভিম শহর থেকে জাহাঙ্গীরকে তুলে এনে এই লাহরেই পুনরায় কবরস্থ করা হয়।
আর এই প্রেমের শহর লাহরেই এসে উপস্থিত হয় আমাদের এই আনারকলির বইয়ের নিসার আলী। ভারতবর্ষের বিভক্তির সময় পাকিস্তানের পাঞ্জাবেও লাগে দাঙ্গার আগুন। সেই আগুনে পোড়ে নিসার আলীর নিবাস অমৃতসর। নয় বছর আগে সেই দাঙ্গায় তার সব কিছু শেষ হয়ে যায়, চোখের সামনে খুন হতে দেখে ছোট ভাইকে। সেই দৃশ্য আজ নয় বছর পরও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। অবচেতনে খুঁজতে থাকে সেই হত্যাকারীকে।
নিসার আলী অতৃমসর ছেড়ে যখন লাহোরে আসে তখন সে এক নিঃস্ব ভিখারি যুবক ছাড়া কিছু ছিলো না। তখন হঠাৎ করেই লাহোরের বাসিন্দা ‘দোস্ত মোহাম্মদের’ সাথে তার দেখা হয়। মহৎ মানুষ দোস্ত মোহাম্মদ নিসার আলীকে নিজ গৃহে স্থান দেন। থাকতে দেয় নিজ পরিবারের সাথেই। তার পরিবার বলতে এক ছেলে এক মেয়ে। আর নিসার এখানে থেকেই চাকরি নেয় এক বড় জুতা দোকানে। চলছিলো ভালোই, দেখতে দেখতে চলে যায় ন'টা বছর।
এদিকে দোস্ত মোহাম্মদের মেয়েও বড় হয়, দেখতেও সুন্দর। আমিনা যে কখন বড় হলো সেই খেয়াল নিসার রাখে না। কিন্তু একদিন দোস্ত মোহাম্মদের অনুরোধেই আমিনাকে আর তার ছোট ভাইকে নিয়ে আনারকলি, ও সম্রাটের সমাধি দেখতে যায় নিসার আলী। সেদিনই যেনো নতুন করে আবার সে আমিনাকে দেখে। এবং প্রেমে পড়ে। নিসার যেনো তার আনারকলিকে খুঁজে পায়। নিসারের সেই স্মরণীয় দিবস ও রজনী অতিবাহিত হতে লাগলো চমৎকার ভাবেই।
এরই মধ্যেই নিসারের চোখের সামনে সেই মুখ, সেই চোখ, মুখের পাশে থাকা সেই বড় তিলের অধিকারী এসে উপস্থিত। যাকে সে আজ ন'টা বছর ধরে খুঁজে ফিরছে। তাকেই সে কিনা নিজ হাতে আজ জুতা পরিয়ে দিচ্ছে! নিসারের মনে থাকা আমিনার সেই প্রেম যেনো মুহুর্তেই সেই দাঙ্গার আগুনে পরিনত হলো! নিসার তবে কোনিকে যাবে? সে কি তার স্বপ্নের আনারকলির কাছে যাবে নাকি প্রতিশোধের আগুন নেভাবে!
***
এই উপন্যাসের পটভূমি পাঞ্জাব। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়কার একটি চিত্র তুলে ধরেছেন লেখক সৈয়দ শামসুল হক। লেখনী অতি চমৎকার। তবে গল্পটা যেনো হঠাৎই হোটচ খেলো। আমি কোনো বড় সাজিত্য বোদ্ধা নই, তবে মনে করি গল্পটা আরো সুন্দর হতে পারতো। এই গল্পের এই পরিনতি যেনো মানায় না। এতটুকুই আমার মতামত।
মোটামোটি ভালো লেগেছে। তবে, আহামরি কিছু নয়। রহস্যগল্প আমায় এমনিও টানে। সে কিশোরদের জন্য গল্প হোক বা আঠারো পেরোনো বুড়োদের(Wink)! বরং অনেক সময় আমাকে কিশোরগল্পই বেশি টানে। আর এটা এমন গল্প নয় যে শুধু কিশোর বয়সের ছাড়া কেউ পড়তে পারবে না। তাছাড়া দু সপ্তাহ যাবত Youtube Recommendation আমাকে বড় করে "ঝিলের ধারে বাড়ি" লেখা Thumbnail সমেত গল্পকথন শুনতে বহু পীড়াপীড়ি করছিল। সেই পীড়াপীড়িতেই শুনতে আরম্ভ করি। গল্পের কাহিনী আর কথকের বলার ভঙ্গী মিলেমিশে আমাক�� সুন্দর সময় দিয়েছে। তাছাড়া গল্পের নামটাও বেশ আকর্ষন জাগানিয়া।
কেটেরহাটে সদাশিব বাবুর ঝিলের ধারের বাড়িটা কয়েকজন শহুরে লোক ভাড়া নেবার প্রস্তাব নিয়ে এক সকালে সদাশিব বাবুর কাছে এলো। তবে তারা কী গোপন কাজে এখানে এসেছেন আর থাকতে চান তা খোলাখোলি বলতে আগ্রহী নন। জানালেন তারা পোকামাকড়ের বিজ্ঞানী।
সদাশিব বাবুর পূর্বপুরুষেরা ডাকাতি করে যেসব সম্পদ রেখে গেছেন তাতে সদাশিব বাবুর দিব্যি ভালো চলে!
ঝিলের ধারের বাড়িটা পাহারার দায়িত্বে থাকে সিদ্ধিনাথ। শোনা যায় ঝিলের নিচে নাকি এক লুকোনো মন্দির আছে। তাই, সে প্রায়ই ঝিলের ধারে সিড়ির পাড়ে বসে বসে ঝিলের নিচের মন্দিরের কথা ভাবে। সিড়ি ভেঙে নেমেও গেছে কখনও, তবে কোনো মন্দির মেলেনি।
শহুরে ভাড়াটেরা এই বহু পুরনো, প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন এমনকি সিদ্ধিনাথকে পয়সা দিয়ে কিছুদিনের জন্য অন্য কোথাও থেকে ঘুরে আসতে বলছেন, এ ঠিক সিদ্ধিনাথের মনঃপূত হয় না। তাদের কী মতলব কে জানে!
কেটেরহাটেরই আরেক তরুন নবীন, যার পূর্বপুরুষেরা ছিল আরও বড় ডাকাত। কিন্তু নবীনের উড়নচন্ডী স্বভাব তার জীবনে নিয়ে এসেছে অবশ্যম্ভাবী অভাব। ধারনা করা হয়, তার বাড়ির নিচে আছে এক গুপ্তধনসমেত পাতালপুরী। যার দরজা বিশ বছরের চেষ্টায়ও খোলেনি। আসলেও পাতালপুরী আছে নাকি এ নিছকই রূপকথা তা নিয়েও আজকাল নবীনের সন্দেহ হয়।
এদিকে শহুরে বাবুরা আসার পর থেকেই কেটেরহাটে দুবার ঘটেছে ভয়ানক আক্রমনের ঘটনা। কে বা কী করছে এসব আক্রমন? রাতের আধারে কিংবা ঝিলের ধারে গেলে কার কণ্ঠ শোনা যায় অমন আচানক? শহুরে লোকগুলোর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই তো এসবের! নাকি মাটির নিচে আসলেই আছে কোনো মন্দির বা পাতালপুরী? কিংবদন্তি আছে, কেটেরহাটের মন্দিরে নরবলি দেয়া হত আর বনের দূর্গম কোনো স্থানে মানুষকে দেয়া হত ফাঁসি। কিন্তু, সেগুলো আসলেই কিংবদন্তি নাকি ইতিহাস, জানতে চান?
ঠিক আছে, তবে তেমন মজা পাইনাই বইটা পড়ে, মনে হচ্ছে আরেকটু কি জানি হলে ভালো হতো। শুরুটা সুন্দর হয়েছে - সদাশিববাবুর সকাল বেলার ফিরিসতি, তাঁর বাড়ির চারদিকের বর্ণনা দারুন হয়েছে। পোকা-মাকড় নিয়ে গবেষনা করার জন্য শহর থেকে কিছু লোক এসে সদাশিবের ঝিলের ধারে ভাঙ্গা বাড়ীটা ভাড়া নেয়। কিন্তু তাদের কাজ কর্মের সাথে তাঁদের আচরনের কোন মিল খুঁজে পেলাম না। আর লাস্টের দিকে তাঁদের সেই কুকুরটাই বা গেলো কই? আমার কাছে মনে হয়েছে বইটা বড় তাড়াহুড়ো করে লিখেছেন। অন্য অদ্ভুতূরে সিরিজগুলোর মতো দম ফুটানো হাসির কিছু নাই।
চেনা অদ্ভুতুড়ে সিরিজের গল্পগুলির মতোন নয়। মানে একগাদা চরিত্র, সবার উদ্ভট কীর্তি, হাসিমজার খোরাক এসব নেই। প্রায় পুরোটাই রহস্য তথা অ্যাডভেঞ্চার গল্প। একটি গ্রামে ঝিলের ধারের এক বাড়ি, ঝিলের তলার এক মন্দির নিয়ে কিংবদন্তী, এক পড়ন্ত বনেদি বাড়ির পাতালঘরের হদিশ, তিন রহস্যময় ভাড়াটে এবং অদৃশ্য আততায়ী - এসব নিয়েই গল্প। গল্পে গুপ্তধন আর ভূতের আনাগোনা রয়েছে। ছিমছাম একটা বুনোট কাহিনি। এই সময়টাতেই শীর্ষেন্দুবাবুর মাথায় এক্সক্লুসিভ আইডিয়াগুলো সেরা খেলতো। এই সিরিজ পরে যত এগিয়েছে অনেকটাই একঘেয়ে হয়ে গেছে কয়েকটি বাদে।
শীর্ষেন্দুর এই ঘরানার গল্পগুলিতে সাধারণত বিচিত্র মানুষদের একটা মেলা বসে। তাদের এক-একজনের খাম-খেয়াল বা বাতিক মিশে যায় মূল রহস্য রোমাঞ্চের সাথে। এই গল্পে এই বৈচিত্র্য আর নতুনত্বের একান্ত অভাব। চরিত্রদের ছকগুলি বড্ড বেশি গত-বাধা, সকলের মুখস্থ। তাদের মধ্যে বিনিময়গুলিও নিরস, মুখস্থ বিবৃতির মতো শোনায়।
যথারীতি শীর্ষেন্দুর এই গল্পগুলি গ্রামাঞ্চলের হলেও এতে মুসলমান পরিচয়ের মামুষদের খুব একটা উপস্থিতি নেই। আর কাহীনির নায়ক যথারীতি বড়লোকের ব্যাটা। এই কাহীনিতে নিম্নবর্গদের একমাত্র কাজ হলো চাকর হওয়া।
The most adventurous book.The plot and character was very well written and built very nicely. এবার বাংলায় বলি নবীন অনু বিলু সদাশিব ও পোকামাকড়ের বিজ্ঞানী, আর ওদের পঞ্চম ষষ্ঠ পুরুষের আত্মাআত্মার বিচরণ এই কয়েকটি বিশেষ চরিত্র নিয়ে বইটিতে অনেক রোমাঞ্চকর ও অ্যাডভেঞ্চারাস প্লট বিল্ড করা হয়েছে। আমি গল্পের শুরুতে ভেবেছিলাম একরকম কিন্তু শেষ হলো আরেকভাবে,আসলে শীর্ষেন্দুর কিশোর গল্প গুলো খুব মজার মজার শব্দ আছে , আর এই শব্দ গুলো গল্প কে একটি অতিরিক্ত মজার মাত্রা যোগ করে। কিছু কিছু শব্দ আছে যা মনে হয় এই প্রথম শুনলাম, আমি এগুলো আবার হাইলাইটিং করে রাখি পরে আবার পড়বো বলে।
হুমায়ুন আহমেদ এর বইগুলো পড়ে সাধারণত আমি অভ্যস্ত। তবে শীর্ষেন্দু মুখ্যোপাধ্যায় এই বই এ আমি উপন্যাস এর নতুন স্বাদ পাচ্ছি। এখানে মূলত গ্রামের কিছু অজানা রহস্য নিয়ে গল্পটি লেখা, সদাসীব বাবু ও নবীন এখানকার দুটি মূল চরিত্র। দুজনেরই পূর্বপুরুষেরা ডাকাত দলের লোক ছিলেন। সদাসীব বাবুর ধনসম্পত্তি এখনো কিছুটা থাকলে নবীন এখন একদম দেউলিয়া, শুধু বাড়িটাই আছে সম্বল বলতে যদিও সেটা এখন।বন্ধক রাখা। বাড়ির নিচে পাতাল ঘরের বিভিন্ন সময়ের রহস্য নিয়ে গল্পের পটভূমি গড়ে উঠেছে।
কিছু বই কিনে পড়ার পর এমন হয় না যে ইচ্ছে করে লেখকের কাছে টাকা ফেরত চাই? এটা একদম নির্ভেজাল তেমন একটা বই। সময়ের নিদারুণ অপচয় ছাড়া আর কিছুই না।
লেখকের এই বই নিয়ে কোন প্ল্যানিং ছিলো বলে মনে হয় না। একদিক থেকে লেখা শুরু করেছেন, পরে তালগোল ভজকট পাকিয়ে যখন যা মাথায় এসেছে তা দিয়ে এগিয়ে (!) গেছেন। শেষে গিয়ে যখন দেখেছেন ফর্মা বেড়ে যাচ্ছে হুট করে উপন্যাস (!) শেষ করেছেন।
এমন মাথামুন্ডুহীন অং বং চং বই গুডরিডসে ৪ এর উপরে রেটিং.... দুঃখজনক।
সিরিজ বইয়ের ক্ষেত্রে রেটিং বিপাকে পড়তে হয়। শার্লক হোমসের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছিলো। আগের গুলোর তুলনায় এটি একটু বেশি সিরিয়াস ঘরানার গল্প। অদ্ভুতুড়ে তো বটেই। আমার মতো অনেকেই আছেন যারা অদ্ভুতুড়ে সিরিজ পড়েন একটু কাতুকুতু পাওয়ার জন্য। এই গল্পে কাতুকুতুর পরিমান কম এই যা; তাছাড়া গল্প সরেস। পুরদস্তুর অ্যাডভেঞ্চার!