অদ্ভুত এক দুঃস্বপ্ন দেখার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে একেরপর এক মানুষ। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে একসময় আত্মহত্যা করে বসছে কেউ কেউ। অথবা ভীষণ আতংকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পরিণত হচ্ছে বিবেকহীন খুনে উন্মাদে। সাইকিয়াট্রিস্ট ডক্টর জিয়াউল হক হাজার ভেবেও এই রহস্যের কোনো কুল-কিনারা পাচ্ছেন না। এদিকে দেশের মাটিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মহাক্ষমতাধর এক অশুভচক্র। দুঃস্বপ্নের শিকার মানুষগুলোকে নিয়ে কিছু একটা গোপন অভিসন্ধি আছে তাদের। লোকচক্ষুর আড়ালে কিসের এক্সপেরিমেন্ট চলছে আর্কহাম স্যানেটরিয়ামে? আর ইউরোপের নামজাদা নিউক্লিয়ার ফিজিক্স ল্যাবরেটরির সাথেই বা এর সম্পর্ক কি?
চেনাজানা দুনিয়ার ওপাশ থেকে এগিয়ে আসছে এক মহাজাগতিক অপশক্তি। তার আগমন ধ্বনিতে কাঁপছে পৃথিবী। মহাপ্রলয়ের বুঝি আর বেশি বাকি নেই।
আসিফ রুডলফায নামে লেখক আসিফ আব্দুল-এর আত্মপ্রকাশ। লেখকের জন্ম ঢাকা শহরে ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এই শহরেই তার বেড়ে ওঠা। পড়াশোনা করেছেন নটরডেম কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইনান্স বিভাগে স্নাতক করেন। বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। তিনি লেখালিখি শুরু করেন ব্লগিং এর মাধ্যমে। পরবর্তীতে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকাতেও ফিচার রাইটার হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি লেখালিখির পাশাপাশি শখের ইউটিউবিং এবং ওয়েব শো নির্মাণ করছেন। “কথুলহু” তার প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।
বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের কল্যাণে, লেখকের টুকটাক ছোট গল্প পড়া হয়েছে আগে। 'কথুলহু' নামের মৌলিক লাভক্র্যাফটিয়ান হরর নভেলের ঘোষণা আসার পর থেকে তাই বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। মূলত তিনটা কারণঃ ১)অনলাইনে পোস্ট করা গল্পগুলো পড়ে ভালো লেগেছে, ২) বাংলা ভাষায় মৌলিক লাভক্র্যাফটিয়ান হরর, ৩) বইয়ের প্লট সিনোপ্সিস।
প্রকাশের পরপর প্রথম দিনেই বইটা হাতে পাই এবং একটানে পড়ে শেষ করি। একটা বই যখন পাঠককে দ্রুতবেগে একের পর এক পৃষ্ঠা উল্টিয়ে এগোতে বাধ্য করে, তখন সেই বইয়ের দুর্বল দিকগুলো (যদি থেকে থাকে) অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চোখের আড়াল হয়ে যায়। কথুলুহুর ক্ষেত্রে খুব সম্ভবত এমনটাই হয়েছে আমার! ভালো লাগার পাল্লা ভারী হওয়ায়, ফাঁকফোকর খুঁজতে যাইনি।
বইয়ের কাহিনি সংক্ষেপ ফ্ল্যাপে দেয়া আছে, সারসংক্ষেপ নিয়ে পর্যালোচনা করাটাও খুব একটা দরকারি নয়। প্রয়োজনীয় কথা হচ্ছে, আগ্রহভরে অপেক্ষা স্বার্থক হয়েছে। কিছু কিছু বইয়ের কাহিনি সংক্ষেপ অথবা ডেমো চ্যাপ্টার পরে হয়তো পাঠক আশাবাদী হয়, কিন্তু বই পড়তে গিয়ে মুগ্ধতা হারিয়ে যায়। অতি চমৎকার প্লট মার খেয়ে যায় আড়ষ্ট বর্ণণাভঙ্গির কারণে; আবার কখনও লেখার ধরণে পরিপক্কতার ছাপ থাকলেও প্লটের সুতো মেলে না। কোন কোন ক্ষেত্রে আবার, শক্তপোক্ত প্লটের পাশাপাশি দক্ষ বর্ণণাভঙ্গির প্রয়োগেও গল্প জমে ওঠে না, কারণ প্রয়োজনীয় আবহ সৃষ্টি করতে হয়তো লেখক অক্ষম থেকে যান। কথুলহু এই তিন দিক বিবেচনায় মোটামুটি সার্থক।
বইটাকে কতটুকু "পারফেক্ট লাভক্র্যাফটিয়ান ফিকশন"- সে ব্যাপারে তর্ক-বিতর্কের সুযোগ আছে। তবে লাভক্র্যাফটিয়ান/কসমিক হরর সম্পর্কে যাদের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই- তারা নতুন ধরনের এক অতিপ্রাকৃতিক গল্প উপভোগ করবেন, আবার একই সাথে "কসমিক হরর" সম্পর্কে একটা প্রচ্ছন্ন ধারণা পেয়ে যাবেন।
পুনশ্চঃ লাভক্র্যাফটিয়ান হরর কী? লেখক আসিফ রুডলফায নিজেই ছোটখাট একটা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, সেটা উল্লেখ করে দিচ্ছি-
#লাভক্রফটিয়ান_হরর কি?
আপাত দৃষ্টিতে খুব সাধারণ একটা প্রশ্ন। কিন্তু এর উত্তরটা খুব সহজ করে বলা সম্ভব নয়। এক কথায় বলতে গেলে এই জনরার প্রবর্তক স্বয়ং হাওয়ার্ড ফিলিপ লভক্রফট এর মতো করে বলা যায় "It's the Fear of Unknown" মানুষ মাত্রই অজানাকে ভয় পায়। যা মানুষ বুঝে না তাকে মানুষ ভয় করে। অচেনা মানুষকে ভয়। অচেনা যে কোনো জায়গাকে ভয়। অচেনা প্রানিকে ভয়। এটা মানুষের একেবারে স্বভাবজাত একটা রেস্পন্স।
কিন্তু জাস্ট অজানার ভয় বললেই লভক্রফটিয়ান হরর কে পিন পয়েন্ট করা যায় না। ব্যাপারটা আরেকটু জটিল। বলা হয় লভক্রফটিয়ান হরর হচ্ছে কসমিক হরর এর মামাতো ভাই। তাহলে আসুন দেখি কসমিক হরর জিনিসটা কি।
এই বিশাল সৃষ্টি জগত। আকাশের দিকে তাকান। খালি চোখেই শত শত তারা চোখে পড়বে। টেলিস্কোপ দিয়ে দেখলে তারার সংখ্যা কোটিতে গিয়ে ঠেকবে। এই কোটি কোটি তারাকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আবার অসংখ্য গ্রহ উপগ্রহ। একেকটি গ্রহে আছে লাখ লাখ প্রজাতির প্রানী। এতো গেল শুধু আমাদের মিল্কিওয়ের কথা। মিল্কিওয়ে ছাড়াও আছে কত অসংখ্য ছায়াপথ। তাতে এমন আরো কত অসংখ্য গ্রহ নক্ষত্র। প্রতি নিয়ত কতো নতুন গ্রহ সুর্য তারা জন্ম নিচ্ছে আবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, আমরা তার হিসাবও রাখি না। এই পৃথিবিতেই মানুষের জন্মের লক্ষ বছর আগে অন্যান্য প্রানি ছিল। মানুষের মৃত্যুর লক্ষ কোটি বছর পরও হয়তো পৃথিবী টিকে থাকবে। নতুন প্রানি জন্ম নিবে, নতুন সভ্যতা জন্ম নেবে। আবার বিলিন হয়ে যাবে।
এই সুবিশাল মহাজগতে মানুষের অবস্থান অতি ক্ষুদ্র, অতি তুচ্ছ, অকিঞ্চিৎকর। মরুভুমিতে এক কণা বালির মতো, মহাসমুদ্রে এক ফোটা শিশিরের মতো। আমরা যাই করি না কেন, যত উচ্চতায়ই যাই না কেন, সৃষ্টির এই বিশালতার কাছে আমাদের পরাজয় অবধারিত। মানুষের জন্ম নেয়ায় সৃষ্টি জগতের কোনো পরিবর্তন আসেনি, মানুব জাতি বিলুপ্ত হয়ে গেলেও কারো কিছু আসবে যাবে না। আর সেই কোটি কোটি মানুষের মধ্যে আপনি আমি একজন। তাহলে আপনার জীবনের মুল্য কি?
এই যে ভয়ংকর হতাশা, এটাই কসমিক হরর।
আবার ধরুন, আপনার পেটের মধ্যে নিশ্চয় অনেক ব্যাক্টেরিয়া আছে। ধরুন কোনো ভাবে ব্যাক্টেরিয়াগুলো বুদ্ধিমান হয়ে গেল। তারা তাদের আশেপাশের পরিবেশ সম্পর্কে বুঝতে শিখল। জ্ঞান বিজ্ঞানে ব্যাপক উন্নতি লাভ করল। কিন্তু তারা যতই বুদ্ধিমান হোক আর যতই উন্নতি করুক, তাদের জগতটা কিন্তু আটকে আছে আপনার পেটের ভেতর। তাদের সকল চিন্তা চেতনা এবং উপলব্ধির পরিধি কিন্তু পেটের ভিতরের ওই অতটুকু জায়গার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তারা কখনোই বুঝতে পারবে না আপনি কি বা আপনি কে। আর আপনার আশপাশের জগৎ, চন্দ্র সুর্য পৃথিবীকে বুঝা তো অনেক দুরের কথা। তো স্রষ্টার সাথে আমাদের তুলনাটাও এই রকমই। আমরা আমাদের দুনিয়া সম্পর্কে যতই বুঝতে শিখি না কেন আদতে আমাদের জ্ঞান ওই ক্ষুদ্র কীটের সমান। সৃষ্টি জগতের কিছুই আসলে আমরা জানি না, বুঝি না। এবং একে বুঝার ক্ষমতাও আমাদের নাই। কারন আমরা অতি দুর্বল কীট মাত্র, অক্ষম ব্যাক্টেরিয়া ছাড়া আর কিছু না।
ধর্মিয় গ্রন্থগুলো ঈশ্বরের সাথে মানুষের সম্পর্ককে বলেছে ভালোবাসার সম্পর্ক। সৃষ্টিকর্তা আমাদের ভালোবাসেন, আমাদের পরম যত্নে লালন পালন করেন। আমাদের শত অপরাধ মাফ করে দেন। কিন্তু লভক্রফট তার জগতের ঈশ্বরদের উপস্থাপন করেছেন ভিন্ন রুপে। তার কল্পিত মহাকাশের মহাশক্তিধর ঈশ্বরদের কাছে মানুষ হল ব্যাক্টেরিয়ার মতো। আমরা প্রতিদিন হাটতে চলতে কত অসংখ্য ক্ষুদ্র পোকা মাকড় পায়ের তলায় পিষে ফেলি, হাচি দিলে কত ব্যাক্টেরিয়া মারা যায় আমরা তা খেয়ালও করি না। কারন একটা ব্যাক্টেরিয়া বা একটা পিপড়া মরল কি বাচল তাতে কিছু এসে যায় না। লভক্রফটের ঈশ্বরদের কাছে মানুষের অবস্থান ঠিক এমন। মানব জাতি মরল কি বাচল তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। এমন কি তারা মানুষের অস্তিত্ব নিয়ে মাথাই ঘামায় না। মানুষ তাদের কাছে চলতে ফিরতে পায়ের নিচে পড়া ক্ষুদ্র পিপড়ার মতো। মরলে মরুক, ক্ষতি কি।
কিন্তু মানুষের কাছে এই মহাপরাক্রমশালী ঈশ্বররা চিন্তা বা কল্পনার অতিত ক্ষমতার অধিকারি। এমনকি তাদের কথা ভাবলেও একজন সাধারণ মানুষ স্রেফ পাগল হয়ে যেতে বাধ্য। তাদের বিশালতা, তাদের অস্তিত্বের ব্যাপ্তি আমাদের চিন্তা চেতনার বাইরে। তারা আমাদের স্রেফ পিষে ফেলতে পারে, অবহেলায় তুড়ি মেরে এক মুহূর্তে শেষ করে দিতে পারে। যেকোনো দিন, যেকোনো সময়। আমাদের পালাবার কোনো পথ নেই। লুকোনোর কোনো জায়গা নেই। নিজেকে রক্ষা করার কোনো উপায়ই নেই। আমরা বেচে আছি সম্পুর্ণ সেই ঈশ্বরের দয়ায়।
কিন্তু মানুষের জন্যে তাদের কোনো দয়ামায়া নেই।
এই যে নির্মম অসহায়ত্ব, এটাই লভক্রফটিয়ান হরর।
আদতে কসমিক হররের সাথে পুরনো দিনের গথিক হরর, আধুনিক সাইকোলজিক্যাল হরর আর বডি হরর এসে মিলেমিশে লভক্রফটিয়ান হরর তৈরি হয়েছে। প্রতিটি লভক্রফটিয়ান হররের কেন্দ্রে থাকে একটি রহস্য। গল্প যত এগিয়ে যায়, রহস্যের জাল যত খুলতে থাকে, গল্পের নায়ক ততোই তার মানসিক ভারসাম্য হারাতে শুরু করে। প্রায় প্রতিটি লভক্রফটিয়ান হরর গল্প কিছু কমন ফর্মুলা বা প্যাটার্ন মেনে চলে। যুগে যুগে বিভিন্ন লেখক এই ফর্মুলায় তাদের নিজস্ব স্পিন যোগ করেছেন।
ভাল লাগার মত বই ছিল। ভালই লেগেছে। সাবলীল লেখনী। হিংসে হচ্ছে 😂
বইটার ওপর থ্রিলার লেখা আছে৷ আমি হরর ভেবে ভুল করেছি। কিন্তু মজা লেগেছে পড়ে। সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে, অশ্লীল কিছু নাই।
দু'একটা ইশ্যু ছিল- যেমন, নয় বছর আগে নোভার বয়স ৪ হলে এখন ও কীভাবে মেজর করে? আরেকটা ব্যাপার একটু কঠিন, সবাই বুঝবে না বোধহয়। যে কোনও ফ্লুইড তো স্টমাক বেয়ে সরাসরি নিচে নামে, কফি বা চা বা ���ানি। এরজন্য পেরিস্ট্যালসিস বা ডাইজেশন প্রক্রিয়া লাগে না। তাইলে কফি খেয়ে গল্প করে গাড়িতে উঠে কিছুদূর গিয়ে বমি করলে বমির মধ্যে কফি থাকবে কেন? সেটা ততক্ষণে ইন্টেস্টিনাল কন্টেন্ট হয়ে যাওয়ার কথা আর বমি করে ইন্টেস্টিনাল কন্টেন্ট বের করা সহজ ব্যাপার নয়।
শুরুটা একটু ধীর গতিতে হওয়ায় বেশ ক'বার বইটি হাতে নিয়ে বেশিদূর এগুতে পারিনি। শেষমেষ যখন পারলাম বেশ সাবলীলভাবেই পড়া এগিয়েছে। সেট-আপটা খারাপ হয়নি। লেখনী বেশ লেগেছে (মাঝে যদিও দু-চারটে শব্দকে অহেতুক ইংরেজিতে লেখা সামান্য চোখে লাগল, যেমন: এন্জয়)।
শেষ অবধিও কোনো কিছু বিশেষ অভিভুত করতে পারে নি। জহির ও শাওনের মধ্যেকার কিছু দৃশ্য অতিমাত্রায় চিজি এবং সেকেলে ছিল।
বই সমাপ্ত হয় cliffhanger-এ। অনেক প্রশ্নেরই উত্তর পাওয়া যায় না। সবচেয়ে মজার যে রহস্যটি থাকে সেটিরও সমাধানের নামগন্ধ নেই। এর সিকুয়েল আসতে চলেছে কিনা জানি না, আসলে পড়ার চেষ্টা থাকবে।
The oldest and strongest emotion of mankind is fear, and the oldest and strongest kind of fear is fear of the unknown. - H. P. Lovecraft
- “কথুলহু” - “কথুলহু” এর শুরু হয় জহির নামের এক আর্টিস্ট এর অদ্ভুত কিছু স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে। সেই স্বপ্নগুলিতে জহির এমন কিছু দেখে যা বাস্তবের কোন কিছুর সাথেই মিলে না, অথচ স্বপ্নগুলো খুবই বাস্তব। এই রহস্যের সমাধান করতে সে শরণাপন্ন হয় ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট ও সাইকোথেরাপিস্ট ডক্টর মোহাম্মদ জিয়াউল হকের কাছে। প্রথমে ডক্টর জিয়া জহিরকে সাধারণ রোগী মনে করলেও হঠাৎ তার মনে পড়ে যায় কয়েক বছর আগের এক রোগীর কথা, যার সাথে জহিরের রোগের প্যাটার্ন মিলে যায় অদ্ভুত ভাবে। - তাই ডক্টর জিয়া এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে দেশ থেকে একই ক্যাটাগরির কিছু মানুষ হঠাৎ করেই হারিয়ে যাচ্ছে, আবার অনেকে হয়ে যাচ্ছে বদ্ধ উন্মাদ যারা কিনা একই ধরনের একটি অপার্থিব চিহ্ন আঁকছে। এদিকে জিয়ার তদন্তে আরো বেরিয়ে আসে আর্কহাম স্যানেটেরিয়াম নামে এক মানসিক রোগীদের হাসপাতাল যা অদ্ভুতভাবে আগুনে পুড়ে গেলেও নির্দেশ করছে বর্তমান ঘটনাগুলোর সাথে এর সংযোগের নানা চিহ্ন। - এখন জহিরের অদ্ভুত স্বপ্নগুলোর অর্থ কী? আর্কহাম স্যানেটেরিয়াম নামক সেই মানসিক হাসপাতালটির আসল কাজ কি? সারা দেশ থেকে কেন একই ধ্যান ধারণার মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে বা বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে কেন? এ সব কিছু যেই মিথিক্যাল প্রাণীকে নির্দেশ করছে কি সেই “কথুলহু”? এ সব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পড়তে হবে লেখক আসিফ রুডলফাযের লাভক্রফটিয়ান হরর “কথুলহু”। - লেখক আসিফ রুডলফাযের লেখা প্রথম মৌলিক উপন্যাস হচ্ছে “কথুলহু”। প্রথম যখন এই বইয়ের নামের সাথে সাথে এর জনরাটাও দেখি তখন বেশ অবাকই হয়েছিলাম। এইচ. পি. লাভক্রফট এর লেখার বেশ দারুন ভক্ত আমি। কসমিক হররের সাথে এক ধরণের নিহিলিস্ট ফ্লেভার মিশিয়ে তিনি “দ্য কেইস অফ চার্লস ডেক্সটার ওয়ার্ড”, “দ্য কল অফ কথুলহু”, “অ্যাট দ্য মাউন্টেইনস অফ ম্যাডনেস” এর মতো অসাধারণ কিছু গল্প লিখে গেছেন যা তার সময়ে খুব একটা মূল্যায়িত হয়নি। কিন্তু সময় যাওয়ার সাথে মানুষ ধীরে ধীরে তার লেখার মূল্য বুঝতে পারে এবং অনেকেই সেই ধারায় লেখা শুরু করে দেন যা বর্তমানে সকলের কাছে লাভক্রফটিয়ান হরর নামে পরিচিত। বাইরের দেশে বর্তমানে হররের এই ধারায় বেশ ভালো লেখা হচ্ছে কিন্তু বাংলা সাহিত্যে এ ধারার লেখা একেবারেই অল্প। সেদিক থেকে লাভক্রফটের “কথুলহু মিথোস” নিয়ে এ ধরণের মৌলিক লেখা অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য। - “কথুলহু” গল্পটি একদম প্রথম লাইন থেকেই আকর্ষণীয় এবং যতই কাহিনী এগোতে থাকে, কাহিনীর প্রতি আকর্ষণ ততই বাড়তে থাকে। বিভিন্ন ঘটনার বিল্ডআপের সাথে সাথে ছোট ছোট টুইস্ট গুলো দারুন ছিলো আর এ ধরণের বিল্ডআপের পরে এর ফিনিশিংও লাভক্রফটিয়ান হরর হিসেবে পারফেক্ট। গল্পের বেশ কিছু জায়গা বেশ ডিস্টার্বিং ছিল যেগুলো পড়ার সময় শিউরে উঠেছি, আর “লা কথুলহু ফহটাগন” এই চ্যান্টের প্রয়োগও ছিল যথার্থ। গল্পে নানা প্রয়োজনে “কথুলহু মিথোস” এর নানা চরিত্র সরাসরি বা রেফারেন্সের মাধ্যমে এসেছে, যা ব্যক্তিগতভাবে ভালো লেগেছে। - “কথুলহু” গল্পের চরিত্রগুলির ভিতরে জহির নামের চরিত্রটি মূল ফোকাসে ছিল যে টিপিক্যাল লাভক্রফটিয়ান হররের প্রোটাগোনিস্ট হিসেবে মানানসই। ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট হিসেবে ডক্টর জিয়াউল হক দুর্দান্ত। শাওন চরিত্রটিও বেশ ছিল তবে এর ব্যাকস্টোরিটা আরেকটু ক্লিয়ার করে বলা যেত বলে মনে হয়েছে। এছাড়া বাকি চরিত্রগুলোকে কাহিনীর হিসেবে ঠিকঠাক লেগেছে। - “কথুলহু” বইয়ের আরেক দারুণ দিক হচ্ছে এর দুর্দান্ত লেটারিং এবং নজরকাড়া প্রচ্ছদ। তবে প্রিন্টে প্রচ্ছদের কালার কিছুটা ফেড হয়ে এসেছে বলে মনে হয়েছে। বইতে বানান ভুল খুব একটা চোখে পড়েনি তবে প্রিন্টে ভেতরের অক্ষরগুলো অনেক জায়গায় বেশ অস্পষ্ট এসেছে, এদিকটায় আরো উন্নতি করা যেতে পারতো। বাধাই সহ বইয়ের বাকি দিকগুলো মানানসই। - এক কথায়, বাংলা ভাষায় স্বার্থক এক লাভক্রফটিয়ান হরর হচ্ছে “কথুলহু”। যাদের একটু অন্য ধাঁচের হরর ফিকশনে আগ্রহ আছে তাদের জন্য এ বইটি রিকোমেন্ডেড থাকলো। সামনে লেখকের কাছ থেকে এ ধরণের আরো লেখা আশা করছি।
অনেকদিন পর একটা বই টানা পড়ে শেষ করলাম। পড়া শেষে বইটা রেখেই মনে হল --- নাহ, লাভক্রফট সম্পর্কে আরো জানতে হবে!
বইটি প্রচারের সময় বলা হয়েছে, এটি লাভক্রফটিয়ান হরর( যার সহজ ব্যাখা আমার পক্ষে দেবা সম্ভব না) । কিন্তু বই মাঝ পর্যন্ত গিয়েই বুঝতে পারে, বইটিকে "লাভক্রফটিয়ান থ্রিলার '' নামক ক্যাটাগরিতে ফেললেই বেশি মানাত! (পরে দেখেছি বইয়ের প্রচ্ছদে লেখাই আছে থ্রিলার , আমারই ভুল ! ) সিরিয়াসলি! একটা রোলারকোস্টার রাইড ছিল বইটা। শেষ পাতাতে আসতেই মনটা খারাপ হয়ে গেল, শেষ?!?! কেন!! লাভক্রফটিয়ান হরর যা পড়ার সুযোগ হয়েছে, সেই লিস্টে আমি এটাকে রেখে দিয়েছি৷
একটা বই একই সাথে যে থ্রিলিং, হরর, এল্ডার গড দের নিয়ে আলোচনা করতে পারে, এবং তা এত সাবলীলভাবে --- ভাবাই যায়না৷ ভক্ত হয়ে গেলাম আপনার, লেখক! আশা করছি সামনে এই ক্যাটাগরির আরো বই পাবো লেখকের কাছে । হয়ত সিরিজের নামই হতে পারে কথুলহু মিথোস!! 🔥🔥
বইয়ের একটা ছোট্ট জিনিসে খটকা লেগেছে। তা হল, জহির হঠাৎ যে শাওন এর সম্পর্কে গড়গড় কথা বলা শুরু করেছিল ---- তাতে কিন্তু আমরা শাওন বাধন সম্পর্কে সবচেয়ে বড় সত্যিটার খোজ পাইনা। মহান কথুলহু ত এরকম ইনফরমেশনের বেলায় ভুল বলতে পারেনা! তবে?? 🤔🤔৷ এটাই একমাত্র খটকা ছিল বইয়ে৷
কিছু কিছু দৃশ্য ছিল একেবারে জীবন্ত। চরোকি গ্রামে যে অস্বাভাবিকতা ছিল, তা লেখা��� মধ্যে দিয়ে যেন ভিডিও আকারে দেখছিলাম! হঠাত সমস্বরে " লা কথুলহু ফহটাগন " শুনে আমার হাত পা শিউরে উঠেছিল! হ্যা, আসলেই!
লেখনি শক্তিটা অনেক ভাল লেগেছে। কভার দেখেই কিন্তু আমি মূলত অর্ডার করেছিলাম 😁😁
কিন্তু লেখাটা আমাকে চমকে দিয়েছে। আর সমাপ্তি? তাও মনমত হয়েছে --- যা হবার কথা ছিল। মোদ্দা কথা বইটা আমি পড়তে বলব থ্রিলারপ্রেমিদের, হররপ্রেমিদের৷ আর হ্যা, যারা লাভক্রফট সম্পর্কে একেবারে ���জ্ঞ, তারাও স্বচ্ছন্দে বইটা তুলে নিতে পারে৷ সব একেবারে ক্লিয়ার করে দেয়া আছে -- কোনটা কি ও কেন।
আরো অনেক কিছু বলতে পারতাম, কিন্তু লেখার স্বাদটা নষ্ট করছিনা আর। পড়ুন!
আসিফ আবদুল এর প্রথম বই, তবে লেখাতে প্রথম বইয়ের ছাপ খুজে পাওয়ার উপায় নেই। লেখনী বেশ সাবলীল। এক নিশ্বাসে পড়ে যাওয়ার মত। শেষের অংশে কিছুটা সুর কেটেছে বলে মনে হয়েছে। হরর বা থ্রিল আহামরি ছিল না, আরো কিছু টুইস্ট আশা করেছিলাম।
প্রচ্ছদ সুন্দর৷ তবে দাম অনুযায়ি বইয়ের পৃষ্ঠাগুলো লো কোয়ালিটি ছিল।
তবে সবমিলিয়ে বেশ ভালো ছিল। স্টোরি বিল্ডআপ, গল্পের চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তোলা - এসবে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন লেখক তার প্রথম বইয়ে।
ভালো লাগলো, বেশ ভালো লাগলো। লাভ্ক্রাফটিয়ান হরর - থ্রিলার এতদিন কিছু পড়া হয়েছে। এটাকে আমি তার মধ্যে প্রথম দিকেই রাখবো। সাবলীল লেখনী। দৃশ্যান্তর ভালো। শেষটিও ভালো লাগলো। এর আরো সিক্যুয়েল আসার চান্স কি আছে??
“আমার বোবায় ধরার সমস্যা আছে। অসুখটা ছোটবেলা থেকেই। গভীর রাতে হঠাৎ হঠাৎ ঘুম ভেঙে যেত। কিন্তু চোখের পাতা মেলতে পারতাম না। হাত-পা কিছুই নাড়াতে পারতাম না। মনে হত বুকের ওপর ভারি কিছু চেপে বসে আছে।” ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট ও সাইকোথেরাপিস্ট ডক্টর মোহাম্মদ জিয়াউল হকের চেম্বারে জহির নামের এক পেশেন্ট তার সমস্যার কথা বর্ণনা করছে। জহির রাতে ঘুমাতে পারে না। এমনকি দিনেও না। ঘুমালে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে যায়। সেই দুঃস্বপ্নের বিবরণ সে দিতে পারে না। পরবর্তীতে ভুলে যায়। ঘুমের অভাবে প্রচণ্ড মাথাব্যথার সমস্যায় ভোগে।
দুঃস্বপ্ন কমবেশি সবাই-ই দেখে। ডক্টর জিয়ার কাছে এমন কেস ভুরি ভুরি আসে, তাই এটা নিয়ে তিনি তেমন মাথা ঘামালেন না। তবে দুঃস্বপ্ন দেখার ভয়ে ঘুমাতে না পারাটা একটু যেন বাড়াবাড়ি। বাসায় ফেরার পর তিনি আনমনে জহিরের কেসটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে আবিষ্কার করলেন এমন আরও একটা কেস তার কাছে এসেছিল। পেশেন্টের নাম হায়দার আলি। পেশায় তবলচি। সেই পেশেন্টেরও এমন দুঃস্বপ্ন দেখার সমস্যা ছিল। দুঃস্বপ্নের কারণে ঘুমাতে পারত না। এক পর্যায়ে বাসায় রেখে চিকিৎসা করানো সম্ভব না হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যালের সাইক ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়।
কিছুদিন পর জহির আবারও তার কাছে এল। এবার তিনি রোরশ্যাখ পদ্ধতিতে জহিরের মানসিক অবস্থা জানার জন্য ছবিওয়ালা কিছু কার্ড তার সামনে তুলে ধরলেন। ছবিগুলো দেখতে দেখতে জহির পেন্সিলে আঁকিবুঁকি কেটে কার্ডগুলোকে এমনভাবে সাজালো যেন একটা আরেকটার সাথে সম্পর্কিত এবং তাদের সবগুলোকে সাজালে কেমন কিম্ভূত একটা আকৃতি ফুটে ওঠে। ডক্টর জিয়া অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, ছবিটার দিকে তাকালে কপালে মাঝখানে সুঁই ফোটানোর মত চিনচিনে একটা ব্যথা অনুভূত হয়। এবার জহিরের কেসটা নিয়ে তিনি সত্যিকার অর্থে আগ্রহী হয়ে উঠলেন।
নিছক কৌতূহলবশত সাবেক পেশেন্ট হায়দার আলির খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারলেন, তাকে ঢাকা মেডিক্যাল থেকে স্থানান্তর করে চট্টগ্রামের আর্কহাম নামের একটি স্যানিটরিয়ামে নেয়া হয়েছে। একজন সাইকিয়াট্রিস্ট হয়েও যে স্যানিটরিয়ামের নাম তিনি অদ্যাবধি শোনেননি। আরও ঘাঁটাঘাঁটি করে জানা গেল, ২০১৬ সালে এক অগ্নি-দুর্ঘটনায় স্যানিটরিয়ামটি ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এদিকে জহির ছেলেটিও তার কাছে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
একজন স্বনামধন্য নাট্যাভিনেতা তার স্ত্রী সন্তানকে খুন করে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ক্রাইম সিনে রক্ত দিয়ে আঁকা ছবিটি তার চেম্বারে বসে জহিরের আঁকা ছবিটির সাথে হুবহু মিলে যায়। ঘটনার সুতোগুলো ধীরে ধীরে একটার সাথে আরেকটা জোড়া লাগছে। কিন্তু তারপরই যেন আবার খেই হারিয়ে ফেলছে। ডক্টর জিয়া কী পারবেন এই রহস্যের সমাধান করতে? জহির ছেলেটারই বা কী হবে? সে কী আদৌ কোনদিন সুস্থ হয়ে উঠবে, নাকি ঘুমের অভাবে হয়ে পড়বে বদ্ধ উন্মাদ? হাজতে বসে খুনি সেই নাট্যাভিনেতা বিড়বিড় করে কোন ভাষায় কথা বলছে? লা কথুলহু ফহটাগন- এই কথারই বা অর্থ কী?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ভাল লেখকদের মধ্যে সাধারণত যে গুণাবলীগুলো পরিলক্ষিত হয়, তার একটা হল- খুব দ্রুত বইয়ের প্লট অথবা কোন চরিত্রের প্রতি পাঠকের সিমপ্যাথি জাগিয়ে তোলা। যা এই বইয়ের লেখক সফলভাবে করতে সক্ষম হয়েছেন। বইয়ের কয়েক পৃষ্ঠা এগোনোর পরই জহির চরিত্রটার ওপর মায়া লাগতে শুরু করে। মনেপ্রাণে চাইতে থাকি যেন ছেলেটা তার সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পায়। লেখকের মূল সাফল্য এখানে বলেই আমি মনে করি।
পুরো বইতে কোথাও বর্ণনার আধিক্য নেই। বইয়ের প্রচ্ছদ, ছাপা এবং বাঁধাইয়ের মান বেশ ভাল। তবে বইয়ের কয়েক জায়গায় (বিশেষ করে ডায়েরির কথা লেখা পাতাগুলোতে) ভিন্ন ফন্ট ব্যবহার করায় পাতাগুলো পড়তে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। একটা বই পড়তে গেলে সেটা থ্রিলার, রম্য নাকি সমকালীন, সেসব নিয়ে কখনও ভাবি না। তাই লাভক্রাফটিয়ান থ্রিলার বা হরর, এসব স্পেসিফিক ট্যাগ নিয়ে মাথা ঘামাতে যাইনি। গল্পটা টানছে কিনা বা পড়া শেষে বইটা তৃপ্ত করতে পারল কিনা, দিনশেষে এটাই বড় কথা। সে হিসেবে বলতে হয়, কথুলহু পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার মত একটা বই। আর তাই লেখকের প্রথম উপন্যাস হলেও বইটা পড়া শেষে আমি তৃপ্ত।
সবচেয়ে পুরনো আর শক্তিশালী জাগতিক বা পরলৌকিক শক্তির পুঞ্জিভূত অনুভূতির এক কথায় নাম -ভয়
সুতরাং ভয়ের ভিত অবচেতন মন সচেতনভাবে লালনপালন করে আসছে অনাদিকাল থেকেই একথাটা বোধহয় খুব একটা বাতুলতা নয়; বিশেষ করে ভূত আমার পুত পেতনী আমার ঝি ছড়ার ছন্দে বেশিরভাগ ছাপোষা বাঙালির কাছে দৈত্যি দানোর গল্পের অন্দরের আড়ালেই কেটেছে ছেলেবেলা।
বড়বেলায় বোধশক্তির বিলোপ বা আরো নতুন কিছু আরোপের কারনেই হোক না কেন ভয়ের ব্যাপারটা নেহাতই পড়ে গেছে পানদোক্তার রসালো আলাপের পর্যায়ে।
প্রাচীন বৃত্তের বাইরের এই চেনা পরিচিত শাখাটির মধ্যমনির আরেক নাম হয়ে উঠেছে "লাভক্রাফটিয়ান হরর"; বাংলাদেশে যার প্রথম নৈবেদ্য এক জোড়া চোখ খোঁজে আরেক জোড়া চোখকে, দ্বিতীয়টি পেলাম কথুলহু তে।
প্লট সুন্দর,চরিত্ররা করেনি কোনো বাহুল্য,বুনটে ভুল ভ্রান্তি নেই বললেই চলে।কিন্তু অভাগা এই পাঠকমন আমার পটে যায়নি এত সব কিছু থরে বিথরে সাজানোর পরেও।
গল্প শেষ হয়েও থেকে গিয়েছে আরো একটি নতুন গল্পের আগমনী বার্তা, লেখক মশাই ভালো জানেন এ কিশেষের শুরু না আরো কয়েকটি পর্ব আছে গুরু!
লাভক্র্যাফটের দুনিয়ায় থ্রিলারের প্লট। থ্রিলার গল্প হিসেবে দুর্দান্ত লেগেছে। আমার মতো যারা আগে লাভক্র্যাভট পড়েনি কিন্তু এল্ডার গডসদের নাম-টাম শুনেছে, লাভক্র্যাফটের ইউনিভার্সের স্টার্টার হিসেবে বইটা উত্তম।
বইটা কাল্ট থ্রিলারের জনরায় পড়তে পারে। আর থ্রিলার গল্পের চাহিদা লেখক মিটিয়েছেন পুরোভাগেই। আসিফ রুডলফায ফেইসবুকে খুব লেখেন, তিনি যদি বই লেখার ইচ্ছা রাখেন তাইলে বাংলাসাহিত্যে আমরা কিছু সুখাদ্য পাব নিঃসন্দেহে।
So promising of a story. Anti-climactic ending. Extremely well-crafted, but there is no clear, good, satisfying resolution. Overall rating: 2.70 stars. Scratch that. Even though the story gripped me from the beginning up until the very end, the ending ruined it for me. So, am rating it 2.30 stars. (Sep. 16, 2019)
Reminiscence after a year, upon hearing a critical review of this story elsewhere: শেষ কয়েক পৃষ্ঠার আগ পর্যন্ত টান টান উত্তেজনা নিয়ে কাহিনীটা আমাকে ধরে রেখেছিল। লেখনী খুবই ভালো লেগেছে। আর এ লেখাটার মাধ্যমেই লভক্রাফটিয়ান হররের সাথে আমার প্রথম পরিচয়; সে হিসেবে আগ্রহ বাড়ছিল, সব রহস্যের জট কীভাবে খুলে তা জানবার তর সইছিল না। আধিভৌতিক আবহে মোড়া, কী এক ষড়যন্ত্রের আভাস দেয়া, রোমাঞ্চকর অথচ একইসাথে গা শিরশির করা একটা অনুভূতি দেয়া বইটার একেকটা উল্টানো পাতা মনের উপর চাপ সৃষ্টি করছিল। কিন্তু শেষতক...
সতর্কতা: --- স্পয়লার --- > > > জীবনে হাতে গোনা কয়েকটি বইয়ের ব্যাপারে এমন বোধ হয়েছে। এ বইটার শেষটুকু পড়ে, অসমাপ্ত কাহিনী নিয়েই বইটা শেষ হয়ে গেল - এ ধাক্কাটা খাওয়ার পরও, আরও একবার ঐ শেষ কয়েক পাতা উল্টেপাল্টে যখন বুঝলাম এরপর কী ঘটল মূল কিছু চরিত্রের ভাগ্যে তা আর কখনই জানা যাবেনা - তখন রাগে-দুঃখে ইচ্ছে করেছিল বইটা ছুঁড়ে ফেলতে। (আসলেই তা বাস্তবায়ন করেছিলাম কি না তা এতদিন পর আর মনে নেই।)
তাই যেভাবে লভক্রাফটিয়ান হররের সাথে সখ্যতা বাড়ছিল, একই বইয়ের কল্যাণে জনরা টার সাথে বিচ্ছেদও (সকল কৌতূহলের সমাপ্তি) ঘটে গেল। < < < ---স্পয়লারের ইতি---
তবু এ বইটা পড়তে বলব, কেবল লেখকের মুগ্ধ করা শক্তিশালী লেখনশৈলী, মনস্তাত্ত্বিকভাবে আকর্ষণ করা চরিত্র বুনন আর চমৎকার রহস্যের গাঁথুনি দেয়া কল্পকাহিনীর স্বাদ থেকে বঞ্চিত না হবার জন্য। Updated rating: 3.3 stars. (Sep. 24, 2020)
Lovecraft একটা ভালোবাসার নাম। তার গল্প পড়া, অডিও স্টোরি শুনা সবই খুব উপভোগ্য। যখন শুনলাম একজন বাংলাদেশী লেখক Lovecraft অনুবাদ করেছেন, তখন খুবই উত্তেজিত ছিলাম। ভাবলাম এবার বাংলা ভাষাতেও তার গল্প পড়ব তার উপর তার সবচেয়ে বিখ্যাত গল্প কল অফ কথুলহু বলে তো উত্তেজনা আরো বেশি ছিল। অনলাইনে অর্ডার করে বইটি হতে পেয়েই প্রথমে হতাশ হতে হল। কভার টা একদম গুগল থেকে মেরে দেয়া। বিন্দুমাত্র এডিটিং পর্যন্ত করা হয় নাই। যাইহোক, কথায় আছে, Don't judge a book by its cover. সেটা উপেক্ষা করে ভিতরে কি আছে টা দেখতেই বসে পড়লাম। প্রথমেই যে খটকা টা লাগল তা হল অরিজিনাল গল্প টা মাত্র 44 পৃষ্ঠার। সেখানে এই বই 195 পৃষ্ঠা হল কেন! পরে ভুলটা ভাঙলো যে এটা অনুবাদ, লেখকের মাধুরী মিশানো রূপান্তর!! যাই হোক পড়তে থাকলাম আর অবাক হতে থাকলাম। লেখক এতে কি রাখেন নি? হালকা কমেডি, রোমান্স!! হরর, রহস্য, আর কি নাই। জাগতিক যত সাহিত্য উপাদান আছে সবই এই বইয়ে অপরিমেয় পরিমাণে আছে। লেখক এইদিক কোন কার্পণ্য করেন নাই। ধরে নিলাম এটা লেখকের উদারতা। পৃষ্ঠা সংখ্যা না বাড়ালে পাঠক কি আর বই কিনবে! তা না হয় বুঝলাম। তাও যদি একটু সুখাদ্য হত তাহলে ও মানা যেত। কিন্তু তা আর হলো কই! অখাদ্য বইগুলোর ও অনেক নিচে এই বইয়ের অবস্থান হবে। মোটেও বুঝতে পারছিনা লেখক যদি মৌলিক কিছুই লিখতে চান তাহলে Lovecraft এর গল্প অনুসারে লিখবেন কেন। আর যদি অনুবাদই লিখেন তাহলে এত জগাখিচুড়ী জিনিস লিখার মানে কি!! ফেসবুকে সস্তা প্রশংসা পাওয়ার জন্যই বোধহয় Lovecraft নাম এর আশ্রয় নেয়া। লেখক প্রথম লেখা দিয়েই ছক্কা মারতে চেয়েছিলেন। আমি দুঃখিত, এই বইয়ের প্রশংসা করা তো দূরে থাক, আমি যে একটা ভালো কিছু বলব তাও একদমই সম্ভব না। লেখকের প্রতি অনুরোধ, যা ইচ্ছা তাই লিখুন সমস্যা নেই। তবে দয়া করে আর কখনো অন্য লেখকের আশ্রয় নিয়ে এভাবে তার লেখার অপমান করবেন না।
লাভক্রাফটিয়ান হরর যে জনরাটা আছে সেই জনরার বই কম পড়া হয়েছে আমার, তবে ওভারঅল একটা ধারণা আছে। আসিফ রুডলফাযের "কথুলহু" বইটা হচ্ছে "লাভক্রাফটিয়ান থ্রিলার" জনরার। অর্থাৎ লাভক্রাফটিয়ান হরর এবং থ্রিলারের মিশেলে লেখা। সে কারণে লাভক্রাফটিয়ান হররে যে dull & gloomy ভাবটা থাকে সেটা একটু কম, যেহেতু থ্রিলার তাই টানটান উত্তেজনা বিরাজমান। আমার ভালোই লেগেছে মিশ্র জনরার কাজ। লেখনশৈলী ভালো, উপস্থাপনা ভালো। যেটুকু নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছে তা হলো, বর্ণনায় মাঝে মাঝে ইংরেজি শব্দের ব্যবহার। বর্ণনায় বেমানান লাগে, সংলাপে হলে সমস্যা নেই। আর গল্পের সমাপ্তিটা খুব একটা খারাপ নয়, তবে প্রচলিত লাফক্রাফটিয়ান ধাঁচের এন্ডিংটা না হলেও পারতো। একটু ক্লিশে হয়ে গেল আরকি।
অসাধারণ! প্রথম বলেই ছক্কা হাকানোয় লেখকে অভিনন্দন। ভালো প্লট। আরও ভালো উনার স্টোরি-টেলিং। এক বসাতেই পুরো বই শেষ করে ফেলা গেছে। তৃপ্তির ঢেকুরটাও প্রায় সাথে সাথেই তুলে ফেললাম।
লাভক্রাফটিয়ান ফ্যান'রা কোথায়? দ্রুত পড়ে ফেলুন। সম্ভবত, হতাশ হবেন না।
খারাপ লাগা একটাই- কিছু কিছু জায়গা ডিরেক্ট হলিউডি মুভি সিনের মতো মনে হয়েছে। অতোটা সিনেম্যাটিক না হলে বোধহয় অারও ভালো লাগতো।
"The oldest and the strongest emotion of mankind is fear, and the oldest and strongest kind of fear is the fear of unknown - H.P. Lovecraft".
Jahir a young guy comes to psychiatrist Zia, with a problem of "bad dreams". He watches creepy dreams every night as a result he is now in fear of sleeping. psychiatrist Zia after hearing everything find it quiet interesting because this case is pretty unique and he was bore working on the tribal cases for long. But this bad dream of his patient will soon become his bad dream also. A mental facility had grown in rural Area's of Bangladesh supported by mysterious cult organization name arkham asylum. But the linked is between this mental facility and the bad dreams and missing peoples. You have to read this book to know the answers.
Cthuluhu is probably the second work on Lovecraftian horror/ Thriller, and this is also the first work of the writer. And without any doubt the writer has done a extremely good job! For me it was top class performence for first 80-85% of the book. Every thing was there from horror to thrilling elements. But the finish?
I didn't like it at all. It was a pure frustration. The whole good work got spoiled. But i hope that the writer will keep his good job and would produce some more great novels.
সুন্দর লেখনী। লাভক্র্যাফটিয়ান ধাঁচটা ঠিকঠাক ফুটে উঠতে পেরেছে। জহিরের চরিত্র ভয় জাগানিয়া কাজকর্ম করতে বেশ সক্ষম ছিল। কিন্তু শেষটা ঠিক জমলো না৷ কেমন বেসুরো তালে অনেকগুলো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে আর আরও কতগুলো প্রশ্নের উদ্রেক করে বইটা খতম হয়ে গেলো। সিকুয়েল আসলে ভালো হয়। তবে এই বইয়ের আকৃতি বড় করেই হয়ত সুষ্ঠু সমাপ্তি টানা যেতে পারত।
Completed the book in one seating. The writer surely knows how to keep the reader attached. Now, this is my first lovecraftian book. So, I didn’t know what to expect but to me it seems a very good beginning of a series. I will be very disappointed if the writer doesn’t continue it as a series.
মেলার সময়ে স্টলে বসে দুয়েকবার অল্প অল্প করে কয়েক পৃষ্ঠা পড়া হলেও, পুরো বইটি পড়া হয়নি তখন। দীর্ঘ দেড় বছর পর কাল পুরোপুরিভাবে একটা বই পড়ে শেষ করলাম। মাঝে এতদিনের গ্যাপের কারণে পড়া অনেক স্লো হয়ে গেছে। গত ২ তারিখ রাত ৮ টায় বইটি নিয়ে বসছিলাম, দুয়েক পেজ পড়ার পরই ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেছিলো, আসছে ভোর ৫ টার পরে। পরদিন দুপুরে আবার পড়তে বসছি, ৭-৮ পেজ পড়ার পরে আবার লোডশেডিং, ফিরে আসছে সন্ধ্যায়। তারপর ১০ টায় বসে টানা প্রায় রাত ৩ টায় বইটা শেষ দিয়েই ঘুমাতে গেলাম। আর ভাবতেছিলাম, পড়ার মাঝে ইলেক্ট্রিসিটি যে দুইটা দিন এভাবে সমস্যা করলো, এর পেছনে এল্ডার গডদের হাত নেই তো! বইয়েই প্রফেসর আর্মিটেজ বলছিল, "কিছু জ্ঞান মানুষের অজানাই থাকা উচিৎ!" :3 jokes apart 🐸
এক বসায় পড়ে শেষ দিলাম বইটি। সত্যি বলতে একটি বইয়ের মূল আকর্ষণ হচ্ছে বইয়ের নাম। হ্যাঁ, নামই। এর পরের আকর্ষণটি হচ্ছে প্রচ্ছদ। আর এই বইয়ের নামকরণের আকর্ষণে লেখক সেটার যথার্থ প্রয়োগ করেছেন। বইটির এই অদ্ভুত নামটি সবাইকেই আকর্ষণ করবে। হাওয়ার্ড ফিলপ লভক্রাফটের অন্যন্য সৃষ্ট এই কথুলহু(যেটা প্রথম প্রথম আমি কলুথুলু বলতাম মজা করে😜) নামটিও আগ্রহোদ্দীপক। আমিও যখন প্রথম নামটি শুনি/দেখি তখন থেকেই বইটি পড়ার ইচ্ছা।
আর বইটি পড়ার প্রতি আগ্রহের আরো যে-কয়েকটি কারণ ছিল, তারমধ্যমে বইয়ের ফ্ল্যাপের যেই কাহিনী সংক্ষেপ সেটি ফেসবুকের কল্যানে অনেক আগেই পড়া, আগ্রহোদ্দীপক কাহিনী সংক্ষেপ। আরেকটি কারণ হচ্ছে লভক্রাফটিয়ান থ্রিলার জনরার জন্য। লভক্রাফটের কথুলহু মিথোস নিয়ে বাংলা মৌলিক বই।
বইটি পড়ে আমার অনেক অনেক ভালো লেগেছে। দারুণ এক লভক্রাফটিয়ান থ্রিলার। এক কথায় বৈচিত্র্যময় কাহিনী। সাসপেন্স, মিস্ট্রি, সাইন্স এলিমেন্ট, মিথ সবই আছে বইয়ে। বিশাল পরিসরে, দেশীয় প্রেক্ষাপটে ঝড়ের বেগে চলেছে কাহিনী। কী নেই বইয়ে? কাল্ট, লেখকের ব্যক্তিগত দর্শন,অস্তিত্ব বিপন্নতার ভয়, নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, টেকনোলজি, চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু আলো-আঁধারী অধ্যায় এবং আরো অজানা অনেক কিছু।
লেখকের লেখনী সম্পর্কে কী বলবো! লেখনী বেশ চমৎকার, বর্ণনাভঙ্গি, শব্দচয়ণ, বাক্যগঠন, সংলাপ সবকিছুই ভালো লেগেছে। কাহিনীতে গ্রামের দৃশ্যায়নটা ভালো লেগেছে, গায়ে কাঁটা দেওয়ার মত ভয়ঙ্কর আবহ তৈরি করেছেন। মনে হচ্ছিলো যেন, ডক্টর জিয়া আমাকে সাথে নিয়েই চরোকি গ্রামের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং আমার সাথেই সবকিছু ঘটছে ডক্টর জিয়ার সাথে সাথে। বর্ণনাভঙ্গিটা এতোটাই বাস্তবিক ও সাবলীল এবং প্রতিটা জায়গার এত সুন্দর ডিটেইল বর্ণনা দিয়েছেন, মনে হচ্ছিল লেখক আমাকে নিয়ে ওখানে ঘুরতে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে জায়গাগুলোর বর্ণনা দিচ্ছেন খুব সন্দরভাবে। গল্পের ঘটনা প্রবাহে যা ঘটছে, তার সবই নিজের সাথেই অনুভব করছিলাম। লেখকের দারুণ লেখনী রহস্য, থ্রিল, সাসপেন্স ধরে রেখেছেন পুরো বইয়ে। পাঠককে বইতে ধরে রাখার মত লেখনী। গল্পের কাহিনীর মাঝে ঢুকে গেলে শেষ করেই উঠতে হবে।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কৌতূহল ধরিয়ে রেখেছেন লেখক। কোথাও একটুর জন্যও ঢিল দেয়নি। কোথাও বর্ণনার আধিক্য মনে হয়নি। একদম মেদহীন চমৎকার একটি বই। লেখক শুরু থেকে রহস্যের জাল যেভাবে ছড়িয়েছেন, ঠিক সেভাবেই ধীরে ধীরে রহস্যের জাল গুটিয়েছেন নিপুণভাবে। চমৎকার প্লটে, দক্ষ স্টোরিটেলিংয়ে ভালোভাবে আবহ সৃষ্টি করেছেন লেখক।
ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ভালো লেগেছে। মূল দুটি চরিত্রকে ঘিরে কাহিনী এগিয়েছে। জহির রায়হান, যে একজন চিত্রশিল্পী আর জিয়াউল হক, যে একজন সাইক্রিয়াটিস্ট। দুজনের চরিত্রায়ন অনেক ভালোভাবে করেছেন লেখক। যার কারণে জহিরের জন্য খারাপ লাগা শুরু হয়েছিল, চাচ্ছিলাম কোনোভাবে তাকে রেহাই দেওয়া হোক। অন্যান্য চরিত্রগুলোতেও লেখক ভালোভাবে কাজ করেছেন। কোনো চরিত্রই হুট করে চলে আসেনি বা হুট করে হারিয়ে যায়নি। তবে এই সাব-ক্যারেক্টারগুলোর ক্ষেত্রে চাইলে হয়তো আরো কিছু কাজ করা যেত বলে মনে হলো।
শেষের দিকে একটু ফাস্ট মনে হচ্ছিলো, আমিই কি শেষে এসে স্পিডে পড়ছিলাম নাকি লেখক তাড়াহুড়ো করে ফেলেছেন বুঝতেছি না। তবে, বইয়ের শেষে এসে মজার একটা ব্যপার মনে হলো। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের মুভিগুলোর শেষে যেমন পরবর্তি মুভির হিন্ট হিসেবে "এন্ড ক্রেডিট সীন" থাকে, ঠিক তেমনই একটা আভাস দিয়েছেন বইয়ের সিক্যুয়ালের। যদি সত্যিই সিক্যুয়াল আসে তবে খুশি হবো।
শুরুতে বলেছিলাম বইয়ের দ্বিতীয় আকর্ষণের কথা, প্রচ্ছদ। হ্যাঁ, বইটির প্রচ্ছদটাও খুব ভালো লেগেছে। প্রচ্ছদটি এঁকেছেন নাজিম উদ দৌলা। আর নামলিপি করেছেন জুলিয়ান।
বানান ভুল নেই, প্রিন্টিং মিস্টেক—শব্দ ভেঙে যাওয়া বা শব্দ জোড়া লাগার মত শব্দও চোখে পড়েনি। কোথাও অসামঞ্জস্য ছিল না। ডায়েরির লেখার অংশের ক্ষেত্রে আলাদা ফন্টের ব্যববার ভালো লেগেছে। বইয়ের বাঁধাই, কাগজের মান ভালোই ছিল।
বইটি হররপ্রেমি, থ্রিলারপ্রেমি, রহস্যপ্রিয়, সাসপেন্স পছন্দকারিদের জন্য এবং লভক্রাফটিয়ান হরর/থ্রিলার-প্রিয় পাঠকদের জন্য অবশ্য পাঠ্য। আর যাদের লভক্রাফটিয়ান হরর নিয়া ধারণা নেই, তারাও বইটি অনেক ভালোভাবে উপভোগ করবে, এবং লভক্রাফটের জগৎ সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পেয়ে যাবেন। লেখক প্রথম বই দিয়েই বাজিমাৎ দেখিয়েছেন। পাঠকদের আমন্ত্রণ বইটি পড়ার জন্য।
পাঠক হিসেবে আমি কিছুটা অলস প্রকৃতির হলেও ফেসবুকে বিভিন্ন সাহিত্য বিষয়ক গ্রুপে গত দুই-এক বছরে যেকজন লেখক আমার দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়েছেন তাদের মধ্যে আসিফ রুডলফাজ সাহেব অন্যতম। কোন ধরণের বাহুল্যতা ছাড়া সাচ্ছন্দ্য ও সাবলীলভাবে টু দ্যা পয়েন্ট গল্প বলে যাওয়া ছাড়াও এই তরুণ লেখকের যে দিকটা আমার কাছে ভাল লাগে বরাবর তা হল গল্পের থিম বা আইডিয়াগুলোতে আধুনিকতার ছোঁয়া ও পাঠককে ভিন্ন কিছুর স্বাদ দেয়ার একটা নিরলস প্রচেষ্টা। ভেবেছিলাম রুডলফাজ সাহেবের কখনও বই বের হলে তা বুঝি হবে কোন গল্প সংকলন; কিন্তু তিনি যখন প্রথম কিস্তিতেই উপন্যাস আকারে আস্ত এক লাভক্রাফটিয়ান হরর-থ্রিলারের ঘোষণা দিলেন তখন স্বভাবতই পাঠক হিসেবে প্রত্যাশার মাত্রা অনেকটাই বেড়ে গেল। দেখার বিষয় ছিল দেশীয় প্রেক্ষাপটে লাভক্রাফট ও তার বিখ্যাত কথুলহু মিথলজির ট্রিটমেন্টটা কেমন হয়, আর কি লাভক্রাফটের সিগনেচার এলিমেন্টগুলো লেখক হিসেবে তিনি কিভাবে কাজে লাগিয়ে প্লটটাকে কতটা সুন্দরভাবে দাড় করাতে পারেন...আর ঠিক সেই জায়গাতে রুডলফাজের “কথুলহু” অবশ্যই সফল! কেননা ডি���েইলিংগুলো ছিল দারুণ; বিশেষ করে জার্নাল এন্ট্রির মত করে সার্ন ল্যাবরেটরির সেগমেন্টটা ছিল চমৎকার। লেখক নিজেই একজন পুরোদস্তুর লাভক্রাফট-ভক্ত হিসেবে অরিজিনাল মিথলজির হোমেজগুলো টেনেছেন মুনশিয়ানার সাথে। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের দিক দিয়ে প্রধান দুটো চরিত্রের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন যথেষ্ঠ; দুই-তিন প্যারাগ্রাফে ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড বা ব্যাকস্টোরিও ফুটিয়ে তুলতে ভুলেননি (যে জিনিষটা কেন জানি মাঝে মধ্যে অনেক পাঠকপ্রিয় লেখকও এড়িয়ে যান উপন্যাস লিখতে বসে!)। আবার ঠিক সেই দিক দিয়েই বলতে হয়, (সেকেন্ডারি ক্যারেক্টার বলে যদিও খুব একটা প্রয়োজন থাকে না, তারপরও) শাওন-বাঁধন দুই টুইন সিস্টারের বেলাতেও কিছুটা আলোকপাত থাকলে মনে হয় ভাল হত। ‘দুই জমজ সুন্দরী বোন’ অত বড় একটা বাসাতে একা থাকে/থাকত কিভাবে (!)…ব্যাপারটা একটু রহস্যময়ই থেকে গেল। শেষের টুইস্টটা খানিকটা এক্সপেক্টেড হলেও ইন্টেরেস্টিং লেগেছে, তবে আরেকটু সময় নিয়ে মজা করা যেত ব্যাপারটা নিয়ে। সত্যি বলতে ফিনিশিং-এও কোন গলদ নেই। লাভক্রাফটিয়ান হরর-থ্রিলার সাধারণত যেমন হয়ে থাকে তারথেকেও বরঞ্চ শেষে গিয়ে বেশি কিছু দেয়ার প্রচেষ্টাটা ধরা দিয়েছে স্পষ্ট কিন্তু তারপরও কোথায় যেন তৃপ্তিটা ঠিক পুরোপুরি ধরা দিয়েও দিল না আমার কাছে, প্রধান চরিত্রগুলোর সাথে শেষে গিয়ে কোথায় যেন ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্টটা একটু হারিয়ে ফেললাম বলে মনে হল…আর তার জন্য পাঠক হিসেবে আমার অতিমাত্রার প্রত্যাশাকেও অবশ্য দায়ী করা যেতে পারে।
তবে সবমিলিয়ে যে থ্রিলার প্রেমীদের জন্য আসিফ রুডলফাজের ‘কথুলহু’ এ বছরের এক উপভোগ্য পাঠ্য হতে যাচ্ছে, সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম ইনফ্লুয়েনশিয়াল হরর রাইটার এইচ.পি লাভক্রাফটের শিউরে ওঠা আশ্চর্য জগতের সাথে যাদের এখনো সেভাবে পরিচয় হয়নি তাদের জন্য তো এই বইকে “Lovecraft 101” হিসেবে মাস্ট রিড বললেও মনে হয় না খুব একটা বেশি বলা হবে।
কথুলহু আসিফ রুডলফাজ জনরা:- লভক্রাফটিয়ান হরর/থ্রিলার ভূমি প্রকাশ
'এমন কিছুর অস্তিত্ব রয়েছে যার চিহ্ন সূর্য ,চাঁদ এবং জগতের সবকিছুই বহন করে' ---অজি অসবর্ন (বিহাইন্ড দ্য ওয়াল অফ স্লিপ,ব্ল্যাক সাবাথ)
জহির, একজন আর্টিস্ট। ইদানিং ভয়ঙ্কর এক দুঃস্বপ্ন দেখছে। সেখানে দেখা দিচ্ছে অদ্ভুত এক প্রাণীর। এ দুঃস্বপ্ন তাকে ধ্বংসের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। এসময় সে দেখা করল মনোবিজ্ঞানী ডক্টর জিয়ার সাথে। কি ব্যাখ্যা এ দুঃস্বপ্নের অদ্ভুত প্রাণীর?
শহর থেকে একে একে হারিয়ে যাচ্ছে নয়তো উন্মাদ খুনিতে রূপান্তরিত হচ্ছে শিল্পীগোছের মানুষজন। উন্মাদ খুনিরা খুনের পরে অদ্ভুত একটা চিহ্ন আকাচ্ছে। কিসের চিহ্ন এটা?
বেশ কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের উখিয়া অঞ্চলে এক মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রে আগুন লেগে গেছিল। কিন্তু কোথাও এখানকার আগুন লাগার বিষয়ে কোনো রেকর্ড নেই। এটা কি শুধুমাত্র একটা মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্র ছিল নাকি সেখানে লুকানো রয়েছে সৃষ্টির শুরুর দিককার কোনো রহস্যে? কোথায় হারিয়ে গেল এখানকার চিফ কনসালট্যান্ট? ডক্টর জিয়া কি পারবেন এসবের রহস্য ভেদ করতে?
কুথলহু ডাকছে সবাইকে। কুথলহু ছিল, কুথলহু আছে, কুথলহু থাকবে। কি এই কুথলহু?
আসিফ রুডলফাজের প্রথম মৌলিক উপন্যাস কুথলহু। বাংলাদেশে দ্বিতীয় লভক্রাফটিয়ান হরর এটা। প্রথমটা ছিল একজোড়া চোখ খোঁজে আরেকজোড়া চোখকে। প্রথম উপন্যাসে আসিফ সাহেব বেশ দারুন কাজ দেখিয়েছেন। এমনিতেই এ জনরাটা বাংলাদেশে নতুন। অনেকেই এ জনরার ব্যাপারে অবগত না। যাদের লভক্রাফটিয়ান হরর নিয়ে আগ্রহ আছে তারা এ জনরার মৌলিক দুটি বই পড়লে ভালো ধারণা পাবেন। কুথলহুতে লাভক্রাফটিয়ান এলিমেন্টস বেশ সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। সেই সাথে থ্রিল তো রয়েছেই। বিল্ডআপ অসাধারণ। আজাইরা আলাপ নেই বললেই চলে। সবথেকে বড় কথা এ উপন্যাসে বেশ কিছু ডিস্টার্বিং এলিমেন্টস রয়েছে। যেটা হরর গল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান। শেষটা দারুন হলেও সত্যি বলতে শেষে আরেকটু বেশি টুইস্ট আশা করেছিলাম। ওভারঅল হতাশ হতে হয়নি। সব ধরনের পাঠকের জন্যেই উপযুক্ত একটা গল্প। পড়ে ফেলতে পারেন সময় করে। হ্যাপি রিডিং।
গত বইমেলার কথা। এক বড় আপু বারবার বায়না করল তারে যেন একটা হরর উপন্যাস কিনে দেই। অভিজ্ঞতা জিজ্ঞাসা করাতে সে দ্রুত উত্তর দিল যে স্টিফেন কিং। জানতে চাইলাম, লাভক্রফট? উত্তর এলো, না। দিলাম একজোড়া চোখ কিনে। এবারও এসে একই বায়না। এবারে আমিও বই থেকে বেশ দূরে। চিন্তিত হয়ে পড়লাম। তবে মেলায় ঘুরেফিরে ভূমি প্রকাশের ব্যানারে লাভক্রফটিয়ান হরর লেখাটার উপর চোখ যেতেই চিন্তার অবসান ঘটল। তারা টাকা দিয়ে তাকেই কিনে দিলাম। মেলায় ঘুরতে ঘুরতে কয়েক পাতা আমিও পড়ে ফেললাম। ভালো লেগে গেল। ডিল হলো, তাকে দিব "সময় এখন থমকে যাবার" আর আমাকে দিবে "কথুলহু"। যেই ডিল সেই কাজ। বই দিলাম কিন্তু নিতে ভুলে গেলাম। দুর্ভাগ্যবশত পরে আর তার সাথে আমার দেখা হয় নাই বিধায় আমি আর পড়ার সুযোগ পাই নাই। তিনি চাকুরিবদলি হয়ে এখন খুলনা।
এরপরে একদিন ইভার থেকেই চেয়ে ফেললাম বইটা। দরদী মেয়ে একবাক্যেই দিয়ে দিল। শুরু হলো আবার পড়া। তবে এবারেও দুর্ভাগ্য, না ওই এক ফর্মা মিসিং ইস্যু না। আমাকে ঢাকা ত্যাগ করতে হবে বেশ কিছু সময়ের জন্য। ফেরত দিতে হলো বইটা। টাকা ধার নিয়ে ফেরত না পেলেও আফসোস হয় না আমার, যতটা হয় বই না পেলে।
এরপরে অংকনের বানায় আবার কেনা হলো, তবে এখানেও দুর্ভাগ্য। আমাকে আবার গৃহত্যাগ করতে হয়েছে। কিন্তু ফিরে এসে দেখি অংকন ওর ইয়ে কে বই দিয়ে দিছে। মাথাটা এত গরম হয়ে গেল যে, ইয়েকে গিয়ে ধমক দিয়ে বই এনে পড়তে হইছে। সেক্ষেত্রে এখন আমি ভিলেন। মামার ইয়ের কাছে ভাগ্নে ভিলেন।
এতক্ষণ হয়তো এটাই ভাবছেন যে কি সব আবোল-তাবোল বকছি এগুলা। আসলে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম যে এত সমস্যার সম্মুখীন হয়েও বইটা পড়ার জন্য আমি কেমন মরিয়া হয়েছিলাম। সহজ আর সাবলীল গতিতে লিখা প্লট, কিছু টার্ম এত সুন্দর করে বর্ণনা করা হয়েছে যে নয়তো বুঝতে সমস্যা হতো। বইয়ের শেষে কিছু প্রশ্ন রাখা হয়েছে। উত্তর পরের পর্বে দিলে বেশ খুশি হবো। লেখনী ভালো। আরো লিখুন, ভাই।
আমি পড়লাম! আমি শেষ পর্যন্ত এটা পড়ে শেষ করতে পারলাম! আসলেই এটা আমার জন্য একটা অর্জন যে আমি এটা শেষ করতে পারলাম। বইটার প্রতি আগ্রহের একটাই কারণ লাভক্র্যাফটিয়ান থ্রিলার ট্যাগ লাগানো। লেখকের প্রশংসা করবো কারণ উনি আসলেই লেখার জন্য অনেক গবেষণা করেছেন। রোমান্স (লুতুপুতু প্রেম),কমেডি (খুবই অল্প যদিও), সাসপেন্স, মনস্তত্ত্ব, রহস্য, এডভেঞ্চার সাহিত্যের কোন উপাদান ই তিনি বাদ দিতে চান নি। মনের মাধুরী মিশিয়ে লাগামহীন ভাবে যখন খুশী একটা করে উপাদান উনি ঢেলে দিয়েছেন লেখায়। ফলাফল জগাখিচুড়ী না হয়ে আর কোনো উপায় ছিল না।
কাহিনী সংক্ষেপ বলতে গেলে আদিম অপশক্তির উত্থানের আশঙ্কায় মানবজাতির টালমাটাল অবস্থা এবং ��া থেকে কিভাবে পৃথিবীকে রক্ষা করা যায় এটুকুই। এখানে যে মহাজাগতিক অপশক্তির কথা অবতারণা করা হয়েছে তা মনের উপর কোনো জোরালো প্রভাব রাখতে পারে নি। অরিজিনাল বইয়ে যেখানে 40 পেজে যে সাসপেন্স লেখক তৈরি করেছিলেন সেখানে এই লেখক 196 পেজেও কোনো আবহ তৈরি করতে পারেন নাই লাভক্র্যাফট যে উদাহরণ গুলো রেখে গেছেন তার সমতুল্য আর কেউ কখনো হতে পারেনি। সেখানে একজন নব্য লেখক ঠিক কি চিন্তা করে তার প্রথম লেখা লাভক্র্যাফটিয়ান থ্রিলার (!) দিয়েই শুরু করলেন তা ঠিক বোধগম্য না।
লেখকের প্রতি অনুরোধ থাকবে উনি যা খুশি তাই লেখুক, আমার আপত্তি নেই। তবে দয়া করে কখনো আর লাভক্র্যাফটিয়ান থ্রিলার ট্যাগ লাগিয়ে লাভক্রাফ্ট ভক্তদের আশাহত করবেন না।
কভার টা পর্যন্ত চুরি করা। এই বইয়ে একটা সুন্দর জিনিসও দেখা পেলাম না। লা কথুলহু ফহটাগণ 😂😂😂
লাভক্রফটিয়ান হরর নিয়ে পড়া আমার প্রথম বই এটা। শুরুতেই লেখকের লেখার ধারার তারিফ করতে হবে। খন্ড খন্ড গল্পগুলো এভাবে সাজিয়ে এক পূর্ণ গল্পের রূপ দেয়া সহজ কথা না। তাছাড়া তার চরিত্রগুলোর চিত্রায়নও যথেষ্ট ভালো ছিল। ভয় আর রহস্যের মিশ্রণ মুগ্ধ করার মতো। তবে এত তারিফের পরও আমি এটিকে এক স্টারের বেশি রেটিং দিতে পারছি না বইটির এন্ডিং এর জন্য। বইটির শেষে দেখা যায় ডক্টর জিয়া কথুলহুর ঐ ধর্মগ্রন্থটিকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে, সেখান থেকে রক্তও বের হয়; আর তারপর... পুরো বইটি পড়ে আমি মুগ্ধ ছিলাম লেখকের প্রতি। তবে শেষের এই অংশটুকু আমাকে হতাশ করেছে। এই অংশটুকু সচেতনভাবেই হোক বা অচেতনভাবেই হোক, "হ্যারি পটার এন্ড দ্যা চ্যাম্বার অফ সিক্রেটস" বইটির এন্ডিং থেকে কপি করা বা অনুপ্রাণিত। ব্যাপারটা খুবই হতাশাজনক। বিশেষ করে একটি মৌলিক বইয়ের ক্লাইম্যাক্সই যদি মৌলিক না হয়, তাহলে এরচেয়ে হতাশাজনক আর কি হতে পারে?
লাভক্র্যাফটিয়ান হরর নিয়ে বেসিক। অনেক কিছু জানতে পারলাম। তাও দেশের প্রেক্ষাপটে। লেখনি বেশ ঝরঝরে। একটানে পড়ে ফেলেছি। তবে তবে, গল্পটা কিছু ক্ষেত্রে অনেক প্রেডিক্টেবেল মনে হয়েছে আমার কাছে। চরিত্র গুলোর মাঝে ইমোশনাল এটাচমেন্ট ঘাটতি লেগেছে। সব মিলিয়ে ঠিকাছে। লেখকে সাধুবাদ। বাংলায় লাভক্র্যাফটিয়ান কিছু। ভাবতেই ভালো লাগে।
স্পয়লার এলারট! * ৫৪ পেইজে বলা হচ্ছে বাধন সুইসাইড করেছে সেপ্টেম্বর ১৫, যেটা দুই সপ্তাহ আগে। মানে প্রেক্ষাপট সেপ্ট ২৯ এ চলছে। আবার পেইজ ৭৬ এ বলা হচ্ছে, আজ আগস্টের ২৫ তারিখ, এষার মৃতুদিবস। টাইমলাইনের এই অসঙ্গতিটা লেগেছে।
আর কোনভাবে কি "জহির রায়হান" নামটা এড়িয়ে যাওয়া যেত?! নামটার সাথে দেশের অনেক ইতিহাস, সাহিতয্য জড়িয়ে আছে বলে কিনা।
লাভক্রাফটিয়ান হরর জনরার সাথে আমার প্রথম পরিচয় মূলত এই বইটার প্রচারণা দেখেই। এরপর ইউটিউবে টেড এডের ভিডিও দেখে একটা আইডিয়া আসে। সে থেকেই বইটার ব্যাপারে একটা কৌতুহল জন্মেছিল।
এরপর এলান মুরের নিওনমিকন আর তানজীম রহমান ভাইয়ের আর্কন পড়ে কৌতুহলটা কেবলই বেড়েছে।
বইটা পড়ে হতাশ হইনি। প্রথম ৮০% অনেকটা একদমেই পড়ে শেষ করেছি এবং উপভোগও করেছি। কিন্তু শেষে এসে পুরো ব্যাপারটা এন্টাইনক্লাইম্যাক্টিক ঠেকেছে। তাছাড়া গল্পের ক্লাইম্যাক্সটা খুবই সংক্ষিপ্ত লেগেছে। তবে হতাশ হইনি। ভালই লেগেছে। তবে একদম শেষে এসে লেখক রমাঞ্চটা আবার ফিরিয়ে এনেছিলেন।