#এক্কেবারে পাতে দেওয়ার যোগ্য নয়, gimmik আর hype-এর ডানায় ভর দিয়ে ভেসে থাকা ওভাররেটেড বইয়ের তালিকা :
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ : Overrated মানেই খারাপ না। অনেক সময় বইগুলো cultural বা emotional value-র জন্য বড় হয়ে ওঠে, অথচ সাহিত্যমান হয়তো তেমন উঁচু নয়।
‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ – নাম শুনলেই একটা থমথমে ঝিঁঝিঁধ্বনি বাজে কানে, মাদল বেজে ওঠে কোথাও... কিন্তু গল্পটার ভেতরে ঢুকলে — সে তো যেন আধুনিক বাঙালি পুরুষের বুদ্ধিদীপ্ত midlife crisis-এর সাহিত্যমার্কা পিকনিক, যেখানে introspection আছে, কিন্তু দায়বদ্ধতা নেই।
চলুন, খুঁটিয়ে দেখি, কেমন করে এই "Forest of Existential Bros" বানিয়ে ফেলেছিলেন সুনীল।
১. ‘মেন্টাল পিস’ নামক মুখোশের আড়ালে পুরুষালি গড়বড়: তিনজন educated যুবক (আসলে confused নরজাতি): আশিম, সঞ্জয়, হরি — প্রত্যেকেই চেতনায় আধুনিক, কিন্তু মননে ভীষণ ইনসিকিওর
একটা ছুটি, একটা গাড়ি, একটা জঙ্গল আর কিছু মেয়েকে টুকটাক ঘাঁটাঘাঁটি।
এই হ্যাংআউটটা যেন একদম Calcutta Boys’ Club Retreat – ভাবটা এমন যে জীবনের জট খুলতে এসেছ��, অথচ নিজের ভেতরের জটই চিনতে পারছে না।
“আমরা মেয়েদের বুঝি না, তাই মেয়েরা কী চায় সেটা আমরা ঠিকঠাক অসুস্থ কল্পনায় তৈরি করি।” এই প্রবণতা পুরো উপন্যাসজুড়ে দাপিয়ে বেড়ায়।
২. মেয়েরা কি ‘character’, না ‘catalyst’? দোলা, জয়া, শমী — কেউ আসলে flesh-and-blood character না, বরং পুরুষদের আত্মসমালোচনার মেঝেতে পাতা ছিটে দেওয়া গালিচা। তিনজন পুরুষের তিনরকম মনের সমস্যা — কিন্তু প্রতিটা সমস্যার ‘trigger’ হিসেবেই ব্যবহার হয় একেকটা নারী চরিত্র।
তাদের নিজস্ব মত, ইতিহাস, বা ভয়-লজ্জা-প্রেমের স্পেস কোথায়?
চরিত্রগুলো যেন "যেখানে পুরুষ থামছে, সেখানেই মেয়েরা একটা চোখের পাতা ঝাপটিয়ে তাকে চালিয়ে দিচ্ছে" – অথচ নিজেরা কোনো দিকেই এগোয় না।
৩. নকল বুদ্ধিমানদের সত্যি দুঃখ: ওরা জঙ্গলে আসে নিজেকে খোঁজার জন্য — অথচ প্রতিটা কথোপকথন এতটা ‘quotable’ হয়ে উঠতে চায়, যে আত্মা যেন হাঁপিয়ে ওঠে।
এই উপন্যাসের সবচেয়ে overrated দিক হলো তার pseudo-intellectual murmurings — সুনীলদা যেন চেয়েছেন, প্রত্যেকটা ছেলের কথায় জীবনদর্শনের গন্ধ থাকুক।
কিন্তু বাস্তবে যা দাঁড়ায়, তা হলো – “আমি কষ্ট পাই, তুই কষ্ট পাস, আমরা সবাই urbane, কিন্তু broken.” হায়রে উদাসীন শ্রেণিচ্যুতি – শব্দ বড় বড়, কিন্তু পায়ের নিচে জোর কম।
৪. জঙ্গল: রূপক না wallpaper? : উপন্যাসের নাম ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, কিন্তু জঙ্গল কেবল একটা backdrop — যেন মধুচন্দ্রিমার হোটেল, যেখানে মোহ ভুলে থাকা যায়।
আমরা আশা করেছিলাম, অরণ্য এখানে একটা চরিত্র হবে — জীবন আর সভ্যতার বাইরের প্রশ্ন তুলে দেবে।
কিন্তু সেটা হয়ে দাঁড়ায় যেন একটা Instagrammable isolation zone, যেখানে হালকা existentialism, হালকা flirting আর একটা দুই লাইনের অনুভূতি।
একটা real “মুকুটমনিপুর” টাইপ weekend getaway যেভাবে চলে, এ উপন্যাস প্রায় তাই — কেবল একদম লাস্টে একটা ঘটনা দিয়ে তাকে 'serious' বানানো হয়েছে।
৫. শেষের পরিণতি: shallow water pretending to be deep: উপন্যাস শেষ হয় হরির এক শকিং অভিজ্ঞতায় — কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া, আত্মবিশ্লেষণ, বা পরিবর্তন — সবই যেন মৃদু ঢেউয়ের মতো পড়ে গিয়ে উঠে না।
Yes, সুনীলচন্দ্র এখানে একটা গভীর মুহূর্ত তৈরি করতে চেয়েছেন — যেখানে আমাদের বুঝি “Everything changes now!” মনে হয়।
কিন্তু যেভাবে হরির অভিজ্ঞতা আসে, তা একটা এক্সপোজিশনের মত — না আছে বেদনার ওজন, না আছে নৈতিক দ্বন্দ্বের দগদগে অনুভব।
একদমকদম যেন "এ যেন shallow water pretending to be deep." দেখতে কালো, কিন্তু ছুঁতেই বোঝা যায় — তল তো অনেক আগেই চলে এসেছে।
শেষকথা: শহরের দুঃখ আর যৌবনের মনখারাপ — এই দুয়ের ফিউশন দিয়েই সুনীল লেখেন কিন্তু সব fusion সমান soulful হয় না।
এই উপন্যাসটা যেন একটা ক্যাফে কনভারসেশনের মতন — সুন্দর, স্মার্ট, কিন্তু শেষমেশ বেল বাজলে মনে পড়ে যায়, “আরে, কিছু শিখলাম না তো!”
এটা ভালো লেখা, কিন্তু অতিরিক্ত মর্যাদাপ্রাপ্ত, কারণ এটা এমন একটা সময়ের কথা বলে, যখন বাঙালি middle class যুবকের দুঃখ ছিল সবচেয়ে romantic জিনিস।