'দুর্গেশনন্দিনী' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। ১৮৬৫ সালের মার্চ মাসে এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 'দুর্গেশনন্দিনী' বঙ্কিমচন্দ্রের চব্বিশ থেকে ছাব্বিশ বছর বয়সের রচনা। এই উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা কথাসাহিত্যের ধারায় এক নতুন যুগ প্রবর্তিত হয়। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার অধিকারকে কেন্দ্র করে মোঘল ও পাঠানের সংঘর্ষের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত হয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণরূপে ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে করা হয় না। কোনো কোনো সমালোচক এই উপন্যাসে ওয়াল্টার স্কটের আইভানহো উপন্যাসের ছায়া লক্ষ্য করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবদ্দশায় এই উপন্যাসের তেরোটি সংস্করণ প্রকাশিত হয় এবং ইংরেজি ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষাতেও এটি অনূদিত হয়।
Bankim Chandra Chattopadhyay (Bengali: বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) ('Chattopadhyay' in the original Bengali; 'Chatterjee' as spelt by the British) was a Bengali poet, novelist, essayist and journalist, most famous as the author of Vande Mataram or Bande Mataram, that inspired the freedom fighters of India, and was later declared the National Song of India.
Complete works of Bankim Chandra Chattopadhyay (বঙ্কিম রচনাবলী) is now available in this third party website (in Bengali): https://bankim-rachanabali.nltr.org/
Chatterjee is considered as a key figure in literary renaissance of Bengal as well as India. Some of his writings, including novels, essays and commentaries, were a breakaway from traditional verse-oriented Indian writings, and provided an inspiration for authors across India.
ঐতিহাসিক উপন্যাস আমার সবচেয়ে পছন্দের। শরদিন্দু এক্ষেত্রে আমার কাছে সবার সেরা। কেন যেন মনে হয় বঙ্কিমের ঐতিহাসিক উপন্যাসগুলোর মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা একটু বেশি ফুটে ওঠে। যেমন : এটা, রাজসিংহ, আনন্দমঠ ইত্যাদি। সত্যি বলতে বাংলা সাহিত্যের প্রথম এই সার্থক উপন্যাস পড়ার ধৈর্য আর সামলাতে পারলাম না। তাই হাতে নিয়ে নিলাম বইটি। তাও আবার ঈদের দিনে । বলতে পারি বেশ উপভোগ করেছি বইটি।
I'm a 90's kid, and I grew up watching Bangla movies that BTV broadcasted at 3.30 pm on Friday afternoons. We didn't have cables at first. So, BTV, and later, Ekushe were the only options for visual entertainment. I can't help but wonder how much our society was getting brainwashed to become rapists and misogynists. Not for one or two years, but decades and decades. How? Every time there was a rape happening (almost graphically), it was always the hero's sister or mother getting raped. Never the heroine. Because a South Asian 'hero' should never accept a raped woman as his partner? Because heroine 'losing her honor' is not good enough to be a heroine anymore? Because 'proper' men just shouldn't be with a woman who 'isn't proper' anymore? Whatever the reason is, those movies taught several generations of men and women that 'You may accept your sisters and mothers getting raped, but you must never accept it if your own woman isn't pure.'
This book is all about that.
It's the first fiction of Bengali literature. A contemporary one. In 2021, it is to be read as a historical. It was written in the 1800s. (Around that time, Bengali lit was all about writing big poems and epics in verses) So, I was so much interested to read it right after I discovered its name around class 7 or 8 maybe (that's middle school). I didn't have access to the book before. But later, when I saw it with my teacher who was a student of literature at DU, I asked him to give me the book for a while.
The only good thing about this novel (Durgeshnondini) was, I finished it within a short time, and it had the proper craft of arousing emotions. But the entire plot was damn annoying. The hero leaves the heroine because he thought the villain king raped her; he blamed himself that he couldn't save her in time; now she has gone 'astray'. He left because he felt the heroine lost her treasure, in this case, her virginity. He even brooded about it for a while, things like getting drunk over it and trying to kill himself while she was still in the villain king's prison/ harem. He made no attempt to rescue her, of course, because he considered her dead, 'thinking' the king f***ed her already.
Way later, the hero thought he should avenge her. So, for revenge, he went to kill the king, but the king during his death told him that she is still 'pure'. Apparently, the villain king had more ethics and personality than the hero. He didn't want to touch her until she wanted to.
So suddenly, after knowing these, the hero wants her back! I mean, he really wants her back!!
I still remember, I just shut the book down for a while around that point. But I had to give the book back to my teacher because this novel was in his lit course that term. So, I finished it. The ending must have been forgettable because obviously, as I'm writing this review in 2021, I forgot what the ending was. I'm guessing she rejected him; if not, I really really hope she didn't commit suicide. Because in contemporary novels and film scripts written by South Asian men, the heroine/ the hero's sisters usually commit suicide after they get dishonored or abandoned by the men of their heart.
If you are interested to read this book, you are of course very much welcome. You have to understand the Bengali of 200 yo era. The author is still, after all, the first novelist of a language, and he is really a good one in that. He, I guess, tried to bring as many changes to the society, as it was possible around the 1800s when we were still colonized. But I have read better, more morally acceptable, Bengali novels written at that time. This book is one that I couldn't respect.
দুর্গেশনন্দিনী "দুর্গ প্রধানের মেয়েকে" নিয়ে লেখা হলেও কাহিনীতে তার শক্তিশালী ভুমিকা খুবই কম। পার্শ চরিত্র বলেই চালানো যায়। তবে উপন্যাসে ব্যাপ্তি তার অনেক। সে-হিসেবে নায়িকার চরিত্রে বিমলা, আয়েষা দের দৌরাত্ম অনেক ভালো।
প্রত্যেক ক্যারেক্টর, বিশেষ করে মেয়েদের, যেভাবে বর্ণনা করা আছে এক কথায় অসাধারণ। বিশেষ বিশেষ অবস্থার বর্ণনার ভাষা সিলেক্ট করার যে ব্যাপারটা, প্রত্যেক বাক্যকে অলঙ্কারে অলঙ্কারে ভরিয়ে রাখার যে বিষয় এ শুধু শব্দের জাদুকর, শব্দের জাহাজের দ্বারাই সম্ভব। আশমানির রূপের আর গুনের বর্ণনা একটু বেশিই জোশ।
কাহিনী সম্পর্কে বলার কিছু নেই। সময় সাপেক্ষে রুচিবোধ, আইন, ধারণা পরিবর্তন হয়। ১৯ শতকের একটা উপন্যাস যেটা আবার ১০ শতকের পটভূমি নিয়ে লেখা সেটার সাথে বর্তমান সময়ের চিন্তাধারার সাথে তুলনা করা বোকামি। সময় হিসেবে ভেবে দেখলে সবই ঠিক আছে। সেসময়ের মানুষ আপনার মতো মডার্ন ধারণা নিয়ে বসে নেই। (আর কে-ই বা বলতে পারবে আমাদের ধরণা মডার্ন, ভালো, উৎকৃষ্ট?) যারা নাক ছিটকান এই বলে যে সতিত্ব নষ্ট হইছে কী না হইছে সেটা পুরা না জেনেই এমন করা ঠিক হয়নি। আর সতিত্ব নষ্ট হলেই বা এমন কী! আপনাদের ধরণার ভুল আছে। সে-সময় পুরো পৃথিবীটাই এমন ছিলো। বিশ্বের অন্যান্য উপন্যাস তুলনা করলেও দেখা যায় তখন এসবের রগরগে বর্ণনাও দিতে হতোনা। কারণ তখন ব্যাপারগুলোই এমন ছিলো। সমাজ, পরিবার কেউ-ই মেনে নিতে পারতোনা। যে সময়ে দাস প্রথা চালু ছিলো সে-সময় যুদ্ধ জয় করে নারীদের ভোগ করবে এটাই ছিলো ট্রেন্ড।
যাইহোক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস আসলেই সার্থক। ভাষাতে, পটভুমিতে, কাহিনীতে সবকিছুতেই পারফেক্ট।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত যে ৩/৪টা উপন্যাস পড়েছি তার বেশিরভাগ পড়বার জন্য দারুণ হলেও সত্যিকারের দারুণ ছিলোনা। তিনি আধুনিক ছিলেন না চিন্তায়, চেতনায় অনেকাংশে। অনেক ক্ষেত্রেই তাকে তার যুগে চলা নারীদের উপর বৈষম্য দূরীকরণ আন্দোলনকে সমালোচনা করে উপন্যাস বা গল্প লিখতে দেখা গেছে। সেই হিসেবে তার রচিত প্রথম উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ সেসব থেকে মুক্ত। আইভানহোর আদলে লেখা হয়েছে বলে অনেক সমালোচনা থাকলেও আমার সে বই পড়া না থাকায় মন্তব্য করা গেলোনা। আর এখানে মুসলিম বিদ্বেষের কিছু খুঁজেও পেলামনা। মাত্র ২৭ বছর বয়সে এমন লেখা কীভাবে লিখেছেন সে এক আশ্চর্য্য বটে!
এই উপন্যাসে প্রায় ১৭০ বছর আগে লেখা না হয়ে আজকে হলে হয়ত��বা বিদ্রুপ করা যেতো। যে প্রেমিক তার প্রেমিকার সতীত্ব আদৌ রক্ষা হয়েছে কীনা তার প্রমাণ জেনে নিয়ে ফের প্রেমিকার প্রেমে পড়তে হয়, সেই চরিত্রকে এতো মহান দেখাবার কী ছিল সে নিয়ে সমালোচনা করাই যেতো। আপাতত সেসব করছিনা। উনার লেখা পড়বোনা ভাবলেও ব্যপারখানা শেষে এই দাঁড়ায় যে “হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়! আমি তারে পারিনা এড়াতে”।
নারী দেবী দুর্গার রূপ। দুর্গেশনন্দিনীর এই ব্যাখ্যাই হওয়া উচিত। দুর্গপ্রধানের কন্যা, এই নাম অতি বেমানান।
প্রতিটি নারী চরিত্র স্বমহিমায় বিরাজমান। আয়েশার সেবা, বিমলার ত্যাগ আর তিলোত্তমার প্রেম, সবই অতি সুন্দরভাবে আকাঁ হয়েছে। আর ভাষা? আহা! যেখানে যেখানে দরকার, একদম মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
হ্যাঁ, বিংশ শতকে বসে নবম দশম শতকের ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখলে অবশ্যই চিন্তাধারার পরিবর্তন লক্ষণীয়। তবে তাতে সময়ের হিসাবে দোষ ধরা যায় না। আর যারা নিন্দুক আছেন, একবিংশ শতকে এসেও আমাদের চিন্তাধারার সারবস্তু খুব একটা পাল্টেছে কি?
আয়েশার প্রতি শতকোটি শ্রদ্ধা৷ নিজের ভালবাসা এবং বিচক্ষণতার পরিচয়ে, বঙ্কিম তাকে অনেক মডার্ন নারীদের চেয়েও মডার্ন এবং মহৎ করে তুলে ধরেছেন।
খুবই এনজয় করেছি, কিছু কিছু জায়গা মনে দাগ কেটে গেছে। ঋদ্ধ হলাম মির্চির পরিবেশনায় উপন্যাসটা শুনে।
সন্দেহ নেই বঙ্কিম শক্তিমান লেখক। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের জন্য এটা একটা দুঃখের বিষয় যে বঙ্কিমের মত চরম সাম্প্রদায়িক ব্যক্তির হাতে বাংলায় কথিত প্রথম সার্থক উপন্যাস রচিত হয়েছিল। একইসাথে তিনি জাতপ্রথার মত পশ্চাৎপদ চিন্তাও লালন করতেন বলেও তার লেখা থেকে আভাস পাওয়া যায়। Rajmohan's Wife এ যিনি লিখেছিলেন “It is a notorious fact that many eminent zemindar families in Bengal owe their rise to some ignoble origin”। তিনিই দুর্গেশনন্দিনীতে লিখলেন ““তদুপরি রত্নাভরণ পারিপাট্য দেখিয়া পান্থ নিঃসন্দেহে জানিতে পারিলেন যে, এই নবীনা হীনবংশসম্ভূতা নহে।”মানুষের বংশ যে হীন হতে পারে না, শুধু জন্মের কারণে কেউ উঁচু নিচু, মহৎ-হীন হয় না এটা বঙ্কিম বোধহয় বিশ্বাস করতেন না। তারপর বারংবার দেখা যাবে লেখক কখনো নিজের বয়ানে কখনো নায়ক-নায়িকাদের বয়ানে মুসলমানদের “যবন” বলে উল্লেখ করছেন। এটা যে মুসলমানদের প্রতি তুচ্ছার্থে একটা গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয় তা উল্লেখ করাও বাতুলতা। সাহিত্যে এবং চলচিত্রে নারীর প্রতি নায়কদের অসৌজন্যমূলক আচরণকে আমরা প্রমোট করতে দেখি। সাহিত্য চলচিত্রের এমন বর্ণনা বিভিন্ন জায়গায় স্বঘোষিত নায়কদের (কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এরকম উত্যক্তকারী বড় অপ্রতুল নয়) নারীদের উত্যক্ত করতে উৎসাহিত করে এটা বুঝতে মনোবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। এবার আসি দুর্গেশনন্দিনীর নায়ক অপরিচিত এক স্ত্রীলোকের (পরবর্তীতে বোঝা যাবে ইনিই নায়িকা) প্রতি কিরূপ দৃষ্টি দেন। “রাজকুমার পুনর্বার অনিবার্য তৃষ্ণাকাতর লোচনে যুবতীর প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া, লম্ফ দিয়া অশ্বারোহণপূর্বক চলিয়া গেলেন।”এবার আসি মূল গল্পে। এখানে লেখক একটি তৃকোণ প্রেমের কাহিনি ফাঁদলেন। মুসলমান এক অন্তঃপুরবাসিনী রাজকন্যাকে নিয়ে আসলেন একজন রাজবন্দীর সেবিকা হিসেবে। এটা যে কোনো ভাবেই সম্ভব নয় সেটা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের স্বীকার করতে দ্বিধা থাকার কথা নয়। প্রথমে এই সেবাকে সহোদরার বা বোনের স্নেহ বলে উল্লেখ করলেও পরবর্তীতে গিয়ে তিনি রাজকন্যা রাজপুত রাজপুত্রের প্রেমে পড়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। এ কাহিনি কি বঙ্কিম শুধু গল্পের প্রয়োজনে ফেঁদেছেন নাকি কোনো উদ্দেশ্য আছে তা সচেতন পাঠক মন মাত্রই জিজ্ঞেস করবে। এখানে সেই মুসলিম রাজকন্যার নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি। তা নাহলে পাঠক এই সন্দেহের কারণ বুঝতে সক্ষম হবেন না। উপন্যাসে এই মুসলমান রাজকন্যার নাম “আয়েষা”। এছাড়াও মুসলমান সেনা কতৃক হিন্দু ব্রাহ্মণ্যদের মুরগী-পোলাও খাইয়ে জাতচুত্য করা, মুসলমান সেনার নারীর প্রতি লোভ, মুসলমানদের আল্লা-হো-আকবর বলে পিশাচের মত চিৎকার এসব বর্ণনার উল্লেখ বঙ্কিমের স্বভাব সিদ্ধ মুসলিম বিদ্বেষেরই প্রকাশ বলেই মনে হয়। আমার কাছে উপন্যাসের একটি দিকই শক্তিশালী বলে মনে হয়েছে। আর তা হল নারী চরিত্রের প্রাধান্য। Rajmohan's Wife এ একই বিষয় লক্ষণীয়। তৎকালিন পশ্চাৎপদ সমাজে নারীকে পুরুষের সমকক্ষ বা কোথাও কোথাও পুরুষের চেয়েও শক্তিশালী রূপে প্রকাশের জন্য বঙ্কিম অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। বঙ্কিমের মত শক্তিমান লেখক যদি সাম্প্রদায়িকতার বয়ান না লিখে সম্প্রীতি সহাবস্থানের কথা লিখতেন, তাহলে হয়তো উপমহাদেশের ইতিহাস অন্য ভাবেও লেখা হতে পারতো।
পুনশ্চ: Rajmohan's Wife এর যে বাক্যটি এখানে উল্লেখ করা হয়েছে তার পিছনে কিছু ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। ইংরেজদের কর আদায়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা এই অঞ্চলের পুরাতন বনেদি জমিদার বংশগুলোর বিলুপ্তির কারণ হয়েছিল। আর সেসব জমিদারি কিনে নিয়েছিলেন ইংরেজদের অধীনে চাকরি করা অনেক অখ্যাত হঠাৎ আঙুল ফুলে কলা গাছ হওয়া ধনীরা। কিন্তু এতে তাদের নীচকুলোদ্ভব হওয়া বলা আমি সমর্থন করি না। মানুষ নিজে তাঁর পরিচয় বহন করে। তার বংশ ভালো হলে সে ভালো, বংশ নীচু হলে সে নীচু তা সমর্থন যোগ্য নয়।
বঙ্কিমচন্দ্রের কমলাকান্তের দপ্তর আর কৃষ্ণকান্তের উইল পড়ে খুব ভালো লেগেছিল। কিন্তু এই বইটা তাদের সমতুল্য নয়। জগৎসিংহ চরিত্রটি ছিল জ্যাত্যাভিমানের মূর্ত প্রতীক, তিলোত্তমা তো কেবল পার্শ্ব চরিত্র। বিমলা চরিত্রটি অবশ্য শক্তিশালী ছিল, ওসমান ও।
কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে গেছে আয়েষা। তার অনবদ্য ভূমিকার প্রশংসা না করে পারছি না।
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক উপন্যাস ধরা হয় "দুর্গেশনন্দিনী" কে। তার আগে রচিত হয় "আলালের ঘরের দুলাল" প্যারিচাদ মিত্রের হাত ধরে।ঠিক কি কারণে আলালের ঘরের দুলাল কে সার্থক উপন্যাস বলা হয় না এবং দুর্গেশনন্দিনী সে পরীক্ষা উতরে যেতে পেরেছে সেটা আমার জানা নেই।হয়তো আলালের ঘরের দুলাল পড়ার পর সে কথা কিছুমাত্র আন্দাজ করতে পারবো। সুতরাং পাঠকমাত্রই ক্ষমা করবেন আমার কাঁচা হাতের লেখায়। যতটুক ধারণা করতে পারি, সার্থক উপন্যাসের উপাদানগুলো পূর্ণ মাত্রায় থাকবে এবং কাহিনী হবে পূর্ণাঙ্গ।সেদিক থেকে চিন্তা করলে আমরা দুর্গেশনন্দিনী তে তা পূর্ণ মাত্রায় দেখতে পাই। স্টোরি টেলিং, চরিত্রের পূর্ণ বৈশিষ্ট এবং উপমা এইসবগুলো জায়গায় পূর্ণাঙ্গতা দুর্গেশনন্দিনীকে সার্থক করেছে বলে আমার ধারণা। সেই সাথে আয়েষার চরিত্রের মাধ্যমে ট্র্যাজেডিও পরিলক্ষিত হয়।সহজভাবে মুভির মতন চিন্তা করলে এমন দাঁড়ায় যে, প্রোটাগনিস্ট, হিরোইন, এন্টাগনিষ্ট ও পার্শ্বচরিত্র ইত্যাদি মিলে যেমন পূর্ণাঙ্গ মুভি হয় এবং বিয়োগান্ত ঘটনা বা ট্র্যাজেডির একটা জায়গা থাকে এসবই দুর্গেশনন্দিনী তে উপস্থিত। সব মিলিয়ে এই যাত্রা ভালো উপভোগ করেছি। হ্যাপি রিডিং 💙
ভাষাটা ভালো লেগেছে। সাধারণ একটা কথাও কেমন কাব্যিক ভাষায় লিখেছে। ছোটবেলায় পড়া প্রতিশব্দ খুব কাজে লেগেছে! তবে কাহিনীর মর্ম আমি ঠিক বুঝিনি, মাঝে খেইও হারিয়ে ফেলেছিলাম! বিশেষত আয়েশা আর ওসমানের ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না।
যাই হোক, পাঠ্যবইতে হাজারবার নাম পড়া এই উপন্যাসটি শেষ পর্যন্ত পড়া হয়ে ওঠাতে আমি আনন্দিত! বাসায় বঙ্কিম রচণাসমগ্র আছে, পড়ার ইচ্ছেও আছে। দেখি কদ্দুর কি হয়!
'দর্গেশনন্দিনী' বাংলা সাহিত্যে ভাষা ও ভাবের নবযুগ প্রবর্তন করেছিল। একই সাথে বাংলা শিল্প সাহিত্যে প্রথম শিল্পসম্মত উপন্যাস রচনা করার কৃতিত্ব তাঁরই। তাই এটা পড়া সময় অজানা এক উত্তেজনা টের পাচ্ছিলাম নিজের ভেতর!
ঐতিহাসিক উপন্যাস আমি খুব বেশি একটা পড়ি না। তবুও এদিকটায় আমার দূর্বলতা আছে। তিলোত্তমা, আয়েষা, বিমলা, জগৎসিংহ, ওসমান.. প্রতিটা চরিত্রই অসাধারণ। বেশ ভালো লাগলো। পরবর্তীতে আরো বেশি বেশি ঐতিহাসিক উপন্যাস পড়ার ইচ্ছেটাও তৈরি হলো 😉
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী। পুরোপুরি সাধুভাষায় লিখিত হওয়ায় পড়তে বেশ কষ্ট হলো। তবে প্রেম, রোমাঞ্চ মিলিয়ে কাহিনিটা বেশ ভালো লাগলো।
Synopsis : Durgeshanandini is written about pure love of father for his daughter, daughter for her father, mother for daughter, wife for husband, lover for lover and one-sided pure but painful love. As if each character was engaged in a competition to present themselves with everything! And while witnessing this, the readers have had to face various tough situation again and again! The tenderness, the water of worship like sacred Tilottama and the handsome, tactful warrior Prince Jagatsingh felt the love and affection towards each other, can fade any love story! And how can I compare Ayesha's one-sided love for Prince Jagatsingh or her cousin Osman's one-sided love for Ayesha? On the other hand, the love that Bimala has shown towards her sister's daughter as a mother is no less than the love of a mother. And it is not possible to calculate the silent but deep love and devotion of Bimala towards her husband by finally killing Katul Khan! And how can I compare the intense love and affection that Ayesha and Osman have given to the enemy Jagatsingh by turning him away from the face of death? In Durgeshanandini, Bankimchandra Chattopadhyay, as a human being, has supported everyones' feelings in an impeccable way. However, in order to acknowledge that feeling, the readers as well as the characters have had to go through many grief moments.
Review : It is clear from reading Durgeshanandini that love and respect for relationships can be expressed in a very beautiful and fluent way while expressing one's responsibilities.
মেয়ের প্রতি বাবার,বাবার প্রতি কন্যার, কন্যার প্রতি মায়ের, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর, প্রেমিকার প্রতি প্রেমিকের, প্রেমিকের প্রতি প্রেমিকার এবং একতরফা শুদ্ধ কিন্তু অসম্ভব যন্ত্রণাদায়ক ভালোবাসা নিয়েই রচিত হয়েছে দুর্গেশনন্দিনী। প্রতিটি চরিত্র যেনো সবটুকু দিয়ে নিজেদের ফুটিয়ে তুলে ধরার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিলো! আর এর সাক্ষী হতে গিয়ে পাঠকদের মানসিকভাবে বারবার নানান বন্ধুর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
কোমল, স্নিগ্ধ,পূজোর জলের মতো পবিত্র তিলোত্তমা এবং সুবিশাল, সুদর্শন, সুকৌশলী যোদ্ধা রাজকুমার জগৎসিংহ পরস্পরের প্রতি যে মায়া আর প্রেম অনুভব করেছেন তার গভীরতা যেকোনো ভালোবাসার কাহিনীকে ম্লান করে দিতে পারে! আর যুবরাজ জগৎসিংহের প্রতি আয়েশার একপাক্ষিক ভালোবাসা কিংবা আয়েশার প্রতি তার চাচাতো ভাই ওসমানের একপাক্ষিক ভালোবাসার তুলনাই বা কিসে করব?
এইদিকে মা হিসেবে চিরযৌবনা বিমলার তার বোনের মেয়ের প্রতি যে স্নেহ প্রকাশিত হয়েছে তাতো কোনো অংশেই মাতৃস্নেহের চেয়ে কম নয়। আর স্বামীর প্রতি বিমলার যে নীরব অথচ গভীর ভালোবাসা এবং নিজের নিবেদন প্রকাশ পেয়েছে শেষপর্যন্ত কতুল খাঁকে কতল করার মধ্য দিয়ে তার হিসেব করাও সম্ভবপর নয়! আর শত্রু জগৎসিংহকে যে তীব্র স্নেহ এবং মমতা দিয়ে আয়েশা ও ওসমান মৃত্যুদূতের সামনে থেকে ঘুরিয়ে এনে নতুন প্রাণদান করেছে তারই বা তুলনা করব কিসে?
দুর্গেশনন্দিনীতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মানুষ হিসেবে নিজের ভালোলাগার প্রতি ভালোবাসাকে এক অনবদ্য মহিমায় মেলে ধরেছেন। অবশ্য এই অনুভূতিকে স্বীকৃতি দিতে গিয়ে চরিত্রগুলোর পাশাপাশি পাঠকেদরও অনেক দুঃখময় মূহুর্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে৷
সম্পর্কগুলোর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে গিয়ে সম্পর্কের কিংবা নিজের দায়িত্বকেও যে খুব সুন্দর এবং সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলে ধরা যায়, এটা দুর্গেশনন্দিনী পড়লেই বুঝা যায়।
This entire review has been hidden because of spoilers.
It's a four star read, why?........... cause i would love to see Osman as the lead hero rather than Jagathsingho. Readers will get plenty of reasons as why i have this opinion.
Now coming to the actual review of this story; The story intertwined Indian Ruling history of that time very delicately and prepared the whole plot as a deliciously dangerous endeavour for all the history lovers out there.
It all starts in the Shoileshwar Shiva temple and thus the plot, though seemingly simple at first sight becomes like a cobweb of mysteries, war, Ruling, where there's at one part is Durgeshnandini,her father and Bimala and on the other part is Mansingho and Jagathsingho and Mughals, amaizingly sweeping you off to the Pathans fort's inner corner where Osman and Ayesha awaits for you.
Kudos to Bimala, Osman and Ayesha Fate and actions have built up this amazing tale of bravery, love, sacrifice, broken heart and courage.
I wanted the character Osman to have a bit more limelight, being a brave man and a gentle lover yet a brave Pathan captain.
ঐতিহাসিক উপন্যাস মাত্রই আমার প্রিয়। তার মধ্যে সবার উপরে শরদিন্দু। বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসগুলোতে সাম্প্রতিকতা যেন একটু বেশিই ফুটে উঠেছে। দুর্গেশনন্দিনী এর থেকে ব্যতিক্রম হতে পারে নি। তবে সত্যিই যে উপন্যাসের স্বার্থক রূপ ফুটে উঠেছে যা পাঠক অবগত। বিশেষ করে চরিত্রের গুণ বর্ণনায় এতো শব্দ ব্যবহার যায় ; আমার সাহিত্যাঙ্গনের প্রারম্ভিকে এটি বিশেষ স্মরণীয়।
It is one of the wonderful and extraordinary novels written by Bankim Chandra Chattopadhyay. Love the historic fiction, but somewhere I feel that the ending of the story doesn't meet the expectations that I get while at the beginning. But I feel for those who love historic fiction; it is one of the best suggestions for them.
I had read Bankim's other book "Rajmohan's Wife" and had liked it. That's why I picked up Durgeshnandini. Unfortunately, it was nothing like Rajmohan's Wife and it just put me to sleep. It's highly probable that the Bengali original might have been more readable.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস-টা শুনে নিলাম সানডে সাসপেন্সে। তাতেই বুঝেছি পড়ার ধৈর্য আমার হতো না। ড্রামা-র চূড়ান্ত। তদুপরি, প্রেমের ক্ষেত্রে যে মূল্যবোধ এই গল্পে 'সাধারণ' সেটা এখনকার সময়ের পাঠকের কাছে রীতিমতো shocking।
পড়লে হয়তো সেসব সরিয়ে রেখে উপন্যাসের সার্থকতা লক্ষ্য করা যেতো। আপাতত সে আগ্রহ নেই।
4 stars. Listen, romance in bangla is a little too fancy for my heart. It’s soooooo heart-meltingly sweet that I want to stay away. My gosh ! Bankim has a way of words. I swear there’s no exact translation for the fancy words he used! Glad to have been able to read them in Bangla
একটা আজাইরা ভাব নিতে গিয়ে পড়েছি। মোটামুটি লেগেছে। এই ভাষা কীভাবে বুঝেছি, নিজেও জানি না। বহুদিন বাংলা বই পড়া হয় না দেখে খারাপ লাগছিল। এতো কাঠখোট্টা বই ধরেই খারাপ লাগা কমাতে হলো!