Jump to ratings and reviews
Rate this book

পিশাচিনী

Rate this book
মুহম্মদ জাফর ইকবালের ভৌতিক গল্প সংকলন।

*পিশাচিনী
*রহমত চাচার একরাত
*সহযাত্রী
*বন্ধ ঘর
*গাড়ি
*মুগাবালী
*নেকড়ে
*সুতোরন্তু
*মুতুয়াল পির

120 pages, Hardcover

First published February 1, 1992

14 people are currently reading
260 people want to read

About the author

Muhammed Zafar Iqbal

402 books1,607 followers
মুহম্মদ জাফর ইকবাল (Bengali)

Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.

Birth and Family Background:
Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.

Education:
Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.

Personal Life:
Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.

Academic Career:
After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.

Literary career:
Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.

Other Activities and Awards:
Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
234 (24%)
4 stars
363 (37%)
3 stars
277 (28%)
2 stars
72 (7%)
1 star
20 (2%)
Displaying 1 - 30 of 38 reviews
Profile Image for Tiyas.
473 reviews127 followers
September 29, 2023
ভয়ের গল্পে ভয় পেলে নিজেকে স্পেশাল মনে হয়। ইহজীবনে এত বেশি ছাইপাশ পড়ে ফেলেছি, সব কিছুকেই ক্রিটিকালি দেখার অভ্যেস হয়ে দাড়াচ্ছে। ডঃ জাফর ইকবাল আমায় বাঁচালেন। বহুদিন বাদে কোনো ভূতের বই পড়ে আনন্দ পেলাম। ছোট্ট বইতে, নয়টি মাত্র গল্প। সব গল্পই সমান নয়, তবে সুপাঠ্য। সাকুল্যে, লেখকের ঝরঝরে গতিময় গদ্য। 

তিনি নিজে বিজ্ঞান জগতের মানুষ, গল্পগুলোতে সেটা বোঝা যায়। কোনো গল্পেই অজানাকে প্রশ্রয় দেন না তিনি। জমাট বাঁধা অন্ধকারে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনেন ভয়ের প্রকৃত কারণ। যেন বিক্ষণাগারে পরীক্ষার স্যাম্পেল। চোখ, হাত, নাক, মুখ। অনেক ক্ষেত্রে অশরীরীর উচ্চতা অবধি জানিয়ে দেন নির্দ্বিধায়। আমি মানুষটা সার্থক ভয়ের গল্পে অজানাকেই খুঁজে মরি। যা নেই, যা হতে পারে। কোন এক মহাজাগতিক আঁধারেই ভয়ের মূল উৎস। জানতে পারলেই যেন ভয় কেটে যাবে।

এই বইতে সেরম কিছু পাওয়া যায় না বটে, তবে তাতে ক্ষতি নেই। বৈঠকি চালে, সহজ গল্পগুলোতে ভয়ের খোরাক মেলে বিস্তর। আর কিছু না হলেও, জাফর ইকবাল জানেন কি করে গল্পে পটভূমি ও আবহ তৈরি করতে হয়। আনকোরা লেখকেরা পারলে বইটি থেকে এহেন বিদ্যেটুকু আয়ত্ত করে নিন। আধুনিক বাজারে হররের নামে বিস্তর অতিকথন ও অধিক ফ্যানানোর ভিড়ে, এসব সোজাসাপ্টা, ভনিতাবিহীন গপ্পের জোর এখনও পুরোদমে আছে।

তবে আর কি? বাদলা কোনো দিনে, বন্ধ ঘরে, বইটি খুলে বসলেই হলো। একখানি চাদর টেনে নেবেন পারলে। কাজে দেবে। পড়ুন নাম-গল্প 'পিশাচিনী'। সাইকোলজিকাল হররের মোড়কে ডেভিল ওয়ার্শিপিংয়ের কাহিনী। 'প্রেত'-এর ছায়া স্পষ্ট। তবে উপন্যাসটির চেয়ে অনেক বেশি জমাটি। আরো পড়ুন, 'রহমত চাচার একরাত', 'বন্ধ ঘর', 'সুতোরন্ত' ও 'মুতুয়াল পীর'-এর মতন সব কাহিনী। এ জিনিস পড়ে ভয়ে ঘুম না উড়লেও, গা-ছমছম করবে, বলাই বাহুল্য!

৩.৭৫/৫
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 38 books1,865 followers
August 29, 2015
ইদানিং অলৌকিক বা অদ্ভূত রসের গল্প পড়তে গেলেই মাথায় যে প্রশ্নটা জাগে সেটা হল: ছোটবেলায় যেসব গল্প শুনে ভয়ে হাত-পা পেটের ভেতরে সেঁধোতে চাইত, সের’ম গল্প এখন আর পাই না কেন? নিজের মতো করে এই প্রশ্নের যে উত্তরগুলো নিজেকে দেওয়ার চেষ্টা করতাম সেগুলো হল: (ক) ছোটবেলায় বিশ্বাস করার ইচ্ছেটা বেশি ছিল বলে অবাস্তব জিনিসকেও বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হত, আর তার ফলেই ভয় পেতাম (“ভয় করতে ভালোবাসি তোমার কোলে চেপে” আর কী); (খ) তখন আশপাশের পৃথিবীতে ঝোপঝাড়, জঙ্গল, পুকুর, মাঠ, জোনাক-জ্বলা বাঁশবন এসব ছিল, ফলে ভূত-প্রেত-দত্যি-দানোরা আজকের মতো উদ্বাস্তু হয়ে ছোটদের বই নামক রিলিফ ক্যাম্প-বন্দি হয়নি| কিন্তু ইদানিং বুঝতে পারছি যে আসল উত্তরটা অন্য: তখন গল্প শুনতাম বেশি, পড়তাম কম, আর সেই শোনা গল্পগুলোয় বক্তারা একেবারে সোজা ভাবে গল্পগুলো বলতেন বলে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাই হত অন্য রকম| আর এই সোজাসাপটা স্টাইলের গল্প পড়ে যদি আপনি ভয় পেতে চান (হ্যাঁ, আলোজ্বলা ঘরে বসেই), তবে আলোচ্য বইটি আপনাকে পড়তেই হবে|

কী কী গল্প আছে এই বইতে?

(১) পিশাচিনী
(২) রহমত চাচার একরাত
(৩) সহযাত্রী
(৪) বন্ধ ঘর
(৫) গাড়ি
(৬) মুগাবালী
(৭) নেকড়ে
(৮) সুতোরন্তু
(৯) মুতুয়াল পির

পরিশিষ্ট-মারফৎ লেখক দাবি করেছেন যে গল্পগুলো সবই কাল্পনিক, শুধু বিশ্বাসযোগ্যতা আনার তাগিদেই সেগুলোতে ন্যারেটর হিসেবে উনি নিজেকে উপস্থাপন করেছেন| আমিও বলছি যে গল্পগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক জেনেও কাল রাতে বইটা শেষ করে শোয়ার আগে চোখটা বন্ধ করতে গিয়ে বার-বার প্রবল অস্বস্তি হচ্ছিল, কারণ গল্পের দৃশ্য আর ঘটনাগুলো মনে পড়ছিল, আর মনে হচ্ছিল যেন আমার ঘরে, আমার বিছানার পাশেও কিছু একটা অপেক্ষা করে আছে আমার চোখ বন্ধ হওয়ার মুহূর্ত তথা সুযোগের অপেক্ষায়!

পড়ে ফেলুন শিগগির|
Profile Image for শালেকুল পলাশ.
274 reviews33 followers
February 17, 2018
হরর গল্পের প্রতি কেমন যেন একটা দুর্বলতা কাজ করে আমার আগে থেকেই। কারন এখনো জানা হয়ে ওঠেনি। তবে হরর বলতে ব্লাডি হরর না, ছোট ছোট গল্পের হরর, ঐ যে যেগুলো আড্ডার মাঝে উঠে আসে না? সবাই নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে, এমন হরর। জাফর ইকবালের পিশাচিনী ঠিক তেমন একটা বই। হরর হিসেবে সব সময়ের পছন্দ দেশী, কথায় খাটি গ্রাম বাংলার হরর। এই বই এর সব কয়টি গল্প দেশী না হলেও লেখক উত্তম পুরুষে বই লিখায় বইটি অনেক বিশ্বাস যোগ্য লাগে। এই কারনেই কিনা লেখক বই এর শেষে লিখে দিয়েছেন বই এর সব কয়টি গল্প কাল্পনিক। পরিশেষে ভাল একটা বই। যদি জিজ্ঞেস করেন আমি ভয় পেয়েছি কিনা? না বলব ভয় পাইনি, পরিবেশের কারনেই হয়ত একা থাকলে এবং রাতে পড়লে ভয় হয়ত পেতাম, কিন্তু কিছু গল্প পড়ে গাঁ যে শিরশির করে ওঠেনি এই কথা বললে মিথ্যা বলা হবে। বিশেষ করে "রহমত চাচার একরাত" আর "মুগাবালী" গল্প একটি বেশীই ভাল লেগেছে।
Profile Image for Amanna Nawshin.
191 reviews56 followers
July 7, 2017
হরর গল্প সম্বন্ধে আমার থিওরি হলো, যদি গল্পের আসল মজা পেতে হয় তবে তা অবশ্যই রাত এগারোটার পর পড়া উচিত। কারণ যে গল্পটা রাতের নিস্তব্ধতায় ভয়ংকর মনে হয়,সেই গল্পটা দিনের কোলাহলে হাস্যকরও মনে হতে পারে। লেখক ভয়ংকর কিছু লিখে আমাকে ভয় দেখাতে চাচ্ছেন, আর আমি কিনা তা পড়ে হাসছি আর লেখকের সমালোচনা করছি! ব্যাপারটা একটু কেমন হয়ে গেলো না? তাই আমি হরর গল্প রাতেই পড়ি, যতো বেশি ভয় পাবো, ততই আমার গল্পটা উপভোগ্য মনে হবে।
এই বইটা পড়েছি পিডিএফ। কাগজের বই আলো জ্বেলে পড়তে হয়। যেহেতু পিডিএফ পড়েছি সুতরাং রাত ১২ তার পর আলো বন্ধ করে পড়েছি। অন্ধকার থাকার জন্যই কিনা জানিনা, প্রত্যেকটা গল্পই ভালো লেগেছে, "পিশাচিনী" টা বাদে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তো বলেছেন ই যে আমারা আসলে ভুতের ভয় পাই না, ভয় পাই অন্ধকারকে। আমার রেটিং ৪.৫
Profile Image for Moheul Mithu.
Author 20 books63 followers
January 25, 2016
গল্প গ্রন্থ। কোন কোন গল্প বেশ ভালো লাগল। কয়েকটা খুব ভালো। খুব ভালো লাগার তালিকায় আছে পিশাচিনী, বন্ধঘর, মুতুয়াল পীর। পিশাচিনী আর মুতুয়াল পীর ভালো লাগার কারণ গল্পগুলো একটু অন্যরকম। বাংলায় এধরনের অতিপ্রাকৃত গল্প কম দেখা যায়। আমাদের দেশি ভূতের গল্পে একটা ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এই বইয়ের বেশিরভাগ গল্পই সেই ক্যাটাগরির বাইরে।
অতিপ্রাকৃত গল্পের মাঝে যদি সাসপেন্স চান তাহলে এই বই আপনার জন্য নয়। গাড়ি, সহযাত্রী, আর রহমত চাচার একদিন, এই তিন গল্পে কিছুটা সাসপেনস আছে তবে বেশিরভাগ গল্প খুব ধীরে ধীরে এগোয়, তবে শেষ হয় ভালো লাগার অনুভূতি দিয়ে।

Profile Image for Shafi Abdullah .
24 reviews
June 20, 2018
শেষ করার আগ পর্যন্ত সবসময় কেন জানি মনে হচ্ছিল যে, গল্প গুলো আমার আগেও পড়া। কিন্তু, এরকম হবার কথা নয় । যাই হোক, গল্প গুলো অতিরিক্ত রকমের ছোট লাগসে তবে গোছানো। কিছুটা মিসির আলি ফ্লেভার আছে। ভালোই। :)
Profile Image for Israt Sharmin.
312 reviews1 follower
December 19, 2025
বইটিতে কিছু গল্প মিডিয়াম লেভেলের ভয়াবহ, কিছু একটু বেশী লেভেলের ভয়াবহ আবার কিছু হালকা ভয়াবহ। যারা ভয় পেতে ভালোবাসেন পড়তে পারেন।
Profile Image for Rahman Raad.
7 reviews3 followers
April 26, 2018
এতো ঝরঝরে প্রাণবন্ত ভাষায় এমন পিলে চমকে দেওয়া অতিপ্রাকৃত গল্প লেখা যায়, এই বইয়ের গল্পগুলো পড়ার আগে জানা ছিল না। প্রত্যেকটা গল্প ছাড়িয়ে গেছে একটা আরেকটাকে। আচমকা আত্মা কাঁপানো শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা একটা স্পর্শ অনুভূত হয়েছে অসংখ্যবার। স্রেফ শুধু সায়েন্স ফিকশন, কিশোর উপন্যাস কিংবা অসম্ভব সুন্দর সব রোমান্টিক উপন্যাসই না, হরর জনরায় জাফর ইকবাল স্যারের লেখার হাতটাও অতুলনীয়! পাঁচে সাড়ে চার পাবে গল্পগুলো!
Profile Image for Rizal Kabir.
Author 2 books45 followers
January 24, 2020
পিশাচিনীসহ গল্পের সংখ্যা নয়টা, দু-তিনটা গল্প ছাড়া সবগুলোই ভাল বলা যায়। সবগুলোই ভৌতিক এবং ভৌতিক সংকলন হিসেবে আমার প্রিয় একটা বই।
লুসিফার কিংবা শয়তান, 'প্রেত' উপন্যাসে যে বিষয়ে বিস্তারিত আছে - তার প্রাথমিক কিছু বিষয় পিশাচিনী গল্পে রয়েছে। এই গল্পের বর্ণনাটুকু একদম সত্যিকারের মত, তার ওপর উত্তম পুরুষে লেখা। কাহিনীও বেশ ভালই বলা যায়।
ভৌতিক ছোটগল্প হিসেবে এই সংকলনের গল্পগুলোর লেখার ধরণ বেশ আকর্ষণীয়, গল্পগুলোও অযথা টেনে লম্বা করার চেষ্টা করা হয়নি।
সুতরাং পাঁচ তারকাই দিচ্ছি।
Profile Image for Ruhin Joyee.
51 reviews149 followers
January 26, 2016
বইটা খারাপ না। কিন্তু হরর আমার হয় ই না -_-
Profile Image for Eva Mojumder.
73 reviews1 follower
December 14, 2023
◾প্রেতাত্মাকে আহ্বান করতে চেয়েছেন কখনো? কখনো মধ্যরাতে গোল টেবিলে বসে, আপন মনে পরকালকে স্মরণ করে অশুভ কিছুর জন্য অপেক্ষায় ছিলেন? দেখা পেয়েছিলেন তাদের? এছাড়াও আমাদের মধ্যে একটা মিথের প্রচলন আছে। মাঝরাতে আয়নার সামনে অন্ধকার ঘরে একা দাঁড়িয়ে তিনবার ব্লাডি মেরির নাম করলে তাকে আয়নার ভেতরে দেখতে পাওয়া যায়। কখনো চেষ্টা করেছিলেন? আমি কিন্তু অনেকবার মনস্থির করেও সাহসে কুলাতে পারিনি।

◾গল্পটি প্রথম পুরুষের মুখনিঃসৃত ঘটনা। যেখানে প্রথম পুরুষটির কোনো নাম দেওয়া হয়নি। সে নিজেকে বারংবার আমি বলেই সম্মোধন করেছে। তাই আমি রিভিউটি টিপুকে কেন্দ্র করেই লিখবো। মানে এখানে টিপু নামটিকে উল্লেখ করে ঘটনার বিবরণ দিবো। তাহলে এবার গল্পে ফেরা যাক:
# ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলায়!’

এই কথাটি কখনো শুনেছেন? গ্রামেগঞ্জে এর প্রচলন সর্বাধিক। নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনার ক্ষেত্রে এ প্রবাদটি ব্যবহার করা হয়। আর ‘মুগাবালি’ গল্পটির ক্ষেত্রে আমি অন্যকোনো যুতসই প্রবাদ খুঁজে পেলাম না।

গল্পটির প্রথমেই দেখা যায়, টিপুদের এক বন্ধু কলেজে গিয়ে একটি গল্পের বই কিনে আনলো। বইয়ের নাম ‘জন্মান্তর রহস্য’। বইটিতে আছে মৃ ত ব্যক্তিদের নিয়ে বিস্তর আলোচনা। এছাড়াও মৃ ত আত্মাদের ডেকে আনার ট্রিকস্। এই বয়সের ছেলে-মেয়েরা সাধারণত কৌতূহলপ্রবণ হয়। টিপুরাও তার ব্যতিক্রম নয়। তারা ঠিক করলো একদিন পরিষ্কার ঘরে নিজেরা পরিচ্ছন্ন হয়ে এসে হাতে হাত মিলিয়ে চক্র বানিয়ে ধ্যানে বসবে। আর ডেকে নিয়ে আসবে কোনো এক মৃ ত আত্মা। কারণ, বইয়ে এমনটাই নির্দেশ দেওয়া আছে।

যেই ভাবা সেই কাজ। তাদের বন্ধুমহলের কয়েকজন বন্ধু মিলে তারা বসে আছে বিছানার উপর। একজনের হাতের উপর অন্যজনের হাত রাখা। তারা অধীর আগ্রহে পরকালকে স্মরণ করে যাচ্ছে। কিন্তু আধঘন্টা পেরিয়ে গেলেও যখন আত্মার দেখা মিলল না আর সবার ধৈর্যচ্যুতি ঘটছিল ঠিক তখনই টিপু তার পাশে বসা বন্ধুটির হাতে চিমটি কাটে। টিপু বরাবরই দুষ্টু। তাই পাশে বসা বন্ধুটির বুঝতে অসুবিধে হয় না তার বাকি বন্ধুরা এখনই কোনো প্র্যাংকের শিকার হবে।

টিপুর অভিনয় কাজে দিলো। সে যেভাবে অচেতনভাবে অনবরত কাঁপছিলো, বিকট কন্ঠে বন্ধুদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল, কারোরই বুঝতে অসুবিধা হয়নি টিপুর উপর আত্মা ভর করেছে। পরেরদিন এ ঘটনা পুরো হোস্টেলে ছড়িয়ে পড়ে। দলে দলে ছাত্ররা ছুটে আসে এ ঘটনা শুনতে। কেউ কেউ তো নাছোড়বান্দা। তাদের সামনেই আবার আত্মাকে আহ্বান করতে হবে। এদের মধ্যে একজন আছে নুরুল। সেও আত্মাকে দেখতে চায়।

দ্বিতীয় ধাপে টিপুরা চক্রে বসেছে। এবারো পূর্বের মতোই। অনেকটা সময় কেটে যাওয়ার পরেও আত্মার দেখা মিললো না। ঠিক তখনই টিপু তার এক বন্ধুকে বলল, পরকালকে স্মরণ করার পরেও মৃ ত আত্মা না এলে তাদের নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আলোচনায় আনলে অনেক সময়ই তারা দেখা দিয়ে থাকে। এবার শুরু হলো অন্ধকার ঘরে ভূত-প্রেতের গালগল্প। অনেকক্ষণ ধরে এ গল্প চলল। এবারও তেমন কোনো পরিবর্তন হলো না। শুধু বিরাট জোরে একটা শব্দ শুনতে পেলো সকলে।

হতভম্ব ছাত্ররা শব্দটি শুনেই ভয়ে আঁতকে উঠলো। দ্রুত সুইচ টিপতেই ঘরের বাতি জ্বলে উঠলো আর সকলে অবাক হয়ে দেখতে পেলো নুরুল বিছানার উপর পড়ে আছে। টিপু ও তার বন্ধুরা এগিয়ে গেলো। মুখে পানির ঝাপটা এবং আয়াতুল কুরসি পড়ে ফুঁ দেওয়া হলেও তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা গেলো না। বরং নুরুলের ভেতর থেকে এক বিদঘুটে কন্ঠের আওয়াজ ভেসে এলো। সে জানায়, তার নাম মুগাবালী এবং সে নুরুলকে তার সাথে করেই নিয়ে যেতে চায়।

সেবারের মতো নুরুল ছাড়া পেয়ে গেলেও ধীরে ধীরে নুরুলের শরীরের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ছেলেটি আরো রোগা হয়ে যায়, মুখ হয় ফ্যাকাসে, রক্তশূণ্য। নুরুলের আচরণেও কেমন একটা পরিবর্তন ঘটে, যা টিপুর এক বন্ধুর মনে সন্দেহের ঢেউ তুলে দেয়। সে অন্য এক ছাত্রকে জিগ্যেস করে জানতে পারে নুরুল মাঝরাতে একা একা কথা বলে। আর বলতে থাকে,

***‘না, না। আমি যাবো না।’***

মজা করতে গিয়ে এ কোন বিপদ ডেকে আনলো টিপুর বন্ধুরা? নিজেদের মজার জন্য কি তবে এ ছেলেটি তার স্বাভাবিক জীবন হারাবে? আর এই মুগাবালীই বা কে? কেন সে নুরুলকে নিয়ে যেতে চায়? টিপুরা কি নুরুলকে বাঁচাতে পারবে?

◾মুহম্মদ জাফর ইকবালের বই আমার খুব একটা পড়া হয় না। তবে তার ভূতের গল্পের একটা সমগ্র আছে জানতাম। সেটা পড়ার অনেকদিনেরই ইচ্ছে ছিল। এবার পড়ার একটা কারণ পেয়ে আর হাতছাড়া করিনি। পড়ার পর বুঝতে পারলাম, এ বয়সে এসে এই সকল সামান্য জিনিসে ভয় পাওয়া মানায় না। স্কুলের গন্ডিতেই পড়ে ফেলা উচিত ছিল। তাহলে হয়তো দারুণ কিছু অনুভব করতে পারতাম।

তবে এখনো ফেলে দেওয়ার মতো কোনো অনুভূতি হয়নি আমার। হয়তো ভয় পাইনি, কিন্তু টান টান উত্তেজনা ছিল। ভয় না পাওয়ার একটা কারণও আছে অবশ্য। প্রথমে যখন সবার সাথে মৃত আত্মা নিয়ে টিপুকে মজা করতে দেখি, আমি ধরেই নিয়েছিলাম নুরুলও কোনোভাবে টিপুর শয়তানি বুদ্ধি ধরে ফেলেছে। আর তাই নুরুল সেটার সুযোগ নিচ্ছে দ্বিতীয়বার। কিন্তু পুরোটা পড়ার পর আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। ভালো লেগেছে গল্পটা।

এবার বলুন, কে কে এভাবে মৃ ত আত্মাকে আহ্বান করতে চান?

বই- মুগাবালী
লেখক- মুহম্মদ জাফর ইকবাল
সমগ্র- পিশাচিনী
গল্পটির পৃষ্ঠা সংখ্যা- ১৪
Profile Image for Arifur Rahman.
26 reviews1 follower
February 18, 2021
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের 'পিশাচিনী' বইটি ৯টি অতিপ্রাকৃত ছোটগল্প নিয়ে সাজানো। তার মধ্যে কিছু গল্প রয়েছে হাড় হিম করা। প্রত্যেক গল্পই পাঠককে আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। লেখক গল্পগুলোকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্যে এবং আরো আকর্ষণীয় করে তোলার জন্যে কিছু কিছু গল্পে নিজের অস্তিত্বের বর্ণনা করেছেন যেমন -মুতুয়াল পীর গল্প। সব গল্পই ভালো লেগেছে তবে পিশাচিনী, মুগাবালী,নেকড়ে আর মুতুয়াল পীর গল্পগুলো ভয়ানক ভালো লেগেছে। যদিও গল্পগুলো পড়ার সময় আমার হাড় হিম হয়নি। তারপরও গল্পগুলোর প্রথম থেকে শেষ করা না পর্যন্ত চোখ বড় বড় করে বইয়ের মুখপানে চেয়ে থাকতে হয়।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Madhurima Nayek.
361 reviews134 followers
April 14, 2021
বইটিতে মোট ৯টি অতিপ্রাকৃত গল্প আছে। গল্পের নামগুলো বুক ডেসক্রিপশনে দেওয়া আছে, তাই আর নাম গুলো দিলাম না।এতগুলো গল্পের মধ্যে আমার বেশি ভালো লেগেছে "রহমত চাচার একরাত" আর "বন্ধ ঘর"। আর ভয় একদমই লাগেনি যে গল্পে সেটি হল "মুতুয়াল পীর"।
প্রতিটা গল্পই ভিন্ন ভিন্ন প্লটে লেখা, ছোটো ছোটো গল্প পড়তে মন্দ লাগে না। এবার পাঠকদের প্রশ্ন হতে পারে, গল্প গুলো কি খুব ভয়ের ? আমি বলবো না, সেরকম যে ভয়ের তা না, তবে একটা দুটো গল্পে গা শিরশির করে উঠবে মাত্র। আমার মতে ভূতের গল্প পড়ার বেস্ট টাইম হলো রাতের অন্ধকার।যে গল্প দিনের বেলা পড়ে ফীল পাওয়া যায় না, সেই গল্পই রাতের অন্ধকারে ভয় ধরাতে বাধ্য।
Profile Image for Ayan Tarafder.
145 reviews16 followers
July 30, 2021
ভয়াবহ রীডিং ব্লক চলে... সময় নিয়ে, আয়েশ করে, মজে গিয়ে বই পড়া হচ্ছে না বেশ কিছু দিন। টুক টাক ছোটখাটো সহজ সরল বই, এখান থেকে ওখান থেকে অডিও বুক শুনে টুনে সময় পার করছি। এইসব করতে করতেই পিশাচিনী পড়া হলো... প্রথমবার পড়েছিলাম বছর পচিশ আগে !! কয়েকটা গল্প এখনো দূর্দান্ত লেগেছে... মনে আছে প্রথমবার পড়বার সময় প্রায় সবগুলো গল্পেই ভয় পেয়েছিলাম (শেষ গল্প টা ছাড়া) !!! ফেলে আসা সময় ... সেই আবহ... ঝিমধরা দুপুর শেষ হয়ে ঝুপ করে নেমে যাওয়া সন্ধ্যা... সব মনে পড়ছিলো। ভাবছিলাম কী দারুণ সময় ছিলো সেগুলি... সেই ভালো লাগা থেকে পাঁচ তারা :)
Profile Image for Mrinmoy Akash.
78 reviews
April 16, 2020
ভূতের গল্প মুহম্মদ জাফর ইকবাল ভালোই ফাঁদতে পারেন। শুধু ভালো না, বেশ ভালো। গল্পগুলোর মাঝে আধুনিকত্ব আছে, হররের জায়গায় বরং অকাল্ট হরর বলা যেতে পারে। কারন সুপারন্যাচারালকে তিনি রহস্যের মায়াজালে বেঁধে রাখেননি, ঘটনাগুলোকে একটা স্ট্রাকচারে নিয়ে এসেছেন। স্যাটানিস্টরা শয়তানকে ডেকে আনছে রিচুয়াল করে, পিশাচের গোত্র আছে, অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতাগুলোর নিয়ম আছে।

লেখক কিন্তু কোনকালেই ভূত কিংবা অলৌকিকে বিশ্বাস করেন নি, এটা গল্পগুলোর বড় চার্ম।
Profile Image for Amit.
774 reviews3 followers
June 6, 2023
এক কথায় অসাধারণ একটা বই। বইটা শেষ করতে পেরে আমি খুবই খুশি। বইটির প্রতিটি গল্প দারুন ছিল। কোনটাই কোনটার থেকে কম নয়। মোট নটি গল্প নিয়ে পিশাচিনি বইটি রচিত হয়েছে।

*পিশাচিনী
*রহমত চাচার একরাত
*সহযাত্রী
*বন্ধ ঘর
*গাড়ি
*মুগাবালী
*নেকড়ে
*সুতোরন্তু
*মুতুয়াল পির ‌‌

আমার কাছে যদি বলা হয় সিলেক্টেড কয়েকটি গল্পের নাম বলতে এখান থেকে তবে আমি বলব প্রথম চারটা গল্পই ছিল দারুন। বাকিগুলোও কোন কিছুতে কম নয়। তাই বলা কঠিন আসলে কোনটা বেশি ভালো লেগেছে। মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের ভূত বিষয়ক বই আরো পড়বো সামনে আশা রাখি।
Profile Image for Lasit Mehjabin.
94 reviews2 followers
May 14, 2021
আমার আগে ধারণাই ছিল না যে জাফর ইকবাল স্যার এমন ভয়ঙ্কর বই লিখতে পারেন! ছোটবেলায় বইটা পড়েছিলাম। পড়ে অবশ্য আমার আত্মা উড়ে গিয়েছিল! এখন একটু জ্ঞানী কথা বলি, আমার সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর লেগেছে পিশাচিনী গল্পটা। একজন মা কিভাবে তার সন্তানকে মেরে ফেলতে পারেন? জানি কোনো গল্পই সত্যি নয় কিন্তু তবুও আমি খুবই দুঃখিত হয়েছি।
Profile Image for Shu♕.
29 reviews
June 18, 2018
Horror was never really my type but this book was so freaking good. I still remember every single story so vividly 😍😍😍😍😍
Profile Image for আহসানুল শোভন.
Author 39 books91 followers
February 1, 2020
পিশাচের স্ত্রী লিঙ্গ পিশাচী। পিশাচিনী বলে কোন শব্দ অভিধানে নেই। যাই হোক, বইয়ের গল্পগুলো ভালই ছিল তবে মোটেও ভয় জাগানিয়া নয়।
Profile Image for Farhan Nayem.
171 reviews2 followers
March 11, 2021
ভালো লেগেছে বইটা। কিছু গল্প খুব ভালো, কয়েকটা গল্প গতানুগতিক ভূতের গল্পের মত। তবে অভারঅল,বইটা বেশ।
Profile Image for Amimul Ahsan.
38 reviews
October 7, 2021
আমার পড়া প্রথম ই-বুক এটি, ক্লাস ফোরের দিকে পড়েছিলাম বোধহয়। আর এখনো মনে হয়, কতোটা মজা পেয়েছিলাম পড়ে।
Profile Image for Abir60573.
17 reviews2 followers
November 19, 2021
এ গল্প উনার ভূত সমগ্র বইতে পড়েছি।
39 reviews1 follower
March 28, 2023
উনার হরর লেখার হাত যথেষ্ট ভালো। আগডুম বাগডুম সাইন্স ফিকশন না লিখে এই জনরাতে আরেকটু মনোযোগ দিলেও পারতেন।
Profile Image for Shrabon Khan.
40 reviews
April 2, 2023
খুব সুন্দর একটি বই,পড়ে ভালো লাগবে।
Displaying 1 - 30 of 38 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.