ভয়ের গল্পে ভয় পেলে নিজেকে স্পেশাল মনে হয়। ইহজীবনে এত বেশি ছাইপাশ পড়ে ফেলেছি, সব কিছুকেই ক্রিটিকালি দেখার অভ্যেস হয়ে দাড়াচ্ছে। ডঃ জাফর ইকবাল আমায় বাঁচালেন। বহুদিন বাদে কোনো ভূতের বই পড়ে আনন্দ পেলাম। ছোট্ট বইতে, নয়টি মাত্র গল্প। সব গল্পই সমান নয়, তবে সুপাঠ্য। সাকুল্যে, লেখকের ঝরঝরে গতিময় গদ্য।
তিনি নিজে বিজ্ঞান জগতের মানুষ, গল্পগুলোতে সেটা বোঝা যায়। কোনো গল্পেই অজানাকে প্রশ্রয় দেন না তিনি। জমাট বাঁধা অন্ধকারে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনেন ভয়ের প্রকৃত কারণ। যেন বিক্ষণাগারে পরীক্ষার স্যাম্পেল। চোখ, হাত, নাক, মুখ। অনেক ক্ষেত্রে অশরীরীর উচ্চতা অবধি জানিয়ে দেন নির্দ্বিধায়। আমি মানুষটা সার্থক ভয়ের গল্পে অজানাকেই খুঁজে মরি। যা নেই, যা হতে পারে। কোন এক মহাজাগতিক আঁধারেই ভয়ের মূল উৎস। জানতে পারলেই যেন ভয় কেটে যাবে।
এই বইতে সেরম কিছু পাওয়া যায় না বটে, তবে তাতে ক্ষতি নেই। বৈঠকি চালে, সহজ গল্পগুলোতে ভয়ের খোরাক মেলে বিস্তর। আর কিছু না হলেও, জাফর ইকবাল জানেন কি করে গল্পে পটভূমি ও আবহ তৈরি করতে হয়। আনকোরা লেখকেরা পারলে বইটি থেকে এহেন বিদ্যেটুকু আয়ত্ত করে নিন। আধুনিক বাজারে হররের নামে বিস্তর অতিকথন ও অধিক ফ্যানানোর ভিড়ে, এসব সোজাসাপ্টা, ভনিতাবিহীন গপ্পের জোর এখনও পুরোদমে আছে।
তবে আর কি? বাদলা কোনো দিনে, বন্ধ ঘরে, বইটি খুলে বসলেই হলো। একখানি চাদর টেনে নেবেন পারলে। কাজে দেবে। পড়ুন নাম-গল্প 'পিশাচিনী'। সাইকোলজিকাল হররের মোড়কে ডেভিল ওয়ার্শিপিংয়ের কাহিনী। 'প্রেত'-এর ছায়া স্পষ্ট। তবে উপন্যাসটির চেয়ে অনেক বেশি জমাটি। আরো পড়ুন, 'রহমত চাচার একরাত', 'বন্ধ ঘর', 'সুতোরন্ত' ও 'মুতুয়াল পীর'-এর মতন সব কাহিনী। এ জিনিস পড়ে ভয়ে ঘুম না উড়লেও, গা-ছমছম করবে, বলাই বাহুল্য!
৩.৭৫/৫