Jump to ratings and reviews
Rate this book

নিস্তার মোল্লার মহাভারত

Rate this book
সব আখ্যান গল্প হয় না। বহু যত্নে কেটে ছেটে আমাদের জীবন ও ভাবনার অন্তর্গত আখ্যানের ভেতর থেকে বের করে আনতে হয় ভাষ্কর্যের মতো অনন্য গল্পকে। এরকম নিঁখুত গল্পের শৈলী আয়ত্ব করেই গল্প লিখতে শুরু করেছেন দীপেন ভট্টাচার্য। তাঁর শব্দ স্নিগ্ধ, বাক্য সুষমামাখা, আখ্যান মানবিক। একই গল্পের মধ্যে বহু গল্পের ইশারা বুনে রাখেন। এবং প্রতিটি ইশারাতেই তিনি এমনভাবে বাঁক নির্মাণ করেন যে পাঠকের কোনো পূর্ব-অনুমানই ধুলিস্মাৎ হয়ে যেতে বাধ্য। তাঁর গল্পে বিজ্ঞান, পুরান, কল্পনা, ইতিহাস, দার্শনিকতার অসামান্য সম্মিলন থাকে। থাকে সময় থেকে সময়ান্তরে যাত্রা। বাস্তব জগতকে অনায়াসে টেনে নিয়ে যান যাদুবাস্তবতায়। এর সঙ্গে মিশিয়ে দেন ফ্যান্টাসি ও সাইফাই কল্প বিজ্ঞানকে। এবং তাঁর উদ্দেশ্য থাকে যে কোনো গল্পকেই সত্যি করে তোলা।এ সত্যি করে তোলার পাশাপাশি তিনি পাঠককে তাঁর গল্পের স্থান ও সময় থেকে মাঝে মাঝেই বের্টোল্ট ব্রেশটের মতো এলিয়েনেশন তত্ত্বের মতো বিচ্ছিন্ন করে আনেন। তাঁকে ভাবনার পরিসর যোগান। পাঠককে নতুন ভাবনার উস্কে দেন। সেখানে পাঠক ও গল্পকার দুজনেই এই গল্পের প্রকৃত নির্মাতা হয়ে ওঠে। তাঁর যে কোনো গল্পই বহু গল্পের জননী। এ বইটিতে পাঠকের জন্য অপেক্ষা করছে দীপেন ভট্টাচার্যের লেখা বিশ্বমাত্রিক ৮টি গল্প।

168 pages, Paperback

First published January 1, 2019

1 person is currently reading
148 people want to read

About the author

Dipen Bhattacharya

20 books44 followers
দীপেন (দেবদর্শী) ভট্টাচার্য (Dipen Bhattacharya) জ্যোতির্বিদ, অধ্যাপক ও লেখক। জন্ম ১৯৫৯ সালে। আদি নিবাস এলেঙ্গা, টাঙ্গাইল। ঢাকার সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল, নটরডেম কলেজ ও ঢাকা কলেজে পড়াশুনা করেছেন।

মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিদ্যায় মাস্টার্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে পিএইচডি করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ম্যারিল্যান্ড-এ নাসার (NASA) গডার্ড স্পেস ফ্লাইট ইনস্টিটিউটের গবেষক ছিলেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড ক্যাম্পাসে (ইউসিআর) গামা রশ্মি জ্যোতি জ্যোতিঃপদার্থবিদ হিসেবে যোগ দেন। মহাশূন্য থেকে আসা গামা-রশ্মি পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে বায়ুমণ্ডলের ওপরে বেলুনবাহিত দূরবীন ওঠানোর অভিযানসমূহে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে পদার্থবিদ্যায় গবেষণা করছেন ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড কমিউনিটি কলেজে; এছাড়া পদার্থবিদ্যা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে অধ্যাপনা করছেন ক্যালিফোর্নিয়ার মোরেনো ভ্যালি কলেজে।
১৯৭৫ সালে তিনি বন্ধুদের সহযোগিতায় ‘অনুসন্ধিৎসু চক্র’ নামে একটি বিজ্ঞান সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৬-২০০৭ সালে ফুলব্রাইট ফেলো হয়ে ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। বাংলাদেশে বিজ্ঞান আন্দোলন ও পরিবেশ সচেতনতার প্রসারে যুক্ত।

পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা ছাড়াও বাংলা ভাষায় তাঁর বিজ্ঞান-কল্পকাহিনিভিত্তিক ভিন্ন স্বাদের বেশ কয়েকটি ফিকশন বই প্রকাশিত হয়েছে।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
40 (57%)
4 stars
25 (35%)
3 stars
4 (5%)
2 stars
1 (1%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 30 of 34 reviews
Profile Image for ORKO.
196 reviews198 followers
June 13, 2023
"আর এখন এসব নিয়ে কিছুই বলা যায় না। মানুষ ভান করে যেন এসব কিছুই হয় নি। তারা শুনতেও চায় না মুক্তিযুদ্ধে কী হয়েছিল, আর মানুষকে পাখির মতো মেরে ফেলার কথা যাও বলা যায়, পশুর মতো ধর্ষনের কথা বলা একদম বারণ। রাজকাররা ক্ষমতায় গেছে,ইতিহাস এমন নির্দয় কেন, ডাক্তার সাহেব?"
এই প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারি না। সালেহার বাঁ হাতের সিগারেটের ছ্যাঁকায় পোড়া চামড়ার দিকে তাকাই,তারপর তার উজ্জ্বল মুখের দিকে। দুর্বৃত্তরা তার হৃদয়কে পোড়াতে পারে নি,আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত লাভাস্রোত পার হয়ে সেটা যেন লুব্ধক তারার মতো জ্বলে............



শেষ ঠিক কবে প্রতিটা পৃষ্ঠা এতো যত্ন করে, লুকিয়ে বাঁচিয়ে, প্রতিটা শব্দকে অনুভব করে  কোনো বই পড়েছিলাম আমার মনে নেই।
একটা গল্প সংকলনের প্রতিটা গল্পই যে দারুণ মনোগ্রাহী, অনন্য হবে সেটা আশা করা বোকামি বাদে আর কিছু না। কিন্তু "নিস্তার মোল্লার মহাভারত " শেষ করবার পর বারবার মনে হয়েছে যে, আগে কেন আমি বইটা পড়ি নি। একই অনুভূতি শিবব্রত বর্মনের "বানিয়ালুলু" পড়বার পরেও হয়েছিল।
আমার সামর্থ্য আর সুযোগ থাকলে প্রতিটা থেকে ছোট ছোট শর্ট ফিল্ম বানাতাম, আর সেটা নেটফ্লিক্সের অ্যান্থলজি সিরিজ যেমন Love,Death+Robots এর সমকক্ষ কিছুই হতো বলে আমার বিশ্বাস।
সেবা প্রকাশনীর পেপারব্যাক সাইজের
১৬৮ পৃষ্ঠার ছোট্ট একটা বই, অথচ আটটা গল্পের প্রতিটা গল্প পড়বার পর মনে হয়েছে, আবারও এইটা পড়তে হবে আমাকে।  এইটাকে তুলনা দেয়া যেতে পারে, সুলতান'স ডাইনে কাচ্চি খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার সাথে। 

হয়তো একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর বারবার পড়লে অসিতোপল নীলকান্তমণির  দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকালে যেমন বিচলিত মন শুদ্ধ হয়ে ওঠে,তেমন ফ্রেশ একটা ভাব আসবে মনে।


বুদ্ধিজীবী পাঠকদের অনেকের কাছেই একটা কথা প্রায় শুনি- "পৃথিবীর সম্ভাব্য সব গল্প ইতোমধ্যে লেখা হয়ে গিয়েছে। এখন যা লেখা হয় সব নতুন বোতলে পুরোনো মদ।"
এ কথার সাথে আমি কিছুতেই যেন  এক মত হতে পারি না। বরং রোজ এতো এতো নতুন গল্পের মুখোমুখি হই যে মনে হয় এগুলোকে আলোতে তুলে ধরা দরকার,এটা আগে পড়ি নি কেন!

বাংলাদেশে যে কোনো সেক্টরেই কোনো কিছু বা কোনো ব্যক্তি হাইপড হোন,সোজা বাংলায় ফুটেজ পেয়ে যান, তখন বাঙালিরা উঠে পড়ে লেগে যায় সেটাকে ওভাররেটেড কীভাবে বানানো যায় সেটার মিশনে। সাহিত্যও কিন্তু এর ব্যতিক্রম নয়।
অনেকে হয়তো বলবেন,এর কারণেও যে মানুষ দুইটা বই কিনছে যা সে কিনতো না, অন্তত তো বই পড়ছে, এটাতে আপনার ঘুম হারাম হবার কী আছে? আপনি কি চান না যে,একটা প্রজন্মের মানুষ পড়ুয়া হোক?
উত্তরে বলবো যে,হ্যাঁ,সেটা তো আমি চাইই বৈকি।
মানুষ সেইগুলো কিনুক, পড়ুক,আমার তাতে কোনো আপত্তি নেই। আমার খারাপ লাগার কারণটা অন্যখানে।

প্রায় এক বছর হয়ে গেল জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যার আমাদের ছেড়ে গেছেন। অথচ জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারকে চিনেন এমন মানুষ কম বাংলাদেশে। আমরা যে একটা অ্যাসেট হারিয়েছি সেটা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই,বরং আমরা এট দি সেম টাইম মুনজেরীন শহীদের "ঘরে বসে Spoken English"  নিয়ে ট্রল করি।
সেই ট্রলিংয়ের সময় আমাদের হয়, কিন্তু সঠিক মূল্যায়নের বেলায় আমরা কৃপণতা দেখাই।
বলি যে, তাতে করে আমাদের লাভ কী? উনি কে এমন যে তাকে মাথায় নিয়ে নাচতে হবে!!! তখন গতবছর  করোনা যোদ্ধা গবেষকের মতো অভিমান করে বলতে হয়,
" আমার কাছে এসেছেন কেন? আপনারা যে অভিনেতা-স্পোর্টসম্যান-সেলিব্রেটিদের মাথায় নিয়ে চব্বিশঘণ্টা দিন কাটান, তাদের কাছে যান।"

ড. মাকসুদুল আলম মারা গেছেন আজ প্রায় সাড়ে ছয় বছর,এতো বড় একজন বিজ্ঞানীকে আমরা সঠিক মূল্যায়ন করতে পারি নি। এতো সব আপাতভাবে অপ্রাসঙ্গিক  ফাল পাড়বার কারণ কী? কারণ আর কিছুই না। দীপেন ভট্টাচার্যকে বিজ্ঞানের ডেডিকেটেড পাঠক আর গুটিকয়েক অনুসন্ধিৎসু পাঠক বাদে মানুষ চিনে না। অনেকে তো এটাও মনে করে যে, দীপেন ভট্টাচার্য বোধহয় পশ্চিমবঙ্গের কোনো লেখক। যাই হোক,  প্রসঙ্গে ফিরি।

"নিস্তার মোল্লার মহাভারত"  আটটি গল্পের সংকলন। তার কোনোটা ছোট গল্প, কোনটা বড়গল্প। জনরাভেদে সেগুলো কখনো বিজ্ঞান, কখনো পুরাণ, ইতিহাস আবার কখনো দর্শন ঘেঁষে করেছে অবাধ বিচরন।
তবে সায়েন্স ফিকশন জনরার কথা শুনলে আমাদের পাঠকদের একটা শ্রেণীর জ্বর আসে, এটা সেই ধরনের দুর্বোধ্য কোনো বই না। বরং খুবই সাহিত্যগুণ সম্পন্ন সহজবোধ্য লেখা। সায়েন্স ফিকশন বা এই ধারার বর্তমান লেখকদের মাঝে আমি প্রায়ই বলতে শুনি, "বাংলাদেশের সায়েন্স ফিকশনটা কয়েক দশক আগের জমানায় পড়ে আছে...মাঝেমাঝে দুএকটা ভালো বই বের হয়।"
আমি তাদেরকে বিশেষত দীপেন ভট্টাচার্য আর শিবব্রত বর্মনের সায়েন্স ফিকশন পড়বার জন্য আহ্বান জানাবো।
সায়েন্স ফিকশন জনরাটাকে আমরা এলিয়েন, দুই গ্রহের প্রাণীদের মাঝে ষড়যন্ত্র- যুদ্ধ, টাইম ট্র্যাভেলিংয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ করে দেয়াটা শিখেছি নিজেদের অজান্তেই।  কিন্তু এর বাইরেও যে কোনো কিছু হতে পারে,আর সেটা অনেক বড় বড় বুলি কপচানো বৈজ্ঞানিক কথাবার্তায় না ঢুকে শুধু গল্প বলার আনন্দেই সামনে এগোতে পারে, দীপেন ভট্টাচার্যের লেখা না পড়লে এটা টের পেতাম না।

★নিস্তার মোল্লার মহাভারত★
সংকলনের প্রথম গল্পটাই নাম গল্প। যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশ। ১৯৭৩ সালের মহামারী।
এক মধ্যবিত্ত পরিবার এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। তাদের বাসায় টিভি কিনতে গিয়ে ঘটনাচক্রে গল্পের কথক জড়িয়ে পড়েন। তারপর আবিষ্কার করেন যে,বাসার মালিক নিস্তার মোল্লা তেরো হাজার পাতার মহাভারতসম একটা বই লিখে ফেলেছেন,আর সেটা এখনো চলমান। আর  কীভাবে এতো বড় বই লিখে ফেলেছেন সেটা আরও অদ্ভূত। তাদের বাড়িতে একটা ঘর আছে,সেখানে গেলেই নাকি লেখকসত্তা ভর করে নিস্তার মোল্লার উপর। আর হিজিবিজি অক্ষরে তিনি লিখতে থাকেন  মানবজাতির অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত! শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি হলো নিস্তার মোল্লার মহাভারতের?

খুবই অদ্ভুত বিষয়বস্তুর একটা গল্প।
শুরুটা হয় এভাবে-
"এখানে কোনো বাড়ির গায়েই রঙ নেই। ইট,সিমেন্ট পলেস্তরা,পেইন্ট ক্ষয়ে গেছে যেন সেই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়। তারপর দেশভাগ, দাঙ্গা,স্বাধীনতা যুদ্ধ, রাজনীতি জনসমুদ্র নিয়ে এসেছে এমন মলিনতা তাকে যেন কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। রঙিন টেলিভিশনে ঝলকে ওঠে উত্তর মেরুর  শুভ্র তুষার, কিন্তু সেই ঝলক ঘরের বাকি অংশগুলোতে পৌঁছায় না,কোনায় জমে রাস্তার ধুলো,মাকড়সার জাল,কাগজের ঠোঙা। কিন্তু রঙিন নয়, একটা সাদাকালো টেলিভিশনে পৌঁছাতে হলে পার হতে হবে দু-একটা অন্ধকার গলি,রিকশার বেড়াজাল,বেশ কয়েকটা ওষুধের দোকান,রাস্তার গর্তে জমা জল।"  এটুকু পড়বার পরেই আমি হুকড হয়ে যাই লেখনীর জাদুকরী ভ্রমে।
বিশেষত গল্পের পরিণতিটা আরো বেশি মনে দাগ কেটেছে। ক্লাইম্যাক্সে যে ঘরের পেছনের রহস্যটা উদঘাটন করা হয় সেটা অনেক বেশিই চমকে দিয়েছে। বিশেষত গল্প পড়ার মাঝ দিয়ে পাঠকের পৃথিবী বদলে যাবার ঘটনাটা এতো সহজভাবে লেখক তুলে ধরেছেন। কল্পনার অতীত!

ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৭৫/৫

★পৃথিবীর ছায়া★
এই গল্পে অমল নামের গল্পকথকের স্মৃতিচারণায় ফিরে আসে ময়মনসিংহের মফস্বলী ছোটবেলা। কথক যে বাড়িতে থাকতেন সেখানেই ভাড়া থাকতো আরো দুটি পরিবার।
প্রহেলিকাময় তাদের চলাফেরা। তাদের মাঝে ওষুধ বিক্রেতা আব্দুল্লাহ সাহেব নাকি পুরো এলিয়েনদের মতো দেখতে।
এক দুপুরের রহস্যময় ঘটনার পর কয়েকদিনের ব্যবধানে ওই দুটি  পরিবারের মানুষজন উধাও হয়ে যায়।  কী সেই ঘটনা? আর ���ীভাবে তারা  অমলের জীবনে এক স্থায়ী প্রভাব ফেলে.. তাড়া করে বেড়ায় সেই ছেলেবেলায় চেনা কুহেলীময়  পৃথিবীর ছায়া -সেই নিয়ে গল্প।


সংকলনের অন্যান্য গল্পের তুলনায় বিষয়বস্তুর দিক থেকে ফিকে । তবে ন্যারেটিভের অনন্যতা আর নিপুণ পটশিল্পীর মতো ময়মনসিংহের মফস্বলী জীবনকে লেখক তুলে ধরেছেন সেটাই গল্পকে অন্য ধরনের স্বাদ দিয়েছে। আর শেষের টুইস্টটাই সবথেকে সার্থক দিক বলে মনে হয়েছে।

রেটিং: ৪/৫

★অসিতোপল কিংবদন্তি★

অসিতোপল বা নীলকান্তমণির বিশুদ্ধ নীল রঙের শেডগুলোকে বইয়ের পাতায় বন্দি করার স্বপ্নে বিভোর এক রসায়নবিদ। এই পাগলাটে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে হারিয়েছেন স্ত্রী-কন্যার সঙ্গ। উদ্দেশ্য হলো, নীল রঙে অবগাহন করে মানুষের মন শুদ্ধ আর কালিমামুক্ত হবে।
কিন্তু বই লেখা শেষ বেঁধে যায় যুদ্ধ আর তিনি হারিয়ে ফেলেন বইগুলোর কপি। কী  ছিল "অসিতোপল রঙ" নামের বইগুলোর ভাগ্যে?
কানাঘুঁষা শোনা যায়,এই বই যার হাতেই পড়ে সে পাগল হয়ে যায়। আসলে কী তাই? এই প্রশ্নের খোঁজে রসায়নবিদের সাথে ছুটে চলতে চলতে আপনিও অবগাহন করবেন অসিতোপলের গাঢ় নীল রঙে।

সংকলনের সবথেকে প্রিয় গল্প এটি। এতো দারুণ উপস্থাপনা, সাদা-নীল-লাল রঙ আর মানুষের মনে তার প্রভাব,সেগুলো নিয়ে লেখা আমার মনকে পুরো আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।

রেটিং : ৫/৫

★রান বয় রান★
সত্তরের দশকের শেষদিকের পুরান ঢাকায় এক মেঘলা দুপুর। আকাশে ঘুড়ির মেলা। কেউ বা মনের আনন্দ কাটছে আরেকজনের ঘুড়ি,মুখে বিজয়ীর হাসি। আর কারো ঘুড়ি ভোকাট্টা হয়ে গোত্তা খেয়ে উড়ে চলেছে আকাশের অন্যপ্রান্তে বুড়িগঙ্গা নদীর দিকে। এমনই এক ঘুড়ি হারিয়ে মুখ কালো হওয়া ছেলে অমল ছুটছে তার লাল ঘুড়ির পিছে। ঘুড়ি উদ্ধার করতে গিয়ে পথের এক কানাগলিতে আটকে পড়ে সে। ভয়ার্ত চোখে দেখে রক্তাক্ত কপাল নিয়ে এক বৃদ্ধ এগিয়ে আসছে তার দিকে। সতর্ক করে দিচ্ছে, "রান, বয়, রান।"
কীসের থেকে এই পালানো? এর শেষ কোথায়?

টাইম ট্র্যাভেলের লুপ নিয়ে একটা গল্প। বেশ উপভোগ্য।

রেটিং: ৪/৫

★করুণাধারা★
"অমল,তুমি আমাকে একটা করুণার গল্প বলো,তাহলে আমি তোমাকে একটা বেদনার কাহিনি শোনাবো।"
মৃত্যুপথযাত্রী এক অঙ্কবিদের সাথে শেষ সময়ের কথোপকথন,ব্যর্থ অসীমতার সন্ধান আর মানুষের সাথে প্রাণীর আত্মিক সম্পর্ক নিয়ে গল্পটা দারুণ হৃদয় স্পর্শী।

রেটিং: ৪/৫

★সিনেস্থেশিয়া★
" আচ্ছা? বেদনার রঙ কী? বিপ্লবের?
আপনি কি শব্দের রঙ চিনতে পারেন? আমি না সারারাত ঘুমোতে পারি না। মৃদু শব্দতেই চোখের সামনে ঝলকে উঠে রঙ।"

৮০'র দশকের এক নাগরিক সন্ধ্যায় সাইকিয়াট্রিস্ট আব্দুল মতিনের চেম্বারে হাজির হোন অদ্ভুত এক মহিলা। উনি দাবি করেন যে,উনি শব্দের রঙ দেখতে পান। কাকের কর্কশ ডাকের রঙ নাকি গাঢ় বেগুনী।
এই অদ্ভুত রোগের প্রতিকার কী? কেনই  বা তিনি দেখেন শব্দের রঙ?

অসিতোপল কিংবদন্তির পরে সংকলনের পরে সংকলনের সেরা গল্প মনে হয়েছে। প্রথম প্রথম মিসির আলী টাইপের ভাইব পেলেও  পরে ঘটনার মোড়,টুইস্ট আর প্রেজেন্টেশনের কারণে মনে দীর্ঘ সময় অনুরণিত হয় এর রেশ।

রেটিং: ৫/৫

★লৌহশকট★

"গ্রিশা কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরে একটা পত্রহীন ম্যাপল গাছ দেখে। ভাবে মানুষ এতো আত্মবিশ্বাস পায় কোথা থেকে।  রাজনীতি হল রাজার নীতি,যে মানুষ নিজেকে রাজা হবার যোগ্য মনে করে না,তার হয়তো রাজনীতি করা উচিত নয়,এজন্য  গ্রিশা একজন চিত্রকর।  সে বলে,"ভ্লাদিমির লেলিন, আপনি মানুষের ভাগ্যকে বদলাতে চান। আপনার বিশ্বাস, আপনার দৃঢ়তাকে আমি সম্মান করি,কিন্তু আপনি যে পথের কথা বলছেন তা খুবই বিপজ্জনক। আর আপনি যে দায়িত্বের কথা বলছেন সেটা হলো আপনার মোহ,মেগালোম্যানিয়া,পৃথিবীকে আরোগ্য করার বদলে সেটা পৃথিবীকে অস্থির করে দিবে।"

রুশ বিপ্লব আর তার পরবর্তী ঘটনা এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে জার সরকারের পতন ঘটে।সে জায়গায় মেনশেভিক এবং অন্যান্য সংস্কারপন্থীরা মিলে সরকার গঠন করে।কিন্তু লেনিন এদের কর্মসূচির বিপরীতে বিপ্লবী কর্মসূচি হাজির করেন  শান্তি জমি রুটি এই স্লোগানে মূলত সমস্ত জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে অক্টোবর বিপ্লবকে পরিচালনা করেন।
এই দুই বিপ্লব, পরবর্তীতে স্তালিনের উত্থান আর রক্তাক্ত সোভিয়েত ইতিহাসের কথা এসেছে লৌহশকটে।

সংকলনের  সবথেকে হেভিওয়েট আর ওয়েল রিটেন গল্প। যদিও শেষের টুইস্টটা আমি আগেই আন্দাজ করতে পেরেছিলাম।

রেটিং: ৪.৭৫/৫

★নীলকান্তমণি★
আচ্ছা... পৃথিবীতে নাকি একই চেহারার দুজন মানুষ আছে? না তো কীভাবে পণ্ডিত তীর্থঙ্করের স্ত্রী কমলার মৃত্যুর পর সে চোদ্দবছরের কিশোরী পুষ্পার চেহারা নিয়ে ফিরে আসে। পুনর্জন্ম নাকি ভ্রম? নাকি অলৌকিকতা? এর সাথে কমলার মৃত্যুর আগে স্বামীকে গছিয়ে দেয়া নীলকান্তমণিরই বা সম্পর্ক কী?

গল্পটাকে বলা যেতে পারে, কতিপয় চরিত্রের স্বগতোক্তি আর ভাবনার কোলাজ।
এই গল্পটা আমার কাছে সবথেকে অন্যরকম মনে হয়েছে। তবে মোটেও ফেলনা নয়। বরং লেখক মনোযোগ ধরে রাখতে পেরেছেন বেশ ভালোভাবেই। গল্পকে সত্যি করে তোলার পাশাপাশি লেখক পাঠককে তাঁর গল্পের স্থান ও সময় ধেকে বেটোর্ট ব্রেশটের এলিয়েনেশন তত্ত্বের মতো করে বিচ্ছিন্ন করে আনেন। তাঁকে ভাবনার পরিসর যোগান। গল্পটির সার্থকতা এখানেই।

রেটিং: ৪/৫


সব আখ্যান গল্প হয় না।বহু যত্নে কেটে ছেঁটে আমাদের জীবন ও ভাবনার অন্তর্গত আখ্যানের ভেতর থেকে বের করে আনতে হয় ভাস্কর্যের মতো অনন্য গল্পকে। এরকম নিখুঁত গল্পের শৈলী আয়ত্ব করেই গল্প লিখতে শুরু করেছেন দীপেন ভট্টাচার্য।  আটটা গল্পের প্রায় প্রতিটাতেই রয়েছে কোনো না কোনো কিছুর পিছনে অবিশ্রান্ত ছুটে চলা। প্রতিটা চরিত্রই জানে যে, তাদের নিয়তি, ভাগ্যের চাকার ঘূর্ণন আগে থেকেই নির্ধারিত। তারপরও তারা হেঁটে চলেছে আয়ুরেখা ধরে। অমল, নিস্তার মোল্লা, অসিতোপল রঙের রসায়নবিদ, নিরঞ্জন দা, সাহানা কিংবা সালেহা,
রুশ বিপ্লব, স্তালিনের ব্রুটালিটি, শব্দের রঙ,পৃথিবীর ছায়া,লেলিনকে সতর্ক করা  আর্টিস্ট গ্রিশা, প্যারানয়া-ট্রমা - সবকিছুকে বেঁধে  দক্ষ স্টোরিটেলারের মতো আবহ তৈরি করেছেন দীপেন ভট্টাচার্য।
শব্দ বুনে অ্যাটমোস্ফিয়ার তৈরি করে, কীভাবে পাঠককে সমুদ্র জলে ডোবাতে হয় সেটার নতুন মাত্রা নির্ধারণ করেছে "নিস্তার মোল্লার মহাভারত"।

নিদারুণ বর্ষায় স্নাত গ্রামীণ সন্ধ্যা,  অপেক্ষার ধোঁয়া জমানো কফি কাপ, ঢিলের আঘাতে  রক্তোৎপল শঙ্খচিলের ডানা,প্লেনের জানালায় প্রবাসীর ঘনীভূত নিঃশ্বাস কিংবা ধর্ষণের ভয়ে দম আটকে কচুরিপানার নিচে লুকানো যুবতীর আতঙ্ক  এতোটা নিপুণভাবে উপস্থাপন করতে আমি কাউকে দেখি নি।

গল্প বলার ধরন,বিষয়বস্তুর অনন্যতা, ভাবনার গভীরতাকে কালো অক্ষরে সাজিয়ে মর্মকে স্পর্শ করার জন্য মাথা নত কুর্নিশ। এই ঘোর কাটাতে আরো সময় দরকার!


একনজরে -
বইয়ের নাম: নিস্তার মোল্লার মহাভারত
লেখক: দীপেন ভট্টাচার্য
প্রকাশনী: দ্যু প্রকাশন
প্রচ্ছদ : রেনে মাগ্রিট
প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারি, ২০১৯
মূল্য: ২০০ টাকা
প্রাপ্তিস্থান: রকমারিসহ অন্যান্য বুকশপ

পার্সোনাল রেটিং : ৪.৭৫/৫
গুডরিডস রেটিং : ৪.৩৫/৫
Profile Image for Harun Ahmed.
1,664 reviews423 followers
November 2, 2023
৪.৫/৫

মহাভারতের মতোই "নিস্তার মোল্লার মহাভারত" আরম্ভ হয়েছে তার নিজস্বতার ঘোষণা দিয়ে -

যদি আপনি সময় ও ধৈর্য নিয়ে এই গল্পের পুরোটাই পড়েন, তাহলে জীবনে যে শত শত গল্প পড়েছেন এবং পড়বেন সেই তালিকায় এটি যুক্ত হবে মাত্র, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।


যে কোনো মহাকাব্য যেমন একইসাথে জীবনের প্রতি তীব্রভাবে আসক্ত ও নিদারুণ নির্বিকার, এ গ্রন্থভুক্ত গল্পগুলোও তেমন। গল্পগুলো পড়তে হবে মনে স্থিরতা নিয়ে, জাগতিক কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে। গ্রিক ট্র‍্যাজেডির মতো গল্পের চরিত্ররা আগে থেকেই জানে তাদের নিয়তি নির্ধারিত হয়ে আছে, তবুও তারা লড়ে যায় শেষ পর্যন্ত। একই গল্পে লেখক বুনে যান বহু গল্পের বীজ। এখানে অসিতোপল নীল আপনাকে বস্তুজগতের বাইরে নিয়ে যায়, মানুষ শব্দের রঙ দ্যাখে, বসন্তের হাওয়া আনে রক্তস্নাত ফুলের ঘ্রাণ, সূর্য ভালোবেসে মানুষ প্রেতলোক থেকে সূর্যলোকে উড়ে যায়। ঈশ্বরের মতো নির্লিপ্তি নিয়ে দীপেন ভট্টাচার্য লিখে যান মহাকাব্য এ জীবনের। মন্ত্রমুগ্ধের মতো পাঠক হারিয়ে যান নিস্তার মোল্লা, অমল, অসিতোপল, কালো ঘুড়ি, নিরঞ্জনদা, সালেহা, মুক্তিযুদ্ধ, ট্রমা, শব্দের রঙ, লেনিন, বিপ্লব, পুনর্জন্মের এক বাস্তব ও বাস্তবাতীত জগতে - যে জগত মহাকাব্যের মতো সত্য, যে জগত জীবনের মতো সত্য।

(৪ এপ্রিল,২০২১)
Profile Image for বিমুক্তি(Vimukti).
156 reviews88 followers
March 29, 2021
কিছু বইয়ের প্রতি অসামান্য ভালো লাগা নিয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দেয়া যায়। যেখানে ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য আমাদের মুখের বুলি এখনও যথেষ্ঠ বিকশিত হয় নি, সেখানে এই বুলিতে ভালোবাসা প্রকাশ করার প্রচেষ্টা নিতান্ত ছেলেমানুষী।
অনেক ছেলেমানুষী হয়েছে, আর না। এ বই পড়ার অনুভূতি একান্ত ব্যক্তিগতই থাক। থাক! থাক! থাক!
Profile Image for Momin আহমেদ .
112 reviews49 followers
February 9, 2025
গল্প পড়ে মজা পাইছি।
অনেক গল্পই তো পড়ি। এক সময় গল্পের বিষয়বস্তু ভালো লাগে আবার এক সময় লেখার ভাষা মুগ্ধ করে। এই গল্পগুলা গল্প হিসাবে আমাকে মুগ্ধ করছে। ছোটবেলায় যেভাবে মুগ্ধ হয়ে দাদির কাছে বসে গল্প শুনতাম ঠিক তেমন ছিল অভিজ্ঞতা।
Profile Image for Amit Das.
179 reviews117 followers
April 26, 2021
এ ধরণের লেখা এর আগে পড়েছি কি না মনে করতে পারছি না; নিকট অতীতে তো একদমই না।
দীপেন ভট্টাচার্যের প্রতি রইল অশেষ কৃতজ্ঞতা, পাঠক হিসেবে আমাকে নতুন ভাবনায় উস্কে দেয়ার জন্য। আটখানা গল্পের সবগুলোর স্বাদ নিয়েছি প্রাণভরে। আকাট পাঁচ তারকা।
Profile Image for Ashik.
221 reviews43 followers
November 6, 2024
বেশ আড়ম্বর করে বলতাম, ছোটগল্প আমাকে টানে না!
Then there comes Dipen Bhattacharya.
তিনি কয়েকটা গল্প দিয়ে এমন জোরে আমাকে ঝাকুনি দিলেন, স্থির হতে বেশ সময় লাগবে!
নিস্তার মোল্লা মহাভারত লিখেও হারিয়ে ফেলেছেন, আমার ভালো লাগার মহাভারত যেন হারিয়ে না যায়!
Profile Image for Shadin Pranto.
1,477 reviews560 followers
August 12, 2023
'মানুষ যখন মনে করে সে নিজে সব জানে, অন্য কারুর অভিমতের দরকার নেই তখন থেকেই স্বৈরাচারের শুরু হয়।' - দীপেন ভট্টাচার্য

মোট আটটি ছোটগল্প নিয়ে দীপেন ভট্টাচার্যের এই গল্পগ্রন্থ। একটি বাদে সবগুলো গল্পে কোনো না কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধ উপস্থিত। অথচ চেতনার বুদ্বুদের মাধ্যমে পাঠককে অচেতন করতে চাননি দীপেন ভট্টাচার্য। নেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাড়াবাড়ি।

'নীলকান্তমণি' বাদে সবগুলো গল্প অন্যরকম সুন্দর। বিহ্বল হওয়ার মতো ভালো। সবচেয়ে ভালো 'লৌহশকট'। লেখক ট্রটস্কিপন্থি। তাই লেনিন ও রুশবিপ্লব নিয়ে রচিত গল্পটিতে প্রাধান্য পেয়েছে স্ট্যালিনের সমালোচনা।

দীপেনবাবুর লেখা আরও পড়বো। কিছু কিছু বানান ভুল বিরক্ত করেছিল।
Profile Image for Yeasin Reza.
512 reviews86 followers
January 3, 2022
দীপেন ভট্টাচার্যের গল্পের প্লট বেশ ইউনিক। ফ্যান্টাসি, নস্টালজিয়া,অপার্থিব রহস্যময়তা আর বেদনাবোধ সব মিলেমিশে সৃষ্টি হয়েছে উপাদেয় একেকটা গল্প।গল্পে ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ এসেছে বারংবার, যা খুব ভালো লেগেছে। সবচেয়ে বেশি মনে দাগ কেটেছে সিনেস্থেশিয়া গল্পটি। মনের ভেতর একটা হাহাকার তৈরী হয়েছিলো। দীপেন ভট্টাচার্যের লেখনী মুগ্ধ করেছে।
Profile Image for মোহতাসিম সিফাত.
180 reviews50 followers
October 15, 2024
আমার কল্পবিজ্ঞানের হাতে খড়ি সত্যজিৎ রায়ের শঙ্কু পড়ে। উঠতি বয়সে জাফর ইকবাল পড়লেও, আস্তে আস্তে তার সব লেখা একরকম লাগে শুরু করে, যার কারণে কল্পবিজ্ঞান নিয়ে এতোটা আগ্রহ হয়নি বড়ো হয়ে। একটা দুটো বই বিচ্ছিন্নভাবে পড়েছি, তবে দীপেন ভট্টাচার্য পড়ে আবার নতুন করে এই ঘরানার লেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি হলো। এই নিয়ে একটানা দীপেন ভট্টাচার্যের ছয়টা বই পড়ে আমি মুগ্ধ। তাঁর লেখার প্রধান বিষয় কল্পবিজ্ঞান হলেও ছোটগল্প লেখায় তিনি সুন্দর মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন এই বইতে।
এই সংকলনে আটটি গল্প, তার মাঝে কল্পবিজ্ঞান, জাদুবাস্তবতা, টাইম লুপ, মুক্তিযুদ্ধ, মনস্তত্ত্ব, ঐতিহাসিক - অনেকগুলো ভিন্ন ধারায় কলম চালিয়েছেন। সুন্দর উপস্থাপনায় পুরো সময়ই মনোযোগ ধরে রাখতে পেরেছেন। সহজ সাবলীল লেখার পেছনে গভীর জীবনবোধের ছাপ আছে, আছে চিন্তার খোরাক। কিছুকিছু জায়গায় পাঠকের মনে হবে, আমিও যেন গল্পের একটা চরিত্র। বোধ করি, এখানেই লেখকের সার্থকতা।

ভাগ্যিস আমাদের একজন দীপেন ভট্টাচার্য আছেন!
Profile Image for নাহিদ  ধ্রুব .
143 reviews27 followers
January 4, 2022
দীপেন ভট্টাচার্যের লেখা অনেকটা ব্রেইন স্ট্রোমিং করার মতো। গল্প পড়তে পড়তে অটোমেটিক আইডিয়া জেনারেট হতে থাকে। গল্প বলার ঢংটাও চমৎকার, অনেকটা আয়োজন করে, আসর জমিয়ে গল্প বলেন দীপেন ভট্টাচার্য। গল্পের বিষয়বস্তু একদমই অচেনা এক জগতের সন্ধান দেয়.. যে কারণে নতুন কিছু আবিষ্কারের অনুভূতি পাওয়া যায় প্রতিটি গল্পে। পাঠককে চালকের আসলে বসিয়ে এমন চমৎকার গোলকধাঁধা তৈরি করা সহজ নয়। গল্পগুলো পড়ে মনে হয়েছে অনেকদিন পর একটা দুর্দান্ত বই পড়লাম। হাইলি রেকমেন্ডেড ।
Profile Image for Alauddin Ajad.
40 reviews3 followers
September 20, 2025
একটা গল্পগ্রন্থের প্রত্যেকটা গল্পকে পাঁচতারা রেটিং দেয়া যায় এমনটা কমই আছে। 'নিস্তার মোল্লার মহাভারত' সেই বিরল ধাচের একটা বই। সুখপাঠ্য। চিন্তাকে উস্কে দিবে কিছু জায়গায়। কিছু জায়গায় থমকে যেতে হবে। আনন্দ এবঙ গাঢ় বিষাদে ভরে উঠবে মনের অসিতোপল পেয়ালা।
Profile Image for Salman Sakib Jishan.
274 reviews158 followers
September 16, 2021
একটা বই,
যেখানে সাহিত্যগুণ সম্পন্ন লেখনি থাকবে, লেখায় প্রগাড় বাস্তবতা থাকবে, জীবনের নিরিখে লেখা ভিন্ন ধারার অবাক সব গল্প থাকবে। সাথে থাকবে সাইফাই, অবাস্তব, পরাবাস্তবতার মতো জটিল কিন্তু ইন্টারেস্টিং সব ব্যাপারস্যাপার।
আমার চাওয়া-পাওয়াটা এরকম। অদ্ভুত লাগতে পারে, তবে এরকম বই আমি পড়েছি। নিকট অতীতে শিবব্রত বর্মণের 'বানিয়ালুলু' পড়ে যেরকম আনন্দ পেয়েছিলাম, বেশ অনেকদিন পর সেই ধাঁচের আরেকটি বই পড়লাম মহা তৃপ্তির সহিত। দীপেন ভট্টাচার্যের লেখা বই আমি আগে পড়িনি। এত সুন্দর করে লিখেন এই বিজ্ঞানমনস্ক মানুষটা, ওনার লেখনীর জাদুকরী ভ্রমে আমি বিস্মিত। স্নিগ্ধ, সুষমমাখা, মানবিক সব বাক্যে ঠাসা প্রতিটি গল্প। এটাই প্রথম পড়া। আশা করছি ওনার অন্যান্য বইগুলোও পড়া হবে।
এখানে মোট আটটি গল্প আছে ছোট বড় মিলিয়ে। গল্পগুলো হলোঃ নিস্তার মোল্লার মহাভারত, পৃথিবীর ছায়া, অসিতোপল কিংবদন্তী, রান বয় রান, করুণাধারা, সিনেস্থেশিয়া, লৌহশকট, নীলাকান্তমণি। ওনার গল্পগুলোর একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো তিনি পাঠকের সাথে গল্পের মধ্যেই ইন্টার‍্যাক্ট করেন। তিনি ধরতে পারেন তার লেখার কোন অংশটায় পাঠক কি অনুভব করবেন। উনি গল্প থেকে পাঠককে বাস্তবে টেনে এনে সরাসরি সেই কথাটাই বলেন। এই ব্যাপারটার প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি ঘটেছে 'নিস্তার মোল্লার মহাভারত' নামক প্রথম গল্পটায়। গল্পের শেষে এসে আমি রীতিমতো থ বনে গেছি। এরপর চুম্বকের মতো আটকে গেছি বইয়ের সাথে।

বইয়ের সবচেয়ে পছন্দের গল্পের নাম 'অসিতোপল কিংবদন্তী'। রঙ নিয়ে এভাবেও ভাবা যায়? মাথা ঘুড়ে গেছে। আমি একটা অন্য দৃষ্টিকোণের খোঁজ পেয়েছি এই গল্পে, যেটা নিতান্তই আমাকে বাধ্য করেছে সবচেয়ে পছন্দের গল্প হিসেবে বাছাই করতে। এরপরের পছন্দ সিনেস্থেশিয়া নামের একটা গল্প। যেই গল্পে এক নারী আসেন সাইকোলজিস্টের কাছে, যিনি শব্দের মাঝে আলোর বিচ্ছুরণ কিংবা রঙ দেখতে পান। অদ্ভুত একটা গল্প। এরপর আরও সুন্দর সুন্দর জীবনবোধের বাস্তবিক গল্প যেমন ছিলো, তেমনি ছিলো 'লৌহশকট' নামের রাশিয়ান প্রেক্ষাপটে লেনিন, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ভারী একটা গল্প। সবগুলো গল্পই কমবেশি ভালো লেগেছে আমার আসলে।
ওয়াসি ভাইকে আবারো ধন্যবাদ, ওনার লিস্ট থেকেই এই বইটা পেয়েছি আমি। রীতিমতো শক্ত আস্থা জন্মে গেছে আমার ওয়াসি ভাইয়ের সাজেশনের উপর।
[এই বইটার প্রচ্ছদের ছবিটা রেনে মাগ্রিটের বেশ ফেমাস একটা ডিলিউশনাল আর্টওয়ার্ক। নাম 'Not to be reproduced'।]

অবশ্যই পড়বেন। রেকোমেন্ডেড।
Profile Image for Debashish Chakrabarty.
108 reviews94 followers
March 10, 2020
লাঞ্চ-ডিনার, অফিস-ব্যাবসা, টাকা-যুদ্ধ, ঘড়ির কাঁটা এই সব সহ আরও অগুনতি কাজে ঘুরে ফিরে মানুষের পৌনঃপুনিক-বোধগম্য-যাপিত জীবন । বোধগম্য এই জীবনটা আসলে যে বৃহৎ এক জগতের মধ্যে একটি কল্পিত বুদবুদ মাত্র, তা-ই বার বার মনে করিয়ে দেয় দীপেন ভট্টাচার্যের গল্পগুলো । জগতের রহস্যের ঝাপটা এসে মাঝে মাঝেই লাগে কারো-কারো জীবনে । আমাদের কাণ্ডজ্ঞান প্রায়ই তাদের তল খুঁজে পায় না । লিনিয়ার বা একরৈখিক সময়ের ধারণা যাপিত জীবনটা সহজ করে দেয় ঠিকই তবে নিজেদের সুবিধার জন্য চতুর্থ মাত্রার যত সরলীকরণই আমরা করি না কেন, সময়ের অবোধ্য রূপের দেখা কেউ কেউ পেয়েও যেতে পারেন । বুঝে ফেলতে পারেন অহংকারী এক স্তন্যপায়ী প্রজাতি মানুষ আসলে কতটা অসহায় এই সমগ্র অস্তিত্বে, আজও কতটা অবোধ্য এই মহাজগত ।
Profile Image for পটের দুধের কমরেড.
209 reviews25 followers
October 8, 2023
দীপেন ভট্টাচার্যের গল্পযাত্রায় নিজেকে আবিস্কার করি একটা সাদাকালো হিপনোটিক স্পাইরালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। অচেতন পদক্ষেপে অসাড় সত্তাকে বিসর্জন দিতে হয় সম্মোহনের ঘূর্ণিপাকে আর মস্তিষ্কে তরঙ্গিত হয় নতুন জগতের উন্মুক্ত দুয়ার৷ দুনির্বার আকর্ষণের ত্বরণে ধাবিত হই সিঙ্গুলারিটির দিকে। জগৎ রহস্যময় জানি, কিন্তু তারচেয়ে বেশি রহস্য কুণ্ডলী পাঁকিয়ে ঘনীভূত হয় দীপেন ভট্টাচার্যের শৈল্পিক ভাষার কারুকার্যে।
Profile Image for Kripasindhu  Joy.
547 reviews
October 17, 2024
৮টি গল্পের এই সংকলনটি পড়ে ভাল লাগলো। দীপেন ভট্টাচার্য সহজ করে সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করেন।
Profile Image for Rafat Tamim.
73 reviews7 followers
October 8, 2022
৪.৫/৫
দীপেন ভট্টাচার্য এর অসাধারণ সাই-ফাই গল্প নিয়ে নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। সাই-ফাই গল্পের পাশাপাশি লৌহশকট, নীলকান্তমনি, সিনেস্থেশিয়া, করুণাধারা এই গল্পগুলোও দুর্দান্ত ছিল।

দীপেন ভট্টাচার্য গল্পগুলো এইজন্যই অসাধারণ। গল্পগুলো শেষ করার পর, ছেড়ে চলে যায় না, গল্পের রেশ থেকে যায় অনেকটা সময় জুড়ে।
Profile Image for Sazedul Waheed Nitol.
87 reviews33 followers
March 24, 2019
অসামান্য সব গল্প! দীপেন ভট্টাভার্যের কলমে জাদু আছে!
Profile Image for সন্ধ্যাশশী বন্ধু .
368 reviews12 followers
February 7, 2024
" নিস্তার মোল্লার মহাভারত " নাম টা-ই যতেষ্ট আগ্রহ জাগানিয়া। নাম পড়ে পাঠকের পড়ুয়া মন হয়ত ভাবতে পারে মিথ নিয়ে লেখা কিছু! মজার বিষয় হচ্ছে, এই " গল্পগ্রন্থে" মিথের ছিটেফোঁটা ও নেই। তাহলে কী আছে? যা আছে সেটা কিম্ভুত, মুগ্ধ করার মত একটা ব্যাপার। যত পড়ছিলাম,আমি অবাক হয়ে যাচ্ছিলাম। কই থেকে কই নিয়ে যাচ্ছেন লেখক! গল্পগুলোকে স্থির কোন জনরাতে আমি ফেলতে পারিনি,তবে আমার মনে হয়েছে জাদুবাস্তবতার ছোঁয়া টা বেশি ছিল। আর এই জাদুবাস্তবতা ব্যাপার টা'র ব্যবহার এত চমৎকার করেছেন লেখক,সেটাই যেন গল্পগুলোতে প্রাণ ফিরিয়েছে বেশি। 



সাধারণত দেখা যায়, পড়লে, ছোটগল্প পড়লে টানা পড়া যায়। কিন্তু দীপেন ভট্টাচার্যের ছোটগল্প এই দিক থেকে সতন্ত্র। পাঠক টানা পড়তে গেলে হোঁচট খাবেন। কারণ প্রায় প্রতিটি গল্পই আপনাকে কিছু সময়ের জন্য হলেও স্থবির করে রাখবে,অন্তত আমাকে রেখেছে। আমি টানা পড়তে পারিনি। প্রতিটি গল্প শেষ করে,আমার নতুন করে ভাবতে হয়েছে। অদ্ভুত সব গল্প। আরেকটা ব্যাপার উল্লেখ করার মতো,সেটা হচ্ছে "মুক্তিযুদ্ধ"। প্রায় সব গল্পেই মুক্তিযুদ্ধ ছিল এবং সেটা প্রাসঙ্গিক ভাবে।


 মোদ্দা কথাটি হলো, নিস্তার মোল্লার মহাভারতে পাঠক একবার যদি ঢুকে পড়েন,তবে তিনি সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন....
Profile Image for Salahuddin Sunny.
47 reviews5 followers
October 17, 2024
সাম্প্রতিক সাহিত্যাঙ্গনে সাহিত্য গুণে গুণান্বিত বইয়ের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। লেখার প্রতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঝোঁক দেখা গেলেও সাহিত্যের মানদণ্ডে লেখাগুলো প্রশ্নবিদ্ধ রয়ে যায়। লেখার শৈল্পিক দিকটাকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে তখন একটা বইকে পণ্যজাত দ্রব্যে পরিণত করা হয়। কোনো বই নিয়ে আমাদের মাতামাতি নির্দিষ্ট একটা গন্ডীর মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যায়। এভাবে ভালোমানের বইগুলো পাঠকের অন্তরালে তলকুঠুরিতে চাপা পড়ে। দীপেন ভট্টাচার্যের ‘নিস্তার মোল্লার মহাভারত’ সেরকম একটা বই।

এক মলাটের অভ্যন্তরে সাইফাই, পরাবাস্তব, অলৌকিক, মিথলজি, ইতিহাসের মতো বিষয়গুলোকে ছোটগল্পের পরিসীমার মধ্যে নিয়ে এসেছেন দীপেন ভট্টাচার্য। স্নিগ্ধ মনোরম বাক্যবিন্যাসে লেখা হয়েছে একেকটা লাইন। লেখার জাদুকরী ভ্রমে আমি যারপরনাই বিস্মিত হয়েছি। মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো পড়ার সময়ের প্রতিটা মুহূর্তকে! ছোটবড় মিলিয়ে আটটি গল্প আছে এর মধ্যে। গল্পগুলো শুধুমাত্র বিষয়েই নয় বরং বৈশিষ্ট্যেও অনন্য। এরকম বই পড়ার পর ফুসফুস থেকে তৃপ্তি সমৃদ্ধ বাতাস নির্গমন করে বলতে হয়, “পয়সা আর সময় দুটোই উসুল!” পাঁচটি ঝলমলে উজ্জ্বল তারকা নির্দ্বিধায় দেয়া যায় এই বইকে।

দীর্ঘদিন বইটই পড়ার মতো ফুরসৎ পাইনি। একারণে ভয়াবহ রিডিং ব্লকে আটকে গিয়েছিলাম। এ অবস্থা কাটাতে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের বই তুলে নিয়েও আশানুরূপ ফলাফল পাচ্ছিলাম না। (সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: স্যারের লেখার দোষ দিচ্ছি না আমার সেসময়ের করুণ অবস্থা বোঝানোই উদ্দেশ্য) তারপর এই বই তুলে একটানা তিনটা গল্প পড়া হয়ে গিয়েছিল। নিমগ্ন হয়ে পড়েছিলাম লেখার গভীরে!

জোরালোভাবে রেকোম্যান্ডেড।
Profile Image for জাহিদ হোসেন.
Author 20 books476 followers
May 31, 2021
দীপেন ভট্টাচার্যের লেখনী আমার খুব পছন্দ। তার গদ্যভাষা মুগ্ধতাজাগানিয়া। এর আগে 'অভিজিৎ নক্ষত্রের আলো' পড়ে ভালো লেগেছিল। তারপর এই গল্পগ্রন্থ কেনা। ছোট ছোট গল্প। প্রচলিত সাই ফাই থেকে একটু ভিন্ন ধরনের, তবে পড়তে আরাম। গল্পের কমন থিম দেখলাম মুক্তিযুদ্ধ। ঘুরে ফিরে মুক্তিযুদ্ধের কথা এসেছে।

আলাদাভাবে তিনটা গল্পের কথা বলবো। পৃথিবীর ছায়া, অসিতোপল কিংবদন্তী ও সিনেস্থেশিয়া।
Profile Image for Rony Rahman.
72 reviews7 followers
November 18, 2024
লেখক কি তার দ্বিতীয় কোনো সত্ত্বার উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন খুবই তীব্রভাবে? যাকে নিয়ে লিখে ফেলেছেন একটা মহাভারত। কিছু ছোট কথায় যেমন জগতের সকল গভীরতা ঢেলে দেয়া সম্ভব ঠিক তেমন ১৬৮ পৃষ্ঠার একটি মহাভারত তিনি লিখে ফেলেছেন অনায়াসে।
অমলদা বা অমল নামক কোনো এক সত্ত্বা কে ঘিরে যেন এই মহাভারত টা। প্রথম গল্পটা-ই এমন এক খাদে ছুড়ে দেবে পাঠক কে যা থেকে বের হয়ে আসা মুশকিল। নিতান্ত ছাপোষা নির্লিপ্ত চোখা নিস্তার মোল্লা কে আবিষ্কারের সাথে সাথে যেন পাঠক হারিয়ে ফেলবেন পরিচিত নিজেকে। হারিয়ে ফেলবেন মহাভারতের মহাযাত্রায়।
Profile Image for Mahbub Mayukh Rishad.
57 reviews15 followers
March 4, 2022
যে বই পড়ে ঈর্ষা হয় এটা তেমন একটা বই।
Profile Image for Jheelam Nodie.
314 reviews12 followers
April 11, 2023
একটাই মন্তব্য- অসাধারণ
Profile Image for Sushanto Kumar Saha.
93 reviews9 followers
April 21, 2020
আটটা ছোটগল্পের সংকলন। দীপেন ভট্টাচার্যের লেখা আগে থেকেই ভালো লাগে। এই বইয়েও তার ব্যতিক্রম নয়।
গল্পগুলোর প্লট ভিন্ন আর বৈচিত্র্যময়। সায়েন্স ফিকশনের সূক্ষ্ম ছোঁয়া আছে কমবেশি সবগুলোতেই।
একমাত্র রুশ বিপ্লব নিয়ে আগ্রহ না থাকায় সেই গল্পটা শেষ করতে পারিনি।

সবার জন্যই রিকমেন্ডেড । বিশেষ করে এই বইগুলোর একটা সুবিধা, প্রত্যেকটা গল্প একেক জনকে একেকটা আলাদা চিন্তার খোরাক তৈরি করে দেয়।
Profile Image for Rehnuma.
447 reviews21 followers
Read
August 29, 2024
❛যদি আপনি সময় ও ধৈর্য নিয়ে এই গল্পের পুরোটাই পড়েন, তাহলে জীবনে যে শত শত গল্প পড়েছেন এবং পড়বেন সেই তালিকায় এটি যুক্ত হবে মাত্র, এর বেশি কিছু নয়। তবুও গল্পটা শুরু করার আগে পাঠকের কাছে আমার একটা অনুরোধ থাকবে। পড়া শুরু করার আগে পাঠককে বলব তাঁর নিজের নামটি উচ্চারণ করতে।❜

নিস্তার মোল্লার মহাভারত

অমল রসায়নে অনার্স নিয়ে স্বাধীনতার আগে পাশ করেছে। এখন টুকটাক পড়িয়ে চলে যাচ্ছে। পুরোনো টিভি কেনার উসিলায় তার সাথে পরিচয় হয় নিস্তার মোল্লা নামের এক লোকের সাথে। যার বাড়িতে অদ্ভুত এক ঘরে চারদিকে আছে আয়না। সে ঘরে কী জানি আছে যার ফলে নিস্তারের লেখক সত্তা জেগে ওঠে। তেরো হাজার পৃষ্ঠা লিখে ফেলেছেন তিনি! আক্ষরিক অর্থেই যেন তিনি মহাভারত রচনা করেছেন। কী আছে সেই শব্দের ভান্ডারে? কী লিখেছেন তিনি?
ও ঘরে গেলে অমলের উপর এমন চাপ সৃষ্টি কেন হয়?


❛সূর্য ডোবার পাঁচ-দশ মিনিট পরে পূর্ব দিগন্তে তাকিয়ে দেখবে একটা গাঢ় ধূসর নীলচে রঙ দিগন্তে, তার ওপরেই একটা লাল কমলা আভা। ওই নিচের গাঢ় রঙটা হলো বায়ুমন্ডলে পৃথিবীর ছায়া। সূর্য পৃথিবীর ছায়া ফেলছে বায়ুমন্ডলে।❜

পৃথিবীর ছায়া

এমনই অনেক জ্ঞানের কথা বলতেন ময়মনসিংহের মফস্বলে বেড়ে ওঠা অমলের সালমা আপা। সালমা আপা, তার মা আর উনিপার সাথেই দিন পার করতো অমল। এরপর হঠাৎ একদিন আবদুল্লাহ যাকে কিনা অমল ভিন গ্রহের প্রাণী ভেবে ভয় করতো সে দৌড়িয়ে এলো। কী একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে গেলো। যা কেউ বিশ্বাস করে না। এরপর সালমা আপারা কোথায় যে চলে গেলেন জানা গেলো না।
বছর পেরিয়ে তিন দশক তখনও অমলের মনে আছে সালমা আপার স্মৃতি। একদিন অমলা অর্থাৎ অমলের স্ত্রী তাকে এমন এক জিনিস দেখালো যে অমল আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেলো।
কী ছিল সালমা আপার দেয়া শেষ বই ❛The Chicago Exposition World Fair 1933❜ নামক বইতে?

❛আপনি- পাঠক- কোনোদিন হয়তো ❛অসিতোপল রঙ❜ বইটি আবিষ্কার করতে পারেন। আমি- লেখক- আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি সেই বইয়ের নীল পাতায় আপনার চোখের দৃষ্টি রাখতে পারেন, নীলের গভীরে আত্মসমর্পণ করতে পারেন, সেই নীল আপনাকে উ ন্মা দ করবে না, সেই অসিতোপল নীল আপনাকে বস্তুজগতের বাইরে নিয়ে যাবে।❜

অসিতোপল কিংবদন্তী

সাদার মাঝে শান্তিময়তা খুঁজতে গিয়ে রসায়নবিদ একসময় নীলের বিভিন্ন আভার মাঝে পেলেন শান্তি। যেখানে তাকিয়ে থাকলে কখন কীভাবে সময় কেটে যায় জানেন না। অনেক কষ্ট করে নীলের নানা রঙে বানালেন একটি বই। যার দশটি কপি স্বাধীনতার পর কোথায় চলে গেলো হদিস নেই। বইয়ের রচয়িতার হাত ছাড়া হয়ে গেলো নিজের বই। যার জন্য তিনি নিজের স্ত্রী সন্তানের সাহচর্য হারিয়েছেন।
কথিত আছে সে বই দেখলে নাকি লোকে পা গ ল হয়ে যায়! আসলেই কি তাই? তবে অনেক বছর বাদে ট্রামে স্কার্ট পরা মেয়েটির হাতে যে বই ছিল সে বই দেখে তার ভবিষ্যৎ কেমন হয়েছিল?


❛সেই বৃহস্পতিবারের পর আরো ২৩১৩ টি বৃহস্পতি এলো, গেল। ১৬১৯১ টি দিন পার হলো, ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটা প্রায় ১৪০ কোটি সেকেন্ড গুনল।❜

রান বয় রান

অমলের ঘুড়ি উড়তে উড়তে এক সরু গলিতে গিয়ে পড়ল। তার প্রিয় লাল ঘুড়ি। যাকে মাথার সামনে নিয়ে না ঘুমালে তার ঘুম হয়না।
এমন সময়ই সামনের থেকে দেখলো এক প্রৌঢ় দৌড়ে আসছেন। তাকে তাড়া করেছে অনেকগুলো কিশোর। মাথা ফেটে গেছে তার। অমলের সামনে এসে কী মনে করে তাকে বলল, ❛রান বয় রান❜!
কিন্তু কেন?

❛অমল, তুমি আমাকে একটা করুণার গল্প বলো, তাহলে আমি তোমাকে একটা বেদনার কাহিনি শোনাব।❜

করুণাধারা

অমলের নিরঞ্জনদার প্রয়াণের আগে দিয়ে তাকে শুনিয়েছিল তার ঈশ্বর ভক্তির কথা। শুনিয়েছিল তার কথা মতোই সে ৭১ এ ইসহাককে ছেড়ে দিয়েছিল। তার কথামতোই করুণাকে করুণা করতে পারেনি। অমল বুঝে না কোন ঈশ্বরের কথা বলছে।
প্রয়াণের পর নিরঞ্জনের প্রিয় কুকুর কানুকে নিয়ে সে চলল কোথায়?


❛আমি শব্দের সাথে রঙ দেখতে পাই।❜

সিনেস্থেশিয়া

মনোবিদ আব্দুল মতিনের কাছে এক সন্ধ্যায় সাহানা নামে একজন এলো। জানালো শব্দের সাথে সে রঙ দেখতে পায়। জানায় ৭১ এ তার পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার গল্প, রাজাকার রহম তালুকদার থেকে বাঁচতে ডোবায় ডুবে থাকার গল্প। এরপর কোথায় যেন সে হারিয়ে গেল।
বছর খানেক বাদে ডিগ্রি নিয়ে মতিন জেনেছিল শব্দ, আলো, সংখ্যার রঙ দেখতে পারা দশার নাম। সেই উদ্দেশ্যেই হাজির হয়েছিল সাহানার বাসায়। কিন্তু গিয়ে যা জানতে পারলো!


❛বক্তৃতার দিন শেষ হয়েছে, পাহাড়ে গলছে বরফ, বসন���তের হাওয়া যেন নিয়ে আসে সদ্যফোটা ফুলের ঘ্রাণ। তরুণ ইয়েসেনিনের কবিতা আওড়ায় ভলোদিয়া।❜

লৌহশকট

রাশিয়ায় তখন সবে সরকার পতন হয়েছে বি প্ল বী দের মাধ্যমে। এরমধ্যেই আমাদের প্রোটাগোনিস্ট লে নি ন আবার ডাক দিলেন স শ স্ত্র বি প্ল বে র। অনেক কিছুর বিনিময়ে হাসিল হলো সেই বি প্ল ব। পতন হলো পরবর্তী সরকারেরও। লে নি নে র দেখানো পথে কী শুরু হবে নতুন এক রাশিয়ার? স্বাধীনতার নামে কি আবার শুরু হবে কোনো স্বৈ রা চা রিতার?


❛মানুষগুলো সব চলে যায়। কোথায় যায়? ভাবে সুনন্দ।❜

নীলকান্তমণি

তীর্থংকরের স্ত্রী গত হয়েছেন। এর আগে তার কাছে দিয়ে গেছিলেন অদ্ভুত এক নীলকান্তমণি। যা কমলা পরিধান করলেই কেমন জ্বলে উঠতো। বহুদিন নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন সে স্মৃতি তিনি।
আনন্দ বাবুর বাড়ির মেয়ে পুষ্পা। শানাজ তাকে দেখে ওমন চমকে গেলো কেন? কথা বলেছিল তীর্থবাবুর ছেলে মিহিরকে। মিহির গিয়ে পুষ্পাকে দেখে। সেও স্তব্ধ হয়ে যায়। বুঝতে পারে কেন কমলার প্রয়াণের বছর আর সময় জানতে চাইছিল সে।
ছেলের কথায় তীর্থ দাওয়াত করে আনন্দ বাবুর পরিবারকে। পুষ্পাকে দেখে একই দশা হয় তীর্থ বাবুরও।
এত মিল হয়? তবে কি কমলার পুনর্জন্ম হলো!

অদ্ভুত এ দুনিয়ায় কত কী হয়, কত অদ্ভুত ঘটনা ঘটে।


পাঠ প্রতিক্রিয়া:

❝নিস্তার মোল্লার মহাভারত❞ দীপেন ভট্টাচার্যের আটটি গল্পের সংকলন। প্রথম গল্পের নামানুসারেই বইটির নামকরণ হয়েছে।

দীপেন ভট্টাচার্যের লেখা বেশ ভিন্ন ধরনের। ❛দিতার ঘড়ি❜ প্রথম পড়েছিলাম। আর তাতেই লেখকের লেখার ভক্ত বনে গেছি। বৈজ্ঞানিক কাহিনির সাথে লেখার সুচারু দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে গেছিলাম। এই সংকলনটিও মুগ্ধ করেছে।

লেখকের সবথেকে গুনের দিক লেখার সাবলীলতা বা শাব্দিক ছন্দ। এত দারুণ শব্দের ব্যবহার করেন যে গল্প শক্ত না হলেও লেখার গুণে ভালো লেগে যায়।

প্রথম গল্প নিস্তার মোল্লার মহাভারত। এত দারুণভাবে বর্ণনা করেছেন। সাথে বৈজ্ঞানিক উপস্থিতি মিলে দারুণ ছিল।

পৃথিবীর ছায়া গল্পটি শুরুতে সাধারণ জীবনের ঘটনা মনে হলেও এক পর্যায় কী হলো ধারাই প্রায় বদলে গেলো। গল্পের গাঁথুনি ঢিলে হলেও শব্দচয়নে বিমোহিত হয়ে গেছিলাম। ময়মনসিংহের নদীর পাড়ে সালমার কবিতা আবৃত্তি যেন আমিই করছিলাম, সন্ধ্যার সময়ের সেই ছায়া বর্ণনার সঙ্গে আমি উপলব্ধি করতে পারছিলাম।

অসিতোপল কিংবদন্তী গল্পটা আমার ভালো লেগেছে। রঙ নিয়ে এত সুন্দর ভাবনা আর তাতে বিমোহিত হওয়ার যে গল্প লিখেছেন বেশ লেগেছে। লেখকের বর্ণনায় প্রকৃতির বিমূঢ় একটা ভাব ফুটে উঠেছে। যু দ্ধ পরবর্তী অবস্থায় মূল চরিত্রে একাকীত্ব, দেশান্তর আর নিজের সৃষ্টির মাঝে সার্থকতা অবশেষে খুঁজে পাওয়ার যে তৃপ্তি ছিল সেটা পাঠক হিসেবে তৃপ্তি দিয়েছে।

রান বয় রান গল্পটা প্রথম অংকে না বুঝলেও অনেক বছর বাদের ঘটনায় যখন আসলো বুঝে গেছিলাম কী হতে পারে। টাইম লুপের দারুণ এক গল্প ফেঁদেছেন লেখক।

করুণাধারা গল্পটা গড়পড়তা লেগেছে। কিছুটা ধীর গতির ছিল। তবে শেষের টুকু দারুণ ছিল।

সিনেস্থেশিয়া এই সংকলনের সবথেকে দারুণ গল্প। রঙ দেখার ক্ষমতা, ভালো মন্দের অনুভূতি আর মনোবিজ্ঞানের সাথে ৭১ এর ধ র্ষি ত নারীদের ভয়াবহ জীবন করুণভাবে ফুটিয়েছেন। যু দ্ধে র কথা যতোটা গর্ব ভরে স্মরণ করা হয় ঠিক ততোটাই অবজ্ঞাভরে থাকে ৭১ এর নির্যাতিত নারীরা। কেউ তাদের কথা বলে না। তারা রয়ে যায় আড়ালে।

লৌহশকট গল্পটা বেশ শক্ত ছিল। রুশ বিপ্ল বে র ঘটনা এবং বাস্তব চরিত্র লে নিনের উপস্থিতিতে বেশ হয়েছে। শেষটা ধারনা করা গেছিল।

নীলকান্তমণি গল্পটাও দারুণ লেগেছে। রহস্য, আর অদ্ভুত এক পরিবেশে ফিরে আসার অনিশ্চয়তার এক গল্প লিখেছেন লেখক। দারুণ ছিল।

❛নিস্তার মোল্লার মহাভারত❜ নিঃসন্দেহে উপভোগ্য একটি বই। যেখানে ভিন্ন গল্পের আড়ালে পৃথিবীকে নতুন এক ভাবে দেখা যায়। প্রতিটা গল্প ভাবায়। লেখকের শব্দের বুননে গল্পগুলো যেন ছোটাছুটি করে। আমাদের জীবন ও ভাবনার মাঝে যে ব্যবধান সেই ব্যবধানের মধ্য থেকে বের হয়ে আসে অনেক চিন্তা। লেখক তার লেখায় এই আখ্যানগুলো পাঠককে ধরিয়ে দেন ভাবতে সাহায্য করেন। দর্শন, চিন্তা, কল্পনা আর ইতিহাসের মিশেলে প্রতিটি গল্প নিয়ে যায় অন্য এক জাদুবাস্তবতার জগতে।

আমার মতে দীপেন ভট্টাচার্য বেশ আন্ডাররেটেড লেখক। তাঁর লেখাগুলো নিয়ে আরো আলোচনা হওয়া উচিত। ভিন্ন ধারার মনোভাবে পেতে লেখকের বই পড়ে দেখা যায়।
Profile Image for Mazharul Islam Fahim.
98 reviews7 followers
February 7, 2023

দীপেন ভট্টাচার্যের লেখার ব্যাপারে প্রথম জানতে পারি গুডরিডসের মাধ্যমে, যখন এখানকার বন্ধুতালিকায় যুক্ত থাকা একজন পাঠকবন্ধু (খুব সম্ভবত হারুন ভাই) একই লেখকের সাইফাই উপন্যাস 'দিতার ঘড়ি' নিয়ে একটি দারুণ পাঠ-প্রতিক্রিয়া লেখেন এবং পাঠ-প্রতিক্রিয়াটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগে যায়। সেই পাঠ-প্রতিক্রিয়াটি পড়া হয়েছিলো ২০২১ এর মাঝামাঝির দিকে কিন্তু সময় ও সুযোগের সমন্বয় না ঘটায় তাৎক্ষণিকভাবে বইটা সংগ্রহ করা হয়ে উঠেনি। বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও বইটি সম্পর্কে আমার বেশ ভালোভাবেই মনে ছিল। অবশেষে গত নভেম্বরে বইটা সংগ্রহ করার একটি দারুণ সুযোগ এসে যায়। বইটির সাথে প্রকাশনী থেকে দেয়া ক্যাটালগে লেখকের আরও একটি বই, 'নিস্তার মোল্লার মহাভারত'— সম্পর্কে জানতে পারি। খোঁজখবর নেয়া শুরু করলে কিছু চমৎকার এবং ইতিবাচক পাঠ-প্রতিক্রিয়া আমার নজরে আসে। আমার মনে হচ্ছিল, উপন্যাস পড়ার আগে লেখকের একটি গল্পগ্রন্থে বিভিন্ন স্বাদের গল্প যদি পড়ে নেয়া যায়, তাহলে মন্দ হয় না। ইন্টারনেটে প্রায় সবগুলো গল্পই দেওয়া ছিল। কিন্তু এভাবে পড়ে আসলে তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না। ফলে এই বইটা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিই। প্রকাশনীতে বইটা স্টক আউট ছিল, কিছু গতানুগতিক ফেসবুকভিত্তিক বুকশপও এর খোঁজ দিতে পারল না। বহু গরু খোঁজাখুঁজির পরে অবশেষে বাতিঘর-ঢাকায় বইটা পাই। পরে জানতে পেরেছিলাম এটাই শেষ কপি ছিল তাদের কাছে। ওঁদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। বই নিয়ে এই প্রথমবার এমন অভিযানের অভিজ্ঞতা হলো!

যে ধাঁচের বর্ণনাভঙ্গি আমার প্রচণ্ডরকম ভালো লাগে, সে ধাঁচে যদি চমৎকার আইডিয়া নির্ভর কিছু গল্প পড়া যায় তাহলে এর চেয়ে বেশি কিছু বোধহয় চাইবার থাকে না। দীপেন ভট্টাচার্যের লেখনী চমৎকার, প্লটগুলো চিন্তার খোরাক জোগায় এবং গল্পের শেষে পাঠকদের স্তম্ভিত করে দেয়ার সুযোগ রাখে। এই বই পড়ার সময় বারবার মনে পড়ছিলো শিবব্রত বর্মনের "বানিয়ালুলুর" কথা। প্রসঙ্গত, "বানিয়ালুলু" কল্পবিজ্ঞান গল্পসংকলন, যার কিছু গল্পে ফ্যান্টাসির ছোঁয়া আছে এবং বইটা পড়ে আমার কাছে অসাধারণ লেগেছিল। তবে কোনোমতেই দুটি বইকে এক পাল্লায় মাপা উচিত হবে না। দীপেন ভট্টাচার্যের লেখায় বিজ্ঞান, পুরান, কল্পনা, ইতিহাস ও দার্শনিকতার অনবদ্য সমন্বয় লক্ষণীয়।

এই গল্পগ্রন্থে সর্বসাকুল্যে গল্প আছে আটটি, যার ছ'টি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী এবং অপর দুটির একটি ঐতিহাসিক কাহিনী, অন্যটি গতানুগতিক। এর মাঝে সবচেয়ে ভালো লেগেছে 'অসিতোপল কিংবদন্তি', যার শুরুটা এরকম–

"আমি উদ্ভাবন করেছিলাম নির্ভেজাল উজ্জ্বল সাদা কাগজ তৈরি করার পদ্ধতি। সাদা কাগজ, তাতে কোনো দাগ নেই, পরিষ্কার। তার ওপর আপতিত সমস্ত ফোটনের শক্তি ক্ষণিক বিরতির পর প্রতিফলিত হয়ে পৌঁছায় দর্শকের রেটিনায়। সেই শক্তির সব রঙ মিলে মিশে মনে সৃষ্টি করে সাদা রঙের ধাঁধা। সেই সাদা কাগজের দি���ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে মনকে সাদা করা যায় - আমি তার নিশ্চয়তা দিতাম। প্রতিদিন, যে কোনো সময়, পাঁচ মিনিট সেই সাদা কাগজের দিকে তাকিয়ে থাকলে এক মাসের মধ্যে একটি কালিমামুক্ত মন, সমস্ত ধরণের আত্মসন্দেহ থেকে মুক্ত অস্তিত্বের সন্ধান পাওয়া যাবে। এই ছিল আমার অবস্থান। আমি বলতাম, মাটিতে জোড়াসনে বসে ধ্যানমগ্ন হয়েও সেরকম সাদা প্রান্তর কল্পনা করতে পারবে না, বন্ধ চোখের পেছনে মহাশূন্যের গভীর কালো ছাড়া আর কিছু দেখবে না, তাই ধ্যানের চেষ্টা বৃথা, বরং শ্বেত-শুভ্র কাগজের দর্শন কার্যকরি। তবে আমার নিশ্চয়তা তখনই ফলপ্রসূ হবে যখন সাদা কাগজটি চোখের দৃশ্যগোলককে পুরোপুরি ভরে থাকবে, অর্থাৎ সাদা ছাড়া আর কিছু দেখা যাবে না। অন্তত আমি সেরকমই ভাবতাম যতদিন না প্রথমবারের মত একটা নীল অসিতোপল মণি দেখলাম। তারপর থেকে অসিতোপল রঙ আমার মনকে অধিকার করে নিল। অথচ আমি ভেবেছিলাম আমার মন শান্ত সরোবর-পৃষ্ঠের মতন এবং একই সঙ্গে দুর্ভেদ্য। বহু বছরের সাধনায়, শ্বেত শুভ্র কাগজের সান্নিধ্যে, ভেবেছিলাম আমার মস্তিষ্কের সমস্ত নিউরনকে বশে আনতে পেরেছি। কিন্তু অসিতোপল মণি, যাকে আমরা নীলকান্তমণি বা নীলা বলেও চিনি, তার উজ্জ্বল নীল রঙ আমাকে বিচলিত করল। এরপর থেকে আমার প্রতিটি সচেতন ক্ষণ বিশুদ্ধ নীল রঙের প্রকৌশল সৃষ্টিতে নিয়োজিত হল।"



রঙ নিয়ে যে এমন চমৎকার সাইফাই গল্প লেখা যায় এমন ধারণা আমার ছিল না। কিংবা, মুগ্ধ হই বইটির নাম গল্প 'নিস্তার মোল্লার মহাভারত' পড়ে, যার ভূমিকায় লেখক লেখেন–

"যদি আপনি সময় ও ধৈর্য নিয়ে এই গল্পের পুরোটাই পড়েন, তাহলে জীবনে যে শত শত গল্প পড়েছেন এবং পড়বেন সেই তালিকায় এটি যুক্ত হবে মাত্র, এর চেয়ে বেশী কিছু নয়।"



এই গল্পের অবতারণা একটি রহস্যময় কক্ষকে ঘিরে, যে কক্ষ লিপিবদ্ধ করে রাখে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস এবং যে কক্ষে প্রবেশকারী যে কাউকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো আচ্ছন্ন করে রাখে। 'পৃথিবীর ছায়া' গল্পে বলা হয়েছে ময়মনসিংহের অমলের কথা, যে দেখা পায় রহস্যময় কয়েকজন মানুষের। 'রান বয় রান' গল্পের গল্পকথক নিজেই আটকা পড়েন টাইম ট্রাভেল লুপে। 'সিনেস্থেশিয়া' তে দেখা যায় ১৯৮০ এর মাঝামাঝি কোনো এক সময়, সাইকিয়াট্রিস্ট ড. আবদুল মতিনের কাছে হাজির হয় সাহানা নামক রহস্যময় এক নারী, যে কিনা শব্দের রঙ দেখতে পায়।

দীপেন ভট্টাচার্য এমন একজন লেখক, যার লেখা পড়লে এক ধরনের ঘোর লাগা মুগ্ধতা কাজ করে, যে লেখা জানান দেয় স্বকীয়তার এবং যা পড়ার সময় যেকোনো ধরনের পূর্বানুমান ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ভবিষ্যতে এ লেখকের আরও লেখা পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকব। আশা করি আগ্রহীরা অবশ্যই বইটি পড়ে দেখবেন।
179 reviews11 followers
June 3, 2023
৩১ মার্চ, ২০২৩
সেইন্ট লুইস, মিজৌরি


১। নিস্তার মোল্লার মহাভারতঃ এটা পড়লাম, এক বা দেড় বা দুই সপ্তাহের মতো আগে, কলম্বিয়ায়, মনে হয় কোনো এক শনি-রবি বার, আমেরিকায় আসার পর প্রথম কিছু পড়া (নন-অ্যাকাডেমিক)। এটা ভালো। এটাতে সেই ওয়ারম্থ, সেই ওম, যেটা আমার সিইইউ এর সময়কার ঢাকায় আটকে থাকার সময়ে আগের বইটা পড়ে পাইসিলাম, তার কিছুটা পেলাম, খুব বেশি না। গল্প খুব খারাপ না। যদিও খুব বেশি কিছু হয় না, কোনো টুইস্ট টাইপের কিছু নাই তেমন। কিন্তু জীবনের একটা ছবি আসে, আর সাইন্স-ফিকশন গল্পেও উনি যে যথেষ্ট সত্য একটা জীবনের ছবি আঁকার চেষ্টা করেন, এটা ভালো লাগে। আর ছবি ভালও হয়। আর এই ছবিটা পুরান ঢাকার, যেটাও ভালো লাগে। খারাপ না সব মিলায়ে। ওহ, আর নিস্তার মোল্লার মহাভারতের যেই কয়েকটা পাতা বা প্যারা পাওয়া যায়, আসলেই, কতো যে ভালো ওইগুলা!

২। পৃথিবীর ছায়াঃ এটা শুরু করসিলাম কলম্বিয়ায় আগেরটা পড়ার পরের দিন, কিন্তু তারপর আর পড়ার সময় হয় নাই বা সব মিলায়ে হয় নাই। শেষ পর্যন্ত শেষ হলো এই সেই দিন, সেইন্ট লুইস আর্ট মিউজিয়ামের সামনের আর্ট হিলে শুয়ে, খুবই সুন্দর একটা দিনে (যদিও তার সাথে একটু সমস্যা হচ্ছিল তখন, আমার পাশে শুয়ে ছিলো, কিন্তু বেশ অনেক দূরে ছিলাম এক জন আরেক জনের থেকে)। অন্য অনেকেও শুয়ে ছিল, পিকনিক করতেসিলো। বয়স্ক এক দুইজন আর্ট-হিল আপ-ডাউন করতেসিলো জগিং করতে করতে। কিছু ইয়াং ছেলেরা খালি গায়ে দৌড়াচ্ছিলো সামনের লেকের পাশ দিয়ে দিয়ে (চার জনের মতো খালি গা আর একজন টিশার্ট পড়া)।

এটাতে ঐ ওমটা একটু বেশি আসে।
আর এটা সেট করা ময়মনসিং -এ। শশী লজ ও আসে! আর ব্রম্মপুত্র নদ (তাই তো হওয়ার কথা না?)। আমার তো কম, কিন্তু আমার মার, বা নানুর, বা সবার-ই, বিশেষ করে নিভা খালাদের সবার - জন্য কতো বিশেষ।

আর এটাতে জীবনের ছবিটা আরও অনেক, অনেক বেশি ভিভিড আর ট্রু।

এটাতে একটু টুইস্ট আসে। আর সব মিলায়ে খুব খারাপ না।

৩। অসিতোপল কিংবদন্তীঃ এটা সবচেয়ে ভালো গল্পো! এতো, এতো ভালো!

এটার ভাষা, বর্ণনা, স্টাইল - এতো ভালো!

কিন্তু কন্টেন্টই সবচেয়ে ভালো! আমরা এক রকমের ধারণা করি, এক লেখকের রিচ সম্পর্কে, কিছু লেখা পড়ে (যদিও তার রিচ সম্পর্কে তো কিছুটা পজিটিভ ধারণা আমার থাকারই কথা আগের বইটার কয়েকটা গল্পের কারণে)। কিন্তু তার পর একটা গল্প পড়ে অবাক হয়ে যেতে হয় মাঝে মাঝে। এতো দূরে রিচ ছিলো এরকম তো মনে করি নাই! কিন্তু এরকম যখন হয়, এটা একটা স্পেশাল ব্যাপার!

রঙ নিয়ে কি আমি আগে কোনো গল্প পড়সিলাম কখনও? মনে পড়ে না। এটা রঙ নিয়ে লেখা সব গল্পের মধ্যেও সেরাদের মধ্যে থাকবে হয়তো।

কিন্তু আগের দুইটা গল্পের যেই জিনিসটা এতো ভালো লাগে না, পাঠকদের সাথে সরাসরি কথা বলা, এটা যে একেবারে শেষে আইসে এটাতেও করা লাগে, এইটাতেও (এইটাতেও!!!) এটা একটু ডিজাপয়েন্টিং। আগের গুলাতেও কতটা দরকার ছিলো? দরকার থাকলেও সবগুলায় করাটা ভালো লাগে না একদম।

আর...সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপারটা, আমার জন্যে... পরেরটায় বলি, যদিও এটার জন্যেই সবচেয়ে বেশি অ্যাপ্লিকেবল। ওহ, এটা আর এর পরেরটাও সেদিনই পরা, এটা আর্ট হিলে শুয়ে, আর পরেরটা মনে হয় (ওর) ঘরে ফিরে।

৪। রান বয় রানঃ এটাও খারাপ না। এটাতে টুইস্ট আসে, কিন্তু আগে থেকেই সবাই বুঝে এরকম। কিন্তু সমস্যা না। এটাতেও জীবনের একটা ছবি পাওয়া যায়। অল্প কথায়, কিন্তু খুব ছোটো পরিসরের ছবি এমন না। এটাতে, বিদেশে অনেক দিন থাকার পর দেশে এসে খুব ছোটো কারণে (কোনো কারণ ছাড়াই) মিনিংলেস, কিন্তু খুবই ভয়াবহ (আর সম্ভব) বিপদে পরাটা দুঃখ দেয়, পুরা জীবন-জগতের নিয়ম কে ঘিরে।

এটাতে পাঠকের সাথে কথা বলে না মনে হয়। এটা ভালো।

এখন, এটাতেও আসে একটা ব্যাপার, আগের গল্পে যেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তখন বলি নাই। এটাতে ঐ পিকচার টা আরেকটু কম হয়তো পাওয়া যায়, (গল্পের ইন্টারনাল নিডের জন্য অবশ্য এখানে অনেক অনেক বেশি গুরত্বপূর্ণ, আর শুধু প্লটের জন্য না, উপরে যে মহাজাগতিক আনফেয়ার নিয়ম ঘিরে যেই ইমোশনের কথা বললাম, সেটার জন্যেও), কিন্তু খুবই ভিভিড ভাবে পাওয়া যায়। ব্যাপারটা হচ্ছে বিদেশ এর জীবন। দেশ থেকে আসাদের চোখে দেখা, এক্সপেরিয়েন্স করা বিদেশের জীবন। (বিদেশ মানে ধনী আর ওপেন দেশ অথবা ইউরোপ-অ্যামেরিকার দেশ)।

এখানকার অমল (সব গল্পের ইয়ের নাম যে অমল, এটা খারাপ লাগে না, রিডারদের সাথে কথা বলার মতো), দৌড়ায় বিদেশে, সুন্দর পার্ক, লেক, আরট-হিল্, মিউজিয়াম এর মতো জায়গার পাশ দিয়ে...

অসিতোপলের অমল থাকে, পরে, (কেন যেন মনে হয় আমস্টারডামে) ছোটো অ্যাপারট্মেন্টে, ট্রামে যাওয়া-আসা করে, আর পরে, ট্রাম-স্টেশনের পাশে বড় ফুটপাথের আল-ফ্রেস্কো মতো ক্যাফে তে বসে থাকে ঐ ���সিতোপল নীল পড়া মেয়েটাকে দেখার জন্য...

আহ, কিরকম লস এটা যাদের শেষে ভিসা আর হয় না, শেষ পর্যন্ত? কিরকম লস, এগুলাকে একটু কাছ থেকে, অনেক সময়ের জন্য একটু বেঁচে না দেখা? এই ভাগ্য-হতদের চুড়ান্ত-রকমে কি বলে সান্ত্বনা দেওয়া উচিত? যে আসলে, এগুলার থেকে অনেক, অনেক, ইম্পরট্যান্ট জিনিস হলো লাইফ-ইটসেলফ, একই মহাকাশের নিচে বাংলাদেশে আরে এখানে? একই মহাকাশের নিচে, একি হিউম্যান এক্সপেরিয়েন্সের একেকটা ইউনিক কনফিগারেশন (যে, অবশ্যই দেশের অনেক অনেক কনফিগারেশন এখানকার অনেক অনেক বা দেশ-আর এখানকার একাকার এক্সপেরিয়েন্সের কনফিগারেশনের থেকে অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং (গুরুত্বের কথা না হয় বাদই দিলাম) ?) - আর ইন্টারেস্টিং এর মতো জিনিস গুলার থেকেও যে লাইফ-ইটসেলফ মহাকাশের নিচে আসলেই কতো গুরুত্বপূর্ণ। এই সত্যগুলাই বলে হয়তো।


১৮ মে, ২০২৩
কলম্বিয়া, মিজৌরি

শেষ পর্যন্ত শেষ করলাম। গতকাল।

এটা বলা হয় নাই আগে, এটা এতো দিন একটা অশেষ হিসেবে ছিলোঃ আমস্টারডামের কথা লিখসিলাম তখন, তার একটা কারণ, আমি কিছু দিন থেকে তখন আমার অ্যান ফ্র্যাঙ্ক এর বাসার সামনের সেই মজার লোকটার (৩৭ বছর ধরে ওখানে ছিলো মনে হয়) দোকান থেকে কেনা আমস্টারডাম লেখা সোয়েটশার্টটা পরে ছিলাম।

যাইহোক।

আমি মনে হয় তখন সেন্ট লুইস থেকে আসচিলাম ১ এপ্রিল, ২০২৩ শনিবার। সেদিনই খুব সম্ভবত করুনাধারা পড়সিলাম। আর তার পরের দিন রবিবার সিনেস্থেশিয়া। তখনই এটা নিয়ে লিখবো এরকম একটা বোধ ছিলো। তার পর কয়েক দিন পরেও মনে হতো এখনও লেখা হবে, বেশি সময় যায় নাই। আর তার পর সময় আর ছিলো না। অনেক দিন। এখন ভালো করে মনেও নাই। একটু দেখে নিয়ে লিখতে হবে এখন।

৫। করুণাধারাঃ মনে হয় ভালোই লাগসিলো। এখন আবার একটু চোখ বুলায়ে নিলাম। খুবই ভালো এমন না।

৬। সিনেস্থেশিয়াঃ এটা আগেরটার থেকে অনেক ভালো লেগে থাকার কথা। এটা ২-৩ দিন আগে যখন শেষ দুইটা গল্প পড়লাম, তার আগে একটু দেখে নিসিলাম আবার চোখ বুলায়ে। ভালো। ভালোই।

সব গল্পেই মুক্তিযুদ্ধ একটা গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করে। এটা হয়তো একঘেয়ে লাগতে পারে একটু। আবার অন্য দিকে, যারা দেখে নাই আর যারা দেখসে, আর যারা মুসলমান হিসেবে দেখসে আর যারা হিন্দু হিসেবে দেখসে তাদের জন্য অনেক অন্যরকম, অনেক গভীর, হওয়ারই কথা। এমন ভাবলে খারাপ লাগা এতো থাকে না। কিন্তু গল্পের ফ্যাব্রিকে আরেকটু ভালো ভাবে কানেক্টেড হলে খারাপ লাগে না তেমন এমনিতে, এটাতে যেমন ছিলো।


শেষের দুইটা পড়লাম গত ২ দিনে - ১৬ আর ১৭ মে তে, মনে হয়।

৭। লৌহশকটঃ লেনিন আর ত্রতস্কিকে নিয়ে বলশেভিক বিপ্লব আর তার ফলাফল (একরকম), নিয়ে গল্প। একটু নাটকের মত করে গল্প - সংলাপ প্রধান। যেটা ভালো লাগে। আর এটা পড়তে পড়তে এরকম মনে হয় মাঝে মাঝে যে উনার স্কিল, গল্পকার হিসেবে, অ্যামেচারদের মতো তো না। কেন এরকম ধারণা হইসিলো যে অ্যামেচারসুলভ হবে? যদিও মাঝে মাঝে মনে হয়, এটা পড়ার সময়, আরও ভালো হতে পারতো। অবশ্য এর কিছুটা মনে হয় এডিটিং এর জন্যে হয়ে থাকবে।

তবে গল্পের শুরুর ভুমিকায় এরকম নিজের কথা, অ্যাপলজিজ (অথবা যদি অন্য কিছুও থাকতো), খুব বেশি ভালো লাগে না।

এক্সপ্লেনেশন (রাশান নামের নিয়মের প্রসঙ্গে) হয়তো অনেকের জন্য হেল্পফুল। কিন্তু হয়তো অন্য ভাবে (প্রথমে ব্র্যাকেটে বা ইটালিকে) হলে হয়তো আরেকটু ভালো হইতো। এর সাথে কানেক্টেড একটা জিনিস, আরও গুরুত্বপূর্ণ যেইটা - সেটা হলো গল্পের মধ্যেও প্রায়ই একটু এক্সপ্লেনশনের টেন্ডেন্সি টা। এরকম যদি হয়ও বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে সবই অনেক নতুন, আর তাদের ফলো করা কষ্ট হবে, কিন্তু গল্পকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। অন্যদের যত সমস্যাই হোক না কেন। আর্ট। অবশ্য, যদি মানুষের জন্য অ্যাক্টিভিস্ট/কমিউনিস্ট ফিলোসফির গল্প হয় তাহলে তো আলাদা কথা হবে, হাহাহা। ওইরকম ছিলো বলেও মনে হয় না তো, যেটা ভালো। আর আসলে হয়তো এতো সমস্যা হতোও না, এই ইন্টেরনেটের সময়। পড়ে একটু পরে সার্চ করে নিলেই হয় একরকম।

এসব ছাড়া, এটা বেশ ভালো। অনেক তথ্যই জানলাম। আর তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ, পারস্পেক্টিভ গুলা, এগুলাও ভালো, রিওয়ারডিং।


৮। নীলকান্তমণিঃ ওহ, এটা এতো ভালো! এতো ভালো! এটার জন্যেই বইটাকে ৫-স্টার দিলাম।

এটাতে একবারও অ্যামেচার টাইপের কিছু মনে হবে না। বরং, খুউউবইই উচু মানের লেখক ই মনে হবে। এতো টাইট আর ফাস্ট পেসড! খুবই ভালো লাগে।

টুইস্টটা! এতো ভালো!!!

মানুষ গুলা!!! এতো ভালো, এতো রিয়েল! এতো ভালো!

সম্পর্ক গুলাও, সমাজ, এসবই অনেক ভালো।

এটাই মনে হয় একমাত্র (আগের রাশানটা, আর সেই অসাধারণ অসিতোপল রঙ ছাড়া) যেটাতে মুক্তিযুদ্ধ নাই। তাহলে মুক্তযুদ্ধের অভাবের সাথে কি ভাল হওয়া কোরিলেটেড? হলেও, কোরিলেশন তো কজেশন না।

কিন্তু এটা এতো ভালো!

শুধু হয়তো ফিলসফির পুশিংটা, শেষে, টূইস্টেরও পর, একদম শেষে, একটু অভিয়াস ছিলো। যদি আরকেটু সাটল হতো, এটা একটা পারফেক্ট গল্প হতো বোধ হয়।

কিন্তু তারপরও শেষটা একটা পবিত্র অনুভূতি তৈরি করে। সত্যিকারের। এতো ভালো। ভালো লাগার মতো।





Profile Image for Habib Rahman.
77 reviews1 follower
January 14, 2025
নিস্তার মোল্লার মহাভারত আটটি ছোট গল্পের সংকলন। প্রায় প্রতিটি গল্পেই সাই-ফাইয়ের ছোঁয়া রয়েছে। গল্পগুলো নিয়ে স্পয়লারহীন সংক্ষেপে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। সে চেষ্টাই সফল নাকি ব্যর্থ নিজেই যাচাই করুন।

নিস্তার মোল্লার মহাভারতঃ
একটি বাড়িতে তিনটি রুম। একটি রুম সবসময় তালাবদ্ধ। তালাবদ্ধ করে রাখবার মত দামী কিছু নেই অবশ্য সে ঘরে, কয়েকটি আয়না ছাড়া। বাড়ির কর্তা দিনে প্রবেশ করেন সেই আয়নাঘরে, লিখে চলেন পৃথিবীর গল্প। আয়নাঘরে যা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে হয় আয়নাঘর বিনে তা হয়ে যায় অর্থহীন। মনে দ্বিধা জাগে, এসবই তবে কি ভ্রম ছিল?

পৃথিবীর ছায়াঃ
আচ্ছা এলিয়েন বলতে কী বোঝেন? ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান কোনো প্রাণী কিংবা চেনা কিছুর বাইরে অচেনা কিছু। আমাদের খুব কাছের কেউ যখন অচেনা হয়ে যায় একটা সময় তখন তাকেও কি এলিয়েন বলে মনে হয় না? পৃথিবীর ছায়া তেমনি আপনজনের অচেনা হয়ে ওঠার গল্প

অসিতোপল কিংবদন্তীঃ
সাদা রঙ পবিত্রতার প্রতীক। নির্ভেজাল, বিশুদ্ধ, প্রশান্তিকর কিছু রঙের মাধ্যমে প্রকাশ করতে গেলেই সাদা রঙ অন্তরে ভাসে।
দীঘির টলটলে নীলাভ জলে একটানা তাকিয়ে থাকলে কেমন একটা মোহে যেন আবদ্ধ হয়ে পড়ি। শান্ত রঙিন নীল জল যে সহসাই রুদ্র মূর্তি ধারণ করে সব ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে সে সম্ভাবনা রয়েছে ভেবে মন কি একটুখানি শংকায় ভোগে, অশান্তি তৈরি হয়?

অসিতোপল কিংবদন্তী গল্পে সেই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে।

রান বয় রানঃ
রান বয় রান গল্পটা টাইম লুপের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সময় সবসময় সরলরেখায় চলে। ক্ষণে ক্ষণে বর্তমান পরিণত হচ্ছে অতীতে। এগিয়ে যাচ্ছি অজানা, শংকাময় ভবিষ্যৎ পানে । মাঝে মাঝে সময় কি পারে সরলরেখাকে বাঁকিয়ে বৃত্তে পরিণত হতে?

করুণাধারাঃ
ঈশ্বর মহাদয়ালু, অসীম করুণাময়। আচ্ছা ঈশ্বর যদি কখনো করুণা করতে ভুলে যান, স্বার্থপর হয়ে পড়েন, তখন?

সিনেস্থেশিয়াঃ
আমি শব্দের সঙ্গে রঙ দেখতে পাই। কি অদ্ভুত কথা! রঙ জড়িত আমাদের দৃষ্টি ইন্দ্রিয়ের সাথে, শব্দ শ্রবণেন্দ্রিয়। কর্ণ-চক্ষুর এ ভেদাভেদ ছেদ কীভাবে হতে পারে জানা আছে কি?


লৌহশকটঃ
লৌহশকট,একটি চিঠি, একটি আহবান। ম্যাট্রিক্স সিনেমার সেই লাল আর নীল ট্যাবলেটের মত। বিপ্লব নাকি ভালোবাসা? পৃথিবী বদলে ফেলার স্বপ্ন নাকি আরাম আয়েশের জীবন? কোনটা বেছে নেয়া উচিত? উচিত না অনুচিত সেটা বোঝার উপায়ইবা কী? জানা নেই


নীলকান্তমণিঃ
পুনর্জন্মবাদে বলা আছে আত্মার মৃত্যু নেই। মানুষের আত্মা অবিনশ্বর। মৃত্যুর পরে পাপ-পুণ্যের উপর নির্ভর করে আত্মার পুন আবির্ভাব ঘটে। আচ্ছা পিতার মৃত্যুর পরে যদি নাতির মধ্যে সে আত্মার পুন আবির্ভাব ঘটে তখন? সব ভজকট পাকিয়ে যাবে না?


দীপেন ভট্টাচার্যের দু'টি বই পড়া হয়েছেঃ দিতার ঘড়ি, অভিজিৎ নক্ষত্রের আলো। এ বইটি পড়ার আগে তাই ধারণা ছিল কীসের সম্মুখীন হতে চলেছি। লেখকের সুলেখনীর জোরে কাগজের পাতায় কালো হরফকে জীবন্ত হতে দেখার অভিজ্ঞতা সবসময়ই আমার কাছে লেখকের বই পড়বার প্রিয় দিক। তার সাথে এ বইয়ে সাই-ফাই, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ইতিহাসের মিশেল গল্পগুলোকে দিয়েছে আলাদা এক মাত্রা। বইটি শেষ করে আমি মুগ্ধ, বিমোহিত, ভাষাহীন। আশা করি এ রিভিউটা পড়বার পরে আপনি কোনো এক সময় এ বইটি পড়বেন এবং বইটি পড়ে আমি যে আনন্দ পেয়েছি আপনিও তার অংশীদার হবেন।

হ্যাপি রিডিং।

নিস্তার মোল্লার মহাভারত
দীপেন ভট্টাচার্য
দ্যু প্রকাশন
Profile Image for Jahangir Alam.
115 reviews8 followers
November 7, 2023
আমার দীপেন ভট্টাচার্যের পড়া প্রথম কোনো বই। লেখকের সময় নিয়ে খেলার অভ্যাস আছে। গতকালকের এই আমি, আর আজকের আমি কখনোই এক নাহ।

বইটিতে মোট ৮ টি গল্প আছে : ২টি গল্প বাদে বাকিগুলো মোটামুটি ২০ পেইজের কাছাকাছি (একেবারেই ছোটোগল্প বলা যায় নাহ) আর দুটি গল্প ৩০ পৃষ্ঠার আশেপাশে। আমি আমার সবচেয়ে বেশি ভালোলাগা ৫ টি গল্পের সারসংক্ষেপ লিখছি -

"রান বয়, রান" গল্পটিতে লেখক সময়ের ঘুরে আবারো ফিরে আসার বিষয়টাকে হাইলাইট করেছেন। বালক বয়সে বালক হিসেবে তিনি যা ফেস করেছিলেন, ৪৪ বছর পর একই ঘটনা একজন বৃদ্ধ হিসেবে তিনিই আবার করেন : একই জায়গায়, দিনের একই সময়ে। This made me remember nietzsche’s most famous quote, “Time is a flat circle - whatever we do, we do over and over again, forever.”

"নিস্তার মোল্লার মহাভারত" গল্পটি বইয়ের নামগল্প। ইতিহাসের অনেক কিছুই রক্ষণাবেক্ষণ আর প্রকৃত পটভূমির অভাবে হারিয়ে গেছে, যাকে রূপক অর্থে দেখানো হয় গল্পে।

“লৌহশকট" গল্পে লেনিন আর ত্রতস্কির কল্পিত আলাপে তাদের ব্যর্থতা আর রাশিয়ার কমিউনিস্ট কালে স্তালিনের অরাজকতার গোপণ ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়েছে।

মৃত্যুর পর মৃতেরা কোথায় যায়? কেন আমরা কারো মৃত্যুর পরেও রিচুয়াল পালন করি - এসব রিচুয়াল কি মৃতের কাছে পৌছায়? - বইয়ের শেষ গল্প "নীলকান্তমণি" তে প্রশ্নটি করে সুনন্দ, তীর্থংকরকে।

“করুণাধারা" আমাকে শেখায়, করুণা আর স্বার্থপরতা কখনো একসাথে থাকতে পারে নাহ।

বি.দ্র: লেখকের গল্পের প্লট অনেক গল্পেই মুক্তিযুদ্ধ, কিংবা তার আশেপাশের সময়কাল। হিন্দুদের কিংবা নারীদের উপর মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নির্যাতনের কথা বারবার উঠে এসেছে গল্পগুলোয়। গল্পের ভাষার চাইতে গল্পগুলোর "Inner Meaning” বেশি সুন্দর। হালকা কোনো লেখা পড়তে চাইলে এই বই নাহ নিলেই ভালো করবেন, নাহয় বোরিং লাগতে পারে।
Displaying 1 - 30 of 34 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.