What do you think?
Rate this book


168 pages, Paperback
First published January 1, 2019
যদি আপনি সময় ও ধৈর্য নিয়ে এই গল্পের পুরোটাই পড়েন, তাহলে জীবনে যে শত শত গল্প পড়েছেন এবং পড়বেন সেই তালিকায় এটি যুক্ত হবে মাত্র, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।
"আমি উদ্ভাবন করেছিলাম নির্ভেজাল উজ্জ্বল সাদা কাগজ তৈরি করার পদ্ধতি। সাদা কাগজ, তাতে কোনো দাগ নেই, পরিষ্কার। তার ওপর আপতিত সমস্ত ফোটনের শক্তি ক্ষণিক বিরতির পর প্রতিফলিত হয়ে পৌঁছায় দর্শকের রেটিনায়। সেই শক্তির সব রঙ মিলে মিশে মনে সৃষ্টি করে সাদা রঙের ধাঁধা। সেই সাদা কাগজের দি���ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে মনকে সাদা করা যায় - আমি তার নিশ্চয়তা দিতাম। প্রতিদিন, যে কোনো সময়, পাঁচ মিনিট সেই সাদা কাগজের দিকে তাকিয়ে থাকলে এক মাসের মধ্যে একটি কালিমামুক্ত মন, সমস্ত ধরণের আত্মসন্দেহ থেকে মুক্ত অস্তিত্বের সন্ধান পাওয়া যাবে। এই ছিল আমার অবস্থান। আমি বলতাম, মাটিতে জোড়াসনে বসে ধ্যানমগ্ন হয়েও সেরকম সাদা প্রান্তর কল্পনা করতে পারবে না, বন্ধ চোখের পেছনে মহাশূন্যের গভীর কালো ছাড়া আর কিছু দেখবে না, তাই ধ্যানের চেষ্টা বৃথা, বরং শ্বেত-শুভ্র কাগজের দর্শন কার্যকরি। তবে আমার নিশ্চয়তা তখনই ফলপ্রসূ হবে যখন সাদা কাগজটি চোখের দৃশ্যগোলককে পুরোপুরি ভরে থাকবে, অর্থাৎ সাদা ছাড়া আর কিছু দেখা যাবে না। অন্তত আমি সেরকমই ভাবতাম যতদিন না প্রথমবারের মত একটা নীল অসিতোপল মণি দেখলাম। তারপর থেকে অসিতোপল রঙ আমার মনকে অধিকার করে নিল। অথচ আমি ভেবেছিলাম আমার মন শান্ত সরোবর-পৃষ্ঠের মতন এবং একই সঙ্গে দুর্ভেদ্য। বহু বছরের সাধনায়, শ্বেত শুভ্র কাগজের সান্নিধ্যে, ভেবেছিলাম আমার মস্তিষ্কের সমস্ত নিউরনকে বশে আনতে পেরেছি। কিন্তু অসিতোপল মণি, যাকে আমরা নীলকান্তমণি বা নীলা বলেও চিনি, তার উজ্জ্বল নীল রঙ আমাকে বিচলিত করল। এরপর থেকে আমার প্রতিটি সচেতন ক্ষণ বিশুদ্ধ নীল রঙের প্রকৌশল সৃষ্টিতে নিয়োজিত হল।"
"যদি আপনি সময় ও ধৈর্য নিয়ে এই গল্পের পুরোটাই পড়েন, তাহলে জীবনে যে শত শত গল্প পড়েছেন এবং পড়বেন সেই তালিকায় এটি যুক্ত হবে মাত্র, এর চেয়ে বেশী কিছু নয়।"