বিশ্বাসের কথা কতটা শক্ত করে বলা যায়? বিশ্বাসী প্রানের সুর কতটা অনুপম হতে পারে? বিশ্বাসকে যুক্তির দাঁড়িপাল্লায় মাপা কি খুব সহজ? অবিশ্বাসীকে কতটা মায়াভিরা স্পর্শে বিশ্বাসের শীতল পরশ দেয়া যায়? যুক্তিই মুক্তি নাকি বিশ্বাসের যুক্তিতে মুক্তি? এসবের উত্তর মিলতে পারে।
আরিফ আজাদ একজন জীবন্ত আলোকবর্তিকা - লেখক আরিফ আজাদকে বর্ণনা করতে গিয়ে একথাই বলেছেন ডঃ শামসুল আরেফিন। গার্ডিয়ান প্রকাশনী আরিফ আজাদের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছে, “তিনি বিশ্বাস নিয়ে লেখেন, অবিশ্বাসের আয়না চূর্ণবিচুর্ণ করেন।” আরিফ আজাদ এর বই মানেই একুশে বইমেলায় বেস্ট সেলার, এতটাই জনপ্রিয় এ লেখক। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে সবচেয়ে আলোড়ন তোলা লেখকদের একজন আরিফ আজাদ।
১৯৯০ সালের ৭ই জানুয়ারি চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া এ লেখক মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে চট্টগ্রাম জিলা স্কুলে। একটি সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।
লেখালেখির ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আরিফ আজাদ এর বই সমূহ পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তার প্রথম বই ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশ পায়। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সাজিদ বিভিন্ন কথোপকথনের মধ্যে তার নাস্তিক বন্ধুর অবিশ্বাসকে বিজ্ঞানসম্মত নানা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে খণ্ডন করে। আর এসব কথোপকথনের মধ্য দিয়েই বইটিতে অবিশ্বাসীদের অনেক যুক্তি খণ্ডন করেছেন লেখক। বইটি প্রকাশের পরপরই তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এটি ইংরেজি ও অসমীয়া ভাষায় অনূদিতও হয়েছে। ২০১৯ সালের একুশে বইমেলায় ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ - ২’ প্রকাশিত হয়ে এবং এটিও বেস্টসেলারে পরিণত হয়। সাজিদ সিরিজ ছাড়াও আরিফ আজাদ এর বই সমগ্রতে আছে ‘আরজ আলী সমীপে’ এবং ‘সত্যকথন’ (সহলেখক) এর মতো তুমুল জনপ্রিয় বই।
এমনকি ১ম বইটার চেয়েও এই বইটার শব্দচয়ন, আলোচনার টপিক, যুক্তি-পাল্টা যুক্তি, বিভিন্ন বিষয়ের উদ্ধৃতি সমূহ ইত্যাদি বেশ পক্ব ছিলো।
বইটা পড়তে পড়তে ডা. শামসুল আরেফীন ভাইয়ের “ডাবল স্ট্যান্ডার্ড” বইয়ের কথা মনে আসছিলো।
এবার সাজিদ স্রেফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে আটকে নেই, এবার তার আলোচনায় যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ধারার মানুষ।
(এখানে আমার একান্তই নিজস্ব একটা মতামত জুড়ে দিচ্ছি, তা হল, ডা. জাকির নায়েক এই উপমহাদেশে যে ধারার প্রবর্তন করেছিলেন, এতদিনে এসে তা আরও বেশী করে বাস্তবায়িত হচ্ছে। জানিনা, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এর অগ্রযাত্রা কীরূপ! কিন্তু বাংলাদেশে মাশাল্লাহ, শ্রদ্ধেয় অনেক বড় ভাইয়েরা এই কাজটা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।)
এই সমস্ত বইয়ে যে শুধু ইসলাম বিদ্বেষী বা অমুসলিমদেরই ইসলাম সম্বন্ধে বিভিন্ন প্রশ্নের, অপবাদের জবাব দেওয়া থাকে এমনটা নয়, এমনকি একজন মুসলিম পরিবারের সন্তান হয়েও আমার নিজেরও অনেক প্রশ্ন ছিলো ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে, আলহামদুলিল্লাহ, আমি সেসবের জবাব পেয়েছি।
সাজিদ ১ তেমন ভাল না লাগায় এই বই পড়ার প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না। হার্কডপিটা কালেকশনে থাকার কারণেই পড়া। শুরুতেই বলবো লেখার মানের খুব অবনতি ঘটেছে। সাজিদ ১ এর লেখার মান এটার থেকে ভাল ছিল। ১৬টি টপিককে টেনে নিয়ে একটু বিশাল করার চেষ্টা করা হয়েছে বোধহয়। সস্তা সংলাপের পুনরাবৃত্তির কারণে বিরক্তও হয়ে গেছিলাম! :/ (বইয়ের আরিফ চরিত্রটাকে চরম লেভেলের বাঁচাল মনে হয়েছে, সে-ই আমাকে বিরক্ত বানিয়ে ফেলছিল ¬_¬ )
দু'একটা টপিকের সত্যতা নিয়ে সম্ভবত বিতর্ক আছে। সবমিলিয়ে মন্দও লাগে নি, ভালোও লাগে নি। It was okay টাইপ অবস্থা।
প্রথম পার্ট এর মতো এটিও একটি ভালো বইয়ের তালিকাতে ফেলা যায়। এই বইটির যুক্তি গুলো ভালো। লেখক এখানে গল্পের ছলে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের ভুল চিন্তা গুলো ভাঙানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এই পার্ট এ গল্পের অংশ খুব একটা ভালো সাহিত্য মানের মনে হয় নাই। খুব লেইম কিছু ডায়ালগ আছে যেটি আমি আশা করি নাই। যুক্তি গুলো প্রথম বইয়ের মতোই শক্তি শালী কিন্তু লেখার মান প্রথম বই থেকে পড়তির দিকে। ডারউইনিজম গল্পটিতে কার্ল মার্কসকে দেয়া তথ্য নিয়ে কিছুটা দ্বিমত আছে। কারণ Das Capital ডারউইন কে Dedicate করা নিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্যও আছে। আর কার্ল মার্কস এর থিওরি ডারউইন এর বিবর্তন বাদ থেকে উৎসাহিত হয়ে নাস্তিকতা কে প্রমোট করতে করা অথবা গডলেস পৃথিবী করার জন্য তৈরি এই বক্তব্য টি একটু বেশি গ্ৰস। আর একটি গল্পে আরবি ভাষার প্রশংসা করতে গিয়ে এমনভাবে করা হয়েছে যেন আরবিই একমাত্র জেন্ডার ভিত্তিক ভাষা (He এবং She এর প্রকট উপস্থিতি)। কিন্তু এর বাইরে আরো অনেক এই ধরনের ভাষা আছে। নিউটনের ঈশ্বর নিয়ে ধারনার গল্পটি ভালো ছিল কারণ অনেকের কাছে বিজ্ঞানী নিউটন এর এই দিকটি অনুন্মোচিত। তবে আমি প্রথম পার্ট পড়ার পরেও বলেছি যারা ইতিহাস, যুক্তি ভিত্তিক, ধর্ম নিয়ে পড়ালেখা করেন তাদের কাছে এই বইটি একটু বেশি সূচনামূলক মনে হবে। কিন্তু যারা এই দিকটায় নতুন পড়ছেন তাদের জন্য প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-১ এবং -২ একটি ভালো শুরু।
This entire review has been hidden because of spoilers.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাজিদ। সবকিছুকেই যুক্তি এবং বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখা করতে ভালোবাসে। একসময় নিজে অবিশ্বাসী ছিল৷ বন্ধুর সংস্পর্শে এসে আলোর পথ খুঁজে পেয়েছে। প্রচুর পড়ালেখা করে সে, গুছিয়ে চিন্তা করে, একজন সুবক্তাও। সহপাঠী এবং আশেপাশের আরো অনেকের ধর্ম নিয়ে যে সংশয় তার সদুত্তর দেয় সাজিদ। এই বইয়ে সাজিদ উত্তর দিয়েছে কুরআনের আয়াত নিয়ে সংশয়বাদীদের অপব্যাখার, বিজ্ঞানের বিভিন্ন তত্ত্বের সাথে ইসলামের সম্পর্কের এবং আরো অনেক কিছুর।
প্যারাডক্সিকাল সাজিদের প্রথম পর্বের ধারাবাহিকতায় প্রকাশ পেলো দ্বিতীয় পর্বটি আরো কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়ে।
পাঠপ্রতিক্রিয়া: এবারের বইমেলায় ফেসবুকের জনপ্রিয় ব্যক্তিদের লেখা বইয়ের বেশ জয়জয়কার। কেউ কেউ স্ট্যাটাস সমগ্র প্রকাশ করেছেন। রাবা খানও একটি বই লিখেছেন দেখছি। তা লিখতেই পারেন। কলম সবার জন্যে। কিন্তু ফেসবুকের বাংলিশ যখন বইয়ের পাতায় নেমে আসে, তা বড্ড অরুচিকর লাগে।
পড়ছিলাম প্যারাডক্সিকাল সাজিদ - ২। লেখকের পরিবেশনা ভালো, পাঠককে ধরে রাখার মত। কিন্তু বই লিখছেন যখন, ভাষার দিকে আরেকটু মনোযোগ দিতেই পারেন। সিচুয়েশন, সেইম ডিপার্টমেন্ট, পলিটিশিয়ান - শব্দগুলোর প্রচলিত বাংলা রয়েছে। মুখে মুখে আমরা হয়তো ডিজুস থেকে কোকাকোলা ভাষায় পৌঁছে যাচ্ছি। কিন্তু বইয়ের পাতায় ভাষার আভিজাত্য বজায় রাখলে পড়তে ভালো লাগে।
প্রথম পর্বের তুলনায় দ্বিতীয় পর্বের লেখা গুছানো মনে হয়েছে। ইংরেজি উদ্ধৃতিগুলোর বাংলা অনুবাদ ব্যবহার করতে পারতেন, যেহেতু বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে সহজ ভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা মূল উদ্দেশ্য। আবার একই সাথে, ধর্মগ্রন্থের অনেক শব্দকে আরবি থেকে বাংলায় সরলীকরণ করা বেশ বিভ্রান্তিকর। ধারণা করছি লেখক এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের দ্বারস্থ হয়ে নিশ্চিত হয়েই লিখছেন।
প্যারাডক্সিকাল সাজিদ - ১ প্রকাশ হওয়ার পর এর প্রত্যুত্তরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে অনেক লেখালেখি হয়েছে। আমার বিশ্বাস ছিল সেগুলো খন্ডানোর জন্য লেখক একটা অধ্যায় যোগ করবেন দ্বিতীয় পর্বে। না থাকায় হতাশ হয়েছি। পরবর্তীকালে প্যারাডক্সিকাল সাজিদ ১ ও ২ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কগুলো নিয়ে লেখক লেখবেন নিশ্চয়ই। এমন স্পর্শকাতর বিষয়ের ক্ষেত্রে সমালোচনার উত্তর দেওয়াটাও জরুরি।
সব মিলিয়ে প্যারাডক্সিকাল সাজিদ ও তার লেখকের প্রতি শুভকামনা। এই ধারায় লেখালেখি করার ফলাফল কি হতে পারে তা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার বেশ সংশয় আছে। আপনি যখন কাউকে আক্রমণ করবেন তখন পালটা আক্রমনের প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামা উচিত। সব প্রতিক্রিয়া যে শালীন হবে তাও নয়, তার প্রমাণ কিছুদিন যাবত দেখছি। আল্লাহ, ইসলাম ও নবী মুহম্মদ (সা) নিয়ে নানারকম অসম্মানসূচক উক্তিতে ফেসবুক ছেয়ে গেছে, যেটায় এর আগে বেশ ভাটা পড়েছিল। সাজিদের কারনে যে ঝড় ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে, তা সামলানোর মত প্রস্তুতি আরিফ আজাদ ও তার পৃষ্ঠপোষকদের আছে বলেই আশা রাখছি।
One of the best book answering the question of atheist and Christians in the light of Quran. It also shows the miracles and science in The Quran and the corruption of Bible.
বই ভালো লেগেছে কিন্তু একটা জিনিস খুবই অবাস্তব। বাস্তবের নাস্তিকগুলা এতটা ভদ্রলোক হয় না। যুক্তির কথা শুরু হলেই এরা সেখানে গোলযোগ পাকিয়ে কেটে পড়া এদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট। সেখানে এই বইতে তাদের অতি সুন্দর শ্রোটা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বই - প্যারাডক্সিকাল সাজিদ - ২ লেখক - আরিফ আজাদ মুদ্রিত মূল্য - ৩৬৯৳
ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বর্তমান সময়ে মানুষের চিন্তা-চেতনা আর আদর্শ সর্বত্র পৌঁছে যাচ্ছে খুব সহজেই। প্রযুক্তির এই ধারা কাজে লাগিয়ে ধর্মবিদ্বেষী একদল মানুষ ইসলাম, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা এবং নবীজী মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে এমন সব কথা ছড়াতে থাকে, যা মুখ বুজে সহ্য করা যেকোনো ঈমানদার ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত কঠিন। অসচেতন মুসলিম তরুণদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে তাদের ধর্মবিমুখ করার লক্ষ্যে তারা আপ্রাণ কাজ করে যাচ্ছে, আর সফলও হতে পেরেছে অনেকটাই। কলমের জবাব কলমে আর যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়েই দিতে লেখক আরিফ আজাদ নিয়ে এসেছেন সাজিদ চরিত্রটি। পৌঁছাতে চেয়েছেন তাদের কাছে, যাদের খুব বেশি জানাশোনা নেই ধর্ম সম্পর্কে; কিন্তু ধর্মবিদ্বেষীদের ছড়ানো প্রোপাগাণ্ডায় নিজের বিশ্বাস নিয়ে হয়ে পরেছে সন্দিহান।
এই বইতে আছে নাস্তিকদের প্রশ্নের জবাব, আছে খ্রিস্টান মিশনারিদের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবও। এর পাশাপাশি স্থান পেয়েছে কুরআনের অলৌকিক কিছু ব্যাপার, ভাষাতাত্ত্বিক মিরাকল, যা মানুষকে সত্যিই বিস্মিত করবে; কুরআনের প্রতি সৃষ্টি করবে গভীর ভালোবাসা।
'বনু কুরাইজা হত্যাকাণ্ড - ঘটনার পেছনের ঘটনা' - চ্যাপ্টারটিতে দেখা যায় নাস্তিকরা কিভাবে এই হত্যকান্ডকে অমানবিক আখ্যায়িত করে নবীজী মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর মানবতাবিরোধী অপরাধের দোষ চাপায়, যেখানে সাজিদ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, তাদের শাস্তি আসলে তাদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল অনুযায়ীই হয়েছে, বেড়িয়ে আসে আসল ঘটনা। বিপরীতে, নাস্তিকতার মূল ভিত্তি ডারউইনবাদ যে বস্তুবাদীদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বড় হত্যাযজ্ঞগুলো চালাতে উদ্বুদ্ধ করেছে, সেটা উঠে এসেছে 'গল্পে জল্পে ডারউইনিজম' অধ্যায়ে।
ইসলামে অমুসলিমদের অধিকার এবং নারীদের সম্মান - উঠে এসেছে পৃথক দুটি অধ্যায়ে। আছে কুরআনের বৈপরীত্য আর স্যাটানিক ভার্সেস বিষয়ে আলোচনার সত্যাসত্য। সংক্ষিপ্ত আলোচনা আছে 'ইলুমিনাতি' বিষয়ে। নাস্তিকদের আলোচনার মুখরোচক বিষয় নবীজী (সাঃ)-এর বহুবিবাহের পেছনে যৌক্তিক কারণগুলো আলোচিত হয়েছে 'রাসূলের একাধিক বিবাহের নেপথ্যে' অধ্যায়ে।
'জান্নাতেও মদ?', 'কুরআন কেন আরবী ভাষায়', 'সমুদ্রবিজ্ঞান', 'পরমাণুর চেয়েও ছোট' আর 'সূর্য যাবে ডুবে' - অধ্যায়গুলো বারবার প্রমাণ করেছে কুরআনের অলৌকিকতা, মাহাত্ম্য। আল-কুরআন যে বিশ্বজগতের স্রষ্টা আল্লাহতালার বাণী, কোন মানুষের রচনা নয়, তা যে কোনো চিন্তাশীল মানুষের পক্ষেই স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব এই অধ্যায়গুলো পড়ে। সমুদ্রের তলদেশের অন্ধকার, পরমাণুর চেয়ে ছোট ইলেক্ট্রনের অস্তিত্ব আর সূর্য যে ভবিষ্যতে আলো-তাপ হারিয়ে শ্বেতবামনে পরিণত হবে সেই তথ্য - যা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করলো হাল আমলে, এগুলো সবই আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে বলে দিয়েছেন ১৪০০ বছর আগেই, যা কেবল এগুলোর স্রষ্টার পক্ষেই জানা সম্ভব।
'লেট দেয়ার বি লাইট' অধ্যায়ে উঠে এসেছে কিভাবে প্যাগানদের দেবতা 'মিথ্রাস' এর জন্ম তারিখ ২৫শে ডিসেম্বর হয়ে গেছে খ্রিস্টানদের ঈশ্বর যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন, আদতে যে তারিখের আশেপাশের কোনো তারিখেও তিনি জন্ম গ্রহণ করেন নি! ইতিহাসের প্রমাণ আর যুক্তিতে হেরে যাওয়া খ্রিস্টান অ্যালেন এ পর্যায়ে বলে, যে কারণেই হোক যেহেতু ক্রিসমাস ডের রিচ্যুয়াল চলে আসছে, তা পালন করে যাওয়াই উচিত। দাবি তোলে, মোটামুটি সব ধর্ম, এমনকি ইসলামেও নাকি এরকম রিচ্যুয়াল পাওয়া যায়! দাবি জানায় নন-ইসলামিক সোর্স থেকে কাবার অস্তিত্বের ঐতিহাসিক সত্যতা প্রমাণের। সাজিদ তাও প্রমাণ করে নন-ইসলামিক সোর্স থেকেই!
আমি সবচেয়ে অবাক হয়েছি 'নিউটনের ঈশ্বর' অধ্যায়টি পড়ে। বিজ্ঞানী নিউটন সম্পর্কে এমন সব তথ্য এখানে উঠে এসেছে, যা ষড়যন্ত্র করে মানুষের থেকে আড়ালে রাখা হয়েছে। উঠে এসেছে - একজন আগাগোড়া খ্রিস্টান হয়েও বিজ্ঞানী নিউটন ক্যানো চার্চের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন, কলমযুদ্ধ চালিয়েছিলেন বিকৃত ক্রিশ্চিয়ানিটির বিরুদ্ধে, ঈশ্বরের অবস্থা বোঝানোর জন্য আবিষ্কার করেছেন মোট ১২টি সূত্র, যিশু খ্রিস্ট তথা ঈসা(আঃ) ঈশ্বর হিসেবে না মেনে মেনেছেন শুধু মাত্র ঈশ্বরের দূত হিসেবে, যা ইসলামের সাথে মোটামুটি পুরোটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সবশেষে, সাজিদকে প্রতিনিয়ত 'মি. আইনস্টাইন' বলে ব্যঙ্গ করা তার শিক্ষক মুহাম্মদ মফিজুর রহমান, যে ঘোর অবিশ্বাসী লোকের সাথে সাজিদের সবসময় চলতো ঠাণ্ডা যুদ্ধ, তার বিশ্বাসী শিবিরে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টার চিঠি আপনার দুই নয়নকে করতে পারে অশ্রুসিক্ত।
ইসলামের বিপরীতে ধেয়ে আসা যুক্তির ভঙ্গুরতা, প্রশ্নগুলোর অবান্তরতা খুব সহজ-সরল ভাষায় লেখক আরিফ আজাদ তুলে ধরেছেন। কুরআনের অনন্যতা আর নবীজী (সাঃ) এর নব্যুওয়াতের সত্যতার সব অকাট্য প্রমাণ এক জায়গায় করে মানুষের অন্তরে বইয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন বিশ্বাসের ফল্গুধারা।
লেখক প্যারাদক্সিক্যাল সাজিদ নামে প্রথমে একটি বই বের করার পর তা মাশআল্লাহ পাঠকসমাজে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপরেই আসে প্যারডক্সিক্যাল সাজিদ-০২ যা ঐ প্রথম বইটিরই ২য় খণ্ড।
বইটি বলা যায় সম্পূর্ণই আগের বইটির মত করে লেখা হয়েছে। কিন্তু আমার কাছে প্রথম খণ্ডের তুলনায় ২য় খণ্ড বেশি ভালো মনে হয়েছে সাহিত্যের দিক বিবেচনায়, যদিও যুক্তির দিক দিয়ে এটিও আগের বই এর মতই মাশআল্লাহ অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত।
এটির আলোচ্য বিষয়বস্তু ছিল “ইসলাম কি অমুসলিমদের অধিকার নিশ্চিত করে?”, “রাসূলের(সা.) একাধিক বিবাহের নেপথ্যে”, “সূর্য যাবে ডুবে”, “সমুদ্রবিজ্ঞান”, “কুরআন কেন আরবি ভাষায়?”, “কাবার ঐতিহাসিক সত্যতা”, “নিউটনের ঈশ্বর” ছাড়াও আরও নানা বিষয়।
নাস্তিক ভাইবোনের এসব যুক্তি বহুল প্রচলিত। তাদের যুক্তিগুলো ভুল প্রমানে লেখকের লেখা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
লেখক মাশাআল্লাহ প্রতিটি যুক্তিকেই অনেক রেফারেন্স দ্বারা প্রমাণ করেছেন। মুসলিম হয়েও ইসলাম সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি না। আলহামদুলিল্লাহ্ বইটি পড়ে অজানা অনেক কিছু সম্পর্কেই জানতে পেরেছি।
তাই আপনিও বইটি পড়ে দেখতে পারেন, হয়ত আপনিও অনেক কিছু খুঁজে পাবেন যা আপনার অজানা এখনও।
man i feel so depressed when i look around at people of my age, 1000% of the blame goes to our education system, they created generation who believe this shit don’t even think about searching, fact checking things let alone seeing all those logical fallacies. I mean some of this fallacies have been around for centuries, Bentham, Russel debuked this things like centuries ago, and here are Bengalis getting awe struck by this shit. And u ask why i have no hope about my own country
বই পড়ার নেশাটা আগে থেকেই ছিল। তবে কাজের কোনো বই না। প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ পড়ার আগে আমি পড়তাম সাহিত্য কেন্দ্রের বই গুলো (ক্লাস ৬-১০), হিমু (প্রায় সব গুলো পড়া শেষ), মাসুদ রানা, জাফর ইকবালের বিজ্ঞানিক মিথ্যা কাহিনী & আরো অনেক হাবিজাবি। আলহামদুলিল্লাহ... প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ১ বইটা পড়েই ইসলামিক বই পড়া শুরু... আলহামদুলিল্লাহ.. এখন আমি যে পরিমাণ বই কিনি সবাই অবাক হয়ে যায় & বলে, এত বই কিনে পড়িস কবে? আল্লাহ আরিফ আজাদ ভাই এর লেখার ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করে দিন & হিকমাহ দ্বারা ভরপুর করে দিন। আমিন... আর প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২ এর অপেক্ষায় অনেকদিন ছিলাম.. বইটা হাতে পেয়ে কি যে খুশি হয়ে ছিলাম...
Good logic to explain many confusing or complicated questions of Islam.but the logic was stretched a lot,which made the book a bit slow to read. Otherwise for people who want to debate about these topics, answers being too long is justifiable.Good and informative read.Liked it.
It was really an awesome book. At first, I want to say that it's just clarify a few doubts of anti-islamist and atheist. I notice that controversy is going on about this Sajid series, obviously I support it if it's logically but if it's about personal attack then I hate this culture.
This Paradoxical Sajid 1 is an interesting book. I love it and the main character is Sajid. I like Sajid, especially his arguments and his stories and his scientific and religious explanations of how atheists are made believers.
অনেক কষ্টে সাজিদ ভাইয়ের মেসের ঠিকানা যোগার করলাম। একদিন হুট করে মেসে গিয়ে হাজির। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত আরিফভাইকে সেখানে পেলাম না। উনি কোন একটা কাজে চট্টগ্রাম গেছেন। ফিরবেন আরো কয়দিন পর। অবশ্য আরিফভাইয়ের জন্য আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আমি যার খুঁজে এতো কষ্ট করে এখানে এসেছিলাম। উনাকে পেয়ে গেছি৷ এখন আমার খুশি দেখে কে?
আমি আর সাজিদ ভাই সামনাসামনি বসে আছি। ভদ্রলোক মুখের উপর থেকে বই সরিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ' ও... আপনার নাম তাহলে রুমাদ।'
আমি অবাক হয়ে উনার দিকে তাকিয়ে আছি। মনে প্রশ্ন ভর করেছে উনি আমার নাম জানলেন কিভাবে? সাতপাঁচ ভেবে প্রশ্নটাকে মনের ভেতরই করব দিয়ে দিলাম। তার সামনে বসে কথা বলতে খুব নার্ভাস ফিল হচ্ছে তাই 'সাজিদ ভাই, আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি।' এই লেখা একটা চিরকুট সামনে বসা সাজিদ ভাইকে এগিয়ে দিলাম ।
ভদ্রলোক একটি মুচকি হাসি দিয়ে আমার হাত থেকে চিরকুটটা নিয়ে পড়লেন। আমি ভেবেছিলাম চিরকুটটা পড়ার পর তিনি আমাকে সৌজন্যমূলক কিছু বলবেন। 'ধন্যবাদ' বা 'থ্যাঙ্কিউ' টাইপ কিছু৷ আমি সেটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
কিন্তু ভদ্রলোক আমার দিকে উনার লেখা আরেকটা চিরকুট এগিয়ে দিলেন। আমি অবাক হলাম না। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে 'সাজিদ' রা হয়তো এরকমি হয়। যেভাবে রিপ্লাই দিলে আপনি বেশি খুশি হবেন তারা সেভাবেই রিপ্লাই দেন ।
অনেকটা সময় নীরব থাকার পর আমি বললাম, 'সাজিদ ভাই, আমার একটা প্রশ্ন ছিলো।'
'বলে ফেলো।'
'না মানে জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছিলাম আপনার রুমমেটের ব্যাপারে।'
'আরিফের ব্যাপারে?'
'হ্যাঁ। শুনেছি আরিফভাই নাকি ইদানীং খুব লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত।'
'তাতো বটে। লেখক মানুষ লেখালেখি নিয়েই তো ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু তুমি আরিফের সম্পর্কে কেন জানতে চাও সেটা ক্লিয়ার করলে ভালো হয়। '
'আসলে হয়েছে কি? আরিফ ভাইকে তো প্রথম থেকেই দেখে আসছি ফেসবুকে খুব লেখা লেখি করতেন। উনি খুব গুছিয়ে অবিশ্বাসীদের যুক্তিগুলোকে খন্ডন করতে পারেন। এ নিয়ে বিশ্বাসী মহলে তার খুব সুনাম ছড়িয়েছে। আবার অবিশ্বাসীদের মনেও এক ধরনের শংকা তৈরি করে ফেলেছেন। তারা নিজেরা নিজেদেরকে যে একধরনের বিভ্রান্তির সাগরে ডুবিয়ে রেখেছে। সেটা তিনি চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেন।'
'তোমার কথা সবই বুঝলাম৷ তুমি আরিফের কথা তো সরাসরি তাকেই জিজ্ঞেস করতে পারতে। এখানে আমার কাছে জিজ্ঞেস করার কি কারণ থাকতে পারে। '
আমি ঢুকঢুক করে একগ্লাস পানি খেয়ে নিজেকে স্থির করতে চেষ্টা করলাম। তারপর আবার বলতে আরম্ভ করলাম, 'আপনি কি জানেন উনি আপনাকে নিয়ে দুইটা বই বের করেছেন। '
ভদ্রলোক এবার কপাল ভাঁজ করলেন। কেমন যেন বিরক্ত বোধ করছেন মনে হলো। মনে মনে বলে উঠলেন, 'সেই পুরনো প্যাঁচাল আবারো... আরিফটা না কি যে করে?'
আমি বললাম, 'সাজিদ ভাই, এই বই দুইটি পড়ার পরথেকে আমি আপনার একজন ক্রেজি ফ্যান হয়েগেছি।'
'আমাকে নিয়ে সে আবার কেন যে বই লেখতে গেলো? এখন এই ভ্যাবলা ছেলেগুলোকে কিভাবে সামাল দেবে।' বিড়বিড় করে কথাগুলো বললেন।
আমি বলতেই থাকলাম, 'বই দুইটাই খুব স্বচ্ছতায় পরিপূর্ণ। বিশেষ করে দ্বিতীয় কিস্তি 'প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২' তে অবিশ্বাসীদের পাশপাশি খ্রিষ্টান মিশনারীর বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের জবাবও দেওয়া হয়েছে। যেটা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। সঙ্গে কুরআনের অনেক মিরাকল তুলে এনেছেন গল্পে গল্পে।'
'তুমি আবার এসব পড়ে আমার মতো হতে যেও না। নয়তো আমার মতো ক্যান্টিনের খাবারের সাথে টিকটিকি, তেলাপোকা, ইঁদুর ছানা ফ্রী খেতে হবে।'- একটু হাসির ছলে বলে উঠলেন সাজিদ ভাই।
উনার কথা শুনে আমার হাসি পেল। কিন্তু না হেসে একটু গম্ভীর হয়ে গেলাম।
আমাকে গম্ভীর থাকতে দেখে তিনি আবার বললেন, 'দেখো রুমাদ, আরিফ যা করছে নিঃসন্দেহে সেটা আমাদের ভেঙ্গে পড়া বিশ্বাসকে শক্ত করতে অনেক দরকার।'
সাজিদ ভাইয়ের মুখে এই কথা শুনে আমার মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। আমি বললাম, 'সেটাই তো সাজিদ ভাই। আরেকটা সত্য ব্যাপার কিন্তু এখানে আছে। ' 'কি সেটা?'
'উনি কিন্তু আপনাকে খুব ভালোবাসেন। নয়তো আশেপাশের এতো মানুষ থাকতে আপনাকে নিয়ে বই লেখবেন কেন?'
'আই সী'
সাজিদ ভাই আমার মুখের দিকে থাকিয়ে শব্দটা এমনভাবে উচ্চারণ করলেন যেনো তিনি আমার কথার ভেতর এমন কোনো রহস্যের সমধান পেয়ে গেছেন। যা তিনি অনেকদিন ধরে খুঁজতেছেন।
���াজিদ ভাই হাসলেন। তারপর বললেন,' তুমি বোধহয় কোনো একটা আবদার নিয়ে এসেছো।'
আমি আবার অবাক হলাম। উনি কিভাবে কথার ভেতরের উদ্দেশ্য বুঝে ফেললেন। আমি এ নিয়ে আর কথা বাড়ালাম না। সোজা পয়েন্টে চলে গেলাম, 'হ্যাঁ ভাই। আপনি ঠিকি ধরেছেন। আমি আবদারটা আপনার কাছে করছি। আপনি আরিফ ভাইকে বুঝিয়ে বললে উনি আবদারটা কোনোভাবে ফেলতে পারবেন না। কারণ উনি আপনাকে প্রচন্ডরকম ভালোবাসেন। সেটা তার লেখা পড়লেই বুঝা যায়।'
'তা ঠিক আছে। কিন্তু আবদারটা কি? সেটা আমাকে আগে জানতে হবে।'
আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম। তারপর বললাম, 'আমরা পাঠকরা চাই সাজিদের তৃতীয় কিস্তি বের হোক। আমরা আগামীতে 'প্যারাডক্সিকাল সাজিদ ৩' পেতে চাই।'
'তাহলে এই ব্যাপার।'
সাজিদ ভাই আবারো হাসলেন। তার সাথে আমিও হাসতে লাগলাম। হাসির শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেলো। ঘুম ভাঙ্গার পর নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করলাম। বুকের উপর পড়ে আছে 'প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২' বইটি। বুঝতে পারলাম বইটি পড়তে পড়তে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
===== ===== ===== বইয়ের নামঃ প্যারাডক্সিকাল সাজিদ ২ লেখকঃ আরিফ আজাদ ভাই প্রকাশনাঃ সমকালীন প্রকাশনী পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৩৩ মন্তব্যঃ লেখক আরিফ আজাদ ভাইকে যেন আল্লাহ নেক হায়াত দান করেন 'আমীন'।
সভ্যতার শুরু থেকেই চলছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের লড়াই।সন্দেহের বীজ নিয়ে ঘুরানো অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন কতই না কঠিন আমাদের কাছে। আদতে তা যে কিছুই না বিশ্বাসের যুক্তির কাছে।
অবিশ্বাসীদের চমকপ্রদ প্রশ্ন ও চ্যালেন্জের মোকাবেলায় যখন বিশ্বাসীরা হিমশিম খাচ্ছে। তখন স্যার জাকির নায়েকের মতো শ্রদ্ধেয় আরিফ আজাদ ভাইও বিশ্বাসী প্রাণের যৌক্তিক লড়াই শুরু করেছেন। কলমকেই অস্ত্র বানিয়ে ২০১৭ সালে আরিফ আজাদ ভাই পাঠকদের 'প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ' উপহার দিয়েছিলেন। যা প্রথম ২ বছরে বইটির দেড় লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছিল।২০১৯ সালের একুশে বইমেলায় লেখক নিয়ে এলেন সাজিদ সিরিজের ২য় বই প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২। ★ইসলাম কি অমুসলিমদের অধিকার নিশ্চিত করে? ★মদ খাওয়া হারাম তারপরও জান্নাতে মদ? ★রাসুল (সাঃ) কেন একাধিক বিবাহ করলেন? ★কুরআন কেন আরবি ভাষায়? ★কুরআন কি নারীদের শস্যক্ষেত্র বলেছে? ★সৃষ্টিকর্তা নিয়ে নিউটনের ১২ সূত্র। ★কাবার ঐতিহাসিক সত্যতা কী? এসবসহ আরো প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে অবশ্যই বইটি পড়তে হবে।
লেখক আকর্ষণীয়ভাবে ১৬ টি গল্পের মাধ্যমে বইটি সাজিয়েছেন। নাস্তিকদের প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তরে লেখক ঢুকিয়েছেন ইসলাম, বিজ্ঞান, দর্শন, যুক্তি। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে যে বইটি পাঠকদের কেমন আকৃষ্ট করবে। পাঠকদের একঘেয়েমিটা দূর করার জন্য লেখক গল্পে সাম্প্রতিক ঘটনা এবং অজানা তথ্য বইতে তুলে ধরেছেন তাছাড়া এই বইটিতে শুধুমাত্র নাস্তিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন নি, বিভিন্ন খ্রীষ্টান মিশনারিদের ইসলাম নিয়ে তুলা প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন।
বইটি পড়ে খুব ভালো লাগলো এবং সাজিদ হওয়ার আকাঙ্খা জেগে উঠলো।সালাম জানাই লেখককে এবং অবিশ্বাসীদের ইমারত ভেঙ্গে দেওয়া সাজিদকে।
সাজিদ সিরিজের প্রথম বইটা পড়েছিলাম। খুব ভালো লেগেছিল বইটা আমার কাছে। সাজিদ সিরিজের দ্বিতীয় বই ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২’-ও অনেক ভালো লেগেছে। সংশয়ের দোলাচলে দোল খাওয়া জেনারেল শিক্ষিত লোকদের সংশয়পূর্ণ অবস্থানের ভীত নাড়িয়ে দেয়ার জন্য সাজিদ চরিত্রটি খুবই অসাধারণ।
২০১৭ সালে ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ বইটি পাঠকসমাজে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হওয়ার পর ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় আরিফ আজাদ স্যারের ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২।’ প্রথম বইটিতে লেখক নাস্তিকদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব গল্পে গল্পে এবং বেশ নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২’-এর বিষয়বস্তু কিছুটা ভিন্ন। এটি কেবলই নাস্তিকতা–বিরোধী নয়। খ্রিষ্টান মিশনারীদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও এখানে রয়েছে।
ইসলাম শান্তির ধর্ম; এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এক-শ্রেণির ধর্ম-বিদ্বেষী মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে এমন সব প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে যার ফলে অনেকেই- বিশেষ করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এইসব বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ছে এবং দ্বীন-বিমুখ হয়ে পড়ছে। এর অন্যতম কারণ হলো ইসলাম সম্বন্ধে অজ্ঞতা।
সাজিদ সিরিজের ৩য় বইয়ের অপেক্ষায় আছি। কিন্তু জানি না সাজিদ ৩ আসবে কি না। আল্লাহ তা’য়ালা লেখককে এই সিরিজ চালিয়ে যাওয়ার মত তাওফিক দান করুন।
ইসলাম কিংবা অন্যান্য ধর্ম নিয়ে যাদের আগ্রহ, বইটি তাদের জন্য। আরিফ আজাদ তার বইগুলো লেখার জন্য মূলত ধর্মতত্ত্ব নিয়ে লেখাপড়া করেন। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং যুক্তি, বিজ্ঞান আর দর্শনের আলোকে গল্পের মাধ্যেম লেখার চেষ্টা করেন।
তার বইগুলো ধর্ম বিদ্বেষী, তথাকথিত মুক্তমনা এবং নাস্তিকদের যুক্তি খণ্ডন ক'রে থাকে। একদল লোক আছে যারা শুধু ইসলামের দোষ খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। যদিও রেফারেন্স সহকারে তারা এ কাজ করে, পরিপূর্ণ প্রেক্ষাপট বুঝতে না পারায় তাদের সে রেফারেন্সের কোনো কার্যকারিতা থাকে না। তাদের যুক্তি অপযুক্তিতে পরিণত হয়। "প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২" বইটিতেও এর প্রমাণ আপনারা পেয়ে যাবেন।
যারা ইসলাম ধর্ম নিয়ে সংশয়ে আছেন বইটি তাদের সেই সংশয়কে নিরসনে কাজ করবে ব'লে আমার ধারণা। যারা "প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ১" পড়েননি তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আগে সেটি প'ড়ে দ্বিতীয় বইটি পড়বেন। এতে লেখকের চিন্তাধারার সাথে আপনি পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারবেন এবং ইসলামের অনেক প্রশ্নের উত্তর জানতে পারবেন।
‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ' বইটির সিকুয়েল হচ্ছেন এই বইটি।
সাম্প্রতিককালে কিংবা আরো আগে থেকেই আমাদের ইসলামের পক্ষে বিশ্বাসের জায়গাটিকে বিভিন্ন উপায়ে নড়বড়ে করার চেষ্টায় নেমেছেন একদল নাস্তিক কিংবা অবিশ্বাসী। এইকাজের জন্য তাদের কেউ কেউ আবার বিভিন্নভাবে বিজ্ঞানের দ্বারস্থ হচ্ছেন নানা সময়ে। এইরকম কিছু মানুষের বিরুদ্ধেই গল্পে উল্লেখিত সাজিদ অবস্থান নিয়েছেন। শরিয়ত মোতাবেক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। যুক্তি খন্ডন করেছেন।
এই ব্যাপারগুলো নিয়ে মূলত প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২ বইটি। তবে প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদের মতো এই বই নিয়েও পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান। সেটা পাঠকরাই যার যার জায়গা থেকে বইটি রীড করবেন। আপাতত সেটি পাঠকদের জন্যই তোলা থাক।
it's more of a funny book than a thought-provoking one.....total waste of time reading this piece of shit. But for someone who doesn't understand fallacies, would take those fallacies as big logics and this book could seem great to him. whatever, don't waste your time reading this shit. and if someone still thinks it's great......my honest free advice-bruh'....study some logical fallacies
This entire review has been hidden because of spoilers.
Not as good as the first one but okay. The writer made it more literature type rather than coming to the straight facts. A lot of story seemed unnecessary. I had to wait like, when will the facts come? When will the logic stand? Nevertheless, it was okay.
সাজিদ-১ বইটার সাথে কন্সেপ্ট সেম হলেও গল্পগুলো একদম আলাদা। খুব প্যাচ মেরে উত্তর দেওয়া হয়েছে এই বই এ। আর পৃথিবীর বিভিন্ন অজানা জিনিস নিয়ে ইনফরমেশনও দেওয়া হয়েছে। বইটা লিখতে লেখকের ভালই বেগ পোহাতে হয়েছে। এখানে শুধু নাস্তিকদের নয়, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
প্রথমে বলব আরিফ আজাদের এই বইটি দারুন হয়েছে । শব্দ চয়ন থেকে শুরু করে প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা এই বইটি পড়তে দারুন লাগলো । ইসলামের প্রতি বিশ্বাস এর ভিত্তি আরো একটু মজবুদ হলো বলা যায় । শেষের কয়টি অধ্যায় বাদ দিলে বাকি গুলিকে পাঁচ এ পাঁচ এ দেওয়া যায় ।
প্যারাডক্সিকাল সাজিদ ১ এর পরবর্তী বই। বইটায় ইসলাম ও আস্তিকতার বিরুদ্ধে করা নাস্তিকদের নানা প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর দেওয়া হয়েছে। বইটা প্রবন্ধ আকারে নয় বরং গল্প আকারে লেখা হয়েছে যার ফলে পাঠকদের পড়তে আরো ভালো লাগবে। বইটা আমাদের বিশ্বাসকে আরো যুক্তিবাদী এবং দৃঢ় করবে।