⚈ স্পয়লার-ফ্রি রিভিউ— ❛দশগ্রীব❜
কিছুদিন পূর্বে নিজ টাইমলাইনে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। যেখানে উল্লেখ করেছি মিশরীয় ও গ্রিকের মতো যেসব ধর্ম এখন প্রচলিত সেগুলো একটা সময় মিথে পরিণত হবে। ইতোমধ্যে সে-ই প্রসেস চালু হয়ে গিয়েছে। পুরাণ আর মিথ একই ক্যাটাগরির মনে হলেও পার্থক্য রয়েছে অনেককিছুতে। সেদিকে যাচ্ছি না। ধর্মীয় যতকিছু রয়েছে বা ঘটেছে সেগুলোকে আমরা মিথ হিসেবে জানা শুরু করেছি। রিসার্চও হয় অনেকটা সেইভাবে। মুখ ফুটে কেউ না বললেও অনেকে সেটাই ভেবে নিচ্ছি। যা-ই হোক, এইসব চিন্তাভাবনায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার অন্ততপক্ষে কারও নেই। বাধাহীন এই জীবনে অনেক কিছুই বলা যেমন যায় তেমন করাও যায়। যুক্তিতর্ক যে সবসময় খাটবে তাও না।
মিথ বা পুরাণের প্রসঙ্গ টানার কারণ ❛দশগ্রীব❜ উপন্যাসটি আর্কিওলজিক্যাল থ্রিলার হলেও পুরোপুরি ইতিহাস ও পুরাণ নির্ভর। ইতিহাস নির্ভরের কারণ সম্রাট আশোকের কলিঙ্গ জয়ের কাহিনি। একইসাথে ছোটো করে রয়েছে মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসের নেপথ্য। পুরাণ অংশে উঠে এসেছে ত্রেতা যুগের কাহিনি। যেখানে রাম-রাবণের দ্বন্দ্ব, কেন রাবণ ভিলেন আর রাম কেন হিরো এই নিয়ে। ❛দশগ্রীব❜ উপন্যাস পুরোপুরি রাবণ বেসড বলা যায়, কারণ লেখক তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বারংবার বুঝিয়েছেন রাবণ অর্থাৎ দশগ্রীব বা দশাননকে যতটা আমরা খারাপ ভেবে থাকি ততটা খারাপ উনি নন। ওনার চোখে অর্থাৎ বইয়ের মূল চরিত্র রাশাদের চোখে রাবণ হচ্ছে হিরো। শুধু রাশাদ না অন্যান্য চরিত্রের চোখেও হিরো। এখন কেন হিরো আর কী কারণে হিরো সেটার জন্য লেখক রিসার্চ করতে ব্যয় করেছেন নূনাধিক ৩ বছর সাথে পড়তে হয়েছে ৪২টি গ্রন্থ। হয়তো আরও বেশি গ্রন্থ পড়েছেন তবে রেফারেন্স হিসেবে দেখিয়েছেন ৪২টি। ওখানে আবার মৌর্য বংশের কাহিনি ও সম্রাট আশোক নিয়ে অনেক গ্রন্থ রয়েছে।
লেখক ইতিহাসের ভিত শক্ত করতে তুলে এনেছেন সম্রাট আশোকের রহস্য নয় মানবের কাহিনি, গুপ্ত সংঘ ও রজনীশ ওশো’র মতো আলোচিত-সমালোচিত চরিত্রকেও। পুরাণ পার্টে রাবণকে হিরো হিসেবে জাহির করতে ও পার্থক্য দেখাতে বাল্মিকী মুনি’র রামায়ণের পাশাপাশি মাইকেল মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, বাল্মিকী-রামায়ণ উপাখ্যানের প্রথম অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝার বিভিন্ন যুক্তি ও ব্যাকস্টোরি। এছাড়া রামায়ণে হনুমান বানর নয়, রাম দেবতা নয়, শিব কালো বিষ্ণু সাদা, রাম ইন্দো-ইয়োরোপীয় কারণ তিনি আর্য অন্যদিকে রাবণ অনার্য, অনার্য বলে তিনি আমাদের আপন আর রাম আর্য বলে পর, সাদা-কালো নিয়ে মিষ্টি রেসিজম (খাঁটি ইংরেজিতে বললে), সীতা রামের বোন (গেম অব থ্রোন্স ট্যাগ), সীতার জন্ম রহস্য, রাবণ সীতার মেয়ে-সহ এইরকম অনেক থিউরি লেখক তুলে এনেছেন। তবে তিনি শুধু তুলে এনে ক্ষান্ত হননি, কারণ দেখিয়েছেন ব্যাখা দিয়েছেন। কিছু ব্যাখ্যা মনঃপূত হলেও কিছু লেগেছে খোঁড়া যুক্তি। যুক্তিতর্ক নিয়ে বলতে গেলে আমিও একটা নভেলা লেখে ফেলতে পারি। দিনশেষে বিশ্বাস হচ্ছে বড়ো জিনিস। অবশ্যই অন্ধ না, যাচাই-বাছাই অন্তত করা দরকার। মূল উপখ্যান, কাব্য, গ্রন্থ আমরা কয়জনে পড়ি? রেফারেন্সের জন্য দ্বারস্থ হওয়া লাগে অনুবাদ হওয়া গ্রন্থের ওপর তাও যে লেখেছে সে যে নিজের মনমতো কিছু ঢুকিয়ে দেয়নি এই প্রমাণ কে দিবে? ৩ বছর কেন ৩৩ বছর পার করে দিলেও আসল কাহিনি জানতে পারব কি-না সন্দেহ।
ত্রেতা যুগে রাবণ-শিব যুদ্ধে শিবকে রাবণ ভালোই টক্কর দিয়ে ‘চন্দ্রহাস’ জয় করে নেয়। আবার ধারণামতে ‘চন্দ্রহাস’ পেয়েছে রাবণ মহাদেবের স্তুতি করে। তাহলে কোনটা সত্য? এই ‘চন্দ্রহাস’ নিয়ে পুরো ❛দশগ্রীব❜ উপন্যাস প্রতিষ্ঠিত। কাহিনিও ঘোলা কম হয়নি। লেখকের মতে রাম-রাবণ আদতে দেব-রাক্ষস নয়, ওনারা মানুষ। আর শিব একজনক ভালো যোদ্ধা মাত্র। ওনাকে দেবতা বানানো হয়েছে অনেক পরে! প্রাচীন তিন বেদে শিবের নাম উল্লেখ নেই কিন্তু ‘রুদ্র’ তো উল্লেখ আছে? রুদ্র যে শিব সেটা আশা করি প্রাচীন বেদ খুঁজলে রেফারেন্স পাওয়া যাবে?
যা-ই হোক, ‘চন্দ্রহাস’ আর ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ নিয়ে বই শেষ করার পরেও দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে গেছে। লেখক যদি ‘ব্রহ্মাস্ত্র' নিয়ে ফোকাস করেন তাহলে সেখানে ব্রহ্মাকে টানার দরকার ছিল কিন্তু তিনি সবকিছুতে টেনেছেন শিবকে। শিবের অস্ত্র সরি শস্ত্র। অস্ত্র যেটা নিক্ষেপ করা যায় আর শস্ত্র যেটা হাতে নিয়ে যুদ্ধ করে। অস্ত্র হচ্ছে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ আর শস্ত্র হচ্ছে ‘চন্দ্রহাস’ যেটার গঠন খড়্গের মতোই। মতোই না এইটা খড়্গ-ই, কিন্তু পুরো কাহিনিতে চন্দ্রহাস নিয়ে হাইপ ক্রিয়েট হলেও উদ্ভাবন করেছে ব্রহ্মাস্ত্র! এই ব্রহ্মাস্ত্র না-কি রাবণের জ্ঞানের মাধ্যমে তৈরি! কারণ জ্যোতিঃশাস্ত্রে রাবণ ছিল সর্বাধিক জ্ঞানী। এখন কীভাবে সেটা হয়েছে জানতে হলে ❛দশগ্রীব❜ পড়তে হবে।
মূলত পুরাণের এই ধারা থেকে বর্তমানের কাহিনি শুরু। এরপর পেরুতে হয়েছে কত মাঠঘাট, বনবাদাড়। এক প্রাচীন পুঁথির লড়াইয়ে নেমেছে আর্কিওলজিস্ট-সন্ত্রাস-গুপ্ত সংঘের মতো আরও অনেক ভয়ংকর লোকজন। শেষ পর্যন্ত কে পেয়েছে এই পুঁথি? আর কীভাবে উদ্ধার হবে এই পুঁথির লুকায়িত রহস্য? কেন এত গুরুত্বপূর্ণ পুঁথির মাহাত্ম্য?
➲ আখ্��ান—
অনভিপ্রেত জটিল এক রহস্যের জালে জড়িয়ে গেল প্রত্নতাত্ত্বিক রাশাদ এবং জয়িতা। প্রাচীন পুঁথির সোঁদা ঘ্রাণে ভেজা অদ্ভুত এক ঐতিহাসিক স্মারকের পেছনে ছুটে চলেছে সমস্ত ঘটনা প্রবাহ। যেখানে শত-সহস্র শতাব্দি ধরে সত্যের মহীরূহ ঢেকে দিয়েছে ধীরে ধীরে জমতে থাকা অসত্যের আগাছা।
'দশগ্রীব' এক ঐতিহাসিক রহস্য-রোমাঞ্চ আখ্যান। প্রাচীন কথকতার তমসা ভেদ করে দ্ব্যর্থহীন গন্তব্যের পথে বিস্ময়কর, অবিশ্বাস্য এক যাত্রা। ক্ষমতা, রাজনীতি আর ধর্মের ঘোলা কাঁচের নিচে দম আটকে থাকা প্রকৃত ঐতিহাসিক উপাখ্যান উদ্ধারের প্রচেষ্টা।
পাঠক আপনাকে প্রহেলিকাময় অতীত এবং আপতিত বর্তমানের সত্য এবং অসত্যের মায়াজাল নিরূপণে স্বাগতম।
➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—
বইটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া আমার মিশ্র। একদিক থেকে ভালো মনে হলে, অন্যদিকে খারাপ। এই দোদুল্যমান অবস্থায় স্থির থাকাও বেশ কষ্ট। পুরাণের বিভিন্ন রেফারেন্স টেনে দেখানো হয়েছে। সবগুলোতে রাবণকেই সেরা বানানোর প্রচেষ্টা এমনকি কিষ্কিন্ধ্যা বালিকে যে রাম লুকিয়ে হত্যা করেছে সেটা নিয়ে ব্যাখা আছে। যথারীতি সেখানেও রাম কাপুরুষ! যাহোক, পুরো বইয়ের যে বিষয়টি পোক্ত লেগেছে সেটা হচ্ছে সম্রাট আশোকের কলিঙ্গ জয়ের আগে ও পরের কাহিনি। যদিও সেটা আজও রহস্য। মিথ হিসেবে এইসব বেশি প্রচলিত। ঠিক কী কারণে আর কীভাবে কলিঙ্গ জয় করেছে সম্রাট আশোক। এই কন্সপিরেসিও শেষ নেই। কোনো ইতিহাস বা পুরাণ কিছুটা জেনেও বইটি পড়লে আপনার হয়তো ভালো লাগবে। কেন সেটা বলি—
● প্রারম্ভ—
❛দশগ্রীব❜ বইয়ের শুরুতে কাহিনি গ্রিপ করে ফেলে। একজন আর্কিওলজিস্ট খুন! খুনটাও একেবারে একরোখা। এরপরে আবির্ভাব গল্পের প্রোটাগনিস্ট রাশাদ ও জয়িতা। ওই আর্কিওলজিস্ট আবার রাশাদ-জয়িতার শিক্ষক! প্রাচীন এক পুঁথির জন্য মারা হয়েছে ওনাকে। অন্যদিকে এই প্রাচীন পুঁথি দরকার নব সংঘের লোকদের! কারা এরা? কুখ্যাত সন্ত্রাসী জহিরও জড়িয়ে গেল এই কেসে। কেন, কীভাবে? উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে এই কয়েকটি কারণ-ই যথেষ্ট।
● গল্প বুনন—
গল্প বুননে লেখক ভালোই পাণ্ডিত্য দেখিয়েছেন। পুরাণ আর ইতিহাসের মেলবন্ধনে কোনো কাহিনি গড়ে তোলা চাট্টিখানি কথা না৷ তার ওপর তথ্য-উপাত্ত এত বেশি সাথে দিতে হয়েছে ব্যাখা। কত ধৈর্য থাকলে এইরকম একটি বই লেখা যায়? গল্পের সিকুয়েন্স সাজানো হয়েছে নিপুণতার সাথে। প্রাসঙ্গিকভাবে গল্পটা টেনেছেন লেখক তাই বলে বাড়তি মেদ নেই সেটাও ভুল। ৪০০ পেজের বই হলেও কাটছাঁট করে ২০-৩০ পৃষ্ঠা ইজিলি কমানো যেত। গল্পের প্রেক্ষিতে কিছু বর্ণনা দুই-তিনবার করে উঠে এসেছে।
রামায়ণের পুরো কাহিনি গল্পচ্ছলে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক৷ সাথে সম্রাট আশোকের কাহিনি। তবে ইতিহাস, পুরাণ ও বর্তমানের কাহিনি আলাদা করে বিচার করলে আমি ইতিহাসকে এগিয়ে রাখব। এই কাহিনির ডেপথ এত অসাধারণ যে বলাবাহুল্য। রীতিমতো মুগ্ধতা ছড়িয়েছে।
থ্রিলার হলেও কাহিনি যত এগিয়ে যাচ্ছিল তখন নন-ফিকশনের ফ্লেভারও পাওয়া যাচ্ছিল। কিছুক্ষেত্র সেটা বোরিং ফিল করাতে পারে তবে আমার ভালো লেগেছে কারণ ব্যাখা ছিল আর সেটা আমার মূল আকর্ষণ। বইয়ের মূল কাহিনি থেকে মনে হয় পুরাণ আর ইতিহাসে বেশি ফোকাসে ছিল।
● লেখনশৈলী—
লেখকের লেখনশৈলী ছিল একেবারে তরতাজা। ফ্লেভারে রয়েছে ভিন্নতা। একেকবার একেক স্বাদ। খুব বেশি চেঞ্জ হয়নি। সম্রাট আশোকের সময়কালের অধ্যায়গুলোর লেখনশৈলী বেশি টেনেছে। একেবারে হুকড করে রাখার মতো। সংলাপগুলো ছিল তথ্য দিয়ে ভর্তি। কয়েকটা চরিত্রের শুধু স্বাভাবিক সংলাপ। সেগুলো উপভোগ করার মতো, বিশেষ করে জহিরের। তাছাড়া বাক্যগঠন হয়েছে দুর্দমনীয়। কথার মধ্যে মারপ্যাঁচ, মোটিভেট, মাইন্ড চেঞ্জের মতো আলোচনা দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ খুব তথ্যসমৃদ্ধ বলে ভাববেন না লেখনশৈলী দুরূহ, আপনি ইতিহাসপ্রেমী হলে এই বই গিলতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবে না। আমার হয়নি, আমাকে শুধু মাঝেমধ্যে ব্রেক দিতে হয়েছে বিভিন্ন তথ্যগুলো নিয়ে ঘাটাঘাটি করার কারণে।
● বর্ণনাভঙ্গি—
দারুণ! এর থেকে বেটার সম্ভব না। গল্পের যে ফ্লো ছিল সেটা আরেকটি কারণ হচ্ছে বর্ণনাভঙ্গি। লেখনশৈলী উন্নত হলে যে শব্দ আর বাক্য দিয়ে কিস্তিমাত করে দিবে সেটা ভুল। বাক্য হোক মৌলিক বা যৌগিক সেটাকে সাজানো লাগে সহজভাবে। ভারী ভারী শব্দ ব্যবহার করলাম, লাইনে পর লাইন লেখে গেলাম হবে না। বর্ণনাভঙ্গি যদি সহজবোধ্য না হয় সব বৃথা। রেফারেন্স নিয়ে ঠাঁসাঠাসি করে বসিয়ে দিলাম, কোনো সাইজ করা লাগবে না। তাহলে সেটা বই না হয়ে হবে কোনো আর্টিকেল বা থিসিস পেপার।
❛দশগ্রীব❜ উপন্যাসে মূল আকর্ষণ এই বর্ণনাভঙ্গি। লেখক সুন্দরভাবে প্রতিটি সিকুয়েন্স অনুভব করিয়েছেন মানসপটে। ভিজুয়ালাইজ করতে কোনোরূপ সমস্যার উদ্রেক হয়নি। বিশেষ করে গল্পের শেষদিকে যখন মূল কাহিনি আবর্তিত হয়ে থাকে তখন এই বর্ণনার সাবলীলতা দরকার পড়ে। বই পড়ে থাকলে বা ভবিষ্যতে পড়লে বিষয়টি আন্দাজ করতে পারবেন৷
● চরিত্রায়ন—
❛দশগ্রীব❜ উপন্যাসের একেকটি চরিত্র ছিল গল্পের স্তম্ভ। প্রত্যকটি চরিত্রের ব্যবহার লেখক ভালোভাবে করেছেন। যার যে কাজ সেটা ব্যতীত বাহ্যিক কোনোকিছু তিনি টেনে আনেননি। তাদের দিয়ে কাজও করিয়েছেন সেইভাবে।
রাশাদ-জয়িতা নিয়ে লেখক একটি পজেটিভ থিংক বিল্ডাপ করতে পেরেছেন পাঠকদের মধ্যে। দুজন পুরো কাহিনিতে একসাথে থেকেও তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের যে বিশ্বাস সেটা ভালোভাবে টিকে ছিল। যদিও প্রণয় ঘটিত কারণ রয়েছে বলে মনে হয়েছে তাও তাদের আচার-আচরণে পাশ্চাত্যর ছাপ ছিল না। পজেটিভ দিক আসলে।
অন্যদিকে জহিরের মতো কুখ্যাত চরিত্রকে কতটা অর্থপূর্ণ বানিয়েছে সেটা বই না পড়লে পরখ করা যাবে না৷ আর আর্কিওলজিস্ট, বিজ্ঞানীদের মতো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোও গল্পে দারুণ প্রভাববিস্তার করেছে।
● সমাপ্তি—
যেহেতু সিরিজের দ্বিতীয় বই, তাই সমাপ্তি সম্পূর্ণভাবে হয়েও হয়নি৷ তবে কাহিনির দিকে তাকালে শেষটা ভালো বলা যায়। অর্থাৎ যেরকম হওয়ার কথা ছিল। তবে অসংগতি রয়েছে অনেক। নাটকীয়তা তো রয়েছে তার সাথে অনেক উত্তর মিসিং। অ্যান্টাগনিস্ট আর প্রোটাগনিস্ট ফোকাসে বেশি রাখতে গিয়ে কিছু চরিত্রের খেয় হারিয়ে গিয়েছে।
● খুচরা আলাপ—
❛দশগ্রীব❜ বইতে কাহিনির পাশাপাশি রয়েছে ফিলোসোফি, ভাষা পরিবর্তনের কারণ ইত্যাদি আপেক্ষিক বিষয়বস্তু।
❝যে উর্দু ভাষার জন্য এতবড়ো ভাষা আন্দোলন করলাম, সেটাই এখন চেপে বসেছে হিন্দির নাম করে।❞
আসলে আমরা ভাষা আন্দোলন করেছি বাংলার জন্য। উর্দু ছেঁটে বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা করার জন্য। লেখক কেন ‘উর্দু’ ভাষা পরিহার বিষয়টি সংলাপে তোলেননি সেটার কারণ জানা নেই। যা-ই হোক, কারণ কিন্তু সত্য। এই আমরা ‘উর্দু’ কিন্তু ঠিকই জাবরকাটার মতো বলে যাচ্ছি। মানে কথায় কথায়। যেমনটা এখন ‘বাংলিশ’ ট্রেন্ড। লেখ্য আর কথ্য ভাষার নিয়ে কোনো তফাত এখন আর নেই। একটা সময় সৃজনশীলতা এত তুঙ্গে থাকবে যে বইয়ের ভাষা আর মুখের ভাষা একই হয়ে যাবে। আমরা বাঙালি তো, সবই পারি। স্মার্ট না সাজলে লোকে তো কুল ভাববে না।
-
এইবার আসা যাক বইয়ের কিছু ভুল নিয়ে। তথ্যগত না মুদ্রণপ্রমাদ না-কি সম্পাদনার অভাব সেটা একমাত্র লেখক ভালো বলতে পারবেন।
৬১ পৃ: ঋষি বিশ্রবার চারজন স্ত্রী ছিলেন, পুষ্পোৎকটা, রাকা, মালিনী এবং ইলাভিদা। ইলাভিদার গর্ভে কুবের, রাকার গর্ভে খর ও শূর্পণখা, মালিনীর গর্ভে বিভীষণ, পুষ্পোৎকটা বা কৈকেশির (কৈকসীর) গর্ভে কুম্ভকর্ণ ও রাবণ।
ওয়েল, এইখানে রাবণ, কুম্ভকর্ণ, বিভীষণ ও শূর্পণখাকে আলাদা আলাদা মাতার সন্তান বলা হয়েছে। পারতপক্ষে সবাই হচ্ছে একজন মাতার সন্তান। আর ওনার নাম ‘নিকষা’ অথবা ‘কৈকসী’ বা ‘কেশিনী’ বলা যায়। পুষ্পোৎকটার সন্তান হচ্ছে মহোদর, প্রহস্ত, মহাপাংশু ও খর এরা সবাই ছেলে আর মেয়ে হচ্ছে কুম্ভিণাশী। তাহলে এখানে পুষ্পোৎকটা আর কৈকসীকে এক করে দেওয়ার কাহিনি কী? ধরলাম কোনো এক পুরাণে, গ্রন্থে এই বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে তাহলে সেটার রেফারেন্স কোথায়? অথচ পুরো গল্পের সূত্রের সমাধান এই ভিত্তির ওপর নির্ভর!
যেহেতু এরা সবাই পুলস্ত্য পৌত্র-পৌত্রী তাহলে সেই হিসেবে আসে সাতের অধিক! এখন সাতের সাথে সাত মিলিয়ে যে জিগ স পাজল ক্রিয়েট করেছে সেটা তো পুরোপুরি ভ্যালু লেস! যদি এই বিষয়ে পোক্ত রেফারেন্স থাকে তাহলে দুইয়ে দুইয়ে চার না হয় আরেকবার মিলিয়ে দেখব। অন্যদিকে মালিনী অর্থাৎ বিভীষণের মা কে এবং কোথায় থেকে এসেছে জানালে ভালো হতো। কনফিউজড হয়ে গেলাম।
১৮৯ পৃ: আবার খর ও দূষণকে শূর্পনখার আপন ভাই দেখিয়েছে। খর মানলাম কিন্তু দূষণ আপন ভাই কেমনে হয়? কিছু শাস্ত্রে লেখা শূর্পণখা রাবণের বোন তাহলে সেটা ভুল? রাবণ স্টেপ ব্রাদার না?
-
৮১ পৃ: মহাদেব শিব আর দেবী পার্বতী হানিমুন করছেন।
কোন লজিকে কেউ নিজ বাসগৃহে হানিমুন করবে? নিজের আবাস্থলে কেউ হানিমুনের পরিকল্পনা করে বলে শুনেছেন?
মানে যা ইচ্ছা তাই?
-
১৩১ পৃ: বোনের সম্মানের জন্য রাবণ নিজের রাজত্ব ও জীবনের পরোয়া না করে রামের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। আর রাম সবার কথা শুনে স্ত্রীর সতীত্বের পরীক্ষা নিয়েছে।
পুরো রামায়ণে যে লঙ্কাকাণ্ড বেধেছে সেটার কারণ কি শুধু এইটা? আর রাবণ যে তার বোনের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সীতকে হরণ করেছে তার পূর্বে দেখা উচিত না শূর্পণখা কী করেছে। সে দেখেছে যে রামের স্ত্রী সীতা, লক্ষ্মণ অলরেডি বিবাহিত জেনেও তাদের বিয়ের প্রপোজ করলে তাকে কি আদর আপ্যায়ন করবে? রাবণের এমনিতে পূর্ব থেকে সীতার প্রতি লোভ এবং স্বয়ংবর সভায় হরধনু ভাঙতে না পেরে ক্রোধান্বিত ছিল। এইজন্য সে সুযোগে সৎ ব্যবহার করে সীতাকে অপহরণ করে৷ অন্যদিকে সীতার সতীত্ব প্রমাণ দিতে রাম নিজে মানা করেছে, কিন্তু সাধারণ জনগণ বলে কথা। এই আমাদের সমাজের মতো। কোনো মেয়ে এক রাত উধাও হলে বা খুঁজে পাওয়া না গেলে কলঙ্কের কালি মেরে তাকে কালো বানিয়ে দেয়। সত্যতা কী সেটা কেউ খুঁজে না। তখন পরিবার না চাইলেও তাকে প্রমাণ দিতে হয় যে সে সতীসাবিত্রী। এই টেস্ট করো, ওই টেস্ট করো ব্লা ব্লা ব্লা! সবকিছু কানেক্টেড, খালি মাথা দিয়ে ভাবলেও এইরকম অনেককিছু মিলকরণ করতে পারবেন।
-
২১০ পৃ: “রাবণ যজ্ঞ করেছিল কারন (কারণ) সে ভয়ানক প্রফেশনাল ছিল। তাকে যজ্ঞে ডাকলে সে না করতে পারেনি।”
রাম যদি সেতু বানানোর জন্য মহাদেব থেকে পারমিশন নেওয়ার থাকে কেন রাবণের যজ্ঞ করতে হবে? আবার রাবণ কেন রামের জন্য নিজ থেকে যজ্ঞ দিবে? যদি সে যজ্ঞও করে, তার যজ্ঞে সে কেন সাড়া দিবে? গোঁজামিল লাগছে পুরো।
-
২৩৮ পৃ: “লক্ষণ (লক্ষ্মণ) যে রাবণের হাতে একবার মারা গেছিল এটা নিশ্চয় জানেন?”
কোনকালে লক্ষ্মণ রাবণের হাতে মারা গিয়েছিল? আমি তো জানি মেঘনাদের হাতে মারা গিয়েছে!
-
২৯১ পৃ: ব্রহ্মার চার মুণ্ডুর তিনটা দেখবার কারণ হলো শিব।
ব্রহ্মার ছিল পাঁচ মুণ্ডু। একটা কেটে হয়েছে চার। তাহলে তিনটা কখন, কীভাবে হয়েছে?
আবার কিছুটা নিচে বলা হয়েছে, ইন্দ্র না-কি কোনো দেবতা না। এটি একটি পদ বা পোস্ট। অর্থাৎ এই পদে যে বসবে তার নাম হয়ে যাবে ইন্দ্র? তাহলে অগ্নিদেব এই পদে বসলে তিনি ইন্দ্র হয়ে যাবে। আমি তো জানি ইন্দ্র বজ্রের দেবতা। সেখানে লেখক আবার গ্রিক দেবতা জিউসকেও টেনেছেন।
আরও কী কী যে করেছেন ভাবাও যায় না।
-
৩০৬ পৃ: এখানে সীতা ও শূর্পণখার মধ্যে কিছু আলোচনা তুলে ধরেছেন লেখক। যেখানে সীতার দার্শনিকতার উদাহরণ পাওয়া যায়। সেখানে একটি লাইন ছিল—
❝মানুষ কোন (কোনো) বিচারেই কখনও সন্তুষ্ট হতে পারে না, অন্যদিকে বন্য প্রাণীরা কখনই বিচারের দাবি করে না।❞
শতভাগ সত্য।
-
৩১৫ পৃ: মেঘনাদ লক্ষণকে (লক্ষ্মণকে) নিরস্ত্র মানুষের উপর (ওপর) হামলা করে ক্ষত্রিয় ধর্ম কলুষিত করতে নিষেধ করেছিল, কিন্তু লক্ষণ (লক্ষ্মণ) শোনেনি। মেঘনাদকে ব্রুটালি হত্যা করে, কিসের (কীসের) কি (কী) ধর্ম আগে যুদ্ধে জিততে হবে না?
শুধু ছল করে হত্যা আর ব্রুটালি চোখে পড়েছে? অথচ লক্ষ্মণের সাথে মেঘের আড়ালে ছল করে যুদ্ধ করেছে বলেই সে মেঘনাদ। এটা তার স্টাইল? অন্য কেউ ছল করে মারলে পাপ! অথচ মেঘনাদ যে মায়া-সীতা ভ্রম সৃষ্টি করে সীতাকে মেরে ধোঁকা দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনতিদূরে নিকুম্ভিলায় গিয়ে যজ্ঞ করতে বসে আরও ক্ষমতাশালী হওয়ার জন্য তখন হনুমানের মুখে রাম জানতে পারে সীতাকে মেঘনাদ বধ করেছে! এই শুনে বিভীষণ লক্ষ্মনকে সেখানে নিয়ে যায়। কারণ মেঘনাদ সে যজ্ঞ করলে আরও দুর্ধর্ষ হয়ে যাবে। যে সুযোগে বাধাপ্রাপ্ত করার জন্য এই কাজটি করতে হয়।
আদতে সেই নিকুম্ভিলায় ন্যায়সংগত মহাযুদ্ধ ঘটেছিল। কিন্তু সেটাকে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-তে দেখানো হয়েছে অন্যভাবে। লক্ষ্মণকে ভিলেন আর মেঘনাদকে হিরো বানানোর প্রয়াস করিয়েছে। অথচ পুরো রামায়ণে স্থিতধী পুরুষ হচ্ছে লক্ষ্মণ।
-
এছাড়া আরও অনেক কিছু রয়েছে যেগুলো নিয়ে আলোকপাত করতে গেলে রিভিউ কাম আর্টিকেল বেশি হয়ে যাবে। অলরেডি সেইরকম হয়েছেও। বইটি পড়ে জানতে যেমন অনেককিছু পেরেছি আবার সেগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পেরেছি বলে ভালোও লাগছে। রামায়ণ ঘিরে কিছু বিতর্ক অবশ্যই রয়েছে। কারণ সনাতন ধর্মের বাইরে এই ধর্ম নিয়ে পরিচর্যা করা হয়। একেক ধর্মে নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে ব্যাখ্যা দিয়েছে। সেখানে দেবতা, রাক্ষস সবাই মানুষ। আবার সবাই যদি মানুষ হয় তাহলে সৃষ্টিকর্তা কে? আর সৃষ্টিকর্তা যদি না থাকে তাহলে বিজ্ঞানীদের মতবাদ আমাদের মেনে নিতে হবে। পৃথিবী থেকে ধর্ম উঠে যাবে, আক্ষরিক অর্থে প্রয়োজন হবে না। নাস্তিক বনে যাবো সবাই, ধর্ম দিয়ে যে নীতি ও ন্যায়ের পথ সেটাও বন্ধ হয় যাবে। ধর্ম মানে ধারণ করা সত্য-ন্যায়নীতি-কর্তব্য-মনুষ্যত্ব ইত্যাদি তো আছেই, খারাপের বিরুদ্ধে ভালোর লড়াই আরেকটি দিক। ধর্মের সবসময় জয় হয়, আর সে জয় করতে যদি অন্যায়ের আশ্রয় নিতে হয় অসুবিধে কোথায়? মহাভারত তো পুরোটা শ্রীকৃষ্ণের ছলাকলা দিয়ে পূর্ণ। যেখানে শকুনির মতো বিদ্বান ব্যক্তিও কূটনীতি আর রাজনীতি করে রক্ষা পায়নি। পৃথিবীতে ধার্মিক মানুষ আছে বলেই ‘সত্য’ নামে কিছু আছে। না হয় এই জোচ্চুরির আর রক্তপাতের দুনিয়ায় মনুষ্যত্ব বলে কিছু থাকত না। আগামীতে যে শতভাগ থাকবে না এইটা চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়। ছোটো থেকে যে পাঠ্যপুস্তকে ধর্ম এত কিছু শিখে ও জেনে আসলাম তাহলে সব মিথ্যা? পৃথিবীতে জ্ঞানী মানুষের অভাব নেই, আর অভাব নেই বলে থিউরি অগণিত। একেকজনের একেক মত। চলমান আছে আর চলতেই থাকবে। এমনিতে মানুষ হিরো থেকে ভিলেন আর অ্যান্টি হিরো বেশি পছন্দ করে। কারণ তারা কুল হয়। একরোখা, জেদি, প্যাশন নিয়ে দুনিয়ার কুকাজ করে থাকে বলেই হয়তো।
-
এছাড়া জটায়ুকে সম্পাতির আত্মীয় দেখানো হয়েছে। অথচ জানতাম জটায়ু সম্পাতির ছোটো ভাই!
জাতপাত নিয়ে বেশ ভালোই টপিক রয়েছে বইতে। আরও আছে ম্যাটার অ্যান্টিম্যাটার তত্ত্ব, পরমাণুর হাফ লাইফ তত্ত্ব। এছাড়া ইলেক্ট্রন, নিউট্রাল, পজিট্রনের ব্যাখা রয়েছে। এক জায়গায় পারমানবিক বোমা বিস্ফারণের সাথে ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগের ফলে কী হতে পারে সে তুলনা দিয়েছে। সামঞ্জস্যপূর্ণ লেগেছে। তবে ব্রহ্মাস্ত্রের প্রয়োগ নিয়ে যুক্তি খোঁড়া লেগেছে।
সম্রাট আশোকের রহস্য নয় মানব নিয়ে মিথ অন্যান্য দিক থেকে ভালো লেগেছে কারণ অনেক লেখক এই নিয়ে লেখলেও মাত্রাতিরিক্ত ব্যাখা দাঁড় করাতে পারেননি। সেদিক থেকে গুড এনাফ।
➢ লেখক নিয়ে কিছু কথা—
সিদ্দিক আহমেদের পড়া প্রথম বই। তবে ভুল একটা হয়েছে। ❛দশগ্রীব❜ হচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় নম্বর বই। প্রথমটি ‘নটরাজ’ যেটা আমার আগে পড়ার দরকার ছিল। তবে চিন্তামুক্ত কারণ পূর্বের বইয়ের মেজর কোনো স্পয়লার ❛দশগ্রীব❜ বইতে নেই। স্ট্যান্ড অ্যালোন হিসেবে আয়েশ করে পড়া যায়। শুধু শেষে গিয়ে একটি চরিত্রকে দেখানো হয় যে ‘নটরাজ’ বইয়ে অ্যান্টাগনিস্ট ছিল।
লেখকের ধৈর্য আর শ্রমের মিলেমিশে গড়া বইটি সমালোচনার চোখে দেখা ছাড়া বেশ তথ্যবহুল। তবে এতকিছু করেও কিছু জায়গায় মিস্টেক উনি এড়াতে পারেননি। যুক্তিতর্কের খাতিরে সব বাদ দিলেও এইরকম বইয়ে এত বেশি বানান ভুল সাথে সম্পাদনার কমতি ভালোই ভুগিয়েছে। ভালো একটি বইয়ের মান কমিয়ে দেওয়ার জন্য এইটুকু কারণ যথেষ্ট বলে বিবেচিত।
আশা করি পরবর্তী বইগুলোতে এই বিষয়ে লেখক সতর্ক থাকবেন।
● সম্পাদনা ও বানান—
কোন/কোনো, হ্যা/হ্যাঁ, কি/কী, দেয়া/নেয়া এইরকম মেজর ভুলের সাথে যুক্ত হয়েছে খৃস্টপূর্ব, সঙ্ঘ, বের-কে বর, সারাদিন-কে সারদিন, প্রধান-কে প্রাধান, যান্ত্রিক-কে যন্ত্রিক, সাপ-কে শাপ, এগুলো-কে আগুলো ইত্যাদি বানান আর টাইপোর ভুলের ছড়াছড়ি।
এছাড়া চরিত্রদের নামের উলটপালট করার সাথে দুই ফরমেটে লেখা বানান তো আছেই। ইকবাল-কে ইকবালা, শূর্পণখা-কে শুর্পণখা। অর্থাৎ ভুলের সাগরে ডুবে যাওয়া এইরকম তথ্যসমৃদ্ধ বইটির ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেছে। সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কিচ্ছু করার নাই।
● প্রচ্ছদ, লেটারিং—
❛দশগ্রীব❜ প্রচ্ছদ ভীষণ পছন্দ হয়েছে। বিশেষ করে লেটারিং। লেটারিং কাজটা আমার নিজের অনেক পছন্দের, সেদিক থেকে এই বইয়ের লেটারিং ছিল নজরকাড়া আর ইউনিক। সাথে পুরো বইতে নীলাভ একটা আভা বিরাজমান ছিল। যেটা বইয়ের কনটেন্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফ্রন্ট কাভারে সপ্তর্ষীমন্ডলের তারা এঁকে দেখানো সাথে কিছুটা নিচে প্রাচীন পালি এবং ব্যাক কাভারে ব্রহ্মাস্ত্রের মাঝে গোলাকার বৃত্তটি যেখানে বিশেষ অর্থ বহন করে। সবমিলিয়ে অসাধারণ।
● মলাট, বাঁধাই, পৃষ্ঠা—
২০১৮ সালের বই হিসেবে বাঁধাই বেশ টেকসই। নিউজ প্রিন্টের কাগজ হলেও মানে ভালো। ফন্ট স্পেস, লাইন গ্যাপ যথার্থ৷ দামের দিক থেকে এইরকম একটি বইটি সহজলভ্য। শুধু সম্পাদনা আর প্রুফের বিশ্রী কারণটা না থাকলে আরও ভালো হতো।
➠ বই : দশগ্রীব | সিদ্দিক আহমেদ
➠ জনরা : আর্কিওলজিক্যাল থ্রিলার
➠ প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০১৯
➠ প্রচ্ছদ : অয়ন
➠ প্রকাশনা : বাতিঘর প্রকাশনী
➠ মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা মাত্র
➠ পৃষ্ঠা : ৪০০
➠ রেটিং : ৩.৫/৫