১৮৭০ সালের ঔপনিবেশিক শাসনে থাকা ব্রিটিশ ভারতবর্ষ থেকে ১৯৯৩ সালের আধুনিক ভারতবর্ষ, এই সুবিশাল সময়কালে আলোড়ন ফেলে দেওয়া বারোটি রুদ্ধশ্বাস খুনের সত্য ঘটনা কাহিনি আকারে বর্ণনা করা হয়েছে এই বইতে।
কোনো হত্যাকাণ্ডের পটভূমি গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম, কোনোটির শৈলশহর দেরাদুন, কোনোটির আবার বোম্বাই শহর। ইন্দোরের দেশীয় রাজার বিলাসিতা থেকে পার্কসার্কাসের এক জাদুকরি হত্যা, এই ট্রু ক্রাইম সিরিজের প্রতিটি কাহিনির পরতে পরতে আঁকা হয়েছে অপরাধী মনস্তত্ত্ব, মোডাস অপারেন্ডি, হত্যাকাণ্ডের লোকাস ডেলিক্টি এবং রোমহর্ষক বিবরণ যার নিষ্ঠুরতা ও জটিলতার তীব্রতা বিস্ময়কর ও বেদনাদায়ক।
Debarati Mukhopadhyay is presently one of the most popular and celebrated authors of Bengali Literature and a TED Speaker having millions of readers worldwide.
A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.
A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.
Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.
Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.
She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.
An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.
She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.
লেখিকার একটা থ্রিলার আগে পড়েছিলাম, নরক সংকেত। সে এমনই অখাদ্য যে অর্ধেকও যেতে পারিনি। সে তুলনায় এই ট্রু ক্রাইম লেখাটা ভাল, যদিও লেখার মাঝে ট্যাবলয়েডের লেখার মত অ্যামেচারিশ ছাপ আছে। যদি জিজ্ঞেস করেন, এটা যদি অ্যামেচারিশ হয় তাহলে ভাল কোনটা? তাহলে প্রথমত নারায়ণ সান্যালের 'এমনটা তো হয়েই থাকে' কিংবা 'বিশ্বাসঘাতক' পড়তে পারেন। যা-ই হোক, ২.৫ দেয়া যায়।
সমকালীন বাংলা সাহিত্যে ট্রু ক্রাইমের একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান রয়েছে। পাঠকেরা মনে করতে পারবেন, কয়েকবছর আগেও বইমেলায় অবিসংবাদিত বেস্টসেলার হয়েছিল 'লালবাজার' সিরিজের বইগুলো। সেই ধারাতেই, তবে অনেক বেশি সুখপাঠ্য এবং যথাযথ ক্রাইম থ্রিলারের মতো করে একগুচ্ছ হত্যাকাণ্ডের আখ্যান পরিবেশিত হয়েছে এই বইয়ে। 'লেখকের কথা'-র পর এতে আছে~ ১. তারকেশ্বরের নবীন-এলোকেশী; ২. মহারাজ ও নর্তকী; ৩. খুন হলেন জাদুকরি; ৪. আগুন মেয়ের গুলিতে; ৫. খুন হলেন এলেন রায়; ৬. প্রতিশোধের ছোরা; ৭. এক খেলোয়াড়ের মৃত্যু; ৮. রাইটার্স দখল; ৯. শকুন্তলা নিধন; ১০. ধাপে ধাপে খুন; ১১. নৃশংস হত্যা; ১২. সাতাশ বছর আগে। গল্পগুলোতে বর্ণিত অপরাধের বর্ণনা পড়লে শিউরে উঠতে হয়। তবে মন ভেঙে যায় এ-কথা ভেবে যে পরাধীন ভারতের আইনব্যবস্থা ক্ষমতাসম্পন্ন অপরাধীকে ছাড়েনি, অথচ স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরে এক রাজ্যে বিচারব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করেছিল এক শক্তিধর। নির্মম, প্রখর, তথ্যনিষ্ঠ লেখায় সমৃদ্ধ এই বইটি হয়তো লেখকের শ্রেষ্ঠ কাজ। ট্রু ক্রাইমে আগ্রহী হলে বইটি অবশ্যই পড়তে অনুরোধ করব।
বইয়ের নামঃ হারিয়ে যাওয়া খুনিরা লেখকঃ দেবারতি মুখোপাধ্যায় প্রকাশকঃ দীপ প্রকাশন মূল্যঃ ২৬০/- আলোচকঃ দীপাঞ্জন দাস
ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ঘটনা বিভিন্ন সময়ে আলোড়ন ফেলেছে। কালের নিয়মে বেশিরভাগই স্মৃতি থেকে মুছে গিয়েছে, কিছু ছবি রয়ে গিয়েছে অস্পষ্টভাবে। সেই সমস্ত সত্য ঘটনাবলী উঠে এসেছে লেখকের ‘হারিয়ে যাওয়া খুনিরা’ বইয়ে। তিনটি আলাদা সিরিজে এটি ভাগ করেছেন লেখক। প্রত্যেকটি ঘটনায় ‘True Crime’ ধারার অন্তর্গত। প্রথম অংশ ‘হারিয়ে যাওয়া খুনিরা’। এই বইয়ে সর্বমোট ১২টি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। ১. তারকেশ্বরের নবীন-এলোকেশী ২. মহারাজ ও নর্তকী ৩. খুন হলেন জাদুকরি ৪. আগুন মেয়ের গুলিতে ৫. খুন হলেন এলেন রায় ৬. প্রতিশোধের ছোরা ৭. এক খেলোয়াড়ের মৃত্যু ৮. রাইটার্স দখল ৯. শকুন্তলা নিধন ১০. ধাপে ধাপে খুন ১১. নৃশংস হত্যা ১২. সাতাশ বছর আগে
অতি সাধারণ এলোকেশীর জীবনের ভয়ংকর অধ্যায়ের সাথে যেমন জুড়ে রয়েছে তাঁর করুণ পরিণতি আবার মহারাজ তুকাজিরাও হোলকারের কুকীর্তির কথাও বিস্তারে লেখেছেন লেখক। আগুন মেয়ে শামিম রহমানির নাম কীভাবে জড়িয়ে গেলো ভয়ঙ্কর খুনের সাথে, তাঁর বর্ণনা যেমন জায়গা পেয়েছে তেমনই সিপিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা এম এন রায়ের স্ত্রী এলেন রায়ের হত্যার নারকীয় কাহিনি। শেফালির প্রতিশোধ মনে করিয়ে দেয় আমেরিকান নেতা Douglas Horton-এর বক্তব্য- “While seeking revenge, dig two graves – one for yourself!” আমাকে অত্যন্ত নাড়া নিয়েছে রুচিকা গিরহোত্রার ঘটনাটি। স্বাধীনতার এত বছর পরেও রাঠোরের মতো আইএএস অফিসারের দ্বারা তাঁর মেয়ের সহপাঠী রুচিরার ভয়ঙ্কর ধর্ষণের পরেও কড়া শাস্তি ভোগ করতে হয় না। সরকারী আনুকূল্যে ক্রিমিন্যাল কীভাবে পার পেয়ে যান, এ তাঁর ভয়ঙ্কর উপাখ্যান। এই গল্পই আবার অন্যদিকে বন্ধুত্বের এক অদ্ভুত কাহিনিও তুলে ধরেছে যা জানতে হলে বইটি পড়তে হবে। রাইটার্স দখলের কাহিনি আমাদের নিয়ে যায় সেই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে, যেখানে ব্রিটিশদের কড়া জবাব দিয়েছিলেন তিন তরুণ- বিনয়, বাদল ও দীনেশ। শ্রীমতি ইন্দুমতী পঙ্খের হত্যার সাথে যে ভয়ঙ্কর লোভ জড়িয়ে ছিল, যার বলি হয়েছেন একাধিক, তাঁর দৃশ্য চোখের সামনে তুলে ধরেছেন লেখক। ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরির চক্ষুবিশেষজ্ঞ ডাক্তার এন এস জৈন ঘটালেন এক ভয়ঙ্কর কাণ্ড। এই হাইপ্রোফাইল কেসে উত্তাল হয় সমগ্র দেশ। তাঁর পরিণতি কী হয়, তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছেন লেখক। অন্তিম কাহিনি হাড়হিম করে দেবে বলেই মনে হয়েছে। সুদীপা পাল, রণধীর বসুর এই ঘটনায় সুদীপা শুধু নিজের পরিবারকেই হারায়নি, হারিয়েছিল তাঁর স্বাধীনতা, অস্তিত্ব, পরিচয়। অতীতে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর কিছু ঘটনা পরম্পরা সম্পর্কে জানতে হলে এই বই পড়া উচিৎ বলেই আমার মনে হয়। নন-ফিকশনের পাঠকদের এই বই ভালো লাগবে বলেই মনে হয়।
তারকেশ্বরের নবীন-এলোকেশী মহারাজ ও নর্তকী খুন হলেন জাদুকরি আগুন মেয়ের গুলিতে খুন হলেন এলেন রায় প্রতিশোধের ছোরা এক খেলোয়াড়ের মৃত্যু রাইটার্স দখল শকুন্তলা নিধন ধাপে ধাপে খুন নৃশংস হত্যা সাতাশ বছর আগে
ভারতবর্ষের বিভিন্ন শহরের অলিতে গলিতে প্রত্যেকদিনই ঘটে চলে এক বা একাধিক হত্যাকান্ড.. বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা সেই সব হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা কাহিনী চলে আসে আমাদের সামনে.. কখনও বা সেই কাহিনীর নৃশংসতা চমকে দেয় আমাদের, আবার কখনও বা তা নিতান্ত মামুলি হিসাবে চাপা পড়ে যায় খবরের ভিড়ে.. দীর্ঘ ৬০-৭০ বছর ধরে ভারতবর্ষের বুকে ঘটে চলা নৃশংসতম ও ভয়ঙ্করতম ১২টি খুনের ঘটনার কথা উঠে এসেছে দেবারতি মুখোপাধ্যায়-এর লেখা 'হারিয়ে যাওয়া খুনিরা' বইটিতে.. এই বইয়ে বর্ণিত প্রত্যেকটি খুনের ঘটনার বৈশিষ্ট্য হল, ঘটনার পূর্বকথা থেকে শুরু করে মামলার নিষ্পত্তি অবধি পুরো প্রক্রিয়াটাই ঘটনাক্রম সাজিয়ে সুন্দর করে পরিবেশন করা হয়েছে.. প্রত্যেকটি খুনের ভয়াবহতা আলাদা ভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে মানবজীবনের সাথে সম্পর্ক যেন আরও ভালোভাবে ফুটে উঠতে পারে.. অপরাধবিজ্ঞান, অবস্থার শিকার, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ - সবকিছুকেই এত সুন্দর ভাবে বর্ণনা করা হয��েছে যে পড়লে মনেই হবে না এটা কোনও সত্যকাহিনী, এই বর্ণিত কাহিনীকে গল্প মনে হতে বাধ্য.. ভারতবর্ষের বিভিন্নপ্রান্তে অবস্থিত যে সব খুনিদের কথা লেখিকা তুলে ধরেছেন, তাঁরা শুধু নৃশংসই নয়; সুবিধাভোগী ও লোভীও বটে.. ১২টি সত্য খুনের ঘটনা অবলম্বনে রচিত এই বইটি পড়া শুরু করলে ঘটনাগুলি সত্যিই চোখের সামনে ভেসে উঠতে থাকবে..
দেবারতি ম্যাম এর লেখা রুদ্র প্রিয়ম সিরিজের উপন্যাস , নারাচ ইত্যাদি পড়েছি। সম্প্রতি শেষ করলাম ' হারিয়ে যাওয়া খুনিরা ' প্রথম খন্ড। হারিয়ে যাওয়া খুনিরা হল true crime নিয়ে লেখা বারোটি হত্যাকান্ড এর কাহিনী রূপে বিবরন। এখানে বারোটি বিভিন্ন ধর্মী হত্যা কান্ড বর্ণিত হয়েছে। যাদের প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র। কোনো হত্যাকান্ড দুশো বছরের পুরনো তো কোনোটি ত্রিশ বছরের পুরনো। কোনো হত্যাকান্ডের সাথে জড়িয়ে রয়েছে নারীদের ওপর অত্যাচারের কাহিনী, আবার কোথাও রয়েছে একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারীর বিকৃতকাম মানসিকতা ও তার জন্য একটি নিরপরাধ মেয়ের আত্মহত্যা এবং সেই মেয়েটির পরিবার তছনছ হয়ে যাওয়ার কাহিনী। এই সব কাহিনীগুলির মধ্যে আমার সব থেকে প্রিয় হল রাইটার্স দখল, যা আমরা ইতিহাসে পড়েছি অলিন্দ যুদ্ধ নামে। বিনয়,বাদল ও দীনেশ নামক তিন বিপ্লবীর দেশপ্রেম তাদের আত্মবলিদানের কথা পড়ে গর্বে বুকটা ভরে ওঠে। সর্বোপরি প্রত্যেকটি ঘটনা খুবই সুন্দর ও বিস্তারিত ভাবে বর্ণিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডগুলির খুঁটিনাটি সমস্ত তথ্য লেখিকা তার কাহিনীতে তুলে ধরেছেন। এককথায় বলতে গেলে বাংলায় true crime নিয়ে লেখা শ্রেষ্ঠ রচনা।
হারিয়ে যাওয়া খুনিরা - ১ দেবারতি মুখোপাধ্যায় দীপ প্রকাশন
মহাশয়ার লেখা তিনটি ফিকশন উপন্যাস পড়েছি। অসাধারন লেগেছে। তারপর এলাম এই নন - ফিকশনের দোরগোড়ায়। এই বইয়ের ৩টি ভাগ রয়েছে। প্রথমটা পড়েছি। নন - ফিকশন গুলো রোমাঞ্চকর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বইটিতে রয়েছে মোট ১২টি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা। মজার ব্যাপার হলো, ১২ টি ঘটনাই আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপটের, সময়কালও ভিন্ন ভিন্ন। কোনো ঘটনা ৫০ বছর পুরোনো, কোনটা ১৫০ বছর। বইটিতে একদিকে রয়েছে কোনো নারীর ওপর হওয়া তীব্র অন্যায়ের বিবরণ, আবার কোথাও দেখা যায় কোনো নারীকেই অস্ত্র হাতে,খুনি রূপে। আবার কোথাও রয়েছে দেশীয় রাজার ব্যভিচারের বর্ণনা, কোথাও বা আছে প্রেম প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধের ধারা। সর্বোপরি, ঘটনাগুলোর সাথে দেওয়া ফটোগ্রাফগুলো পঠনকে সম্পূর্ন করে, সত্য ঘটনাগুলোর সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করেছে।
মুগ্ধ হয়ে পড়ছিলাম 📚... পড়তে পড়তে চলে যাচ্ছিলাম আজকের মুম্বই থেকে সেদিনের বোম্বাইতে.. Malabar hill, Versova এসব জায়গার পুরোনো ছবি কল্পনা করছিলাম...
আপনার লেখার বাঁধনে বাঁধা পড়াটাও একটা সুন্দর অনুভূতি...
some of the stories are really good but not all of them. It's a good page turner. and the best part is you get a lot of historical information. The real one.
৪.৫ তারকা। তথ্য বহুল চমৎকার একটা ট্রু ক্রাইম বই। তবে প্রতিটা ঘটনা অতি নাটকীয় ভঙ্গিতে লেখা। দুয়েকটা ঘটনার বর্ননা প্যাটার্ন বদলান যেত। তারপরও যথেষ্ট ভালো এবং রেকমেন্ডেড।
হারিয়ে যাওয়া খুনিরা বাবু ও বারবনিতা মৃত্যুমেডেল লেখক - দেবারতি মুখোপাধ্যায় প্রকাশক - দীপ প্রকাশন মূল্য - 760 (একত্রে) /-
হারিয়ে যাওয়া খুনিরা সিরিজটি বিখ্যাত লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় এর লেখা ট্রু ক্রাইম সিরিজ। এই প্রথমবার আমরা সিরিজ এর তিনটি বই সম্পর্কে একসাথে আলোচনা করছি। ট্রু ক্রাইম নিয়ে বাংলায় খুব একটা বেশি বই নেই, আমি আগের বছর লালবাজার সিরিজটি পড়েছিলাম এবং খুব এনজয় করছিলাম। সেই আগ্রহ নিয়েই লেখিকার এই সিরিজটি শুরু করেছিলাম। প্রথম দুটো পার্ট আমার কাছে বুক ফার্ম থেকে প্রকাশিত ভার্সন গুলো আছে, শেষ পার্ট মৃত্যুমেডেল দীপ প্রকাশন এর ভার্সনটি। ১৮৭০ সালের ঔপনিবেশিক শাসনে থাকা ব্রিটিশ ভারতবর্ষ থেকে ১৯৯৩ সালের আধুনিক ভারতবর্ষ, এই সুবিশাল সময়কাল নিয়ে ঘটে যাওয়া 20টি ঘটনা নিয়ে এই সিরিজটি, প্রথম পার্ট 'হারিয়ে যাওয়া খুনিরা' বইটিতে 12টি ঘটনা, দ্বিতীয় পার্ট 'বাবু ও বারবনিতা ' 2টি ঘটনা,তৃতীয় পার্ট 'মৃত্যুমেডেল ' বইটিতে 6টি ঘটনার বর্ণনা করা হয়েছে।
পটভূমি - হারিয়ে যাওয়া খুনিরা ট্রু ক্রাইম সিরিজ এর প��রথম বই, এই বইটিতে 12 টি হত্যাকাণ্ড বর্ণনা করা হয়েছে। কোনো হত্যাকাণ্ডের পটভূমি গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম, কোনোটির শৈলশহর দেরাদুন, কোনোটির আবার বোম্বাই শহর। ইন্দোরের দেশীয় রাজার বিলাসিতা থেকে পার্কসার্কাসের এক জাদুকরি হত্যা, এই ট্রু ক্রাইম সিরিজের প্রতিটি কাহিনির পরতে পরতে আঁকা হয়েছে অপরাধী মনস্তত্ত্ব, মোডাস অপারেন্ডি, হত্যাকাণ্ডের লোকাস ডেলিক্টি এবং রোমহর্ষক বিবরণ যার নিষ���ঠুরতা ও জটিলতার তীব্রতা বিস্ময়কর ও বেদনাদায়ক। 'বাবু ও বারবনিতা’ ‘হারিয়ে যাওয়া খুনীরা’ সিরিজের দ্বিতীয় খণ্ড। এই বইতে রয়েছে দুটি নন-ফিকশন উপন্যাস। একটির সময়কাল ১৮৮১ সাল ও অন্যটির ১৯৩৬ সাল। কিন্তু পটভূমি একই। সাবেক কলকাতার পতিতাপল্লী সোনাগাছি। ১৮৮১ সালে ত্রৈলোক্যতারিণী নামক সোনাগাছির এক বারবণিতা কিভাবে সিরিয়াল কিলার হয়ে উঠল তার রুদ্ধশ্বাস বর্ণনা রয়েছে প্রথম উপন্যাসে। আর ১৯৩৬ সালে উত্তর কলকাতার দুর্ধর্ষ খাঁদা গুণ্ডা, যে কিনা ছিল একদিকে ছিল অসংখ্য খুন-ডাকাতির খলনায়ক, অন্যদিকে সোনাগাছির ‘রবিনহুড’, তার দ্বৈতসত্তার ত্রাস জাগানো কাহিনী হল দ্বিতীয় উপন্যাসের উপজীব্য। পাশাপাশি ঊনবিংশ শতাব্দীর বাবু কালচার, তৎকালীন সোনাগাছির সমাজব্যবস্থাও এই বইতে আলোচনা করা হয়েছে দুই উপন্যাসের ছত্রে ছত্রে। 'মৃত্যুমেডেল' এই ট্রু ক্রাইম সিরিজেরই তৃতীয় খণ্ড। এই খণ্ডে রয়েছে ছয়টি সত্য ঘটনা, যেগুলো নানা সময়ে দেশের নানাপ্রান্তে আলোড়ন তুলেছিল। সিরিজের নিয়ম মেনে প্রতিটি ঘটনারই কেন্দ্রে রয়েছে একেকটি মৃত্যু, যে মৃত্যু সেইসময় জনমানসে সৃষ্টি করেছিল তীব্র প্রতিক্রিয়া। পরে ধীরে ধীরে সময়ের প্রলেপে তা হারিয়ে গিয়েছে ইতিহাসের গর্ভে। হারিয়ে গিয়েছে কুশীলবরাও।
পাঠ প্রতিক্রিয়া - ট্রু ক্রাইম সিরিজটি মূলত নন ফিকশন এর মধ্যেই পরে। লেখিকার এর আগে একটি মাত্র উপন্যাস আমি পড়েছিলাম ভালই লেগেছিলো, ট্রু ক্রাইম ঘরানা আমার বেশ পছন্দের তাই বই তিনটি তুলে নিয়েছিলাম, লেখিকা হতাশ করেননি। প্রথম পার্টটির 12টি ঘটনার নির্বাচন খুবই ভালো, তার সাথে লেখিকার কল্পনা মূল ঘটনা থেকে বিন্দু মাত্র বিচ্ছিন্ন করেনি। দ্বিতীয় পার্ট এর একটি গল্প চেনা, দারোগা প্রিয়নাথ এর বইটিতে পড়েছিলাম, এখানেও পড়লাম একটু আলাদা কিন্তু বেশ লেগেছে। আমার সবথেকে পছন্দের পার্টটি হলো তৃতীয় পার্ট মৃত্যুমেডেল, অসাধারণ কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা এখানে করা হয়েছে। মৃত্যুমেডেল গল্পটি এবং হায়েনা গল্পটি দারুন লেগেছে। লেখিকার রিসার্চ এবং পড়াশুনা সম্পর্কে কুর্নিশ জানাতেই হয়। প্রচুর তথ্যবহুল তিনটি বই। লেখার ভাষা খুব সাদামাটা, তরতর করে পড়ে ফেলা যায়। লাস্ট পার্টটিতে প্রত্যেকটি বিবরণে বেশ থ্রিলিং ব্যাপার পেয়েছি যা অন্য পার্ট গুলোয় মিসিং। লেখিকার সবথেকে বেশি সাফল্য সেখানেই গল্পগুলি পড়তে পড়তে প্রচন্ড অবাক হতে হয়েছে যে এইগুলি সত্য ঘটনা, পড়ার সময় সেটা একবারও মনে হয়নি, পড়ার মাঝে বিরতির সময় মাথায় এসেছে আরে এইসব সত্যিই ঘটেছিল। যারা ট্রু ক্রাইম নিয়ে পড়তে ভালোবাসেন তাদের জন্য এই সিরিজটি অবশ্যই পাঠ্য।
গল্প-উপন্যাস পড়তে অনেকদিনই আর তেমন ভাললাগেনা, সেই একই লেখকের কল্পনাপ্রসূত মইয়ে চড়ে চর্বিতচর্বণ। বরং non fiction আকর্ষণ করে অনেক বেশি। হারিয়ে যাওয়া খুনিরা কাল কিনেছি, আজই শেষ করে ফেললাম। বারোটি বিভিন্ন সময়ের সত্যিকারের খুনের ঘটনার রোমাঞ্চকর ন্যারেটিভ, সাথে detailing আর অজস্র ছবি। আগেরবছরের গোয়েন্দাপীঠ লালবাজার পড়েছিলাম, সেই বই খুব ভাল লেগেছিল, কিন্তু লেখনশৈলীতে লেখকের চেয়ে একজন পুলিশকর্তার ছাপ পেয়েছিলাম বেশি। সেদিক থেকে এই বই নাটকীয়তা ও গল্প বলাতে বলে বলে গোল দিয়েছে।