Jump to ratings and reviews
Rate this book
Rate this book
সময়: ১৮০ খ্রিস্টপূবার্ব্দ। মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন আর শুঙ্গ বংশের উত্থানের মধ্যে দিয়ে ভারতবর্ষ যখন ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম গণহত্যায় উত্তাল, এমনি এক বিক্ষুব্ধ সময়ে অপহৃত হলো তিব্বতের সবচেয়ে বড় মঠের প্রধান লামা। তাকে উদ্ধার করতে ভারতবর্ষের মাটিতে পা রাখলো তিব্বতের সেরা যোদ্ধাদের একজন।

অন্যদিকে, বর্তমান সময়ে আসাম থেকে রিসার্চ প্রজেক্ট শেষ করে দেশে ফেরার পথে গায়েব হয়ে গেল শাবিপ্রবি’র এক শিক্ষক। তাকে খুঁজে বের করতে সিলেট পাঠানো হলো অফিসার তানভীর মালিককে। একদিকে সিলেট শহরকে ঘিরে পুরনো ব্যক্তিগত তিক্ততা, অন্যদিকে ফিল্ড লেভেলে কাজের অনভিজ্ঞতায় দিশেহারা তানভীর মালিক প্রতি পদে হোঁচট খেতে-খেতে যখন প্রায় রহস্য উন্মোচনের দ্বারপ্রান্তে তখুনি সে আর তার অপারেটিভ টিম জানতে পারলো অতীত আর বর্তমানের এই জটপাঁকানো ঘটনার মূল নিহিত আছে এমন এক বিন্দুতে যেখানে অবস্থান করছে দুই হাজার বছরের পুরনো এক রহস্য- মানব সভ্যতা যাকে বুদ্ধের অন্ধকার অবতার নামে জেনে এসেছে।

রবিন জামান খানের নতুন হিস্ট্রিক্যাল থ্রিলার ব্ল্যাক বুদ্ধা- ধর্ম, গোত্র, লোভ, বিশ্বাসঘাতকতা আর ক্ষমতার লড়াইয়ের এক বিস্তৃত উপাখ্যান, যেখানে অতীতের পাপাচার সংজ্ঞায়িত করে চলেছে বর্তমান সংশয়কে।

479 pages, Hardcover

First published February 1, 2019

18 people are currently reading
431 people want to read

About the author

রবিন জামান খান একজন বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক । রবিন জামান খানের জন্ম ময়মনসিংহ শহরে, পৈত্রিক নিবাস নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষাতত্বে দ্বিতীয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি। পড়া-পড়ানো, শেখা-শেখানোর চর্চা থেকেই শিক্ষকতাকে পেশা ও লেখালেখিকে নেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংকলনে বেশকিছু মৌলিক ও অনুবাদ গল্প লেখার পাশাপাশি লিখেছেন একাধিক টিভি নাটক। তার মৌলিক থৃলার উপন্যাস শব্দজাল, ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু, ব্ল্যাক বুদ্ধা, ফোরটি এইট আওয়ার্স, দিন শেষে, আরোহী ও অন্ধ প্রহর ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে বিপুল পাঠক প্রিয়তা। বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতা থেকে প্রকাশিত তার মৌলিক গ্রন্থ ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু ও শব্দজাল পশ্চিম বঙ্গের পাঠক মহলে ভালোবাসা কুড়িয়েছে। ভারতবর্ষের ইতিহাসের রহস্যময় ঘটনাবলী, সেইসাথে মানব মনের জটিল মনস্তত্ত্ব বিষয়ে আগ্রহ থেকে উনি বর্তমানে কাজ করে চলেছেন একাধিক ইতিহাস নির্ভর ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার উপন্যাস নিয়ে। এরই প্রেক্ষিতে খুব শিঘ্রই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস বিখন্ডিত, রাজদ্রোহী, ধূম্রজাল, সিপাহী, অশ্বারোহী, মুক্তি। রবিন জামান খান ঢাকায় প্রথম সারির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবষেণা করছেন তিনি।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
54 (16%)
4 stars
124 (37%)
3 stars
109 (33%)
2 stars
29 (8%)
1 star
11 (3%)
Displaying 1 - 30 of 92 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 37 books1,867 followers
May 7, 2022
ইতিহাসাশ্রয়ী থ্রিলার লেখার ক্ষেত্রে লেখকের প্রসিদ্ধি তুলনাহীন। কিন্তু এই বিশেষ লেখাটি পড়তে গিয়ে ভয়ানক হতাশ হলাম তিনটি কারণে। তারা হল~
১. এর যে অংশটা ঐতিহাসিক, সেটা ভুলে ভরা। যা-ইচ্ছে-তাই লেখা হয়েছে মৌর্য, শুঙ্গ প্রভৃতি রাজত্ব এবং সে-সময়ের ভারতবর্ষ প্রসঙ্গে।
২. লেখার ভাষা অত্যন্ত অমসৃণ এবং কালানৌচিত্য দোষে পূর্ণ।
৩. সাম্প্রতিক কালের পটভূমিতে লেখা থ্রিলারটি রোমহষর্ক হলেও তার সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক সময়ের ঘটনার সম্পর্ক একেবারেই আরোপিত।
নাহ, ভালো লাগল না।
Profile Image for Dystopian.
434 reviews229 followers
November 5, 2023
ইতিহাসের পাতা থেকে : কালো রঙ এর বুদ্ধ হলো হত্যা, ক্রোধ ও আদি অন্ধকারের প্রতিক। ঘৃণা আর অজ্ঞতার অন্ধকার যখন ছেয়ে ধরে চারপাশ তখন মনুষ্য সমাজে নেমে আসে উগ্র দেবতার কালো রূপ।
উপমহাদেশের ব্লাক বুদ্ধার মিথের শুরুর ইতিহাস যখন থেকে শুরু বুদ্ধের এই ডেমনিক অবয়ব কে বৌদ্ধরা "MARA / মারা " নাম দ্বারা পরিচয় দেয়। ধারনা করা হয় ডেমনিক এই মারার আক্ষরিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা উভয়ই প্রাচীন বৌদ্ধ ধর্ম স্বীকৃতি দিয়েছিলো।
মারার আরো কিছু বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষন করতে গিয়ে ইতিহাস থেকে দেখা যায়, কেউ তাকে ধ্বংসে আনন্দিত" বলে উল্লেখ করেছেন। প্রাথমিকভাবে আবেগের এবং লালসা ও ভয়ের অনুঘটক হিসাবে চিহ্নিত হলেও পরবর্তীতে তা অনেক ভয়ংকর রূপ নিতে থাকে।


লেখক এর ব্ল্যাক বুদ্ধা এই মিথের উপর নির্ভর করে সময়ের আদি - বর্তমান দুই পাশ থেকে লিখে সমন্বয় ঘটানোর অসাধারণ চেষ্টা করা হয়েছে।


একদিকে বর্তমান, আরেকদিকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। দুই সময়ের প্লট দারুন লেখনী দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন লেখক। তবে ব্যেক্তিগত ভাবে আমার কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী দিক লেগেছে চরিত্র চিত্রন। প্রতিটা চরিত্র এত দারুন ভাবে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন, তা আপনার মনে গেথে যেতে বাধ্য।
তবে এক্সিকিউশনে গিয়ে তূলনামূলক দূর্বল লেগেছে সিরিজের প্রথম বই থেকে।
লেখকের অন্যান্য বই এর থেকে ব্লাক বুদ্ধায় ডিটেইলিং কাজ অনেক করেছেন, কিন্তু একশান সিকোয়েন্স গুলো কেমন খাপছাড়া লেগেছে৷ বেশির ভাগ সময় এটেনশন ধরে রাখতে পারিনি৷ তাছাড়া অন্য সব যায়গাই যথেষ্ট ইফেক্টিভ ছিল।
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books404 followers
February 25, 2019
#রিভিউ
ব্ল্যাক বুদ্ধা
রবিন জামান খান
বাতিঘর প্রকাশনী
পৃষ্টা: ৪৭৮
প্রচ্ছদ: ডিলান

খ্রীস্টপূর্ব ১৮০
ব্রাহ্মণ সেনাপতির হাতে খুন হলেন মৌর্য রাজা বৃহদ্র্থ। ভারতবর্ষ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বৌদ্ধ নিধনে নামল ক্ষমতা দখল করা সেনাপতি। এরই মধ্যে কিডন্যাপ করা হয়েছে তিব্বতের লামাকে। তিব্বতের লামাকে উদ্ধার করার জন্যে নিয়োগ দেয়া হলো বহু যুদ্ধের যোদ্ধা শামান ও তিরন্দাজ বিধুকে। পথে তাদের দেখা হল বৌদ্ধ ধর্মের দুই সম্প্রদায় শাক্য ও থারুদের সাথে। ভেদাভেদ ভুলে যারা একত্রিত হয়েছে।

কেন আটক করা হয়েছে লামাকে? বিধু ও শামান কি পারবে লামাকে উদ্ধার করে রহস্যের সমাধান করতে নাকি পড়তে হবে কোনো হিংস্র জাহান্নামে?

বর্তমান সময়
বাইরে স্পেশাল ট্রেনিংয়ে থাকা এজেন্ট তানভীরকে জরুরি তলব করে ডেকে আনা হল। উদ্দেশ্যে, সাস্টের এক প্রফেসর প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানে গিয়ে হাওয়া হয়ে গেছেন। সাস্টের সাবেক ছাত্র তানভীরের রয়েছে সিলেটে হৃদয়ভঙ্গের স্মৃতি। সে স্মৃতি নিয়েই সিলেটে প্রফেসরের খোঁজে আসলো তানভীর। সেখানে তার সাথে যোগ দিল ওসি জালাল, সুলতান ও ইকবাল। তারা কি পারবে প্রফেসরকে খুঁজে বের করতে ও তার হারিয়ে যাওয়ার রহস্য বের করতে? নাকি এমন কিছুর মুখোমুখি হবে যা দুনিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস হুমকির মুখে ফেলে দেয়?

ব্ল্যাক বুদ্ধা কি? কোনো মূর্তি কোনো মিথ,লিজেন্ড নাকি অলৌকিক কোনো কিছু যার জন্য প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে লড়াই? কি সম্পর্ক ব্ল্যাক বুদ্ধার সাথে প্রফেসর ও প্রাচীনযুগের লামার অন্তধানের? তানভীর কি পারবে এসব রহস্যের সমাধান করতে নাকি সে নিজেই রহস্যের অতলে ডুবে যাবে?

গতবছরের অন্যতম সেরা মৌলিক থ্রিলারের পর এ বছর লেখক রবিন জামান খান নিয়ে এসেছেন বিস্তৃত আকারের হিস্টিরিক্যাল ক্রাইম থ্রিলার ব্ল্যাকবুদ্ধা। দুটো টাইমলাইনে গড়ে উঠেছে উপন্যাসের প্লট। দুটো সময়কেই নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন লেখক। উপন্যাসের শুরুর দিকে একটু ধীরগতির মনে হতে পারে। প্রায় পাঁচশো পৃষ্টার বড় পরিসরের উপন্যাসে স্টোরি ও ক্যারেক্টার ডেভেলপ করার জন্যেই এরকমটা ঘটেছে। সময় গড়ানোর সাথে সাথেই উপন্যাসের গতি বেড়েছে। বইটার সবথেকে মজার ব্যাপার এত অপরাধের পরেও আপনাকে গল্পের মেইন কালপ্রিট খুঁজে পেতে গলগধর্ম খেতে হবে। প্রায় পাঁচশো পৃষ্টার বড় পরিসরের উপন্যাস। ধৈর্য্যচ্যুতি ও ক্লান্তি ভর হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তবে একটু ধৈর্য্য ধরে পড়লে সমস্যা হওয়ার কথা না। লেখক এক্ষেত্রে সুনিপুনতা দেখিয়েছেন। আমি অতিরিক্ত একশন সিন পছন্দ করিনা। এ উপন্যাসে প্রচুর একশন সিন আছে। তবে সেটাকে উপন্যাসের প্রয়োজনে উপভোগ্য মনে হয়েছে। সবথেকে ইন্টারেস্টিং ছিল ব্ল্যাকবুদ্ধার উত্থান ও এর রহস্যের ব্যাপারটা। পুরো গল্পে বেশ কয়েকটি ছোট টুইস্ট রয়েছে। ছোট তবে চমকপ্রদ।

চরিত্র বিশ্লেষণ: দুই টাইমলাইনের দুই নায়ক শামান ও তানভীর। দুজনেই সাহসী ও স্থিরবুদ্ধিসম্পন্ন। তুলনা করা সম্ভব নয়। তানভীর একটু সাধারণগোছের হলেও তার চরিত্রটায় আমার পছন্দ। এছাড়া উল্লেখযোগ্য তানভীরের সহকারী ওসি জালাল। দার্শনিক টাইপ একশন ক্যারেক্টার। ভালো লাগবে।
আরেকজনের কথা না বললেই নয়। সেটা হল ডাটা এনালিসিস্ট টমি পোদ্দার। ধুন্ধুমার পরিস্থিতিতেও বেশ মজা উপহার দিয়েছে চরিত্রটি। লেখক সব কৌতুকবোধ এর মধ্যে ঢেলে দিয়েছেন। বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্র।

সবশেষে প্রশ্ন ওঠে যায়, কেমন হল থ্রিলার পাঠকদের বহুল প্রতীক্ষিত, ঢাউস আকারের উপন্যাসটি? সম্ভাব্য উত্তরটা হল, পড়ে জেনে নিন ☺️☺️।
Profile Image for Rakib Hasan.
460 reviews79 followers
May 26, 2021
বেশ ভাল লেগেছে কিন্তু লেখকের অন্যান্য বই পড়ার পর ব্ল্যাক বুদ্ধা নিয়ে এক্সপেকটেশন অনেক বেশি ছিল। বইয়ে বেশ কিছু চরিত্র বেশ ভাল লেগেছে, শামান,বিধুর কথা উল্লেখ না করলেই হয়। বর্তমান সময়ের তানভির চরিত্রটা কেমন যেন লেগেছে, প্রধান চরিত্র কিন্তু মনে হয়েছে কিছুটা স্লান ছিল। জালাল এর অল্পস্বল্প হাস্যরসাত্মক কথাবার্তাও ভাল লেগেছে৷ সাইড ক্যারেক্টার গুলো বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। সুলতান এর ঠান্ডা চরিত্রটাও বেশ ভাল লেগেছে, একদম মনের মত হিটম্যান যা বই কিংবা সিনেমায় পাওয়া সম্ভব, আলাদা কোন ভনিতা নেই। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে লেখক বেশ ভাল কাজ করেছেন। শামান এর পর আমার সাইড ক্যারেক্টার বিধু এবং জালাল কে ভাল লেগেছে। জালাল এর ডায়লগ গুলো বেশ মজার ছিল,অল্প সময়েই এই চরিত্র মনে দাগ কেটে গিয়েছে।

কিন্তু যে মিথ নিয়ে এই এতকিছু সেটা এত হালকা কিছু হবে আশা করিনি। এই বিষয়টা নিয়ে ব্যক্তিগত আক্ষেপ থেকেই যায়।

যাইহোক আমার রেটিং ৩.৫★ এ��চুয়ালি, কিন্তু খারাপ ভাববেন না কেউ, বইটা আসলেই দুর্দান্ত কিন্তু এক্সপেকটেশন লেভেল বেশি ছিল। সুলেখক রবিন ভাইয়ের এই জনরার লেখাগুলো খুব উপভোগ করি। রবিন জানান খান এর সপ্তরিপু, ২৫শে মার্চ পরেই উনার লেখার ফ্যান। হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার আমাদের দেশেই এত ভাল কেউ লিখতে পারে রবিন জামান খান তার প্রমাণ। আশা করি নিয়মিত লেখকের কাছ থেকে এই জনরায় লেখা পাব।
Profile Image for Sanowar Hossain.
281 reviews25 followers
October 31, 2022
দুইটি সমান্তরাল সরলরেখা পরস্পরকে কখনো ছেদ করেনা। তবে রবিন জামান খান দুইটা সমান্তরাল ঘটনাকে এক সুতোয় বেঁধেছেন সিদ্ধহস্তে। 'সময়' সিরিজের দ্বিতীয় বই 'ব্ল্যাক বুদ্ধা'। নাম থেকেই আঁচ করা যায় বইটি বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারক গৌতম বুদ্ধ সংশ্লিষ্ট।

১৮০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের ভারতবর্ষ। উত্তরে ইউরোপিয়ানদের আক্রমণ ঠেকাতে জীবনে প্রথমবারের মতো নিজ এলাকার বাইরে বের হয়েছেন মৌর্য বংশের শেষ সম্রাট বৃহদ্রথ। এখানেই সেনাপতি পুশ্যমিত্র বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যা করে বৃহদ্রথকে। তারপর নিজেকে শুঙ্গ বংশের রাজা ঘোষণা করে মৌর্য শাসনের সমাপ্তি ঘটায়। ক্ষমতা দখলের পরপরই বৌদ্ধদের উপর গণহত্যা চালায় পুশ্যমিত্র। শহর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়? তাই এই ঘটনার প্রভাব পড়ে কন্নোর রাজ্যেও। এই অঞ্চলে বাৎসরিক ভ্রমণে ছিলেন তিব্বতের শান্তি মঠের প্রধান ডুকমা লামা। শুঙ্গদের ক্ষমতা গ্রহণের পর অপহৃত হন তিনি। তাকে উদ্ধারেই ডাক পড়ে লাল চুল ও নীল চোখের তিব্বতি যোদ্ধা শামান ও সিংহল-আসামের সেনাবাহিনীতে কাজ করা বিধুর।

বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ। পিবিআইয়ের একজন অ্যানালিস্ট তানভীর মালিক। ফিল্ড এজেন্ট হিসেবে অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানের একটি স্বতন্ত্র উইংয়ের প্রধান হাবিব আনোয়ার পাশা তানভীরকে স্কটল্যান্ডে পাঠান প্রশিক্ষণের জন্য। কিন্তু প্রশিক্ষণ চলাকালীনই জরুরিভিত্তিতে দেশে ফেরত আসতে হয় তাকে। কারণ সাস্টের একজন শিক্ষক নিখোঁজ। তিনি দীর্ঘদিন যাবত আসামে প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযান চালাচ্ছিলেন। সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। তবে এবার দেশে ফেরার সময় সীমান্ত অতিক্রম করার পরই তাদের আর কোনো খোঁজ নেই। একেবারে পুরো দলটাই লাপাত্তা। এদেরই খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেয়া হয় ফিল্ড এজেন্ট হিসেবে অনভিজ্ঞ তানভীর মালিককে। এরকম একটি দায়িত্ব তাকেই কেন দেয়া হল তাও আবার জরুরি তলব করে, এসব নিয়ে ভাবতে থাকে সে। তানভীর মালিক কি পারবে জীবনের প্রথম মাঠ পর্যায়ের অপারেশনে সফল হতে? নাকি শুরুতেই নিজের ক্যারিয়ারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে?

বইটার ভালো দিক হলো সাবলীল লেখা। ইতিহাসের উপাদানকে সবাই ব্যবহার করতে পারেনা। লেখক এদিক দিয়ে ভালোই কাজ দেখিয়েছেন। তথ্য সংগ্রহে পরিশ্রম করেছেন বইটা পড়লেই বোঝা যায়। সপ্ত রিপু পড়েছিলাম। তবে বইটা ভালো ছিল ব্ল্যাকবুদ্ধার তুলনায়। দুই সময়ের দুই নায়ক তানভীর ও শামানের মধ্যে শামান চরিত্রটি অসাধারণ লেগেছে। জালাল ও সুলতানের গুলি চালানোটা উপভোগ্য ছিল।

বানান ভুল আর অ-সম্পাদনা নিয়ে কিছু বলব না। এটা অভ্যাস হয়ে গেছে বাতিঘরের বই পড়তে গিয়ে। প্রথমদিকে তানভীর মালিকের অপারেশনে একবার বলা হয়েছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ও জার্মান পুলিশের অপারেশন, আবার পরের পৃষ্ঠায় জার্মান পুলিশের জায়গায় সেটি এফবিআই উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু জায়গায় বাক্যের পুনরাবৃত্তি এবং বাহুল্যতা ছিল। তানভীর মালিকের 'ডেজার্ট ঈগল' পিস্তল যখন দেয়া হয় তখন এটাকে 'ফিফটিন রাউন্ড' ম্যাগাজিনের উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে ষোলো রাউন্ডের ম্যাগাজিন বলা হয়েছে। লিচ্ছবীদের আক্রমণের একপর্যায়ে তাদেরকে শাক্য বলা হয়েছে। লাক্কাতুরার বাংলোয় হামলা চালানোর সময় সুলতান ও জালাল মোট ৬ জনকে হতাহত করে। তবে লাশ উদ্ধারের সময় ৪ জন নিহত আর ১ জন আহত ব্যক্তির উল্লেখ করা হয়েছে।

অতীতে একজন সূত্র দিল 'কাল বাদে পরশু'। তারপর সাথে সাথেই মারা গেল। আবার বর্তমানে একজন সূত্র দিল 'টাইটানিক'। আর সাথে সাথেই মারা গেল। মানে অতীত পড়লে বর্তমান অনুমান করা যাচ্ছে। এরকম অনেক ঘটনা আছে কাছাকাছি পর্যায়ের। সপ্তরিপুতে যে কাহিনি বিন্যাস ছিল। এখানেও তাই। মগরাজ কিংবা পরবর্তীতেও হয়ত একইরকম হবে। নতুনত্ব নাই আরকি।

আরেকটা ব্যাপার বুঝিনি। অপারেশন ব্ল্যাকবুদ্ধা হইল ২০১৯-এ। অথচ ২০১৮ সালের সপ্তরিপু বইতে ব্ল্যাকবুদ্ধার কমান্ডার অপারেশন শেষ দিয়ে আসলো কিভাবে? যেহেতু বই দুইটিতে বর্তমান সময় বলতে নির্দিষ্ট কোনো সালের উল্লেখ করেননি লেখক, তাহলে স্ব স্ব বইয়ের বর্তমান সময় কি ওই বইয়ের প্রকাশকাল হওয়া উচিত না?

রিভিউ পড়ার জন্য ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং।
Profile Image for Aishu Rehman.
1,106 reviews1,082 followers
May 10, 2024
কোন এক অদ্ভুত কারণে সম্পূর্ণ সিরিজের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় বই এইটা, 'ব্ল্যাক বুদ্ধা'। একদিকে শামান, বিধু আর কালন্তি অপরদিকে জালাল আর সুলতান সবাই পুরো বইটাতে সমানভাবে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। অতীত বর্তমান দুটো অংশই টানটান উত্তেজনায় ঠাসা ছিল বলায় বাহুল্য। তানভীর মালিকের চরিত্রটাও একদম পারফেক্ট। অনভিজ্ঞ হিসেবে অতিরিক্ত হিরোইজম দেখালে বরং সেটা দৃষ্টিকটুই লাগতো। শামানের অতীত ইতিহাসটা জানার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। অবশ্য ওটুকু আফসোস নিয়েই তৃপ্তি আরো বেশি পেয়েছি।
Profile Image for Farzana Raisa.
533 reviews238 followers
January 29, 2024
ব্ল্যাকবুদ্ধা বইটাকে যদি রেটিং দিতে বলা হয় আমার ক্ষেত্রে বোধ হয় বিবেকের আগে আবেগ কাজ করবে 😑 তার অন্যতম কারণ বইটার বর্তমান অংশ যে জায়গাটাকে কেন্দ্র করে লেখক লিখেছেন, সেই জায়গাটা ❤️ লেখকের এই ব্যাপারটা খুব ভালো লেগেছে, সময় সিরিজের প্রথম পর্ব সপ্তরিপু ছিল ময়মনসিংহকে কেন্দ্র করে, ময়মনসিংহ শহরটার চিত্র এতো সুন্দর করে ফুটে উঠেছে.. খুব ভালো লেগেছিল। ব্ল্যাকবুদ্ধা যখন প্রকাশিত হয় তখন শুনেছিলাম সাস্টকে কেন্দ্র করে। বিখ্যাত এক কিলো দিয়ে হেঁটে আসতে আসতে ফ্রেন্ডের সাথে এই বই নিয়ে আলাপ করতে করতে আসছিলাম.. স্পষ্ট মনে আছে খুব। এখন যখন প্রাক্তন স্টুডেন্ট হয়ে সাস্ট কিংবা অতি পরিচিত সিলেট শহরের বিভিন্ন এলাকাগুলায় তানভীরের সাথে দৌড়ে বেড়াচ্ছিলাম.. তখন ঠিক কেমন লাগছিল তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আসলেই পারব না! লেখক নিজেও সাস্টের প্রাক্তন স্টুডেন্ট, এমন ট্রিবিউট আর হয় না!

বই সম্পর্কে আসি.. বর্তমান এবং অতীত দুইটাই সমান গতিতে এগিয়ে গেছে এবং দুই অংশই সমান পরিমাণ টানটান উত্তেজনাময়। মাঝে মাঝে তো মনে হচ্ছিল আগে হয় বর্তমান অংশটা পড়ে ফেলি এরপর অতীতটা পড়ব -_- বা আগে অতীত অংশ এরপর বর্তমান :v দুই অংশের দুই নায়ক, তানভীর আর শামান দুইটা ক্যারেক্টারই খুব ভাল্লাগসে। শামান বেশি জোস! আগেরকার দিনের যোদ্ধাদের আমরা ঠিক যেভাবে কল্পনা করি... ঠিক সেরকম। আবার বর্তমানের নায়কের কথা যদি বলি, বিশেষ করে, নায়ক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হলেই যে এক্সট্রাঅর্ডিনারি হয়ে যায় না.. এই ব্যাপারটাই বেশি ভাল্লাগসে। এখানে নায়কও মাইর খায়, বন্দুকের নলের মুখে সামনে দাঁড়িয়ে হতবুদ্ধি হয়ে মৃত্যু আসন্ন ভেবে সারাজীবনের সব কর্মকাণ্ড চোখের সামনে দেখতে থাকে-এই ব্যাপারটা ভাল্���াগসে। ভাল্লাগসে সাইড নায়ক অভিজ্ঞ ফিল্ড অফিসার লাফায়ে শিপে উঠে যায় কিন্তু ফিল্ডে অনভিজ্ঞ কিন্তু ট্রেনিং-এ হায়েস্ট পাওয়া তানভীর ঠিকই রেলিং-এ ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে নেয় নদীতে। সুলতানকে তো অবশ্যই ভালো লাগসে। আমি মনে মনে যত কারেক্টারাইজেশন করি, আমার মেয়ে ক্যারেক্টারগুলা এই টাইপই হয় :v কিন্তু খারাপ লাগা বলতে ক্যান জানি যতো বই শেষ হয়ে আসছিল.. আমার মনে হচ্ছিল মনে হয় আমি সব কিছুর উত্তর পাইনি। কেমন একটা অসম্পূর্ণ একটা ফিলিংস মনের মাঝে খচখচ করছিল। যদিও লেখক যথাসম্ভব চেষ্টা করেছেন উত্তর দিতে, তাও! আবার টুইস্টও অমন আহামরি লাগে না���.. চমকাইতে পারি নাই.. কারণ একটু খেয়াল করে পড়লে এমনেই বুঝে ফেলার কথা। তবে, সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বইয়ের চমৎকার গতি। থ্রিলার যদি পড়াই লাগে তো এরকমই হওয়া উচিত। সাসপেন্স অংশে এসে দুনিয়াদারি মাথায় তুলে ফেলার মত। ওভারঅল, বেশ ভালো। তার চেয়ে ভালো জায়গাটা ^_^ সাস্ট এবং সিলেট! ❤️

অবশ্যই রেকমেন্ডেড।
Profile Image for Kawsar Mollah.
141 reviews7 followers
December 25, 2021
অনেক আশা নিয়ে শুরু করেছিলাম। লেখকের ড্রীম প্রজেক্ট, তাই বোধহয়  আশাটা একটু বেশিই ছিল।

বইয়ের সবচেয়ে বিরক্তিকর দিক ছিল অসংখ্য  প্রিন্টিং  মিস্টেক  ও বানান ভুল। বানান ভুল ছিল হাইওয়ে তে স্পিড ব্রেকারের মতো। প্রুফ রিডিং এ চূড়ান্ত অবহেলা। প্রুফ রিডিং  হয়েছে কিনা সেই ব্যাপারে সন্দিহান।  এই সমস্যা না থাকলে এক স্টার বেড়ে যেতো। 

বইয়ের শুরুটা দুর্দান্ত  ছিলো পৃষ্ঠা  উল্টানোর  সাথে সাথে যেন বইটা ঝিমিয়ে গেছে। 

ছোট একটা কাহিনী কে  অ্যাকশন আর অ্যাকশনের প্ল্যানিং দিয়ে অযথা টেনে নিয়ে গেছেন।পেজ সংখ্যা আরো অনেক কম হতে পারতো।


সুতরাং  বলা যায় দারুণ  একটা শুরু দিয়ে শেষটা হতাশ করেছে।


রবিন জামান  খান দেশের অন্যতম  সেরা মৌলিক হিস্টরিকাল থ্রিলার লেখক সেটা তিনি তার সপ্তরিপু দিয়ে বেশ ভালো ভাবেই প্রমান রেখেছেন।


ভবিষ্যতে  খেয়াল রাখবেন  প্রুফ রিডিং এর কারনে আপনার সৃষ্টিগুলোকে যেন গলা টিপে হত্যা না করা হয়।


হাতে সপ্তরিপু  আর ব্ল্যাক বুদ্ধা থাকলে - আগে ব্ল্যাকবুদ্ধা পড়ুন তারপর সপ্তরিপু  পড়ুন।


হ্যাপি রিডিং 😊
Profile Image for Bimugdha Sarker.
Author 15 books90 followers
February 22, 2019
রবিন জামান খানের 'সপ্তরিপু' ছিল আমার পড়া লেখকের প্রথম বই । সেই সুবাদে লেখকের ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম , এবং একে একে 'আরোহি-অন্ধ প্রহর', ২৫শে মার্চ জোগাড় করে পড়ে ফেলেছিলাম ( কোনো লেখকের বই ভাললাগলে তার সব পড়ে ফেলা আমার অভ্যাস ) । সেই সুবাদে 'ব্ল্যাক বুদ্ধা' টাও জোগাড় করে ফেলেছিলাম ৪-৫ দিন আগে। কিন্তু যে পরিমান হাইপ,এক্সাইটমেন্ট নিয়ে পড়তে বসেছিলাম , তা ঠিক কেন জানি পুরোপুরি পূরন হয়নি , বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ম্যাড়ম্যাড়ে লেগেছে । আগেই বলে রাখছি , এগুলো একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত , তাই একেবারে নিজের মনের কথাগুলোই লিখি রিভিউগুলোতে ।

বইটার বিষয়বস্তু মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর থেকে , সেটি ছড়িয়েছে তিব্বত থেকে দূর-দূরান্তে । আর হ্যাঁ এটি সেই টাইপের বই , যেখানে একই সাথে বর্তমান ও ভবিষ্যতের কাহিনি একই সাথে এগুতে থাকে । ব্যক্তিগত ভাবে আমি এরকম ধাঁচের ভক্ত না ; কিন্তু অবাক ব্যাপার , এখানে প্রতিটা জিনিস তাল মিলিয়ে চলেছে । অতীতের শামান আর বর্তমানের তানভীর -- যেন একই ছায়ার অধিকারী । কাহিনি এমনভাবেই এগিয়েছে , তানভীরের যে মূহুর্তে বিপদ , শামান ও সেইরূপ বিপদে পড়েছে । তানভীর যখন বিট্রেয়াল এর শিকার, শামানও সেরকম প্রতারনার শিকার । অতীত ও বর্তমান যে একই ভাবে এগিয়েছে -- তার জন্য লেখককে বাহবা না দিয়ে পারছিনা । এটা অধিকাংশরাই পারেনা ।

গল্পে দেখা যায় --শামান ; যে কিনা তিব্বতের সেরা যোদ্ধাদের একজন , তাকে তার জন্মস্থান/বেড়ে ওঠার জায়গা মঠ থেকে ডেকে পাঠানো হয়, তার প্রানের অধিক প্রিয় ডুকপা লামা কে বাঁচানোর জন্য । তার সাথে যোগ দেয় মদ্যপ বিধু ( যে কিনা একটা অসামান্য ক্যারেক্টার এই গল্পের , একই সাথে ঝানু তীরন্দাজ । দুজনে মিলে বেড়িয়ে পড়ে লামার খোজে । একে একে পরিচয় হয় রাজা মানরু, কালন্তি, রাজা বিক্রম, শাক্যদের সাথে, ঘোষিত---আরো অনেকের সাথে ।

আবার একই সাথে বর্তমান এগিয়েছে পিবিআই এর সিনিয়র অফিসার তানভীরকে কেন্দ্র করে (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন এর ক্রিমিনাল উইং এর ) । প্রথম ফিল্ড এসাইনমেন্ট তার হয় সিলেটে , সাস্টের এক আর্কিওলজিকাল ডিপ. এর প্রফেসরকে খুঁজে বের করা । সেখানে গিয়ে খুঁজে পায় তার হৃদয় রক্তাক্ত করা মানুষটার সাথে ; যার কারনে এখনো তানভীর সহজ জীবনে ফিরে যেতে পারেনি । এই অভিযানের সঙ্গী হয় লারা ক্রফট এর মত এজেন্ট সুলতান , জলিল , তমি পোদ্দার , প্রফেসর মিতিয়ান --- আরো অনেক চরিত্রের সাথে । প্রফেসরকে খুজতে খুজতে ওরা খোজ পায় ব্ল্যাক বুদ্ধা নামের এক প্রাচীন মূর্তির কথা , যা নেবার জন্য দেশের ভেতরে আন্তর্জাতিক এন্টিক পাচার চক্রদের রণযুদ্ধ লেগে যাচ্ছিল । তানভীর ও তার টিম কি পারবে সফল হতে , একই সাথে হাজার বছরের পুরোনো মিথের পিছে দৌড়াতে ?


প্রথম অসঙ্গতিতে আসি । যদি সত্যি শামান ও তানভীরকে একই মানুষের দুটি ভিন্ন ছায়া হিসেবে দাবি করা হয় , তবে তা ভুল । যেখানে শামানের প্রতিটা মুভমেন্ট , আচার-আচরন এ সে যে একজন পাকা যোদ্ধা , অভিজ্ঞ দলনেতা প্রকাশ পেয়েছে ; সেখানে তানভীরকে শুরুর দিকে একেবারে দুধের শিশু মনে হয়েছে । হ্যাঁ সে প্রথম ফিল্ডে কাজ করতে নেমেছে , কিন্তু শুরুর দিকে তার প্র্যাকটিস ম্যাচ দেখে তার এনালাইসিস এর দক্ষতা , লীডারশিপ যে ছিলনা -- এ কথা তার শত্রুও দাবী করতে পারবেনা । আমিও সেরকম ভাবে এগুচ্ছিলাম যে, তানভীর ও শামান দুজনেরই ধুন্ধুমার একশান , ব্যাটল প্ল্যান একেবারে নাড়িনক্ষত্র নিয়ে মজে থাকব । কিন্তু পরের দিকে শামানকে তার চরিত্র ধরে থাকতে দেখা গেলেও তানভীর ছিল পুরো ব্যর্থ । তার থেকে বরং সুলতান আর জলিল বেশি দক্ষতা দেখিয়েছে পুরো বইয়ে , ডিসিশানও ছিল তাদের অনেক ক্ষেত্রে( টমি পোদ্দারও অনেক কাজ দেখিয়েছে ) । তানভীর ছিল তার চরিত্র ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ ।

তবে এটা ভাললেগেছে যে , লেখক প্রেম ভালবাসার আভাস রাখলেও পরের দিকে কোনো মিলন রাখেননি , বরং উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছেন তার প্রাপককে । হ্যাটস অফ ! আমি ভয় পাচ্ছিলাম যদি তানভীর ও সুলতানের মধ্যে কিছু রসায়ন না তৈরি হয় ! বেঁচে গিয়েছিলাম !

হ্যাঁ আরেকটা অসঙ্গতি লেগেছে টমি পোদ্দারের সাথে সম্বোধন নিয়ে । একবার তুই, তুমি--তানভীর ফিলেডে প্রথম কাজ করছে , সেক্ষেত্রে সবাই তার সিনিয়র । এরকম ভাবে ( শুধুমাত্র নামের জন্য ) আচরন তার মধ্যে মানায় না , যতই সে কমান্ডার হোক মিশনের ।

আর হ্যাঁ ব্ল্যাক বুদ্ধা নিয়ে যে যে এতদূর গল্প এগুলো প্রায় ৫০০ পাতার , সে সম্পর্কে একটাই কথা বলব -- 'পর্বতের মূষিক প্রসব' । যে পরিমান মিথ ক্রিয়েট করা হয়েছিল এর ব্যাকস্টোরির পেছনে , তা থেকে শেষমেষ যা পেলাম -- আসলেই হতাশাজনক ছিল ।
টুইস্ট ছিল গল্পে , কিন্তু ওগুলো শেষের দিকে পরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে গিয়েছে যে , এখণো হজম হয়নি । অনেক কিছুই ধোয়াশা রয়ে গিয়েছে --- ঘোষিত আর বিধুর মিল থাকার কারন , শামান এর অতীত --- অনেক কিছু । লেখক কি পরবর্তীতে এই বইয়ের সিকুয়েল লিখবেন কিনা জানিনা , তবে এসব সুতো বেরিয়ে আছে গল্প থেকে -- তা জানানোটা দরকার ছিল ।
লেখকের কাছ থেকে পরবর্তীতে আরো ভালো লেখা আশা করছি ।

রেটিং --৩/৫
Profile Image for শুভাগত দীপ.
276 reviews43 followers
February 22, 2020
|| রিভিউ ||

বইঃ ব্ল্যাক বুদ্ধা
লেখকঃ রবিন জামান খান
প্রকাশকঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ার��, ২০১৯
দ্বিতীয় সংস্করণঃ এপ্রিল, ২০১৯
ঘরানাঃ হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার
প্রচ্ছদঃ ডিলান
পৃষ্ঠাঃ ৪৭৯
মুদ্রিত মূল্যঃ ৫২০ টাকা
ফরম্যাটঃ হার্ডকভার


কাহিনি সংক্ষেপঃ দেশের বাইরে থেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনিং শেষ করে আসতে না আসতেই পুলিশ ব্যুরো অভ ইনভেস্টিগেশন্স-এর এজেন্ট তানভীর মালিকের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হলো অদ্ভুত এক মিশনের দায়িত্ব। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সাস্ট)-এর আর্কিওলজি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক ড. মিতায়ন নিখোঁজ হয়েছেন। ভারতের আসামে এক গুরুত্বপূর্ণ এক্সপিডিশন শেষে ফেরার পথেই হারিয়ে যান ভদ্রলোক। চিরজীবন ডেস্কজব করে যাওয়া এজেন্ট তানভীর মালিককে খুঁজে বের করতে হবে ড. মিতায়নকে। আর সেই সাথে জানতে হবে আসলে আসামে কি খুঁজে পেয়েছিলেন ড. মিতায়ন।

ফিল্ডে এটাই পিবিআই এজেন্ট তানভীরের প্রথম মিশন। ওর এই মিশনের সাথে আবার জড়িয়ে গেলো সরকারি আরেক ডিফেন্স অর্গানাইজেশন ইমার্জেন্সি অ্যাকশন ফোর্স (ইএএফ)। মিশনের প্রয়োজনে তানভীরকে যেতে হলো সিলেট শহরে, যে শহর এক ভয়াবহ তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতি হয়ে আছে ওর মনের গহীনে। পুলিশের দক্ষ গানম্যান সুলতান আর ওসি জালালকে সঙ্গী হিসেবে এই মিশনে পেলো ও। আর নিখোঁজ ড. মিতায়নকে খুঁজতে গিয়ে তানভীরদের সামনে ধরা দিলো প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো এক রহস্য - ব্ল্যাক বুদ্ধা।

১৮০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। প্রাচীন ভারতে তখন সবে মৌর্য শাসন শেষ হয়ে শুরু হয়েছে ব্রাহ্মণবংশীয় শুঙ্গ রাজবংশের শাসন। ওটাকে আসলে শাসন না বলে দুঃশাসন বলাটাই বোধহয় ভালো। শুঙ্গ রাজা পুশ্যমিত্র সিংহাসনে বসেই নির্দেশ দিয়েছেন বৌদ্ধপ্রধান ভারতবর্ষের সমস্ত বৌদ্ধকে খুন করার। জ্বালিয়ে দেয়া হতে লাগলো একের পর এক বৌদ্ধ মঠ ও স্তুপা। পাইকারি হারে হত্যাযজ্ঞ শুরু হলো। আর এতে বলী হলো অসংখ্য বৌদ্ধ ভিক্ষু, শ্রমণ ও সাধারণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষ।

এমনই এক অস্থির সময়ে প্রাচীন তিব্বতের সবচেয়ে বড় মঠ শান্তির মঠের প্রধান ডুকপা লামাকে অপহরণ করা হলো ভারতবর্ষে তাঁর দ্বিবার্ষিক ভ্রমণ চলাকালীন সময়। শান্তির মঠের ভারপ্রাপ্ত লামা ডেকে পাঠালেন বিখ্যাত লাল চুল আর নীল চোখের পাহাড়ি যোদ্ধা শামানকে, যার নিজেরও শৈশব কেটেছে ওই শান্তির মঠে। আরেক দক্ষ তীরন্দাজ বিধুও সঙ্গী হলো তার।

শামান আর বিধু অপহৃত ডুকপা লামার খোঁজে পাড়ি জমালো প্রাচীন ভারতের কন্নোর বনভূমি অঞ্চলে, যেখানে আগে থেকেই জ্বলছে অশান্তির আগুন। লিচ্ছবি আর সর্পপূজারী উরগরা উৎখাত ও বন্দী করেছে শাক্য রাজা বিক্রমাদিত্যকে। কন্নোরের বনে থারু রাজার দল আর পলাতক শাক্যরা মিলে দিশেহারা দিনযাপন করছে। ঠিক এমন সময়েই তাদের মাঝে শামানের আগমন ভিন্ন কিছু ঘটনার জন্ম দিলো। শামানের হাতে উঠে এলো বিখ্যাত জোড়া কাতানা 'হিম্বা', যার সাহায্যে স্বয়ং ভগবান বুদ্ধদেব লড়াই করেছিলেন এক অন্ধকার শক্তির সাথে। আর সেই সাথে প্রাচীনতম এক রহস্যের সন্ধানও শামান পেলো যার ইতিহাস নাকি ভগবান বুদ্ধের অন্ধকার এক অবতারের ইতিহাস।

দুই হাজার বছর আগে লুকিয়ে রাখা এক রহস্যকে আজকের এই বর্তমানে কে বা কারা আবারো লাইমলাইটে আনতে চায়৷ অতীতে লড়াই করেছিলো পাহাড়ি যোদ্ধা শামান আর বর্তমানে লড়ছে পিবিআই এজেন্ট তানভীর মালিক। আর সবকিছুই আবর্তিত হয়েছে ও হচ্ছে একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে। যার নাম ব্ল্যাক বুদ্ধা।


পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ পড়ে ফেললাম রবিন জামান খানের সুবিশাল পরিসরের হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার 'ব্ল্যাক বুদ্ধা'। গতো বছরের বইমেলায় প্রকাশিত এই বইটা কোন এক অজানা কারণে আমার কেনাও হচ্ছিলোনা, পড়াও হচ্ছিলোনা। যদিও রবিন জামান খান আমার প্রিয় লেখকদের একজন। বেটার লেট দ্যান এভার৷ অবশেষে পড়া শেষ হলো। লেখক এর আগে '২৫শে মার্চ' ও 'সপ্তরিপু'-এর মতো হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার দিয়ে পাঠকমন জয় করেছেন।

'ব্ল্যাক বুদ্ধা'-এর কাহিনি একই সমান্তরালে এগিয়ে গেছে দুটো সময়কে সাথে নিয়ে। অতীত ও বর্তমান। দুই হাজার বছর আগের প্রাচীন ভারতের যে চিত্র লেখক এখানে এঁকেছেন, তা সত্যিই চমৎকার লেগেছে আমার কাছে। আর একইসাথে ব্যাপক তথ্যবহুলও বটে। আর বর্তমানকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর অতীতের সাথে যখন যোগসূত্র স্থাপিত হয়, আরো চমকে উঠতে হয়। টানটান উত্তেজনা আর রহস্যের সাথে সাথে একটা পারফেক্ট হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার হিসেবে 'ব্ল্যাক বুদ্ধা'-তে বানের জলের মতো এসে মিশেছে প্রাচীন ভারতবর্ষের এক অস্থির সময়ের ইতিহাস।

আমি জানি, হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের বেশিরভাগই এতোদিনে বইটা পড়ে ফেলেছেন। আমিই দেরি করে ফেললাম। ৪৭৯ পেজের স্বাস্থ্যবান এই বইটা নানাবিধ ব্যস্ততার কারণে আমার শেষ করতে কয়েকদিন লেগে গেছে। কিন্তু রবিন জামান খানের জাদুময় লেখনীর গুণে একেক বসায় অন্তত ৫০ পেজ করে পড়ে ফেলেছি এক টানে। অকুতোভয় পাহাড়ি যোদ্ধা শামানের দুঃসাহসিকতা ও এজেন্ট তানভীর মালিকের অ্যানালিটিক্যাল স্কিল আমাকে মুগ্ধ করেছে। আর লেখকের গল্প বলার ধরণ তো বরাবরের মতোই চমৎকার লেগেছে। অতীত ও বর্তমানকে পাশাপাশি রেখে এমন সুন্দরভাবে একটা কাহিনিকে উপস্থাপন করার জন্য লেখক রবিন জামান খানকে জানাই সাধুবাদ।

বেশ কিছু টাইপিং মিসটেক চোখে পড়েছে বইটা পড়তে গিয়ে৷ বইটার বাঁধাইও বেশ দুর্বল লেগেছে। প্রায় ৫০০ পেজের একটা বইয়ের বাঁধাই একটু শক্তপোক্ত না হলে কালেকশনে রাখতে ঝামেলা হয়। বাতিঘর প্রকাশনী কর্তৃপক্ষ আশা করি বাঁধাইয়ের ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন।

ডিলান সাহেবের করা মিস্ট্রিয়াস ব্ল্যাক প্রচ্ছদটা বেশ ভালো লেগেছে।


ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.২৫/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ৩.৫২/৫

© শুভাগত দীপ

(২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, সন্ধ্যা ৬ টা ২৮ মিনিট; নাটোর)
Profile Image for Rohun.
120 reviews58 followers
May 1, 2021
মিথলজি বা মিথ বা অমিমাংসিত রহস্য নিয়ে লিখেছেন, মানে আপনাকে সেই অমীমাংসিত অধ্যায়ে একটা মীমাংসা করতে হবে। সেটা ডিপেন্ড করে আপনার কল্পনাশক্তির প্রখরতার উপর। বুদ্ধের অন্ধকার অবতার মিথের মীমাংসাতে লেখক যেভাবে করেছেন সেটা ক্ল্যাপস দেবার যোগ্য। একটা অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটতো। আসলে কিভাবে ঘটত? আমরা জানিনা/। লেখক জানিয়েছেন নিজের কল্পনাশক্তির জোরে এক ব্যাখ্যায়।

সিরিজের প্রথম বই সপ্তরিপু ইন্টারন্যাশনাল বেস্টসেলার হবার যোগ্যতা রাখে। এই বইটা ছিলো লেখকের ড্রিম প্রজেক্ট - এইটা দেখে এভারেস্টসম প্রত্যাশা ছিলো আমার। দেশীয় প্রেক্ষাপটে মিথলজির ব্লেন্ডিং ছাড়া আর কোনোভাবেই তা পুরণ হয়নি। প্রমিসিং প্লট। প্রমিসিং স্টোরিটেলিং। এক্সিকিউশান উচ্চমানের নাহ!

এই উপন্যাস টার মাধ্যমেই আমি জানতে পেরেছি, বুদ্ধের অন্ধকার অবতার নামে একটা মিথ এক্সিস্ট করে। উপমহাদেশের এই সকল মৌলিক মিথলজি নিয়ে কাজের সংখ্যা খুব ই সীমিত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে প্লট টা একদম মন কাড়া। বুদ্ধ যেমন পুন্যের আলোয় আলোকিত। তিনি এক যুদ্ধে এক জাদুকরকে হারাতে গিয়ে সেই জাদুকরের আত্মাকে নিজের ভেতর আটকে রাখেন। বলা হয়ে থাকে এই আত্মাকে পুনরজ্জিবীত করতে পারলে তার সে বুদ্ধের মূর্তির ভেতর থেকে বুদ্ধের জীবনের অন্ধকার অধ্যায় গুলো বলে দেবে। আলোকিত বুদ্ধদেরকে অন্ধকার জীবনে ধাবিত করবে। সেই মিথ নিয়ে লিনিয়ার স্টোরিটেলিং এ এই উপন্যাস।

আন্তর্জাতিক ট্রেনিং প্রাপ্ত প্রোটাগনিস্টের ইম্ম্যাচিউর কাজ কারবার চোখে লাগার মতো বিরক্তিকর ছিলো। শুরুতে বলা হয়েছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড-জার্মান পুলিশের যৌথ ট্রেনিং হচ্ছে। একটু পর বলা হইসে, ড্রাগ লর্ডকে ধরতে এফবি আই আর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের যৌথ ট্রেনিং! সিরিয়াসলি, এফবি আই ড্রাগ লর্ড ধরে না ফরেইনে আইসা। ড্রাগ ধরে ডি ই এ। জার্মান পুলিশ ও ড্রাগ ধরে না। নাম বিভ্রাটের ছড়াহড়ি, সম্বোধন বিভ্রাট তো আছে। প্রফেশনাল একজন অফিসার তুই,তুমি আপনি মিলায় কথা বলতেসে জুনিয়র টীম মেটদের সাথে। কনভারসেশান ও ডিপ ছিলোনা। সব মিলায় হতাশা এক ঝাক।
Profile Image for Zahidul.
450 reviews95 followers
March 14, 2019
“Three things can not hide for long: the Moon, the Sun and the Truth.” ― Gautama Buddha
-
ব্ল্যাক বুদ্ধা
-
লেখক রবিন জামান খানের ব্ল্যাক বুদ্ধা নামক এ উপন্যাসটি মোটামুটি দুই ভাগে বিভক্ত।এর প্রথম ভাগটি খ্রিস্টপূর্ব ১৮০ এর কাছাকাছি সময়কার। রাজনৈতিক পালাবদলের ফেরে ভারতবর্ষ সেসময়ে বিপর্যস্ত। এ সময়েই এক রক্তপিপাসু রাজা শুরু করেন বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অত্যাচার এবং গণহত্যা। তিব্বতের শান্তির মঠ থেকে তীর্থে বের হওয়া এক লামা হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। আর তাকে উদ্ধারে নামে শামান নামে এক পাহাড়ি যোদ্ধা। আর সে নামতেই কাহিনী এগুতে থাকে নানা রহস্যের ভিতর থেকে যার ভিতরে একটি হচ্ছে বুদ্ধের এক অন্ধকার অবতারকে ঘিরে !
-
এই কাহিনীর পাশাপাশি চলতে থাকে বর্তমান সময়ের আরেক কাহিনী। সেখানে ট্রেনিং এ থাকা অবস্থাতেই পিবিআই নামক এক সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সিনিয়র অফিসার তানভীরকে হঠাৎ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়, পোস্টিং দেয়া হয় সিলেটে যেখানে তার রয়েছে নানা ধরণের অতীত স্মৃতি। আর সেখানে পৌঁছেই সে জানতে পারে আসলে তাকে উদ্ধার করতে হবে একটি আর্কিওলজিস্ট টিমকে যারা বাংলাদেশে ঢোকার পরে রহস্যময় ভাবে উধাও হয়ে গেছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থার থেকে কয়েকজন কে নিয়ে একটি টিম গঠন করে নেমে পরে এই অন্তর্ধান রহস্য উদঘাটনে। ধীরে ধীরে নানা নাটকীয়তার মাধ্যমে সে জানতে এদের অভিযানের সাথে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা এক মিথ, যা সবার কাছে "ব্ল্যাক বুদ্ধা " নামে পরিচিত।
-
এখন " ব্ল্যাক বুদ্ধা " বা বুদ্ধের অন্ধকার অবতার আসলে কি জিনিস? এ জাতীয় কোন কিছু কি সত্যিই আছে নাকি শুধুই মিথ? এই সত্য উদঘাটনের খোঁজে বের হওয়া দুই সময়ের দুই প্রোটাগনিস্ট শামান আর তানভীর কি পারবে এর ভিতরের আসল সত্য বের করতে? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক রবিন জামান খানের হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার " ব্ল্যাক বুদ্ধা " .
-
লেখক রবিন জামান খানের " ব্ল্যাক বুদ্ধা " নামক এই উপন্যাসটি প্রায় ৫০০ পেইজের এক সুবিশাল আখ্যান। প্রথমেই লেখককে সাধুবাদ জানাতে হয় উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে এত বিশাল কলেবরে এই হিস্টোরিক্যাল থ্রিলারটি লেখার জন্য। গল্প প্রথম থেকে ধীরে ধীরে ছোট খাট চমকের মাধ্যমে রহস্যের জাল বিস্তৃত করে চলতে থাকে আর শেষে গিয়ে তা চমকপ্রদ কিছু টুইস্টের মাধ্যমে রোলার কোস্টার রাইডে পরিণত হয়। লেখকের এর আগের বছর বের হওয়া সপ্তরিপু এর সাথে এ বইয়ের লেখার স্টাইলের অদ্ভুত মিল চোখে পড়েছে, বিশেষ করে গতবারের ময়মনসিংহের জায়গায় এবারে সিলেটের নানা অলি - গলিতে এডভেঞ্চার বেশ দারুণভাবে উপভোগ করেছি।তবে কাহিনীতে কিছু জায়গায় একশন একটু বেশি হয়েছে বলে হয়েছে, সে জায়গাগুলিতে কাহিনী আরো দ্রুত আগালে হয়তো উপন্যাসটি আরো টানটান উত্তেজনার হতে পারতো।
-
চরিত্রায়ন এর দিক থেকে সবচেয়ে ভালো লেগেছে শামান চরিত্রটি। দুর্দান্ত এই যোদ্ধার পাশে বর্তমান সময়ের তানভীরকে কিছুটা স্লান লেগেছে। গল্পে কাহিনীর প্রয়োজনে প্রচুর চরিত্র আসলেও সেগুলো কাহিনীর সাথে বেশ ভালোভাবে মানিয়ে গেছে, তার ভিতরে বিধু আর জালাল চরিত্র দুটির কথা আলাদাভাবে বলতেই হয়। এত চরিত্রগুলোকে সুন্দরভাবে কাহিনীর সাথে আটকানো এই উপন্যাসের আরেক দুর্দান্ত দিক। তবে যে মিথকে ঘিরে এই পুরো কাহিনী আবর্তিত হয়েছে সেটাকে শেষে গিয়ে " বজ্র আঁটুনি, ফস্কা গেরো " টাইপের মনে হয়েছে।
-
প্রায় ৫০০ পেইজের এ বইতে বাধাই বেশ ভালোমানের মনে হয়েছে ,তবে অনেক পেইজে বানান ভুল বা প্রিন্টিং মিস্টেক গল্পের ফ্লো কে কিছুটা ডিস্টার্ব করেছে। গল্পের কাহিনী অনুযায়ী প্রচ্ছদ আরেকটু বেটার হতে পারতো বলে মনে হয়েছে, এ ছাড়া বাকি ট্যাকনিক্যাল দিক গুলো মানানসই।
-
এক কথায় , সপ্তরিপু এর পরে লেখক রবিন জামান খানের আরেক ভালোমানের হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার হচ্ছে " ব্ল্যাক বুদ্ধা " . লেখকের কাছ থেকে সামনে এরকম আরো ভালোমানের লেখা আশা করছি।
Profile Image for Tajrin  Jahan.
9 reviews5 followers
June 22, 2021
অকারণ এক দীর্ঘ বই.....
Profile Image for MD Sifat.
121 reviews
January 3, 2024
শুরু থেকে ভালো, রহস্য জমজমাট, প্রতি অধ্যায় শেষে ক্লিপহ্যাঙ্গার থাকায় গতি ছিল তুঙ্গে, ডিটেইলিং অসাধারণ, লেখনী পুরো মাখন, নিখুঁত চরিত্রায়ন, যা বইকে বলতে গেলে পরিপূর্ণতা দিয়েছে। বইটার প্রতিটা দৃশ্যপট যেনো চোখের সামনে ভাসছিলো। তবে সিরিজের প্রথম বই সপ্তরিপুর মতো কাহিনী ততোটা জমেছে বলে মনে হলো না। একশন সিনগুলোও কেমন যেন খাপছাড়া ছিলো, জমেনি পুরোটা। তবুও পরবর্তী বই পড়ার অপেক্ষায় রইলাম!

রেটিং- ৪/৫
Profile Image for Taijul.
10 reviews
August 9, 2019
সপ্তরিপুর মত অতটা জমলো না, কিন্তু উপভোগ্য।
Profile Image for Sakib A. Jami.
336 reviews38 followers
November 17, 2023
আদিম যুগে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ সংঘবদ্ধ জীবনযাপন করত। সকল কাজে একসাথে, এক হয়ে লড়াই চালিয়ে যেত। এই সংঘবদ্ধতা তাদের শক্তি যোগাত। যেকোনো প্রাণীর আক্রমণ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করত। সময়ের পরিক্রমায় বদলে যায় সবকিছু। সেই সংঘবদ্ধ শক্তি মানুষকে অনুপ্রেরণা যোগাত, তার মাঝে উঠে গিয়েছে বিভেদের দেয়াল। দেশ, জাতি, ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতির পার্থক্য যেন ভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ গড়ে তুলেছে। যারা সেরা হতে যায়। শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় চাপিয়ে জানান দিতে চায়, এই জাতি বা ধর্ম থেকে তারাই শ্রেষ্ঠ। আর এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে সবচেয়ে ভয়ংকর হয়ে ওঠে ধর্মযু দ্ধ! অথচ কোনো ধর্মই এমন নির্মম, নীতি বহির্ভূত কাজ করতে বলেনি। যেখানে প্রতিটি ধর্ম পাশাপাশি অবস্থানে থেকে সমাজকে সুন্দর করে তুলতে পারে, সেখানে ধর্মের নামেই সবচেয়ে বেশি হানাহানি হয়। যার শেষ আসলে কোথায়, কেউ জানে না…

ইতিহাসে-মিথ, সত্য-মিথ্যা…. সবই আসলে আপেক্ষিক। যে যেমনটা মনে করে তেমনই ঘটে। মিথলজি যেমন কল্পনা-গুজবের স্রোতে ভেসে বহুকাল ভেসে বেড়িয়ে থিতু হয়, ইতিহাস তেমনই লেখা হয় বিজয়ীদের হাতে। পরাজিত মানুষকে কেউ মনে রাখে না। সেই ব্যক্তি যদি পরাজিত না হয়ে বিজয়ীর বেশে ছুটে যেত, হয়তো ইতিহাস ভিন্নভাবে লেখা হতো। কিছু অজানা, গোপন গল্প থাকে যা হয়তো সময়ের সাথে সাথে নিমজ্জিত হয় চোরাবালিতে। এক সময় সেই গল্পের আবির্ভাব হয় ভিন্নভাবে ভিন্ন কোনো সময়ে। এর সাথে মিশে থাকে গুজব, সত্য কিংবা মিথ্যা। কোন গল্পটা বিশ্বাসযোগ্য আর কোনটা অপাংক্তেয়— বোঝা যায় না। তেমনই এক গল্পের মাঝে মিশে গিয়েছিল অতীত আর বর্তমান। দুই সময়কে এক করেছিল যে অজানা গল্প, তার নাম— ব্ল্যাক বুদ্ধা!

▪️সময়টা অতীতের :

সময়টা আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের। তখন মৌর্য সম্রাজ্যের শাসনকাল। রাজা বৃহদ্রথের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কেননা গ্রীক কিংবদন্তি আলেকজান্ডার বিশ্বজয় করতে করতে এগিয়ে আসছে ভারতবর্ষের দিকে। একে একে জয় করে নিচ্ছে সবকিছু। মৌর্য সম্রাজ্যের রাজধানী পাটালিপুত্রে বসে কীভাবে কী করা যায় ভাবছে। এক উপদেষ্টার পরামর্শ মনে ধরেছে। যদিও ধর্মের বাইরে গিয়ে কাজ, তারপরও এ ছাড়া উপায় যে নেই। কিন্তু কে জানত, তার শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে। নিজের ব্রাহ্মণ সেনাপতির কাছেই মৌর্য সম্রাজ্যের পতন। শুরু হলো শুঙ্গ বংশের উত্থান। এক অন্ধকার সময়ের সূচনা। এক বিশাল গণহ ত্যার শুরুটা এখানেই, যেখানে শুঙ্গ ধর্মের মানুষেরা মেতেছে বৌদ্ধ ধর্মের মানুষের র ক্ত দিয়ে হোলি খেলায়!

তিব্বতের প্রধান লামা ডুকপা লামা বাৎসরিক সফরে বের হয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে অপহরণ কর�� হয় তাকে। মঞ্চে আবির্ভূত হয় সেই সময়ের সেরা লালচুলো যোদ্ধার। যে সেই ডুকপা লামাকে নিজের পিতার মতো শ্রদ্ধা করে। যে করেই হোক লামাকে উদ্ধার করতেই হবে। তার সঙ্গী বিন্ধু। ঘটনাক্রমে তারা জড়িয়ে পড়ে দুই চিরশত্রুর সাথে। যাদেরকে মিত্র হিসেবে পায়। রাজা মানরুর পাশে শাক্য রাজা। এ লড়াই নিষ্ঠুর নির্মম লিচ্ছবী জাতি আর উরগ জাতির সাথে। ষড়যন্ত্রের এক অদ্ভুত খেলায় ডুবে গিয়েছে শামান ও তার দল। তারা জানতে পারে, পৃথিবীর বুকে নামিয়ে আনা হচ্ছে বুদ্ধের অন্ধকার অবতার। এই অশুভ সত্তাকে থামাতে হবে। তার আগে ডুকপা লামাকে উদ্ধার করতে হবে। এত বছরের রেষারেষি থামিয়ে শান্তির বীজ বপন করতে হবে। শামান ও তার দল কি পারবে? শত্রুপক্ষের শক্তি যে অনেক।

▪️বর্তমানে ফিরে আশা যাক :

অতীত কখনো পিছু ডাকে, প্রাচীনকাল ফিরে আসে বর্তমানে। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া বেশ কিছু উপাদান হুট করেই সামনে আসে। যাকে আমরা পুরাতত্ত্ব বলি। দেশ-বিদেশ তথা পুরো বিশ্বজুড়ে এই পুরাতত্ত্বের নিদর্শনের মূল্য অপরিসীম। একাধিক গবেষণা চলে। কেউ কেউ নিজের সারাজীবন কাটিয়ে দেয় এধরনের গবেষণায়। কেউ কেউ পুরো পৃথিবীর এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে ছুটে যায়। কাজের কাজ কি কিছু হয়?

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিতায়ন বহুকাল ধরে খুঁজে বেরিয়েছে এমন এক নিদর্শন, যা বদলে দিবে এই উপমহাদেশের এক ধর্মের ইতিহাস। চেষ্টা চালিয়ে গেলে সবকিছু অর্জন সম্ভব। সুদূর আসামে গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় কাঙ্ক্ষিত বস্তু। কিন্তু এমন প্রাচীন অতীতের নিদর্শন কেবল যে অ্যান্টিক মূল্য প্রদর্শন করে তেমন না, এর সাথে কোটি কোটি অর্থেরও যোগাযোগ থাকে। অসৎ মানুষের লক্ষ্য কেবল ওই টাকা। সেই লোভেই হয়তো দেশে ফেরার পথে আক্রমণ হয়। ড. মিতায়নসহ পুরো দল যেন সেখানেই লাপাত্তা! কোথায় হারালো তারা? দিশা খুঁজে পায় না পুলিশ। তাই ডাক পড়ে এমন এক কমান্ডারের যে চাইলেই পারবে এই রহস্যের সমাধান করতে। পারবে তো?

তানভীর মালেক দূরদেশে এক কমান্ডো ট্রেনিংয়ে ব্যস্ত তখন। পিবিআইয়ের এই অ্যানালিস্ট, যে কখনো মাঠ পর্যায়ে কাজ করেনি, তাকে এভাবে কমান্ডো ট্রেনিংয়ে পাঠানোর পুরো দায় নিয়েছিলেন পাশা স্যার। ট্রেনিংয়ের শেষভাগে তলব পড়ে দেশে ফেরার। জরুরি কাজ না-কি আছে! সেই কাজ কে তার জীবনের অন্য এক অভিজ্ঞতা হবে, কে জানত? যেই অতীতকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা, তা-ই যেন বারবার ডাকে। নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট যেন তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে অতীতের দিনগুলোতে।

ড. মিতায়নকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব তানভীরের। সাথে একটি ছোট্ট দল। মাঠ পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। এমন বড়ো একটা অপারেশনে ভুলচুক করা পাপের শামিল। তাও ভুলত্রুটি হয়ে যায়। এই অপারেশন কেবল যে ড. মিতায়নের অন্তর্ধান রহস্য, তা কেবল নয়। এরসাথে জড়িয়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র। তানভীর জনেও না কোন ঘূর্ণিপাকে সে হাবুডুবু খাচ্ছে। এই খেলায় কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। সবাই পেছন থেকে ছুরি মারে। কে মিত্র, বা কে শত্রু বুঝতে হলে অনেক গভীরে যেতে হবে। যেখানে আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি ঢুকে গিয়েছে সেখানে তানভীরের মতো আনকোরা যুবককে দায়িত্ব দেওয়ার হেতু কী? অনেক গভীরে পুঁতে থাকা ষড়যন্ত্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে পারবে তানভীর? না-কি নিজেরই পা হড়কে পতন হবে?

▪️বই পর্যালোচনা ও পাঠ প্রতিক্রিয়া :

সমান্তরালে চলা কোনো বস্তুর মিলন কখনো সম্ভব হয়। একই সাথে পাশাপাশি চলে যায় দূর গন্তব্যে, তবুও মিল হয় না। রবিন জামান খানের সময় উপাখ্যান সিরিজ যেন একই সমান্তরালে চলা দুইটি সময়কাল, অতীত আর বর্তমান। সমান্তরালের তত্ত্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লেখক ভালোভাবেই দুইটি সময়কে মিলিয়েছেন।

“ব্ল্যাক বুদ্ধা” কেমন লাগল বলার আগে একটা খটকা নিয়ে আলোচনা করা যাক। লেখক এখানে যে মিথের কথা বলেছেন, সেই বিষয়টা নিয়ে আমার ধোঁয়াশা আছে। ইন্টারনেট ঘেঁটে এর সত্যতা খুঁজে পাইনি। কিংবা আমার নজরে এমন কিছু পড়েনি। আসলেই কি এমন কোনো মিথের অস্তিত্ব আছে, না-কি কেবল লেখকের কল্পনা? এই বিষয়টা পরিষ্কার হয়নি।

আমি লেখকের “সপ্তরিপু” বইটার অনেক বড়ো ভক্ত। সেই তুলনায় “ব্ল্যাক বুদ্ধা” হতাশ করেছে। সিরিজের প্রথম বইতে যেভাবে লেখক যেভাবে দুইটি সময়কালকে এক বিন্দুতে মিলিয়েছিলেন, এখানে মিললেও ঠিক তেমন অনুভূতি হয়নি। কোথায় যেন কিছু একটা কমতি ছিল। যদিও লেখকের লেখনী সাবলীল। সাবলীল লেখার মধ্য দিয়ে লেখক দারুণভাবে সবকিছুর বর্ণনা দিয়েছেন। আমি সবসময় বিস্তারিত বর্ণনা পড়তে পছন্দ করি। কিন্তু এই বইটিতে এত বেশি বিস্তারিত বর্ণনার আশ্রয় নিয়েছেন লেখক, মাঝেমাঝে বিরক্তিবোধ হচ্ছিল। বিশেষ করে কোন ব্র্যান্ডের শার্ট, ঘড়ি না জুতা— এ জাতীয় বর্ণনা পছন্দ হয় না। বাহুল্য, মেদযুক্ত লেখা মনে হয়।

এই বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা আক্রমণ আর প্রতি আক্রমণের বর্ণনা। লেখক এক্ষেত্রে তার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সবকিছুর বর্ণনা করেছেন, যেন চোখের সামনে ঘটনাগুলো ঘটছিল। তবে লেখকের অন্যান্য বই পড়ে একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি। লেখক যখন আক্রমণাত্মক ঘটনার বর্ণনা করেন, কিছুটা তাড়াহুড়োর ছাপ থাকে। এত দ্রুত ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে, সবকিছু মস্তিষ্কে ধারণ করা সম্ভবপর হয় না। লেখক এক্ষেত্রে বিস্তারিত বর্ণনার আশ্রয় নেন, তারপরও দ্রুতগতির ঘটনাগুলোর খেই ধরতে বেগ পেতে হয়।

বইটিতে বেশ কিছু কাকতালীয় ঘটনার আবির্ভাব হয়েছে। একদিকে শামান, অন্যদিকে তানভীর। দুইজনই দুই উদ্ধারকার্য সম্পাদনের জন্য ছুটছেন। প্রতিপক্ষের আক্রমণের মাঝে হুট করে খোলা জায়গায় বিপদে পড়া, কেউ একজন এসে উদ্ধার করা কিংবা নিতান্তই কপাল গুণে বেঁচে যাওয়া আমার কাছে অতিরঞ্জিত লেগেছে। চরিত্রগুলোকে অতিমানবীয় না দেখিয়ে স্বাভাবিক ও স্বতন্ত্র রাখলে আরও ভালো লাগত।

“সপ্তরিপু” বইটিতে সবচেয়ে ভালো লেগেছিল ইতিহাসের অংশ। যেখানে এই বইটিতে ইতিহাসের ঘটনাক্রম ভালো লাগলেও গল্পের ক্ষেত্রে বর্তমানকে এগিয়ে রাখব। তার কারণ আগেই বলেছি, যে মিথের আশ্রয় লেখক নিয়েছেন এর সত্যতা খুঁজে পাইনি। বর��তমান সময়ের ক্ষেত্রে লেখক যেভাবে তানভীরের ফ্ল্যাশব্যাক দেখিয়েছেন, ভালো লেগেছে। যদিও লায়লার সাথে তানভীরের সম্পর্ক কিছু বিষয় অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। এমনকি বিচ্ছেদের কারণটাও স্পষ্ট নয়। তাছাড়া বেশকিছু নাটুকে দৃশ্যায়ন গল্পের যে মূল ধারা, তা কমিয়ে দিয়েছিল। যেমন তানভীরের সাথে লায়লা, শায়লা ও তার মায়ের যে দেখা হওয়ার সময়টা! অতিমাত্রায় নাটুকে! যেন ভারতীয় কোনো সিরিয়ালের দৃশ্যায়ন। বেশ বিরক্ত লেগেছে এগুলো পড়তে।

বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দিকটি আমার মনে হয়েছে, তা হচ্ছে চমক। একের পর এক চমক দিয়ে গিয়েছেন লেখক। বিশেষ করে শেষের অংশে। একটু পরপর ঘটনাক্রম পরিবর্তন হচ্ছিল। ফলে নিঃশ্বাস ফেলার মতো উপায় ছিল না। টানা পড়ে যাওয়া গিয়েছে। পরবর্তীতে কী ঘটবে, তা জানতে চাওয়ার যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা লেখক জন্মাতে পেরেছেন, তার জন্য লেখকের তারিফ করতে হয়।

▪️চরিত্রায়ন :

দুই সময়কালের দুই চরিত্রের মধ্যে শামানকে আমার বেশ লেগেছে। তানভীর অনভিজ্ঞ হিসেবে দেখানোর কারণেই হয়তো, পরিণত শামানকে যোদ্ধা হিসেবে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন লেখক। যদিও এই গল্পে লেখক শামানের অতীত নিয়ে বেশকিছু আভাস দিলেও তার সমাধান করেননি। সিরিজ হিসেবে আমি হয়তো এই নিয়ে অভিযোগ করতাম না, কিন্তু যেহেতু ঘটনা এখানেই শেষ সেহেতু লেখক এখানে এর সমাধান না দেওয়াতে অপরিণত গল্প মনে হয়েছে।

বুধা আর ওসি জালালের চরিত্র ভালো লেগেছে এখানে। সিরিয়াস সময়ে হাস্যরস তৈরি না করতে পারলে ঘটনাগুলো পানসে হয়ে যায়। এই দুইজন বেশ মজা দিয়ে গিয়েছে অধিকাংশ সময়। বিশেষ বিশেষ সময়ে হিউমার সমৃদ্ধ কথাবার্তায় বেশ ভালোই হাসিয়েছেন লেখক।

চরিত্রদের মূল্যায়নের দিক দিয়ে লেখক কোনো কার্পণ্য করেননি। অতীত, বর্তমান মিলিয়ে অসংখ্য চরিত্রের আনাগোনা ছিল। লেখক সবগুলো চরিত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রত্যেকের কাজকে ভাগ করেছেন দক্ষতার সাথে। কে কোন কাজ কীভাবে করবে, প্রতিটি দৃশ্য ছিল মাপা। সবাই নিজেদের জায়গায় সেরাটা দিয়েছে। কিছু চরিত্র অবশ্য এসেছে প্রয়োজনে। শেষে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।

কালান্তি আর সুলতান চরিত্র দুটিকে মনে ধরেছে। নারী চরিত্রের শক্ত খোলসের আড়ালে যে নরম মন থাকে, সেটা ফুটিয়ে উঠেছিল। অতীতের কিছু ঘটনার কারণে এই শক্ত বাহ্যিক আবরণ গঠিত হয়। হয়তো দূর থেকে বোঝা যায় না, অনুভব করতে হয় কাছে এলে।

খল চরিত্রের দৃশ্যায়ন ভালো ছিল। তবে ওই যে বলেছি, কিছু কাকতালীয় ঘটনার আবির্ভাব ছিল। তা না হলেই বোধহয় বেশি উপভোগ্য হতো।

▪️পরিশেষে, অতীত-বর্তমান সময়কালের বাঁধা কেবল। সবকিছু মিশে হয় একই বিন্দুতে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় বারেবার। হয়তো ভিন্ন উপায়ে, ভিন্ন পরিস্থিতে।

▪️বই : ব্ল্যাক বুদ্ধা
▪️লেখক : রবিন জামান খান
▪️প্রকাশনী : অন্যধারা
▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা :
▪️মুদ্রিত মূল্য :
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৫/৫
Profile Image for Mrittika.
36 reviews20 followers
January 22, 2023
সপ্তরিপু পড়ার পর অনেকের কাছে ব্ল্যাকবুদ্ধা ভালো লাগে নি। হতাশ হয়েছে এক্সপেক্টশন বেশি করায়।
আমার কাছে মোটামুটি ভালোই লেগেছে। হয়তো এক্সপেক্টশন বেশি না করায়।
তবে আন্তর্জাতিক ট্রেনিং প্রাপ্ত অফিসার তানভীরের আনাড়ি হাতের কাজ চোখে লেগেছে। এরচেয়ে বরং তার সহযোগীরা ভালো করেছে।
বানান ভুল ছিলো অনেক।
পার্সোনাল রেটিং ৩.৫
Profile Image for Tazbeea Oushneek.
156 reviews53 followers
December 5, 2019
একটি হালকা পক্ষপাতদুষ্ট রিভিউঃ
একই সঙ্গে দুইটি ভিন্ন সময়ের দুইটি ভিন্ন গল্প। কিছুটা হিস্ট্রিকাল ফিকশন, রহস্য, অ্যাকশন থ্রিলার সবকিছুর স্বাদ আছে। গল্পগুলা একসাথে বাঁধা ব্ল্যাক বুদ্ধা দিয়ে। ১৮০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ আর বর্তমান সময়ের উপর গল্প। কিছুক্ষণ পর পর এক গল্প থেকে আরেক গল্পে চলে গেলেও ঘটনার সিনক্রোনাইজেশন অনেক ভাল লেগেছে। প্রতিটা অংশ শেষে পরের অংশের জন্য অপেক্ষা করার ব্যাপারটা অনেকটা কোন সিরিজের পরবর্তী বই প্রকাশের অপেক্ষায় থাকার মত লেগেছে। অপেক্ষা করতে হয়েছে কারণ ১৮০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - বর্তমান সময় - ১৮০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - বর্তমান সময় ... এভাবে এগিয়েছে গল্পটা। বাংলা মৌলিক থ্রিলার খুব কম ই এত ভাল লেগেছে।
দুই গল্পের নায়ক শামান আর তানভীর দুজনের সাহস, উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করতে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটু বেশি অস্বাভাবিক লেগেছে। তবে খারাপ লাগেনি একটুও।
মৌর্য শাসনামলের শেষে ধর্মীয় আর রাজনৈতিক বিদ্বেষের চুড়ান্ত পর্যায়ে নিখোঁজ হন শান্তির মঠের ডুকপা লামা। তাঁকে খুঁজতে ভারতবর্ষে আশে শামান। সাথে বিধু। বুঝতে পারে এখানে আরও অনেক ঘোর প্যাঁচ আছে। কিন্তু তাঁদের উদ্দেশ্য একটাই যেভাবে হোক ডুকপা লামাকে উদ্ধার করা। একসময় জানতে পারে বুদ্ধের অবতার বা ব্ল্যাক বুদ্ধাকে নিয়ে রচিত ষড়যন্ত্রের কথা। কীভাবে এই ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত করবে সবাইকে? আর ডুকপা লামাকে কীভাবে উদ্ধার করবে?
অন্যদিকে বর্তমান সময়ে তানভীর মালিক জীবনে প্রথম ফিল্ড ওয়ার্কে নেমেছে। আরকিওলজির প্রফেসর মিতায়ন নিখোঁজ। তার খোঁজে অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেতে হচ্ছে সিলেট। জীবনে কোনদিন আর ফিরে যেতে চায়নি যেখানে সেখানেই যেতে হচ্ছে। একসময় উঠে আসে ব্ল্যাক বুদ্ধার নাম। হয়তো এর খোঁজে গিয়েই নিখোঁজ হয়েছেন প্রফেসর। নাকি আরও বড় কোন রহস্য আছে এতে?
বইটা কিনেছিলাম নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখে। পড়ার শুরুতে যতবার সিলেটের বিভিন্ন জায়গার নাম এসেছে আর সাস্টের বিভিন্ন জায়গার ঘটনার বর্ণনা এসেছে প্রতিটাবার প্রতিটা জায়গায় অসংখ্য স্মৃতির কারণে বইটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলাম। নিজের অজান্তে হাসছিলাম। সম্ভবত যাদের বাসা সিলেটে না এবং সাস্টে পড়েছে তাদের সবার ই এরকম হওয়ার কথা। বইটার গল্প নিজেই অনেক ভাল হলেও শেষ পর্যন্ত এই স্মৃতিগুলো মনে করিয়ে দেয়ার জন্যই বইটার মূল্য অন্যরকম হয়ে গেছে আমার কাছে। লেখকের মতে এই বইটা নাকি সাস্ট এবং সিলেটের প্রতি তাঁর ট্রিবিউট। সত্যি এরকম ভাল ট্রিবিউট আর বেশি পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।
5 reviews
March 4, 2019
চূড়ান্ত মাত্রায় হতাশ। প্রথমত বানান ভুল। এখানে লেখকের কিছু করার নেই।
দ্বিতীয়তঃ যে কারনে এতো বিশাল বইয়ের অবতারণা তা নিতান্তই খুবই গৌণ মনে হয়েছে। এটা আমার ব্যক্তিগত ধারণা।
তৃতীয়তঃ লেখার মান নিম্নগামী। যতো এগিয়েছে কাহিনী গতি বাড়লেও লেখা পড়ে আরাম পাওয়া যায় না।
চতুর্থতঃ এরকম গল্প, এরকম নামকরণ হয়তো পাঠককে সাময়িকভাবে টানবে, কিন্তু মন দিয়ে পড়লেই বোঝা যায়, গল্পটা ফাঁপা। পুরো ফাঁপা একটা গল্পের উপর প্রায় ৫০০ পাতার এই প্রয়াস। এটা হয়তো ওভার কনফিডেন্স!
আমার মার্কিং ১।
ফেইসবুক আর গুডরীডসে কিছু রিভিউ চোখে পড়ল। তাদের সাথে আমার মতামতের দারুন তফাত। কারন একটাই হতে পারে, এরা সম্ভবত লেখকের গুনমুগ্ধ পাঠক, বন্ধু-বান্ধব। না হলে এতো তফাত হওয়ার কথা নয়।
বইটি সকলকে পড়ে দেখার আমন্ত্রণ! পড়লেই আমার পয়েন্টগুলো নিয়ে ক্লিয়ার হতে পারবেন।
Profile Image for Shafin Ahmed.
81 reviews8 followers
June 18, 2020
ব্ল্যাক বুদ্ধা: রবিন জামান খান
“রবিন জামান খানের নতুন হিস্ট্রিক্যাল থ্রিলার ব্ল্যাক বুদ্ধা- ধর্ম, গোত্র, লোভ, বিশ্বাসঘাতকতা আর ক্ষমতার লড়াইয়ের এক বিস্তৃত উপাখ্যান, যেখানে অতীতের পাপাচার সংজ্ঞায়িত করে চলেছে বর্তমান সংশয়কে।”

ব্ল্যাক বুদ্ধা বইটাতে দুটো সময়ের কাহিনী পাশাপাশি এগিয়ে গেছে। একটা অতীতের, প্রায় দুই হাজার বছর আগে, যখন ব্ল্যাক বুদ্ধার উত্থান, আর আরেকটা বর্তমানের।
বইটার শুরু থেকেই ছিলো বর্ণনার ঘনঘটা। কিন্তু, কাহিনীর প্রয়োজনেই সেটা করতে হয়েছে। তাই, সেটা কখনো অতিরিক্ত মনে হয়নি।

সপ্তরিপুর মতো এ বইটাতেও অতীত আর বর্তমানের মধ্যে একটা sequence ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এই কারণে, শুরুর দিকের অধ্যায়গুলোতে কাহিনী খুবই ধীরগতিতে এগিয়েছে। অতীতের কাহিনী সামান্য এগোনোর পরই আবার বর্তমানে আসা হয়েছে। আবার বর্তমানের কাহিনী একটু আগাতেই অতীতে চলে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টা খানিকটা বিরক্তিকর লেগেছে। একই কারণে শুরু থেকে প্রথম আড়াইশো পেজ পর্য়ন্ত কাহিনী অনেক হালকা মেজাজের হয়ে গেছে।

বর্তমান সময়ের প্রধান চরিত্র তানভীর মালিককে আমার কাছে মোটামুটিভাবে একজন ব্যক্তিত্বহীন মানুষ মনে হয়েছে। তবে, সাইড ক্যারেক্টারগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং ছিলো। বিশেষ করে অফিসার সুলতানকে তো একদম ফ্যান্টাসি জগতের হিটম্যান মনে হয়েছে। অতীতে কাহিনীর শামান চরিত্র যোদ্ধা হিসেবে একদম যথোপযুক্ত ছিলো।

তবে, ২৫০ পেজের পর থেকে কাহিনী যখনই বেগ পেতে শুরু করে, তখনই একটু নড়েচড়ে বসি। বইটার শেষ অর্ধাংশের কাহিনী, বর্ণনা, সবকিছু আসলেই অনেক বেশী ভালো ছিলো। এবং এক পর্যায়ে বইটা শেষ করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলি।“নাহ, বইটা বেশ ছিলো!”

রবিন জামান খান তার হিস্টোরিক্যাল থ্রিলারের ট্রেন্ডটা ভালোই ধরে রাখতে পেরেছেন।

বইটার শেষে তার নতুন বই “মগরাজ”-এর সামান্য আভাস দেয়া হয়েছে। মগরাজের অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for MD Mijanor Rahman Medul  Medul .
178 reviews42 followers
March 4, 2019
রিভিউ::::

বইয়ের নাম : ব্ল্যাক বুদ্ধা
লেখক: রবিন জামান খান
প্রকাশনা : বাতিঘর প্রকাশনী।
জনরা : হিস্ট্রিক্যাল থ্রিলার
প্রচ্ছদ :ডিলান
প্রকাশ কাল : ফেব্রুয়ারী ২০১৯
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৮ পেজ
মূল্য : ৫০০ টাকা মুদ্রিত।

কাহিনী সংক্ষেপ :::

  ব্ল্যাক বুদ্ধা : বুদ্ধ অন্ধকার অবতার।

অতীত সময়:
                   খ্রিস্টের জন্মের ১৮০ বছর পূর্বে, মৌর্য সাম্রাজ্য এর রাজা বৃহদ্রথ খুন হলো তার নিজে সেনাপতি ব্রাহ্মণ বংশভুত শুঙ্গ গোত্রের প্রতিনিধি পুশ্যমিত্র শুঙ্গ এর হাতে। নগর তোরণের সামনে রাজাকে খুন করে নিজে রাজা ঘোষনা করলেন। তারপর বিহারের রাজধানী পাটালিপুত্র থেকে বৌদ্ধ ধর্মাম্বলী প্রতিটি মানুষকে হত্যা চলানো শুরু করলো। মৌর্য সাম্রাজ্য চিরতরে বিনাশ করে দিতে সে পুরুস্কার ঘোষনা করলেন প্রতিটি বুদ্ধ মস্তকের জন্য স্বর্ণ মুদ্রা।তারপর শুরু হয়ে গেলো ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচে বড় গনহত্যা বুদ্ধদের কে নিশ্চিন্ন করে দেয়া। এদিকে তিব্বত এর একটি  প্রতন্ত অঞ্চলে ছিল শামান নামে এক যোদ্ধা। জানতে পারে তার গুরু ডুকপা লামা নিখোঁজ, এবং আরো জানতে  পারে ভারতবর্ষ থেকে একে একে নিশ্চিন্ন হয়ে যাচ্ছে বৌদ্ধরা। শামান যোদ্ধা তার গুরু ডুকপা লামা কে বাঁচানোর জন্য কাতানা তুলে নেয় হাতে। শামান যোদ্ধার সঙ্গী হিসাবে এগিয়ে আসে বিধু আর কালন্তি।

বর্তমান সময়:
                   ট্রেনিং আর অভিজ্ঞতা দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিশ। প্রথমটা কাজ করার উপায় বলে দেয় আর দ্বিতীয়টা করে তোলে দক্ষ। সদ্য ট্রেনিং প্রাপ্ত অফিসার তানভীর মালিক এর সামনে প্রথম কেস এসে দাঁড়ায় সাস্টের একজন প্রফেসর নিঁখোজ হওয়া।  আসাম থেকে রিসার্চ শেষে দেশে ফেরার পথে গায়েব হয়ে যান প্রফেসরস ডক্টর মিতায়ন আহমদ। তানভীরকে মিতায়ন এর কেস এ তদন্ত এর জন্য পাঠানো হয় সিলেট এর সাস্টে। তানভীর এর সঙ্গী সুলতান, টমি, ইকবাল।নিজে ক্যাম্পাস সাস্টের পুরনো ব্যক্তিগত স্মৃতি আর মাঠ পর্যায় কাজের অনভিজ্ঞতায় দিশোহারা হয়ে পদে পদে হোচট খেতে খেতে যখন রহস্য উন্মোচন করবে তখনই সে জানতে পারলো অতীত আর বর্তমানের এই জটপাঁকানো  মূল ঘটনা দু হাজার বছর পুরনো এক রহস্যে। ইতিহাস এ যার নাম বুদ্ধ অন্ধকার অবতার - ব্ল্যাক বুদ্ধা।

             একদিকে শামান অন্যদিকে তানভীর মালিক দুই প্রেক্ষাপটের দুই নায়ক, উদ্দেশ্য একটাই ব্ল্যাক বুদ্ধা।তানভীর আর শামান কি পারবে এই রহস্যভেদ করে ব্ল্যাক বুদ্ধাকে সামনে আনাতে।
             তাই প্রিয় পাঠক আপনাকে স্বাগতম ব্ল্যাক বুদ্ধা এর জগতে -যেখানে অতিতের পাপাচার সংজ্ঞায়িত করে চলছে বর্তমান সংশয়কে।

পাঠ প্রতিক্রিয়া :::
                ইতোমধ্যে যারা রবিন জামান খান এর ২৫শে মার্চ এবং সপ্তরিপু পড়েছেন সেই সকল পাঠকরা এবার  ব্ল্যাক বুদ্ধা নিতে কার্পণ্য করেনি। তো ব্ল্যাক বুদ্ধা এর প্রতি তীব্র আকর্ষন শুরু থেকেই ছিল। তাই বই প্রকাশ হওয়ার দিনই কালেকশন করা আর অন্যান্য বই শেষ করে একটু সময় নিয়ে ব্ল্যাক বুদ্ধা পড়তে একটু দেরি হয়ে গেল আরকি। রবিন জামান খান স্যারের হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার গুলো যারা পড়েছেন তারা জানেন যে দুই পেক্ষাপটে দুই নায়ক থাকে। তো এবারের গল্পে তার ব্যাতিক্রম না। অতীত এর নায়ক শামান আর বর্তমানের তানভীর মালিক। দুই চরিত্রই সমান গতিতে এগিয়েছে। বলা যেতে পারে একি মলাটে দুই গল্প। ব্ল্যাক বুদ্ধার এর রহস্য উন্মচনে শামান এবং তানভীর এর একই গতি চলাই  পাঠককে গল্পে আটকে রাখবে। গল্পের শুরুর দিকের কাহিনী একটু স্লো মনে হলেও বই এর মাঝামাঝি এসে দুর্দান্ত গতি এগিয়েছে। তো ভালো কতটা লেগেছে তা আসলে  দুচারটি শব্দে বলা যাবে না। এককথায় বলবো অসাধারণ ছিল। গল্পের প্লট সত্যি ভালো লাগার মতো। আর লিখন কৌশলও ছিল নান্দনিক। হিস্ট্রি এর সাথে থ্রিলিং এর মিশ্রণটা ছিল চৎকার। গতানুগতিক মারমার কাটকাট থ্রিলার এর মতো প্রচুর  ছিল একশন। একপ্লটে কাতানা তীর-ধনুক অন্য প্লটে ডের্জাট ঈগল, ৯এমআর।
                 গল্পের নায়ক হিসাবে তানভীর চরিত্রটাকে বেজায়ই ভালো লেগেছে তানভীর এর ব্যক্তিগত স্মৃতি গল্পকে আরো চমৎকার করে তুলেছে, তাছারা তানভীর এর বুদ্ধিমত্তা আর তার সাহসী পদক্ষেপ গুলো সত্যি খুব ভাল লেগেছে।
            যোদ্ধা শামানও ছিল বিচক্ষণ সঠিক সময়ে সঠিক সিধান্ত, এবং সাহসিকতা আর যুদ্ধ কৌশলে কোন দিক থেকে কম নয়।
          ওসি জালাল চরিত্রটাও ভালো লাগার মতো। ঐদিকের বিধু চরিত্রটাও চোখে পড়ার মতো। ওসি জালাল, সুলতান, টমি, বিধু কালন্তি এসব চরিত্রগুলো ছোট হলেও গল্পের মাঝে অনেক গুরুত্ববহন করে এনেছে।
             সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে ব্ল্যাক বুদ্ধা'র রহস্য টা। 

           তো সপ্তরিপু'র মতো ব্ল্যাক বুদ্ধা'র ঘোরও আমার এতো সহজে কাটবে না।

             তাই বলা যায় যে চমৎকার প্লটে এবং থ্রিলিং এ টুইস্টে ভরপুর করে লেখক সাজিয়েছেন ব্ল্যাক বুদ্ধা কে। তাই ব্ল্যাক বুদ্ধাকে নিয়ে পাঠক এর সময় খারাপ কাটবেনা বলে আশা করি।

            দুর্বল বাধাঁই আর বানান ভুলো ছিল চোখে পড়ার মতো। বই সামনে আগাচ্ছি  আর পিছনের বাধাই খুলে যাচ্ছে। বানান ভুল একদম শুরু থেকে শেষ অবধী লক্ষ করার মতো।

              ঘাতপ্রতিঘাত থাকার স্বত্বেও ব্ল্যাক বুদ্ধা চমৎকার কাহিনী থ্রিলিং ���র একশনের জন্য পাঁচে পাচঁ পাওয়ার দাবি রাখে।  আর মূল গল্প অবলম্বনে ডিলানের করা ব্ল্যাক কভারে প্রচ্ছদটা বেশ মানানসই।

রেটিং:: ৫/৫

মিদুল
৪-৩-২০১৯
রাত ১ টা ৯।
Profile Image for Ferdous Hriday.
17 reviews2 followers
March 5, 2019
এখনকার ওয়ার্ল্ডে থ্রিলার রাইটাররা লিখতে গেলে প্রথমে খেয়াল করেন এটা দিয়ে মুভি বানানো যাবে কি না। তারপর তারা একটা কন্ট্রাডিক্টরি মিথ খুজে বের করেন, আশে পাশের কিছু কন্সপায়রেসি থিওরি অ্যাড করেন। সাথে CIA or FBI টাইপের ইন্টিলেজন্স ব্যুরো ঢুকিয়ে দেন। নায়কদের টিমের সবচেয়ে কাছে যে থাকে সেই বিশ্বাসঘাতকতা করে।দেখা যায় সেই মাস্টারমাইন্ড। আমার স্বল্প জ্ঞানে মনে হয় এই প্যাটার্নটা শুরু করেছে ড্যান ব্রাউন।

এই ধারাতে বাংলাদেশেও কিছু থ্রিলার লেখার চেষ্টা করা হচ্ছে। নাজিমুদ্দীন এর জেফরি বেগ-বাস্টার্ড সিরিজ, শরীফুল হাসানের সাম্ভালা, এরকম অনেক কিছু আছে। সাম্ভালার পরিব্যাপ্তি ব্যাপক হলেও স্লো পেসড এবং লাস্টের ফিনিশিংটাও একটা মিথে যেয়ে শেষ করেছে বলে কিছুটা অবাস্তব মনে হয়েছে। নাজিমুদ্দীন ভাইয়ের লেখা পড়তে গিয়ে মনে হয় ৭০-৮০% পর্যন্ত সুন্দর গতিতে গল্প চলে, শেষের দিকে এসে হঠাত করে সব মিলে যায়।এই জন্যে আমি হতাশ।যদিও খুব এঞ্জয় করেছি এই ভেবে যে ভাল থ্রিলার লেখার চেষ্টা চলছে।

রবিন জামান খানের আগের কোন বই পড়িনি। তার প্রথম পড়লাম "ব্ল্যাক বুদ্ধা"। অসম্ভভ দ্রুতগতির শ্বাস্রুদ্ধকর একটা বই। সম্পূর্ণ ২ টা ডিফারেন্ট টাইম লাইনের গল্প বলেও কোনটা কোনটার গতিকে রুদ্ধ করে নি। এবং এর সমাপ্তিতেও একটা মিথের অবাস্তব সমাপ্তি না দেখিয়ে বরং একটা যুক্তিযুক্ত সমাপন দেখিয়েছে যা বইটাকে পার্ফেক্ট থ্রিলার এর রূপ দিয়েছে।আমার এখন পর্যন্ত পড়া বাংলাদেশি থ্রিলারদের মধ্যে এটা বেস্ট।

আমি গত কয়েকদিন ধরে মানসিকভাবে বিক্ষিপ্ত,এর মধ্যেও বইয়ের প্রচণ্ড গতি আমাকে প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠা দেড় দিনে শেষ করতে বাধ্য করেছে। আমি লেখকের আরো বইয়ের প্রত্যাশী এবং আরো বই পড়তে ইচ্ছুক।
Profile Image for Farhanatul .
24 reviews11 followers
Read
August 16, 2021
"A man asked Gautama Buddha, "I want happiness."
Buddha said, "First remove "I," that's Ego, then remove "want," that's Desire.
See now you are left with only "Happiness."

বুদ্ধের জীবন থেকে আমরা সরলতা, শান্তি, হিংসা পরিহারের শিক্ষা পাই। ব্ল্যাক বুদ্ধা পড়ার আগ পর্যন্ত আমি জানতাম না তিনি যুদ্ধও করেছেন কখনো কখনো। সীমিত জ্ঞান অবশ্যই!

শান্তি দূত বুদ্ধ আর তার অন্ধকার অবতার।
বর্তমানের সাথে ইতিহাসের সমান্তরালে নিয়ে আসা আগেও লেখকের সপ্তরিপুতে দেখছি। এই বইয়েও ব্যাতিক্রম কিছু নয়। ব্ল্যাক বুদ্ধা নামে পরিচিত মূর্তি উদ্ধার কে কেন্দ্র করে এই বই। সংঘাত, বিশ্বাসঘাতকতা, সরলতা(রাজা মানরু), লোভ সব মিলিয়ে দুযুগের দুটো অভিযান।

ইতিহাস থেকে উঠে আসা শামান,বিধু, কালন্তি চরিত্রগুলো ভালো লেগেছে।
অন্যদিকে বর্তমানের চরিত্রগুলো কেন যেনো; মমমম কি বলব? খাপছাড়া? জানিনা
যেমন তানভির মালিক এর অ্যানালাইসিস ক্ষমতাতে আমি মুগ্ধ হইনি। কিন্তু পার্শ্ব চরিত্র গুলো তাদের থেকে ভালো কাজ করেছে।
নচিদার কথা বুঝতে আমি ব্যার্থ। আমার নিজস্ব ব্যার্থতা।


সপ্তরিপু জাস্ট অন্যকিছু। ব্ল্যাক বুদ্ধা ভাল লেগেছে অবশ্যই কিন্তু সমাপ্তি টায় একটূ কমতি ছিলো। লেখকের হিস্টরিকাল থ্রিলার গুলো আমি কখনো মিস দিবোনা 🤞🏾
Profile Image for Wreet Sarker.
51 reviews49 followers
March 16, 2019
ক্যারেক্টার বিল্ড আপ ভালোই ছিলো। সেটা করতে গিয়ে বইয়ের কলেবর বেড়েছে কিছুটা ।
সৈন্যদের নিজেদের কথোপকথনের সময় বাংলাদেশী বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার কিছুটা খাপছাড়া লেগেছে আমার কাছে। বুঝতে পারছি লেখক বিভিন্ন গোত্রের সৈন্যদের ডিফারেনশিয়েট করার জন্যই এ কাজটা করেছেন, তবে আজ থেকে দু হাজার বছর আগের মানুষ বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলবে ব্যাপারটা মেলাতে একটু কষ্ট হচ্ছিলো। এক্ষেত্রে মডারেট একটা ভাষা ব্যবহার করা যেতে পারত। সাথে বানানের ভুলও চোখে পড়েছে বেশ কিছু।
আর ব্ল্যাক বুদ্ধা নিয়ে যে মিথ ছিলো সে অনুযায়ী তার রহস্যটা একটু সাদামাটাই হয়ে গেছে বলতে গেলে। প্রায় ৫০০ পেইজ পড়ে এই রহস্য দেখে হতাশই হয়েছি কিছুটা৷ মোটের ওপর ৩.৫/৫।
Profile Image for হিমালয় সরকার.
56 reviews1 follower
March 3, 2024
৩.৫/৫

শুরুর দিকটা বেশ ইন্টারেস্টিং। তবে সময়ের সাথে সাথে একটা অ্যাভারেজ গল্পের রূপ ধারন করেছে। শেষের দিকের কিছু টুইস্ট এন্ড টার্ন ভালই ছিলো। কিন্তু শুধু শেষের দিকেই। আর অতিরিক্ত একশন সিনে ভরা, যেগুলা সিনেমায় ভালো লাগলেও বইতে ভালো লাগে না। যেমন রহস্যময় ভেবেছিলাম তার চেয়ে সামান্যই লেখা। বেশ কিছু রহস্যে সমাধান না করেই ই স্থুল বই শেষ হয়ে গেছে।
Profile Image for Tasmiha Ahmed.
16 reviews
July 11, 2025
থ্রিলার হলে ও মোটামুটি সাবলীল ভাষায় লেখার কারণে ততোটা থ্রিলার লাগে নাই
আর এই যে ব্ল্যাক বুদ্ধা–বুদ্ধার অন্ধকার অবতার, মানুষের দ্বারাই যা পরিচালিত হয়ে মানুষকেই ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে।
Give it a try. স্মুথলি পড়ে শেষ করার মতো বই
Profile Image for Hibatun Nur.
159 reviews
April 20, 2022
বলে রাখতেসি আমি যে বইটি পড়েছি সেটা বইটির প্রথম এডিশন। ২০১৯ সালের বইমেলা থেকে কেনা।

কোন বই পড়ে যখন ব্যাপক হতাশ হই তখন বইটাকে নিয়ে অনেক কিছু বলার থাকে আসলে। কিন্তু বইটা শেষ হলে বইটার পিছনে আর সময় ব্যয় করতে ইচ্ছা করে না। এই বইয়েরও কোন রিভিউ লিখব না ভাবসিলাম। কিন্তু লিখতেসি।
ভালঃ বইয়ের মুখবন্ধ প্রথমেই পাঠক হিসেবে আমাকে গল্পের মধ্যে টেনে নিয়েছে। ইতিহাস আশ্রিত ফিকশনের প্রতি আমার সারাজীবনই একটা স্ফট কর্ণার আছে। মুখবন্ধ সেই স্ফট কর্ণারেই আঘাত দিয়েছিল।
বইটার ৫০% মার্কে এসে সিরিয়াসলি এঞ্জয় করতে শুরু করেছিলাম। তখন পড়ার স্পীডও বেড়ে গিয়েছিল।

খারাপঃ বইয়ের প্লট, একশন আর চরিত্রগুলো বইয়ের দূর্বলতাগুলোকে কাটায়ে উঠতে পারে নাই বলে মনে হইসে আমার। ফেলুদার জটায়ু তার বইয়ে যেমন অতিরঞ্জিত একশন সিকুয়েন্স ঢুকাইতেন এই বইয়ের একশন সিকুয়েন্সগুলো আমাকে ফেলুদার জটায়ু ওরফে লালমোহনবাবুর কথাই স্মরণ করিয়েছে। তার উপর একশন সিকুয়েন্সে নামের ভুল হলে তো পুরা বিষয়টাই দূবোর্ধ্য হয়ে যায়।

চরিত্রগুলোর ক্যারেক্টার বিল্ডাপে যে বৈশিষ্ট্যগুলা দেখানো হয় সেই বৈশিষ্ট্যগুলারই সে বড় খেলাপ করে। আঞ্চলিক ভাষাগুলোর মধ্যেও ইনকন্সেটেন্সি আছে।

বইয়ের আসল কাহিনি মেইনলি শুরু হইসে ২৩০ পেজের পর থেকে। সত্যি বলতে বইয়ের প্রথম ২৩০ পেজের বিল্ডাপ আমার কাছে ফিলার কন্টেন্ট ব্যতিত কিছুই লাগে নাই। মুখবন্ধ যেভাবে কাছে টেনেছিল দ্বিতীয় অধ্যায়ের দূর্বোধ্য নামের বানান ভুল ওয়ালা একশন স���কুয়েন্স সেভাবেই দূরে ঠেলে দিল। বইটার যে সাইজ, তার অর্ধেক সাইজের হলে হয়ত বইটা থেকে আরও মানসম্পন্ন কন্টেন্ট পেতাম বলে মনে হয়েছে।
লেখক লাস্টে সুরিয়াবানসির মত একটা রোহিত শেট্টি ইউনিভার্স বানানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং সেটার নতুন বইও বেরিয়েছে।

বানান ভুলের আর অন্যান্য হাজারও ভুলের কথা আর নাই বা বললাম। বাইন্ডিং এর কথাই বা কি বলব। কিনে আনার দুইমাসের পর কোন জুলুম ছাড়াই বই কভার থেকে ছুটে গেল। ২০১৯ এ ৫০০ টাকার ২৫% ডিস্কাউন্টে কিনেছিলাম। এখন অন্য একটি প্রকাশনী থেকে নতুন এডিশন বেরিয়েছে যার মুদ্রিত মূল্য ৬৪০ টাকা। ২৫% ডিস্কাউন্টে ৪৮০ টাকায় রকমারিতে পাওয়া যাচ্ছে।
প্রথম এডিশনে যে অতশত ভুল আছে তা যদি এই নতুন এডিশনে শুধরানো না হয় তবে এত টাকা খরচ করে এই বই কেনার রেকমেন্ডেশন আমি মরে গেলেও কাউকে দিব না। স্যরি। স্টুডেন্ট মানুষ। পকেট থেকে এত টাকা দিয়ে এত ভুল, এত ঝামেলাওয়ালা বই কেনার কোন মানেই হয় না।
Profile Image for ফারহানা জাহান.
Author 5 books58 followers
May 3, 2021
কোনো বই ছাড়া-ছাড়াভাবে পড়তে ভালো লাগে না আমার। মনে হয় একটা মানুষ এতটা শ্রম দিয়ে কিছু লিখেছেন, সেটার প্রতি একরকম অবিচার হয়ে যায় তখন। কিন্তু এই বইটা পড়তে নিয়ে সেই অবিচার করতে হলো।
বইয়ের প্লট বেশ ইউনিক এবং সমৃদ্ধ ছিল অবশ্যই। লেখক যে বইটা লিখতে নিয়ে যথাসাধ্য পড়াশোনা করেছেন তা স্পষ্ট এবং নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বইটা সুখপাঠ্য ছিল না। কাহিনির শুরুতে অনেক বেশি সময় চলে গেছে, কখনো আবার ধরে উঠতে না উঠতেই ঝুলে গেছে। পড়া শেষ হওয়ার পর মনে হয়নি খুব বেশি অহেতুক কিছু ছিল, কিন্তু বর্ণনার ন্যারেটিভের কারণে পড়ার সময় সেসব অতিরিক্ত মনে হয়েছে। আমার নিজস্ব মারামারি-অপ্রীতির কারণে কিনা জানিনা, কিছু কিছু মারামারির দৃশ্যের বিস্তর বর্ণনা আমার আগ্রহ দমিয়ে দিয়েছে। এসব অংশই মূলত স্কিপ করতে হয়েছে। সেই সাথে শেষ দিকে টুইস্টের খাতিরে কিছু ব্যাপারের পুনরাবৃত্তি খানিকটা বিরক্তির উদ্রেক করেছে৷ তবে অনেক কিছু জানতে পেরেছি এটা স্বীকার করতে হবে। ব্ল্যাক বুদ্ধা, মৌর্য বংশের পতন, পুরো একটা লোককাহিনির ব্যাকস্টোরি_সব মিলিয়ে উপভোগ্য ছিল মোটামুটি। তবে মনে হয়েছে এই প্লট থেকে আরো ভালো কিছু করা সম্ভব ছিল।

আমার পড়া লেখকের প্রথম বই এটা। খুব বেশি ভালো লাগেনি। তবে প্লট বাছাই এবং কাহিনি সাজানোতে বেশ অভিভূত হয়েছি। তাই লেখকের অন্য বই পড়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
Displaying 1 - 30 of 92 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.