প্রথম বই (২০২৬)
আমি টুকটাক কুসংস্কারে বিশ্বাসী। এজন্য প্রতিটা বছরই আমার মাঝে একটা টেন্ডেন্সি কাজ করে যে, বছরের শুরু এবং শেষের বইটা যেন কোয়ালিটি ফুল হয়। তাহলে হয়ত "শেষ ভাল যার-সব ভাল তার" বা "শুরুতে গলদ" ইত্যাদি ইত্যাদি এড়ানো যাবে। এজন্য বছরের প্রথম বইটা যে কী পড়ব বা কী পড়া যায় এ নিয়ে বেশ ভালই একটা ডাউটের মাঝে ছিলাম। তার মধ্যে আমার আবার চলছে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ইয়ার ফাইনাল। এখানে মর-মর অবস্থা। কিন্তু তবুও শতততবাধাঁকে মিডিল ফিংগার দেখিয়ে সেলফের সামনে গিয়ে বই চুয়ুজ করতে লেগে পড়লাম।
উহু... এতত এততত বই না পড়া/নতুন কেনা! এর থেকে কোয়ালিটি ফুল একটা কিভাবে চুয়ুজ করব! তার উপর আবার, আমার হাতে সময় নাই যে কয়েকদিন নাওয়াখাওয়া ভুলে বইয়ে মুখ গুঁজে বসে থাকব। ছোট সাইজের বই খুঁজতে খুঁজতে ডাউস সাইজের একটা বের করে ফেলি। এই তো, এই ডিসেম্বরেই কিনেছিলাম, ব্যামোকেশ সমগ্র। উহু বহুত ঝামেলা পোহায় কিনতে হইছিল, বইয়ের আজকাল যে দাম। সে যাইহোক, কিন্তু এই সর্ট টাইমে তো এ বই শেষ করা সম্ভব না। কিন্তু পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখলাম বইয়ের প্রথম গল্পটার সাইজ আহামরি বড় না, ছোটই বলা যায়। তো সূচি দেখতে দেখতে দাড়িয়েই পড়া শুরু করে দি। এরপর...
ব্যোমকেশ বোক্সী, বাংলার দ্বিতীয় সবচেয়ে সমাদৃত ডিটেকটিভ কিংবা তার নিজের ভাষায় বললে... "সত্যান্বেষী"। দ্বিতীয় বললাম শুধুমাত্র নিজের গায়ের জ্বোর খাটিয়ে। পাঠকমহলের অধিকাংশই হয়ত আমার সহিত দ্বিমত পোষণ করবেন। কিন্তু আমার জন্য স্টিল, বাংলার সবচেয়ে প্রিয় গোয়েন্দা হচ্ছে আমাদের ফেলু মিওির। এখন হয়ত পাশ দিয়ে কেউ গালি দিয়ে বলতে পারেন, ব্যোমকেশ আমার মতন বাচ্চাকাচ্চাদের জন্য না। ব্যোমকেশ ম্যাচিয়োর পাঠকের জন্য। এডাল্ট না হলে এই বই পড়ে কিছুই বুঝব না, এরুপ তকমা দিলে সেক্ষেত্রে আমার নিজেকে ডিফেন্স করার মতন খুব বড়সড় ঢাল আপাতত আমার হাতে নাই। আমি শুধু বলব, আমি যখন ফেলুদা পড়ি...আমার মনে হয় আমি বই চিঁড়ে, ফেলু মিত্তিরের জগতে চলে গেছি, আমার একপাশে আছে তোফসে আরেক পাশে জটায়ু আর সামনে হেঁটে চলছেন শ্রী শ্রী প্রদোষ কুমার মিত্র, P. C. Mitter! উহু, ভাবতেও গুসবামস আসে।
আসলে বিষয়টা হচ্ছে, আমাকে ফেলুদা ইমোশনালি বেশ কানেক্ট করে ফেলছে এজন্য তাকে সবার উপরে না রাখতে পারলে কেন জানি অস্বস্তি কাজ করে মনের মাঝে।
এসব আবগী বিবাগী কথা থাক। কাজের কথায় আসি, ব্যোমকেশের সহিত প্রথম যাত্রা ছিল আমার এটা। প্রথম যাত্রায় আমরা সত্যান্বেষী মহাশয়ের পরিচয় আর দারুণ এক কেস সলভিং দেখতে পাই। যথেষ্ট ইনজয় করেছি। আর আগে আরো আরো কেস সলভিং পড়ার জন্য তীব্র আগ্রহ নিয়ে বসে আছি। আশা রাখি এবছরে খন্ড খণ্ড করে পড়ে, ইনশাআল্লাহ ব্যোমকেশ সমগ্রটা শেষ করে ফলতে পারবো।
তো, বছরটা আমার শুরু হলো, সত্যান্বেষীর সহিত...তবে বাকি বছরটা কেমন কাটতে চলেছে আমার? কতখানি বই পড়তে পারবো এই বছর! এ হাওয়া...আমায় নিবে কতদূর...
০৫ জানুয়ারি ২০২৬
খুলনা, বয়রা