রহস্যময় এক ডক্টর, নিজের চারপাশে রহস্য তৈরি করে রাখেন সবসময়। জাতিয় দৈনিকে একটি অদ্ভুত চাকরীর বিজ্ঞাপন দিলেন তিনি, প্রার্থি হিসেবে হাজির হল মাত্র দু-জন। একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির সেই দুজন তরুন-তরুনীকে হতবুদ্ধিকর একটি রহস্য সমাধান করার 'এসাইন্টমেন্ট' দেয়া হলো। তদন্তে মানতেই পরিষ্কার হয়ে গেল ঘটনাটি যেমনি প্রহেলিকাময় তেমনি গোলকধাঁধাপূর্ণ। বিজ্ঞান আর অতিপ্রাকৃতের দোলচলে দুলতে লাগলো তাদের সমস্ত হিসেব নিকেশ। সব কিছুর কি ব্যাখ্যা আছে? নাকি শেষ কথা বলে কিছু নেই? মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের মৌলিক থৃলার উপন্যাস পেন্ডুলাম পাঠককেও দোলাচলে দুলতে দুলতে নিয়ে যাবে সেই রহস্যময়তার গভীরে।
MOHAMMAD NAZIM UDDIN (Bengali: মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন) is a writer and Translator of more than 26 novels..His original works are NEMESIS, CONTRACT, NEXUS, CONFESSION,JAAL, 1952: nichok kono number noy, KARACHI, RABINDRANATH EKHANE KOKHONO KHETE ASENNI and KEU KEU KATHA RAKHE. These six Thriller novels are highly acclaimed by the readers.
বলিউডের প্রত্যেকটা মুভিতেই নায়িকা থাকবে।গানের মধ্যে নাচানাচি আর নায়কের সাথে রংঢং করা ছাড়া পুরো মুভিতে নায়িকার আর কোন ভূমিকা থাকে না।মায়া চরিত্রটাও আমার কাছে তেমন লেগেছে।এই বইটিতে কি আসলেই মায়া চরিত্রের প্রয়োজন ছিল?পুরো বই জুড়ে চারুর সাথে তর্ক করা ছাড়া আর কিছুই দেখলাম না।বইয়ে একজন নারী চরিত্র লাগবে, তাই হয়তো লেখক মায়া চরিত্র ঢুকিয়ে দিয়েছেন বলিউডি মুভির মত।
এছাড়াও ডক্টর আজফর হোসেন একটি রহস্যময় খুনের অলৌকিক এবং যৌক্তিক ব্যাখ্যা জানার জন্যে একই টিমে মায়া ও চারুর মত দুই ভিন্ন মতাবলম্বীকে অ্যাসাইনমেন্ট দেন।কিন্তু পুরো বইয়ে চারুর ভূমিকা যেভাবে দেখোনা হয়েছে মায়া সেভাবে কাজ করেনি।ব্যাপারটা একপাক্ষিক হয়ে গেছে।একপক্ষই বইজুড়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে আরেক পক্ষের নিষ্ক্রিয়তায়।এখানে যদি মায়ার মাধ্যমে কিছু প্যারানরমাল এক্টিভিটি দেখানো হতো তাহলে হয়তো প্লটের ব্যালেন্স ঠিক থাকতো।
ধর্মীয় ব্যাপারে চারুর বক্তব্য অযৌক্তিক মনে হয়েছে(বাবা মারা যাওয়ার ঘটনা)।যদিও এটা আমার নিজস্ব মত।
বইয়ের মাঝেমাঝে কিছু সেক্সুয়াল ব্যাপার এমন ভাবে বলা হয়েছে যা আমার কাছে অনেক দৃষ্টিকটু লেগেছে।অনেকেই বলতে পারেন এডাল্ট থ্রিলার না পইড়া বাচ্চাগো বই পড়েন গা।কিন্তু আমার মনে হয় একটা ভাল থ্রিলারে এসব সেক্সুয়াল ব্যাপার এমন ভাবে ডিরেক্ট বলাটা খুবই বিরক্তিকর।
আর বইটার সবচেয়ে বেশি যে ব্যাপারটা খারাপ লেগেছে তা হল ফিনিশিং।হঠাৎ দুম করে বইটা শেষ করে দেয়া হয়েছে।বইটার সিক্যুয়াল বের করার চিন্তা হয়তো লেখকের আছে।তারপরেও একটা ভাল এন্ডিং আশা ছিল।যেন বইটি পড়ে পাঠকও তৃপ্তি পায় আবার পরের বইয়ের জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে।
কেউ কেউ কথা রাখে বইয়ের মত দুর্দান্ত কাজের পরে পেন্ডুলাম বইটার প্রতি নাজিম ভাইয়ের আরও যত্নশীল হওয়া উচিত ছিল।
রহস্যময় এক ডক্টর, যিনি কিনা জীবনের সকল বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এপার নাকি ওপার এই দোলাচলে পেন্ডুলামের মত ঘুরতে থাকেন... পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরেছেন...অনেক অভিজ্ঞতা।।তার চেয়েও অনেক বেশি টাকার মালিক !!!! চারু আহসান... ভুত-পেত্নী-অতিপ্রাকৃত কোন কিছুতে বিশ্বাস করে না।। সব কিছু বিজ্ঞান আর যুক্তি দিয়ে বিচার করে... ইতিমধ্যে অনেক ভন্ড বাবাদের মুখোশ খুলে দিয়েছে... এ নিয়ে বই-ও লিখেছে... মায়া... বিশেষ এক ক্ষমতার অধিকারিণী।। সাবেক রেডিও জকি... বেশ-ভূষা , চাল-চলন অতি মাত্রায় অদ্ভূত...ভুত-প্রেত ইত্যাদিতে অগাধ বিশ্বাস... যুক্তির ধার ধারে না... বড়লোক আর ক্ষমতাশালী পরিবারের ১৪ জন তরুন-তরুনী... যারা সমাজের সাধারন নিয়ম-কানূনকে কোন তোয়াক্কা করেনা... হ্যালোউইনের উৎসব পালনের জন্য মিলিত হয় নিরিবিলি এক বাগান বাড়িতে।। সেখানে খুন হয়ে যায় এমপির ছেলে... পুলিশ-ডিবি কেউ এই খুনের কোন কুল কিনারা করতে পারেনি... আর আমাদের রহস্যময় ডক্টর রহস্য উদঘাটনের দায়িত্ব দেন চারু এবং মায়ার উপর... তারপরই শুরু হয়ে যায় তাদের যৌথ তদন্ত... পুরো উপন্যাসে মায়ার জোরালো কোন ভূমিকা আছে বলে আমার মনে হয়নি।। চারু আহসানের সাথে প্রাকৃত আর অপ্রাকৃত নিয়ে তর্ক করা ছাড়া আর কোন ভূমিকা আছে কিনা আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে বুঝতে পারিনাই... তবে উপন্যাসের প্লট অনেক দারুন... পুরো উপন্যাসের কোথাও কাহিনী স্লো হয়ে যায়নি।।
কেমন জানি লাগলো বইটা। ঠিক খারাপ ও না, ভালো তো না-ই।
অনেক কস্ট করে অনেক টাইম নিয়ে প্লট বিল্ড-আপ করসেন লেখক, কিন্তু ডেফিনিট এন্ডিং ই নাই। ওপেন এন্ডেড বই, পরের পর্বের বা সিক্যুয়েলের জন্যে একদম রাস্তা খালি রাখা হইলো আরকি। একটা ফুলফিলিং এন্ডিং বাদে যেকোন বই আমার কাছে কেমন জানি অপূর্ণ লাগে, এখানেও সেম কেস। এতো কস্ট করে সাজানো একটা মিস্ট্রি, কোন এন্ডগেমই নাই!
সময়ের অপচয় বলতে ইচ্ছা করতেসে না। লেখকের বাকি বইগুলো পড়ার পরে এটা আশা করি নাই।
দারুণ শুরু। দুর্দান্ত তিনটি চরিত্রের উপস্থাপনা। অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক একটি পরিপ্রেক্ষিত নির্মাণ। . . . একটি অত্যন্ত মামুলি, ব্যবহৃত হতে-হতে ছিবড়ে হয়ে যাওয়া রিভেঞ্জ থ্রিলারের প্লট, যাতে উপরোক্ত তিন চরিত্রকে স্রেফ গা-জোয়ারি করে ঢোকানো হয়েছে। বুকভরা আশা ধুক করে নিভে গেল বইটা পড়ে। সুলিখিত এবং নির্মেদ বলে শেষ অবধি ছুটে গেলাম বটে, তবে মাথায় একরাশ প্রশ্ন জেগে রইল এই 'মৌলিক থ্রিলার'-মালা নিয়ে।
চমকের শুরু একদম প্রথম পাতা থেকেই। জোকার, হার্লে কুইন, ফ্রাঙ্কেনস্টাইন কী করছে বাংলা থৃলারে? পত্রিকায় চাকুরির বিজ্ঞাপন দেখে প্রাসাদোপম এক বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয় মায়া আর চারু। তাদের চাকুরিদাতা, ড. আজফার হুসেন এক রহস্যময় লোক। তার চালচলন, কথাবার্তা সবকিছুতেই কেমন ধোঁয়াশা। মায়া আর চারুকে তিনি অ্যাসাইনমেন্ট দেন অসমাপ্ত এক রহস্যের ইতি টানার। তদন্তে নামে দুই মেরুর দুই তরুণ-তরুণী আর পদার্পণ করে এক গোলকধাঁধায়। বিশ্বাস আর যুক্তির দোলাচলে দুলতে থাকে তাদের হিসেব-নিকেশ। প্রথমে উপন্যাসটার নাম নিয়ে না বললেই নয়। কথায় আছে, আগে দর্শনদারি, তারপর গুণবিচারী। আগ্রহ জাগানোর জন্য উপন্যাসের নামের ভূমিকা কম নয়। কেউ কেউ কথা রাখে, ১৯৫২-নিছক কোনো সংখ্যা নয় এর পর এল "পেণ্ডুলাম- এক নিত্য দোলাচল"- চমৎকার এক দ্যোতনা আছে শিরোনামে। কাহিনি কিংবা লেখনী-দুদিক থেকেই পেণ্ডুলাম সুপাঠ্য। বিশ্বাস আর যুক্তির চিরায়ত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এগিয়ে গেছে whodunit ঘরানায় লেখা উপন্যাসটির কাহিনি। আমি অবশ্য আরবান-ফ্যান্টাসি টাইপ কিছু আশা করেছিলাম অতিপ্রাকৃত শব্দটি দেখে। অতিপ্রাকৃতের ছোঁয়া থাকলেও মূলত বাস্তবতাই প্রাধান্য পেয়েছে। সুলেখনী কাহিনিতে মনযোগ ধরে রাখবে। গল্প বলার ছলে বর্তমান সমাজের কিছু দূষিত দিকের প্রতি কটাক্ষ করেছেন। পড়ে ভাল লেগেছে। উপন্যাসটার আরেকটা চমৎক���র দিক হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অভিনব প্রেক্ষাপট। মায়া আর চারুর রহস্য সমাধান করাটা ছিল একটা অ্যাসাইনমেন্ট। আর এক অ্যাসাইনমেন্ট শেষ হওয়ার পর ওরা নিশ্চয় আরও অ্যাসাইনমেন্ট পাবে। তারমানে বাস্টার্ড সিরিজের পর আরও একটা সিরিজ আমরা পেতে চলেছি সুলেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের থেকে। উপন্যাসের দুর্বলতা সম্ভবত মায়া চরিত্রটি। চারু চরিত্রের কাছে মায়া অনেকখানিই ম্লান হয়ে গেছে। তবে এটা ঠিক যে কাহিনি সাবলীল ভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মায়ার প্রয়োজন ছিল। আমার বিশ্বাস শক্তিশালী রুপে মায়া ফিরে আসবে পরের বইয়ে।
সময় হ্যালোইন রাত। বড়লোকের বখে যাওয়া সন্তানরা গাজীপুরের খামারবাড়িতে হ্যালোউইন উৎযাপন করছে। এর মাঝেই নৃশংস ভাবে খুন হয়ে গেল একজন। খুনের জন্য প্রথমে যাকে দায়ী বলে মনে করা হল দেখা গেল সে পা ভেঙ্গে হাসপাতালে পড়ে আছে। তারপক্ষে কিছুতেই খুন করা সম্ভব না। কোন ক্লু খুজে না পাওয়ায় আপাতদৃষ্টিতে কেস ক্লোজই হয়ে গেল বলা যায়।
একবছর পর। ডক্টর আফজার হুসেন। পত্রিকায় বিচিত্র একটা বিজ্ঞাপন দিলেন। বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে মাত্র দুইজন ইন্টারভিউ দিতে আসল। একজন ছেলে,তরু, একজন মেয়ে,মায়া। অনেকটা কৌতূহলী হয়েই আসল বলা যায়।
তরু, যুক্তিবাদীবাদী। সবকিছুর পিছনেই যুক্তি খুজতে চায়। অসম্ভব বিষয়কেও সে যুক্তি বিজ্ঞানের আলোকে প্রমান করতে চায় সে। তার মতে অতিপ্রাকৃত বিষয় বলে কোন ঘটনা নাই। বাংলাদেশ র্যাসনাল সোসাইটির সাধারন সম্পাদক সে। অন্য দিকে মায়া। অতিপ্রাকৃত বিষয়ে শুধু বিশ্বাসীই নয় বরং সে নিজেও এর সাথে জড়িত বলে মনে করে সে। রেডিও মুক্তিতে এই বিষয়ে নিয়ে প্রোগ্রাম করত সে। যদিও সে আরজের কাজ ছেড়ে দেয় সে।
তরু-মায়াকে ডক্টর হ্যালোউইনে খুন হয়ে যাওয়া যুবকের কেসের তদন্ত করতে দেন। যুক্তি কিংবা অতিপ্রাকৃত যেভাবেই হোকনা কেন উত্তর খুজে বের করতে বলেন দুইজনকে। যেই কেস পুলিশ, ডিবি নিয়ে হাসফাস করছিল তাতে কতটুকুই আগাতে পারবে তারা? এই কেসের ব্যাপারে ডক্টরের এতই বা আগ্রহ কেন?
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ নাজিমউদ্দিনের বই যতই পড়ছি তত ভাল লাগছে। এক বসায় শেষ করেছি এই বই। পুরাবই এর কোথাও নাম করনের সার্থকতা খুজে না পেলেও লাস্ট পেজে এসে কিছুটা বুঝিয়েছেন লেখক এর কারন। অনেকটা সিকুয়ালের জন্য ক্লিফহ্যাংগার রেখে দেওয়ার মতন। শুরুর দিকে এত উত্তজনা থাকলেও শেষের দিকে কেমন যেন ঝিমানি চলে আসে। তাই ৩ তারা।
ভালো লাগে নাই.....থ্রিল্লার এর থ ও পাই নাই....নারী চরিত্র রাখতেই হবে এই মনে করে মায়া নামক পুতুল এক চরিত্র আনা হইসে,পুরো বইতে যার কোন উল্লেখযোগ্য ভুমিকাই নাই....শেষ এ আবার কিল্ফ হাংার.... এই প্রথম নাজিম ভাইয়ের কোন বই পরে দুখ ও হতাশ হইসি( শুধু এই বইটা কিনার জন্য আমি নিলখেত গেসিলাম নিকুঞ্জ থেকে পুরা পাক্কা ২ ঘণ্টা লাগসিল)....
অল্প কথায় বলতে চাইলে- মনে হয়েছে অযথা টেনেছেন লেখক। দুটি প্রধান কিন্তু বিপরীত বিশ্বাসে লালিত মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রাধান্য ছিলো এই থ্রিলারের। যুক্তিবাদী চারুর উপস্থিতি আর প্রভাব যতখানি ততখানি অশরীরীতে বিশ্বাসী মায়ার কেন হল না তা আমার বোধগম্য নয়। গল্প পাঠককে ধরে রাখবে এটাই কাম্য, এজন্য অযথা মূল চরিত্রের মধ্যে রোমান্টিক টেনশন সৃষ্টি অপ্রয়োজনীয় লেগেছে।
বইটার শেষ আছে, আবার নেইও। যেটা খুশি সেটা মনে করতে পারেন। মনে হল লেখক সিন্ধান্ত পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছেন। যাহ, শেষ থেকে শুরু করলাম আমি। কিন্তু এই শেষে থেকে শুরুটাই বেশ ইন্টারেস্টিং। বইটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। এক বড়লোক নি:সন্তান বুড়ার শেষ বয়সে এসে ইচ্ছা হয় তার আশপাশের জগতের অমিমাংসিত রহস্যগুলাকে উন্মোচন করবেন। এ জন্য দুই ক্যান্ডিডেটকে নিয়োগ দেন। এদের একজন চরম যুক্তিবাদী, মানে মিসির আলীর বাপ টাইপ লোক। আরেকজন হইল সাইকি টাইপ। মানে আধিদৈবিক ব্যাপার গুলা সেন্স করতে পারেন। এই দুই বিপরীত মেরুর দুজনকে নিয়ে প্রথম কাজ হল একটি হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন। বইটা আমার কাছে এভারেজ লাগল। দুই ক্যান্ডিডেটকে নিয়োগের পদ্ধতিটা ভাল লাগেনি। মনে হচ্ছিল অযথা নাটকীয়তা করা হয়েছে। এখানে মূল চরিত্র হিসেবে দুজন টিমমেটের কথা থাকলেও একজন মোটামুটি কিছুই করেন নাই। পুরা বইটা শুধু এক চরিত্রই টেনে নিয়ে গিয়েছে। সেকারণে মাঝে খুবই বোরিং হয়ে গিয়েছিল। বাকি ক্যারেক্টরগুলাও সুন্দর করে বিল্ডাপ করা যেত। কিন্তু লেখক সেদিকে আগ্রহ দেখান নাই। আর কেমনে জানি সব মিলে যাচ্ছিল। অনেকগুলা অসম্ভব সম্ভাব্যতাকে আঁকড়ে ধরে রহস্যের কূলকিনারা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। যাকিনা শেষ পর্যন্ত কাজেও দিচ্ছিল। আর বইটাকে একটু লম্বা করা হয়েছে। সেজন্য শেষ আব্দি যেতে ভালই কষ্ট হল আমার। প্লটটা দারুনভাবে শুরু করে হতাশভাবেই শেষ হল। বইটা পড়ার সময় আমার ভাললাগাও পেন্ডুলামের মত দুলতে দুলতে হতাশায় এসে থেমে গেল।
অতিপ্রাকৃত, ভূত-প্রেত বিশ্বাসী একজন প্রাক্তন আরজে - মায়া।।।
অন্য দিকে Rationalist Society'r তুখোড় যুক্তিবাদী সদস্য - চারু।
পত্রিকার এক ব্যতিক্রমী বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে দুজনে হাজির হল রাজধানীর অভিজাত এলাকার প্রাসাদতুল্য একটি বাড়িতে। ইন্টারভিউ শেষে অদ্ভুত এক অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হল তাদের। প্রায় এক বছর আগে হ্যালোইনের রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্ত করতে হবে তাদের। বাস্তবতা আর কল্পনার সংমিশ্রণে তাদেরকে আসল ঘটনা বের করে আনতে হবে। জড়িয়ে পড়ল দুজনে।।।।
আমার কাছে বাস্তবতাটাই বেশি প্রান্জল মনে হয়েছে এই বইতে। অতিপ্রাকৃত কোন কিছুর অস্তিত্ব তেমন একটা প্রকট মনে হয় নি। তবে শেষ পর্যন্ত আমিও মানতে বাধ্য হয়েছি পেন্ডুলামে দুলতে।।।
কী সম্ভাবনাময় একটা শুরুর হতাশাজনক শেষ! হতাশাও না, আসলে বিরক্তি।
১. চরিত্রগুলো বারবার একই কথাবার্তা বলেই যাচ্ছিল। একই ব্যাপারে আলোচনা কয়েকবার আসতেই পারে, কিন্তু সে আলোচনা থেকে নতুন কিছু না আসলে আর সে আলোচনা বইয়ে রাখার পয়েন্ট কী? ২. প্রকান্ড হোমোফোবিক কিছু মন্তব্য ছিল, তাও প্রধান চরিত্রের কাছ থেকে। আমি ���াও শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলাম কোন redemption arc থাকবে। ছিল না। ৩. মায়া নামের চরিত্রটি কী উদ্দেশ্যে ছিল আমি নিশ্চিত না। শুধু তার "উদ্ভট" সাজ ছাড়া আর কোন অবদান ছিল না কাহিনীতে। অন্তত আমি খুঁজে পাই নি। ৪. রহস্যের সমাধান হয়ে যায় বইয়ের ৭৫% এর মধ্যেই, আর এত anticlimactic ছিল যে আমি বাকি ২৫% শেষ করেছি এই আশায় যে হয়তো শেষ মুহূর্তে নতুন কোন সমাধান আসবে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো লেগেছে চারু আহসানকে। তবে মায়া একেবারেই সাদামাটা। প্রথমদিকে তাদের খুনসুটি ভালো লাগলেও পরে চারুর এসিস্টেন্টই মনে হয়েছে। তার কাছ থেকে কিছু অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার বর্ণনা আশা করেছিলাম। লেখক মায়ার চরিত্রটা নিয়ে আরেকটু কাজ করতে পারতেন। তাছাড়া চারুকে বারবার 'র্যাশনালিস্ট সোসাইটির সহকারী সম্পাদক' বলে পরিচয় করানোটাও অপ্রয়োজনীয় ঠেকেছে।
শেষটায় আমি আরো একটু রোমাঞ্চের আশা করেছিলাম। শুরুর দিকে উত্তেজনা থাকলেও শেষের দিকে গিয়ে কেমন যেন ঝিমানি চলে আসে।
বুক রিভিউ বই : পেন্ডুলাম লেখক : মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন পেজ : ৩১৭ পার্সোনাল রেটিং : ০৭/১০ - চারু আহসান এক যুক্তিবাদী যুবক৷ সব কিছুতেই বিজ্ঞান আর যুক্তি খুঁজেন। অতিপ্রাকৃত জিনিস বা ভূত বিশ্বাস করেন না।সব কিছুর পিছনেই যুক্তি বা বিজ্ঞান থাকতে হবেই।
মায়া- সাবেক রেডিও জুকি। ভূত নিয়ে একটা শো করত। ভূত আর অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়েই যার বসবাস৷ তার সিক্সথ সেন্সও দারুণ ।
ডক্টর আজফার - রহস্য তৈরি করে রাখতে ভালোবাসে। জাতীয় দৈনিকে উদ্ভট চাকরির বিজ্ঞাপন দিলেন। আর ইন্টারভিউ দিতে হাজির হলেন মাত্র দুজন। চারু আহসান এবং মায়া। - গতবছর ৩১ অক্টোবরের রাত তথা হ্যালোউইন উদযাপন করতে গিয়ে খুন হয় এমপি পুত্র মিসকাত। সম্ভাব্য খুনি হিসেবে বিবেচনা করা হয় মিসকাতের বন্ধু বাবুকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো ঠিক একই সময়ে বাবু বাইক এক্সিডেন্টে করে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। - এই খুনের রহস্য বের করার জন্যই ডক্টর আজফার এসাইনমেন্ট দেয় চারু আর মায়াকে। রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে অনেক রহস্য বেড়িয়ে আসে। ঘুরতে থাকে পেন্ডুলামের এক নিত্য দোলাচালে। - গল্পটা খুব স্লো, ভালোই খারাপ না৷
প্লট বেশ সুন্দর, আকর্ষণীয়। শুরুটা দুর্দান্ত। বইয়ের গতিও বেশ ভালো। কিছু ছোট ছোট টুইস্ট আসলেই ভালো। কিন্তু মাঝের কিছু অংশ এবং শেষ দুটোই আমার কাছে জঘন্য লেগেছে। মায়া চরিত্রটার শুরুটা চারু আহসান চরিত্রের সাথে ভারসাম্য রেখে সমানগতিতে হলেও মাঝের পর থেকেই এই চরিত্র একেবারে সাদামাটায় রুপ নেয়, ভালো লাগেনি ব্যাপারটা। নাজিম ভাই এই বইটা নিয়ে পেণ্ডুলামের মতই দোলাচলে রেখেছিলেন বইমেলা থেকে। একটা হাইপের সৃষ্টি হয়েছিলো। হয়তোবা আমি বেশি আশাবাদী ছিলাম তাই হতাশ হয়েছি। অথবা বই প্রকাশের চাপ থেকেই শেষটা তড়িঘড়ি করে শেষ করে দেয়া হয়েছে। নাজিম ভাইর অন্যান্য বইয়ের মতই শেষটা আরেকটু গতিময় এবং মারাত্মক একটা টুইস্ট হলে এই বইটাও খুব ভালো একটা মৌলিক হতে পারতো.....
রহস্যময় ডক্টর আজফার হুসেন, এক কেস সমাধান করার জন্য ফন্দি এঁটে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিন্তাধারার দুজন মানুষকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। টাকা, ক্ষমতা কিংবা অভিজ্ঞতা, কোনো কিছুরই কমতি নেই এই ডক্টরের। চারু আহসান, একজন র্যাশনালিস্ট, সবকিছুই যুক্তি দিয়ে বিচার করেন। মায়া, একজন রেডিও জকি, যিনি কীনা আগে থেকেই কোনো খারাপ খবর আঁচ করতে পারেন। যুক্তির চেয়ে বিশ্বাসের উপরেই তিনি বেশি নির্ভরশীল।
হ্যালোউইন উৎসব পালনের জন্য বড়লোক পরিবারের ১৮ জন সন্তান মিলিত হয় এক বাগান বাড়িতে। এই পার্টির মধ্যেই খুন হয়ে যায় তাদেরই এক বন্ধু। খুনি হিসেবে যাকে সন্দেহ করা হয়, সে নাকি সেদিন ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই মারাত্মক এক্সিডেন্ট করে বসে। কেসের কোনো কূল-কিনারা না পাওয়ায় কেস ক্লোজড হয়ে গেল। কিন্তু এই ক্লোজড কেস আবার শুরু হয় আফজার হোসেনের অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে। রহস্যময় খুনের অলৌকিক এবং যৌক্তিক ব্যাখ্যা জানার তিনি বেছে নেন চারু আর মায়াকে। এই বিশ্বাস আর যুক্তির খেলায় শেষমেশ কে জয়ী হবে?
পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
পুরো উপন্যাসে পড়ে মনে হলো এখানে মায়া চরিত্রের আসলে কোনো ভূমিকাই নেই। বইয়ে একটা নারী চরিত্রের দরকার, একটু প্রেম-প্রেম খেলা হবে, সেজন্যই জোর করে মায়া চরিত্রটা ঢুকিয়ে দেওয়া। চারুর তুলনায় মায়া বেশ ম্লান, পুরো বই জুড়ে চারুর সাথে তর্কাতর্কি করা ছাড়া মায়াকে আর কিছু করতে দেখলাম না। ব্যাপারটা বেশ একপাক্ষিক। মায়ার মধ্যে যেই অতিপ্রাকৃতিক শক্তি আছে, সেটারও তেমন কোনো ব্যবহার দেখলাম না। চারুকে বারবার 'র্যাশনালিস্ট সোসাইটির সহকারী সম্পাদক' বলে পরিচয় করানোটাও বিরক্তিকর। মায়ার মতন তার মধ্যেও যুতসই কোনো লজিকের দেখা পেলাম না। তাছাড়া আমার মনে হয়েছে অ্যাঞ্জেল চরিত্রটা নিয়ে লেখক অতিমাত্রায় রঙ মাখিয়ে ফেলেছেন।
বইয়ের শুরুটা দারুণ মনে হলেও মাঝ দিয়ে মনে হয়েছে লেখক অযথাই কাহিনী টেনে বড় করছেন, আর শেষে মনে হলো খুব দ্রুতই গল্প শেষ করে ফেলেছেন। বইয়ের শেষে যেয়ে মনে হলো হয় এর সিক্যুয়াল আসবে, নাহয় এখানে বিশাল বড় প্লটহোল আছে। কারণ বইয়ের শেষেই আছে, "সব রহস্যের সবটা সমাধান হয় না। কিছু না কিছু রহস্য থেকেই যায়।" এর মানে কী? প্রথমে তো বইয়ের নামের সাথে প্লটের কোনো সম্পর্কই খুঁজে পাচ্ছিলাম না, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমিই সেই পেন্ডুলাম, প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য দুলছি।
লেখক সম্পর্কে কিছু কথা - বাংলা সাহিত্যের বর্তমান থ্রিলার লেখকদের মধ্যে নিজাম উদ্দিন অন্যতম। অনেক দিন ধরেই উনার বই পড়ার ইচ্ছে ছিল। অবশেষে আজ ইচ্ছেটা পূরণ হলো। দারুন লেখনী।
কাহিনী সংক্ষেপ - এক স্বনামধন্য রেডিও স্টেশনের এক সাবেক আর. জে মায়া আর রেশনালিষ্ট সোসাইটির সভাপতি ও লেখক চারু আহসান একদিন তাদের সকালের খবরের কাগজে একটি অন্য রকমের চাকরির বিজ্ঞাপন দেখতে পান। তারপর তারা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যেয়ে দেখেন সেখানে তারা দুইজন ব্যতীত আর কোনো ক্যান্ডিডেট নেই। তারা একটু অবাক হন এবং চতুর লেখক চারু আহসান আবিষ্কার করেন যে, তাদের মডিফায়েড করা খবরের কাগজ পাঠানো হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটি শুধু তাদের কাগজেই ছিল। বিজ্ঞাপনের মালিক শুধু তাদের দুজনকেই টার্গেট করেছিল তার কাজের জন্য। বিজ্ঞাপন দাতা ছিলেন অভিজাত শ্রেণীর পূর্ণবয়স্ক এক পঙ্গু ব্যাক্তি, ডক্টর আজফার হুসেন। তিনি তার চারপাশে সব সময় এক রহস্য তৈরি করে রাখেন। তারপর একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির সেই দুইজন তরুণ তরুণীকে হতবুদ্ধিকর একটি রহস্য সমাধান করার "অ্যাসাইনমেন্ট" দেন তিনি। তদন্তে নামতেই পরিষ্কার হয়ে গেলো ঘটনাটি যেমনি প্রহেলিকাময় তেমনি গোলকধাঁধা পূর্ন।বিজ্ঞান আর অতিপ্রাকৃতের দোলাচলে দুলতে লাগলো তাদের সব হিসেব নিকেশ।
পত্রিকায় বের হলো এক অদ্ভুত বিজ্ঞাপন। বেশ রহস্যময় আর ভিন্নরকম সেই চাকরির বিজ্ঞাপনটি। বিজ্ঞাপনটি ছাপিয়েছে একজন অদ্ভুত ধনী ব্যক্তি, ডক্টর আজফার হোসেন। নিজের বিরাট সম্পত্তি নিয়ে থাকা এই একাকী মানুষটি সবসময়ই নিজের চারপাশে সৃষ্টি করে রাখে রহস্য বলয়।
সেই চাকরির প্রার্থী হিসেবে এলো দুইজন মানুষ। মায়া, সাবেক মডেল, পরবর্তীতে জনপ্রিয় রেডিও শো 'ভূত প্রেতের আসর'এর আর.জে. হিসেবে কাজ করেছে। সদ্য চাকরি ছেড়ে দেওয়া এই সুন্দরী তরুণী বিশ্বাস করে পৃথিবীতে বিরাজমান অব্যাখ্যাত অতিপ্রাকৃত শক্তিকে। তার মধ্যেও রয়েছে কিছু সাইকি পাওয়ার।
অন্যজন হলো চারু আহসান, একজন যুক্তিবাদী অ্যাক্টিভিস্ট। ফ্রিল্যান্সার, লেখক আর যুক্তিবাদী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এই লোকটি কাজ করে সমাজ থেকে যাবতীয় কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস হটানো�� ক্ষেত্রে। ভিন্ন প্রকৃতির দুইজনেরই চাকরি হয়ে যায়। অন্য আট-দশটা চারকি থেকে আলাদা আর কিছু ক্ষেত্রে বেশ সুবিধাজনক এই কাজে তাদের দেওয়া হয় একটা অ্যাসাইনমেন্ট।
অ্যাসাইনমেন্টটি হলো প্রায় এক বছর আগে ঘটে যাওয়া এক অমিমাংসিত হত্যাকান্ড নিয়ে। ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান মিসকাত বন্ধুদের নিয়ে তাদের গাজীপুরের বাড়িতে হ্যালোউইন পার্টি উদযাপনের সময় নৃশংসভাবে খুন হয়। কেসটায় পুলিশের তদন্তও কানাগলিতে এসে ঠেকে। তাদের কাজ সেই কেসেরই একটা গ্রহনযোগ্য সমাধান বের করা।
নেমে পড়ে চারু আর মায়া এই কেসটা সমাধান করতে। কিন্তু এই ভিন্নধর্মী দুইজন মানুষের মধ্যে তাদের মতাদর্শ নিয়ে তর্ক হতে থাকে, চলতে থাকে দ্বন্দ্ব। তাদের এই যুক্তি আর অলৌকিকতার লড়াই এসে যেন ভর করে কেসটার উপরেও। অতিপ্রাকৃতিক আর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বাস্তবিক এই দুইয়ের মাঝে স্পন্দিত পেন্ডুলামের মতোই ঘুরতে থাকে কেসটা।
শেষ পর্যন্ত কি কেসটা সমাধান করতে পারবে চারু আর মায়া? কে করেছে এই ভয়ানক হত্যাকাণ্ড? তাদের এই রহস্যময় চাকরিদাতার প্রকৃত উদ্দেশ্য কি? বিজ্ঞান আর অতিপ্রাকৃতের দোলাচালে দুলতে থাকা পেন্ডুলাম কোথায় এসে স্থির হবে? এই ঘটনার শেষটাই বা কি? সবকিছু জানতে হলে পড়তে হবে জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের 'পেন্ডুলাম'।
আমার সংগ্রহে থাকা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের বইগুলোর মধ্যে কেন জানি বহুদিন ধরে 'পেন্ডুলাম' বইটা পরে ছিল, পড়া হয়ে উঠছিল না। হয়তো লেখকের অন্যান্য বই থেকে তুলনামূলক কম আলোচনায় থাকা আর বইটা সম্পর্কে পাঠকদের বেশ নেতিবাচক মন্তব্য এটার কারণ।
তবে বইটা শুরু করার পর টানা পড়ে যেতে কোনো সমস্যা হয় নি। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের সুলেখনি আর গতিশীল ন্যারেটিভই এটার প্রধান কারণ। এইজন্য বইটা টানা পড়ে ফেলা যায় অনায়াসে। গল্পের প্রিমাইসটা বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল বলতে হবে। বেশ আগ্রহ জাগানিয়া আর অন্যরকম একটা মার্ডার মিস্ট্রির ফিল দিচ্ছিল।
মিসকাত হত্যাকাণ্ডের তদন্তকার্যগুলো খারাপ ছিল না। সবকিছু সাধারণ আর প্রেডিকটেবল হলেও সুন্দর উপস্থাপনার উপভোগ্য ছিল বইয়ের অনেকটা জুড়ে। গল্পের মূল প্রিমাইস অনুযায়ী কাহিনীতে আসা মানবজীবনের অন্যতম বিপরীত এই দুই দর্শন নিয়ে তর্ক বিতর্কগুলো খারাপ ছিল না, আহামরি কিছুও নয়। আর শেষে চারুর চরিত্রের টার্নিংটা ছিল মোটামুটি, আরও ভালো করা যেতো।
তবে ফ্ল্যাপের লেখা পড়ে আর কাহিনীর শুরুর দিকের ইঙ্গিত দেখে বইটা যেকরম একটা ভিন্নধর্মী থ্রিলার হবে ভেবেছিলাম, তেমন কিছুই নেই। সবশেষে খুবই টিপিক্যাল একটা রিভেঞ্জ-মিস্ট্রি থ্রিলার। যাতে অনেকটা জোড় করে কিছু ঘটনাকে অমিমাংসিত রেখে গল্পে ওই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল টাইপের থিম রাখার চেষ্টা করেছেন লেখক, তবে তা খুব একটা যুতসই হয় নি।
আদতে এটা একটা সাধারণ মার্ডার মিস্ট্রিই। তাতে লেখক জোড় করে রহস্যময় চাকরি,দুই ভিন্নধর্মী মানুষের তদন্ত, এগুলো রেখে অন্যরকম বানানোর চেষ্টা করেছেন। রহস্যময় ডক্টর আফজার হোসেনের কাজের যথাপযুক্ত কারণ লেখক দেখাতে পারে নি। পারে নি গল্পে বিশ্বাসকে প্রতিনিধিত্ব করা চরিত্র মায়ার যথাপযুক্ত ভূমিকা রাখতে। গল্পটা মূলত চারুর গোয়েন্দাগিরি করা নিয়েই, যেখানে মূল রহস্যটা অতি সাধারণ।
আর যেই অমিমাংসিত বিষয়টা দিয়ে লেখক গল্পকে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মাঝামাঝিতে রাখার চেষ্টা করেছেন সেটাও তেমন ভালো হয় নি। সবমিলিয়ে বইটা খুব একটা ভালো লাগে নি বললেই চলে। তবে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের প্রাঞ্জল লেখনী আর উপস্থাপনার জন্য বেশ উপভোগ্য।
📚 বইয়ের নাম : পেন্ডুলাম
📚 লেখক : মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
📚 বইয়ের ধরণ : ক্রাইম থ্রিলার, মিস্ট্রি থ্রিলার, রিভেঞ্জ থ্রিলার
অতিরিক্ত ও অপ্রোয়জনীয় অনেক আলাপ দিয়ে বইটা বড় করা হইসে। বইয়ে “মায়া” চরিত্রটা না দিলেই হতো। চরিত্রটার ‘বিশেষ’ কোনো কৃতিত্ব নাই। নায়কের বিপরীতে যেন নায়িকা দিতেই হবে এরকম মনোভাব।
যাহোক বইটা নেহাৎ মন্দ নয়। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার জনরায় ফেলা যায়।
৩.৫/৫
৩ তারকা দিলে কম হয়ে যায়। ৪ তারকা দিলে বেশি হয়ে যায়। :)
পৃথিবীর সকল রহস্যের কি যুক্তি দাঁড় করানো সম্ভব নাকি কিছু কিছু অতিপ্রাকৃত ঘটনা বিশ্বাস করে নিতে হয়?
প্রশ্নের উত্তর "পেন্ডুলাম" হতে পারে আবার নাও হতে পারে বা দোটানায় ফেলতে পারে।সাধারণ ভালো। তবে লেখক যেহেতু নাজিম উদ্দীন সেহেতু আরো ভালো কিছু আশা করেছিলাম।
রিভিউ - পেন্ডুলাম : এক নিত্য দোলাচল - চারু আহসান , যুক্তিবাদী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। সারাজীবন বিভিন্ন ভন্ড পীর - বাবাদের মুখোশ উন্মোচন করে বেড়িয়েছেন। বিভিন্ন ব্লগে এ নিয়ে লেখা লিখেই তার জীবন চলে যায়।হঠাৎ পত্রিকায় এক অদ্ভুত চাকরির বিজ্ঞাপন পড়ে এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়। - মায়া ,সাবেক রেডিও জকি আর ramp মডেল।বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত জিনিস নিয়েই তার কাজ। সেও একই দিন পত্রিকায় সেই বিজ্ঞাপন দেখে সে ব্যাপারে খোঁজ নিতে যায়। - ডক্টর আজফার হুসেন অদ্ভুত ধরণের মানুষ। তিনিই এই চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, আর চাকরিপ্রার্থীও দুইজন সম্পূর্ণ বিপরীত চিন্তা ধারার দুইজন মানুষ। তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেয়ার পরেই সে তাদের এক অদ্ভুত কেস দেয়। এখন সেই কেস কি আর কেসটি তাদের বিশ্বাস কে পেন্ডুলামের মত কিভাবে দোলায় তা জানতে হলে পড়তে হবে " পেন্ডুলাম " . - রেটিং - ৭.৫ /১০ ( " পেন্ডুলাম " মূলত একটি মার্ডার মিস্ট্রি টাইপের থ্রিলার। গল্পের প্লট বেশ ভালো ও আকর্ষণীয়। গল্পের শুরু থেকে মাঝ পর্যন্ত ছোট-খাট টুইস্ট গুলো বেশ ভালো। তবে গল্পের শেষটা একটু হতাশাজনক ,পার্সোনালি মনে হয়েছে আরেকটু ভালোভাবে শেষ করা যেত।গল্পে ক্লু হিসেবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারকে ভালো লেগেছে , প্রচ্ছদ ও দারুন , তবে কিছু বানান ভুল আসলেই চোখে লেগেছে। - গল্পের চরিত্রগুলোর ভিতরে সবচেয়ে ভালো লেগেছে চারু আহসানকে। একজন পারফেক্ট যুক্তিবাদীর মতোই তার চিন্তাভাবনা। তবে মায়া চরিত্রটি একেবারেই সাদামাটা। প্রথমদিকে তাদের খুনসুটি ভালো লাগলেও মাঝের পরে একে চারু আহসানের এসিস্টেন্ট হিসেবেই মনে হয়েছে। সাইকি ক্ষমতার অধিকারিনীর কাছ থেকে কয়েকটি অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার বর্ণনা আশা করেছিলাম। গল্পের বাকি চরিত্র গুলো বেশ ভালো। - বাংলা মৌলিক থ্রিলার নিয়ে বর্তমানে অনেক লেখা হওয়ার পরেও এই গল্পের প্লট একটু অন্যরকম। যারা একটু অন্যধরণের মার্ডার মিস্ট্রি পড়তে আগ্রহী তাদের পেন্ডুলাম অবশ্যই ভালো লাগবে , সামনে লেখকের কাছ থেকে এ ধরণের আরো লেখা আশা করছি। )
এমন না যে খুব আহামরি ভালো বই দেখে একদিনে ৩২০ পৃষ্ঠার বই পড়ে শেষ করে দিয়েছি। থ্রিলার বই শেষ না করে শান্তি লাগেনা, তাই এভাবে পড়ে ফেলা। ২২০ পৃষ্ঠার মধ্যে প্রধান কাহিনী মোট্মুটি শেষ আর কেনো কি, কিভাবে হয়েছে তা আন্দাজ করে ফেলতে পারবেন। বাকি ১০০ পৃষ্ঠা জোর করে টানা বলে মনে হয়েছে।
মেইন ক্যারেক্টার এর নাম "চারু"। সেই পুরো গল্পে অনুসন্ধান সহ সব কাজ করে। কিন্তু হিন্দি সিনেমার সাইড নায়িকার মতো "মায়া" নামে তার সহকর্মী রাখা হয়েছে, যে শুধু জানালার বাইরের দিকে তাকিয়ে বাতাস খাওয়া ছাড়া কিছুই করেনা। ভুলে গেসিলাম, সে আলগা বাতাসের আন্দাজ করতে পারে। আলটিমেটলি যেই ক্ষমতার কোন মূল্য নাই পুরো গল্পে। "রহসযময় এক ডকটর, নিজের চারপাশে রহসয তৈরি করে রাখেন সবসময়।" ওনার কিছু রহস্যময় মনে হয় নাই। প্রথম ৫০ পৃষ্ঠায় ওনারে নিয়া একটা ধাঁধা তৈয়ার করার চেষ্টা করা হইসে, যা পরের ২৭০ পৃষ্ঠায় হাওয়ায় মিলাইয়া যায়। "Rationalist" নাম দিয়া ভাব গম্ভীর একটা সিরিয়াস ভাব আনার চেষ্টা করা হইসে চারু চরিত্রে। আলটিমেটলি যেটা কৌতুকে পরিণত হইসে। আজাইরা সব লজিকের বাহার আর গদবাধা কিছু লজিক দিয়া ওনাদের দুনিয়া উলটাইয়া ফালানোর চেষ্টা হাসির উদ্রেক হয়। "সুরুজ" চরিত্রকে জ্যান্ত দেখানো হবে নাকি মৃত সেটা নিয়া লেখক শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত কনফিউজড ছিলেন। এই জন্যে লাস্ট পেজে যদিও বলা হইসে যে, "সুরুজ বাপের সিএনজির পেছনে বইসা ভূত হইয়া ঘুইরা বেড়ায়।" এই সুরুজ আবার ক্যাঁৎকোঁৎ কইরা দরজা খুইলা খাটের তলে উঁকি দিয়া আরেকজনরে ডর লাগায়।
Disappointed
This entire review has been hidden because of spoilers.
আমার কাছে সবসময়ই মনে হয় একজন লেখক সম্ভবত তার সবটা ঢেলে দিয়ে একটা বই লিখেন। যখন পাঠক হিসেবে বিচার করতে যাই, আমি চেষ্টা করি অতটুকু মাথায় রেখে বইটা নিয়ে আলোচনা করার। বইমেলা থেকে যতগুলো বই সংগ্রহ করেছি, তার মধ্যে পেন্ডুলাম কে নিয়ে আশার পারদ যথেষ্ট উপরে ছিলো। সে আশায় বালু সিমেন্ট সবই পড়েছে।
রহস্যময় চরিত্রের ডক্টর আজফর হোসেন, সাইকি ক্ষমতার অধিকারী মায়া, যুক্তিবাদী চারু মোটামুটি ভাবে এরা বইটির ছিলো মূল চরিত্র। প্রথম পাতায় জোকার, ফ্রাঙ্কেন্সটাইন, হার্লে কুইন এর বিচরণ দেখে একটু তো চমক লাগেই! শুরুটা ভালো ছিলোবলতেই হবে। কিন্তু এরপর কাহিনীর জল যেভাবে গড়ালো ভালো লাগে নি।
পুরো বইটিতে চারু চরিত্রটি যতটা জীবন্ত ছিলো, মায়া ছিলো ততোটাই নিষ্প্রাণ। মায়া যেন একটি পুতুলসম চরিত্র, রাখতে হবে তাই রাখা! অথচ পুরো বইটিতে চারুর দাপুটে বিচরণ। কাহিনীটাও যেন অযথাই টেনে লম্বা করা হয়েছে। অনেক কিছুরই ঠিকঠাক ব্যাখ্যা ছিলো না। আসলে থৃলার বই হিসেবে বইটিকে যথেষ্ট পরিপক্ব মনে হয়নি আমার।
লেখক আমার অনেক অনেক পছন্দের একজন লেখক। তার লেখা এভাবে হতাশ করবে আসলে কল্পনাও করিনি বলেই হয়তো খারাপ লাগাটা অনেক বেশি কাজ করছে। পরবর্তীতে লেখক অনেক ভালো কিছু এই নগণ্য পাঠকদের উপহার দিবেন, সেই অপেক্ষায়।
রহস্যময় একজন লোক ডক্টর আফজার হোসেন, যিনি পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরে বেরিয়েছেন। পত্রিকায় এক অদ্ভুত চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে চারু আহসান আর মায়াকে কাজে নিয়োগ করেন। তাদের তিনি একটি এসাইন্মেন্ট দেন- এম্পির ছেলে মিসকাত নৃসংশ ভাবে খুন হয় নিজেদের এক বাংলো টাইপ বাড়িতে। মূলত হ্যালোইন পার্টি করতে গিয়েছিল তাদের দলটি আর সেখানেই খুন হয় মিসকাত। খুনের সময় সে ছিল জোকারের বেশে আর ধারণা করা হয় তাকে খুন করে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন বেশী কোনো বন্ধু।কিন্তু খুনের পরই ফ্রাঙ্কেনস্টাইন লাপাত্তা হয়ে যায়। পরে জানা যায় যার এই বেশ ধরার কথা ছিল সে পার্টিতে যেতেই পারে নি , গুরুতর আহত হয়ে হসপিটালে ভর্তি ছিল। তাহলে কে ছিল এই খুনি!! এই খুনিকে বের করার দায়িত্বই ডক্টর আফজার প্রদান করেন চারু আর মায়াকে। যাদের একজন যুক্তিতে বিশ্বাসী , অতি প্রাকৃতে অবিশ্বাসী এবং একজন অতি প্রাকৃতে বিশ্বাস রাখে!
নাজিম উদ্দিন এর লেখার ভালো দিক বোধ হয় এটাই যে বিনা effort এ একবারে পড়ে শেষ করা যায়। প্লট থেকে আমি আরেকটু বেশি কিছু আশা করেছিলাম। প্রথমত সেই typical প্রতিশোধ পরায়ণ ব্যক্তির কাহিনী।খুন কিভাবে সংঘটিত হল এটা main motive থাকলে ও এই সংক্রান্ত উত্তর পাই নাই৷ এটা আমার personal dissatisfaction এর জায়গা। লেখক চেষ্টা করেছে যুক্তি যুক্তি খেলে লাস্ট একটা অতিপ্রাকৃত ব্যপারের ধাঁচ আনতে। কাহিনির টাইম লাইনে ব্যাপক ঝামেলা ছিল। মারা গিয়েছে ১ বছর আগে জিনিসটাকে বছর খানেক লেখা কয় জায়গায় ব্যপারটি বেশ দৃষ্টিকটু। আর লেখক তার উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ অনেক জায়গায়। যুক্তিবাদী এবং অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসীর মধ্যে যে স্বতস্ফূর্ত দ্বন্দ্ব দেখবো ভেবেছিলাম তার আমি কিছুই পাই নি। কয়েকটি জায়গা বেশ কিছু ব্যপার অযৌক্তিক লেগেছে। ডক্টর মায়া নামে একজন সাইকিক ক্ষমতাধর কে এবং চারু নামের যুক্তিবাদীকে রহস্য সমাধানের গুরু ভার দিলেও তাদের team work তেমন চোখে পরে নি। নারী চরিত্রটি স্রেফ দুধভাত লেগেছে কোন কাজের না। পুরোটা চারু আহসানের "সত্য অনুসন্ধান " লেগেছে। নারী চরিত্রের তথাকথিত কোন সাইকিক পাওয়ার ব্যবহার দেখা যায় নি, যেটা রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করবে। সুতরাং তাকে hire করার বিশেষ কারন দেখি না। তথ্যের অসংগতি ছিল অনেক জায়গায়। আর কমন জেন্ডার সম্পর্কে বক্তব্য ভালো লাগে নি। যেহেতু চরিত্রের জবানিতে লেখক এর চিন্তার বহিঃ প্রকাশ হয়, তাই আমি নিজেও সন্দিহান নাজিম উদ্দিন কমন জেন্ডার সম্পর্কে কি ধারনা পোষণ করেন। আর sexual content গুলো আরেকটু শালীন ভাষায় উপস্থাপন করা গেলে ভালো হত ( এটা একান্তই আমার নিজস্ব অভিমত)
ডক্টর সাহেব বিশ্বাস নিয়ে যুক্তি দেওয়ার জন্য শিক্ষক ছাত্রের যে উদাহরণ ব্যবহার করেন। সেখানে চারুকে কাবু হতে দেখা যায় যেটা মোটোই আশানুরূপ নয় কারণ সেই উদাহরণে প্রচুর ভুল আছে।সেখানে বিবর্তনবাদ নিয়ে হাস্যকর কথা বলেছেন। যেখানে চারুকে যুক্তিতে হেরে যেতে দেখা গিয়েছে সেখানে ডিফেন্ড করার জন্য আরও ভালো লজিক আছে তা ব্যবহার করা হয় নি। মায়া চরিত্রটার মূলত কোনো কাজ নেই এমনিতেই রাখা হয়েছে। আহামরি কোনো কিছু না কিন্তু এটা বলতে পারি যে বোর হবে না, শুরু করলে উঠতে মন চাইবে না। শেষটা আরও ভালোভাবে হতে পারতো। কাহিনী অনেকটাই প্রেডিটেইবল।
সমস্ত উপন্যাস জুড়ে বারবার একটা কথা বলা হয়েছে যুক্তিবাদী (পুরুষ চরিত্র) এবং বিশ্বাসী(নারী চরিত্র) অবশ্যই একসাথে কাজ করতে হবে। কিন্তু কারনটা কি সেটা উপন্যাসের শেষেও উত্তর দেওয়া হয় নি।এবং কাজ শুধু পুরুষ চরিত্রই করেছে। নারী চরিত্রটি আসলে কি জন্য রাখা হলো সেটাও বুঝতে পারলাম না। অনেক বেশী কাকতালীয় ব্যাপারের সমারোহ। কাহিনীও কেমন খাপছাড়া। সব মিলিয়ে ভাল লাগে নি।