Jump to ratings and reviews
Rate this book

সম্পাদকের বৈঠকে

Rate this book

216 pages, Hardcover

First published January 1, 1962

11 people are currently reading
205 people want to read

About the author

Sagarmoy Ghosh

14 books10 followers
সাগরময় ঘোষ (২২ জুন, ১৯১২ - ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯) একজন স্বনামখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক যিনি কলকাতা থেকে প্রকাশিত দেশ পত্রিকার সম্পাদকীয় দায়িত্ব পালন করে জীবন্ত কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছিলেন। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যুতে লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত শোকসংবাদে তাঁকে বাংলার ‘সাহিত্য ব্যাঘ্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। মৃত্যুর কিছু পূর্বে ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী বাংলা সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

তাঁর জন্ম ব্রিটিশ ভারতের পূর্ব বঙ্গে, বর্তমান বাংলাদেশের চাঁদপুরে, ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে জুন তারিখে। চাঁদপুরেই ছিল তাদের পৈতৃক ভিটা। কালক্রমে নদী ভাঙনে হারিয়ে গেছে সেই পৈতৃক ভিটা। তাঁর পিতা কালিমোহন ঘোষ ছিলেন রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ সহচর। মায়ের নাম মনোরমা দেবী। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শান্তিদেব ঘোষ ছিলেন রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশিষ্ট সাধক এবং ভারতের জাতীয় পণ্ডিত হিসেবে স্বীকৃত। সাগরময় ঘোষ শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করেন, তিনি রবীন্দ্রনাথের সরাসরি ছাত্র ছিলেন। শান্তিনিকেতনে অধ্যয়নকালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের প্রভাবে সাহিত্য ও সঙ্গীত, সর্বোপরি শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ জন্মে যা প্রয়াণাবধি তাঁর মানসপ্রতিভাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।



১৯৯৯ খৃষ্টাব্দের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে সাগরময় ঘোষ মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য হারায় এক অসামান্য সম্পাদককে।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
57 (55%)
4 stars
42 (40%)
3 stars
3 (2%)
2 stars
1 (<1%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 30 of 38 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,667 reviews430 followers
January 14, 2023
"......বিখ্যাত একটি মাসিক পত্রিকার সম্পাদক এসেই প্রেমেনদাকে বললেন,
ছয় বছর ধরে আপনি আমাকে লেখা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিরাশ করেছেন। এবছর আর ছাড়ছি না। লেখা দিতেই হবে।
উত্তরে প্রেমেনদা বললেন, প্রত্যেক বছরই তোমাকে লেখা দেব বলে ভাবি। কিন্তু এবার বোধ হয় ভাবতেও পারব না।"


বাংলাভাষার অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা "দেশ" এর সম্পাদক হিসেবে সাগরময় ঘোষের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার অফুরন্ত। বিভূতিভূষণ এর কাঁকড়া ভক্ষণের গল্প,শরৎচন্দ্রের পরামর্শে অর্থপ্রাপ্তির দুরাশায় জলধর সেনের লালগোলার রাজাকে বই উৎসর্গ করে বিভ্রাটে পড়ার গল্প শুনে যেমন হাসি চেপে রাখা যায় না তেমনি রোমাঞ্চিত হতে হয় শারদীয় সংখ্যায় সুবোধ ঘোষের গল্প লেখার কাহিনি শুনে। মোটামুটি থ্রিলার বলা যায় আর কি!
পুরো বইটিই বৈঠককেন্দ্রিক ও আয়েশি ভঙ্গিমায় লেখা। সাগরময় ঘোষের স্বাদু গদ্যের গুণে বই শেষ হওয়ার পরও পাঠকের তৃপ্তি মেটে না।
বইয়ের নাম শুনে পাঠকের ধারনা হবে,পুরো বইটাই বুঝি লেখকের সম্পাদক জীবনের গল্প। কিন্তু থেকে থেকে উঁকি দিয়েছে বন্ধু নিশিকান্তের দস্যিপনা,শান্তিনিকেতনে লেখকের যাপিত দিন বা রবীন্দ্রনাথের সত্তরতম জন্মবার্ষিকী উৎযাপন এর স্নিগ্ধ, সুন্দর স্মৃতি।
লেখকের কিছু বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য। বন্ধুদের সাথে বাজি না ধরলে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কখনোই লিখতেন না বা বউয়ের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে জগদীশ গুপ্ত লেখালেখি শুরু করেছেন এগুলো যে বাহ্যিক গল্প; গভীরের সত্য নয় তা সহজেই টের পাওয়া যায়।অন্তর্গত প্রবল তাড়না না থাকলে লেখক হওয়া যায় না,তায় মানিক বা জগদীশের মতো কঠোর নিষ্ঠাবান মনস্তাত্ত্বিক লেখক!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উত্থানের আগ পর্যন্ত সাহিত্য সম্পাদকরা ছিলেন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী। নবীন লেখক যশোপ্রার্থীদের কাছে সম্পাদকরা ছিলেন ঈশ্বরতুল্য। কিছু কিছু পত্রিকায় লেখা ছাপা হওয়া মানেই ছিলো লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যাওয়া। সম্পাদক বরাবর লেখা পাঠিয়ে তাই নবীন কবি বা গল্পকাররা অধীর আগ্রহে দিন গুনতেন লেখা ছাপা হওয়ার আশা কিংবা দুরাশায়।এ নিয়ে তর্কাতর্কি, মান অভিমান,ঝগড়াঝাঁটি সবই চলতো। লেখকরা যেমন লেখা ছাপা হওয়ার জন্য বিচিত্র সব কৌশল অবলম্বন করতেন,সম্পাদকেরাও তাদের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য নানান ছলের আশ্রয় নিতেন। এ বইতে অম্ল,মধুর,তিক্ত সব ঘটনা আছে লেখা ছাপা হওয়া নিয়ে যা পড়ে এখন রূপকথার গল্প বলে মনে হবে। সেইসব দিন এখন শুধুই অতীত।ফেসবুকের কল্যাণে নবীন লেখকরা পাঠকের কাছে পৌঁছে যেতে পারছেন সহজেই।তাদের এখন আর সাহিত্য সম্পাদক নামক দুর্গম গিরি কান্তার মরু পাড়ি দিতে হয় না। সাহিত্য সম্পাদকদের স্বর্ণযুগ ফুরিয়েছে। জীবনানন্দের ভাষায়, "সকলেরই চলে যেতে হয় বলে তাহারো ফুরালো রাত।" সবকিছুরই দিন ফুরিয়ে আসে একটা সময়!!

(২ ফেব্রুয়ারি,২০২২)
Profile Image for Israt Zaman Disha.
194 reviews622 followers
December 26, 2018
অত্যন্ত সরস।

একজন সম্পাদকের কাছে যে কত লেখকের কত হরেক গল্প থাকতে পারে বইটি তার জ্বলজ্বলে প্রমাণ। শুধু যে হাস্যরসের খোরাক এসব গল্প তা নয়, লেখক, কবি, সাহিত্যিকদের ভিতরের মানুষেরও পরিচয় পাওয়া যায় মাঝে মাঝে। উইটি, প্রাণবন্ত লেখনী।

সবার জন্য রিকমেন্ডেড ।
Profile Image for Injamamul  Haque  Joy.
100 reviews114 followers
February 28, 2023
মোটাদাগে বাঙালি আড্ডার হালচাল কী? আড্ডায় একজন পেটুক থাকবে, আড্ডার পরতে পরতে যে বইয়ের নব্য কবির মত রাস্তার পাশ থেকে আনা তেলেভাজা মুখে পুরবে। থাকবে ভারতবর্ষ পত্রিকার অফিসে আড্ডা দিতে আসা হ্যাঁ তে হ্যাঁ, না তে না করা পত্রিকায় লেখা ছাপাতে ইচ্ছুক লেখকবৃন্দ। থাকবে আপনার-আমার-গল্পকথক-সাগরময় ঘোষের মত হাবাগোবা, নীরব দর্শক মত আড্ডাদাতা (অবশ্য সবারই আড্ডাতে গেলে নিজেরে এতিম এতিম লাগে)। থাকবে জলধর দাদার মত কর্কশ, গম্ভীর- তবে আড্ডাপ্রিয় সম্পাদক। থাকবে শরৎচন্দ্রের মত পোংটা এক সদস্য। এখন আড্ডার বিষয় হইবে প্রতিটা আড্ডার সার্কেল সদস্যদের ভাবনানুযায়ী। এই বইয়ের প্রেক্ষাপটটাই ধরুন না। আগেই বলে নেই, এই বইটা দেশ আর ভারতবর্ষ পত্রিকার অফিসে আড্ডা দেওয়ার হালচাল মূলক স্মৃতিচারণ। তো যেহেতু সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা, সেহেতু স্বভাবতই বইখানাতে উইঠা আসছে সেই সময়কার বাংলা সাহিত্যের মোটামুটি একটা হালচাল (হালচাল কথাডা এটা নিয়া তিনবার উল্লেখ করলাম। থাউজ্ঞা)। বিভূতি মশাই কী করতো, তপন-প্রমথ-বঙ্কিম বাবু তাদের গল্প নিয়ে পত্রিকা সম্পাদকদের নাকে দড়ি দিয়ে কিরকম বাঁদর নাঁচ নাঁচাতো, অমুকে কই যাইয়া কী করছে, তমুকের বাড়ির চালে কে ঢিল দিছে, সমুকে পত্রিকা অফিসে পান্ডুলিপি দিতে গিয়ে কিরকম বিড়ম্বনায় পড়ছে— সাহিত্যিকদের এই জাতীয় আলাপ-চালাপ উইঠা আসছে বইয়ে। তার পাশাপাশি আরেকটা ব্যাপারও আসছে, যেইটা হইলো প্রকাশক-পত্রিকা সম্পাদকদের মনস্তত্ত্ব। এইখানে প্রকাশক-সম্পাদকদের দেখানো হইছে একগুঁয়ে, গাম্ভীর্যপূর্ণ, কিছুটা দায়সারা গোছের। অবশ্য বইয়ের দেওয়া কন্ডিশনের সাথে আমার দেখা প্রকাশক-সম্পাদকের তেমন মিল পাইনি। আমার দেখা কতিপয় প্রকাশক-সম্পাদকরা অতিশয় খোলামেলা মানসিকতার এবং হাসিখুশি। আর হাতেগোনা কয়েকজন আছে, যারা কিছুটা জোচ্চর প্রকৃতির।

এই বইটার প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে সাগরময় ঘোষের নির্ঝলা লেখনী। কলেজ স্ট্রিটের মোড়ের চার দেয়ালে ঘেরা অফিসের সম্পাদক-লেখকদের আড্ডা, জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্মৃতি আওড়েছেন অকপটে, কখনো হাস্য-ব্যাঙ্গাত্মকভাবে, কখনো আবেগী ভাবে। ওভার অল একটা অসাধারণ বই। নন-ফিকশন দেখে এই বইটাকে খটমটে ভাবলে ভূল হবে। বরং অনেক নামজাদা ফিকশনের চেয়েও সুখপাঠ্য এবং গতিশীল এ বই।
Profile Image for Rubell.
189 reviews23 followers
June 10, 2023
"সম্পাদকের বৈঠকে" সাহিত্য রসিকদের আড্ডায় উঠে আসা গল্পের বিবরণী। সাগরময় ঘোষের লেখার যে শৈলী, যখন পড়ছিলাম মনে হচ্ছিল আড্ডাটা দেখতে ও শুনতে পারছি, এমন জীবন্ত তাঁর গদ্যের ভাষা। আড্ডার ফাঁকে চা-নাস্তাও ছিল উপভোগ্য। লেখকের রসবোধ পরিমিতিবোধ অতুলনীয়, কোন অপ্রয়োজনীয় বাক্যের ব্যবহার নেই যে পড়তে গিয়ে আড্ডার সুর কেটে যাবে।

সম্পাদক মহাশয়ের গদ্যভাষার যেমন অসাধারণ, তাঁদের আড্ডার গল্পগুলোও চিরস্মরণীয় হয়ে থাকার মত।

"বিচিত্রা" সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় আবিষ্কার করেছিলেন বাংলা উপন্যাসের দুই বন্দোপাধ্যায়কে: বিভূতিভূষণ ও মানিক। "পথের পাঁচালী" উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণের আবির্ভাবের নেপথ্যের আকর্ষণীয় গল্পটা জানলাম সম্পাদকের মজলিস থেকে।

বনফুলকে সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণে রাজি করাতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছেন সাগরময় ঘোষ। সেখানে আলাপ জমে গেল রাশিফল নিয়ে কথা শুরু হবার পর। বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ সাগরময়, অলৌকিকতায় তাঁর বিশ্বাস নেই, তাঁকে স্নায়ুচাপে ফেলে দিয়ে একের পর এক অলৌকিক কাহিনী শোনাতে লাগলেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ওরফে বনফুল। বনফুলের ব্যক্তিজীবন থেকে নেওয়া সেসব বাস্তব ঘটনা। সাগরময় সেসব অলৌকিক ঘটনার কোন যু��্তিযুক্ত ব্যাখ্যা খুঁজে পান না!

আরেকটা আড্ডায় সম্পাদক শুনিয়েছেন হিন্দুস্তানি ক্লাসিকাল মিউজিক নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। লেখক যেমন সঙ্গীতে মন্ত্রমুগ্ধ হওয়ার কথা লিখেছেন, আমি এই অধ্যায় পাঠ করেই সঙ্গীতের মূর্ছনা অনুভব করেছি।

কলকাতা শহরে খুব ধুমধামের সাথে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষ পালন নিয়ে কিছু কথা লিখেছেন সম্পাদক। নিসর্গপ্রেমী রবীন্দ্রনাথ যেমনটা অপছন্দ করতেন, শহরবাসী অনেকটা সেভাবেই রবীন্দ্রনাথকে উদযাপন করছেন- অপসংস্কৃতির ছড়াছড়ি। সাগরময় ছিলেন শান্তিনিকেতনের ছাত্র। রবীন্দ্রনাথকে তিনি গুরুদেব হিসেবে পেয়েছিলেন। জন্মশতবর্ষে তিনি স্মরণ করেছেন শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের সত্তরতম জন্মোৎসবের স্মৃতি। লেখকের যৌবন দিনের স্মৃতি কিনা, তাও আবার শান্তিনিকেতনের মত জায়গায়, লেখার আবেগটা অনুভব করা যায়।

অন্যান্য আড্ডাতেও শান্তিনিকেতনের কথা ঘুরেফিরে এসেছে। শান্তিনিকেতনের কাহিনী পড়তেও শান্তি শান্তি লাগে।

বইয়ের শেষ অধ্যায়টা শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশের শেষ মুহূর্তের টানটান উত্তেজনা নিয়ে। লেখকদের মধ্যে এমন আছেন, যারা চাপ অনুভব না করলে লিখতে পারেন না। সুবোধ ঘোষ ছিলেন এমনই একজন। স্বভাবতই তিনি পত্রিকা প্রকাশের দিন পর্যন্ত সম্পাদকদের ঝুলিয়ে রাখতেন। দেশ পত্রিকার এক শারদীয়া সংখ্যায় সুবোধ ঘোষের বিখ্যাত গল্প "থিরবিজুরী" কীভাবে প্রকাশিত হয়েছিল তা স্মরণ করেছেন সম্পাদক। সে কি রোমাঞ্চকর স্মৃতি! শেষ প্যারাগ্রাফ পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল!

"সম্পাদকের বৈঠকে" বারবার পড়ার মত বই। আবার ফিরে এলে নতুন কোন আড্ডা হয়তো বেশি প্রিয় হয়ে উঠবে।
Profile Image for Maruf Hossain.
Author 37 books258 followers
November 5, 2018
চমৎকার, উইটি, সুলিখিত, মার্জিত।
সম্পাদকরা হন, আমার মতে, গল্পের/(সাহিত্যের) ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভাণ্ডার। কত হরেক রকমের অভিজ্ঞতা পেটে নিয়ে যে তারা ঘোরেন, তার কোন শেষ নেই। সাহিত্যপাড়ার সেরকমই বেশকিছু মজাদার, তিক্ত, বেদনাবিধুর, এবং মধুর অভিজ্ঞতা এই বইয়ে প্রাণ পেয়েছে 'দেশ' পত্রিকার কিংবদন্তি সম্পাদক সাগরময় ঘোষের কলমে।

প্রত্যেকের জন্যেই হাইলি রিকমেন্ডেড।
Profile Image for Momin আহমেদ .
112 reviews49 followers
February 3, 2021
যেরকম ভেবেছিলাম তেমন পাইনি। বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম বলা যায় দেশ পত্রিকা। সাগরময় ঘোষ জীবনের অধিকাংশ সময় জরিত ছিলেন এই পত্রিকার সঙ্গে। বিংশ শতাব্দির সকল সাহিত্যিক(পশ্চিম বঙ্গ) দের সঙ্গে কাজ করেছেন।
কিন্তু সেভাবে সবার কথা পাইনি। মনে হয়েছে আরও অনেক কিছু বলতে পারতেন। সমসাময়িক লেখকদের কারো কথাই উঠে আসেনি। সুনীল সমরেশ শীর্ষেন্দু এদের কারো কন উল্লেখ নেই এই বই এ। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর বেশ কিছু গল্প আছে। এরপর উল্লেখযোগ্য শান্তিনিকেতনের কিছু গল্প। তবুও যথেষ্ট উপভোগ করেছি।
কিছু প্রিয় গল্পের মধ্যে পথের পাঁচালি প্রকাশের গল্প, শরৎচন্দ্র কে ভুল করে চিনেও না চেনার গল্প আর জগদীশ গুপ্তের লেখক হয়ে ওঠার গল্প।
(আমি গল্প শব্দ ব্যবহার করেছি কারণ লেখক নিজেই এগুলোকে গল্প বলেছেন।)
Profile Image for Zihad Saem.
124 reviews6 followers
March 27, 2025
খাসা একটা বই। যেন টাইম মেশিনে করে সেই সময় এবং সময়ের শ্রেষ্ঠ শিল্পী সাহিত্যিকদের সঙ্গে ঘুরে এলাম। সাগরময় ঘোষের 'সম্পাদকের বৈঠকে' বড্ড তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলো। সাগরময় ঘোষ যুগ যুগ জিয়ে, দেশ পত্রিকা যুগ যুগ জিয়ে।
Profile Image for Anik Chowdhury.
176 reviews35 followers
January 28, 2022
পড়ে শেষ করলাম গত শতাব্দীর বিখ্যাত সম্পাদক সাগরময় ঘোষের সম্পাদকের বৈঠকে। যিনি বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী বাংলা সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন ১৯৯৭ সালে। তিনি ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ থেকে দেশ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। যার কারণে বহু বিখ্যাত সাহিত্যিকের সাহচর্য পেয়েছেন এবং বহু নবীন সাহিত্যিক উানার সাহচর্য পেয়েছেন। যার ফলে এই মানুষটাই হয়ে উঠেছিলো একটি মহীরুহ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সরাসরি ছাত্র ছিলেন। বন্ধু ছিলেন বিমল মিত্র, সুশীল রায়, নীরেন চক্রবর্তী, প্রভাত দেব সরকার - এর মতো বিখ্যাত সাহিত্যিদের। যাদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠতেন কারণে অকারণে।

সম্পাদকের আসরে মূলত দেশ পত্রিকার দপ্তরে সেইসব সাহিত্যিক বন্ধুদের সাথে আড্ডারই মজার আর বিখ্যাত স্মৃতি। লেখক স্মৃতির পাতা হাতড়ে সেইসব স্মৃতিকেই জায়গা দিয়েছেন সম্পাদকের বৈঠকে। কখনো উঠে এসেছে শান্তিনিকেতনের মজার মজার স্মৃতি, কখনো বা আড্ডায় উঠে এসেছে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহার নিয়ে মজার স্মৃতি নয়তো বা বিচিত্রার সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক মানিক বাবু আর বিভূতিবাবুর মতো সাহিত্যিককে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসার চমৎকার কাহিনী। শরৎচন্দ্রের ভক্ত সংখ্যা নিয়েও বা কখনো কখনো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এই আড্ডার নিয়মিত সাহিত্যিক মানুষগুলো।

এই বই পড়ার সময়ে মনে হচ্ছিলো আমি বিগত শতাব্দীর মানুষদের সাথে কথা বলছি। আর এই কথা বলার স্রোত কখনো জ্ঞানগর্ভে পরিপূর্ণ আবার কখনো কখনো কৌতুকরসে পূর্ণ। পড়ার পর মনে হলো, এই বই এত তারাতাড়ি শেষ হলো কেন!
Profile Image for Akash.
446 reviews151 followers
January 1, 2025
প্রতিদিনের বৈঠকী আড্ডায় সব্যসাচী লেখক, গাল্পিক কথা-সাহিত্যিক, তরুণ কবি, না-লিখে-সাহিত্যিক বিশুদা, লেখক এবং দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষের বয়ানে—

বিভূতিভূষণের 'পথের পাঁচালী' ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অতশী মামি' প্রকাশের মাধ্যমে তাঁদের লেখক হয়ে ওঠার গল্প , ভারতবর্ষ-সম্পাদক জলধর সেন ও প্রবাসী-সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের গল্প, শরৎচন্দ্র ও বনফুল সম্বন্ধে মজার কিছু ঘটনা, জগদীশ গুপ্তের লেখক হয়ে ওঠার গল্প, শান্তিনিকেতন মজার কিছু স্মৃতি, প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা দেয়া নিয়ে ভাঁড়ামি এবং সম্পাদক-লেখক-পাঠকদের নিয়ে অদ্ভুত ও মজার শত ঘটনা নিয়ে সাগরময় ঘোষের লেখা ভীষণ উপভোগ্য একখানা বই 'সম্পাদকের বৈঠকে'।

ভোজনরসিক বিভূতিভূষণ আর জলধর সেনের গল্প পড়ে তো অবাক; বিভূতিভূষণের দাওয়াতে ইচ্ছামতো খাবার(কাঁকড়া) খেয়ে তিনদিন পেট খারাপ করে শুয়ে থাকা আর জলধর সেনের প্রতি দাওয়াত খাওয়ার পর পকেটে করে লেখা নিয়ে আসা। এই বইটি পড়ে সাহিত্যিকদের আরও অনেক মজার সব ঘটনা জানতে পারবে পাঠক।

'সম্পাদকের বৈঠকে' আমাকে সবিতেন্দ্রনাথ রায়ের 'কলেজ স্ট্রীটে সত্তর বছর' বইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো। এত আনন্দ খুব অল্প বই পড়েই পেয়েছি। এই জনরার বইগুলো কেন যানি বেশি টানে আমারে।
Profile Image for Shariful Hasan.
5 reviews1 follower
January 3, 2025
বুক রিভিউ : ০১
বই : সম্পাদকের বৈঠকে
লেখক : সাগরময় ঘোষ
প্রকাশনী : আনন্দ পাবলিশার্স
জনরা : স্মৃতিকথা

প্রতিদিন কতশত লেখা আসে পত্রিকার সম্পাদকের কাছে। যুগ যুগ ধরে সেইসব লেখা পরখ করে, সাহিত্য আসরে, সম্পাদকের বৈঠকে, লেখকের সাথে সখ্যতায়, গল্পে-আড্ডায় ঘটনাবহুল স্মৃতিতে সম্পাদকের মন হয়ে ওঠে অমূল্য স্মৃতিভাণ্ডার। এজন্য সম্পাদকের মস্তিষ্ক যখন স্মৃতিচারণ করে, তা হয়ে যায় স্মৃতিরোমন্থন ; সাহিত্য ইতিহাসের যেসব ঘটনা আমাদেরকে পুলকিত করে, আবেগে-উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত সেসব সরস স্মৃতির কিংবদন্তি পুরুষ একজন সম্পাদক।
বাংলা দেশের অন্যতম প্রভাবশালী সাহিত্যপত্রি��া 'দেশ' এর সম্পাদক সাগরময় ঘোষ এর দীর্ঘ ৪৭ বছরের কর্মজীবনের(১৯৪০-১৯৯৭) সরস স্মৃতিকথার সারাংশ 'সম্পাদকের বৈঠকে'। তাঁর সমৃদ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতাকে কলমের ভাবে ভাষা দিতে গিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন যথাস্থানে সুন্দর একটি বই। তার লেখায় উঠে এসেছে বাংলা ভাষার দিগ্বজ সব সাহিত্যিকের সরস স্বরূপ।
'সম্পাদকের বৈঠকে' বইটি সাগরময় ঘোষের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতার সংকলন। এটি শুধু একটি স্মৃতিচারণ নয়, বরং বাংলা সাহিত্য এবং 'দেশ' পত্রিকার বিকাশের ঐতিহাসিক সাক্ষ্য।
অত্যন্ত সহজ-সরল এবং আকর্ষণীয় ভাষায় লেখা বইটির পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় মুগ্ধতা ছড়ানো। বইটি বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগে আনন্দ ভ্রমণে নিয়ে যাবে পাঠকদের।
সাহিত্য নিঃসন্দেহে চমৎকার বিষয়, সাহিত্য সৃষ্টির পেছনের গল্প আরও চমকপ্রদ। যারা সাহিত্য ভালোবাসেন, সাহিত্যিক ও সাহিত্য সৃষ্টির পেছনের গল্প জানতে চান, তাদের জন্য বইটি অবশ্যপাঠ্য।

ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৫/৫
Profile Image for Amlan Hossain.
Author 1 book67 followers
July 18, 2018
রিডার্স ব্লক একটা দুরারোগ্য ব্যাধির মতো। একবার ধরলে সেটি ছাড়ানো বড় মুশকিল। সম্পাদকের বৈঠকে হতে পারে পাঠজড়তা কাটানোর মোক্ষম একটা দাওয়াই। দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষের এই বইটা একবার ধরলে ছাড়ানো মুশকিল।

দেশ পত্রিকার সঙ্গে আমার বলতে গেলে নাড়ির সম্পর্ক। সেই ছোটবেলায় বাসায় দেশ পত্রিকা রাখা হতো, একটু বড় হওয়ার পর সেই পুরনো পত্রিকা হয়ে উঠল আমার নিত্যসঙ্গী। তার অনেক কিছুই কিশোরদের পয়াতে তুলে দেওয়ার মতো ছিল না। অনেক কিছু হৃদয়ঙ্গমও করতে পারতাম না। তবে পার্থিব, অগ্নিবলাকা, লোটাকম্বলের মতো উপন্যাসের সঙ্গে হাতেখড়ি সেই দেশ পত্রিকা থেকেই। নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ির মহাভারত, ভ্রমণ নিয়ে দারুণ সব লেখা বা খেলার সব খবর... দেশ পত্রিকা কৈশোরের অনেকটা সময় জুড়ে ছিল। ছিলেন সাগরময় ঘোষও।

এতো বড় একটা পত্রিকার এতদিন দেখভাল করার পর যেসব স্মৃতি ভাঁড়ারে জমা হয়, তার পরিমাণ নেহাত মণিমুক্তার চেয়ে কম কিছু নয়। সম্পাদকের বৈঠকে এমনই সব মজার স্মৃতি, আপনমনেই হেসে উঠতে হয়। প্রেমেন্দ্র মিত্রের ওই ঘটনার কথাই ধরুন। অনেক পত্রিকার সম্পাদকদের প্রতিবারই কথা দেন, এবার লেখা দেবেন। কিন্তু যশস্বী লেখক হলে যা হয়, অনেক সময়ই সবাইকে কথা দিয়ে কথা রাখতে পারেন না। এমনি এক সম্পাদক পুজোর আগে ধর্ণা দিলেন। আগের কোনো বারই লেখা পাননি, এবার যদি পান। তবে প্রেমেন্দ্র মিত্রের জবাব শুনে তিনি বাকরুদ্ধ, ‘প্রতিবারই ভাবি তোমাকে একটা লেখা দেব। কিন্তু এবার সেই ভাবার সময়টুকুও পাইনি।’ বিভূতিভূষনের ভোজনপ্রীতি বা ভাগলপুরের এক পাণ্ডববর্জিত জায়গায় বসে কীভাবে তাঁর হাতে লেখা হলো বাংলা সাহিত্যের দিক বদলে দেওয়া এক উপন্যাস, তারাশঙ্করের এক্সরের প্লেট নিয়ে নাটক, নকল শরৎচন্দের হাত থেকে কীভাবে মুক্তি পেলেন আসল শরৎচন্দ্র বা সুবোধ ঘোষের পুজো সংখ্যার লেখা জমা দেওয়ার সেই অলৌকিক কাহিনি, এরকম অ্যানেকডোট বলে শেষ করা যাবে না। ঘোষবাবুর লেখা বইটা একদম আক্ষরিক অর্থেই সাগরময়।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Pranta Dastider.
Author 18 books328 followers
March 4, 2019
বইটাকে আসাধারণ বললেও কম বলা হয়। অত্যান্ত সরেস আয়োজন। একেবারে শেষের দিকে রবীন্দ্রনাথের অধ্যায় দুটি ছাড়া সার্বিকভাবে প্রাসঙ্গিক ছিল পুরোটা সময়। লেখণীও চমৎকার। আর হবে না-ই বা কেন? দেশ পত্রিকার সম্পাদক তো নিছক এলেবেলে কেউ নয়। তার এবং তার বন্ধুস্থানিয়দের অভিজ্ঞতাগুলোও বর্ণিল। সত্যি বলতে লেখকদের এই আড্ডার গল্প পড়তে পড়তে এখনকার সময় নিয়ে রীতিমত আক্ষেপ হল। সেই সময়ে জন্মালে হয়তো সাহিত্যের আরো কাছে থাকতে পারতাম। কে জানে!
Profile Image for বনিক.
31 reviews56 followers
January 14, 2023
অসাধারণ একটা বই। বৈঠকী কায়দায় দেশ পত্রিকার প্রখ্যাত সম্পাদক সাগরময় ঘোষ তুলে এনেছেন বিভিন্ন প্রথিতযশা লেখকদের নানা রসময় কাহিনী। ভদ্রলোকের "হীরের নাকছাবি" পড়ে জানতে পারি "সম্পাদকের বৈঠকে" এর কথা। দুটোই বাংলা সাহিত্যের মাস্টারপিস।
Profile Image for Farzana Raisa.
533 reviews239 followers
July 5, 2020
হীরের নাকছাবি পড়তে যেয়ে বইটির নাম শুনি। পড়ার ইচ্ছা ছিল অনেক দিনের। সাগরময় ঘোষের কর্মজীবনের নানান ঘটনা। বলাইবাহুল্য, এ বইয়ের মূল বিষয় তাদের আড্ডা। এত্তো সুন্দর করে সবকিছু বইটাতে তুলে ধরেছেন! সবচেয়ে বেশি মজা লেগেছে পূজা সংখ্যায় সুবোধ ঘোষের গল্প লেখার ঘটনায়। পড়তে পড়তে নিজেই টেনশনে পড়ে গিয়েছি কি হয় কি হয়! 😂 অবশেষে স্বস্তি!

ঊনবিংশ শতকটাকে আমার ভারি হিংসে! বিশেষ করে সেসময়ের ম্যাজিক্যাল কলকাতা। রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, তারাশংকর, বিভূতিভূষণ, নজরুল, জীবনানন্দ, বনফুল, জরাসন্ধ, সুবোধ ঘোষ, বুদ্ধদেব, অমিয় চক্রবর্তী, সত্যজিৎ আরও কতো শ'তো নাম! পুরো শতকটা জুড়েই তারার ঝলকানি। টাইম মেশিন থাকলে আমি ঠিক ঠিক সেসময়টা কলকাতার গলিঘুঁজি ঘুরে ঘুরে দেখতাম। সাগরময় বাবু তার লেখনী দিয়ে সে ক্ষুধাটা আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন।
Profile Image for পটের দুধের কমরেড.
209 reviews25 followers
June 22, 2020
সম্পাদকদের বলা হয় লেখক গড়ার কারিগর— কারণ হাজারো লেখার গুণ বিচার করে তাঁরাই বের করে নিয়ে আসেন মণিমাণিক্য৷ 'বিচিত্রা' পত্রিকার সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের কল্যাণেই সাহিত্য পেয়েছে 'বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়' ও 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়' নামে দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র৷
_
সাগরময় ঘোষ দীর্ঘ পাঁচ যুগ 'দেশ' সাপ্তাহিক সাহিত্য পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন৷ সম্পাদক হিসাবে সাগরময় ঘোষ ছিলেন অতুলনীয় এবং সুপক্ক জহুরী৷ লেখার গুণবিচার—বিশ্লেষণ কিংবাক নতুন লেখকদের উৎসাহ প্রদানে উনি বেশ নৈপুণ্যর পরিচয় দিয়েছেন৷ শংকরের মতে সাগরময় ঘোষ ছাড়া তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'কত অজানারে' সম্ভব হত না৷
_
সম্পাদক হওয়ার সুবাদে পরিচিত ছিলেন স্বনামধন্য সব সাহিত্যিকদের সাথে— যাদের পেটভর্তি লেখক সত্তার বাইরের কতশত অজানা গল্প৷ বর্মন স্ট্রিটে 'দেশ' পত্রিকার দপ্তরে জোড়া দেওয়া টেবিলে খবরের কাগজ পেতে সেরখানেক মুড়ি ঢেলে নারকেল-বাতাসা-ছোলা-চিনাবাদাম সহযোগে শনিবারের বৈঠকে লোভনীয় সব আড্ডার গল্প 'সম্পাদকের বৈঠকে'র দুই মলাটের ভেতর আবদ্ধ৷
_
বৈঠকে কয়েক কিস্তি চায়ের আড্ডায় সাগরময় ঘোষ, বিমল মিত্র, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সুশীল রায়, বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়, প্রভাত দেবের মুখে দীর্ঘ জীবনের ডজন খানিক গল্প— সেইসব গল্পে আছে শরৎচন্দ্র বাবু, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সুবোধ ঘোষসহ আরো অনেকের চটকদার সব গল্প৷ বিভূতি বাবু এত বেশি ভোজনরসিক ছিলেন জানতাম না৷ উনাকে সবসময় মনে হত হাইস্কুলে ভারী ফ্রেমের চশমায় কড়া অংকের শিক্ষক৷ 'পথের পাঁচালী' বাংলা সাহিত্যর আকাশে লুব্ধক হয়ে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক্ররূপে আবির্ভাব হওয়ার পূর্বে ছয়মাস ড্র‍য়ারে আবদ্ধ ছিল৷ ভাবা যায়? বিমল মিত্রের মুখে 'পথের পাঁচালী' প্রকাশের গল্পটা বেশ অসাধারণ ছিল৷ শুধুমাত্র বন্ধুদের আড্ডায় কিছু পড়ে শোনাতে হবে বলেই সুবোধ ঘোষ 'অযান্ত্রিক' ও 'ফসিল' নামে দুইটি বিখ্যাত গল্প লিখেছিলেন৷ আসল-নকল শরৎচন্দ্রের দ্বন্দ্বটাও মজাদার ছিল৷ সাগরময় ঘোষ শান্তিনিকেতনের ছাত্র ছিলেন৷ সেখানে কবি নিশিকান্ত রায় চৌধুরীর সাথে ডানপিটে এবং মধুর স্মৃতিমাখা দিনগুলোর বর্ণণাও উঠে এসেছে৷ কলেজ জীবনে নিজ কৌতুহলে লেখক জগদীশ গুপ্ত আবিস্কারের লেখাটিও ভালো লেগেছে৷ শেষের দিকে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্র জয়ন্তীর বর্ণনা পড়ে কোনো এক পঁচিশ বৈশাখে শান্তিনিকেতন যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জেগেছে৷ তারাশঙ্করের এক্স-রে প্লেট, প্রেমেন্দ্র মিত্রের পূজার সংখ্যায় গল্প না দেওয়ার বাহানা, শরৎবাবুর রসিকতায় সবমিলিয়ে বৈঠকের সাথে আড্ডাটা বেশ জম্পেশ ছিল৷
_
সাগরময় ঘোষের লেখার ভাষা সরল ও প্রাঞ্জল৷ সম্পাদক বলেই হয়ত পাঠকের ভাষার চাহিদা ভালো বুঝেন৷ বইয়ে গল্প—উপন্যাস—কবিতা সম্পাদনার পাশাপাশি লেখকদের লেখক সত্তার বাইরের চরিত্র অথবা মনোজগতের সম্যক ধারণা পরিলক্ষিত৷ তবে প্রথমদিকে বইয়ের গতি ভালো হলেও মাঝে কিছুটা অস্তমিত মনে হয়েছে৷ শেষের দিকে রবীন্দ্রনাথের কিছুটা প্রচলিত ঘটনাসহ বইটা প্রাণবন্ত ছিল৷ শেষ করে মনে হলো আরো কয়েকশ পৃষ্ঠা হলেও অনায়েসে পড়া যেত৷ সকল সাহিত্যপ্রেমীর জন্য অতি উপাদেয় বইটা পড়ার পরামর্শ রইল৷
Profile Image for Arnab Paul.
62 reviews119 followers
July 1, 2017
সাগরময় ঘোষ নিয়ে কোথাও পড়েছিলাম, 'দেশ' সম্পাদনা করার কর্মযজ্ঞে সুনিপুণ থাকতে গিয়ে তিনি মৌলিক কর্ম নিয়ে প্রস্ফুটিত হবার সময়-সুযোগ পাননি। প্রত্যেক মানুষের লিখে যাবার কি খুব দরকার? একজীবনে কত কী-ই আর পড়ে যাওয়া সম্ভব, অনন্ত আক্ষেপটুকুও দিন দিন বেড়েই চলে। যাদের লেখা পড়ে আমরা মুগ্ধ হই, ভাবনাজুড়ে থাকা সেসব মানুষদের রক্ত-মাংসের সংস্পর্শে থাকতে পারাটাও অন্যমাত্রার এক আনন্দভ্রমণ।'সম্পাদকের বৈঠকে' পড়ে এমন একটা জীবন পার করার পিপাসা জেগে উঠল। একজন মানুষ শরৎচন্দ্রের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন,বিভূতিভূষণের সাথে বেড়াতে যাচ্ছেন, 'সৈয়দদা'র সাথে চিঠি চালাচালি করছেন; এমন কারুর জন্যে হিংসে কী করে না হয়? ঐ সময়টাকে আমি মনে মনে খুব লালন করি।বাংলা সাহিত্যের গ্রহ-তারাদের উদয়,বিচরণকাল তখন।ঐ সময়টিতে সম্পাদক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতালাভ দুর্লভই নয় শুধু, সৌভাগ্যও বটে।
রবীন্দ্রনাথের আশ্রম শান্তিনিকেতনে শিক্ষাজীবন, দেশখ্যাত প্রখ্যাত সাহিত্যিকেরা রবির কাছে আসতেন। সেই ছেলেবেলা থেকেই তাঁদের সংস্পর্শ পেয়েছেন।শান্তিনিকেতনের বাল্যঘটনা থেকে শুরু করে 'দেশ' সম্পাদনার নানান বিচিত্র ঘটনা একদন খাঁটি বৈঠকী ভাষাতেই লেখা, মনে হবে আড্ডার মাঝে আছি।সম্পাদনা কাজটি বহুবিচিত্র, তখন তো আজকের মতো ফ্রি মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ছিলোনা, নামীপত্রিকায় প্রকাশই লেখক হবার উপায়।সে নিয়ে নবীন লেখকদের অভিমান,হুমকি, ভর্তসনা; প্রবীন লেখকদের রাগ,হীনন্মন্যতা কত কিছুর মুখোমুখি হতে হয়।পাঠানো লেখা ছাপার অক্ষরে না পেয়ে এক লেখক তো চিঠিতেই বলে বসলেন,আপনার নামটি মরুময় ঘোষ হওয়াই বাঞ্ছনীয় ছিল!
শুধু নিজের কাহিনি নয়, সাথের সাহিত্যিক সম্পাদক বন্ধুদের সাথে ঘটে যাওয়া বিচিত্র গল্পও উঠে এসেছে আড্ডার স্বতস্ফূর্ততায়,কোনটি সরস আবার কোনটি করুণ।
বাংলাসাহিত্যে বিভূতিবাবু ও তাঁর পথের পাঁচালি রত্নের মতো মূল্যবান। তবে স্রষ্টা ও তাঁর সৃষ্টির আবির্ভাব তাঁর ভাষার মতোই কোমল ও নিতান্ত নীরব।ছা পোষা মাস্টারটি স্কুলের অবসরে যে মাস্টারপিস লিখে গেছেন,তার আবিষ্কারকর্তা উপেন গাঙ্গুলীকেও মাস্টারমাইন্ড বলতে হয়। রয়েল বেঙ্গলের মত শক্তিশালী লেখকটিকে তিনি বাংলা সাহিত্যে উপহার দিলেন।
মানিক বন্দ্যোপাধায়, নারায়ণ গাঙ্গুলী, নরেন্দ্রনাথ মিত্র,বনফুলসহ তৎকালীন কোন সাহিত্যস্রষ্টার সংস্পর্শ থেকেই বাদ যাননি লেখক, 'দেশ' এর সম্পাদক বলে কথা।
একটানে পড়ে ফেলার মত বই।
Profile Image for Mazharul Islam Fahim.
98 reviews7 followers
August 26, 2022
কলকাতা থেকে প্রকাশিত দেশ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ দায়িত্ব পালন করা সাগরময় ঘোষের ঝরঝরে, সাবলীল ও অপূর্ব লেখনীর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা দিকপালদের ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পেলাম।দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় সাগরময় ঘোষ যেসকল সাহিত্যিকদের সংস্পর্শে এসেছেন, এই বইটির মাধ্যমে তুলে এনেছেন তাদের নিয়ে ঘটে যাওয়া বিচিত্র সব কাহিনী, কখনো বা শুনিয়েছেন সম্পাদক জীবনে ঘটে যাওয়া সরস কিংবা বিষাদমাখা ঘটনার সারাংশ।

বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য একটি বই।
Profile Image for Ahmed Aziz.
384 reviews69 followers
July 24, 2024
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যে এতটা মজার আর ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার ছিলেন এই বই না পড়লে জানা হত না। সাথে ভোজনপ্রেমী বিভূতিভূষণের কাঁকড়া খাওয়া, বনফুলের জীবনের অলৌকিক কাহিনি, পূজা সংখ্যার জন্য সুবোধ ঘোষের শেষ মুহুর্তের গল্প লেখা, তারাশঙ্করের এক্সরের প্লেট, সাগরময় ঘোষের শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যের শান্তিনিকেতনের স্মৃতি, বিভূতিভূষণের প্রথম উপন্যাস "পথের পাঁচালি" আর মানিক বন্দোপাধ্যায়ের প্রথম গল্প "অতসী মামী" প্রকাশের কাহিনি এরকম অনেকগুলো ঘটনার মজার মজার বর্ণনা।
Profile Image for Ridwan Anam.
126 reviews101 followers
October 20, 2018
অনেক দিন পর একটা বই পড়লাম যেটা তর তর করে পড়ে ফেলা যায়, যেটা পড়তে গেলে কোন হুঁশ জ্ঞান থাকে না।
.
দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষের পরিচয় দেওয়ার কিছু নাই। বলতে গেলে গোটা বিংশ শতাব্দী জুড়ে সাগরময় ঘোষ দেশ পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের (পশ্চিম বঙ্গীয়) সেরা কিছু সাহিত্যকর্ম সম্পাদনা করেছিলেন। এর পাশাপাশি শান্তিনিকেতনের স্বর্ণযুগে পড়ার সময়ে তিনি গোটা ভারতবর্ষের উজ্জ্বলতম কিছু রত্নের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন, যারা শিক্ষক, সহপাঠী হিসাবে তার জীবনে এসেছিলেন।
.
সম্পাদকের বৈঠকে সেসব ব্যক্তির সাথে সাগরময় আর তার কবি সাহিত্যক বন্ধুদের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ আর আনেকডোটসের বই। লেখকের লেখার গুণে প্রতিটা পর্বই হয়ে উঠেছে দারুণ উপভোগ্য আর রসে ভরপুর। হিউমার আর উইটের চমৎকার ব্যবহার, সাগরময়ের সহজ ভাষায় বৈঠকী গল্প বলার দক্ষতা, আর সাহিত্যজগত আর সঙ্গীতজগতের (অল্প কয়েকজন) তারকা আর মহাতারকার ব্যক্তিগত জীবনের মজাদার সব গল্প এমন রসিয়ে রসিয়ে বলা হয়েছে, বইটা পড়ার সময় প্রেমেন মিত্তিরের ঘনাদা বা নারায়ণ গাঙ্গুলির টেনিদা পড়ার চেয়ে কোন অংশেই কম আনন্দ পাই নাই। পার্থক্য হলো, টেনিদা আর ঘনাদা যেখানে কাল্পনিক চরিত্র, সেখানে সাগরময় ঘোষের সব চরিত্রই বাস্তব মানুষ।
.
এর পাশাপাশি ম্যাগাজিন সম্পাদনার পিছনে জানা অজানা কাহিনী, পূজা সংখ্যা বের করার আগে দৌড়ঝাঁপ, নবীন লেখক, প্রবীন সাহিত্যিককে কি করে হাত করতেন, সেসব মজার মজার গল্প পড়তে গিয়ে অনেকদিন পর বই পড়ে গলা ছেড়ে হাস��ে পেরেছি। পাঠককে লেখার মাধ্যমে এমন নির্মল আমোদে আমোদিত করতে পারা জাত লেখকের গুণ, সম্পাদক সাগরময় একজন জাত লেখক ছিলেন এ ব্যাপারে আমার কোন দ্বিমত নাই।
.
বইটার দুর্দান্ত সব গল্পের তোড়ে ভেসে গেলেও একটা ব্যাপারে খটকা লেগেছে, পূর্ববঙ্গীয় মুসলিম চরিত্রের অস্বাভাবিক অনুপস্থতি।এক আলী সাহেব (সৈয়দ মুজতবা আলী) ছাড়া কোন মুসলিম লেখক, সাহিত্যিক, কবি নাই, এবং আলীর পূর্ব বঙ্গীয় পরিচয়ের চেয়ে শান্তিনিকেতনী পরিচয়ই সাগরময়ের কাছে দাম পেয়েছে। পূর্ববঙ্গীয় অন্য সাহিত্যিকেরাও কলকাতা অথবা শান্তিনিকেতনী বলয়ে না আসলে সাগরময়ের কৃপা পেতেন কি না সন্দেহ। কলকাতার বাইরে পূর্ববঙ্গেও বাংলা ভাষায় লেখালিখি চর্চা হয়, এমন কোন নিদর্শন সাগরময়ের বইয়ে একদমই পাওয়া যায় না। সাগরময় অকাতরে অসংখ্যবার বাংলাদেশ কথাটা ব্যবহার করেছেন, যুক্তবঙ্গ হিসাবে, কিন্তু সে বাংলাদেশের জগত শান্তিনিকেতন আর কলকাতাতেই সীমাবদ্ধ। যে ব্যক্তি এক হাতে বাংলা সাহিত্যের একটা বিশাল অংশকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন, পূর্ববঙ্গীয় মুসলমানদের রচিত সাহিত্য সে ব্যক্তির দৃষ্টিসীমার বাইরে, এটা অবিশ্বাস্য, দৃষ্টিকটু এবং প্রচন্ড হতাশাজনক।
.
উপরের ত্রুটি থাকা সত্বেও বইটা গুরুত্বপূর্ণ এবং অতিসুখপাঠ্য। যারা বাংলাসাহিত্যে গভীরভাবে আগ্রহী, তাদের জন্য এ বই অবশ্যপাঠ্য। একই সাথে যারা পশ্চিমবঙ্গীয় লেখকদের জগত আর মনস্তত্ব ধরতে চেষ্টা করেন, তাদের জন্যও এ বই সহায়ক। বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্য কিভাবে শান্তিনিকেতন প্রশিক্ষিত এক দল মানুষের নিয়ন্ত্রণে ছিল, এবং তাদের সে ধারা কিভাবে দেশ ম্যাগাজিন, আনন্দবাজার পত্রিকা, আনন্দ পাবলিশার্স ধরে রেখে টেনে নিয়ে যাচ্ছে আজ অবধি, সেটা বুঝতেও এ বই অবশ্যপাঠ্য।

আমার রেটিং ৪/৫।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,479 reviews561 followers
October 1, 2019
দেশব্যাপী খ্যাতি আছে এমন একটি সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদক তাঁর পেশাগত জীবনের স্মৃতি রোমন্থন করছেন। একবার ভাবুন তো, কত বড় বড় নামজাদা লিখিয়ের হাঁড়ির খবর, লেখক হয়ে উঠবার ইতিবৃত্ত জানতে পারবেন। হ্যা, 'দেশ' সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদক সাগরময় ঘোষের অনবদ্য স্মৃতিকথায় হাজির হন নি বাংলা সাহিত্যে এমন কালজয়ী লেখক খুবএকটা নেই।

যেসব গল্প,উপন্যাস পড়ে আপনি, আমি আবেগআপ্লুত হই। আনন্দ পাই। কষ্টে ভেতরটা মোচর দিয়ে ওঠে। সেইসব কথাসাহিত্য এবং কথাসাহিত্যিকের ইতিবৃত্ত যেন তাদের রচনাকেও হার মানায়। 'পথের পাঁচালী'র কথাই ভাবুন। ছ'মাস ড্রয়ারে পড়ে ছিল। প্রকাশ হয় নি। কবিগুরুর সান্নিধ্যের স্মৃতিও কী ভুলবার মতো?

যতটা বেগে লেখা এগিয়েছিল,ততটা গতি শেষপর্যন্ত ধরে রাখতে পারেন নি সাগরময় ঘোষ। শেষের দিকে লেখা শ্লথ হয়ে গিয়েছিল।
Profile Image for Nabil Muhtasim.
Author 23 books275 followers
October 23, 2019
পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, বইটা ৫০০ পেজের হলে ভালো হতো। তাহলেই বুঝুন কেমন বই। সাগরময় বারবার বলেছেন, উনি লিখতে জানেন না। জঘন্য মিথ্যাচার করেছেন ভদ্রলোক।
Profile Image for Yeasmin Nargis.
191 reviews2 followers
January 5, 2026
বাংলা সাহিত্যজগৎকে কাছ থেকে দেখার একটি সুযোগ করে দিয়েছে সাগরময় ঘোষের ‘সম্পাদকের বৈঠকে’ বইটি। গল্পের ঢঙে লেখা হলেও বইটি কেবল গল্প নয়, এটি এক ধরনের সাহিত্যিক আড্ডা, যেখানে অবসর পাঠক থেকে শুরু করে মনোযোগী পাঠক সবারই আগ্রহ জাগে। লেখকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আর বৈঠকের নানা চরিত্রের রসিক মন্তব্য বইটিকে করে তুলেছে প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।

এই বইয়ে উঠে এসেছে বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যায় এর পথের পাঁচালির জন্মকথা, শরৎচন্দ্রের নাম বিভ্রাট, বঙ্কিমচন্দ্রের কিছু সহজ গল্প, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখক হয়ে ওঠার আকস্মিক কাহিনি, বনফুল ও শান্তিনিকেতনের নানা স্মৃতিচারণ। ছোট ছোট গল্প ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তখনকার সাহিত্যজগত যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
শেষ অধ্যায়ে এসে লেখক সুন্দরভাবে সুভাস ঘোষের জনপ্রিয় গল্প ‘গন্ধীরাজবাড়ি’ লেখার ও প্রকাশের নেপথ্যকথা তুলে ধরেন যা খুবই আবেগময়।

বইটি আরও বড় ও বিস্তারিত হলে আরও ভালো হতো। তবে ‘সম্পাদকের বৈঠকে’ বইটি নিঃসন্দেহে একটি পড়ার মতো ও বারবার ফিরে দেখার মতো বই।
Profile Image for Rashik Reza Nahiyen.
106 reviews14 followers
August 1, 2018
দেশ পত্রিকার সাথে পরিচয় আছে অথচ সাগরময় ঘোষের নাম শোনেন নি এরকম কাউকে বোধহয় সারা বাংলায় পাওয়া যাবে না। দীর্ঘ বাইশ বছর এই পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন, রবীন্দ্রোত্তর বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি চাক্ষুশ দেখেছেন। দেশ পরিকায় যখন যুক্ত হোন, তাঁর প্রথম যে অ্যাসাইনমেন্টটি দেওয়া হয়েছিল সেটা হল বাংলা সাহিত্যের সমার্থক শব্দ রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে লেখা আদায় করা! তাঁকে সেটা দেওয়া হবেই না কেন, পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথের প্রত্যক্ষ সান্নিধ্য, শান্তিনিকেতনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়টাতে তিনি ছিলেন সেখানকারই ছাত্র! আমি ভেবেছিলাম 'সম্পাদকের বৈঠকে' হয়তো তাঁর আত্মজীবনীই। কিন্তু বইটাকে বলা যায় কোন এক আড্ডাচক্রের বিবরণ। নাম প্রকাশ করেন নি, অনেকের আড্ডার কথাবার্তার রেকর্ড বলা যায় এটাকে। তাঁর নিজের জীবনের ঘটনা, অন্যদের বলা ঘটনা।  পড়তে বারবার মনে হয়েছে, মুখচোরা হয়ে এই আড্ডায় যেন পেছনের দিকে বসে আছি। আর তাঁদের সাহিত্যাড্ডার গল্পগুলো হা করে শুনছি। কার কথা নেই এই আড্ডাতে? শুরু হয়েছে জলধর সেনের গল্প দিয়ে, তারপর একে একে গল্প গড়িয়েছে শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, বিদ্যাসাগর, দীনেশচন্দ্র সেন, তিন বন্দ্যোপাধ্যায়- বিভূতিভূষণ মানিক তারাশঙ্কর, ওস্তাদ ফৈঁয়জ খা, সৈয়দ মুজতবা আলী, প্রেমেন্দ্র মিত্র, দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, নিশিকান্ত সেন, নরেন মিত্র, সুবোধ ঘোষ, বনফুল,  জগদীশ গুপ্ত ... আর কত চাই? বলেছেন বিচিত্রার সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা, যার আড্ডায় এসে পেছনের দিকে চুপচাপ বসে থাকতেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিন বৃষ্টিতে আড্ডায় যখন আর কেউ নেই তখন তার সাথেই প্রথম আলাপ। কথায় কথায় জানিয়ে দিলেন তিনি একটা উপন্যাস লিখেছেন, নাম 'পথের পাঁচালী'। উপেন গঙ্গোপাধ্যায় থ, কবিতা দিয়ে মানুষ শুরু করে, তারপর গল্প, শেষে উপন্যাস। আর এই অচেনা ভদ্রলোক শুরুতেই উপন্যাস লিখে ফেলেছেন? তাও আবার ফর্মার হিসেব নিকেশ না করেই? তারপর তাঁর বিচিত্রাতেই তো  পথের পাঁচালির প্রকাশ। 

এরকম আরো কত গল্প। নকল শরৎচন্দ্র এবং আসল শরৎচন্দ্রের সাধের ফ্রেঞ্চকাট বর্জন, খাদ্যরসিক বিভূতির কাঁকড়া খেয়ে পেট খারাপের কাহিনী, নিশিকান্ত সেনের অ্যাডভেঞ্চার,  রবীন্দ্রনাথের সত্তরতম জন্মতিথি উৎসব, বাজার করার জন্য বউয়ের চেঁচামেচি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যই আদালতের মুহুরি জগদীশ গুপ্তের লেখক হবার কাহিনী, এক সুবোধ ঘোষের গল্পের জন্য দেশ আর আনন্দবাজার পত্রিকার লোকজনদের নিয়ে সাগরময় ঘোষের নিদ্রাহীন একটা রাত পার। 

চমৎকার একটা সময় কাটলো বইটা পড়ে। জগদীশ গুপ্ত তাঁর সাহিত্য সংকলনে যে ভূমিকাটা লিখেছেন সেটা পড়ে মন খারাপ হল, তাঁর লেখা নিয়ে যেরকম আলোচনা হওয়া দরকার ছিল, তাঁর লেশমাত্র কখনও ছিল না। বরং তাঁর গল্পগুলো খানিকটা 'ডিস্টার্বড' প্রকৃতির- এ কথা বারবার শুনতে হয়েছে। এগুলো নিয়ে তিনি আক্ষেপও করেন নি। সাহিত্য সংকলনের ভূমিকাটা নিচে দেওয়া হল, 

'নিজের সম্বন্ধে আমি যতই ফেনাইয়া ফাঁপাইয়া ফলাইয়া লিখি না কেন কোন সুরুচিসম্পন্ন ব্যক্তি তাহা গ্রহণ করিবেন না। হয়তো হাসিবেন এবং হাসাহাসি করিবেন। আর, "অনুপস্থিত" লোকের হঠাৎ আসিয়া গাম্ভীর্যের সঙ্গে বাগাড়ম্বর- পূর্বক সাহিত্যের প্রয়োজনীয়তা, আর্যকারিতা, দায়িত্ব, স্থায়িত্ব উদ্দেশ্যে প্রভৃতির ব্যাখা করা হইবে ততোধিক হাস্যের কারণে।

তবে একেবারেই যে খবর নাই কিম্বা সব খবরই বলিতে আমি অনিচ্ছুক এমন নয়। একটা খবর দিব।

বোলপুর টাউনে গেলাম। কিছুদিন পরেই মাসিক পত্রের মাধ্যমে ক্রমে জানাজানি হইয়া গেল যে আমি একজন লেখক। দুটি বন্ধু পাইলাম; শ্রীভোলানাথ সেনগুপ্ত ও শ্রীশান্তিরাম চক্রবর্তী। তৎপূর্বেই ভোলানাথবাবু তাঁর সুরচিত "গরুর গাড়ী" কাব্য ছাপাইছেন। ঐ দুটি বন্ধুর মানুষের অন্তরের তত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করার অসাধারণ শক্তি দেখিয়া এবং তাঁদের রসাল রসিকতায় মুগ্ধ হইয়া গেলাম। তাঁহারাই একদিন প্রস্তাব করিলেন" গল্পের বই করুন একখানা।

জানাইলাম, প্রকাশক পাইবো না।

সেখানেই উপস্থিত ছিলেন সেখানকার কানুবাবু- শ্রীব্রজ্জনবল্লভ বসু। তিনি জানিতে চাহিলেনঃ ছ��পিতে কত টাকা লাগিতে পারে? 

বলিলাম-- শ-আড়াইশ।

--আমি দিব। ছাপুন।

কানুবাবু যথাসময়ে টাকাটা দিলেন- 'বিনোদিনী' গল্পের বই ছাপা হইল।

২০-২৫ খানা বই এঁকে-ওঁকে দিলাম; অবশিষ্ট হাজারখানেক বই, আমার আর কানুবাবুর "বিনোদিনী", প্যাকিং বাক্সের ভিতর রহিয়া গেল; পরে কীটে খাইল।

লেখক এবং সামাজিক মানুষ হিসাবে আমার আর কোনও অনুশোচনা নাই, কেবল মানসিক এই গ্রানিটা আছে যে, কানুবাবুর শ-আড়াইশ টাকা নষ্ট করিয়াছি।

আমার নিজের সম্বন্ধে আর একটি কথা এই যে, আমি যদি এখন মরি তবে যাঁহারা আমাকে চেনেন তাঁহারা বলিবেন- "বয়েস পেয়েই গেছেন।"

Profile Image for Mohammad Kamrul Hasan.
353 reviews15 followers
November 3, 2021
সুবোধ ঘোষ যেমন করে পূজো বার্ষিকির শেষে এসে পত্রিকা সম্পাদকদের নাকের পানি চোখের পানি এক করে ছাড়েন, সেই একই ভাবে সাগরময় ঘোষের বইটি আমিও পড়ে শেষ করি।

সম্পাদকের বৈঠকে, বইটি হচ্ছে দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষের স্মৃতিচারণামূলক বই। তিনি তার অফিসে সাহিত্যকদের নিয়ে আড্ডা বসান। আর সেই আড্ডাতে যে কত চমকপ্রদ কাহিনির সন্নিবেশ হয় তার কোনো ঠিক ছিলো না।
আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, যে বইটির শ্রেষ্ঠতম দিক কোনটি?
আমি নির্দ্বিধায় বলব সকল সাহিত্যিকদের এক টেবিলে পাওয়া।
একটু চিন্তা করুন, আপনি মুগ্ধ হয়ে সুবোধ ঘোষের বই পড়েন, বিমল মিত্রের কড়ি দিয়ে কিনলাম পড়েছেন, নিরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা পড়েছেন, মধ্যাদা কথা হচ্ছে উনবিংশের শেষ ভাগ এবং বিংশশতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত যত নামকরা বিখ্যাত কবি বা সাহিত্যকদের আপনার পছন্দ তাদের প্রায় জনকেই যখন আপনি এক টেবিলে বসে চা মুড়ি, সিগারেট টেনে টেনে আপনাকে তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া না না ঘটনা রসিয়ে রসিয়ে বলে যাচ্ছে তখন সেই অনুভূতি নিঃসন্দেহে সেরা এক অনুভূতি হবে।

আমি অবাক হই যখন দেখি আগের সম্পাদকরা একটা ভালো লেখা পাবার জন্য কত কষ্ট করেন। আবার দেখে অবাক হই বিখ্যাত বিখ্যাত রচনা কিভাবে অল্পের জন্য কালের গহব্বরের হারিয়ে যায়নি।
পথের পাঁচালী, পথের দাবী, অতসী মামীর মতন সাহিত্যহীরক আমরা পেতাম না যদিনা ঐ সময়ের কিছু তুখোড় সম্পাদক না থাকতেন। সেই সব সম্পাদকের জীবনও কিছু কম বৈচিত্র্য নয়।

সাগর বাবুর বই গুলো আমি যতো পড়ি তত মুগ্ধ হই, তার বইগুলো না গল্প, না কোনো কঠিন প্রবন্ধ, নাতো কোনো রগরগে উপন্যাস। কিন্তু এসব থেকেও কোনো অংশে তাঁর এই রচনা পিছিয়ে নেয়।

ধন্যবাদ।
Profile Image for DEHAN.
277 reviews81 followers
March 9, 2020
প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে পড়লুম দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষের ''সম্পাদকের বৈঠকে''
ইচ্ছা করেই ধীরে ধীরে পড়েছি । এমন সরেস বস্তু গোগ্রাসে গেলাটা অশোভন কিনা এইজন্যে । এই বইটিতে আপনি অনেক স্বনামধন্য লেখকদের খুব কাছ থেকে দেখতে পারবেন । সাগরময় বাবু গল্পের ছলে বিভূতিভূষণ , তারাশঙ্কর , সুবোধ ঘোষ , শরৎচন্দ্র , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের বেশ কিছু গল্প বেশ রসিয়ে আলাপ করেছেন । ভালো লেগেছে ।
Profile Image for Arif  Raihan Opu.
213 reviews7 followers
February 22, 2022
সাহিত্যিকদের কাছ থেকে আমরা লেখা বইয়ের পাতায় পাই। কিন্তু এই লেখা পাঠকের কাছে পৌছানোর আগে সেটা চলে যায় সম্পাদকের কাছে। মুলত তারাই এটা নিয়ে আগে ভাবেন, চিন্তা করেন এবং এরপর সেটা পাঠকের হাতে পৌছায়। বলা যায় তারাই বিচারক হচ্ছেন যে লেখাটি পাঠকের কাছে কতটা গ্রহণ যোগ্যতা পাবে। তবে এমন নয় যে সম্পাদক লেখা দেখেই বাতিল করে দেন।
.
প্রতিটি লেখার পেছনেই কোন একটি গল্প বা ইতিহাস জড়িত থাকে। সে গল্প গুলো আড়ালেই থেকে যায়। আজকে আমরা যারা এত ভাল ভাল লেখা পড়ছি তার পেছনের গল্প গুলো কে আমরা সেভাবে কখনও উপলব্ধি করতে পারিনি। হয়ত পারতাম না। কিন্তু এখন বলা যায় পারব। সত্যিকার অর্থেই পারব।
.
বাংলা সাহিত্যের যেসব দিকপাল রয়েছেন। যাদের লেখার বাংলা সাহিত্য হয়ে উঠেছে উজ্জল ও দূতিময় তাদের লেখার, লেখক হবার পেছনে যে অজানা গল্প গুলো রয়েছে তার একটা ছোট চুম্বক অংশ হচ্ছে "সম্পাদকের বৈঠকে"। সাগরময় ঘোষ যখন দেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তখন তিনি অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন সেই সব গল্প গুলো সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন এই বইয়ে।
.
বলা যায় বাংলা সাহিত্যে বঙ্কিম থেকে রবি ঠাকুর সবার কথাই এই বইয়ে উঠে এসেছে। আর সম্পাদকের দায়িত্ব কত বড় সেটাও বুঝতে পারা যায়। কারণ একটা সুন্দর সম্পাদনা একটি পত্রিকা বা বইয়ের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। লেখক সম্পাদকের উপর অনেক সময় রুষ্ঠ হন, কিন্তু তিনি জানেন না যিনি সম্পাদনার কাজ করছেন তিনি ভাল ভাবেই জানেন যে পাঠক কি নেবে। আর সাহিত্যরস কিসেই বা বেশি।
.
আগে আমি ভাবতাম নন ফিকশন নিয়ে কাউকে কিছু বলব কিনা। তবে এবার আমি বলব কেউ নন ফিকশন হিসেবে একটি বই পড়তে চাইলে শুধু মাত্র "সম্পাদকের বৈঠকে" এই বইটি পড়ুন।
Profile Image for Paromita.
173 reviews31 followers
November 19, 2024
Entertaining read, lot of interesting anecdotes.
Profile Image for Ahmed Atif Abrar.
720 reviews12 followers
July 4, 2019
অভূতপূর্ব আখ্যান!
এমন আখ্যানের সাথে এবারই প্রথম পরিচিত। তবে ঘটিরা বাঙালদের যে অহেতুক তাচ্ছিল্য করত, সেটাই আরেকবার ফুটে উঠেছে।
Profile Image for শুভঙ্কর শুভ.
Author 11 books50 followers
December 12, 2018
অবশ্য পাঠ্য কিছু বইয়ের তালিকায় থাকা বই এটা। চমৎকার চিত্র ���র বর্ণ পরিচয়ের মাধ্যমে কোথাও কি লেখক নিজেকে লেখক বলেই দাবী করে ফেলল কিনা এই প্রশ্নের উত্তর তো দূরে থাক প্রশ্নই আশা করা যায় না। কিন্তু নিঃসন্দেহে বইটা একজন পাকা লেখকেরই উপহার স্বরূপ উদাহরণ।
ধন্যবাদ মারুফ ভাই, বইটা পড়ায় উৎসাহ এবং জোগাড় করে দেয়ার জন্য।
Profile Image for Farjana Rahman.
51 reviews3 followers
August 17, 2024
বই: সম্পাদকের বৈঠকে
লেখক: সাগরময় ঘোষ
প্রকাশনী: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
পৃষ্ঠা: ২১৬
মূল্য: ৩৫০ রূপী।

একদিন বিকেলে কলেজ ষ্ট্রিটে আমার বইয়ের প্রকাশকের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছি, এমন সময় এক যুবক কাউন্টারে এসে জিজ্ঞেস করলেন- 'আপনাদরে কাছে পাঠ্যপুস্তক পাওয়া যাবে?'

দোকানের মালিক বললেন- 'আপনি ভুল করেছেন,আমরা টেক্সট বুক ছাপাই না।'

উত্তরে যুবক বললেন- 'তা জানি। বইয়ের বাজার তো অপাঠ্য পুস্তকে ছেয়ে গিয়েছে। আমি তাই কিছু পাঠ্যপুস্তক খুঁজে বেড়াচ্ছি।'

পাঠ্যপুস্তক আর অপাঠ্যপুস্তকের এই কথা থাক। সাগরময় ঘোষের"সম্পাদকের বৈঠকে" যে পাঠ্যপুস্তক সে ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নাই। শুধু "পাঠ্যপুস্তকের" পূর্বে "দুর্দান্ত", "অবশ্যপাঠ", "ম্যাজিকাল", "উইটি" এর মতো এক বা একাধিক বিশেষণের কোনটা বসাবেন - সেটা নির্ধারন করবেন পাঠক।

সাগরময় ঘোষ দেশ পত্রিকার সম্পাদকীয় দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘকাল ধরে। সে সূত্রেই অহরহ তার কর্মক্ষেত্রে বিচরণ করেছেন অজস্র সাহিত্যিক। কথায় আছে "সঙ্গদোষে লোহা ভাসে"। হয়তো সেই কারনেই পেশায় লেখক না হয়েও তার লেখনী কোন অংশেই নামীদামী সাহিত্যেকদের থেকে কম না। বরং পুরোদস্তুর লেখক না হয়েও "সম্পাদকের বৈঠকে" বইয়ে ২০০+ পৃষ্ঠা যেভাবে পাঠককে চুম্বকের মতো ধরে রাখবে সেটা মনে রাখারই মতো।

সাগরময় ঘোষের বর্ননার ভঙ্গিটাই এমন আয়েশী যে বই পাঠকালে আমার কখনই মনে হয়নি আমি একজন পাঠক। বরং নিজের অজান্তেই সম্পাকদকের সেই আড্ডার বৈঠকের একজন শ্রোতা হিসেবেই নিজেকে আবিষ্কার করেছি। কিছু গল্প চেনা, কিছু অচেনা। তবে বলার ভঙ্গিতে যে একটি চেনা-জানা গল্পও আবার মোহনীয় হয়ে উঠতে পারে - তার উদাহরন সাগরময় ঘোষের "সম্পাদকের বৈঠকে"।

সেই সময়ের সাহিত্যজগতের ইমেজ গল্পের ছলে নির্মাণে সচেতন, অর্ধসচেতন অথবা যে কোন অবসন্ন পাঠকের বেলাও"সাম্পদকের বৈঠকে" যে শিল্পিতরূপ তুলে ধরে- তা নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে উক্ত পাঠককে। সাগরময় ঘোষের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার এবং সাথে তার বৈঠকের নানা সদস্যদের উইটি এপ্রোচ বইটিকে করে তুলে আরও আকর্ষনীয়। সবচেয়ে সবল দিক সাগরময় ঘোষের পরিমিতি বোধ। কতটুকু লিখতে হবে এবং কোথায় থামতে হবে - তা অনেক লেখকের জন্যেই অনুকরনীয়।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের"পথের পাঁচালী" উপন্যাসের সৃষ্টি বা আবির্ভাবের গল্প, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিভ্রাট, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কিছু সরস গল্প উঠে এসেছে "সম্পাদকের বৈঠকে"। আছে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের"এক্সিডেন্টালি" লেখক হবার নেপথ্য কাহিনি। আছে বনফুলের নানা কাহিনি। শান্তিনিকেতনের কথা উঠে এসেছে বারবার, সাথে তিনি গল্প করেছেন শান্তিনিকেতনের নানা মজার কাহিনি নিয়ে।

টোটাল ২৬ টি পরিচ্ছেদ নিয়ে সুসজ্জিত "সম্পাদকের বৈঠকে"। শুধুমাত্র ২৪ নাম্বার পরিচ্ছেদ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু গল্প) পুরো বইয়ের সামান্য ছন্দপতনের একটু আঁচ মাত্র। এই অংশটুকু বৈঠকি-আড্ডার বাইরে যেয়ে সামান্য কয়েক পৃষ্ঠার অবতারনা। এই সামান্য ছন্দপতনের বোধটুকু সাগরময় ঘোষ পুষিয়ে দিয়েছিন একদম শেষ পরিচ্ছদে (২৬ নাম্বার)। এই পরিচ্ছেদ শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশের শেষ মুহূর্তের লেখক"সুবোধ ঘোষের" বিখ্যাত গল্প"থিরবিজুরী" লেখার এবং প্রকাশের নেপথ্য-কাহিনি। পাঠককে পরিপূর্নভাবেই তৃপ্ত করবে এই গল্প। সাথে আছে সাংসারিক কর্মকান্ড থেকে মুক্তি পেতে এবং প্রতিদিনের বাজার করা এড়াতে জগদীশ গুপ্তে লেখক হয়ে ওঠার কাহিনি।

সাগরময় ঘোষের "সম্পাদকের বৈঠকে" নিয়ে একটা আফসোস বা অপূর্নতার কথা বলে শেষে করি। এই আফসোস শুধুমাত্র একটি"শূন্যের (০)"। "সম্পাদরে বৈঠকে" ২০০+ পৃষ্ঠার আবেগময় বুনট দিয়ে মোড়া এক বই। বইটা কেন ২০০ এর আশেপাশে হলো- কেন ২০০০ পৃষ্টা হলো না - এই আক্ষেপটুকুই বলে দেয় সাগরময় ঘোষের "সম্পাদকের বৈঠকে" বইটি পাঠকের জন্যে একটি"হাইলি-রিকমেন্ডেড" পাঠ্যপুস্তক।
Displaying 1 - 30 of 38 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.