Jump to ratings and reviews
Rate this book

Sharp Objects

Rate this book
Fresh from a brief stay at a psych hospital, reporter Camille Preaker faces a troubling assignment: she must return to her tiny hometown to cover the unsolved murder of a preteen girl and the disappearance of another. For years, Camille has hardly spoken to her neurotic, hypochondriac mother or to the half-sister she barely knows: a beautiful thirteen-year-old with an eerie grip on the town. Now, installed in her old bedroom in her family's Victorian mansion, Camille finds herself identifying with the young victims—a bit too strongly. Dogged by her own demons, she must unravel the psychological puzzle of her own past if she wants to get the story—and survive this homecoming.

Librarian's Note: this is an alternate cover edition - ISBN 10: 0307341550 (ISBN 13: 9780307341556)

254 pages, Paperback

First published September 26, 2006

Loading...
Loading...

About the author

Gillian Flynn

24 books97.6k followers
Gillian Flynn is an American author and television critic for Entertainment Weekly. She has so far written three novels, Sharp Objects, for which she won the 2007 Ian Fleming Steel Dagger for the best thriller; Dark Places; and her best-selling third novel Gone Girl.

Her book has received wide praise, including from authors such as Stephen King. The dark plot revolves around a serial killer in a Missouri town, and the reporter who has returned from Chicago to cover the event. Themes include dysfunctional families,violence and self-harm.

In 2007 the novel was shortlisted for the Mystery Writers of America Edgar for Best First Novel by an American Writer, Crime Writers' Association Duncan Lawrie, CWA New Blood and Ian Fleming Steel Daggers, winning in the last two categories.

Flynn, who lives in Chicago, grew up in Kansas City, Missouri. She graduated at the University of Kansas, and qualified for a Master's degree from Northwestern University.

Review Quotes:
"Gillian Flynn is the real deal, a sharp, acerbic, and compelling storyteller with a knack for the macabre."
–Stephen King

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
434,055 (33%)
4 stars
507,738 (39%)
3 stars
258,443 (20%)
2 stars
59,242 (4%)
1 star
18,880 (1%)
Displaying 1 - 13 of 13 reviews
Profile Image for সালমান হক.
Author 76 books2,096 followers
May 27, 2015
বলতে দ্বিধা নেই যে গন গার্ল বইটা পড়ার আগে গিলিয়ান ফ্লিন এর নাম জানতাম না । গন গার্ল ভালো লেগেছিল বলাই বাহুল্য । কিন্তু তার চেয়েও ভালো লেগেছিল আমার বই এর নায়িকা(অথবা ভিলেন) :p অ্যামিকে । সেই থেকেই আমার লেখিকার অন্য বই গুলো পড়ার ইচ্ছা ছিল। শার্প অবজেক্টস লেখিকার লেখা প্রথম বই। তখন ও অতটা বিখ্যাত হন নি তিনি । অনেক দিন ধরেই টু রিড লিস্ট এ ছিল বইটা । হার্ডকপি যে পাওয়া যাবে না তা তো জানা কথাই। তাই ভেবেছিলাম ইবুক ই পড়ে ফেলব । কিন্তু আদী থেকে অনুবাদটা বের হয়ে যাওয়া তে হার্ডকপিতেই পড়ে ফেললাম । 
আমার মনে হয় যে প্রথম বইতেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি । যে ধরণের থ্রিলার লিখতে চেয়েছিলেন তিনি তাতে পুরোপুরি সফল । বই এর জনরা থ্রিলার হলেও এতে আমেরিকার একটা সমাজের বিভিন্ন অন্ধকার দিক তুলে ধরা হয়েছে । বই এর চরিত্র কোনটাকেই একেবারে সফল বলা যাবে না । সবারই আছে কোননা কোন অন্ধকার । বই এর নায়িকা ক্যামিল প্রিকার ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত, যার আছে একটা ভয়ঙ্কর রকমের বদ অভ্যাস(বই এর নামকরণ এর ভিত্তিতেই করা হয়েছে) । আরেকটা ব্যাপার লক্ষণীয় যে বই পুরোটাই নারীকেন্দ্রিক । বই এর মূল প্লট কিংবা সাবপ্লট পুরোটুকুই নারীকেন্দ্রিক । ।
বই এর কাহিনি যদি বলতে হয় তাহলে অনেকটা এরকম – ক্যামিল প্রিকার , শিকাগোর এক দ্বিতীয় শ্রেণির পত্রিকার রিপোর্টার । ক্যারিয়ারে গতি আনতে একটা অ্যাসাইনমেন্ট পায় সে । তবে তাতে তাকে ফিরে যেতে হবে তার পুরানো শহর উইন্ড গ্যাপে- যেখানে গত নয় মাসে খুন হয়েছে নয় ও দশ বছর বয়সী দুই মেয়ে , যাদেরকে খুনের পরে আবার উপড়ে নেয়া হয়েছে তাদের দাঁত । কিন্তু ঐ শহরে পড়ে আছে ক্যামিল এর ভয়ঙ্কর সব স্মৃতি । একরকম বাধ্য হয়েই সেখানে যেতে হয় তাকে । ওখানে পৌঁছানোর পর বদলাতে থাকে দৃশ্যপট । আবার বের হয়ে আসে ভয়ঙ্কর কিছু স্মৃতি, মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে ব্যাক্তিগত কিছু ক্ষোভ। শেষ মেষ এমন কিছু জিনিস আবিষ্কার করে সে যা কল্পনা করাও কঠিন কিন্তু অতি মাত্রায় বাস্তব । বই এ ভায়োলেন্স আছে অনেক । আর এডাল্ট ম্যাটেরিয়াল ও প্রচুর । আমার মনে হয় যে এধরণের বই গুলার উপরে প্যারেন্টাল গাইডেন্স এর চিহ্ন দিয়ে দেয়া উচিত ।

কাহিনীর বিল্ড আপ খুবই স্লো । শেষ এর দিকে গিয়ে কিছুটা গতি আসে কাহিনীতে । তবে বাকিটা ধৈর্য ধরে পড়তে হবে । কিন্তু একবার বই এর কাহিনীতে ঢুকতে পারলেই হল । বাকিটা পড়তে কষ্ট হবে না । তবে পুরো বই জুড়েই এক ধরণের শীতলতা বজায় ছিল । হয়ত নায়িকার বিপর্যস্ত মানসিকতার কারণেই এমনটা মনে হয়েছে । সব মিলিয়ে পারফেক্ট একটা থ্রিলার ।

এবার অনুবাদ এর কথা বলি । এই ধরণের বই যা ফাস্ট পারসন পার্সপেক্টিভ এ লেখা হয় অনুবাদক যদি মূল লেখকের লেখনীর স্টাইলটা তুলে ধরতে না পারেন তাহলে অনুবাদ অনেকটাই মাটি হয়ে যায় । তবে এক্ষেত্রে বলব যে আমাদের প্রান্ত ভাই সফল । অনুবাদে কোথাও কোন প্রকার জড়তা নেই। সাবলীল ভাবে তুলে ধরা হয়েছে সব ঘটনা । কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু লাইন অনুবাদ এর ক্ষেত্রে হয়ত আরেকটু যত্নবান হওয়া যেত, তবে মনে রাখতে হবে যে এটা তার প্রথম অনুবাদ । সেদিক থেকে অনুবাদ অনেক ভালো হয়েছে । তার একটা ধন্যবাদ পাওনা রইল ।
Profile Image for Rakib Hasan.
503 reviews88 followers
December 29, 2025
শার্প অবজেক্ট বইতে গিলিয়ান ফ্লিন মানব মনের অন্ধকার দিকটা অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন। ধীরগতির হলেও গল্পের ভেতরের টান, মানসিক চাপ আর চমকপ্রদ আবহ শেষ পর্যন্ত পাঠককে ধরে রাখে এবং গভীর প্রভাব ফেলে। সবমিলিয়ে বইটা ভালো ছিলো।
Profile Image for Owlseer.
246 reviews16 followers
July 8, 2026
গিলিয়ান ফ্লিনের শার্প অবজেক্টস শেষ করার পর একটা অদ্ভুত অসাড়তা কাজ করে। এই বইটার ভেতরে একটা মজ্জাগত অসুস্থতা আছে। সেটা শুধু ওই দুটো বাচ্চার খুনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। উইন্ড গ্যাপ শহরের প্রতিটা মানুষের সম্পর্কে, মা-মেয়ের কথোপকথনে এমনকি বিছানার ওপর দুটো মানুষের শরীরের লেনদেনেও সেই পচনটা স্পষ্ট। বইটা পড়ার সময় আক্ষরিক অর্থেই একটা শারীরিক অস্বস্তি হয়, বুকটা ভার হয়ে থাকে। আর ঠিক এই কারণেই ফ্লিনের এই ডেবিউটা এত মারাত্মক।

গর্ব করার মতো বা খুব বড় কোনো আইডিয়া নিয়ে গল্পটা শুরু হয়নি, শুরুর ছকটা খুব চেনা। ক্যামিল প্রিকার শিকাগোর একটা মাঝারি কাগজের রিপোর্টার। তার এডিটর তাকে পাঠায় তার নিজের শহর মিসৌরির উইন্ড গ্যাপে, অ্যান ন্যাশ নামের একটা মেয়ের খুনের ও নাটালি নামের আরেকটা মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর কভার করতে। ক্যামিল সেখানে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই নাটালি নামের মেয়েটার লাশ পাওয়া যায়, তখন বোঝা যায় এটা কোনো সাধারণ মফস্বলী ক্রাইম থ্রিলার না। দুটো মেয়েরই মুখের সবকটা দাঁত উপড়ে নেওয়া হয়েছিল। পৃষ্ঠা ত্রিশের মাথায় লেখক পরিষ্কার করে দেন যে, এই গল্পে কোনো দয়া-মায়ার জায়গা নেই।

ক্যামিল বহু বছর পর নিজের বাড়ি ফিরছে। আর বাড়ি ফেরা মানেই তার মা আদোরার মুখোমুখি হওয়া। ক্যামিলের সৎ বাবা অ্যালান একটা মেরুদণ্ডহীন চরিত্র, যে ঘরের পর্দার রঙের সাথে মিলিয়ে নিজের কার্ডিগান পরে আর নিজেকে এমনভাবে গুটিয়ে রাখে যেন ঘরের কোনো জায়গা সে দখল না করে। আর আছে আম্মা—ক্যামিলের তেরো বছর বয়সী সৎ বোন। সে বাইরে সবার প্রিয় পাত্রী অথচ আড়ালে নিজের একটা কিশোরী গ্যাং চালায় আর এমন সব ভয়ানক কাণ্ড করে বেড়ায় যা ওই বাড়ির কেউ খেয়ালই করে না। কিন্তু এই বইয়ের আসল ফোকাস এই খুনগুলো নয়, আসল ফোকাস স্বয়ং ক্যামিল।

তেরো বছর বয়সে ক্যামিল তার ছোট বোন মারিয়ানকে হারায়। সেই শোক আর অবদমিত ক্ষোভকে সে নিজের শরীরের ভেতর চালান করে দেয় একটা ভয়ানক উপায়ে—ধারালো ব্লেড দিয়ে নিজের চামড়া কেটে কেটে সে শব্দ ফুটিয়ে তোলে। স্রেফ কাটার দাগ না, আক্ষরিক অর্থেই একেকটি শব্দ। প্রাপ্তবয়স্ক ক্যামিলের মুখমণ্ডল ছাড়া শরীরের প্রায় প্রতিটা ইঞ্চি এই ক্ষতের শব্দমালায় ঢাকা। সে মদ আর এই নিজের শরীর কাটার অভ্যাস থেকে মুক্তির জন্য রিহ্যাবও ঘুরে এসেছে। সে তার এই ভাঙাচোরা অস্তিত্ব নিয়ে এক ধরণের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। উপন্যাস ক্যামিলকে এর জন্য বিচার করে না। এটা আত্ম-আঘাতকে একটা নৈতিক ব্যর্থতা বা দুর্বলতার চিহ্ন হিসাবে বিবেচনা করে না যা বর্ণনামূলক মুক্তির মাধ্যমে অতিক্রম করা দরকার। এটা শুধু এটিকে একটা তথ্য হিসাবে উপস্থাপন করে বা এও বলা যায় ফ্লিন এটাকে ক্যামিলের বেঁচে থাকার একটা রূঢ় বাস্তবতা হিসেবে দেখিয়েছেন। যখন ভেতরের চিৎকার বাইরে বের করার কোনো ভাষা থাকে না তখন নিজের যন্ত্রণাকে চামড়ার ওপর দৃশ্যমান করার এটাই ক্যামিলের নিজস্ব ভাষা। এই ক্ষত কোনো জাদুবলে নিরাময় হয় না। বইয়ের শেষেও ক্যামিল সেই ক্যামিলই থেকে যায়—ক্ষতবিক্ষত অথচ নিজের সত্যে স্থির।

ফ্লিন এখানে যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তা হলো ক্যামিলের ভেতরের এই অসাড়তা আর দূরত্বকে তিনি তার গদ্যের বুননের মধ্যেই ঢুকিয়ে দিয়েছেন। ক্যামিলের বয়ান অসম্ভব ফ্ল্যাট, চারপাশের মানুষগুলোর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এমনকি যাদের সে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে তাদের প্রতিও তার বয়ানে কোনো আলগা ক্ষোভ উপচে পড়ে না, কোনো নাটকীয় আবেগীয় ওঠানামা নেই। পুরো লেখাটা পড়লে মনে হয় এটা আসলেই ক্যামিল নিজে লিখছে কোনো লেখক তার হয়ে শোকের অভিনয় করছেন না। বাক্যগুলো নিজেই যেন এক ধরণের ক্ষতের ওপর জমে ওঠা মরা চামড়া যা মসৃণ কিন্তু তার নিচের কাটা দাগটাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। থ্রিলার ঘরানার বইগুলোতে সাধারণত ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমকে খুব সঠিক উপায়ে দেখানো হয় না কিন্তু ফ্লিন এখানে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতার আসল ও রূঢ় রূপটা তুলে ধরেছেন। একটা দৃশ্যে ক্যামিল যখন নিহত অ্যান ন্যাশের বাবার ইন্টারভিউ নিতে যায় তখন সে মনে মনে মুখের উপর দরজা বন্ধ হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে কারণ একটা পত্রিকার খবরের জন্য কোন বাবা-মা তাদের মেয়ের নৃশংস খুনের স্মৃতি রোমন্থন করতে চাইবেন? এই ছোট ছোট রিয়ালিস্টিক বিবরণগুলো আখ্যানটিকে একটা অকৃত্রিম সত্যতা দেয়।

কিন্তু একই সাথে ফ্লিন সাংবাদিকতার ভেতরের আপস ও নোংরা দিকটিও দেখিয়েছেন। ক্যামিল প্রথম তার রিপোর্টে বলে যে স্থানীয় পুলিশ ভাবছে এটা হয়ত কোনো সিরিয়াল কিলারের কাজ হতে পারে যা স্থানীয় পুলিশ প্রধান অফিশিয়ালি কখনোই বলেননি এবং তারা যে এটা ভাবছে না তাও ক্যামিল জানে তবুও তার রিপোর্টে সে এটা উল্লেখ করে। সে নিজের নিউজটিকে আরও আকর্ষণীয় ও চাঞ্চল্যকর করার জন্য বানোয়াট কনটেক্সট তৈরি করে। সত্যের চেয়ে নিজের আখ্যান মেলানোটা মিডিয়ার কাছে কীভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, ক্যামিলের এই পেশাদারির অভাব তারই একটা প্রমাণ।

তবে বইটার কিছু জায়গায় প্লটের কঙ্কালটা বড্ড বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যা এর স্বাভাবিক গতিকে কিছুটা ব্যাহত করে। পার্কের একটা দৃশ্যে একটা ছেলে নিজে থেকে ক্যামিলের কাছে হেঁটে আসে এবং জানায় যে অন্য একটা বাচ্চা দ্বিতীয় ভিকটিম নাটালিকে এক মহিলার সাথে বনের দিকে যেতে দেখেছে। ক্যামিলকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদও করতে হয় না সে অনায়াসে এই মূল্যবান ক্লু-টি একদম ফ্রীতে পেয়ে যায়।

সমস্যা হলো, যে বাচ্চাটা ক্যামিলিকে এই tip-টা দিল সে আদতে উইন্ড গ্যাপের স্থায়ী বাসিন্দা নয় সে কেবল গরমের ছুটিতে সেখানে আসে। সে ক্যামিল বা তার পরিবারকে এত গভীরভাবে চেনে না যে নিজে থেকে এসে এমন একটা স্পর্শকাতর তথ্য দিয়ে দেবে। মফস্বল শহরের চেনা লজিক দিয়ে একে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এটা আসলে লেখকের একটা ন্যারেটিভ শর্টকাট মনে হয় যা পাঠককে মনে করিয়ে দেয় যে সে একটা বানানো গল্প পড়ছে।



এই মোচড় বা টুইস্টটি যেখানে গিয়ে আঘাত করার কথা ঠিক সেখানেই আঘাত করে। সমসাময়িক সস্তা থ্রিলারগুলোতে যেখানে ৭০ পৃষ্ঠার মাথায় খুনি কে তা ধরে ফেলা যায় সেখানে ফ্লিন এই টুইস্টটি চমৎকারভাবে লুকিয়ে রাখতে পেরেছেন। কিন্তু এই বইয়ের সবচেয়ে বড় হাহাকারটা লুকিয়ে আছে এর ঠিক পরপরই। টুইস্টটি উন্মোচনের পর আখ্যানটি তার নিজের ধাক্কাটাকে সামলানোর জন্য বিন্দুমাত্র সময় নেয় না।

উপন্যাসের শেষ অংশটি এত দ্রুত ছুটেছে যে মনে হয় লেখকের কোনো ডেডলাইন পার হয়ে যাচ্ছিল। গত ২০০ পৃষ্ঠা ধরে যে শীতল, নিয়ন্ত্রিত এবং অবশ করে দেওয়া টেনশন লেখক তৈরি করেছিলেন তা শেষ কয়েক পৃষ্ঠায় এসে কর্পূরের মতো উড়ে যায়। রহস্যের জট খোলার পর পুরো ঘটনার যে মানসিক ভয়াবহতা ও বিশালত্ব তা নিয়ে বসার বা শ্বাস নেওয়ার কোনো ফুসরত আখ্যানটি পাঠককে দেয় না। পুরো উপন্যাস জুড়ে যে বিষণ্ণ, বিচ্ছিন্ন সুরটি ছিল তা হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যায়। মনে হয়, লেখক ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের তৈরি করা অন্ধকারের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন যখন সেই অন্ধকারের প্রতি অবিচল থাকলে বইটি একটা ক্লাসিকের মর্যাদা পেতে পারত। শেষের অধ্যায়গুলো বড্ড তড়িঘড়ি এবং সংক্ষিপ্ত মনে হয়।

উপন্যাসের মাঝখানের একটা অংশ যেখানে আম্মা এবং ক্যামিল একটা কিশোর-কিশোরীদের ড্রাগ পার্টিতে যায় এবং মাদকের নেশায় একে অপরের কাছাকাছি আসে তা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দীর্ঘায়িত মনে হয়। এই দৃশ্যটির সামাজিক ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড অবশ্য স্পষ্ট। একটা পুরনো সত্য আছে যে একসাথে কোনো নিষিদ্ধ বা অপরাধমূলক কাজ করলে মানুষের মধ্যকার দূরত্ব খুব দ্রুত ঘুচে যায়, এক ধরণের কৃত্রিম নৈকট্য তৈরি হয়। লেখক এই ড্রাগ ইউজের মাধ্যমে দুই বোনের ভেতরের প্রাচীরটা ভাঙতে চেয়েছেন।

But সেই পার্টির ভেতরের প্রতিটা খুঁটিনাটি বিবরণের পেছনে উপন্যাসটি এতটা সময় নষ্ট করেছে যে তার ফলে কাহিনীর গাঠনিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। যে মূল্যবান স্পেস বা পৃষ্ঠাগুলো ওই পার্টির দৃশ্যে অহেতুক ব্যয় হলো তা যদি উপন্যাসের শেষ অধ্যায়গুলোতে ব্যবহার করা হতো তবে সমাপ্তিটি এতটা দমবন্ধ ও তড়িঘড়ি মনে হতো না। এই নিষিদ্ধ আচরণের মাধ্যমে নৈকট্য তৈরির তত্ত্বটি সত্য হলেও এর বাস্তবায়নে পরিমিতিবোধের অভাব ছিল।

শার্প অবজেক্টস উপন্যাসটি কোনো দ্বিধা ছাড়াই নারীদের কেবল বলির পাঁঠা হিসেবে দেখানোর চেনা ছকটিকে ভেঙে দেয়। ফিকশনের প্রচলিত ধারণা যেখানে নারীরা স্বভাবগতভাবেই কোমল, নিরাপদ এবং মমতাময়ী তার মুখে এই বই এক বড় চপেটাঘাত। এখানে নারীরা কেবল ভিকটিম নয় তারা নিজেই নিজের এবং চারপাশের মানুষের অপরিসীম ক্ষতি করতে সক্ষম।

বইয়ের যৌনতার চিত্রায়ণও এই একই নিয়মে চলে সেখানে কোনো আনন্দ নেই তা এক ধরণের ট্রানজ্যাকশন। একাকীত্ব থেকে সাময়িক মুক্তি বা নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ খোঁজার এক মরিয়া চেষ্টা। এই উপন্যাসের সমস্ত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ম্যানিপুলেশন আর যন্ত্রণার ওপর। বইটির একটা নির্দিষ্ট চিত্রকল্প পাঠককে তাড়া করে বেড়াবে, কসাইখানার সেই দৃশ্য যেখানে মা-শূকরগুলোকে লোহার খাঁচায় এমন শক্তভাবে আটকে রাখা হয়েছে যে তারা নিজের শরীরটা ঘোরানোর ক্ষমতাও রাখে না আর তাদের বাচ্ছাগুলো এসে দুধ খাচ্ছে। এই দৃশ্যটি ক্যামিলের নিজের শরীরকে কেটে ক্ষতবিশ্লিষ্ট করার সমান্তরালে এক চরম বীভৎস মেটাফর হিসেবে কাজ করে। এখানে কোনো সূক্ষ্মতা নেই কিন্তু এই পর্যায়ে এসে পাঠক সূক্ষ্মতা আশা করেন না।

এটা কোনো আরামদায়ক বা ফিল-গুড বই নয়। মানুষের ওপর বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার মতো কোনো উপাদান এতে নেই। এর প্লটের কলকব্জা মাঝেমধ্যে আওয়াজ করে কিছু ঘটনা বড্ড ন্যারেটিভ কনভেনিয়েন্সের মতো মনে হয় এবং এর শেষটা বড্ড তাড়াহুড়ো করে উগরে দেওয়া।

কিন্তু তা সত্ত্বেও, বাজারে সস্তা থ্রিলারের যে মেলা বসেছে তার চেয়ে শার্প অবজেক্টস অনেক বেশি ধারালো এবং নির্দিষ্ট। বিশেষ করে ক্যামিলের চরিত্রায়ণে যেখানে লেখক তার ভেতরের ক্ষতকে কোনো সস্তা সান্ত্বনা দিয়ে ঢাকতে চাননি, রহস্যের সমাধান হওয়ার পরেও ক্যামিলকে এক ভাঙাচোরা মানুষ হিসেবেই রেখে দিয়েছেন। যে চরিত্রটি নিজের ট্রমাকে কাটিয়ে উঠতে পারে না, ভালো হয়ে যায় না বরং নিজের সেই চেনা যন্ত্রণার বৃত্তেই আবর্তিত হতে থাকে তাকে কোনো মেকি প্রলেপ ছাড়া দেখানোই এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। বইটি পড়ার পর যে অসুস্থতার স্বাদ মুখে লেগে থাকে। এই অসুস্থতাটুকু আদতে ফেলনা নয় এর একটা নিজস্ব মূল্য আছে।

Quotes Worth Remembering

“The face you give the world tells the world how to treat you.”


“Sometimes I think illness sits inside every woman, waiting for the right moment to bloom.”


“I just think some women aren't made to be mothers. And some women aren't made to be daughters.”


“Sometimes if you let people do things to you, you're really doing it to them.”


“Problems always start long before you really, really see them.”


Something Worth Mentioning
⚠️(Spoilers Ahead. I dare you to stop if you haven't read the book yet. Still, if you want to go on, be my guest but don't curse me later)

Profile Image for Shahjahan Shourov.
162 reviews27 followers
October 7, 2016
আমার পছন্দের সঙ্গে তাল মেলেনি বলেই একটা বইকে বৈতালিক বলবোনা। কিংবা বৈতালিক ঢং এরও নিজস্ব আবেদন আছে, অস্বীকার করবেনা কেউ।

ক্যামিল প্রিকার, শিকাগোর ২য় সারির একটা পত্রিকার সাংবাদিক। যখন তারই শহর উইন্ডগ্যাপে দুই কিশোরী খুন হল, প্রিকারকে পাঠানো হল রিপোর্ট করতে। ইনভেস্টিগেটিভ এই রিপোর্টের সূত্র ধরেই কে খুনী জানা যায়, বইয়ের শেষে।
বিপর্যস্ত শৈশব আর বিক্ষিপ্ত মননের কেউ, কি করবে ইনভেস্টিগেশান! না লেখিকা সে চেষ্টাও করেননি প্রিকার কে নিয়ে। ঠিক সময়ে ঠিক তথ্যটা তার কানে দিয়েছে কেউ, অনেকটাই স্পুন ফিডিং এর মতো করে। বিচ্ছিন্ন তথ্য গুলোকে একের পর এক জোড়া লাগিয়ে শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হয়েছে ক্যাপ্রি’র (লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও ভেবে নিয়েননা প্লিজ। ক্যামিল প্রিকার কে ছোট করে ডাকছি ক্যাপ্রি। সে নাকি শহরের সেরা সুন্দরীও। আদর করে, ছোট করে ডাকার সাধ তাই জাগতেই পারে, তাইনা?) ;) এবং ক্যাপ্রির ভাবনা, অতীত আর নিজের-নিজেদের চরিত্র বিশ্লেষণও কৃতিত্ত্ব পাবে ইনভেস্টিগেশানের। লতায়-পাতায় সব জুড়ে আছে।

হুম। টুকরো-টুকরো তথ্য জোড়া লাগিয়ে খুনী খুঁজে বের করতে ২০- পাতার বেশি খরচ করতে হতোনা লেখিকার। সেখানে রুপান্তরিত বইটাতে পৃষ্ঠা সংখ্যা দুশো ছাপ্পান্ন!!! বাকী ২৩৬ পৃষ্ঠা জুড়ে মনস্তত্ত্ব। ক্যাপ্রির শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য। এ্যাডোরার চরিত্র বিশ্লেষণ। এ্যামার জন্যে বিরক্তি, ঘৃণা, মায়া তৈরি।

দরকারও ছিল এসবের। গিলিয়ান ফ্লিনের সিগনেচার স্টাইল, টুইস্টিং প্লট তৈরি করবার জন্যে এসবের দরকার ছিলই বোধহয়। কিন্তু সেই লাস্ট টুইস্টের আশায় কতজন ধৈর্য্য ধরে বইটা পড়বে, ফ্লিন সেটা একবারও ভেবেছেন কি না তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি ২৪০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

যদি শিরোনামটা এভাবে পড়েন, “শার্প অবজেক্টস- নিছক কোন রেসিং থৃলার নয়” তাহলে বইটা শেষ করা আপনার জন্যে সহজ হবে আমার চেয়ে। বিইং অনেস্ট, ২১০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরেই পড়েছি। তারপরের ৩০ পৃষ্ঠা ভাসা-ভাসা, দুশো চল্লিশ থেকে আবার মনযোগ ফিরিয়ে দিয়েছেন লেথিকা। অবশ্য মনযোগ না ফেরার সুযোগও ছিলনা। ওস্তাদনীর মার শেষ রাতে। ওইটুকুই প্রাপ্তি। অনেক বড় প্রাপ্তি। অকারণেই ২০০৬-০৭ এর সেরা ১০ টুইস্টিং প্লটে জায়গা করে নেয়নি “শার্প অবজেক্টস”।

অনুবাদকে ভাল বলবো। সংলাপে রস আছে, ভাবায় কখনো। “মাস্টারপ্ল্যান” পড়বার পর ভয়ানক একটা ভীতি তৈরি হয়েছিল তবে নিঃসন্দেহে প্রান্ত ঘোষ দস্তিদারের অনুবাদ পেলে পড়ে দেখতে ভয় পাবোনা আগের মতো।
Profile Image for Fahad Amin.
353 reviews16 followers
August 31, 2026
মিসৌরির উইন্ড গ্যাপ শহরে আচমকাই একটা স্কুলে পড়া বাচ্চার মৃতদেহ পাওয়া যায়। লাশের বিভৎসতা রীতিমতো স্তম্ভিত করবার মতো।

ওদিকে ক্যামিল প্রিকারের বাড়ি ওই শহরেই। যদিও কর্মসূত্রে শিকাগোবাসী। তাঁর পত্রিকার সম্পাদক খবরটা কভার করতে প্রিকারকেই পাঠায় উইন্ড গ্যাপে।

সেখানে নিজের বাসাতেই উঠে সে। তাঁর নিজের বাসার লোকজনও ভীষণ অদ্ভুত লাগে ক্যামিলের কাছে, ঠিক তার নিজের মতোই! ঠিক কয়েকদিন পরে আরেকটা লাশ পাওয়া যায়। খবরের তাগিদে সে খুঁজতে শুরু করে অপরাধীকে। একটা সময় জড়িয়ে পড়ে সে নিজেও।

দারুণ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার! গিলিয়ান ফ্লিন রীতিমতো পাঠককে নিয়ে খেললেন পুরো বইয়ে। আর অনুবাদটাও দারুণ।
Profile Image for Raihan Ferdous  Bappy.
300 reviews24 followers
November 12, 2025
শুরুতে বেশি আশা করাটাই হয়তো বোকামি। গিলিয়ান ফ্লিনের বই এর আগে কখনো পড়িনি। তবে, তার সুনাম শুনেছি বেশ। তার বই প্রথম পড়ার এক্সপেরিয়েন্সটা যে সুখকর হলো না তা তো এতোক্ষণে বুঝে গেছেন নিশ্চয়ই।

বলছি, গিলিয়ান ফ্লিনের লেখা বই 'শার্প অবজেক্টস'-এর কথা। বইয়ের শুরুটা দুর্দান্ত। মনে হয় যেনো এক জম্পেশ থ্রিলার টাইপ বই পেতে যাচ্ছি। ক্যামিল প্রিকার হচ্ছে শিকাগোর একটা দ্বিতীয় শ্রেণীর সংবাদপত্রের রিপোর্টার। খুন, জখমের ঘটনা নিয়েই তার কারবার। পদোন্নতি নেই। তার উপর বস ফ্রাঙ্ক কারির নজরদারি তো আছেই।

তবে সবার জীবনেই সুযোগ আসে। ক্যামিল ব্যতিক্রম হবে কেনো? তার জীবনেও সুযোগ আসলো ক্যারিয়ারে গতি আনার। যার জন্যে তাকে যেতে হবে নিজের ছোট্ট শহর উইন্ড গ্যাপ-এ। সেখানে এক কিশোরী গায়েব হয়ে গেছে। বছরখানেক আগেও কিন্তু একটা এরকম ঘটনা ঘটেছিলো। সাদৃশ্য আছে বলেই তো মনে হচ্ছে। দুই খুনের মধ্যে কি কোনো কানেকশন আছে? সমাধান করতে হবে এই ধাঁধাঁর, নাহলে ক্যামিলের চাকরি এবার আর বাঁচবে বলে মনে হয় না।

প্রান্ত ঘোষ দস্তিদারের অনুবাদ চমৎকার। এই একটা ভালো দিক। শুধু ভালো বললে কম হবে খুবই ভালো দিক। একদম ঝরঝরে সাবলীল অনুবাদ ছিলো। মনেই হচ্ছিলো না অনুবাদ পড়ছি।

তবে, ঐ একটা বিষয় বাদ দিলে বইয়ের পজিটিভ দিক খুব কম। শেষের টুইস্টটা একটু ভালো ছিলো। তবে, একদম খুব আহামরি না। বইয়ের বেশিরভাগই খুব বেশি বোরিং। জোর করে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়।

সবমিলিয়ে, হাতে অগাধ সময় থাকলে পড়তে পারেন। আমার ভালো লাগেনি। আপনি পড়ে দেখুন। আপনার ভালো লাগলেও লাগতে পারে বন্ধু।
Profile Image for Aditee.
90 reviews21 followers
January 8, 2021
আশ্চর্যজনক সুন্দর লেখনী!
Profile Image for Parvez Alam.
330 reviews15 followers
September 1, 2026
গিল্যান ফ্লিনের অভিষেক উপন্যাস শার্প অবজেক্টস একটি ক্রাইম থ্রিলার বই না শুধু; এটি পরিবার, ট্রমা, নারীত্ব এবং ক্ষতির রাজনীতি নিয়ে লেখা এক ধারালো, অস্বস্তিকর কিন্তু মুগ্ধকর গল্প।

গল্পের কাঠামো ও পরিবেশ
বইটি শুরু হয় সাংবাদিক ক্যামিল প্রিকার-কে তার ছোট শহর উইন্ড গ্যাপে ফিরে আসার মাধ্যমে, যেখানে দুই কিশোরী খুন হয়েছে। ক্যামিলের নিজের পরিবারও ট্র্যাজেডিতে জর্জরিত—তার ছোট বোনের মৃত্যু এবং মায়ের বিষাক্ত স্নেহের ছায়া। ফ্লিন শহরটিকে এমনভাবে আঁকেন যে মনে হয় পুরো উইন্ড গ্যাপই এক ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত—যেখানে গোপনীয়তা, লজ্জা এবং দমন করা আবেগ খুনের চেয়েও বেশি ধ্বংসাত্মক।

চরিত্র ও মনস্তত্ত্ব

ফ্লিনের সবচেয়ে বড় শক্তি তার চরিত্রগুলোর জটিলতা। ক্যামিল একজন আত্ম-ধ্বংসী, কাটা দাগে ভরা, তবু তীক্ষ্ণ বুদ্ধির নারী, যে তার নিজের ট্রমা নিয়ে লড়তে লড়তে খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করে। অ্যাডোরা আবার প্রতিনিধিত্ব করেন সেই ধরনের মাতৃত্বের, যে স্নেহের নামে বিষ মিশিয়ে দেয়।

থিম ও প্রতীক

দাঁত: খুনের শিকারদের দাঁত নিয়ে গল্পে একটি ভয়াবহ প্রতীকী ব্যবহার আছে, যা নিয়ন্ত্রণ, সৌন্দর্য এবং সহিংসতার এক মিশ্রণ।

কাটা দাগ: ক্যামিলের শরীরের ক্ষতগুলো তার মানসিক যন্ত্রণার বাহ্যিক প্রকাশ।

পরিবার ও গোপনীয়তা: বইটি দেখায় কীভাবে পরিবারের গোপনীয়তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ট্রমা ছড়িয়ে দেয়।

লেখার ধরন

ফ্লিনের ভাষা সংক্ষিপ্ত, ধারালো এবং প্রায় কাব্যিক। তিনি পাঠককে ধীরে ধীরে রহস্যের দিকে নিয়ে যান, কিন্তু আসল টুইস্ট আসে শেষ মুহূর্তে—যখন পাঠক বুঝতে পারে যে খুনি কে এবং কেন।

সমালোচনা ও সীমাবদ্ধতা
কেউ কেউ বলতে পারেন গল্পের গতি মাঝে মাঝে ধীর, এবং শেষটা হঠাৎ মনে হতে পারে। তবে এই ধীরগতিই চরিত্রগুলোর গভীরতা তৈরি করে।

শেষ কথা
শার্প অবজেক্টস এমন একটি বই যা পড়ার পর পাঠককে দীর্ঘক্ষণ অস্বস্তি এবং চিন্তায় রাখে। এটি শুধু খুনের রহস্য নয়, বরং মানুষের মনের অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে এক গভীর অনুসন্ধান। যারা মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার, জটিল নারী চরিত্র এবং পরিবারের ট্রমা নিয়ে গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যপাঠ্য।
Profile Image for Samma Irtifa.
48 reviews17 followers
October 11, 2022
গিলিয়াম ফ্লিনের লেখার প্যাটার্নের সাথে প্রথমবার পরিচয়। শুরুতে এলোমেলো লাগছিলো ভীষণ। বইটা কেনার উদ্দেশে হাতে নিলে শুরুর অংশ পাঠককে একদমই আকর্ষণ করবে না। কিন্তু কিছুটা পড়ার পর, মূল গল্পে প্রবেশ করলে রহস্যের শেষটা জানার আগ্রহ বেড়ে যাবে এমনিতেই।

"শার্প অবজেক্ট" সিরিয়াল কিলিংকে উপজীব্য করে লেখা হলেও মূলত ধীর গতির সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। এই ধরণের বই আমি তাড়াহুড়ো করে পড়িনা। আস্তে আস্তে উপলব্ধির সাথে পড়ার চেষ্টা করি। এই বইটাও ধীরে ধীরে দিন-রাত পড়েছি, আর চরিত্রগুলো নিয়ে ভেবেছি। একবার গল্পে ঢুকে পরলে সারাক্ষণ চরিত্রগুলো মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে আমার।

মূল চরিত্র ক্যামিল প্রিকারের মনস্তত্ত্ব আরেকটু বিস্তর ভাবে তুলে ধরলে ভালো হতো।
অন্যান্য পার্শ্ব চরিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য কথোপকথনের মাধ্যমে উপস্থাপনের যে চেষ্টা করেছেন লেখিকা, সেটা আমেরিকান জনগণের জন্য সুবিধাজনক হলেও বাইরের কালচারের মানুষের জন্য বোধগম্য হওয়া কঠিনই বলা যায়।
অনেক বইয়ে দেখি, মূল চরিত্রকে বুদ্ধিমান দেখাতে গিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে বোকার হদ্দ দেখিয়ে থাকেন লেখক। এক্ষেত্রে গোয়েন্দা রিচার্ডকে তেমন না দেখিয়ে "বুদ্ধিমান" ভাবে উপস্থাপন করাকে ভালো লেগেছে।

প্লট খুব সাদামাটা। টুইস্ট শেষ করেও লেখক আরেকটা টুইস্ট রাখবেন, এটা যেন প্রেডিক্টেবল ছিলো। সাংবাদিক পেশার সংগ্রামটা খুব দক্ষতার সাথে দেখানো হয়েছে বইতে। পত্রিকাতে সংবাদ পড়ে সবকিছু সহজ ভাবলেও, তথ্য সংগ্রহ কতটা কঠিন তা উপলব্ধি করচে পেরেছি।

শুরুর দিকে অনুবাদ খুব একটা সাবলীল লাগেনি। বইয়ের মাঝামাঝি থেকে অনুবাদের উন্নতি চোখে পড়েছে।

যদিও গুডরিডস রেটিং চারের উপর, তারপরও ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে এভারেজ মানের বই-ই মনে হয়েছে। যারা খুব ধৈর্য নিয়ে স্লো গতির সাইকোলজিক্যাল বই নির্দ্বিধায় পড়তে পারেন, বইটা শুধু তাদেরকেই রেকমেন্ড করবো।
Profile Image for Sumaiya.
306 reviews4 followers
January 21, 2024
২/৫ ⭐️

কাহিনি কেমন যেন জমলো না!
অনুবাদ ও সাবলীল লাগলো না!
Displaying 1 - 13 of 13 reviews