সায়ন্তনী পুততুণ্ডের ডেয়ার অর ডাই হাতে নিয়ে প্রথমেই আমি উত্তেজিত ছিলাম। মৃত্যুর হাতিয়ার হিসেবে ভয়—এমন এক ধারণা নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। উপন্যাসটি একদল প্রাক্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের গল্প, যারা একসময় অন্যদের উপর র্যাগিং এবং হেনস্থার মতো অত্যাচার চালিয়েছিল। এবার তারা একে একে মারা পড়ছে—ভয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। এই মৃত্যুগুলো কি শুধুই কর্মফল? নাকি কোনো প্রতিশোধপরায়ণ মনস্তাত্ত্বিক খেলার অংশ? এই প্রশ্নগুলিই উপন্যাসের মূল চালিকা শক্তি।
কিন্তু, আমি যা আশা করেছিলাম, ডেয়ার অর ডাই তা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। সত্যি বলতে, লেখিকার আগের বইগুলো পড়ে আমি যা ভেবেছিলাম, তা এখানেও প্রযোজ্য।
লেখিকার বইগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো, নায়ক অধিরাজ যেন এক অতিমানব। সে সব জানে, সব বোঝে, আর বাকিরা তার আশেপাশে একেবারে নির্বোধ। এখানে সেই ক্লাসিক কনফিগারেশন ফিরে এসেছে। অধিরাজ এমন একজন সিআইডি অফিসার যে সরকার তাকে যা-খুশি কাজ করতে দেয়, এমনকি সাধারণ হৃদরোগের ঘটনায় সন্দেহ নিয়ে সম্পূর্ণ দল নিয়ে নেমে পড়ে। অথচ বাস্তবে, পুলিশের ফাইলের অনেক বড় বড় মামলা সমাধানের অপেক্ষায় পড়ে থাকে।
নারী চরিত্রগুলোও তার আশেপাশে একমাত্র তার প্রশংসা করতেই ব্যস্ত। নারী অফিসারদের নাম মনে রাখা যেন অধিরাজের পক্ষে এক অসম্ভব কাজ। গল্পে তাদের ভূমিকা এমন একমাত্রিক যে তাদের গুরুত্ব বোঝা কঠিন।
বইটিতে কমিক রিলিফ আনার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সেই রসিকতাগুলো এমনই টানা-হেঁচড়া যে মনে হয় আমি হোমিসাইড ডিপার্টমেন্ট নয়, বন্ধুদের আড্ডায় বসে আছি আর আবোল-তাবোল জিনিস নিয়ে মজা করছি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি দৃশ্যে সিআইডি টিম এক হাই-প্রোফাইল হিটম্যানকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে বিরিয়ানি খেতে বসে আর তা নিয়ে কিছু সস্তা কমেডি। এই ধরনের দৃশ্য শুধু গল্পের গতি কমায় না, বরং পুরো বইয়ের গুরুত্বকে হালকা করে দেয়।
এতসব সীমাবদ্ধতার পরও, বইটির মূল ধারণা—ভয়কে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা—অসাধারণ। লেখিকা এমন একটি প্রশ্ন তুলে ধরেন, যা চিন্তার খোরাক দেয়: অপরাধীদের শাস্তি দিতে অপরাধী হওয়া কি ন্যায়সঙ্গত? এই নৈতিক দ্বিধাগুলো বইয়ের একটি শক্তিশালী দিক।
তবে, এই গভীর বিষয়গুলো যথেষ্ট গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়নি। মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলোতে আরও গভীরে যাওয়া যেত, কিন্তু সেগুলো শুধু পৃষ্ঠতলে ছুঁয়ে গেছে।
ডেয়ার অর ডাই এমন একটি বই, যা শুরুতে প্রতিশ্রুতির ঝলক দেখায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশ করে। অধিরাজের চরিত্রের অতিমানবীয় উপস্থাপনা, হালকা-চালের হাস্যরস, এবং বাস্তবতা থেকে দূরে থাকা উপাদানগুলো উপন্যাসের ভারসাম্য নষ্ট করেছে।
যদি আপনি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ভালোবাসেন এবং নৈতিক জিজ্ঞাসা নিয়ে ভাবতে পছন্দ করেন, তাহলে এই বইটি একবার পড়তে পারেন। তবে, মনে রাখবেন, এটি এমন এক কাপ চা, যা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে—পান করতে পারবেন, কিন্তু পরিতৃপ্তি পাবেন না। আমার কাছে এটি একটি বড় হতাশা। গল্পের ভিত্তি শক্তিশালী হলেও, লেখিকার প্রচেষ্টায় সেই শক্তি পূর্ণতায় পৌঁছায়নি।