সদ্য জুওলজিতে মাস্টার্স শেষ করা হাসান ঘটনাক্রমে পরিচিত হয় প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ডক্টর কিবরিয়া জিল্লুর লস্কর ওরফে কিজিলের সাথে। কিজিল মানুষ হিসেবে অদ্ভূত ও খাপছাড়া, বিপজ্জনকও। তার রিসার্চ অ্যাসিটেন্ট হিসেবে যোগ দিয়ে হাসানের শুরু হয় আনকোরা ভিন্ন এক জীবন । সবার চোখের আড়ালে কি ভীষণ সব কাজ করে বেড়াচ্ছে লোকটা সেটা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা দুরুহ। ডক্টর কিজিল ও তার সহকারীর সেসব বিচিত্র অভিযানে আপনাকে আমন্ত্রণ।
সূচিপত্র - ১. কটকট ২. অকুলোম্বুষ দ্বীপ ৩. ইউটোপিয়া ৪. ডক্টর কিজিল ও জেনারেল রাইখাস্কি
মাশুদুল হকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। এক দশকের বেশি সময় ধরে লিখছেন থ্রিলার, সায়েন্সফিকশন ও শিশু-কিশোর সাহিত্য, প্রকাশিত হয়েছে নিয়মিত ভাবে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে।
সাহিত্য-পুরস্কার : এইচএসবিসি-কালিওকলম তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরস্কার ২০১৩।
Masudul Haque is a contemporary writer from Bangladesh known for his works on thrillers, Sci-Fi, and children's literature. His works have been published in Bangladesh and India regularly for the last 12 years. He was awarded the Kali O Kalam Young Writer Award in 2013.
প্রথমেই বলে রাখি, ডক্টর কিজিলকে আমি একদমই চিনতাম না। এই কয়েকদিন আগে পর্যন্ত মাশুদুল হককেও চিনতাম না। "ভেন্ট্রিলোকুইস্ট" সিরিজের দুটো বই পড়ে যা একটু চিনেছি।
তবে "ভেন্ট্রিলোকুইস্টের" লেখক যে এইরকম একটা খ্যাপাটে বিজ্ঞানী চরিত্রের স্রষ্টা হতে পারে তা "ডক্টর কিজিল" না পড়লে বিশ্বাস করতাম না।
অনেকটা "ব্যোমযাত্রীর ডায়রি"-এর সেই আধ-পাগলা শঙ্কুর মত, অনেকটা আমাদেরই প্রিয় ক্যাপিটালিস্ট এলন মাস্কের মত: ডক্টর কিজিলকে অনেক ভাবেই বর্ণনা করা যায়। কিন্তু তিনি ঠিক কীরকম চিজ, সেটা এই গল্পগুলো না পড়লে বোঝা সম্ভব নয়। নৈতিকতার ধার অনেক সময়ই ধারেন না। প্রচণ্ড দম্ভ নিয়ে ঘুরে বেড়ান। উদ্ভট সব উদ্ভাবন করেন, যার জন্যে তিনি এবং তার অ্যাসিস্ট্যান্ট, হাসান, প্রায়ই মরতে মরতে বেঁচে যান। গল্পগুলো পড়ে আর যায়ই হোন, বোরড হবেন না।
আমি ৪ তারকা দিয়েছি শুধুমাত্র " কিজিল ও গিলগামেশ" গল্পটার জন্য৷ পড়ে যেমন হাসি পেয়েছে, তেমনই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাথে কিজিলের সেই লিগাল-ড্রামা গোছের প্লটটা জব্বর লেগেছে।
বাকি গল্পগুলোতেও বেশ সুন্দর বিজ্ঞানের কনসেপ্ট ব্যবহৃত হয়েছে। সেইদিক থেকে ধরতে হলে, "অকুলোম্বুষ দ্বীপ" গল্পটিকে প্রথম স্থানে নিয়ে আসতে হয়। অন্যদিকে "সার্কাস" গল্পটি কন্সেপচুয়াল দিক থেকে খুবই দুর্বল, কিন্তু হাস্যরসের দিক থেকে বেশ ভাল।
কিন্তু সংকলন মানে তো সেটাই, তাই না? নানা স্বাদের গল্প থাকবে দুই মলাটের মাঝখানে।
পুন: গৌরব দে'র আঁকা প্রতিটা ছবি অসাধারণ। গল্পের খ্যাপাটে টোনের সাথে ওঁর অদ্ভুতুড়ে ছবি গুলো পুরো মানিয়ে গেছে।
একজন পাগলাটে কিসিমের বিজ্ঞানী। মানুষ হিসেবে অদ্ভুত, খাপছাড়া এমনকি বিপদজনকও। বয়স প্রায় পঞ্চাশের কোঠায়। মাথায় চুল হালকা হয়ে আসা, কাঁচাপাকা চাপদাঁড়ির সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ গোঁফ। চোখদুটো ক্রুর। লোকচক্ষুর অন্তরালে চিন্তার অতীত বিরাট বিরাট সব বৈজ্ঞানিক কাজকারবার এই ব্যক্তির। অল্পকিছু ব্যক্তি যারা তাকে নামে জানে, তারাও চেনেন একজন শখের দাবাড়ু হিসেবে। উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন বিরাট সম্পত্তি। জীবনের অর্ধেক সময় দেশ বিদেশ ঘুরে জিন প্রকৌশল, ম্যাথমেটিক্স, পদার্থবিদ্যা আর বায়োকেমিস্টের জ্ঞান অর্জনে ব্যয় করে দেশে ফিরে গাজীপুরে ৩০০ বিঘা জমির উপর বিরাট ফার্ম তৈরি করেছেন। সেই ফার্ম এ ২০০০ শ্রমিক, ৩০টা ডিভিশনে কাজ করছে। প্রায় ২০-৩০ ফুট উচু দেয়াল দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা। এর ভেতরে কিজিল কি কি করে বেড়াচ্ছেন আল্লাহ মালুম! দেশের বাইরেও রয়েছে এর শাখা প্রশাখা। ডক্টর কিজিলের গল্পগুলো বলা হয় তার রিসার্চ এসিস্টেন্ট হাসানের ভাষ্যে। গোবেচারা ধরণের সদ্য জুয়োলজিতে মাস্টার্স শেষ করা হাসান কোনোদিন ভেবেছিলো, তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে এক পাগলাটে বিজ্ঞানীর পেছনে ছুটতে হবে?
তো কেমন লাগলো আমার 'ডক্টর কিজিল'? এবছর বইমেলায় প্রচুর হাইপ তোলা ডক্টর কিজিল বইটি আমি গোগ্রাসে গিলেছি এক রাতেই। এই নামেই আদী প্রকাশনী থেকে এর আগে বইটি বের হয়েছিলো, সেখানে তিনটি গল্প ছিলো, এটাতে নতুন আরেকটি সংযুক্ত করে আফসার ব্রাদার্স দারুণসব ইলাস্ট্রেশন যোগ করে বইটি প্রকাশ করেছে 'ডক্টর কিজিলঃ প্রারম্ভ' নামে। গল্পগুলোর নাম কটকট, অকুলোম্বুষ দ্বীপ, ইউটোপিয়া, ডক্টর কিজিল ও জেনারেল রাইখাস্কি। এছাড়াও এই চরিত্রকে নিয়ে আরও একটি বই আছে 'স্যালাম্যান্ডার জিন' নামে।
প্রথমত আমি একটু মাফ চেয়ে নিতে চাই যদি কোনো কারণে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে থাকি। বাংলায় সাইফাই বইয়ে আমার এতটাই আগ্রহ কি বলবো। কিন্তু মনের মতো সাইফাই আমি পেয়েছি খুব বেশি না। তাছাড়া আমার খুবই শখ আমার দেশে শঙ্কু বলেন, প্রফেসর রিক সানচেজ বলেন কিংবা ডক্টর এমেট ব্রাউন এর মতো একজন আইকনিক সায়েন্টিস্ট ক্যারেক্টার থাকবে। এর আগে এরকম কাজ হয়নি যে দেশে তা না। জাফর ইকবাল স্যারের বিজ্ঞানী সফদর আলী, অনিক লুম্বা এরকম ক্যারেক্টারের বিজ্ঞানী হলেও সেই চরিত্রগুলো নিয়ে আর কাজ হয়নি। এখন ডক্টর কিজিলের আগমন আমাকে কেনো যেন একটা বড়কিছুর আভাসই দিচ্ছে, সেকারণে একটু বাড়তি ভালোলাগা তো অজান্তেই যুক্ত হয়ে গেছে। কিজিল সত্যিই সেই অভাবটা পূরণ করতে পারেন কিনা সেটা এবার দেখবার বিষয়।
বইটার পেছনে লেখক মাশুদুল হক বেশ ভালো লেখাপড়া করেছেন বলতে হবে। পেশায় ডাক্তার এই লেখক এর আগেও পরিশ্রমের উদাহরণ দেখিয়েছেন মিনিমালিস্ট, ভেন্ট্রিলোকুইস্ট বইতে। মাশুদুল হকের ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং খুবই ভালো বলতে হবে। দারুণ কল্পিত দুনিয়া গড়ে বিরাট মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন লেখক। আমাদের দেশীয় ধাঁচে এরকম বিরাট পরিসরের দুনিয়া আগে কেউ কি বানিয়েছে? তাছাড়া বিজ্ঞানের কচকচানি গুলোও তিনি বেশ সহজে ব্যাখ্যা করেছেন। অসম্ভব বিজ্ঞানের কল্পনাকে সম্ভাব্যতা দিয়ে বিশ্বাস করিয়েছেন। বড়সড় ব্যাপ্তি নিয়ে একেকটা গল্পের প্লট ফেঁদেছেন, কল্পনার দুনিয়ায় ছুটে বেড়াতে কার্পন্য করেননি সামান্যতমও। আর মাহাতাব রশিদের অসাধারণ কভার ইলাস্ট্রেশনগুলো সেই কল্পনার স্কেল আরও বড়ো করে দেয়। লেখকের লেখা ঝরঝরে সুখপাঠ্য। আর গল্পও টেনে ধরে রাখে।
তবে এটা না বললেই নয় যে এই ধরণের গল্পগুলো কিছুটা কমিক ধাঁচের। এখানে যুক্তির চাইতে কল্পনার প্রয়োগ বেশি দেখা যায় বলে অনেকেই অপছন্দ করেন (আমারও কিছু যুক্তি যে খটকা লাগেনি সেটা বলবোনা)। কিছুটা শিশুতোষও মনে হয় কখনও কখনও। তবে সব বয়সীদের জন্যই লেখা হয়েছে এই বইটি এটি বলতে পারি। তাছাড়া এ ধরণের গল্পতে ঘুরে ফিরে প্যাটার্নের মতো কিছু না কিছু মিল দেখা যায়ই। যেটা থেকে মুক্ত থাকবে আমাদের ডক্টর কিজিল এই আমার আশা। আমি বইটি রেকোমেন্ড করবো অবশ্যই! আমার ধারণা যে কেউ এঞ্জয় করবেন বইটি। শুভকামনা লেখককে।
গল্পগুলো দুর্দান্ত লাগলো। অদ্ভুত সব কনসেপ্ট, হিউমার, রসালো বর্ণনা আর কল্পবিজ্ঞানের এরকম চমৎকার মিশেল বাংলায় দুর্লভ। কিজিল তো বটেই সাথে সাথে সুন্দরালীও আমার খুব পছন্দের চরিত্র হয়ে উঠছে। একটাই আফসোস বইটা ছোট, ফুস করে শেষ হয়ে যায়।
রিডার্স ব্লকে কাটানো হোক কিংবা ক্লান্তিকর দিনের শেষে ঘরে ফিরে বিশ্রামের নেবার সময় পড়বার জন্যে বেশ উপযুক্ত একটা বই। আপনার যদি প্রফেসর শঙ্কুর সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট ভালো লেগে থাকে কিংবা বিজ্ঞানী সফদর আলী, সায়রা সায়ন্টিস্ট, অনীক লুম্বা'র মত বিজ্ঞানীদের কাজ কারবার আপনার পড়তে ভালো লাগে, তাহলে এই বইটি অবশ্যই আপনার জন্যে।
আফসার ব্রাদার্সকে অসংখ্য ধন্যবাদ বইটা উপহার পাঠানোর জন্য।
ডক্টর কিজিল দাবার গ্র্যান্ডমাস্টার, জিনিয়াস ও খ্যাপাটে বিজ্ঞানী। বইটার ন্যারেটর ড. কিজিলের অ্যাসিসট্যান্ট হাসান। বেশ অদ্ভুতভাবেই এই খ্যাপা বিজ্ঞানীর সহকারী হিসাবে কাজ করার সুযোগ হয় তার। আর কিজিলের সাথে কাজ করতে করতে নিয়মিত অনেক অদ্ভুত ও রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা জমা হয় হাসানের ঝুলিতে। তেমন চারটা ঘটনা নিয়ে এই বই। গল্পগুলো লেখা হয়েছে সহজ ও সরস ভাষায়। একটানে পড়ে ফেলা যায়। টানটান অ্যাকশনের পাশাপাশি গল্পগুলোতে কিজিলের আবিষ্কারগুলোর পিছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে, এটা নিশ্চয়ই কিশোর পাঠকদের ভালো লাগবে।
বইটার প্রচ্ছদ আর ইলাসেট্রেশনগুলো চমৎকার। একইভাবে প্রকাশক নিশ্চয়ই পরের এডিশনে প্রুফরিডিংয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেবেন।
আমি কিশোর কল্পবিজ্ঞান পড়িনি বেশ কয়েক বছর হলো। এই বইটা পড়ার পর ডক্টর কিজিলের আরো অনেক অদ্ভুতুড়ে গল্প পড়ার ইচ্ছা জেগেছে। (উপন্যাস, প্লিজ!) পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
ডক্টর কিজিল-কে নিয়ে প্রথম বইটা পুনঃপ্রকাশিত হলো আফসার ব্রাদার্স থেকে। ৩টার জায়গায় ৪টা গল্প, মাহাতাব রশীদের আঁকা আর প্রচ্ছদ মিলে দারুণ একটা প্রডাকশন ২০২২ বইমেলার।
কটকট, অকুলোম্বুষ দ্বীপ, ইউটোপিয়া আর ডক্টর কিজিল ও জেনারেল রাইখাস্কি- এই চার গল্প আছে বইটাতে। একেক গল্পে ডক্টর কিজিল চরিত্রটার সাথে আরো ভালো করে পরিচিত হবার সুযোগ হয়। ডক্টর কিজিল, দুর্দান্ত জিনিয়াস এই বিজ্ঞানী নিজের পাগলাটে আবিষ্কারগুলোকে কাজে লাগান মুলত ব্যবসা করার জন্য। অদ্ভুত সব প্রাণিজ সম্পদ তৈরী করেন কখনো, আবার কখনো আস্ত এলাকার বাস্তুসংথান পালটে দেন। এর বাইরেও বিদঘুটে সব পরিকল্পনা করেন কখনো মানবজাতির কথা ভেবে, কখনো ব্যবসার কথা। তবে ওই ব্যবসা করার পেছনেও কতটা নিজের স্বার্থ আছে আর কতটা মানুষের উপকারের জন্য, তাও জানা যাবে গল্পগুলো পড়তে পড়তে।
দুটা ব্যাপার আমার মজা লেগেছে। এক হলো, এমন খ্যাপাটে জিনিয়াস মানুষ যদি আপনার চেনাজানার মাঝে কেউ থেকে থাকে (বলছি না তাঁকে কিজিলের মাপের জিনিয়াস-ই হতে হবে!), তাহলে খুব ভালভাবেই আপনিও লক্ষ্য করবেন, এনাদের কমন স্বভাব হলো নিজের বিচারবুদ্ধির বাইরে আর কারো কথা গ্রাহ্য না করা। বুদ্ধিমত্তা, কাজকম্মো আর এহেন মোরালিটি মিলে চমৎকার একটা 'মোরালি গ্রে' চরিত্র তৈরী হয়েছে ডক্টর কিজিলের মাঝে।
আর দিতীয় ব্যাপার, যদি সিনেমা আর গল্পের পোকা হোন, তাহলে কিজিলের একেকটা গল্প মাঝেমধ্যে আপনাকে অন্য সিনেমা বা গল্পের কথা মনে করিয়ে দিবে। কিজিলের গল্পের কিছু কিছু আইডিয়ার ক্ষেত্রে মনে হয়েছে শতভাগ ইউনিক হলো না... তবে এটাও সত্য, লেখক ওসব আইডিয়াকেই আরো বিজ্ঞানসম্মত করার জন্য প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন, একই প্রশ্ন কিজিল ছুঁড়তে গিয়েই জন্ম দিয়েছে সব খ্যাপাটে উদ্ভাবনের।
একনাগাড়ে শঙ্কু, রিক স্যানচেজ, ঘনাদা এবং আরো অনেক অনেক চরিত্রদের কথা মনে পড়তে থাকবে বইটা পড়তে গেলে। সফদর আলী আর অনিক লুম্বা-ও মনে উঁকি দিতে পারেন। ওনাদের তো আর বাংলা সাহিত্যে ফেরার সুযোগ দেখছি না, কিজিলেরই আরো আরো গল্প চাই লেখকের কাছে।
ডক্টর কিজিল - প্রারম্ভ লেখক : মাশুদুল হক জনরা : সাইফাই, সায়েন্স ফ্যান্টাসি প্রচ্ছদ ও অলঙকরণ শিল্পী : মাহাতাব রশীদ প্রকাশক : আফসার ব্রাদার্স প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০২২ পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১২৮ মুদ্রিত মূল্য : ২২৫ টাকা
ডক্টর কিজিল লোকটা পাগল কিসিমের বটে। তাকে বদ্ধ উন্মাদ বললেও ভুল হবে না। তা নাহলে দিন-দুপুরে কেউ হাতিকে দিয়ে একের পর এক মানুষ ছুড়ে মারে! অদ্ভুত না? এমন অদ্ভুত কাণ্ড অনেক আছে। যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডক্টর কিজিল।
কে এই লোক? তার কী এমন ক্ষমতা? করেই-বা কী? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ইন্টারেস্টিং অনেককিছুই জানতে পারবেন। যেমন- ডক্টর কিজিল একজন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী। সখের দাবাড়ু, আবার গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাবও বগলদাবা করেছেন।
তিনি একাধারে জিন প্রকৌশলী, ম্যাথমেটিশিয়ান, পদার্থবিদ, বায়োকেমিস্ট এবং সর্বোপরি একজন প্রডিজি। নিজের বিশাল বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার রয়েছে। কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট পরিচালনা করেন। আর পাগলামী করেন ইনফিনিট পর্যায়ে!
মার্ভেলের রূপালি পর্দার ফিকশন ক্যারেক্টার ডক্টর স্ট্রেঞ্জ-কে তো অনেকেই চেনেন। দক্ষ, বুদ্ধিমান, অদূরদর্শী, জাদুবিদ্যায় পারদর্শী, আত্মহংকারী কিন্তু মনের দিক থেকে সৎ ও ভালো মানুষ। বিশ্বব্যাপি তার জনপ্রিয়তা। ডক্টর কিজিলও অমন। কিন্তু জাদুটোনায় বিশ্বাসী নন। তিনি বিজ্ঞানপ্রেমী এবং বিজ্ঞানের অনুসারী। বিশ্বব্যাপি সুখ্যাতি থাকলেও তিনি নিভৃতচারী মানুষ। আড়ালে থাকতে ভালোবাসেন। খবরে আসতে চান না। প্রশাসন ও মিডিয়ার ব্যাপারে ব্যাপক চুলকানি রয়েছে। তাই তাদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন।
ডক্টর কিজিল সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন, তবে আমি বলব না। বলবে জুওলজিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করা হাসান। বইটির অপর প্রধান চরিত্র। লেখক যার ধারাভাষ্যে পুরো কাহিনি বর্ণনা করেছেন। বইয়ে মোট ৪টি অধ্যায় রয়েছে। অধ্যায় না বলে গল্পও বলা যায়। যেগুলোর শিরোনাম যথাক্রমে- ‘কটকট’, ‘অকুলোম্বুষ দ্বীপ’, ‘ইউটোপিয়া’ এবং ‘ডক্টর কিজিল ও জেনারেল রাইখাস্কি’।
সায়েন্স ফিকশন আমার ভীষণ পছন্দের একটি জনরা। তার উপর বইয়ের অসাধারণ লিখনশৈলী, চমৎকার গল্প বিন্যাস সহজেই মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে লেখকের গল্প বলার ঢং এতটাই চমকপ্রদ ও মসৃণ যে- মনে হচ্ছিল স্পঞ্জের সুস্বাদু কেক খাচ্ছি। মুখে দেওয়া মাত্রই গলে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছিলাম গল্পের ভেতরে।
কিন্তু কেক খাওয়ার মুহূর্তে যেমন গলা শুকিয়ে আসে, পানির তেষ্টা পায়, আমারও তেমন হয়েছিল। বেশ কিছু জায়গায় গিলতে কষ্ট হচ্ছিল। আমি প্রচুর পরিমাণে সিনেমা, সিরিজ দেখি। সেকারণেই কী না জানি না, বইয়ের গল্প ও দৃশ্যগুলো পড়ার সময় মনে হচ্ছিল এগুলো কোথায় যেন দেখেছি। ঘটনাগুলো আগে হয়তো দেখা আছে।
যদিও অস্পষ্ট স্মৃতিগুলোকে একত্রিত করতে পারিনি। কিন্তু খুব ভালোভাবেই ‘ইউটোপিয়া’ গল্পের প্রথমার্ধ এবং মূল কনসেপ্টের সঙ্গে হলিউড অভিনেতা ম্যাট ড্যামন অভিনীত ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘Downsizing’ সিনেমার সাদৃশ্য পেয়েছি। এটা কী অনুপ্রাণিত নাকি নিছক কাকতালীয়, তা বলতে পারি না।
এমনিতে সার্বিক দিক বিবেচনা করলে বইটি কিন্তু বেশ উপভোগ্য। দু-একটা জায়গায় গল্পের গতি কমে এলেও লেখকের রসবোধ, ডার্ক হিউমারের ব্যবহার লেখায় প্রাণ সঞ্চার করেছে। আবার রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত বিজ্ঞান সম্পর্কিত তথ্যের ব্যাখ্যাও সুন্দর সাবলীল ছিল। বোঝাই যায়, বইয়ের পেছনে লেখক নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তথ্য-উপাত্ত ঘাটাঘাটি করেছেন বেশ।
বইটির প্রোডাকশন রীতিমতো টপনচ। কোয়ালিটি সম্পন্ন জ্যাকেটের সঙ্গে হার্ডকভার, চমৎকার বাইন্ডিং, ক্রিম কালারের কাগজে ঝকঝকে প্রিন্টসহ মাহাতাব রশীদের দুর্দান্ত র���িন প্রচ্ছদ, ভেতরে দুই রঙা অলংকরণ এক ভিন্ন আমেজ সৃষ্টি করেছে। সম্পাদনায় যথেষ্ট যত্ন থাকায় যে দু-একটি বানান বিভ্রাট চোখে পড়ে তা খুব একটা ভাবায় না। মোটকথা, বইটি সুখপাঠ্য। যারা সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘ডক্টর কিজিল - প্রারম্ভ’ সাজেস্ট করব। হ্যাপি রিডিং।
বইয়ের ফ্ল্যাপ: সদ্য জুওলজিতে মাস্টার্স শেষ করা হাসান ঘটনাক্রমে পরিচিত হয় প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ডক্টর কিবরিয়া জিল্লুর লস্কর ওরফে কিজিলের সাথে। কিজিল মানুষ হিসেবে অদ্ভুত ও খাপছাড়া, বিপজ্জনকও। তার রিসার্চ অ্যাসিটেন্ট হিসেবে যোগ দিয়ে হাসানের শুরু হয় আনকোরা ভিন্ন এক জীবন। সবার চোখের আড়ালে কী ভীষণ সব কাজ করে বেড়াচ্ছে লোকটা সেটা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা দুরূহ। ডক্টর কিজিল ও তার সহকারীর সেসব বিচিত্র অভিযানে আপনাকে আমন্ত্রণ।
নতুন এডিশনে একটা গল্প যুক্ত হইছে। সবার কাছে শুনলাম লেখাগুলো মাশুদুল হকের প্রথম দিককার কাজ। পড়েও তেমনটাই মনে হইছে। মাশুদুল হক এই সিরিজে আরও ভালো কিছু দিতে পারেন। একটু ডিটেইলিং করলেই চমৎকার হবে।
চারটা সরেস গল্প, একজন খ্যাপাটে বিজ্ঞানীর আশ্চর্য সব আবিষ্কার আর সেগুলো ঘিরে আজব সব ঘটনা নিয়ে। খুবই মজা পেয়েছি বইটা পড়ে। এমন ধরনের বই অনেকদিন পর পড়া হলো। সুন্দর সময় কেটেছে।
চমৎকার। দুর্দান্ত সব কনসেপ্ট। আমার সাইন্সফিকশন পড়া হয়নি। লেখক মাশুদুল হক এর " ডক্টর কিজিল:প্রারম্ভ" বইটা পড়ে দারুণ এক ফিল পেলাম। যদিও এক কালে সাইন্সের স্টুডেন্ট আমিও ছিলম। সে যাই হোক বইটা দারুণ। ৪ টা গল্প নিয়ে এই বইটা। প্রতিটি গল্পেই দারুণ সব বিজ্ঞানের খেলা। ডক্টর কিজিল এক অদ্ভুত বিজ্ঞানী। এত বড় মাপের বিজ্ঞানী হলেও তিনি লক চক্ষুর আড়ালেই থাকেন। বিজ্ঞানী বললে কম বলা হয়, একই সাথে তিনি দাবারু,ম্যাথমেটিশিয়ান, পদার্থবিদ,বায়োমেস্টিক। ডক্টর কিজিল তার অদ্ভুত সব আবিষ্কারের গোপনীয় বজায় রাখতে পছন্দ করেন। বইয়ে আরেকটা চরিত্র বিদ্যমান, হাসান একজন জুওলজিস্ট। যিনি ডক্টর কিজিলের এসিস্টেন্ট পদে নিয়োগ থাকে,আর কিজিলের সকল আবিষ্কারের চাক্ষুস সাক্ষী হয়। হাসানের জবানীতেই বইটি লিখা। প্রতিটি গল্পই ভালো।
মাশুদুল হকের লিখা এটাই আমার প্রথম বই পড়া। কল্পবিজ্ঞানের দারুণ এক মিশেল। যারা সাইন্স ফিকশন পড়তে ভালো বাসেন তারা অবশ্যই পড়বেন। ডক্টর কিজিল আর হাসানের সাথে আমার তো দারুণ সময় কেটেছে।
(৪.৫🌟) ।।।পাগল ধরনের বিজ্ঞানী এই ডক্টর কিজিল(প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ডঃ কিবরিয়া জিল্লুর লস্কর)। তিনি একজন শখের দাবাড়ু এটা লোকে জানতো। কিন্তু তিনি বেশ বড় মাপের জিন প্রকৌশলী, ম্যাথমেটিশিয়ান ,পদার্থবিদ আর বায়োকেমিস্ট,এটা অনেকেই জানতো না । এই উচ্চতর মাপের জিনিয়াস ব্যক্তি তার যৌবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন হাফডজন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে, দেশে- বিদেশে ঘুরে! তার সব প্রজেক্ট বা আবিষ্কারের সংখ্যা অসংখ্য! এই অদ্ভুত,কিছুটা বিপদজনক আর জিনিয়াস ব্যক্তির সাথে সদ্য জুওলজিতে মাস্টার্স শেষ করা হাসানের পরিচয় হয় এবং তাদের বিচিত্র অভিযান নিয়ে রচিত বই!
⛅নিজস্ব প্রতিক্রিয়া: প্রথমেই বলি বেশ কয়েকদিন রিডিং ব্লক এ ছিলাম। তাই খুব একটা ইন্টারেস্ট পাচ্ছিলাম না কোনো বইয়ে। এই বইটা আমার এক দিনেই শেষ হয়ে যায়!This book kept me hooked really! সাইন্স-ফিকশন আমি আগে তেমন একটা পড়িনি, তবে এই বইটা পড়ে সাইন্স ফিকশন এর প্রতি আলাদা একটা ভালোলাগা শুরু হয়েছে। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের নামও যথেষ্ট আকর্ষণীয়।(কটকট,অকুলোম্বুষ দ্বীপ, ইউটোপিয়া, ডক্টর কিজিল ও জেনারেল রাইখাস্কি) লেখক এই বইয়ের পেছনে যে অনেক লেখাপড়া করেছেন এ কথা বলতেই হয়! এবং প্রত্যেকটা প্লটই অনেক সুন্দরভাবে সাজানো। মাঝে মধ্যে দু এক জায়গায় একটু মিসম্যাচ্ড মনে হলেও গল্পগুলো অনেক সুন্দর সাজানো। বাংলা সাহিত্যে "ডক্টর কিজিল" এর মত একজন বিজ্ঞানী থাকলে মন্দ হয় না। সহজ-সাধারণ এই বইটি সবারই ভালো লাগবে। ⛅আরেকটা কথা না বললেই না- এ বইয়ের প্রচ্ছদ! এত সুন্দর আর রঙিন একটা প্রচ্ছদ যেকোনো বই প্রেমিকে প্রথম আকর্ষণে টেনে নিতে তো বাধ্য!! আর প্রত্যেকটা অধ্যায়ের প্রথমে এত সুন্দর ইলাস্ট্রেশন করা!
কিবরিয়া জিল্লুর লস্কর ওরফে কিজিল। একাধারে প্রখর বুদ্ধির খ্যাপাটে বিজ্ঞানী, দাবার গ্রান্ডমাস্টার, ক্যাপিটালিস্ট, সর্বোপরি মানবপ্রেমী ও দেশপ্রেমীর সংমিশ্রণে অদ্ভুত এক চরিত্র। কিজিলের অদ্ভুত আবিষ্কারগুলো পড়তে গিয়ে খুব করে মনে পড়ে যায় প্রফেসর শঙ্কু, রিক স্যানচেজ, সায়রা সায়েন্টিস্ট, বিজ্ঞানী সফদর আলী কিংবা অনিক লুম্বার কথা। এসব আত্মভোলা বিজ্ঞানীর থেকে তাকে আলাদা করেছে তাঁর ব্যবসায়ী মনোভাব। আর্থিক লাভ বা ব্যবসায়িক স্বার্থ ছাড়া কোনো আবিস্কার নিয়ে সে আগায় না। এমন পুঁজিপতি আচরণের কারণে যখনই ডক্টর কিজিলের প্রতি একটু রাগ মতো হয় তখনি আবার তাঁর দেশের দরিদ্র জনগনের জন্য উদ্বেগ, তাদের জীবনযাপনের মান বা দারিদ্র্য নিয়ে চিন্তা, তাদের উপকারে কাজ করার ইচ্ছা এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অচেনা অজানা হাজার মানুষকে বিপদের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা দেখে মন ভালো হয়ে যায়। আবার ক্ষণে ক্ষণে তার সেন্স অফ হিউমার দেখে দারূন হাসি পায়। 'কটকট', 'অকুলোম্বুস দ্বীপ', 'ইউটোপিয়া' এবং 'ডক্টর কিজিল ও জেনারেল রাইখাস্কি' - এই চারটা গল্প নিয়ে সাজানো 'ডক্টর কিজিলঃ প্রারম্ভ'। গল্পগুলো বর্ণনা করা হয়েছে ডক্টর কিজিলের এসিস্ট্যান্ট হাসানের জবানিতে। কীভাবে এই পাগলাটে বুড়ো বিজ্ঞানীর সাথে প্রথম সাক্ষাতে জীবন খোয়াতে বসেছিলো আর তারপর থেকে কীভাবে তাঁর সব অদ্ভুত রোমাঞ্চকর অভিযানের সঙ্গী হলো তাই নিয়েই এই আয়োজন। গল্পগুলোর পেছনে লেখকের গবেষণা আর পরিশ্রম পড়তে গেলেই বোঝা যায়। লেখনী, গল্প মিলে বেশ সুখপাঠ্য বই। বিশেষ করে রিডার্স ব্লক কাটাতে বা ব্যস্ততার মাঝে টুক করে পড়ে ফেলার জন্য একদম পারফেক্ট।
আমার কাছে ভালো একটি সাইন্স ফিকশনের মানে হল: তাতে ইন্টারেস্টিং কিছু সাইন্স থাকবে, সায়েন্সের সাথে মানানসই একটা গল্প থাকবে, আর ইন্টারেস্টিং ওয়েতে এই দুয়ের একটা বুনান থাকবে। বড়বেলায় পড়া সাইন্স ফিকশন গুলোর মধ্যে ডঃ কিজিল অনেকটাই এই ক্রাইটেরিয়া ফুল ফিল করতে পেরেছে। আশা রাখি ভবিষ্যতে আরো সুন্দর কিছু লেখা উপহার দিবেন মাশুদুল হক।
বছরের প্রথম বইটি শুরু এবং শেষ হলো কিজিল এর অবিশ্বাস্য সব আবিষ্কার দিয়ে। খুব অল্প সময়ে শেষ করে ফেললাম কিজিল। আমার ৫ মাসের রিডার্স ব্লক কয়েক ঘন্টায় কেটে গেলো। ❤️
ডক্টর কিজিল একজন আধা উন্মাদ বিজ্ঞানী। তবে, তাকে যেনতেন বিজ্ঞানী ভাবলে প্রচন্ড ভুল হবে। এমন কোন কিছু নেই যা তার পক্ষে আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। একই সাথে তিনি আবার প্রচন্ড ধূর্ত ব্যাবসায়ী। তার ওপর তিনি আবার দাবার গ্র্যান্ডমাস্টার। প্রতিপক্ষের থেকে তিন-চার চাল এগিয়ে থাকাতেই তার আনন্দ। তবে ড. কিজিলের পরিচয় আপনাদের সামনে পেশ করার আগে আমি কীভাবে তাকে চিনলাম সেটা বলে নেই। বছর দেড়েক আগে বই সম্পর্কে কোন কিচ্ছু না জেনে, শুধুমাত্র লেখকের নাম দেখে একটা বই কিনে ফেলি। বইটা ছিল স্যালাম্যান্ডার জিন। আমার ধারনা ছিল এটা হয়তবা থ্রিলার, কিন্তু না, এটা ছিল পুরদস্তর সায়েন্স ফিকশন গল্প সংকলন। এর আগে সায়েন্স ফিকশন বলতে আমি বুঝতাম হুমায়ুন আহমেদ আর জাফর ইকবালের লেখা গল্প-উপন্যাস গুলোকে। তবে, স্যালাম্যান্ডার জিন’এর গল্প গুলো সায়েন্স ফিকশন হওয়া সত্ত্বেও বেশ অন্যরকম একটা স্বাদ পেয়েছিলাম বইটা পড়ে। . স্যালাম্যান্ডার জিন’এ বেশ কিছু অসাধারন গল্প ছিল। তার মধ্যে কয়েকটা ছিল ড কিজিল কে নিয়ে। ড কিজিলের প্রাথমিক পরিচয় নিশ্চয় পেয়ে গিয়েছেন। আরেকটু শুনুনঃ গাজীপুরে ৩০০ বিঘা জমির ওপর ওনার ফার্ম, ফার্ম না বলে বরং সেনানিবাস বলাই ভালো। সেখানে নতুন কোন কর্মী ঢুকলে তার পদবী হয় সৈন্য। আর কোন কর্মী যখন চাকরী ছেড়ে দিতে চায়, তখন তার ফার্ম সম্পর্কিত সকল সকল স্মৃতি মুছে দেওয়া হয়। ওনার ফার্মে ২০০০ শ্রমিক ৩০ টা ডিভিশনে কাজ করছেন। এক ডিভিশনের কর্মচারী কোন ভাবেই অন্য ডিভিশনে যেতে পারেন না। সেই ফার্ম আবার ৩০ ফুট দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। কিজিলের সাথে প্রাথমিক পরিচয় তো হল, এখন একটু বইটা নিয়ে কিছু বলি। এই বইতে মাত্র ৪ টা গল্প আছে। গল্পগুলোর নাম কটকট, অকুলোম্বুষ দ্বীপ, ইউটোপিয়া, ডক্টর কিজিল ও জেনারেল রাইখাস্কি। . স্যালাম্যান্ডার জিনে যেরকম কোন পরিচয় ছাড়া হুট করেই ডক্টর কিজিল কে নিয়ে আসা হয়েছিল, এখানে সেওরকম টা হয় নি। তাছাড়া গল্পগুলোও ওইটার চেয়ে আরো সুপরিকল্পিত, এবং আকারেও বড়। আর এখানে সায়ান্স ফিকশন এর পাশাপাশি বেশ কিছু এডভেঞ্চার এলিমেন্টও রয়েছে। স্যালাম্যান্ডার জিনে যেরকম কিজিলের জন্য হাসান বেশ চাপা পড়ে ছিল, মানে গল্প বলা ছাড়া আর উল্লেখযোগ্য কোন কাজ ছিল না, এখানে সেরকম হয়নি ব্যাপারটা। সমান না হলেও হাসানের কৃতিত্ব কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না গল্পগুলোতে, অবশ্য শেষ গল্পটা এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম বলা চলে। . একটা আক্ষেপ আছে বইটা নিয়ে। বইটা খুবই ছোট, শুরুর আগেই যেন শেষ হয়ে গেল। কিন্তু বইয়ের প্রোডাকশনের তারিফ না করলে খুবই অন্যায় হবে। প্রচ্ছদ টা তো অসম্ভব সুন্দর। তাছাড়া ৪ টা গল্পের শুরুতে যে ৪ টা ৩ রঙে ইলাস্ট্রেশন আছে, সেগুলো গল্পগুলোকে অন্যমাত্রায় নিয়ে গেছে, তবে অবশ্যই গল্পের ওপরে সেগুলোর কোন কর্তৃত্ব নেই। গল্প ভালো না হলে সবকিছুই ফিকে হয়ে যেত। . একটা দাবি জানিয়ে শেষ করতে চাই, খুব শীগ্রই আশা করি ডক্টর কিজিলের নতুন বই আসবে। তবে কিজিলকে নিয়ে গল্পগুলো আরেকটু বড় হলে বেশ ভালো লাগত। বেশেষ করে কিজিলের একটা উপন্যাস পড়ব ভেবেই তো আমি যারপরনাই রোমাঞ্চিত হচ্ছি,একটা উপন্যাস, প্লীজ!!
ভালো লাগলো না কেন জানি। "স্যালাম্যান্ডার জিন" বই এ কিজিলের গল্প পড়ে খুব আগ্রহ হয়েছিল। কিজিল ক্যারেক্টার চমৎকার ছিল। খুব বেশি আশা নিয়ে এইটা পড়ছিলাম বলে হয়ত হতাশ হলাম।
গল্পের কনসেপ্টগুলো ভালো। কিন্তু ছোটখাটো কিছু লুপহোল আছে। আর কোন ক্যারেক্টারই ঠিকমত ডেভেলপড হয় নি। হাসান এবং কিজিল দুইজন প্রধান চরিত্র নিয়ে তেমন কিছুই জানলাম না। হাসান কি করে কিজিলের এত ঘনিষ্ঠ হল বুঝলাম না। আর কিজিলের গ্রে ক্যারেক্টার এবং ডার্ক হিউমার চমৎকার ছিল স্যালাম্যান্ডার জিন এ। এইটাই সেভাবে পেলাম না। আশা করি সামনের বইগুলোয় ক্যারেক্টারগুলো আরো বিশ্লেষণ হবে।
বত্ব, বইয়ের ইলাস্ট্রেশন গুলো চমৎকার। তবে বেশ কিছু টাইপিং মিসটেক আছে।
বহুদিন বাদে এমন কিছু একটা পড়ে বেশ ঝরঝরেই লাগছে। কম্পেয়ার করতে গেলে সত্যাজিৎ রায়ের লেখা 'প্রোফেসর শঙ্কু'র মতো। এখানেও অদ্ভুত সব কান্ডকারখানায় মত্ত বিজ্ঞানী ডক্টর কিজিল। ডক্টর কিজিল এর এসিস্ট্যান্ট পদে সদ্য নিয়োগ পাওয়া জুওলোজিস্ট হাসানের জবানীতে লেখা বইটি। নামটা যেমন অদ্ভুত তেমনি অনন্য তার সব কীর্তি। কখনো আস্তো একটা ম্যামোথ উদ্ধার করে ফেলে তো কখনো মানুষকে লিলিপুট বানিয়ে ফেলে। বাতচিত চলে ভিনগ্রহের প্রানীদের সঙ্গে। পড়তে বেশ মজা পেয়েছি এবং আশা রাখছি ডক্টর কিজিল আরও অনেক গল্প পাচ্ছি।
মাশুদুল হকের বই tbr-এ থাকলেও কোনো কারণ ছাড়াই নেয়া হয়নি। @afsarbrothers থেকে যখন ডক্টর কিজিল প্রারম্ভ প্রকাশ করা হয়,সাথে সাথেই @bookstreetbd তে অর্ডার করে ফেলেছিলাম। পরীক্ষার চাপের অজুহাত দিয়ে পরীক্ষার আগের দিন পড়েও ফেলেছি। যাক -ঠিক কাজই করেছিলাম। এই বই ফুরফুরে এক ভাব এনে দিয়েছিলো মনে,সেই ফুরফুরে মন নিয়ে,আর কিজিলের অদ্ভুতুরে কাজকর্ম মাথায় রেখে পরীক্ষার পড়াতে মন দিয়েছিলাম। এবার কিজিলকে চেনানো যাক!বিজ্ঞানী ডক্টর কিবরিয়া জিল্লুর লস্কর ওরফে কিজিল মানুষ ���িসেবে অদ্ভূত ও খাপছাড়া, অত্যন্ত ব্রিলিয়ান্ট একজন বিজ্ঞানী। জাফর স্যারের অনিক লুম্বা বা সায়রা সায়েন্টিস্ট -এর কথা মনে আছে? কিজিলকে ওই পাগলাটেদের কাতারে ফেলা যায়! তবে কিজিলের দুনিয়া আরো বড়,অনেকটা শঙ্কুর মতোন। কিজিলের কান্ডকারখানা পড়তে ১. কটকট ২. অকুলোম্বুষ দ্বীপ ৩. ইউটোপিয়া ৪. ডক্টর কিজিল ও জেনারেল রাইখাস্কি ঘুরে আসতে হবে।কিন্তু একটা জিনিসের অভাব ছিলো, গল্পগুলোতে কিছু নেই নেই ঠেকছিলো। আরেকটু ডিটেইলে দিলে পারফেক্ট রিড হতো। কিজিলের আবিষ্কার, কিজিল আর হাসান-এদের নিয়ে আশা করি ভবিষ্যতে আরো বই এসে আমাদের মনের খোরাক জোগাবে।
স্কুলে থাকতে ছোট গল্পের একটা বৈশিষ্টের ব্যাপারে শিখেছি- শেষটার মধ্যে একটা অসমাপ্তির ভাব থাকবে। ডক্টর কিজিলের এই ছোট গল্পের বইয়ে কম বেশি তাই হয়েছে। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলেও প্রত্যেক গল্পেই প্রোটাগোনিস্ট এর চরিত্র কেমন যেন অসঙ্গত লেগেছে। Goodreads এর @musarboijatra এর রিভিউ অনুযায়ী লেখক 'মোরালি গ্রে' চরিত্র তৈরী করেছেন। সেটা হলে অবশ্য লেখক অনেকটাই সফল। কিন্তু গল্পগুলো নিয়ে কিছু প্রশ্ন জেগেছে। প্রথম গল্প : Antagonist হিসেবে মনসুর আর জাহিদ কে দেখালেও, ডক্টর কিজিলের ব্যাপারে তাদের কিছু দাবির কোনো প্রকার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। যেমন, ডক্টর কিজিল কি আসলেই ব্রেন ওয়াশ করে ��ারা উনার চাকরি ছেড়ে দেয়? মনসুরের চাকরিটা গেলো কেন? কটকট সম্পর্কে হাসান কে বলতে দ্বিধাবোধ করেননি, তাহলে এখানে আসলে হয়েছিল টা কি? বৈজ্ঞানিক কাজকর্মের ব্যাখ্যা থাকলেও, এসব কিছু ঘটনার ব্যাখ্যা নেই। দ্বিতীয় গল্প: একটাই প্রশ্ন- ডক্টর কিজিল কি তাহলে স্বেচ্ছায় একটি দানব তৈরি করছেন, অকুলোম্বুষ দ্বীপ তৈরী করার পরিণতি সম্পর্কে অবগত থাকার পর ও? (যারা পড়েছে আমার প্রশ্নটার মর্মার্থ বুঝবে) তৃতীয় গল্পটি তেমন একটা ভালো লাগেনি আর শেষের গল্পটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। যদি অল্প কথায় আমাকে বলতে হয় কিজিল কিসের গল্প, আমি বলবো শার্লক আর ওয়াটসন যদি সায়েন্টিস্ট হতো এটা তারই গল্প। হাসান চরিত্রটাও একটু বিতর্কিত লেগেছে। কিজিলের কিছুটা বিশৃঙ্খল প্রকৃতি জানার পরও কেন সে তাকে বিশ্বাস করে তার ভিত্তিটা স্পষ্ট নয়। আশা করি সামনে যদি কিজিলের আরো গল্প বের হয়, এসবের উত্তর পাওয়া যাবে।
মাশুদুল হকের লিখা থ্রিলার জনরার দুটি বই আমি পড়েছিলাম। কিন্তু সায়েন্স ফিকশন জনরার বই এই প্রথম। সত্যি বলতে আমি বেশ আশাহত হয়েছি। ভেবেছিলাম একদমই নতুন এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হবো। কিন্তু খুবই গতানুগতিক লেগেছে আমার কাছে। বার বার মনে হচ্ছিল শঙ্কুর একটা প্রভাব রয়েছে গল্পগুলোর প্লটে। তবে পজিটিভ দিক বলতে গেলে,সহজ ও সাবলীল ভাষার সায়েন্স ফিকশন যে কোন বয়সের মানুষই পড়তে পারবে। এবং এক বসায় পড়ে শেষও করতে পারবে! বইটাতে ছোট ছোট চারটি গল্প রয়েছে। চারটা ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট নিয়ে। যেহেতু এটা কেবল শুরু,সামনে হয়তো আরো দারুণ কিছু পাবো এই আশাই করি।
বইঃ ডক্টর কিজিল প্রারম্ভ লেখকঃ মাশুদুল হক প্রচ্ছদঃ মাহাতাব রশীদ ( বই এর প্রচ্ছদ এর পাশাপাশি, প্রতিটি গল্পের শিরোনামের ইলাস্ট্রেশনগুলোও বেশ মজাদার)
সুখপাঠ্য, কিশোরগল্প হলেও সব বয়েসের পাঠকরা মজা পেতে পারেন। পড়তে পড়তে সত্যজিৎ রায়ের প্রফেসর শঙ্কু সিরিজের গল্পগুলোর কথা মনে পড়ে। ঢাকা, গাজীপুর, নোয়াখালীর চর, পথ-ঘাট, বাংলাদেশের মধ্যে এরকম সায়েন্স ফিকশন দুর্লভ। সায়েন্স ফিকশনে নতুন যুগে পদার্পণ হোক, বাংলাদেশের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী এগিয়ে যাক লেখকের হাত ধরে। আরো বই পড়ার জন্য আগ্রহী থাকব। সারমর্মটা অনেকে বলে ফেলেছেন বলে আর বললাম না। সামগ্রিক ভাবে ভালো লেগেছে। ছোটোদের এধরণের বই উপহার দেয়া যায়।
লেখকে সাধুবাদ, কিছু আর্কষনীয় গল্প উপহার দেয়ার জন্য। শুরু করার পর বইটি ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে হয়নি একবারো। একবসায় শেষ করলাম পুরো বই। অনেকটা প্রফেসর শংকু এর মত, কিন্তু আধুনিকতার ছোয়া বিদ্যমান।
আমি লেখককে ৫ তারকা দিতে চাই, কিন্তু খুব ছোট কিছু ভুলত্রুটি (কন্টিনিউটি এরর) এর জন্য ৪ দিলাম। আশা করি পরবর্তী বইতে অবশ্যই পুরোটা দিতে পারব।
মনে হলো প্রফেসর শঙ্কুর আরেক সংস্করণ পড়ছি। গল্পের বর্ণনাকারীকে খুব একটা ভালো লাগলো না। গল্পের কিছু কিছু জায়গায় খটকা থেকেই গেল। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পেলাম কিন্তু বেশ কতগুলো ঘটনার পেছনের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পেলাম না। সংলাপ গঠনের দিকে বোধহয় লেখকের একটু নজর দেয়া দরকার। তবে ডক্টর কিজিলের চরিত্রটা বেশ মনে ধরেছে।
প্রতিটি গল্পের বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে বলা। হাসনের ক্ষণে ক্ষণে ডক্টর কিজিলকে নতুন ভাবে চেনা, নতুন বিস্ময়ের সাথে প্রতিটা গল্পে পরিচয় হওয়া নিজেকেই যেন হাসানের জায়গায় উপস্থিত মনে হবে। এত সুন্দর ও সাবলীলভাবে গল্পগুলো বর্নিত যে কখন পড়তে পড়তে বইটি শেষ হয়ে গিয়েছে টেরই পাওয়া যায় না।