আহমাদ মোস্তফা কামাল ঘরভরতি মানুষ অথবা নৈঃশব্দ্য গল্পগ্রন্থে কুশলী কলমে তুলে ধরেছেন সমাজের নানা বৈকল্য ও বিকার, অসুখ ও স্খলনের গল্প। মানুষের মনের নিভৃতে আলো ফেলে ছেঁকে এনেছেন প্রেম, স্বপ্ন ও ভালো লাগার নিকষিত অনুভূতিগুলো। তাঁর গল্পে বাস্তব জটিল, বাস্তবের প্রকাশ জটিলতর। মানুষের স্বপ্ন বাস্তবের আঘাতে হারিয়ে যায়, প্রেম দিগভ্রান্ত হয় প্রাপ্তির মুহূর্ত ঢুকে পড়ে অপ্রাপ্তির অঞ্চলে। যাত্রাদলের এক সদস্য অতীত স্মরণ করে কাঁদেন আশ্চর্য কান্না। স্বপ্নের আঘাতে কাতর মানুষের ওপর রূঢ় বাস্তবের চাবুক পড়ে। বিজ্ঞাপনের জৌলুশমাখা জগতে স্ত্রীকে হারিয়ে কেউ উৎকল্পনার হাত ধরে পরিত্রাণের পথে নামে। অনিদ্রায় আক্রান্ত একজন এক রাতে প্রেমের সন্ধান পায়। তরুণ বিপ্লবী পরীক্ষার মুহূর্তে তার আদর্শ হারিয়ে ফেলে। এক ঘোর লাগা মানুষ প্রকশ্যে স্ত্রীর কাছে প্রেমানুভূতি জানাতে গিয়ে ডেকে আনে সর্বনাশ। এক শহরে অচেনা এক লোক এসে তার স্ফিংক্স্-সদৃশ্য প্রশ্নে মানুষের সব হিসাব-নিকাশ এলোমেলো করে দেয়।
খণ্ড খণ্ড দৃশ্যে সুন্দর-ভয়ানক নানা মুহূর্ত জীবন্ত হয় কামালের গল্পগুলোতে। জাদুবিস্তারি বর্ণনায় তিনি সাজান মানুষের নিভৃত ও কোলাহলময় মুহূর্তগুলো। আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের গ্লানি এবং বিষাদ, বিপন্নতা ও নিমগ্নতার ছবি আঁকেন অপূর্ব দক্ষতায়। তাঁর ভাষা সজীব, মেদহীন ও নির্বিকল্প। তিনি আমাদের সময়ের এক সংবেদী রূপকার। তাঁর ঘরভরতি মানুষ অথবা নৈঃশব্দ্য গল্পগ্রন্থটি সে সংবেদনের অনুপম রূপায়ন।
‘প্রথম আলো বর্ষসেরা বই’ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিচারকমণ্ডলির পক্ষে অন্যতম বিচারক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম পঠিত শংসাবচন।
সূচিপত্র
1. মধুবাবুর আশ্চর্য কান্না 2. স্বপ্ন ও বাস্তবতার ভেতরকার দেয়ালটি ভেঙে যাবার পর 3. বিজ্ঞাপন ও মানুষের গল্প 4. ঘুমোবার সব আয়োজন ব্যর্থ হয়ে যাবার পর 5. কনফেশন 6. তারা তখন পবিত্রতা রক্ষা করছিলো 7. আমাদের শহরে একজন অচেনা লোক ১ 8. আমাদের শহরে একজন অচেনা লোক ২ 9. উন্মোচন
আহমাদ মোস্তফা কামালের জন্ম মানিকগঞ্জে। তার বাবার নাম মুহাম্মদ আহমাদুল হক এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা আহমেদ। পাঁচ ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। মানিকগঞ্জের পাটগ্রাম অনাথ বন্ধু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে এসএসসি, ১৯৮৮ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯২ সালে স্নাতক, ১৯৯৩ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে এম ফিল এবং ২০১০ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পেশাগত জীবনের শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি।
লেখালেখির শুরু '৯০ দশকের গোড়া থেকেই। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘দ্বিতীয় মানুষ’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে, এরপর আরো ছ’টি গল্পগ্রন্থ, ছ’টি উপন্যাস ও চারটি প্রবন্ধগ্রন্থ বেরিয়েছে। তাঁর চতুর্থ গল্পগ্রন্থ ‘ঘরভরতি মানুষ অথবা নৈঃশব্দ্য’ ২০০৭ সালে লাভ করেছে মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রথম আলো বর্ষসেরা বই’ পুরস্কার, দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অন্ধ জাদুকর’ ভূষিত হয়েছে ‘এইচএসবিসি-কালি ও কলম পুরস্কার ২০০৯’-এ, তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘কান্নাপর্ব’ ২০১২ সালের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে লাভ করেছে ‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩’।
আহমাদ মোস্তফা কামাল আমার পছন্দের গল্পকার হয়ে উঠেছেন। কেমন যেন ঘোর লাগা একটা রহস্য রয়েছে তাঁর লেখায়। গল্পগুলো পড়ার অভিজ্ঞতা সুখকর হলেও অনুধাবনের পর মন কেমন বিষণ্ণ হয়ে উঠে, মনে খিন্ন লাগে। যাপিত জীবনের নানাবিধ বিষয়আশয় নিয়ে ভাবনার খোরাক জোগায় আহমাদ মোস্তফা কামালের গল্প।
এই গল্পগ্রন্থের সবগুলো গল্পই একই ধাঁচের, একটা নির্দিষ্ট সময়কালকে কেন্দ্র করে লেখা। যাপিত জীবন এবং সমাজ ব্যবস্থার নানা অসংগতি লেখক গল্পে একদম সোজাসাপ্টা ভাবেই তুলে ধরেছেন। বইয়ের কিছু গল্প ভালো ছিল। 'স্বপ্ন ও বাস্তবতার ভেতরকার দেয়ালটি ভেঙে যাবার পর' গল্পটি সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।কিন্ত কিছু কিছু ব্যাপারে অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছি। এই যেমন, 'শিল্পসাহিত্য চর্চা করা মানুষ মাত্রই ভালোমানুষ' ধারণাটি (এটা লেখকের প্রবন্ধেও লক্ষ্য করেছি)। এদেশে শিল্প সাহিত্য নিয়ে ধারণা রাখা বা হাজার হাজার বইপড়ুয়া অধিকাংশ বোদ্ধাও এটা নিয়ে রোমান্টিকতা করতে পছন্দ করে। কিন্তু বিভিন্ন রকম মানুষের সাথে মিশে আমার ধারণা হয়েছে উল্টো। বইপড়ুয়া বা শিল্পসাহিত্য উদ্ধার করে ফেলা প্রায় প্রত্যেকেরই মাত্রাতিরিক্ত অহংকার ও অন্যকে ছোট করে দেখার একটা প্রবণতা রয়েছে। এরা সবসময় 'তুমি কোন্ হনু' টাইপ ভাব নিয়ে চলে। কারো কোনো কথা এরা গায়ে তুলে না। গায়ে তুলে না এইজন্য না যে এসব কথায় কান দেয়ার কিছু নাই বরং এইজন্য যে তারা অন্যদের মানুষই মনে করে না। অন্যদের নিজের সমকক্ষ কেউ ভাবে না। নিজেকে সুপিরিয়র ভেবে মনে মনে একপ্রকার "বিড়িসুখ" পায় (বিড়িসুখ শব্দটি একটা রিভিউতে পড়েছিলাম, কার রিভিউ মনে পড়ছে না এখন)। আর এদিকে বই পড়ে ভোঁ ভোঁ করে কাঁদে। অন্যদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়। এই শিল্পসাহিত্যের মাধ্যমে সুখ-দুঃখের অংশীদার হতেও এনাদের মাঝে মাঝে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। একাত্ম হওয়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিবেশের প্রয়োজন পড়ে। একটা আবহ। একাত্ম হতে না পারলে এনারা নিজেকে ভালোমানুষ ভাবতে পারে না, তখন ইগোতে আঘাত লাগে। তাই এসব পড়া বা চর্চার পাশাপাশি কোন্ পরিবেশে কোন্ অবস্থায় হচ্ছে সেদিকে লক্ষ্য রাখাও জরুরি হয়ে পড়েছে। যদিও এনারা নিজেদের অনেক মুখচোরা দাবি করে কিন্তু নিজের অবস্থানটা বুঝিয়ে দিতে মোটেও কার্পণ্য করেনা। বই পড়া যে খুব মহান কিছু এটা বুঝানোর জন্য এনারা মিনিটে মিনিটে সোশ্যাল মিডিয়ায় টোয়েন আর রাসেলের উক্তি পোস্ট করে। আরও আছে মুজাইয়ের 'বই পড়ে কেউ কখনো খারাপ হয়না' ধরনের অতি বিশ্রী রোমান্টিকতা। অথচ আমি শতশত বই পড়া অনেককেই দেখেছি লম্পট বনে যেতে। সারাদিন বব ডিলান, রবীন্দ্রনাথ, অসাম্প্রদায়িকতা আর মানুষের মুক্তি নিয়ে বিরাট বিরাট রচনা লেখা এক বান্দাকে দেখেছি নিজের গার্লফ্রেন্ডের সাথে বেইমানি করতে। সরকারের উচ্চপদস্থ এক "টুট টুট" কর্মকর্তা যে কিনা দিনরাত ফেসবুকে মানুষের বইপড়ার অভ্যাস গড়তে, মানুষকে মানুষের মতো গড়ে তুলতে, বিকশিত করতে; নিজের সরকারি চাকরির এতো ব্যস্ততা থাকা স্বত্বেও সময় বের করে যারপরনাই মানুষের জন্য কাজ করে, নিজের সাহিত্যের কালেকশন দেখিয়ে, ছোটবেলা থেকে বই পড়ার অভ্যাস যে কত ভালো সেইসব বিষয়ে বস্তায় বস্তায় জ্ঞান প্রদান করে অনেক তরুণ তরুণীর আইডল বনে যাওয়া এই বান্দাকে দেখেছি কিভাবে নিজের পছন্দের ছোটোভায়ের বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের অভিযোগ আনলে সেটাকে ধামাচাপা দিয়ে দেয়।
এসব দেখে এখন আমার কেবল একটি ডায়ালগই মনে পড়ে_"আমি হাত দিয়ে যা ছুঁই তা-ই নষ্ট হয়ে যায়।" এই বাংলার মাটি, জল, সবুজ যাকেই ধারণ করে সে-ই পঁচে যায়, নষ্ট হয়ে যায়, দুর্গন্ধ বেরোয় তার গা থেকে। সেই দুর্গন্ধ দূর করবার উপায় হিসেবে অনেকে বড় বড় সার্টিফিকেট নিয়ে বড় বড় পদে যায়, গায়ে থাকে আধুনিক সব কাপড় চোপড়। যদিও এদের বেশিরভাগই দেড় হাজার, তিনহাজার, সাড়ে তিনহাজার বছর আগের ধ্যান ধারণা নিয়ে চলে তারপরও গায়ে সুগন্ধি মেখে তারা তাদের বন্য গন্ধটা দূর করার চেষ্টা করে। আর অধিকাংশই ওপরওয়ালার শরণাপন্ন হন। কারণ ওনি অনেক দয়ালু। খুন, ধর্ষণ, বাটপারি, টেন্ডারবাজি যাই করুক না কেন, উনার কাছে গেলে, উনার এবাদতে মশগুল হলে সবকিছু মাপ করে দিয়ে উনি সুগন্ধি মেখে দেন। আরেক ধরনের মানুষ আছে; তারা সংখ্যায় কম, সারাদিন শিল্পসাহিত্য উদ্ধারের ভান করে থেকে এরা নিজেদের গায়ের গন্ধ ভুলে থাকার চেষ্টা করে।
৩.৫/৫ আহমাদ মোস্তফা কামালের প্রবন্ধ আগে পড়েছি, তবে ফিকশন এই প্রথম পড়লাম। অন্যরকম লাগল। সবচেয়ে ভালো লেগেছে "আমাদের শহরে একজন অচেনা লোক ১"। আরোপিত কোন উপমার ছড়াছড়ি নেই, স্ট্রেইটফরওয়ার্ড লেখা, পড়তে আরাম লাগে। যেন একটা লাইনের পর অন্য লাইনে চোখ এমনিতেই পিছলে যাচ্ছে। সংকলনের সবগুলো গল্পকে কী যেন একটা সাধারণ সূত্রে ফেলা যায়, যেন একসাথে একই মলাটে এদের রাখলেই সবচেয়ে মানায়৷ সামনের বার লেখকের উপন্যাস পড়ার ইচ্ছা রাখলাম৷
আহমাদ মোস্তফা কামালের উপন্যাস এবং প্রবন্ধ আগে পড়া থাকলেও গল্প পড়লাম এই প্রথম। গল্পকার হিসেবে কেন তিনি এত সমাদৃত, তাও বেশ ভালোভাবেই বোধ হলো এই গল্পগ্রন্থ পড়ে। বইয়ের দশটি গল্পে মূলভাবগত যে মিল আছে, সেটি প্রমাণ করে গল্পগুলো এক মলাটে রাখাটাই শ্রেয়। কমবেশি ভালো লেগেছে সবগুলো গল্পই।
এই বইয়ে আহমাদ মোস্তফা কামাল নিজের সেরা গল্পগুলোই হয়ত লিখেছেন। যদিও "বিজ্ঞাপন ও মানুষের গল্প" নামক গল্পটা আগেই পড়া ছিল। ৯ টি মোটামুটি একই প্যাটার্নের গল্প। গল্পসমগ্রের প্রথম গল্পটা বেশিরভাগ সময়েই আমার ভাল লাগে না কোন একটা বিশেষ কারণে। "মধুবাবুর আশ্চর্য কান্না" ও ভাল লাগেনি বিশেষ। "স্বপ্ন ও বাস্তবতার ভেতরকার দেয়ালটি ভেঙ্গে যাবার পর" গল্পটি বেশ লেগেছে। "বিজ্ঞাপন ও মানুষের গল্প" ও অনেক ভাল লেগেছে। পরের দুইটা গল্পও ফ্লো তে পড়ে ফেলেছি। "তারা তখন পবিত্রতা রক্ষা করছিলো" এর সাথে দ্বিতীয় গল্পের সুক্ষ্ম মিল রয়েছে। যে কেউই হয়ত ধরতে পারবেন। "আমাদের শহরে একজন অচেনা লোক" ১ মোটামুটি লেগেছে। ২ নাম্বারটিও ১ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে লেখা হয়েছে। আমার মতে "উন্মোচন" গল্পটি সংকলনের শ্রেষ্ঠতম গল্প। যদিও "উন্মোচন" পড়ার সময়ে মনে হচ্ছিল মিসির আলীর কোন গল্প পড়ছি। কিন্তু তা সত্ত্বেও গল্পটি আমার বেশ লেগেছে। আহমাদ মোস্তফা কামাল মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারগুলো নিয়ে বেশ ভালই গল্প ফেঁদেছেন। মেদহীন, ঝরঝরে লেখা। মনস্তাত্ত্বিক গল্পগুলো একটা রহস্যের সৃষ্টি করে তাই হয়ত গল্পগুলো উপভোগ করা যায় বেশি। আমিও তাই বইখানা উপভোগ করেছি।
আসলে ৩.৫ দেওয়া যায়। জানিনা কেন এতো উচ্চাশা নিয়ে বইটি হাতে নিয়েছিলাম। সম্ভবত লেখকের সম্পর্কে বেশ সুনাম শুনেই এমনটা হলো। এতে অবশ্য লেখকের কোনো হাত নেই, এ দায়ভার সম্পূর্ণ নিজের। তবে কিছু কিছু গল্পে বেশ মুগ্ধও হয়েছি—এ কথা স্বীকার করতে হবে(যদিও এর সংখ্যা কম) লেখকের তৈরি চরিত্রগুলোর দার্শনিক সত্ত্বা চোখে পড়ার মতো। ধারণা করছি, তারা লেখকের আদলেই তৈরি।
এ বইতে মোট দশটি গল্প আছে। তবে আমার যে গল্প দুটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেটি হলো, ‘বিজ্ঞাপন ও মানুষের গল্প’ এবং ‘তখন তারা পবিত্রতা রক্ষা করেছিলো’।
৩.৫/৫ আহমাদ মোস্তফা কামালের লেখায় জাদু আছে! নয়টা গল্পকে একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্নে ফেলা যায়। বেশি ভালো লেগেছে "বিজ্ঞাপন ও মানুষের গল্প", "ঘুমোবার সব আয়োজন ব্যর্থ হয়ে যাবার পর -১ , -২", "আমাদের শহরে একজন অচেনা লোক -১, -২"। শেষ গল্প "উন্মোচন" টা এত্তো বেশি জোশ, এইটা দিয়ে একটা সিনেমা বানায় ফেলা যায়!
প্রথম দফায় শুরু করার পর টানা পাচটা গল্প পড়ে ফেলসিলাম। অসম্ভব ভালো লাগসিল। পরের দফায় শুরু করার পর প্রথম থেকে পাচ নম্বরটা আবার পড়লাম। ভালো লাগল। এর পর বইয়ের বাকি পাঁচটা শেষ করলাম। কিন্তু ওগুলা আর ঠিক তেমন একটা ভালো কেন যেন লাগল না! ওগুলোতে কোথায় জানি বার বার একটা তাল কেটে যাচ্ছিল! তাই শেষমেশ তিন তারায় রফা করতে হল। আরো বেশিই দেবার ইচ্ছে ছিল।
যাপিত জীবন এবং সমাজ ব্যবস্থার নানা দিকের কিছু গল্প নিয়ে 'ঘরভরতি মানুষ অথবা নৈঃশব্দ্য' গল্পগ্রন্থটি লেখা হয়েছে। বইয়ের বেশিরভাগ ছোটগল্পই কমবেশি ইন্টারেস্টিং ভাবে শুরু ছিলো, যার ভেতরে 'স্বপ্ন ও বাস্তবতার ভেতরকার দেয়ালটি ভেঙে যাবার পর' গল্পটি সবথেকে ভালো লাগলো। তবে শেষের কয়েকটি একটু একঘেয়ে হয়ে গিয়েছে মনে হলো। সমকালীন সাহিত্য যারা পড়েন তাদের জন্য ওয়ান টাইম রিড বলা যায় এই গল্পগ্রন্থটিকে।
বইটা পড়ে আমি আগাগোড়া হতাশ। হতাশ লেখকের উপর, হতাশ এই দেশের তথাকথিত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপর যারা কিনা এমন লেখাকে পুরস্কৃত করে থাকেন। শুধু শুধু বইটা পড়ে সময় নষ্ট করলাম। বইটার নাম ছাড়া আর কিছুই ভালো লাগেনি।
এই বইয়ের গল্পগুলো যেন সংবেদনশীল মানুষের মিছিল। যন্ত্রণাকাতর মুখে সরাসরি শ্লোগান দিতে দিতে তারা এগিয়ে আসে। তাতে শিল্প কিংবা সাহিত্য কোথাও ব্যাঘাতপ্রাপ্ত হয় কিনা ভাববার অবকাশ থাকে না। কারণ আমাদের সবারই যে দুঃস্বপ্ন আর বাস্তবতার মধ্যকার দেয়াল ভেঙ্গে পড়েছে।