What do you think?


গ্রহান্তরের আগন্তুক
Collection of Translation of Five Soviet Science Fiction Novels
232 pages, Paperback
First published September 30, 2021
About the author
Alexander Kazantsev
26 books13 followersAlexander Petrovitch Kazantsev (Russian: Александр Петрович Казанцев) was a popular Soviet science fiction writer and ufologist.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 11 of 11 reviews
September 1, 2021
"গ্রহান্তরের আগন্তুক" আক্ষরিক অর্থেই ধ্রুপদী বিজ্ঞান কল্পকাহিনি।গত শতাব্দীর ষাটের দশকে প্রকাশিত এ সংকলনের গল্পগুলোর সারসংক্ষেপ পড়লে গতানুগতিক মনে হতে পারে।অন্য প্রাণীর শরীরে মানুষের মস্তিষ্ক স্থাপন(হৈটি-টৈটি), নিজ হাতে তৈরি রোবটের ওপর কর্তৃত্ব হারিয়ে বিপদে পড়া(আইভা),শীতলঘরে ঘুমিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবীতে চলে যাওয়া(প্রফেসর বার্নের নিদ্রাভঙ্গ),মঙ্গলবাসীর মর্ত্যে আগমন(গ্রহান্তরের আগন্তুক), ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক স্টিমুলেশন দিয়ে মানুষের মস্তিষ্ককে বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা(ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ)-এরকম কাহিনি আমরা অহরহ বিভিন্ন সাই-ফাই মুভি বা গল্পে দেখি ও পড়ি।বলা যায়,অধিক ব্যবহারে এ ধরনের গল্প এখন জীর্ণ।কিন্তু যখন এ সংকলন প্রকাশিত হয়েছিলো, তখন এগুলো গতানুগতিক তো ছিলোই না,বরং পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করেছে।বাংলার বিখ্যাত বিজ্ঞান কল্পকাহিনি লেখকদের অনেকে এ বই দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত।হুমায়ূন আহমেদ "ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ" পড়ে ভীষণভাবে আন্দোলিত হয়েছিলেন।এ গল্পটি নিঃসন্দেহে বইয়ের সেরা গল্প।অন্য গল্পগুলো পড়তেও ভালো লেগেছে।সব গল্পে ঘটনার ঘনঘটা নেই,কিন্তু আছে প্রখর বুদ্ধিমত্তার ছাপ।প্রচ্ছন্নভাবে রাজনীতি ও সরকারব্যবস্থার সমালোচনার ব্যাপারটিও ভালো লেগেছে।
ননী ভৌমিকের অনুবাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।যদি কোনো গল্পের ভাষা খটমটে বা দুর্বোধ্য মনে হয়,বুঝে নেবেন মূল গল্পটাই এমন।
সাই-ফাই প্রেমীদের জন্য বইটি অবশ্যপাঠ্য।
ননী ভৌমিকের অনুবাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।যদি কোনো গল্পের ভাষা খটমটে বা দুর্বোধ্য মনে হয়,বুঝে নেবেন মূল গল্পটাই এমন।
সাই-ফাই প্রেমীদের জন্য বইটি অবশ্যপাঠ্য।
July 25, 2019
(কৈফিয়তঃ বছর দুয়েক আগের পড়া৷ ভাবলাম মানুষজন যদি উৎসাহিত হয়ে পড়ে তাই হালকার উপ্রে ঝাপসা একটা রিভিউ দিয়ে রাখি!)
সোভিয়েত সায়েন্স ফিকশনের এই গল্পগুলো গতানুগতিক ধারা থেকে অন্যরকম৷ প্রকাণ্ড আকৃতির স্পেসশিপ, ইন্টারগ্যালাকটিক ইনভ্যাশন, পৃথিবীর প্রতি জটিল বুদ্ধিমত্তাদের হুমকি ইত্যাদি থেকেও এখানে থিওরিটিক্যাল চিন্তাভাবনার ছাপ স্পষ্টভাবে লক্ষণীয়৷
গ্রহান্তরের আগন্তুকে মোট পাঁচটি গল্প৷ বিষয়বস্তুর বিবেচনায় প্রতিটা গল্পের পৃথক বৈশিষ্ট্য নিউরনে গভীর চিন্তার উদ্রেক ঘটাবে৷
প্রথম গল্প, গ্রহান্তরের আগন্তুক সেই আদিম ভিনগ্রহের প্রানীদের আবির্ভাব নিয়ে৷ তবে গল্পটা কেমন অসমাপ্ত লেগেছে কারণ বুঝে উঠার আগেই শেষ হয়ে গেলো !
দ্বিতীয় গল্প 'হৈটি টৈটি' হাতির মাথায় মানুষের মস্তিক প্রতিস্থাপনের পর যাবতীয় কর্মকান্ড এবং অনুভূতি প্রকাশের গল্প৷ এভাবেও ভাবা যায়? বইয়ের দ্বিতীয় পছন্দের গল্প৷
তৃতীয় গল্প, সবচেয়ে পছন্দের 'ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ'— যেখানে দেখো হয় মানুষের মস্তিষ্কে অবস্থিত নিউরোন সিন্যাপসগুলিতে ম্যানুয়ালি, অর্থাৎ গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে বাইরে থেকে বৈদ্যুতিক রসায়ন নিয়ন্ত্রণ করে কাজে লাগানো যেত, তাহলে কত অভাবনীয় কাজ করা সম্ভব হত? নিয়ন্ত্রণ করা যেত ঘুম, আবেগ, সুখদুঃখ, মেজাজ সব৷ অতি চমৎকার লেগেছে৷
বর্তমানে একটা জটিল প্রশ্ন হলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে রোবোটিক্সের (ভবিষ্যতে আর কি!) প্রয়োগ কতটুকু সফলতা দিবে৷ সায়েন্স ফিকশন বইয়ের হরমেশাই উচ্চতর দক্ষতা/বুদ্ধিমত্তার রোবটের ব্যবিহার দেখি৷ কিন্তু বাস্তবজীবনে এই ফল কতটুকু অর্থবহ হবে? এই প্রশ্নের কিছুটা আঁচ পাওয়া যাবে 'আইভা'গল্পে মানুষের সাথে রোবোটিকস সম্পর্ক বিপর্যয়ের পরিণতির মাধ্যমে৷
আর শেষ গল্প 'প্রফেসর বার্ণের নিদ্রাভঙ্গ'তে একজন বিজ্ঞানী নিজের দেহকে শীতল করে আঠারো হাজার বছরের জন্য নিদ্রায় চলে যান৷ যখন জেগে উঠেন, ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে তার জন্য কি অপেক্ষা করছিল?
( সকল সায়েন্স ফিকশন পড়ুয়াদের প্রতি রেকমেন্ড করলাম!)
সোভিয়েত সায়েন্স ফিকশনের এই গল্পগুলো গতানুগতিক ধারা থেকে অন্যরকম৷ প্রকাণ্ড আকৃতির স্পেসশিপ, ইন্টারগ্যালাকটিক ইনভ্যাশন, পৃথিবীর প্রতি জটিল বুদ্ধিমত্তাদের হুমকি ইত্যাদি থেকেও এখানে থিওরিটিক্যাল চিন্তাভাবনার ছাপ স্পষ্টভাবে লক্ষণীয়৷
গ্রহান্তরের আগন্তুকে মোট পাঁচটি গল্প৷ বিষয়বস্তুর বিবেচনায় প্রতিটা গল্পের পৃথক বৈশিষ্ট্য নিউরনে গভীর চিন্তার উদ্রেক ঘটাবে৷
প্রথম গল্প, গ্রহান্তরের আগন্তুক সেই আদিম ভিনগ্রহের প্রানীদের আবির্ভাব নিয়ে৷ তবে গল্পটা কেমন অসমাপ্ত লেগেছে কারণ বুঝে উঠার আগেই শেষ হয়ে গেলো !
দ্বিতীয় গল্প 'হৈটি টৈটি' হাতির মাথায় মানুষের মস্তিক প্রতিস্থাপনের পর যাবতীয় কর্মকান্ড এবং অনুভূতি প্রকাশের গল্প৷ এভাবেও ভাবা যায়? বইয়ের দ্বিতীয় পছন্দের গল্প৷
তৃতীয় গল্প, সবচেয়ে পছন্দের 'ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ'— যেখানে দেখো হয় মানুষের মস্তিষ্কে অবস্থিত নিউরোন সিন্যাপসগুলিতে ম্যানুয়ালি, অর্থাৎ গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে বাইরে থেকে বৈদ্যুতিক রসায়ন নিয়ন্ত্রণ করে কাজে লাগানো যেত, তাহলে কত অভাবনীয় কাজ করা সম্ভব হত? নিয়ন্ত্রণ করা যেত ঘুম, আবেগ, সুখদুঃখ, মেজাজ সব৷ অতি চমৎকার লেগেছে৷
বর্তমানে একটা জটিল প্রশ্ন হলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে রোবোটিক্সের (ভবিষ্যতে আর কি!) প্রয়োগ কতটুকু সফলতা দিবে৷ সায়েন্স ফিকশন বইয়ের হরমেশাই উচ্চতর দক্ষতা/বুদ্ধিমত্তার রোবটের ব্যবিহার দেখি৷ কিন্তু বাস্তবজীবনে এই ফল কতটুকু অর্থবহ হবে? এই প্রশ্নের কিছুটা আঁচ পাওয়া যাবে 'আইভা'গল্পে মানুষের সাথে রোবোটিকস সম্পর্ক বিপর্যয়ের পরিণতির মাধ্যমে৷
আর শেষ গল্প 'প্রফেসর বার্ণের নিদ্রাভঙ্গ'তে একজন বিজ্ঞানী নিজের দেহকে শীতল করে আঠারো হাজার বছরের জন্য নিদ্রায় চলে যান৷ যখন জেগে উঠেন, ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে তার জন্য কি অপেক্ষা করছিল?
( সকল সায়েন্স ফিকশন পড়ুয়াদের প্রতি রেকমেন্ড করলাম!)
September 3, 2021
'তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যদি লড়া হয় পরমাণু বোমা নিয়ে, তাহলে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে লড়তে হবে লাঠি দিয়ে।'
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বরাবরই আমার প্রিয়। আর তা যদি হয় ছোটগল্প, তবে তো কথাই নেই! এই বইয়ের প্রতিটি গল্পই অত্যন্ত সুন্দর। অনুবাদ পড়তে আমার কষ্ট হয় যদিও, এই বইয়ে সে সমস্যা হয়নি। ঝরঝরে অনুবাদ।
গ্রহান্তরের আগন্তুক গল্পে ছোটগল্পের নাটকীয়তা কম থাকলেও তার বৈজ্ঞানিক যুক্তিগুলো প্রচুর ভাবাচ্ছে আমায়। হৈটি টৈটি গল্পটা যদি আরও আগে পড়তাম, তবে ভালো লাগত, কিন্তু এই গল্পের এতরকম রকমফের পড়েছি যে তা আর মনে ছাপ ফেলতে পারেনি।
ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ গল্পটা ছিল অসাধারণ! এটা পড়ার পর কাঠপেন্সিলের প্রতি ভক্তি এসে গেছে।
'সুখের অনুভূতি হল ১০০ প্রেরণার এক একটা কোড সিরিজের সেকেণ্ডে ৫০ সাইকেল। দঃখের অনুভূতি হল ৬২ চক্র, দুই স্পন্দনের মধ্যে ০.১ সেকেণ্ড বিরতি....'
আইভা গল্পটার অবস্থা হৈটি টৈটির মতো। কিন্তু ভালো লেগেছে।
‘আমি বলে উঠলাম, “আইভা, কেন বুঝেছেন না যে আপনি একটা যন্ত্র।” "আর আপনিও কি যন্দ্র নন?” উত্তর দিল সে, “আপনিও আমার মতোই যন্দ্ব কেবল অন্য পদার্থে তৈরি। স্মৃতির গঠন, যোগাযোগের লাইন, সংকেত কোডবদ্ধ করার পদ্ধতি সবই তো এক রকম…..….”
তবে ছোটগল্পের আসল মজা পেয়েছি প্রফেসর বার্নের নিদ্রাভঙ্গ গল্পে। সবমিলিয়ে ভালোই লেগেছে।
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বরাবরই আমার প্রিয়। আর তা যদি হয় ছোটগল্প, তবে তো কথাই নেই! এই বইয়ের প্রতিটি গল্পই অত্যন্ত সুন্দর। অনুবাদ পড়তে আমার কষ্ট হয় যদিও, এই বইয়ে সে সমস্যা হয়নি। ঝরঝরে অনুবাদ।
গ্রহান্তরের আগন্তুক গল্পে ছোটগল্পের নাটকীয়তা কম থাকলেও তার বৈজ্ঞানিক যুক্তিগুলো প্রচুর ভাবাচ্ছে আমায়। হৈটি টৈটি গল্পটা যদি আরও আগে পড়তাম, তবে ভালো লাগত, কিন্তু এই গল্পের এতরকম রকমফের পড়েছি যে তা আর মনে ছাপ ফেলতে পারেনি।
ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ গল্পটা ছিল অসাধারণ! এটা পড়ার পর কাঠপেন্সিলের প্রতি ভক্তি এসে গেছে।
'সুখের অনুভূতি হল ১০০ প্রেরণার এক একটা কোড সিরিজের সেকেণ্ডে ৫০ সাইকেল। দঃখের অনুভূতি হল ৬২ চক্র, দুই স্পন্দনের মধ্যে ০.১ সেকেণ্ড বিরতি....'
আইভা গল্পটার অবস্থা হৈটি টৈটির মতো। কিন্তু ভালো লেগেছে।
‘আমি বলে উঠলাম, “আইভা, কেন বুঝেছেন না যে আপনি একটা যন্ত্র।” "আর আপনিও কি যন্দ্র নন?” উত্তর দিল সে, “আপনিও আমার মতোই যন্দ্ব কেবল অন্য পদার্থে তৈরি। স্মৃতির গঠন, যোগাযোগের লাইন, সংকেত কোডবদ্ধ করার পদ্ধতি সবই তো এক রকম…..….”
তবে ছোটগল্পের আসল মজা পেয়েছি প্রফেসর বার্নের নিদ্রাভঙ্গ গল্পে। সবমিলিয়ে ভালোই লেগেছে।
March 23, 2022
আমাদের ছোটোবেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সোভিয়েত রূপকথা আর বিজ্ঞানের বই। সে-যুগে অত্যন্ত ভালো প্রচ্ছদ, ছাপা, অলংকরণে আমাদের কাছে আরও একটি জিনিস এসে পৌঁছোত— সোভিয়েত কল্পবিজ্ঞান! তবে, সখেদে স্বীকার করি, তখন সে জিনিসের মর্মোদ্ধার করার ক্ষমতা ছিল না। যতদিনে সেই অবস্থায় পৌঁছোলাম, ততদিনে সোভিয়েত ইউনিয়ন আর সেইসব বইপত্র— দুই-ই গতাসু।
কিন্তু লেখাগুলো যে হারিয়ে যায়নি, তার প্রমাণ পাওয়া গেল নানা ব্লগে আর পোস্টে। সেই ধারাতেই, কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের সম্পদ বলে পরিগণিত হওয়া পাঁচটি বড়োগল্প, ননী ভৌমিকের অদ্বিতীয় অনুবাদে আমাদের সামনে ফিরে এল প্রায় ষাট বছর পরে। সেই লেখাগুলো হল~
১. আলেক্সান্দর কাজানৎসেভ-এর লেখা "গ্রহান্তরের আগন্তুক";
২. আলেক্সান্দর বেলিয়ায়েভ-এর লেখা "হৈটি টৈটি";
৩. আলেক্সান্দর দনেপ্রভ-এর "ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ";
৪. আলেক্সান্দর দনেপ্রভ-এর "আইভা";
৫. ভ্লাদিমির সাভচেঙ্কো'র লেখা "প্রফেসর বার্নের নিদ্রাভঙ্গ"।
এদের সম্বন্ধে সংক্ষেপে কিছু বলা মানে গল্পগুলোর টান এবং তা পড়ার আমেজ একেবারে বরবাদ করে দেওয়া; তাই সেই চেষ্টা করছি না। বরং আর পাঁচটা কল্পবিজ্ঞানের সঙ্গে এদের মূল পার্থক্য, তথা এই লেখাগুলোর চিরকালীন আবেদনের জায়গাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করি।
প্রথমত, এরা আদতে মানবমন, জীবন-ভাবনা এবং বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনার কথা বলে। এই তিনটে জিনিস কালের নিরিখে অচল হওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। বিজ্ঞানে যা অসম্ভব, তেমন কিছুর ধার ধারে না এই লেখারা।
দ্বিতীয়ত, ঠিক আন্তঃ-নাক্ষত্র অ্যাডভেঞ্চার বা সময়-ভ্রমণ জাতীয় কিছু না থাকলেও এই লেখাগুলোতে যে ধরনের সম্ভাবনার কথা বলা আছে, তারা যেমন চিন্তা-উদ্রেককারী, তেমনই রোমাঞ্চকর। 'ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ'-এর মতো ঘটনা যে বাস্তবে আমাদের চারপাশেই ঘটছে না, তা কে বলতে পারে?
বইটির ছাপা, বাঁধাই, সামগ্রিক পারিপাট্য নিয়ে কোনো কথা হবে না। ছোট্ট-ছোট্ট হেডপিস গল্পগুলোর মূল অভিঘাতের জায়গাটা ধরার চেষ্টা করেছে। তারই সঙ্গে বলতে বইয়ের 'মুখবন্ধ' অংশটির কথা। এই লেখাগুলো প্রকাশের ইতিহাস তথা তাদের নতুন করে ফিরে পাওয়ার গল্প ভারি সুন্দরভাবে বলা হয়েছে এতে। পড়লে বোঝা যায়, এই বইটিও দস্তুরমতো অ্যাডভেঞ্চারের ফসল। সব মিলিয়ে কল্পবিশ্ব আবারও আমাদের কৃতজ্ঞতাভাজন হলেন।
কল্পবিজ্ঞান-প্রেমী পাঠকেরা বইটি আপন করে নেবেন— এই আশা রাখি।
কিন্তু লেখাগুলো যে হারিয়ে যায়নি, তার প্রমাণ পাওয়া গেল নানা ব্লগে আর পোস্টে। সেই ধারাতেই, কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের সম্পদ বলে পরিগণিত হওয়া পাঁচটি বড়োগল্প, ননী ভৌমিকের অদ্বিতীয় অনুবাদে আমাদের সামনে ফিরে এল প্রায় ষাট বছর পরে। সেই লেখাগুলো হল~
১. আলেক্সান্দর কাজানৎসেভ-এর লেখা "গ্রহান্তরের আগন্তুক";
২. আলেক্সান্দর বেলিয়ায়েভ-এর লেখা "হৈটি টৈটি";
৩. আলেক্সান্দর দনেপ্রভ-এর "ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ";
৪. আলেক্সান্দর দনেপ্রভ-এর "আইভা";
৫. ভ্লাদিমির সাভচেঙ্কো'র লেখা "প্রফেসর বার্নের নিদ্রাভঙ্গ"।
এদের সম্বন্ধে সংক্ষেপে কিছু বলা মানে গল্পগুলোর টান এবং তা পড়ার আমেজ একেবারে বরবাদ করে দেওয়া; তাই সেই চেষ্টা করছি না। বরং আর পাঁচটা কল্পবিজ্ঞানের সঙ্গে এদের মূল পার্থক্য, তথা এই লেখাগুলোর চিরকালীন আবেদনের জায়গাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করি।
প্রথমত, এরা আদতে মানবমন, জীবন-ভাবনা এবং বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনার কথা বলে। এই তিনটে জিনিস কালের নিরিখে অচল হওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। বিজ্ঞানে যা অসম্ভব, তেমন কিছুর ধার ধারে না এই লেখারা।
দ্বিতীয়ত, ঠিক আন্তঃ-নাক্ষত্র অ্যাডভেঞ্চার বা সময়-ভ্রমণ জাতীয় কিছু না থাকলেও এই লেখাগুলোতে যে ধরনের সম্ভাবনার কথা বলা আছে, তারা যেমন চিন্তা-উদ্রেককারী, তেমনই রোমাঞ্চকর। 'ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ'-এর মতো ঘটনা যে বাস্তবে আমাদের চারপাশেই ঘটছে না, তা কে বলতে পারে?
বইটির ছাপা, বাঁধাই, সামগ্রিক পারিপাট্য নিয়ে কোনো কথা হবে না। ছোট্ট-ছোট্ট হেডপিস গল্পগুলোর মূল অভিঘাতের জায়গাটা ধরার চেষ্টা করেছে। তারই সঙ্গে বলতে বইয়ের 'মুখবন্ধ' অংশটির কথা। এই লেখাগুলো প্রকাশের ইতিহাস তথা তাদের নতুন করে ফিরে পাওয়ার গল্প ভারি সুন্দরভাবে বলা হয়েছে এতে। পড়লে বোঝা যায়, এই বইটিও দস্তুরমতো অ্যাডভেঞ্চারের ফসল। সব মিলিয়ে কল্পবিশ্ব আবারও আমাদের কৃতজ্ঞতাভাজন হলেন।
কল্পবিজ্ঞান-প্রেমী পাঠকেরা বইটি আপন করে নেবেন— এই আশা রাখি।
September 2, 2020
আবার পড়া গেলো। তো এক দশকের বেশি সময়ের ব্যাবধানে পুনঃপাঠে যে পাঠের মাজেজা অনেকখানি বদলে যাবে তাই স্বাভাবিক। কিন্তু কেমন এক পরিস্থিতির পাটাতনে দাঁড়িয়ে সোভিয়েত দেশে ঝাঁকে ঝাঁকে চিন্তক-বিজ্ঞানী এমন সব কল্পনার আবছা মেঘকে বাস্তবতার জমিনে নামিয়ে আনবার প্রয়াস খুঁজে পান তার একটা সুলুক সন্ধান করা যেতে পারে। বহু পাঁড় বিজ্ঞানী হাতে তুলে নিয়েছেন কলম, আর বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসু মনেই সাজিয়েছেন গল্প। তত দিনে সম্পদের সমবণ্টনের ভিত্তিতে একটি সমাজ-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে। সম্পদের সমবণ্টন অনেকখানি করা গেলেও ক্ষমতার সমবণ্টন করা গেলো কি? এই ক্ষমতার অসমবণ্টনের প্রভাব সেই সমাজের শিল্প-সাহিত্য-বিজ্ঞানেও সঙ্গত কারণে তার ছাপ রেখে গেছে বিভিন্ন-বিচিত্র মাত্রায়। ততদিনে আবার শুরু হয়ে গেছে ঠাণ্ডা যুদ্ধও। এর হাত ধরে আসতে শুরু করছে চমকপ্রদ সব প্রাযুক্তিক-বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। পৃথিবীর দুই গোলার্ধ জুড়ে মানব মনীষার চরম সব অগ্রগতি। কিন্তু এই অগ্রগতি আসলে প্রকৃতির উপর প্রভুত্ব বিস্তারেই।
গ্রহান্তরের আগন্তুক নিয়ে ভাবতে গেলে খুব সহজেই ভিনগ্রহবাসীদের ছবি চোখে ভাসতে পারে। বরং গল্পটি আসলে মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছু দার্শনিক সম্ভাবনার গল্প। গল্পের সব চরিত্ররাই বৈজ্ঞানিক এবং তাদের কথোপকথনে আলো ফেলেছেন বহির্জাগতিক প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে। তবে সব কিছুই পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের যে জ্ঞান তার উপর ভিত্তি করে।
হৈটি টৈটি আসলে অতিমানব সুলভ মস্তিষ্কবিজ্ঞানীর কায়কাবারের আড়ালে মানুষের প্রাণ-প্রকৃতির সাথে চরম অমানবিক আচরণের বয়ান। আমরা গল্পটিকে এভাবেও পড়েতে পারি।
ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ, নামের অনুগামী না হয়ে আসলে মানুষের মুক্তির সনদ- সমীকরণ। ব্যক্তিগত লোভে আক্রান্ত কোন মানুষ যখন নিজের লাভের আশায় বিজ্ঞানকে পুঁজি করে অন্যদের উপর চালায় পাশবিক নির্যাতন, তখন সামান্যতম বোধ-জ্ঞান সম্পন্ন মানুষের পক্ষে কি চুপ করে থাকা যায়? সে হয়তো উপায় খুঁজে বেড়ায়, হয়তো সব সময় পায় না। এই গল্পে প্রফেসর রাউখ বিজ্ঞানের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বিপ্লবটা ঘটিয়েছেন বিজ্ঞানকেই কাজে লাগিয়ে। ম্যাক্সওয়েল সমীকরণকে কাজে লাগিয়ে। গল্পের নাম ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ হলেও এটি আসলে বিজ্ঞানের ছায়ায় মানুষের প্রতিবাদী সত্তার বয়ান। তবে মজার ব্যাপার হলো, প্রফেসর রাউখ দুষ্ট বিজ্ঞানীকে মানুষের মস্তিষ্কের অপব্যবহার করা থেকে চমকপ্রদ উপায়ে বিরত করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র সেই দুষ্ট বিজ্ঞানীকে প্রশ্রয় দেয় এবং রাষ্ট্রীয় মদদে শুরু হয়ে আরও বৃহৎ পরিসরে মানব মস্তিষ্কের চরম অপব্যবহার। ক্ষমতার সমবণ্টন এবং জনতার ক্ষমতায় অংশগ্রহণহীন এক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক, তা যতই সম্পদের সমবণ্টন হোকনা কেন।
গ্রহান্তরের আগন্তুক নিয়ে ভাবতে গেলে খুব সহজেই ভিনগ্রহবাসীদের ছবি চোখে ভাসতে পারে। বরং গল্পটি আসলে মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছু দার্শনিক সম্ভাবনার গল্প। গল্পের সব চরিত্ররাই বৈজ্ঞানিক এবং তাদের কথোপকথনে আলো ফেলেছেন বহির্জাগতিক প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে। তবে সব কিছুই পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের যে জ্ঞান তার উপর ভিত্তি করে।
হৈটি টৈটি আসলে অতিমানব সুলভ মস্তিষ্কবিজ্ঞানীর কায়কাবারের আড়ালে মানুষের প্রাণ-প্রকৃতির সাথে চরম অমানবিক আচরণের বয়ান। আমরা গল্পটিকে এভাবেও পড়েতে পারি।
ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ, নামের অনুগামী না হয়ে আসলে মানুষের মুক্তির সনদ- সমীকরণ। ব্যক্তিগত লোভে আক্রান্ত কোন মানুষ যখন নিজের লাভের আশায় বিজ্ঞানকে পুঁজি করে অন্যদের উপর চালায় পাশবিক নির্যাতন, তখন সামান্যতম বোধ-জ্ঞান সম্পন্ন মানুষের পক্ষে কি চুপ করে থাকা যায়? সে হয়তো উপায় খুঁজে বেড়ায়, হয়তো সব সময় পায় না। এই গল্পে প্রফেসর রাউখ বিজ্ঞানের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বিপ্লবটা ঘটিয়েছেন বিজ্ঞানকেই কাজে লাগিয়ে। ম্যাক্সওয়েল সমীকরণকে কাজে লাগিয়ে। গল্পের নাম ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ হলেও এটি আসলে বিজ্ঞানের ছায়ায় মানুষের প্রতিবাদী সত্তার বয়ান। তবে মজার ব্যাপার হলো, প্রফেসর রাউখ দুষ্ট বিজ্ঞানীকে মানুষের মস্তিষ্কের অপব্যবহার করা থেকে চমকপ্রদ উপায়ে বিরত করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র সেই দুষ্ট বিজ্ঞানীকে প্রশ্রয় দেয় এবং রাষ্ট্রীয় মদদে শুরু হয়ে আরও বৃহৎ পরিসরে মানব মস্তিষ্কের চরম অপব্যবহার। ক্ষমতার সমবণ্টন এবং জনতার ক্ষমতায় অংশগ্রহণহীন এক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক, তা যতই সম্পদের সমবণ্টন হোকনা কেন।
November 2, 2016
মোট ৫টা গল্পের সংকলন
গল্প ১ - গ্রহান্তরের আগন্তুক - চিরায়ত এলিয়েন কাহিনী। অমুক গ্রহে প্রাণ আছে সেই প্রাণীরা পৃথিবীতে আসছেন। রাশিয়ার তুস্ক্রেভ (বানান কনফিউজড) অঞ্চলের বিখ্যাত উল্কাপাতের সাথে মিলিয়ে যখনই কাহিনী জমজামাট হয়ে উঠছিল তখনই হঠাৎ করেই শেষ :(
অন্তত ভেবেছিলাম এলিয়েনরা নিদেনপক্ষে আরেকবার আসবে কিংবা মানুষেরাই যাবে। কিন্তু হুট করেই শেষ।
গল্প ২ - হৈটি টৈটি - আমি ভুল না করলে হুমায়ূন আহমেদ এই বইটার কথা তার কোন এক অত্মজীবনীতে বলেছিলেন। তখন থেকেই বইটা পড়ার ইচ্ছা ছিল।এবং এই গল্প সংকলনের সেরা গল্প।
এক মানুষের মস্তিষ্ক হাতির মাথায় ট্রান্সপ্লান্ট করার পর সেই হাতির অনুভুতি, মানুষের মাথা নিয়ে হাতির শরীলে বেঁচে থাকার গল্প।
গল্প ৩) ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ - ২য় সেরা গল্প। মানুষের মস্তিষ্ককে বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রন করার গল্প।
গল্প ৪) আইভা - এই গল্পটা রোবটিক্সের । মানুষ রোবট বানানোর পর থেকেই সায়েন্স ফিকশনে এক নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে সেটা হল রোবটের সাথে মানুষের সংঘাত। রোবট বানাইলেই তো হবে না সেটা দিয়ে মানুষের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেটাই খেয়াল রাখতে হবে। এক বিগড়ে যাওয়া রোবট আর তার আবিষ্কার এর সংঘাত।
গল্প ৫) প্রফেসর বার্নের নিদ্রা ভঙ্গ - হৈটি টৈটির মত এই বইটাও খুবই ভাল লেগেছে।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যদি লড়া হয় পরমাণু বোমা দিয়ে তাহলে পরের যুদ্ধটা লড়তে হবে লাঠি দিয়ে।
এই সামান্য বাক্যটার ভিতরে যে কি পরিমান হিউমার এবং আতংক লুকিয়ে আছে।
এই গল্পটা লেখা হয়েছে ক্রায়োপ্রিজারভেশন নিয়ে। এক অধ্যাপক লুকিয়ে তার বন্ধুকে দিয়ে নিজের দেহ শীতল করে ১৮হাজার বছরের জন্য নিদ্রায় চলে গেলেন। যখনই ধরে নিয়েছি কোন টুইস্ট নাই অতি গৎবাঁধা সমাপ্তি তখনই একটা ভাল বাঁক নিয়েছে।
এই যুগে এই রকম সায়েন্স ফিকশন অতি পানি ভাত টাইপ। মানে প্রতিটা প্লটেই মনে হবে দূর এই গুলা তো আগেও কোথায় জানি পড়েছি । কিন্তু মাথায় রাখেন যে সময়ে বই গুলা লেখা হয়েছিল। সেই সময়ে এই গুলা চিন্তা করাটা আসলেই গ্রেট।
গল্প ১ - গ্রহান্তরের আগন্তুক - চিরায়ত এলিয়েন কাহিনী। অমুক গ্রহে প্রাণ আছে সেই প্রাণীরা পৃথিবীতে আসছেন। রাশিয়ার তুস্ক্রেভ (বানান কনফিউজড) অঞ্চলের বিখ্যাত উল্কাপাতের সাথে মিলিয়ে যখনই কাহিনী জমজামাট হয়ে উঠছিল তখনই হঠাৎ করেই শেষ :(
অন্তত ভেবেছিলাম এলিয়েনরা নিদেনপক্ষে আরেকবার আসবে কিংবা মানুষেরাই যাবে। কিন্তু হুট করেই শেষ।
গল্প ২ - হৈটি টৈটি - আমি ভুল না করলে হুমায়ূন আহমেদ এই বইটার কথা তার কোন এক অত্মজীবনীতে বলেছিলেন। তখন থেকেই বইটা পড়ার ইচ্ছা ছিল।এবং এই গল্প সংকলনের সেরা গল্প।
এক মানুষের মস্তিষ্ক হাতির মাথায় ট্রান্সপ্লান্ট করার পর সেই হাতির অনুভুতি, মানুষের মাথা নিয়ে হাতির শরীলে বেঁচে থাকার গল্প।
গল্প ৩) ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ - ২য় সেরা গল্প। মানুষের মস্তিষ্ককে বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রন করার গল্প।
গল্প ৪) আইভা - এই গল্পটা রোবটিক্সের । মানুষ রোবট বানানোর পর থেকেই সায়েন্স ফিকশনে এক নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে সেটা হল রোবটের সাথে মানুষের সংঘাত। রোবট বানাইলেই তো হবে না সেটা দিয়ে মানুষের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেটাই খেয়াল রাখতে হবে। এক বিগড়ে যাওয়া রোবট আর তার আবিষ্কার এর সংঘাত।
গল্প ৫) প্রফেসর বার্নের নিদ্রা ভঙ্গ - হৈটি টৈটির মত এই বইটাও খুবই ভাল লেগেছে।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যদি লড়া হয় পরমাণু বোমা দিয়ে তাহলে পরের যুদ্ধটা লড়তে হবে লাঠি দিয়ে।
এই সামান্য বাক্যটার ভিতরে যে কি পরিমান হিউমার এবং আতংক লুকিয়ে আছে।
এই গল্পটা লেখা হয়েছে ক্রায়োপ্রিজারভেশন নিয়ে। এক অধ্যাপক লুকিয়ে তার বন্ধুকে দিয়ে নিজের দেহ শীতল করে ১৮হাজার বছরের জন্য নিদ্রায় চলে গেলেন। যখনই ধরে নিয়েছি কোন টুইস্ট নাই অতি গৎবাঁধা সমাপ্তি তখনই একটা ভাল বাঁক নিয়েছে।
এই যুগে এই রকম সায়েন্স ফিকশন অতি পানি ভাত টাইপ। মানে প্রতিটা প্লটেই মনে হবে দূর এই গুলা তো আগেও কোথায় জানি পড়েছি । কিন্তু মাথায় রাখেন যে সময়ে বই গুলা লেখা হয়েছিল। সেই সময়ে এই গুলা চিন্তা করাটা আসলেই গ্রেট।
November 17, 2016
বেশ কয়েকটি রাশিয়ান সায়েন্স ফিকশান গল্পের সংকলন, এবং প্রত্যেকটাই মাস্টারপিস। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বইটা শেষ করলাম। প্রতিবারই সমান ভাগলাগা কাজ করেছে।
.
মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং হুমায়ূন আহমেদরা সম্ভবত এইসব বই পড়েই বাংলা ভাষায় সায়েন্স ফিকশান লেখার জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদ তাঁর কোন আত্মজীবনীতে এই বইয়ের একটি গল্প (হৈটি টৈটি) উল্লেখ করেছিলেন।
.
মোট পাঁচটি ছোট গল্প আছে। প্রত্যেক গল্পেরই আলাদা আলাদা বিশেষত্ব আছে। বিশেষ করে আমার মত সায়েন্স ফিকশন ভক্তের পাঠকদের প্রতিটা গল্পই ভালো লাগবে।
.
বাংলাভাষায় অনুদিত রাশিয়ান সাহিত্য ইউনিকোডে সংরক্ষণ করার একট উদ্যোগ নিয়েছে একটি ওয়েবসাইট। বইটা সেখান থেকেই ডাউনলোড করা।
.
ওয়েবসাইটটির ঠিকানাঃ http://sovietbooksinbengali.blogspot.in
.
মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং হুমায়ূন আহমেদরা সম্ভবত এইসব বই পড়েই বাংলা ভাষায় সায়েন্স ফিকশান লেখার জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদ তাঁর কোন আত্মজীবনীতে এই বইয়ের একটি গল্প (হৈটি টৈটি) উল্লেখ করেছিলেন।
.
মোট পাঁচটি ছোট গল্প আছে। প্রত্যেক গল্পেরই আলাদা আলাদা বিশেষত্ব আছে। বিশেষ করে আমার মত সায়েন্স ফিকশন ভক্তের পাঠকদের প্রতিটা গল্পই ভালো লাগবে।
.
বাংলাভাষায় অনুদিত রাশিয়ান সাহিত্য ইউনিকোডে সংরক্ষণ করার একট উদ্যোগ নিয়েছে একটি ওয়েবসাইট। বইটা সেখান থেকেই ডাউনলোড করা।
.
ওয়েবসাইটটির ঠিকানাঃ http://sovietbooksinbengali.blogspot.in
September 13, 2023
পাঁচটি গল্প, বিষয়বস্তু বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর লিখন সময় হিসেবে এগুলো অনেক আগের অথচ এই আধুনিক সময়ে এসেও এগুলোর স্বাদ এতটুকুও কমেনি।ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ গল্পে দেখা যায় মানুষের মস্তিষ্কের অদ্ভুত ব্যবহার।এই গল্প অনেকটা থ্রিলার ধাঁচের।বেশি ভালো লেগেছে এটাই।অন্যদিকে আইভা ও প্রফেসর বার্নের নিদ্রাভঙ্গ – গল্প দুটিও বেশ আকর্ষণীয়।
July 27, 2022
মাস্টারপিস । দারুন সব কাহিনী নিয়ে লেখা , চুম্বকের মত ধরে রাখে । নিঃসন্দেহে ১০/১০
April 16, 2023
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া
.
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ : পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে গিয়ে আলোচনায় কোনো স্পয়লার থেকে থাকতে পারে। তাই স্পয়লার এলার্ট দিয়ে রাখলাম। যদি স্পয়লার ছাড়া বই পাঠের সুখ নিতে চান, তাহলে এই প্রতিক্রিয়া পড়বেন না।
.
📕 বই : "গ্রহান্তরের আগন্তুক"
✍🏻 লেখক : বিবিধ ; ভাষান্তর : ননী ভৌমিক
🖌️ প্রচ্ছদ : কল্পবিশ্ব
🖨️ প্রকাশক : কল্পবিশ্ব পাবলিকেশন
📄 পৃষ্ঠা : ২৩২
💰 মুদ্রিত মূল্য : ₹ ২৭৫/- (পেপারব্যাক)
.
🍂 বিষয়বস্তু :
৫টি কল্পবিজ্ঞান গল্পের সংকলন :
📌 গ্রহান্তরের আগন্তুক
📌 হৈটি টৈটি
📌 ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ
📌 আইভা
📌 প্রফেসার বার্নের নিদ্রাভঙ্গ
একেবারে নির্ভেজাল পাঁচটি কল্পবিজ্ঞান গল্প সংকলন।
ননী ভৌমিকের অনুবাদে ফিরে এল রাশিয়ান কল্পবিজ্ঞান সংকলন গ্রহান্তরের আগন্তুক। এতে রয়েছে পাঁচটি বিখ্যাত রাশিয়ান কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস।
.
🍁 প্রতিক্রিয়া :
যদি জিভের ব্যায়াম করতে ইচ্ছুক থাকেন, অবশ্যই রাশিয়ান অনুবাদ পড়বেন! মনে হবে কাইসা জিভ লকলকাইং... যাকগে আসল কথা বলি, এই বই পড়ে যা বুঝলাম, এ অনেক উচ্চ স্তরের কল্পবিজ্ঞান। বলা ভালো এই বইয়ে যাঁদের লেখা সংকলিত হয়েছে তাঁরা শুধুমাত্র কল্পনা নির্ভর কল্পবিজ্ঞান লেখেননি; লিখেছেন বিজ্ঞান ভিত্তিক কল্পবিজ্ঞান।
স্পেকুলেশন, সায়েন্টিফিক থিওরিজ, ইকুয়েশন, ভূত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ-ভবিষ্যৎ এই তিন ক্ষেত্রে সেই বিজ্ঞানের প্রভাব - এমন বহুবিধ জটিল বিষয় নিয়ে লেখা এই গল্পগুলি। শুধুমাত্র অংকের থিওরি নিয়ে রয়েছে একটা গোটা গল্প! ভাবুন তাহলে, এই লেখাগুলো সেই কবে যখন USSR ছিল, সেই সময়ে লেখা! ভাবতেই কিরম রোমাঞ্চ হচ্ছে যে সেই সময় ওদেশের লেখকরা এমন আধুনিক কল্পবিজ্ঞান ভেবেছিলেন!
বেশি চর্চায় যাচ্ছি না, কারণ এই গল্পগুলো যাকে বলে হার্ডকোর সাই-ফাই। কল্পবিজ্ঞান নিয়ে মনের মধ্যে ভালোবাসা না থাকলে এই লেখাগুলো মাথার একহাত ওপর দিয়ে যাবে।
আমার কথাটি ফুরোল, নটে গাছটি মুড়োল...
.
🌿 Final Verdict :
রাশিয়ান ভাষা তো জানি না! তবে অনুবাদের মান দুর্দান্ত। কোথাও হোঁচট খেতে হয়নি... ইয়ে ওই নামুচ্চারণ ছাড়া! উচ্চ মার্গের জিভের ব্যায়াম হয়েছে। বই পড়ে দারুন লেগেছে। মানে আমি তো একটু ওই সাই-ফাই খোর মানুষ! হেঃ হেঃ!
তবে মন দিয়ে পড়লে বেশ ভালো লাগবে এটুকু বলতে পারি। 'হৈটি টৈটি' আর 'আইভা' - পাঁচটি গল্পের মধ্যে আমার কাছে সেরা দুই।
.
"গ্রহান্তরের আগন্তুক " বই প্রকাশ করেছে কল্পবিশ্ব পাবলিকেশন '। বইয়ের গুণগত মান, পৃষ্ঠার মান, ছাপা, বাঁধাই - অনবদ্য। আমি কোনো মুদ্রণ প্রমাদ পাইনি।
.
ধন্যবাদান্তে-
শ্রী অনির্বাণ ঘোষ (দীপ) 🙏🏻
.
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ : পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে গিয়ে আলোচনায় কোনো স্পয়লার থেকে থাকতে পারে। তাই স্পয়লার এলার্ট দিয়ে রাখলাম। যদি স্পয়লার ছাড়া বই পাঠের সুখ নিতে চান, তাহলে এই প্রতিক্রিয়া পড়বেন না।
.
📕 বই : "গ্রহান্তরের আগন্তুক"
✍🏻 লেখক : বিবিধ ; ভাষান্তর : ননী ভৌমিক
🖌️ প্রচ্ছদ : কল্পবিশ্ব
🖨️ প্রকাশক : কল্পবিশ্ব পাবলিকেশন
📄 পৃষ্ঠা : ২৩২
💰 মুদ্রিত মূল্য : ₹ ২৭৫/- (পেপারব্যাক)
.
🍂 বিষয়বস্তু :
৫টি কল্পবিজ্ঞান গল্পের সংকলন :
📌 গ্রহান্তরের আগন্তুক
📌 হৈটি টৈটি
📌 ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ
📌 আইভা
📌 প্রফেসার বার্নের নিদ্রাভঙ্গ
একেবারে নির্ভেজাল পাঁচটি কল্পবিজ্ঞান গল্প সংকলন।
ননী ভৌমিকের অনুবাদে ফিরে এল রাশিয়ান কল্পবিজ্ঞান সংকলন গ্রহান্তরের আগন্তুক। এতে রয়েছে পাঁচটি বিখ্যাত রাশিয়ান কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস।
.
🍁 প্রতিক্রিয়া :
যদি জিভের ব্যায়াম করতে ইচ্ছুক থাকেন, অবশ্যই রাশিয়ান অনুবাদ পড়বেন! মনে হবে কাইসা জিভ লকলকাইং... যাকগে আসল কথা বলি, এই বই পড়ে যা বুঝলাম, এ অনেক উচ্চ স্তরের কল্পবিজ্ঞান। বলা ভালো এই বইয়ে যাঁদের লেখা সংকলিত হয়েছে তাঁরা শুধুমাত্র কল্পনা নির্ভর কল্পবিজ্ঞান লেখেননি; লিখেছেন বিজ্ঞান ভিত্তিক কল্পবিজ্ঞান।
স্পেকুলেশন, সায়েন্টিফিক থিওরিজ, ইকুয়েশন, ভূত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ-ভবিষ্যৎ এই তিন ক্ষেত্রে সেই বিজ্ঞানের প্রভাব - এমন বহুবিধ জটিল বিষয় নিয়ে লেখা এই গল্পগুলি। শুধুমাত্র অংকের থিওরি নিয়ে রয়েছে একটা গোটা গল্প! ভাবুন তাহলে, এই লেখাগুলো সেই কবে যখন USSR ছিল, সেই সময়ে লেখা! ভাবতেই কিরম রোমাঞ্চ হচ্ছে যে সেই সময় ওদেশের লেখকরা এমন আধুনিক কল্পবিজ্ঞান ভেবেছিলেন!
বেশি চর্চায় যাচ্ছি না, কারণ এই গল্পগুলো যাকে বলে হার্ডকোর সাই-ফাই। কল্পবিজ্ঞান নিয়ে মনের মধ্যে ভালোবাসা না থাকলে এই লেখাগুলো মাথার একহাত ওপর দিয়ে যাবে।
আমার কথাটি ফুরোল, নটে গাছটি মুড়োল...
.
🌿 Final Verdict :
রাশিয়ান ভাষা তো জানি না! তবে অনুবাদের মান দুর্দান্ত। কোথাও হোঁচট খেতে হয়নি... ইয়ে ওই নামুচ্চারণ ছাড়া! উচ্চ মার্গের জিভের ব্যায়াম হয়েছে। বই পড়ে দারুন লেগেছে। মানে আমি তো একটু ওই সাই-ফাই খোর মানুষ! হেঃ হেঃ!
তবে মন দিয়ে পড়লে বেশ ভালো লাগবে এটুকু বলতে পারি। 'হৈটি টৈটি' আর 'আইভা' - পাঁচটি গল্পের মধ্যে আমার কাছে সেরা দুই।
.
"গ্রহান্তরের আগন্তুক " বই প্রকাশ করেছে কল্পবিশ্ব পাবলিকেশন '। বইয়ের গুণগত মান, পৃষ্ঠার মান, ছাপা, বাঁধাই - অনবদ্য। আমি কোনো মুদ্রণ প্রমাদ পাইনি।
.
ধন্যবাদান্তে-
শ্রী অনির্বাণ ঘোষ (দীপ) 🙏🏻
January 1, 2018
পাঁচটা গল্পের পাঁচটাই দারুণ। তবে ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ টা তার ভেতর থেকেও দারুণ। সত্যিকারের বৈজ্ঞানিক তথ্য আছে গল্পগুলিতে। সম্ভাবনার ব্যাপার স্যাপার ও আছে। পড়তে আনন্দ হয়। কখনো ইতিহাসের অন্তীমে কখনো ভবিষ্যতের চূড়ান্তে কত স্থান কাল পাত্রে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এসব গল্প। লোভ হয়, যদি সহস্র বছর বাঁচতে পারতাম! আর যদি বিজ্ঞানী হতে পারতাম!!
Displaying 1 - 11 of 11 reviews












