This earliest known work in Islam devoted entirely to women's spirituality was written by the Persian Sufi Abu 'Abd ar-Rahman as-Sulami. The long-lost text provides portraits of 80 Sufi women who lived in the central Islamic lands between the 8th and 11th centuries C.E. As spiritual masters and exemplars of Islamic piety, they served as respected teachers and guides in the same way as did Muslim men, often surpassing men in their understanding of Sufi doctrine, the Qur'an, and Islamic spirituality. This bilingual edition includes pages from 10th-century manuscript.
•যিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বাদিস সুফিয়্যাত। •বাঙলা— নারী সুফিদের জীবনকথা।
পুরুষদের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা দ্বীনের অনেক খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে দ্বীনকে পরিচালিত করেছেন। তাদের মাঝে মনোনীত করেছেন কাউকে নবী আলাইহিসালাম হিসেবে, কাউকে রাসূল হিসেবে। পুরুষরা দ্বীনের জন্য ছুটেছেন মরুভূমি, পাহাড়, গিরিপথ, সাগর নদী, সবকিছু উপেক্ষা করে তারা দ্বীনের বাণী সমূহ পৌঁছে দিয়েছেন পৃথিবীতে। পুরুষদের সঙ্গিনীরূপে নারীদের যে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তাদের থেকে কী তিনি খেদমত নিবেন না? অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তাদের থেকে খেদমত গ্রহণ করেছেন। তাদের ভালোবাসায় আল্লাহ সন্তুষ্টও হয়েছেন। নারীরা দ্বীনের কাজ ঘরে করেছেন। ছেলে, ভাই, বোন, তাদের কে আল্লাহমুখি ও রবের জন্য সবকিছু করতে ও ছেড়ে দিতে শিখিয়েছেন।
দুনিয়াতে পুরুষ সুফির পাশাপাশি নারী সুফিও রয়েছেন। পুরুষরা যেমন দুনিয়া-বিরাগি ছিলেন, নারীরাও তেমনি ছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ সুফিদের ছাড়িয়েও গেছেন। তাই তো,পুরুষদের থেকে নবী, রাসূল আসলেও। অলি, এসেছে নারী,পুরুষ উভয়ের থেকেই।
পুরুষ সুফিদের মধ্য থেকে সুফিয়ান ছাওরি, যুনযুন মিসরি, ইয়াযিদ বেসতামি সহ তাসাউফের সকল ইমাম ও সুফি সাধকদের জীবন সম্পর্কে প্রায়সকল মানুষদের নিকট পরিচিতি এবং তাঁদের চেনেও। কিন্তু নারীদের মাঝেও যে নারী সুফি সাধক, তাসাউফের ইলম। তাসাউফের স্তর আরিফ ও হাল-হাকিকত, কারামত, কাশফওয়ালী নারী সুফি রয়েছে তা অনেক মানুষরই অজানা। তাঁদের ইলম সম্পর্কে সম্যক কিম্বা কিছুমাত্র জ্ঞান আমাদের নেই। নারী সুফিদের মাঝে, মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের মা, মারিয়াম আলাইহিসসালাম, রাসূল সাঃ স্ত্রী খাদিজা রাদিআল্লাহু আনহুমাকে ধরা যায়। তাঁরা ছিলেন আল্লাহর অলি।
•বইয়ের প্রচ্ছদ ও বাঁধায়▪
বইয়ের প্রচ্ছদ ও বাঁধায় সম্পর্কে বলতে গেলে। বইটি ছিলো বোর্ডবাঁধায়, প্রচ্ছদের কারুকার্যে বইয়ের টেক্সের সুন্দর ইঙ্গিতবহ দিকটি স্পষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেছে। ১৯৯১ সালের কথা বিশিষ্ট গবেষক ড. মাহমুদ তানাহি ইমাম মুহাম্মদ ইবন সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির পুরানো সংগ্রহশালায় একটি সুলামিয়্যাত বা শায়খ সুলামির রচনাসমগ্র খুঁজে পান। সেখানে মোট ২৬ টি দুষ্প্রাপ্য রিসালা ছিল। সেগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় রিসালাটির নাম যিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বাদিস সুফিয়্যাত। ড. তানাহির সম্পাদনায় সর্বপ্রথম মাকতাবাতুল খানজি থেকে ২০০৩ খ্রি. প্রকাশিত হয়।
•মূল লেখক শায়খ আবু আব্দুর রহমান সুলামির সংক্ষিপ্ত জীবনী ও লেখালেখি ▪
শায়খ সুলামির পুরো নাম মুহাম্মদ ইবন আল হুসাইন ইবন মূসা ইবন খালিদ ইবন সালিম ইবন যা-উইয়া ইবন সাঈদ ইবন কাবিসা ইবন সাররাক আল আযদি আস্ সুলামি। বাবার দিক থেকে আযদ গোত্রের এবং মায়ের দিক থেকে সুলায়ম গোত্রের ছিলেন। তিনি জমাদিউস সানির এক বুধবার ৩২৫ হি./ ৯৩৬ খ্রি. খোরাসানে জন্মগ্রহণ করেন। হাদিস, তাফসির, তাসাউফ ও তারিখ সম্পর্কে উচ্চশিক্ষার জন্য শায়েখ সুলামি হিজাজ, মার্ভ, ইরাক, হামাদান, রায়সহ বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছিলেন। লেখালেখির দিক থেকে সমসাময়িক সুফি ও মুহাদ্দিসদের মধ্যে শায়খ সুলামি সবার চেয়ে অগ্রণী ছিলেন। তাঁর লেখার সূত্র ধরেই তাসাউফের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশধারা, সুফিদের ইতিহাস ও শিক্ষার এক বিরাট অংশ আজও আমাদের জানার সুযোগ হচ্ছে। ইমাম যাহাবি বলেছেন শায়খ সুলামি তাসাউফ শাস্ত্র নিয়ে ৭০০ খণ্ড লিখেছেন। আরো অন্যন্য বিষয় ও হাদীস নিয়ে ৩০০ খণ্ড লিখেছেন।
•বইটা পড়ে আমার কেমন লেগেছে▪
বইটা পড়ার অনুভূতি প্রকাশ করবার মতো উপযুক্ত শব্দ আমার জানা নেই। একজন একজন নারী সুফিদের জীবনকথা ও প্রেম নিয়ে যখন জানছিলাম। আশ্চর্য ও অবাক হয়ে থ মেরে কতক্ষণ বসে থাকতাম। চারপাশ কেমন ম্রিয়মাণ হয়ে যেতো, ছেলেদের পড়ার শব্দ আর কোলাহল কোথায় যেনো হারিয়ে যেতো। গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যেতো, চেহারায় হাসি ফুটতো আ'শেক মা'শুকের প্রেমের কথোপকথন পড়ে পড়ে!
জাগতিক প্রেমের প্রতি মানুষের মোহ, আকষর্ণ, আবেগ তার দৃষ্টান্ত ও চিত্র আমাদের সবার জানা আছে। জাগতিক প্রেমের জন্য মানুষ বাবা, মা, সন্তান থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজনদের ছেড়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। এতো জাগতিক প্রেমের সব থেকে উৎকৃষ্ট উদাহরণ। জাগতিক প্রেম মুছে, কেউ যদি প্রেম করে তার স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে! তাহলে মানুষ বাবা, মা, সন্তান ছেড়ে দিলেও তো কম হবে। তবে, যারা আল্লাহর প্রেমে পড়ে যায়, সে বাবা,মা, সন্তান, আত্মীয় স্বজনদের অধিকার অন্যদের তুলনায় উত্তমরূপে আদায় করবে।
জাগতিক প্রেম দেখা যায়। আল্লাহর সাথে বান্দার প্রেম দেখা যায় না। এ প্রেম হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত। স্রষ্টার জন্য মাজনূন মা'শুক জানে হৃদয়ে লালন করা রবের জন্য ভালোবাসা কী করে প্রকাশ করতে হয়। তাই তো তিনারা দুনিয়া ছেড়ে দিয়ে যুহদের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
•অনুবাদ নিয়ে কিছু কথা ▪ বইয়ের অনুবাদের কথা বলতে গেলে ভালোই হয়েছে। অনুবাদক, আরবী শব্দগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ অর্থ তুলেছেন। আরবী শব্দের বাঙলার প্রকৃত অর্থ তিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কিছু শব্দের বাঙলা অর্থ তুলেনি অনুবাদক। বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে শব্দগুলোর পরিচিত হওয়া, আরবীর সাথে বাংলা অর্থের সামানঞ্জস্যতা রাখতে এবং শ্রুতিমাধুর্যতা ধরে রাখতে অনুবাদক কিছু আরবী শব্দ আরবীর উপর বহাল রেখেছেন। মূল পাণ্ডুলিপি হুবহু অনুবাদ করেছেন বলে, কোথাও যদি মূল পাণ্ডুলিপির জায়গাটি অস্পষ্ট তাহলে তিনি জায়গাটি খালি রেখেছেন। তাতেই বুঝা যায় অনুবাদক অনুবাদের ক্ষেত্রে খুব যত্নশীল, হৃদয়ের গভীর থেকে তিনি বইটির বাঙলা অনুবাদ করেছেন।
•বইটির প্রয়োজনীয়তা▪ সুফি সাধকদের আমরা নামে চিনি, তাদের কারামত ও কাশফের কথা শুনেছি। বর্তমানে কোনো সুফিসাধক থেকে থাকে; তাহলে উনাদের মুরিদানরা দেখে থাকবে। কিন্তু তাদের জীবন ও অন্যান্য আচরণবিধি। রবের সাথে একনিষ্ঠ প্রেমের চিত্র। ভালোবাসা যাহির করতে উনাদের মুখনিঃসৃত অভিব্যক্তি। আমরা তাদের জীবন, হাল, আ'রিফের অবস্থা ও তাদের জীবনের আচরণবিধি কখনো দেখিনি। শুনিনি কখনো তাদের মুখনিঃসৃত রবের সাথে প্রেমপূর্ণ আচরণের কথামালা। পুরুষ সুফিসাধকদের আমরা জানি, তাদের কথা শুনেছি। তাদের জীবনীও অনেকে পড়েছি। পুরুষ সুফিদের সাথে পাল্লা দিয়ে নারীদের মাঝেও "নারী সুফি সাধক" রয়েছে। এই সম্পর্কে অনেক মানুষ জানেই না। বরং, নারী সুফিরা অধিকাংশ পুরুষ সুফিদের, মা, বোন,স্ত্রী, কন্যা, ফুফু, খালা, এবং তাদের শিক্ষিকাও ছিলেন। তাদের থেকে অনেক পুরুষ সুফিরা ইলম মা'রেফাতের দীক্ষাও গ্রহণ করেছেন। যেমন সুফিযান সাওরি, রাবেয়া বসরি থেকে অনেক উপদেশ গ্রহণ করেছিলেন। আমাদের সুফি সাধকদ সম্পর্কে জানতে বইটি অবশ্যই পড়তে হবে।
সবশেষে, 'লুবাবা আল মুতাআব্বিদার রাহিমাহুল্লাহুমার' কথা দিয়ে ইতি টানছি। তিনি বলেন— ❝ আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে লজ্জাবোধ করি যে তিনি তাঁকে ছেড়ে অন্য কাউকে আমাকে ব্যস্ত থাকতে দেখবেন ❞।
আরো কিছু উক্তি সংযোজন করা যেতো। রিভিউ অনেক লম্বা হয়ে যাবে ধরুন, একটা কথার উপর সমাপ্ত করলাম।
•বই— যিকরুন নিসওয়াতিল মুতাআব্বাদিস সুফিয়্যাত। •বাঙলা— নারী সুফিদের জীবনকথা। •মূল লেখক— শাযখ আবু আব্দুর রহমান সুলামি। •সম্পাদনা— অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ। •অনুবাদ ও টীকা— আব্দুল্লাহ যোবাযের। •জনরা— জীবনী। •প্রকাশনা—ইলহাম।
�� আহমদ রাব্বী মা'হাদুস সুন্নাহ, আশকোনা, দক্ষিণ খান, ঢাকা।
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ঈসায়ী। ০২ রবিউল আওয়াল ১৪৪৫ হিজরি।