কি নেই বইটাতে! একেবারে মুসা (আ:) এর সময়কাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ইহুদিদের পতন ও উত্থানের ইতিহাস, পশ্চিমা খীস্টানদের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইতিহাস, বর্তমান বিশ্ব আল্লাহর রচিত ধর্ম থেকে পশ্চিমাদের মানবধর্মে(হিউম্যানিজম) পরিবর্তিত হওয়ার ইতিহাস খুব সুন্দর এবং গুছানোভাবে ব্যাখ্যা করা আছে এই বইটিতে। কেউ যদি আদি এবং বর্তমান বিশ্বব্যাবস্থা খুব সহজে এবং কম সময়ে বুঝতে চায় তাহলে তাদের জন্য এই বইটি হবে মাস্টরিড একটি বই। সেই সাথে লেখক বইয়ের শেষে খুব সুন্দর কিছু উপদেশ দিয়েছেন যেভাবে আমরা মানবরচিত পশ্চিমা ধর্মকে প্রতিহত করে আবার আল্লাহর দ্বীন সমাজে কায়েম করতে পারি। জাযাকাল্লাহ খাইরান
এক কথায় ঝাক্কাস!!! মাশাআল্লাহ্ অসাধারণ একটা বই! একদম কিছু বলার নেই এমন টাইপ বই!! এই বইয়ের দাম হাজারের ঘরে হলেও অন্তরে তৃপ্তি পাওয়া যায় আলহামদুলিল্লাহ্।
আয়নার সামনে যখন আমরা দাড়াই, তখন হুবহু আমাদের বাহ্যিক অবয়ব যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ঠিক তেমনি এই বইটিও ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহকে এমনভাবে সুবিন্যস্ত করেছে যেন চোখের সামনে পুরো ইতিহাসটি একটি মুভির ট্রেইলার এর মত ভেসে উঠবে। অর্থাৎ বইটির নামকরণ যেন বইটিকে প্রতিনিধিত্ব করছে। বইটির প্রথম খন্ডে, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের মূল ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বর্তমান অবস্থান অর্থাৎ ইহুদীদের নবীদের ধারাবাহিক বর্ণনা, ইহুদিদের বিপর্যয়ের কারণ, তাদের প্রপাগান্ডা ও ষড়যন্ত্র সমূহ এবং পুনরায় ইসরাইল প্রতিষ্ঠা আগ পর্যন্ত ঘটনাসমূহ খ্রিস্টানদের ধর্মীয় রাজনৈতিক এবং সামাজিক ইতিহাস, তাদের ধর্মীয় বিভক্তি অর্থাৎ অর্থোডক্স রোমান ক্যাথলিক , প্রোটেস্ট্যান্ট সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং ইউরোপের চার্চ বনাম রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব, এনলাইটেন্মেন্ট ও রেনেসাঁ এবং তার কারণ, ইফেক্ট এবং বর্তমানে তাদের প্রতিফলন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় খন্ডে ফরাসি বিপ্লব থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ, ফলাফল এবং এর প্রভাব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ঘটনা প্রবাহ এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ধর্মীয় বিশ্বাসের বিবর্তন সমূহ আলোচনা করা হয়। তাছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আমেরিকার একক আধিপত্য ও তাদের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক এবং সামাজিক ইতিহাস ও সংক্ষিপ্ত আকার বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে মুসলিম উম্মাহের সোনালী যুগের উত্থান একই সাথে পতনের ইতিহাসটাও সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করা হয়। ধন্যবাদ ❤️🩹
মাস্টারপিস একটা বই। চিন্তাপরাধ, হিউম্যান বিয়িং এর মতো এতটা বুদ্ধিবৃত্তিক না হলে ও; পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে অল্প কথায় ইতিহাসের আয়নায় দেখতে পাবেন। পাশাপাশি বুঝতে পারবেন কি পরিক্রমায় পৃথিবী তার বর্তমান অবস্থায় আসছে।
প্রচলিত বিশ্বব্যবস্থাকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখাবে।
বইটি পড়ে আপনি জানতে পারবেন ওল্ড ওয়ার্ল্ড অর্ডার থেকে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার এর ইতিবৃত্ত , কি কারনে মুসলমানরা ওসমানী খিলাফতের সময়ে পুরো অর্ধ-পৃথিবী শাসন করেও বর্তমান এর করূন পরিস্থিতিতে এসে পৌঁছেছে, পশ্চিমা বিশ্ব কীভাবে তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি স্থাপন করলো, ব্রিটিশদের বিশ্বজয়ে ভারতবর্ষের manpower and wealth কীভাবে সাহায্য করছিল। কীভাবে হিউম্যানিজম এর নামে পশ্চিমা দেশগুলো স্রষ্টা বিদ্বেষী আন্দোলন ছড়িয়ে দিলো, কীভাবে ইহুদীরা সারাবিশ্বে গনতন্ত্রের নামে সেক্যুলারিজম ছড়িয়ে দিলো, কীভাবে স্বার্থান্বেষী ব্রিটিশরা ফিলিস্তিনে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বেলফোর ঘোষণা দিলো, যেটা ছিল তাদের Great game এর অংশবিশেষ , কাগজের নোট থেকে শুরু করে সারাবিশ্বে সুদভিত্তিক ব্যংকিং ব্যবস্থা চালু করার পেছনে ইহুদীরা কীভাবে দায়ী, কীভাবে মার্কিন ডলার কে বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে চালু করে পৃথিবীর বাকি দেশগুলোর অর্থনীতিকে একে অপরের মুখাপেক্ষী করে দেওয়া হলো।
#মতামত বইটা খুবই Compact and precise এবং এত কম কথায় ও যে বিশ্বের ইতিহাস বর্ণনা করা যায়, যেটা সত্যিই অসাধারণ। বইটি যে কারণে আমার ভালো লেগেছে সেটা হলো একটা ঘটনার পর আরেকটা ঘটনায় যাওয়ার transition টা খুবই smooth and fluid ছিল, যেটা পাঠককে ঘটনার মধ্যে আটকে রাখে। বইটা পড়া শেষ করে মনে মনে ভাবলাম যদি মুসলমানদের হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব ফিরে পেত, তাহলে হয়তো বর্তমান পৃথিবীতে মুসলমানরাই সবচেয়ে শক্তিশালী জাতি থাকতো।
The effect of secularism
We simply can't forbid anti religious activities even though we have the willingness to do so , as we are encircled by our society's so called formality and socialization. The situation right now, our society is silently dying in front us and we are acting as a doll according to some pre coded prompt relying in our mind.
As a Muslim we should know about our history and golden times and the reason behind our present problematic situation and how we can overcome it. (Highly Recommended)
কিছু কিছু বই থাকে যেগুলোর সাইজ আমাদের একরকম ধোঁকা দিয়ে থাকে। এই বইটিও ঠিক এরকম। বিষয়বস্তুর বিবেচনায় বইটির আকার অনেক ছোট। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে শায়েখ এতো কিছু এমন অসাধারণ ভাবে কাভার করেছেন যা আমাকে অনেকটা অবাক করেছে। এমনকি জানা অনেক জিনিসও মনে হয়েছে আরও গভির ভাবে বোঝার তৌফিক হলো বইটি পড়ে, সুবহানাল্লাহ।
ইসলামের বিজয়,শরীয়ত প্রতিষ্ঠা,মুসলিম উম্মাহ,বিশ্ব ব্যবস্থা, দ্বীনের এমন মৌলিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে যারা সচেতন তারা অবশ্যই বইটি পড়ে দেখবেন। আপনাদের জন্য বইটি সহায়ক হিসেবে প্রমাণিত হবে চিন্তার ক্ষেত্রে,কা��ের ক্ষেত্রে ইন শা আল্লাহ। আর যারা এসব নিয়ে ভাবেন না আর নিজেদের মধ্যেই মগ্ন থাকেন, নিজে ভালো তো জগৎ ভালো টাইপ নীতিবাক্য বুকে লালন করেন, আপনারাও আমন্ত্রিত। অন্তত দেখে যান কি নিয়ে আমাদের মাথা এতোটা খারাপ হয়েছে।
ইহুদি জাতির ইতিহাস,খ্রিস্টান জাতির ইতিহাস,ইউরোপের ইতিহাস,ফরাসি বিপ্লব,ইস*রায়েল প্রতিষ্ঠা,প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ,খিলাফতের পতন ও মুসলিম উম্মাহর বিচ্যুতির ইতিহাস,খোরাসান সহ উপমহাদেশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এসবকিছুই অত্যন্ত সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভাবে এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়গুলো এতো চমৎকার ভাবে বর্ণিত হয়েছে যে যদি কেউ এই বিষয়গুলো নিয়ে আর কোনো বই নাও পড়ে তবুও তার মৌলিক বিষয় জানা হয়ে যাবে এবং সাথে সাথে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার উপর এগুলোর কি প্রভাব রয়েছে তাও জানা হয়ে যাবে, যেটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর এটাই এই বইয়ের মূল উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে উঠে এসেছে নানান মতাদর্শেরও ইতিহাস, যেমন:-ধর্মনিরপেক্ষবাদ,গণতন্ত্র,সমাজতন্ত্র,পুঁজিবাদ। আলোচনা করা হয়েছে কিভাবে এই মতবাদগুলোর উৎপত্তি,বিকাশ ও মুসলিম বিশ্বে অনুপ্রবেশ ঘটলো। কিভাবে ইহুদি-খৃষ্টান জোট এগুলোর মাধ্যমে আজ কব্জা করে আছে পুরো মুসলিম বিশ্বের উপর। আবার সময়ে সময়ে কিভাবে আজ অব্দি নানান মুসলিম কাফেলা এগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার।
আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী এই বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন। তাদের মেহনতকে কবুল করুন। শায়েখকে হেফাজত করুন আর দ্বীনের পথে আরও অগ্রসর করুন,আমীন। সব প্রশংসা এই বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর।
বইটির নামকরণই বইটিকে প্রতিনিধিত্ব করে। আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেভাবে আমাদের বাহ্যিক অবয়ব চোখের সামনে ভেসে ওঠে, ঠিক তেমনি এই বইটিও ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহকে এমনভাবে সুবিন্যস্ত করেছে যেন চোখের সামনে পুরো ইতিহাসটি একটি মুভির ট্রেইলার এর মত ভেসে উঠছে। এককথায় বলতে গেলে বইটি ওল্ড ওয়ার্ল্ড অর্ডার থেকে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের ইতিহাসকে আলোকপাত করেছে। স্মরণ কালের ইতিহাসে যেসকল বাটার ফ্লাই ইফেক্ট গুলো (ইহুদি থেকে ইহুদিবাদ ও তাদের থার্ড টেম্পল ষড়যন্ত্র, ঈসা (আ:) দ্বন্দ্ব এবং খ্রিস্টবাদ ও ত্রিত্ববাদ, নিকিয়া কনফারেন্স, ক্যাথলিক ও প্রোটেস্টেন্ট মতবাদ, মেঘনা কার্টা,ক্রসেড, ইউরোপীয় রেনেসাঁ, হিউম্যানিজম ও সেক্যুরালিজম, ব্যাঙ্ক ও কাগুজে টাকার উৎপত্তি, গণতন্ত্র সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদের উত্থান, মোঘলদের পতন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও তার নেপত্তে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ইসরায়েল, কোল্ড ওয়ার, আমেরিকার যুদ্ধ ব্যবস্থা, আফগান যুদ্ধ) আজকের পৃথিবী বিনির্মানে বিশেষ করে মুসলমানদের দেয়ালে পিঠ ঠেকার মতো অবস্থা তৈরি করেছে তার ধারাবাহিক বর্ণনা নিয়ে লেখা এই বই। বইটি ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা।
ইতিহাসের আয়নায় বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা’ বইটি মূলত ওল্ড ওয়ার্ল্ড অর্ডার থেকে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের ইতিহাস নিয়ে রচিত। বইটি পাঠ শেষ হওয়ার পর পাঠক নিজ থেকেই এই প্রশ্নগুলোর জবাব পেয়ে যাবে বর্তমান সময়ে মুসলিমদের কোন পথে অগ্রসর হওয়া উচিৎ? তাদের দাওয়াতের মূল ভিত্তি কী হওয়া জরুরী? তাদের মূল শত্রু কারা? কী তাদের এজেন্ডা ও কর্মপদ্ধতি? লেখক ইতিহাস লেখার মধ্য দিয়ে ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের বিশ্বাস ও চিন্তাধারাগুলো অনেক সহজভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সেই সাথে সহজ ভাষায় এগুলোর জবাবও লিখেছেন। নিশ্চিতভাবে পশ্চিমাদের ইতিহাস জানা ছাড়াও পশ্চিমাদের বিশ্বাস ও চিন্তাধারা বোঝার জন্য এই বইটি অধ্যয়ন অনেক উপকারী হবে। .
ব্যাপক তথ্যবহুল বই। লেখক অনেক গবেষণার পর লিখেছেন বোঝাই যায়। তবে বইয়ের শেষে কিছু বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়েছে। লেখক এমন কিছু মানুষকে হিরো বানাতে চেয়েছেন যারা মুসলিম উম্মাহর অপূরণীয় ক্ষতি করে গিয়েছে। যাইহোক, পড়তে পারেন। বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে বোঝানো হয়েছে হয়েছে।