Jump to ratings and reviews
Rate this book

আর.এন.এ. #১

নীল নক্সা

Rate this book
আত্মসমর্পণ করতে এসে হঠাৎ করে মারা গেল বিখ্যাত গুণ্ডা নাহিদ হাসান। আণ্ডারগ্রাউণ্ড ডন ওয়াসির বিরুদ্ধে রাজসাক্ষ্মী হতে চেয়েছিল বলেই কি বেঘোরে প্রাণ হারাতে হলো তাকে? কিন্তু মরল কীভাবে? রক্তে তো প্রাণঘাতী কোনও ধরনের রাসায়নিক নেই!

রহস্য জটিল রুপ ধারণ করল, দৃশ্যপটে ডন ওয়াসির প্রধান আততায়ী খন্দকার শুভ'র আগমনে। তাহলে কী কোনও উপায়ে এই দয়া-মায়াহীন পাষণ্ড খুনটা সেরেছে?
এদিকে মৃত্যুর মাত্র কয়েকঘণ্টা আগে রহস্যময় এক নারীর সাথে নাস্তা করতে দেখা গিয়েছে নাহিদ হাসান ওরফে নাদু গুণ্ডাকে। কে এই রমণী? মাফিয়ার লোকজনের সাথে তার কী সম্পর্ক!

রহস্য সমাধানের দায়িত্ব এসে পড়ল ডাক্তার থেকে পুলিশ বনে যাওয়া রাফসান ইবনে রেজার ঘাড়ে। জুনিয়র এসআই আদনান আহমেদকে সাথে নিয়ে ঢাকা শহরের এ মাথা থেকে ও মাথা ছুটে চলছে বেচারা। জলদি রহস্য সমাধান করতে না পারলে জেলে যেতে হতে পারে ওদের বস, সৈয়দ মারুফকে, নাদু গুণ্ডার খুনের দায় নিয়ে।

ঘড়ির কাঁটাকে হার মানাতে পারবে তো ওরা? সমাধান হবে তো রহস্যের?

160 pages, Hardcover

First published February 1, 2017

1 person is currently reading
115 people want to read

About the author

Md. Fuad Al Fidah

126 books554 followers
জন্ম সিরাজগঞ্জে, ১৯৮৮ সালে। এসএসসি. পাশ করেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে, এইচএসসি-রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে। এরপর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সমাপ্ত করে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে। বর্তমানে কর্মরত আছেন কক্সবাজার জেলায়।

লেখালেখি শখের বসে, অনুবাদ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রথম প্রকাশিত বই আদী প্রকাশন থেকে-ট্রল মাউন্টেন। সেই সাথে রহস্য পত্রিকায় টুকটাক লেখালেখি।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
25 (12%)
4 stars
75 (37%)
3 stars
66 (33%)
2 stars
17 (8%)
1 star
16 (8%)
Displaying 1 - 30 of 57 reviews
Profile Image for Wasee.
Author 56 books791 followers
September 27, 2021
প্রথমেই বলি, আমার কাছে 'ভালো থ্রিলার বইয়ের' সংজ্ঞা কী। খুব সহজভাবে বলতে চাইলে- আমি যে বই পড়ে আনন্দ পাই, এক নিশ্বাসে যে বই পড়ে ফেলতে বাধ্য হই, সেটাই আমার কাছে 'ভালো থ্রিলার বই।'

এবার আসি বই প্রসঙ্গে। থ্রিলার বইয়ের ক্ষেত্রে আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আর স্টোরি বিল্ডআপের ক্ষেত্রে। নীল নক্সা'র প্রধান চরিত্র ডাক্তার কাম পুলিশ অফিসার রাফসান ইবনে সালাম। পেশাগত খাতে তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে স্বনামধন্য চিকিৎসক বাবার চিকিৎসক পুত্রের পেশা বদলে ফেলা, তাতে করে পিতা পুত্রের ভেতর পুষে রাখা মনোমালিন্য, তরুণ এ.এস.পি. রাফসানের দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠতার পরিচয় - মূল চরিত্রের বিকাশে লেখকের যত্নের ছাপ সুস্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে।

প্রাথমিকভাবে বইয়ের অনেকটুকু অংশে বাংলাদেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড জগতের কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ডের কথা উঠে এসেছে। ডন ওয়াসির দলের অন্যতম এক গুন্ডা নাহিদ নিজেই রাজসাক্ষী হয়ে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, তাও আবার থানায়! রহস্য দানা পাকিয়ে উঠতে থাকে। একে একে হাজির হয় শুভ আহমেদের মতো ভয়ানক চরিত্র, যার রয়েছে দু:সহ অতীত ইতিহাস।

ডন ওয়াসি(নামটা পরিচিত :p) , শুভ, নাহিদ গুন্ডা- এই তিনজনের ভেতর একটা গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। বিভিন্নভাবে একে অপরের সাথে তারা পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ। এই পারিবারিক সম্পর্কের হিসাবনিকাশে একটা পর্যায়ে পাঠক জটিল ধাধার সম্মুখীন হবেন। আসল মজাটাই কিন্তু সেখানে (বেশি বলতে গেলে স্পয়লার)

প্রায় অর্ধেক বই পড়ে আপনি যখন ধরেই নেবেন যে বইটা আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যাং বিষয়ক ক্রাইম থ্রিলার, তখনই ঘুরে যাবে মোড়। পুরোদস্তুর মেডিক্যাল থ্রিলারে পালটে যাবে সবকিছু। কীভাবে? ওইযে কয়েকটা শর্ত আছে - প্রধান চরিত্র চিকিৎসক, মূল উদ্দীপক চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক, পরিণতি এবং টুইস্ট ও চিকিৎসাবিজ্ঞান কেন্দ্রিক। মার্ডার মেথড এন্ড প্ল্যানিংয়ে নিখুঁতভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানকে। নিজে একজন চিকিৎসক হিসেবে একটি সফল মেডিকেল থ্রিলারে পরিণতি দিয়েছেন, সেজন্য ফুয়াদ ভাইকে ধন্যবাদ।
Profile Image for Maruf Hossain.
Author 37 books258 followers
February 19, 2017
বাংলায় থ্রিলার তো অনেকই পড়েছি--- আপনারাও নিশ্চয়ই পড়েছেন। তবে কখনও বাংলা ভাষায়, বাংলাদেশি কোনও লেখকের হাতে লেখা মেডিক্যাল রিলেটেড থ্রিলার পড়েছেন কি? আমি এর আগে কখনও পড়িনি। তবে, অবশেষে মেডিক্যাল-রিলেটেড একটা সম্পূর্ণ অপরিচিত ঘরানার থ্রিলার পড়ার স্বাদ পেলাম বাংলাদেশি কোনও লেখকের কাছ থেকে।

গতিময়, মেদহীন, সাবলীল বইটি পড়ে শেষ করে ফেললাম তিন বসায়। ঘটনা ঘটতে শুরু করে একেবারে শুরু থেকে এবং পুরো বই জুড়েই গতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন লেখক--- কোথাও ঝুলে পড়েনি কাহিনি। এটি লেখকের দ্বিতীয় মৌলিক। প্রথম মৌলিকের তুলনায় অনেক পরিণত লেখার ছাপ স্পষ্ট এই বইয়ে। প্রধান দুটো চরিত্রের খুনসুটি ভালোই উপভোগ্য হয়েছে, হিউমারের ছোঁয়ায়, যা লেখকের প্রথম বইে, "রাত এগারটা"য় উপস্থিত ছিল না। লেখক বেশ দক্ষতায় কিছু মোচড় এনেছেন শেষের দিকে। আর মূল মোচড়টা মেডিক্যাল-সংক্রান্ত হওয়ায় এসেছে একেবারে নতুন ফ্লেভার। তাছাড়া একটা পোস্টমর্টেম এবং আরও কিছু সংযুক্তি রয়েছে বইটিতে, যা আমার মতো নন-মেডিক্যাল পার্সনদের বোঝার জন্য সহায়ক হবে। এবং লেখক যে বেশ খেটেছেন বইটি নিয়ে, সেটা বইটি পড়লেই বোঝা যায়। তার এই প্রচেষ্টাকে আন্তরিক সাধুবাদ।

তবে, কিছু জিনিস যে চোখে লাগেনি তা নয়। এই বইয়ের সবচেয়ে বড় যে শক্তি, সেটাই আমার একটু চোখে লেগেছে। একদম মেদহীন বইটিতে লেখক লেখক ডিটেইলিং করেছেন একটু কম--- ব্যক্তিগতভাবে আমি পরিমিত পরিমাণে ডিটেইলিং-প্রিয় পাঠক। তাছাড়া মূল চরিত্রগুলোর এক্সপ্রেশনে আরেকটু দক্ষতার পরিচয় দিতে পারতেন বোধ হয়।

আগেই বলেছি, বাংলায় এই ধরনের থ্রিলার আমার কাছে নতুন। আমি মেডিক্যাল সম্পর্কে অভিজ্ঞ কোনও ব্যক্তি নই। তবে বই পড়ে যতদূর মনে হয়েছে, এটাকে মেডিক্যাল থ্রিলার বলা চলে। মূল চরিত্র মেডিক্যালের সাথে জড়িত, কাহিনির পরিণতিতে মেডিক্যালের বিশালরকম প্রভাব--- এসবই আমার কাছে মেডিক্যাল থ্রিলারের নিয়ামক বলে মনে হয়। সেদিক থেকে আমার মনে হয়, "নীল নক্সা" (খুব সম্ভবত) প্রথম বাংলা মেডিক্যাল থ্রিলার হিসেবে সফল।
এরকম গতিশীল, সুস্বাদু, এবং (আমার কাছে) সম্পূর্ণ নতুন ঘরানার একটা মেডিক্যাল-রিলেটেড থ্রিলার উপহার দেয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোদমে উপভোগ করেছি "নীল নক্সা"। :)

ব্যক্তিগত রেটিং- ৪.৩/৫ (৪ কাহিনির জন্য; আর .৩ নতুন ধরনের মেডিক্যাল-রিলেটেড থ্রিলার লেখার প্রচেষ্টার জন্য)।
Profile Image for Rafia Rizwana.
14 reviews
May 28, 2017
পড়ে ফেললাম নীল নক্সা :) আমার জীবনে প্রথম পড়া মেডিকেল থ্রিলার।
.
গল্পের প্রথম হাফ খুবই স্লো মনে হইসে। কিন্তু সেকেন্ড হাফ রোলার কোস্টার গতিতে চলছে।
আন্ডারগ্রাউন্ড ডন ওয়াসা আনুর ডান হাত নাহিদ হাসানের রাজসাক্ষী হতে চাওয়া এবং পুলিশের মিটিং রুমে হুট করে মারা যাওয়ার রহস্য নিয়ে পুরো কাহিনী। কাহিনীর প্রধান নায়ক রাফসান ইবনে সেলিম এমবিবিএস শেষ করে পুলিশে যোগ দেয়া একজন এএসপি।সাথে আছে চটপটে এস আই আদনান আহমেদ।
.
ফুয়াদ আল ফিদাহর অনুবাদ গ্রন্থ আগে পড়েছি,মৌলিক গ্রন্থ এই প্রথম। লেখক মেডিকেল টার্মগুলো অনেক সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন,যেটা আসলে কঠিন ছিল। কিন্তু এর সাথেই কাহিনীর পারিপার্শ্বিক বর্ণনা অনেক বেশি মনে হয়েছে। রাফসান কেন ডাক্তার না হয়ে পুলিশ হল,পাইপ শুভর সাথে রাফসানের একশন সিকোয়েন্স সহ প্রতিটা থ্রিলিং স্টোরি লাইনেই টান টান উত্তেজনা ছিল।কিন্তু বর্ণনার তুলনায় এই থ্রিলিং স্টোরিলাইন আমার কাছে অনেক কম মনে হয়েছে।ডাক্তার সেলিমের অরিজিন স্টোরি নিয়ে কেন এত লিখা হইল বুঝলাম না :/
.
বইয়ের রেটিং ৩.৫/৫। কারণ আরো অনেক কাজ করা যেত। শেষের দিকে একটা ঘটনায় কষ্ট পাইছি :( এই জন্য ৪দিতে পারলাম না। এতটা রক্তক্ষয় না করলেও হইত।
.
বইটা থেকে যদি মুভি বানানো হয় তাইলে চোখ বন্ধ করে মুভি ৪.৫ রিভিউ পাবে :D কারণ পরিচালকের স্ক্রিপ্ট লিখতে কোনো প্যারা নিতে হবেনা।খালি বইটা লাইন বাই লাইন ফলো করলেই হবে।ইদানিং বেশ কিছু বই পড়লাম, যেগুলাতে অনন্ত জলিলের সিনেমার মতো বিগ বাজেট না হইলেও চলবে :3 কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের ছবি বানানো সম্ভব।
.
লেখকের রাত এগারোটা নামে প্রথম মৌলিক থ্রিলার বইটা অর্ডার করে দিয়েছি :) অনেক প্রত্যাশা রইল মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহকে নিয়ে।
.
বইয়ের প্রিয় উক্তি:
"চেহারা কালো করে ফেলল ওয়াসি।লোকটার অভিনয় প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল রাফসান। সিনেমায় নামলে এ যে ছাকিব শাহ বা অনাবিল খলিলকেও হার মানাত!" :D  :D  :D
.
স্পয়লার: নাহিদ হাসানের অফিস কাম স্টাডিরুমটা নিয়ে কাহিনী হবে ভাবসিলাম।মানে যেভাবে বর্ণনা দিল! পুরা বইয়ে সবচেয়ে আন্ডাররেটেড হইসে নাহিদের স্টাডি।সেই তুলনায় ওয়াসির বাড়ি ওভাররেটেড মনে হইসে :/ 
Profile Image for পটের দুধের কমরেড.
210 reviews25 followers
November 23, 2020
আমি থ্রিলার বইগুলো নিয়ে এত কাঁটাছেড়া করতে পারি না৷ ভালো — খারাপ — মন্দ নাহ — এই তিন ক্যাটাগরির যেকোন একটা ট্যাগ আরামসে ঠেঁসে দেই৷ সেক্ষেত্রে বলব ' নীল নক্সা ' মন্দ নাহ৷
মেডিক্যাল থ্রিলার নিয়ে দেশে আরো কাজ হওয়া উচিত!
Profile Image for শালেকুল পলাশ.
274 reviews34 followers
June 27, 2021
রাফসান ইবনে সালাম। ডাক্তার থেকে পেশাগত তিক্ততার কারনে চাকুরী বদল করে পুলিশে চলে আসে। যদিও তা নিয়ে তার সাথে তার বাবা স্বনামধন্য ঢামেকহার চিফ অফ সার্জন ডা. সেলিমের মনোমালিন্য থাকলেও দমাতে পারেনি রাফসানকে। ভাল ভাবেই দায়িত্ব পালন করে থানার প্রধান হবার পথে সে।
এমনই এক দিনে থানায় আত্মসমর্পন করতে আসে কুখ্যাত! ঢাকার ডন ওয়াসির ডান হাত নাদু। কিন্তু ঘটনাক্রমে থানাতেই খুন হয় নাদু কোন রকম স্বীকারোক্তি দেওয়ার আগেই। স্বভাবতই থানার প্রধান সৈয়দ মারুফের হাতে। তাকে বাচাতে সহকারী এস আই আদনানকে নিয়ে কেসে ঝাপিয়ে পড়ল রাফসান। কিন্তু চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করল সে। বড় বেশী রকম বিচিত্র এই কেস।
নিজের বাসা বাদ দিয়ে কেন হোটেলে থাকল নাদু? কেনই বা তার সাথে দেখা করতে আসল এক মহিলা থানায় যাওয়ার আগে? আর পাইপ শুভই বা কেন এই সময়ে ঢাকায় আগমন হল? সব প্রশ্নের উত্তর কি খুজে পাবে রাফসান?

পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ বাংলাদেশে মনে হয় না খুব বেশী মেডিক্যাল থ্রিলার আছে। (থাকলেও আমার সঠিক জানা নেই) আর নিজের পেশাও ডাক্তার বলে এবং নিজেও রাফসানের পদাংক অনুসরন করার আগ্রহ আছে বলে পড়তে খুব বেশী খারাপ আগেনি। একটানে পড়ে শেষ করে ফেলা যায়। হালকা মুডে পড়ার মতন বই। সাড়ে ৩ তারা।
Profile Image for শুভঙ্কর শুভ.
Author 11 books50 followers
February 5, 2017
বই: নীল নক্সা
লেখক: মো: ফুয়াদ আল ফিদাহ
প্রকাশনিঃ আদী প্রকাশন
প্রকাশকালঃ বইমেলা ২০১৭

আন্ডারগ্রাউন্ড ডনের বিরুদ্ধে সাক্ষী পাওয়া গিয়েছে। দেরী করা যাবে না, কারন এ যেনতেন সাক্ষী না। কুখ্যাত গুন্ডা নাহিদ হাসান, ডাক নাম নাদু। কিন্তু বিধিবাম। আত্মসমর্পন করার আগেই তাকে পকাত করে দেয়া হয়েছে। কে করল? ওই দয়া-মায়াহীন পাষণ্ড-টা নাকি?

ওইদিকে জানা গেল যে মৃত্যুর কিছু মূহুর্ত আগে এক রমণী সঙ্গে দেখা গিয়েছে নাদু গুন্ডাকে। কে সেই রমণী? নাহ ঘটনা বেশি জটিল হয়ে যাচ্ছে। সমাধান দ্রুতই করতে হবে, সময় নেই বেশি হাতে।

আর এই রহস্য সমাধানের দায়িত্ব কাঁধে ঝুলেছে ডাক্তার পেশাকে ইস্তেফা দিয়ে পুলিশ বনে যাওয়া (!) রাফসান ইবনে সেলিমের। সাথে জুনিয়র এস. আই. আদনান আহমেদকে নিয়ে পুরো ঘড়ির কাঁটা আর ঢাকা শহর চষে বেড়াচ্ছে রহস্যের সমাধান করতে। জলদিই করতে হবে। না হলে যে বস সৈয়দ মারুফকেই লটকে দেয়া হবে।

#লেখকের প্রথম মৌলিক "রাত এগারটা" পড়া হয়েছে। সেদিক দিয়ে "নীল নক্সাকে" ওয়েল ডেভেলপড বলা যায়। লেখার ধরনে, প্লটে, শব্দ চয়ন অনেকটা উন্নতি লক্ষ্য করলাম। আর তারচেয়েও বড় কথা, একটা মৌলিক মেডিক্যাল থ্রিলার লেখার চেষ্টাটা করেছে। প্রায় প্রতিটা চরিত্ররই সুন্দর ব্যাখ্যা ছিল, বিশেষ করে ডা. রাফসানের ডাক্তার থেকে পুলিশ বনে যাওয়া, আর নাদু, ওয়াসি এবং শুভ এই তিনজন তো আপনার মগজ ধুলাই করেই ছাড়বে। কারন আমার এমনই হয়েছিল। একশন সিকুয়েন্স আর মেডিক্যাল টার্মগুলোও বুঝতে বেগ পেতে হয়নি। আর শুরু থেকেই একটা ঘোর লাগা, মানে সাসপেন্স ভাব ছিল। ধীরে ধীরে ক্লিয়ার হয়েছে, সাথে শেষের টুইস্টটা ছিল অভাবনীয়। ভালো লাগার আবেশেই লেখকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম। উত্তরটা দেই শুধু। রাফসান ইবনে সেলিমকে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও লেখার ইচ্ছা নাকি আছে লেখকের।

#শেষ কিছু কথা, বইটার বাঁধাই আর প্রচ্ছদ সত্যিই আকর্ষণীয়। আর আর্টেমিস ফাউলের মতো, জ্যাকেট কভার তো আছে।
Profile Image for Faiza.
7 reviews
February 6, 2017
4.5 Stars.
Let's be straight, I picked up this one sheer out of curiosity, without any expectation. Believe me when I say I am impressed. As you can guess by the cover it's a medical thriller. The writer did justice to it! I guess that's because he is a doctor himself.
Brilliant writing blended with Characters (both likable and hateble). I wont say anything about the story cause its a pretty small book.
There was a post mortem report too! Only complain- it should contain more details. A few pages more wont hurt. Good luck
Profile Image for Alfie Shuvro .
242 reviews58 followers
June 27, 2018
বেশ একাডেমিক জ্ঞান নিয়েই লিখেছেন। তবে আরেকটু উত্তেজনা দরকার ছিল। মারামারির অংশ গুলো আরকটু প্রানবন্ত করলে ভাল লাগত। তবে মেডিকেল থ্রিলার হিসেবে যথেষ্ট ভাল হয়েছে।
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books285 followers
June 29, 2018
২.৫ স্টার আসলে। রেটিং কম দেয়ার মূল কারণ চমৎকার ভাবে বিল্ডআপ করা উপন্যাসের ফিনিশিংটা একেবারেই যাচ্ছেতাই মনে হয়েছে আমার কাছে।

যা ভালো লেগেছেঃ
১. লেখকের সাবলীল লেখনী,

যা ভালোলাগেনিঃ
১. চরিত্রায়নঃ রাফসান এম.বি.বি.এস. পাশ করার পরেও ডাক্তারি পেশায় না থাকার সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ হলো আপোস না করার মানসিকতা। আর সেই রাফসান কিনা যোগ দিলো বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে?!! আপোস না করার উদ্দেশ্যে? আই মিন, সিরিয়াসলি?
তার নাহিদ, ডন ওয়াসি, শুভ প্রত্যেকজনের ফ্যামিলি ট্রাজেডী একটু বেশি নাটুকে লেগেছে।
২. এত বড় একজন ডনের শেষ পরিণতি এত দ্রুত? এত সহজে?

আরো কয়েকটা পয়েন্ট আছে। কিন্তু তার চাইতে জরুরী ব্যাপার হলো আমার একটা প্রশ্ন আছে? সেটা হলোঃ

প্রশ্নঃ মেডিক্যাল থ্রিলার কাকে বলে? গল্পে কিছু মেডিক্যাল টার্ম থাকলে? নাকি গল্পের লেখক পেশায় একজন ডাক্তার হলে?
Profile Image for Sanjida Alam.
26 reviews26 followers
Read
March 31, 2017
রেটিং- 3.8

রাত এগারোটা থেকে বেটার কিন্তু তারপরেও অনেক অনেক দুর্বল। ফেবুতে সবার রিভিউ দেখলাম মেদহীন লেখা। অথচ প্রথমেই একটা অপ্রয়োজনীয় চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড দিয়ে দুই পেজ ভরা। পরে গিয়ে একটা ফোন কল ছাড়া তাকে আর কোথাও এক্টিভ দেখলাম না।
এছাড়াও এমন কিছু অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা আছে, উল্টো দিকে অনেক জায়গা এমন আছে যেখানে আরো বর্ণনা দেওয়া যেত।

রাফসান আর আদনান চরিত্র দুটো ভালো লেগেছে, বেশ ডেভেলপড। মুভির হিরো মতো না বানিয়ে তাদের দোষ গুণে বাস্তবের পুলিশই বানিয়েছেন লেখক। ভাল্লাগছে যাদের। তাদের ছোট ছোট অ্যাকশনগুলো খুব বাস্তব লেগেছে, কোন হলিউডি মুভি লাগেনি।

কিন্তু এত ভয়ংকর ক্রিমিনাল শুভর চরিত্র একদমই ডেভেলপড হয়নি। তাকে আরো অনেক অনেক স্পেস দেওয়া যেত, সবচে কুখ্যাত আর ভয়ংকর হিটম্যান পাইপ শুভ পুলিশের কাছে গিয়ে এত অল্পতেই সব গড়গড় করে বলে দিলো এটাও মানায় নাই।

তাছাড়া শেষের অ্যাকশন দৃশ্যায়নটাও অড। এটা নিয়ে আরো কাজ করা যেত। শুরুর অপ্রয়োজনীয় দুই পৃষ্ঠা কমিয়ে এখানে টানটান টেনশন ক্রিয়েট করলে তৃপ্তি নিয়ে শেষ হতো বইটা। এখানেই লেখক আনাড়ী পরিচয় দিয়েছেন।

টুকটাক আরো কিছু অসঙ্গতি ছিল।
লেখকের কাছে অনুরোধ, "প্রয়াস ���েল" এমন অপ্রচলিত শব্দপ্রীতি ত্যাগ করলে পাঠকের পড়তে আরাম হবে।

লেখকের প্রতি শুভকামনা রইলো। ☺
Profile Image for Hosneara Ami.
97 reviews12 followers
February 18, 2017
ঢাকা মেডিকেল কলেজের 'চিফ অফ সার্জারি' ডা. সেলিম রেজার একমাত্র পুত্র রাফসান ইবনে সেলিম। ইন্টার্নশিপ চলাকালীন একটা বিচ্ছিরি ঘটনা পাল্টে দেয় রাফসানের জীবনের চাকা। ডাক্তার না হয়ে পুলিশে যোগ দেয় রাফসান। হঠাৎ একটা জটিল কেস সামনে আসে রাফসানের। আত্মসমর্পণ করতে এসে হঠাৎ মারা গেল আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত ডন ওয়াসির ডানহাত কুখ্যাত নাদু গুন্ডা। কি করে মারা গেল কিছুতেই বোঝা যাচ্ছে না। পোস্টমর্টেম রিপোর্টেও স্পষ্ট করে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। অদ্ভুত আর জটিল এই কেস রাফসানের ভাগ্যেই জুটলো। জুনিয়র এস.আই. আদনানকে সঙ্গে নিয়ে রাফসান শুরু করলো তদন্ত।
এরমাঝে রঙ্গমঞ্চে আবির্ভাব হলো ডন ওয়াসির আরেক হাত পাইপ শুভ'র। দয়া - মায়াহীন এই কুখ্যাত খুনিই কি নাদু গুন্ডার মৃত্যুর কারণ? মৃত্যুর আগে একসাথে বসে নাস্তা করা সেই রহস্যময় মহিলাই বা কে? নাকি এই রহস্যের সমাধার করতে দেরি হয়ে যাবে?আর বুঝি ঝামেলা থেকে বাঁচানো গেলনা ওদের বস সৈয়দ মারুফকে?
জানতে হলে পড়তে হবে মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ এর নীল নক্সা।।।
Profile Image for Zahidul Choyan.
82 reviews20 followers
June 14, 2018
কাহিনী চমৎকারভাবে গোছানো, পরিপাটি। টান টান উত্তেজনা ছিলো লেখায়। একদিনের মধ্যে পড়ে ফেলেছি। বেশ কিছু মেডিকেল টার্ম এর ব্যবহার হয়েছে, কিন্ত তাই বলে "মেডিকেল থ্রীলার" টার্মের ব্যবহার মানানসই মনে হয়নি। আর কাহিনীর শেষদিকে এসে পুলিশদের এতো অসাবধানতা, শুধু ২জনের বুলেটপ্রফ ভেস্ট ব্যবহার করাটার জায়গাটা দুর্বল লেগেছে। শেষের দিকে আদনানকে না মারলেও মনে হয় চলতো। অন্য কোনভাবে রাফসানকে জার্মানি পাঠানো গেলে ভালো লাগতো। রাফসানের এক্স-গার্লফ্রেন্ড এর ও পরে আর কোন হদিস পেলাম না ;)

সিরিজের দ্বিতীয় বইটা হাতে পাওএায় জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
Profile Image for Nadia Jasmine.
212 reviews18 followers
September 6, 2017
This is not a review in a sense... I just really want to attract the author's attention to write more stories about Rafsan. :) In love with the brave protagonist. ❤️
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 39 books1,869 followers
January 26, 2020
রীতিমতো রোমাঞ্চকর বই, এ-কথা মানতেই হয়। তবে একে ঠিক মেডিকেল থ্রিলার বলা যাচ্ছে না। আর গল্পের প্রতিটি ক্লাইম্যাক্স, মায় প্রটাগনিস্ট ও অ্যান্টাগনিস্ট যখন স্নায়ুযুদ্ধ লড়ছে তার বিবরণ - ভীষণ ঢ্যাবঢেবে। ফলে সব মিলিয়ে বইটা বেশ আন্ডারহোয়েল্মিং বলেই মনে হল।
পড়ার সুযোগ পেলে একবার পড়ার মতো বই - ব্যস।
Profile Image for HR Shohag.
60 reviews8 followers
February 26, 2017
নীল নক্সা টানটান উত্তেজনার বই।একজন থ্রিলার প্রেমী হওয়ার কারনে বইটার প্রতি শুরু থেকেই আগ্রহ ছিল।তারপরে এটা নাকি মেডিক্যাল থ্রিলার।বইটা শুরু করার পরে কনফিউশনে ছিলাম মেডিক্যাল টার্ম গুলো বুঝবো কিনা।এখানেই লেখকের সার্থকতা।মেডিক্যাল টার্মের জটিল বিষয়গুলো এত সহজভাবে বুঝিয়েছেন যে বুঝতে কোন সমস্যাই হয়নি।

কাহিনী ছিল গতিময়।বোর হওয়ার কোন সুযোগ নেই।একটার পর একটা টুইস্ট দিয়ে লেখক মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রথম দিকে গ্যাং ওয়ার টাইপের বই মনে হলেও বইয়ের শেষ দিকে এসে ঝিম মেরে বসে ছিলাম। বই পড়ার সময় সব জল্পনা কল্পনা মিথ্যে প্রমান করে বইয়ের শেষে লেখকের অকল্পনীয় টুইস্ট মাথা ঘুরিয়ে দিতে যথেষ্ট।

চরিত্রের দিকেও লেখক যথেষ্ট মনোযোগী ছিল।আদনান আর রাফসানের কেমিস্ট্রি ভাল লেগেছে।

যা কিছু খারাপ - বইয়ের এক জায়গায় রাফসানের বাড়ি ময়মনসিংহ থেকে বরিশাল লেখা হয়ে গেছে। এছাড়াও প্রিন্টিং মিসটেক ছিল কিছু জায়গায়।বানান ভুলের পরিমান ছিল হাতেগোনা।
রাফসান আর আদনানের কেমিস্ট্রি ভাল লাগলেও আরও সিরিয়াস হওয়া দরকার ছিল।
লেখকের আগের বই রাত এগারোটা পড়েই তার মেদহীন লেখার ভক্ত হয়ে গেছিলাম।কিন্তু এই বইটা ইচ্ছে করলেই আরও বড় করা যেত।বইয়ের প্লট হিসেবে আমার মনে হয় বইটা অনায়াসে ২০০+ পেজ হতে পারতো।এখানেই অতৃপ্তি রয়ে গেছে।
ভবিষ্যতে লেখকের কাছে অন্তত মিডিয়াম সাইজের একটা বই আশা করি।

আমার রেটিং- ৪/৫
প্রচ্ছদ -৩.৫/৫(প্রচ্ছদের উপরে অপারেশনের দৃশ্যটা না দিলেও চলতো মনে হয়।)
Profile Image for Kazi Asif.
41 reviews1 follower
April 13, 2017
রিভিউ শুরু করার আগে লেখকের পরিচয়টি দেওয়া জরুরী। লেখক ফুয়াদ আল ফিদাহ’র জন্ম সিরাজগঞ্জ শহরে। এরপর ঢাকাতেই পড়াশোনা করেছেন। আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ এবং ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে পাশ করে ডাক্তারি পড়েছেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে। লেখালেখি শুরু শখের বশে। ১০টিরও বেশি অনুবাদ বই ও ১টি মৌলিক বই প্রকাশের পর “নীল নক্সা” তার ২য় মৌলিক বই হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে!

নীল নক্সা মানে কি? মানে হলো বড় সড় কোন কাজের আগে যেই বিস্তারিত পরিকল্পনা করা হয়, তাকে নীল নক্সা বলে। আলোচ্য উপন্যাসের প্রতিপাদ্য হিসেবে এই নাম যথার্থ!

আলোচ্য গল্প শুরু হয় এক খুনের মধ্য দিয়ে। ডন ওয়াসী নামের একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসীর ডান হাত নাহিদ হাসান পুলিশের নিকট রাজসাক্ষী হতে এসে খুন হয় থানাতে। তবে সে খুন যেন তেন খুন না। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে নাকি কিছুই ধরা পড়েনি। রহস্যময় মৃত্যু। খুনের দায় এসে পড়ে পুলিশের সিনিয়র এএসপি সৈয়দ মারুফের উপর। তাকে বাচাতে আর এই অদ্ভুত রহস্যের সমাধান করতে দায়িত্ব এসে পড়ে ডাক্তার থেকে পুলিশ বনে যাওয়া রাফসান ইবনে সেলিমের ঘাড়ে।ব্যাস! জুনিয়র এস.আই. আদনান আহমেদকে নিয়ে ঢাকা শহরের এ-মাথা থেকে ও-মাথা ছুটতে শুরু করে সে। পরিচিত হয় একজন রহস্যময়ী নারীর। যারা গতিবিধি সন্দেহজনক। রহস্যের সমাধানের বদলে প্যাচ আরো বাড়তে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে তারা সম্মুখীন হয় এক মহাসত্যের!

সবার আগে বলে নেই, মেডিকেল থ্রিলার কি? যে ধরণের রহস্যগল্পে মেডিকেল বা ডাক্তারি বিদ্যার টার্মগুলোর বিশেষ রকমের উল্লেখ থাকে, তাকে মেডিকেল থ্রিলার বলে। আমাদের দেশে এটি কিছুটা নতুন হলেও বহির্বিশ্বে এই জনরার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি! রবিন কুক, টেস গেরিটসেন প্রমুখ নামকরা মেডিকেল থ্রিলার লেখক।
আমি মেডিকেল থ্রিলার আগে কখনও পড়িনি। অনেকবার হাতে নিয়েও পড়া হয়নি। সেই হিসেবে “নীল নক্সা” আমার পড়া প্রথম মেডিকেল থ্রিলার!
ভালো লেগেছে। এক বসায় শেষ করেছি গোটা উপন্যাস। চমৎকার কাহিনী। ধুন্দুমার অ্যাকশান। চমৎকার ফ্লো। রহস্যভরা প্লট। আর সেই সাথে পাকা হাতের লেখুনী।
লেখক ফুয়াদ আল ফিদাহ ��র এটি ২য় মৌলিক হলেও, তিনি যে অনুবাদ করতে করতে পুরো হাত পাকিয়ে ফেলেছেন তার বই পড়লেই বোঝা যায়। সাবলীলতা ও চমৎকার গতির পাশাপাশি ভাষার ব্যবহারও ছিল বেশ প্রশংসা করার মত। বাংলা ভাষার অনেক সুন্দর সুন্দর শব্দ ও বাক্যশৈলী ব্যবহার করা হয়েছে যা ইদানিংকালের থ্রিলারে সাধারণত দেখা যায় না।
গল্পটা লেখার সময় যে লেখক প্লটটা নিয়ে যে বেশ খাটাখাটুনি করেছেন সেটাও বুঝতে পেরেছি। লেখক নিজে ডাক্তার হওয়ায় বইয়ের মেডিকেল টার্মগুলোও খুব সুন্দরভাবে এসেছে। লেখক খুব সংক্ষেপে সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। উপন্যাসের কোথাও তেমন কোন অতিকথন বা জ্ঞান বিতরণ মনে হয়নি। খুব স্বাভাবিক গতিতেই কাহিনী এগিয়েছে।
গল্পে কিছু মারামারির স্থান আছে। সাধারণত মারামারির জায়গাগুলো লিখতে লেখকরা হোচট খান। দৃশ্যপট বর্ণনায় গতি আনতে পারেন না। এদিক থেকে লেখক পূর্নমাত্রায় সফল। অ্যাকশানের জায়গাগুলো বেশ উপভোগ্য ছিল।
গল্পের চরিত্রায়নও বেশ ভাল ছিল। লেখক চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে নামগুলো খুব পরিচিত বলে বই পড়ার সময় চোখের সামনে সেই নামের মানুষগুলোর চেহারাই ভাসছিল। গল্পের আদনার আহমেদ চরিত্রটি বেশ ভালো লেগেছে আমার। চরিত্রটি একটি মায়াসৃষ্টি করতে পেরেছে। যা বই শেষ হওয়ার পরেও কাটেনি।
গল্পের চরিত্রদের চরিত্রগুলোও লেখক বাস্তবধর্মী করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু থ্রিলার গল্পের নায়ককে সবসময়ই কিছু অতিরিক্ত ক্ষমতা দান করতে হয়। এই বইটির ক্ষেত্রেও সেটির ব্যতিক্রম হয়নি!
আগেই বলেছি, ২য় মৌলিক হিসেবে লেখকের লেখা ভালো। তবে ছোটখাটো বানান ভুল ছিল। “কি” এবং “কী”তে সমস্যা ছিল। দু-এক জায়গায় প্রিন্টিং মিসটেক ছিল।
এছাড়া বইয়ের বাহ্যিক দিকগুলোও বেশ সুন্দর। খুব সুন্দর বাইন্ডিং, চমৎকার কাগজের মান ও ছাপা। আর সেই সাথে চমৎকার প্রচ্ছদ। প্রচ্ছদের জন্য এস.আই. আদনান আহমেদকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।
সবশেষে এটাই বলব, বইটি পড়ে দেখুন। শেষ না করে উঠতে পারবেন না।
ধন্যবাদ!
হ্যাপি রিডিং!

এক নজরে নীল নক্সা...
বইয়ের নামঃ নীল নক্সা
বইয়ের ধরণঃ মেডিকেল থ্রিলার
বইয়ের লেখকঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
প্রচ্ছদঃ আদনান আহমেদ
অলংকরণঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
প্রকাশকালঃ অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭
প্রকাশনীঃ আদী প্রকাশন
পৃষ্ঠাঃ ১৬০
মূদ্রিত মূল্যঃ ২৩০ টাকা
রেটিংঃ ৪.৫/৫

Profile Image for Prantick Dutta.
2 reviews
April 7, 2017
গত কয়েক বছরে আমাদের দেশের আর কোন ক্ষেত্রে উন্নতি হোক আর না হোক ক্রিকেট আর মৌলিক থৃলার এর অসাধারণ উন্নতি হয়েছে । ফিদাহ ভাইদের মতো তরুণ লেখকদের জন্য আজ গর্বের সাথে বলতে পারি যে '' বাঙালি জাতি থৃলার লেখতে ও পড়তে দুটোতেই ওস্তাদ''।
পড়ে ফেললাম নীল নক্সা,বাংলাদেশের প্রথম মেডিকেল থৃলার। কাহিনী সংক্ষেপ লেখার কোন প্রয়োজন নেই কারণ সেটা বইয়ের সাথে চমত্কার ভাবে ছাপা হয়ছে তাই সরাসরি রিএকশনে চলে আসলাম।
''মেডিকেল থৃলার'' বলেই প্রচন্ড হাইপড ছিলাম বইটা নিয়ে কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটু আশাহত হলাম। বইয়ের সুচিন্তিত প্রচ্ছদ এবং কাহিনী সংক্ষেপ যে কারো মনোযোগ কাড়ার জন্য যথেষ্ট । ফিদাহ ভাইয়ের সাবলীল লেখার স্টাইল ,মেডিকেল টার্মগুলোর ইউযগুলো একদম খাপে খাপ হওয়া সত্বেও একটু বোরিং প্লট এবং অনুমানযোগ্য টুইস্টগুলোর জন্য তিন স্টার দিলাম । আসলে বইটা নিয়ে অনেক বেশি এক্সপেকটেশন ছিল তাই হয়তো এমনটা হয়েছে । অপরাধ জগতের মাথা'' ডন'' সাহেবের ভুমিকা এবং অপরাধ জগতে আনাগোনা একটু বেশী , পুলিশের বর্ণনা একটু কম এবং শেষের হৃদয়বিদারক এন্ডিংটা না থাকলে আরো অনেক বেশী ভালো লাগতো। জায়গা মতো মেডিকেলীয় ব্যাপার স্যাপার গুলোর প্রয়োগ এবং শেষে সেগুলোর এক্সপ্লানেশন বেশ ইন্টারেস্টিং ছিলো,স্টোরি টেলিং এবং এক চ্যাপ্টার থেকে অন্য চ্যাপ্টারের ভেরিয়েশনটা এবং চরিত্রগুলোর নিজেদের মধ্যের আন্ডারস্ট্যান্ডিং & ফান গুলো বেশ উপভোগ্য হলেও শেষ পর্যন্ত কাহিনীর দুর্বলতাটার জন্য ডিসাপয়ন্টেড হতে হলো। মোটের ওপর বলবো বইটা না পড়ে থাকলে আজই পড়া শুরু করে দিন,ভালোই মজা পাবেন। যেহেতু এই জনরার বই দেশে এইটা প্রথম সেহেতু এইটুকু ভুল ত্রুটি অবশ্য হতেই পারে। লেখকের চমৎকার স্টোরি টেলিং সুন্দর ভাবে প্লটকে কাভার করেছে।
লেখককে অনেক অনেক ধন্যবাদ দেশে থৃলার গল্পের নতুন এক ধারার সৃষ্টি করার জন্য।আশা করি, ফিদাহ ভাইয়ের দেখানো পথ ধর আরো ভবিষ্যতে আরো অনেক ভালো ভালো মেডিকেল থৃলার দেখতে...থুক্কু পড়তে পারবো।
বিদ্র: আরেকটা খুব ইমপরট্যান্ট কথা বলতে একদম ভুলে গিয়েছিলাম। বইটার একটা জিনিস খুব ভালো লেগেছে,সেটা হলো গল্পকে অযথা চুইংগামের মতো টেনে লম্বা করা হয়নি , ফলে বইটা হয়েছে বেশ ঝরঝরে এবং গতিশীল ।
লেখকের আর্টেমিস ফাউল সিরিজটা নেক্সট টার্গেট করলাম
Profile Image for Sadia AB.
28 reviews
August 12, 2022
আমি রিভিউ লিখতে পারিনা, So It's just my feelings

"দ্য সার্জন" বইটা পড়ার পর থেকে মেডিকেল থ্রিলার জনরার প্রতি অন্যরকম ভালোবাসা তৈরী হয়েছিলো সেটা এই বই পড়ে আরও বেড়ে গেলো🥺🥺....
বইটা ধরেছি সন্ধ্যায় এখন শেষ করলাম মোটে ৩/৪ঘন্টা সময় লাগবে মাত্র বইটা পড়তে কিন্তু সময়টা যাবে সুন্দর। মেদহীন কমন প্লটের সুন্দর একটা বই। আদনান ক্যারেক্টারটাকে এতটাই ভালো লেগে গিয়েছিলো পড়তে পড়তে এখন💔💔💔💔💔💔💔💔💔....
কিছু জিনিস নতুন শেখা আর সুন্দর সময় পার হলেই বইটাকে পছন্দের বই বলে মনে করি। কিছু টার্ম নতুন শিখেছি💝💝।
বইটার এক জায়গায় রাফসানের নাম "রাফসানা" লেখা আছে। আল্লাহ পাগলের মত হেসেছি😄😄এটা পড়ার সময়।
প্রথমদিকে ডাক্তারি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাটা আমার রুমমেট ইন্টার্ন আপুকে শোনানোর পর সে বলেছে "আরেহ এইটাতো গল্প না! সত্যঘটনাই!" এমনই নাকি হয়😯..আমি টোটালি শকড...!!!!

ডন ওয়াসির প্রথম ব্যাপারটা ভাল্লাগছে "ভাঙবে কিন্তু মচকাবে না" 😐......

looking forward to reading more medical thrillers💝💝...

নীলনক্সা বইটার সাথে আসলেও সুন্দর একটা সময় গেলো🥰😋..
Profile Image for Joy Benon.
2 reviews
April 13, 2017
Doctor ra je thriller lekhe take medical thriller bole. Doctor jodi bole ajke apnar patla paykhana hoa mara jaban tahole setai hobe. Akta choritro shudhu doctor, 2/1 ta osudh er nam ar bengali cinema theke udhar kore nawa action mila gache.

Baler book. Baler writer.
Profile Image for Shaon Arafat.
131 reviews31 followers
November 6, 2017
গল্পটা ডাক্তার থেকে পুলিশ বনে যাওয়া রাফসান ইবনে সেলিমের, প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর এস আই আদনানের, কিংবা কুখ্যাত আন্ডারগ্রাউন্ড ডন ওয়াসি এবং তার প্রধান সহযোগীদের। একসময়ের খুলনার ত্রাস ওয়াসি আনোয়ার এবং তার দুই প্রধান সহযোগী নাহিদ হাসান ওরফে নাদু গুন্ডা এবং খন্দকার শুভ থেকে পাইপ শুভ তে পরিণত হওয়া হওয়া আপাত দৃষ্টির পিশাচদের মাফিয়া জগতে উত্থান, ভালোবাসা, টিকে থাকা এবং শেষ পরিণতিই এখানে প্রধান আলোচ্য। যদিও গল্পের শুরুটা ঠিক এমন নয়...
ডন ওয়াসি'র ডান হাত, অনেকে যাকে ডনের মস্তিষ্ক'ও বলে থাকে- নাহিদ হাসান ওরফে নাদু গুন্ডা'র বনানী থানায় আগমন খুব হুট করেই। উদ্দেশ্য আত্মসমর্পণের। ডনের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হয়ে সকল অপরাধ স্বীকার করে নেওয়া। বনানী থানার কনফারেন্স রুমে, কথা বলা শুরু করার আগেই আচমকা মারা পড়ে সে। মৃত্যুর কারণ ধোঁয়াটে। শরীরে কোন আঘাতের লেশ মাত্র নেই। আবার তার থানায় আগমনের ব্যাপারটা অন্য কেউ জানতোও না, যে অন্য কোন উপায়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হবে। এ- মৃত্যুতে সম্ভাব্য বেশ বড় সড় ক্ষতির পরিমাণ দু'টো- এক, ডন ওয়াসি'র বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ জোগাড়ের সম্ভবনাটা গেলো, এবং দুই, এইটা যদি খুন হিসেবে প্রমাণিত হয় তাহলে থানার ওসি সৈয়দ মারুফ ফেঁসে যেতে পারেন। অগত্যা ডিআইজি সামিউল ইসলামের একান্ত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিতে সরেজমিন তদন্তে নামতে হলো এএসপি রাফসান ও তার ছোট ভাই সমতুল্য এসআই আদনানকে।
তদন্তের এক পর্যায়ে জানা গেলো মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে কোমল-মনা দানব সদৃশ নাদু গুন্ডা'কে এক রহস্যময় মহিলার সাথে নাস্তা করতে দেখা গেছে মোহাম্মদপুরের বিখ্যাত এক রেস্টুরেন্টে।
নাহিদ হাসানের সাথে ক্যাথেরিন রোজারিও নামের এই রহস্যময়ীর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টা ঠিক যেন মেলে না। কানেকশন বের করতে
রীতিমত হিমশিম খেতে হয় রাফসান ও আদনানকে। এদিকে দৃশ্যপটে ডন ওয়াসি'র প্রধান হিটম্যান খন্দকার শুভ ওরফে পাইপ শুভ'র আগমন নাহিদ হাসানের মৃত্যুর ব্যাপারে ডনের হাত থাকার বিষয়টাই ডিরেক্টলি ক্লেইম করে বসছে। মানসিকভাবে অসুস্থ ডনের এই মাসলম্যান থাকে ঢাকার বাইরে। ���াকায় তার পা পড়া মানেই ঢাকাবাসীর নতুন কয়েকটা লাশের দেখা পাওয়া। সো ইকুয়েশন ইজ সিম্পল- নিজেকে বাঁচাতে ডন ওয়াসি পাইপ শুভ'কে দিয়ে খুন করিয়েছে নাহিদ হাসানকে। রাফসানেরও মনে একই ধারণা ছিল একেবারে শুরু থেকে। বেসিক্যালি, সে উদগ্রীব হয়ে ছিল খুনটা কিভাবে করা হয়েছিল- এইটা জানার জন্য। যাই হোক, তদন্ত এগিয়ে চলে ঘোড়ার গতিতে।
ঘোড়ার গতিতে এগিয়ে চলা তদন্ত'তে রাফসান ওয়াসি গ্যাং ও এর সংশ্লিষ্ট মানুষজন সম্পর্কে যত বেশি জানতে শুরু করে, রহস্যও ক্রমশ ঘোলাটে হতে শুরু করে। ক্রমান্বয়ে, এই বিশেষ খুনের ব্যাপারে রাফসানের আগের সব হাইপোথিসিস-ই নিস্ক্রিয় হতে থাকে। পেন্ডুলামের দোলাচলে দুলতে থাকা রাফসান এসআই আদনানকে সঙ্গী করে ছুটে চলে রহস্যের গভীর থেকে গভীরতরে। বেরিয়ে আসে এমন কিছু তথ্য যা দেখে কেবল রাফসানই নয়, পাঠকেরাও হয়তো চমকে উঠবে। চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক 'সেলফ-জার্নি' লেখকের প্রাঞ্জল বিবরণের সাথে পাঠকের মনে দাগ কাটতে একরকম বাধ্যই বলা চলে। লেখকের অতি সহজে গল্প বলতে পারার সহজাত-ভঙ্গির সাথে তার প্রথম মৌলিক বই "রাত এগারো টা"-র মাধ্যমে প্রথম পরিচয় লাভের পর, "নীল নক্সা"তে তা বেশ ভালোভাবেই পূর্ণতা পেয়েছে বলা চলে। আর হ্যাঁ- মেডিক্যাল থ্রিলার হিসেবে বইটা পড়তে প্রথমে কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম, অন্য অনেকেরই পাওয়ার কথা- মেডিক্যাল টার্ম গুলো নিয়েই যত সমস্যা। তবে শেষমেশ মনে হয় না বুঝতে কারো তেমন সমস্যা হবে- মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ এই ব্যাপারটাকে বেশ সিরিয়াসলিই নিয়েছিলেন মনে হয়। প্রায় সবগুলো টার্মই তিনি অনেক ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন- জীবনে প্রথমবার শোনা টার্ম গুলোকে অপরিচিত মনে হয় নি একবারের জন্যও।
Edit
Profile Image for Tareq Ul.
31 reviews3 followers
September 9, 2020
এই বছর বেশ কিছু বাংলাদেশী থ্রিলার কিনলাম। কিছু বই পড়ে আমি এতটাই মুগ্ধ হয়েছি যে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছি, এখন থ্রিলার পড়লে বাংলাদেশী থ্রিলারই পড়বো। আর বিদেশী বা অনুবাদ পড়বো না। মেডিকেল থ্রিলার জনরাটা যথেষ্ট এক্সাইটিং। খুজছিলাম যে এই জনরায় কেউ লিখেছেন কিনা! একটু খুজতেই পেলাম মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহর ‘নীল নক্সা'র সাজেশন।
থ্রিলার জনরা নিয়ে আমার কনফিউশনের শেষ নেই। আমি আজ পর্যন্ত এই জনরা গুলো সম্পর্কে ক্লিয়ার ধারনা নিতে পারি নি, আমার ব্যর্থতা। তাই জনরা যেমনই হোক গল্পের প্লট যদি জম্পেশ হয়, মাথা খাটানোর যথেষ্ট উপাদান পাই তাহলেই আমি সন্তুষ্ট।
তো নীল নক্সা বইটি সম্পর্কে বলতে গেলে অনেক কথাই আসবে। বইটিতে শব্দ বা ভাষার ব্যবহারে কোনো কথা হবে না। কারণ লেখকের অনুবাদের সাথে যারা পরিচিত তারা একথা স্বীকার করতে বাধ্য যে উনার মতো প্রাঞ্জল অনুবাদক খুব কমই আছেন। কিন্তু প্যাচটা লাগে গল্পের কাহিনীতে। আমার কাছে কাহিনীটা খুবই সাদামাটা মনে হয়েছে। প্রথম দিক থেকেই খুব সাধারণ একটা গল্পের মতো এগিয়েছে। ক্যাথরিন যে ওয়াসা আনুর স্ত্রী সেটা আমি ক্যারেক্টারটা আসার পরই বুঝতে পেরে ছিলাম। যার কারণে আমার কাছে থ্রিলের বিন্দু বিসর্গও ছিলো না। খালি কনফিউশন একটাই ছিলো নাদু গুন্ডাকে মারলো কিভাবে, মানে প্রসেসটা নিয়ে। হয়ত মেডিকেল টার্মগুলোর সাথে পরিচয় থাকলে সেটাও কিছুটা আন্দাজ করতে পারতাম। যাক না জানায় একদিক থেকে সেটা নতুন, অন্যদিক থেকে আমি অধিকাংশ মেডিকেল টার্মই বুঝি নি আমার অজ্ঞতার কারণে। হ্যা, কিছু কিছু ঘটনা অবাক করেছে বটে, যেমন রিমুর পরিচয় রিভিল করাটা। আমি প্রথমে ওয়াসা আনুর মেয়ে ভেবেছিলাম।
আরেকটা ব্যাপার না বললেই নয়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধঃস্তনদের বড় ভাই হয়ে যাওয়াটা খুবই দৃষ্টিকটু লাগে আমার কাছে। না আমি এখানে শ্রেনীভেদ করছি না, কিন্তু আসলে এটার সাথে অভ্যস্ত নই। কলিগদের প্রতি একটা আবেগ ভালোবাসা থাকেই, কিন্তু ভাই হয়ে যাওয়াটা কেমন জানি লেগেছে। হয়ত এটা আমারই খারাপ লেগেছে, অন্যদের ভালো লাগতেই পারে।
পরিশেষে, এই আলোচনাটায় আমি লেখকের দোষ দিতে চাই না, উনি বইটির ভূমিকাতেই উনার সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। ফিদাহ ভাইয়ের থেকে ভবিষ্যতে আরও দারুণ জমজমাট থ্রিলার পাবো আশাকরি। আর যাদের অতিরঞ্জিত রিভিউ দেখে বইটি কিনেছিলাম তাদের মনের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ ছাড়া আর কিছুই বলার নেই।
Profile Image for  Sikey.
35 reviews7 followers
January 9, 2024
♣️কাহিনী সংক্ষেপ:
পুলিশ অফিসার রাফসানের কাধে এসে পরে আত্মসমর্পণ করতে এসে খুন হাওয়া নাহিদ হাসানের কেসের তদন্তের ভার। ডন ওয়াসির বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হতে এসে খুন হয় নাহিদ। মৃত্যুর আগে অনেকটা সময় সে কাটিয়েছে ওসি মারুফের সাথে। তাই স্বভাবতই এই মৃত্যুর দায় পড়তে পারে ওসি মারুফের উপর। ওসি মারুফকে বাচাতে এই মৃত্যুর কারন উদঘাটনে মাঠে নামে ডাক্তারি পেশা ছেড়ে পুলিশ হওয়া রাফসান আর তার ভাই সম জুনিয়র এস আই আদনান।রহস্যের জট খুলতে তারা ছুটে চলে এমাথা থেকে ওমাথা। ডন ওয়াসিকে খুজতে খুজতে পৌঁছে যায় পাইপ শুভ এর কাছে। ডন ওয়াসি কি পাইপ শুভকে দিয়েই খুন করিয়েছে নাহিদ কে?
নাহিদ ই না হঠাৎ কেন এল রাজসাক্ষী হতে?
অপরাধ জগতে থেকেও নাহিদের মাঝে কেন এত দানশীল মনোভাব? তাদের চোখের সামনে ই বা কি করে কেউ খুন করতে পারে তাকে?
নাহিদের সাথে সর্বশেষ দেখা ওই রহস্যময়ী নারীই বা কে?
রাফসান আর আদনান কি খুজে পাবে তাদের মনে ভীড় করা সকল প্রশ্নের উত্তর?

♣️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
বইটিতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড গুলো তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমে এটিকে ক্রাইম থ্রিলার মনে হলেও হঠাৎ ঘটনাপ্রবাহ মেডিক্যাল থ্রিলারের দিকে নিয়ে যায়।রাফসানের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে পুলিশ পেশা কে বেছে নেয়ার ব্যাকস্টোরিটিও বেশ ভালো লেগেছে।নেগেটিভ চরিত্র হলেও পাইপ শুভ আর শ্রুতির কেমিস্ট্রি টা দারুন। পুরো বইটাতে রাফসান আর আদনানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, খুনসুটি খুব উপভোগ করেছি।তবে শেষটা এমন রক্তাক্ত না হলেও পারতো।
বেশ কিছু একশন সিকোয়েন্স আছে যা টান টান উত্তেজনা তৈরি করে।
কাহিনীর বর্ননা বেশ সাবলীল, গতিশীল। যেহেতু এটি মেডিক্যাল থ্রিলার তাই নানা টুইস্ট, কাহিনীর বর্ননা চিকিৎসাবিজ্ঞান কেন্দ্রিক হওয়াই স্বভাবিক তবে ডিটেইলস বর্ননার কারনে ননমেডিক্যাল পার্সন হিসেবে বুঝতে কোন সমস্যা হয়নি।
🌻ব্যাক্তিগত রেটিং : ৪/৫
Profile Image for Ësrât .
516 reviews85 followers
September 1, 2019
মেডিকেল,আইন এবং নিজের জন্মস্থান খুলনা যেখানে শৈশবের দুরন্ত ও স্বপ্নের মতো দিনগুলো কেটেছে তাকে প্রেক্ষাপট করে গল্পটা.রাফসান ইবনে রেজা যেকিনা নিজের ভালোবাসার জায়গা ডাক্তারী থেকে ফিরে এসে পুলিশ হয়েছিল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা ও ডাঃ দের দুরবস্থা দেখে.ডন ওয়াসি,নাদু গুন্ডা আর পাইপ শুভ যাদের নিয়ে ওয়াসা গ‍্যাং সেই দলের কুকর্ম ফাঁস করতে যেয়ে নাদু গুন্ডার রহস্যময় মৃত্যু আর তারপর ষড়যন্ত্র এবং রহস্য উন্মোচন করতে রাফসান আর আদনান এর অপারেশন.পুরো সময়ে পড়তে যেয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে কখনো মনে হয়েছে নাহ্ এটা এভাবে হলে ভালো হত আবার কখনো চিকিৎসা শাস্ত্রের বৈচিত্র্যময় সব তথ্য পড়ে ভালোই লেগেছে.
Profile Image for Kawsar Mollah.
141 reviews7 followers
October 8, 2021
আমাদের দেশীয় মৌলিক মেডিকেল থ্রিলার প্রায় নেই বললে ই চলে। তাই লেখকের এই পদক্ষেপ অব্যশই প্রশংসনীয়।

লেখকের প্রথম মৌলিক পড়ে লেখকের বইয়ের প্রতি আগ্রহ হয়।।আর ওনার অনুবাদের এক কথায় সেই লেভেল এর ফ্যান।

নীলনক্সা তে লেখনী অনেক ভালো ছিল। বিশেষত ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট। আর নাম গুলো সব পরিচিত হওয়াতে ক্যারেক্টার ছবি চোখের সামনে ভাসছিলো।তবে ফুয়াদ ভাই এর কাছে এক্সপেকটেশন আরো বেশি ছিল। আশা করি সামনের গুলাতে সেই আশা পূরন হবে। আর সামনে অনেক ভালো ভালো মেডিকাল থ্রিলার পাবো।

হ্যাপি রিডিং :)
Profile Image for Tamzid Rifat.
116 reviews1 follower
January 30, 2024
আক্ষরিক অর্থে এই প্রথম মেডিকেল থ্রিলার পড়লাম। শুরুটা বেশ ধীরলয়ে শুরু হলেও সময় বাড়ার সাথে সাথে থ্রিল ও সাসপেন্স বেড়েছে। লেখকের লেখনী বেশ সাবলীল ছিলো। নেতিবাচক দিক বলতে গেলে শেষটায় বড্ড তাড়াহুড়ো লেগেছে। আরেকটু সময় নিয়ে শেষ হলে এ পাঠকমন হয়তো তৃপ্ত হতো। এছাড়া কিছু কিছু সংলাপে একটু নাটুকেপনাও পরিলক্ষিত হয়েছে, নইলে চার তারকা অনায়েসে দেয়া যেতো।
Profile Image for Sami Choudhury.
77 reviews43 followers
February 21, 2017
একটানে পড়ে ফেলার মতো একটি থ্রিলার। ঘটনাগুলো এতো তাড়াতাড়ি ঘটে গেলো যে খেই ধরে রাখা মুস্কিল। সুপার সনিক গতি। সুন্দর টাইম পাস।
Profile Image for Shrabonti Debnath.
31 reviews
May 1, 2023
বই:নীল নক্সা
লেখক:মোঃফুয়াদ আল ফিদাহ
প্রচ্ছদ:আদনান আহমেদ
ঘরানা:থ্রিলার
প্রকাশকাল:ফেব্রুয়ারী ২০১৭
প্রকাশনী:আদী প্রকাশন
পৃষ্ঠা:১৫৯
মুদ্রিত মূল্য:২৩০টাকা

কাহীনী সংক্ষেপঃ
পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে এসে হটাৎ মারা গেলো ডন ওয়াসির ডান হাত নাহিদ হাসান ওরফে নাদু গুন্ডা।খোদ পুলিশের আন্ডারে রাজসাক্ষী হতে এসে এভাবে মারা পড়লো!কিন্তু মরলো কিভাবে?
মৃত্যুকে নিয়ে রহস্য পাকাতে শুরু করলো।এটা কি স্বাভাবিক মৃত্যু না খুন?
এরই মধ্যে নাদু গুন্ডার খুনের দৃশ্যপট জটিল হলো ডন ওয়াসির আরেক প্রধান খন্দকার শুভ ওরফে পাইপ শুভর আগমনে।কেননা কোন মিশন না থাকলে পাইপ শুভ সহজে ঢাকার মাটিতে পা রাখেনা।তবে কি মৃত্যুর পিছনে হাত রয়েছে ডন ওয়াসির?
এদিকে পুলিশের আন্ডারে মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হচ্ছে সিনিয়র পুলিশ এ.এস.পি সৈয়দ মারুফের কাঁধে!
রহস্য সমাধানের দায়িত্ব পড়লো জুনিয়র এ.এস.পি রাফসান ইবনে সেলিমের ঘাড়ে।ঘটনাচক্রে যে হটাৎ করেই ডাক্তার থেকে পুলিশ হয়েছিলো।রাফসান রহস্য সমাধানে নেমে পড়লো মাঠে।সাথে ছিলো এস.আই আদনান আহমেদ।
রহস্য সমাধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসতে শুরু হলো একের পর এক অজানা তথ্য,যা মৃত্যু রহস্যকে আরো জটিল করতে শুরু করলো।
নাহিদের মৃত্যুটা কি স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে নাকি এই মৃত্যুর পিছনে রয়েছে অন্য কারো হাত?
রহস্য জট পাকাতে শুরু করলো।

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ

লেখকের এই বইটি তার লেখা দ্বিতীয় মৌলিক বই।কাকতালীয়ভাবে বইটি আমার ও পড়া লেখকের লিখা দ্বিতীয় মৌলিক বই। প্রথম বইয়ের তুলনায় এই বইটি বেশ গোছানো ছিলো।বইয়ে রহস্যের পাশাপাশি ছিলো অনেক মেডিকেল টার্ম।হয়তো লেখক নিজে ডাক্তার বলেই......
তবে শেষটায় লেখক এমন পরিনতি টানলেন মেনে নিতে কষ্ট হয়েছিলো।
থ্রিলার হিসেবে যথেষ্ট সাবলীল ছিলো বইটি।যদিও আরো অনেক বেশি আশা ছিলো।
রহস্যের শেষটা জানতে পাঠককে অবশ্যই বইটা পড়ার আহবান জানাই।
অবশ্যই ভালো একটা থ্রিলার পড়তে পারবে পাঠকরা।
Displaying 1 - 30 of 57 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.