সোমনাথ ৷ প্রভাসক্ষেত্রে উর্মিমালা বিধৌত সমুদ্রতটে অবস্থিত সুপ্রাচীন মন্দির ৷ দেবাদিদেব মহাদেব এখানে পূজিত হন সোমনাথ নামে ৷ অলৌকিক জীবন্ত বিগ্রহ ৷ কথিত আছে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বহুমূল্য স্যমন্তক মণি দান করেছিলেন সোমেশ্বর মহাদেবের শ্রীচরণে ৷ মন্দিরের কোষাগার পূর্ণ ভক্তদের রত্ন ও অর্থে৷ শুধু মণিমাণিক্য নয়, পুণ্যলাভের আশায় এই মন্দিরে দান করা হয় নারীদেরও ৷ তারা দেবদাসী ৷ দেবদাসী এই নারীদের মধ্যে যেমন লুণ্ঠিত কুমারী কন্যা থাকত, থাকত দাসীর হাট থেকে ক্রয় করা মেয়ে, আবার রাজারাও তাঁদের আপন কন্যাকে দান করতেন ৷ তবে শুধু নারী নয়, কোনও কোনও সময়ে অজ্ঞাত পুরুষও উৎসর্গীকৃত হত সোমেশ্বরের চরণে ৷ এই কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতে তেমনই এক রাজকন্যা ৷ ভাগ্যবিপর্যয়ে যে বাধ্য হয় দেবদাসী হতে৷ তার সঙ্গে এক মন্দিরবাসী ভাগ্যহত যুবকের গোপন গভীর প্রেম ঘনীভূত হয় ৷ শুরু হয় এক বিচিত্র প্রেমকাহিনি ৷...কোন সে সময়? যখন উষর মরুভূমি পেরিয়ে উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে ছুটে আসছিল লুঠেরা হানাদারের দল...লক্ষ্য সোমনাথ মন্দির, স্যমন্তক মণি ৷... সোমনাথ সুন্দরী ৷ শাশ্বত ভারতবর্ষের পটভূমিতে এক নিগূঢ় প্রেমকাহিনি ৷...
আমার প্রিয় লেখকের লেখা আরেকটি masterpiece.🤗🤗কাহিনীর প্রেক্ষাপট বর্তমান গুজরাটের সোমনাথ মন্দির।মন্দিরের দেবদাসী প্রথা কাহিনীর মূল উপজীব্য বিষয়।এমনিতেই ঐতিহাসিক উপন্যাস আমি গোগ্রাসে গিলে ফেলি,তার উপর ইনি আবার প্রিয় লেখক।সঙ্গে উপরি পাওনা প্রেক্ষাপট সোমনাথ মন্দির। 🥰🥰পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল যেন আমিও প্রভাসপত্তনে সোমেশ্বর মহাদেবের চরণতলে মানসভ্রমণ করছি।লিখনশৈলী এমনই যে গজনীর সুলতান মামুদের সোমনাথ মন্দির আক্রমণের বিস্তারিত বর্ণনা উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে চড়াবে।সবচেয়ে যে বিষয়টা আমার ভালো লেগেছে,সেটা হল গল্পের happy ending.ঐতিহাসিক কাহিনীপ্রিয় পাঠক/পাঠিকারা পড়ে দেখতে পারেন।
বই টা পড়লাম।কিছু চরিত্র ঐতিহাসিক কিন্তু এটা সার্থক ঐতিহাসিক উপন্যাস না। ইতিহাস খুব কমই আছে এই বইতে যা আছে তাও ভূল। আব্বাসি খলিফার পতাকা সবুজ নয় কালো। গজনীর মাহমুদ ও তার বাহিনী সদস্যরা জাতিগতভাবে তুর্কি, কেউ আরব না।এটা প্রতিষ্ঠিত ফ্যাক্ট যে দ্রুত গতির ঘোড়া থাকায় আর তীরন্দাজ বিদ্যায় অধিক পারদর্শী হয়ায় গজনবী ও ঘুরিদ বাহিনী ভারতের বিশাল বিশাল সম্মুখযুদ্ধে পারদর্শী সৈন্যবাহিনী ও রণহস্তী সম্পূর্ণ বাহিনীকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে। কিন্তু লেখকের মতে মুসলমান বাহিনীরা তীরন্দাজ বিদ্যায় অক্ষম কিন্তু সম্মুখ যুদ্ধে অধিক সক্ষম।What a joke! ন্যাংটা নাগা সন্ন্যাসী বাহিনী একটা নব্য আবিষ্কৃত কাল্পনিক বাহিনী যা স্বপ্নে দেখে হিন্দুত্ববাদীদের স্বপ্নদোষ হয়। এটা একটা ভিত্তিহীন কল্পনা। যাজ্ঞে শেষে বলতে চাই কাল্পনিক চরিত্র গুলা বৈচিত্র্যময়।তবে উপন্যাস টা কিনে আমার টাকা ব্যাহাত গেল। লেখকের প্রতি আহবান তথাকতিত ঐতিহাসিক উন্যাস লেখার আগে ইতিহাস পড়ুন। ভাসা ভাসা জ্ঞ্যান নিয়ে কিছু লিখবেন না
সুন্দর, টানটান কাহিনী। বাংলা ভাষায় এইরকম প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক থ্রিলার লেখা হচ্ছে আজকাল, এটা পাঠকদের একটা বড় পাওনা। সমকালীন সমাজ, রাজনীতির অনেকগুলো দিক চিহ্নিত হয়েছে। ঐতিহাসিক আখ্যানের ইতিহাসের দিকটাকে ধরার ক্ষেত্রে যে নিরপেক্ষতা কাম্য, লেখক সেটি অর্জন করতে পেরেছেন। দুই দিকের সবলতা-দুর্বলতা, গুণ বা ত্রুটির কথা যথাযথ চিহ্নিত হয়েছে।
অমীশের সুহেলদেব-এর কথা মনে পড়ায়, যদিও ডিটেলিং-এর একটু অভাব। বাংলা ভাষায় এরকম বই আরও লেখা হোক।