গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, যখনই ধর্মের গ্লানি হয়, অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে , পৃথিবী পাপ-ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে, দুর্জন হয়ে ওঠে শাসক ও জনগণের জীবন হয় বিপর্যস্ত, তখনই পাপীদের দমন এবং দুষ্কৃতীদের বিনাশ করে ধর্মসংস্থাপন করার জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।”
উত্তরপাড়া থেকে ভদ্রেশ্বর, বৈদ্যবাটি থেকে চন্দননগর, খুন হচ্ছেন একের পর এক ব্যবসায়ী। কেন? কী উদ্দেশ্য হত্যাকারীর?
সূত্র খুঁজতে হবে সুদূর আমেরিকার আমীশ সম্প্রদায়ে, যারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন আধুনিকতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি পাপ। যারা এই ২০২০ সালেও জীবন যাপন করেন মধ্যযুগের মত। রয়েছে রোমহর্ষক সমস্ত ট্যুইস্ট, রয়েছেন অষ্টাদশ শতাব্দীর অবিসংবাদী শ্রেষ্ঠ বাঙালি জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন।
রহস্যময় আমীশ সম্প্রদায়কে প্রথমবার বাংলা সাহিত্যে উপস্থাপন করতে চলেছে রুদ্র প্রিয়ম সিরিজের নতুন উপন্যাস গ্লানির্ভবতি ভারত, যার পরতে পরতে রয়েছে এক চিরন্তন প্রশ্নের উত্তরসন্ধান। যে প্রশ্ন পাঠককে নিয়ে যাবে সনাতন ভারতবর্ষের কিছু অপ্রিয় অথচ অমোঘ সত্যের কাছে।
রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা জড়িয়ে থাকলেও সুবিশাল ভৌগোলিক প্রেক্ষিত ও সুদীর্ঘ সময়পটে এই উপন্যাসে আঁকা হয়েছে ইতিহাস ও পুরাণের অদ্ভুত মেলবন্ধন।
Debarati Mukhopadhyay is presently one of the most popular and celebrated authors of Bengali Literature and a TED Speaker having millions of readers worldwide.
A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.
A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.
Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.
Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.
She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.
An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.
She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.
রুদ্র-প্রিয়ম সিরিজের এই চতুর্থ বইটি আগের তিনটি বইয়ের থেকে ধারে ও ভারে একেবারেই আলাদা। এখানে রুদ্রাণী আর শখে বা দায়ে পড়ে রহস্যভেদ করেনি; বরং সে এখানে দস্তুরমতো আই.পি.এস অফিসার। তার বর্তমান কর্মক্ষেত্র হুগলী জেলাতেই ঘটে যেতে থাকে একের পর এক হত্যাকাণ্ড। আপাতভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও জেলা প্রশাসন আশঙ্কা করে যে এগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত— হয়তো সিরিয়াল কিলিং। একরকম অপ্রত্যাশিতভাবেই, একেবারে জুনিয়র অফিসার হওয়া সত্বেও রুদ্রাণী'র ওপরেই ন্যস্ত হয় এই তদন্ত তথা ভবিষ্যৎ হত্যাকাণ্ড ঠেকানোর দায়িত্ব। সেই সূত্রেই সে জানতে পারে, একটি খুন হয়েছে এমন একজনের বসতভিটায়— যাঁর মতো ক্ষণজন্মা প্রতিভা দেশের ইতিহাসে দুর্লভ, অথচ যাঁকে আজ আমরা ভুলেই গেছি। জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন! তাহলে কি এই খুনগুলোর সঙ্গে এই মানুষটি, বা তাঁর বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক আছে? রুদ্রের বাংলোয় আশ্রয় পাওয়া মা ও মেয়ে'র মধ্যেই বা কী এমন রহস্য আছে, যার জন্য তাদের কারও কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে হয়? কোন রহস্য লুকিয়ে আছে এক পরিত্যক্ত মন্দিরের অর্ধোন্মাদ পূজারি'র অতীত আর বর্তমানে? লেখাটির কোন-কোন দিক আমার ভালো লাগল? প্রথমত, সাবলীল লেখনীর সুবাদে এই লেখাটিও পড়তে শুরু করার পর মাঝপথে আর থেমে থাকা গেল না। দ্বিতীয়ত, জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন! অষ্টাদশ শতকের এই মনুষ্যরূপী আলোকশিখাটি আমাদের সাহিত্যে, আলোচনায়, এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসচর্চায় একেবারে ব্রাত্য। তারই ফলে, তিনি যে সমাজ-সংস্কারের প্রশ্নে একইসঙ্গে রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের পূর্বসূরি ছিলেন, তাঁর নানা ভাবনা যে কুসংস্কার ও ভ্রান্তিতে আচ্ছন্ন সনাতন ধর্মকে সত্যের পথ দেখিয়েছিল—এগুলো আমরা ভাবিই না। এই ব্যক্তিত্বকে এতখানি গুরুত্ব দিয়ে দেবারতি আমাদের সবার কৃতজ্ঞতাভাজন হলেন। তবে এই লেখাটিতে তিনটি মস্ত সমস্যা আছে বলে আমার অন্তত মনে হল। সেগুলো হল~ প্রথমত, মূল কুচক্রীদের কীর্তির সঙ্গে জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের কোনো সম্পর্কই নেই। সেটি হল বিশুদ্ধ ধর্মান্ধতা— যা জগন্নাথের মুক্তমনা ভাবনা থেকে আলোকবর্ষ দূরের এক অন্ধকার থেকে জন্মেছে। ফলে এই কাহিনিতে জগন্নাথের অংশটি আদ্যন্ত প্রক্ষিপ্ত বলেই আমার মনে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইতিহাসের নামে বইটাতে ভয়ানক ইনফো-ডাম্পিং হয়েছে। লেখার গুণে আর বিষয়ের আকর্ষণে সে-সব পড়ে ফেলেছি ঠিকই; কিন্তু তার অধিকাংশের সঙ্গেই মূল কাহিনির সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে হ্যাঁ, লেখক যে তাঁর জেলার ইতিহাস ও ভূগোলটি ভারি যত্নে আজকের পাঠকের সামনে তুলে ধরেছে— এ-কথা অনস্বীকার্য। তৃতীয়ত, এই বইয়ের খলনায়ক আর তার মোটিভ তথা কীর্তিকলাপ মার্কিন থ্রিলারে পড়া বাইবেল বেল্টের নানা 'মেসায়া', নতুন খ্রিস্ট এবং তাদের অনুগামীদের সঙ্গে মিলে গেলেও বাংলায় এ একেবারেই অবিশ্বাস্য তথা পুরোপুরি আমদানিকৃত। বইটা রহস্য উপন্যাস হিসেবে কালের কষ্টিপাথরে টিকবে কি না তা সত্যিই জানি না। তবে ওই যে বললাম, প্রাসঙ্গিক হোক বা না-হোক, জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের জীবন ও মৃত্যুর কথা আমাদের সামনে তুলে আনার জন্যই আমি অন্তত এই বইকে মনে রাখব। প্রথাগত ইতিহাসের অপূর্ণতা পূর্ণ করে তোলাও তো এক মহৎ কাজ! বইটির ছাপা ভালো হলেও প্রুফের ব্যাপারটা যথারীতি উপেক্ষিত হয়েছে। প্রচ্ছদ মাথামুণ্ডহীন। ভেতরের অলংকরণ 'বসে আঁকো' লেভেলের। তবু বলব, থ্রিলারের কৃত্রিম বিনোদনের জন্য নয়, পারলে বইটি পড়ুন এক সূর্যসম ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আলাপ হবে বলেই। হ্যাঁ, ওই একটি কারণেই বইটিকে আমি মুক্তকণ্ঠে অবশ্যপাঠ্য বলব।
❝গ্লানির্ভবতি ভারত❞- হঠাৎ করে বইটা চোখে পড়ল তার নামের জন্য, নাম দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম প্রবন্ধ টাইপ কিছু একটা হবে মহাভারতের উপর- পরে ফ্লাপের লেখা পড়ে বুঝলাম থ্রিলার বা ডিটেকটিভ উপন্যাস। রুদ্র- প্রিয়ম সিরিজ নিয়ে কোনো ধারনা না থাকলেও এক ঘুমছাড়া রাতে শুরু করলাম থ্রিলার বইটি।
রুদ্র-প্রিয়ম সিরিজের আগের তিনটা বই না পড়লেও এই বইটি রিলেট করতে তেমন কষ্ট হয়নি। বর্তমানের সাথে অতীত মিলে সুন্দর আখ্যান তৈরি হয়েছে- হারিয়ে যাওয়া এক ইতিহাসকে তুলে এনেছেন লেখিকা । প্লট টুইস্টও ভালো- একটানা পড়েও ক্লান্তি লাগবে না। কিন্তু সবকিছু বেশি কোইন্সিডেন্টাল, আরেকটু বাস্তবধর্মী হলে ভালো লাগত। প্লট নিয়ে বেশি কিছু বললে স্পয়লার হয়ে যাবে।
কোলকাতার বাংলা থ্রিলার খুব কমই পড়া হয়। কৌশিক, শাক্যজিৎ ছাড়া পড়া হয়নি তেমন। দেবরতি মুখোপাধ্যায়ের লেখার ধাচ অনেক সাবলীল, পড়তে বেশ লেগেছে। লেখিকার অন্য বই গুলো পড়ার ইচ্ছে রইল।
বইয়ের নাম: গ্লানির্ভবতি ভারত লেখক: দেবরতি মুখোপাধ্যায় রেটিং: ৪/৫
কগ্লানির্ভবতি ভারত : রাত সাড়ে তিনটায় শেষ করলাম !! রুদ্ধশ্বাস সময় কিভাবে পেরিয়ে গিয়েছে বুঝতেই দেননি লেখিকা । চিন্তাও করিনি এতো ছোট একটা পরিসরে এতো বিশাল এক কাহিনী / উপাখ্যান লুকিয়ে থাকতে পারে । আমাদের চারপাশেই , হুগলি জেলার ক'টি গ্রামের মধ্যে এতো ইতিহাস !! কাহিনী যতই এগিয়েছে , মনে হচ্ছিল রুদ্র নয় , নিজেই জড়িয়ে যাচ্ছি কাহিনীর শাখা প্রশাখায়। আমাদের এই জনপদেই শ্রী জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের মতো একজন অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী মনীষী যে কালের স্রোতে এভাবে বিস্মৃত হয়ে গেছেন- সত্যিই আমাদের দুর্ভাগ্য । তিনি কি শুধুই মহাপন্ডিত ? তিনিই তো প্রথম বাণী শুনিয়েছিলেন অসাম্প্রদায়িকতার, সাম্যের । ঐরকম এক চরম প্রতিকূল সময়ে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন সহমরণ কিংবা বাল্যবিবাহ থেকে মুক্তির - যেগুলি তাঁরই ভাবানুসারী রাজা রামমোহন রায়/ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাস্তবায়িত করে গিয়েছেন। লেখিকা অত্যন্ত সুনিপুণ ভাবে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিকতার সাথে পন্ডিত জগন্নাথকে ছাপিয়ে মহামানব জগন্নাথকে ফুটিয়ে তুলেছেন । আমীশ সম্প্রদায়ের সাথে আমাদের পথ ভ্রষ্ট সমাজের সূত্রটা অসাধারণভাবে গাঁথা হয়েছে। রাধানাথ রায় আর অচ্যুতের অন্তর্ধান থেকে মনে হচ্ছে এই কাহিনীর পরবর্তী পর্ব আমরা পেতে যাচ্ছি । অফুরন্ত শুভকামনা রইলো দিদি। আমাদেরকে সত্যিকারের ইতিহাস আর মানবতার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য অজস্র কৃতজ্ঞতা ।
রাত ১২.২৫ এইমাত্র শেষ করলাম গ্লানির্ভবতি ভারত।কাল পড়া শুরু করেছিলাম।প্রতিটা অধ্যায় টানটান উত্তেজনাপূর্ণ।নেহাৎ কর্মজীবন ও জাগতিক কাজের জন্য বই থেকে উঠতে হয়েছিল নইলে এ গল্প পড়তে শুরু করলে মন সরানো খুব কঠিন কাজ।
প্রথমেই বলি ছোটগল্পের ক্ষেত্রে যে কথা প্রযোজ্য অর্থাৎ "শেষ হয়েও হইল না শেষ" একথা এই উপন্যাসের ক্ষেত্রেও ভীষণ সত্য।অচ্যুত কে নিয়ে রাধানাথ রায় কোথায় গেলেন তার পরিণতি কি হল বাংলার আমিশ সমাজ আবার নতুন করে প্রতিষ্ঠা করে রাধানাথ কি আবার নতুন কল্কি অবতার রূপে অচ্যুত কে তৈরি করবেন এ প্রশ্ন মনে থেকেই গেল।ঠিক ছোটগল্পের নির্যাসের মত
দেবারতি তোমাকে অ��ংখ্য ধন্যবাদ জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের মত এক প্রবাদ প্রতিম মুক্তমনা যুগপুরুষের কথা আমাদের সামনে তুলে ধরলে।একথা বলতে পারি আমরা যেমন রামমোহন বিদ্যাসাগর চৈতন্যদেবের কথা পড়ি তেমনই জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের কথাও আমাদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অত্যন্ত বেশি করে জানা উচিত। নবদ্বীপ কে কেন "বাংলার অক্সফোর্ড" বলা হত আজ তা অনেক ভালো করে বুঝতে পারছি।এরকম মহাপুরুষের কথা আরও বেশি করে আমাদের প্রত্যেকের জানা উচিত।
আমেরিকার মত প্রথম বিশ্বের দেশে এরকম আমিশ সম্প্রদায়ের বাস আছে তা জানা ছিল না।সত্যি আজ পড়ে এটুকু বোধ হল "বিপুলা এই পৃথিবীর কতটুকু জানি"। ধন্যবাদ দেবারতি এই বিষয়টি নিয়ে উপন্যাস লেখার জন্য
রুদ্র প্রিয়ম সিরিজ কবে আসবে তা নিয়ে অধীর আগ্রহে বসেছিলাম।পরবর্তী রুদ্র প্রিয়ম সিরিজ যেন তাড়াতাড়ি আসে এটুকু আবদার পাঠক হিসেবে তোমার কাছে রইল দেবারতি।
এক টা অদ্ভুত নেশার টানের মত ১দিন ১রাতের মধ্যে পড়ে শেষ করলাম। কোনো জায়গায় মনে হয় নি এখানটা খুব ঝুলে যাচ্ছে... প্রতিটি অধ্যায় শেষ হচ্ছে আরেকটি উত্তেজনা নিয়ে। ত্রিবেণী তে খুন হওয়া সাইবার ক্যাফের মালিক থেকে ছোট্ট বালিকা ক্ষমার নিপিড়ন... দ্বারিকা হোক বা অচ্যুত, সবাই কে এত সুন্দর একটা সরলরেখায় সাজানো সত্যি আগের থেকে তোমার লেখা অনেক অনেক পরিণত, স্বচ্ছল... দেবারতি দির লেখা আমি বরাবর পড়ি, ফেসবুকের ছোটছোট গল্প থেকে আজ কের "গ্লানির্ভবতি ভারত" এক অন্য ইতিহাসের গল্প শোনায়। সঙ্গে বৈদিক যুগের ভয়ংকর নিয়ম, আবার জগন্নাথ তর্ক পঞ্চানন মহাশয়ের তৎকালীন সমাজের উন্নত মানসিকতা.... ওনার সম্পর্কেও এক নতুন জ্ঞান হলো... সত্যি তোমার লেখা পড়ে অনেক কিছু নতুন জিনিস জানতে পারি...।। রুদ্র প্রিয়ম সত্যি খুবই প্রিয় জুটি বর্তমান যুগের উপন্যাসে। এভাবেই এগিয়ে চলুক... নতুন নতুন চমক আর নেশায় মেতে যাওয়ার অপেক্ষা...... বি: দ্র: বই ছাপানোর সময় প্রকাশক একটু যত্নশীল হলে ভালো হয়। অনেক জায়গায় বাক্যের অসামঞ্জস্যতা আছে।
বলতে দ্বিধা নেই, এখনও পর্যন্ত রুদ্র প্রিয়ম সিরিজের সবচেয়ে সেরা বই এটি। একবার পড়া শুরু করলে রুদ্ধশ্বাসে শেষ না করা অব্দি হয়তো বইটা হাত থেকে রাখা যাবে না। লেখিকাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের মতো তুখোড় ব্যক্তিত্বকে (প্রায়) বিস্মৃতির পাতা থেকে তুলে এনে পাঠকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। বইটি পড়ার আগে আমীশ সম্প্রদায়ের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না আমার।
আর কি.. প্রত্যাশা অনেকটা বেড়ে গেল! সিরিজের পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা করছি। ও হ্যাঁ আরেকটা কথা.. ব্যাংকার রুদ্রর বদলে আই পি এস অফিসার রুদ্রকে অনেক বেশি ভালো লাগলো😁
আপনার লেখার প্রতিক্রিয়া জানানোর মতন ভাষা আমার নেই তবে বলতে পারি আপনার লেখা গুলো পড়ে কুয়ো থেকে বেরিয়ে পুকুর, নদী পেরিয়ে ক্রমশ সমুদ্রের দিকে এগোচ্ছি.... কতো জানা বিষয়েরও বহু অজানা দিক আছে সেটা আপনার বই না পড়লে সত্যি জানতে পারতাম না। আপনার লেখায় সমাজ থেকে শুরু করে বিজ্ঞান, ধর্ম, দর্শন,পুরাণ, অর্থনীতি, ইতিহাস- ভূগোল, সাহিত্য, মনস্তত্ত্ব সব বিষয়ের এতো গবেষণা করে লেখা থাকে যে বই এর গল্পের পাশাপাশি নিজেকে প্রতিবারই সমৃদ্ধ করতে পারি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এই "গ্লানিভর্বতি ভারত " এর মতন লেখা এতো ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের উপহার দেওয়ার জন্যে। ভালো থাকবেন!
সত্যি বলতে এক কথায় এটি unputdownable। লেখিকা এত সুন্দর ভাবে ঘটনাক্রম গুলিকে সাজিয়েছেন সত্যি ই অনবদ্য। থ্রিল আর অ্যাডভেঞ্চারে ভরা একটি উপন্যাস। যতবার পড়া যায় ততবার ই ভালো লাগবে। বাংলার ইতিহাস নিয়ে অনেক তথ্য জানতে পারলাম যেটি খুবই দরকারি। দেবারতি দি কে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি রচনার জন্য। অনেক শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা। পরবর্তী গল্পের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবো।
গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, যখনই ধর্মের গ্লানি হয়, অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে , পৃথিবী পাপ-ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে, দুর্জন হয়ে ওঠে শাসক ও জনগণের জীবন হয় বিপর্যস্ত, তখনই পাপীদের দমন এবং দুষ্কৃতীদের বিনাশ করে ধর্মসংস্থাপন করার জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।”
উত্তরপাড়া থেকে ভদ্রেশ্বর, বৈদ্যবাটি থেকে চন্দননগর, খুন হচ্ছেন একের পর এক ব্যবসায়ী। কেন? কী উদ্দেশ্য হত্যাকারীর?
সূত্র খুঁজতে হবে সুদূর আমেরিকার আমীশ সম্প্রদায়ে, যারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন আধুনিকতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি পাপ। যারা এই ২০২০ সালেও জীবন যাপন করেন মধ্যযুগের মত। রয়েছে রোমহর্ষক সমস্ত ট্যুইস্ট, রয়েছেন অষ্টাদশ শতাব্দীর অবিসংবাদী শ্রেষ্ঠ বাঙালি জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন।
রহস্যময় আমীশ সম্প্রদায়কে প্রথমবার বাংলা সাহিত্যে উপস্থাপন করতে চলেছে রুদ্র প্রিয়ম সিরিজের নতুন উপন্যাস গ্লানির্ভবতি ভারত, যার পরতে পরতে রয়েছে এক চিরন্তন প্রশ্নের উত্তরসন্ধান। যে প্রশ্ন পাঠককে নিয়ে যাবে সনাতন ভারতবর্ষের কিছু অপ্রিয় অথচ অমোঘ সত্যের কাছে।
রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা জড়িয়ে থাকলেও সুবিশাল ভৌগোলিক প্রেক্ষিত ও সুদীর্ঘ সময়পটে এই উপন্যাসে আঁকা হয়েছে ইতিহাস ও পুরাণের অদ্ভুত মেলবন্ধন। - এই হচ্ছে গল্পের মূল প্লট। (আপনি বইয়ের নাম দিয়ে সার্চ করলে এই স্টোরিলাইনটাই উঠে আসবে। আমি গুডরিডস থেকে এইটুকু অংশ কপি করলাম।)
এইবার আসি বইয়ের ভাল লাগা, মন্দ লাগায়। দেবারতির বইয়ের একটা বৈশিষ্ট্য হল, সেখানে প্রচুর তথ্য থাকে। যথেষ্ট খাটাখাটুনি করেই তিনি সেই তথ্য জোগাড় করেন, কিন্তু উপন্যাসে প্রয়োগের সময় কেমন যেন সেগুলো গল্পের সঙ্গে মিশে যায় না। এক বাটি জলের উপর ভাসতে থাকা কয়েক ফোঁটা সর্ষের তেলের মতো দেখায়। এই উপন্যাসেও জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননকে তিনি টেনে এনেছেন। কিন্তু জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের জীবনীর সঙ্গে গল্প কিন্তু খাপ খায়নি। তার তুলনায় সদ্য শেষ করা নারাচ আমার কাছে তুলনামূলক ভাল লেগেছে।
উপন্যাসে রয়ে গিয়েছে বেশ কিছু ফাঁক ফোকর। এতদূর এসে স্পয়লার দিতেই হবে। তাই বইটা আপনার পড়া না থাকলে এড়িয়ে যাবেন।
মানব সমাজের ক্ষেত্রে চল্লিশ বছর খুবই নগন্য একটা সময়। বাংলায় যদি আমিশ গোষ্ঠী এভাবে গড়েই উঠল, তাহলে তারা 'আলু' কী জিনিস জানবে না! আলু বঙ���গদেশে প্রবেশ করে পর্তুগিজদের হাত ধরে। আমারই বয়স বত্রিশ হয়ে গেল। অতএব... তাছাড়াও, আমেরিকার আমিশ গোষ্ঠীর অস্তিত্ব সরকার এবং সর্বজনবিদিত। কিন্তু এই বাংলায়, এই একবিংশ শতাব্দীতে, লোকচক্কুর আড়ালে একটা স্থানে আবদ্ধ হয়ে এমন জীবনযাপন করছে, এটা মেনেই নেওয়া যায় না। কেউ জানুক বা না জানুক, অন্ততপক্ষে মোবাইল কোম্পানির লোকেরা জানবে। হেন জায়গা নেই যে তারা টাওয়ার বসায়নি। রুদ্র আচমকা কীভাবে আমিশ গোষ্ঠীর সঙ্গে জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন এবং এই খুনগুলোর যোগসূত্র ঘটিয়ে ফেলল--- তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। শেষের দিকে এসে অমন টানটান উত্তেজনার পরিস্থিতিতে রাধানাথ বাবু ফোনে কথা বলে নৃসিংহ অবতারের অনুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েই যাবেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না।
বইতে বেশ কয়েকটি জায়গায় নি এবং না- এর সমস্যা আছে। তা টাইপো, না প্রুফরিডিং-এর সমস্যা, নাকি অন্য কিছু জানি না। নি সবসময় শব্দের সঙ্গে বসবে, আর না বসবে আলাদাভাবে। যেমন- তুমি হয়ত শোনোনি, আমি খাব না।' এই সামান্য নিয়মটা মাথায় রাখতে হবে। নারাচ পড়ার সময় চোখের ভিতর চোখের পাতা ঢুকে গেলে যেমন কড়কড় করে, 'সখ্যতা' শব্দের ব্যবহার দেখে তেমনটাই অনুভব হচ্ছিল। এখানেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। সখ্যতা বলে কোনও শব্দ হয় না।
দেবারতি প্রতিশ্রুতিমান লেখক। যথেষ্ট যত্ন নিয়ে তিনি লেখেন। কিন্তু অকারণ তোষামোদ করে তাঁকে অনেকে মিস-গাইড করেন। তোষামোদ নয়, গঠনমূলক সমালোচনাই লেখকের কাম্য হওয়া উচিত। সবশেষে বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলংকরণ নিয়ে দুটি কথা। প্রচ্ছদটির রঙের ব্যবহার চোখকে আরাম দেয়। আঁকাও বেশ সুন্দর। কিন্তু বইয়ের ভিতরের অলংকরণ আর একটু অন্যরকম হলে ভাল হত। কেমন যেন কিশোর- পাঠ্য ভূতের বইয়ের অলংকরণের মতো হয়ে গিয়েছে।
অবশ্য পরের মুখের ঝাল খাবেন না। বইটা পড়ে নিজস্ব মতামত জানাবেন।
BOOK : Glanibhabati Bharat , Rudra Priyam Series – Book IV Author : Debarati Mukhopadhyay Publisher : Deep Prakashan
BOOK REVIEW The fourth installment of the Rudra Priyam series marks a remarkable leap in both storytelling depth and character development. The author has clearly refined her craft, delivering a novel that is more cohesive, logical, and engaging than its predecessors. This time, the lead protagonist Rudrani steps into a role that finally does justice to her investigative instincts. She joins the Indian Police Service. This change adds a much-needed layer of realism to the narrative. In the earlier volume, ‘Aghore Ghumiye Shiv’, her actions and access as a civilian investigator occasionally stretched credibility. The shift in her profession not only grounds the story but also strengthens the believability of her methods and decisions throughout the investigation. What truly sets this book apart, however, is its historical dimension. The story introduces readers to Jagannath Tarka Panchanan, an 18th-century Sanskrit scholar and authority on Hindu law from Tribeni. The novel beautifully intertwines two timelines — one set in the late 1700s, when Jagannath lived, and the other in contemporary Bengal. The dual narrative offers a fascinating contrast between the scholar’s original ideals and how those very principles are interpreted, or rather, misinterpreted by individuals in the present who claim to be his followers. This thematic conflict becomes the moral core of the story. The author cleverly uses it to comment on how the noble teachings of great thinkers are often twisted in modern times by those seeking to manipulate others for personal or political gain. It’s a subtle yet powerful reflection on our society today. Another captivating element is the mysterious community depicted in the novel — a group still living by the customs of the pre-technology era. Their existence and connection to a string of serial killings across the Hooghly district form the spine of the thriller. Rudrani’s pursuit of the truth, intertwined with the legacy of Jagannath Tarka Panchanan, kept me on edge till the final page. While the book already runs close to 400 pages, I wished for a few more glimpses into Jagannath Tarka Panchanan’s life and his philosophies (Jagannath Temple incident). Nevertheless, the story remains tightly woven, fast-paced, and rich with historical detail. In essence, this fourth book in the Rudra Priyam series is a finely balanced blend of history, mystery, and social commentary. It resurrects a forgotten legend, offers insights into an era long past, and reminds us that those who truly understood our scriptures embraced liberal and humane ideals & not dogma or division.This installment by far the best in the series.
ব্যক্তিগত কিছু কারণের জন্যই বইটি হাতে পাওয়ার সাথে সাথে ইচ্ছা থাকলেও পড়া শুরু করতে পারিনি। তবে কাল আর লোভ সামলাতে না পেরে পড়ে ফেললাম এক নিঃশ্বাসে দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের 'গ্লানির্ভবতি ভারত' ।
(ছবিতে দৃশ্যমান Sticky Flag গুলোর জন্য আমি প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ওগুলো আমার নিজস্ব কিছু নোটস নেওয়ার জন্য আটকানো আছে। পরে ওইগুলো খুলে ফেলা হবে।)
দেবারতি দেবীর বইয়ের একটি উল্লেখযোগ্য বিশেষত্ব হলো তার বই থেকে শুধুমাত্র একটি গল্প নয়, অনেক অজানা তথ্য জানা যায়। আরেকটি বিশেষত্ব যেটির জন্য উনি আমার কাছে অন্যান্য সমস্ত লেখকের থেকে অনন্য হয়ে থাকবেন সবসময় সেটি হলো, প্রত্যেকটি বইয়ের পেছনে আগ্রহী পাঠকের জন্য দেওয়া থাকে তার তথ্য সংগ্রহের উৎসসমূহ। এরফলে কেউ যদি বইয়ের কোনো বিষয় সম্বন্ধে আগ্রহী হয়ে থাকেন সেই উৎস থেকে তিনি সেই বিষয়টি সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন। এই বইটিতেও তার অন্যথা হয় নি।
আমি বার বার অবাক হয়ে যাই লেখিকার লেখণী কৌশলের পারদর্শীতায়। এত্ত তথ্য একসাথে একটি বইতে এসে পড়েছে, অথচ কোথাও বইটির প্রবাহ একটুও ধীর হয়নি, সমান গতিতে টান টান উত্তেজনায় বয়ে চলেছে। লেখিকা তথ্য সম্বলিত সমস্ত জ্ঞাণ সুকৌশলে ভাগ করে দিয়েছেন তার প্রতিটি চরিত্রের মধ্যে। ফলে কোনো চরিত্রকেই 'সবজান্তা' মনেও যেমন হয় না, আবার একেবারে অযোগ্যও মনে হয় না। সব চরিত্রই নিজের মতো করে স্বমহিমায় উপস্থিত।
আমেরিকার রহস্যময় আমীশ সম্প্রদায় থেকে শুরু করে শতায়ু পন্ডিত শ্রী জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননকে যে এইভাবে একই সূত্রে গাঁথা যায় আর তার সাথে সম্পর্ক রেখেই যে এক রূদ্ধশ্বাস ক্রাইম থ্রিলার লেখা যায়, তা আমি সত্যিই এই বইটি না পড়লে বিশ্বাস করা শক্ত ছিল। তিনটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় এভাবে একই সূত্রে জোড়ার জন্য যে লেখিকাকে প্রচুর পড়াশোনা ও রিসার্চ করতে হয়েছে এবং লেখিকা যে সেটি একনিষ্ঠভাবে করেছেন তা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে। উপন্যাসের মধ্যে উঠে এসেছে বৈদিক সমাজের সম্পূর্ণ দুটি আলাদা দিক। শুভ-অশুভ সংঘাত, উচিত-অনুচিতের মতোভেদ, দুই সময়কালের এক আশ্চর্য সহাবস্থান -এর মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলেছে 'গ্লানির্ভবতি ভারত'। অষ্টাদশ শতকের এক অসাধণ পন্ডিত শ্রী জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননকে একবিংশ শতকের সমস্ত মানুষের কাছে আবার করে তুলে ধরার জন্য এবং তার সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য জানানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ লেখিকা কে।
Debarati Mukhopadhyay -এর লেখার সাথে পরিচয় ঘটেছে আমার এই বছরেই। এরমধ্যে এটি নিয়ে চারটি বই আমি পড়ে ফেলেছি। রুদ্র-প্রিয়ম সিরিজের প্রথম পড়া বই আমার এটি। আশ্চর্যভাবে প্রত্যেকটি বইই আমাকে সমান ভাবে মুগ্ধ করেছে। দেবারতি ম্যাম, আপনার কাছ থেকে আরও অনেক সৃষ্টির অপেক্ষায় রইলাম আমি। আরও শক্তি ও জ্ঞানে দৃপ্ত হয়ে উঠুক আপনার কলম। আপনার জন্য রইলো মনের গভীরের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ❣️
বিঃদ্রঃ এই বইটি প্রথম সংস্করণ হওয়ার কারণের এতে অনেক জায়গায় প্রিন্টিং মিস্টেক আছে। সেইগুলো দ্বিতীয় সংস্করণে ঠিক করে নেওয়ার অনুরোধ জানাই।
এই জাস্ট শেষ করলাম Debarati Mukhopadhyay এর "গ্লানির্ভবতি ভারত"। দীপ প্রকাশন মূল্য ২৯৫/-
রিভিউ লেখার মতো যোগ্যতা আমার নেই, আমি শুধু পাঠক হিসেবে আমার আবেগ প্রকাশ করছি মাত্র।
উপন্যাসটি শুরু হয় একজন নিম্নবিত্ত ছোট ব্যবসায়ীর আবেগ ও অনটনের সাথে পরিচিতির মাধ্যমে। তারপর তিনটি দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং দুইটি ভিন্ন সময়কালে কাহিনীর ধারা সমান্তরালে বইতে থাকে। এক।। রুদ্র প্রিয়ম অর্থাৎ ইনভেস্টিগেশন টিমের দিক, দুই।।বৈদিক সমাজ, তিন।। জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের দিক। সাতটি সিরিয়াল কিলিং, প্রত্যেক ভিক্টিমের টুকরো টুকরো ঘটনা, মধ্যযুগীয় আমিষ সম্প্রদায় সব মিলে সমগ্র উপন্যাসটি সমৃদ্ধ। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলার অনেক অজানা ইতিহাস। আমি উপন্যাসটির কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে চাই...
এক।। একদিকে যেমন দেখানো হয়েছে হিন্দু ধর্মের গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের প্রাণঘাতী পরিণতি, অন্য দিকে তেমন বলা হয়েছে "সনাতন ধর্মের মতো প্রগতিশীল উদার শাস্ত্র বিরল। বৈদিক সাহিত্য পড়লেই তার উদারমনস্কতা বা যুক্তিবোধ বোঝা যায়।..." সনাতন ধর্মের যুক্তিবাদ এবং কুসংস্কার দুইটি দিক খুব কাছ থেকে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখানো হয়েছে, যার ফলে কোনো controversy হওয়ার জায়গা নেই; অন্তত আমার তাই মনে হল।
দুই।। ঊনবিংশ শতকের এবং তার আগের যুগের সাহিত্যের ক্ষেত্রে, হঠাৎ কোনো চরিত্রের আবির্ভাব এবং হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া, পরিচয়পত্র বিহীন মানুষ, জন্ম ও বংশ - পরিচয় ঘটিত অ্যানোমালি গল্পের মধ্যে প্রয়োগ করা স্রষ্টার পক্ষে সহজ এবং যুগোপযোগী ছিল; ফলে গল্পের স্বাদ অন্য মাত্রায় পাওয়া যেত। আধুনিক পটভূমিতে আমিষ সম্প্রদায়ের সাহায্য নিয়ে ওই প্রকার অনোম্যালি গল্পে নিয়ে আসার ফলে, গল্পটি বাস্তবিক থাকা সত্তেও সেই সংশয়ের স্বাদ পেয়েছে। আর থ্রিলার উপন্যাসে, যত সংশয়, তত উত্তেজনা।
তিন।। রবার্ট ক্লাইভ, নবাব মীরকাশিম, উইলিয়াম জোন্স, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়, রাজবল্লভ সেন এবং অবশ্যই জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন সকলেই এই উপন্যাসে বিদ্যমান এবং গল্পের সাথে তাৎপর্যপূর্���। ইতিহাস সেখানে হাঁটে চলে, কথা বলে।
চার।। ইলাস্ট্রেশনগুলি গল্পের বোধগম্যতার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল; বিশেষ করে বৈদিক সমাজের মানচিত্র, সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীপথের মানচিত্র।
পাঁচ।। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি যুগে ক্রমশ শুভ এবং অশুভ শক্তির সীমারেখা সংকীর্ণ হয়ে আসা, হজরত মুহাম্মদকে কল্কি অবতার রূপে কল্পনার সপক্ষে যুক্তি গুলি স্তম্ভিত করে দেওয়ার মত। ঠিক ভুল বিচার করার আমি কেউ নই কিন্তু যিনি সংস্কৃত শ্লোক এবং উর্দু ভাষা বিশ্লেষণ করে যুক্তি গুলি খাড়া করেছেন, তাঁর পাণ্ডিত্যকে কুর্ণিশ জানাই।
প্রতিদিনের যাত্রাপথের ছোট ছোট স্টেশনগুলোতেও যে কোনোদিন মানস ভ্রমণ করতে হবে, এমনটা ভাবিনি। তবে বেশ ভালো লাগলো। এই বাংলার রোজকার জীবনের পটভূমিতে একটা দুর্ধর্ষ কাহিনী সৃষ্টি করার জন্য স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই। আরো ধন্যবাদ জানাই, আমাদের বাংলার ইতিহাস, সনাতন ধর্ম ও প্রকৃত বৈদিক শাস্ত্রের সাথে পরিচয় করানোর জন্য; নাহলে আমরা "আত্মবিস্মৃত"ই থেকে যেতাম।
Just finished this book ..... this book give me more satisfaction than expectation. I cannot give a review of such book , just want to write the experience at this moment .
This is not only a detective story but more than that. This contains history, mythology and murder case with mystery all of that in a book. This is the first book in bengali literature which contains "amish community" and an great person of bengal Jagannath Tarka Panchanan (23 September 1695 – 1806) who was a legendary Sanskritscholar and pundit of ancient Hindu Laws . Sometimes I thought how beautifully an author explain such topics in simple way and her diligence is noticed in this book. This book is the fourth book in the series of rudra priyam and definitely I miss the first three and I cannot wait to collect the previous three books to read some awesome journey of "Rudrani and Priyam "
গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, যখনই ধর্মের গ্লানি হয়, অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে , পৃথিবী পাপ-ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে, দুর্জন হয়ে ওঠে শাসক ও জনগণের জীবন হয় বিপর্যস্ত, তখনই পাপীদের দমন এবং দুষ্কৃতীদের বিনাশ করে ধর্মসংস্থাপন করার জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।”
বইটির নামকরণ যথার্থ অর্থে সার্থক হয়েছে । লেখিকা যেভাবে একে একে ঘটনাগুলোকে সাজিয়েছেন তা প্রশংসাযোগ্য । পড়ার সাথে কখন যে নিজে পরের ঘটনা কি হতে পারে তার কল্পনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছি নিজেই জানি না । ভুল ভেঙ্গেছে একটা ঘটনাও মেলেনি তখন। কিন্তু বেশ লেগেছে নিজেকে গোয়েন্দা গোছের কিছু কল্পনার মধ্যে । সবচেয়ে বড় কথা অজানা অনেক কথা জানতে পেরেছি যা হয়তো কোনোদিন কল্পনাও করিনি । সর্বোপরি এই গল্পের রেশ হয়তো রয়ে যাবে অনেকদিন । যেমন ভালো কিছু মননে গেঁথে থাকে দীর্ঘ সময় অবদি । আফসোস একটাই এই সিরিজের আগের তিনটি গল্প এখনও কেন পড়া হয়ে ওঠেনি তার জন্য । হয়তো শীঘ্রই সেই আশাও পূর্ণ হবে।
বইটা পড়ে ফেলেছি, বলা ভালো গোগ্রাসে গিলে ফেলেছি কয়েকদিন আগেই। ব্যাস্ত থাকায় পাঠপ্রতিক্রিয়া দিতে দেরী হয়ে গেল, দুঃখিত। পড়তে শুরু করেছিলাম অবসরযাপনের জন্যই। ভেবেছিলাম নিজের পড়ার ফাঁকে একটু একটু করে শেষ করবো। সেই মত মোটামুটি রাত ৯টা নাগাদ পড়তে শুরু করেছিলাম গ্লানির্ভবতি ভারত। পরের দিনই আমার এক স্কুল বেলার বান্ধবীর আইবুড়ো ভাত। এবং তার পরের দিন বিয়ে ছিল। ইচ্ছে ছিল বইটা কিছুটা পড়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বো, যেহেতু সকাল সকাল উঠে বান্ধবীর বাড়ি যাওয়ার কথা। ওমা, কোথায় কি! এ যে বন্ধই করতে পারছি না! কিছুতেই ইচ্ছে করছে না ঘুমিয়ে পড়তে। এমনকি যে বর-মহাশয়ের সঙ্গে প্রতিদিন অন্তত একঘন্টা গল্প করা অনিবার্য তার সঙ্গেও কথা হল সাকুল্যে পনেরো মিনিট। কেমন যেন একটা অস্থিরতা চলছে মনের মধ্যে, এর পর কি হলো জানতেই হবে। তখনই জেনে ফেলি, এরপর কি হলো, তারপর মনে হয়, তারপর কি হলো জানতেই হবে। এভাবে চলতে চলতে শুনি বাইরে পাখি ডাকতে শুরু করেছে। ঘড়ি বলছে, সময় সকাল ৬টা। বাধ্য হয়ে শুয়ে পড়তে হলো। একটু বিশ্রাম প্রয়োজন। কিন্তু মন সায় দিচ্ছে না। অচ্যুত, রাধারাম, রুদ্র, বৈদিক জীবন, আমীষ সম্প্রদায়, সিরিয়ার কিলিং সব মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিয়ে বাড়ীতে গিয়েও একই অবস্থা। বাড়ী ফিরে যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতেই হবে। নাহলে মানসিক স্থিরতা আসছে না কোনোভাবেই। এইভাবেই শেষ হলো গ্লানির্ভবতি ভারত। অসাধারণ সাসপেন্স থ্রিলার। একথা ঠিক আমার প্রথম থেকেই মনে মনে রাধারাম রায়কে সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু তাতে পুরো বইটি পড়ার সময়ে উত্তেজনা এতটুকুও কমেনি বা boredom আসেনি একফোঁটাও। আপনার লেখাগুলি তথ্য সমৃদ্ধ হওয়ায় আলাদা রকম ভালো লাগে। কতকিছুই অজানাকে জানা হয় আপনার লেখা পড়ে। ঈশ্বরের অন্তিম শ্বাস পড়ার আগে ঈশ্বরে সম্পর্কে কতকিছুই অজানা ছিল আমার। গ্লানির্ভবতি ভারত-ও তাই। জগন্নাথ তর্কালঙ্কার, উইলিয়াম জোন্সের সঙ্গে তাঁর সখ্য, কৃষ্ণচন্দ্র, আমীষ সম্প্রদায় কতকিছু জানলাম। একবারও মনে হয়নি কল্পনার বিন্দুমাত্র মিশেল আছে এই উপন্যাসে। বড় ভালো লেগেছে গ্লানির্ভবতি ভারত। ভালো থাকুন আপনি। আপনার ছোঁয়ায় বাংলা সাহিত্য এভাবেই সমৃদ্ধ হোক।
এই মাত্র শেষ করলাম 'গ্লানির্ভবতি ভারত' লেখিকা Debarati Mukhopadhyay। আমি সামান্য একজন পাঠক। ওঁনার লেখার review দেওয়ার দুঃসাহস আমার নেই। ওঁনার লেখা আমার মননে কতটুকু প্রভাব ফেলেছে আমি শুধু সেটুকুই জানাতে চাই। আপনি বইয়ের শুরুতে ঠিকই বলেছেন 'গ্লানির্ভবতি ভারত ' অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শতায়ু পন্ডিত শ্রী জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন কে ভুলতে দেবে না। আপনি এই বইটা না লিখলে সত্যিই জানতে পারতাম না আমাদের এত কাছে ত্রিবেণীতে এমন এক মহাপন্ডিত বসবাস করতেন। জানতে পারতাম না সেই অষ্টাদশ শতকেও উনি অত উদারমনস্ক ছিলেন। অগাধ পান্ডিত্য, অসাধারণ মেধা, অসাধারণ শ্রুতিধর ও যুগের থেকে অনেক এগিয়ে থাকা ব্যক্তি আমাদের অজানাই থেকে যেতেন যদি এই বইটি না পড়তাম। বইটি পড়ে জানলাম আমিশ সম্প্রদায়ের কথা। মহাশক্তিধর আমেরিকাতে যে এখনো এই সম্প্রদায়ের মানুষ আছে এবং সরকার এদের সম্পর্কে জেনেও আজও সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে রয়ে গেছে সেটা এই বইটি পড়েই জানলাম। বইটি পড়ে আমি আমার মনে জমে থাকা অনেক প্রশ্নের উত্তর পেলাম। ঈশ্বর এক তবু ভিন্ন রূপে ভিন্ন উপাচারে কেন আমরা পুজো করি তা আপনি একনটী যাত্রাপালার উপমা দিয়ে কত সহজে বোঝালেন শ্রী জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের উক্তি দ্বারা। গীতার শ্লোক কতবার আউরেছি,,,, "যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।" এখানে যে ভারত বলতে অর্জুনকে সম্বোধন করা হয়েছে কারণ তিনি ভরত বংশীয়, সেটা আমি জানলাম। ইতিহাসকে নতুন আঙ্গিকে চিনলাম। অনেক সমৃদ্ধ হলাম আপনার বইটি পড়ে। নিছক রোমাঞ্চ বা এডভেঞ্চার না হয়ে রুদ্র প্রিয়ম সিরিজ আমাদের জ্ঞানের ভান্ডার পূর্ন করছে। জটিল শ্লোক সহজে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেওয়া কিংবা বিস্মৃত ইতিহাসকে তুলে এনে ধরা, বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যার দ্বারা মনোগ্রাহী উপন্যাস লিখে আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার গবেষণাধর্মী লেখা রুদ্র প্রিয়ম সিরিজকে আরো জনপ্রিয় করে তুলবে আগামীদিনে। 🙏🏻
রুদ্রাণী সিংহ রায়, একজন জুনিয়র অফিসার। হুগলি জেলায় একটার পর একটা খুন। এই জুনিয়র অফিসারের ওপর দায়িত্ব গিয়ে পড়ে, খুনের কূলকিনারা করার।
বইটা পড়ে একটা ছোটখাটো ইতিহাসের পাঠ মনে হতে পারে, কারণ লেখিকা পটভূমির সাথে ইতিহাস বুনে সৃষ্টি করেন এই কাহিনী। গল্পে আছে অনেক উত্তেজনাপূর্ণ মোড়, যা পাঠক-কে চিরো আগ্রহী করে রাখবে, এর পরে গল্পে কি হয়।
গল্পের প্রেক্ষাপট হলো "আমিষ সমাজ", জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন, এবং ভগবৎ গীতার দুটি লাইন। ১৮০০-র বাংলার কিছু অপ্রিয় রীতিনিয়ম এবং প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত এই গল্প।
শেষের গিয়ে গল্পের মোড় পাঠককে চমকিয়ে দেওয়ার মতো। রুদ্রাণী সিংহ রায় জুনিয়র অফিসার হলেও তেজস্বিনী এবং বুদ্ধিমতি, শুধুমাত্র তেজ এবং বুদ্ধিবল দিয়ে কেস ক্র্যাক করেন।
গল্পে প্রতিটি চরিত্রের কিছু না কিছু অবদান আছেই, যা উপেক্ষা করলে চলে না। এমন কোনো চরিত্র নেই যা উপেক্ষামূলক, যার বেশি কিছু ভূমিকা নেই। যতই ছোট হোক না কেনো, কোনো চরিত্র ভোলার নয়, সে দেহরক্ষী হোক বা বন্ধু।
এখানে বলে রাখি, গল্পে "ফ্যামিলি ট্রী" টা বেশ জট পাকানো, কারুর যদি ফ্যামিলি ট্রি বা সম্পর্ক মনে রাখতে অসুবিধা হয় তাদের জন্য একটু কঠিন হয়ে যেতে পারে। নাহলে বইটা থ্রিলার হিসেবে দারুন, পাঠকের মনে আশঙ্কা জাগিয়ে আগ্রহী করে রাখবে।
আর বেশি কিছু বললে "spoil" হয়ে যাবে, তাই এখানেই প্রতিক্রিয়া শেষ করলাম। আমি ৪.৫/৫ রেটিং দিলাম, অধিকাংশ গল্পের পটভূমি এবং প্রেক্ষাপটর জন্য। কাহিনী খুবই অনন্য লেগেছে আমার, পড়তেও দারুন লেগেছে কারণ বেশ সরল ভাষায় লেখা।
তোমার এই লেখা অসাধারণ সৃষ্টি আমার এক দাদাভাই আমাকে এই বছর ভাইফোঁটায় উপহার দিয়েছে, আর এটা বোধহয় শ্রেষ্ঠ উপহার আমার জন্যে। রুদ্ধশ্বাস মেশানো প্রতিটা পাতা শুধু মুগ্ধ হয়ে পড়ে গেছি, কি অসম্ভব রকম পরিশ্রম করে নিজে রীতিমতো পড়াশোনা করার পর এই সৃষ্টি আমাদের হাতে তুলে দিয়েছো, সেটা হয়তো বলার অপেক্ষা রাখেনা। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে এই বইটি না পড়লে পন্ডিত তর্কপঞ্চানন ব্যক্তিত্বর সাথে বোধকরি কোনোদিন পরিচয়ের সৌভাগ্য হতোনা। আর সাথে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের আমীশ সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রাও তোমার লেখা থেকেই জানলাম। তোমার সমস্ত লেখাই বরাবর তথ্যে টইটুম্বুর থাকে, আর "গ্লানির্ভবতি ভারত" তার ব্যতিক্রম নয়। মজার ঘটনা হলো, আমার দিদিও Madhurima Mazumdar আমার মতোই তোমার গুণমুগ্ধ ভক্ত যাকে বলে, সে বিদেশে থাকার সুবাদে সুযোগ হয়নি বইটা কিনে পড়ার, swiftboox এ বাকি বইগুলো পড়তে পারলেও এটা পায়নি। তাই সে বলে WhatsApp এ ছবি তুলে পাঠাতে। আমি আপত্তি করলেও পরে সবটা পাঠাই ছবি তুলে, দিদিও আজকে আমার সাথেই পড়া শেষ করলো। ও বরাবরের মতো এবারও মুগ্ধ তোমার লেখনীতে। তোমার লেখা থেকে আমরা আরও অনেক কিছু জানার অপেক্ষাতে রইলাম। আমাদের দুই বোনের থেকে অফুরন্ত ভালোবাসা নিও❤️❤️❤️❤️
গত শনিবার বইটি হাতে পাই,তারপর পড়া শুরু গতকাল রাতে শেষ হল।Review দেওয়ার সামর্থ আমার নেই তবে কটা কথা বলতে ইচ্ছে হল আপনাকে।
২০১৮ তে প্রথম আমি রূদ্র-প্রিয়ম সিরিজ্ সম্পর্কে জানতে পারি।তখন 'অঘোরে ঘুমিয়ে শিব' রিলিজ্ করে সকলের ভালো মন্দ এত আলোচোনা শুনেছিলাম যে তিনটে বই একসাথে কিনেছিলাম 'ঈশ্বর যখন বন্দি', 'নরক সংকেত' আর 'অঘোরে ঘুমিয়ে শিব'। এক নিঃশ্বাসে প্রায় পরপর বইগুলো পড়েছিলাম।ভীষণ ভালো লেগেছিল।অনেক নতুন নতুন তথ্য জেনেছিলাম।তাই সেই সিরিজের নতুন বই আসতেই সংগ্রহ করে নিলাম।
এবার আসি 'গ্লানির্ভবতি ভারত' এ, রূদ্র এবার পুলিশে নতুন কাজ,নতুন জায়গা নতুন কেস,আর আমাদের জন্য নতুন তথ্য।অন্যদেরটা বলতে পারব না তবে আমার কাছে একদম নতুন। জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন একজন কিংবদন্তি কে আমরা ভুলতেই বসেছিলাম,সেটা আপনি আবার মনে করিয়ে দিলেন সকলকে।আর রয়েছে আমিশ সম্প্রদায় যেটা সত্যি ভাবা যায় না।
এছাড়া আছে টানটান উত্তেজনা।কিভাবে একেরপর এক খুন ও তার জট খুলল এএস পি রূদ্রানী সিংহরায় ও তার টিম।বেশ লাগল শেষের দিকটা দম বন্ধ করে পড়ে গেছি😁
তবে আমার এই সিরিজের ৪টের মধ্যে 'নরক সংকেত' সবচেয়ে ভালো লেগেছে।😊
ভালো থাকবেন আর এভাবেই ভালো ভালো লেখা উপহার দিয়ে যাবেন।বইটি সত্যি পড়ে বেশ ভালো লেগেছে😊
রূদ্র প্রিয়ম সিরিজের "গ্লানির্ভবতি ভারত" বইটি পড়া আজ শেষ হলো । ঘড়িতে 1:43, রাত্রি । এর আগে এই সিরিজের বেশ কিছু বই পড়েছি । কিছু দুর্বলতা ছিলো যেটা দেবারতিদি এই লেখাটায় অতিক্রম করেছেন । প্লটের টানটান ভাবটা শেষ পর্যন্ত অধরা এবং ওপেন এন্ডেড লেখা । ভবিষ্যতে এই প্লটের উপর কাজ করার সুযোগ সুচারু ভাবে লেখিকা রেখে দিয়েছেন । তবে সাহিত্যের ছাত্র বা শিক্ষক হিসেবে এক অনবদ্য মেটাফর খুঁজে পেয়েছি লেখাটায় । দেবারতিদির কাজকম্মো দেখলেই প্রথমেই যেটা মনে পড়ে তা হলো প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তাধারা । কিন্তু নিজের প্রফেশনাল জায়গা থেকে সবকথা বলে ফেলা যায়না । অথচ একটা ফিকশনের আড়ালে বলা যায়। "গ্লানির্ভবতি ভারত" তো আমাদের এই দেশটা ঠিক এই সময়ে । আমার দেশের প্রতিটি শাস্ত্র বেদের ভুল ব্যাখ্যা করে একদল রাবণ উঠেপড়ে লেগেছে রক্ষনশীলতা কে ফিরিয়ে আনতে । মুক্তমনা সনাতন বৈদিক ধর্মের অপব্যখ্যা করে আবার এক অন্ধ যুগ টেনে আনতে চাইছে একদল মানুষে যারা নিজেদের বানর সেনা ভাবছে... রামরাজ্যের নামে এক অন্ধকার যুগ নিয়ে আসা হচ্ছে। ভোগ বা প্রসাদ নয় এই যুগের খাদ্য ডেটা । তাকেই মৌলবাদের গৈরিক বিষে বিষাক্ত করা হচ্ছে । আদতে সেই কাহিনিই এলেগরী হিসেবে দেখিয়ে দিয়েছেন লেখিকা । কুর্নিশ । এতো রাতেও রিভিউ না লিখে ঘুমাতে পারলাম না । গুণমুগ্ধ পাঠক, পল্লব দাস অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, মানকর কলেজ ।
There is always a knack regarding mythology and Purana s within me and here at this point I get a chance to read such a fascinating work of Debarati Mukhopadhay. The great soul Jagannath Tarkanpanchanan, his knowledge and memorizing power has mesmarised me. He was the harbinger of the revolt against the stubborn Brahmins and their unethical practices in the name of Vedas. The wrong beliefs of Raja Krisnachandra which brought India to a slavery of two hundred years is also well described here.The link between lord Vishnu's kalki avatar and Muhammad prophet has opened a different view of mine regarding the two great religions. The book also provides a basic idea regarding the Amish community in the first world country like America and their existance in India in a native form. Priyam has truly proven himself as Rudrani's partner, more than just a husband. I am a novice to write a proper review on this book. Whoever will read it, the book will definitely drag him with its flow till the end.
গ্লানির্ভবতি ভারত শেষ করলাম। এখনো ঘোরের মধ্যে আছি। প্রথমেই লেখিকাকে ধন্যবাদ জানাবো যে উনি নিজের লেখার মাধ্যমে পাঠকের মনে একদম অজানা ইতিহাস, বিস্মৃত জিনিস, বা মানুষ গুলো সম্পর্��ে যে জানার খিদেটা জাগিয়ে তোলেন তার জন্যে। সনাতন ভারতের সময়পটের উপর দাঁড়িয়ে বর্তমান যুগের রহস্য কাহিনী উন্মোচন করবে এই বইটি পড়ার আগে একদম আন্দাজ করতে পারিনি তাই যত এগিয়েছি কাহিনী বিস্তার তত চমকপ্রদ লেগেছে। জগন্নাথ তর্কপঞ্চান্নের নাম আমি কোথাও কখনো শুনিনি এমন একজন কিংবদন্তী মানুষ বাংলায়ে জন্মেছিলেন জানতে পারিনি, খারাপ লেগেছে নিজে একজন আইনের মানুষ হয়েও জানতে পারিনি উনি ব্রিটিশ ভারতের দেওয়ানী মামলার আইনের বই লিখেছিলেন। যেমন অজানা ছিলো আমীশ সম্প্রদায়ের অদ্ভুত জীবনশৈলি । রুদ্র- প্রিয়ম সিরিজের এটা দ্বিতীয় বই পড়লাম আমি এর আগে নরকসংকেত পড়েছিলাম তখনো বেশ একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম ইতিহাস মিশ্রিত রহস্য কাহিনী পড়ে কারন আমার কাছে এই ঘরানাটা একদম নতুন ছিলো, আবারো এই ইতিহাস ও পুরানের মেলবন্ধনে গড়া গ্লানির্ভবতি ভারত পড়ে একজন পাঠক হিসেবে ভীষন মুগ্ধ হয়েছি।
দিওতিমা বইটি পড়ার সময় থেকেই Debarati Mukhopadhyay ম্যাম এর লেখনীর সাথে পরিচয়...তারপর এক এক করে রুদ্র প্রিয়ম সিরিজ এর নরক সংকেত,ঈশ্বর যখন বন্দী,অঘোরে ঘুমিয়ে শিব শেষ করি...রুদ্র প্রিয়ম সিরিজ এর পরবর্তী উপন্যাস গ্লানির্ভবতি ভারত প্রিবুকিং করার পর অপেক্ষা করছিলাম বইটি হতে পাওয়ার..আজ সকালে বইটি হতে পাই..সমস্ত কাজ ছেড়ে পড়তে আরম্ভ করি..এক নিশ্বাসে শেষ করলাম..ম্যাম এর লেখার বৈশিষ্ট্যই হলো প্রচুর information এ enriched থাকে যা আমার খুব ই ভালো লাগে...তার সাথে বই এর শেষে থাকে information sources যেটি একদিকে কারোর বিষয়টি নিয়ে interest থাকলে আরো in depth জেনে নিতে পারে..অপরদিকে এতগুলো বই পরে তার প্রেক্ষিতে কল্পনার আশ্রয়ে বইগুলি নির্মিত জেনে আরো পড়ার inspiration পাই.. ম্যামের বাকি বইগুলোও খুব দ্রুত সংগ্রহ করবো..এককথায় গ্লানির্ভবতি ভারত রুদ্ধশ্বাস রহস্যে ভরপুর...অপেক্ষা করবো রুদ্র প্রিয়ম এর পরবর্তী উপন্যাস এর।।ধন্যবাদ ম্যাম এত ভালো একটি বই আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য...অনেক শুভকামনা..
পাঠ প্রতিক্রিয়া লেখার মত ক্ষমতা আমার নেই। তাই গুনমুগ্ধ পাঠিকা হিসেবে কয়েকটা কথা।
আবার-ও সেই এক রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা নিয়ে পড়া শেষ করলাম প্রিয় রুদ্র-প্রিয়ম চতুর্থ থ্রিলার সিরিজ। আপনার লেখা পড়তে পড়তে অভিভূত হই এটা দেখে যে কি অসম্ভব পড়াশুনা ও research করেন লেখার আগে। আর এটাই আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা উত্তরোত্তর বাড়িয়ে চলেছে। প্রতিবার রুদ্রানীর চরিত্রে আমার মানস কল্পনায় আপনাকেই দেখতে পাই। সমাজে যে কিভাবে ধর্মের অপ-ব্যখ্যা সমাজের মধ্যে ভেদ গড়ে তুলেছে সেটা আরো একবার মনে করিয়ে দিলেন। আর একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি কে মানুষের সামনে আনলেন, তাঁকে সম্মান জানালেন। সেই সময়ে এমন মুক্তমনা ও যুগের চেয়ে এগিয়ে থাকা তাঁর অপূর্ব মানসিকতা ও চিন্তাধারা আমাদের সামনে তুলে ধরলেন। সমাজে যদি এমন মানুষ থাকত তাহলে আমরা হয়তো আর উন্নত হতাম। আজকের এই পৃথিবীতেও যে এমন এক সম্প্রদায় থাকতে পারে তা সত্যিই কল্পনাতীত। আর সেই সম্প্রদায় কে নিয়ে বাঙলা সাহিত্যে এত সুন্দর করে স্থাপন করলেন যা সত্যিই প্রশংসনীয়। আর শেষে যে লেখিকার নাতিদীর্ঘ কৈফিয়ৎ দিয়েছেন তার প্রথম তিন paragraph বড়ই মনে ধরেছে। Thriller সবসময়ই প্রিয়,তাই রুদ্র প্রিয়ম সিরিজের দাবি জানানো পাঠকদের মধ্যে আমার নাম সবসময় থাকবে।
ওনার লেখা নিয়ে রিভিউ দেওয়ার দুঃসাহস আমার নেই। ওনার প্রতিটি লেখা যতবার পরেছি সমৃদ্ধ হয়েছি। এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। রুদ্র-প্রিয়ম সিরিজের প্রথম গল্প ঈশ্বর যখন বন্দি থেকে যে ভ্রমন শুরু করেছিলাম সেটা প্রতিটা সিরিজের সাথে সাথে আরো রোমাঞ্চকর হয়ে উঠছে। সনাতন বৈদিক সমাজের সঠিক ব্যখ্যা থেকে শুরু করে অস্টাদশ শতকে তার ভুল ব্যখ্যা দিয়ে তার অপব্যবহার, বাংলার কিংবদন্তি পন্ডিত জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের সাথে পাঠকদের পরিচিতি ঘটানো এই সবই ঘটেছে লেখিকার অসামান্য লেখার মাধ্যমে। প্রতিটা মুহুর্তে ঘটনা পরিবর্তন এক অন্যজগতে নিয়ে চলে যায়। বাংলায় সত্তি যদি কোনো আমিষ সমপ্রদায় গরে ওঠে তবে কি হবে সেটাও রোমাঞ্চ ধরিযে দেয়। আমার সর্বপরি প্রাপ্তি লেখিকার সই, অনেক ধন্যবাদ দিদি। সবশেসে বলি পরবর্তি সিরিজের জন্য অধির অপেখ্যায় রইলাম। ❤️❤️
গ্লানিরভবতি ভারত পড়লাম। বিজ্ঞান ও ইতিহাসের এক সুন্দর মেলবন্ধনের প্রেক্ষাপটে পাশের বাড়ির দম্পতি রুদ্র প্রিয়মের দুরন্ত এক অ্যাডভেঞ্চার। ত্রিবেণী যেতে খুব ইচ্ছে করছে, যেমন ফেলুদার বাড়ির কলিং বেল বাজাতে এক সময় ইচ্ছে করত। রুদ্র তার সঠিক পেশা খুঁজে নিয়েছে। লেখিকার যে প্রচুর পড়তে হয়েছে তা অনুমেয় আর আমরা পাঠককুল সে পড়ার নির্যাসটুকু চেটে পুটে নিতে পারলাম। লেখায় লেখিকাকে তার রচনার বিষয়ে স্বাধীনতা দিতে হয়, তবুও রাধানাথ রায় জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থাকলেও প্রতি বুধবার তার হেডকোয়াটার থেকে দূরে থাকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থেকে যায়। একই জেলায় আইপিএস পদে তিনি দীর্ঘ দিন একই পদে থাকতে পারেন, যা পুলিশের চাকরিতে সম্ভব নয়। তবে এই বাস্তবতা কোনো ভাবেই গল্পের রস আস্বাদনে বাধা হয়ে ওঠে না। রুদ্র প্রিয়মের আরও অনেক অ্যাডভেঞ্চারে সামিল হব এই আশা রেখে শেষ করছি।
★ বইয়ের নাম ~ গ্লানির্ভবতি ভারত ★ লেখক ~ দেবারতি মুখোপাধ্যায় ★ Publisher ~ দীপ প্রকাশন ★ প্রথম প্রকাশ ~ ডিসেম্বর 2020 ★ Genre ~ ঐতিহাসিক থ্রিলার ★ Book Length ~ 327 pages ★ Reading Medium ~ Physical Book ★Date finished ~ 11th April, 2022 ★ Reading Speed (page/hour) ~ 64 ★ Reading time ~ 6 hour ★ My Rating ~ 3.5★ ★ Thoughts on the book ~ অঘোরে ঘুমিয়ে শিবের তুলনায় এটি আমার বেশি ভালো লেগেছে। প্লট ও চরিত্রায়ন আগের থেকে বেশি ভালো। তবে বেশ কিছু ঘটনাক্রম একদমই বিশ্বাসযোগ্য লাগেনি আমার। তবে অন্য ধরনের কাজ। ইতিহাস ও সমাজের সমস্যার মিশেলে তৈরি উপন্যাসটি নিশ্চয়ই একবার পড়ে দেখার দাবি রাখে। সব মিলিয়ে মন্দ না। ★ Recommend it for ~ ঐতিহাসিক ও পুরানভিত্তিক থ্রিলারপ্রেমীরা পড়ে দেখতে পারেন।
এক কথায় অনবদ্য একটা thriller গল্প। এই গল্পে যেমন উঠে এসেছে প্রায় অজানা এবং সম্পূর্ণ অন্য চিন্তাধারার আমিশ সম্প্রদায় এর জীবনযাপনের চিত্র, তেমনি পাওয়া গেছে বাংলার মানুষের হৃদয় থেকে বিস্মৃত হয়ে যাওয়া প্রাক নবজাগরণের সময়ে আবির্ভূত পন্ডিত জগন্নাথ তর্ক পঞ্চাননের মত এক প্রাজ্ঞ ও জীবন্ত কিংবদন্তির জীবন-দর্শন। পাশাপাশি রয়েছে বর্তমান সময়ে সিরিয়াল কিলিং -এর রোমহর্ষক কাহিনী। গল্পের শুরু থেকে শেষ অবধি টান টান উত্তেজনা থাকায় একবার শুরু করলে মাঝপথে ছাড়া খুব মুশকিল। এছাড়া এই গল্পটি ব্যক্তিগত ভাবে আমাকে ইতিহাসের প্রতি ভীষন ভাবে আগ্রহী করে তোলে। রুদ্র-প্রিয়ম সিরিজে রহস্য উদঘাটনের দিকে এগিয়ে যাওয়া এই নবদম্পতিকে দেখে মনে হয়েছে এই চরিত্র দুটো যেন আমাদের চেনা কোনো এক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত দম্পতির গল্প। তাই রুদ্র প্রিয়ম সিরিজ আমার মনের খুব কাছের।
রুদ্ধশ্বাসে "গ্লানির্ভবতি ভারত" পড়া শেষ করলাম..একটা অন্য জগতে চলে গিয়েছিলাম..তোমার লেখা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই..প্রতি টা লেখা তে এত তথ্য সমৃদ্ধ থাকে..যে পড়ে অনেক কিছু জানা যায়..কতটা পড়াশোনা করে এই সব লেখা লেখো ভাবতেই অবাক লাগে.."নারাচ" পড়ার সময় যে ধরনের অনুভূতি হয়েছিল..সব সময় মনের মধ্যে কি হবে এর পর কি হবে চলত..এই বই পড়তে গিয়ে ঠিক সেই অনুভূতি কাজ করেছে..আমিষ সম্প্রদায় বলে যে আধুনিক যুগে কোনো সম্প্রদায় থাকতে পারে সেটা আগে জানতামই না..আর জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন মত পণ্ডিত মানুষ আমাদের এই বাঙলাতেই যে ছিলেন..তার খবর আমরা কজন রাখি..তোমার রুদ্র প্রিয়ম সিরিজ এইভাবেই এগিয়ে চলুক..এই কামনা করি। খুব ভালো থেকো..আর তোমার হাজার ব্যস্ততার মাঝে আমাদের এই রকম লেখা আরো আরো উপহার দিও..😊
বলে বোঝাতে পারবো না কত টা পাগল আমি এই রুদ্র প্রিয়ম এর সিরিজ এর প্রতি,পরীক্ষা,চাকরি এই সবের জন্য একটু দেরি হলো এই বই টা পড়তে ,কিন্তু সেই প্রথম থেকে একে একে নরক সংকেত থেকে গ্লানির ভবতি ভারত সেই চরম উত্তেজনা তে পড়েছি প্রতিটা পাতা ,দিদি র কাছ থেকে এই ভালোবাসা পেয়েছিলাম পড়ার জন্য ,এখন তা নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে❤️ ,আমার উনার কথা অনুযায়ী ," আমি জানতাম তুমি পছন্দ করো ম্যামের বই,কিন্তু রুদ্র প্রিয়ম এর জন্য যে তুমি এত পাগল এখন বুঝলাম", তাই এবারের ভ্যালেন্টাইনস গিফট ও পেয়েছি ম্যামের বাকি বই গুলো ❤️❤️❤️ আমি অপেক্ষায় আছি ,রুদ্র প্রিয়মের ,আর অনেক ভালোবাসা নিবেন ম্যাম,আরো আরো ভালো বই আমাদের দেন,আমরা অপেক্ষায় আছি❤️❤️
রুদ্র প্রিয়ম 4....অনেকদিন পর প্রিয় চরিত্ররা নতুন গল্পে ফিরে এলে উৎসাহ এমনি ই বেশি থাকে.. আজ সকালেই অবশেষে বইটা হাতে পেলাম...রীতিমতো বাকরুদ্ধ ....আপনার উপন্যাসের যেটা সবথেকে আমার ভালোলাগে সেটা হলো উপন্যাসগুলো ইনফরমেশন এ পুরো ঠাসা থাকে...এত নতুন নতুন জিনিস জানা যায় যেগুলো আমার অজানা কিন্তু অবশ্যই জানা উচিত ....জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন এর নাম আমি অন্তত প্রথম বার শুনলাম স্বীকার করতে দ্বিধা নেই ....তার জন্য লেখিকাকেও যে কত স্টাডি করতে হয় ব্যস্ত কর্মজীবন সামলে তা হয়তো আমরা আন্দাজ করতে পারবো না.... একটাই অনুরোধ করবো ...রুদ্র প্রিয়ম 5 এর জন্য প্লিজ এতদিন অপেক্ষা করাবেন না😅😅