মুসলিম উম্মাহ বর্তমান সময়ের মতো ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময় আগে কখনও কাটায়নি। একের-পর-এক বিপদের মধ্য দিয়ে আমাদের দিনমান অতিবাহিত হচ্ছে। দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আসছে। পুরো বিশ্বেই এই উম্মাহর সদস্যরা বিপদের ঘোর অমানিশায় দিন কাটাচ্ছে। এ ঘোর অমানিশা কাটিয়ে সাফল্যের সূর্যোদয় তখনই হবে, যখন আমরা সেই বিপদরূপী অন্ধকারের স্বরূপ অনুধাবন করতে পারব। জানতে পারব আমাদের করণীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে। “বিপদ যখন নিয়ামাত” বইতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে সেই অন্ধকার কাটানোর জন্যে প্রয়োজনীয় কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নাসীহা, যাতে আমরা কঠিনতম বিপদের মুহূর্তেও অবিচল থাকতে পারি। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যমে ছিনিয়ে আনতে পারি সাফল্যের লাল সূর্য।
জীবন মানেই পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষা থেকে পালাবার কোনো পথ নেই। বয়সের সাথে সাথে এর ধরণ পাল্টায়। এই পরীক্ষার একটি প্রকার হলো 'বিপদ'। অপর দিকে মুমিনের দুআ ওপরের দিকে উঠতে থাকে, বিপদ নিচের দিকে নামতে থাকে এবং মাঝপথে তারা একে অন্যের সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। এ লড়াইয়ে বিজয় নির্ভর করে কে বেশি শক্তিশালী তার ওপর। 'বিপদ যখন নিয়ামত' —এমনই পাথেয় নিয়ে রচিত, যা আমাদের জীবনের পরতে পরতে আসন্ন বিপদকে বরণ করতে শেখাবে; বিপদের মুখে মনোবল যোগাবে ইন শা আল্লাহ।
*ধুর আজকে ওইখানে আমি থাকলে আর এটা হতোনা। *ইশশ এই জ্বরটা আসার আর সময় পাইলোনা পরীক্ষার আগে আগেই আসত হলো। *সময়মতো যদি কাজটা করতাম তাহলে আজকে আমি বিরাট কিছু হতে পারতাম।
উপরে এই কথাগুলো বা এধরনের কথাগুলো আমরা হরহামেশাই বলে থাকি। কখনো হয়ত পরিস্থিতিতে পড়ে বলি কখনোবা হাসি ঠাট্টার ছলে বলে ফেলি। কিন্তু একজন মুসলিমের জন্য এধরনের কথা যেমন বলা উচিত নয় তেমন এমন কথার দ্বারা সে মহান আল্লাহ তায়া’লার সাথে শিরকের মত গুনাহও করে ফেলতে পারে।
যান্ত্রিক এই জীবনে বিপদ আপদ স্বাভাবিক বিষয় এই জিনিসটা আমরা হয়ত অনেকেই মেনে নিতে পারিনা। হঠাৎ বিপদে পড়লে কেন যেন আমরা সেই মহান রব'কে ভুলেযাই। ক্ষণিকের জন্য হলেও আল্লাহর উপর থেকে কেন যেন ভরসা হারিয়ে ফেলি৷ অথচ আমরা এটা চিন্তা করিনা গায়েব সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহ তায়া’লা ভালো জানেন।
ধরা যাক আপনার জ্বর এলো পরীক্ষার সময়ে আপনার পরীক্ষাটা সেজন্য একটু খারাপ হলো। সেই সামান্য খারাপ হওয়ার বিনিময়ে হয়ত আল্লাহ তায়া’লা আপনার জন্য পরবর্তীতে বিরাট কোনো নিয়ামত রেখে দিয়েছেন। কিন্তু আপনি একজন মুসলিম হয়ে এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারলেন না বরং সেই সামান্য অসুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর উপর একটা বিপরীত ধারণা করে বসলেন, ধৈর্য্য ধারণ করতে পারলেন না। এইযে এটা করলেন এতে মহান আল্লাহ নারাজ হন।
বিপদ যখন নিয়ামত বইটাতে ঠিক এই বিষয়টাই সুন্দরভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা অনেকেই কথায় কথায় অনেককিছু বলে ফেলি যা আমাদের বলা উচিত নয়। আল্লাহ তায়া’লা যুগে যুগে তার নবীদেরকেও বিভিন্ন বিপদে ফেলেছেন তাদের ঈমানের পরীক্ষা নেয়ার জন্য। শত কষ্টের মধ্যে থেকেও আল্লাহর সিদ্ধান্তকে কিভাবে তারা মেনে নিয়েছেন সেই ঘটনাগুলোও সংক্ষিপ্ত আকারে দেয়া আছে। ১০০ পৃষ্ঠারো কম পৃষ্ঠার এই বইটা পড়লে আমরা অনেকেই আমাদের এই ভুলগুলো শুধরে নিতে পারব। বিপদে পড়লে কিভাবে ধৈর্য্যধারণ করতে শিখতে হয় সেটা জানতে পারব। বইয়ের শেষদিকে এসে আল্লাহর প্রতি তাওয়াককুলের কিছু ঘটনা বর্ণনা করা রয়েছে যেগুলো পড়ে আসলেই মুগ্ধ হয়েছি। আবার আমাদের এই বিষন্নতার প্রতিষেধক হিসেবে ১৫ টি উপদেশ দেয়া হয়েছে যা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে আমাদের এই ভগ্ন হৃদয়কে বারবার আশার আলো ও ধৈর্য্য ধরতে সাহায্য করবে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সকল বিপদে ধৈর্য্যধারণ করে ঈমানের উপর অটল থাকার তৌফিক দান করুক।
"... আর তোমাদের উপর যদি কোনো বিপর্যয় আসে, তবে এমনটা বলবে না যে- ইশ যদি এমনটা না করতাম, তা হলে আজ এমন হতো না। বরং বলবে আল্লাহ তাকদীরে যা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন, তা-ই হয়েছে। ' যদি' কথাটা শয়তানের দরজা খুলে দেয় "। ( মুসলিম, আস সহীহ, হাদীসঃ ৬৪৪১)
• দুঃখ-কষ্ট আর সুখ-শান্তি সবই পরীক্ষা।
• আল্লাহ আপনার জন্য ভালো-মন্দ যা কিছু নির্ধারণ করে রেখেছিলেন, তাতেই আপনার মঙ্গল হবে।
• আপনার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা কখনোই আপনাকে ছেড়ে যেতো না। আর যা আপনার সঙ্গে ঘটেনি, তা কখনো আপনার সঙ্গে ঘটারই ছিলো না।
• সবর মুমিনের একটা অত্যাবশকীয় গুণ।
• যারা আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকে ও সবর করে, তারা উত্তম প্রতিদিন পায়।
• অধৈর্য হওয়া, বিলাপ করা, হা-হুতাশ করার মাধ্যমে কখনোই আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালা বদলে যায় না।
• মানুষের কাছে নিজের বিপদের ব্যাপারে নালিশ জানানো সবরের বিপরীত কাজ।
• একমাত্র আল্লাহ ই পারেন আপনাকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে এবং আপনার কষ্ট দূর করতে।
লেখাগুলো সমর্পণ প্রকাশনীর অনুবাদ বই ' বিপদ যখন নিয়ামত ' বই থেকে নেয়া। হতাশা, বিপদ, ডিপ্রেশন, একাকিত্ব ইত্যাদি বিষয়ের উপর আত্ম উন্নয়ন মূলক বই। বইটা মোটিভেশনাল হিসেবে আমার অনেক ভালো লেগেছে।
A gem of a motivational, inspirational, self-help, deen-related reference-filled book. Deserves a worthy review. Am leaving a short review due to time constraints. Will reread someday (In Shaa Allah) and give a proper review.
A very good book for dawah/sadaka/gift/to read with others as a way to lift the spirits during hard times. It is good because it directs the reader to the true and pure source of blessings and remedies, which is the Quran and the Sunnah, to the remembrance of Allah, to whom a sincere call for help never goes unanswered.
আমাদের জীবনে বিপদ বেশিরভাগ সময় আসে পরীক্ষারুপে।এই পরীক্ষায় ধৈর্যধারণ করে পাশ করতে পারলে জীবনে আসবে রহমতের বারিধারা। তখন এই বিপদের আগমন আমাদের জন্য হবে নিয়ামত। এই বইয়ে বিপদে অবিচল থাকার জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিপদের বাস্তবতা, বিপদের পরিচয় ও ফজিলত এবং পরীক্ষার সময় অবিচল থাকার উপায় সমূহ এর আলোচ্য বিষয়। বিপদ এবং দুঃখ-দুর্দশার সময় কিভাবে একজন মুসলমান সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, উত্তম আচরণ এবং দৃঢ় মানসিকতার দ্বারা সবচেয়ে উত্তম পুরস্কার অর্জন করে নিতে পারে, তা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে বিষন্নতা থেকে মুক্ত থাকার ১৫ টি পরামর্শ দেয়া হয়েছে যা অন্তরে ধারণ করলে বিপদ মুসিবত মোকাবিলা করা সহজ হবে ইন শা আল্লাহ। বইয়ে ১৪ টা অনুচ্ছেদ আছে।শায়েখ মুসা জিবরীল এর লেখাগুলো আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। বইটা হতাশাগ্রস্তদের নতুন আশার আলো দেখাবে ইন শা আল্লাহ।
> দুঃখ কষ্ট আর সুখ-শান্তি সবই পরীক্ষা। >আল্লাহ আপনার জন্য ভালো মন্দ যা কিছু নির্ধারণ করে রেখেছেন তাতেই আপনার কল্যাণ রয়েছে। >আপনার সাথে যা ঘটেছে, তা কখনোই আপনাকে ছেড়ে যেত না। আর যা আপনার সাথে ঘটেনি,তা আপনার সাথে ঘটারই ছিল না। >অধৈর্য হওয়া, বিলাপ করা, হা-হুতাশ করার মাধ্যমে কখনোই আল্লাহর নির্ধারিত ফায়সালা বদলে যায় না।
ছোট বেলা থেকে একটা কথা শুনতাম্ , "এটা আমার পাপের ফল " । এই বইটা তাদের একবার হলেও পড়ার অনুরোধ রইল যারা মনে করে আল্লাহ শাস্তি দিতে এই বিপদ আমাকে দিয়েছেন।
বিপদ, তারপর হতাশা এটা আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। সাধারণত আমরা কোনোকিছুর আশা করি, কিন্তু সেটা পাই না। যার কারণে ডুবে যাই চরম হতাশায়, আবার অনেকসময় বিপদ আসে, তাতেও আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। বিপদ কি নিয়ামুত হতে পারে? অবশ্যই হ্যা৷ বিপদে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসটার নাম হল ধৈর্য্য! সবরের চাইতে উত্তম ও প্রশস্ত আর কোনো জিনিস কাউকে দেওয়া হয়নি।' -বুখারি : ১৪৬৯ বিপদ কিভাবে নিয়ামত সেটাই ব্যখ্যা করা হয়েছে এই বইটিতে। অসাধারণ একটি বই, প্রত্যেকের পড়া উচিত। অন্তত যারা হতাশায় রয়েছে তাদের জন্য অবশ্যই!
দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনকারী একটি বই। বস্তুবাদীতা,অস্থিরতা,অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতা ও লোভ লালসার এই যুগে আমরা যেদিকে চোখ বুলাই দেখি মানুষের মধ্যে বিষন্নতার ছাপ। যা থেকে মুসলমানেরাও মোটেও নিরাপদ নয়। আর এই পুঁজিবাদী কুফরি বিশ্বব্যবস্থায় তা একেবারে অসম্ভব না হলেও অনেক কঠিন।
এমনই এক পরিস্থিতিতে বইটি নিয়ে এসেছে ইসলামের প্রশান্তির বার্তা। বয়ান করেছে আল্লাহর ক্ষমতা, দুনিয়ার বাস্তবতা,তাকদীর ও আখিরাতের সঠিক আক্বিদা। আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত ভালোমন্দ কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না, এই দুনিয়া পরীক্ষার জায়গা, আখিরাতই হওয়া উচিত আমাদের মূল লক্ষ্য ও আশা আকাঙ্ক্ষার স্থল এ কথা গুলোই মস্তিষ্কে ভালো করে বসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বইটি জুড়ে।
বিপদ-আপদের সময় আমাদের আচরণবিধি কেমন হওয়া উচিত, আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় ধৈর্য ধারণে রয়েছে বিরাট প্রতিদানের ওয়াদা পক্ষান্তরে অধৈর্য হয়ে বিলাপ করাতে রয়েছে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও শাস্তি, এসবকিছু খুব সুন্দর ও সহজ ভাষায় বর্ণিত হয়েছে।
ছোট্ট এই বইটির শিক্ষা হৃদয়ঙ্গম করতে পারলে ও তার উপর আমল করতে পারলে এই পার্থিব জীবনের অনেক পেরেশানিই সহজ হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ। সংশ্লিষ্ট সকলকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন, আমীন। সকল প্রশংসা এই বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর!!
বইটা অনেক সুন্দর। মুসা জীব্রিল ও আলি হাম্মুদার মতো মানুষের বই তো ভালো হবেই। সেই সাথে একটার পরে একটা positive perspective দিয়ে বইটা বিপদের মধ্য থেকেও positive ও আশাবাদী হতে শিখায়।
একটা স্টার কম দিলাম কারণ বইটা খুবই তাড়াতাড়ি পড়ে গেছি, তো ভালোমতো কিছু পয়েন্ট অনুধাবন করতে একটু সময় লাগবে।
জীবনে চলার পথে বিপদ-মুসিবতে আক্রান্ত হয় না পৃথিবীতে এমন মানুষ নেই বললেই চলে।আমরা তো বিপদে পড়লেই হতাশ ও চিন্তিত হয়ে যাই,আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল হারিয়ে ফেলি,তাকদীরে বিশ্বাসের ভীত হয়ে পড়ে নড়বড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে, •কীভাবে অস্থির না হয়ে স্থির থাকা ও ধৈর্যধারণ করা যায়? •কীভাবে বিপদ ও দুঃখ-দুর্দশার পরীক্ষাকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি,উত্তম আচরণ ও দৃঢ় মানসিকতার দ্বারা উত্তম পুরস্কারে বদলে ফেলা ও তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়? •কীভাবে আমরা সর্বক্ষেত্রে ইতিবাচক হবো? •তাকদীরের ফয়সালার ব্যাপারে অভিযোগ করা থেকে কীভাবে আমরা নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করবো? •কীভাবে আমরা আল্লাহর সাথে আন্তরিক সম্পর্ক এবং নিঃশর্ত ভালোবাসা তৈরি করবো?
এ সকল প্রশ্নের উত্তর-সহ বিপদের বাস্তবতা,বিপদের পরিচয় ও ফযীলত,প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা এবং পরীক্ষার সময় অবিচল থাকার উপায়সমূহ কুরআন- সুন্নাহর আলোকে 'বিপদ যখন নিয়ামত ১ ও ২' বইয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাই এই বই দুটিকে একই সাথে আত্নশুদ্ধিমূলক, জ্ঞানগর্ভ ও মোটিভেশনাল বইও বলা যায়। আমিও ব্যক্তিগতভাবে জীবনের কঠিনতম মুহূর্তে বই দুটো পড়ে যেমন আত্নিক প্রশান্তি পেয়েছি তেমনি ধৈর্য ধারণেরও সক্ষমতা অর্জন করেছি।
বই : বিপদ যখন নিয়ামত লেখক : উস্তাদ আলী হাম্মুদা, উস্তাদা শাওয়ানা এ. আযীয, শাইখ আহমাদ মুসা জিবরিল অনুবাদক: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ফাত্তাহ, বিনতে ইবরাহীম প্রকাশনী : সমর্পন প্রকাশন
আমার এই বইয়ে পড়া সবথেকে ভালোলাগা দুটো হাদিস, 🟤"...আর তোমাদের ওপরে যদি কোনো বিপর্যয় আসে,তবে এমনটা বলবে না যে-ইশ,যদি এমনটা না করতাম,তা হলে তো আজ এমন পরিণাম ভুগতে হতো না।বরং বলবে,আল্লাহ (তাকদীরে) যা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন,তা-ই হয়েছে।'যদি' কথাটা শয়তানের দরজা খুলে দেয়।" (মুসলিম,আস সহীহ:৬৪৪১)
🟤"মুমিনের বিষয়টি বড়ই বিস্ময়কর!তার সবকিছুই কল্যাণকর।মুমিন ছাড়া অন্যকারও ক্ষেত্রে সেটি প্রযোজ্য নয়।তার জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি এলে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে,ফলে তা হয় তার জন্য কল্যাণকর।আর দুঃখ-দুর্দশায় মুখোমুখি হলে ধৈর্যধারণ করে,ফলে তাও হয় তার জন্য কল্যাণকর।"(মুসলিম : ৭২২৯)
দুনিয়ার জীবন আখিরাতের জন্য শস্যক্ষেত্র মানে পরীক্ষা। আর পরীক্ষা মানেই বাঁধা, বিপত্তি, কষ্ট, দুঃখ, লাঞ্ছনা ইত্যাদি। আমরা যখন হলে এক্সাম দেই, তার আগে অনেকে রাত জেগে পড়ালেখা করে, আবার সেই ভোর ভোর উঠে নামাজ পরেই পড়তে বসে, অনেকে তো পড়ার টেনশন এ ঠিকঠাক খাওয়া দাওয়া ও ছেড়ে দেয়, শুধুমাত্র পরীক্ষায় একটা ভালো ফলের আশায়। আর এই আশা ই তার পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়ের কষ্ট কে ভুলিয়ে রাখে। আর অবশেষে ভালো রেজাল্টের আনন্দ তো আছেই। এক সাথে দুটো আনন্দ। একটা রেজাল্টের আগে, আর একটা পরে। কিন্তু সেই আমরাই, দুনিয়ার সামান্যতম সমস্যায় বিচলিত হয়ে পড়ি, ভেঙে পড়ি একদম ভিতর থেকে, মোটিভেশন হারিয়ে ফেলি। ক্লাসের পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় ও আমাদের রাত জগতে কষ্ট হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কোনো ধরনের হতাশা তৈরি হয়নি। তাহলে দুনিয়ার জীবনের একটু আধটু ঝুট ঝামেলায় আমরা কেন ভেঙে পরি? কারন, দুনিয়া যে পরীক্ষা ক্ষেত্র তা আমরা মুখে বলি ঠিকই কিন্তু অন্তরে পুরোপুরি গেঁথে নিতে পারিনি।
যখন এই জিনিসটাকে আমরা অন্তর থেকে আস্বাদন করতে পারবো, তখন আমাদের " আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল" উচ্চ মাত্রায় বিরাজ করবে। দুনিয়ার এই সব সামান্য বিপদ কে আর বিপদ মনে হবে না। বিপদ এলে মনে খুশি খুশি লাগবে। কষ্ট তো লাগবে। কিন্তু হতাশার সৃষ্টি হবে না।
আর দুনিয়ার এই জীবনের প্রতিটি বিপদ যে আসলে এক একটি নিয়ামত তা বুঝতে আর বেগ পেতে হবে না।
এই বিপদ গুলো নিয়ামত কিভাবে নিয়মিত, প্রতিটি বিপদ ই কি শাস্তি নাকি পরীক্ষা, কোনটা শাস্তি আর কোনটা পরীক্ষা এই সকল প্রশ্নমালায় সাজানো বিপদ যখন নিয়ামত বইটি।
তবে, বইটি শেষ কর পরেও আমার মনে হচ্ছিল আরো কিছু ডিটেইলস দরকার ছিল, ইতোমধ্যে জানতে পারলাম বইটির ২য় খন্ডও আছে। তাই, নিজের প্রশ্নগুলো সাজিয়ে রে��েছি ২য় খন্ডে খুঁজব বলে।
অসাধারণ একটি বই। যারা একটু কিছু হলেই কেমন যেনো মন আনচান করে, হতাশ হয়ে পড়েন তাদের জন্য মাস্ট রিড বই! ইন শা আল্লাহ।
আলহামদুলিল্লাহ, রোজা থাকা অবস্থায় এতো সুন্দর একটা বই পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। বইটি দারুন ভাবে তথ্যসূত্রের অভাব মুছে দিয়েছে জ্ঞানপিপাসুদের, এই বই একটি রত্নের সমান। বিপদ যে কতো সুন্দর নিয়ামাতেরও উদাহরণ হতে পারে তা এই বইয়ে ফুটিয়ে তুলেছে লেখক। মহান সৃষ্টিকর্তা, অসীম দয়ালু তিনি যখন মানুষকে পরীক্ষা করতে চান তখন তিনি তাদের বিপদের মুখোমুখি করান এবং তাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে থাকেন, যারা উত্তীর্ণ হয় তারা পুরস্কার পায় এটাই ছিলো মর্মোদ্ধার।
কিছু কিছু বই পড়ার টাইমিংটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। কেবল ছ্যাঁকা খাওয়ার পরে একটা বিচ্ছেদের কবিতা, বা প্রথম প্রেমে পড়ার সময় একটা রোমান্টিক উপন্যাস অনেক বেশি অনুভব করা যায়। ঠিক এই কারণে এই ছোট্ট কিন্তু অদ্ভূত সমৃদ্ধ একটা বই পড়ে খুব শান্তি পেলাম। হাইলি রেকমেন্ডেড!