অঘোরীদের সাধনাক্ষেত্র শ্মশান। আত্মাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ তাদের। শবদেহের আধ পোড়া মাংসকে পরম তৃপ্তিতে তারা তুলে নেয় মুখে। এক অঘোরী তান্ত্রিক চণ্ডাল। অঘোর বিদ্যায় সে দক্ষ।
কেন মধুময়ের পরিবার এসেছিল এক অঘোরী তান্ত্রিকের কাছে ?
তান্ত্রিক হরর ইদানীং বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সাহিত্য-ঘরানা বা জঁর। সেই ধারায় প্রথমে ফেসবুকে, তারপর গ্রন্থাকারে লিখে প্রভূত জনপ্রিয়তা পেয়েছেন অনেকেই। আলোচ্য বইটির লেখক মহুয়া ঘোষও সেই ধারার অনুসারী। তাঁর লেখার জনপ্রিয়তার কারণ এই বইটি পড়তে গিয়েই বুঝলাম। কারণগুলো হল~ ১. এই বইয়ের চারটি উপাখ্যান (চণ্ডাল, কে সেই বিশ্বাসঘাতক, প্রতিশোধ, কালভদ্র) এককভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও একসঙ্গে জুড়ে একটি উপন্যাসের চার অধ্যায় হয়ে উঠেছে। পাঠকের কাছে এমন লেখার আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। ২. বইয়ে যে ধরনের অলৌকিক কার্যকলাপ দেখানো হয়েছে তা দুর্বলচিত্ত পাঠকের নিদ্রাহরণে সক্ষম। ৩. চণ্ডাল এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের লড়াইয়ের বিবরণ ফেসবুকে ভয়ের গল্প পড়তে চাওয়া পাঠকদের যথেষ্টই আনন্দ দেবে। কিন্তু আমার এই বইটা পড়তে গিয়ে তিনটে বড়ো সমস্যা হল। সেগুলোও লিখি~ (১) এই বইয়ের গদ্যভাষা শুধু শুষ্কং কাষ্ঠং নয়, একেবারে চিতা থেকে পাওয়া পোড়া কাঠ। তারানাথ তান্ত্রিক পড়া পাঠকের কাছে এত রুক্ষ ভাষা একটা অন্তরায়। (২) ভয়ালরসের বদলে এই বই বীভৎস রসের উদ্রেকে অনেক বেশি সফল হয়েছে। ভয় পাওয়ানোর জন্য যেভাবে দৃশ্যগুলো বর্ণনা করা দরকার ছিল, তা করা হয়নি। বরং শক ভ্যালু-কেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। (৩) ভয়ের গল্পে অলৌকিক ব্যাপারস্যাপার গুরুত্ব পাবে— এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার একটা যুক্তিক্রম না থাকলে জিনিসটা অস্বাভাবিক এবং অযৌক্তিক মনে হয়। রক্তমাংসের চরিত্রগুলোকে সংবেদনশীল ভাষায় সূক্ষ্মভাবে গড়লে পাঠক তাদের সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন৷ তখন আর এগুলো অবিশ্বাস্য বা বুজরুকি বলে মনে হয় না। আবারও বলি, তারানাথ তান্ত্রিকের কাহিনিতে, এমনকি কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশকে নিয়ে লেখা সাম্প্রতিক গল্প-উপন্যাসে এই সংবেদনশীলতা ছিল বলেই গল্পগুলো পড়তে ভালো লেগেছে৷ সামগ্রিকভাবে বলি, লেখক নিজের ভাষা এবং চরিত্রনির্মাণ নিয়ে যত্নশীল না হলে এই গল্পগুলো উপভোগ করা কঠিন হবে।
বর্ননা, চরিত্র এর বিল্ডাপ এর এত খারাপ অবস্থা জীবনে এর আগে একবার ই পাইসিলাম। এ দেশীয় এক কুখ্যাত গবেষক এর লেখায়। এর থিকা ঠাকুরমার ঝুলিতেও আরো বিল্ডাপ থাকে। ফেসবুক স্ট্যাটাসেও আরো বিল্ডাপ থাকে। শ্মশানের বর্ননায় একই কথা বারবার লিখে রাখসে। শেষ ভিলেনকে প্রতিহত করার পদ্ধতি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে চন্ডাল অঘোর বিদ্যার ঠিক কি ধরনের ব্যবহার করেছে তার কিছুই মাথায় ঢুকে নাই।
২.৫ ★ আসলে। চার গল্পের প্রথম দুইটাকে এগিয়ে রাখা যায়। তিন নম্বরটা কোনভাগে হজম করা গেলেও শেষ গল্পটা অখাদ্য। লেখিকা এটাকে কোনমতে শেষ করেছেন। জোড়াতালি আর রিপিটেশন দেখার মতো। তাছাড়া গল্পের শেষ দিকে জি বাংলার সিরিয়ালিস্টিক সাংসারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত ভাবে অসুখী, ইত্যাদি জলাপোলা ঘটনা এসে গল্পগুলোর স্ট্যান্ডার্ড সত্যনাশ করে দিয়েছে। মনে হলো, এসব সমস্যার সমাধানে চন্ডালের দরকার ছিল না৷ ওস্তাদ মঘা ঘন শ্যামের কাছে গেলেই ইন্সট্যান্ট সমাধান। নাম্বার লাগলে জানাতে পারেন।
কাহিনি সংক্ষেপঃ ছেলেটার মা মারা গেছিলো ওর জন্মের সময়। আর এই জন্যেই ছোটবেলা থেকে বাবার লাথিটা ঝাঁটাটা খেতে খেতে বড় হতে হচ্ছিলো ওকে। মা'র মৃত্যুর জন্য শুধু ছেলেটার বাবাই না, ঠাকুমাও দোষারোপ করতো ওকে। দশ বছর বয়সে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হলো ওকে। গ্রামের শেষ মাথায় অবস্থিত শ্মশানে অঘোরী সন্ন্যাসীদের কাছে আশ্রয় নিলো ছেলেটা। শুরু হলো ছেলেটার অঘোর বিদ্যা শেখা। অঘোরী তান্ত্রিকে রূপান্তর ঘটতে লাগলো তার। চিতা থেকে মৃতদেহের আধপোড়া মাংস খাওয়া আর মড়ার খুলিতে ঢেলে কারণ (মদ) পান করতে করতে চলতে লাগলো তার সাধনা। আর এভাবেই ছেলেটা একসময় সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠলো আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন অঘোরী সন্ন্যাসী চণ্ডাল নামে।
মধুময় কর্মকার ও তার স্ত্রী আরতীর দীর্ঘদিন যাবৎ কোন সন্তান হয়না। নিঃসন্তান এই দম্পতি সন্তানলাভের আশায় চণ্ডালের শরণ নিলো। কিন্তু নির্দিষ্ট আচার পালনে এমন কিছু গোলযোগ বাধলো যে মধুময়ের একান্নবর্তী পরিবারের ওপর নেমে এলো ভয়াবহ এক অতিপ্রাকৃত দুর্যোগ। বাড়ির ছোট ছোট বাচ্চারাও হঠাৎ যেন ভয়াবহ হিংস্র হয়ে উঠলো। চণ্ডাল কি পারবে ওদের বাঁচাতে?
মধুময়, মনোহর ও মনোজিতের মা ও কর্মকার বাড়ির কর্ত্রী মালতী ভয়াবহ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তাঁর বমির সাথে বেরিয়ে আসতে লাগলো বিঘত সাইজের চুল। মধুময়ের স্ত্রী আরতীর শরীরও অকস্মাৎ বেঁকেচুরে যেতে লাগলো অজানা এক শক্তিবলে। ওদের স্বনামধন্য পারিবারিক ব্যবসাতেও লাল বাতি জ্বলার পরিস্থিতি এসে গেলো। কোন অজানা শত্রুর অঙ্গুলিহেলনে হচ্ছে এসব? বের করতে হবে চণ্ডালকে।
তন্ত্র সাধিকা কৃপালিনীর কেন এতো ক্ষোভ চণ্ডালের প্রতি? উর্মিলার শরীরে বাসা বাঁধতে গেলো কেন পথভ্রষ্ট এক আত্মা? দুটো নিষ্পাপ ছেলেমেয়ের ভাগ্যরেখায় কেন অকাল মৃত্যুযোগ? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে এই কালভদ্র? কেন সে চলেছে ভুল পথে? মানুষের সমস্যা সমাধান করে যাওয়া অঘোরী সন্ন্যাসী চণ্ডালের বিপদটাও এবার কিছুমাত্র কম না। তন্ত্রমন্ত্রের খেলায় কে জেতে, কে হারে তা আগেভাগেই বোঝা হয়ে গেলো খুব কঠিন এবার।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ মহুয়া ঘোষের 'চণ্ডাল'-কে চারটা বড় গল্পের সমন্বয়ে সৃষ্ট উপন্যাস বলা চলে। কারণ, প্রত্যেকটা গল্প একে অপরের সাথে কানেক্টেড। অতিপ্রাকৃত ধাঁচের এই বড় গল্পগুলোতে অঘোরী সন্ন্যাসী চণ্ডালকে বিপদগ্রস্ত মানুষের বিপদভঞ্জন হিসেবে দেখা যায়। কঠোর স্বভাব��র এই তান্ত্রিক নিজের শক্তিশালী তন্ত্রবিদ্যাত সাহায্যে অশুভকে দূরে সরিয়ে প্রতিষ্ঠা করে শান্তি।
কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক ব্যাপারটা 'চণ্ডাল'-এর পুরোটা জুড়েই উপস্থিত ছিলো। মহুয়া ঘোষ এই সম্পর্কিত জায়গা গুলোর বর্ণনায় এনেছেন বেশ গা শিউরানো এক আবহ। চণ্ডালের নানা আচার-উপাচার পালনের বর্ণনাতেও ছিলো ভেরিয়েশন। বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে ব্যাপারগুলো আমার কাছে। চারটা বড় গল্প বা অধ্যায়ের নামও রয়েছে আলাদা আলাদা। সেগুলোর কাহিনিতেও রয়েছে বৈচিত্র্য।
বাক্য গঠনে ছোটখাটো কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। সামান্য কিছু জায়গার বর্ণনা একটু খাপছাড়া মনে হয়েছে। আর চোখের বিস্ফারিত দৃষ্টিকে বিস্ফোরিত ও সাড়া দেয়াকে সারা দেয়া লেখা হয়েছে ভুল করে। এসব দিকে মহুয়া ঘোষ ভবিষ্যতে সুদৃষ্টি দেবেন আশা করি।
চণ্ডালকে নিয়ে লেখকের আরো এগোনোর ইচ্ছা আছে সম্ভবত। এই পহেলা বৈশাখে চণ্ডাল বিষয়ক পরবর্তী বইটা ওপার বাংলার প্রকাশিত হওয়ার কথা শুনেছিলাম। এই কোভিড-১৯ জনিত অস্থির সময়ে সেটা হবে কিনা, জানা নেই।
এপার বাংলায় 'চণ্ডাল' প্রকাশ করার জন্য চিরকুটকে ধন্যবাদ। বইয়ের বাঁধাই আর কাগজের মান যথারীতি নান্দনিক। সজল চৌধুরীর করা প্রচ্ছদটাও চমৎকার লেগেছে।
অঘোরী তান্ত্রিকদের নিয়ে জানাশোনা বলতে গেলে টুকটাক কিছু বই, ডকুমেন্টারি এবং চলচ্চিত্র। মাঝে মাঝে কিছু টিভি সিরিজে দেখি অঘোরীদের কাণ্ড-কারখানা দেখায়, তবে সেখানে মনের মাধুরী মিশিয়ে নিজেদের মতো কাজকারবার দেখানো হয় বেশি। সে যাই হোক, চিরকুট প্রকাশনী থেকে মহুয়া ঘোষের "চণ্ডাল" বইটার ঘোষণা যখন দেয়া হলো, একটু লাফিয়ে উঠলাম। একে তো বইটা হরর জনরার, তার ওপর বইটা লেখা হয়েছে অঘোরীদের নিয়ে। একেবারে সোনায় সোহাগা বলতে গেলে। কিছুদিন আগে বইটা পড়া শুরু করেছিলাম। শেষ করলাম গতকাল রাতে।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ মায়ের মৃত্যুর পর দশ বছর বয়সে বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল ছেলেটা। শ্মশানঘাটে এসে অঘোরীদের কাছে আশ্রয় নেবার পর শিখতে শুরু করল তাদের শিক্ষা, হয়ে উঠল চণ্ডাল নামের এক শক্তিমান অঘোরী। বিপদে-আপদে মানুষ তার কাছে এসে সাহায্য প্রার্থণা করে। কাউকেই ফিরিয়ে দেয় না চণ্ডাল। নিজের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যের পরোয়া না করে ঝাঁপিয়ে পড়ে অপশক্তির বিরুদ্ধে। ছিনিয়ে আনে বিজয়মাল্য। মূলত চারটি গল্পের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে চণ্ডাল। অনেকদিন পর আমি এই ধরনের গল্প পড়লাম। কম্পেয়ার করবার জন্য আসলে আরও দুই-চারটা বইয়ের ধারণা রাখা লাগে। সেক্ষেত্রে আমি নিজের অপারগতা কিংবা অক্ষমতা প্রকাশ করছি। চণ্ডালের সাথে কম্পেয়ার করার মতো রসদ আমার হাতে নেই, যার ফলে বলতে পারছি না বইটা সমসাময়িক বইগুলো থেকে আসলেই কতটা ভালো কিংবা খারাপ। তবে নিজের কিছু বিষয় পর্যবেক্ষণ করেই বলছি- ১) চণ্ডাল হিসেবে যাকে গল্পের নায়ক দেখানো হয়েছে, তাকে শক্তিশালী হিসেবেই দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে লেখিকা কোনো কার্পণ্য করেননি। ২) চণ্ডাল গল্পে স্রেফ পারিবারিক আবহ, ঘৃণা, দ্বেষ ইত্যাদি দেখানো হয়েছে। যখন গল্পের শেষে একটা একটা করে সুতো ছাড়া শুরু হয়, লজিকগুলোকে কেন যেন মেনে নিতে কষ্ট হয়েছে। বলতে পারেন খুব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়েই ডার্ক ম্যাজিক কিংবা ছলা-কলার সাহায্য নিয়েছে এন্টাগোনিস্টরা। ৩) কৃপালিনী নামে চণ্ডালের যে বিরোধীপক্ষ দেখানো হয়েছে, তাকে তৃতীয় গল্পে রীতিমতো খেলো লেগেছে। এরচেয়ে বরং লেখিকা যদি কালভদ্র চরিত্রটাকে আরেকটু বড় করতেন, তাহলে বেশ জমজমাট হয়ে উঠত চতুর্থ পর্বটা। ৪) অঘোরীদের বিভিন্ন কর্মপন্থা এবং কাজের সময় কীভাবে পূজা-অর্চনা করা হয়, সে বর্ণনা পড়তে গিয়ে বেশ মন দিয়ে পড়েছি। কিছু কিছু জায়গায় নোটও করেছি। আশা করি ভবিষ্যতে নিজেরও কাজে লাগবে। গ্রাউন্ড হোমওয়ার্কে বেশ সুবিধে হয়েছে। তবে অনেকক্ষেত্রেই একই ধরনের বর্ণনার দেখা বার বার পাওয়াতে কিছুটা বিরক্ত লেগেছে। তাছাড়া বর্ণনার ক্ষেত্রে লেখিকা বেশ একঘেয়েমিতা পাইয়ে দিয়েছেন, সেটা না বললেই না। কিছু কিছু জায়গায় লেখিকা ঠিক কী বর্ণনা দিয়েছেন, তা বুঝতে দুইবার করেও পড়া লেগেছে। ৫) চণ্ডালের সেরা গল্প হচ্ছে দ্বিতীয় পর্বটি। কর্মকার বাড়ির রহস্য চণ্ডাল যেভাবে সমাধান করেছেন, সেটি পড়তে গিয়ে বেশ ভালো লেগেছে। ৬) সবচেয়ে বিরক্ত লেগেছে বইতে বারংবার "চেলা", "চেলা" পড়তে গিয়ে। সকলেরই নাম দিয়ে এবং নামের মাধ্যমে সম্বোধন করে সম্মান জানানো হয়েছে। কেবল চণ্ডালের সাহায্যকারীদের কোনো নাম নেই। প্রথম চেলা, দ্বিতীয় চেলা, আরেকজন চেলা- এমনসব সম্বোধন সারা বইতে দেখতে গিয়ে প্রচণ্ড বিরক্ত লেগেছে। ৭) বইয়ের বাঁধাই, কাগজের মান, প্রচ্ছদ নিয়ে অভিযোগের কোনো সুযোগ নেই। সজল চৌধুরীর প্রচ্ছদ সত্যিই মনে ভয় জাগানিয়া, সেটা বলতেই হয়।
এবার একটা ব্যক্তিগত মতামত। আমাদের দেশের যারা হরর লিখছেন, তারা এর চেয়ে গুনে, মানে, বর্ণনায় ও প্রেক্ষাপটে অনেক অনেক ভালো লিখছেন। হয়ত চণ্ডালের দ্বিতীয় পর্ব আসবে। লেখিকার প্রতি শুভকামনা রইল।
“প্রতিটি অঘোরীই তাঁর সাধনক্রিয়ার জন্য বেছে নেন গভীর রাত৷ অন্ধকার যখন চরাচর ঢেকে দেয়, প্রতিটি প্রাণী চলে যায় ঘুমের দেশে, তখন শুরু হয় তাঁদের সাধনা৷ এঁদের সাধনপীঠ হল শবদেহ৷ যার ওপর বসেই এঁদের ধ্যান শুরু হয়৷ সামনের জ্বলন্ত চিতা আর উড়তে থাকা ছাই প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় শেষ পর্যন্ত কোন গন্তব্যে পৌঁছতে চলেছে৷”― অঘর রহস্য, পিনাকী সেন - ❛চণ্ডাল❜ - অকাল্ট হরর ঘরানার ❛চণ্ডাল❜ বইটি চারটি ছোট-বড় গল্প নিয়ে লেখা হয়েছে। লেখক মহুয়া ঘোষ রচিত এই বইটি বাংলাদেশ থেকে চিরকুট প্রকাশনী ২০২০ সালে প্রথম প্রকাশ করে। - চণ্ডাল: মধুময় আর মালতী কর্মকার নামের এক দম্পতি পুত্র সন্তানের আশায় চণ্ডাল নামধারী এক অঘোরী তান্ত্রিকের কাছে আসে। সেই তান্ত্রিক কিছু নিয়মাবলী পালন করার কথা বলে তাদেরকে। কিন্তু নিয়মাবলীতে কিছু ভুল হবার পরেও পুত্র সন্তান জন্ম হওয়ায় সেই সন্তানকে বাচাঁতে আবারো চণ্ডালের কাছে হাজির হয় তারা। এখন সেই অঘোরী তান্ত্রিক তাদের সন্তানকে বাচাঁতে পারেন কিনা তা নিয়েই এই গল্পটি লেখা। - বিশ্বাসঘাতক: এই গল্পটি আগের গল্পের ধারাবাহিকতায় লেখা হয়েছে বলা যায়। এবার কর্মকার পরিবারের এক ভেতরের মানুষের চক্রান্তে সেই পরিবারের একের পর এক সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে তারা সবাই মিলে আবারো চণ্ডালের কাছে যায়। চণ্ডালও এ বিপদ থেকে তাদের উদ্ধারের কাজে নেমে পড়ে। - প্রতিশোধ: এই গল্পে এক দম্পতি তাদের মৃত মেয়ের আত্মাকে নামাতে চণ্ডালের দ্বারস্থ হয়। চণ্ডাল সে ব্যপারে রাজি হয়ে আত্মা নামাতে গিয়ে বিশাল বিপদে পড়ে যায়। কীভাবে চণ্ডাল এই বিপদে পড়ে আর এ�� বিপদ থেকে সে আদৌ উদ্ধার পায় নাকি তা নিয়ে এই গল্পের মূল রহস্য। - কালভদ্র: বইয়ের আগের তিন পর্বের ঘটনাবলীর ফলে কালভদ্র নামের এক সাধকের নজরে আসে চণ্ডাল। এদিকে এক পরিবার তাদের মেয়ের জীবন বাঁচাতে হাজির হয় চণ্ডালের কাছে। এখন এই দুই সমস্যা চণ্ডাল কীভাবে সমাধান করে সেই ব্যপারে এই গল্পটি লেখা হয়েছে। - ❛চণ্ডাল❜ বইটি চারটি গল্পের সমন্বয়ে লেখা হলেও প্রতিটি গল্পই আসলে একটি আরেকটির সাথে কানেক্টেড। তাই বইটি পড়তে হলে প্রথম গল্প থেকেই পড়া উচিত। প্রতিটি গল্পের প্রধান জনরা তন্ত্র ভিত্তিক থ্রিলার/হরর। প্রথম গল্পের প্লটটি ইন্টারেস্টিং লাগলেও পরেরগুলো রিপিটেটিভ আর একই ফর্মূলার লাগলো। ❛চণ্ডাল❜ বইয়ের লেখনশৈলীর কোন দিকই তেমন ভালো লাগেনি। হরর কিংবা থ্রিলার দুইজায়গার এক জায়গাতেও ঠিকভাবে লেখনশৈলী ফুটে উঠেনি। এ কারণে সব গল্পগুলোই অ্যাভারেজ/বিলো অ্যাভারেজ লেগেছে। - ❛চণ্ডাল❜ বইটির প্রধান চরিত্র চণ্ডাল নামের এক অঘোরী তান্ত্রিক। একজন অঘোরী তান্ত্রিক হিসেবে যেভাবে বিভিন্ন সময়ে সে বিপদের মোকাবেলা করেছে তাতে বেশ হতাশই হয়েছি। পুরো বইতে তার দুই চেলাকে শুধু প্রথম চেলা আর দ্বিতীয় চেলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে কয়েকটি গল্পের অ্যান্টাগনিস্টের চেলাদেরও আলাদা করে নাম ছিলো সেখানে চণ্ডালের সহযোগীদের আলাদা নাম না থাকা বেশ বিরক্তিকরই লেগেছে। বইয়ের সংলাপ এবং ভয়ের আবহকে মেডিকোর বলা যায় সর্বোচ্চ। বইয়ের কয়েকটি গল্পে ফ্যামিলি মেলোড্রামাও অতিরিক্ত লেগেছে। - ❛চণ্ডাল❜ বইয়ের প্রোডাকশন ওভারঅল ভালোই। টুকটাক বানান ভুল আর টাইপো অবশ্য ছিলো। বাংলাদেশি প্রচ্ছদে বইটি পড়লেও বইয়ের ভারতীয় কভারটাই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়েছে। বইয়ের কাগজের মান, বাঁধাই ইত্যাদি সন্তোষজনক। অবশ্য বইয়ের কন্টেন্টই বিলো অ্যাভারেজ হলে সেটার প্রোডাকশন যত ভালোই হোক, তা দিয়ে বইয়ের কাহিনির দুর্বলতা তো আর ঢাকা যায় না। - বর্তমানে ভারতে বাংলা ভাষায় তন্ত্র-মন্ত্র বিষয়ক অকাল্ট হররের বেশ ভালো চল শুরু হয়েছে। সে বিষয়ে র্যাংকিং করলে এক কথায় ❛চণ্ডাল❜ বইটা সর্বোচ্চ বিলো অ্যাভারেজ তকমা পাবে। বইয়ের কোন গল্পই আমার কাছে তেমন সন্তোষজনক মনে হয়নি। তারপরেও কারো যদি একান্তই ইচ্ছে থাকে তাহলে বইটা ট্রাই করে দেখতে পারেন।
ঠাকু'মার মৃতদেহ যখন শ্মশানে দাহ করা হচ্ছিল তখন সে দেখেছে মৃত মানুষের আধপোড়া মাংস নির্বিকারে তারা খেয়ে চলেছিল । সুরা পাত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেখেছিল মানুষের মাথার খুলিকে । সেদিন থেকে ছোট্ট ছেলেটির বড় আপন হয়ে গিয়েছিল এই শ্মশান আর ছাইভস্ম মেখে ঘুরে বেড়ানো লোকগুলো । তাদের সান্নিধ্যে ছেলেটা কাটাতে লাগলো বছরের পর বছর । শিখতে লাগলো তন্ত্রবিদ্যে । গ্রামের লোকেরা তাকে হৃদয়হীন চণ্ডাল বলে ডেকেছিল । তখনই নামটা বেশ পছন্দ হয়েছিল তার । চিৎকার করে বলেছিল, 'হ্যা আমি চণ্ডাল ।' সেদিন থেকে তার নতুন নাম হয়েছিল 'চণ্ডাল' ।
গল্পবাঁক ------------------
মধুময় কর্মকার ও তার স্ত্রী আরতীর দীর্ঘদিন যাবৎ কোন সন্তান হয়না । নিঃসন্তান এই দম্পতি সন্তানলাভের আশায় চণ্ডালের শরনাপন্ন হল । চণ্ডালের দেওয়া নির্দিষ্ট আচার পালনে বিঘ্ন ঘটলো তাদের । পরিবারে নেমে এল ভয়াবহ দূর্যোগ । পরিবারের একেকটা ছোট বাচ্চাও হয়ে উঠলো ভয়ঙ্কর । চণ্ডাল কি ওদের পরিবারকে বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে?
মধুময়, মনোহর ও মনোজিতের মা ও কর্মকার বাড়ির কর্ত্রী মালতী ভয়াবহ অসুস্থ হয়ে পড়লেন । তাঁর বমির সাথে বেরিয়ে আসতে লাগলো বিকট সাইজের চুল । এদিকে মধুমতীর স্ত্রী আরতির শরীর অদ্ভুতরকম ভাবে বেঁকে যেতে শুরু করলো । কেউ যেন তাকে ধরে বলের মত করে পাঁকিয়ে দিচ্ছে । অন্যদিকে তিন ভাইয়ের ব্যবসায়িক জীবনে নেমে এলো দূর্যোগের ঘনঘটা । সব মিলিয়ে একরকম পর্যুদস্ত অবস্থায় তারা আবার পা রাখলো চণ্ডালের শ্মশানে । চণ্ডাল জানালো ঘরের শত্রুই বিভীষণ । চণ্ডাল কি রক্ষা করতে পারবে মধুময়ের পরিবারকে?
কৃপালিনী- একজন তন্ত্র সাধিকা । তার কীসের এত বিরোধ চণ্ডালের সাথে? সে কেন চণ্ডালের ধ্বংস চায়? কীসের প্রতিশোধ নিতে চায় সে? এদিকে উর্মিলার শরীরে একইসাথে দুটি আত্মা বসবাস করছে । খুবলে খুবলে খাচ্ছে উর্মিলার রক্ত মাংস । চণ্ডালের ওপরই বা কীসের এত আক্রোশ কালভদ্রের? কে এই কালভদ্র? তিনি কী শেষমেষ চণ্ডালকে হত্যা করতে পারবে?
পাঠক এতশত প্রশ্নের উত্তর এই ছোট্ট দুইশো পৃষ্ঠার বইয়ে মহুয়া ঘোষ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
বইয়ের ভালোমন্দ --------------------------------- ● ভালো দিক চণ্ডাল'-বইটিকে চারটা বড় গল্পের সমন্বয়ে সৃষ্ট উপন্যাস বলা চলে । কারণ, প্রত্যেকটা গল্প ইন্টারকানেক্টেড। অতিপ্রাকৃত ধাঁচের এই বড় গল্পগুলোতে অঘোরী সন্ন্যাসী চণ্ডালকে বিপদগ্রস্ত মানুষকে নিজের তন্ত্রবিদ্যে ব্যবহার করে সাহায্য করতে দেখা যায় । কঠোর স্বভাবের এই তান্ত্রিক নিজের শক্তিশালী তন্ত্রবিদ্যার সাহায্যে সকল অশুভ শক্তিকে গ্রাস করে । এছাড়া শুরুতে চণ্ডালের জীবন নিয়ে সংক্ষেপে বলা হয়েছে সেটাও ঠিকঠাক । আর সবথেকে ভালো লেগেছে যেটা সেটা হল এখানে শুধু চণ্ডালকেই ফোকাস করা হয়নি । বরং শত্রুকেও যথেষ্ট শক্তিশালী দেখানো হয়েছে । চিরকুট প্রকাশনীর প্রোডাকশন বরাবরের মত ভালো । বইয়ের বাঁধাই, পৃষ্ঠা, ফন্ট সবকিছু পারফেক্ট ।
● মন্দ দিক মন্দ দিকের কথা বলতে গেলে বলবো মহুয়া ঘোষ অত্যন্ত সাদামাটা শব্দ ব্যবহার করেছেন যেটা গল্পের আমেজ কিছুটা নষ্ট করেছে । ভৌতিক উপন্যাস তার শব্দের জন্যই মাধুর্য পায় । কিন্তু এই বইয়ে বেশ কিছু জায়গায় তার ঘাটতি রয়েছে । যেমন একজন চণ্ডাল যে কিনা ছাইভস্ম মেখে ঘোরাঘুরি করে, নরমাংস খায় তার মুখে 'রাত বারোটায় দেখা করিস' বাক্যটা ততটা শোভা পায়না । এরচে' সে এভাবে বলতে পারতো, 'ঠিক মধ্যরাতে আমার ডেরায় দেখা করিস ।' এতে গল্পের গাম্ভীর্য বজায় থাকতো । এছাড়া ব্যাকরণগত কিছু ভুল পেয়েছি । আর চণ্ডালকে আরো বুদ্ধিমান দেখানো উচিত ছিল । শুধুমাত্র তন্ত্রবিদ্যে নির্ভর না হয়ে কিছুটা বুদ্ধিমান দেখালে গল্পটা আরো সুন্দর হত । এছাড়া স্টোরি বিল্ড আপ মোটেই ভালো নয় । চরিত্রগুলো কেমন যেন গল্পের মতই খাপছাড়া । লেখিকা তার বর্ণনাশৈলীতে ব্যর্থ হয়েছেন । ভৌতিক আবহ কিংবা পাঠকের একাগ্রতা কোনোটাই তৈরি করতে পারেননি তিনি । আর যাহোক অতিপ্রাকৃত টপিকের ভাষা এতটা সহজ হলে ভালো লাগেনা । তন্ত্রবিদ্যের বর্ণনাও কেন যেন আমায় আকর্ষণ করেনি ।
শেষ কথা ------------------------ বইটা মোটাদাগে ভালো লেগেছে এটা বলবো না । বরঞ্চ একরকম খারাপই লেগেছে । কিছু কিছু ভুল একদমই চোখে পড়ার মত । এগুলোতে লেখিকার উন্নতির জায়গা রয়েছে । সব মিলিয়ে বইটা মোটামুটি মানের মনে হয়েছে আমার কাছে । চণ্ডাল বইয়ের সিক্যুয়েল(মহাকুণ্ডে চণ্ডাল) ভারত থেকে ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে । আশা করছি এই বইয়ে লেখিকা ত্রুটিগুলো কাটিয়ে উঠেছেন । সবশেষে ধন্যবাদ চিরকুট প্রকাশনীকে ভারতের বইগুলো বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য সহজলভ্য করার জন্য । তন্ত্রবিদ্যের বইতে আগ্রহী পাঠক এই বইটা চাইলে নেড়েচেড়ে দেখতে পারেন ।
মা মারা যাবার পর পরিবার থেকে নিগৃহীত এক কিশোর আশ্রয় নেয় শশ্মানের অঘোরী তান্ত্রিকদের ডেরায় । মৃত মানুষের আধাপোড়া মাংস যাদের প্রধান জীবিকা । তান্ত্রিকদের সাথে থেকে তন্ত্র মন্ত্রের সাধনায় জাঁদরেল এক তান্ত্রিকে পরিণত হয় সে । দিকে দিকে তার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে চণ্ডাল নামে । কখনও অন্যের জীবন বাঁচাতে কখনওবা নিজের জীবন বাঁচাতে একের পর এক যজ্ঞ, তন্ত্র মন্ত্রের সাধনা করতে থাকে চণ্ডাল । বইটি মোট ৪ খানা ছোট-বড় গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে । গল্প চারটা হলেও একটা আরেকটার সাথে কানেক্টেড অথবা একই টাইম ফ্রেমের । গল্পগুলো বেশ চটকদার, কখনও লোমহর্ষক এবং সহজপাঠ্য । তবে বেশ কিছু গিমিখ আছে বইটাতে । প্রায় প্রত্যেকবার শশ্মানের দৃশ্যে শিফট করার সময় জলন্ত চিতার সংখ্যা বলার চেষ্টা করা হয়েছে যেটা বেশিরভাগ সময়েই অপ্রয়োজনীয় লেগেছে আমার কাছে । বিভিন্ন দৃশ্যের আবহ সৃষ্টি করতে বেশ ভালোই বেগ পেতে হয়েছে লেখককে । বেশ কিছু জায়গায় যে কথাগুলো লেখকের বয়ানে আসা উচিত ছিল সেখানে সেটা গল্পের চরিত্রকে দিয়ে বলিয়েছেন তিনি । প্রেক্ষাপট/পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভালো চরিত্র এবং খল চরিত্রের যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য হয় সেটা গুলিয়ে ফেলেছেন লেখক । চণ্ডাল চরিত্রটা যেমন শক্তিশালী , বিল্ডআপও সেরকম শক্তিশালীই হয়েছে । তবে অন্য গল্পগুলোতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের বিল্ডআপ ভালো হয়নি । এবং অনেক অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকেও বেশি স্পেস দিয়ে ফেলেছেন ।
An example of ancient horror with the touch of old vintage village time & a classical work to enjoy is "চন্ডাল" written by Mahua Ghosh.
This book was in the topic of book fair discussion last year in Kalkata. Nowadays there are many horror book but only a few can give this kind of satisfaction. In this book, it's all about imagination the myth! The old vintage village time, the cremation & the environment everything will drive you into a different area. If you want to get fear by reading and imagining then this one is for you. Based on horror events and solving them by a Tantric. Here his name is Chandal. He always helped people to get reduce them from danger. The whole story was a combination of four separated part. They were actually the same story but the writer divided it into four different titles. The detailed about magic, Tantrik's skill & solving situation were a perfect combination to realise as it a perfect lovely ancient horror book to enjoy.
অঘোরী তান্ত্রিকরা শরীরে লেপন করে চিতাভস্ম। করোটিতে ঢেলে পান করে সুরা। কিন্তু কেন ? এর উত্তর পাইনি বইয়ে যে কেন তারা এমনটি করে...
বইটার ভালো দিক- নতুনত্ব পাবেন, সাধারন হরর থেকে অন্যরকম। তান্ত্রিক হরর। প্রথম পর্বে মধুময়দের পরিবারের কাহিনীতে ঢুকে যাবেন, ভালো লাগবে। প্লট ভালো।
বইটার খারাপ দিক- প্লট ভালো হলেও স্টোরি বিল্ড-আপ আশাহত করেছে। শ্মশানের ভীতিকর পরিবেশের সাথে ঠিকভাবে পরিচয় করানো হয়নি। অঘোরিদের সম্পর্কে তেমন কিছুই নেই। শুধু গল্পের প্রয়োজনেই তাদের আনা। অঘোরিবিদ্যা, অঘোরিদের সম্পর্কে আরও ইন্টারেস্টিং কিছু জানবো আশা করেছিলাম। প্রথম পর্বের পর থেকে গল্প কোনরকম এগোতে থাকে।
গল্পের প্লট মোটামুটি। কিন্তু বর্ননা, চরিত্র গঠনের অবস্থা করুণ। শ্মশানের বর্ননায় একই কথা বারবার লেখা হয়েছে। শেষ ভিলেনকে প্রতিহত করার পদ্ধতি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে চন্ডাল অঘোর বিদ্যার ঠিক কি ধরনের ব্যবহার করেছে তার কিছুই বুঝে আসে নাই।
চন্ডালের নামকরণের পেছনের ঘটনা বলা হয়েছে। কিন্তু তার ক্ষমতাধর হবার বিষয়ে যে তথ্য হয়েছে সেটা যথেষ্ট নয়। অঘোরী তান্ত্রিক চন্ডাল অঘোর বিদ্যায় ক্ষমতাবান কারণ সে অঘোরী তান্ত্রিক এবং ক্ষমতাবান।
"অঘোরী তান্ত্রিকরা শরীরে লেপন করে চিতাভস্ম। করোটিতে ঢেলে পান করে সুরা। কিন্তু কেন ?"- জানি না কেন করে।
আমার অন্যতম পছন্দ তন্ত্র মন্ত্র genre এর সিরিজ। গল্প করার ছলে গল্পগুলো লেখা।
চন্ডাল চরিত্রের উত্থান। চারটি গল্প। একটা গল্প শেষ হলে সেই সূত্র ধরে আরেকটা গল্পের শুরু।কাহিনীগুলোতে বীভৎসতা আর নৃশংসতা রয়েছে। ভৌতিক আবহ তেমন পাইনি। চন্ডাল এর পরের বইতে ইমোশনাল টাচ্ এই বইতে আমার মতে মিসিং।
লেখিকার প্রথম প্রকাশিত বই চন্ডাল। ওনার প্রায় সব বই পড়লেও এই বইটি পড়া বাকি ছিল। চন্ডাল আর মহেন্দ্রাণী সিরিজের ফ্যান আমি। তবে এই বইটিতে আমি এই দুই সিরিজের নীচের সারিতেই রাখবো।
'তারানাথ তান্ত্রিক' পড়া+শোনার পর 'তান্ত্রিক হরর' ঘরানার বইয়ের প্রতি ইন্টারেস্টেড হয়ে বইটি হাতে নিয়েছিলাম। চারটি ভাগে ভাগ করা বইটি খুব যে সুখপাঠ্য মনে হয়েছে তা না। 'এদিকে' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার কিছুটা দৃষ্টিকটু লেগেছে। গল্পের 'প্রতিশোধ' অংশটি ভাল লেগেছে। এক্সপেক্টেশন বেশি না রাখা ভাল। সব মিলিয়ে মোটামুটি পর্যায়ের একটি বই মনে হয়েছে আমার কাছে।
কিছুই হয়নি। এটা স্পষ্ট লেখিকার ভাষা কিংবা বইয়ের প্রধান বিষয় তন্ত্র কোনোটা নিয়েই কোনো জ্ঞান নেই। অতি জঘন্য লেখা। না আছে গল্পের বাঁধুনি, আর বারবার একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি, এমনকি একই সংলাপের পুনরাবৃত্তি। না পড়লেই ভালো হতো।
গল্পের প্লট বেশ সাধারণই, আর পাঁচ দশটা তন্ত্র সাধনার বইয়ের মতনই। তবে গল্পগুলো বেশ জমজমাট��� পড়তে অতটা খারাপ লাগেনি। তন্ত্র সাধিকা কৃপালিনীর সাথে চণ্ডালের দ্বৈরথ বেশ উপভোগ্য। এই দ্বৈরথই টেনেছে সমাপ্তিটুকু। তবে শ্মশান এবং অঘোরী সাধকদের বর্ণনা পুরো বই জুড়েই একই রকম। একইরকম বর্ণনা বারবার পড়াটা বিরক্তির উদ্বেগ করে। তাই বর্ণনাগুলো আরামদায়ক লাগেনি। তন্ত্র সাধনার প্রভাব এবং পরিণামও সাধারণ ভৌতিক সিনেমা বা গল্পের মতই, তেমন নতুনত্ব নেই।