একই দিনে, গভীর রাতে শহরের পাঁচটি পুলিশ স্টেশনের সামনে একের পর এক ডাম্প করা হল পাঁচজন পুরুষের লাশ। কিন্তু তাদের মাথার জায়গায় বসানো ছিল একটি করে হাঁড়ি যেমন কাকতাড়ুয়ার মাথায় থাকে। হাঁড়ির ওপর রক্ত দিয়ে লেখা--'গেস হু?' ওরা ব্যক্তিগত জীবনে কেউ কাউকে চিনতই না। তবে খুনী তাদেরই বেছে বেছে খুন করল কেন?
১৫ দিনের মাথায় পাওয়া গেল এই কেসের ইনভেস্টিগেটিং অফিসারের মুন্ডহীন মৃতদেহ। একইভাবে মৃত্যু হয় পরবর্তী তিনজন ইনভেস্টিগেটিং অফিসারেরও। তারপর আর কেউ নিতে রাজী হয়নি কেসটা…
আজ বত্রিশ বছর পর কেন আবার দরকার পড়ল রি-ইনভেস্টিগেশনের?
একজন প্যাথলজিক্যাল লায়ার। সে নিজের নামটাও পর্যন্ত মিথ্যে বলছে৷ অধিরাজ কি পাবে মিথ্যের ভিড়ে সত্যের খোঁজ?
অত্যন্ত দুঃখে আছে নিঃসঙ্গ মানুষটি। ক্যালেন্ডারে একের পর এক ডেট ক্রস দিয়ে যাচ্ছে সে! কিন্তু কেন?
অন্যদিকে সন্দেহের তালিকায় অধিরাজের বস স্বয়ং এডিজি শিশির সেন!
‘সারজিকাল স’ হাতে সে হানা দেয় চুপি চুপি… সে কে? তার মোটিভ কী? মোডাস অপারেন্ডি কী? কেনই বা সে এই হত্যালীলায় মেতেছিল? বত্রিশ বছর পরে কি কেস সলভ হবে? নাকি অধিরাজ স্বয়ং হয়ে যাবে খুনীর দশম শিকার!
সায়ন্তনীর গড়িয়ায় বাস। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির শখ। কবিতা ও গদ্য দুইই চর্চার বস্তু।ক্লাস সেভেনে প্রথম প্রকাশ সংবাদ প্রতিদিনের শনিবাসরীয় পাতায়'চশমা' ছোট গল্প। তারপর প্রতিদিন, বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, আর ছোটদের পত্রিকা সাহানা আর বাংলা দেশের পত্রিকা ভোরের কাগজে লাগাতার লিখে যাওয়া।
বত্রিশ বছর আগে কলকাতা শহরকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল এক সিরিয়াল কিলার। জবরদস্ত রকমের পুরুষালি পাঁচটি বলবানকে হত্যা করার পর সে হাত বাড়িয়েছিল আরও বড়ো শিকারের দিকে। তার পরবর্তী চারজন শিকার ছিলেন চার ইনভেস্টিগেটিং অফিসার! মানুষগুলোকে শুধু খুনই করা হয়নি। তাদের মুন্ডুর জায়গায় একটা করে ওলটানো হাঁড়ি বসিয়ে, তার গায়ে 'গেস হু' লিখে গোটা ব্যবস্থা নিয়েই একটা প্রকাণ্ড রসিকতা করেছিল সেই খুনি। তবে ন'নম্বর হত্যার পর আপাতদৃষ্টিতে খুনি ধরা পড়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে, কারণ বত্রিশ বছর পর আদালত বলেছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত মানুষটির বিরুদ্ধে সব প্রমাণই ছিল সারকামস্ট্যানশিয়াল। ফলে নতুন করে খুলেছে সেই হত্যারহস্যের ফাইল। নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে 'সর্বনাশিনী' কাণ্ডের পর সি.আই.ডি-র কোহিনূর হয়ে ওঠা অফিসারকেই। অধিরাজ ব্যানার্জি! তদন্ত শুরু করতেই বেশ কয়েকটা ঘটনা ঘটল। জানা গেল, খুনের আগে প্রতিটি ভিক্টিমকেই ধর্ষণ করা হয়েছিল। জানা গেল, ভিক্টিমদের বাড়িতে বা আশেপাশে কাউন্টডাউনের মতো করে সংখ্যা লেখা হত, যা শূন্যে পৌঁছোলেই ঘটত মৃত্যু। দেখা গেল, অধিরাজের বাড়ির সামনেই নিজের পরের শিকারকে খুঁজে নিয়েছে খুনি। শুরু হল এক ভয়াল কাউন্টডাউন - যার শেষে বাঁচতে পারে শুধু একজন~ অধিরাজ, নয়তো খুনি!
সায়ন্তনী পূততুণ্ড'র সৃষ্ট রহস্যভেদী অধিরাজকে আমরা এই ক'বছরে অনেকটাই চিনেছি। আমরা জানি যে সে অসম্ভব সুদর্শন, প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী, শারীরিকভাবে সুপারফিট ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এই 'গুণগুলো' যে তাকে এক বিশেষ ধরনের সাইকোপ্যাথের কাছে পরম আকর্ষণীয় শিকার করে তুলতে পারে, সেটা কি কখনও আমাদের মনে হয়েছে? অদ্ভুত এক আঁধারে আমাদের স্বাগত জানিয়েছে এই উপন্যাস, যেখানে শিকারিই শিকার! গল্পের প্লট এবং লেখার গুণে তা আমাকে ছুটিয়ে নিয়ে গেছে শেষ অবধি। কিন্তু... প্রথমত, যত্রতত্র হিউমার গুঁজতে গিয়ে গল্পের রসভঙ্গ ঘটানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, খুনিকে আমরা চিনতে পেরেছি বইয়ের মাঝামাঝি জায়গায় পৌঁছোবার আগেই। তৃতীয়ত, সায়ন্তনী'র প্রতিটি লেখার মতো এতেও অপরাধীর মনস্তত্ত্বকে বোঝানোর তাগিদে ব্যাকস্টোরি এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে বালতি-বালতি আবেগ ঢালা হয়েছে। আবেগের ট্যাংকই খালি করে দেওয়া হয়েছে অধিরাজের সঙ্গে তার টিমের সদস্যদের ঘনিষ্ঠতা বোঝাতে। এত আবেগে যাবতীয় রহস্য আর সাসপেন্স হড়কে গল্পের বাইরে চলে গেছে। চতুর্থত, আমরা জানি যে অধিরাজ এবং তার যাবতীয় কাহিনিই লার্জার দ্যান লাইফ। কিন্তু এই উপন্যাসে সংলাপের নাটকীয়তা মাঝেমধ্যেই আমাকে চমকে দিয়েছে। ইনফ্যাক্ট আমি ভেবেছি, এখনই 'শ্রীময়ী' বা 'কে আপন কে পর'-এর সাউন্ড এফেক্ট ভেসে আসবে পেছন থেকে।
অথচ গল্পটা ভালো ছিল। বাংলা সাহিত্যে প্রায় অনালোচিত, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সযত্নে এড়িয়ে যাওয়া এই বিষয়টি নিয়ে লেখার জন্য যে কতখানি সাহস ও আত্মবিশ্বাস লাগে, তাও সহজেই অনুমেয়। এমন একটা গল্পকে অকারণ আবেগ আর সংলাপ ছেঁটে, শেষের বলিউডকেও লজ্জা দেওয়া ক্লাইম্যাক্স এড়িয়ে পেশ করলে আজকের পাঠক অন্ধকারের নতুন রূপ দেখতে পেতেন। তার বদলে এটা একটা পথভ্রষ্ট সামাজিক উপন্যাস হয়েই থেমে গেল। তবু, গল্পের ওই ব্যতিক্রমী প্রকৃতি আর লেখার নির্ভার ভাবের জন্যই এটিকে একবার পড়তে বলব।
বত্রিশ বছর আগের সিরিয়াল কিলিং এর ঘটনা, একই দিনে ৫ জনকে খুন করে ডাম্প করা হয় পুলিশ স্টেশনের সামনে। এদেরকে খুন করা হয়েছে একই স্টাইলে- হাতপায়ের শিরা ধমনী সব কেটে ফেলা হয়েছে, দেন দে ওয়্যার রেপড অবশেষে তাদের মাথা কেটে নেয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে এরা সবাই পুরুষ এবং পরবর্তীতে এই খুনগুলোর কেস নিয়ে কাজ করা চারজন তদন্তকারী অফিসারের কপালেও এমন পরিণতি জুটেছে। শেষের অফিসার অবশ্য মরতে মরতে একজনকে সামনে দাঁড় করিয়ে যান এবং তার যাবজ্জীবন জেল হয়ে যায়। এই হচ্ছে কাহিনী। এত বছর পরে কেসটা রিওপেন হচ্ছে সিআইডির উপরমহলের কর্মকর্তা শিশির সেনের বদৌলতে কেননা কিলারের লাস্ট ভিক্টিম অফিসারটি ছিলেন মিস্টার সেনের বস। কেস রিওপেন হচ্ছে অধিরাজদের উপর ভরসা করে, অতএব যাত্রা শুরু...
এগেইন আ পারফেক্ট ভিলেন উইথ এওয়ার্ড উইনিং ড্রামা কুইন্স! (উপ্স! গোয়েন্দাস) লেখিকা ভদ্রমহিলার বোধহয় বলিউড আর ড্রামা নিয়ে বেশ ভাল রকমের অবসেশন আছে :/ নাইলে এমন চমৎকার প্লটের এমন নাস্তানাবুদ অবস্থা হয়! ধৈর্য ধরে পড়তে পারলে একটা টান টান উত্তেজনাপূর্ণ থ্রিলার পাঠকের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে।
অনেকদিন পরে এক নিঃশ্বাসে পুরো একটা বই শেষ করলাম। থিমটা তো খুবই ব্রিলিয়ান্ট, লেখিকা লিখেছেনও বেশ ভালো। কিছু কিছু জায়গায় তো রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। উপন্যাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো ভিলেনের চরিত্রটা খুবই ভয়জাগানিয়া, শক্তিমান, বুদ্ধিমান এবং চরিত্রটায় নানা শেড আছে। এই চরিত্রটা আমাকে অনেকদিন হন্ট করবে।
দুর্বল দিকঃ ডাঃ চ্যাটার্জী আর আহলিকে পারলে লাথি মেরে উপন্যাস থেকে বিদায় করতাম। খুবই বোর হয়েছি এদের কার্যকলাপে। আবার অর্ণব তার স্যারের প্রেমের সেটিং করছে এইটাও অবাস্তব লেগেছে। কিছু কিছু রঙ্গ রসিকতা রীতিমতো ধৈর্য্যের পরীক্ষা নেয়। এসব আলগা চটুল অপ্রাসঙ্গিক চপলতা না থাকলেও কোন সমস্যা হতো না কারন কাহিনীর জটিলতা এমনিতেই পাঠকদের ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট। এজন্য পাঁচ তারা দিতে পারলাম না। তবে অনায়াশেই চার তারা দেয়া যায়।
গল্পটা সকলেরই জানা এবং অনেকেই এর রিভিউ করেছেন৷ তাই স্পয়লার দেব না। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি যারা থ্রিলার কেন সাহিত্য নয়, থ্রিলার কেন ওয়ান টাইম রিড বলে অভিযোগ করেন, তাঁদের এই বইটি অবশ্যই পাঠ্য। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে আবেগের বাড়াবাড়ি। কিন্তু আমার আবার ওই আবেগটাই দুরন্ত লেগেছে। কারণ ওই আবেগ, মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনা, একটা দুরন্ত যন্ত্রণা, ক্ষোভ, রাগ, ভেঙে পড়া--এগুলোই থ্রিলারের সমস্ত বাধা ভেঙে উপন্যাসটিকে সাহিত্য করেছে। আর অধিরাজ সম্ভবত এই গল্পেই সবচেয়ে মানবিক। সুপারম্যান নয়।
যারা শুষ্কং কাষ্ঠং থ্রিলার ভালোবাসেন, ধরা বাঁ্ধা গতের বাইরে গেল কেন, কেন, কেন প্রশ্ন তোলেন--তাঁরা দয়া করে এই থ্রিলারটিকে এড়িয়েই চলুন। কারণ এটি খুনী খুন করল আর গোয়েন্দা ধরল, এই গল্প একেবারেই নয়। থ্রিলারকে নিজের প্যারামিটারে যারা মাপেন, তাদের জন্য একেবারেই নয়। এটা সম্ভবত বাংলা থ্রিলার সাহিত্যে একটা নতুন মোচ, যা সাহিত্যপ্রেমীদের মাথায় ঢুকবে, কিন্তু আগামাথা থ্রিলারের ফ্যান, যারা অনুভূতির চেয়ে ধুমধাম অ্যাকশন আর সাসপেন্সের গল্প পছন্দ করেন, চরিত্র রস বোঝেন না, রস সাহিত্য বোঝেন না--তাদের জন্য অন্তত 'চুপি চুপিআসছে' বইটি নয়।
আর কেউ যদি আবেগবহির্ভূত শুষ্কং কাষ্ঠঙের বদলে সাহিত্য ভালোবাসেন, তাদের জন্য অবশ্য পাঠ��য। রেটিং ফাইভের কম দিতে পারলাম না। কারণ আমার মতে এটি সর্বনাশিনীকে তো ছাপিয়ে গেছেই উপরন্তু বাংলা থ্রিলার যে ওয়ান টাইম রিড নয়, তা ও প্রমা�� করেছে।
Five on five for the villain's characterization. What a creation, indeed. Of course, it had room for improvement; some cheesy dialogues could have been cut off, but the characters won me over. I even understood who was the main culprit at around 60%, yet it didn't matter. A great antagonist makes a story powerful enough to be remembered for a long. And I will remember this one for a long.
The author became my new favorite in the thriller genre just like that.
এই উপন্যাসেও মেলোড্রামা আর ন্যাকামি কিছু আছে, কিন্তু 'সর্বানাশিনী'-র চেয়ে অনেক কম। গল্পও টানটান, শেষ পর্যন্ত টেনে রাখে। সেরকম কোন গোঁজামিলও নেই। সব মিলিয়ে, থ্রিলারপ্রেমীদের ভাল লাগার মত, এবং অবশ্যই আজকাল দুই বাংলায় থ্রিলারের নামে সেসব বস্তাপচা গোঁজামিলে ভরা জিনিস চলছে তারচেয়ে অনেক ভাল। তবে দু'টো বইতেই দেখলাম চেহারা, সৌন্দর্য এসব নিয়েই কারবার, লেখিকার এই অবসেশনের কারণটা কি?
3.5 কয়েকটা জায়গা নব্বইয়ের দশকের হিন্দি সিনেমাকেও হার মানায়। ঐসব জিনিস লেখিকা না রাখলেও পারতেন, এই দু'হাজার বিশ/একুশে সে সব হজম করতে হালকা ঝামেলা হয়। ভালো, বেশ ভালো। চমৎকৃত হইয়াছি।
(যাই হোক, পিপড়াগুলো চিঠিটি নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে এসেছে তো? না খাদ্যের লোভে নগরে বসেই আড্ডা মারছে? সেটা হলে আমার ভীষণ সমস্যা হয়ে যাবে কিন্তু)
বইয়ের হিউমারগুলো এমন বস্তাপঁচা কী বলব! থ্রিল ভালোই, একটু গা ছমছমেই লাগে। কিন্তু ডায়ালগ, হিউমার এর চেষ্টাগুলোর পুনরাবৃত্তি আর অধিরাজের অতিমানবীয়করণ এর সাথে বিরক্তিকরভাবে লেডি অফিসারদের পদবী ভুলে যাওয়া, এগুলো খুবই ফালতু।
বইএর প্রচ্ছদ এতটাই ফালতু যে শত বইএর মধ্যে এর দিকে নজরই যায় না,পড়ার ইচ্ছাও ছিল না,প্রচ্ছদটা অবশ্যই পাল্টানো উচিত। "সর্বনাশিনী" পড়ে মুগ্ধ হয়েই অধিরাজের নেক্সট বই "চুপি চুপি আসছে" শুরু করি। এই বইটায় অতিরিক্ত ভায়োলেন্স দেখানো হয়েছে, যা রীতিমতো শিউড়ে ওঠার মতো, কিশোরদের এই বই এড়িয়ে যাওয়াই উচিত। সচরাচর এটা আমি করিনা, তবে কৌতূহল ধরে রাখতে পারছিলাম না, শেষটা কি হবে সেটা জানার জন্য আগে ভাগেই লাস্ট পৃষ্ঠা পড়ে ফেলি,ভীষণ চিন্তা হচ্ছিল অধিরাজের জন্য তাই আরকি...। অধিরাজ ও তার টিম দুর্দান্ত ঠিক আগের মতোই, তবে অধিরাজ ব্যানার্জি সেরা। হ্যান্ডসাম অধিরাজের রূপ ও ব্যক্তিত্বে সবাই ফিদা, নারী থেকে পুরুষ সবাই। আর ওদের ফাজলামি হাসতে বাধ্য করবেই😄।
কাহিনী কখনও ধীরে কখনও দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। #সর্বনাশিনীর সাথে তুলনা করলে এই কাহিনী তার সমান হয়নি। তবে কেউ যদি সর্বনাশিনী পড়ার আগে এই বই পড়ে, তার কাছে খুব ভালো লাগবে। সর্বনাশিনী পড়ে আমার এক্সপেকটেশন একটু হাই হয়ে গেছিলো তাই হয়তো ঠিক ওরকম তৃপ্তি পাইনি এই উপন্যাসটা পড়ে। তবে প্লট ও লেখার টানে পাঠক বইটা শেষ করতে বাধ্য হবেন,কাহিনী ট্রপিক আজকের দিনের খুবই সিরিয়াস একটা ব্যাপার, পড়লেই বুঝতে পারবেন।আর শেষে এমন টুইস্ট আছে যে হতবাক হয়ে যেতে হয়। গে' সম্পর্কিত কোনো উপন্যাস এই প্রথম পড়লাম, শেষমেষ বলবো পড়ে ভালোই লেগেছে।
ভয়ংকর এক সিরিয়াল কিলার। ৩২ বছর আগে ৯ জনকে হত্যা করে ক্ষ্যান্ত দেয় এই কিলার। ৩২ বছর পরে আবার সেই কেস হিমাগার থেকে বের করে পুলিসের হোমিসাইডের ডিপার্টমেন্টের তুখোড় অফিসার অধিরাজ ব্যানার্জির হাতে দেয়া হয়। সমস্যা হচ্ছে এ কিলার খুন করে তদন্তকারী অফিসারকে। বাকিটা বই পড়ে জেনে নেবেন।
লেখিকার প্রথম বই পড়লাম। লেখা ভাল। গতি আছে। কিছু কিছু ডায়লগ সস্তা লেগেছে। পুলিস অফিসার মানসিকভাবে এত দুর্বল হয়না বলেই জানতাম। কিন্তু অধিরাজকে কেমন ভালনারেবল মনে হল। তদন্তকারী অফিসারকে হত্যা করাসহ আরো কিছু কন্সেপ্ট দ্যা পোয়েট বইটার সাথে মিল পেয়েছি। কিন্তু এগুলাকে আমি নকল বলতে নারাজ। সব মিলিয়ে ভাল টাইমপাস।
প্রথমেই বলি আমি এর আগে অধিরাজ সিরিজের একটিও বই পড়িনি, তবে লেখিকার অন্য বই পড়েছি যেমন 'ছায়াগ্রহ' ও 'শিশমহল' এবং বলা বাহুল্য দুটোই আমার বেশ ভালো লেগেছিল, প্রতিক্রিয়াও এই গ্রূপে লিখেছিলাম। তাই লেখনশৈলী থেকে এটুকু পরিষ্কার জানতাম যে উনি ঠিক বইয়ের শেষ পৃষ্ঠা না শেষ করা অবধি বই ছেড়ে উঠতে দেবেন না, আদতে হলও তাই। রীতিমত রাত জেগে, সকালে সব কাজ ফেলে শেষ করতে বাধ্য করালেন বইটা। যেহেতু অধিরাজ যে নিয়ে আমার কোনো ধারণা ছিল না, বাকি বইগুলো পড়িও নি, সেহেতু লেখিকা যেভাবে অধিরাজ কে গড়ে তুলেছেন তা বেশ মন জয় করেছে আমার। যেমন ধরুন, প্রথম বেশ খানিক পাতায় তাকে এমন ভাবে বর্ণনা করেছেন লেখিকা যে মনে হবে তার চেয়ে দেখতে ভালো বা বুদ্ধিতে ভালো আর কেউ নেই এই পৃথিবীতে আবার কিছু পাতা পরেই দেখা যাচ্ছে সেই মানুষই অপরাধীর হাতে বেমালুম হারছে, একের পর এক অপরাধীর পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে, বাচ্চার মতো কাঁদছে, ভেঙে পড়ছে, নিজেকে মেরে ফেলারও চেষ্টা করছে...... ঠিক এইখানেই অধিরাজ আমার প্রিয় গোয়েন্দা হয়ে দাঁড়ায়। কেন? কারণ সে যেমন বুদ্ধিদীপ্ত, শক্তিশালী সুপুরুষ তেমনই সে একজন সাধারণ মানুষও বটে যে মাঝে মধ্যেই এমন ভয়ঙ্কর অপরাধীর চাল চলন, প্ল্যানিং ধরতে পারে না, সেটা নিজে স্বীকারও করে, নিজেও সাধারণ মানুষের মতো ভিক্টিম হয় এবং সেই ক্ষতর কারণে সেও সাধারণ মানুষের মতোই ভেঙে পড়ে। গোয়েন্দা হলেই সর্বত্র দেখেছি তাদের একটা সুপারহিউম্যান গোছের তৈরী করবার টেনডেন্সি আছে, তারা অতিরিক্ত বুদ্ধিমান হবেন, একেবারেই অপরাধীর ট্র্যাপে পা দেবেন না, অপরাধী ডালে ডালে চললে উনি পাতায় পাতায় চলবেন, ভাঙবেন তো একেবারেই না, কাঁদার তো প্রশ্নই ওঠে না, যেন গোয়েন্দা মানেই তিনি সাধারণ মানুষের মতো নন। এই ক্ষেত্রে আমি লেখিকাকে দশ এ দশ দেবো অধিরাজ কে এতটা বাস্তবিক বানানোর জন্য, বেসিক্যালি সেও যে সাধারণ মানুষই, তারও যে ভুল হয় এটা দেখানোর জন্য, তা বলে এরকম ভাববেন না যে লেখিকা অধিরাজ কে একেবারে অগা বগা জগা মার্কা বানিয়েছেন, তার পজিটিভ পয়েন্টসও যথেষ্ট আছে।
অধিরাজের পুরো টিম সেট আপ টা সোনি চ্যানেলে একসময় হওয়া সি.আই.ডি এর সাথে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন ধরুন অধিরাজকে অনেকটা Avijeet মার্কা লেগেছে শুধু পার্থক্যটা হল Avijeet নিজেই Tariqa এর পেছনে পাগল ছিলেন ওই CID তে, আর এখানে অধিরাজ কিছু বোঝে না শুধু মিস. মুখার্জির স্পেশ্যাল ফিলিংস আছে তার উপর। তারপর Dr Salukhe এর সাথে ডঃ চ্যাটার্জী এর বেশ মিল পাওয়া যায়। দুঃখ শুধু একটাই কোনো Daya আর Pradyuman কে পেলাম না গল্পে (যদিও ভেবেছিলাম অন���র্বাণ কে বেশ Daya এর জায়গায় বসিয়ে দেবো তা ব্যাটা একটা দরজা ভাঙতে যা সময় নিল, অসম্ভব) যদিও শিশির সেন অন্য বইগুলো তে Pradyuman হওয়ার চেষ্টা করেছেন কিনা জানা নেই।
কেসটা আমার অসম্ভব ভালো লেগেছে, কারণ একদিকে যেমন কাঁটায় কাঁটায় উত্তেজনায় মনে প্রাণে চাইছি এই নৃশংস অপরাধী ধরা পড়ুক তেমনই অন্যদিকে স্বয়ং অপরাধীর জন্যই কষ্ট হচ্ছে বেশ। এ এক অদ্ভূত দোলাচল। Criminals are not born, Criminals are made। এই যে আমাদের সমা�� একটা বাচ্চার পুরো শৈশবটা, পুরো জীবনটা এক এক করে নষ্ট করে দিয়ে তাকে এমন জায়গায় নিয়ে গেল যেখানে সে নিজেই ভুলে যায় দেবতা আর রাক্ষসের মধ্যে পার্থক্য কি, সেই সমাজের কোনো শাস্তি হয় না কেন? গল্পের হিসেবে, কর্মের হিসেবে হয়তো আমাদের অপরাধী যা করেছে ভুল করেছে, কিন্তু তাকে মানসিকভাবে ও শারীরিক ভাবে এই জায়গা পর্যন্ত নিয়ে আসার জন্য যারা দায়ী তারা ভুল নয়? সবকিছুর পরেও আদৌ কি সে ভুল, নাকি এই সমগ্র সমাজটাই একটা আস্ত ভুল? এইসব প্রশ্ন ধাক্কা খাচ্ছে আমার মাথায়, আপনারও খাবে নিশ্চয়ই বইটি শেষ হলে। আসলে ভাবনা জিনিসটা বেশ ভালো, তাই এই বই যে এরকমভাবে ভাবতে শেখায় থ্রিলারের আঙ্গিকে তা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রশংসনীয়। সবচেয়ে বড় কথা, যখন অপরাধীর নাম জানা গেল, তখন আমার মুখের হাঁ টা দেখার মতো ছিল। ভাবতেই পারিনি এটা হবে।
আলাদা করে যে জিনিসটা নিয়ে না লিখলেই নয় তা হল ছেলেদের সেক্সুয়াল অ্যাবিউস, মলেস্টেশন ও রেপ যে হয় এবং এই বিষয়টা উড়িয়ে দেওয়ার যে একটা প্রবণতা সমাজের আছে সেটা নিয়ে যেভাবে এই বইটি কথা বলেছে, নিজের বক্তব্য রেখেছে তা অনেক মানুষকে হয়তো এই বিষয়টি দ্বিতীয়বার মজার ছলে উড়িয়ে দেওয়ার আগে ভাবাবে। রেপ, মলেস্টেশন, সেক্সুয়াল অ্যাবিউস এগুলোর যে কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গ হয় না সেটা হয়তো বুঝবে অনেকেই।
অনির্বাণ ও অধিরাজের কেমিস্ট্রি নিয়ে আমি অবগত নই, তবে এই বইতে যা দেখলাম এরপর যদি আগামী বইগুলির কোনো একটিতে এরা দুজন সত্যিকারের বাস্তবে (ডঃ চ্যাটার্জী এর মশকরায় নয়) couple হয়ে যায় তাহলে অবাক হবো না। লেখিকা বেশ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে bromance ব্যপারটা লিখেছেন কিন্তু এতটাই খুঁটিয়ে যে এরপর এদের দুজনকে শুধুই স্যার আর অ্যাসিস্টেন্ট মানতে কষ্ট হয়।
বইটার নেগেটিভ পয়েন্টস কি? জানি না, আদৌ এটা নেগেটিভ কিনা জানি না। তবে এই বই পড়ে যদি কেউ সমকামী মানুষদের সম্পর্কে অপরাধীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে কোনো টিপিক্যাল ধারণা রাখেন সেটা হয়তো বইটার সবচেয়ে বড় সেট ব্যাক হবে। কারণ প্রথম কথা হল, অপরাধীর আসল পরিচয় সে মানসিকভাবে বিকৃত, তার সমকামীতা তার দ্বিতীয় পরিচয়, প্রথম নয়। তবে হ্যাঁ সেও সাধারণ একটা বাচ্চাই ছিল যাকে মানকসিকভাবে বিকৃত করে তুলেছিল তার নিজেরই পরিবার, সমাজের সভ্য মানুষেরা। আশা করি প্রত্যেকটা দিক ভেবে দেখবে সবাই।
শেষে বলব, শেষের এনকাউন্টারটা বেশ ড্রামাটিক কিন্তু তাও মেনে নিতে অসুবিধা হয়না তার কারণ হল লেখিকার অধিরাজকে বাস্তবিক আকারে আগে তুলে ধরাটা। মোটামুটি লোম টোম খাঁড়া হয়ে একশা কাণ্ড হয় ওই দৃশ্যে যতই ড্রামাটিক হোক। অন্তত দুই থেকে তিনবার ওই জায়গাটা পড়েছি। এরকম যদি টানটান ব্যাপার হয় তাহলে বাকি বইগুলোও আমি এক্ষুণি শেষ করে ফেলতে চাই।
This entire review has been hidden because of spoilers.
বত্রিশ বছর আগের এক সিরিয়াল কিলার হঠাৎই ফিরে এসেছে তার বীভৎস নৃশংস মোডাস অপারেন্ডি নিয়ে। সে তার স্বভাবসিদ্ধ ঢংয়ে গোয়েন্দা অধিরাজকে ছুঁড়ে দিয়েছে কাউন্টডাউনের চ্যালেঞ্জ। এবার অধিরাজ নিজেই সেই নৃশংস হত্যাকারীর লক্ষ! পারবে কি সে নিজের প্রাণ বা সম্মান বাঁচাতে?
সত্যি সত্যিই একটানে শেষ করতে হয় এই উপন্যাস। টম অ্যান্ড জেরি, জনসন'স কোল্ড ক্রিম, রাবণের গোঁফ, প্যানকিউরোনিয়াম, ডিল-ডল...উফ কি নেই এই উপন্যাসে! একেবারে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ সার্থক থ্রিলার। একবার বইটা ধরলে কে খুনী তা না জেনে পাঠকের নিস্তার নেই। এর আগেও অধিরাজ সিরিজের কিছু কিছু গল্প-উপন্যাস পড়েছি, সেই অর্থে নিজেকে ঠিক 'অধিরাজ-ভক্ত' মনে করিনা। ঠিক সেই কারণেই আমার মনে কিছু প্রশ্ন এসেছে এই বইটি পড়ে। এই প্রশ্নের জবাবের মধ্যেই নিহিত আছে পড়তে ভালো লাগলেও আমি কেন এখনো অধিরাজ ফ্যান হয়ে পড়িনি। একে একে রাখি প্রশ্নগুলো।
আমার মনে হয় বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা অধিরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমতুল চরিত্র আর একটি মাত্রই আছে, সে হলো জটায়ুর সৃষ্ট প্রখর রুদ্র! অধিরাজকে আমার গোয়েন্দা কম, সুপারহিরো বেশি মনে হয়! বাংলা সাহিত্যে সর্বগুণসম্পন্ন গোয়েন্দাচরিত্র কম নেই, কিন্তু অধিরাজকে সব বিষয়ে বড্ড বেশি অতি মানবিক মনে হয়৷ লেখিকা যে প্যানকিউরোনিয়ামের কথা বলেছেন, নিজে ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সে ওষুধ দেওয়ার পর, তৎক্ষণাৎ কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের বন্দোবস্ত না করলে যে কেউ খুব অল্পক্ষণেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়বে! তার কারণ, যে মাসল-রিল্যাক্স্যান্ট ওষুধ মানুষকে প্যারালাইজড করে দেয়, সেই ওষুধ তার শ্বাস-প্রশ্বাসের মাসলও প্যারালাইজ করে, ফলে খুব শীঘ্র কৃত্রিম ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না করলে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী! এখানে অধিরাজের কিছুই হলো না! যে লেখিকা নানান বিষয় নিয়ে এতো পড়াশোনা করে এতো বিবিধ বিষয়ের অবতারণা করেছেন তিনি এটা না জেনে করেছেন বলে তো মনে হয়না!
যে লেখিকা আমার মতো ঘাঘু পাঠককে তার লেখনী দিয়ে শেষ অবধি আটকে রাখতে পারেন তিনি যে সত্যিই দরের তা নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই। তাহলে তাকে কেন কাহিনীর মধ্যে এতো বেশি মোটা দাগের এলিমেন্ট আনতে হয় এটা কিছুতেই মাথায় ঢোকে না! অধিরাজ সিরিজের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বয়স্ক ডাক্তার চরিত্রটির কমিক রিলিফ ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা আমি জানিনা, কিন্তু তার সাথে যেসব অত্যন্ত বালখিল্যসুলভ ভাঁড়ামোগুলো করা হয় সেটার জন্যে পড়ার গতি ভালোরকম বাধা পায় বলেই আমার মনে হয়েছে। আর একাধিক অপ্রয়োজনীয় নারী চরিত্রের কথা বাদই দিলাম। বেশ কিছু পোটেনশিয়াল লাভ-অ্যাঙ্গেল নানাভাবে কাহিনীতে এসেছে সেগুলো হয়তো পরে আরও এক্সপ্লোরড হবে, আমার তো রীতিমতো বিরক্তিকরই লেগেছে!
কিছু কিছু যুক্তিগত ভ্রান্তি আছে কাহিনীতে, অতি সচেতন পাঠকের চোখ এড়াবে না। কিন্তু মোটের ওপর উপন্যাসটি দিব্যি, একটানে শেষ করে ফেলার মতোই, বেশ ভালো জাতের থ্রিলার। কিন্তু দুঃখিত, অধিরাজের ফ্যান হতে পারলাম না।
রেটিং আসলে ৩.৫/৫, এখানে তো আবার হাফ দেওয়া যায়না!
This entire review has been hidden because of spoilers.
প্রথমেই বেশ কিছু নেগেটিভ রিভিউ পড়ে অবাক হলাম। সার্থক উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য হল চরিত্রগুলোকে ডিফাইন করা। সেখানে আবেগ থাকবেই কারণ আবেগে আমাদের সবার আছে। কিন্তু থ্রিলারে আবেগ থাকবে না, এ নিয়ম কবে থেকে চালু হল! সাহিত্য মাত্রেই আবেগ ও অনুভূতির প্রকাশ। তবে কি থ্রিলার সাহিত্য নয়?
যাই হোক, আমার প্রতিক্রিয়া বলি। আমার নিজের কোথাও কোন অতিরিক্ত আবেগ মনে হয়নি। সংলাপেও কোনও নাটকীয়তা নেই। এর থেকে অনেক বেশি নাটকীয় সংলাপ আগাথা ক্রিস্টির লেখায় পাওয়া যায়। কিন্তু যেহেতু তিনি 'আগাথা ক্রিস্টি' তাই তাঁরটা শিল্প। বাকি বকওয়াস ও মেলোড্রামা!
আমার ব্যক্তিগত ভাবে এই আবেগটাই ভীষণ ভালো লেগেছে। আন্তরিক লেগেছে। থ্রিলার এতদিন একখানা হাঁড়িমুখের মুখোশ পরে বসেছিল যা সবসময় ধরি মাছ না ছুঁই পানির মত গল্প বলব কিন্তু সাহিত্য হব না গোছের। অন্তত সর্বনাশিনী এবং চুপিচুপি আসছের দৌলতে সেই হাঁড়িমুখের মুখোশ খুলল। থ্রিলার আর সেই ডাকসাইটে ইংরেজের মত মেকানিকাল না হয়ে মানুষের হাত ধরল। এর জন্য লেখককে অভিনন্দন।
থ্রিলার মানেই যদি কাঠখোট্টা চোর সিপাইয়ের খেলা হয়, তবে এই উপন্যাসটি থ্রিলার নয়। থ্রিলারের চেয়েও বড় কিছু। যেখানে যন্ত্রণা আছে, কান্না আছে, হিংস্রতা আছে। সেগ��লো যদি কেউ মেগাসিরিয়াল না মনে করেন তবে এটা একটা মাস্ট রিড।
ফাইভ স্টার দিতে বাধ্য হলাম। কারণ থ্রিলারের মোড়, গুণ ও সৌন্দর্য এই উপন্যাস বাড়িয়েছে নিঃসন্দেহে।
অধিরাজ অ্যাডল্ট সিরিজের দ্বিতীয় কাহিনী ‘চুপি চুপি আসছে’। আগের বছরের এই সিরিজের প্রথম কাহিনী সর্বনাশিনী পড়ার পর আমাদের অনেকেরই প্রত্যাশার পারদটা অনেক উপরে উঠে গেছিল, আর হয়ত সেই জন্যই ‘চুপি চুপি আসছে’ পড়তে শুরু করার আগে কয়েক মুহূর্তের জন্য বইটা হাতে নিয়ে চুপ করে বসেছিলাম, যদি সর্বনাশিনীর ভাল লাগাটুকু ফিরে না পাই, যদি সেই প্রত্যাশার সীমারেখা ছুঁতে না পারে সায়ন্তনী দির অধিরাজ সিরিজের এই পরবর্তী সৃষ্টি।…
ধীরে ধীরে পা রাখলাম সেই চেনা চরিত্রদের দিয়ে গড়া এই নতুন কাহিনীর পটভূমিতে।
‘চুপি চুপি আসছে’ সেখান থেকেই শুরু হচ্ছে, যেখানে শেষ হয়েছিল সর্বনাশিনী।
সর্বনাশিনীর শেষেই লেখক হিন্টস দিয়েছিলেন রি-ওপেন হতে চলেছে বত্রিশ বছর আগের কোন মাস মার্ডারের কেস!
কিন্তু সে কেস যে কতটা ভয়ংকর, কতটা নৃশংস হতে পারে, সে আন্দাজ ভুলেও করা যায়নি।
বত্রিশ বছর আগে কলকাতার বুকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এক ভয়ংকর মৃত্যু যজ্ঞ।
১৯৮৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বরের রাতে ঠিক একটা থেকে চারটে এই মাত্র তিন ঘন্টার মধ্যে শহরের পাঁচটি বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনের সামনে ডাম্প করা হয় পাঁচজন পুরুষের লাশ ।
ছিন্ন ভিন্ন বীভৎস পাঁচটি শবদেহ!
যেন কোন ভয়ংকর হিংস্র দানব নির্মম হাতে ছিঁড়ে খুঁড়ে খেয়েছিল সেই পাঁচ দুর্ভাগা মানুষের শরীর।
আর তার থেকেও ভয়ংকর, এই পাঁচটি মৃতদেহই মুণ্ডহীন।
খুনী নিপুণ হাতে তাদের মাথা কেটে নিয়ে বসিয়ে দিয়েছে একটা করে মাটির হাঁড়ি।
আর তার উপর রক্ত দিয়ে লেখা ‘গেস হু?’
এই ভয়ংকর, বীভৎস, পাশবিক রসিকতায় স্তব্ধ হয়ে গেছিল তৎকালীন মহানগরী।
কিন্তু এখানেই শেষ ছিলনা মহানগরীর বিস্মিত হওয়ার পালা।
এরপর ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট যখন তাদের রিপোর্ট পেশ করল, তখন নতুন করে আরো একবার ভয়ে আতঙ্কে শিউরে উঠলো কলকাতা।
কি অমানুষিক নির্যাতন দিয়ে এই প্রতিটি হতভাগ্যকে খুন করেছে সেই অজ্ঞাতপরিচয় খুনী!
ভিকটিমদের মাথা কেটে আদৌ খুন করা হয়নি তাদের, বরং একটু একটু করে অমানুষিক যন্ত্রনা সহ্য করে তারপর মরতে হয়েছে তাদের এক-একজনকে।
খুনী নিপুণ হাতে তাদের শরীরের এক একটা করে আর্টারি কেটেছে। আর তারপর রক্তক্ষরণের জন্য যখন তারা মৃত্যুর মুখে, তখন তাদের সঙ্গে পেরিমর্টেম আনন্যাচারাল সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলতে গেলে রেপ করা হয়েছে।
এবং মৃত্যুর পরেই তাদের মুণ্ডচ্ছেদ করা হয় সার্জিক্যাল স দিয়ে।
পুলিশ বিস্ময়ে, আতঙ্কে সাময়িক ভাবে হতবাক হয়ে গেলেও তড়িঘড়ি করে লাগল হত্যাকারীকে খুঁজে বার করতে।
কিন্তু খুনীর রসিকতার আমেজ বোধহয় তখনও শেষ হয়নি, বরং সে বোধহয় মুখ টিপে হেসে অপেক্ষা করছিল প্রশাসনের পদক্ষেপের।
খুব তাড়াতাড়ি তার পরবর্তী রসিকতার নমুনা সামনে এলো শহরবাসীর।
যে পুলিশ অফিসার এই ইনভেস্টিগেশনের দায়িত্বে ছিলেন তার মৃতদেহে একইভাবে পাওয়া গেল পুলিশ থানার বাইরে।
ফরেনসিক একই কথা হুবহু আউড়ে গেল, আর্টারি কেটে রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যু, পেরিমর্টেম আন ন্যাচারাল সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট এবং মৃত্যুর পর সার্জিক্যাল স দিয়ে মুণ্ডচ্ছেদ।
কেস এবার গেল সি আই ডির হাতে, সি আই ডির তৎকালীন শ্রেষ্ঠ অফিসারটির হাতে।
কিন্তু ভবি কিন্তু ভুললনা।
বরং কিছুদিনের মধ্যেই সেই একই বীভৎস ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে আবারও দেখা গেল।
সি আই ডির সেই হতভাগ্য অফিসারের মৃতদেহও এবার পাওয়া গেল একইভাবে কোন এক পুলিশ থানার বাইরে।
মাথার উপর সেই মাটির হাঁড়ি বসানো, রক্ত দিয়ে লেখা ‘গেস হু?’
পরের অফিসারের সাথেও ঘটল একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।
বিশেষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারও মুণ্ডহীন লাশ পাওয়া গেল ।
এবার ভয়ে কাঁপতে লাগল গোটা মহানগরী।
সাধারণ মানুষ তো ছার, স্বয়ং সি আই ডির কাছেও এক অভিশপ্ত অধ্যায় হয়ে রয়ে গেল এই ভয়ংকর কেস।
এর নাম শুনেও যেন এবার ভয়ে শিউরে উঠতে লাগল বাঘা বাঘা অফিসাররা।
আপাতত একে ধামা দেওয়াই উচিত মনে করলেন সি আই ডির বড়কর্তারা।
কিন্তু এবার স্ব-ইচ্ছায় মাঠে নামলেন সি আই ডির সবচেয়ে ডাকাবুকো অফিসার, ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ রথীন দাশগুপ্ত।
সরাসরি গিয়ে দরবার করলেন এই কেসের ভার তার উপর সঁপে দেওয়ার জন্য।
প্রথমে কিছুতেই তাকেও একই ভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে রাজী হননি সি আই ডির কর্তারা।
কিন্তু শেষ অব্দি তার জেদের সামনে হার মানতে বাধ্য হন তারা।
অসম সাহসের সাথে এই কেস নিয়ে এগিয়ে চললেন অফিসার দাশগুপ্ত এবং তার তৎকালীন বিশ্বস্ততম সঙ্গী অফিসার শিশির সেন।
অফিসার দাশগুপ্ত নাকি বেশ কিছু প্যাটার্ন আবিষ্কার করেছিলেন এই কেসের। অনেক দূর অগ্রসরও হয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু একদিন অফিসার দাশগুপ্তের লাশও ডাম্প করা হয় লালবাজারের সামনে।
যদিও এইবার অকুস্থল থেকে একটি মানুষকে গ্রেপ্তার করেন শিশির সেন।
বিচারে সেই ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
কিন্তু এই বত্রিশ বছর পর সেই কেস আবার রি-ওপেন হয়।
সেই ব্যক্তির ছেলে কেস হায়ার কোর্টে নিয়ে যায়, এবং জামিনে ছাড়া পান সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি।
এবার সেই কেসের দায়িত্ব বর্তমান এডিজি এবং তৎকালীন অফিসার দাশগুপ্তের বিশ্বস্ত সঙ্গী শিশির সেন প্রদান করেন অফিসার অধিরাজ ব্যানার্জীকে।
এরপর বলতে গেলে এক রুদ্ধশ্বাস গতিতে এগিয়ে চলেছে কাহিনী।
একদিকে যেমন অধিরাজকে প্রতি মুহূর্তে এগোতে হচ্ছে এক চূড়ান্ত অনিশ্চিয়তায় ঢাকা অন্ধকারের দিকে।
অন্যদিকে সেই অজানা সার্জিক্যাল স কিলারও প্রস্তুত হচ্ছে তার দশম শিকারটিকে হস্তগত করতে।
টম এণ্ড জেরীর যেন এক আধুনিক নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে এই সার্জিক্যাল স কিলারের কেস মঞ্চে।
যার মোদ্দা কথা শুধু একটাই ‘হয় মারো নয় মরো’।
হয় ধরে দেখাও আমায় নইলে হও আমার শিকার।
আর সেই মরণ খেলার হাত ধরে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে এই উপন্যাসের পাতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে এই নিষ্ঠুর খুনীর জটিল দুর্ভেদ্য মনস্তত্ত্ব।
কেন সে এত নির্মম, এত আগ্রাসী!
কেন একটি মানুষকে হয়ে উঠতে হয় শয়তানের অবতার?
সবটাই কি জন্ম থেকে? নাকি আমাদের এই সমাজ একটু একটু করে তাকে ঠেলে দেয় এক নিশ্চিদ্র অন্ধকারের পানে।
তার নিজের জবানিতেই বারবার উঠে আসে তার কাতরোক্তি!
সে তো কাউকে মারতে চায়নি, কাউকে আঘাত দিতে চায়নি।
শুধু একটু ভালবাসার কামনা করে গেছিল সে সারাটা জীবন।
কিন্তু তার পরিবর্তে কী পেয়েছে সে?
শুধু ঘৃণা, অত্যাচার আর অপমান!
শুধু এই কারণে যে প্রকৃতি তাকে সমকামী করে গড়েছে।
তবে কি অপরাধ তার যদি সে সেই প্রাপ্তিই সুদ সহ ফিরিয়ে দেয় এই সমাজকে?
আর তার সেই ভালবাসার বিকৃত রূপই জ্বলন্ত লাভার মতন এসে পড়তে চাইছে তার এই দশম শিকারের উপর।
অফিসার অধিরাজ ব্যানার্জী।
রূপে গুণে যে তার আগের সমস্ত শিকারের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
তার বিজয়ের শ্রেষ্ঠ ট্রফি তবে হয়ে উঠুক তার এই দশম শিকার।
হয়ত বা নিজের ইচ্ছাপূরণে সে সফলও হয়ে উঠত যদি না…
যদি না তার সামলে অলঙ্ঘ্য বাধা হয়ে দাঁড়াত অধিরাজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মানুষটি, তার ছায়া অর্ণব।
অর্ণব, অফিসার অর্ণব সরকার সেই ‘খ্যাপা খুঁজে ফেরে’ বা ‘সর্বনাশিনী’ কেসেই যাকে আমরা বারবার দেখেছি অধিরাজের ডান হাত হয়ে উঠতে, সেই মানুষটিই এই কেসে হয়ে উঠেছে অধিরাজের সব থেকে শক্তি।
তার বর্ম, তার কাছে এগিয়ে আসা যেকোন মৃত্যুবাণকে আটকানোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকা এক অলঙ্ঘ্য প্রাচীর!
অধ��রাজ অব্দি পৌছতে গেলে আগে অতিক্রম করতে হবে তার এই বিশ্বস্ততম সঙ্গীকে।
এডিজি শিশির সেনের কথা তুলেই বলি, অধিরাজ যদি এই কেসে শত্রুর বিরুদ্ধে তরবারী হয় অর্ণব তবে প্রতি আক্রমন আটকানোর জন্য বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাল।
সার্জিক্যাল স কিলারের ভয়ংকর তীব্র ভালবাসার মরণ কামড়কে ঠেকাতে আরেক কামনাহীন বন্ধুত্ব এবং শ্রদ্ধা ভালবাসার বর্ম হয়ে সে রক্ষা করে চলেছে তার প্রিয় স্যারকে।
দুর্নিবার গতিতে এরপর এগিয়ে চলেছে এই অদ্ভুত টম এণ্ড জেরীর গাথা।
কখন জেরী টমের সমস্ত প্রয়াস ব্যর্থ করে খিলখিল করে হেসে উঠছে আপন কৌতুকে।
আর কখন সেই জেরীর পিছু ধাওয়া করে টম পৌছে যাচ্ছে তার গোপন গর্তে।
কি হবে এই কেসের অন্তিম ফলাফল!
সত্যিই কি আসল সার্জিক্যাল কিলারকে ধরতে পারবে অধিরাজ?
আর অর্ণব, সে কী পারবে প্রাচীর হয়ে তার স্যারকে সমস্ত বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে?
আর তার থেকেও বড় প্রশ্ন কে ছিল সেই কিলার?
আর কেন তাকে নিতে হয়েছিল সেই দানবের মূর্তি।
না, উপন্যাসের বিষয়বস্তু নিয়ে যথেষ্ট জানিয়েছি।
আর স্পয়েলার দেবনা।
শুধু এইটুকু বলি এই উপন্যাস পড়তে শুরু করার আগে যে অনিশ্চয়তা ভয় মনের মাঝে বাসা বেধেছিল, যে এই উপন্যাস সর্বনাশিনীকে ছুঁতে পারবে কিনা।
সেই ভয়টারই আর কোন অস্তিত্ব পড়ে নেই।
প্রথম থেকে শেষ অব্দি এই উপন্যাস বারবার শিরদাঁড়া দিয়ে আতংকের স্রোত নামিয়েছে! প্রতি মুহূর্তে মোচড় নিয়েছে কাহিনী।
আর যেভাবে এক জটিল মনস্তত্ত্ব নিপুণ হাতে এঁকেছেন লেখক তারপর সত্যি বলার মতন আর কিচ্ছু আলাদা করে পড়ে থাকেনা।
শুধুমাত্র থ্রিলারের সীমারেখায় না আটকে থেকে সমাজের এক জ্বলন্ত দিককে চোখে আংগুল তুলে দেখিয়েছেন তিনি!
এই বইটি পড়তে পড়তে কখন স্তব্ধ হয়ে যেতে হয়েছে তো কখন এক কনকনে ভয়ের স্রোত নেমেছে মেরুদণ্ড দিয়ে।
আর কখন বা সমাজের নোংরাতম রূপকে চোখের সামনে ফুটে উঠতে দেখে মনের ভেতর থেকে উঠে এসেছে শুধু একরাশ ঘেন্না।
কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যেও বইটি হাত থেকে নামিয়ে রাখতে পারিনি।
তাই একটা কথা আজ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, সর্বনাশিনীর পর যারা অধিরাজ সিরিজের এই নতুন বইটির মধ্যে দিয়ে আরো ভালভাবে চিনতে চান অধিরাজকে, তারা অন্তত হতাশ হবেননা।
আর সব শেষে বলি এই কেস অধিরাজের জীবনে কোন প্রাপ্তি বা শিরোপা হয়ে রইবেনা, সার্জিক্যাল স কিলার শুধু রয়ে যাবে অধিরাজ এবং তার পাঠকদের কাছে একটি মাত্র শব্দের আরেক নাম হয়ে।
লক ডাউনে শেষ করলাম এই দুর্দান্ত রহস্য উপন্যাস বই - চুপি চুপি আসছে লেখিকা - সায়ন্তনী পূততুণ্ড ঘরানা - ডিটেকটিভ / ক্রাইম সাইকো থ্রিলার
কাহিনী সংক্ষেপ:: - ৩২ বছর পূর্বে ১৯৮৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর কলকাতা শহরের বুকে ঘটেছিল রোমহর্ষক ঘটনা । ওই দিন গভীর রাতে মহানগরের পাঁচটি থানার সামনে কেউ ফেলে রেখে গিয়েছিলো পাঁচজন পুরুষের লাশ । আরও আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে কোনও লাশের মুণ্ড ছিলো না , তার বদলে মাথার জায়গাতে বসানো ছিলো একটি করে হাঁড়ি , যার উপরে রক্ত দিয়ে লেখা - " GUESS WHO ?" তদন্ত শুরু হলে দেখা গেলো - যারা খুন হয়েছে , তারা কেউ কাউকে চেনে না , কারোর সাথে কারোর কোনও মিল নেই । ১৫ দিন পর যেই মুহূর্তে পুলিশ নাজেহাল এই কেস নিয়ে , তখনই খুন হলেন কেসের তদন্তকারী অফিসার । হত্যার পদ্ধতি একই ভাবে শিরোচ্ছেদ , মাথায় হাঁড়ি , GUESS WHO ? এর পর একই ভাবে খুন হলেন আরও দুজন গোয়েন্দা অফিসার । যখন কেউই আর এই কেস নিতে রাজি নয় , তখন এঙ্কাউন্টার স্পেশালিস্ট রথীন দাশগুপ্ত স্বেচ্ছায় নিলেন এই সিরিয়াল কিলিং এর কেস । আদা জল খেয়ে মাঠে নামলেন । সাথে সহকারী শিশির সেন । রথীন দাশগুপ্ত অনুভব করতেন কেউ আড়ালে তাকে সর্বক্ষণ অনুসরণ করছে , নিভৃতে । রথীন ফাঁদ পাতেন এক রাতে , কিন্তু শেষমেশ সেই রাতেই তারও মাথাকাটা লাশ পাওয়া গেছিলো লালবাজারের পুলিশ হেড কোয়াটারের সামনে রাস্তায়, কিন্তু এবার শিশির একজন সন্দেহভাজনকে আটক করে ফেলেন । সারকামস্টেনশাল এভিডেন্সের ভিত্তিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ।
৩২ বছর পর সেই সন্দেহভাজনের ছেলে কেসটি রি-ওপেন করালো সুপ্রিম কোর্টে , সে বলে তার বাবা নির্দোষ । আর দেখা যায় সন্দেহভাজন প্যাথলজিকার লায়ার । এইবার এডিজি শিশির সেন কে বাধ্য হয়ে কেস রি ওপেন করতে হয় , তদন্তের ভার দেওয়া হয় CID HOMICIDE এর অফিসার অধিরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় কে । অধিরাজ ও সহকারী অর্ণব নেমে পড়ল মাঠে , কোনও লাশের মাথাই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি । অধিরাজের চোখে ধুলো দিয়ে কেউ তার বাড়ির সামনের রাস্তার পাগলটিকে রাতের আঁধারে কুপিয়ে হত্যা করে দিয়ে যায় । অধিরাজ বুঝে যায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হল। এদিকে অধিরাজের সামনে আছে সেই পুরানো সন্দেহভাজন , আদতে যে একজন প্যাথলজিকাল লায়ার । যে নিজের নাম পর্যন্ত মিথ্যে বলে । রথীন দাশগুপ্তের মতন অধিরাজও টের পায় কোনও অদৃশ্যের অস্বাভাবিক উপস্থিতি , কেউ যেন নীরবে লক্ষ্য রাখে । অধিরাজের বাড়িতে এসেও সবার অলক্ষ্যে কাউন্ট ডাউন নম্বর লিখে রেখে গেছে সে । অধিরাজের উপর বাড়তে থাকে স্নায়ুর চাপ । ধৈর্য হারিয়ে ফেলে মাঝে মাঝে ।
একটি সার্জিকাল স' নিয়ে সে চুপি চুপি আসছে । অধিরাজ কি পারবে তাকে থামাতে ??
প্রতিক্রিয়া - সায়ন্তনী পূততুন্ড(দি)কে আমি কখনো কখনো বাংলার আগাথা ক্রিস্টি বলি । প্রতিটি পৃষ্ঠায় থাকে থ্রিল । এই উপন্যাসে অধিরাজ ও রথীনকে সমগোত্রীয় বলা হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে । আর শিশির ও অর্ণবকেও । একটি অপরাধ দমনের টিম একটি পরিবারের মতন , কতটা রিস্ক নিয়ে তারা তদন্ত করে , সেগুলিও দেখানো হয়েছে । আর এই উপন্যাসে অধিরাজের সহকারী অর্ণবকে লেখিকা, সহকারী থেকে একজন প্রাণ দিতে পারা বন্ধু বানিয়েছেন যেটা খুবই ভালো লাগলো । জয়ন্তের সুন্দরবাবু , ফেলুদার জটায়ুর মতো অধিরাজের টাকলু কলিগ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা অসীম চট্টোপাধ্যায় ও তার সহকারী আহেলী সব সময়ে টিমের সাথে থাকে । উপন্যাসটি এককথায় UNPUTDOWNABLE । মাঝে মাঝেই চমক রয়েছে । তবে কোনও নিরীহের সাথে ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া কোনও অন্যায় পরবর্তীকালে মারাত্মক অপরাধ মনস্ক ব্যাক্তিত্বের জন্ম দেয় , এটাও লেখিকা সযত্নে দেখিয়েছেন । যারা ক্রাইম থ্রিলার বা হত্যারহস্য পছন্দ করে তারা পড়তেই পারেন উপন্যাসটি ।
ভিলেনের ক্যারেক্টারাইজেশনেএ জন্য বাহবা পাবে।কিন্তু অধিরাজ আর অর্নবের এই মাখো মাখো প্রেম প্রেমভাব ঠিক পছন্দ হলো না। বিশেষ করে নায়কের রুপ লাবন্যের এক মাখো মাখো বর্ণনা দেখে মনে হচ্ছিল লেখিকার মনের ফ্যান্টাসি পুরুষের সবকিছু একে দিয়েই পূরণ করাচ্ছেন। আর যে দুর্দান্ত গতিতে পুরো বইয়ের কাহিনী এগিয়েছিল শেষটা সে তুলনায় দুর্বল ছিল। যেন চলন্ত গাড়ি হুট করে ব্রেক কষে বন্ধ করে গেছে। কিন্তু এই ছোটখাটো বিষয় বাদ দিলে মানতেই হবে লেখিকার লাজওয়াব লিখেছেন। থ্রিল, টাইমিং, ফাইটিং একেবারে দারুণ। ফিনিশিং আরেকটু ভালো হইলে পাচ তারা চোখ বন্ধ করেই পেতো। ( অনেকের কাছে এখনো পাবে)
অধিরাজ সিরিজ ( অ্যাডাল্ট সিরিজ) এর অন্তর্গত এই বইটি যথার্থ ই একটি রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। তবে থ্রিলার এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু আছে এই বইটিতে। আমার খুব প্রিয় একটি বই।
লেখিকার সন্তানসম গোয়েন্দা চরিত্র সি.আই.ডি হোমিসাইডের আই.জি অধিরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেনেন অনেকেই। বইমেলা ২০১৯ এ প্রকাশিত 'সর্বনাশিনী'র পর অনেকেই পরিচিত তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত 'প্রাপ্তমনস্ক' সিরিজটির। সেই সিরিজের দ্বিতীয় বই 'চুপিচুপি আসছে'। এই উপন্যাসে দেখা মেলে এমন একজনের, যাঁর বুদ্ধিমত্তা বা দৈহিক বল যা কিছু বিচার করলেই দিব্যি 'সুপারভিলেন' আখ্যা দেওয়া যায়। তাঁর অস্ত্র একটি সার্জিক্যাল স, তিনি পরপর ন'জন পুরুষকে ধর্ষণ করে তাঁদের মাথাগুলি ওই সার্জিক্যাল স দিয়ে কুচকুচ করে কেটে রেখে তার জায়গায় একেকটি করে হাঁড়ি বসিয়ে যান, যাতে লেখা, 'গেস হু?'। এই ন'জন হতভাগ্যের মধ্যে শেষ চারজন 'সার্জিক্যাল স কিলার' কেসের ইনভেস্টিগেটিং অফিসার। নবম শিকার এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট রথীন দাসগুপ্তকেই সফলভাবে এনকাউন্টার করে দেন খুনী, এবং দুর্ভাগ্যবশত ধরাও পড়ে যান তাঁর সুযোগ্য অ্যাসিস্টেন্টের কাছে। সে খুনী এক অদ্ভুত মানুষ, চিকিৎসাশাস্ত্র তাঁকে বলে 'প্যাথলজিক্যাল লায়ার', তিনি নিজের নামও মিথ্যে বলেন। বিচারে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। কিন্তু বিধি বাম। সাজাপ্রাপ্তির ৩২ বছর পর আবার খোলে কেসের মোড়ক, খুনীর স্ট্যাম্পপ্রাপ্ত বৃদ্ধের পুত্র দাবি করেন, তাঁর বাবার প্রতি আরোপিত সব অভিযোগ মিথ্যে। তদন্ত নতুন করে শুরু করে অধিরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার টিম। অপরদিকে পর্দা সরে আরেকপ্রস্থ অন্ধকারের। সেখানে শিশুসুলভ এক মানুষ বসে সার্জিক্যাল স'এ ধার দেন, কাঁদেন... আর অনুরক্ত হয়ে পড়েন খোদ এই কেসের ইনভেস্টিগেটিং অফিসারের উপরেই। তাঁর এই অনুরাগের মূল্য দিতে হয় অধিরাজকে, কিছু নিজেকে দিয়ে, কিছু তার আশেপাশের মানুষকে দিয়ে। সে বিস্মিত, আতঙ্কিত, বিরক্ত। উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে উভয়পক্ষেই, একদিকে আবার হতে থাকে একের পর এক নৃশংস খুন, অন্যদিকে খুনীকে পরপর চ্যালেঞ্জ ছুড়তে থাকে টিম অধিরাজ। দুজনেই ছক সাজাতে থাকেন শেষ হাসি হাসার। কিন্তু সেই হাসির দাম? এতো গেল গল্প। এবার আসি এই গল্পের ইউ.এস.পি-তে। অধিরাজ সিরিজের এই উপন্যাস 'খুনী দেখলাম লাফালাম ধরলাম' এর সীমা ছেড়ে বেশ কিছুটা চলে গেছে। অধিরাজ এই উপন্যাসের নায়ক, তার সৌন্দর্য-বুদ্ধিমত্তা-সাহস-মানবিকতা সবই বড় সুন্দর, বড় উপভোগ্য, কিন্তু এই উপন্যাসের অনেকখানি জুড়ে আছেন সেই 'সার্জিক্যাল স কিলার', কখনও কখনও তাঁর অস্তিত্ব অধিরাজের উপরও অন্তত একটি 'পেনাম্ব্রা' তৈরি করেছে। তাঁর অতীত, তাঁর হাসি-কান্না, জন্ম দিয়েছে রাগের, ঘেন্নার, হাড় হিম করে দিয়েছে তাঁর নৃশংসতার বৰ্ণনা; আবার সেই মানুষটার জন্যই কখনও কখনও মন কেঁদেছে। আর পাঠকের এই নিজের মনের সাথেই ঝগড়া করতে থাকা অবস্থাটাকেই খুব সুন্দর ব্যবহার করেছেন লেখিকা, প্রতিটা লাইনে সৃষ্টি করেছেন এক অপূর্ব দ্বৈরথ, আক্রোশ-ক্ষমার, করুণা-ঘৃণার। আর এখানেই গল্পটা একটু কষ্টের হয়ে যায়, হয়ে যায় সমাজের একটা অভিশাপের। একটা নিতান্ত অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘাড়ে বয়ে চলা অভিশাপ- যে প্রতিটা মুহূর্তে বিষটা অন্য কারোর উপর ঢেলে একটু শান্তি পেতে চায়। কতটা সাদার সাথে কতটা কালো মিশলে একটা চরিত্রকে 'গ্রে' বলা যায়, বুঝিয়েছেন এই 'সার্জিক্যাল স কিলার'। এঁকে পড়তে পড়তে কখনও কখনও মনে হয়, মগনলাল মেঘরাজ বা প্রফেসর মরিয়ার্টির অতীত ঘাঁটলেও হয়তো একটা উত্তর... যাক! এই উপন্যাসে আরও আঁটোসাঁটো হয়েছে অধিরাজের টিম-চেইন। অধিরাজ-অর্ণবের বন্ধুত্বের গাঁটছড়া কয়েক প্যাঁচ শক্ত হয়ে গেছে এই এক কেসেই, তারা সিনিয়র-জুনিয়র ছেড়ে পরস্পরের প্রাণপ্রিয় সখা হয়ে উঠেছে, ইস্পাতকঠিন ঢালও। তাদের বন্ধুত্ব-খুনসুটি আবির ছড়িয়ে গেছে একেকটা ভীষণ সাদাকালো মুহূর্তে। এছাড়াও অধিরাজের মিষ্টি অ্যাডমায়রার বিউটি উইথ ব্রেন আহেলি মুখার্জি, বন্ধু পবিত্র, পিতৃপ্রতিম ডঃ চ্যাটার্জি থেকে নবতম রিক্রুট মিস দত্ত, সকলে মিলে ভারী শক্তপোক্ত একটা হিউম্যান চেইন তৈরি করেছেন অধিরাজের চারপাশে, যাঁরা অত্যন্ত অনুসন্ধিৎসার সাথে কেস সলভ করার পাশাপাশি চেষ্টা করেছেন একে অপরকে ভালো রাখতে, কঠিনতম মুহূর্তেও। এক ভাষায় বলা যায়, লেখিকা ছবি দেখিয়েছেন একটা। থ্রিলার জিনিসটা ওয়ান টাইম রিড বলেন অনেকে, কিন্তু একেকটা করে চ্যাপ্টার পড়ার পর একটু চোখ বুজে বসলে দেখা যাবে অনেক কিছু, সে ধুন্ধুমার অ্যাকশন সিকোয়েন্সই হোক, কিংবা একটা মানুষের মন আছড়ে আছড়ে ভাঙা টাইফুন। অধিরাজের 'পারফেক্ট' বদনাম বেশ ভালোভাবেই ঘুচেছে এবার, তাকে ছিঁড়েখুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে একজন সাধারণ হয়েও অসাধারণ মানুষ, যে বইয়ের সব পাতা জুড়ে সিংহের মতো দাপিয়ে বেড়িয়েও কাঁদে, ভয় পায়, বিনা কারণে রাগ দেখায়, দু'একটা উল্টোপাল্টা সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলে। দাঁড়িপাল্লায় টালমাটাল সুপারকপ ভার্সেস সুপারভিলেনের লড়াই শেষ হয় অবশেষে, ভীষণ টানটান অথচ অদ্ভুত করুণ একটা ক্লাইম্যাক্সে। কে জেতে? বলবনা। বা বলা ভালো, জানিনা। এতো গেল বইয়ের ভিতরের খবর, এবার আসি বইয়ের বাইরে, বইটা দেখতে কেমন, হাতে নিলে সে কী বলে তার খবরে। প্রচ্ছদ মানানসই, তবে বইয়ের পাতায় সৃষ্ট আতঙ্ক প্রচ্ছদে সম্পূর্ণ ফুটে ওঠেনি বলেই আমার ধারণা। সামান্য বানান ভুল ও পাতার কোয়ালিটি গতবারের চেয়ে একটু কম হওয়া সত্ত্বেও ফন্টের ব্যবহার থেকে শব্দের সজ্জায়, বইটিকে দেখায় বেশ ভালো। ধন্যবাদ বিভা পাব্লিকেশনকে, এবং অবশ্যই লেখিকাকে। টিম অধিরাজ রকস। তাদের জন্য প্রতি বইমেলায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে পাঠক, আর কেউ হয়তো ডুববে আমার মতো একটা ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ডে, যেখানে সুপারকপ থেকে সুপারভিলেন, সব্বাই সত্যি।
“বত্রিশ বছর আগের ঘটনা... সিরিয়াল কিলিং একই দিনে, গভীর রাতে শহরের পাঁচটি পুলিশ স্টেশনের সামনে।একের পর এক ডাম্প করা হল পাঁচজন পুরুষের লাশ। শুধু মাথার জায়গায় বসানো ছিল একটি করে হাঁড়ি। হাঁড়ির ওপর রক্ত দিয়ে লেখা "গেস হু?” যারা খুন হয়েছে তাদের ব্যক্তিগত জীবনে কোনও মিল নেই। কেউ কাউকে চিনতই না। তবে খুনী তাদেরই বেছে বেছে খুন করল কেন? ১৫ দিনের মাথায় পাওয়া গেল এই কেসের ইনভেস্টিগেটিং অফিসারের মুন্ডহীন মৃতদে��। এরপর একইভাবে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজন ইনভেস্টিগেটিং অফিসারের। কোনও অফিসারই আর রাজি নন কেসটি নিতে... ৩২ বছর পর কেন আবার দরকার পড়ল রি-ইনভেস্টিগেশনের একজন প্যাথলজিকাল লায়ার সবকিছুতে সে মিথ্যে বলে, এমনকি নিজের নাম পর্যন্ত। অধিরাজ কি পাবে মিথ্যের ভিড়ে সত্যের খোঁজ! অত্যন্ত দুঃখে আছে নিঃসঙ্গ মানুষটি। ক্যালেন্ডারে একের পর এক ডেট ক্রস দিয়ে যাচ্ছে সে। কিন্তু কেন? না আছে কোনও ফরেনসিক রিপোর্ট, না আছে কোনও প্রত্যক্ষদ বা সিসিটিভি ফুটেজ। অন্যদিকে সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন অধিরাজের বস স্বয়ং এডিজি শিশির সেন। তদন্ত চলাকালীন অধিরাজও অনুভব করল বেশ কিছু সংখ্যার অনভিপ্রেত উপস্থিতি। সার্জিকাল স’ হাতে হানা দেয় সে চুপি চুপি .... কিন্তু কেন? সে কে? কেনই বা সে মেতেছিল এই হত্যালীলায়। বত্রিশ বছর পরে কি কেস সলভ হবে? নাকি অধিরাজ স্বয়ং হয়ে যাবে খুনীর দশম শিকার।”
উপন্যাসটার শুরু থেকে এই ভয়টা জাঁকিয়ে বসেছিল, “অধিরাজ বাঁচবে তো?”😶 মারাত্মক ভয় দেখিয়েছেন লেখিকা এই উপন্যাসটায়। মানে বইটা শেষ করার পর শুধু একটা কথাই ভেবেছি, “এভাবেও ভয় পাওয়ানো যায়?”
এটি একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার,আর সায়ন্তনী ম্যাম হলেন সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের রানী🌚 খুব একটা বেশি বলিনি হয়তো। “এরপর কী হবে? আর এরপর কী হল?" এই প্রশ্নটা শেষ পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে।
এই উপন্যাসটায় আমরা কী কী পাব? আর কেন আমার ভালো লেগেছে সেগুলো বলি?
• এই উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে লেখিকা এমন একটি দিক তুলে ধরেছেন, যা খুব একটা উপন্যাসের প্লটে পাই না আর আলোচনাও হয় না। আচ্ছা, শুধু কী মেয়েরাই সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়? পুরুষরা হয় না? হয়, কিন্তু সেকথা তারা কখনো বলতেও পারে না। আর সমাজ তাতে পাত্তাও দেয় না্, মানতেও চায় না। উপরন্তু, হাসির খোরাক হয়তো হতে হয়। আর লেখিকা সে বিষয়টাই তুলে ধরেছেন। • দ্বিতীয়, বর্তমানে সমকামিতা বৈধ হলেও, এখনও কত রকম ভাবে হ্যারাস হতে হয়, নানান মন্তব্য শুনতে হয় তাদের। আর ভেবে দেখুন তো, আজ থেকে ৩৩ বছর আগে যারা সমকামী ছিল, তাদের কী ফেস করতে হতো? কী কী ভাবে অত্যাচারিত হতে পারে তারা! তুলে ধরেছেন লেখিকা। • তৃতীয় পয়েন্ট হল, বন্ডিং। এই উপন্যাসটায় প্রতিটা চরিত্রের বন্ডিং বিশেষ করে অধিরাজ-অর্ণবের; মন ছুঁয়ে গিয়েছে। এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেগুলো পড়ে কেঁদেই ফেলেছিলাম 🙂 এতোটাই হার্ট টাচিং❤️ এখানে ওরা দুজন সিনিয়র-জুনিয়ারের গন্ডী ছাড়িয়ে, প্রিয় বন্ধু; প্রকৃত বন্ধু বা বলা ভাল ভাই হয়ে উঠেছে 😌 বেষ্ট গোয়েন্দা জুটি এভার❤️
এই উপন্যাসটায় থ্রিল আর সাসপেন্স-এর সাথে খুব সুন্দর ‘আবেগ’ মিশিয়েছেন লেখিকা। এটা হয়তো অনেকের কাছে বিরিয়ানির এলাচ মনে হতেও পারে। তবে আমার কাছে সর্বগুনসম্পন্ন বিরিয়ানিই মনে হয়েছে। আর সর্বপরি, যে গল্পে শেষ পর্যন্ত ভিলেনের প্রেমে পড়ে যাবে, সে গল্প যে বিলক্ষন মাষ্টারপিস তা কী আর বলার অপেক্ষা রাখে?🌚
যদিও আমি ভিলেনের প্রেমে পড়তে পারিনি, কেন পারিনি তা বললে স্পয়লার হয়ে যাবে, তবে তাকে অবহেলা করার সাধ্য আমার নেই 👀
শেষে আমি এটাই বলবো, তুমি যদি থ্রিলারপ্রেমী হয়ে থাকো, তবে এটা এখনও না পড়ে আছো কী করে?🤭 এই উপন্যাসটা পড়ার পর, অধিরাজকে আরো ভালোবেসে ফেলেছি আমি🙂❤️
❝Anger is an acid that can do more harm to the vessel in which it is stored than to anything on which it is poured.❞― Mark Twain - ❛চুপিচুপি আসছে❜ - ১৯৮৭ সালের এক গভীর রাতে কলকাতা শহরের ৫টি পুলিশ স্টেশনে পাওয়া যায় অদ্ভুত কিছু লাশ। বিকৃতভাবে খুন হওয়া এইসব ব্যক্তিদের মাথা কেটে সেখানে হাঁড়ি বসিয়ে দেওয়া হয় আর সে হাঁড়িতে লেখা থাকে "'গেস হু?"। এদিকে এই কেসটি যারাই তদন্ত করতে থাকে, সেই অফিসাররাও একের পর এক খুন হতে থাকে একই পদ্ধতিতে। শেষ পর্যন্ত এই কেসে একজন সাসপেক্ট ধরা পড়লেও দেখা যায় সে একজন প্যাথলজিক্যাল লায়ার। - ২০১৯ সাল, সেই ভয়াবহ কিলিং থামার ৩২ বছর পরে আবারো কেসটি ওপেন করা হয় আর সেটি হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের সেরা অফিসার অধিরাজ ব্যানার্জির আন্ডারে আসে। অধিরাজের টিমে এবারে থাকে তার সহকারী অর্ণব, সহকর্মী প্রবীর, নতুন লেডি অফিসার আত্রেয়ী দত্ত, ফরেনসিক থেকে ড. অসীম চ্যাটার্জি এবং আহেলী। শুরু হয় অধিরাজের টিম এবং খুনির ভেতরে এক টম এন্ড জেরি খেলা। - এখন কে এই খুনী যে ৩২ বছর আগে নৃশংসভাবে খুন করা শুরু করেছিল? ৩২ বছর পরে আবার কেনই বা সে খুন করার প্রক্রিয়ায় ফিরে আসছে? অধিরাজ এবং তার টিম কী পারবে ৩২ বছর আগের সেই রহস্যের সমাধান করে বর্তমান সময়ের খুনগুলো থামাতে? তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক সায়ন্তনী পূততুণ্ড এর ক্রাইম থ্রিলার ধাঁচের উপন্যাস ❛চুপিচুপি আসছে❜। - ❛চুপিচুপি আসছে❜ বইটি অধিরাজ সিরিজের বাকি বইগুলোর মতোই একটি ক্রাইম এবং সাসপেন্স থ্রিলার ঘরানার উপন্যাস। এই বইয়ের বর্তমান সময়ের টাইমলাইন ❛সর্বনাশিনী❜ কেসটির ঠিক পরেই হওয়ায় কাহিনির ভেতরে বিভিন্ন পর্যায়ে কেসটির কথা উঠে এসেছে। বইতে যেভাবে পুলিসি কর্মকান্ড এবং তদন্ত প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে তা বেশ ভালোই লাগলো। সিরিয়াল কিলারের মনস্তাত্বিক ব্যাপারগুলো অনেক ডিটেইলভাবে বোঝানোরও চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই বইয়ের ভাষাশৈলী আর সংলাপ আগের বইয়ের মতোই আমার খুব একটা ভালো লাগলো না, সাথে বিস্ময়সূচক যতিচিহ্নের ব্যবহার অতিরিক্ত ব্যবহার তো আছেই। - ❛চুপিচুপি আসছে❜ বইটা পড়ার সময়ে এবারে ধরেই নিয়েছিলাম যে এখানে চরিত্রগুলোর কম বেশি অতি নাটুকেপনা থাকবেই। তারপরেও মনে হলো বইয়ের প্রধান চরিত্র অধিরাজ ব্যানার্জিকে এই বইতে আরো সুপারহিরোইক বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পর্বে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই পারলে অধিরাজের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুরো বইতে অধিরাজের সৌন্দর্য বিষয়ক আলাপ আলোচনা যখনই হয়েছে তখনই ব্যপারটা অতিরঞ্জিত লেগেছে। এছাড়াও বইতে সস্তা লেভেলের হিউমার আর অপ্রাসঙ্গিক বলিউডি ডায়লগ কোনভাবেই নিতে পারলাম না। পুরো বইয়ের দারুণ প্লট বেশিরভাগ সময়েই স্লান হয়ে গিয়েছে বইয়ের এই ধরনের বর্ণনাভঙ্গির কারণে। এছাড়া বইয়ের প্রায় প্রতিটি চরিত্রের অতিমাত্রার আবেগ এবং টিপিক্যাল বলিউড ড্রামা মার্কা ফিনিশিংও বিরক্তিকর লাগলো। - ❛চুপিচুপি আসছে❜ বইটি ২০২০ সালে কলকাতার বিভা পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হয় পেপারব্যাক হিসেবে। বইটি কোনধরণের প্রিমিয়াম ফিল না দিলেও পড়তে অবশ্য বেশ আরামদায়ক। বইয়ের কভারটা অ্যাভারেজ, নামলিপিটি অবশ্য বেশ ভালো লাগলো। বইয়ের সম্পাদনাও ভালোই হয়েছে বলা যায়, দুই-এক জায়গা বাদে প্রিন্টিং মিস্টেক দেখতে পেলাম না। - এক কথায়, প্লটটা দুর্দান্ত হলেও অন্যান্য কারণবশত ❛চুপিচুপি আসছে❜ বইটা ওভারঅল খুব একটা দাগ টানতে পারলো না। প্রধান চরিত্রের এক্সট্রিম সুপারহিরোইজম, কিছু অ্যাডাল্ট ডায়লগ এবং বর্ণনাভঙ্গির ব্যাপারগুলো উপেক্ষা করতে পারলে সাসপেন্স থ্রিলারের পাঠকেরা এই বইটা পড়ে দেখতে পারেন, তবে তার আগে সর্বনাশিনী বইটা পড়ে নিলে ভালো হবে।
বরাবরের মতোই সায়ন্তনী পূততুন্ডর আরেকটি মাস্টার স্ট্রোক। সেরাই বলা চলে। শেষ করার পর মনে হলো, কলেবরটা বেশ ছোটই হয়ে গেছে ... আরেকটু দীর্ঘ হলে মন���দ হতো না ....
✨📖উপন্যাসের নাম - চুপিচুপি আসছে📖✨ ✍️লেখিকা - সায়ন্তনী পুতুতুণ্ড 🖨প্রকাশক - বিভা পাবলিকেশন 📖পৃষ্ঠা সংখ্যা - 319
💫📚বত্রিশ বছর আগের ঘটনা ... সিরিয়াল কিলিং ? একই দিনে , গভীর রাতে শহরের পাঁচটি পুলিশ স্টেশনের সামনে একের পর এক ডাম্প করা হল পাঁচজন পুরুষের লাশ । শুধু মাথার জায়গায় বসানো ছিল একটি করে হাঁড়ি । হাঁড়ির ওপর রক্ত দিয়ে লেখা ‘ গেস হু ? ' যারা খুন হয়েছে তাদের ব্যক্তিগত জীবনে কোনও মিল নেই । কেউ কাউকে চিনতই না । তবে খুনী তাদেরই বেছে বেছে খুন করল কেন ? ১৫ দিনের মাথায় পাওয়া গেল এই কেসের ইনভেস্টিগেটিং অফিসারের মুণ্ডহীন মৃতদেহ । এরপর একইভাবে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজন ইনভেস্টিগেটিং অফিসারের । কোনও অফিসারই আর রাজি নন কেসটি নিতে ... ৩২ বছর পর কেন আবার দরকার পড়ল রি - ইনভেস্টিগেশনের ? একজন প্যাথলজিকাল লায়ার ... সবকিছুতে সে মিথ্যে বলে , এমনকি নিজের নাম পর্যন্ত । অধিরাজ কি পাবে মিথ্যের ভিড়ে সত্যের খোঁজ ? অত্যন্ত দুঃখে আছে নিঃসঙ্গ মানুষটি । ক্যালেন্ডারে একের পর এক ডেট ক্রস দিয়ে যাচ্ছে সে ! কিন্তু কেন ? না আছে কোনও ফরেনসিক রিপোর্ট , না আছে কোনও প্রত্যক্ষদর্শী বা সিসিটিভি ফুটেজ । অন্যদিকে সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন অধিরাজের বস স্বয়ং এডিজি শিশির সেন ! তদন্ত চলাকালীন অধিরাজও অনুভব করল বেশ কিছু সংখ্যার অনভিপ্রেত উপস্থিতি । ‘ সার্জিকাল স ’ হাতে হানা দেয় সে চুপি চুপি .... কিন্তু কেন ? সে কে ? কেনই বা সে মেতেছিল এই হত্যালীলায় ? বত্রিশ বছর পরে কি কেস সলভ হবে ? নাকি অধিরাজ স্বয়ং হয়ে যাবে থুনীর দশম শিকার ! কাউন্টডাউন বিগিনস ... চুপি চুপি আসছে ।📚💫
মানসিক বিকারগ্রস্ত খুনী, ছিন্নভিন্ন কয়েকটা লাশ, বত্রিশ বছরের অপেক্ষা, ওপেন চ্যালেঞ্জ, সি আই ডি হোমিসাইড আর 'লাল ইস্ক'!
ভিলেন; গল্প উপন্যাস প্রবন্ধ নাটক সবেরই এক অসহ্য দুর্দমনীয় চরিত্র যার জন্যই হিরো, 'হিরো' রূপে প্রস্ফূটিত হয়। Criminals are not born, they are made. শৈশব হলো আহরণকাল। একজন শিশু যেরূপে লালিত হয়, তাই গড়ে তোলে তার ভবিষ্যত চরিত্র। আর এক্ষেত্রে অধিকাংশ ভূমিকা পালন করে তার পরিবার। শৈশবের মানসিক আর শারীরিক নির্যাতন জন্ম দেয় এক 'বিকৃতমস্তিষ্কের খুনী'র। অথচ এই আদ্যপ্রান্ত রক্তাক্ত খুনী তার শরীরের সবচেয়ে গভীরতম প্রকোষ্ঠ, তার মনে সযত্নে লালন করেছে তার ভালোবাসাকে, তার অনুভূতিকে, তার বাল্যলীলাকে। ভালোবাসার মুক্ত বাহুতে নিজেকে বিকিয়ে দিয়েও অপমান আর জঘন্যতার নাগপাশে রঞ্জিত হয়েছে তার শৈশব, কৈশোর। সো কল্ড 'ম্যানলিনেস'-এর সংজ্ঞা বদলে যাওয়া জনসন বেবি ক্রিম মাখা যৌবন তাই বদলে যায় কালান্তকে। আর এখানেই জড়িয়ে যায় আপাতভাবে সাধারণ মজার দুটো কার্টুন চরিত্র, টম অ্যান্ড জেরি! কারণ এবার 'শিকারী'র নিজেই 'শিকার' হওয়ার পালা।
কাহিনীতে রয়েছে দশটি ট্রফি জয়ের গল্প, সেই ট্রফি জয় করতে কতো না রক্ত ঝড়েছে বা ঝড়িয়েছে....। নয়টি ট্রফি শোকেসে শোভিত হচ্ছে গৌরবমন্ডিত হয়ে। ট্রফিগুলি আর কিছুই নয় বরং....নরকরোটি। দশ নম্বরটিও বুঝি খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে 'তার' সংরক্ষণে!
সালটা ১৯৮৬, ৩০ ডিসেম্বর। শহর কলকাতার বুকে রক্তে আঁচড়ানো একটা রাত। নৃশংস, ভয়াবহ, অবর্ণনীয়। রাত একটা থেকে ভোর চারটের মধ্যে শহরের পাঁচটি বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনের ডাম্প করা হলো পাঁচজন পুরুষের লাশ! লাশ ঘাঁটা তাবড় অফিসারদের গায়ের রোম খাঁড়া হয়ে গেলো, হিম রক্তে তাঁরা দেখলেন যেনো..., যেনো কোনো বন্য জন্তর হিংস্র তীক্ষ্ণ নখে ফালাফালা করা হয়েছে মৃতদের দেহ; বৈশিষ্ট্য - মুণ্ডহীন লাশ। খুনী নিপুণ হাতে তাদের মাথা কেটে নিয়ে সেই জায়গায় বসিয়ে গেছে মাটির হাঁড়ি, রক্তে লেখা চ্যালেঞ্জ বাণী, 'গেস হু?'
হতভাগ্য পাঁচজনের পরিচয় জানা গেলো, রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার, ডাক্তার, পাড়ার নামকরা গুণ্ডা, উদীয়মান কুস্তাগীর আর বারের বাউন্সার। 'র্যান্ডম কিলিঙ'-এর তকমা পাওয়া কেস হঠাৎই ঘুরিয়ে দিলো রহস্য মোড়, যখন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ সামনে আনলো মার্ডার মেথড। উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। খুনী আদও ভিক্টিমের মাথা কেটে খুন করেনি! বরং সে এখানে আরো সক্রিয়, ততোধিক নৃশংস! শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্টারিগুলোকে কেটেছে খুনী প্রথমেই। ব্রঙ্কিয়াল, ইসোফেগাল, পেরিকার্ডিয়াল, ইন্টারকোস্টাল থেকে শুরু করে অ্যাবডোমেন আর্টারিজ, অক্সিয়াল, ব্রাকিয়াল, রেডিয়াল এমনকি লেগ আর্টারিগুলোও কাটা! অ্যাওর্টা, অ্যাবডমিন্যাল অ্যাওর্টাও জম। অর্থাৎ মানুষগুলোর মৃত্যু প্রবল রক্তপাতে হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়! যখন ভিকটিমরা রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যুমুখী, সেই অবস্থাতেই তাদের সঙ্গে পেরিমর্টেম আনন্যাচারাল সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট ঘটেছে। মানে, মৃত্যুপথযাত্রী মানুষগুলোকে একরকম রেপই করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ অ্যাবনর্মাল। এবং মৃত্যুর পরই তাদের মুণ্ডচ্ছেদ হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানালেন, অত্যন্ত ধারালো কোনও অস্ত্র দিয়ে পরিষ্কারভাবে মাথা কেটে নেওয়া হয়েছে এবং এই অস্ত্রটির 'সার্জিক্যাল স' হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা!
এরপর ১৯৮৭, ২৮ জানুয়ারি। একই ঘটনার সাক্ষী থাকলেও কলকাতা। তবে এবারে হাড়হিম হয়ে গেলো একটি তথ্যে। লাশ শনাক্তকরণ হতে জানা গেলো লাশটি স্বয়ং ইনভেস্টিগেটিং অফিসারের। কেস হ্যান্ডওভার হয় সি আই ডি'র কাছে। তবে, হত্যালীলা কমার বদলে বাড়লো। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টা আর ২৮ মার্চ রাত পৌনে তিনটে সি আই ডি অফিসারদের লাশ পাওয়া গেলো একইভাবে। শেষ ইনভেস্টিগেটিং অফিসার ছিলেন 'এটকাউন্টার স্পেশালিস্ট' রথীন দাশগুপ্ত। এই মানুষটিই প্রথম খুঁজে বার করলো খুনের প্যাটার্ন। ছ'মাস পর কালান্তক কেস ফাইল ওপেন হলে একইভাবে ১৯৮৭ এর ২১ অক্টোবর খুন হয়ে যান রথীন দাশগুপ্ত। বডি ডাম্প করা হলো খোদ লালবাজারের সামনে! বাঘা বাঘা অফিসারদের এহেন নৃশংস পরিণতিতে কেস ক্লোস ঘোষণা করা হলো। এবং অদ্ভূতভাবেই বন্ধ হলো সিরিয়াল কিলারের তান্ডব। হঠাৎ আগমনের মতোই শহরবাসীর বুকে ভয় ছড়িয়ে উধাও হলো সিরিয়াল কিলার।
দিব্যি সব চলছিল, তবে হঠাৎই বত্রিশ বছর পর কেনো রিওপেন করা হলো সেই কেস? অনেকগুলো প্রশ্ন তৈরি হল। আদও খুনী বেঁচে আছে? বেঁচে থাকলেও সেই শক্তি কি তার বর্তমান? সার্জিক্যাল স দিয়েই কি সে আঘাত হানবে এবার?
'টক অফ দ্য টাউন' আইজি, সি.আই.ডি, হোমিসাইড; দীর্ঘদেহী, শাণিত মুখের আদল, মসৃণ বাদামি ত্বক উজ্জ্বল আভা ছড়াচ্ছে, স্বয়ং গ্রিক দেবতা অ্যাপোলো যেনো টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন উদ্ধত গৌরবে, সুন্দর; বড় অসহ্য রকমের সুন্দর আর শক্তিশালী অফিসার অধিরাজ ব্যানার্জি-এর আন্ডারে শুরু হলো রহস্যের নতুন উন্মোচন! সকলের ধারণাকে নস্যাৎ করে খুনী প্রবল বিক্রমে সকলের সামনেই করে গেলো একের উপর এক খুন! মাথায় সার্জিক্যাল স-এর খাড়া নিয়েও এই তরুণ অফিসারটি নিজেকে দাঁড় করালেন তার থেকে অধিক শক্তিশালী 'মৃত্যুদূত'-এর সামনে। কিনারা হবে কি এই রহস্যের? প্যাথলজিক্যাল লায়ারের মিথ্যের ভিড়ে কি পাওয়া যাবে সত্যের খোঁজ? নাকি বিজয়ীর শিরোপা স্বরূপ দশ নম্বর ট্রফিটি উঠবে 'তার' শোকেসে?
হোক না সে দুর্ধর্ষ অফিসার, হোক না সে বজ্রকঠিন ভিলেন। তবু, কোথাও গিয়ে দুজনের গল্প মি��ে যায় একটা সুরে! আর মিলবে নাই বা কেনো? দুজনেই যে রক্ত মাংসের মানুষ, দুজনেই যে বোঝে চামড়া আর ডায়াফ্রামের নীচে বন্দি থাকা অনুভূতিগুলোকে। আর এখানেই সার্থক হয়ে ওঠে দুটো চরিত্র। নৃশংস খুনীর মৃত্যুকামনায় অপেক্ষারত মনে হঠাৎই দোলাচাল নামে। বাষ্প জমে ভিড় করে চোখের কোলে। সুপারহিউম্যানের টেনডেন্সি ভেঙে সাধারণ মানুষের মতোই ভুল করেন দুঁদে অফিসার। পা দেন অপরাধীর ট্র্যাপে।
হাসির শব্দ পাওয়া যায়..., অপরাধেরও শব্দ পাওয়া যায়...., শুধু যা পাওয়া যায়না তা হলো কান্নার শব্দ আর মৃত্যু...। সে চুপিচুপি আসে....! একটা সার্জিক্যাল স, মুন্ডহীন লাশ, টম অ্যান্ড জেরি, সি আই ডি টিম, অসহায় আত্মসমর্পণ আর ভয়ানক 'জুনুন'..... টিক্ টিক্ টিক্ টক্ কাউন্টডাউন বিগিনস্!
আমার পড়া অধিরাজ্ সিরিজের প্রথম বই, আর এতেই এমন আড্রিনালিন ক্ষরণ হয়েছে, এমন হার্ট বিট বেড়েছে, ব্রহ্মতালু আইসা গরম হয়েছে -- বাপরে 😷😷
লেখিকার লেখনী শৈলী অত্যন্ত চমৎকার। প্রতিটি সিন পপ্রায় সিনেমার মত চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। অধি রাজের ব্যক্তিত্ব হোক, খুনীর অসহায়তা হোক, অর্ণবের হঠাৎ ইউ টার্ন নিয়ে প্রাণ পণে প্রিয় স্যার কে বাঁচাতে ছুটে যাওয়া হোক, কসাই খানার বর্ণনা হোক -- প্রতিটি দৃশ্যেই মনে হচ্ছে আমি উপস্থিত আছি।
খুনীর খুনী হয়ে ওঠার পিছনে যে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিষ্ঠুরতা ফুটে উঠেছে, তা এককথায় অনবদ্য। পুরুষ তান্ত্রিক সমাজে আসলে পুরুষ রাও অনেক অসহায়। যে কথা অধিরাজের অসহায়তায় পরতে পরতে ফুটে ওঠে। পুরুষ মুখ ফুটে বলতে পারে না, সে সেক্সুয়ালি molested হয়েছে, সে কাঁদতে পারে না, কারণ ছেলেরা তো পুরুষ সিংহ, কান্নার মত একটা মেয়েলি কাজ তাদের কি মানায়!! কাজেই ভিতর কষ্টে ফেটে গেলেও, তুমি যে পুরুষ সিংহ -- এটা ভুললে চলবে না 🙂🙂
আমার ও এক অদ্ভুত সাইকোলজি আছে, আমি বরাবর নায়কের থেকে নায়কের বন্ধুর প্রতি বেশী আকৃষ্ট হই। মানে আমার মনে হয়, যে বেস্ট তাকে সাপোর্ট করার জন্য, তাকে নিয়ে ধন্য ধন্য করার জন্য সবাই রয়েছে, কিন্তু যে নীরবে নিঃশব্দে নায়ক কে নায়ক করে তুলতে সাহায্য করে, যে অবলীলায় নায়কের জন্য নিজের প্রাণ বাজি রাখতে পারে, তার মধ্যে নায়ক হওয়ার সর্ব গুণ থাকতেও যেন নায়কের নায়কত্ব বজায় রাখতেই চিরটাকাল সেকেন্ড লিড হয়ে রয়ে যায়, এমন সর্বংসহা চরিত্র আমায় বরাবর বেশী আকর্ষণ করে।
এখানেও তাই মিতভাষী, ভদ্র, অথচ প্রিয় স্যার কে রক্ষা করার জন্য অতন্দ্র প্রহরীর ক্ষিপ্রতা নিয়ে যে মানুষটি অধিরাজ কে নিরাপত্তা দেন, তাঁর সম্মান রক্ষা করেন -- এই অর্ণব ছেলেটিকে আমার প্রচন্ড পছন্দ হলো। লেখিকা, পাঠিকা এমনকি পুরো গল্পের অন্য চরিত্র সব্বাই অধিরাজ কেই নায়ক করবে, কিন্তু আমার সম্পূর্ণ সমর্থন থাকবে, প্রদীপের সলতে কে জ্বালিয়ে রাখার জন্য নিজেকে ধীরে ধীরে পুড়িয়ে ফেলা যে গোষ্ঠী, সেই অর্ণবের জন্য। সরি sudipa, তোরা ঐ গ্রীক দেবতার চেহারা মার্কা দুর্দান্ত পুরুষ অধীরাজকে নিয়ে থাক, I will stay forever to cheer for Arnab or Arnabs 🥺🥺
আরো যেটা ভালো লাগে, কামাতুর খুনীর অধিরাজের প্রতি তীব্র বাসনার পাশাপাশি সেটাকে ব্যালান্স করতেই যেন অর্ণব - অধিরাজের রসায়ন টা এত চমৎকার ভাবে লেখায় ফুটে উঠেছে। দুই পুরুষের মধ্যে স্বার্থহীন এমন ভালোবাসা, অপার শ্রদ্ধা থাকতে পারে - এই দিকটা এতো ভালো করে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখিকা, যে আমার মাঝে মাঝে even মিস আহেলিকেই ন্যাকা ও অবুঝ লবঙ্গ লতিকা টাইপ মনে হচ্ছিল, বিশেষ করে যখন মাকড়সার জাল দেখে মহিলা প্রায় ভিরমি খাচ্ছিলেন - উফফ, অমন দুর্দান্ত অফিসার এর এমন একটি নেকী প্রেমিকা জুটবে ভাবতেই বিচ্ছিরি লাগছে🤧 তুলনায় আমার ভীষন ভালো লাগে মিস আত্রেয়ী কে। আমার আন্দাজ খুব ভুল না হলে,এই লেডি অফিসার এর সঙ্গে সম্ভবত অর্ণবের কোন love angle দেখতে পারি আমরা ভবিষ্যতে।
এই প্রথম আমি আক্ষরিক অর্থেই কেঁদে ফেলেছিলাম খুনীর ব্যাক স্টোরি শুনে। একটা খুনীর প্রতি এতখানি sympathetic আমি সুদূর অতীতে কখনো হয়েছি বলে মনে পড়ে না।
কিন্তু একটি মেজর point ভীষণ ই খারাপ লেগেছে, আমি কোনো সুন্দর পুরুষের প্রতি মারাত্মক আকৃষ্ট হয়ে তাকে দুর্বল মুহূর্তে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলে বা vice versa যদি হয়, সেটা কি আদৌ ভালবাসা হয়?? খুনি মানসিক ভাবে অপ্রকৃতিস্থ এটা মাথায় রেখেই বলছি -- যখন উনি উনি জীবন কাহিনী শোনাচ্ছেন, যখন বলছেন বার বার কিভাবে ' ভালবেসে ' ব্যর্থ হয়েছেন -- কিন্তু সেটা কি ভালোবাসা হতে পারে??নাকি সেটা শুধুই সুন্দর শরীরের প্রতি অমোঘ আকর্ষণ যা একেবারেই সমর্থন যোগ্য নয়, সেটা সমকামী বা বিষমকামী - যে সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন এর ই মানুষ হয়ে থাকেন না কেন। এই গল্প পড়লে সুকোমল পান্ডে, তার ছেলে এবং অবশ্যই খুনী-- এদের হাব ভাব দেখে আপনার একসময় মনে হতে বাধ্য যে সব সমকামীরা শুধুই সুন্দর পুরুষ শরীরের পিপাসু। তাঁরা মনের ধার ধারেন না।
খুনি সর্বদাই আকৃষ্ট হয়েছে সৌন্দর্যের প্রতি। আমার কোথাও পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, সমকামী বলে কি সুন্দর পুরুষ শরীরের প্রতি কামনা টাই বুঝি তীব্র ভালোবাসার প্রতীক ??? কিছু জায়গায় স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে," সুমঙ্গলের থোবড়া দেখেছ??" মানে পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলেন সুন্দর পুরুষ না হলে সমকামীরা প্রেমে পড়তেই পারেন না। এটা অত্যন্ত ভুল বার্তা দেয় আমার মতে। যেহেতু আমি নিজে real life এ একজনকে চিনি এবং তার কিছু ডেটিং এর সঙ্গী দের ও দেখেছি, তাই আরো বেশী করে এটা চোখে লাগলো।
গল্পের শুরুতেই খুনি অধিরাজ কে দেখে স্বগতোক্তি করেন " শিশির সেন কে যদি বত্রিশ বছর আগে তোমার মত দেখতে হত...." এ কী ভাই!! এর কিরকম মানে হলো??!!! শিশির সেন ওরকম হ্যান্ডসাম হলে কি ওনার ই গলা ধরে ঝুলে পড়তেন আর বলতেন যে আরে আমার কি দোষ!! আমি তো ভালোবেসেছি শুধু"!!! এ কিরকম ভালোবাসা যা বেছে বেছে সুন্দর পুরুষের প্রতিই জাগ্রত হয়?? যিনি এত্তো গুণী মানুষ, তিনি এটুকু বোঝেন নি, তিনি নিজে molestation এর শিকার, কিন্তু পরে ভালোবাসার নামে তো অন্যদের ও molest ই করছেন!!!!!!
বইটির অনেক পপুলারিটি, অনেক নামডাক-- তবু হয়তো সমকামীর এমন চরিত্রায়ন বলেই এই প্রশ্নটি কেউ কখনো তোলেন নি, কারণ ওরা আবার মানুষ নাকী!!! সত্যিই তুলেছেন কি না জানি না অবশ্য, তবে আমি তুলছি এবং খুব তীব্র ভাবেই প্রতিবাদ জানাচ্ছি যে এরকম portrayal আসলে অনেক বড় ভুল বার্তাই বহন করে।
কখনো যদি বাংলা সাহিত্যে সত্যি সত্যিই সমকামী প্রেমকে proper address করে গল্প লেখা হয় -- সেদিনের অপেক্ষায় রইলাম ( হলদে গোলাপ পড়িনি যদিও)
"সর্বনাশিনী" শেষ করার পর, এই বইটা পড়ার থেকে আর নিজেকে আটকাতে পারিনি। ওটা শেষ করেই, এই বইটা নিয়ে বসলাম। কোথা দিয়ে সারাদিন চলে গেল, বুঝতেই পারলাম না।
বত্রিশ বছর আগে একই দিনে কলকাতার বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনের সামনে ফেলা হয়েছিল পাঁচ পাঁচটা পুরুষের লাশ। সারাদেহ ছিল তাদের বীভৎসভাবে ছিন্নভিন্ন। যেন কোনো হিংস্র বন্য জন্তু তীক্ষ্ণ নোখ দিয়ে তাদের ছিঁড়েখুঁড়ে ফালাফালা করেছে। শুধু তাই নয়, পাঁচটি লাশই ছিল মুন্ডুহীন। সেখানে বসানো ছিল মাটির হাঁড়ি। যার উপর রক্ত দিয়ে লেখা, 'গেস হু?'
খুনি কিন্তু এই পাঁচটা খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি। রক্তের স্বাদ সে পেয়ে গেছে। এবার সে শুরু করে আরও তান্ডব লীলা। এই খুনের কেসের যখন ইনভেস্টিগেশনে নামে সি.আই.ডি দপ্তর, তখনই শুরু হয় খুনির তান্ডব নৃত্য। একে একে সে খুন করতে থাকে ইনভেস্টিগেটিং অফিসারদের। ভয়ে সকলে তটস্থ। কিন্তু নয় নম্বর খুন করার পরই সে হাওয়া, কেন?
বত্রিশ বছর পর কেস আবার রি-ওপেন হলো, আর সাথে ফিরে আসলো সেই সাইকো কিলার। এবার তার নিশানা ইনভেস্টিগেটিং অফিসার অধিরাজ ব্যানার্জীর উপর। এদিকে সন্দেহের তীর ঘুরছে অনেকেরই দিকে। অধিরাজের বস স্বয়ং এডিজি শিশির সেনও রয়েছে এই তালিকায়। কোন কথা লুকাচ্ছে সে? অধিরাজ কি পারবে এই সাইকো কিলারকে আটকাতে নাকি নিজেই তার দশম শিকার হবে?
'সর্বনাশিনী'-তে অপরাধীর কলুষিত শৈশব দেখানো হলেও, সেটা যতোটা বেদনাদায়ক ছিল, এটা তার থেকেও বেশি। বাচ্চারা ঠিক ফুলের কড়ির মতো হয়, তাদের আদর যত্ন দিলে তারা ভালোভাবে প্রস্ফুটিত হবে। কিন্তু যদি সেই বাচ্চার শৈশব কলুষিত, বিভীষিকাময় হয়, তবে তার শৈশব মনস্তত্ত্বে যে ধাক্কাটা লাগে, তাতে সে চরমতম অপরাধ করার থেকেও পিছপা হয় না। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। অপরাধীর ছেলেবেলার স্মৃতি যতোবার ফুটে উঠেছে, ততবার দেখা গেছে তার মুখে বেদনা, কষ্টের ছাপ। দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন, অত্যাচারের শিকার হতে হতেই তার হৃদয়ে জ্বলে উঠেছে প্রতিশোধের আগুন। হয়ে উঠেছে সে এক ভয়ঙ্কর রাক্ষস। যার শরীরে দয়া, মায়ার বিন্দুমাত্র স্থান নেই।
একজন খুনি হিসেবে তার প্রতি যতোই ঘেন্না আসুক, কিন্তু তার সাথে হওয়া অত্যাচারে বুকের ভেতর একটা চিনচিন ব্যাথাই হচ্ছিল। এরকম পরিস্থিতির শিকার যেন কোনো বাচ্চাকেই হতে না হয়, এই কথাটাই বারবার মাথায় আসছিল।
থ্রিলার পড়তে গিয়ে যখন হররের ফিল আসে, তখন বুঝতেই পারা যায় লেখিকা কী সাংঘাতিক ধরনের বর্ণনা করেছেন। খুনির নৃশংস হত্যালীলার বর্ণনায় শিড়দাঁড়া দিয়ে হিমেল স্রোত বয়ে যাচ্ছিল ভর দুপুর বেলাতেও। 'সর্বনাশিনী' পড়ে যতোটা তৃপ্ত হয়েছিলাম, এটা পড়ে তার থেকেও বেশি হলাম।
অধিরাজ সিরিজের এই নিয়ে দুটো লেখা পড়লাম। আর এই দুটো পড়েই অধিরাজের চরিত্রটাকে বেশ ভালো লাগছে। আর এই ভালো লাগার পেছনে কারণ একটাই যে, লেখিকা কোথাও তাকে সুপার হিরো, দ্য পারফেক্ট ম্যান দেখান নি। তারও আঘাত লাগে, অসহায় হয়ে ভেঙে পড়ে, ব্যার্থ হয়, সর্বোপরি সেও ভয় পায়। আর এই কারণেই চরিত্রটা ফুটে উঠেছে। হ্যাঁ এটা ঠিক যে, তার রূপ-গুণের বর্ণনা একটু কম করলেও চলতো। তবে 'সর্বনাশিনী'-এর থেকে এখানে সেটা কম আছে। আর যতোটা আছে, সেটা কাহিনীর সাপেক্ষে আমার অন্তত ঠিকই লেগেছে। যেটা 'সর্বনাশিনী'-তে একটু বেশিই চোখে লাগছিল।
সবশেষে, আবারও দুর্দান্ত একটা থ্রিলার পড়লাম। যা এতোটাই রহস্যে ঘেরা যে, প্রায় নাওয়া-খাওয়া ভুলে গিয়ে পাতার পর পাতা উলটে শুধু পড়ে গেছি, এরপর কী হবে, এটা জানার তাগিদে। অত্যন্ত পারদর্শিতায় লেখিকা রহস্যের জালকে প্রথমে ছড়িয়ে, পড়ে ধীরে ধীরে তা গুটিয়ে এনেছেন। প্রত্যেকটা টুইস্ট ছিল একদম চমকপ্রদ। ভীষণ মাত্রায় উপভোগ করলাম লেখাটা। আবারও তৃপ্ত হলাম।
পাঠকেরা চাইলে একবার পড়ে দেখতে পারেন বইটি। আশাকরি ভালো লাগবে। পাঠে থাকুন।
"এ ঘোর পিপাসা যুগ-যুগান্তে মিটিবে কি কভু আর। বুকের ভিতরে ছুরির মতোন, মনের মাঝারে বিষের মতোন, রোগের মতোন, শোকের মতোন রব আমি অনিবার।" "যেথায় আলোক সেইখানে ছায়া এই তো নিয়ম ভবে, ও রূপের কাছে চিরদিন তাই এ ক্ষুধা জাগিয়া রবে!"
বত্রিশ বছর আগের ঘটনা! সিরিয়াল কিলিং… একই দিনে, গভীর রাতে শহরের পাঁচটি পুলিশ স্টেশনের সামনে একের পর এক ডাম্প করা হল পাঁচজন পুরুষের লাশ। কিন্তু তাদের মাথার জায়গায় বসানো ছিল একটি করে হাঁড়ি যেমন কাকতাড়ুয়ার মাথায় থাকে। হাঁড়ির ওপর রক্ত দিয়ে লেখা--'গেস হু?' ওরা ব্যক্তিগত জীবনে কেউ কাউকে চিনতই না। তবে খুনী তাদেরই বেছে বেছে খুন করল কেন? ১৫ দিনের মাথায় পাওয়া গেল এই কেসের ইনভেস্টিগেটিং অফিসারের মুন্ডহীন মৃতদেহ। একইভাবে মৃত্যু হয় পরবর্তী তিনজন ইনভেস্টিগেটিং অফিসারেরও। তারপর আর কেউ নিতে রাজি হয়নি কেস
আজ বত্রিশ বছর পর কেন আবার দরকার পড়ল রি-ইনভেস্টিগেশনের? একজন প্যাথলজিক্যাল লায়ার। সে নিজের নামটাও পর্যন্ত মিথ্যে বলছে৷ অধিরাজ কি পাবে মিথ্যের ভিড়ে সত্যের খোঁজ? অত্যন্ত দুঃখে আছে নিঃসঙ্গ মানুষটি। ক্যালেন্ডারে একের পর এক ডেট ক্রস দিয়ে যাচ্ছে সে! কিন্তু কেন? অন্যদিকে সন্দেহের তালিকায় অধিরাজের বস স্বয়ং এডিজি শিশির সেন! সারজিকাল স হাতে সে হানা দেয় চুপি চুপি!সে কে? তার মোটিভ কী? মোডাস অপারেন্ডি কী? কেনই বা সে এই হত্যালীলায় মেতেছিল? বত্রিশ বছর পরে কি কেস সলভ হবে?নাকি অধিরাজ স্বয়ং হয়ে যাবে খুনীর দশম শিকার!
বইটা স্পাই থ্রিলার হিসেবে আমার কাছে ভালো লেগেছে মানে হ্যাঁ আপনাকে শেষ করিয়েই ছাড়বে।বইয়ের লেখনী অনেক সুন্দর ছিলো।আর লেখিকা অনেক শিক্ষনীয় ব্যাপার রেখেছে আমাদের জন্য যে বুলিং একটা মানুষের জীবন কতোটা জঘন্য করে দিতে পারে তা এই বই পড়লে বুঝা যায়।উনি প্রতিটা ছোট ডিটেইলস কে এক্সপ্লেইন করেছে যা অসাধারণ লেগেছে!
কিন্তু কিছু ব্যাপার আপনার বিরক্ত ও লাগতে পারে যেমন অধিরাজের গুনগান এত্তবার গেয়েছে লেখিকা যে আমিই মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে গিয়েছি।অধিরাজ আর তার এসিস্ট্যান্ট (নাম বলছিনা স্পয়লার এর জন্য) এদের সম্পর্ক টা লেখিকা এমন ঝুলিয়ে রেখেছে কেনো বুঝিনা।একবার সহকর্মী বানায় আবার পার্টনারের মতো রোমান্স ঢুকায় দেয়।ব্যাপার টা ক্লিয়ার হলে ভালো লাগতো।আর অফিসার হিসেবে অধিরাজের খালি শারীরিক সৌন্দর্যের বর্ননা না দিয়ে চরিত্র টা কে কিলারের সামনে আরেকটু স্ট্রং বানালেও পারতো।১-২ বার ৩২ বছর আগের কিলার চকমা দিয়ে চোখের সামনে দিয়ে ভেগে গেসে।ব্যাপার টা কেমন কেমন জানি। প্রতিটা স্পাই এর চোখ কান খোলা থাকে।অধিরাজের কিছু ব্যাপার খাপ ছাড়া লেগেছিলো।
এসব ব্যাপার গুলি সাজানো থাকলে আর কিছু অহেতুক ফ্লার্ট টাইপ বিষয় না থাকলে বা অধিরাজ কে আরেকটু স্ট্রং দেখালেই পুরা জমে যাইতো বইটা।কিন্তু রাইটার ডিপ নলেজ নিয়েই পুরো বই গুছিয়ে লিখেছে।
আরেকটা ব্যাপার না বললেই নয় বইটা প্রচুর হ্যান্ডি।মানে ক্যারি করতে আপনার সেই লাগবে এত্ত অস্থির প্রোডাকশন কোয়ালিটি।
বিঃদ্রঃনিজে যাচাই বাছাই করে বইটা কিনবেন।কিছু ডিস্টার্বিং ব্যাপার আছে বইয়ে।রিভিউ ভালো না লাগলে ইগনোর করবেন।আমি গুছিয়ে লিখতে পারিনা।
এক নিঃশ্বাসে শেষ করার মতো এই ‘ক্রাইম থ্রিলার’, যার মূল ভিত্তি ‘সিরিয়াল কিলিং’। তবে সঠিকভাবে বললে, এই উপন্যাস একটি ‘সাইক্যোলজিক্যাল ক্রাইম থ্রিলার’। একবার পড়তে শুরু করলে কাহিনীর শেষ অবধি না পৌঁছানো অবধি পাঠকের স্বস্তি নেই ।
▫️শুধুমাত্র লেখনীর মাধ্যমে পাঠককে বইয়ের শেষ অবধি টেনে নিয়ে যাওয়াতে লেখিকা ‘সায়ন্তনী পুততুন্ড’র জুড়ি মেলা ভার । এত কথা বলছি তার কারণ... পাঠককে রীতিমতো আকৃষ্ট করে তার লেখনী । কিন্তু এই উপন্যাসে বেশ কিছু জিনিস বড্ড চোখে লাগল ।
▫️‘অধিরাজ’ যে বর্তমান থ্রিলারপ্রেমী পাঠকদের অন্যতম প্রিয় চরিত্র, সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই । কিন্তু, এই উপন্যাসের বেশ ক��ছু দৃশ্যে তাকে ‘সুপারহিরো’ প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা গল্পের বইয়ের থেকে সিনেমায় দেখতেই বেশি ভালো লাগে । এছাড়া, টানটান কাহিনীর মধ্যে জোর করে হাস্যরসের প্রয়োগ... যা রীতিমতো বিরক্তিকর ।
📑 এই উপন্যাসের দুর্বল অংশ যদি ঐগুলো হয়, তবে ভালো দিকটিও কিন্তু লেখিকার লেখনী ।‘অধিরাজ কাহিনি’র যে দুটি বিষয় সবচেয়ে আকর্ষণীয় তা হল - ফরেন্সিক সায়েন্সের সহজ সরল বর্ণনা, অার রহস্যভেদীর পাশাপাশি মূল অপরাধীর মনস্তত্ত্বের সুন্দর অালোচনা । এই থ্রিলারটিতেও দুটি বিষয়ই রয়েছে দারুণভাবে । পুরো কাহিনি জুড়ে অধিরাজের চিন্তা-ভাবনা-প্ল্যানিং এর সাথে খুনীর চিন্তা-ভাবনা-প্ল্যানিং এর ডুয়েল চলতে থাকে, যা ভীষণ উপভোগ্য ।
▫️এই উপন্যাসে ‘অধিরাজ’ চরিত্রটি পাঠকদের কাছে একটু অন্যভাবে ধরা দেয় । কিছু কিছু কেস যে তাকেও মানসিক যন্ত্রনা দিতে পারে তা এই উপন্যাস পড়লে পাঠক উপলব্ধি করবে । এছাড়া এই উপন্যাসে অর্ণবের চরিত্রটা কে লেখিকা অন্য ভাবে পাঠকের কাছে তুলে ধরেছেন । পুরো কাহিনি তে খুনী অার অধিরাজের ডুয়েলের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছে অর্ণব । যখনই খুনী বাগে পেয়েছে অধিরাজকে, তখনই তার সামনে অধিরাজের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছে অর্ণব । এই উপন্যাসে অধিরাজ ও অর্ণবের সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার ও তার অধীনস্থ জুনিয়ার অফিসারের মধ্যে অাদর্শ সম্পর্ক কি রকম হওয়া উচিৎ তা পাঠকদের কাছে তুলে ধরছেন লেখিকা ।
📄 এই কাহিনীতে মনস্তাত্ত্বিক অংশটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ । অপরাধীর জটিল মনস্তত্ব বুঝে অধিরাজকে রহস্যের সমাধান করতে হয়েছে । শিশু মনস্তত্ব নিয়েও বেশ সুন্দর ব্যখ্যা আছে । তবে এই উপন্যাস কিন্তু ‘প্রাপ্তমনস্ক’ পাঠকদের জন্য, বীভৎসতা এবং নৃশংসতা ছড়িয়ে আছে গোটা উপন্যাস জুড়ে... যা রীতিমতো ‘ভয়-জাগানিয়া'।
▫️সবমিলিয়ে বলতে পারি ‘সর্বনাশিনী’র পর লেখিকা অারো একটি দুর্দান্ত থ্রিলার পাঠকদের উপহার দিয়েছেন । আদ্যোপান্ত টানটান উপন্যাস, পাঠককে রুদ্ধশ্বাসে শেষ পাতা পর্যন্ত পড়তে বাধ্য করবে ।
বেছে বেছে খুন হয়েছে সুদর্শন আর একই সাথে সুঠাম, এক কথায় “Manly” সব পুরুষমানুষ। খুন করে লাশগুলোকে সাজিয়ে রেখে যাওয়া হয় আমজনতার দেখার জন্য, মাথা গাপ করে দিয়ে সেখানে মাটির হাঁড়ি বসিয়ে তার ওপরে রক্ত দিয়ে লেখা হয় “গেস হু?”। কিন্তু বত্রিশ বছর আগে ঘটা ঐ কেইস রি-ওপেনিং কেন এখন? যেখানে আসামী-ই চৌদ্দ শিকের ভেতরে?!
গল্পের মূল নায়ক সিআইডি-র শ্রেষ্ঠ অফিসার অধিরাজ ব্যানার্জী। তুখোড় বুদ্ধিধর এই পুলিশ রহস্যের নাড়িনক্ষত্র খুঁজে বের করার ক্ষমতা রাখে। তবুও ডেপুটি অর্ণব সরকার ছাড়া ঠিক যেন জমে না। গল্পের সিরিয়াল কিলার খুন করার আগে শিকারদের ধর্ষণ করে বলে মনে হয় সে “গে”। ওদিকে গল্পে অধিরাজ-অর্ণবের ক্যামিস্ট্রিও এমন চরম যে অধীরাজের দেহসৌষ্ঠবের মুখরোচক বর্ণনা পড়ে নারী পাঠক আমি উতলা হইনি। বরং মনে হচ্ছিল এই বুঝি অধিরাজ অর্ণবকে বাহুডোরে বেঁধে নেয়! ওদিকে নারী চরিত্র ফরেনসিক দলের আহেলি মুখার্জী আর পুলিশ অফিসার আত্রেয়ী দত্তের সাথে অধিরাজ-অর্ণবের রংঢং-এর উল্ল্যেখ-ও আছে। সব মিলিয়ে, বইটার মাঝমাঝি এসে খুনী কে জানার চেয়ে অধিরাজ-অর্ণব গে কিনা এই রহস্যের উত্তর পেতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছিলাম!
কিন্তু বইটা “চুপি চুপি”-ই মন কেড়ে নিয়েছে! তাই কখন যে “খুনী কে”- এই প্রশ্নের উত্তর আমার মাথা খোঁজা শুরু করেছে টের পাইনি। সায়ন্তিনী পূততুন্ড-এর লেখা প্রথম পড়লাম। চটকদার লেখা, একবার নিয়ে বসলে ওঠা মুশকিল। মালমশসা অনেক হলেও ব্যবহারও পরিমিত। কিছু স্পর্শকাতর দৃশ্যের বিবরণ একটু “বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে” মনে হতে পারে। কিন্তু গল্পের চরিত্রদের জন্য পাঠকের মনে যেই অনুভূতির জন্ম লেখক দিতে চেয়েছেন সেটার জন্য ঐটুকু আসলেও দরকার ছিল। গল্পে চরিত্ররা গল্পের প্রয়োজনেই এসেছে আর চরিত্রগুলো একঘেয়ে নয়। সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে গল্প চটকদার করতে গিয়ে লেখক মূল রহস্য সমাধানের জায়গায় ফাঁক রাখেননি। আমার মোটা মাথা খেটেও তেমন প্লট আর্মর বা প্লট-হোল খুঁজে পায়নি। বইটা শেষ করে তাই বেশ আরামবোধ হয়েছে।
This entire review has been hidden because of spoilers.