What do you think?


অনিমেষ ##৩
কালপুরুষ
সত্তর দশকের অগ্নিস্রাবী রাজনৈতিক পথ-পরিক্রমার শেষ পর্বে কালবেলার নায়ক অনিমেষ আশা করেছিল তার পুত্র অর্ক তার সমাজতান্ত্রিক আদর্শের নিশানটি শক্ত হাতে বহর করে নিয়ে চলবে। কিন্তু সমকালীন অন্তঃসারহীন কটিল রাজনীতি এবং পঙ্কিল সমাজব্যবস্থা অর্ককে করে তুলেছিল অন্ধকার অসামাজিক রাজত্বের প্রতিনিধি। কিন্তু যেহেতু তার রক্তের মধ্যে ছিল অনিমেষের সুস্থ আদর্শবাদ এবং তার মা মাধবীলতার দৃঢ়তা ও পবিত্রতার সংমিশ্রিত উপাদান, সেই হেতু তার বোধোদয় ঘটতে বিলম্ব হয়নি। এক ভিন্ন মানসিকতায় সে আহ্বান শুনেছিল চিরকালীন মানবতার। একদিকে সুবিধাবাদী সমাজব্যবস্থার যূপকোষ্ঠে নিষ্পেষিত ও নিপীড়িত কিছু মানুষকে একত্র করে তাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল নতুন ভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। তাদের সামনে তুলে ধরেছি
Kindle Edition
First published January 1, 1985
About the author
Samaresh Majumdar
347 books738 followersSamaresh Majumdar (Bangla: সমরেশ মজুমদার) was a well-known Bengali writer. He spent his childhood years in the tea gardens of Duars, Jalpaiguri, West Bengal, India. He was a student of the Jalpaiguri Zilla School, Jalpaiguri. He completed his bachelors in Bengali from Scottish Church College, Kolkata. His first story appeared in "Desh" in 1967. "Dour" was his first novel, which was published in "Desh" in 1976. Author of novels, short stories and travelogues, Samaresh received the Indian government's coveted Sahitya Akademi award for the second book of the Animesh series, 'Kalbela".
Some of his famous characters are:
1. Animesh & Madhabilata (Animesh Quartet)
2. Arjun - Fictional sleuth.
3. Dipaboli (Saatkahon)
সমরেশ মজুমদার-এর জন্ম ১০ মার্চ ১৯৪৪। শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা-বাগানে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র। কলকাতায় আসেন ১৯৬০-এ। শিক্ষা: স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ। প্রথমে গ্রুপ থিয়েটার করতেন। তারপর নাটক লিখতে গিয়ে গল্প লেখা। প্রথম গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে। প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’, ১৯৭৫-এ ‘দেশ’ পত্রিকায়। গ্রন্থ: দৌড়, এই আমি রেণু, উত্তরাধিকার, বন্দীনিবাস, বড় পাপ হে, উজান গঙ্গা, বাসভূমি, লক্ষ্মীর পাঁচালি, উনিশ বিশ, সওয়ার, কালবেলা, কালপুরুষ এবং আরও অনেক। সম্মান: ১৯৮২ সালের আনন্দ পুরস্কার তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি। এ ছাড়া ‘দৌড়’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার হিসাবে বি এফ জে এ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে ‘কালবেলা’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
মৃত্যু : ৮ মে, ২০২৩
Some of his famous characters are:
1. Animesh & Madhabilata (Animesh Quartet)
2. Arjun - Fictional sleuth.
3. Dipaboli (Saatkahon)
সমরেশ মজুমদার-এর জন্ম ১০ মার্চ ১৯৪৪। শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা-বাগানে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র। কলকাতায় আসেন ১৯৬০-এ। শিক্ষা: স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ। প্রথমে গ্রুপ থিয়েটার করতেন। তারপর নাটক লিখতে গিয়ে গল্প লেখা। প্রথম গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে। প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’, ১৯৭৫-এ ‘দেশ’ পত্রিকায়। গ্রন্থ: দৌড়, এই আমি রেণু, উত্তরাধিকার, বন্দীনিবাস, বড় পাপ হে, উজান গঙ্গা, বাসভূমি, লক্ষ্মীর পাঁচালি, উনিশ বিশ, সওয়ার, কালবেলা, কালপুরুষ এবং আরও অনেক। সম্মান: ১৯৮২ সালের আনন্দ পুরস্কার তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি। এ ছাড়া ‘দৌড়’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার হিসাবে বি এফ জে এ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে ‘কালবেলা’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
মৃত্যু : ৮ মে, ২০২৩
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 82 reviews
February 20, 2018
অর্ককে অনিমেষের তুলনায় আমার তেমন একটা পছন্দ হয়নি। অনিমেষ ছিল শান্ত, সুন্দর আর স্থির। সেখানে অর্ক একটু কেমন যেন। অনিমেষ আর মাধবীলতার ভালোবাসার ফুল মনে হয় একটু অন্যরকম হওয়ার কথা ছিল। ছোটমা আর পিসামার অসহায়ত্ব খুব কস্ট দিয়েছে । আমাদের দেশের একসময় মেয়েদের অবলম্বন বলে তেমন কিছু ছিলনা। কতটা অসহায় ছিলেন তারা। ভাগ্য ভাল আমাদের যে দিন পাল্টেছে। মাধবীলতার কথাই বলি। স্বামী সন্তানকে নিয়ে কখনো অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয়নি তাকে।
তিন নম্বর ঈশ্বরপুকুর লেনে দিন আসে দিন যায়। এরমাঝেই একটু একটু করে বেড়ে ওঠছে অর্ক। অর্ক মানে সূর্য। অনিমেষ আর মাধবীলতার ভালোবাসার ফুল অর্ক। নামটা মাধবীলতার দেয়া। তাদের নিস্তব্ধ জীবনের সূর্য যেন অর্ক। যদিও পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে সব সময় কি একটা ভয়ে থাকে মাধবীলতা। ঈশ্বরপুকুর লেনের এই ঘুপচি ঘরে আশেপাশের শত কদর্যতার মাঝে বেড়ে ওঠা অর্ককে নিয়ে তাই সবসময়ই ভয় করে মাধবীলতা। বস্তিতে থাকার মাশুল অবশ্য দিতেই হয় অনিমেষ আর মাধবীলতার। স্কুল আর ঋণের চাপে জর্জরিত মাধবীলতা আর পুলিশের অত্যাচারে পঙ্গু অসহায় অনিমেষের শত সতর্কতার পরও অর্ক আস্তে আস্তে বস্তির পরিবেশে আসক্ত হতে থাকে। মুখের ভাষা হয়ে যায় খিস্তি মেশানো আর বন্ধু-বান্ধবদের প্ররোচনায় ভুল পথে পা বাড়ায় অর্ক। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি আর খিস্তি খেউড় যাদের নিত্য নৈমিত্তিক কাজ তাদের থেকে ভাল কিছু আর কিভাবে আশা করা যায়। কিলা, খুরকি, বিলা এরাই হয়ে ওঠে অর্কর নিত্যদিনের সঙ্গী। অন্য একটা ঘটনায় সমাজের উচু তলার কিছু মানুষগুলোর আসল চেহারাটা সামনে আসে অর্কর। ঘটনার তীব্রতায় জ্বর চলে আসে তার। এতবড় ছেলে মায়ের আচলে মুখ গুজে খালি বলে চলে বমি পাচ্ছে মা। কতটা নোংরা কদর্যতা দেখলে একটা ছেলে এমন কথা বলতে পারে একটু ভাবুন তো। এইসব দেখেশুনে তীব্র প্রতিবাদে মুখরিত হয়ে ওঠে অর্ক। নিজের সাথে নিজেই প্রতিজ্ঞা করে সমাজের এসব অসঙ্গতির সাথে কখনোই তাল মেলাবে না। সত্যকে সত্য, অন্যায়কে অন্যায়ই বলবে। বস্তির লোকজনকে সাথে নিয়ে নতুন এক আন্দোলনে সামিল হয় সে। এক পরিবার এক হাড়ি হিসেব করে পুরো বস্তিকে সাথে নিয়ে শুরু করে এক বিরল ধরনের কাজ। নির্দিষ্ট একটা অর্থের বিনিময়ে সারা মাস তিনবেলা সবাইকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নেয় সে। এসব দেখেশুনে আশার সঞ্চার হয় অনিমেষ মাধবীলতার মনে। অর্কর এই প্রচেষ্টা কি সফল হবে? নাকি ঘুণে ধরা সমাজের ততোধিক নষ্ট মানুষগুলোর আতে ঘা লাগবে এভাবে?
হ্যাপি রিডিং ।
তিন নম্বর ঈশ্বরপুকুর লেনে দিন আসে দিন যায়। এরমাঝেই একটু একটু করে বেড়ে ওঠছে অর্ক। অর্ক মানে সূর্য। অনিমেষ আর মাধবীলতার ভালোবাসার ফুল অর্ক। নামটা মাধবীলতার দেয়া। তাদের নিস্তব্ধ জীবনের সূর্য যেন অর্ক। যদিও পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে সব সময় কি একটা ভয়ে থাকে মাধবীলতা। ঈশ্বরপুকুর লেনের এই ঘুপচি ঘরে আশেপাশের শত কদর্যতার মাঝে বেড়ে ওঠা অর্ককে নিয়ে তাই সবসময়ই ভয় করে মাধবীলতা। বস্তিতে থাকার মাশুল অবশ্য দিতেই হয় অনিমেষ আর মাধবীলতার। স্কুল আর ঋণের চাপে জর্জরিত মাধবীলতা আর পুলিশের অত্যাচারে পঙ্গু অসহায় অনিমেষের শত সতর্কতার পরও অর্ক আস্তে আস্তে বস্তির পরিবেশে আসক্ত হতে থাকে। মুখের ভাষা হয়ে যায় খিস্তি মেশানো আর বন্ধু-বান্ধবদের প্ররোচনায় ভুল পথে পা বাড়ায় অর্ক। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি আর খিস্তি খেউড় যাদের নিত্য নৈমিত্তিক কাজ তাদের থেকে ভাল কিছু আর কিভাবে আশা করা যায়। কিলা, খুরকি, বিলা এরাই হয়ে ওঠে অর্কর নিত্যদিনের সঙ্গী। অন্য একটা ঘটনায় সমাজের উচু তলার কিছু মানুষগুলোর আসল চেহারাটা সামনে আসে অর্কর। ঘটনার তীব্রতায় জ্বর চলে আসে তার। এতবড় ছেলে মায়ের আচলে মুখ গুজে খালি বলে চলে বমি পাচ্ছে মা। কতটা নোংরা কদর্যতা দেখলে একটা ছেলে এমন কথা বলতে পারে একটু ভাবুন তো। এইসব দেখেশুনে তীব্র প্রতিবাদে মুখরিত হয়ে ওঠে অর্ক। নিজের সাথে নিজেই প্রতিজ্ঞা করে সমাজের এসব অসঙ্গতির সাথে কখনোই তাল মেলাবে না। সত্যকে সত্য, অন্যায়কে অন্যায়ই বলবে। বস্তির লোকজনকে সাথে নিয়ে নতুন এক আন্দোলনে সামিল হয় সে। এক পরিবার এক হাড়ি হিসেব করে পুরো বস্তিকে সাথে নিয়ে শুরু করে এক বিরল ধরনের কাজ। নির্দিষ্ট একটা অর্থের বিনিময়ে সারা মাস তিনবেলা সবাইকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নেয় সে। এসব দেখেশুনে আশার সঞ্চার হয় অনিমেষ মাধবীলতার মনে। অর্কর এই প্রচেষ্টা কি সফল হবে? নাকি ঘুণে ধরা সমাজের ততোধিক নষ্ট মানুষগুলোর আতে ঘা লাগবে এভাবে?
হ্যাপি রিডিং ।
February 11, 2018
নীলক্ষেতে পুরনো বইয়ের লট থেকে কম দামে ছেড়ে দিচ্ছিল। ৬০ টাকায় কিনেছিলাম বইটা বছর দেড়েক আগে। অবশেষে পড়তে শুরু করলাম। অর্ধেক এগিয়েই জানলাম এটা সমরেশ মজুমদারের অনিমেষ সিরিজের বই। তাও আবার একলাফে তিন নম্বরটা! ভাবলাম কি আর করা, পড়েই ফেলি। এটা তো জীবন নয়, যে শেষটা আগে জেনে ফেললে বাঁচার আনন্দ হারিয়ে যাবে।
অবশেষে শেষ করলাম। লেখকের সাতকাহন ও গর্ভধারিণী পড়েছি আগে। তাঁর লেখা বোধ হয় এমনই। বয়স কম ছিল বলে কি আগে এতোটা বুঝতে পারিনি?
অথচ এই বইটা পড়ে তাঁর লেখনীর ধাঁচে মুগ্ধ হয়ে গেছি। মনে হচ্ছিলো, ঠিক এমনটাই হয় জীবনে। চরিত্রগুলো আফসোস করে, রেগে ওঠে, মনে মনে ভাবে, জেদ করে। কিছু কথা বলে ফেলে ভুলে, তারপরে অনুতাপে মরে যায়। মানুষের চিন্তাগুলোকে এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা যায়?
পনেরো বছরের একটা ছেলে কত কিছু নতুন করে শিখছে, জীবনের দর্শনগুলো আবিষ্কার করে আস্তে আস্তে বড়দের মত চিন্তা করতে শুরু করেছে। এতো সুন্দর করে কিভাবে লেখা যায় এসব? ইশ!
কাহিনী অনেক বিশদ। খুব পরিপাটি করে সাজানো। নকশাল আন্দোলন নিয়ে কিছুটা ধারণা হল। সোজা কোথায়, ভালো লেগেছে খুউব :)
অবশেষে শেষ করলাম। লেখকের সাতকাহন ও গর্ভধারিণী পড়েছি আগে। তাঁর লেখা বোধ হয় এমনই। বয়স কম ছিল বলে কি আগে এতোটা বুঝতে পারিনি?
অথচ এই বইটা পড়ে তাঁর লেখনীর ধাঁচে মুগ্ধ হয়ে গেছি। মনে হচ্ছিলো, ঠিক এমনটাই হয় জীবনে। চরিত্রগুলো আফসোস করে, রেগে ওঠে, মনে মনে ভাবে, জেদ করে। কিছু কথা বলে ফেলে ভুলে, তারপরে অনুতাপে মরে যায়। মানুষের চিন্তাগুলোকে এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা যায়?
পনেরো বছরের একটা ছেলে কত কিছু নতুন করে শিখছে, জীবনের দর্শনগুলো আবিষ্কার করে আস্তে আস্তে বড়দের মত চিন্তা করতে শুরু করেছে। এতো সুন্দর করে কিভাবে লেখা যায় এসব? ইশ!
কাহিনী অনেক বিশদ। খুব পরিপাটি করে সাজানো। নকশাল আন্দোলন নিয়ে কিছুটা ধারণা হল। সোজা কোথায়, ভালো লেগেছে খুউব :)
April 12, 2026
সমরেশ মজুমদারের অনিমেষ সিরিজের তৃতীয় বই "কালপুরুষ"। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মাধবীলতা ও ছেলে অর্কের সাথে অনিমেষ এক বস্তিতে ঘর ভাড়া করে থাকে। মাধবীলতার স্কুল শিক্ষকতার স্বল্প আয়ে তাঁদের টানাপোড়েনের সংসার।
মাধবীলতা ও অনিমেষের ছেলে অর্ক। অনিমেষের ধারণা ছিল তাঁর আদর্শে বেড়ে উঠবে অর্ক। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে অর্ক যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বস্তিবাসী ছেলেদের সাথে ওঠাবসা করে পড়াশোনা বাদ দিয়ে। অর্কর কাছে পড়াশোনা করাটা আসলেই অর্থহীন।
একটা সময় জলপাইগুড়ি থেকে টেলিগ্রাম আসে। অসুস্থ বাবাকে শেষ দেখা দেখতে সপরিবারে জলপাইগুড়ি যায় অনিমেষ। সেখানে তাঁর অতীতের সাথীদের সাথে সাক্ষাৎ হয় অনিমেষের। তবে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তিত হয় অর্ক। নিজের আত্মপরিচয় জানতে পারে সে। তাঁর চিন্তা জগত যেন আলোড়ন তোলে সবকিছু।
কলকাতায় যেন ফিরে আসে অন্য এক অর্ক। এ অর্ক ঠিক সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। মায়ের অসুস্থতার চিকিৎসা থেকে শুরু করে বস্তিবাসীদের একত্রিত করে কমিউনিটি কিচেন - সবকিছুতে সম্পৃক্ত হয় অর্ক। এ যেন অনিমেষ-মাধবীলতার আদর্শে উজ্জীবীত নতুন অর্ক।
একটা সময় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে মিথ্যা অভিযোগে আটক হয় অর্ক। কিন্তু অর্ককে কেন্দ্র করে সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ হয়। তথাকথিত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের ক্ষমতাই নাই তাকে আটকানোর।
অনিমেষ সিরিজের তৃতীয় বইটা প্রথম দুটির মতো অসাধারণ! পড়ে বেশ ভালো লাগলো।
মাধবীলতা ও অনিমেষের ছেলে অর্ক। অনিমেষের ধারণা ছিল তাঁর আদর্শে বেড়ে উঠবে অর্ক। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে অর্ক যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বস্তিবাসী ছেলেদের সাথে ওঠাবসা করে পড়াশোনা বাদ দিয়ে। অর্কর কাছে পড়াশোনা করাটা আসলেই অর্থহীন।
একটা সময় জলপাইগুড়ি থেকে টেলিগ্রাম আসে। অসুস্থ বাবাকে শেষ দেখা দেখতে সপরিবারে জলপাইগুড়ি যায় অনিমেষ। সেখানে তাঁর অতীতের সাথীদের সাথে সাক্ষাৎ হয় অনিমেষের। তবে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তিত হয় অর্ক। নিজের আত্মপরিচয় জানতে পারে সে। তাঁর চিন্তা জগত যেন আলোড়ন তোলে সবকিছু।
কলকাতায় যেন ফিরে আসে অন্য এক অর্ক। এ অর্ক ঠিক সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। মায়ের অসুস্থতার চিকিৎসা থেকে শুরু করে বস্তিবাসীদের একত্রিত করে কমিউনিটি কিচেন - সবকিছুতে সম্পৃক্ত হয় অর্ক। এ যেন অনিমেষ-মাধবীলতার আদর্শে উজ্জীবীত নতুন অর্ক।
একটা সময় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে মিথ্যা অভিযোগে আটক হয় অর্ক। কিন্তু অর্ককে কেন্দ্র করে সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ হয়। তথাকথিত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের ক্ষমতাই নাই তাকে আটকানোর।
অনিমেষ সিরিজের তৃতীয় বইটা প্রথম দুটির মতো অসাধারণ! পড়ে বেশ ভালো লাগলো।
June 15, 2014
এইটা কালবেলার পরের পার্ট। কালবেলার নায়ক অনিমেষের পুত্র অর্ককে নিয়ে ঘটনা। অর্ক তার নামের সার্থকতা প্রমাণ করেই সূর্যের মত জ্বলজ্বল করেছে। অর্ককে আমার খুব ভাল্লাগার কারণ হিসেবে বলা যায় অর্কর চরিত্রে তার মা বাবার শক্তিশালী দিকগুলা এসেছে। বস্তিতে থেকে নষ্ট হতে হতেও অর্কের মাঝে তার বাবার মূল্যবোধ আর মায়ের তেজস্বীতা ঠিক সময় মতেই জেগে উঠেছে। অবশ্য গল্প উপন্যাসে অনেক কিছুই করা গেলেও বাস্তবতা আসলে আরো কঠিন। তাও বেশ থ্রিল পেয়েছিলাম বইটা পড়ে।
February 9, 2021
it was quite heartbreaking at first to see them in that state. It gets better though. It was slower than কালবেলা ।
January 14, 2015
বইটা পড়ে অনেকটুকু এগিয়ে যাওয়ার পর মনে মনে ভাবছিলাম যে উপন্যাসত্রয়ের প্রথম ২টা (উত্তরাধিকার এবং কালবেলা) রেখে শেষের টা আগে শুরু করে ভুল করে ফেললাম নাকি। কিন্তু শেষ করার পর মনে হচ্ছে যেন ভালই করেছিলাম। অর্ক চরিত্রটিকে এতো ভালো করে অনুভব করতে পেরেছি যে ওর সামনে অনিমেষ চরিত্রটিকে আমার নিত্যান্ত দুর্বল মনে হয়েছে। যাই হওক, এবার আরম্ভ করলাম "কালবেলা "। দেখি কার পাল্লা ভারী, অর্ক না অনিমেষের।
Read
March 31, 2020উপন্যাোসের শেষটা অসম্ভব সুন্দর। দীপ্তিমান সূর্যের মতো অর্ক জ্বলে উঠে। মাধবিলতার আদর্শ অরককে ভুল পথে যেতে দেয়নি। কিন্তু খারাপ লাগে অনিমেষের চরিত্রের কথা ভেবে। কালবেলা আর উত্তরাধিকার এর গড়ে তুলা অনিমেষ চরিত্রটাকে এভাবে দূরবল করাটা মেনে নেওয়া কষ্ট। বাস্তবতা হয়তো এইরকমই নিষঠুর।
অনিমেষ চরিত্রটা আমার অন্যতম প্রিয় চরিত্র। তাই বইটা শেষে আক্ষেপটা রয়েই গেলো।
অনিমেষ চরিত্রটা আমার অন্যতম প্রিয় চরিত্র। তাই বইটা শেষে আক্ষেপটা রয়েই গেলো।
July 23, 2013
যেহেতু এই উপন্যাসত্রয় একটি বিশেষ পরিস্থিতি ও সময়ে লেখা। এ পরিপ্রেক্ষিতে এর পরিসমাপ্তি আমার কাছে ভাল লাগেনি। [ this novel is good, but it's finishing is not good for me. ]
January 14, 2018
উত্তোরাধিকার আর কালবেলার মত লাগেনি।
June 18, 2022
কালবেলার মতো বিরক্তিকর রাজনৈতিক মতাদর্শেত ছোড়াছুড়ি নেই দেখে ভাল লেগেছে। 'উত্তরাধিকার' এ যেমন সরিৎশেখর, 'কালবেলা' তে যেমন অনিমেষ, 'কালপুরুষ' এ তেমনি অর্ক আর মাধবীলতা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পুরো উপন্যাস জুড়ে। শৈশবের পরিবেশগত কারনে স্বাভাবিকভাবেই স্বর্গছেড়ার নিরিবিলি, ঝামেলাহীন পরিবেশে বড় হওয়া অনিমেষের তুলনায় ঈশ্বরপুকুর লেন বস্তির অর্কর বয়স অনুপাতে যথেষ্ট পরিপক্ক ও বাস্তববাদী হওয়ার কথা ছিল। সমরেশ মজুমদার এ কথা ভুলে নি, বরং পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো এর থেকে বাস্তব আর কিছু হয়না।
উপন্যাসের শুরুর দিকের মাধবীলতার জীবনের স্ট্রাগলগুলো দেখে খারাপ লাগছিলো, একই সাথে অনিমেষের নির্বুদ্ধিতার জন্য রাগ ও হচ্ছিলো। কিন্তু আস্তে আস্তে তা গা সওয়া হয়ে উঠেছিল।
আগে একবার পড়া ছিলো, তবে তার প্রায় কিছুই মনে ছিলো না (শুধু জলপাইগুড়ি যাওয়ার প্রথমদিক চা-দোকানের সামনের মারামারির অংশটুকু ছাড়া)। তাই প্রথমবার পড়ার মতোই ভাল লেগেছে। বরং বলা যায় 'উত্তরাদিকার' আর 'কালবেলা' পড়ার পর নতুন করে পড়ার দরুন আরো বেশি ভাল লেগেছে।
উপন্যাসের শুরুর দিকের মাধবীলতার জীবনের স্ট্রাগলগুলো দেখে খারাপ লাগছিলো, একই সাথে অনিমেষের নির্বুদ্ধিতার জন্য রাগ ও হচ্ছিলো। কিন্তু আস্তে আস্তে তা গা সওয়া হয়ে উঠেছিল।
আগে একবার পড়া ছিলো, তবে তার প্রায় কিছুই মনে ছিলো না (শুধু জলপাইগুড়ি যাওয়ার প্রথমদিক চা-দোকানের সামনের মারামারির অংশটুকু ছাড়া)। তাই প্রথমবার পড়ার মতোই ভাল লেগেছে। বরং বলা যায় 'উত্তরাদিকার' আর 'কালবেলা' পড়ার পর নতুন করে পড়ার দরুন আরো বেশি ভাল লেগেছে।
Read
February 26, 2020উত্তরাধিকার আর কালবেলার উত্তরাধিকারী ঠিক হয়ে উঠতে পারে নি কালপুরুষ। অনিমেষ নায়ক ছিলো, কালের নায়ক। হয়ত ব্যর্থ, তবু ব্যর্থতা অনিমেষকে মহত্ত্বের সোপান থেকে সরিয়ে রাখতে পারে নি। মনে করিয়ে দিতে চাই, স্পার্টাকাসও শেষ অবধি একজন পরাজিত নায়ক। জয়ের চেয়ে পরাজয় অনেক সময় মহান ও গৌরবময়।
অর্ক অনিমেষ আর মাধবীলতার সন্তান, কালপুরুষের নায়ক। কালবেলা আর উত্তরাধিকারের তুলনায় যেমন কালপুরুষ ম্রিয়মান, তেমনি অনিমেষের তুলনায় অর্কও ম্লান। যে কাদামাটিকে গড়ে তোলার আশাবাদ আমরা কালবেলার শেষে অনিমেষের হৃদয়ে উচ্চারিত হতে শুনি, তার প্রতিফলন কালপুরুষে নেই। অবশ্য এখানে গল্প অনিমেষকে সে সুযোগ দেয় না। অনিমেষকে আবির চক্রবর্তী বা পরমব্রত মনে হলে, অর্ককে মনে হয়েছে দেব। আর কালপুরুষকে মনে হয়েছে টিপিকাল ভারতীয় বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। লেখক আরো এফোর্ট দিলে ট্রিলজির শেষ বইটা সন্তুষ্টিজনক হতে পারতো, আক্ষেপ থেকে গেল।
অর্ক অনিমেষ আর মাধবীলতার সন্তান, কালপুরুষের নায়ক। কালবেলা আর উত্তরাধিকারের তুলনায় যেমন কালপুরুষ ম্রিয়মান, তেমনি অনিমেষের তুলনায় অর্কও ম্লান। যে কাদামাটিকে গড়ে তোলার আশাবাদ আমরা কালবেলার শেষে অনিমেষের হৃদয়ে উচ্চারিত হতে শুনি, তার প্রতিফলন কালপুরুষে নেই। অবশ্য এখানে গল্প অনিমেষকে সে সুযোগ দেয় না। অনিমেষকে আবির চক্রবর্তী বা পরমব্রত মনে হলে, অর্ককে মনে হয়েছে দেব। আর কালপুরুষকে মনে হয়েছে টিপিকাল ভারতীয় বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। লেখক আরো এফোর্ট দিলে ট্রিলজির শেষ বইটা সন্তুষ্টিজনক হতে পারতো, আক্ষেপ থেকে গেল।
December 25, 2013
You will miss the overwhelming experience if you still haven't read the previous books of this series - 'উত্তরাধিকার’ and ’কালবেলা’
February 6, 2017
Like the other two part of the trilogy it was not as good as those. It's likr author finished this book in a hurry.
August 13, 2020
এটাকেই বলে যোগ্য উত্তরসূরি। কালবেলা শেষ করার পর লেখকের উপর অনেক প্রত্যাশা ছিল। হতাশ হতে হয় নি। অসাধারণ বই। একটানে পড়ে ফেলা যায়।
April 13, 2020
বইঃ কালবেলা
লেখকঃ সমরেশ মজুমদার
সমরেশ মজুমদারের “কালবেলা” এমন একটি উপন্যাস যেখানে প্রেম এবং বিপ্লব একসাথে মিলেমিশে হয়েছে একাকার । “কালবেলা” । যার মানে অশুভ সময় । “কালবেলা” আসলেই একটি অশুভ সময়ের চিত্র উপস্থাপন করেছে । যেই চিত্রে আদর্শের পথে হাঁটতে গিয়ে বিপথগামী হয়েছে তৎকালীন অসংখ্য ভারতীয় তরুণ । তাদের মধ্যে অনিমেষও একজন । মূলত অনিমেষের হাত ধরেই সমগ্র উপন্যাসে সমরেশ মজুমদার তুলে ধরেছেন তৎকালীন সময়টিকে । আর অনিমেষের সঙ্গী হিসেবে জুড়ে দিয়েছেন মাধবীলতাকে। অনিমেষ আর মাধবীলতার যে প্রেমের সম্পর্ক তা এই উপন্যাসের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে টপকিয়ে খুব সহজেই এটিকে একটি প্রেমের উপন্যাসে পরিণত করেছে । সুতরাং, “কালবেলা” যেমন একটি রাজনৈতিক উপন্যাস তেমনি একটি প্রেমের বা ভালোবাসারও উপন্যাস হিসেবেও এটি সম্পূর্ণ সার্থক । অবশ্য সমরেশ মজুমদার এটিকে রাজনৈতিক উপন্যাস হিসেবে দেখতে নারাজ । তিনি এটিকে একটি ভালোবাসার উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি দিতেই আগ্রহী ।
এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হল অনিমেষ । প্রথমবারের মতো কলকাতায় এসেই অনিমেষ পায়ে গুলি খায় পুলিশের । এরপর ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পড়ে কলেজের বাম রাজনীতির সঙ্গে কিন্তু তাতে কেমন যেন খটকা থেকে যায় তার মনে । ফলে অস্ত্র হাঁতে বিপ্লবের পথে হাঁটতে শুরু করে । বিপ্লবের আগুনে ঝাপিয়ে পড়ে অনিমেষ বুঝতে পারে যে দাহ্যবস্তুর কোন সৃষ্টিশীল ক্ষমতা নেই । এই বিপ্লবে জড়িয়ে যাবার আগেই অনিমেষের জীবনে জড়িয়ে পড়ে একজন রমণী । যার নাম মাধবীলতা । অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী এই মাধবীলতা । যে জীবনের সবকিছু দিয়ে ভালোবেসে গিয়েছে অনিমেষকে । তার জন্য ভালোবাসাটিই মনে হয় আসল বিষয় । বিনিময়ে আশা করেনি কিছুই কিন্তু ছেঁড়ে আসে সব অতীত, সব বন্ধন এবং পেছনের সব সম্পর্ককে শুধুমাত্র এই ভালোবাসার টানে । উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে যেমন অবাক হয়েছি অনিমেষের ব্যক্তিত্ব নিয়ে তেমনি অবাক হয়েছি মাধবীলতার ক্ষেত্রেও । মাধবীলতার ক্ষেত্রে আমি হয়তো আরও একধাপ এগিয়ে ছিলাম । কারণ এই চরিত্রটিকে যতই আবিস্কার করেছি ততই আমার কাছে মনে হয়েছে এ মাধবীলতা যেন আমারই কাঙ্ক্ষিত প্রেমিকা । বারবার প্রেমে পড়েছি আমি এই মাধবীলতার । নিজের সর্বস্ব দিয়ে এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির বলে মাধবীলতা শত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের মাথা উঁচু রাখে, নিজের ভালোবাসাকে সমুন্নত রাখে । ভালোবাসার মাঝে যেন বিপ্লবের আরেক নাম এই মাধবীলতা ।
সমরেশ মজুমদারের লেখা “আট কুঠুরি নয় দরজা” এবং “গর্ভধারিণী” বেশ অনেক আগেই পড়েছিলাম । এ দুটো উপন্যাসই আমার জন্য যথেষ্ট ছিল উনার ভক্ত হবার জন্য । বিশেষ করে “গর্ভধারিণী” উপন্যাসটি ছিল অসাধারণ একটি সৃষ্টি । একই ধারায় উনার “কালবেলা” উপন্যাসটিকেও আমি সম্পূর্ণ একটি সার্থক উপন্যাসের মর্যাদা দিব । কারণ উনার এই উপন্যাসে যেমন উঠে এসেছে সত্তরের দশকের স্বাধীন ভারতবর্ষের চিত্র, তেমনি উঠে এসেছে সেই সময়টি । একই সাথে তৎকালীন ভারতবর্ষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সাথে সাথে উঠে এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমের চিত্র । একদিকে যেমন প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করা হয়েছে তেমনি আরেক দিকে তুলে ধরা হয়েছে শ্রেণীহীন নতুন ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখা একদল তরুণের আন্দোলনের চিত্র । রাজনীতির পথগুলো কতটা তির্যক তা এই উপন্যাসটি পড়লেই বুঝা যায় । রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণের পাশাপাশি একজন নারীর জন্য তৎকালীন সময়ের প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে এখানে । নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজের উঁচু, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষের মানসিকতার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে এসেছে এই সমগ্র উপন্যাসে । বাদ যায়নি একজন নর এবং নারীর পারস্পারিক বিশ্বাসে ভালোবাসার চিত্রটিও ।
সমরেশ মজুমদারের অসাধারণ একটি সৃষ্টি এই “কালবেলা” । এই “কালবেলা” উপন্যাসটির জন্য তিনি ১৯৮৪ সালে সাহিত্যে আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন । ২০০৯ সালে গৌতম ঘোষের পরিচালনায় এবং পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও পাউলি দাম অভিনীত একই শিরোনামে একটি সিনেমাও মুক্তি পায় এই উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে । সুতরাং, নির্দ্বিধায় পড়ে ফেলতে পারেন এই অসাধারণ বইটি ।
লেখকঃ সমরেশ মজুমদার
সমরেশ মজুমদারের “কালবেলা” এমন একটি উপন্যাস যেখানে প্রেম এবং বিপ্লব একসাথে মিলেমিশে হয়েছে একাকার । “কালবেলা” । যার মানে অশুভ সময় । “কালবেলা” আসলেই একটি অশুভ সময়ের চিত্র উপস্থাপন করেছে । যেই চিত্রে আদর্শের পথে হাঁটতে গিয়ে বিপথগামী হয়েছে তৎকালীন অসংখ্য ভারতীয় তরুণ । তাদের মধ্যে অনিমেষও একজন । মূলত অনিমেষের হাত ধরেই সমগ্র উপন্যাসে সমরেশ মজুমদার তুলে ধরেছেন তৎকালীন সময়টিকে । আর অনিমেষের সঙ্গী হিসেবে জুড়ে দিয়েছেন মাধবীলতাকে। অনিমেষ আর মাধবীলতার যে প্রেমের সম্পর্ক তা এই উপন্যাসের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে টপকিয়ে খুব সহজেই এটিকে একটি প্রেমের উপন্যাসে পরিণত করেছে । সুতরাং, “কালবেলা” যেমন একটি রাজনৈতিক উপন্যাস তেমনি একটি প্রেমের বা ভালোবাসারও উপন্যাস হিসেবেও এটি সম্পূর্ণ সার্থক । অবশ্য সমরেশ মজুমদার এটিকে রাজনৈতিক উপন্যাস হিসেবে দেখতে নারাজ । তিনি এটিকে একটি ভালোবাসার উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি দিতেই আগ্রহী ।
এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হল অনিমেষ । প্রথমবারের মতো কলকাতায় এসেই অনিমেষ পায়ে গুলি খায় পুলিশের । এরপর ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পড়ে কলেজের বাম রাজনীতির সঙ্গে কিন্তু তাতে কেমন যেন খটকা থেকে যায় তার মনে । ফলে অস্ত্র হাঁতে বিপ্লবের পথে হাঁটতে শুরু করে । বিপ্লবের আগুনে ঝাপিয়ে পড়ে অনিমেষ বুঝতে পারে যে দাহ্যবস্তুর কোন সৃষ্টিশীল ক্ষমতা নেই । এই বিপ্লবে জড়িয়ে যাবার আগেই অনিমেষের জীবনে জড়িয়ে পড়ে একজন রমণী । যার নাম মাধবীলতা । অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী এই মাধবীলতা । যে জীবনের সবকিছু দিয়ে ভালোবেসে গিয়েছে অনিমেষকে । তার জন্য ভালোবাসাটিই মনে হয় আসল বিষয় । বিনিময়ে আশা করেনি কিছুই কিন্তু ছেঁড়ে আসে সব অতীত, সব বন্ধন এবং পেছনের সব সম্পর্ককে শুধুমাত্র এই ভালোবাসার টানে । উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে যেমন অবাক হয়েছি অনিমেষের ব্যক্তিত্ব নিয়ে তেমনি অবাক হয়েছি মাধবীলতার ক্ষেত্রেও । মাধবীলতার ক্ষেত্রে আমি হয়তো আরও একধাপ এগিয়ে ছিলাম । কারণ এই চরিত্রটিকে যতই আবিস্কার করেছি ততই আমার কাছে মনে হয়েছে এ মাধবীলতা যেন আমারই কাঙ্ক্ষিত প্রেমিকা । বারবার প্রেমে পড়েছি আমি এই মাধবীলতার । নিজের সর্বস্ব দিয়ে এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির বলে মাধবীলতা শত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের মাথা উঁচু রাখে, নিজের ভালোবাসাকে সমুন্নত রাখে । ভালোবাসার মাঝে যেন বিপ্লবের আরেক নাম এই মাধবীলতা ।
সমরেশ মজুমদারের লেখা “আট কুঠুরি নয় দরজা” এবং “গর্ভধারিণী” বেশ অনেক আগেই পড়েছিলাম । এ দুটো উপন্যাসই আমার জন্য যথেষ্ট ছিল উনার ভক্ত হবার জন্য । বিশেষ করে “গর্ভধারিণী” উপন্যাসটি ছিল অসাধারণ একটি সৃষ্টি । একই ধারায় উনার “কালবেলা” উপন্যাসটিকেও আমি সম্পূর্ণ একটি সার্থক উপন্যাসের মর্যাদা দিব । কারণ উনার এই উপন্যাসে যেমন উঠে এসেছে সত্তরের দশকের স্বাধীন ভারতবর্ষের চিত্র, তেমনি উঠে এসেছে সেই সময়টি । একই সাথে তৎকালীন ভারতবর্ষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সাথে সাথে উঠে এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমের চিত্র । একদিকে যেমন প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করা হয়েছে তেমনি আরেক দিকে তুলে ধরা হয়েছে শ্রেণীহীন নতুন ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখা একদল তরুণের আন্দোলনের চিত্র । রাজনীতির পথগুলো কতটা তির্যক তা এই উপন্যাসটি পড়লেই বুঝা যায় । রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণের পাশাপাশি একজন নারীর জন্য তৎকালীন সময়ের প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে এখানে । নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজের উঁচু, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষের মানসিকতার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে এসেছে এই সমগ্র উপন্যাসে । বাদ যায়নি একজন নর এবং নারীর পারস্পারিক বিশ্বাসে ভালোবাসার চিত্রটিও ।
সমরেশ মজুমদারের অসাধারণ একটি সৃষ্টি এই “কালবেলা” । এই “কালবেলা” উপন্যাসটির জন্য তিনি ১৯৮৪ সালে সাহিত্যে আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন । ২০০৯ সালে গৌতম ঘোষের পরিচালনায় এবং পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও পাউলি দাম অভিনীত একই শিরোনামে একটি সিনেমাও মুক্তি পায় এই উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে । সুতরাং, নির্দ্বিধায় পড়ে ফেলতে পারেন এই অসাধারণ বইটি ।
June 8, 2026
✨ সমরেশ মজুমদার কালজয়ী সৃষ্টি অনিমেষ সিরিজ এর তৃতীয় বই কালপুরুষ। এই সিরিজ এর প্রথম দুটি বই উত্তরাধিকার ও কালবেলা অনিমেষের গল্প বললেও এই বইটির গল্প প্রধানত অনিমেষ ও মাধবীলতার ছেলে অর্ক কে নিয়ে।
☀️৩ নম্বর ঈশ্বরপুকুর লেনের বস্তিতে বেড়ে ওঠা অর্কের। অর্ক নামের অর্থ “সূর্য”, মাধবীলতার জীবনে তাদের ছেলে যেন একটুকরো আলোর আশা। তাইতো সত্তরের দশকে অনিমেষ যখন নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছিল উত্তাল রাজনৈতিক আন্দোলনে(কালবেলার গল্প), তখন মাধবীলতা তার মধ্যে আশা প্রাণটিকে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন ওদের তিনজনের বসবাস এই বস্তির ঘুপচি পরিবেশে। কিলা, খুরকি, বিলা এদের সাথে গালাগালি দিতে দিতে এক অশ্লীল পরিবেশে অর্কের বেড়ে ওঠা। মাধবীলতা এখান থেকে বেতার ছেলের স্বার্থে বেরোতে চাইলেও উপায় নেই। স্বল্পবেতনের স্কুলের চাকরিতে আগের ধার চোকাতেই সে ব্যতিব্যস্ত। কিন্তু ছেলেকে মানুষ করার জন্য এক কঠিন জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যায় মাধবীলতা। তবে একসময় এই কঠিন জীবনযুদ্ধের ক্লান্তি ও হতাশার বহিঃপ্রকাশও আমরা দেখতে পাই।
🔥 এই গল্পের শুরুতে অর্ক কিছুটা বেপরোয়া ও বখাটে থাকলেও গল্পের সাথে সে নিজেকে পাল্টে নেয়। কারণ তার রক্তে তো অনিমেষ এর আদর্শ, মাধবীলতার পবিত্রতা ও মূল্যবোধ আছে। এই গল্পে সে যেন একদম ঠিক সময়ে জেগে উঠেছে। বস্তির মানুষগুলো কে নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং একটা কমিউনিটি তৈরি করে। পুরো বস্তিকে সাথে নিয়ে সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে সে এই অভাবী মানুষ গুলোর তিনবেলা ভরপেট খাওয়ানোর দায়িত্ব নেয়। কিন্তু অর্কের এই প্রচেষ্টা কি সফল হবে? না লোভ হিংসায় ভরা সমাজ তাঁকে এক সুন্দর পৃথিবী গড়তে আটকে দেবে?
📝পাঠ প্রতিক্রিয়া
🔹 অনিমেষের তুলনায় অর্ক একটু উগ্র। তবে এই উগ্রতাই ওর চরিত্রের বিশেষত্ব।
🔹কালপুরুষের মাধবীলতা অনেক বেশি mature , পোড় খাওয়া। জীবনের দীর্ঘ লড়াই যেন তাকে আরও দৃঢ় করেছে। একসময় এই জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে মাধবীলতার fustration এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
🔹 জলপাইগুড়ি তে লেখক আবার অনিমেষ কে ফেরত নিয়ে যায়, সঙ্গে আসে অর্ক ও মাধবীলতাও। সেই উত্তরাধিকার এর পর আবার জলপাইগুড়ির বর্ণনা পড়তে পড়তে পুরনো স্মৃতিগুলো যেন ফিরে আসে। বিশেষ করে পিসিমা ও ছোটমার অসহায়তা মনটাকে নরম করে দেয়।
🔹তবে অর্ক ছোট্ট অনিমেষ এর মতো যখন জলপাইগুড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তখন বারবার মনে হচ্ছিল লেখক যদি অর্ককে একবার স্বর্গছেরা নিয়ে যেত খুব ভালো লাগত।
🔹 গল্পের শেষে লেখক এই সমাজের জন্য এক সুন্দর ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।
কালবেলা যদি অনিমেষের আদর্শের গল্প হয়, তবে কালপুরুষ সেই আদর্শের উত্তরাধিকার বহন করার গল্প, এক সূর্যের গল্প।
☀️৩ নম্বর ঈশ্বরপুকুর লেনের বস্তিতে বেড়ে ওঠা অর্কের। অর্ক নামের অর্থ “সূর্য”, মাধবীলতার জীবনে তাদের ছেলে যেন একটুকরো আলোর আশা। তাইতো সত্তরের দশকে অনিমেষ যখন নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছিল উত্তাল রাজনৈতিক আন্দোলনে(কালবেলার গল্প), তখন মাধবীলতা তার মধ্যে আশা প্রাণটিকে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন ওদের তিনজনের বসবাস এই বস্তির ঘুপচি পরিবেশে। কিলা, খুরকি, বিলা এদের সাথে গালাগালি দিতে দিতে এক অশ্লীল পরিবেশে অর্কের বেড়ে ওঠা। মাধবীলতা এখান থেকে বেতার ছেলের স্বার্থে বেরোতে চাইলেও উপায় নেই। স্বল্পবেতনের স্কুলের চাকরিতে আগের ধার চোকাতেই সে ব্যতিব্যস্ত। কিন্তু ছেলেকে মানুষ করার জন্য এক কঠিন জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যায় মাধবীলতা। তবে একসময় এই কঠিন জীবনযুদ্ধের ক্লান্তি ও হতাশার বহিঃপ্রকাশও আমরা দেখতে পাই।
🔥 এই গল্পের শুরুতে অর্ক কিছুটা বেপরোয়া ও বখাটে থাকলেও গল্পের সাথে সে নিজেকে পাল্টে নেয়। কারণ তার রক্তে তো অনিমেষ এর আদর্শ, মাধবীলতার পবিত্রতা ও মূল্যবোধ আছে। এই গল্পে সে যেন একদম ঠিক সময়ে জেগে উঠেছে। বস্তির মানুষগুলো কে নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং একটা কমিউনিটি তৈরি করে। পুরো বস্তিকে সাথে নিয়ে সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে সে এই অভাবী মানুষ গুলোর তিনবেলা ভরপেট খাওয়ানোর দায়িত্ব নেয়। কিন্তু অর্কের এই প্রচেষ্টা কি সফল হবে? না লোভ হিংসায় ভরা সমাজ তাঁকে এক সুন্দর পৃথিবী গড়তে আটকে দেবে?
📝পাঠ প্রতিক্রিয়া
🔹 অনিমেষের তুলনায় অর্ক একটু উগ্র। তবে এই উগ্রতাই ওর চরিত্রের বিশেষত্ব।
🔹কালপুরুষের মাধবীলতা অনেক বেশি mature , পোড় খাওয়া। জীবনের দীর্ঘ লড়াই যেন তাকে আরও দৃঢ় করেছে। একসময় এই জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে মাধবীলতার fustration এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
🔹 জলপাইগুড়ি তে লেখক আবার অনিমেষ কে ফেরত নিয়ে যায়, সঙ্গে আসে অর্ক ও মাধবীলতাও। সেই উত্তরাধিকার এর পর আবার জলপাইগুড়ির বর্ণনা পড়তে পড়তে পুরনো স্মৃতিগুলো যেন ফিরে আসে। বিশেষ করে পিসিমা ও ছোটমার অসহায়তা মনটাকে নরম করে দেয়।
🔹তবে অর্ক ছোট্ট অনিমেষ এর মতো যখন জলপাইগুড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তখন বারবার মনে হচ্ছিল লেখক যদি অর্ককে একবার স্বর্গছেরা নিয়ে যেত খুব ভালো লাগত।
🔹 গল্পের শেষে লেখক এই সমাজের জন্য এক সুন্দর ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।
কালবেলা যদি অনিমেষের আদর্শের গল্প হয়, তবে কালপুরুষ সেই আদর্শের উত্তরাধিকার বহন করার গল্প, এক সূর্যের গল্প।
January 3, 2023
মাস্ট রিড একটা বই! এই বই নিয়ে অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছে করছে,আবার ঠিক গুছিয়ে বলতে ও পারছিনা। তবে এটুকুনি বলবো 'কালবেলা' তে অনিমেষ কে ঠিক যতটা ভালো লেগেছিলো 'কালপুরুষ' এ এসে ঠিক ততটাই কিংবা তার চেয়েও বেশি অসহ্য লাগছিলো! লেখকের 'অনিমেষ' কে এমন স্বার্থপর হিসেবে উপস্থাপন করার কারণেই হয়তো এমন লেগেছে কিনা জানিনা! আরেকটা কথা না বললেই না! প্রথমদিকে অর্ক কে মেনে নিতে ভীষণ ধাক্কার মতো খাচ্ছিলাম! এযে অনিমেষ আর মাধবীলতার ছেলে তা মেনে নিতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছিল বইকি!
তবে অনিমেষ এবং মাধবীলতার আদর্শ অর্কর রক্তে ও রয়েছে কিনা! অর্ক যেন একটু একটু করে বদলে যেতে শুরু করলো! এবং সেই সাথে ইশ্বরপুকুর লেনের সবার প্রিয় 'অক্কদা' এই বইয়ে আমার সবচে পছন্দের চরিত্র হয়ে গেলো। অার মাধবীলতা! 'মাস্টারনি' কি ভীষণ ভালোবাসায় অনিমেষ আর অর্ককে আগলে রেখেছে! মাধবীলতার নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ মনে দাগ কাঁটার মতো!
এই বইয়ে 'কালবেলা' র মতো গাঢ় রাজনীতি ছিলোনা,তবে যেটুকু অংশ ছিলো সেটুকুই ভালো লেগেছে! মনে হয়েছে এরচে বেশি হলে ভালো লাগতোনা!
বেশ বড় বই,কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানেন? এই বই পড়তে গিয়ে একটুও বিরক্তি লাগেনি এবং আমার বিশ্বাস আপনাদেরও লাগবেনা! পড়া শুরু করলে থামতেই মন চাইতোনা,একনাগাড়ে এতো সময় ধরে কোনো বই এর আগে পড়েনি!
এই বইটা অনিমেষ সিরিজের সবচেয়ে প্রিয় তালিকায় থাকলো!
অর্ক এবং মাধবীলতা ছাড়াও ছোটমা,হেমলতা,বিলু,পরমহংস,সৌদামিনী আমার পছন্দের চরিত্র!
তবে অনিমেষ এবং মাধবীলতার আদর্শ অর্কর রক্তে ও রয়েছে কিনা! অর্ক যেন একটু একটু করে বদলে যেতে শুরু করলো! এবং সেই সাথে ইশ্বরপুকুর লেনের সবার প্রিয় 'অক্কদা' এই বইয়ে আমার সবচে পছন্দের চরিত্র হয়ে গেলো। অার মাধবীলতা! 'মাস্টারনি' কি ভীষণ ভালোবাসায় অনিমেষ আর অর্ককে আগলে রেখেছে! মাধবীলতার নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ মনে দাগ কাঁটার মতো!
এই বইয়ে 'কালবেলা' র মতো গাঢ় রাজনীতি ছিলোনা,তবে যেটুকু অংশ ছিলো সেটুকুই ভালো লেগেছে! মনে হয়েছে এরচে বেশি হলে ভালো লাগতোনা!
বেশ বড় বই,কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানেন? এই বই পড়তে গিয়ে একটুও বিরক্তি লাগেনি এবং আমার বিশ্বাস আপনাদেরও লাগবেনা! পড়া শুরু করলে থামতেই মন চাইতোনা,একনাগাড়ে এতো সময় ধরে কোনো বই এর আগে পড়েনি!
এই বইটা অনিমেষ সিরিজের সবচেয়ে প্রিয় তালিকায় থাকলো!
অর্ক এবং মাধবীলতা ছাড়াও ছোটমা,হেমলতা,বিলু,পরমহংস,সৌদামিনী আমার পছন্দের চরিত্র!
May 4, 2021
কালবেলা পড়ার পর রিভিউ লেখার সময় মনে হয়েছিলো, 'অনেক কিছু বলার আছে' 'এই বই নিয়ে বলতে থাকলে শেষ হবে না' মোটামুটি বড়সড় একটা রিভিউ লেখার পরও মনে হয়েছিল, 'একি! আমি তো কিছুই লেখলাম না..'
কিন্তু আমি জানিনা এই বই নিয়ে কি বলবো! এই বই পড়তে যেয়ে কতবার যে বুকে পাথর চেপে আসছিল, কতবার ইচ্ছে করেছে দূরে সরিয়ে রাখি, সেই অনিমেষের সাথে 'উত্তরাধিকার' থেকে শুরু করে 'কালবেলা' যে চিত্র দেখেছি, 'কালপুরুষে' এসে কিছুতেই মেলাতে পারছিলাম না, সবকিছু কেমন অপরিচিত! কিন্তু জীবন তো এমনই..
এই প্রথম কোনো বই পড়তে যেয়ে আমার কষ্ট হচ্ছিল, আমি মেনে নিতে পারছিলাম না। কিন্তু আবারো বলতে হয়, 'জীবন তো এমনই!' এখানে সুখ থাকবে, থাকবে অভিমান, দুঃখ, ভুল বোঝা, নিজেকে সবার মাঝে রেখেও মনে হতে থাকে আমি কি দূরের কেও? নিজেকে চিনতে পারা যায় না! বুকে চেপে রাখা কথা চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়.. নিংড়ে দিতে ইচ্ছে হয় নিজেকে!
অনিমেষ, মাধবীলতা, অর্ক! আমি কতটা অনুভব করতে পেরেছি জানিনা, তবে কতটা অনুভব করা সম্ভব তাও আমার অজানা..
কিন্তু আমি জানিনা এই বই নিয়ে কি বলবো! এই বই পড়তে যেয়ে কতবার যে বুকে পাথর চেপে আসছিল, কতবার ইচ্ছে করেছে দূরে সরিয়ে রাখি, সেই অনিমেষের সাথে 'উত্তরাধিকার' থেকে শুরু করে 'কালবেলা' যে চিত্র দেখেছি, 'কালপুরুষে' এসে কিছুতেই মেলাতে পারছিলাম না, সবকিছু কেমন অপরিচিত! কিন্তু জীবন তো এমনই..
এই প্রথম কোনো বই পড়তে যেয়ে আমার কষ্ট হচ্ছিল, আমি মেনে নিতে পারছিলাম না। কিন্তু আবারো বলতে হয়, 'জীবন তো এমনই!' এখানে সুখ থাকবে, থাকবে অভিমান, দুঃখ, ভুল বোঝা, নিজেকে সবার মাঝে রেখেও মনে হতে থাকে আমি কি দূরের কেও? নিজেকে চিনতে পারা যায় না! বুকে চেপে রাখা কথা চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়.. নিংড়ে দিতে ইচ্ছে হয় নিজেকে!
অনিমেষ, মাধবীলতা, অর্ক! আমি কতটা অনুভব করতে পেরেছি জানিনা, তবে কতটা অনুভব করা সম্ভব তাও আমার অজানা..
February 20, 2022
সমরেশ মজুমদারের ত্রিরত্ন সিরিজের তৃতীয় সৃষ্টি "কালপুরুষ"।
একটা পরিবার, কলকাতার বিখ্যাত বস্তি তিন নম্বর ঈশ্বরপুকুরে থেকেও যারা ঠিক সে বস্তির বাসিন্দা নয়৷
পরিবারে বাবা অনিমেষ, ক্রাচে ভর দেয়া ছাড়া এক কদম যে হেঁটে যেতে পারে না।
এরপর রয়েছে মাধবীলতা, পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। যাকে দেখে মনে হয়, আবেগ একে স্পর্শ করে না ঠিক!
একজীবনে মাধবীলতা কি পেয়েছে তা হিসেব না করে কতটা উজাড় করে দিয়েছে তা ভাবতে বসলে সে হিসেব আর শেষ হবে না। কিন্তু তাতেও বিন্দুমাত্র আক্ষেপ বা আফসোস ছিল না তার। ভালোবাসাই বোধহয় মানুষকে বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়। শেষ মুহূর্তে এসেও বাঁচার স্বপ্ন দেখায়।
তার চিন্তা কেবল তাদের ছেলে অর্ক'কে নিয়েই। তাকে মানুষের মতো মানুষ করা নিয়ে। তবে কয়েক কলম পড়াশুনা করে কে কতটা মানুষের মতো মানুষ হতে পারে এ ব্যাপার নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান অর্ক। সঙ্গদোষে অর্ক কিছুটা বখে গিয়েছিল শুরুতে। বস্তির ছেলেদের সাথে খিস্তি না করে শুদ্ধভাবে কথা বলে ক'দিনই বা নিজে না পালটে মেশা যায়? কিন্তু এরপরই পনেরো বছরের ছেলেটা হুট করেই একদিন থেকে বয়সের আগেই বড় হওয়া শুরু করল কেমন যেন। এইটুকু বয়সে জানার চেয়ে বেশি দেখে ফেলেছে সে। তবে তার মায়ের শান্ত সাহস আর বাবা অনিমেষের বারুদের মতো তেজী রক্ত যার শরীরে বইছে সে তো কখনোই পিছু হটবার নয়।
🌼সবথেকে পছন্দের লাইন-
জনতা চেঁচাল
"অর্কর মুক্তি চাই।"
চোখ বন্ধ করে হাসলো মাধবীলতা। তারপর বিড়বিড় করলো নিজের মনে, 'অর্ক মানে কি ওরা জানে? সূর্যকে কি বন্দী করতে পারে?' অদ্ভুত শান্তি নিয়ে মাধবীলতার শরীর পৃথিবীর মাটির গায়ে নেমে আসছিল। যেমন করে পাখিরা টানটান ডানা মেলে বাসায় ফিরে আসে নিশ্চিন্তে। ❤
একটা পরিবার, কলকাতার বিখ্যাত বস্তি তিন নম্বর ঈশ্বরপুকুরে থেকেও যারা ঠিক সে বস্তির বাসিন্দা নয়৷
পরিবারে বাবা অনিমেষ, ক্রাচে ভর দেয়া ছাড়া এক কদম যে হেঁটে যেতে পারে না।
এরপর রয়েছে মাধবীলতা, পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। যাকে দেখে মনে হয়, আবেগ একে স্পর্শ করে না ঠিক!
একজীবনে মাধবীলতা কি পেয়েছে তা হিসেব না করে কতটা উজাড় করে দিয়েছে তা ভাবতে বসলে সে হিসেব আর শেষ হবে না। কিন্তু তাতেও বিন্দুমাত্র আক্ষেপ বা আফসোস ছিল না তার। ভালোবাসাই বোধহয় মানুষকে বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়। শেষ মুহূর্তে এসেও বাঁচার স্বপ্ন দেখায়।
তার চিন্তা কেবল তাদের ছেলে অর্ক'কে নিয়েই। তাকে মানুষের মতো মানুষ করা নিয়ে। তবে কয়েক কলম পড়াশুনা করে কে কতটা মানুষের মতো মানুষ হতে পারে এ ব্যাপার নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান অর্ক। সঙ্গদোষে অর্ক কিছুটা বখে গিয়েছিল শুরুতে। বস্তির ছেলেদের সাথে খিস্তি না করে শুদ্ধভাবে কথা বলে ক'দিনই বা নিজে না পালটে মেশা যায়? কিন্তু এরপরই পনেরো বছরের ছেলেটা হুট করেই একদিন থেকে বয়সের আগেই বড় হওয়া শুরু করল কেমন যেন। এইটুকু বয়সে জানার চেয়ে বেশি দেখে ফেলেছে সে। তবে তার মায়ের শান্ত সাহস আর বাবা অনিমেষের বারুদের মতো তেজী রক্ত যার শরীরে বইছে সে তো কখনোই পিছু হটবার নয়।
🌼সবথেকে পছন্দের লাইন-
জনতা চেঁচাল
"অর্কর মুক্তি চাই।"
চোখ বন্ধ করে হাসলো মাধবীলতা। তারপর বিড়বিড় করলো নিজের মনে, 'অর্ক মানে কি ওরা জানে? সূর্যকে কি বন্দী করতে পারে?' অদ্ভুত শান্তি নিয়ে মাধবীলতার শরীর পৃথিবীর মাটির গায়ে নেমে আসছিল। যেমন করে পাখিরা টানটান ডানা মেলে বাসায় ফিরে আসে নিশ্চিন্তে। ❤
March 30, 2020
‘কালপুরুষ’ নামটাই যেন একটা আকর্ষণ অনুভব করায়। বইটি ‘অনিমেষ সিরিজ’ এর তৃতীয় খন্ড। এই সিরিজের দ্বিতীয় বই ‘কালবেলা’ এর সম্প্রসারণ ‘কালপুরুষ’। বইটি মূলত অনিমেষ এর ছেলে অর্ক মিত্র কে নিয়ে।
.
সিরিজ টি অনিমেষের নাম এ হলেও এই গল্পে প্রধান চরিত্র হিসেবে অর্ক কে দেখতে পাওয়া যায়। ছোট থেকে অভাবের সংসারে, বস্তিতে বড়ো হয়ে ওঠা অর্ক এর পড়াশোনা এ খুব একটা মন নেই, কিন্তু তার রক্তে বইছে অনিমেষ এর জেদ আর মাধবীলতার সহনশীলতা, নিঃস্বার্থপরতা ও সাহস। ওর চোখ দিয়ে পাঠক যেন বর্তমান সমাজের একটি জলের মতো স্বচ্ছ ছবি দেখতে পায়। মাত্র পনেরো বছর বয়সে দাপিয়ে বড়ো হয়ে ওঠা অর্ক এখানে বোধশক্তি এবং চিন্তধারায় অনিমেষ কে ছাপিয়ে গেছে। অনিমেষ যা করতে পারেনি অর্ক তা বাস্তবায়িত করে দেখিয়েছে কিন্তু সমাজ এবং দেশের অরাজনৈতিকতা শেষ পর্যন্ত তাকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। বাবার মতো একই ভাবে তাকেও কারাগারবন্দী হতে হয়েছে।
.
‘কালবেলা’ বইটি পড়ে সত্যিই ভালো লাগায় তার পরে কি হল জানতে খুব উদগ্রীব ছিলাম, তাই এই বইটি পড়া। গল্পে অনেক জায়গায় অনিমেষকে নিতান্তই স্বার্থপর বলে মনে হয়েছে, অনেক জায়গায় নির্বুদ্ধিতা তাকে একজন শিকড়হীন স্বামী তে পরিণত করেছে যা ‘কালবেলা’ এর অনিমেষের সাথে মেলেনা এবং সেটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। গল্পে অর্ক এর মধ্যে সেই আগুন খুঁজে পাওয়া যায় না যা ‘কালবেলা’এ অনিমেষের মধ্যে দেখা গেছে। মাধবীলতা চরিত্র টি অনন্য। তাকে ছাড়া এ সিরিজ অর্থহীন আর ফিকে হয়ে যেতো। তার সাহসীকতা আর সহ্যশক্তি যেভাবে ‘কালবেলা’ কে কালজয়ী করেছে তেমনি ‘কালপুরুষ’ গল্পটিকে দাঁড় করিয়েছে। নিজের সাহসের পরিচয় দিয়েছে বারংবার, ছেলে যখন জেলে তখন তাকে বলেছে, “একদম ভয় পাবি না। তুই হলি সূর্য। সূর্যের কোন ভয় নেই।” অজস্র উদ্বিগ্ন মানুষের মুখ গুলো যখন ওর দিকে চেয়ে ছিল অর্ক এর মুক্তির আশায়, তখন হেসে নিজের মনেই বলেছে, “অর্ক মানে কি ওরা জানে? সূর্যকে কি কেউ বন্দী করতে পারে?”
.
সিরিজ টি অনিমেষের নাম এ হলেও এই গল্পে প্রধান চরিত্র হিসেবে অর্ক কে দেখতে পাওয়া যায়। ছোট থেকে অভাবের সংসারে, বস্তিতে বড়ো হয়ে ওঠা অর্ক এর পড়াশোনা এ খুব একটা মন নেই, কিন্তু তার রক্তে বইছে অনিমেষ এর জেদ আর মাধবীলতার সহনশীলতা, নিঃস্বার্থপরতা ও সাহস। ওর চোখ দিয়ে পাঠক যেন বর্তমান সমাজের একটি জলের মতো স্বচ্ছ ছবি দেখতে পায়। মাত্র পনেরো বছর বয়সে দাপিয়ে বড়ো হয়ে ওঠা অর্ক এখানে বোধশক্তি এবং চিন্তধারায় অনিমেষ কে ছাপিয়ে গেছে। অনিমেষ যা করতে পারেনি অর্ক তা বাস্তবায়িত করে দেখিয়েছে কিন্তু সমাজ এবং দেশের অরাজনৈতিকতা শেষ পর্যন্ত তাকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। বাবার মতো একই ভাবে তাকেও কারাগারবন্দী হতে হয়েছে।
.
‘কালবেলা’ বইটি পড়ে সত্যিই ভালো লাগায় তার পরে কি হল জানতে খুব উদগ্রীব ছিলাম, তাই এই বইটি পড়া। গল্পে অনেক জায়গায় অনিমেষকে নিতান্তই স্বার্থপর বলে মনে হয়েছে, অনেক জায়গায় নির্বুদ্ধিতা তাকে একজন শিকড়হীন স্বামী তে পরিণত করেছে যা ‘কালবেলা’ এর অনিমেষের সাথে মেলেনা এবং সেটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। গল্পে অর্ক এর মধ্যে সেই আগুন খুঁজে পাওয়া যায় না যা ‘কালবেলা’এ অনিমেষের মধ্যে দেখা গেছে। মাধবীলতা চরিত্র টি অনন্য। তাকে ছাড়া এ সিরিজ অর্থহীন আর ফিকে হয়ে যেতো। তার সাহসীকতা আর সহ্যশক্তি যেভাবে ‘কালবেলা’ কে কালজয়ী করেছে তেমনি ‘কালপুরুষ’ গল্পটিকে দাঁড় করিয়েছে। নিজের সাহসের পরিচয় দিয়েছে বারংবার, ছেলে যখন জেলে তখন তাকে বলেছে, “একদম ভয় পাবি না। তুই হলি সূর্য। সূর্যের কোন ভয় নেই।” অজস্র উদ্বিগ্ন মানুষের মুখ গুলো যখন ওর দিকে চেয়ে ছিল অর্ক এর মুক্তির আশায়, তখন হেসে নিজের মনেই বলেছে, “অর্ক মানে কি ওরা জানে? সূর্যকে কি কেউ বন্দী করতে পারে?”
June 25, 2021
যেখান থেকে নিজের নাম পেয়েছি সেই বইয়ের প্রতি একটা আলাদা টানতো থাকবেই। 😇
অনিমেষ মাধবীলতার সন্তান অর্ক বেরে ওঠে নিজের মেজাজে, কারুর কাছে সে গুরু, কারুর কাছে সে ওস্তাদ আবার কারুর কাছে সে ত্রাস। মাধবীলতার পর এই সিরিজের আমার অন্যতম পছন্দের চরিত্র অক্বোদা।❤️
অনিমেষ মাধবীলতার সন্তান অর্ক বেরে ওঠে নিজের মেজাজে, কারুর কাছে সে গুরু, কারুর কাছে সে ওস্তাদ আবার কারুর কাছে সে ত্রাস। মাধবীলতার পর এই সিরিজের আমার অন্যতম পছন্দের চরিত্র অক্বোদা।❤️
January 6, 2018
this will forever be one of my most favorite book
September 19, 2019
Masterpiece
June 15, 2021
একটু বেশীই স্লো মনে হয়েছে।
February 10, 2021
কালবেলা'র শেষে যখন অনিমেশ বিধ্বস্ত, হতাশ এবং ক্লান্ত তখনই অবার বিস্ময়ে মাধবীলতার দিকে তাকিয়ে তার উপলব্দি হয়-- বিপ্লবের আরেক নাম মাধবীলতা। পঙ্গু অনিমেশকে হৃদয় দিয়ে আগলে রেখে জীবনের সবটুকু শক্তি নিঃশেষ করে তিল তিল করে অর্ককে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা মাধবীলতার। অনিমেশের সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্র অর্ক প্রথম দিকে চলার সঠিক পথ খুজে না পেলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার বিদ্রোহ, সাহসীকতা নিঃসন্দেহে যেকোন পাঠকের হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়।
কালপুরুষ আমি একাধিকবার পড়েছি এবং হয়তো আরো পড়ব।
তবে অনিমেশের ছোটমা এবং পিসিমা'র অসহায়ত্ব মনকে বিষন্নতায় ভরিয়ে দেয়। কেন জানি এখানে এসে লেখককে কিছুটা নিষ্ঠুর মনে হয়েছে আমার।
কালপুরুষের একেবারে শেষে যে নতুন সূর্য ওঠার স্বপ্ন দেখানো হয়েছে তা হৃদয়ে একটা তৃপ্তির ছোঁয়া লেগে থাকে।
কালপুরুষ আমি একাধিকবার পড়েছি এবং হয়তো আরো পড়ব।
তবে অনিমেশের ছোটমা এবং পিসিমা'র অসহায়ত্ব মনকে বিষন্নতায় ভরিয়ে দেয়। কেন জানি এখানে এসে লেখককে কিছুটা নিষ্ঠুর মনে হয়েছে আমার।
কালপুরুষের একেবারে শেষে যে নতুন সূর্য ওঠার স্বপ্ন দেখানো হয়েছে তা হৃদয়ে একটা তৃপ্তির ছোঁয়া লেগে থাকে।
January 16, 2025
কমিউনিটি লিভিং এর আইডিয়াটা বেশ।
This entire review has been hidden because of spoilers.
March 24, 2021
অনিমেষ চতুষ্ক'র তৃতীয় খন্ড কালপুরুষ।
মাধবীলতা আর অনিমেষের একমাত্র ছেলে অর্ক। তিন নম্বর ঈশ্বরপুকুরলেনের বস্তির এক ছোট ঘরে তাদের বাস। চারপাশের নোংরা পরিবেশ থেকে অর্ককে আগলে রাখাই তাদের একমাত্র চাওয়া। অনিমেষের চিকিংসায় খরচ হওয়া অর্থের ঋণে জর্জরিত মাধবীলতা কখনো অন্যায়কে গ্রহণ করেনি। দুহাতে আগলে রেখেছিলো স্বামী আর ছেলেকে। চারপাশের অনেক রকম নোংরামি দেখে পনেরো বছরের কিশোর যেনো যুবক হয়ে উঠে। বস্তির পরিবেশে যেখানে খিস্তি, মাতলামো আর গুন্ডামি করা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল সেখানে হঠাৎই যেনো এসব বিষের মত নাড়া দেয় অর্কর মনে। কোনো রাজনৈতিক দল বা সাহায্য ছাড়া বস্তির সকল মানুষকে এক করে শুরু হয় নতুন লড়াই। অনিমেষ যেটা কখনোই একটি রাজনৈতিক দল ছাড়া ভাবতে পারি নি, অর্ক যেনো চট করেই সেটা করে ফেলেছিলো। কিন্তু এখানেও ষড়যন্ত্রের ভীড়ে জেলে যেতে হয় অর্ককে। সকল সাধারণের মুখে তখন একই চিৎকার, "অর্কর মুক্তি চাই"। অর্ক তার নামের অর্থের মতই অন্ধকারে জর্জরিত বস্তির সকলের কাছে সূর্যের আলো হয়ে উঠেছিলো।
কালবেলার পর কালপুরুষ- দুটি ভিন্ন সমাজ ব্যবস্থায় বেড়ে উঠা দুটি প্রতিবাদী চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু কোথাও কোথাও যেনো মনে হয়েছে অর্ক চরিত্রটিকে আরেকটু যাচাই করা যেত। অনিমেষের তুলনায় অর্ককে যথেষ্ট হালকা মনে হয়েছে।
মাধবীলতা আর অনিমেষের একমাত্র ছেলে অর্ক। তিন নম্বর ঈশ্বরপুকুরলেনের বস্তির এক ছোট ঘরে তাদের বাস। চারপাশের নোংরা পরিবেশ থেকে অর্ককে আগলে রাখাই তাদের একমাত্র চাওয়া। অনিমেষের চিকিংসায় খরচ হওয়া অর্থের ঋণে জর্জরিত মাধবীলতা কখনো অন্যায়কে গ্রহণ করেনি। দুহাতে আগলে রেখেছিলো স্বামী আর ছেলেকে। চারপাশের অনেক রকম নোংরামি দেখে পনেরো বছরের কিশোর যেনো যুবক হয়ে উঠে। বস্তির পরিবেশে যেখানে খিস্তি, মাতলামো আর গুন্ডামি করা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল সেখানে হঠাৎই যেনো এসব বিষের মত নাড়া দেয় অর্কর মনে। কোনো রাজনৈতিক দল বা সাহায্য ছাড়া বস্তির সকল মানুষকে এক করে শুরু হয় নতুন লড়াই। অনিমেষ যেটা কখনোই একটি রাজনৈতিক দল ছাড়া ভাবতে পারি নি, অর্ক যেনো চট করেই সেটা করে ফেলেছিলো। কিন্তু এখানেও ষড়যন্ত্রের ভীড়ে জেলে যেতে হয় অর্ককে। সকল সাধারণের মুখে তখন একই চিৎকার, "অর্কর মুক্তি চাই"। অর্ক তার নামের অর্থের মতই অন্ধকারে জর্জরিত বস্তির সকলের কাছে সূর্যের আলো হয়ে উঠেছিলো।
কালবেলার পর কালপুরুষ- দুটি ভিন্ন সমাজ ব্যবস্থায় বেড়ে উঠা দুটি প্রতিবাদী চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু কোথাও কোথাও যেনো মনে হয়েছে অর্ক চরিত্রটিকে আরেকটু যাচাই করা যেত। অনিমেষের তুলনায় অর্ককে যথেষ্ট হালকা মনে হয়েছে।
April 14, 2021
প্রথম দুই খন্ডের সাথে এই বইয়ের তুলনা করা বেমানান।এই বই স্বর্গছেড়ার স্নিগ্ধতা,জলপাইগুড়ির ছেলেবেলা কিংবা স্কটিশচার্চের তারুণ্যের ফাঁকে ফাঁকে সমাজকে তুলে ধরেনি যেখানে জীবন আর সম্পর্ক স্থির,অস্থির কেবল ব্যবস্থা আর রাজনীতি।'কালপুরুষ' একইসাথে ছিন্নভিন্ন সম্পর্ক আর কালো গ্রহণ ঘিরে থাকা বস্তিজীবনের রূপ রঙ এঁকে গিয়েছে পাকা হাতে।
অর্ক মিত্র অনিমেষ আর মাধবীলতার একমাত্র ছেলে।সংগদোষে কিছুদিন বখে গেলেও অনিমেশের শিরায় শিরায় বয়ে চলা বারুদ আর মাধবীলতার শান্ত সাহস অর্ককেও করে তোলে সমাজের বিষ উপড়ে তোলার কারিগর।সময়ের সাথে সাথে ভারত বদলাচ্ছে,বদলাচ্ছে অপরাধের ধরন।সকালে যে বন্ধু রাতে সেই বোমা মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে শরীর।চোরাচালান, পতিতাবৃত্তি,খিস্তি,মাস্তানি সব চলে চোখের সামনে।মানুষ এখন বিপ্লবে নামেনা, শুধু চোখ ঢেকে রাখে মিথ্যে পর্দায়।অর্ক মাঠে নামে প্রত্যাশার হল্কা নিয়ে।সময়ের সাথে সাথে বদলেছে প্রতিবাদের ধরণ।
নিম্ন সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে অসমতার ছবি,তার সাথে পারিবারিক মনস্তাত্বিক দ্বন্দ মিলিয়ে আমার বেশ লেগেছে।মনে হচ্ছে চিত্কার করে বলি,"প্রতিটা মানুষ হয়ে উঠুক একেকটা সূর্য যাদের বন্দী করা অসাধ্য।"
অর্ক মিত্র অনিমেষ আর মাধবীলতার একমাত্র ছেলে।সংগদোষে কিছুদিন বখে গেলেও অনিমেশের শিরায় শিরায় বয়ে চলা বারুদ আর মাধবীলতার শান্ত সাহস অর্ককেও করে তোলে সমাজের বিষ উপড়ে তোলার কারিগর।সময়ের সাথে সাথে ভারত বদলাচ্ছে,বদলাচ্ছে অপরাধের ধরন।সকালে যে বন্ধু রাতে সেই বোমা মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে শরীর।চোরাচালান, পতিতাবৃত্তি,খিস্তি,মাস্তানি সব চলে চোখের সামনে।মানুষ এখন বিপ্লবে নামেনা, শুধু চোখ ঢেকে রাখে মিথ্যে পর্দায়।অর্ক মাঠে নামে প্রত্যাশার হল্কা নিয়ে।সময়ের সাথে সাথে বদলেছে প্রতিবাদের ধরণ।
নিম্ন সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে অসমতার ছবি,তার সাথে পারিবারিক মনস্তাত্বিক দ্বন্দ মিলিয়ে আমার বেশ লেগেছে।মনে হচ্ছে চিত্কার করে বলি,"প্রতিটা মানুষ হয়ে উঠুক একেকটা সূর্য যাদের বন্দী করা অসাধ্য।"
April 29, 2019
অসাধারণ একটি উপন্যাস পড়ে শেষ করলাম। এই উপন্যাসটি প্রথম পড়া শুরু করেছিলাম ক্লাস এইটে। কিছুদুর পড়ে আর পড়া হয়নি। প্রায় এক যুগ পর আবার শুরু করলাম প্রীতুর মুখে এত প্রশংসা শুনে। অর্ক, মাধবীলতা, অনিমেষ এই নামগুলো ওর মুখে এত শুনেছি আর এত মুগ্ধতা জড়িয়ে ছিল যে কালপুরুষ পড়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। আবারো প্রমাণিত হল যে আমাদের পছন্দ একি রকম।
অর্ক চরিত্রটি এতই প্রভাবশালী যে মাধবীলতা ছাড়া অন্য কেউ প্রকাশ পায়নি এতটা। উপন্যাস জুড়ে অনিমেষকে এত দোষারোপ করার কারণ জানি না , হয়ত কালবেলা পড়লে এর উত্তর পাব।
কমিউনিজম কে ইশ্বরপুকুর লেনে বাস্তবায়ন করা হয়ত সম্ভব , কিন্তু একটা দেশকে কি সম্ভব ? আমি জানিনা , হয়ত সম্ভব ।
যাই হোক না কেন , এককথায় খুব ভাল লেগেছে উপন্যাসটি । উপন্যাসের কিছু জায়গায় তারল্য ভাব থাকলেও লেখকের সংযম ছিল অসাধারণ ।
অর্ক চরিত্রটি এতই প্রভাবশালী যে মাধবীলতা ছাড়া অন্য কেউ প্রকাশ পায়নি এতটা। উপন্যাস জুড়ে অনিমেষকে এত দোষারোপ করার কারণ জানি না , হয়ত কালবেলা পড়লে এর উত্তর পাব।
কমিউনিজম কে ইশ্বরপুকুর লেনে বাস্তবায়ন করা হয়ত সম্ভব , কিন্তু একটা দেশকে কি সম্ভব ? আমি জানিনা , হয়ত সম্ভব ।
যাই হোক না কেন , এককথায় খুব ভাল লেগেছে উপন্যাসটি । উপন্যাসের কিছু জায়গায় তারল্য ভাব থাকলেও লেখকের সংযম ছিল অসাধারণ ।
May 18, 2014
Safe to say, this is going to haunt me for a long time .
Displaying 1 - 30 of 82 reviews





























