আধুনিকতা বা মডার্নিজমের মতাে উত্তর-আধুনিকতাও একটি দৃষ্টিভঙ্গি। আধুনিকতার ধারণার অভিঘাতেই তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে জন্ম নিয়েছে উত্তর-আধুনিকতা বা পােস্ট মডার্নিজম। উত্তর-আধুনিকতাকে বােঝার জন্য আমাদেরকে প্রথমেই আধুনিকতাকে বুঝতে হবে। কেননা, এর মধ্য থেকেই উত্তর-আধুনিকতার যাত্রা শুরু হয়েছিল। আধুনিকতার জন্ম আবার পুঁজিবাদ বা ক্যাপিটালিজমের মনােগাঠনিক চিন্তা হিসেবে। এই আধুনিকতাকে বােঝা ছাড়া বিংশ শতাব্দীর জটিল চিন্তা-কাঠামাে বােঝা রীতিমতাে অসম্ভব। পােস্ট মডার্নিস্ট চিন্তা ঠিক কীভাবে আধুনিকতার ক্রিটিক করে সেটা জানাও জরুরি। এনলাইটেনমেন্ট থেকে পােস্ট মডার্নিজম; চিন্তার অভিযাত্রা বইতে খুব সহজ করে আধুনিকতা আর উত্তর-আধুনিকতাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
একই মানুষের নানাবিধ ব্যক্তিত্ব থাকার বিষয়টা বেশ আশ্চর্যজনক। বর্তমান এক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য আর অতীতে দর্শনবিষয়ক বই লেখক কিংবা আলোচক পিনাকী ভট্টাচার্য যেন আলাদা ব্যক্তি! যাইহোক পিনাকী ভট্টাচার্যের দর্শন বিষয়ক একটা আলোচনা খুব সম্ভবত দেকার্ত বিষয়ক কোথাও দেখেছিলাম। দর্শনের জটিল চিন্তা ও বিষয়গুলো অতি সাবলীলভাবে প্রকাশের সহজাত একটা দক্ষতা লেখকের আছে।
বইতে পিতা পুত্রের সংলাপ আকারে রেঁনেসার এনলাইটমেন্ট থেকে জ্যাঁক দেরিদার ' ডিকনস্ট্র্যাকশন' পর্যন ধারণাগুলো সহজ সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি নিজেও কয়েকটি জিনিস আগে বুঝতাম না, বইটি পড়ার একটা কিছুটা ধারণা আয়ত্ত করতে পেরেছি বলে মনে হয়েছে। তবে দর্শন বা মানুষের চিন্তা প্রকৃতপক্ষে বেশ জটিল, তাই সবকিছুর অতি সরলীকরণ হয়না। তবু আমার মতো দর্শনে নতুন আগ্রহীদের প্রথম প্রয়াস হিসেবে বইটি দারুণ শুরু হতে পারে।
আপনি জানেন কি এইযে 'প্রেম' এর ধারণাটা এসেছে কিন্তু আধুনিক চিন্তা আসার পরে। এর আগেও নরনারী আকর্ষণ বোধ করতেন, তবে কন্সেপ্ট হিসেবে আসে তখনই!
আধুনিকতা, উত্তর আধুনিকতা নিয়ে লিখা বইটি আমার নজর কারে বাতিঘরে। সাধারণত নন ফিকশন বই ইদানীং যা পাই সেসব হয় মোটিভেশনাল নাহয় এতো খটমটে যে কি বলতে চান লেখকই ভুলে যান। সেক্ষেত্রে এই বইটিতে লেখক বেশ আলাপের চালে বাপ-বেটার প্লে-স্টেশন নিয়ে বিবাদ থেকে আলাপে আলাপে তুলে ধরেন মডার্নিজম ও পোস্ট মডার্নিজম।
আলাপের শুরুটা করেন তারা দর্শন কী সেটা দিয়ে। সেখান থেকে এমপেরিসিজম, র্যাশনালিজম হয়ে দর্শন কেন বিজ্ঞান নয়, আবার আর্টও নয় সেই বক্তব্য হতে একটা সম্যক ধারণা দিয়ে শেষ হয়। এরপর শুরু হয় আধুনিকতা কি প্রশ্নের। পুঁজিবাদ আসার সাথে সাথে সে আধুনিকতা বা মর্ডানিজমকে সাথে করে নিয়ে আসে। এনলাইটেনমেন্ট মডার্নিজমের জন্য সেই মনোজগৎ তৈরি করে। সুতরাং পুরো ব্যাপারটা বুঝতে ওনাকে অনেক কিছু ব্যাখ্যা করে আসতে হয়েছে বুঝতেই পারছেন। তিনি এনলাইটেনমেন্ট কী, ফ্যাসিবাদ কী, স্বৈরাচার এর সাথে ফ্যাসিজম এর পার্থক্য, ক্যাপিটালিজম বা পুঁজিবাদ কী, বুর্জোয়া গণতন্ত্র কী, বুর্জোয়া কী, যুক্তির চিন্তা কিভাবে আধুনিকতার জন্ম দিল, ইনডিভিজুয়ালিজম কী, আধুনিকতার ধারণা, পোস্ট মর্ডানিজম কী ইত্যাদি নানান কিছু ব্যাখ্যা করেছেন একটার সাথে আরেকটার সম্পর্ক টানতে যেয়ে।
বোর হইনি একদমই, বরং দর্শন ব্যাপারটা একটা ইন্টারেস্ট জন্ম দিয়েছে আমার। এই থার্ড আই ভিউ দিয়ে দেখতে জানলে অনেক কিছুতে স্বচ্ছ চিন্তা আনা সম্ভব। রবীন্দ্রনাথ মডার্নিজম বিশ্বাস করতেন নাকি পোস্ট মডার্নিজমে, প্লেস্টেশন কিভাবে পোস্টমডার্নিজম এর শিক্ষা দেয় এরকম মজার মজার টপিকও ছিলো বইতে। ছোট এই ১০০ পৃষ্ঠার বইটায় ব্যাখ্যার জন্য বেশ কিছু ছবি, উক্তি, বিভিন্ন কবির কবিতা ইত্যাদির ব্যবহার লেখকের জ্ঞানের ভান্ডারের একটা ইংগিত দেয়। তবে শেষে পোস্ট মডার্নিজমে কবিতার এত ব্যবহারে আমি কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। আর কিছু ব্যাপার মনে হলো খুব বেশি মিলিয়ে ফেলছেন। কিছু ব্যপারের খোলাসাটা ঠিকঠাক হয়নি যেমন ক্যাপিটালিজম। সঠিক কতটুকু, ক্ষতি কি সেই ধারণা স্পষ্ট করে না দিলে তো ঝামেলা!
এরকম সহজ শিক্ষনীয় বইয়ে আগ্রহ থাকলে, এটা পড়ে দেখতে পারেন আমার মতে।
শুধু দর্শন নয়। আধুনিকতা, পুঁজিবাদ, পুঁজিবাদের বিকাশ, বুর্জোয়া, ফ্যাসিবাদ এর মত আরও অনেক শব্দ উঠে এসেছে এই বইটিতে। তবে তা শুধু আলোচনার খাতিরে নয়। আছে উদাহরন সহ ব্যখ্যা। কথোপকথনের মাধ্যমে ব্যপারটাকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য লেখক টেনে এনেছেন বিশেষ কিছু ব্যক্তিকে। যাঁরা এই শব্দ গুলোর সাথে মিশে আছেন বা দিয়েছেন চমৎকার কিছু ব্যখ্যা।
আধুনিকতা বা মর্ডানিজম শুধু একটি শব্দ নয়। এটা একটা দৃষ্টিভঙ্গি। একই সাথে উত্তর আধুনিকতাও তাই।
আধুনিকতার ধারাবাহিকতায় প্রতিক্রিয়া হিসেবে জন্ম নিয়েছে উত্তর আধুনিকতা বা পোষ্ট মর্ডানিজম।
উত্তর আধুনিকতার যাত্রা শুরু হয় আধুনিকতার হাত ধরেই। তাই উত্তর আধুনিকতা বুঝতে হলে আগে আধুনিকতাকে বুঝতে হবে।
আবার পুঁজিবাদ বা ক্যাপিটালিজমের মনোগাঠনিক চিন্তা হিসেবে জন্ম হয় আধুনিকতার।
বিংশ শতাব্দীর জটিল চিন্তা -কাঠামো বোঝার জন্য আধুনিকতা বোঝা ছাড়া উপায় নাই। আবার এটা জানা খুব দরকার যে পোস্ট মর্ডানিস্ট চিন্তা কিভাবে আধুনিকতাকে ব্যখ্যা করে।
দর্শন বা চিন্তার ইতিহাস বিষয়ক একটা সুন্দর সহজবোধ্য বই" এনালইটেনমেন্ট থেকে পোষ্ট মর্ডানিজম চিন্তার অভিযাত্রা "। যা পিতা -পুত্রের আলাপের মাধ্যমে সুন্দর ও সহজ করে দর্শনের আলোচনা করেছেন লেখক। সহজপাঠ হলেও প্রথম দিকে বুঝতে একটু কঠিন লেগেছে আমার কিছু শব্দের কারনে, তবে পড়ে খুব মজা পেয়েছি।
বেশ Gross একটা বই। Oversimplify করতে গিয়ে কিছু জায়গায় মনে হয়েছে মূল ধারণা প্রকাশ করতে পারেন নাই। তাছাড়া কিছু আইডিয়া নিয়ে অতিরিক্ত claim করা হয়েছে। মুদ্রার দুই পিঠ দেখানো হয়নি, শুধু এক পিঠ দেখানো হয়েছে। এই ধরণের দর্শন বই বিপজ্জনক।
পিতা-পুত্রের প্লে স্টেশন নিয়ে আলাপ করতে যেয়ে লেখক প্রবেশ করেছেন দর্শনের দুনিয়ায়। এনলাইটেনমেন্ট,মর্ডানিজম,পোস্ট-মর্ডানিজম,পুঁজিবাদ,সমাজতন্ত্রসহ বেশ কিছু বিষয় ব্যাখা করেছেন ১০০ পৃষ্টার এই বইয়ে। দর্শন নিয়ে আগ্রহ থাকলে এই বইটা পড়া যেতে পারে প্রথম পাঠ হিসেবে।
কঠিন সব বিষয় বেশি সহজ করতে গিয়ে লেখক তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। বহু জিনিস বাদ দিয়েছেন। বহু জায়গায় নিজের ব্যাখ্যা চালিয়ে দিয়েছেন। বইয়ের শেষের দিকে এসে লেজেগুবরে অবস্থা দেখে মনে পড়েছে 'আরে কেহনা কিয়া চাহতে হো?:D'
বইটি আধুনিকতা ও উত্তর আধুনিকতার ধারণা সহজভাবে ব্যাখ্যা করে। লেখক দর্শন, পুঁজিবাদ, এনলাইটেনমেন্ট, ফ্যাসিবাদসহ বিভিন্ন ধারণা সম্পর্কিত আলোচনা করেছেন আলাপচারিতার ঢঙে। সহজ ও শিক্ষামূলক এই বইটি দর্শনের প্রতি আগ্রহ তৈরি করলেও কিছু বিষয়, যেমন পুঁজিবাদ, স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
দর্শনের বিষয়গুলি সহজ ভাষায় তুলে এনেছেন । যদিও অনেক বিষয় তিনি এড়িয়ে গেছেন ।
বিশেষ করে ইন্ডিভিজুয়ালিজম চ্যাপ্টার টা ভাল লেগেছে । বর্তমানে সমাজ সামাজিক জীবনের চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক । ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনের কারণে সমাজ থেকে সামাজিক বন্ধন মুক্ত হয়ে যাচ্ছে ।