বাসযোগ্য এক ভবিষ্যৎ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছিলেন সুকান্ত, যেখানে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু নতুন বিশ্বের কাছে তীব্র চিৎকারে জানিয়েছিল তার অধিকারের দাবি। লিখেছিলেন 'এই পৃথিবীকে আমি শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো'। সুকান্তের ছোট্ট এই বইটিতে উঠে এসেছে বাসযোগ্য বিশ্বের স্বপ্ন। যেখানে পৃথিবী হবে মানুষের। বোকাবাক্সের বন্দীত্ব থেকে পাবে মুক্তি। বোধোদয় হবে মানুষের, শোষিতের। শোষকেরা হবে পরাজিত। গড়ে উঠবে এক শ্রেণিবৈষম্যহীন সমাজ। এই গ্রন্থের একেকটি কবিতা যেনো একেকটি বোমা। বিশেষ করে __ছাড়পত্র, আগামী, সিঁড়ি, কলম, একটি মোরগের কাহিনি, রানার, চারাগাছ, আঠারো বছর বয়স, হে মহাজীবন।" লেখক সিঁড়ি কবিতাটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন শোষণের চিরায়ত চিত্র: 'আমরা সিঁড়ি, /তোমরা আমাদের মাড়িয়ে/প্রতিদিন অনেক উঁচুতে উঠে যাও, /তারপর ফিরেও তাকাও না পিছনের দিকে; /তোমাদের পদধূলিধন্য আমাদের বুক/পদাঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় প্রতিদিন।’
অনেক বছর আগে লিখে যাওয়া এই বন্দীত্ব ও অসহায়ত্ব এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এখন আমরা মাথা তুলে দাঁড়ানো ভুলে গেসি। অধিকারের চেতনা নাই বললেই চলে। উটপাখির মতো মাথা ঢুকিয়ে রাখছি বালুর মধ্যে। শিখে গেছি মানিয়ে নিতে শোষিতদের সাথে। শোষকদের বিরুদ্ধে এখন আর বিপ্লবী কবিতা হয় না, মশাল হাতে স্লোগানে যায় না কেউ। এরমধ্যেই কেউ কেউ বলার চেষ্টা করে, টুঁটি চেপে ধরা হয় তাদের, ভয় পাই আমরা। পিঠ বাঁচাতে মাথা লুকাই। কারণ রাষ্ট্রের মতো আমাদের মেরুদণ্ডও ভঙ্গুর। উল্টো ভঙ্গুর এই সমাজ বা রাষ্ট্রের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শুধু বলি 'কায়দা করে বেঁচে থাকো কমরেড।'