झकझक स्मार्ट सौमिक बसुराय के साथ दयिता का विवाह तय हो गया। लेकिन दयिता किसी अजीब इंसान के मोहपाश में बँधी हुई, जिसे वह प्यार समझ बैठती है, वह शख्स है, उसका प्रोफेसर, विश्वविख्यात वैज्ञानिक-बोधिसत्व मजूमदार ! दयिता का प्यार मानो कोई दुर्धर्ष आँधी-तूफान है, जो उम्र की कोई बाधा-निषेध नहीं मानता; नाते रिश्तेदारों की परवाह नहीं करता; समाज-संसार के नीति-नियमों को वह तिनके की तरह, वक्त की धार में बहा देती है। महाविश्व की सृष्टि-रहस्य जानने के रिसर्च में विभोर, अधेड़ बोधिसत्व मजूमदार भी दयिता के अमोघ आकर्षण की आखिर उपेक्षा नहीं कर पाए। पत्नी-पुत्र त्यागकर, वे दयिता के साथ अपनी नई दुनिया बसा लेते हैं।
दयिता और बोधिसत्व की समवेत जिन्दगी क्या खुशहाल हो पाई ? दयिता द्वारा ठुकराया हुआ सौमिक क्या उसे भूल पाया ? पति-परित्यक्ता राखी के मन में हो बोधिसत्व के लिए, अन्त में कितनी-सी श्रद्धा और प्यार बचा था ? ‘नीली-आँधी’ जटिल प्यार का बयान है। लेकिन यह उपन्यास सिर्फ प्यार के त्रिकोण का उपाख्यान ही नहीं है, औरत-मर्द के रिश्तों की रस्साकशी के माध्यम से, लेखिका को यह भी तलाश है कि अनन्य प्रतिभा सम्पन्न इंसानों के जीवन में औरत की जगह कहाँ है ! कुल मिलाकर सुचित्रा भट्टाचार्य की सशक्त कलम ने वर्तमान युग की जीवन-यन्त्रणा को उजागर किया है। ‘नीली-आँधी’ इसी वक्त का तूफानी-भँवर है, जो समकालीन होते हुए भी, चिरकालीन है। आँधी नीली हो या पीली हर इंसान की जिन्दगी में दाखिल जरूर होती है। जो कमजोर होते हैं, आँधी उन्हें उड़ा ले जाती है और सख्त सजा देती है, उनका सब कुछ छील लेती है। जो वह आँधी बहादुरी से झेल जाते हैं, जिन्दगी सुख बनकर, उनका अधूरापन मिटा देती है। विराट व्यक्तित्व दुनिया की नजरों में भले असाधारण हो, मगर जब उसका पदस्खलन होता है, तो वे निहायत कमजोर और मामूली इंसान साबित होते हैं, जबकि मामूली इंसान, इंसानियत का परिचय देकर, असाधारण साबित होते हैं-इन तमाम अहसासों ने मुझे अमीर बना दिया है !
Her writing focuses on contemporary social issues. She is a perceptive observer of the changing urban milieu and her writing closely examines the contemporary Bengali middle class. Crisis in human relationships and the changing values of the present era along with degeneration of the moral fibre of the society in the backdrop of globalisation and consumerism are depicted in her prose. Exploitations and sufferings of women regardless of their social or economic identities find a distinct voice in her writing. While she is famous for her writing on women's issues, she does not consider herself as a feminist. She took up many odd jobs in her early youth and finally joined the public service which she left in 2004 to become a fulltime writer. Her long career is reflected in many of her stories and novels.
Over the past two decades, Suchitra has written about 24 novels and a large number of short stories in different leading Bangla literary magazines. Some of her acclaimed novels are Kachher Manush (Close to Me), Dahan (The Burning), Kacher Dewal(The Wall Of Glass), Hemonter Pakhi(Bird of Autumn), Neel Ghurni, Aleek Shukh(Heavenly happiness), Gabhir Ashukh (A Grave Illness), Uro Megh(Flying Cloud), Chhera Taar, Alochhaya(Shadows Of Light), Anyo Basanto(Another Spring), Parabas, Palabar Path Nei, Aami Raikishori, Rangin Pritibi and Jalchhobi among others. Her novels and short stories have been translated into many Indian languages such as Hindi, Tamil, Telugu, Malayalam, Oriya, Marathi, Gujarati, Punjabi and English. She also writes novels and short stories for children. Her novel Dahan was made into a movie by famous Bengali director, Rituparno Ghosh.
কিছু কিছু বই আছে যেগুলোর বলয়ের মাঝে আমরা আঁটকে যাই। চরিত্রগুলোর সাথে মিশে যাই আমরা। নিজেকে একটা সময় লেখাটার অংশ মনে হতে থাকে। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের নীল ঘূর্ণি তেমন একটা বই।
কাহিনীর বিন্যাস শুরু অসম একটা সম্পর্কের ভূমিকা দিয়ে। কলেজের ছাত্রী ২৩ বছরের দয়িতা আর সেই কলেজের অধ্যাপক, দেশ বরেণ্য বিজ্ঞানী ৫০ উর্ধধ বোধিসত্ত্ব মজুমদারের মাঝে গড়ে ওঠে সেই সম্পর্ক।
উড়ে আসা ভালোলাগার মাতাল নেশায় বোধিসত্ত্ব তার দুই যুগের ছায়া, তার স্ত্রী রাখীকে ত্যাগ করে। ত্যাগ করে ছেলে বাবুয়াকে। দয়িতা নিজের সাজানো বিয়ে ভেঙ্গে দেয়, চুকিয়ে ফেলে সম্পর্ক নিজের পরিবারের সাথে। ওরা নতুন করে ঘর বাঁধে।
কিন্তু যে ছেলেটির সাথে দয়িতা বিয়ে ঠিক হয়েছিল সেই সৌমিক যে কিছুতেই ভুলতে পারে না দয়িতার কাছে। বার বার ছুটে যায় দয়িতার কাছে। কি চায় ছেলেটা? প্রতিশোধ? নাকি অন্যকিছু?
বোধিসত্ত্ব মজুমদারের ছেলেটার বড় জেদ বাবার প্রতি। তাই বোধিসত্ত্ব ছেলেটা পুরোপুরি ত্যাগ করতে না পারলেও বাবুয়া ঠিকই তার বাবাকে চিরদিনের মত ত্যাগ করে। মেনে নেয় সামনের বাস্তবতা। তাই সময়ের আগেই পড়াশোনার পাট চুকিয়ে চাকুরীতে ঢুকে পড়ে। মাকে আর ছায়া মারাতে দেবে বাবা নামের ঐ মুখোশ পড়া লোকটার।
তারপর সময় গড়ায়। নিশ্চিত পরিমাপ করা হিসাব হতে শুরু করে এলোমেলো।
ব্যক্তিগত অভিমতঃ
লেখিকার ছোট ছোট আবেগের বর্ণনা পাঠকদের মুগ্ধ করবে। গল্পের প্লটটা নিষিদ্ধ এলাকার বাসিন্দা বলে যারা এড়িয়ে যেতে চাইবে তাদের বলি লেখিকা কিন্তু স্রোতের বিপরীতে গিয়ে অবস্থান নেননি।
উনার অবস্থানটা এই উপন্যাসে যথার্থ। উনি এই ধরণের সম্পর্কের পরিণতির বাস্তবতা দেখিয়েছেন। বাস্তবতা যখন মানুষকে স্বপ্নের কোল থেকে টেনে তুলে প্রচণ্ড ঝাঁকি দিয়ে অচেতনা থেকে ভাঙ্গায় তখন পৃথিবীটাকে খুব নিষ্ঠুর মনে হতে থাকে।
ভাল্লাগসে। এরকম অসম সম্পর্কগুলোর পরিণতি বোধহয় এমনই হয়। মানুষ তো আর একলা বাঁচে না, দু দশ জন পরিচিত আত্মীয়-বন্ধু, সমাজ নিয়েই মানুষের জীবন৷ ঠিক প্রজাপতি এফেক্টের মতো, কোথাও কোন জায়গার অল্প কাঁপন, অন্য কোন স্থানে ঝড় তুলে৷ একটা মানুষের পদস্খলন কিভাবে অনেকগুলো মানুষের জীবন, পরিবার সমূলে ধ্বংস করে দেয় সুচিত্রার নীল ঘূর্ণি তারই প্রমাণ। সবই ঠিকঠাক, তারপরেও বলি... বাস্তবের দয়িতাদের ভাগ্য বইয়ের দয়িতার মতো হয় কি? কি জানি!
ভালোবাসা হলো একটা স্বচ্ছ আয়নার মতো, যেখানে একবার চিড় ধরলে তা আর জোড়া লাগে না। এই উপন্যাসেও সেটাই পরিলক্ষিত হয়।
কলেজ পড়ুয়া দয়িতা মিত্রর বিয়ে ঠিক হয়েছে বিদেশি ব্যাঙ্কে চাকরিরত সৌমিক বসুরায়ের সঙ্গে। কিন্তু দয়িতার এই বিয়েতে মন নেই। সে প্রেমে পড়েছে তার কলেজের ছাপ্পান্ন বছরের অধ্যাপক বিজ্ঞানী বোধিসত্ত্ব মজুমদারের উপর। তার প্রতি সে অনুভব করে দুর্নিবার এক আকর্ষণ, যা থেকে কোনোভাবেই সে মুখ ফেরাতে পারে না। পতঙ্গ যেমন আগুনের দিকে ধাবিত হয় আকর্ষিত হয়ে, দয়িতাও ঠিক সেভাবেই আকর্ষিত হতে থাকে বোধিসত্ত্বের দিকে। প্রৌঢ় বোধিসত্ত্বকে দয়িতা সব জানালে সে দয়িতার অমোঘ টানকে উপেক্ষা করতে না পেরে স্ত্রী-পুত্র ত্যাগ করে সংসার বাঁধে তার সাথে। কিন্তু এই টান কী চিরকাল থাকবে? সেও কী সত্যিই ভালোবাসে দয়িতাকে নাকি সবই মোহ? তাদের এই দাম্পত্য জীবন কী আদেও সুখের হবে?
"তুমি একটি আদ্যন্ত বোদা, নগণ্য মহিলা। তোমার সঙ্গে দুটো মিনিট কথা পর্যন্ত বলা যায় না। ইউ ডোন্ট ডিজার্ভ টু বি মাই কম্প্যানিয়ন। তোমাকে যে এত বছর আমি টলারেট করেছি, সেটা তোমার বাপ চোদ্দপুরুষের ভাগ্যি। দয়িতার কথা বলে আমায় উত্তেজিত কোরো না, তুমি দয়িতার পায়ের নখের যোগ্যও নও। এ বাড়িতে থাকতে হলে মুখ বুজে থাকবে, দয়িতাকে নিয়ে কখনও আর একটা প্রশ্নও নয়। ঢুকছে মাথায় কথাগুলো? রাখী যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, চোখের পাতাও পড়ছে না তার। বজ্রাহত পোড়া গাছের মতো দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ, তারপর প্রায় টলতে টলতে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।" সত্যিই কি স্পর্ধা বোধিসত্ত্বের। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই একটা কুড়ি-বাইশ বছরের সম্পর্ককে বোগাস, জীবনের ভুল বলে দিল। বোধিসত্ত্বের জীবনে রাখী ছিল কেবল আজ্ঞাবাহী মানুষ। স্বামীকে নিয়ে তার মহৎ গর্বও ছিল। কিন্তু এক লহমায় সব ভেঙে যায়। এই অপমান সে সহ্য করেনি। স্বামীকে পরিত্যাগ করে সে চলে যায়। চলে যায় এক অনিশ্চয়তায় ভরা ভবিষ্যতের দিকে। তবে শুধু কী তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় মুখে পড়ে? বাবুয়া ওরফে শুদ্ধস্বত্ত্ব মজুমদার অর্থাৎ তার ছেলের ভবিষ্যৎও কী অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল না এরজন্য?
রাখী এবং বোধিসত্ত্ব মজুমদারের একমাত্র সন্তান বাবুয়া ওরফে শুদ্ধস্বত্ত্ব মজুমদার ইংলিশে গ্র্যাজুয়েশন করছে। পড়াশোনায় সে বেশ ভালোই। কিন্তু ফাইনাল পরীক্ষার আগেই তাকে বড়োসড়ো একটা ধাক্কা খেতে হলো। তার বাবা তার মায়ের সাথে দীর্ঘ কুড়ি-বাইশ বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছে। এর কি প্রতিক্রিয়া পড়ে বাবুয়ার জীবনে? সে কী তার মায়ের সহায় হয়ে বাবাকে এর যোগ্য জবাব দিতে পারবে? নাকি বাবার সকল অন্যায় মেনে নিয়ে তার ছত্রছায়ায় থাকবে?
একটা মানুষের ভুলের জন্য অনেকগুলো মানুষকে মাশুল দিতে হয়, কষ্ট পেতে হয়। এখানে সেটাই দৃশ্যমান। দয়িতার বয়স কম, ম্যাচুউরিটি কম, সে মোহাচ্ছন্ন, আবেগে ভাসছে। কিন্তু বোধিসত্ত্ব, সে তো অবুঝ নয়। সে কী পারত না দয়িতাকে বোঝাতে বা তার থেকে দূরে থাকতে? তাহলে তো এতগুলো মানুষকে কষ্ট পেতে হতো না। মোহে পড়ে মানুষ কত কাজ করে, কিন্তু মোহ কেটে গেলেই যে কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয়।
তবে লেখিকা কিন্তু শুধু অবৈধ প্রেম, সংসার ভাঙা এইসবই দেখাননি, তিনি এরসাথে সমাজের একটি রূঢ় বাস্তবকে তুলে ধরেছেন। অত্যাধিক গুণী উঁচু স্তরের মানুষদের কাছে তাদের সাথে জড়িত মানুষদের অবস্থানটা কোথায়? তারা কী সেইসব মানুষদের সত্যিই মর্যাদাটা দিতে পারে নাকি তারা কেবল নিজের কাজ এবং নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই ভালোবাসতে জানে না? সবই কী taken for granted? যেমন বোধিসত্ত্ব রাখীকে ভেবে নিয়েছিল।
এই উপন্যাসে রাখী, বাবুয়ার মতো চরিত্রকে যেমন ভালো লেগেছে, তেমনই মনকাড়া আরেকটি চরিত্র হলো সৌমিক। সবশেষে যে পদক্ষেপটি সে নিয়েছিল, সেখানে সে তার উচ্চ মনেরই পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু দুনিয়াতে বোধিসত্ত্ব,দয়িতার মতো মানুষদের ভীড়ে সৌমিকদের মতো মানুষের বড়ো অভাব।
উপন্যাসটি ভীষণই বাস্তব। আর তাই এতো মন ছুঁয়ে গেল। জানি এই উপন্যাস অনেকেরই পড়া। তবে যারা এখনও পড়েননি, অবশ্যই পড়ে দেখুন। আশা করি ভালো লাগবে। পাঠে থাকুন।
শ্রদ্ধেয়া সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা, তীব্র গরমে বরফ কুচি ছিটিয়ে দেয়া এক গেলাস জলের মতো। যতক্ষণ পান করতে থাকি,দিকবিদিকশুন্য হয়ে যাই। গোগ্রাসে শুধু গল্পটা গিলতে থাকি। দারুণ। বই শেষ হলে, মধুর একটা আবেশে মন ছেয়ে যায়।
শেষ হয়েও হইলো না শেষ। বইটার শেষে এরমি মনে হচ্ছিলো। আর নিজেকে ক্রমশই হারিয়ে ফেলেছিলাম বইএর পাতার ভেতরে। সবকটা চরিত্রও কেমন যেনো একটু বেশীই জীবন্ত হয়ে উঠছিলো। শুধু তাই নয় মনে হচ্ছিলো আমি সেই চরিত্রটির জায়গায় থাকলে কি করতাম। সম্পর্কের ঘোরপ্যাঁচ, জটিলতা থাকা সর্তেও কিছু চরিত্রও সরলতার জন্য গল্পটি একটু বেশি মন কেড়েছে।
I haven't read much Bengali romantic books yet, (maybe 15 or something, which I do not consider a good number of books for my self to be called a lover). However Nilghurni was such a book which engraved me to read again and again. The story tells about one narcissistic girl named Doyita who I hate with my all heart like this is the first time that I have hated the main character of a book. Other important characters are Bodhishotto, Shoumik and my fav. character Babuya. As much I hated Bodhishotto is the same amount I loved his Babuya, till now he is my all time fav. Bengali character. The story revolves around Doyita whose marriage was fixed with an well-educated man Shoumik. But everything could've been perfect until she loved her own professor. Look i didn't have any problem if she loved a old man but she loved a man who had a perfect family and she destroyed it in just a few moments. Everything about Doyita and Bodhishotto makes me cringe so much like aghh. Shoumik generally seemed a nice fellow who helped such a narcissistic girl again and again who had zero empathy in her heart. I think I have given enough spoilers haha if you have read my rant all along.
‘কাছাকাছি থাকলে শুনি মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন/সম্পর্ক রাখাই দায়।’ ‘আমাদের সম্পর্ক’ কবিতায় শক্তি চট্টোপাধ্যায় সম্পর্ক নিয়ে এমন কথাই বলেছেন। কিংবা রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ যেমন বলেছেন, ‘দূরত্ব জানে শুধু একদিন খুব বেশি নিকটে ছিলাম’। শক্তি বা রুদ্র দুজনের কবিতায়ই নৈকট্য থেকেই সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হওয়ার বিষয়টিই মুখ্য। প্রশ্ন হলো, কখন এমনটি হয়? এক কথায় এর উত্তর নেই। তবে মোটাদাগে বলা যায়, ভালোবাসা নামের অনুভবটি ফিকে হতে শুরু করলেই এই দূরত্বের প্রবেশ ঘটে যেকোনো সম্পর্কে। ভালোবাসা বস্তুটি কী? এ এক ভীষণ তালগোলে ব্যাপার। এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল যেমন বলেছেন, ‘ভালোবাসার সম্পর্ক হলো একই আত্মায় বসবাস করা দুটো ভিন্ন দেহের গল্প।’ আর প্লেটো বলে গেছেন, ‘এক ফোঁটা ভালোবাসার হাতছানি যে কাউকেই কবি বানিয়ে দিতে পারে।’ এ দুই সংজ্ঞা থেকে ভালোবাসা কি বোঝা গেল? বোঝা যাক বা না যাক, বলা হয়—ভালোবাসাই হলো পৃথিবীর শুদ্ধতম আবেগ। যেখানে প্রচণ্ড পাগলামি থাকে, থাকে পরস্পরের প্রতি এক অমোঘ টান, পরস্পরকে কাছে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। এ নিয়ে কবি-শিল্পীদের আবেগ ও তার প্রকাশ আবার সব সময়ই বেশি। এই যেমন কেবল ভালোবেসেই কবি কাজী নজরুল তাঁর প্রিয়ার খোঁপায় তারার ফুল, কানে চৈতি চাঁদের দুল পরিয়ে দিতে চেয়েছেন। ভালোবাসার মানুষের প্রতি তীব্র আকর্ষণ থেকেই জেমস গেয়েছেন ‘আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেব তুমি আমার’। এই লিরিক আবার এসেছে কবি শামসুর রাহমানের ‘উত্তর’ কবিতা থেকে। হুবহু নয়, সুরের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে একটু অদলবদল হয়েছে। ভালোবাসা কি মানুষকে কিছুটা যুক্তি বোধরহিতও করে দেয়? হয়তো। কুমার বিশ্বজিৎ গাইছেন শুনুন, ‘তুমি যদি বলো পদ্মা মেঘনা এক দিনে দেব পাড়ি/তুমি যদি বলো চাঁদের বুকে/বানাব আমার বাড়ি।’ নাহ, বেশ গোলমেলে ব্যাপার বলতে হবে। তবে এসব থেকে একটা সিদ্ধান্তে কিন্তু আসতেই হচ্ছে—প্রেমে পড়লে কিংবা ভালোবাসলে মানুষ কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করে। আর তাই প্রিয় মানুষের পায়ের কাছে পৃথিবীর সমস্ত সুখ এনে দিতে চায় সে। সমস্ত দহন, যন্ত্রণা, চাপ ও তাপ সহ্য করতেও রাজি থাকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সবকিছুই ফিকে হতে থাকে। সম্পর্কের বয়স বাড়তে থাকে। তখন ছোট ছোট বিষয় নিয়ে ঝামেলা লাগতে শুরু হয়। দিনের পর দিন ঝামেলা বাড়তে থাকে। বাড়ে মানসিক অশান্তি। কিন্তু কেন এই অশান্তি? অতি নৈকট্যই কি কারণ??? তাই হয়তো কবি বলেছেন, " দূর হতে আমি তারে সাধিব গোপনে বিরহডোরে বাঁধিব । বাঁধন-বিহীন সেই, যে বাঁধন অকারণ" । 🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂 সুচিত্রা ভট্টাচার্য আমায় ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। কিশোরী বয়সের প্রথম বেলায় যখন প্রথমবারের জন্য কাউকে ভালো লেগেছিল তখন যেন মনে পড়ে যায় উনি বলেছিলেন, "মন খারাপের মুহূর্তে হঠাৎ যদি কেউ হারিয়ে যাওয়া নাম ধরে ডেকে ওঠে, মনটা যেন লহমায় ভাল হয়ে যায়। সংসারের মালিন্য, বেঁচে থাকার জটিলতা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হাহুতাশ কিছুই যেন আর স্মরণে থাকে না। বুকের ভেতর ঘুমিয়ে আছে এক টাইম মেশিন, সোঁ সোঁ করে ছুটতে থাকে সে, হু হু করে কমে যায় বয়স।" কিন্তু একটা বয়সের পর যখন অনেকটা দেরীতে আসল নকলের ফারাক বুঝে উঠি তখন উনি শিখিয়েছেন, " অনেককেই ছেড়ে থাকা যায় না, তবু ছেড়ে থাকতে হয়। এক সময় বিচ্ছেদটাই অভ্যেস হয়ে যায়।" মানুষের পঠনপাঠনের শিক্ষার বাইরেও একটা মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মেয়েদের , আমাদের একটা বয়সের পর যখন আগুন আহ্বান জানায় ছুটে যাই আমরা, পুড়ে যাওয়ার ভয় তখন কোথায় যেন উবে যায়... সুচিত্রা ভট্টাচার্য বুঝতেন, আর তাই হয়তো ওনার প্রতিটা সৃষ্টিতে মেয়েদের মনস্তত্ত্বকে এঁকেছেন এত যত্ন করে। উনি আমার কাছে আয়নার মতো, আর তাই হয়তো ওনাকে নিয়ে লিখতে বসলে দিন পেরোবে, কারণ মানুষ নিজেকে যে সবচেয়ে ভালো চেনে। 🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
নীলঘূর্ণীর দয়িতা হয়তো কোথাও না কোথাও আমরা অনেকেই। ২৩ বছরের দয়িতা প্রেমে পড়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রফেসর বোধিসত্ত্বের। পূর্বরাগ কখন যে অভিসারে পরিণত হলো তা হয়তো ঘুণাক্ষরে টের পায়নি দুজনেই... আর তাই হয়তো , উড়ে আসা ভালোলাগার মাতাল নেশায় বোধিসত্ত্ব তার দুই যুগের ছায়া, তার স্ত্রী রাখীকে ত্যাগ করে। ত্যাগ করে ছেলে বাবুয়াকে। দয়িতা নিজের সাজানো বিয়ে ভেঙ্গে দেয়, চুকিয়ে ফেলে সম্পর্ক নিজের পরিবারের সাথে। ওরা নতুন করে ঘর বাঁধে। কিন্তু সৌমিক?? সে যে ভুলতে পারেনি দয়িতাকে। বারবার কীসের টানে সে ফিরে আসে দয়িতার কাছে?? প্রতিশোধ নাকি সত্যিই অন্যকিছু? বোধিসত্ত্বের কাছে দয়িতা কি আদৌ প্রেম হয়ে এসেছিল? নাকি হাওয়া বদলের আরামমাত্র সে? জগত সংসার সৃষ্টির রহস্যে বুঁদ হয়ে বোধিসত্ত্ব কি আদৌ মানুষের মনের মূল্য দিতে শিখেছেন?? মেয���েদের মন কি সে সত্যিই বোঝার চেষ্টা করেছে কোনোদিন? আর নিজের ছেলের?
অসম সম্পর্কের পরিণতি হয়তো সবসময় সমানুপাতিক নাও হতে পারে, কিন্তু তাই বলে বাঁচতে ভুলে গেলে চলবে কেন?? সামনে তাকালেই দেখতে পাবে দুহাত বাড়িয়ে কে যেন আপনারই অপেক্ষায় বলে উঠবে, "-- একটু কেন , অনেক ভাবো। যত খুশি ভাবো । আমি তো রইলামই। "
কলেজের ছাত্রী দয়িতা কীভাবে প্রেমে পড়েন তাদের কলেজেরই প্রফেসর , বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী বোধিসত্ত্ব মজুমদারের, যিনি আবার বিবাহিত এবং ২০ বছরের এক অন্তর্মুখী বিরক্ত সন্তানের বাবা সেই নিয়েই গল্পর টানাপোড়েন । তার মাঝেই এসে পড়ে দয়িতার সাথে যার বিয়ের সম্বন্ধ হয়েছিল, সেই সৌমিক, তার বস টাইপের মা কবিতা বসুরায় ; যিনি ছেলের খাবার থেকে শুরু করে বউ, সব কিছু নিজের হাতে ঠিক করে দিতে চান। আর আছেন বোধিসত্ত্বের স্ত্রী রাখী - স্বামীর প্রতি নিবেদিতা প্রাণ, ব্যক্তিত্বহীন , আসবাব সম। ঘটনার পাকে চক্রে একের সাথে জড়িয়ে পড়ে বাকি চরিত্রগুলো, শুরু হয় মানসিক দ্বন্দ্ব । বিজ্ঞানী বোধিসত্ত্ব জগৎ সৃষ্টির রহস্য আবিষ্কার করতে চলেছেন, কিন্তু তাঁর জীবনে আসা দুই মহিলার মনের রহস্য বোঝার ক্ষমতা কি তার ছিলো ? তার নিজের সন্তান শুদ্ধ মজুমদার কেই কি কোনোদিনও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি ? নাকি তার আগতপ্রায় সন্তানের কোনো মূল্য আছে তার কাছে ? মানুষ কী তার কাছে শুধুই আসবাব ? চরম স্বার্থপরতার অন্ধকারেই কি তাহলে নিমজ্জিত এই বিজ্ঞানী ? আপাত ব্যক্তিত্বহীন সৌমিক কি পারলো মানবিকতা প্রমাণ করতে ? শুদ্ধ কি পারলো বাবার বিশাল ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের আইডেন্টিটি তৈরি করতে ? দয়িতা র শেষ অনুভূতি কী হলো - এসব জানতে গেলে একবার পড়তেই হয় নিলঘুর্ণী । উপন্যাসটির এক পর্যায়ে আছে , বোধিসত্ত্ব সিগারেটের ধোয়ার নিলঘুর্নি তৈরি করছেন - যা খুব অর্থপূর্ণ। পুরুষ বা নারী কোনো দিকেই ঝোল না টেনে লেখিকা খুব সুন্দর ভাবে উভয়দিকের মানসিক টানাপোড়েন দেখিয়েছেন । শেষটা ওপেন এন্ডিং রেখেছেন । সামাজিকতার বিপ্রতিপে গিয়েও সামাজিকতার সুন্দর চিত্র এই উপন্যাস ।
আমাদের জীবনে আমরা প্রত্যেকেই কখনো না কখনো আমাদের প্রিয় টিচারের প্রতি আকর্ষিত হয়েছি। আর এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু সেই ক্রাশ যদি ভালোবাসায় পরিবর্তিত হয় আর সেই ভালবাসা যদি জীবনে আগুন নিয়ে খেলার মতো হয়? তবে একটু অসাবধানী হলেই জীবন পুড়তে বাধ্য হবে। তাই না ?
গল্পের প্রধান চরিত্র দয়িতা প্রেমে পড়ে তার কলেজের প্রফেসর বোধিসত্ত্ব মজুমদার এর, বয়সে যিনি দয়িতার বাবার সমতুল্য। পতঙ্গ যেভাবে আগুনের দিকে ছুটে যায় ঠিক সেভাবেই দয়িতা বাড়ি থেকে ঠিক করা পাত্র সৌমিকের সাথে নিজের বিয়ে ভেঙে, বাবা মা কে ত্যাগ করে বোধিসত্ত্বকেই সব কিছু সমর্পণ করে। বোধিসত্ত্ব নিজেও দয়িতার আহ্বানে নিজের চব্বিশ বছরের সংসার ছেড়ে ঘর বাঁধে নতুন করে।
যে বোধিসত্ত্ব কে পাওয়ার জন্য দয়িতা সব কিছু ছেড়েছিল তবে কেন সে সেই মানুষটাকেই ছাড়তে বাধ্য হলো? প্রশ্ন অনেক তৈরি হবে। আর তার উত্তর বইতেই পাওয়া যাবে। তবে দয়িতা সৌমিকের সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করার পরও সৌমিক কিন্তু দয়িতাকে একা ছেড়ে দেয়নি। সব সময় আগলে রাখার চেষ্টাই করেছে। এরকম একজন মানুষের প্রত্যেকের জীবনে থাকা খুব দরকার। সৌমিক চরিত্রটিকে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে আমার।
সুচিত্রা ভট্টাচার্য আমার খুবই প্রিয় একজন লেখিকা। ওঁনার প্রত্যেকটা লেখা আমি বিভোর হয়ে উপভোগ করি। এই উপন্যাসটাও আমার খুব প্রিয়। সবাইকেই পড়তে বলবো। আশা করছি ভালোই লাগবে।
🍂✨📖উপন্যাসের নাম - নীল ঘূর্ণি📖✨🍂 ✍️লেখিকা - সুচিত্রা ভট্টাচার্য 🖨️প্রকাশক - আনন্দ পাবলিশার্স 📃পৃষ্ঠা সংখ্যা - ২০০
🍁🍂ঝকঝকে তরুণ সৌমিক বসুরায়ের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে দয়িতার । কিন্তু দয়িতা প্রেমে পড়েছে এক বিচিত্র মানুষের । তিনি তার শিক্ষক , বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী বোধিসত্ত্ব মজুমদার । দয়িতার এই প্রেম যেন এক দুরস্ত ঘূর্ণিঝড় যা বয়সের বাধানিষেধ মানে না , আত্মীয় - পরিজনের তোয়াকা করে না , সমাজ সংসারের নীতি - নিয়মকে কুটোর মতো ভাসিয়ে দেয় । মহাবিশ্বের সৃষ্টিরহস্য জানার গবেষণায় বিভোর প্রৌঢ় বোধিসত্ত্ব মজুমদারও শেষ পর্যন্ত উপেক্ষা করতে পারেন না দয়িতার অমোঘ আকর্ষণকে , স্ত্রী - পুত্র ত্যাগ করে দয়িতার সঙ্গে ঘর বাঁধেন তিনি । দয়িতা - বোধিসত্ত্বর মিলিত জীবন কি সুখের হয়েছিল ? প্রত্যাখ্যাত সৌমিক কি ভুলতে পেরেছিল দয়িতাকে ? স্বামী পরিত্যক্তা রাখীর হৃদয়েই বা বোধিসত্ত্বর জন্য কতটুকু শ্রদ্ধা ভালবাসা অবশিষ্ট ছিল ?🍂🍁
💫🍁 নীল ঘূর্ণি এক জটিল প্রেমের উপন্যাস । তবে এ নিছকই ত্রিভুজ প্রেমের উপাখ্যান নয় , নারী পুরুষের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাধ্যমে লেখিকা এখানে অন্বেষণ করেছেন অনন্য প্রতিভাধর মানুষের জীবনে নারীর অবস্থান কোথায় । সব মিলিয়ে সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ঝরঝরে কলমে উন্মোচিত হয়েছে আধুনিক যুগের জীবন যন্ত্রণা । নীল ঘূর্ণি এই সময়েরই এক ঘূর্ণাবর্ত , যা সমকালীন হয়েও চিরকালীন ।🍁💫
অসম বয়সী প্রেম করে যে ভোগান্তি পোহাতে হল মেয়েটির তা বলার। দয়িতাকে বলা যায় বর্তমানে যাকে বলে স্যাপিওসেক্সুয়াল - সে এক বিজ্ঞানী অধ্যাপকের মোহে অন্ধ হয়ে নিজের বিয়ে ভেঙে বিজ্ঞানীর বাড়িতে ওঠে। বিজ্ঞানীর স্ত্রী ও ছেলে তাকে ত্যাগ করে - দয়িতা হয়তো ভেবেছিল এরপর তাদের সম্পর্ক স্মুথ চলবে। কিন্তু না, সে আশায় গুড়ে বালি! পড়ুন এই উপন্যাসটি, সময় নষ্ট হবে না।
অসাধারণ একটি সামাজিক উপন্যাস। এত বড় একটি উপন্যাস কিকরে এক লপ্তে পড়ে ফেলা যায় - অবিশ্বাস্য! প্রতিটি চরিত্র নিখুঁত ভাবে আঁকা। একটুও টাল মাটাল নেই কোথাও। ঘটনা প্রবাহ অতি মসৃণ এবং প্রতিটি সংলাপ গভীরে নিয়ে যায়।
অসম সম্পর্কের অভিঘাত কখনো দু’জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। মানুষ সমাজে বাঁচে, তাই এক জায়গার ছোট্ট ফাটল অন্য জায়গায় ভাঙন ডেকে আনে। নীল ঘূর্ণি দেখিয়েছে একজনের ভুল কীভাবে কয়েকটি পরিবারের ভিত পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিতে পারে।
শিক্ষক ও ছাত্রীর মধ্যে এক বিশেষ সম্পর্ক নিয়েই এই উপন্যাস। এছাড়াও সমাজের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য দিক এই উপন্যাসে তুলে ধরেছেন লেখিকা। আমার অন্যতম প্রিয় উপন্যাস।
😭😭😭😭😭😭 সৌমিক 😭😭😭💖 You will fall in love with this character 😭😭😭💖 দয়িতা MSc final year এর স্টুডেন্ট, তার বাবার বয়সী প্রফেসর বোধিসত্ত্ব মজুমদারের প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ে, ইতি মধ্যে সৌমিক নামের এক ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়। তারপর যা যা হল… সব জানতে গল্পটা পড়তে হবে।