হাসি-কান্না, ভাঙা-গড়া, উত্থান-পতন নিয়েই আমাদের জীবন। জীবনে কখনো ফাগুনের ধারা বয়, কখনো-বা কালো মেঘে ছেয়ে যায় চলার পথ। যখন ফাগুনধারা বইবে আপনার জীবনে তখন শোকর আদায় করবেন। কারণ, এই ধারা আপনার প্রচেষ্টায় বয়নি। স্রষ্টার হুকুমেই বয়েছে। আর যখন কালো মেঘে ছেয়ে যাবে আপনার আকাশ, তখন সবর করবেন। কারণ, আপনার স্রষ্টা আপনাকে পরীক্ষা করছেন। সত্যি বলতে কী, জীবনটা ভয়ানক খাদের মতো। এই খাদ পেরিয়ে মঞ্জিলে পৌঁছুতে হলে আপনাকে অবশ্যই শোকরের পাটাতনে পা রেখে মজবুত করে সবরের রশি আঁকড়ে ধরতে হবে। নয়তো নিজের অজান্তেই খাদে পড়ে যাবেন।
এই কঠিন সময়ের জন্য এই বইটি পারফেক্ট ইন শা আল্লাহ। সংগ্রহে যদি থেকে থাকে আর এখনো তা না পড়ে থাকেন তাহলে এক্ষনই বইটি পড়ার যথাযথ সময়।
"নিশ্চয় আমি তাদের ধৈর্যের কারণে আজ তাদের পুরষ্কৃত করলাম, আজ তারাই হলো সফলকাম।" আল-বাকারা:-১৫৩
এক লেকচারে শুনেছিলাম মুমিনের পুরো জীবনটাকেই যেখানে ধৈর্য্যের জীবন বলা হয়েছিলো। ধৈর্যের সাথে মৃত্যু অবধি আল্লাহর ইবাদত করে যাওয়া, নাফরমানী থেকে বিরত থাকা, বিপদ-আপদের মোকাবিলা করা। এই বইয়েও ধৈর্য্য নিয়ে এরুপ ব্যাপক আলোচনা এসেছে। ধৈর্যের বিভিন্ন প্রকারভেদ। ভালো ও খারাপ বিষয়ে ধৈর্য্য।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে যেন আমরা ধৈর্য্য ধারণ করতে পারি এই বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।কেননা অন্যথায় আমাদের কষ্ট সম্পুর্ন বিফলে যাবে। কোরআন ও হাদিসে উল্লেখিত ধৈর্যের ব্যাপারে আলোচনা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। যা আমাদের ধৈর্যের গুরুত্ব ও ঈমানের সাথে তার সম্পর্ক কতোটা গাঢ় তা বুঝতে সহায়তা করবে ইন শা আল্লাহ।
পরে আলোচনা এসেছে মুমিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিয়ে, কৃতজ্ঞতা। ইবনুল কায়্যিম জাওযিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন দ্বীনের অর্ধেক হলো সবর ও বাকি অর্ধেক শোকর। এর খুব সুন্দর একটি ব্যাখ্যাও আছে বইটিতে।
কৃতজ্ঞতাবোধ আমাদেরকে আল্লাহর সামনে বিনয়ী করে তুলে। তার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নিয়ামত গুলো চিনতে শিখি এবং আমাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি হয়। যা আমাদেরকে নিজেদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য (ইবাদাত) পূরণে উদ্বুদ্ধ করে। এখানেও কোরআন,হাদিসের কৃতজ্ঞতা সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা উঠে এসেছে। যা আমাদেরকে বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দর ও সুস্পষ্টভাবে বুঝতে সহায়তা করবে ইন শা আল্লাহ।
বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন। সকল প্রশংসা এই বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর!!
"সময়ের কসম। নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তাঁরা ব্যতীত, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং পরস্পরকে সত্য ও সবরের উপদেশ দেয়।" - সূরা আসর সবর একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক গুণ যা আল্লাহ কোরআনে সরাসরি এবং বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে বারে বারে শিক্ষা দিয়েছেন। জীবন চলার পথে আমরা বিভিন্ন বাধা বিপত্তির, পরীক্ষার সম্মুখীন হই। এমন পরিস্থতিতে 'সবর'ই পারে হতাশার হাত থেকে মুক্তি দিতে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া সিদ্ধান্তকে সন্তুষ্টচিত্তে বরণ করে নেয়ার উপযুক্ত করে তুলতে। একইরকমভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া নেয়ামত বা সুখ শান্তির উপলক্ষতেও আনন্দে আত্মহারা হয়ে স্রস্টাকে ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। রাব্বুল আলামীনের প্রতি 'শোকর'গুজার হওয়াই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত। এ ব্যাপারগুলো নিয়েই খুব চমৎকারভাবে আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে। এক কথায় বলতে গেলে, 'সবর' ও 'শোকর' - এই দুইটি মাত্র গুণের চর্চা আপনার জীবনে পরিবর্তন আনা এবং স্রস্টার নিকটবর্তী হওয়ার জন্য যথেষ্ট এবং অত্যন্ত জরুরী। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই দুটি গুণের চর্চা করার তাওফিক দিন।