এই বই অবশ্যই পাঠ্য, সকলের জন্য। এই বই নিয়ে লেখকের মতামত " ভাইরে/ আপুরে!!!" বইটা মূলত আমার ফেসবুক স্ট্যাটাস এর সংকলন। গত এক বছর ধরে লিখা স্ট্যাটাস গুলো আমি মোটিভেশনাল বলতে চাই না, ওগুলো ইনফোরমেশনাল। ক্যানো লিখা শুরু করেছিলাম? ছোট্ট একটা Frustration থেকেই। আপনি যদি Fortune 500 কোম্পানি গুলো দেখেন, ওখানকার অনেক ভালো ভালো কোম্পানির CEO/ COO আমাদের আশেপাশের দেশের মানুষরাই। বিদেশে নামি দামি ইউনিভারসিটি তে, হাসপাতালে, ল্যাবরেটরিতে সব জায়গায় এশিয়ানদের যেমন জয় জয়কার তার মধ্যে কত শতাংশ আমাদের? কয়জন বুকার/ নোবেল/ অলিম্পিক মেডেলিস্ট আমাদের? এর কারন কি? আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কি খুবই সাধারণ মানের? তাদের ভবিষ্যৎ কি? কোথায় যাচ্ছে তারা? এ নিয়ে অনেক অনেক ছেলেমেয়েদের সাথে কথা বললাম। আমাদের দেশের গ্রামে, গঞ্জে, মফস্বল এ কত শত Potential Nobel Laureate, Leaders, CEO material লুকানো আছে মনে হোলো। দেখলাম আর অবাক হবার সাথে সাথে খারাপ লাগতে থাকলো। অভাব টা কিসের? কিচ্ছু না! অভাব শুধু ইনফোরমেশন এর। তাদের ঠিক ইনফোরমেশন দেয়া হোক, বলা হোক এই এই সুযোগ আছে, এই এই ভাবে আগাও, এইভাবে নেটওয়ার্ক করো, এর এর সাথে যোগাযোগ কর, এইভাবে প্ল্যান কর - এর পর অবশ্যম্ভাবে যে আলোড়ন সৃস্টি হবে তা বলাই বাহুল্য। আমাদের মুখস্থ করার দিন শেষ। দিন এসেছে বোঝার, প্রশ্ন করার - "কেনো, কেনো নয়, কিভাবে" - এই প্রশ্ন! আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হবে Creative Thinker/ Problem Solver - শুধু দেশের না, পুরো মানব জাতীর।
তথাকথিত সফল মানুষদের অনেকেরই একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে--তারা নিজেদের সাফল্যের ফর্মুলা আমজনতাকে জানানো কর্তব্য বলে মনে করেন। প্রাচ্যে এই ব্যাপারটা বেশি হলেও পাশ্চাত্যের সফলরাও এটা থেকে পুরোপুরি মুক্ত নন, যার ফলাফল হিসেবে প্রতি বছরই আমরা অসংখ্য ''মোটিভেশনাল' বইপত্র প্রকাশিত হতে দেখি। এসব বই বের করার পেছনে আমার ধারণা ৩টা বিষয় কাজ করে--১। নিজের ইগো তৃপ্ত করা। আমি যে 'একটা কেউ' হয়েছি, সেটা লোকে না জানলে কিভাবে হয়? এই ব্যাপার থেকে ক্লাসের ফার্স্ট বয় থেকে শুরু করে কোটিপতি বা সিইও বনে যাওয়া লাস্ট বেঞ্চার কেউই মুক্ত নয়। টাকাপয়সা সব হলে গ্রামের লোকজন মনে হয় এইজন্যই চেয়ারম্যান ইলেকশনে দাঁড়ায়। ২। কিছু অর্থযোগ। আমজনতা সফলতার সহজ ফর্মুলা খোঁজে, সেজন্য মোটিভেশনাল বইয়ের ক্রেতার সাধারণত অভাব হয় না। ৩। আমজনতার কিছু উপকার, যদি আমার পরামর্শ কিছু কাজে লাগে! যদিও এটা টার্শিয়ারি ব্যাপার, নিতান্তই মহাপুরুষ না হলে এটা প্রাইমারি হয় না, মুখে যে যা-ই বলুক। এজন্যই এই ধরণের বইপত্র, সেটা ডেল কার্নেগি লিখুক আর ডেল খান লিখুক, দেখলেই মেজাজ বিগড়ে যায়। এখন পর্যন্ত 'আমি এই করেছি, আপনিও করলে সাফল্য নিশ্চিত, বা আমি ছোট বয়সে না বুঝলেও এখন বুঝি যে এইগুলি করলে আপনার সাফল্য নিশ্চিত', এই ফর্মুলার বাইরে কোন বই বা লেকচার পাই নি।
ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, 'সাফল্য' একটা অপ্রয়োজনীয়, অ্যাবস্ট্রাক্ট টার্ম। 'সফলতা' মানবজন্মের লক্ষ্য হতে পারে না। এটার কোন সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞাও নেই। কারো কাছে সাফল্য মানে টাকা, কারো কাছে ক্যারিয়ার, কারো কাছে পুরস্কার, কারো কাছে খ্যাতি, কারো কাছে ক্ষমতা। অথচ এগুলোও যদি সাফল্যের মাপকাঠি হতো, তাহলে ডায়োজিনিস-সক্রেটিস ধরণের মানুষজনকে চূড়ান্ত 'ব্যর্থ' বলেই রায় দিতে হয়। অন্তত অ্যাকাডেমিক বা জ্ঞানচর্চায় তাই 'সফল-ব্যর্থ' জাতীয় টার্মগুলোই আনার পক্ষপাতী নই আমি। তপন রায়চৌধুরী দেখলাম সেটাই লিখেছেন, যে আধুনিক যুগে অ্যাকাডেমিয়াতে যেভাবে ক্যারিয়ার বাঁচানো বা ওঠানোর জন্য পেপার পাবলিশিংয়ের চাপ চলছে, সেরকম আদিযুগ থেকে চললে বর্তমান জ্ঞান-বিজ্ঞানের স্তম্ভগুলোই দাঁড়াতো না। তবে এই আধ্যাত্মিক লাইনে না যাই, ধরে নেই পার্থিব ধনসম্পদ-খ্যাতি-ক্ষমতার মাঝেই সাফল্য নিহিত। তারপরেও সাফল্যের কোন সাধারণ ফর্মুলা থাকা অসম্ভব বলেই মনে হয়, কারণ সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এমন দু'টো মানুষ জন্মায়নি যারা হুবহু একই রকম, তাহলে সাফল্যের 'ফর্মুলা' আসে কি করে? সাফল্যের জন্য আপনি হাসিমুখে যে কাজ করবেন, এমন হওয়া খুবই সম্ভব যে, আরেকজনের সেই কাজ করতে গিয়ে বিবমিষা হবে, অথবা জীবনটা বৃথা মনে হবে?
'ভাইরে/আপুরে' বইটা পড়ে আমার সেরকমই মনে হয়েছে। লেখকের কাজকর্মের ফিরিস্তি দেখে তিনি যে একজন 'কর্মবীর' সে ব্যাপারে আমি নিঃসন্দেহ, এবং নিশ্চিতভাবেই তিনি একজন সফল মানুষ, নইলে আমজনতার চাপে তিনি 'মোটিভেশনাল' লেখা লিখতেনই না, কিন্তু আমার মত জন্ম অলস কেউ তার এই কর্মযজ্ঞ অনুসরণ করতে গেলে এক মাসের মাঝে বাঁচার প্রতি সব আগ্রহ হারিয়ে মেট্রো রেলের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বসলে অবাক হবো না। এ দেখে আবার কেউ যদি প্রশ্ন করে বসেন যে, আপনি কি লেখকের পায়ের নখের সমান সফল, তাহলে স্বীকার করতেই হবে যে, আমি ভদ্রলোকের পায়ের নখেরও যোগ্য নই। কিন্তু ব্যাপারটা হলো, আমার সেটা হওয়ারও বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই, সমাজের চোখে 'সফল' না হলেই জীবন ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে না। 'সফল' হতে গিয়ে এইরকম যন্ত্রণা নিতে আমি রাজি না, এবং তাতে আমার খুব একটা সমস্যাও হচ্ছে না। যেটা ভাল লাগবে সেটা করবো, তাতে ফল এলে ভাল, না এলেও ভাল। আঙ্গুর ফল টক? সম্ভবত, বাট আই ডোন্ট কেয়ার অ্যাবাউট দ্যাট আইদার।
লেখকের সাথে কয়েকটা ব্যাপারে অবশ্য একমত। ১। শেখার জন্য পড়ার কোন বিকল্প নেই, এবং পড়াশোনার কোন শর্টকাট নেই। আপনি যত প্রতিভাবানই হোন, পড়তে হবে, এবং পড়ে জানতে হবে। ২। পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। এমনকি যে জিনিসটা আপনি নিতান্তই শখে করেন, সেখানেও শখটাকে বাঁচিয়ে রেখে বড় করার জন্য পরিশ্রম করতে হবে। ৩। বিনয় জিনিসটা জরুরি। তবে সাফল্যের ফর্মুলার বই লিখার ভাষা দেখে মনে হয়নি লেখক নিজে খুব একটা বিনয়ের ধার ধারেন। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসকে আমার অ্যারোগেন্সের বর্ডার লাইনে মনে হয়, যদিও আমার সাথে অন্যদের দ্বিমত থাকতে পারে। ৪। নিজের কোন একটা শখ বা শেখার জন্য কিছু একটায় আগ্রহ থাকা জরুরি। যদিও তার 'শেখার উদ্দেশ্য' এবং 'শেখার বিষয়বস্তু'-র সাথে আমার দ্বিমত আছে। ৫। বাচ্চাকাচ্চার উপর কোন কিছু চাপিয়ে দেয়া ঠিক না। তাদের সময় দেয়া জরুরি। বাচ্চাদের বই কিনে দেয়া এবং বই পড়তে শেখানো আরো জরুরি।
একদমই একমত না--১। জিনিয়াস কোন মীথ না, যে ব্যাটা যা-ই বলুক। আমি আইনস্টাইন বা নিউটনের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতেই পারি, রবীন্দ্রনাথের চেয়ে বেশি সময় কলম ঘষতে পারি, কিন্তু আমি-আপনি-লেখক কেউই আইনস্টাইন-রবি ঠাকুর হবে না। হইলে উনার মোটিভেশনাল বই লেখা লাগতো না, উনারে দেখে লোকজনই মোটিভেশনাল বই লিখতো। এইখানে তথাকথিত সাফল্যের ব্যাপারটাও আসে। আমি আইনস্টাইনের চেয়ে চারগুণ পরিশ্রম করে তার বস হয়ে তারে চাকরি দিতে পারি, বেশি ডিগ্রিও নিতে পারি, কিন্তু আমি এক থিওরি দিয়ে দুনিয়াকে ৩০০ বছর এগিয়ে দিতে পারবো না। এর মানে এই না যে আপনার জীবন বৃথা হয়ে গেল, কিন্তু সারাদিন পিয়ানো গুঁতাইলেই আপনি মোজার্ট হয়ে যাবেন, এই আইডিয়া মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। ২। উনার প্রচুর পরিশ্রম আর অনেক কিছু শিখার প্ল্যান ভাল, যদি আপনি তার মত হন। কিন্তু আপনাকে উনার মত হতে হবে। মানুষের চরিত্র খুবই বিচিত্র, সব মানুষ এক ক্যাটেগরির না, কাজেই এইরকম অসংখ্য জিনিস শেখার প্ল্যান কাজ না-ও করতে পারে। অন্তত উনার এই লিস্ট দেখে আমার গায়ে জ্বর এসে গেছে। বলে রাখা ভাল, উনার মত রকস্টার সাকসেসফুল না হইলেও আমি না খেয়েও নাই, বা সাফল্যের অভাবে ডিপ্রেশনেও ভুগছি না। এই ফর্মুলা ফলো করতে না পারলেও আপনারও কোন সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। নিজের ফর্মুলা নিজে বানিয়ে নিন, অন্যের কাছে প্যানাশিয়া না খোঁজাই ভাল। ৩। নেটওয়ার্কিং ভাল। ভাল এবং বড় নেটওয়ার্ক থাকলে অ্যাডভান্টেজ পাবেন। তবে নেটওয়ার্কিং ছাড়া জীবন বৃথা, এটা ১০০ ভাগ ফালতু কথা। আমার নিজের নেটওয়ার্ক খুবই ছোট, ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধুবান্ধব ছাড়া কারো সাথেই তেমন যোগাযোগ নেই। প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক শূন্যের কাছাকাছি। না খেয়ে মরি নাই। তবে দক্ষতা জরুরি। যদি নেটওয়ার্ক বিল্ডআপ করতে ভাল না লাগে, সমস্যা নেই, সময়টা নিজের পড়াশোনা বা কোন দক্ষতা বাড়ানোর কাজে ব্যয় করুন। কোনটাই না থাকলে বিপদে পড়তে হবে।
বইয়ের ভাষা একদমই পছন্দ হয় নি। করসি, খাইসি, গেসি, এইটা ফেসবুক স্ট্যাটাসে চলতে পারে, হয়তো তার বইয়ের ক্রেতারাও ফেসবুক দেখেই কিনবে, ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে জিনিসটা বেশি হালকা লাগে। লাগুক, আমার জন্য তিনি বই লেখেননি। মোটিভেশনাল কোন বই-ই আমার কাছে ১-এর বেশি দেয়ার যোগ্য মনে হয় না, এটায় ২ দিতাম, কারণ কিছু ভাল প্রফেশনাল সার্টিফিকেশনের সাজেশন আছে। সার্টিফিকেশনগুলো অবশ্য ফিন্যান্স বা নেটওয়ার্কিং ঘেঁষা, অর্থাৎ তার নিজস্ব পছন্দ, কিন্তু ফাঁকা বুলির চেয়ে সেগুলো কাজের, একটু সময় দিয়ে অন্যরাও করতে পারেন, উপকার হবে। কিন্তু এই উদ্ভট ভাষাভঙ্গী আর মোটিভেশনাল স্পিকারদের অতি আত্মবিশ্বাসী 'সাফল্যের ফর্মুলা'-র কারণে ১-ই দিতে বাধ্য হলাম। আগামী কয়েক বছর আর কোন ঘোড়ার ডিম মোটিভেশনাল বই পড়ে সময় নষ্ট করবো না, সফল হতে চান আর শান্তি পেতে চান, এই প্রতিজ্ঞা করা এবং রক্ষা করাটা জরুরি।
খুবই কামের বই। আমার মতো আকাইম্যা পাবলিকের জন্য না আর কী। আমি মনে করি সেল্ফ-হেল্প বইগুলা ইন্ডিভিজুয়াল বই হওয়া উচিৎ। মানে জেনারেল পাবলিকের জন্য চালানে হাজারডা পাবলিশ না কইরা হাজার মানুষের জন্য একটা একটা কইরা আলাদা আলাদা বই পাবলিশ করা আমার মতে বেশি কামের। প্রত্যেকটা মানুষের আলাদা আলাদা সমস্যা, তাই চাইও আলাদা আলাদা ওষুধ। ডাক্তার, সাইকিয়াট্রিস্ট কিংবা পীর-ফকির যেই কাম করে এই সেল্ফ-হেল্প বইয়ের লেখকগণও প্রায় একই কাম করে। আর সেল্ফ-হেল্প বইগুলারে আমার মনে হয় মাস্টারবেশনের মতো, সত্যি সত্যি! পড়ার সময় মনে হয়— দিস ইজ ইট, আই নিডেড দিস, ইয়েস ইয়েস, নাও আই অ্যাম পাম্পড আপ, নাও আই উইল কনকার দ্যা ওয়ার্ল্ড। আর পড়া শেষ হওয়ার কয়দিন পর, সব সেন্সেশন উধাও। দেন ইউ রিয়েলাইজ দ্যাট, দিস নেভার ওয়াজ দ্য “রিয়াল” থিং। ধুরো, বেশিই অফেনসিভ হইয়া যাইতাছি। এই বইটা ভালোই, অনেক স্কিল ডেভেলপিং গাইডলাইনস আছে, পরিমিত পরিমাণে ফলো করতে পারলে বেশ কামের। শাব্বির আহসান লোক ভাল, লেখা ইন্টিমেট আবার ইন্টিমিডেটিং। ইন্টিমিডেটিং এই কারণে যে শাব্বির আহসান উরা ধুরা চাল্লু লোক। এখন তিনি আপনারেও ঘাড় ধইরা চাল্লু বানাইতে চায়। স্কুল-কলেজে পড়ার সময় ক্লাসে থাকে না একটা দুইটা চাল্লু টাইপ পোলাপান যারে সবাই চেনে, ওই পোলাপানের কামই হইল শুধু ফডর ফডর করা, দেখলেই মনে মনে ধইরা চাবকানি দিতে মন চায়, উরা ধুরা এক্সট্রোভার্ট টাইপের, দেখলে নিজেরে কুট্টি কুট্টি লাগে। এখন আপনি চাইলেই কী হুট কইরা অগো মতো হইয়া যাইতে পারবেন? কিংবা সারাজীবন মিডলের দিকে থাকা ছাত্র চাইলেই কী হুট কইরা ফার্স্ট বয়ের সাথে টক্কর দিতে পারে? অনেকে কইবে, পারবে না ক্যান? মানুষ চাইলে সবই পারে। এহন এক পোলা মাইয়ামানুষ দেখলে ভয় পায়। আপনি তারে কইলেন ভয় পাইও না, মনু, ভয় পাইও না। তাইলেই তো সে আর ভয় পাওয়া ছাইড়া দিবো না। এইখানেও ব্যাপারটা এরকমই। ইন্ট্রোভার্ট মানুষজন যারা আছেন তারা গোর খুইদা এই বই পড়তে বইসেন। যে ধুমধারাক্কা ডিপ্রেশনের মইধ্যে আপনি আপনারে ফেলতে যাইতাছেন তখন মইরা যাওয়ার মনস্কামনা হওয়া অস্বাভাবিক না। একটা কথা কই? অনেকে ডিফার করতে পারে। মোটিভেশনাল বক্তারা কইতে কইতে মুখের ফেনা বাইর কইরা ফেলায় যে “চাইলেই আপনি সব পারবেন”। আমার মনে হয় না কেউ চাইলেই সব পারে। আর কাউরে জোর কইরা সব পারানোর প্র্যাকটিসটাও আমার ঠিক ভালো লাগে না। ক্যান সব পারতে হইব? এমন জিনিস আছে যেইডা আমি পারি, অন্যজন কম পারে। সেই লোক আবার অন্য কামে পারদর্শী, আমি ঠেঙ্গা। নিজের পারগতা অপারগতা সম্পর্কে অবগত থাকাও একটা গুণ। আমি এই বইরে ভালো বা খারাপ কিছুই ঘোষণা করতেছি না। কিন্তু আমি শিওর যে আমি এই বই থেকে কিছু অর্জন করতে পারমু না। কারণ এত এক্সট্রোভার্ট অ্যাকটিভিজ আমার সাথে যায় না। নিজের ইন্ডিভিজুয়ালিটি বিসর্জন দিয়ে কিসের সেল্ফ-হেল্প! এইডা সুইসাইড!
অল্প কথাতে কাজে আসবে এমন একটা বইয়ের খবর দিয়ে যাই 😃
প্রথমে বলে রাখি, এই বইটা সবার অবশ্যপাঠ্য। বিশেষ করে যারা কলেজে আছেন, ভার্সিটির ১ম বা ২য় বর্ষে আছেন তাদের অবশ্যই অবশ্যই পড়া উচিত বইটি। তবে শুধু বইটি পড়লেই হবে না, যেসব জিনিস শিখতে বলেছে তা শিখার চেষ্টা করতে হবে... আমার কথা হলো, আপনি জীবনে কোনো বই না পড়লেও বা মোটিভেশনাল বই পড়তে ফালতু লাগলেও এই বইটি অবশ্যই পড়বেন। অর্থাৎ, বইটিকে আপনার skill developএর বা নিজেকে স্মার্ট বানানোর গাইডলাইন হিসেবে/সিলেবাস হিসেবে নিতে পারেন
এটা কোনো হাবিজাবি মোটিভেশনাল বই না। আপনার skill develop করতে, নতুন কিছু শিখতে, চাকরি জীবনে সবচেয়ে কাজে আসবে এমন অনেক কোর্স নিয়ে লেখক কথা বলেছেন। এসব ছাড়াও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলতে যেসব বেসিক জিনিস শিখা উচিত তা নিয়েও বলা হয়েছে। লেখক এখানে ১০০+ বিভিন্ন বিষয়ে বইয়ের লিস্টও করে দিয়েছেন যেগুলো আপনার skill develop করতে সহায়তা করবে
এই বইটি পড়ে আপনি এমন কিছু কোর্সের নাম জানবেন যা হয়তো আগে শুনেন নি। তবে কোর্সগুলো ঘরে বসে করার মতোই!! এই বইটি পড়ার পর আমার প্রতিক্রিয়া ছিলো অনেকটা এমন---- "ইশশ! বইটা যদি আগে পড়তে পারতাম তাহলে বেশ ভালো হতো"। অন্য মোটিভেশনাল বইয়ে যেমন আশা দেওয়া হয়, এটাতে তার উল্টো। এই বই পড়ে কতকিছু জানার আছে এবং শিখার আছে তা ভেবে আপনি হতাশ হয়ে পড়েছেন শুনলেও অবাক হবো না :3 লেখক নিজেও অনেক বিষয়ে আলোচনা শেষে একটা কথা বলেছেন তা হলো " ভাইরে/আপুরে, আপনারা যদি এখনো এসব জিনিস না জেনে থাকেন, তাইলে আপনার জীবন বৃথা".....
বইটি পড়বেন, এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আপনার কাজে আসবে মনে হবে তা টুকিয়া রাখবেন, এবং কাজ শিখে নিজেকে স্মার্ট করে তুলবেন....
প্রথাগত মোটিভেশনাল বই এটি নয়। কেননা বাজারের বেশির ভাগ বইয়ে অনেক ভালো ও মধুমিশ্রিত উচ্চমার্গের কথা লেখা থাকে। অসম্ভবকে পূরণের স্বপ্ন দেখানো হয় সেইসব বইয়ে৷ কিন্তু কোন তরিকায় নিজের ইচ্ছে পূরণ হবে তা সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা থাকে না। বরং এখানেই শাব্বির আহসানের তফাৎ। ভদ্রলোক ক্যাডেট কলেজে পড়েছেন, ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও শান্তিরক্ষী মিশনে এবং বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় কাজ করছেন। তাই পেশাদার মোটিভেশনাল বক্তাদের চাইতে জনাব আহসানের অভিজ্ঞতার ঝুলি নিঃসন্দেহে বিস্তৃত। ভদ্রলোক অনেক কিছু দেখেছেন, শুনেছেন৷ সেই অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকেই পরামর্শ দিয়েছেন কেমন করে জীবনকে উপভোগ করেও গুছিয়ে নিয়ে হয়। কোন পথে চললে ক্যারিয়ারে হোঁচট খেতে হবে না কিংবা 'মন বসে না পড়ার টেবিলে অথচ ভালো ফল করতে চাই' ইত্যাদি প্রাগৈতিহাসিক সমস্যার সমাধান ও নির্দেশনা দিয়েছেন শাব্বির আহসান।
স্কুল,কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বইটি পড়া উচিত। জীবনে কী করলে কোন দিকে যেতে পারবে তা সম্পর্কে একটি গাইডলাইন বইটি দিতে পারে৷ মাস্টার্সে উঠে বইটি পড়লাম। আফসোস! আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথমেও বাংলায় এমন চমৎকার একটি বই পেলে বড়ো কিছু করে ফেলতাম তা নয়। কিন্তু ভালো লাগতো এবং দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসতো।
শাব্বির আহসান বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে এক ধরনের খিচুড়ি ভাষায় লেখেন৷ এই লেখনশৈলী আমার ভালো লাগেনি। কিন্তু খুববেশি সহজবোধ্য মনে হয়েছে। অর্থাৎ যে কোনো বয়সের পাঠকের কাছে সহজবোধ্য করতেই হয়তো ভদ্রলোক নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো এভাবে লিখেছেন যা পরে বই হয়ে বের হলো।
ব্যাক্তি জীবনে একজন সফল / প্রতিষ্ঠিত মানুষ শাব্বির আহসান (লেখক) । জীবনের সূচনা লগ্নের এক চরম ব্যর্থতাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে কিভাবে তার এই সফলতার ভিত গড়ে উঠেছিল - বই এর শুরুতেই তিনি সেটা জানিয়েছেন এবং ভাল ছাত্র , জিনিয়াস ছাত্র ইত্যাদি Myth কে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন ।
লেখক যদি টাইম ট্রাভেল করতে পারতেন - তিনি বিভিন্ন বয়সে তার ঝুলিতে আর কি কি যোগ করতেন ? কেন করতেন ? অকাট্য যুক্তি দিছেন !
সুন্দর চেকলিস্ট আকারে দেয়া ।
নিজের সাথে সহজে মেলাতে পারবেন ।
বইয়ে অনেক পথের সন্ধান দেওয়া আছে ।
সে পথে কেন যাবেন ?
একা যাবেন না বন্ধু বান্ধব নিবেন ?
কাদের সাথে networking করবেন ?
পথের শেষ কোথায় ?
আপনার অপেক্ষায় কি আছে ?
এছাড়া বই - লেখাপড়া - জীবন সম্পর্কিত আরো অনেক আর্টিকেল আছে ।
অনুভূতি :
বইটি একটি সাজানো গোছানো গাইডলাইন ।
কেন আরও দশ বছর আগে এরকম গাইডলাইন পাইলাম না !
# বইটি পড়ে দেখতে পারেন । হয়ত আমার মত আপনার ও এরকম আক্ষেপ হইতে পারে !
সাব্বির আহসানকে ফেসবুকে অনেকদিন ধরে ফলো করি উনার হিউমার সম্পন্ন মোটিভেশনাল লেখাগুলোর জন্য। সোলাইমান সুখনদের মত "Follow your heart/passion" টাইপ জেনেরিক কথাবার্তা না বলে উনি খুব স্পেসেফিক গাইডলাইন দেন ভার্সিটিতে উঠলে কি করা উচিত, কলেজ লাইফে কি করা উচিত, ২৫/২০/১৮ বছরের মধ্যে কি কি করা জরুরি এসব। এধরনের কথাগুলো ঢাকা শহরে থাকা প্রিভিলেজড শিক্ষিত ফ্যামিলির ছেলেমেয়েদের কাছে অর্থহীন কিংবা "এগুলো ত জানিই" টাইপ লাগতে পারে, কিন্তু unprivileged background থেকে আসা মানুষজনের জন্য খুব গুরুত্ববহন করে। বইটিতে ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো ডিরেক্ট তুলে না দিয়ে আরেকটু refine করলে ভালো লাগতো। কারণ ফেসবুকে লেখা পড়ার ক্ষেত্রে মানুষের Attention Span থাকে খুবই কম, এজন্য সেখানে লেখকের একটানে শেষ করা যায় বা চোখ বুলালেই পড়া হয়ে যায় টাইপ লেখা খুবই কার্যকর। কিন্তু বই পড়ার ক্ষেত্রে এধরনের লেখা একটু বেশিই হালকা লাগে।
মোটিভেশনাল বই পড়তে আমার কাছে খুব অদ্ভুত লাগে! মাঝে মাঝে লেখকরা সময় অপচয় নিয়ে অনেক কিছু বলে, তখন মনে হয় আমার এই বই পড়েও সময় অপচয় হচ্ছে... অন্তত আমার ক্ষেত্রে, এইসব বই কখনই কাজে আসেনি। কিন্তু এই বইটা একটু অন্যরকম শুনেই পড়া শুরু করেছিলাম। শুরুটা ভালো লাগলেও শেষের দিকে অসহ্য হয়ে যাচ্ছিলাম।
ভাইরে/আপুরে !!! আমাদের জীবনে ব্যপক একটা ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ব্যপক পরিমাণে প্রশ্ন এবং সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই ব্যাপক একটা ক্যারিয়ার গড়ার জন্যে ক্যামনে কি করা লাগবে তার জন্য শাব্বির ভাইয়া একটা শর্ট গাইডলাইন দিয়া রাখছে বইটাতে। বইটার শুধু মাত্র প্রথম কয়েকটা পাতা পইড়াই আমি যা তথ্য পাইলাম তা আমার ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ব্যপক সাহায্য করবে! যাই হোক বইটা পইড়া অস্থির রকমের মজা পাইছি! উল্লেখ্য যে বইটা লেখকের ফেসবুক টাইমলাইনের বিভিন্ন স্ট্যাটাস থেকে নিয়ে লেখা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : বইটা actually বাংলা, ইংরেজি, কথ্য, সাধু এবং চলিত ভাষার মিশ্রণে লেখা। তাই আমিও বইয়ের রিভিউ দিলাম কথ্য ও চলিত ভাষার মিশ্রণে 😅।
কঠিন বাংলায় বলতে গেলে এই বই থেকে আপনি রস আস্বাদন করতে পারবেন!
আমার মনে হয় ধীরে ধীরে এই বইয়ের জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে, আর বইটা সেই যোগ্যতা রাখে।
বই পড়ে মনে হবে সাব্বির ভাই ( আঙ্কেল না) সামনাসামনি বসে আপনাদের সাথে কথা বলছেন।
বইটার মাঝে সাব্বির ভাই ( আঙ্কেল না) ১০০ টা নন-ফিকশন বইয়ের একটা লিস্ট দিছেন । নন-ফিকশন আমার অনেক পছন্দের। আর সেই ১০০ টার মাত্র ৫-৬ টা পড়ছি! ২০২০ সালে বাসায় থাকছি, অল্পস্বল্প বই পড়ছি আর বাকি সময়টা ভংচং করে কাটছে। তাই আগামী বছর আমি এই ১০০ টা বই পড়ে শেষ করব।
লেখক* সময় নিয়ে এতো জ্ঞান দিলেন, পারফেকশনিজম নিয়ে আরো জ্ঞান দিলেন, অথচ নিজের বাবাকে উৎসর্গ করা একটা বইকে** সুন্দরভাবে, পার্ফেক্টভাবে, সময় নিয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে তৈরি করার সময় পেলেন না। অনবদ্য।
আসলে আমার মনে হয়েছে উনার ফেসবুকে দেওয়া পার্সোনাল পোস্টগুলোকেই তারিখ অনুযায়ী তুলে ধরে এনে প্রকাশকের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। বেশ কয়েকটা চ্যাপ্টার মোটামুটি একই রকমের জিনিস দিয়ে ভরা। চাইলেই তিনি ৫০টা চ্যাপ্টার না বানিয়ে গুছিয়ে ১০টা চ্যাপ্টার বানাতে পারতেন, তাতে পাঠকদেরই ভালো বৈ খারাপ হতো না।
উনার পার্সোনাল ফিলোসফির সাথেও আমার বেশ কিছু দিকে মতপার্থক্য আছে। সে যাই হোক, বইয়ের কিছু কিছু অংশ ভালো লেগেছে। তবে ওভারঅল চিন্তা করলে আমার মনে হয় এ যা ডিজার্ভ করে, তা-ই দিয়েছি।
* উনাকে লেখক বলবো না-কি ব্লগার, সে বিষয়ে সন্দিহান। ** এটাকে বই বলবো নাকি পার্সোনাল ব্লগ, সে বিষয়ে সন্দিহান।
যথেষ্ট রকমের কাজের বই। ভাষা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে বইয়ে বর্ণিত কর্ম পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে পাঠক, লেখক এটিই চেয়েছেন বলে মনে করছি। আমার ব্যক্তিগত উপকারে আসবে এখানের অনেক ভাবনা। কিছু কাজের লিষ্টও করে নিবো/নিচ্ছি। লেখককে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, ভিন্নভাবে নিজের চিন্তা ও অভিজ্ঞতার বিষয়গুলো প্রকাশের জন্য।
প্রথমেই সহজ ভাষায় ছোটকরে যদি বলি দারুণ একটা বই। বইটি ক্লাস ৮- ৩০ বছর পর্যন্ত(বিশেষ করে ১৮- ২৫ বছর) যে কেউই পড়ুক তার কিছুটা হলেও উপকারে আসবে বলে আমি মনে করি।লেখক বইটিতে অনেক উপদেশ না বলে আইডিয়া,প্রোডাক্টিভ ওয়ে দিয়েছে বলা যায়। নিজের কিছু ব্যক্তিগত মতামতও দিয়েছেন।যেমন: ভালো ছাত্র বলতে কিছু নেই,ভালো ছাত্র/ জিনিয়াস এসব কথা মিথ। এটি যার যার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতেই পারেন। সবার চিন্তাধারা,দৃষ্টিকোণ মিলবেনা এটাই স্বাভাবিক। তবে এই বইয়ে বর্তমানে প্রয়োজনীয় অনেক স্কিল/দক্ষতা সম্পর্কে বলা আছে,যা আপনেকে দশজন থেকে সহজেই আলাদা করবে,যা আপনের ভবিষ্যতে কাজে দিবে।এমন না যে আপনি এই বই না পড়লে কিছু শিখতে পারবেন না।অথবা অনেক বড়ো কিছু মিস করে ফেলবেন। তবে একটু জানার, শেখার রাস্তাটার সুন্দর ধারণা পেলে,(রোডম্যাপ বলা যায়) কিছু আইডিয়া জানলে খারাপ হয় না,সময় নষ্ট হবে না এটা সিউর বলতে পারি। বইটি আমার কাছে যথেষ্ট ভালো লেগেছে।
ভাইরে, আপুরে নামের বইটা পড়ে শেষ করলাম। জীবন সম্পর্কে তৈরি হলো প্রচণ্ড ভীতি। মানে কী করিলে কী হবে আর কী না করিলে জীবন শেষ হইবে এইসব নিয়ে লেখা বই। মোটিভেশন নেওয়ার জন্য পড়লেও খুব ডিপ্রেশনে পড়ে গেলাম। মানে খাইসেরে! সবই তো গেল রে। নিজের সফলতা নিয়ে ফাঁকে ফাঁকে আত্মগরিমা। আর যারা ওনার মতো হতে পারছে না তারা যে ভালো বউ পাবে না। আর বউয়ের আদরসহ রুহ আফজা খেতে পারবে না সেইসব লেখা। মানে জীবনে উনি যা ভাবছেন তাই সত্য বাকি এইসব ইমোশনাল হওয়া যাবে না। যাবে না কিছুই করা প্রতিষ্ঠিত হওয়া ছাড়া। প্রতিষ্ঠিত না হলে যে ভালো বউ পাওয়া যায় না আর শেষ জীবনে আফসোস করতে এটা উনি আবার মনে করিয়ে দিলেন। থ্যাংক্স রাইটার। ইউ আর গ্রেট।
তবে ১২৫ পৃষ্ঠায় এসে উনার একটা মত পড়ে সম্বিৎ ফিরে পেলাম। উনি বললেন, 'অনেক নন ফিকশন বই পড়ারই অযোগ্য। খামাখা। সময় নষ্ট। যেহেতু ১০০ বছর সম্ভবত বাঁচবেন না, তাই যত দিনই ভাঁচেন ভালো বই পইড়া বাঁচেন। '
এইটুক পড়ে মুখ থেকে বের হলো, 'অ্যাঁ।' এই কথা তো মনেই ছিল না। কী ভুল টাই না করলাম। আপনার এই বই তো শেষ করে ফেলেছি। 😥
এই বইটা যদি আমি ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারে পেতাম তাহলে জীবন অন্যরকম হত আমার। বইটা মোটিভেশনাল ঘরানার চেয়েও গাইডলাইন ভিত্তিক এবং পড়তে একদমই বোরিং নয়, আর্টিকেল গুলো ছোট ছোট।
“Train your awesome brain! Say no to Drugs and no to Calculator!”
লেখকের ছোট একটি কথার মাধ্যেমেই লিখা শুরু করলাম। বইটি মূলত একটি আত্ম-উন্নয়ন মূলক বই। বইটি লেখকের জীবনের অভিজ্ঞতার অংশবিশেষ। লেখকের বিগত দুই বছরের ফেসবুকের যেসকল স্ট্যাটাস ভাইরে/আপুরে হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয়েছিল সেসকল স্ট্যাটাসগুলোর মিশেলেই মূলত বইটি গড়া হয়েছে। বইটিতে সর্বমোট ৪৮টি অধ্যায় বা অংশ রয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়ই ছাত্রজীবনের একেকটা উন্নতির পর্যায় কিংবা ধাপ। লেখক এখানে বলেছেন যে তিনি যদি তার জীবনের সেই ২০ কিংবা ১৮ বছর বয়সের সেই সময়টা ফিরে পেতেন তবে কোন কাজগুলো করতেন। মনে করেন পরীক্ষা আমার অতি সন্নিকটে অথচ আমার কিছুই পড়া হয়নি। এখন ঠিক কোন উপায়ে আমাকে প্রিপারেশন নিতে হবে! লেখক বলেছেন mental maths -এর প্রয়োজনীয়তা আমাদের জীবনে ঠিক কতখানি। problem solving আর decision making skill কেন আমাদের থাকা জরুরী। দুইটা তিন সংখ্যার গুন কিভাবে মুখে মুখে করা যায় তা আমাদের জানতে বলেছেন। কিছু কিছু জিনিস আছে যেগুলো আমাদের স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে শিখায় না তা আমাদের আয়ত্তে আনতে বলেছেন। যেমন: Being humble, Being thankful, Not looking back ইত্যাদি। এরকম আরও বিষয় সম্পর্কে লেখক এই বইতে কথা বলেছে যেগুলো আমাদের ছাত্রজীবনে অতীব প্রয়োজনীয়।
নিম্নে বেশ কিছু টপিক দেয়া হলো: α. MS Excel টা শিখে রাখা। α. ভবিষ্যতের জন্য একটি Professional CV তৈরি করে রাখা। α. এখন থেকেই টুকটাক Vocabulary চর্চা করা। α. নিজেকে সবসময় একজন Problem Solver হিসেবে মনে করা। α. ২৫ বছর বয়সের আগেই নিজের পাসপোর্ট, ব্যাংক একাউন্ট, টিন সার্টিফিকেট করে ফেলা। α. ২৫ বছরের আগেই ড্রাইভিং, সাঁতার ইত্যাদি শিখে ফেলা। α. Basic Excel, Powerpoint Skill নিজের আয়ত্তে আনা। α. ইংলিশ খুব দ্রুত শিখে ফেলা। সাথে অন্য একটা ভাষারও চর্চা করা। α. ট্রাফিক জ্যামের বরক্তিকর সময়টা ফোনকল, বই, Vocabulary, প্ল্যানিং ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যয় করা। α. নিজের সন্তানের জন্য একজন আদর্শ বাবা-মা হওয়া।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া: বইটিকে আমি মনে করি একজন ছাত্রের অবশ্যই পড়া উচিৎ। লেখক এখানে মজার ছলে নিজের ছোট ভাই-বোনের মতো পাঠকদের উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলেছে। এই বইটি পাঠকদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণামূলক তেমনি দিকনির্দেশনামূলকও বটে। মজার ব্যাপার হচ্ছে লেখক এই বইতে ১০০টি নন-ফিকশন বইয়ের লিস্ট দিয়েছেন। সেই সাথে বলেও দিয়েছেন যে, কিভাবে পড়তে হবে সেগুলো। সবমিলিয়ে এই আমি বইটিকে ছাত্রজীবনের একটি টোটকা হিসেবেই দেখছি। এই বই পড়ে সেই অনুযায়ী ছাত্রজীবন শেষ করতে পারলে পাঠক ধরে নিতেই পারে সে অন্য সবার থেকে দশ স্টেজ উপরেই আছে।
Be the best, ever! Life is awesome! Build, love and enjoy it! And do not ever blaspheme by doubting your abilities. কখনো কি ভেবে দেখেছেন? আমার ভবিষ্যতের CV কেমন হবে?নামকরা পাব্লিকে চান্স পাই নাই তো কি হয়েছে বা কি হতে পারতো?কিংবা বয়স ১৮ পেরিয়ে বহুদূর গেল,তবে আবার যদি ১৮ হইতে পারতাম তাহলে কি করতাম!আবার আমরা যারা ১৮ পার করি নি তারা সহজেই জেনে নিতে পারি দারুণ কিছু ট্রিক্স!তবে যারা ১৮ পার হয়েছে বলে আফসোস করছেন,তাদের জন্য বলি ২৫ এর আগেই কি করবেন তা জেনে নিতে পারেন!কারণ পরাজয়ে যে ডরে না বীর! আসুন বের করি কি কি শিখি নাই।জানুন, আপনি কেমন আর আপনি কি চান।প্রতিযোগিতা হোক নিজের সাথেই যেন বলতে না হয়- That may be the reason why i am the stupidest person on the earth. জীবনে প্রোডাক্টিভিটি শব্দ চিল্লায় চিল্লায় পাচ্ছি না কোন কূল-কিনারা তো চলুন নিজেই প্রোডাক্টিভ কিছুর উদ্ভাবন করি।কারণ, নিজের ভুবনে আমরা সবাই রাজা!
জীবন আমার গেলোই জলে,চলুন জল থেকে একটু ছাকুনি দিয়ে নতুন করে আবার তুলি।কারণ কথায় যে আছে- শেখার কোনো বয়স নেই।বলবো না বইটি আপনার জীবন গড়ে দিবে।তবে আপনি যদি নিজ মনে সাহস ও বল থাকে বইটির মেদহীন ও ভণিতাহীন কথা গুলো আপনাকে পথ দেখাবে, পাঠক হিসবে এতোটুকুই আশ্বস্থ করতে পারি।
লেখক শাব্বির আহসান যে সোজাসাপটা আচরণ করেছেন বইটির প্রতিটি বাক্যে, এর চেয়ে ঠোঁট কাঁটা বই আমি এখনো পড়ি নি!ঠোঁট কাঁটা শব্দটি এখানে নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক! মনে হচ্ছিল, আমাকেই যেন তিনি ধরে ধরে মগজে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন! বিশ্বাস না হলে একবার পড়েই দেখুন না!
Now stop reading this post,write your own plan and hang on that wall! Start working, RIGHT NOW!! __ Shabbir Ahsan!
ভাইরে আপুরে - Motivational Book Writer - শাব্বির আহসান
This book is mixture of some awesome tips and some unrealistic tips. This book provides some interesting methods and tips for improving our skills and knowledge. From here we can get 100 non-fiction book list, list of some crucial skills to earn, suggestions of some facebook pages and list of approximate time you need to master a skill. This points I found very interesting and effectives. There are also suggestions about how to prepare for exams, using your leisure time, networking, skill earning techniques, writing a good paper etc. Mainly I think the writer wanted to motivate readers for hard work and utilizing every moment.
There are also some unrealistic suggestions like witing 100 journal in 4 years of university life, keep up consistency for a long time, too much things to earn in a short period of time. The writer also gave too much emphasis on learning English and other foreign language. It's important but not that much important that you need to mention it 4-5 times in a single 120-page-book. Sometimes I really laughed at some high expectations that the writer has for common people. He wants everyone to be the best and motivates that everyone is capable of it. If everyone is best then no one is best 😜. Overall I cannot highly recommend this book.
Personal Rating - 5.5/10 (Hopefully the next one is better)
ভাইরে/আপুরে বইটি মূলত শাব্বির আহসানের ফেসবুক টাইমলাইনের বিভিন্ন স্ট্যাটাসের সংকলন। আপনার যদি নিজেকে একজন প্রোডাক্টিভ,স্মার্ট এবং ইন্টিলিজেন্ট মানুষ হিসেবে তৈরি করার ইচ্ছে থেকে থাকে তাহলে এই বইটি আপনার জন্য অবশ্যপাঠ্য।
ন্যাশনাল ভার্সিটিতে পড়লে কেন জীবন বৃথা হয়ে যাবে না, নামকরা পাব্লিক ভার্সিটিতে চান্স না পেলে আপনি কেন আনন্দিত হবেন, ইউনিভার্সিটি লাইফের চারটা বছর কিভাবে কাটালে পুরোটা সময় পরবর্তীতে ইউজফুল হয়ে আপনার জীবনে ধরা দেবে এইরকম আরো অনেক অনেক এক্সেপশনাল চিন্তা এবং ক্যারিয়ার গাইডলাইন আপনি পেয়ে যাবেন শাব্বির আহসানের এই বইটিতে। পাব্লিক স্পিকিং এ ভয় পান? কিংবা দু লাইন ফ্লোয়েন্টলি ইংলিশ বলতে দশবার ভাবতে হয় আপনাকে?এই বইটি পড়লেই এইসব মুশকিল আসান হয়ে যাবে সেটা বলছি না আমি আপনাকে।তবে এই বইটি আপনাকে সেই রাস্তাটা দেখাবে যেদিক দিয়ে এগুলে এবং আপনার ইচ্ছাশক্তি প্রবল থাকলে আপনি অবশ্যই নিজের এইসব প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারবেন। ট্রাফিক জ্যামে বসে থাকতে থাকতে বোরিং সময়টাকে কীভাবে প্রোডাক্টিভ করে তুলবেন কিংবা কিভাবে শুরু করবেন নন ফিকশন বই পড়া! শুধু জানবেন! ইচ্ছে হলে নিজের জীবনে কাজে লাগাবেন। এমন অনেক সহজ কিন্তু যুগান্তকারী আইডিয়া দিয়ে সাজানো আছে পুরো বইটি। স্টুডেন্ট লাইফ থেকেই Vocabulary এবং MS Excel শেখার প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব বারবার উঠে এসেছে বইটিতে। এই বইটা শুধুই একটা গাইডলাইন,একটা Spark! নিজেকে নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত! আর কোন আশা নাই!Let's try this book! মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি শ্রেষ্ঠ জীব। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হারতে পারে না। Never doubt on yourself!
ছাত্রছাত্রিদের জন্য দিকনির্দেশনা মূলক চমৎকার একটি বই। তবে এই বইয়ে তথাকথিত কিভাবে ভালো মার্কস আনা যায়, ভালো ইন্সটিটিউশনে চান্স পাওয়া যায় এসবের চেয়ে কিভাবে একবিংশ শতাব্দির জন্য নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতা সম্পন্ন একটা শিক্ষার্থিতে পরিনত করা যায় সেই বিষয় নিয়ে বেশি আলোচনা করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যাবস্থায় আদতে একজন শিক্ষার্থি বৈশ্বিক চ্যালেন্জ গ্রহনের জন্য পুরোপুরিভাবে তৈরি হতে পারে না। আবার একজন শিক্ষার্থি কিভাবে নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সেটাকে ক্যারিয়ারের সোপান বানাবে সে সম্পর্কেও ওয়াকবিহাল নয়। সর্বপোরি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থিদের সেল্ফ ডেভেলপমেন্ট ও ক্যারিয়ার গাইডেন্সের অভাব রয়েছে। যার কারনে শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে তারা। হুট করেই উপলব্ধি করছে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কোয়ালিটিফুল জীবনযাপন করার জন্য শুধুমাত্র একাডেমিক জ্ঞান অপরিহার্য নয়। এমতাবস্থায় নতুন করে অনেক কিছুই তাদের শিখতে হচ্ছে যার নষ্ট হচ্ছে আরো সময়। ফলশ্রুতিতে পিছিয়ে পড়ছে তারা।
শাব্বির আহসান তার এই বইটিতে খুবই গঠনমুলক ভাবে ছাত্রজীবনেই কি করে নিজেকে ভবিষ্যত জীবনের জন্য তৈরি করা যায় সে নিয়ে খুটিনাটি বিষয়গুলো শুধু আলোচনাই করেননি বরং হাতে ধরে পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। ছাত্রাবস্থায় একজন শিক্ষার্থির মধ্যে যে স্ফুর্তি যে শক্তি থাকে তা ব্যাবহার করে সঠিক পথে সঠিক কৌশলে এগিয়ে গেলে কোয়ালিটিফুল দক্ষ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা সম্ভব।
সফলতা অর্জন করতে হলে কঠোর পরিশ্রম করা চাই, একজন কঠোর পরিশ্রমী তার কঠিন পরিশ্রমী ও সময়ানুবর্তীতা দ্বারা জিনিয়াসদেরও আউটস্মার্ট করতে পারে। তাই কেউ নিজে জিনিয়াস বা সেরাদের সেরা নয় এই আক্ষেপ করে করে যেন তার কর্তব্য (কঠিন পরিশ্রম) থেকে পিছে না পড়ে যায়।
অতীতকে ভুলে যেয়ে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে কিভাবে কঠোর সাধনা দ্বারা সামনে এগিয়ে যেতে হয় তা সম্বন্ধেই লেখক বর্ণনা করেছেন।
অবসরে বা হেলায় সময় নষ্ট না করে সে সময়টুকুতে প্রোডাক্টিভ কিছু করতে পরামর্শ দেন লেখক। ৩০এর আগেই একজন মানুষের যেসব গুণ থাকা চাই এবং সফল হবার জন্য প্রতিবছর পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাসের বাইরেও যেসব সিলেবাস ব্যক্তিজীবনে সম্পন্ন করা উচিত সে সম্পর্কেও তিনি আলোচনা করেছেন।
বিশ বছর হলে লেখক প্রতিদিন কি করতেন তাও জানিয়েছেন, যেমন- মাসে ৪টা নন ফিকশন, সপ্তাহে ৩টা ফিন্যান্স/ইকোনোমিক্স সম্পর্কিত আর্টিকেল প্রিন্ট করে পড়া, প্রতি শুক্রবার TED এর একটা ১৮ মিনিটের ভিডিও দেখা, টেড ভিডিও দেখে আয়নার সামনে দাঁড়ায়া ১ মিনিট সামারি বলা, ড্রাইভিং শেখা, প্রতিদিন সকালে ৩০ মিনিট নতুন কিছু শেখা ইত্যাদি।
নম্রতা-ভদ্রতার প্রতিও বিশেষভাবে আলোকপাত করেছেন। পৃথিবীতে চলার পথে বাঁধা-বিপত্তি, সমস্যা আসবে এবং আসাটাই স্বাভাবিক; এগুলোকে পাড় করেই আলোর ভবিষ্যতের দিকে ছোটার তাগিদ দিয়েছেন লেখক।
বইটি মূলত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে লেখা; তবে বইয়ে উল্লেখিত ফর্মূলার অনেকাংশও অন্যান্যদের ক্ষেত্রে কার্যকর।